লেবেল

শীত বিষয়ক কবিতা / ছড়া লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
শীত বিষয়ক কবিতা / ছড়া লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৪

। প্রতিদিন বিভাগ।। ।।ডিসেম্বর সংখ্যা।। ।।শীত বিষয়ক কবিতা / ছড়া— ৩০।। মৃত্যুর কথা — অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।




। প্রতিদিন বিভাগ।। 

।।ডিসেম্বর সংখ্যা।। 

।।শীত বিষয়ক কবিতা / ছড়া— ৩০।।




মৃত্যুর কথা

অরিন্দম চট্টোপাধ্যায় 


বৃষ্টির মতো ঝরে পড়ে ছাতিম সকাল। হয়ে যায় হালকা সবুজ উপত্যকা।তবুও মৃত্যুর কথা উড়ো পাখির মতো উড়ে আসে। দিকভ্রান্ত হয়ে ছুটে চলি। কোথায় যাব, কি করব কিছু বুঝে উঠতে পারি না। একপক্ষ কাল জুড়ে একটা ধ্বংসভূমির ছবি ফুটে ওঠে।

ছড়ানো চন্দ্ররাত। নি:শব্দে বিচরণ করে গেল মৃত্যু।পাশাপাশি কেউ জানতে পারল না। কীভাবে একটা মুহূর্ত অন্যমুহুর্ত হয়ে যায় তা বিষ্ময় ভরা চোখ নিয়ে দরজার দিকে দেখে। এখন লাটাই সুতোর মতো খুলে যাচ্ছে স্মৃতি। 

আলাপুরের পাশ দিয়ে বয়ে যায় দু:খস্রোত উপেক্ষা নদী হয়ে।কেউ ঘুরেও দেখে না। সবাই একটা একটা দ্বীপ ভূমির মতন দাঁড়িয়ে। কেউ কারও দিকে হাত বাড়িয়ে দেয় না। ছুটে চলে নিজ নিজ নৌকা নিয়ে নদীপথে।কারও কোন  সঠিক গন্তব্য জানা নেই।



রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।।ডিসেম্বর সংখ্যা।। ।।শীত বিষয়ক কবিতা / ছড়া— ২৭।। নির্লিপ্ততায় উদাসীন আহ্লাদ — হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়।।Ankurisha।। Ankurisha E.Magazine।। Bengali poem in literature।।




। প্রতিদিন বিভাগ।। 

।।ডিসেম্বর সংখ্যা।। 

।।শীত বিষয়ক কবিতা / ছড়া— ২৭।।




নির্লিপ্ততায়  উদাসীন আহ্লাদ 

হীরক বন্দ্যোপাধ্যায় 

কিছুটা উদাসীন আহ্লাদ থাকা ভালো ,কিছুটা নির্লিপ্ততা জগৎ মায়ার স্পর্শ ভুলিয়ে দেয় মানুষে মানুষে সুসম্পর্ক. ..
যেখানে যা ভালো কিংবা কালো নৈঋতে ঈশানে 
পাওয়া না পাওয়ার জন্য থাক অমিতবৈরি 
ছেঁড়া পালকের মতো উড়ুক্কু হাওয়ায় মিশে যাক পাপপুণ্যের মূর্চ্ছনা 
যেমন একটি দুঃখের কথা বড়জোর ছাব্বিশ মিনিট
ওদিকে জবা ফুটছে মাধবী ফুটছে রজনীগন্ধা 
বিকারগ্রস্থ কোনো হটকারী ঈশ্বরীয় অঙ্গুলিহেলনে 
ফুলে ফেঁপে উঠছে অবলীলায় 
তখন ভেঙে পড়া ট্যাঙ্ক বিমানের ধ্বংসাবশেষ অথবা একটি নারীর কান্না বড়জোর 
...তোমার হয়নি কোনো ক্ষতি. ..পর্যন্ত আর একটি পুরুষের কান্না  ....যাবো,কিন্তু  তোমাদেরো সঙ্গে নিয়ে যাবো. ..পর্যন্ত. ..একটি মানুষের কান্নার রঙ বদলায় বড়জোর একটি মানবের জন্য  কয়েক শতাব্দী 
এখন কিছুটা উদাসীন আহ্লাদে থাকা ভালো কিছুটা নির্লিপ্ত ,জগৎ ভুলিয়ে দেয় রাষ্ট্রহীন নীলাঞ্জনার মুখ .......

শনিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৪

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।।ডিসেম্বর সংখ্যা।। ।।শীত বিষয়ক কবিতা / ছড়া— ২৬।। শীতের স্বপ্ন — জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।




। প্রতিদিন বিভাগ।। 

।।ডিসেম্বর সংখ্যা।। 

।।শীত বিষয়ক কবিতা / ছড়া— ২৬।।




শীতের স্বপ্ন

জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

বহুমুখী করাত হাতে দাঁড়ায় রুদালির দল, এ রাত শীতের
সে এক কৌশলী ফাঁদ অনুপম, কিন্তু দ্যাখো
কেমন মৌরসীপাট্টাদারেরা জমিয়ে যাপন করে রাত
আলোর ঝলক মানে নক্ষত্রেরা অলীক স্বপ্নে ঝরে
কিছু তার তোলা থাকে অভিজাত দেওয়ালের সাজে
খড়কুটো-পাতায় সন্ধ্যার শীত নিয়ে খেলার আগুন
মাখিনি যে কতদিন !
পোড়া শালপাতা-ক্যালিপ্টাসের ধোঁয়া গন্ধ তোলেনি কতদিন
আমাদের অস্বচ্ছ গ্লাসে
পিঠের গায়ে লাগেনি প্রকৃত চালের গন্ধ
সব আজ তেতো, সব তেতো ওষুধ কি হয় ?
শীত তুমি নিরাময়, গরম রাতের আরাম।

শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৪

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।।ডিসেম্বর সংখ্যা।। ।।শীত বিষয়ক কবিতা / ছড়া— ২৫।। শীতের সুখ- দুখ — পুষ্প সাঁতরা।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।




। প্রতিদিন বিভাগ।। 

।।ডিসেম্বর সংখ্যা।। 

।।শীত বিষয়ক কবিতা / ছড়া— ২৫।।






শীতের সুখ- দুখ

 পুষ্প সাঁতরা


শীতের ঝালরে ঢাকা
গ্রামের পথ ঘাট
সূয্যিটা বাধা পায়
আলোর ঠাট বাট।
ফাঁদে পড়ে আটকা
মাকড়শার মায়াজাল
খাবার টা ধরবে সে
বুদ্ধির দাবাচাল।
শিশির তো জানে
আলসে শীতের ধ্বনি
সকালের রসিক শীত
খাবারের নানা খনি।
খাও দাও ভোজ করো
মৌজ করো পিকনিক
দূষনটা বারন থাক
পরিবেশ ঠিকঠিক।
খেজুর গুড় তো আছে
পায়েসের সুঘ্রাণ
শীতের এই তো মজা
আনন্দ টানটান।
শীতের যে ধর্ম ঘট
আসবে কি আসবে না
আমাদের ই সব দোষ
বলো তো? ঠিক কিনা! 

বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪

প্রতিদিন বিভাগ।। ।।ডিসেম্বর সংখ্যা।। ।।শীত বিষয়ক কবিতা / ছড়া— ২৪।। শীতের স্পর্শে নববর্ষ —গোবিন্দ মোদক।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



। প্রতিদিন বিভাগ।। 

।।ডিসেম্বর সংখ্যা।। 

।।শীত বিষয়ক কবিতা / ছড়া— ২৪।।




শীতের স্পর্শে নববর্ষ

গোবিন্দ মোদক


নববর্ষের পদধ্বনি ঐ যে শোনা যায় — 

পুরোনো বছর হেঁকে বলে– দাও দাও বিদায়! 

বছর শেষে ক্লান্ত সূর্য হিসাব-নিকাশ কষে 

ঘর্ম ক্লান্ত লাল রঙেতে পাটেতে যে বসে। 


সাইবেরিয়া থেকে পাখি উড়ে আসে চলে 

মরসুমী ফুল গাছে গাছে দোদুল দোলা দোলে।

সাঁতরাগাছির ঝিলের ধারে পর্যটক বিদেশী 

দামী দামী ক্যামেরা তাদের লেন্স যে রাশি রাশি।

বাঙালীরও জোর কদমে যাচ্ছে কাছে .. দূরে ..

ট্যাঁকের জোর থাকলে পরে আসছে বিদেশ ঘুরে।


নলেন গুড়, খেজুর রস, জয়নগরের মোয়া,

ক্ষেতে টাটকা পালং মুলো শিশির দিয়ে ধোওয়া।

নতুন চালের পিঠে পুলি পাটিসাপটা পায়েস

কেক পেস্ট্রি কতো রকম খাবার নানা আয়েশ।

এদিক ওদিক প্রদর্শনী, বইমেলা, সার্কাস —

সোয়েটার আর কার্ডিগানে রঙিন দু’টি মাস। 


তবুও তে খুব গরীবের ভীষণ রকম কষ্ট, 

শীতে নেই লেপ কম্বল — এটাও কিন্তু স্পষ্ট!!

বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৪

প্রতিদিন বিভাগ।। ।।ডিসেম্বর সংখ্যা।। ।।শীত বিষয়ক কবিতা / ছড়া— ২৩।। শীতের ভ্রমণপদ্য — শঙ্খশুভ্র পাত্র।।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।




। প্রতিদিন বিভাগ।। 

।।ডিসেম্বর সংখ্যা।। 

।।শীত বিষয়ক কবিতা / ছড়া— ২৩।।




শীতের ভ্রমণপদ্য

শঙ্খশুভ্র পাত্র


নতুন বছরে ইচ্ছে তো হয়

কোথাও বেড়িয়ে আসি৷

খুব কাছে দিঘা, শংকরপুর,

বহুদূরে রাঁচি, কাশী৷

পৌষের মেলা সাঙ্গ হয়েছে,

শীতে সব জড়োসড়ো

উত্তুরে হাওয়া খাওয়া-দাওয়া ভুলে 

ভেলকি দেখায় বড়!

খেতে ফুলকপি, টমেটো, পালং 

খুশিতে আত্মহারা

খেজুরের রস পান করে কেউ

হয়ে গেছে মাতোয়ারা৷

এই সব ছবি পল্লিজীবনে 

আনে সুখকর রেশ

শহুরে লোকেরা টের পেয়ে ঠিক 

বলবে তো বেশ, বেশ!

গ্রাম ছেড়ে মন যায় না কোথাও 

পাশে তো আছেই দিঘা

সাগরের ঢেউ হাতছানি দেয়, 

খেত-জমি বিঘা, বিঘা

সোনালি ধানের স্বপ্ন আঁকছে, 

পূর্ণ হবে যে খামার!

কুয়াশা-শিশির দিবস-নিশির 

তোমার এবং আমার৷

শীত নিয়ে এই ভ্রমণপদ্য 

মনে ধরে যদি কারও

কাঁপতে-কাপতে তাহাকে 

কিন্তু ভালোবাসা দেব, গাঢ়৷

সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৪

। প্রতিদিন বিভাগ।। ।।ডিসেম্বর সংখ্যা।। ।।শীত বিষয়ক কবিতা / ছড়া— ২২।। রোদ মাখা শিশির গায়ে — বিকাশরঞ্জন হালদার।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।




। প্রতিদিন বিভাগ।। 

।।ডিসেম্বর সংখ্যা।। 

।।শীত বিষয়ক কবিতা / ছড়া— ২২।।




রোদ মাখা  শিশির গায়ে 

বিকাশরঞ্জন  হালদার 

শীত-বুঝি কাতরতা 
ভিন্ন কোনো 
আহুত  অথবা অনাহুত...

শীত খুঁজি শীতের ভিতরে

খুঁজে  ফেরা রস মিঠে-রস 
যেখানে সন্ধান পাই যত...
 
রোদ মাখা  শিশির গায়ে শুয়ে  থাকে
জমি 

এখন 

গোলা ভরে ভালোবাসা সোনা ধানরাশি
বুকে হাসে আলো 
কত শীত আসে  শীত যায় 

স্বপ্নেরা পোশাক  বদলালো...

রবিবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৪

প্রতিদিন বিভাগ।। ।।ডিসেম্বর সংখ্যা।। ।।শীত বিষয়ক কবিতা / ছড়া— ২১।। বর্ত্ম —জীবন সরখেল।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।




। প্রতিদিন বিভাগ।। 

।।ডিসেম্বর সংখ্যা।। 

।।শীত বিষয়ক কবিতা / ছড়া— ২১।।





বর্ত্ম

জীবন সরখেল  



ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ থেকে শুরু হওয়া অভিযান শেষে থেমেই গেল পুয়ের্তো রিকোর বুকে;
বিস্তীর্ণ সময় জুড়ে দেশে দেশান্তরে উন্নতিকামী বহু অবৈধ ইচ্ছের ইঁদুর দৌড় হল যেন শেষ।
বিস্তার আধিপত্য উপনিবেশবাদের হিংসা ঘৃণা প্রভুত্বের আগ্রাসী ক্ষিধে ছুঁতেই পারেনি সন্তুষ্টি সাফল্যের চূড়ো !
অথচ এক চিলতে মাটির বাড়িতে বা ছোট্ট একটি নদীর ঘাটে বাস করা বাহ্যিক আড়ম্বরহীন প্রেমঘন মহানুভব হৃদয়ের স্পর্শ পেতে-অশেষ প্রেম ভালোবাসার বন্যায় ভাসতে দ্রুত বেগে সমর্পণ- আত্মনিবেদনের জন্য দেশ দেশান্তর থেকে ছুটে আসছেন দলে দলে অগণিত অসংখ্য মানুষ.... 
আজও কেবল স্থির অকৃত্রিম প্রেম ভালোবাসার নদীতেই চাঁদ সূর্য বা মানুষের পবিত্র স্নান মুহূর্তেই যেন মুছে দিতে পারে সমস্ত লোভ গ্লানি হিংসা আর যত তিক্ততার অন্ধকার।





শনিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৪

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।।ডিসেম্বর সংখ্যা।। ।।শীত বিষয়ক কবিতা / ছড়া— ২০।। নতুন রসের প্রতীক্ষায় — সোমা চক্রবর্তী।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।




। প্রতিদিন বিভাগ।। 

।।ডিসেম্বর সংখ্যা।। 

।।শীত বিষয়ক কবিতা / ছড়া— ২০।।



নতুন রসের প্রতীক্ষায় 

সোমা চক্রবর্তী


আসি আসি করেও, তোমার আসতে দেরি 
এ-বছর 
কাক ভেজা বৃষ্টির ছাঁট জানান  দেয় 
তুমি  আসছো 
উত্তরে  হাওয়ার দাপটে নেই জোর
কামড়ে শক্তি নেই , তবুও 
ফুলে ফলে সবজিতে, মাঠের সোনালী ধানে,
তোমার কাছে আসা!
ভিজে মেঠ  পথে কুয়াশার  জল, 
আকাশের যত জল আলাপনা বিছায় 
প্রকৃতির  বুকে 

খেজুর  গাছের  হাঁড়ি বাঁধা 
নতুন রসের প্রতিক্ষায়
 
তুমি এসো কাছে 
অবশেষে  তুমি এলে, একটু ওমের  ছোঁয়ায় 
তোমাকেই  কাছে পাবার আকাঙ্ক্ষী মন
প্রতীক্ষা  করে!

শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৪

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।।ডিসেম্বর সংখ্যা।। ।।শীত বিষয়ক কবিতা / ছড়া— ২০।।সেই সব শীতের রাত — অর্ণব মিত্র।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



। প্রতিদিন বিভাগ।। 

।।ডিসেম্বর সংখ্যা।। 

।।শীত বিষয়ক কবিতা / ছড়া— ২০।।



সেই সব শীতের রাত

অর্ণব মিত্র

 

ঘুমিয়ে আছি

ডুবে যাচ্ছি স্বপ্নে- আর দেখছি  

পুকুরের উপর জমে আছে ঘন কুয়াশা

খেলার মাঠের পায়ে চলা পথ হারিয়ে গেছে অন্ধকারে

আর স্কুলের পিছনে নির্জন ধানজমিতে সন্ধ্যা নামছে।  

 

দেখি স্টেশনের কাছে পরিত্যক্ত সেই চালের মিল

-চারিদিকে শুকনো পাতা পড়ে আছে 

আর

হাড়ি থেকে ভেসে আসছে চাল ফোটানোর গন্ধ।

 

ধানজমির মাঝখানে জেগে আছে

অনিমেষদের সেই মাটির বাড়ি

জ্যোস্নার আলোছায়ায় ভেসে আছে উঠোন ও পুকুর।

 

এখন গভীর রাত

বাড়িতে বাড়িতে সবাই ঘুমিয়ে আছে

উঠোনের পাশে পড়ে আছে ঝাড়াই করা ধান

গোয়ালঘরের এককোণে ফুটে উঠেছে একটি তারা ।

 

আমি জেগে আছি স্বপ্নের ভিতরে

আর খুঁজে পেয়েছি

তিরিশ বছর আগের সেই সব ঠাণ্ডা শীতের রাত।  


বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৪

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।।ডিসেম্বর সংখ্যা।। ।।শীত বিষয়ক কবিতা / ছড়া— ১৯।। এখন শীতে —দেবপ্রসাদ জানা।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



। প্রতিদিন বিভাগ।। 

।।ডিসেম্বর সংখ্যা।। 

।।শীত বিষয়ক কবিতা / ছড়া— ১৯।।




এখন শীতে

দেবপ্রসাদ জানা


এখন শীতে

খেজুর রসের হাঁড়ি নেই

কুয়াশা ভোরে স্বরচিত নির্জনতায়

চুমুক দেওয়া ঠাণ্ডা রস নেই।

খড়ের জ্বালে চৌকো টিনের পাতলা কড়ায়-

ফুটতে থাকা রসের মধুর গন্ধ নেই

সময়ের স্রোতে হারিয়ে গেছে,

গ্রামের সেই সরল সহজ দৃশ্য গুলি।

মেঠো রাস্তার ধারে সারি সারি বাঁকাচোরা,

জমিতে হেলে পড়া ওই বিদ্ঘুটে চেহারায়

হাজার কাঁটা ধরে থাকে যে গাছ গুলো,

তাদের শরীর ফেটে বেরিয়ে আসা মিষ্টি রস,

আজ আর নেই।

যে উচ্ছাসে উষ্ণ রিপু গুলো শীতল তরলে

আত্মমগ্ন হতো ভোরের বাতাস,

হারিয়ে গেছে, বিপন্ন বিস্ময়ে।

সেই আদিগন্ত সবুজমাঠ, ধু ধু ধুসর দিগন্ত,

অন্তর্গত শূন্যতায় নিঃশব্দে হারায়।

পৃথিবী সুন্দর হচ্ছে সেই মধুর স্বাদের,

পথপ্রান্তের প্রহরী খেজুর গাছের বলি দিয়ে প্রতিদিন।

বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৪

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।।ডিসেম্বর সংখ্যা।। ।।শীত বিষয়ক কবিতা / ছড়া— ১৮।। শীতবুড়ির নির্বাসন — অজিত দেবনাথ।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।




। প্রতিদিন বিভাগ।। 

।।ডিসেম্বর সংখ্যা।। 

।।শীত বিষয়ক কবিতা / ছড়া— ১৮।।



শীতবুড়ির নির্বাসন

অজিত দেবনাথ 


সাদা কাঠের বেড়ার উপর ভর করে শীতবুড়ি এলো

বনের পথ হারিয়ে এখানে এলো

লাঠি ঠুকে-ঠুকে এলো 

কুয়াশা-জড়ানো একমাথা রুক্ষ চুল

অতি করুণ আর সন্তানহীনতার আকুতি

সামান্য ভেজা-গা, মুখে নিঃসীম শূন্যতা

অব্যক্তের কুহেলিকা ছিন্ন করে দেখাতে এলো শীতের স্থানাঙ্ক বদলের ঠিকানা

এসো-এসো শীতবুড়ি-

তোমাকে যে কোথায় বসতে দেই?

আজকের বাঁচার খেলা শুধু নাড়াচাড়ার খেলা

মৌমাছির মতো বিরাট খেলা

কিন্তু হুঁশ নেই, চোখ নেই

আশপাশের প্রকৃতির গা-ভেজা, না উষ্ণ

উদাসীন চোখে কৌতূহলের প্রশ্রয় ফলক নেই

শীতবুড়িকে আর বসতে বলি না

উত্তরের আলপথ ধরে শীতবুড়ি

ন্যুব্জ দেহে লাঠি ঠুকে-ঠুকে ফিরে যায়

শীতবুড়ি করুণ দৃষ্টিতে  শিমের মাচার দিকে তাকায়

 সেখানে আর বেগুনি রং ফুল ধরে না

কাঠপালা জ্বালিয়ে আগুনে আর হাত-পা সেঁকা হয় না

 হয়তো  দু-একটা বালিহাঁস পথ ভুলে  মাথার ওপর দিয়ে  উড়ে যায়

এখন আর শীতবুড়ি আসে না

 তার নাতনি আসে

জানালার সামান্য ফাঁক দিয়ে উঁকি মেরে দেখে

গোটা ফ্ল্যাটবাড়িটা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।

রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৪

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।।ডিসেম্বর সংখ্যা।। ।।শীত বিষয়ক কবিতা / ছড়া— ১৬।। লেপ, কাঁথার দিব‍্যি— তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য।।Ankurisha।। E.Magazine। Bengali poem in literature।।




। প্রতিদিন বিভাগ।। 

।।ডিসেম্বর সংখ্যা।। 

।।শীত বিষয়ক কবিতা / ছড়া— ১৬।।

  


 লেপ, কাঁথার দিব‍্যি

      তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য 

   লেপ,  কাঁথার দিব‍্যি দিয়ে মিথ‍্যা বলব না।
শীত আমার আদরের নলেন গুড়ের আলপনা।
গৃহহীন পথ শিশু ছাড়া শীতকে শীত বলে 
কে আর মানে ? নিবিড় বিষাদ ছাড়া গরিব মানুষের  আর কী জোটে ভাতের পাতে !
হায় হায় দেশ, এ লজ্জা আমাদের গায়ে গোবর লেপা যেন। কব্জি ডুবিয়ে বিয়ে বাড়ি কিংবা নিজের  বাড়ি খাবারের সাম্রাজ্যে সুখ উথলি,
 পরাণ আকুলিবিকুলি।
কুকুরের সাথে যারা উচ্ছিষ্ট কুড়ায় তারা জানে পৌষের সর্বনাশ কোথায়  ! আমি তো শীতকে সঙ্গীত ভাবি কারণ  ভ্রমণ ছাড়া এ মন পাখনা মেলতে জানেনা।

শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৪

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।।ডিসেম্বর সংখ্যা।। ।।শীত বিষয়ক কবিতা / ছড়া— ১৫।। শীতের ছড়া —দীনেশ সরকার।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



। প্রতিদিন বিভাগ।। 

।।ডিসেম্বর সংখ্যা।। 

।।শীত বিষয়ক কবিতা / ছড়া— ১৫।।




শীতের ছড়া

দীনেশ সরকার 

 

শীত এলে যে লাগে ভালো

খুশি-মজায় ভরা

সোয়েটার আর লেপ-কম্বলে

শীতের আমেজ করা।

 

শীত সকালে খেজুর রসে

মন মজে যায় ভাই রে

নলেন গুড়ের নাড়ু-মোয়া

কোন্‌ ঋতুতে পাই রে!

 

দলবেঁধে যে পিকনিকে যাই

করি কত হৈ-চৈ

ঠিক চলে যাই বই-মেলাতে

কিনতে সব মজার বই।

 

হাড়-কাঁপুনে আসুক না শীত

শুনি না তো মানা

ঘুরতে যাই যে ভিক্টোরিয়া   

আর চিড়িয়াখানা।   

 

ময়দানেতে সার্কাস তাঁবু

পড়ে যাদি ভাই রে

ছোট-বড় সবাই মিলে

দেখতে যাওয়া চাই রে।

 

পিঠ পুড়িয়ে মিঠে রোদে

খাই যে পিঠে-পুলি

আনন্দে তাই যায় কেটে যায়

শীতেরই দিনগুলি।  

বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৪

। প্রতিদিন বিভাগ।। ।।ডিসেম্বর সংখ্যা।। ।।শীত বিষয়ক কবিতা / ছড়া— ১৩।। শীতের স্বগত স্বর — তপনজ্যোতি মাজি।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।




। প্রতিদিন বিভাগ।। 

।।ডিসেম্বর সংখ্যা।। 

।।শীত বিষয়ক কবিতা / ছড়া— ১৩।।



শীতের স্বগত স্বর

তপনজ্যোতি মাজি


কী ভীষণ শীত ছুঁয়ে যায় একান্ত নির্জনে! যেন

হারিয়েছে প্রিয় বর্ণমালা। যুক্তাক্ষর। সংখ্যতীত

সংবাদ শিরোনাম। তোমাকে বলতে পারেনি স্বর।

তোমাকে লিখতে পারেনি অক্ষর। বিপন্ন অধ্যায়

পার হয়ে আরও বিপন্নতর হয়েছে সময়।


হিম ওষ্ঠে পড়ছে রজতাভ রোদ্দুরের রশ্মিকণা।

কিছুই হারায়-না। কিছুই লক্ষ্যহীন নয়। আগুনের

গর্ভে কেন খোঁজ শৈত্য-সংহতি? দিনের আলোর

পাশে নিশীথের নৈঃশব্দ্য লেখে মন। ভালো থেকো

সুখ। ভালো থেকো দুঃখ। ভালো থেকো পঞ্চম

প্রবাস।


তোমার ঠিকানায় শীত কি পুষ্প-সমারোহ? কী

নিঃশব্দে এখানে খসে পড়ছে উন্নতশির বৃক্ষগুলির পর্ণপোশাক। তোমাকে এই শীতে পশম-হাউসকোটে

দেখবে বলে লিখেছে তোমার প্রেমিক। কেন যে

আগুনের মধ্য দিয়ে হেঁটে যেতে চায় আমার সমস্ত


অক্ষর? কেন মনে হয় সব কলরব পার হয়ে অন্য এক শীত-ভূখণ্ডে পৌঁছে যাবো। মন দিয়ে শুনবো শীতের স্বগত স্বর।


______________________

বুধবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৪

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।।ডিসেম্বর সংখ্যা।। ।।শীত বিষয়ক কবিতা / ছড়া— ১২।। শীতের এলিজি — দীপক বেরা।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।




। প্রতিদিন বিভাগ।। 

।।ডিসেম্বর সংখ্যা।। 

।।শীত বিষয়ক কবিতা / ছড়া— ১২।।



শীতের এলিজি

দীপক বেরা 


উড়ানের ছুটি পেয়েছে ওরা খাঁচা ভেঙে 
নবান্নের ধান মুখে নিয়ে পায়রাগুলো 
উঠোনময় খুঁটে খুঁটে চাল খায়
দুধসাদা ভাতের গন্ধ উড়েছিল একদিন 
ভাতের উৎসবে—আনন্দ আয়োজনে
শীতের ওম নিয়ে কালের অধিক কেটে গেছে 
খাল দিয়ে বয়ে গেছে শীতের শিশিরের জল
এখন আঁতুড়ঘরে বসেছে ঘুঘু
নীল চোখে ডুব দেয় প্রতিহিংসার ছায়া 
তবু ক্ষত নিয়ে বাটখারা দিয়ে জীবন মাপে 
মানুষের মতো কিছু স্বপ্ন দেখা প্রাণি
গ্রামের প্রাচীন বুড়োশিবতলার মন্দিরে
ভাঙা ইটের গাঁথুনি ঘিরে বটের ঝুরির 
দীর্ঘ চিঠি এখনও পড়েনি কেউ 
উদাস বাউলের বুকের একতারা সুর
নকশী-কাঁথা আঁকা ছিল ধুলোর নিঃশ্বাসে
শীতের হিমেল সকালে শিশিরের জল
আয়নার মতো ভেঙে গড়িয়ে গেছে নিচে
কুয়াশায় পাহাড়ের ঢালে ঝাপসা দার্জিলিং
পশমিনা শরীর, টকটকে লাল কার্ডিগান
রাঙা ঠোঁটের ফাঁকে কমলালেবুর কোয়া
প্রেমিকার রহস্য মদির চোখের পূর্বরাগ 
মন মনান্তরে আদি-অনাদি প্রেমের 
অন্দরমহলের সে এক জাদুকরী বাহাদুরি
হাজার ব্যস্ততার ফাঁকে পাহাড়ী উত্তাপে
কত অবসর দিন কেটে গেছে সেই ভরসায়
আজও শীত এলেই জেগে ওঠে— 
ভোরের শিশিরের অন্তঃসলিলার স্রোত
বেজে ওঠে গীর্জার ঘণ্টা... 
পুরুষোত্তমের দেখা চাই, ঠিক বড়দিনে

মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৪

প্রতিদিন বিভাগ।। ।।ডিসেম্বর সংখ্যা।। ।।শীত বিষয়ক কবিতা / ছড়া— ১১।। শীতের ভোর — অশোক ব্যানার্জী।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।




। প্রতিদিন বিভাগ।। 

।।ডিসেম্বর সংখ্যা।। 

।।শীত বিষয়ক কবিতা / ছড়া— ১১।।



শীতের ভোর 

অশোক ব্যানার্জী


বৃষ্টি ভেজা শীতের ভোর

ঠক্ ঠকাঠক কাঁপছি ঘোর

ধোঁয়া ওঠা গরম চায়ে

মাঝে মাঝে চুমুক দিয়ে

পাচ্ছি আরাম পাচ্ছি বেশ

তিন কাপ চা নিমেষে শেষ।

জাঁকিয়ে শীত পড়বে এবার

সময় এবার পায়েস পিঠার!

আশায় আশায় থাকছি তবে

গিন্নী পায়েস করবে কবে।

নলেন গুড়ের সন্দেশও

ডাকছে দেখি আমাকেও।

শীতটা পড়ুক জমিয়ে আরো

তখন আমার পোয়াবারো

পায়েস,পিঠে, গুড়ের মোয়া

ইচ্ছে মতন তখন খাওয়া !

                    

সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৪

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।।ডিসেম্বর সংখ্যা।। ।।শীত বিষয়ক কবিতা / ছড়া— ১০।। শীতের ছোঁয়া — সঞ্চালী রায়।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।




। প্রতিদিন বিভাগ।। 

।।ডিসেম্বর সংখ্যা।। 

।।শীত বিষয়ক কবিতা / ছড়া— ১০।।




 শীতের ছোঁয়া 

সঞ্চালী রায় 

হিমেল হাওয়া বইছে দেখো
ওই যে মাঠের পরে,
শিশির ভেজায় গাছের পাতা
দূরের খড়ের ঘরে।
 
রঙিন রঙিন ফুলের শোভা
ছড়িয়ে আছে গাছে,
গাছের শাখায় ভ্রমর উড়ে
বসছে ফুলের কাছে।

রোদের ঝিলিক পড়ছে দেখো
দীঘির জলের মাঝে,
পাড়ার ছেলে খেলছে এসে
সকাল বিকাল সাঁঝে।

মাটির হাঁড়ির বাঁধন লাগে
খেজুর গাছের গায়ে,
চলতি পথেই দেখতে গিয়ে
চুমুক লাগায় চায়ে।

খেজুর রসের নেশায় মাতে
গ্রামের মাটির ঘ্রাণে,
বুকের ভেতর আবেগ জমে
সোহাগ লাগে প্রাণে।

রবিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৪

প্রতিদিন বিভাগ।। ।।ডিসেম্বর সংখ্যা।। ।।শীত বিষয়ক কবিতা / ছড়া— ৯।। শিরিন — জীবন সরখেল।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।




। প্রতিদিন বিভাগ।। 

।।ডিসেম্বর সংখ্যা।। 

।।শীত বিষয়ক কবিতা / ছড়া— ৯।।




শিরিন

জীবন সরখেল 

ধূর্ত পেঁচা হেমন্তের অন্ধকারে ছদ্মবেশী গিরগিটি বা ব্যাঙেদের বানাতে চায় রোজ শিকার 
পোকামাকড় খাওয়া রক্তাল্পতায় আক্রান্ত সরীসৃপেরা ঋতু বদলে তবু করতে চায় শুষির যোজন!
বেড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধা প্রত্যয় যদিও দখলে রাখতে চায় সুবিধাজীবি শ্রেণী;
আর এক কাপ চায়ের প্রত্যাশায় বসে থাকা সকাল আজও মানুষের ছদ্মবেশে কেবল মানবতার অপেক্ষা করে.....
দিনবদলের হাতছানি তাই চোরাগোপ্তা অসময়ের গ্লানি ভোলাতে নিয়ত বুনে যায় কিছু সবুজ সতেজ স্বপ্ন.... 

শনিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৪

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।।ডিসেম্বর সংখ্যা।। ।।শীত বিষয়ক কবিতা / ছড়া— ৮।। নিঃসঙ্গ ফুটপাত— অজিত দেবনাথ।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।




। প্রতিদিন বিভাগ।। 

।।ডিসেম্বর সংখ্যা।। 

।।শীত বিষয়ক কবিতা / ছড়া— ৮।।




নিঃসঙ্গ ফুটপাত

অজিত দেবনাথ


শীতের রাতে উষ্ণতার ওমে মুড়ি দিয়েছে শহর, রাজপথ, ঘরবাড়ি এমনকি ল্যাম্পপোস্টও

কনকনে ঠান্ডায় নিস্পন্দ ফুটপাতে

একরাশ হতাশা নিয়ে এক নিঃস্ব পথিক জেগে থাকে

নৈঃশব্দ্যের প্রহরীর মতো

ছেঁড়া কম্বলের ভিতর হাড়-জমানো শীত

তীক্ষ্ণ ঠোঁটে সারা শরীরে হাত বুলিয়ে দেয়

শীতের আশ্চর্য সলতে নৃশংস কসাইয়ের মতো একটু একটু করে পথভোলা পথিকের বুকে জীবনের  দিনলিপি এঁকে যায়

কুণ্ডলী পাকানো শরীর তর্জনীরেখার মতো দু’হাত উপরে তুলে কিছু একটা বলতে চায়

হয়তো  নগ্ন জীবনের উল্লাসের আর্তনাদ

না-হয় কোনো নির্লিপ্ত মন্ত্রোচ্চারণ

জীবন কি বেঁচে থাকে এই  কোঁকড়ানো কাতরতার ভিতরে?

 নিথর চোখে নীরবতা চুপ করে শুয়ে থাকে

আর বুকের ভিতরে ফুটে উঠে এক অজানা অমৃতসুধা

মুহূর্তে স্বেচ্ছাচারী ফুটপাত পথিকের ওলোটপালোট কঙ্কালসার দেহ এঁটোপাতার মতো

জড়িয়ে ধরে

ধীরে ধীরে অনাশ্রিত জটিল জীবন স্রোতের মধ্যে ভেসে ওঠে এক চিলতে রুগণ নীল সুখ

রাজপথ যখন গভীর ঘুমে আক্রান্ত

ফুটপাত তখন একাই অসীম ছায়াপথে চলমান নীরবতার মহাকাশে বৌদ্ধিক চেতনায় মহাজীবনের সলতে বুনতে থাকে।