লেবেল

অণুগল্পের আড্ডা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অণুগল্পের আড্ডা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ৩১ জুলাই, ২০২২

শুধু অণুগল্পে... অণুগল্পের আড্ডা - ৪১।। মেঘ বৃষ্টি পাখিরা - প্রণব ঘোষ।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।




অণুগল্পের আড্ডা - ৪১



মেঘ বৃষ্টি পাখিরা

 প্রণব ঘোষ


সেদিন মার খাটের তলা পাওয়া গেল একটা মুড়ির কৌটো, আর একটা ভাঙা বিস্কুটের কৌটো। অমলের মনে পড়ে গেল, সকালে বিকেল  মুড়ি, বিস্কুটের ভাঙা টুকরো ছড়িয়ে দিত সামনের রাস্তায় । এক ঝাঁক চড়াই, কয়েকটা শালিখ, এমনকি একটা কাকও এসে খুঁটে খুঁটে খেয়ে যেত। মা আজ চলে গেছে বছর দুয়েক হবে। সেই সঙ্গে পাখিরাও যে কোথায়  চলে গেছে কে  জানে। অমল কয়েকটা ভাঙা বিস্কুটের টুকরো জানলা দিয়ে ছুঁড়ে দিল। তারপর অপেক্ষা। কিন্তু কোনো কাকপক্ষীও এলো না। একটা রাস্তার কুকুর এসে সব চেটেপুটে খেয়ে গেল। অমলের এখন কোনও কাজ নেই। রিটায়ার করার পর বাড়িতেই বসে থাকে। বাজার হাটও করতে যায় না। এখন ওর কাজ হয়েছে রোজ মুড়ি বিস্কুট ছড়িয়ে দিয়ে দেখা কোনও পাখি আসে কি না আসে। অমলের বৌ নীতা রাগারাগি করে। বলে, 'কি তীর্থের কাকের মত রোজ বসে থাক। চড়াই পাখি আর আসবে না, মোবাইল টাওয়ারের জন্যে। ওরা চলে গেছে দূরে বনে জঙ্গলে'। অমল মানে না। মনে মনে বলে, 'মানুষ আর ওদের ভালো বাসে না, তাই ওরা মানুষকে পরিত্যাগ করেছে'। সেদিন দুপুরে সারা আকাশ জুড়ে মেঘের ঘনঘটা। শরতের নীল আকাশ হারিয়ে গেল মেঘের  দাপটে। হঠাৎ ক্যাঁ ক্যাঁ আওয়াজ। অমল দেখে এক ঝাঁক টিয়া উড়ে এসে ওর জানলার নীচে রাস্তায় পাঁচিলে বসেছে। অমল তড়ি ঘড়ি মুড়ি আর বিস্কুটের টুকরো ছড়িয়ে দিল ওদের মধ্যে। আর টিয়ারা ঝাঁক বেঁধে খেতে শুরু করল সে সব। অমল মুগ্ধ হুই দেখতে লাগলো লাল ঠোঁটের সবুজ টিয়াদের। আর তখনই আকাশ ঝেঁপে বৃষ্টি এল। আর বৃষ্টি এল অমলের দুচোখেও।









শনিবার, ৩০ জুলাই, ২০২২

শুধু অণুগল্পে... অণুগল্পের আড্ডা -৪০ ।। হাম্বা — বিকাশরঞ্জন হালদার।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




অণুগল্পের আড্ডা -৪০



হাম্বা 

বিকাশরঞ্জন হালদার 


খাঁচা হাতে পুকুর পাড়ে বসে আছে, হাড়-জিরজিরে শ্বশুর মশাই।  দু'হাতে ফাঁইজাল খে করছে বৌমা।ঝোড়া-কোদাল সঙ্গে নিয়ে, বাড়ির কর্তা'টি এখন হুগলী। সময় নীরব। খোঁটায় বাঁধা গোরু'টা, খালি মেজলার পাশে দাঁড়িয়ে, হঠাৎ ডেকে উঠলো - হাম্বা!




















শুক্রবার, ২৯ জুলাই, ২০২২

শুধু অণুগল্পে... অণুগল্পের আড্ডা -৩৯।। বাবার মতো - মালা ঘোষ মিত্র।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




অণুগল্পের আড্ডা -৩৯



বাবার মতো 

মালা ঘোষ মিত্র


আজ দুপুরটা বড্ড খাঁ খাঁ করছে। চড়া রোদে রাস্তার পিচ গলে যাচ্ছে।    কুন্তলা বারান্দায় জামাকাপড়
মেলতে মেলতে অন্যমনস্ক হয়ে পড়ে, —আরে
বাবা না, হঠাৎ অজান্তেই "বাবা   বাবা" বলে ডেকে
ওঠে।
বৃদ্ধ মানুষটি থমকে যায়, কুন্তলা গেট খুলে বেরিয়ে আসে। "তুমি আমায় বাবা বললে"—এই লকডাউনে আমায়  যে " বাবা " "বাবা" করতো
সে তো করোনায় চলে গেলো, সেই থেকেই—
কুন্তলা চমকে যায়! ---"আসুন না, আপনি তো আমার বাবার মতন, দুপুরে একটু বিশ্রাম করুন।" মুখের দিকে তাকিয়ে কুন্তলা বলে--"নিশ্চয়ই কিছু খাওয়া হয়নি? "
"না না আমি খেয়েই বেরিয়েছি" -- পৃথীশবাবু বলে ওঠেন। "আগে একটু জন দাও"
"হ্যাঁ হ্যাঁ দিচ্ছি", — দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে পৃথীশবাবু বলেন, " বাড়িতে নিত্য অশান্তি, বৌমার আর দোষ কি,  ওদেরই চলে না তাতে আবার উপরি আমি, যমেও টানে না, কি করবো বলো তো?"ভাতের থালা রেখে কুন্তলা বলে ওঠে--" এমন বলবেন না "। তার চোখের জলে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়।বিড়বিড় করে বলে আজ আমার বাবা থাকলে...!







বৃহস্পতিবার, ২৮ জুলাই, ২০২২

শুধু অণুগল্পে... অণুগল্পের আড্ডা -৩৮।। উদারতা - রমলা মুখার্জী।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




অণুগল্পের আড্ডা -৩৮



উদারতা 

রমলা মুখার্জী



হঠাৎ সৃজা বাড়ি থেকে হাওয়া।কোথায় যে উধাও হল বন্ধুরা বুঝতেই পারছে না। পড়াশোনায় এত মেধাবী ছাত্রীর অন্তর্ধানে কলেজের স্যারেরাও বিমর্ষ। কিন্তু ওদের পরিবারের কাছ থেকে কোনো উত্তর মেলেনি, সকলেই কি যেন একটা আড়াল করার চেষ্টা করে।
     বছর দুয়েক পরে একদিন সৃজা বিয়ে করে, বরকে নিয়ে আমার বাড়িতে এসে হাজির। জানলাম সৃজার কুষ্ঠ হয়েছিল; কুষ্ঠটা সংক্রামক ছিল বলে ও কুষ্ঠ-হাসপাতালে ভর্তি ছিল। ডঃ অভিরূপ দাস, যিনি চিকিৎসা করে সৃজাকে ভালো করেছেন তিনিই এখন সৃজার স্বামী। শুধু তাই নয়, চিকিৎসা চলাকালীন সৃজাকে জয়েন্ট এন্ট্রান্সের জন্য তৈরিও করেছিলেন। সৃজা এবছর মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছে। সৃজার কাহিনি শুনে আমি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলাম।




শুধু অণুগল্পে... অণুগল্পের আড্ডা -৩৭ ।। পালক — তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




অণুগল্পের আড্ডা -৩৭


পালক  

তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য 


আজ আকাশটা একটু ময়লা দেখাচ্ছে। মনে হচ্ছে কতদিন একটা সাদা কাপড় আকাচা পড়ে আছে। ইচ্ছে করছে ভালো  করে আকাশ টাকে ধুয়ে  একটু নীল দিয়ে দড়িতে মেলে দিই।ঠিক  যেন বিল্টুর মায়ের শাড়ি। বেচারি ঘুঁটের ব‍্যবসা করে সারাদিন আগানে বাগানে গোবর কুড়িয়ে  ঘুঁটে দিতে দিতে চামেলী নিজের আর খেয়াল রাখতে পারেনা।  ওর ছেলেটাকেও আজকাল  তেমন দেখা যায়না ছয় সাত বছর বয়স হবে। হয়তো স্কুলে পড়ে। যাই একটু মুকুন্দপুর স্টেশনের দিকে। উরি বাবা কি ভিড়! এই ভর দুপুরে ছুটির দিন এত মানুষ  কোথায়  যাচ্ছে ?স্টেশনে বেলা মাসির চপ খুব  বিখ‍্যাত। মাসির দোকানে মাছি গলবেনা দেখছি। একটু ভিড় ঠেলে গিয়ে বল্লাম ও বেলা মাসি এত লোক কেন আজ? মাসি বললো "তোমার বিয়ে তাই নেমন্তন্ন  খাইতে আইছে লোক বুঝলা?"  আমার  খুব  হাসি পেল আর সব লোক আমার  দিকে তাকিয়ে খানিক হেসে নিলো। একটি  আমার  সমবয়সী তরুণ  বললো আজ "হলদে পার্টির" মিটিং তো তাই গ‍্যাদারিং"। আমি  বল্লাম হলদে পার্টি তো শুনিনি কোনোদিন? তরুণটি উত্তর দিল "আপনার  কানের সমস‍্যা আপনি শোনেননি আমি  কী করতে পারি?"আমি  দুটো চপ খেতে খেতে  রথতলা বাজার গেলাম। একটি বাচ্চা  কখন থেকে হাত পাখা বিক্রি করছে । খুব  সুন্দর  রঙিন হাতপাখা। দেখে খুব  কষ্ট হলো আহা কতটুকু  বাচ্চা মায়া ভরা চোখ।
তা বলি কত দাম? বললো "দশ টাকা"।আমি দুটো দশ টাকার নোট একত্রে করে ওকে দিলাম। ও একটি নীল পাখা দিল। তারপর পয়সা গুণে  আরো এটি গোলাপি পাখা দিল। আমি  বল্লাম পাখা লাগবেনা আর,তুই দশটাকা রেখে দে।ও বললো না আমার  পয়সা লাগবেনা।
জিজ্ঞেস  করলাম পড়াশোনা করিস?  বাচ্চাটি বললো "তিন ক্লাসে পড়ি"।  বল্লাম নাম কী?" বললো "বিল্টু"। আমি বিস্ময়ে জিজ্ঞাসা করলাম   তুই  চামেলীর ছেলে? তোর মা ঘুঁটে বিক্রি করে? বললো "হ‍্যাঁ হ‍্যাঁ, আর আমি  তোমাকে চিনি তুমি  গানের দিদিমণি"। আমি  জানি তোমার গান " আমরা সবাই  রাজা "...  গাইতে গাইতে ছেলেটা বাজারের  ভিড়ে মিলিয়ে গেল  "পাখা চায় পাখা"..। মনে হলো  একটা  পালক হাওয়াই উড়ে  এসে আবার  হাওয়াতেই   ভেসে গেল।









বুধবার, ২৭ জুলাই, ২০২২

শুধু অণুগল্পে... অণুগল্পের আড্ডা -৩৬।। অপয়া — অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় ।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 






অণুগল্পের আড্ডা -৩৬


অপয়া

অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় 

                                                

      হানিমুন – হরিদ্বারে।

-     আগামীকাল আমরা রাফটিং করবো কেমন?

-     না বাবা! জলকে আমি ভয় পাই।

-     ভীতু কোথাকার!

-     দেখ, রাড়াবাড়ি করো না। শিকল ধরে থাকো। সবাই ধরে আছে।

-     ওরা এদেশী। তোমারই সহোদর। আমি বাঙালি। তেলে-জলে মানুষ। বাটা নগরের গঙ্গাঁয় ঝাপ দিয়ে এক কালে হাওড়ায় যেতাম। ‘ও ভয়ে কম্পিত নয় মোর হৃদয়! 

-     লক্ষ্মীটি, আমার কথা শোন। ভীষণ স্রোত। গর্জন শুনতে পাচ্ছ?ছেলেটি সেদিন চোখের নিমেষ স্রোতের টানে কোথায় হারিয়ে গিয়েছিল কে জানে?মেয়েটি স্রোতস্বিনী পবিত্র গঙ্গাঁর জলে সিঁথি সীমন্তের সিঁদুর মুছে কাঁদতে কাঁদতে শ্বশুরবাড়ি এসে শুনতে পেয়েছিল -বাপের বাড়ি ফিরে যাও। এখানে ঠাঁই হবে না। তুমি অপয়া।  





মঙ্গলবার, ২৬ জুলাই, ২০২২

শুধু অণুগল্পে... অণুগল্পের আড্ডা -৩৫ ।। মা — বাবলু গিরি ।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





অণুগল্পের আড্ডা -৩৫



মা 

বাবলু গিরি                 

                      

রোজ মাকে স্নান করাতো, গা মুছিয়ে বিছানায় শুইয়ে।মাকে খাওয়াতে খাওয়াতে গল্প বলতো,- বুল্টিদের বিয়ের ঠিক হয়ে গেছে। পাশের বাড়ির সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে ইত‍্যাদি।আজকাল মা একদম শিশুর মতো হয়ে গেছে। গল্প বলে ভুলিয়ে ভুলিয়ে না খাওয়ালে খাবেই না। পরমা মাকে খাইয়ে নিজে খেয়ে, মায়ের কাপড় কাচে। দুখানাই তো কাপড়। দিনে দুবার পাল্টাতে হয়। একটা পাল্টেই ধুয়ে দিয়ে শুকতে দেয় গাছতলায় । সেটা শুকোলে সন্ধেবেলায় আবার পাল্টাতে হবে। না হলে মা কেঁদে অস্তির হবে।পরমার বাবা পাঁচ বছর আগেই গত হয়েছেন। সেই থেকে মা অসুস্থ,ক‍্যান্সার।

পরমা মাকে ছাড়া কিছুই জানে না। মা ও বলে হ‍্যাঁরে মরলেও আমি তোর কাছেই থাকব।মায়ের জন‍্য বিয়েও করেনি। মা অনেক বলেছে কিন্তু একটি কথাও শোনেনি।শ্মশানে আগুন জ্বলছে দাউ দাউ করে। পরমা কাঁদছে না। সবাই বলছে মা নেই, মারা গেছে। পরমা শান্তভাবে বলছে।মাতো বলেইছে -মরে গেলেও আমার কাছে থাকবে।হঠাৎ পরমার মনে হলো মায়ের ভাত রান্না করা হয়নি। উঠে পড়লো পরমা শ্মশানতলা থেকে, আর বড় বড় চোখ করে জ্বলন্ত চিতার দিকে চেয়ে বলল -

মা তোর পোড়া শেষ হলে তাড়াতাড়ি ঘরে চলে আয়। আমি ভাত বসাতে যাচ্ছি। তোকে গল্প বলতে বলতে খাইয়ে দেব। তোর কাপড় পাল্টে দেবো, দেরী করিস না।বলেই আলুথালু আঁচল লুটোতে লুটোতে দৌড়তে লাগলো ঘরের দিকে।






শুধু অণুগল্পে... অণুগল্পের আড্ডা -৩৪ নেতাজি ঠিক কথায় বলেছিলেন — মলয় কুমার মাঝি।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 








অণুগল্পের আড্ডা -৩৪



নেতাজি  ঠিক কথায় বলেছিলেন

  মলয় কুমার মাঝি
 


হায় রে কোন দেশে আমরা বাস করি?যেখানে এক সময় কত বিপ্লবী জন্ম গ্রহন করেছিলো,স্বাধীনতার জন‍্য নিজেদের জীবন দিল!সেই দেশে টাই এই বাংলা তো!কি জানি দিনের পর দিন খুন- রাহাজানী-চোর-লম্পোট ধর্ম বিভেদ,রাজনীতি কলুষিত করে চলেছে,এই দেশের মাটিকে।পলাশ বলে কি আর বলবো জানিই,ভাই হরিসাধন প্রশাসন জেগে ঘুমাই,চোর নালিশ করতে গেলে কেস নেয়।আর সাধারণ মানুষ করতে গেলেই বিভিন্ন বায়না।হরিসাধন বলে আচ্ছা ভাই বলতো তুই কোন দিন চুরি করেছিস,খুন করেছিস,না রে ভাই না।তবে তুই জেল খাটলি কেন!প্রকাশ‍্য জোয়া খেলছে। একটা অশান্তি - অশালীন পরিবেশ তৈরী হচ্ছে,আমি প্রতিবাদ করে ছিলাম-তাই। তুই কি করেছিলি আর ভাই পৈত্রিক সম্পত্তি সকলেই ভাগ পেয়ে বুঝেও নিয়েছে।একদিন পাশের বাড়ির অন‍্য দু শরীকের সঙ্গে ঝগড়া হচ্ছিলো। হঠাৎ এক কিশোর বয়সী ছেলের মাথা ফাটিয়ে দেয়।এদের কেস হালকা হয়ে যায়,আর যারা মারল টাকার জোরে মিথ‍্যা নারীনির্যাতনের কোট কেসে ফাঁসিয়ে দেয়।আমি কেন অনেকই সেই জায়গায় ছিল না।এই তো দেশের আইন। এখন মনে হয় নেতাজী ঠিক কথায় বলেছিলেন! ভারতবর্ষ স্বাধীনতা লাভের পর পাঁচ বছর মিলেটারী  শাসন ব‍্যবস্থা দেওয়া দরকার। তাহলে এই রকম বিনা দোষে আমাদের মতন মানুষগুলোকে মাথা নিচু করে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হত না।









সোমবার, ২৫ জুলাই, ২০২২

শুধু অণুগল্পে... অণুগল্পের আড্ডা -৩৩ ।। বক্স নাম্বার ফোর —পাপড়ি ভট্টাচার্য।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




অণুগল্পের আড্ডা -৩৩

     
 বক্স নাম্বার ফোর
পাপড়ি ভট্টাচার্য

একসময় স্মার্টফোন ইন্টারনেট হীন জীবন ছিল পোস্ট বক্স,লেটার বক্স আর খামবন্দি চিঠি পত্রের মাধ্যম।বক্স নাম্বার ফোর এর চিঠি বাছতে বাছতে একদিন... চাকুরীরত স্বাতীর মা বললেন--কি দিনকাল পড়ল।বেকার ছেলে চাকুরীরতা মেয়ে চাইছে।স্বাতী বলল--চাইতেই পারে। একটা বেকার মেয়ে যদি চাকরি করা ছেলেকে বিয়ে করতে পারে...তুই চুপ করত।এমা এরা কারা? পাসপোর্ট সাইজের ছবি দিয়েছে।আর এসব কি...স্বাতীর বাবা মিটি মিটি হেসে বললেন,বেশ ব্রিলিয়ান্ট বায়োডাটা দুটো ছেলের- ই। একটা সিলেক্ট কর দেখি গিন্নী।বাবা মাকে অবাক করে দিয়ে স্বাতী রিসিভার তুলল।-- হ্যালো, নমস্কার একটু অতনু সেনগুপ্ত কে দেবেন?--বলুন আমি অতনু।
--আপনার ইন্টারভিউয়ের ডেট কি পার হয়ে গেছে?--আমার কল তো আসেনি।
--আসবে কি করে, বায়োডাটা তো পাত্র-পাত্রীর বিজ্ঞাপন বক্সে ফেলেছেন।
--ও মাই গড,রাণা এই ভুল করলো?
--ওনার খামটা ও রয়েছে।
অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।সময় আছে, আমরা আবার পাঠাব।
--শুনুন, আমার বাড়ির ঠিকানা দিচ্ছি। এসে নিয়ে যেতে পারেন।
ঢাকুরিয়ার বাড়ির সামনে পড়ন্ত বিকেলে দুটি ছেলে এসে বাইক থেকে নামল।স্বাতী দেখল সুন্দর দুটি যুবককে।অতনু হাত বাড়িয়ে খাম দুটি নিল।রাণার চোখে অপার মুগ্ধতা।স্বাতী মিস্টি হেসে বলল-অল দা বেস্ট।ওপরে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে দেখলেন মাল্টিন্যাশানাল কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর সব‌্যসাচী হালদার। তাঁর নামের চিঠি দুটো অফিস নয়, ভুল হয়ে এসেছে বাড়িতে। গিন্নী খেয়াল করেনি, মেয়ে ঠিক দেখেছে।











শুধু অণুগল্পে... অণুগল্পের আড্ডা -৩২ ।। ভিক্কে — দীপক বেরা।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 






অণুগল্পের আড্ডা -৩২



ভিক্কে 

দীপক বেরা 


এলাকার বিখ্যাত পকেটমার, 'গুরু'র.. 'জম্মোদিন' আজ। 
— " কামাল কিয়া ভাই, 'হাত কি সাফাই, আজ কি কামাই',.. আজ একটা করকরে পাঁচশো হাতিয়েচি। আমার জম্মোদিনে তোদের আমি 'ফুটপাতের ব্রিয়ানি' খাওয়াবো। " 
— " ইয়ে দোস্তি, হাম নেহি ছোড়েঙ্গে "..ঘন্টা গান ধরেছে.. 
— " যাই বলিস, ঘন্টাটা কিন্তু হেব্বি গায়! ".. ফটকা বলে ওঠে।
 — " এ্যায়, চোপ বে শালা! জানিস না, ও ব্যাটা ভিক্কে করে। নোকের কাছে হাত পাততে নজ্জা করে না ওর? " .. গুরু ঝাঁঝিয়ে ওঠে। 
সবাই চুপ করে যায়, কেউ আর 'টুঁ'  টি শব্দ করে না। 
'জম্মোদিন'-এর মস্তি করতে রাত হয়ে যায়। পেট ভরে 'ফুটপাতের ব্রিয়ানি' খেয়ে বন্ধুরা সবাই মিলে ফুটপাতেই সটান লম্বা ঘুম দিল। 
ভোরবেলার দিকে একটা বিকট আওয়াজে ওদের ঘুম ভেঙে যায়। লোককজনের ছোটাছুটি, চিৎকার! ওরাও সবাই ছুটে যায় ভিড়ের দিকে। রেলিংয়ে ধাক্কা মেরে একটা গাড়ি সজোরে বেরিয়ে গেল.. চারদিকটা রক্তে ভেসে যাচ্ছে.. ইতিমধ্যেই পুলিশ এসে যায়। 
— " ওরে বাবা, এ তো একেবারে বাজে কেস! গাড়ির নাম্বারটা কেউ দেখেছেন? ".. কোনো উত্তর নেই.. অফিসার কনস্টেবলকে বললেন,
— " লাশটা মর্গে পাঠিয়ে জায়গাটা খালি করে দিন। "এবার 'গুরু', অফিসারের পায়ে পড়ে যায়। 
— " আপিসার বাবু গো, আমার মাকে কোত্তাও নে যাবেন না গো। আমি মাকে পোড়াবো! আমায় কটা টাকা 'ভিক্কে' দিবেন গো বাবুমশায়রা? আমার পাপের ট্যাকায় মা যে আমার পুড়বে না গো! দেন না কটা ট্যাকা 'ভিক্কে'!"









রবিবার, ২৪ জুলাই, ২০২২

শুধু অণুগল্পে... অণুগল্পের আড্ডা -৩১।। নাই যদি রোস নাই র'বি — সুবীর ঘোষ।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 






অণুগল্পের আড্ডা -৩১


নাই যদি রোস নাই র'বি

সুবীর  ঘোষ




প্রদীপ্ত শুধু স্কুলটা গ্রামে পড়েছে। তারপর দিল্লি হয়ে আমেরিকা। সেখানে চাকরি পেয়ে প্রজেক্টের কাজে বর্তমানে নাইরোবিতে। কিছুদিন ছুটি পেয়ে সে গ্রামে এসেছে। তার বাবা প্রদীপবাবুও অবসরজীবন কাটাচ্ছেন গ্রামেই। রাস্তায় বেরিয়ে তার সঙ্গে দেখা হয়ে গেল মন্ডলপাড়ার বিধুজ্যাঠার সঙ্গে। বয়সের ভারে ও দৃষ্টিশক্তির দুর্বলতায় প্রদীপ্তকে ভাসা ভাসা চিনতে পারলেন।
---তুই প্রদীপ তো?
---না, আমি প্রদীপ্ত।
---তুই না কী বিলেতে থাকিস?
----না, মানে ঠিক বিলেত নয়, নাইরোবি।
---ভালো লাগে বাড়ি ছেড়ে অদ্দূরে থাকতে?
---লাগে না, কিন্তু চাকরি বলে কথা!
---তা, ওখানে যদি নাই রবি তো নাই র!  বিলেত কী আর একটুখানি!






















  

শুধু অণুগল্পে... অণুগল্পের আড্ডা -৩০।।আশা পূরণ — সুনীতা ব‍্যানার্জী।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।













অণুগল্পের আড্ডা -৩০



আশা পূরণ 

সুনীতা ব‍্যানার্জী

পূণ্য  রথযাত্রায় ভিড় ঠেলে যতবার এগোতে যায় কমলা,
জনস্রোতে ঠেলা হয়ে পড়ে পথের ধারে ।"এযেন"সমুদ্রে ফেলে দেওয়া জিনিস স্রোতে হাবুডুবু খেয়ে আবার তীরে এসে ঠেকে ।
'তার আশা' একটি'বার -শুধু একটি'বার -তাঁকে দেখা, আর তার এই জীর্ণশীর্ণ হাতে রথের রশির স্পর্শটুকু পাওয়া ।
 "যেভাবে"সেতুবন্ধনের সময়" ক্ষুদ্র কাঠবেড়ালীও ধন‍্য হয়েছিল সেই ভাবে ।একটু জিরিয়ে উঠে দাড়াল আবার।  'আদিরথ'তখন হাতের নাগালের বাইরে ।'আশাহত হৃদয়ে' সেইদিকে তাকিয়ে ভিজে যায় চোখ ।'দীর্ঘশ্বাস ফেলে 'ফিরে যেতে উদ‍্যত হলে ' দেখে'"জয়ধ্বনি তুলে"গাঁ'ঘেষে এগিয়ে চলেছে  ছোট'বড় অসংখ্য  রথ । আহা! কি অপূর্ব --'চৈতন্য এলে দুহাত তুলে -"হায় ঈশ্বর ' তুলসী পাতার আবার  ছোট, বড় ...












শনিবার, ২৩ জুলাই, ২০২২

শুধু অণুগল্পে... উপচিকীর্ষা — ভবানীশংকর চক্রবর্তী।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



অণুগল্পের আড্ডা -২৯


উপচিকীর্ষা

ভবানীশংকর চক্রবর্তী

ডিউটি সেরে স্কুটি চালিয়ে বাড়ি ফিরছিল শ্রুতি। বটতলার কাছে এসে স্কুটির আলোয় দেখতে পেল একটা লোক রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে। কাছাকাছি এসে চিনতে পারল।বিশু মাস্টার। বিশ্বেশ্বর বটব্যাল।কাছাকাছি একটা স্কুলে জুলজির টিচার।ব্যাচেলর।একটু খ্যাপাটে।পাড়ার লোকের বিপদে আপদে ঝাঁপিয়ে পড়ে।নাওয়া খাওয়া ভুলে যায়। মাস্টারি পাওয়ার আগে বাড়িতে টিউশনি পড়াত। শ্রুতিও পড়েছে বিশু মাস্টারের পাঠশালায়।
স্কুটি থেকে নামল শ্রুতি।দেখল জ্ঞান আছে। ধরে বসাল।
- গাড়িতে বসতে পারবেন?
ঘাড় নেড়ে হ্যাঁ বলল বিশু মাস্টার। শ্রুতি স্কুটি ঘোরাল।
-আমাকে ভালো করে ধরে বসুন। স্কুটি ছুটল চন্দন পুকুর হাসপাতালের পথে। যেতে যেতে জানল, কয়েকটা অল্প বয়েসি ছেলে বটতলায় বসে মদ খাচ্ছিল।বিশু মাস্টার তাদের নিষেধ করেছিল।তাইতেই এমন কান্ড করেছে তারা। শ্রুতি নার্স। রোগীর সেবা তার কাজ। কিন্তু বিশু মাস্টারের রক্তাক্ত গায়ের গন্ধে এই প্রথম বুঝতে পারল একটা পবিত্রতা ও ভালো লাগা তার সমস্ত দেহ মনে ছড়িয়ে পড়ছে।








শুক্রবার, ২২ জুলাই, ২০২২

শুধু অণুগল্পে... অণুগল্পের আড্ডা -২৭।। বাচ্চা মেয়ে -রাজীব ঘাঁটী।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।








অণুগল্পের আড্ডা -২৭


বাচ্চা মেয়ে
রাজীব ঘাঁটী


অনামিকা বাড়িতে অনু। বারবার বিরক্ত হয় "বাচ্চা মেয়ে" কথাটি শুনতে ,তবুও সবাই ওকে বাচ্চা মেয়েই বলবে। কেন বাপু এবছর তো মেয়েটা উচ্চমাধ্যমিক দেবে‌ ,তা আমাদের সময় বিয়ে হয়ে বাচ্চার মা হতো এ বয়সে আর এখন সব দিনকাল, ও নাকি বাচ্চা ! ঠাম্মি এভাবেই বলে । ঠাম্মির খুব প্রিয় অনু । ক্যারাটে জানে । পড়াশোনায় বেশ ভালো। আর নাচ তো ওর প্যাশন  গাদা গাদা পুরস্কার পেয়েছে এর মধ্যে। বয়সের মানে ওকে আরো ছোট মনে হয় । খুব মিষ্টি দেখতে মেয়েটা ।
বাবার কাছে জানতে চায় , আচ্ছা বাবা কত বছর বয়স হলে আর বাচ্চা বলা যায় না ?
বাবা বললেন আঠারো বছর।
স্কুলে ওদের ক্লাসের মেয়েদের সবাই ভয় করে , ব্ল্যাক বেল্ট চ্যাম্পিয়ন অনু আছে বলেই ।অনুকে দেখলেই কেমন বাচ্চা, বাচ্চা মনে হয় ।খুব ভালো বন্ধুত্ব করতে পারে ,আর বাড়ির সবার খুব আদরের। একদিন একটা নাচের অনুষ্ঠান থেকে ফিরছে অনু ওর মায়ের সাথে , প্রচণ্ড বৃষ্টি তাই একটু দেরি হয়েছে। রাত তখন দশটা হবে‌ । অনুষ্ঠান স্থল থেকে বাড়ি এক কিলোমাটার এর একটু বেশি। ভেবেছিল টোটো বা অটো তে ফিরবে ,তার না পেয়ে পায়ে হেঁটেই ফিরছে । একটু আগেই বৃষ্টি থেমেছে শুনশান রাস্তা । হঠাৎ বাইক নিয়ে বছর ২৫-২৬ এর দুটি ছেলে পথ আটকে দাঁড়ায়,মা ভয় পেলেও অনু হাত মুষ্ঠি করে তৈরি হয় । ছেলে দুটি হাসতে হাসতে বলে আরে এ তো বাচ্চা মেয়ে!বাইক থেকে নেমে একজন অনুকে ধরতে গেলেই অনুর অ্যাকশনে কুপোকাৎ,আরেকজন নেমে এগিয়ে এলে শুরু হল ফাইট । দুজনেই কাতরাচ্ছে আর অনু জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে‌ উদ্যত পরবর্তী ঘুষির জন্য। মা তো অবাক !ততক্ষণে টহলরত পুলিশ গাড়ি এসে দাঁড়িয়েছে।পুলিশ অফিসার অবাক হয়ে অনুর দিকে তাকিয়ে বলে আরে মা ,তুমি তো বাচ্চা মেয়ে !সঙ্গে সঙ্গে অনু বলে ওঠে না । আমার বয়স আঠারো পূর্ণ হল আজ‌। আগামীকাল আমার জন্মদিন।











শুধু অণুগল্পে... অণুগল্পের আড্ডা -২৮।। মগজাস্ত্র - অশোক রায়।। Ankurisha।। E.Magazine।।Bengali poem in literature।।

 





অণুগল্পের আড্ডা -২৮


মগজাস্ত্র

অশোক রায় 

    
রোববার দুপুরে ফেলুদার গল্প পড়ছি, চোখদুটো প্রায় লেগে এসেছে, এমন সময় দরজায় টোকা। ধুতি ছাতা হাতে একজন অতি পরিচিত। এই নাও - মঙ্গলে দঙ্গল - আমার নতুন বই আজ বেরোলো। কিন্ত ফেলুবাবু কোথায় গেলেন? আমি পড়েছি বিষম বিপদে। নাম নিতেই তোপসে কে নিয়ে ফেলুদার আগমন। 

ফেলুদা আমার আদর্শ । সেই ফেলুদা এসেছে আমার বাড়ি! পকেট থেকে একটা বাক্স বার  করে বলল, 'দেখুন তো জটায়ু এটাই মঙ্গলের চাবি কিনা।'  লালমোহন বাবুর চোখ দুটো ছানাবড়া। 'আরে এটাই তো আমাদের মঙ্গলের টিকিট। কোথায় পেলেন?
'হুঁ হুঁ, সবই মগজাস্ত্রের খেল।
একটা প্রশ্ন করা যাবে কি?' জটায়ুর নিবেদন।
আপনার সব প্রশ্নের উত্তর দিতে এখুনি এসে পড়বেন ইন্সপেক্টর দাস। এই যে ভাই আর কথা নয়। বাইরে বৃষ্টি। জম্পেশ চা খাওয়াও তো। লালমোহন বাবু, আপনার মঙ্গলগ্রহে যাওয়া কেউ আটকাতে পারবে না।।

                           













      

বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই, ২০২২

শুধু অণুগল্পে... অণুগল্পের আড্ডা -২৪ ।। বিচারের বাণী — সামসুজ জামান।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 


অণুগল্পের আড্ডা -২৪


বিচারের বাণী

 সামসুজ জামান

টানটান উত্তেজনার মধ্যে বিচারকের সামনে দাঁড়িয়ে সবিতা হঠাৎই বলে উঠলো-
 ‘ধর্মাবতার, আমি যা বলছি, গীতা সাক্ষী করেই বলছি’।
বাদী-বিবাদী দু-পক্ষের উকিল-বিচারক হতচকিত। সমরেশ নিজের স্ত্রীকে খুনের চেষ্টা করেছিল একথা সর্বজনবিদিত। 
সবিতা ব্যাপারটা সম্পূর্ণ উল্টে দিয়ে বলল – ‘না, হুজুর, উনি স্ত্রীকে ভালবেসে বাঁচাতে, সম্পূর্ণ মিথ্যে বলছেন। আমিই উত্তেজিত হয়ে নিজের গায়ে আগুন দিয়েছি’। 
এতক্ষণের সকলের ভাবনা চিন্তায় জল ঢেলে দিয়ে বিচারক সমরেশকে নির্দোষ হিসেবে ঘোষণা করলেন।
নির্দোষ সাব্যস্ত বোবা-সমরেশ  নিজের গালে চড় মারতে মারতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল – ‘বাস্তবে এমনও হয়?  সবিতার কান্ডকারখানা তো দেখি সিনেমাকেও হার মানালো। আর এই মেয়েটাকে আমি কিনা.... ছি,ছি, ছিঃ’!!  








শুধু অণুগল্পে... অণুগল্পের আড্ডা -২৫ ।। রফিক — স্মৃতি শেখর মিত্র।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



অণুগল্পের আড্ডা -২৫


রফিক

স্মৃতি শেখর মিত্র 


রফিক আর তার বাবা, মা থাকে সামনের বস্তিতে।আট বছরের রফিক কাজ করে একটি মোটরবাইক সারানোর দোকানে। রফিকের বাবা মুনব্বর ভোরে বেরিয়ে যায় লরির সঙ্গে।ওর মা গত রাত থেকে বিছানা ছেড়ে উঠতে পারেনি গায়ে তার প্রচন্ড জ্বর। অন্যান্য দিন রফিকের জন্য  চা বানিয়ে দেয়। সাথে রাতের করা বাসি রুটি।আজ মায়ের শরীর খারাপ দেখে রফিক বড় রাস্তার পাউরুটির দোকান থেকে মায়ের ও নিজের জন্য দুটো বান আনতে যায়।বড় রাস্তায় পা দিতেই কোথা থেকে সাত আটটা কুকুর এসে তাকে অতর্কিতে আক্রমণ করে।শুনশান রাস্তায় কুকুরগুলি রফিককে ধরাশায়ী করে দেয় এবং যেখানে সেখানে কামড়াতে শুরু করে এবং মুহূর্তের মধ্যে রফিকের সারা শরীরে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয় এবং রফিকের শরীর দিয়ে রক্তের ধারা বইতে থাকায় কিছুক্ষণ পরেই তার শরীর নিথর হয়ে যায়।ওর মা তখন গভীর ঘুমে।





শুধু অণুগল্পে... অণুগল্পের আড্ডা -২৬।। স্বার্থপর — অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




অণুগল্পের আড্ডা -২৬


স্বার্থপর

অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়

(প্রখ্যাত বাংলা চলচ্চিত্র পরিচালক প্রয়াত তরুণ মজুমদার-এর স্মরণে) 

         বিয়ের হয়ে আসার পর থেকেই মেয়েটি মানিয়ে নিতে পারেনি ছেলেটির সাথে। প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদের অন্তিমে বাপের বাড়ি চলে যেত মেয়েটি। ছেলেটি ফিরিয়ে আনতো তাঁকে। দীর্ঘ সাত বছরের দাম্পত্য জীবনে ছেলেটি বহুবার শুনে এসেছে – সে নাকি স্বার্থপর। তাঁর সাথে নাকি এক ছাদের নীচে থাকা অসম্ভব । ছেলেটি আর যায়নি বেলতলা । পরে মেয়েটি নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছিল।

        একদিন হঠাৎ ব্যাঙ্ক থেকে মোবাইলে রিং– আপনি হেলেনা ম্যাডাম? আপনার নামে আপনার হাসব্যান্ড  পঞ্চাশ লক্ষ টাকার এফ.ডি.করিয়েছিলেন।ম্যাচিয়োর্ড হয়ে গিয়েছে ব্যাঙ্কে চলে আসুন।  

         সেই মূহুর্তে ডাক্তার স্বামীর মোবাইলে একটি আর্জেন্ট কল– স্যার, একটি ডেড বডি এসেছে।দেহের    সমস্ত অর্গানগুলো জন কল্যানে সে দান করে গিয়েছেন।








 

 

                                                                                     

বুধবার, ২০ জুলাই, ২০২২

শুধু অণুগল্পে... অণুগল্পের আড্ডা -২৩ ।। বসন্ত এসে গেছে —হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।







অণুগল্পের আড্ডা -২৩


বসন্ত এসে গেছে
হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়


না,তার ভাল্লাগছে না।মিতুর একদম ভাল্লাগছে না।
তার আশপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে একটা হিংসুটে বাঘ।
বাঘ নাকি বাইসন।শিকার পাহারা দিচ্ছে।
আর কী আশ্চর্য শিকার ও অপেক্ষা করে আছে তার বাঘের জন্য।মাঝে মাঝে ঝুরো স্বপ্নের মধ্যে মিতু
আনমনে বলে ,খিদে নেই?খিদে নেই তোমার ?
কতদিন বসে থাকবে এভাবে ?
___ ও,খুব লম্বা তো ?
হ্যাঁ, হ্যাঁ খুব লম্বা।
___  উনি আজ আসেননি। রোজ আসেন না ।
___ ওঁর নামটা জানতে পারি ?
___ঋতম রায়

ভুল হচ্ছে, খুব ভুল হচ্ছে যেন কোথাও
ধরা যাচ্ছে না তো কিছুতেই।

___ ওই ক্রাইসিস টা তো আমারো হচ্ছে।
___ আপনারও হচ্ছে, অবাক কান্ডতো! 

তবু গোলমাল একটা হচ্ছে।শুধু মিতু কি টের পায় ,ঋতম পায়না ...
আদিমকালে কোনও এক ঋষি পুরুষ
মনে করেছিলেন প্রত্যেক পুরুষের জন্য চাই একজন
নিজস্ব নারী।....

___তার মানে?
___ আমি এক্সপ্লেইন করার মুডে নেই।তুমি যাও
ভিতরে গিয়ে বসো।একটা সারপ্রাইজ আছে।
...বসন্ত এসে গেছে ... 








শুধু অণুগল্পে... অণুগল্পের আড্ডা -২২।। উপলব্ধি — জয়শ্রী সরকার।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।








অণুগল্পের আড্ডা -২২


উপলব্ধি
জয়শ্রী সরকার

সুজয়ের টাই ঠিক করতে করতে অন্বেষা বললো, " অফিস থেকে ফেরার পথে রবীন্দ্রনাথের " শেষের কবিতা " উপন্যাসটা এনো তো। পেলে অবশ্যই আনবো বলে বেরিয়ে গেল সুজয়। 

নিঃসন্তান অন্বেষা নিজেকে নিয়ে অনেক কাটাছেঁড়া করলো। ' নিজের কথাই ভেবেছি।  পরস্পরকে ভালোবেসে বিয়ে। সুজয় কেন ওর অক্ষমতার কথা স্বীকার করে না --- একবারও ভেবেছি? সুজয়ের যন্ত্রণা এমনিতেই ওকে কুরে কুরে খাচ্ছে। সেখানে আমিও যদি ..... 
নারীনির্যাতন নিয়ে আমরা সোচ্চার হ'ই। কিন্তু পুরুষের যন্ত্রণা, তার অন্তর্দহন কোনোদিন হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করেছি কী? ' আমূল পরিবর্তন অন্বেষার। বইটা হাতে নিয়ে সুজয়কে বললো , " অনাথ শিশুদের জন্য একটা আশ্রম গড়তে চাই , তুমি পাশে থাকবে তো? " সুজয় ওর প্রশস্ত বুকে অন্বেষাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে নিল!