লেবেল

শ্রদ্ধাঞ্জলি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
শ্রদ্ধাঞ্জলি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ৩ জুলাই, ২০২১

আজ স্বামী বিবেকানন্দের প্রয়াণ দিবস।। অঙ্কুরীশা-য় কবিতা-য় শ্রদ্ধাঞ্জলি।। নিবেদনে- তপনজ্যোতি মাজি, দুর্গাদাস মিদ্যা,.সমাজ বসু, শ্যামল মন্ডল, .বিমল মণ্ডল, মনোজ ভৌমিক,রঞ্জন ভট্টাচার্য । Ankurisha ।।E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 



আজ বিশ্বপথিক স্বামী বিবেকানন্দের ১১৯ -তম মহাপ্রয়াণ দিবস।আমার নতজানু শ্রদ্ধা ও প্রণাম সারা বিশ্বের যুবশক্তির আদর্শ এই মানুষটির প্রতি, যাঁকে কোনোদিন ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়।

 


স্বামী বিবেকানন্দের প্রয়াণ দিবস

অঙ্কুরীশা-য় কবিতায় শ্রদ্ধাঞ্জলি 

 

নিবেদনে


১. তপনজ্যোতি মাজি

২.দুর্গাদাস মিদ্যা

৩.সমাজ বসু

৪.শ্যামল মন্ডল

৫.বিমল মণ্ডল

৬.মনোজ ভৌমিক 

৭. রঞ্জন ভট্টাচার্য 


  

বিশ্বাস 

তপনজ্যোতি মাজি


বিশ্বাস অর্জনের জন্যে বিশ্বাস চাই  অবিচল।


প্রতিদিন ছোট হচ্ছে আমাদের উচ্চতা।

নিজেদের খর্বতা দেখে লজ্জা হয় কখনও কখনও।


আমরা হতে পারিনি কত কিছু।

মানবিক হতে পারিনি।

ধর্ম নিরপেক্ষ হতে পারিনি।

অসাম্প্রদায়িক হতে পারিনি।

পারিনি নারিজাতির প্রতি শ্রদ্ধাবনত।


আমরা আয়ত্ত করেছি কুপমুণ্ডুকতা।

ধর্মভেদ এবং ধর্মান্ধতা।

সত্য আর অহিংসা থেকে সরে গিয়ে

শিখছি ভেদ দর্শন।


আমরা ভাঙছি নিজেদের।

টুকরো টুকরো করছি ঐক্য।

জ্ঞানকে দূরে সরিয়ে অজ্ঞানতায়

ঢেকে ফেলছি নিজেদের।


সৎ ও সাহসী হতে বলেছিলে।

আমরা পারিনি।

পরিব্যাপ্ত ব্যর্থতার মধ্যে তোমার 

আর একটা জন্মদিন।


তন্ময় মননে ভেবে দেখার দিন।

আমরা তোমার স্বপ্নের যোগ্য

উত্তর প্রজন্ম কিনা?





চিরস্মরণীয় বীর

দুর্গাদাস মিদ্যা


আমার মনের মাটিতে যে নাম 

 সদা জাগরূক সে নাম স্বামী বিবেকানন্দ। 

হাজার দুখের  মাঝেও তিনি 

আমাদের সকলের চির আনন্দ। 

পৃথিবীর এই গভীর অসুখে তাঁর আশীর্বাদ

 ঘোচাবে আমাদের সকলের

  মানসিক অবসাদ। 

তাঁর চোখের দিকে যখন আমি  চাই

হাজার প্রতিবন্ধকতায় চলার শক্তি ফিরে পাই। 

তিনিই আদিত্য তিনিই অগ্নিবর্ণ পুরুষ

বেহুশ প্রাণে তিনিই জাগান হুশ। তিরোধান দিবসে জানাই শতকোটি প্রণাম

চিরস্মরণীয় বীর তিনি মহৎ এক প্রাণ। 


     




     


হে মহামানব
সমাজ বসু

সত্য অহিংসার চারাগাছগুলো মৃতপ্রায় পড়ে আছে
আমাদের উঠোনে---  
ঐক্যের সব সেতু ভেঙে টুকরো টুকরো
এই বেশ আছি, দেওয়ালের দু পাশে। 
অজ্ঞানতার অন্ধকারে জ্বেলে রেখেছি নিদেন একটা
মোমবাতি---
মোমবাতির থিরথির আলোয় কেঁপে উঠছে
আমাদের এই মলিন দিনযাপন।

হে মহামানব---
 আরো একবার তোমার শাসন বারণ আর
সত্যের অনুসন্ধান ফিরে আসুক---
আমাদের বর্ণহীন জীর্ণ জীবনধারণে।


বিবেকানন্দ 

শ‍্যামল মন্ডল


আঠারো'শ তেষট্টিতে

                         বার-ই জানুয়ারি

ব্রহ্মজ্ঞান বিবেকানন্দ

                           জন্ম হল তাঁর'ই। 

কর্ম যোগী ধর্ম যোগী 

                         সাম্য এনে বঙ্গে ,

সকল ধর্মের শ্রেষ্ঠ ধর্ম 

                     মেখে ছিলেন অঙ্গে। 

বাল‍্যকালেই জাত বিভেদের 

                         গণ্ডী ভেঙ্গে দিয়ে,

মানবধর্ম করতে পালন 

                           দৃঢ় শপথ নিয়ে।

পরমহংসের পরম ছায়ায় 

                     পেলেন নতুন শিক্ষা,

যত মতে তত পথে 

                      মানব ধর্মের দীক্ষা।

দেশ হ'তে দেশ-দেশান্তরে 

                          ধর্ম প্রচার তরে।

ঘর-প‍রিজন সকল ছেড়ে

                        সন‍্যাসী রূপ ধরে,

শিকাগোর সেই বিশ্ব-সভায় 

                     ধর্ম যোগীর বেশে,

বিশ্ব-জোড়া নাম হ'লো তাঁর 

                     দীর্ঘ‍্য ভাষন শেষে।

বিশ্ব-ভূবন জয়ের পরে 

                    এলেন দেশে ফিরে,

বেলুড়মঠ গরীমা তাঁর 

                      তাঁর মহীমা ঘিরে।

রামকৃষ্ণ মঠ-মিশন গড়েন

                      মানব সেবার জন‍্য,

রাজ কর্মে'তে ভক্তি জ্ঞানে 

                       মানব জাতি ধন‍্য।

 চৌঠা জুলাই ঊনিশ'শ

                       এলো অমোঘ সেদিন,

বেলুড়মঠে ধ‍্যানের মাঝেই 

                       হলেন সত‍্যে বিলীন।





প্রেম

বিমল মণ্ডল
 
সংসারে পড়ে থাকা ভীড়ে
মুক্তির আলো খোঁজে
দেবতার আরাধনা  সেরে
প্রেমের মহিমা বোঝে। 

মানুষের মাঝে মুক্তির স্বাদ
বিলিয়ে গেলেন তিনি
জাতপাত আর ধর্ম ভুলে 
থাকতেন বিবেকানন্দ যিনি। 

প্রতি জীবে প্রেম সেবা
মন তুলিতে আঁকেন
সাতসাগর আর তেরো নদীতে
প্রেমের হৃদয়কথায় ভাসেন।



 

হে পরিব্রাজক

 মনোজ ভৌমিক 



দিব্যকান্তি সুপুরুষ সুন্দর শ্রীমুখ, 

অধরের দীপ্তি ভাসে সূর্য সম তেজে।

অরূপ লোচন হেরি মনে জাগে সুখ, 

জ্ঞানগর্ভ বাণী যার এ বিশ্বে বিরাজে। 


তিনিই বিবেকানন্দ বঙ্গের সন্তান, 

আন্তরিক সম্ভাষণ বড়ই মধুর। 

চিকাগোয় দেখালেন ভারত মহান,

নিমেষেই করলেন নিকট সুদূর। 


কর্মই শ্রেষ্ঠ সম্পদ মন্ত্র ছিল যার, 

গড়তে সমৃদ্ধ দেশ আহুত যুবক। 

জীব সেবা শিব সেবা ভাবনাই তার, 

ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা তুমি হে পরিব্রজক। 


একবার জন্ম নাও হে মহামানব, 

ধর্ম জীবন ধারণ হোক অনুভব।





এসো এসো হে বিবেক

রঞ্জন ভট্টাচার্য


আজ আর নেই সেই বটবৃক্ষ 

ঝরেছে তার পাতা ফুল ফল 

আগাছা গ্রাস করেছে তাকে 

জঞ্জালে ভরেছে শরীর ফুসফুস হূৎপিণ্ড 

ফুসফুসের রক্ত চুষে খায় দুর্বৃত্তায়ন...


বিবেক হারিয়ে গেছি খরস্রোতা নদীর ভাঙনে নিমজ্জিত আজ সাগর অতলে।


বিবেকের বিবেক আজ হৃদয়ের কোণে কোণে বিন্দুমাত্র নেই 

যা ছিল সব  কোথায় !

সেই যুবক তার যৌবন শক্তি কোথায় 

সেই উদ্দীপনা উন্মাদনা আর শ্রদ্ধা ভক্তি!

এসো, এসো বিবেক নতুন করে সাজাও তোমার সমাজ 

অবতার রূপী আর এক শক্তিকে 

পাঠাও আমাদের মাঝে 

তোমার চিন্তা-ভাবনা বিবেক যেন আগুনে পুড়ে ছারখার 

শুধু অপেক্ষায় আছি এসো আবার এসো আবার এসো হে বিবেক...






শ্রদ্ধাঞ্জলি 













শনিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২১

সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫তম জন্মদিনে অঙ্কুরীশা-র শ্রদ্ধাঞ্জলি

 




সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫তম জন্মদিনে 

 অঙ্কুরীশা-র কবিতায় শ্রদ্ধাঞ্জলি       


কলমে-


১.

জাগুন, বন্ধু জাগুন

দেবাশীষ মুখোপাধ্যায়




পথ সব রক্ত ঝরা

এগিয়ে চলছে পা

মুষ্টি বদ্ধ হাতেরা সব

শত্রুর বুকে ঘা


রক্ত চেয়ে বজ্র কন্ঠ 

স্বরাজ এবার চাই

বেয়নেটের ভয় আর নয়

মুক্তির গান গাই



চাওয়া সব পাওয়া হল

তুমি রইলে না

দেখছে মা তোমায় চেয়ে

কবে ফিরবে ছা


বাস্তব আজ প্রয়োজন হয়ে

বাঁচার শপথে আগুন

স্বাধীন তো আজ আমার দেশ

বন্ধু এবার তো জাগুন। 



২.

শ্রেষ্ট বাঙালী নেতাজী

ভবানী প্রসাদ দাশগুপ্ত 


পরাধীন সেই ভারত বর্ষের

উড়িষ্যার কটক শহরে,

জন্ম নিলো ধনীর দুলাল

মা প্রভাবতীর উদরে।


নাম ছিলো তার সুভাষচন্দ্র

নম্র স্বভাবে ডানপিটে, 

শিক্ষা দীক্ষায় কাটলো শৈশব

তার স্থানীয় বিদ্যাপীঠে।


পিতা জানকী নাথ বসু

ছিলেন মস্ত বড় উকিল,

তখন ছিলো ইংরেজ শাসন

পরিস্থিতি ছিলো জটিল।


ব্রিটিশ তাড়াও আন্দোলনে

সারা ভারত ছিলো উত্তাল,

ইংরেজ মারায় ক্ষুদিরামের

ফাঁসির আদেশ রইলো বহাল।


ফাঁসির আদেশ শুনে সুভাষ

জিজ্ঞাসে তার দাদা ভাইকে,

ক্ষুদিরামের কি দোষ ছিলো

কেনো ফাঁসি দিবে তাকে।


আদ্য প্রান্ত জানতে পেরে

তার মনে পায় বড় কষ্ট,

বিদেশীদের  অত্যাচারে

স্বদেশীরা আজ দিগভ্রষ্ট।


দেশ মাতৃকার স্বাধিকার

আদায়ে সুভাষ নেয় শপথ, 

ইংরেজদের তাড়াতে হবে

সামনে আসুক যতো বিপদ।


দাদা রাজবিহারী বসুর

হাত ধরে চলার পথ শুরু,

শিক্ষা দীক্ষায় প্রধান শিক্ষক

বেণী মাধব দাস তার গুরু।


স্বামী বিবেকানন্দের বানী

পড়ে আনতো মনে সাহস,

সাহস গুনে ঐক্য গড়তো

যেন না আসে কোন ধস।


কলকাতার যুব কংগ্রেসে

তিনি ছিলেন সভাপতি,

সেই কলকাতা পৌর সভার

তিনিই সার্থক অধিপতি।


মহাত্মা গান্ধীর কুট চালে

রাজ্য কংগ্রেসের পদ হারায়,

দেশের শত্রু দমন করতে

পরাশক্তির সাহায্য চায়।


পয়তাল্লিশ হাজার ফৌজ নিয়ে 

হয় ইন্ডিয়ান ন্যাশানাল আর্মি,

সুভাষ বোস তার মূল কর্ণধার

প্রশিক্ষণে নিয়ে গেলেন বার্মি।


সেই থেকে নেতাজী নামে

ধন্য সুভাষ চন্দ্রের খ্যাতি,

শ্রেষ্ঠ বাঙালীর সম্মান তার

সংগ্রামী জীবনের সাথী।


"তোমরা আমাদের রক্ত দাও

আমি স্বাধীনতা দেবো",

এই ছিলো নেতাজীর বাণী

আজকের দিনে সবাই ভাবো।







শুক্রবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২১

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু:১২৫তম জন্মদিন।। শ্রদ্ধা ও স্মরণেঃ বিমল মণ্ডল ।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।


নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু:১২৫তম জন্মদিন 

শ্রদ্ধা ও  স্মরণেঃ বিমল মণ্ডল       

সুভাষচন্দ্র ছিলেন একজন সেকুলার ।তিনি ধ্যানে অনেক সময় অতিবাহিত করতেন।তিনি বীর সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দের  ভাবাদর্শে  উদ্বুদ্ধ।    ছাত্রাবস্থা থেকে তিনি  দেশপ্রেমিক সত্ত্বার জন্য পরিচিতি  পেয়েছেন।  বিভিন্ন সময়ে তিনি বিভিন্ন সমাজ সেবামূলক কাছে অগাধ উদাহরণ রেখে গেছেন। আজ  সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫তম জন্মদিন । সেই জন্মদিনেও  তাঁর মৃত্যু নিয়ে আজ দ্বিধাবিভক্ত সমগ্র দেশবাসী।          


সুভাষচন্দ্র বসু সমগ্র ভারতবাসীর কাছে মৃত্যুঞ্জয়ী। কারণ তাঁকে নিয়ে যখন প্রশ্ন আসে 
'অন্তর্ধান না মৃত্যু'?   তখন সেই উত্তর সঠিকভাবে আজও মেলেনি। তাই তিনি আজও আমাদের কাছে অক্ষয়ী এক বীর সংগ্রামী হিসেবে পরিচিত।  যিনি একদা ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি  বিতর্কিত ও চর্চিত ছিলেন।  তিনি আসলে অন্য কেউ নন,  তিনি ছিলেন আজাদ হিন্দ ফৌজের নেতাজি অর্থাৎ সুভাষচন্দ্র বসু।                           


১৮৯৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ শে জানুয়ারি, অর্থাৎ আজকের দিনেই ওড়িশার কটকে জন্মগ্রহণ করেন সুভাষচন্দ্র বসু। প্রবাসী বাঙালি, বিশিষ্ট আইনজীবী জানকীনাথ বসু ও প্রভাবতী দেবীর নবম সন্তান সুভাষ। ছাত্র হিসেবে অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন তিনি। র‍্যাভেন ’শ স্কুলে তিনি শিক্ষক হিসেবে পেয়েছিলেন বেনী মাধব দাসের মতো কীর্তিমান শিক্ষককে। স্কুল জীবনেই ক্ষুদিরাম বসুর আত্মত্যাগ তাঁকে অনুপ্রানিত করেছিল। মায়ের কাছে শোনা ভারতের রূপকথার গল্প, বাড়িতে বাবার কাছে শোনা সাহিত্য, সংস্কৃতি, দর্শন তাঁকে এ দেশের চেতনা ও মূল্যবোধের প্রতি আকৃষ্ঠ হন সুভাষ।১৯১৩ সালে তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সী কলেজে ভর্তি হন তিনি। প্রেসিডেন্সি কলেজের ইংরেজ অধ্যক্ষের ভারতীয় সংস্কৃতি-বিরোধা মন্তব্যে সরাসরি প্রতিবাদ করে কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরাগভাজর হন তিনি। বহিষ্কৃত হলেন প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে। ভর্তি হলেন স্কটিশ চার্চ কলেজে। ততদিনে বাংলায় ব্রিটিশ বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছেন সুভাষ। ১৯১৮ সালে স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন তিনি। ১৯১৯ সালে উচ্চ শিক্ষার পাঠ নিতে ইংল্যান্ডে চলে যান তিনি। সেখানে পৌঁছে তিনি বুঝতে পারলেন ভারতে ব্রিটিশ শাসনের বর্বরতা সম্পর্কে সেখানকার সাধারণ মানুষ খুব কমই জানেন।
১৯২১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তিনি দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশকে চিঠি লিখে জানান যে, তিনি ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস (আইসিএস) পরীক্ষায় চতুর্থ হয়েছেন। তবে তিনি ব্রিটিশ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মী হতে চান না। অর্থাৎ, সরকারি চাকরিতে তিনি যোগ দিচ্ছেন না। দেশে ফিরে তিনি ভারতের সাধারণ মানুষের জন্যই কাজ করতে চান। চিত্তরঞ্জন দাশকে লেখা ওই চিঠিতেই কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তরুণ সুভাষ।


১৯২১ সালে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পরে সুভাষচন্দ্রর প্রথম উল্লেখযোগ্য কর্মসূচী ছিল ‘প্রিন্স অব ওয়েলস’-এর ভারত সফর বয়কট করার আন্দোলন গড়ে তোলা। ‘প্রিন্স অব ওয়েলস’-এর অভ্যর্থনার আসরেই খাদির বস্ত্র বিলি ও বিক্রি করার চেষ্টা করেন সুভাষচন্দ্র ও তাঁর কয়েকজন অনুগামী। আন্দোলন ঠেকাতে তখন কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের গণহারে গ্রেফতার করা হয়। গ্রফতার হন চিত্তরঞ্জন দাশ আর সুভাষচন্দ্রও। এর পর চৌরি-চৌরার ঘটনায় গান্ধীজি তাঁর অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় হতাশ সুভাষচন্দ্র নবগঠিত স্বরাজ পার্টিতে সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। ১৯২৭ সালে কংগ্রেসে আবার ফিরে আসেন সুভাষ। ১৯২৮ সালে ‘অল ইন্ডিয়া ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রস’-এর সভাপতি নিযুক্ত হন তিনি।
ব্রিটিশ বিরোধী অসহযোগ আন্দোলনের ক্ষেত্রে গান্ধীজির সঙ্গে বরাবরই মত পার্থক্য ছিল সুভাষ আর ভিত্তালভাই প্যাটেলের। গান্ধীজি যেখানে অহিংস আন্দোলনের রাস্তা বেছে নেয়ার কথা বলছিলেন, সেখানে সুভাষের দর্শন বা মত ছিল, অস্ত্রের জবাব অস্ত্রেই দিতে হবে। গান্ধীজির সঙ্গে মত বিরোধের জেরে দু’বারের কংগ্রেস সভাপতি সুভাষচন্দ্র দলত্যাগ করে নতুন দল গঠন করেন সুভাষ। দলের নাম দেন ‘ফরোয়ার্ড ব্লক’। জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পর তাঁর প্রায় ২০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে সুভাষচন্দ্রকে মোট ১১ বার গ্রেফতার করে ব্রিটিশ সরকারের পুলিস প্রশাসন।১৯৪১ সালে কলকাতার বাড়ি থেকে উধাও হয়ে গেলেন সুভাষ। ১৯৪২ সালে বার্লিন থেকে তাঁর কন্ঠ শোনা যায় ‘আজাদ হিন্দ’ রেডিও স্টেশনে। ভারতের স্বাধীনতার জন্য ১৯৪৩ সালে হিটলার-সহ জার্মানির উচ্চপদস্থ সামরিক কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন সুভাষ। তখন রাসবিহারী বসুর উদ্যোগে জাপানে শুরু হয়ে গিয়েছে ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ’ গঠনের প্রক্রিয়া। 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের হাতে বন্দী ভারতীয় ব্রিটিশ সেনাদের একত্রিত করে ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ’-এর লক্ষ্য এবং কার্যপ্রনালী তখনও স্থির হয়নি। সুভাষ জাপানে এসে পৌঁছাতেই ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ’-এর দায়িত্ব তাঁর হাতে সঁপে দিলেন রাসবিহারী বসু। সুভাষ যোগ দিতেই ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ’-এর কার্যকলাপ ও সক্রিয়তা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। সুভাষচন্দ্র বসু হয়ে উঠলেন ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ’-এর ‘নেতাজি’। পরবর্তীকালে ওই নামেই তাঁকে বেশি চেনেন দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ। নেতাজির নেতৃত্বে ব্রিটিশ বাহিনীকে পরাজিত করে কোহিমা দখল করে ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ’। কিন্তু তার পর হিরোসিমা, নাগাসাকিতে মার্কিন পরমানু বোমার আঘাত সামরিক রসদে ভাঁটা পরে। থমকে যায় ভারতের প্রথম স্বাধীন সেনার জয়যাত্রা।

১৯৪৫ সালের ১৮ই আগস্ট বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজীর মৃত্যুর খবর ছাপা হয়েছিল জাপানের সংবাদপত্রগুলিতে। কিন্তু ভারতে সুভাষের মৃত্যু সংবাদ অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। ঐতিহাসিক লিওনার্ড এ গর্ডনের লিখিত তথ্যের উপর ভিত্তি করে নেতাজির মৃত্যুর বিষয়ে সেখানে লেখা হয়েছে, তাইপেইর তাইহোকু বিমানবন্দরে দুপুর ২টো ৩০ মিনিট নাগাদ একটি বিমান দুর্ঘটনায় শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল নেতাজির। ‘থার্ড ডিগ্রি বার্ন ইঞ্জুরি’ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। সেখানেই স্থানীয় সময় রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে মৃত্যু হয় নেতাজির।বসু পরিবারের সদস্য, নেতাজির প্রপৌত্র চন্দ্রকুমার বসু ১৮ অগস্ট দিনটিকে সুভাসচন্দ্র বসুর মৃত্যুদিন হিসাবে মেনে নিতে চান না। তাঁর মতে, এখনও এমন কোনও নথি সামনে আসেনি যা থেকে এটা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব যে, ১৮ অগস্ট ১৯৪৫ সালে তাইহোকু বিমানবন্দরে হওয়া বিমান দুর্ঘটনাতেই মৃত্যু হয়েছিল নেতাজির। চন্দ্রকুমার বসু জানান, সম্প্রতি নেতাজি সম্পর্কিত মোট পাঁচটি ফাইলের কথা জানিয়েছিল জাপান সরকার, যার মধ্যে মাত্র দুটি ফাইলই প্রকাশ করেছে তারা। যে দুটি ফাইল জাপান সরকার সামনে এনেছে তাতে নেতাজির অন্তর্ধান বা মৃত্যু সম্পর্কে তেমন কোনও তথ্যই মেলেনি। তবে বাকি তিনটি ফাইল কিন্তু এখনও সামনে আসেনি। চন্দ্রকুমার বসুর দাবি জানান, এই তিনটি ফাইলে ঠিক কী তথ্য রয়েছে, কেন এই তিনটি ফাইল প্রকাশকরতে চাইছে না জাপান সরকার, সে সম্পর্কে জানতে উদ্যোগ নিক কেন্দ্র।ভারতবাসীকে স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে অহিংস আন্দোলনের পরিবর্তে সশস্ত্র আন্দোলন গুরুত্ব বুঝিয়েছিলেন তিনি। স্বাধীন ভারতের জন্য সেনা-বাহিনী গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে দেশের মানুষকে সচেতন করেছিলেন সুভাষচন্দ্র। ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল তাঁর হাত ধরেই। কিন্তু দেশের স্বাধীনতার লাভের ৭৪ বছর পরও তাঁর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের জট কাটানো যায়নি। 

সেই দেশনায়ক  সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫তম জন্মদিন আজ ২৩শে জানুয়ারি ২০২১-এ। তাই আজ আমি একজন ভারতবাসী হিসেবে  এই  মৃত্যুঞ্জয়ী  নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিনকে স্মরণ করতে পেরে গর্ব অনুভব করছি। তাই তাঁর ১২৫তম জন্মদিনে শ্রদ্ধা ও প্রণাম  জানাই।      



শ্রদ্ধাঞ্জলি   

             



রবিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২০

মারাদোনা সংখ্যা। ফুটবলের যুবরাজ দিয়েগো মারাদোনা (শ্রদ্ধা ও স্মরণে ) অঙ্কুরীশা-র ছড়া ও কবিতায় শ্রদ্ধাঞ্জলি

 


মারাদোনা সংখ্যা  
ফুটবলের যুবরাজ  দিয়েগো মারাদোনা 
(শ্রদ্ধা ও স্মরণে ) 

অঙ্কুরীশা-র ছড়া ও কবিতায় শ্রদ্ধাঞ্জলি       



সূচিপাতা-

দীপ মুখোপাধ্যায়
গৌতম হাজরা
অনীশ ঘোষ    

মঙ্গলপ্রসাদ মাইতি

বাবলু গিরি

শুভঙ্কর দাস

অশোককুমার লাটুয়া  

বিমল মণ্ডল 

সুধাংশু রঞ্জন সাহা  

অলক জানা

ভবানী প্রসাদ দাশগুপ্ত  

দেবাশীষ মুখোপাধ্যায়

অশোক রায়

তপনকান্তি মুখার্জি

দীপক বেরা

অমরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

অমরেন্দ্র কালাপাহাড়

সঞ্জীব রাহা

মিনতি গোস্বামী

গৌতম বাড়ই

শুভ্রাশ্রী মাইতি

রাজা দেবরায়

ঐশ্চর্য্য কৃষ্ণ

ব্যোমকেশ দত্ত

সম্পা দাস

একাদশী চৌধুরী

মায়া দে                   

মালা ঘোষ(মিত্র)

শ্রাবণী বসু

অঞ্জনা চক্রবর্তী 

  



 

সেরাদের সেরা

দীপ মুখোপাধ্যায়


ফুটবল হয় না ভাই মারাদোনা বিনা

কথাটা শিখিয়েছিল আর্জেন্টিনা 

বেঁটেমোটা লোকটার বাঁ-পায়ের জাদু

ফ্রি-কিকের গোল দেওয়া অতি সুস্বাদু।


সেরাদের সেরা তিনি এই দুনিয়ার 

চিনেছিল নাপোলি বা বোকা জুনিয়ার

পাঁচজন প্লেয়ারকে যেই না কাটায়

তিনকাঠি ভেদ করে বল ঢুকে যায়।


হাত দিয়ে গোল দেওয়া ভুলে যেতে পারি?

ধরতে পারেনি কোনও তুখোড় রেফারি

যতই বিতর্ক হোক তবু আরাধনা

বিশ্বকাপের হিরো সেই মারাদোনা।



জাদুকর

গৌতম হাজরা

বল দেখি কার নাম মাঠে যায় শোনা? 
ফুটবল জাদুকর, নাম মারাদোনা। 

ফুটবল মাঠে তাকে আটকানো সোজা? 
চোখ স্থির যেন যাদু, যায় নাকো বোঝা। 

ড্রিবলিং-এ ঘোরে ফেরে বলটা দু'পায়ে, 
শরীরটা হেলে দোলে ডান আর বাঁয়ে। 

বাঁ পায়ের শটে বল জালে আটকায়, 
দর্শক মাতোয়ারা বলে হায় হায়। 

নিখুঁত পাসিং আর ব্যাক ভলি মারে, 
তাকিয়ে দেখতে হয় তাকে বারেবারে। 

রূপকথা রাজা তিনি, তোমায় প্রণাম, 
রেখে গেলে ইতিহাস, লেখা রবে নাম! 


এফিটাফ: দিয়েগোর প্রতি
অনীশ ঘোষ 

ওই যে সবুজ ঘাসের ওপর ঈশ্বর মারাদোনা
শুরু করবেন এক্ষুনি তাঁর শিল্পের জাদু বোনা
এই ছবিটাই ডালপালা মেলে আকাশটা ছিল ছুঁয়ে
একটি বিদায়ী বাতাস এসে মুছে দিল এক ফুঁয়ে
ম্যাচ শেষ, মাঠ ছেড়ে গেলে রেফারির বাঁশি বাজে
এই ভাসানে যাবো না আমরা সর্বহারার সাজে
ভুল থেকে গেছে এই প্রস্থানে প্রিয় ফুটবল-কবি
মনখারাপের পিছুটান রঙে বিষণ্ণ এই ছবি।

ফুটবল-মারাদোনা

মঙ্গলপ্রসাদ মাইতি


গোল-গোল-গো-ও-ল

পায়ে নয় হাতে

রেফারির চোখ এড়িয়েছে তা

হয়েছে কী তাতে?

 

এমন গোল তো দেখে

দুচোখ জুড়িয়ে যায়

ঈশ্বর! তিনিও মুগ্ধ

তাই হলেন সহায়

 

ফুটবল - মারাদোনা

লীন এক সত্তায়

একরাশ মুগ্ধতা

পায়ের সে খেলায়

 

মারাদোনা বিশ্বের

আলোক আবেশ

মরণে তা কখনোই

হবে না তো শেষ


মারাদোনা এক উজ্বল সূর্য  

    বাবলু  গিরি                      

কি ছিলো তার পায়ের ওস্তাদি,

ফুটবল আছড়ে পড়তো ভক্তের মতো ।

অশ্বের মতো ছুটতো যুদ্ধের ময়দানে ।

মারাদোনা তুমি খেলা জগতের চেতনা ।

মারাদোনা তুমি ফুটবলের প্রেরণা ।

মারাদোনা আমরা তোমায় ভুলবোনা ।


ওই যে সাতজন যোদ্ধাদের কাটিয়ে

সপাটে বাঁ পায়ের ভেল্কি, গো ও ও ওল -

সারা পৃথিবী চমকে উঠে দাঁড়িয়েছিল,

দেখছিলো ফুটবলের অবতারকে ।

চমকে গেছিলো গোলপোস্টের প্রহরী ।

আর সেই মারাদোনা, ফুটবলের অবতার 

ব্রহ্মান্ডের ময়দানে ছুটে চলেছে -

ছুটে চলেছে নক্ষত্রের জ্বলন্ত বল নিয়ে,

উজ্বল সূর্যের কাছে  ।


গোল

শুভঙ্কর দাস 


পৃথিবী নিয়ে খেলছেন যিনি

রোজ,অক্লান্ত, অবিরাম 

তিনিও মানুষের মতো জন্ম চান...


তিনিও গোলপোস্টের জালে বল 

ঢুকিয়ে দেখাতে চান,চোখের জলে 

আর অভাবের অন্ধকারেও


গোল দেওয়া যায়,একেবারে পৃথিবীর 

মতো দেখতে...


সেই গোলের নাম মারাদোনা দিতে 

পারো,তাতে কিছু এসে যায় না!


শুধু গোলপোস্ট সর্বদা তৈরি যেন 

থাকে,কারণ জীবনের খেলায় কোনো 

দিনরাত নেই


শুধু লড়াইটা আছে...



হঠাৎ হাততালির তুমুল কোরাস 

   অশোককুমার লাটুয়া 


হাতে পায়ে চে আর ফিদেলের উল্কি নিয়ে 

দশ নম্বর নীলসাদা জার্সিটা ছুটে 

চলেছে হরিণের মতো ক্ষিপ্রতায়

 প্রতিপক্ষের গোলবক্সের দিকে। 

বিষাক্ত ট্যাকল এড়িয়ে সৌখিন 

ড্রিবলে সমস্ত প্রতিরোধকে চুরমার 

ক'রে এগিয়ে চলেছে ফুটবল 

সাম্রাজ্যের যুবরাজ দিয়েগো 

আর্মান্দো মারাদোনা। স্টেডিয়ামের 

সমস্ত আলো জ্বলে উঠেছে তার 

জন্যেই। লাখ লাখ চোখ উজ্জ্বল 

বিস্ময়ে অপলক দেখছে শুধু তাকেই। 

হঠাৎ হার্টবিট বন্ধ ষাট বছরের  

ফুটবল শিল্পীর। বলতে পারছিনা 

তাকে বিদায়। চোখের জল পাথর 

হয়ে গেছে। হার্টবিট বন্ধ আমাদের। 

হঠাৎ হাততালির তুমুল কোরাস — 

গো-ও-ও-ও-ল। 

কত গোল পেরিয়ে গেছে সে তবু মাঠ 

ছেড়ে চলে যেতে পারেনি ফুটবলের 

স্মৃতি — প্রিয় মারাদোনা। 


অশ্রুর রজ্জুতে

বিমল মণ্ডল 

এই গ্যালারি ভরা ফুটবল প্রাঙ্গণ;শবচক্র মহাবেলা 
দশ নম্বর জার্সির কোলাজ গোলপোস্ট থেকে গোলপোস্টে
তোমার পিঠের ঢালে সূর্য ছিল,বুকে দুরন্ত শক্তির আভা 
এই দীর্ঘ দেহখানি  অসময়ে  ঝরে যায়ঃ
 একমাত্র ইতিহাস সাক্ষী 
তুমি ফুটবলের যুবরাজ;রাশি রাশি ক্ষুধা নিয়ে
কত দেশে দেশে: 
ফুটবল মাঠ বেদনাপ্রধান
প্রিয় দর্শক জ্যোৎস্নারাতে পায়ে পায়ে এসে
বেঁধেছে তোমার শেষ যাত্রায়;অশ্রুর রজ্জুতে। 


মারাদোনা

সুধাংশুরঞ্জন সাহা


মারাদোনা বিরল এক বর্ণময় চরিত্র ।
একটা স্বপ্নের নাম মারাদোনা ।
তোমায় আমরা ভুলবো না ।
তুমি ফুটবলের জাদুকর।
বিশ্বের চির বিস্ময় ।

কেন এতো দ্রুততায় ফিরে গেলে
হেমন্তের না-ফেরার দেশে !
তুমি কি এই গ্রহের কেউ নয় !
নিছকই কাটিয়ে গেলে কিছু সময়  !

আমার সমস্ত কান্না পাঠালাম
ঘনমেঘের মেঘবলয়ে ।


ফুটবলেশ্বর

অলক জানা


পায়ে বল জ্ঞানবল 

একাকার হলে

ঈশ্বর এগিয়ে যান, 

অনিবার্য গোলে

মারাদোনা ফুটবল

দুয়ে একাকার 

গোল ! গোল ! থেকে গেছে

অন্তরে সবার

ফুটবল ফুটবল

ফুটবলেশ্বর

অজাতশত্রু মারাদোনা

অবিনশ্বর।


ফুটবলের নায়ক

ভবানী প্রসাদ দাশগুপ্ত 


ফুটবলের রাজ ম্যারাদোনা 

দেহ রাখলেন ভবে,

দুঃখ কাতর হৃদয় নিয়ে

মর্মাহত সবে।


বিশ্ব  সেরা  এই  ফুটবলার

পায়ের যাদু দিয়ে,

সুনাম বাড়ায় আর্জেন্টিনার

সেরা খেতাব নিয়ে।


মাঠের রাজা খেলার নায়ক

ছিলেন ম্যারাদোনা,

বিদায় নিলেন  ভুবন ছেড়ে

খেলার যাদু সোনা।


ঘাসের ঘামে ঈশ্বর

 দেবাশীষ মুখোপাধ্যায়


ঘাসের সাথে গল্প বলের

শিল্পী পায়ের আদর গায়

গর্বের স্পর্শ যেন খামে ভরা

জিয়নকাঠির ঠিকানায়


নিশানা নির্ভুল আঁকাবাঁকা কাটা

চ্যুতির গণনা নিখুঁত আঁকা

তুলি নিয়ে যেন শিল্প গড়া

মাঠ থেকেছে প্রাণে ভরা


শিল্পীর তুলিটা তুলে রেখে আজ

 স্মৃতি শুধু দর্পন হাতরায়

যেখানে ফুটবল সতত শিরায় শিরায়  

 সবুজ হয়ে রক্ত ছোটায়


             

গোল তারাদের মাঠে

অশোক রায়


তোমার তুলনা পেলে নয় তোমার তুলনা তুমি নিজে

পৃথিবী থাকত তোমার মুঠোয় যখন পায়ে বল দৌড়তে

জাদুকরের ইন্দ্রজালে যখন তখন বল জড়াত গোলপোস্টে   

ছিল ড্রিবলিং মন মাতানো অবিশ্বাস্য বুলেটের মত শট    

হেলায় মেরেছ বুল্-আই শত্রু-ডিফেন্স করে তছনছ্

নীল-সাদা দশ নম্বর জার্সি ভোলেনি শক্তিমান নট   

শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ গোলের শিরোপা তোমার দ্বিধাহীন      

দিয়াগো আর্মান্দো হৃদয় জিতেছ লক্ষ-কোটির দুঃখ দিয়েছ অসীম  

তোমায় নিয়ে লেখা যায় ধ্বংসের মহাকাব্য সব বেদনা রঙীন

শুয়ে সোনার বাক্সে গোল-তারাদের মাঠে ছোটাও ফুলঝুরি রং-মশাল।। 

                                        


মারাদোনা 
তপনকান্তি মুখার্জি 

মারাদোনা মানে বাঁ পায়ের জাদু 
সবুজঘাসেতে আলপনা , 
মারাদোনা মানে একাই একশো 
বিজয়ীর বেশে আনাগোনা । 
মারাদোনা মানে আর্জেন্টিনা
দেশের একক প্রতিনিধি , 
মারাদোনা মানে শূন্য হাতেতে 
জল থইথই নদী । 
মারাদোনা মানে উথালপাথাল 
যৌবনভরা স্তোত্র , 
মারাদোনা মানে মারাদোনা শুধু 
ফুটবল রাজপুত্র । 



ঈশ্বরের মৃত্যু নেই 
দীপক বেরা
                

চলে গেলেন ফুটবলের ঈশ্বর, রাজপুত্র, বিস্ময় কিংবদন্তি
বিষাদ বেদনায় আপামর মানুষের চোখের জল মিশে যায়
ল্যাটিন আমেরিকার আন্ডিজ পর্বতমালার ঢাল বেয়ে 
ইউরোপ ঘুরে সমস্ত মহাদেশের সাত-সমুদ্রের লোনা জলে!

বিপ্লব, প্রতিবাদ, ভালোবাসা রেখে ঈশ্বর চলে গেলেন 
যুদ্ধবাজ, মাফিয়া, অশুভ মাতামাতি, মহামারি, ধ্বংস
ছিটিয়ে দেওয়া কলঙ্ক, ষড়যন্ত্র পেরিয়ে নক্ষত্রের দেশে
রেখে গেলেন বাঁ-পায়ের অলৌকিক জাদু, শিল্প-নৈপুণ্য
পায়ের অসামান্য ড্রিবল্ নিয়ে তেজী ঘোড়ার খুরের শব্দ 
গ্যালারির উত্তাল উদ্বেল ঢেউয়ের সেইসব বর্ণময় স্মৃতিগাথা! 

ঈশ্বরের মৃত্যু নেই, আপামর মানুষের হৃদয়ে আঁকা থেকে যাবে 
নীল-সাদা-নীল আর্জেন্টিনার জার্সি, মারাদোনার শিশুমন হাসি!


মারাদোনার ফুটবলের কাব্য
অমরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী

হে ফুটবলের যুবরাজ আজ
শোকস্তব্ধ বিশ্ব তোমার বিদায়ে
ছিল যে বিস্ময় প্রতিভা। 
আমাদের হৃদয়ের ভালোবাসা
আর ফুটবলের যাদু সৃষ্টি কে, 
স্মৃতির ভান্ডারে উজ্জ্বল রাখে-
ছিয়াসি সালের সেই গোল
আজও শিহরিত করে অন্তরে। 
মৃত্যু তো তাই পরাজিত, 
সবুজ ঘাসের উপর 
হৃদয়ে দেখি অবিরত।

   চলে গেলে তুমি!
অমরেন্দ্র কালাপাহাড়

চলে গেলে তুমি বিশ্ব ছাড়ি 
   না ফেরার সেই দেশে,
 বিশ্ব ফুটবলে বাঁ পায়ের জাদুতে
 রেখে অদ্ভুত আবেশে!

 ফুটবলের রাজপুত্র বর্ণময় চরিত্র
 বিতর্ক তোমাকে না ছাড়ে,
 মাদক কারবারি মাদকাশক্ত
 ভগবানের হাত গোল ঘাড়ে!

 আর্জেন্টিনার দুদুবার বিশ্বকাপ 
নেপোলিকে দুবারের চ্যাম্পিয়ন,
বিস্ময়ে হতবাক ফুটবলবিশ্ব
 মারাদোনার এ প্রয়ান!



মারাদোনা মারাদোনা
সঞ্জীব রাহা


দুই হাজার কুড়ি সালের পঁচিশ নভেম্বর,

হাহাকার  ওঠে রাজপ্রাসাদে চলে গেল জাদুকর।


বস্তির ঘরে দমবন্ধ কাটছিল ছেলেবেলা,

ফুটবল পায়ে দেখিয়ে দিলে কোনটা রাজার খেলা।



বাম পায়েতেই প্যাঁচ-পয়জার ওটাই চরম অস্ত্র,

বিপদের মাঝে বন্ধু এসেছে কমরেড ফিদেল কাস্ত্রো।



ফুটবলপ্রেমী রাখবে মনে ভগবানের হাত কোনটা?

দাপিয়ে খেলা সারা মাঠজুড়ে দেখে ভরে ওঠে মনটা।



ফুটবলের বরপুত্র সম্রাট মারাদোনা,

কিংবদন্তি দিয়েগো তোমায় কোনও দিনই ভুলবোনা।।



          

ফুটবলের ঈশ্বর
মিনতি গোস্বামী

অনেক সবুজ মাঠ পেরিয়ে
ফুটবলের ঈশ্বর এসেছিলে বঙ্গ শহরে
সুদূর আর্জেন্টিনা থেকে আবার তুমি
ভেসে উঠলে আমাদের খবরে।

মারাদোনা দেখো, মৃত্যু তোমাকে ছিনিয়ে
নিয়ে,নিজেও পড়েছে মহা লজ্জায়
অগণিত ভক্তের চোখের জলে
মৃত্যু আজ একা হয়েছে মৃত‍্যুশয‍্যায় ।

ফুটবলের ঈশ্বর চৌকো মাঠে তুমি
নক্ষত্রের. মত চিরদিন থাকবে উজ্জ্বল
মাঠ দাপানো তোমার পা দুটি
আগামী ফুটবলের হবে শ্রেষ্ঠ সম্বল।





মারাদোনা ভুলব না
গৌতম বাড়ই



একটা দামাল ছেলের ভীষণ মনখারাপ
পণ করেছে খেলবে না আর সে বিশ্বকাপ।
ফুটবলটা না খেলে ওরা মারছে যে পায়
রেফারীটা না দেখে তা অন্য দিকে চায়।

পায়ের পাতায় তাঁর হাজার যাদুর ছোঁয়ায়
ফুটবলটা যেন খেলে পায়ের হেলাফেলায়।
মারাদোনা! মারাদোনা! অবাক বিশ্ববাসী
বিশ্বকাপের মেক্সিকো উনিশশো ছিয়াশি।

একাই দেখি এনে দিল দেশকে বিশ্বকাপ
সবাই বলে সেরার সেরা যত আসুক চাপ।
কুড়ি-কুড়ি সেঁটে ষাটে এই গেলেন দূরলোক
মারাদোনা অমর রহে ভুলবে না এই গোলক!



মাঠের রাজপুত্র
শুভ্রাশ্রী মাইতি

বলটা ছুটে চলে মাঠে,সে ও।ফ্ল্যাগপোস্ট,কর্ণার,গোললাইন ছুঁয়ে ছুঁয়ে 
একেবারে গোলপোস্টের মুখ বরাবর সাম্রাজ্যবিস্তারের অদম্য আবেগে---
যাতে মাঠের প্রতিটি সবুজ ঘাস লিখতে পারে,শুধু বল নয়, 
এক জ্বলন্ত স্ফুলিঙ্গের দাবানল হয়ে ওঠার ঈশ্বরীয় ফুটবল কথা।
রাজপুত্র কি শুধু সোনার চামচ মুখে জন্মায় রাজপ্রাসাদে!
নাকি হেসেকেঁদে ওঠে কোন দুর্ভিক্ষপীড়িত বস্তির নোংরা বিছানাতেও!
এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে, শোকজন্মের এই উড়ন্ত পৃথিবীটা 
 ডজ আর ড্রিবলের জাদুকরী তুলির খেলায় স্বপ্নের দৌড় শেষে 
সোজা সেঁধিয়ে যায় তেকাঠির আটগজী সীমানায় দুরন্ত গতিতে।
সকলের হয়ে গোল সে দেবেই দেবে,এই গভীর বিশ্বাসে
তুরী-ভেরী হয়ে জন্মজয়ের নিবিড় উল্লাসে আমরা বেজে উঠলেই
এক বস্তির যুবক চরম আভিজাত্যে শুধু রাজার সিংহাসনেই নয়,
আশ্চর্য ভালোবাসায় এসে বসে হৃদয়ে, অনন্ত অভিষেকে




দিয়েগো আরমান্দো মারাদোনা
রাজা দেবরায়


হে ফুটবলের রাজপুত্র মারাদোনা
তোমাকে বিশ্ববাসী করে আরাধনা
ফুটবলের শেষ কথা তো তুমি
তোমার সোনার চরণে মোরা চুমি
ছিয়াশির বিশ্বকাপের তুমিই নায়ক
তোমার ফুটবল জীবন খুবই সার্থক
ব্যক্তিগত জীবনে তুমি বিতর্কিত
সেই শিক্ষা নিয়ে মোরা সতর্কিত
তোমাকে চিরদিন সবাই রাখবে মনে
তোমার অমলিন স্মৃতি ভাসে ক্ষণে ক্ষণে



ঈশ্বর
 ঐশ্বর্য্য কৃষ্ণ

ফুটবল পায়ে মারাদোনা

ফিরে আসে না আর।

মানুষ তাকে কাছেই রাখে।

এমন জাদু পায়ে যার।


আওয়াজ উঠলে মাঠে।

গোল হয়ে যায় ফের।

ভগবান থাকলে কাছে,

খোঁজ করো কিসের।


এমন আলো জ্বালায় প্রদীপ

চির উজ্জ্বল থাকে।

ঈশ্বর তো ঘরের মানুষ

হাত ধরে পাশে হাঁটে।



দিয়েগো...তারার দেশে 
ব্যোমকেশ দত্ত

ঘাসের কার্পেট মোড়া সবুজে সবুজে 
অপেক্ষায় শিল্পী এক ছবি যাবে এঁকে
মননে যা আছে রাখা ঠিক নেবে খুঁজে
সর্পিল গতিতে দৌড় বেগে একে বেকে। 

চিত্রপটে ওঠে ফুটে শিল্পের কোলাজ 
মোহিত হাজার চোখ মহিমার তেজে 
নানা বর্ণ নানা ছন্দে রঙ ঝরে আজ
জাদুময় পরিবেশে সুর ওঠে বেজে। 

শক্ত পোক্ত শরীরটা পাঁচ ফুট পাঁচ
সবুজের ক্যানভাসে বাম পা টা তুলি
সাদা কালো বল পায়ে আগুনের আঁচ
বিচ্ছুরিত শিল্পকলা কিকরে যে ভুলি! 

ফুটবল ঈশ্বর সে সোনার দিয়েগো
গিয়েছ তারার দেশে, আকাশেই জেগো। 


দিয়েগো ম্যারাডোনা
সম্পা দাস

ঈশ্বরের তৈরি নাটকমঞ্চে
এসেছিলেন তিনি,
ফুটবল জগতের যুবরাজ নামে 
তাকে আমরা চিনি।
আর্জেন্টিনার প্লেয়ার হয়ে
এনেছেন অনেক কাপ,
কেড়ে নিয়ে তাকে, ঈশ্বর আমাদের
দিলেন অভিশাপ!
"Hands of God" নামে পরিচিত
দিয়েগো ম্যারাডোনা,
না থাকলেও তিনি এই পৃথিবীতে
আমরা  তাকে কখনও ভুলবো না।


   মারাদোনা
একাদশী চৌধুরী     
ধন্যদেশ আর্জেন্টিনা  জন্মে যেথা মারাদোনা
ফুটবলের রাজপুত্র বলে।
ঊনিশ শত ষাট সালে, জন্মিল এ ধরা-
তলে/ষোল বছরে, ফুটবল দলে।
দশ নম্বর জার্সি গায়,কী যে যাদু বাম-
পায়
চুম্বক লাগানো  বুঝি  তাতে।
ঊনিশ শো ছিয়াশি সালে, বিশ্বকাপ
ফাইনালে
গোল করে মাথায় ও হাতে।
সেই ঈশ্বরের হাত, করল যে বাজীমাৎ/
স্কীল তার  পেলে র  সমান,
নেপোলি তে ছিল ঠাঁই, বিশ্বকে কাঁদিয়ে
ভাই 
দিয়াগোর হল মহাপ্রয়াণ।
                
              

কে বলে নেই?
মায়া দে

বিশ্ব জোড়া নজর কাড়া ফুটবলের যুবরাজ
কাঁদো বিশ্ব কাঁদো তুমি হারালে কাকে আজ।

আর্জেন্টিনার ফুটবলার ফুটবলের মারাদোনা
১৯৮৬সনের বিশ্বকাপ বিশ্ববাসীর জানা।

জ্বলে রোশনাই বাজে দামামা মেক্সিকো ময়দান
ম্যাজিক দেখছে তামাম দুনিয়া লড়িয়ে দিচ্ছে যান।

ঈশ্বর রূপী "হ্যানড অফ গড"সেদিন দেখেছে বিশ্ব
একক ক্ষমতার প্রভাব ৯০। ২০২০ তে করলে নিঃস্ব।

আলোর দেশে দিয়েছোপাড়ি ফুটবলের যুবরাজ
তোমার ঘামের গন্ধ মাখা জার্সি যে কাঁদে আজ।

মহা তারকার মহা প্রয়াণ শূণ্য যে ময়দান
কে বলে নেই?আছো হৃদয়ে বিশ্ব বন্দিত প্রাণ।


ফুটবলের ভাস্কর  
মালা ঘোষ (মিত্র) 

আর্জেন্টিনার মানুষ হয়েও
মারাদোনা তোমার জন্য
বুকের মধ্যে মোচড় দেয় 
মনে চলে উদ্দীপ্ত তরঙ্গ।
কখন হয়ে গেলে প্রিয় ফুটবলার! 
পায়ে তোমার এত জোর
গোলে যে কত দল হারে
জিতে গিয়ে সাহসী হয় প্রত্যয়। 
রাজ মুকুটে ফুটবলের ঈশ্বর। 
ফিদেল কাস্ত্রোর ট্যাটু বাঁ- পায়ে
চে- কেও নিয়েছো ডান হাতে। 
ফুটবলের ভাস্কর যেতে পারে অস্তাচলে!! 


ফুটবলের রাজপুত্র
শ্রাবণী বসু    
অমোঘ নিয়মে লাগাম পরানোর
ইচ্ছেটি যার থাকেনা
মৃত্যুর হাত ধরতেও  সে ভয় পায়না।

 এপারের ময়দান ছেড়ে
ওপারে ড্রিবলিং-এ ব্যস্ত
ফুটবলের রাজপুত্র - মারাদোনা।

পৃথিবীজোড়া ভক্তের কাছে
জনতার নায়ক -হাতে-পায়ে উল্কি,
 ধর্মে ও জিরাফে তিনি ছিলেন।
আছেন ।থাকবেন।

 জীবন একটা খেলার মাঠ
ইচ্ছেমতো খেলেছেন ঘরে-মাঠে।

বাধ্য পাশার মত  ফুটবল নিয়ে
ম্যাজিক দেখিয়েছেন ময়দানে।

 তাঁর স্মৃতি ধরে রেখেছি বুকে।
নেড়েচেড়ে দেখছি। দেখবো।

 কোনোদিন ভুলবোনা। ভোলা অসম্ভব।



ঝাঁকড়া চুলো ছেলেটা
অঞ্জনা চক্রবর্তী

ব্রাজিল কে সরিয়ে বাঙালির ঘরে 
এলো পেলের বদলে ;ঝাঁকড়া চুলো ছেলেটা
"দ সান " নামক পত্রিকায় কতো বিদ্রুপ
"ফুটবল এর ঈশ্বরের হবে পতন"!
তুচ্ছ করে ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ব্রাজিলের মাটিতে 
ট্রফি চুম্বনরত যে ছেলে , সে ঈশ্বর গরিব ঘরের ছেলে , দিয়াগো মারাদোনা পাখনা মেলে |
আর্জেন্টিনা থেকে বিশ্ববাসীর মনে,
ফুটবল প্রেমীদের হৃদয়ে দাগ কেটে
বাঁ পায়ের পাস বা ড্রিবিল , কারসাজি কেরামতি ভেল্কি
ফুটবলের শিল্পী, আজও অক্ষত সবুজ মাঠে|




শনিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২০

সৌমিত্র সংখ্যা ।। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় (স্মরণে ও মননে) নিবেদিত অঙ্কুরীশা-র কবিতাঞ্জলি।। Ankurisha।। E. Magazine।। Bengali poem in literature।।

 


সৌমিত্র সংখ্যা 

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়  স্মরণে ও মননে

 নিবেদিত কবিতাঞ্জলি


সম্পাদকীয় 🙏

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এমন একজন অভিনেতা, যিনি রূপালি পর্দার বাইরে রূপকথার নায়ক হয়ে  উঠেছিলেন।তিনি যখন কবিতার আবৃত্তি করছেন,মনে হল, এ-ই তো বাঙালির উচ্চারণ। তিনি যখন কবিতা লিখছেন,পড়ে মনে হল,এই তো দুঃখবরণের আরও একটি রাস্তা। তিনি যখন পত্রিকা সম্পাদনা করছেন,তখনও তাতে একটি ছাপ ছেড়ে দিচ্ছেন আবার যখন সমাজ- সংসার নিয়ে গদ্য লিখছেন বা বক্তব্য দিচ্ছেন, তখন মনে হল,যেসব চরিত্র আমরা পর্দায় দেখলাম, তা যেন সত্যিকারের অভিনেতা।  তাই একজন অভিনেতার উর্দ্ধে কবি,কবির উর্দ্ধে বাচিক শিল্পী সর্বোপরি একজন খাঁটি বাঙালি হিসেবে কিংবদন্তি। তাঁকে ভুলে যাওয়া মানে একটি অধ্যায়কে ভুলে যাওয়া,যা বাঙালির সোনালি আকাশ। তাই তাঁর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনে নবীন থেকে প্রবীণ,সকল সৃষ্টিশীল সত্তাধারীরা এসে মিশেছেন অঙ্কুরীশা-র কবিতাঞ্জলিতে।  সকলকে অঙ্কুরীশা-র  পক্ষ থেকে জানাই সাদর আমন্ত্রণ।       



সূচিপাতা

জ্যোতির্ময় দাশ
গৌতম হাজরা
সুস্মেলী দত্ত
রবীন বসু
মঙ্গলপ্রসাদ মাইতি
অমিত কাশ্যপ
অশোককুমার লাটুয়া
শুভঙ্কর দাস
বিমল মণ্ডল
দেবাশীষ মুখোপাধ্যায় 
রঞ্জন ভট্টাচার্য
শুভ্রাশ্রী মাইতি
জগদীশ মন্ডল  
তপন কান্তি মুখার্জি
বিকাশ ভট্টাচার্য
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় 
বন্দনা কুণ্ডু
পবিত্র প্রসাদ গুহ
ইলা সূত্রধর
সুব্রত মন্ডল
অশোক রায়
শ্রীমতি ডলি
অলোক চট্টোপাধ্যায়
দীপক বেরা 
শ্যামলী বর্ধন
অমরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী
নৃপেন্দ্র নাথ মহন্ত
মানিক কর্মকার
বিপ্লব প্রামাণিক
অমল কুমার ব্যানার্জি                               
অর্পিতা ঘোষ পালিত




প্রার্থনার নিষ্ফল আর্তনাদ... 
জ্যোতির্ময়  দাশ 

অভিনয় শেষ  হলে জানি নেমে আসবে
একসময়ে অবিসংবাদী যবনিকা 
তবু  দর্শকের  আসনে অপেক্ষায়  থাকে
আমাদের  অতৃপ্ত  প্রত্যাশার মন
মৃত্যুর  সঙ্গে  সাঙ্গ  হল তিনপাত্তি খেলা 
চলে গেলে একভুবন থেকে আর একভুবনে—
মহাকালের  অমোঘ মুঠো থেকে এনেছিল ছিনিয়ে
জীবনের  পরিপূর্ণ  ঝুলি—তবু কষ্ট  হয়...

ভেসে যায় আমাদের  প্রার্থনার নিষ্ফল
আর্তনাদ  ভবিতব্যের নিষ্ঠুর আকাশে 

আর আমি, আমরা বসে থাকি অনন্ত মৃত্যুর
মিছিলে বিচ্ছিন্ন  দ্বীপের  মতো  বিপন্ন নির্জনে...


আইকন

গৌতম হাজরা  

কখনও কখনও মনে হয় কিছু না বলাই ভালো। 
আবার কখনও কখনও মনে হয় তাকে নিয়ে
                      কিছু কথা বলা যেতেই পারে, 
যে মানুষটা এইমাত্র চলে গেল ওঁ শান্তি, অনন্ত ওপারে। 
গেল। কিন্তু রেখে গেল অনেক ঘটনা
সিনেমা, থিয়েটার, সাহিত্য, কবিতা, আবৃত্তি আরও কত কিছু
                      যা এখনও রয়েছে অজানা। 
মানুষ কী এভাবে যায়? এই তবে ভবিতব্য কথা? 
মানুষটা গেল, কিন্তু রেখে গেল অনেক করুণ ব্যথা! 
ভাবি, যে মানুষটা আজও অপু হয়ে গেঁথে আছে দর্শকের মনে, 
সেই-ই ফেলুদা হয়ে রয়ে গেছে রহস্য অঙ্গনে। 
আসলে টলেনা কিছুই তিনি যে গুনী, অমায়িক, ভদ্র, মিশুকে
তাইতো সবাই আজ মিশে গেছে অন্তিম পর্বের দিকে। 
শূণ্যতা। শুধুই শূণ্যতা। দিকে দিকে হাহাকার ধ্বনি
আসলে তিনি যে ছিলেন আমাদের আইকন, নয়নের মনি! 




নক্ষত্র কথায়

সুস্মেলী দত্ত

 

মৃত্যু নয় মৃত্যু নয় নতুন রূপে রাজা

বাইরে ঘরে হীরক দ্যুতি আগুন সাজে সাজা

 

অপুর চোখে কালো সাদায় কাজল পরা মেঘ

বঙ্গবাসী সাতকাহনে বিরহী সংক্ষে

 

মহীরুহের সবুজ ত্বকে নিত্য আনাগোনা

যাপন সুখে যাপন দুখে উল্টো সোজা বোনা

 

বুক বাজানো ফেলুর সুতো লাটাই ধরা কে 

জ্ঞানপাহাড়ি বুদ্ধি ধোঁয়া একটু থেমে যেও

 

দীর্ঘদেহী সৌম্যবেশে ইতিহাসের পাতা

বসত করে সেই দেবতা স্নিগ্ধ আবিলতা

 

মরণজয়ী কাব্যিকথা লেখনী ক্ষুরধা

চাটুজ্জে সে মিত্রবাবু প্রণাম বারে বার|



অপরাজেয় পথিক

রবীন বসু


স্মিত হাসি নিয়ে ভোর ফুটে উঠল

তুমি শুধু ফুটলে না।

বাগানে ছড়ানো রোদ 

তোমার হাসির মত অমলিন

কল্লোলিনী কলকাতা আজ বিষাদে নিমগ্ন

তোমার চেনা শহর, স্টুডিও পাড়া

প্রিয় সেই কফিঘর, বইপাড়া

বন্ধুদের হুল্লোড়েই তর্ক-বিতর্ক

ম্লান চেয়ে আছে যেন নির্বাক…

দূরে রেলিঙে হেলান দিয়ে মায়াচোখে

সিগারেট টানছো, অপু...

অনন্ত জীবনপথে আজ শুধু দোল খায়

মৃত্যু, যেন ভাসমান সাঁকোর ওপারে

সব স্বপ্ন, জয়-পরাজয়, লড়াইয়ে স্থির হয়।

এই সব অফুরন্ত তারার বিস্তারে

মহাশূন্য মাঝে

অগ্নিশুদ্ধ তুমি শুধু অপরাজেয় পথিক…



মরণজয়ী সৌমিত্র

মঙ্গলপ্রসাদ মাইতি

 

লড়াইটা তোমার কাছে ছিল বেদমন্ত্রের মতো-

সেই লড়াইটাই জীবনভর উচ্চারণ করে গেলে;

শেষ চল্লিশ দিনের লড়াইটা ছিল আরো অভূতপূর্ব

মনে হল মৃত্যুও বুঝি তোমাকে ভয় পেয়েছে!

আমরা দেখলাম-কি অদ্ভুত তোমার জীবনীশক্তি

যা রূপকথার গল্পকেও হার মানায়। মৃত্যু এসে 

একসময় তোমাকে আলিঙ্গন করল ঠিকই ততদিনে

তুমি তাকে জয় করে নিয়েছ।

সশরীরে নেই কিন্তু বুকের গভীরে এমন এক

জায়গা করে নিয়েছ মনেই হচ্ছে না তুমি নেই।

আকাশ বলছে তুমি আছো, নদী বলছে তুমি

আছো, পাহাড়-সাগর, তরুলতা-গাছপালা, মাঠ-

বন-প্রান্তর সবাই জানান দিচ্ছে তোমার হাস্যময়

অস্তিত্ব। সৌমিত্র, তোমার জন্যই আমরা বাঙালিরা

সগৌরবে বলতে পারছি আমরা অবহেলার পাত্র

নই, মরণকাল পর্যন্ত লড়ে যেতে পারি।

 

ভেসে যেতে পারি
অমিত কাশ‍্যপ
( সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের 'এত বড় নদীর একগলা জলে' কবিতাটিকে মনে রেখে )


 'এত বড় নদীর একগলা জলে 
আমাকে দাঁড় করিয়ে দিয়ে 
যখন স্তব উচ্চারণ করতে বলেছিলে
তখন কি ভাবোনি
আমি ভেসে যেতে পারি'

একগলা জলে দাঁড়িয়ে মনে মনে বলি-
ওঁ জবাকুসুম সঙ্কাশং কাশ‍্যপেয়ং মহাদ‍্যুতিম্
পায়ের পাতায় মাটি, জলের ছলাৎ ছলাৎ 
বহু দূর থেকে নদীর স্রোত নামিয়ে দেয়
নীচে আরো নীচে, শীতল জলরাশি ছোঁয়
গঙ্গার স্তব খান খান হয়ে দিগন্তে মেশে
আমি তবে ভেসে যেতে পারি 

মৃত্যুভয় দোলা দেয়, মৃত্যুভয় সামনে দাঁড়ায়
আমি কি তবে চোখে চোখ রেখে কথা বলি
প্রবল হাওয়া বয়, প্রবল কষ্ট ভয়
ভেসে যেতে, ভেসে ভেসে আর  এক কূল
অপেক্ষায় থাকে, স্তব মনে করি--
ধ্বান্তারিং সর্বপাপঘ্নং প্রণতোহস্মি দিবাকরম্




শেষ নেই শেষের কবিতার 
  অশোককুমার লাটুয়া 

বিকলাঙ্গ সময়। বেদনায় ভিজে গেছে কান্নার পদাবলী। 
স্তব্ধতার সেতু ছুঁয়ে হেঁটে গেছে অদ্ভুত হৃদয়। 
নামজীবন আজ মহাপ্রস্থানে 
মহাজীবনের গল্প অফুরান 
কিংবদন্তি নক্ষত্রের মৃত্যুহীন আলোর সংলাপ। 
চরিত্র থেকে চরিত্রে আশ্চর্য যাতায়াত। অপু থেকে কিংলিয়ার পোশাক বদলাতে বদলাতে বাস্তবের মাপসই সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় 
সমান স্বচ্ছন্দ অজস্র নামভূমিকায়। 
ছিয়াশিটি বসন্তের রোদ ও রাত্রি 
অনেক যুদ্ধে পরাজিত শেষের কবিতার কন্ঠস্বর তবু আজ অপরাজিত স্মৃতি। 
ঝিন্দের বন্দী থেকে নিশিপদ্ম নিয়ে প্রণয়পাশায় 
 বুকের নদীতে তোমার আশ্চর্য র্সাঁতার
গুণে রেখেছি গঙ্গার উথাল-পাথাল ঢেউ 
উচ্চারিত শব্দের চলচ্চিত্রে বিস্মৃতিবিহীন নমস্কারে। 




সৌমিত্র 
শুভঙ্কর  দাস

বাঙালি শব্দটার মানে অভিধানে কী বলছে?
যারা বাংলা ভাষায় কথা বলে!
যারা বঙ্গদেশে বাস করে!
কারা?
তারাই,যাদের অরণ্য উচ্চারণে সুন্দরবনের গন্ধ বা সমুদ্র বললে বঙ্গোপসাগরের ঢেউ ভেসে ওঠে...
যাদের সোনার শিখর মানেই কাঞ্চনজঙ্ঘা আর তিলোত্তমা বললেই কলকাতার পদধ্বনি শোনা যায়..
তারাই বাঙালি...
প্রেমিক অপুকে কেমন দেখতে?
প্রতিবাদী ক্ষিদ্দা কেমন কথা বলেন!
গোয়েন্দা ফেলুদা বই থেকে কার মধ্যে উঠে আসে?
ঠিক বাঙালির মতো!

যদি কোনোদিন দেখা যায়,বাঙালি শব্দের স্থানে সৌমিত্র বসিয়ে দেয়

তা হবে কবিতার মতো সত্যি।


মৃত্যুর পরেও
বিমল মণ্ডল


দু'পাশে অভিভাবকভাসি জনপদ;শুধু ভালোবাসা
সামনে-পেছনে সুসজ্জিত চলচ্চিত্র পট
মাঝখানে সুললিত ফুলের সুবাস ঘেরা শরীর

রাজপথ জুড়ে আকীর্ণ গোধূলি বিকেল
তোমাকে ব্যথিত মুখে   চুম্বন করে ফেরে

আলোচনা ও সমালোচনার অভিনন্দন ঝড়
অভিনেতা ও কবি উজ্জ্বল পরিচিতি
যেন একটা  মৃত্যুর পরেও... 




  রক্ত আলপণায় পিঁড়ি পাতা
   দেবাশীষ মুখোপাধ্যায়

পড়ে আছে চন্দনের চিতা
মৃত্যু নত:শির
বিস্ফারিত বিস্ময়ে অশ্রু ঝরার দর্শক
চোখের ছিটকে পড়া মুক্তো গুলোর হীরক দ্যুতি
অশ্রুসিক্ত রজনীগন্ধার শেষ কপাল চুমু

কোথায় যাবে তুমি
মিলিয়ে যাবে দিকচক্রবালে
ধ্রুবতারার পাশে আলো মানুষ
কিন্তু মনাকাশে তো তোমার স্থায়ী ঠিকানা
সেখানে তুমি অহর্নিশ
ক্ষিদ্দা হয়ে ফাইট কোনি ফাইট
ফেলুদার মগজাস্ত্রের শানিত  বুদ্ধি
আটপৌড়ে জীবন মাখা অপুর আবেগ খাওয়া
লড়াইয়ে উদ্দীপ্ত উদয়ন পন্ডিতের আগুনগোলা
 অথবা সুললিত গলায় বসন্ত নয় অবহেলায়


কোথায় যাবে তুমি 
যে পথে জীবনের নিত্য যাওয়া
হীরক দ্যুতি ছড়িয়ে সেই পথে
তুমিও তো সাথী আমাদের মরণের ওপার থেকে
জানা অথবা অজানায়



নক্ষত্র পতন
রঞ্জন ভট্টাচার্য 

কত তারকা আসে 
নক্ষত্রলোক থেকে 
আবার বিলীন হয়ে অন্য কোন লোক 
রেখে যাওয়া স্মৃতি অবিস্মরণীয় হয়ে থাকে 
হৃদয় হৃদয় ...
তাঁর সংলাপ কথা চারিত্রিক দৃঢ়তা একাগ্রতা 
দোলা দেয় মনে প্রাণে অন্তরে 
যেন এক গগনচুম্বী নির্মাণ ।
বহু নক্ষত্রের সংগৃহীত রূপ রূপময়তা দিয়েছে
এক অরূপ রতন ,
সেখানেই মান্যতা 
সেখানেই মিলন প্রাণের কথন 
আর এখানেই বাঙ্গালীত্বের বাঁধন।

একটি জানালার গল্প
শুভ্রাশ্রী মাইতি

একটা খোলা জানালা ছিল আমাদের এই অপুর সংসারে।
হাওয়ায় হাওয়ার রোজ ভেসে আসত আশ্চর্য সব আলোর খবর।
ফুল খসে পড়া তাপিত দিনগুলোতে জানালা গলে আসত দক্ষিণের প্রাণখোলা হাওয়া। 
ঠিক যেন উদয়ন পন্ডিত--হাতে ধরে শেখাত দিনবদলের নতুন নতুন কবিতা।
আমাদের ক্ষুধার্ত পর্ণমোচী সন্ধ্যাগুলোয় জানালার ফাঁক গলে
খিদ্দা এনে দিত আগুন জ্বালানোর খুঁটিনাটি উপকরণ।
নিভন্ত উনুনে লড়াই-এর আগুনটা দাউদাউ করে জ্বলে উঠলেই
টগবগ করে ফুটিয়ে নিতাম বেদন চালের স্বপ্নরঙা ভাত।
আমাদের কাপড়ের বল আর ডাংগুলি খেলার রঙীন দুপুরগুলোতে জানালার পাশে বসে
ফেলুদা এসে শিখিয়ে যেত মগজাস্ত্রে শান দেওয়ার রকমারি সব কৌশল।
জাফরিকাটা জোছনায় প্রায় রাতে ভাঙাচোরা ঘরটা যেন এক আলো-আবহের রঙ্গমঞ্চ--- 
গমগমে গলায় কিং লিয়র শোনাত জানালার গরাদগুলো,পাশে গীতবিতান আর আবোলতাবোল।
শিশিরভেজা শিউলিসকালে জানালায় টোকা পড়লেই বুঝতাম---
বাক্স প্যাঁটরা গুছিয়ে অপু এসেছে আমাদের ডাকতে
কাশরঙা মাঠের ভেতর দিয়ে নিয়ে যাবে আশ্চর্য এক অপরাজিত অভিযানে।

এখন এখানে অন্ধকার বেশ ঘন। সাঁঝবাতির শুকতারা ঘুমিয়ে গেছে অসুস্হ বিষণ্ণতায়।
 মৃত্যুর শীতল ছায়াপথ পেরিয়ে এক নক্ষত্রভূক অগ্নি জ্বলে উঠেছে মহাশূন্যের সীমানায়---
আলোকবর্ষী দূরত্ব পেরিয়ে সূর্য তার সপ্তাশ্ব রথ ছুটিয়ে আসবে বলে
জানালাটা হাট করে খোলা রাখি বিনত বিশ্বাসে
সূর্যসন্ধানী কণিকাগুলো কথা বলে যায় আমাদেরই রক্তরসে... 

মহান শিল্পী
জগদীশ মন্ডল

মহান শিল্পী অভিনয়ের 
দক্ষ কারিগর,
বলছি শোন সৌমিত্র চট্টের
আর কি কি গুণ তাঁর।

আলোর লেখক,আবৃত্তিকার
নাটক দিয়ে মোড়া,
সচল কলম সম্পাদনায়
নামটি ভারত জোড়া।

নিরহঙ্কার মিশুকে মানুষ
অনুবাদেও পাই,
অপু দিয়ে জীবন গড়েন
ফেলুদার তুলনা নাই।

কবিতা প্রাণ জীবন নদী
মানব হৃদয় জয়ে,
ছোট্ট পুলু কিংবদন্তি
মুগ্ধ অভিনয়ে।

সত‍্যজিতের মানসপুত্র
উজ্জ্বল ধ্রুবতারা,
তাঁর মহিমা জ্বরে কাড়ে
হলাম মানিক হারা।



দীর্ঘশ্বাস
তপন কান্তি মুখার্জি 
  

ভেবেছিলাম তুমি ঠিকই ফিরে আসবে । 
মগজাস্ত্র খাটিয়ে মৃত্যুকে তুড়ি মেরে আবার সদর্পে 
হেঁটে বেড়াবে আমাদের আঙিনায় । 
হলো না । মাড়োয়া বেজে গেল আয়ুবীণায় , 
সব কথা থেমে গেল অভাগা অবেলায় । 

এখনও চোখে ভাসে তোমার যাপনবেলা , 
আংটির পাথরের মতো জ্বলজ্বলে আত্মবিশ্বাস ।
সবই আছে , নেই শুধু স্বপ্নে স্বপ্নে ভাসার উচ্ছ্বাস।
মৃত্যুকাঁধে সগর্বে ঢুকে গেলে আগুনে , 
হীরকরাজকে কে নামাবে ধরাসনে ? 

অতীত ভেঙে ভেঙে জমা হচ্ছে স্মৃতিতে । 
জীবন খুঁটছে নিঃসঙ্গ নিঃস্বতা , 
জীবন খুঁড়ছে ক্লান্ত শোক । 
হাতমুঠো করে হাসিমুখে জানালে আলবিদা , 
কোথায় গেল সেই ফাইটিং স্পিরিট খিদ্দা ? 



 সবুর করো ভাই
 বিকাশ ভট্টাচার্য    

পরোয়ানা হাতে নিয়ে এসেছো
একটু সবুর করো ভাই 

তারপর দীর্ঘ সময় গেল সদরের
চৌকাঠ থেকে শয্যার পাশে
পৌঁছুতে 

দূরত্ব? সে তো এক মন থেকে অন্যমনের 
জড়ঘুম থেকে নদী যে ব্যবধান নিয়ে 
পাশাপাশি বয়

একদিকে অবিনাশী মৃত্যু 
আর অন্যদিকে সহস্র প্রার্থনায় ভিজে 
হৃদিশতদল 

পোশাক বদলাবনা আর। এবার 
প্রকৃত পোশাকে আজন্ম ঘর ছেড়ে যাব



           বিবেক
  সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় 

কি অসীম যন্ত্রণায় বিদ্ধ হতে তুমি ,
তুমি-ই  ব্রাত্য ছিলে উৎসবে একদিন
তবু হয়ে উঠলে অনন্য ইস্পাতকঠিন
চড়া দাম ছিল শিল্পীর,
মেরুদন্ড বিক্রির বাজারে বারেবারে,
অবিকৃত রইল মেরুদন্ড এই খেলাঘরে।
সুমিত্রা-নন্দন যেন তুমি,
জীবন যুদ্ধে ভারাক্রান্ত তার দেহ
পাড়ি দিলে অন্য লোকে ছেড়ে  সব মোহ ।
মৃত্যুতে নির্বাক বহু শ্রোতা,
তোমার মহিমায় থাকবে তুমি দীর্ঘপথে
সম্মান শ্রদ্ধা দেখি এখন তোমার স্বর্গরথে।

চার লাইন
 বন্দনা কুন্ডু

বিশের বছর বিষে বিষেই ভরা
কত জ্ঞানী,গুনী হলেন গত
মানবজীবন ফুরিয়ে যাওয়াই রীতি
পড়ে থাকে বিষন্নতার ক্ষত।

একে একে নিভলো কিছু তারা
তুমিও গেলে তাদের পিছে পিছে
দানের ভাঁড়ার শূন্য হবার নয়
বরং সে সব হিসাব করাই মিছে।

দেহ তোমার মুক্তি পেলো আজ
অমরত্ব রইলো ধরায় পড়ে
দিনের মাঝে রাতের তারা থাকবে তুমি বাঙালির ঘরে ঘরে।।




   সৌমিত্র স্মরণে
পবিত্র প্রসাদ গুহ


কাশের ঝোপের পাশের ট্রেন লাইন দিয়ে
কু উ উ....... ঝিক ঝিক ঝিক ঝিক
কালো ধোঁয়া উড়িয়ে চলে গেল ট্রেনটা
অপু দুর্গা উদাসী মনে বিস্ময়ে তাকিয়ে!
তুমি রয়ে যাবে মোদের হৃদয়ে পরিবারের অপু হয়ে।
আজ বেলা শেষে-র কান্না ভেজা অশ্রু
বলে ওঠে যেও না, তুমি যেও না চলে,
ফেলুদার লড়াই আজ শিশির বিন্দু হয়ে
ঝরে পড়বে হেমন্তের ধানের শীষে।
বাচিক শিল্পীর বাচিকতা, কলমের ছোঁয়ায় কবিতারা আজ খোঁজে -
চেনা অমলিন স্নিগ্ধ হাসির ঘ্রাণ ।
কল্পনার পরীরাও হয়ে উঠেছিল জীবিত 
তোমার আবৃত্তির ছন্দে!
মেঘ বালিকাদের হিল্লোলিত লুকোচুরি খেলাও 
আজ আবৃত্তির ছন্দের অভাবে স্তব্ধ ।
নীরবে কাঁদে রুপোলি পর্দা,
ভেসে আসে ছোট পর্দার অভিভাবক হারা ক্রন্দন।
তুমি সব্যসাচী, তুমি অনন্য, তুমি শিল্পী
শিল্পের স্রোতে বহমান তোমার প্রতিমূর্তি।



স্বপ্নকে তাই মৃত্যুঞ্জয়ী বলে
ইলা সূত্রধর 

নিভে গেল সেই প্রদীপের শিখাটুকু
পড়ে থাকে কিছু স্মৃতিতে আলোর রেশ
খাঁচা ভেঙে দিয়ে চলে যায় প্রাণ পাখি 
আকাশের গায়ে উল্কা পতন ঘটে 

বেঁচে থাকে রোজই শিল্পী কুশীলব
কবি হেটে যায় মননের স্মৃতি পথে
না ফেরার দেশে দিগন্ত পারাবার 
মৃত্যু মানেই মায়াবিক শূন্যতা

সৌম্যকান্তি উদার জোছনা আলো
সৃজনশীলতা উজ্জল করে ছিলে
নক্ষত্র জ্বলে ভিড়ে ঠাসা নীহারিকা 
পটভূমি রাখা বার বার ফিরে আসো

প্রগতি কন্ঠে ক্ষিদ্দার সফলতা
কোনির লড়াই ছুটন্ত এক ঘোড়া 
ইথারে ভাসছে অনন্ত শ্বাশত
স্বপ্নকে তাই মৃত্যুঞ্জয়ী বলে



 
সৌমিত্র-এর স্মৃতিতে
সুব্রত মন্ডল


আপনি চলে গেলেন;
আর কোনোদিন কবিতা শোনা যাবেনা আপনার কন্ঠে,
আপনার রেলগাড়ি আর থামবে না কোনোদিন
এই পৃথিবী নামক স্টেশনে ৷
রেশমের কালো শাড়ি পরে রেলে উঠবে না কেউ,
সে ও জিজ্ঞাসা করবে না আর,
"আমাদের গেছে যে দিন, একেবারেই কি গেছে?
কিছুই কি নেই বাঁকি?"
আপনিও আর খানিক চুপ থেকে বলবেন না,
"রাতের সব তারাই আছে দিনের আলোর গভীরে ৷"

আপনি চলে গেলেন;
চলে গেলেন আর ফিরবেন না বলে,
আর ফিরে তাকাবেন না বলে ৷
যেকোন ভাবে যে কেউ আপনাকে ডাকলেও
বলবেন না,"ওই রকম করে কেন ডাকো আমায়?"
আর না বলেই আপনি হারিয়ে গেলেন,
মৃত নদীর মতো শীত গায়ে নিয়ে আপনি দূরে সরে গেলেন ৷
কিন্তু আমরা, আমরা তখনও দেখেছিলাম, শুনেছিলাম, পড়েছিলাম;
এখনও দেখবো, শুনবো, পড়বো
সৌমিত্র! সৌমিত্র চ্যাটার্জী...




সৌমিত্র - একটি যুগের অবসান
অশোক রায়

একটি একটি করে পাতা ওলটায় স্মৃতির সমীর       

ছয় দশকের সৃষ্টির শেষে থামল জর্জরিত শরীর

যাবার পথে চল্লিশ দিন ব্যাকফুটে খেলেছ পা না বাড়িয়ে

অবশেষে ঘটল যবনিকা পতন আশার প্রদীপ নিভিয়ে

তোমায় কি মানায় সাদা বর্ণহীন মালায় নিথর শয়ন

সেলুলয়েডের ঘোড়ার পিঠে যে ছিল রাজপুত্তুর ময়ুরবাহন

ফেলুদার রোলে যে সবসময় একশোয় একশো

তাকে যখন দেখি হার্স-ভ্যানে ক্লান্ত শ্রান্ত মুখ পাংশু

কি করে মেলাই হিসাব ধুসর পান্ডুলিপির গহীন

তোমায় ভালোবেসে আমরা হলাম শোকার্ত ভাগ্যহীন

অনেক হয় নি দেরি তবু আজ দীর্ঘপথের অন্তে দেখি

ফাইটার খিদ্দা-র বাঁচার অদম্য ব্যাটন দিল মহাকাশে পাড়ি

মুহরত লাইট সাউন্ড সত্যজিতের স্ক্রিপ্ট রেডি...

                                             


শ্রদ্ধাঞ্জলি
 
শ্রীমতি ডলি    

হেমন্তের ভারাক্রান্ত একাকী দুপুরে,
অসীম-অনন্তপানে চিরতরে -
চলে গেলে 'অপু', বিশ্বসংসার ছেড়ে।
রেখে গেলে সযত্নে সোনায় মুড়ে -
শ্লাঘনীয় সৃষ্টি রূপোলী পর্দা জুড়ে !
বহুমুখী প্রতিভায় উজ্জ্বল -
মহিমান্বিত করেছো আপনারে !

মৃত্যু'র সাথে খেলতে চেয়েছিলে 'তিনপাত্তি',
নশ্বর দেহ ছিনিয়ে নিয়েছে মৃত্যু, এ অমোঘ সত্যি !
জুয়ায় হেরে গেছে মৃত্যু, পারে নি তোমায় নিতে,
তোমার কীর্তির গাঁথামালায়, তুমি উন্নীত অমরত্বে !
ক্ষিদ্ দা  ফেলুদা  সন্দীপ  যে নামেই ডাকি,
মঞ্চের  'কিং-লিয়র'কে  সবের উর্দ্ধে  রাখি।

চিরকাল এভাবেই রয়ে যাবে মানবের চিত্তাকাশে !
প্রণমি তোমায়, শান্তিতে ঘুমোও চিরপ্রশান্তির দেশে !!


স্মৃতি 

অলোক চট্টোপাধ্যায়

স্মৃতির ঘরে অনেক ছবি , রঙিন, সাদা কালো
সব চরিত্র জীবন্ত হয় অসীম মনস্বীতায়।
সব কবিতা প্রান খুঁজে পায় নিবিড় উচ্চারণে
গভীর মনন জ্বলে ওঠে নেভা চন্দন চিতায়।

মুক্ত পাখা অসীম খোঁজে, স্মৃতি লাটাই গোটায়
সৌমিত্র বেঁচেই থাকেন মনের মণিকোঠায়।


অমরসঙ্গী

দীপক বেরা



অভিনেতা, প্রযোজক, পরিচালক,নাট্যকার 
লেখক, কবি, সাহিত্যিক, আবৃত্তিকার
কী নামে ডাকব তোমায়?
এত ভাবে, এত রূপে ধরা দিয়েছ তুমি
পঁচাশিতেও তুমি থেকে গেছ আঠারো
যেন বিস্মিত এক চিরতারুণ্য কথা বলে ওঠে! 

দরজার পাশে কান পেতে শুনি 'অপু আড্ডা' 
'ফেলুদা'র গোয়েন্দা কাহিনী শুনতে শুনতে 
চলে গেছি 'হীরক রাজার দেশে'.. 
মঞ্চে তোমাকে ঘিরে সমাপ্তির 'মৃন্ময়ী' 
কোথায় না আছ তুমি? 
কত যে শাখা-প্রশাখা তোমার, কুল-কিনারা নাই! 
বহুজন্মের অনন্ত প্রেম, রোমান্টিকতা ধরা দিয়েছে 
তোমার কবিতার ছন্দে, অনুভূতি আবেগে
কবিতা তোমাকে জাপটে জড়িয়ে ধরে আছে 
তোমার অমোঘ জীবনের নিরন্তর পথ চলায়। 

"সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়", তুমি এক প্রতিষ্ঠান 
দেখিয়েছ কাজেই তোমার মুক্তি 
তোমার মৃত্যু নেই---
প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে রেখে গেলে 'খিদ্দা' 
তুমি আপামর বাঙালির নিত্যদিনের অমরসঙ্গী! 



  মৃত্যু
শ্যামলী বর্ধন 

থিতিয়ে যাবে তোমার দুঃখের
যাবতীয় রসদ।  অকপটে নরম
খোলা মুখে উড়বে। নিদারুণ 
অকল্পনীয় ঘটনা। যা একসময়
হড়হড়িয়ে মেঘ নামাতো।
যন্ত্রনায় কাতরাতে কাতরাতে
জরাজীর্ণ শরীর মৃত্যুকে
না মানার কষ্ট।  সময় সব
হজম করে। মানুষ নামের মহিমা। 



প্রিয় কবি ও অভিনেতা ফেলুদাকে প্রণাম 
অমরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী

হে মহান
সমাজ ও প্রকৃতির জলপ্রপাতের ধারার মাঝে 
রবিঠাকুরের লেখনীকে ভালোবেসে সামাজিক সঙ্কীর্ণতার অচলায়তন ভেঙ্গে সংবেদনশীল মন নির্মানে, আত্মসমীক্ষনের অধিকারী। 
তুমি তো কেবলই অভিনেতা নও তুমি যে প্রাণের কবি , আবৃত্তিকার,নাট‍্যকার।
আরো কত কী
চিত্রাঙ্কনের পাশাপাশি মনটাকে আবদ্ধ কারাগার  থেকে মুক্তি দিয়ে অপার শান্তি  পেতে মনোরম তোমার সৃষ্টিই আমাদের হৃদয়ের মাঝে সর্বদাই নমস‍্য।
তাই তুমি জীবনের চেয়ে অনেক বড়ো। সেদিন শান্ত সন্ধ্যায় তোমার নিথর দেহটিকে ফুলে ফুলে সাজিয়ে হাজারো অনুরাগীর কান্নায় কলকাতার রাজপথ অশ্রুসিক্ত।বলো কবি সত্যিই কি তুমি ছুটি নিয়ে চলেছো অমৃতলোকে।শুধু আমাদের প্রণাম টুকু নিও।


এ তার মৃত্যুসাজ  
নৃপেন্দ্রনাথ মহন্ত 

চোখের আদল মটরশুঁটির মতো 
তাকিয়ে আছে সে দূরের আকাশ পানে
তাকে ঘিরে আছে কাছের মানুষ যত
মহীরুহ পতন  হল কি আমফানে?

জীবনাবসান আজ তার হল বটে
শুরু হল তার অমরত্বের কাল
মৃত্যু তো রোজ হাজার হাজার ঘটে
ক'জন বা করে মৃত্যুকে বানচাল? 

নশ্বর শরীর  হোক না পুড়ে ছাই
জীবনের থেকে ঠিকরে বেরোয় আলো
সে আলোর ঠিকানা রাজমহলে নাই
মানুষের মাঝে তার বাড়ি  জমকালো।

সত্য নয়-- এ তো তার  মৃত্যুসাজ
জীবন জেগেছে জীবনাবসানে আজ।




নির্বাক
মানিক কর্মকার

চির শান্তির দেশে পারি দিয়ে,
তুমি চললে পৃথিবী ছাড়ি,
বিষাদের সুর বাজিয়ে বুকে-
কইবে না কথা, নিলাম তবে আড়ি।।
কান্নাকাটির পরিপাটি আজ
মনের মানুষ হারিয়ে,
কালকেও বোধ হয় মলিন মনে
ডাকবে দু-হাত বাড়িয়ে।
তোমার সৃষ্টি অক্ষয়-অমর
স্মৃতির পাতায় লেখা,
সবার মনের আলোর প্রদীপ
জ্বালিয়ে রাখবে, বাঙালির ফেলুদা।।



নীল আকাশের তারা
   বিপ্লব প্রামাণিক


অজ্ঞাত পরিচয়ে আসিনু হেথা,
অচেনা সূর্য উদিত হলে-
সূর্যের তেজ অদৃশ্য পুঁথি-
বিশ্বসেরা স্কুল মায়ের কোলে।

সূর্য উদয়ের প্রভাত সঙ্গীতে-
জননী দেবী শেখালো আমায়-
জগৎজোড়া নীল ফলকে
উদিত সূর্য কেমনে ঘুমায়!

আঁধার নামিলে ভয়েতে কাঁদিলে
বুকেতে জড়ায়ে কহিতো মা,
'রবিমামা তোর্ গেল রে বাড়ি
আসিবে রে তোর্ চাঁদ মামা ।'

আধো আধো স্বরে কহিনু মায়ে রে,
'আসা যাওয়ার-ই এই কি জীবন!'
নাম -খ্যাতি- যশে তারারা যে খসে ,
'নীল আকাশে করে কি মিলন!'



ফেলুদা
অমল কুমার ব্যানার্জী 


জীবনের ছিয়াশি বছর কেটে গেল ফেলুদা,
চলে গেলে অজানা পথে তারাদের দেশে। 
জীবনে তো হেরে যাওয়া দূর,
সবাইকে হার মানিয়ে চলে গেলে।

বিসর্জন, বিয়োজন নয়, এতো আয়োজন,
অজানার দেশে পাড়ি দিলে তুমি।
শত শত অনুরাগী ভাবে শোকাহত,
আছ তুমি সাহিত্য সংস্কৃতি মাঝে। 
 
ডাক্তার মাস্টার মশাই দীর্ঘশ্বাস মাঝে,
দেখে তবু দেখেনি তো কিছু,
আজও সেই নির্বাক চোখ,
প্রতিবাদ করে সমাজের যতো অত্যাচারে। 

অভিনীত চরিত্রের ঘাত প্রতিঘাতে,
বাস্তব জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে অপু।
তোমার জীবন আর অভিনয়-
গাঁটছড়া বাঁধা সাতপাকে। 

শত সাফল্য মাঝে এতো ভবিতব্য,
বিসর্জন নয়, আয়োজন বিদায়ের।
থেকো সুখে অজানার দেশে,
প্রার্থনা শুধু, বিস্মৃত যেন নাহি হই।



আবার এসো

অর্পিতা ঘোষ পালিত


চিরতরুণ জীবনশক্তিতে ভরপুর অভিনেতা কবি

তুমি সকলের স্বজন, আত্মিক বন্ধনে আবদ্ধ

কিংবদন্তী তারুণ্যের আইডল…

জনতার ভিড়ের ওপর নক্ষত্র বিরাজিত

তোমার রশ্মি ছটায় চারিদিক আলোকস্নাতা


জীবনের খেলার মঞ্চ যবনিকা টানলো

অসহায় আমরা, সন্তাপের বেদনা বুকে

মানকেমনে অফুরন্ত মধুর স্মৃতির পাহাড়


প্রভুর কৃপায় আবার এসো আমাদের মাঝে

ভরিয়ে দাও সুনিপুন মঞ্চ...কবিতা প্রহর