লেবেল

জায়মান জীবন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
জায়মান জীবন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২২

শুধু কবিতায়... জায়মান জীবন -৩৫।। বিমল মণ্ডল।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



জায়মান জীবন -৩৫

বিমল মণ্ডল 


১.

সময় আসবেই

আমারও সময় আসবেই

প্রতিটি দিন ভাগ করে নেওয়ার

অজস্র আলোর সন্ধানে 

মায়ের হাতে সকাল বিকাল ইতিউতি সারা

উঠোন ভরে  আদর  ছড়িয়ে হরেকরকম 

আমি তখন সবার মতো সারা দুপুর 

পাশে পাশে থাকবই 

রোদ উঠবেই

ভালোবাসা থাকবেই। 

ঠিক আমারও সময় আসবেই 

দারিদ্র্যতায় বেড়ে ওঠা

মায়ের কান্না দেখে 

আঁচল আঁকড়ে থেকেছি বহুরাত

সে সময় অনেক ব্যথা 

এখনো এই ঘরের লম্বা মেঝেতে 

স্মৃতি চিহ্ন লেগে

মা তো আমার আসবেই

সবাই প্রাণভরে তা দেখবেই

মা দু'হাত তুলে আশীর্বাদ করবেই

ভোরের দরজা ঠেলে মা আসবেই


আমরাও তো সেই সময় আসবেই।




২.

হাত

তুমি বলেছিলে, আমাদের দুই জনের হাত 

এক হবে মধ্যরাতে


যখন সবাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকবে

ঠিক সেই সময় চিনে  হাত এক করে নেব

আবার সকাল হলে, যে যার হাত নিজের কাছে

রেখে মহানন্দে ঘুরে বেড়াই

অথচ সন্ধ্যা হলে অজস্র হাতের থেকে 

তোমার ও আমার হাতে আসা 


সম্পর্কগুলো  ভাগ করে নিই মধ্যরাতে।












*পাঠকের আপনজন*  *অঙ্কুরীশা সাহিত্য পত্রিকা* 
--------------------------------------

🙏🙏লেখা আহ্বান🙏🙏


 

সারা ফেব্রুয়ারি মাস জুড়েই প্রকাশ পাবে "একুশের ভাষা" বিষয়ক গদ্য ও পদ্য। আপনার পদ্যে ও গদ্যে উন্মোচিত হোক বাংলা ভাষা প্রেম।তাই  অঙ্কুরীশা-র  পাতায় আজই লিখে ফেলুন —"একুশের ভাষা"  বিষয়ক কবিতা  কিংবা  গদ্য।
 



✍🏾✍🏾 অঙ্কুরীশা ই ম্যাগাজিনে শুরু হবে প্রতিদিন বিভাগে "একুশের ভাষা''   বিষয়ক  গদ্য ও পদ্য 

✍🏾এই পর্বে  দুটি করে কবিতা অথবা ১টা গদ্য পাঠাবেন।  

✍️✍  মেল বডিতে (অভ্র অথবা ইউনিকোড) টাইপ করে পাঠাবেন। 

🙏এই বিভাগের  লেখা   মৌলিক ও অপ্রকাশিত হতে  হবে।
🙏কোন প্রকার ছবি বা পিডিএফ ফাইল গ্রহণ যোগ্য নয়।

 🙏এই বিভাগে  আপনার মৌলিক ও অপ্রকাশিত লেখা কিনা উল্লেখ করে দেবেন। 


✍🏾 এই পর্ব চলবে ১লা  ফেব্রুয়ারি ২০২২ থেকে  ২৮শা  ফেব্রুয়ারিত ২০২২  পর্যন্ত। 

👇🏾আপনি আপনার  'একুশের ভাষা'   বিষয়ক   দুটো কবিতা  কিংবা একটা গদ্য আজই মেল করুন👇🏾
ankurishapatrika@gmail.com

✍️🙏আপনার এই পাঠানো  লেখাটি অঙ্কুরীশা-য় সম্মানের সাথে প্রকাশিত হবে। 

✍🏾 'একুশের ভাষা' বিষয়ক মুক্ত গদ্যও লিখে পাঠাতে পারেন। 
✍🏾 মুক্ত মনে লিখুন "একুশের ভাষা " বিষয়ক গদ্য কিংবা পদ্য। এর জন্য কোন লাইন সীমা নেই। 

নমস্কার। 
ভালো থাকুন। 
সুস্থ থাকুন। 

 সম্পাদক, 
অঙ্কুরীশা

শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২২

শুধু কবিতায়... জায়মান জীবন -৩৪ ।। স্মৃতি শেখর মিত্র।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



জায়মান জীবন -৩৪

স্মৃতি শেখর মিত্র


             

জায়মান জীবন

সারাটা জীবন তুমি লুকিয়ে গেলে
নিজেকে নিজের কাছেই লুকিয়ে গেলে
ভালোবসার মানুষজন থেকে দূরে সরে 
গেলে, দৃশ্যমানতা থেকে দূরে সরে গেলে
কোন এক নীহারিকা পুঞ্জের মাঝে।

যাবতীয় সম্পর্কের থেকে, প্রিয়জনদের থেকে, না পাওয়া অনেক আনন্দ থেকে
ভয় মিশ্রিত এক ভবিষ্যতের পথ ধরে।
কিঞ্চিৎ আসক্তিমাখা দূরভাষ থেকে
ভেসে আসা কণ্ঠস্বরকে এড়িয়ে গেলে।
জীবনের সাথে এক নিষ্ঠুর খেলায় 
মেতে চলেছে তোমার জায়মান জীবন
গভীর এক শূন্যতার গর্ভে।








বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২২

শুধু কবিতায়...জায়মান জীবন-৩৩।। ত্রিপর্ণা ঘোষ।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




জায়মান জীবন-৩৩

ত্রিপর্ণা ঘোষ




চলার পথে


পাহাড়ী নদী বরাবরই আকর্ষণ করেছে;

চঞ্চল কিন্তু বুকে তার এগিয়ে যাওয়ার দুঃসাহস।

নিজ ভঙ্গিতে বয়ে চলে সে।


বছরের পর বছর ধরে শ্যাওলা জমছে পাথরে।

স্মৃতিরা আচ্ছাদিত করেছে নিজেদের;

জলস্রোত আঘাত করেছে বরাবরই।

অথচ ফিরেও তাকাইনি নদী একটা দিনও।


নতুন বরফের স্তুপ জমে চলেছে পাহাড় চূড়ায়,

অদৃশ্যে দ্রবীভূত হচ্ছে নদীগর্ভে।

আর নদী,সে তার যুবতী রূপ নিয়ে বুক ফুলিয়ে এগিয়ে চলছে সামনে।


প্রেমে বেঁধেছে নদী পাহাড়কে কেবল রূপের মায়ায়, হয়েছে সর্বসুখের ভাগীদার;

নদিগর্ভের পাথরটা নিঃশব্দভাবে আজও ভালোবেসে চলেছে নদীকে।


পাহাড় নদীর গল্পটা এভাবেই চলছে যুগ যুগ ধরে।

পাথর তার সবটুকু ক্ষমতা দিয়ে লুকিয়ে রেখেছে অদৃশ্য যন্ত্রনা।

সুখ,দুঃখের হিসেবের সমতা রেখে চঞ্চল নদী ঠিক চলেছে নিজ পথে, নিজ ছন্দে।।








বুধবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২২

শুধু কবিতায়...জায়মান জীবন -৩২।। বিকাশরঞ্জন হালদার।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



জায়মান জীবন -৩২

বিকাশরঞ্জন হালদার 




জ্বলন্ত-জোয়ার 



ছায়ার গায়ে লেগে থাকে, একলা ঘুমের বিজন-পাঁজর। মুগ্ধ-পিপাসা এক-মুহূর্তের ঘোর ডেকে আনে। প্রাত্যহিক  জ্বলন্ত-জোয়ার

দৃষ্টির আবেগে খেলাকরে মসৃণ‐সুবাস। আর 
নিজে হাতে বাসনা সাজায়

                                  একান্ত-সময় ...









শুক্রবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২২

শুধু কবিতায়... জায়মান জীবন -৩১।। দীপক বেরা।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



জায়মান জীবন -৩১

দীপক বেরা




ধ্যানমুদ্রা


দু'হাতের শিকল দিয়ে বেঁধে রাখি অন্তর্মুখী স্রোত
রিক্ততার মরা ঘাসে, গুল্মে তবু দোলা লাগে
স্নায়ুতন্ত্রের গোপন বাড়িতে উন্মাদ পাখিদের গুঞ্জন 
মৌমাছিরা উড়ে এসে ঠোঁটের ফাঁকে মধু ঢালে
যেন পৃথিবীর আশ্চর্য প্রেম এসেছে এখানে।

বেণুবনে আলো-আঁধারিতে আগুনের ফুলকি
চুলের মত সূক্ষ্ম, অথচ কী ভীষণ তীক্ষ্ণ 
অন্ধকারে ধোঁয়ার ভিতর জ্বলে তুষের আগুন 
সেঁকা হয় ঘামে ভেজা বিছানা-বালিশ
নিয়তির অজস্র বাঁকে কেবল দুরূহ কোণের সমাহার 
সমান্তরাল প্রেমের কোনো গল্প নেই সেখানে
রূপকথার শীর্ণ নদীতে তখন উন্মাদ রোদন
সুখ-বাষ্প উড়ে গেলে চাঁদের ক্ষরণ থেকে অশ্রু নামে 
বিছানার পাশে তার হাত-আঙুলেরা কোথাও নেই.. 

মধ্যরাতের ফুটপাতে নেড়ি কুকুরের তীক্ষ্ণ চিৎকার 
লোভী বিড়ালের গভীর ধ্যানমুদ্রা ভেঙে যায়! 











বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২২

শুধু কবিতায়...জায়মান জীবন -৩০।। স্বপন কুমার নাগ।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।





           

জায়মান জীবন -৩০

স্বপন কুমার নাগ



মারণ-যজ্ঞ

                              


এইমাত্র যজ্ঞ সেরে উঠে গেছে পুরোহিত...

মারণ-যজ্ঞের সব আয়োজন‌ই ছিলো প্রায় সম্পূর্ণ

কবিতার খাতায় শব্দ জপ ক'রে কবি আজ ক্লান্ত

ঘুমোনোর আগে কিছু হিসেব বাকী রয়ে গেছে

তেমন কোনো গরমিল বুঝে ওঠার আগেই-

ছিন্ন হল সম্পর্কের গভীর শিকড়...


মুমূর্ষু-ঘাসের ডগায় আলপনা এঁকে যায় ভোরের শিশির;

চুঁইয়ে পড়া বিন্দুজলে নেই আর তেমন কোনো 

আদুরে ঘ্রাণ...

ইচ্ছেগুলো আঁক কষতে কষতে হারিয়ে যায়-

অনুর্বর আকাঙ্ক্ষার উদাসীন অঞ্চলে...


এখনো মনের ভেতর খুঁজে বেড়াই জীবনের রঙমশাল;

ধূসর চিন্তায় বসতি গড়ে বিবেকহীন হৃদয়ের বাদ্য

সময় আর তেমন করে ধরা দেয় না সবার অলক্ষ্যে;

হারিয়ে গেছে কণ্ঠের মিহি-সংলাপ,চতুর বিন্যাসে;

যন্ত্রণা পোষ মানে গুটিগুটি, না বলা কথার বাঁকে;  

তবুও হাতড়ে বেড়াই পোষা দুঃখ,কবিতার পাতা জুড়ে।

অনেক না পাওয়ার মাঝে ইচ্ছেগুলো ধুঁকতে থাকে-

আটপৌরে মানসিকতার বদ্ধ বেড়াজালে...


স্বপ্নের শবযাত্রায়,পরমযত্নে লালন করা সুপ্ত বাসনা

আজও জড়ো হয়,রাতের প্রতীক্ষায় নত হয়ে...














শুধু কবিতায়... জায়মান জীবন -২৯ ।। বৈদ্যনাথ চক্রবর্তী।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




জায়মান জীবন -২৯

বৈদ্যনাথ চক্রবর্তী




জীবন বড়োই আহ্লাদের


১.

বন্ধন যত, সম্মোহন তত।

গেরো যত, ফের-ও তত।

লব্জ যত, কর্জও তত।

এই জীবন---বড়ো আহ্লাদের, বড়োই আদরের।


একে কে ছেড়ে যেতে চায়---কেউই নয়!

সকলেই ভাবে আরও ক'টা দিন বাঁচি;

মনে মনে ভাবে : ক'টা দিনই বা বাঁচলাম!


মনে মনে আরও ভাবে জীবনের চারিপাশে

ছড়ানো মায়াবী এই পৃথিবীকে কতটা বা চিনলাম!

কতটুকু জানা, বোঝা, ভাবা সম্ভবপর হল!


এই তো শেষপর্যন্ত চলে যেতে হবে।

যাওয়ার আগে যত রস চেটেপুটে খেয়ে নিই।

খেতে গিয়ে অবশ্য কেউ কেউ বিপাকেও পড়ে,

কেননা, রসও তো বিবিধপ্রকার!


সব রসই যে মিষ্ট হবে, সে নিশ্চয়তা নেই।

তিক্ত, কটু, কষায়, ঝাল, টক, লোনা---

রসের রকমফের আছে।


মিষ্ট ভেবে খেতে গিয়ে অন্যবিধ রসের আস্বাদ

কেউ কেউ তো পেয়েছে---আর, তখনই জীবনটি,

তার কাছে আর, মিষ্ট থাকেনি।


এহ বাহ্য, এতসব বিপত্তির সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও

বন্ধন-গাঢ়-গূঢ় এই জীবনটিকে আমরা সকলেই

ভালোবাসি---এই রসালো জীবনে ওতপ্রোত জড়িয়ে

এতে অবগাহন করতেই চাই, বক্রী জীবন...




.

দিবস এসেছে, জীবন গড়ালো

নিশীথ নেমেছে, জীবন ঘুমালো

সূর্য উঠেছে, জীবন জেগেছে

সূর্য ডুবেছে, জীবন সুষুপ্ত...


সোমকলা ওঠে, কল্পনা ভাসে

চাঁদ ডুবে যায়, কল্পনার ছুটি

রৌদ্রফলা জাগে, রংটিও ফোটে

নামছে ঐ ছায়া, রংটি তো নেই...


আন্ধার জাগে, রহস্য ঘনায়

আন্ধার ঘোচে, রহস্যটি কই ?

বর্ষাঋতু আসে, প্রাণটি যে বাঁচে

বর্ষা ফুরায়, প্রাণে ঘুম নামে...


জলধারা ছোটে, নদী স্রোতস্বিনী

জলধারা থামে, নদীও শুকায়

আলো ফুটে ওঠে, চোখজোড়া জ্বলে

অন্ধকার আসে, চোখেরা ঘুমায়...


হাওয়া বহে যায়, গাছটিও দোলে

হাওয়া থেমে যায়, গাছটিও থির

মাটি যে নরম, অঙ্কুর জাগে

মাটি যে কঠিন, অঙ্কুর কাঁদে...


অগ্নিদেব জ্বলে, কাঠগুলো পোড়ে

অগ্নিলা নেবে, ছাইফাই ওড়ে

ঝড়ো হাওয়া ওঠে, ঢেউগুলো ফোঁসে

ঝড় থেমে যায়, ঢেউ নম্র হয়...


নক্ষত্রেরা জাগে, আকাশের সাজে

নক্ষত্রেরা মোছে, আকাশ নীলিমা

মেঘগণ আসে, বীজের প্রত্যাশা

মেঘশূন্যতায় বীজের প্রতীক্ষা...


শব্দেরা জাগে, ধ্বনিগুলি শুনি

শব্দেরা থামে, ধ্বনিও নিশ্চুপ

বিজলি ঝলক, প্রাণটিও ত্রাসে

বিজলি পালায়, ত্রাস মুছে যায়...


বন্ধুগণ আসে, কথাসুখ পাই

বন্ধুহীন হই, কথারা হারায়

বিপদার্ত হলে মাতৃনাম জপি

নিরাপদে আছি, হায়, মা-কে ভুলে যাই...











বুধবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২২

শুধু কবিতায়...জায়মান জীবন -২৮ ।। হীরক বন্দ্যোপাধ্যায় ।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





জায়মান জীবন -২৮

হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়



নিরভিমান



এক মুহূর্ত্ত কেমন করে কাটিয়ে দিলাম
কেমন করে বুঝতে হলো মৃত্যু এত বিষম শীতল
চোখ মেলেনা চোখ মেলেনা, আমার মতোই
নিরভিমান ...আজও আমায়
শিখিয়ে দিল চিরটাকাল অনন্তকাল
বরফ বরফ ,বুকের খাঁচায় রাখলে পরে গলতে পারে
চুল ভিজিয়ে বেণী বাঁধায় অসৎলোকে ...

হাত ধরলাম, হাত ছাড়লাম শুদ্ধ নি  তে গান গাইলাম
তুমি এমন কৃপণ কেন,জীবনটা যে এক মুহূর্ত
বুঝিয়ে দিলাম মর্তলোকে ...

এখন একটু বসি তোমার ছায়ায়,যদি অনুমতি দাও
চোখ মেলে চাই,তোমার সঙ্গে এক মুহূর্ত্ত
কাটিয়ে গেলাম
শুধু হাতের উপর হাত রেখোনা , নিরভিমান ...














শুধু কবিতায়... জায়মান জীবন -২৭।। অশোক রায়।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




জায়মান জীবন -২৭

অশোক রায় 




জায়মান জীবন 

১.
ভোরের পাতায় কে আঙুল ছোঁয়ায়
আর চায়ের পেয়ালায় ঠোঁট গোলাপ হয়ে ফোটে
দিগন্ত হতে আসমানে বালুচরে
পাখিদের অলস কাকলি সনে
নির্ভার মেঘমুক্ত মন নতুন আখরে
সৃষ্টি করে  নতুন জীবনের পাণ্ডুলিপির দ্বাবিংশ আখ্যান।

রাত নিভে গেছে 
রাতজাগা গানের ফোঁটাগুলি
জমা নলেনের কলসিতে
জমাট শিখরে রক্তরাগ
এখুনি শুরু হবে গাড়িঘোড়া মানুষের আনাগোনা
অপছন্দের রোজনামচা শুরু হবার আগেই
চোখ ফোটার আগেই চলো নেমে পড়ি...।

                                             





২.

ধুলো উড়ছে বাজি ফাটছে উত্তপ্ত কথার তরবারি
কোভিদের বনে কে কার কথা শোনে
মৃত্যু -মিছিলে যাবার অন্তহীন হুড়োহুড়ি

ট্রেন ছুটছে আমার পাশে মণিহারার মণিমালা
অন্ধকার কামরা জুড়ে ডেল্টা ক্রনের ল্যাব
ছায়ার সাথে যুদ্ধ করে এখন আমরা পরাধীন 

জীবনের জারক রসে মহাসাগর তৃতীয় ঢেউ
ফিরে চলো সে আদিম অরণ্যে
যখন ডাইনোসরেরা আসেনি...।














                               

মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২২

শুধু কবিতায়...জায়মান জীবন -২৬ ।। ফটিক চৌধুরী।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




জায়মান জীবন -২৬

ফটিক চৌধুরী




১.
নিরুপায়

ধ্যানমগ্ন হয়ে বসে আছি ঘরে
আমার চারদিকে চারটি দেয়াল
দরজায় কেউ রেখে গেছে কাঁটা ?
শুধুই রক্তক্ষরণ মনের ভেতর !

জটায়ুর দুঃখ নিয়ে কাটাই জীবন
সংক্রমিত অনেকে, হতও কম নয়
মৃত্যুর পাশে শুয়ে আছে জীবন
তারপাশে পড়ে থাকে নীল দীর্ঘশ্বাস।

অনন্তের দিকে ছুটে চলেছে যারা
তাদেরকে পথভ্রষ্ট বলে যদি কেউ
আমি বাজি ধরে বলে দিতে পারি
তাদের হিসেবে আছে বেশ গরমিল।

বিকেলের সূর্য সন্ধ্যার দিকে ধায়
ধ্যানমগ্ন বসে আছি আমি নিরুপায়।

 


২.
গন্ধ


রাত্রিকে ভীষণ বকে দেব বলে
নিজেই লুকিয়েছি অন্ধকারে
নিজের ঠিকানা কতবার হারিয়েছি
ডাকবাক্স তাই শূন্য পড়ে থাকে।

এখন সবাই একা, ডাকবাক্সের মত
পড়ে আছি একধারে কিসের অপেক্ষা
জীবন দ্রুতবেগে চলতে চলতে হঠাৎ
থেমে গেল, ও পাশে কি কাঁটার বেড়া?

সীমা ছাড়িয়ে গেছে নিজের সীমানা
দ্যুতি তার হারিয়েছে সব উজ্জ্বলতা
জীবন চলে না ঠিক জীবনের মত
কারো কাছে কোনদিন পাব না উত্তর।

মানুষের শরীরে থাকে মানুষের গন্ধ
শুঁকলে কেন তবে আঁশটে গন্ধ পাই!










সোমবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২২

শুধু কবিতায়...জায়মান জীবন -২৪ ।। দেবাশীষ মুখোপাধ্যায়।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





জায়মান জীবন -২৪

দেবাশীষ মুখোপাধ্যায়



অন্ধকারের পাশে দাঁড়িয়ে আছে জীবন 


অন্ধকার থাকেই
তার বুক চিরে এক আলোও থাকে
জীবন জানে সে প্রতীক্ষা
আশার কাঁপন দিয়ে সাজানো সে পথ

জীবনখেকো সময় বার বার মাথা তুললে
সজাগ আবেগের সতর্ক চলা
সে বেশ কষ্টের যাওয়া
নিজেকেই যেন নিজের থেকে আলাদা করে রাখা

রাস্তায় শুয়ে থাকা পাগলটা ও সব বোঝে না
দু মুঠো ভাত চায় রোজ
তার কাছে জীবন মানে রাস্তা বদলানো
অন্ধকারের বুক চিরে আসা আলোয় সাজে তার ফুটপাত প্রতিদিন



















শুধু কবিতায়... জায়মান জীবন -২৩ ।। সৌম্য ঘোষ।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



জায়মান জীবন -২৩

সৌম্য ঘোষ



বর্ম

 

কান্না নয়

হাসি নয়

কোনো আবেগ নয়

শুধুই এক পোশাকি বর্ম -

বাইরে যতই দুর্ভেদ্য,

ভেতরে যেন হরপ্পা-মহেঞ্জদারো

 

এক অসম লড়াই,

সব শেষে নিজের সাথে

 

একা একা ঘরে ফেরা

বর্ম ছেড়ে জড়িয়ে নেওয়া

নিশুতি রাতের চাদর,

গুলিয়ে ওঠে

সারাদিনের জমা অসহায় ক্লান্তি

- ক্লান্তি ক্ষান্ত করে না,

বাড়িয়ে দেয় না করা আক্ষেপ

এগিয়ে দেয় আরো একটা দিন








রবিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২২

শুধু কবিতায়...জায়মান জীবন -২২ ।। সুদীপ কুমার চক্রবর্তী।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



জায়মান জীবন -২২

সুদীপ কুমার চক্রবর্তী




রৌদ্রলিপি  


রোদ্দুরের মাহাত্ম্য জানতে আরও  একটা নিপাট দিনের মধ্যে মিশে যেতেই 
আমাকে স্বাগত জানালো নীল শাড়ির মেঘপরির দল।
আশ্চর্য হয়ে লক্ষ্য করলাম এরা ঠিক তোমারই মতো উড়ে বেড়ায় সন্দিহান মেঘের আড়ালে।
নিঃশ্চল নিঃস্তব্ধতায় হঠাৎ আরও ভাবুক হয়ে আমাকে ডেকে নেয় লাজুক ইশারায়।
নীল শাড়ির আঁচলে রামধনুর কারুশিল্প আমাকে বেশ ধন্ধে রাখে।
আবেগের বাষ্প জমতে জমতে যখন ধূসর হয়ে যায়  মেঘপরির মুখ - তখন আমার মধ্যে এক অকারণ বিষন্নতা জেগে ওঠে।
কেন যেন মনে হয় রোদ্দুরের অভিমানে যদি এই ধুসর মেঘমালা গোপনে দু চার ফোঁটা অশ্রু ঢালে
 সেটা কি তবে আমার প্রেম-স্মরণিকার না এই গহন শূন্যতায় বিরহের  একবুক হাহাকার!








শুধু কবিতায়... জায়মান জীবন -২১।। তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




জায়মান জীবন -২১

তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য 



১.

প্রতিদিনের স্নান 

        
    
 সদ‍্য  স্নান সেরে উঠেছি।
ভিজে জামা কাপড়ের  গ্লানি 
ঐ তো কুন্ডলী পাকিয়ে পড়ে রয়েছে। 
টানটান করে মেলে দেব এ জীবন 
সূর্যের  আগুনে ধৌত মনন।
চরাচরে মেতে ওঠে সুখ পাখি 
মানুষ আমরা  মাংসাশী সুখে চরম দানব।
জীবাণুর  ক্রমবর্ধমান হাত নাগরিক মিছিলে।
মৃত্যুর নিঃশব্দ দামামা বাজে রুগ্ন পৃথিবীর চরণে।
এখনো প্রদীপের সলতে যথেষ্ট আলো দেয়।
গভীর সঙ্গম জ্বরে  যখন ডুবে যাই দুজন 
লজ্জাবতী লতার মতো নুইয়ে পড়ি 
 যদি হঠাৎ  চোখ পড়ে সমুখের আয়নায়।
এ জীবন বহমান স্রোত মুহূর্ত ভ্রুণ জন্ম মায়াময়।




২.      
অভিমানের লাশ
             
    
কী বা ছেড়ে  কী যে গড়ি বলো?
পড়ে আছে অভিমানের লাশ।
শ‍্যামলা সুফলা জমিতেই পুকুর খনন করেছি।
আমি  রোজ রাতে হলুদ সর্ষে ফুলের কান্না শুনি।
শুনি মেঠো ইঁদুরের,পাখিদের মাঠ খুঁটে খাওয়া 
সাপেদের গোপন বাসার হাহাকার রোদন। 
যখন পুকুর পাড়ে এসে দাাঁড়াই   
জীবন কে খুব  গভীরে  খুঁজে পাই।
তালগাছ নারকেল গাছ আত্মমর্যদায় সুঠাম।
মাছরাঙার ধূর্ত চোখ, দেখি হাঁসেদের  শরীরী সুখ
আমার ইচ্ছে বাড়ির ঘরকন‍্যাতে যাকিছু বিনষ্ট করি
নতুন বাসনপত্র কিনে ভুলে যাই প্রাচীন শোক।
আবর্তন শুধু পৃথিবীর নয়।
ঘোরে মনের ভেতর অজস্র মন কত শত ইচ্ছে বুনন






শনিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২২

শুধু কবিতায়...জায়মান জীবন -২০।। অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।





জায়মান জীবন -২০

অরিন্দম চট্টোপাধ্যায় 




 জীবন


চোখের পাতার ভেতর কৃত্রিম ভালবাসা

বুকের ভেতর কোন সবুজ পাতা নেই

অরণ্যমেঘ উড়ে বেড়ায় হৃদয় জুড়ে


সমুদ্রভূমি থেকে জলরেখা অনেক দূরে

বালুতল থেকে যতো দূর দেখা যায়

 যেন একটা দড়ি হয়ে আছে


আদুরে প্রেম সমুদ্র হাওয়ায় ওড়ে

যেনো লাল কাঁকাড়ার আঁকা পোট্রেট

জীবন ছড়িয়ে যায় ভাঙা ঢেউের মতো


একটা অচিন পাখির ডানায় আবেগ

বিমোহিত হওয়ার  প্রতীক্ষায়

নির্ঘুম রাতগুলো শুধু অতিক্রম করে যায়।









শুধু কবিতায়... জায়মান জীবন -১৯।। সুবীর ঘোষ।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



জায়মান জীবন -১৯

সুবীর ঘোষ


১.

জায়মান জীবন


 


জীবন কোথায় গিয়ে

জীবনের সঙ্গে মিশে যায়?

বিকেল কোথায় গিয়ে

আরেক বিকেল গড়ে তোলে?

 

মন ও সুপারিগুলো শক্ত  হতে হতে

ভাঙার বাইরে চলে যায়

ঝরা পাতা যত শব্দে পড়ে

কানের শব্দ তত মাথায় ঢোকে না।

 

কোথায় বেড়াতে গেলে

পাওয়া যাবে জায়মান জীবনের ঘ্রাণ?

চক্রব্যূহে জীবনের সন্ধান

ঠিক কোন্ খানে গাঁথা থাকে জানো?

 




২. 

জায়মান জীবন


 

একে যদি ভালো বল ভালো আছি তবে ;

এ-পৃথিবী কোনোদিন আরো ভালো হবে?

বলবে নিশ্চিত জানি, আমি বড় ভিজে,

বর্ষাদিনে রোদহীন নীরক্ত কামিজে

সারাদিন ঢুকে থাকি; কুভাবনা ভাবি ;

সদরের দরজার খোয়া যায় চাবি।

এ-পৃথিবী সোজা নয়, মন্থরাও নয়,

প্রেমিকার হাতে নীলা কারও কারও সয়।

 

দুপুরের ভাত হলে উৎসব পড়ে ;

কিন্তু রাতের খিদে মেটে হরেগড়ে।

তার পাশে ভালো থাকা... মেট্রো যাতায়াত –

থার্ড রেল বলে... আয় করি বাজিমাত।

জায়মান জীবনের  কুল নয় ক্ষীণ,

জীবনের যাত্রাপথ সতত রঙিন।











শুক্রবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২২

শুধু কবিতায়...জায়মান জীবন -১৮। গোবিন্দ মোদক।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




জায়মান জীবন -১৮

গোবিন্দ মোদক 





ঠিকানা বদলে যায় 



শেষ ঠিকানা থেকে চলে এসেছি অনেকদিন 
এসেছি এলোমেলো পায়ে এই কংক্রিটের জঙ্গলে,
একতলা .. দো'তলা .. তিনতলা .. দশতলা ..
মেপে মেপে পথ চলা, 
স্কোয়ার ফুটের হিসেবে কথা বলা। 
শব্দ এখানে দূষণ হয়ে বাজে, 
কথা বলা তাই নিচুস্বরে। 
এখানে এসে হারিয়েছি নোনা-আতার দুপুর,
কামরাঙা-বিকেল কিংবা লণ্ঠনের সন্ধ্যা।
শতরঞ্জি পেতে পাঁচ ভাই-বোনের পড়াশোনা –
একটাই হ্যারিকেন দিতো পাঁচভাগ আলো। 
এখানে এসে আরও হারিয়েছি নামতার পাঠশালা,
বর্ষার গান, কাগজের নৌকা, চু-কিৎ-কিৎ খেলা,
নৌকা-বাইচ, রহিম চাচার মেঠো সুর,
রাধু-বোষ্টমির খঞ্জনীর মূর্ছনা,  
রাখালিয়া বাঁশির হাতছানি। 
হারিয়েছি রাম-রহিম-জনসনের বন্ধুত্ব। 
এখন শুধু জ্যামিতিক খোপ, ফালি আকাশ, 
মেপে মেপে পথচলা 
আর মেপে কথা বলার ইতিবৃত্ত।









শুধু কবিতায়... জায়মান জীবন -১৭।। সুধাংশুরঞ্জন সাহা।।Ankurisha।। E.Magazine। Bengali poem in literature।।




জায়মান জীবন -১৭

 সুধাংশুরঞ্জন সাহা



জীবন :এক

জীবন এক সাপলুডো খেলার অন্ধকার মাঠ
যে যতই মেধাবী হোক না কেন,
কে কখন সাপের মুখে পড়বে
আগে থেকে কেউ তা জানে না।

যে কোনো স্বপ্নের মধ্যে
লুকিয়ে থাকে সম্ভাবনার বীজ।
জ্বরের ভিতর সংক্রমণের আভাস,
ছায়াযুদ্ধের সংকেত।




জীবন : দুই

ইচ্ছামহল ছাপিয়ে গেলে
দূরত্ব বিচার্য হয়ে ওঠে।
হাওয়াবদলের রঙমশালে লেগে থাকে
অবর্ণনীয় নিঃস্ব বালিয়াড়ির চিহৃ।
গতিময় পথেরা জানে প্রকৃত ভ্রমণের সংজ্ঞা।
সময়ের ব্যবধানে ঝটিতি সফর শেষ হলে
পুরনো পথেরা ফিসফিসিয়ে বলতে থাকে
হারানো সময়ের বিরহকথা।