লেবেল

ছড়ার মেলা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ছড়ার মেলা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২০

ছড়ার মেলা।। পর্ব- ৯





গুপির ভাবনা
প্রাণনাথ শেঠ

রদ্দিমার্কা একটা লোক
সঙ্গে খাঁচায় টিয়ে
কী বেমালুম বলছেরে ভাই
ভবিষ্যৎটা নিয়ে !

আটকে আছে মেয়ের বিয়ে
চাকরী পায়নি ছেলে !
সবেতেই মুশকিল আসান
পারিতোষিকটা পেলে l

উপরি আয় তাবিজ মাদুলি
আছে যে ফুস-মন্তর 
বলবো কাকে গন্যিমান্যি
ভীষণ কালো অন্তর l

কথায় কথায় ফকির বাবা
করেন খুব আপসোস
শুনলে সবাই তার কথাটি
কেটেই যেত সব দোষ l

চাকরী এবং সুখ-শান্তি
চায় যে তাঁরই ছোঁয়া ! 
বিশ্বাস ও থাকলে ভক্তি
সবই হাতের মোয়া !

ভাবছে শুধু গুপিচন্দ
এটা কেমন দীক্ষা !
এত ক্ষমতা সেই বাবার
কেন রে মাগে ভিক্ষা ?


ছড়ায় ছড়ায় গড়ায় বেলা
         শংকর দেবনাথ

একটা ছড়াপাখি- 
মনের সবুজ বনের ভিতর
করছে ডাকাডাকি।
তার সে সুরে সুরে,
সমস্তদিন তাধিন তাধিন
বেড়াই ঘুরে ঘুরে।

একটা ছড়ানদী-
বুকের খাতে সুখের সাথে
বইছে নিরবধি।
নাও বেয়ে তার জলে, 
যাই ভেসে যাই স্বপ্নদেশে
প্রাণের কোলাহলে।

একটা ছড়াতারা-
চোখের অসীম অরূপলোকে
ছড়ায় আলোকধারা।
তার সে আলোয় নেয়ে,
চুপকথারা রূপকথা হয়
কল্পডানা পেয়ে।

একটা ছড়াফুলও-
প্রাণের ডালে ঘ্রাণের তালে
নাচায় রঙের দুল ও।
তার সে হাসি মেখে,
দ্বন্দ্ববিহীন 'নন্দরেখায়
ছন্দকে যাই এঁকে।

একটা ছড়াশিশু-
বেড়ায় ঘুরে হৃদয়পুরে
আমার পিছুপিছু। 
তার সাথে রোজ খেলে,
ছড়ায় ছড়ায় গড়ায় বেলা
খুশির ডানা মেলে।


লকডাউন
বিশ্বজিৎ কর  

লকডাউন! লকডাউন!
এবার একটু হাসুন -
আনলকের উচ্ছ্বাস চলছে, 
একটু এগিয়ে চলুন! 
আক্রান্ত, মৃত্যু বেড়েই চলেছে -
এগিয়ে চলুক দেশ, 
কর্মহীনতার হাহাকার -
বাড়ছে হিংসা, দ্বেষ! 
হতাশার কালো মেঘ, 
থমকে গেছে গতি-
মানুষ বড় অসহায়, 
চারিদিকে শুধুই ক্ষতি! 
চলার পথে আসুক বাধা, 
এগিয়ে যাবই আমরা-
সব ভেদাভেদ ভুলে, 
শুরু হোক জীবন গড়া! 
দৃপ্ত কণ্ঠে বলি আসুন-
'মানুষ মানুষেরই জন্য ',
'আয় তবে সহচরী '-
জীবন করি ধন্য!









বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২০

ছড়াগুচ্ছ।। দীপ মুখোপাধ্যায়





 স্বপ্ন বিকেল

ক্লান্ত বিকেল নরম হয়ে আসতে
এক ফালি মেঘ হঠাৎ উঁকি মারত
নীল আকাশে পাখির মতো ভাসতে
দিব্যি আমায় শিখিয়ে দিতে পারত। 

সুজ্জি তখন নরম আলো ঢালছে
একটু আগে ভিজিয়ে গেছে বৃষ্টি
দিগন্তরে রঙ লেগেছে লালচে 
বাতাস এখন কি ফুরফুরে মিষ্টি, 

রঙিন পাখায় ফুলের রেণু মাখতে
টুনটুনিটা এ-ফুল সে- ফুল উড়ছে
ঘাস পাতাদের ছায়ায় ঢেকে রাখতে
আলোর সাথে আঁধার যেন জুড়ছে। 

চিকনশোভায় একটু একাকিত্বে  
ইচ্ছেগুলো যখন খুশি মাখত
হাওয়ায় সাথে লড়াই করে জিততে
খড়কুটোরা ঘাপটি মেরে থাকত। 

ঝুপসি বটে লুকিয়ে বোকা হদ্দ
স্বপ্ন বিকেল কান্না ভেজা গন্ধে
পাপড়ি গুটোয় শেষ বিকেলের পদ্ম
সবাই দেখি মন কেমনের ছন্দে। 

পুকুর জলে আলতো রোদের চিহ্ন
মন ভেজাতে জল উঠছে ছলকে
বুঝতে পারি আমিও নেই ভিন্ন
রাংতামুড়ে রেখেছি সক্কলকে । 



অলংকরণ- বিমল মণ্ডল  



  ঘন আবছায়া

মেঘ করলেই
ওরা বৃষ্টির খোঁজে ছুটত
বাজ পড়লেই
পাখি ছটফট করে উঠত। 

ধু ধু মাঠটায়
ভেজে আনচান করা ইচ্ছে
হাসি ঠাট্টায়
যেন গড়াগড়ি খেয়ে নিচ্ছে। 

ছবি পাল্টায় 
শুধু কত কিছু থাকে না ছোঁয়া
মজা খালটায়
তোড়ে জল এলো বলে বাঁচোয়া। 

হাওয়া দুদ্দাড়
ভাঙা রোদ্দুর দিয়ে শুকোনো
করি উদ্ধার
কোণে মনটা রয়েছে  লুকোনো। 

যদি ভাব চায়
আমি রেখেছি পা দুটো বাড়িয়ে
ঘন আবছায়
ভেজা শৈশব গেছে হারিয়ে।   

অলংকরণ- বিমল মণ্ডল  


 


   একটা দুটো

তারায় -ভরা ঝলমলে রাত
আলতো আলো সত্যি হঠাৎ
নকশা কাটে দূর আকাশে
মেঘ জড়ানো চাঁদের পাশে। 

ফুলবাগানে জ্যোছনা ঝরে
ঘাস আগাছায় উপচে পড়ে
পথের ধারে লুকিয়ে রাখি
শিউলি, বকুল, জুঁই - জোনাকি। 

এই দু' চোখে গোলক ধাঁধা
মন উদাসীন নেই তাগাদা
গাছ পালারা ছায়ার ফাঁদে
ঘুমিয়ে পাখি সেই সুবাদে। 

শুকনো  পাতা  হাওয়ায় ওড়ে
স্পর্শ কাতর ধল প্রহরে
ঝাপসা মতো কূল কিনারা
চাদর ঢাকা নিঝুম পাড়া। 

একটানা সুর ঝিঁঝিঁর ডাকে
হাতছানি দেয় যেই আমাকে
থাকছি তখন শিশির মেখে
একটা দুটো স্বপ্ন দেখে। 

অলংকরণ- বিমলা মণ্ডল   




   মেঘের ঠিকানা

সে ফুলের চারদিকে ফুল 
বর্ণিল কত কারুকাজ
সুর তোলে ফিঙে বুলবুল
সুয্যিটা  আহ্লাদি আজ। 

রোদ্দুর লতায় পাতায় 
ঝিলমিল করে খালবিল
ক্ষণে ক্ষণে মনের খাতায়
ছবি আঁকে রংপেনসিল। 

বাঁশবনে হাওয়া ফুরফুর
আড়ভাঙে সারা তল্লাট
হেঁটে চলি দূর,বহুদূর
আলপথে সোনামুখী মাঠ। 

আকাশে আকাশে গেছে মিলে
বিস্ময়ে দু-চোখ তাকায়
মেঘ ওড়ে নীল থেকে নীলে
মিটিমিটি ডাকে ইশারায়। 

আলো মাখা ফুটফুটে দেশে
বাতাসে মেলেছি তাই ডানা 
কাটা ঘুড়ি হয়ে ভেসে ভেসে
খুঁজে নেব মেঘের ঠিকানা। 




অলংকরণ- বিমল মণ্ডল  




স্বপ্ন ভেলায়

মেঘভাঙা রোদ। তালসারি পথ। 
শাপলা ভরা পুকুর ঘেঁষে
নীল আকাশে দুধসাদা বক
যায় হারিয়ে নিরুদ্দেশে
আলসেমি দিন। ফুরফুরে মন।
ছায়ায় ঘেরা গাছগাছালি
ঘাস পাতাতে আল্পনা দেয়
আলতো আলো দু-এক ফালি 
কাঁসার গেলাস। একথালা ভাত।
উঁচিয়ে যেন পাহাড় চুড়ো
ডালের জোয়ার উপচে গেলে
আটকাবে রুই মাছের মুড়ো। 
থমথমে মুখ। দুঃখিনী মার।
হাওয়ায় গায়ের গন্ধ ভাসে
কষ্টগুলো খুঁজতে যেতাম
দিগন্তহীন মেঘ- বাতাসে। 
লাউমাচা চাল।সেই কুঁড়েঘর।
মন কেমনের সাক্ষী থাকে
স্বপ্ন ভেলায় ভাসছি তখন
বার্তা পাঠায় যেই আমাকে। 
শব্দ ফোঁফায়। হালকা ব্যথায়।
পিছন ফিরে দেখতে যদি
চোখের জলে খরস্রোতা
ভাসত ছেলে বেলার নদী।




যেকোনো বিভাগে অপ্রকাশিত লেখা পাঠান। 
মতামত জানান
bimalmondalpoet@gmail. com        

মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২০

ছড়ার মেলা।। পর্ব- ৮








ছড়ার গোলা
অনীশ ঘোষ

ছুপা হুয়া গোষ্ঠীতোষণ
যদি কখনো বেঁধে বুকে
তার ঘায়েতে যেও না মূর্ছা
লাভ নেই ভাই গর্তে ঢুকে!
তার চাইতে নিজেও পাল্টা
বোমবাস্টিক কিছু ছোড়ো
ছড়ার গোলা টপকে দিয়ে
শয়তানদের মুখে মারো!
ছড়া-ছররায় ঘায়েল হবেই
হামবড়া সব একঠেঙে
যারা শুধু আখের গোছায়
পরের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে!
দুষ্টবুদ্ধি করে কিলবিল
ঘুরপাক খায় যাদের মাথায়
যাদের জন্যে সরলসিধে
মানুষগুলো পড়ে জাঁতায়।
খবরদারি চালায় তারাই
সর্বক্ষণ সব জায়গায়
যেন ঠিকেদারিটা নিয়ে হাতে
সব কিছুতেই মধু খায়!
কালাপাহাড় সরাতে গেলে
মুখে ঘষতে হবে ঝামা
সেই সঙ্গে ছুড়তে হবে
দুচারটে ছড়ার বোমা!
ঠিকমতো ঘা পারলে দিতে
দালালগুলো পগারপার
স্ফূর্ত প্রাণের শিল্পী-কবি
সাজাবে ফের জগৎ তার।




করোনা
পাপড়ি ভট্টাচার্য  




করোনা এখন করোনা তুই আমার চারপাশে
খুঁজছিলি আর গুছোচ্ছিলি সব
নষ্ট মনে মাটির  ভিতর পাঁজর চিবোচ্ছিলি
অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর গৌরব।
করোনা এখন করোনা তুই আমার হাতের থেকে
করিস শুধু  অন্দরে চাষবাস
মাথার ব্যথায় জ্বর সর্দ্দি কুড়োচ্ছিলি সব
বদ্ধ ঘরের সংসার চারপাশ। 
ঘুম জড়ানো শিশুগুলো মাকে খুঁজে ফেরে
আকাশ ভরা তারার আলো রাত
আঁধার জুড়ে বাতাস কেটে আতঙ্ক ছড়ায় কথা
ক্ষণিক আশায় ভালোবাসার  হাত।
করোনা এখন করোনা তুই দুলিস মাথার উপর
শ্বশান জুড়ে প্রিয়জনদের লাশ
শুনে শুনে ট্রমায় ট্রমায় কাটছে দিন রাত
গেরস্হালির চারদিকে  সন্ন্যাস ।




 বন্দী জীবনের ছড়া! 
স্বাতী ভট্টাচার্য পিউ 


কাতুকুতু বুড়ো ছিল 
সপ্ত সাগর পারে ;
যায়নি সেথায় কেউ কখনও
কেউ দেখেনি তারে। 

আজ পৃথিবী থমকে গেছে 
থমকে গেছে হাসি!  
সবাই আজ খুঁজছে কোথায় 
কেষ্টদাসের পিসি?  

হাসতে সবাই ভুলেছে দেখি 
"রাম গরুড়ের ছানা "!  
" নারদ নারদ " সব সেজেছে 
" গল্প বলা " আজ মানা 

বন্ধ ঘরে বন্দী জীবন 
মুঠোয় বন্দী ফোন ; 
দেখবে না কেউ জগৎটাকে 
কে কার আপন জন? 

শৈশব আজ হারিয়ে গেছে, 
মুক্তি মোদের নাই ! 
হারিয়ে গেছে চেনা জগৎ 
খোলা আকাশ চাই!  




যেকোনো বিভাগে অপ্রকাশিত লেখা পাঠান। 
মতামত জানান।
bimalmondalpoet@gmail. com      







                         

সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২০

ছড়ার মেলা।। পর্ব- ৭







       প্যাঁচ 
     দিলীপ বসু

  ঘুরঘুরেটা যেমন ঘোরে     
      তেমন ঘোরে লাট্টু
আরব দেশে গিয়ে এবার
         কিনবে সাদা টাট্টু ।

বিট্টুকে সে দেখিয়ে দেবে
       নাগরদোলার প্যাঁচ
কয়েক প্যাঁচের ডিগবাজিতে
       ধরবে এবার ক্যাচ ।

কাটবে ঘুঁড়ি আড়াই প্যাঁচে
        মুরগি হবে জবাই
কেমন জব্দ বিট্টু তুমি
        এবার তবে"বাই- বাই"।



তালের মহিমা
রঞ্জন ভট্টাচার্য 



দাদরা চলে ছ'মাত্রাতে 
কাহারবা আট মাত্রা
বন্দনা শেষ হলেই তবে 
শুরু হবে যাত্রা ।

ঝাঁপতাল তো পাঁচে পাঁচে 
তেওড়া চলে সাতে
ত্রিতাল চলে ষোল মাত্রা 
তেহাই থাকে সাথে ।

রূপক দেখি সাত মাত্রা 
ষষ্টী হয় ছয়
এই তালেতে লয় রাখাটাই 
বড্ড লাগে ভয় ।

একতাল হয় বার মাত্রা  
দুটো রূপে চলে 
সুরে সুরে ভাসে সবাই 
হৃদয়ের কথা বলে ।

সুরফাঁকতাল চোদ্দতে হয়
লয় কারী বেশ শক্ত 
যে জন জানে সুরের মহিমা
 সেইতো এতে ভক্ত ।

সব তাল ছেড়ে ত্রিতালে'তে  
সারাজীবন ধরে
দেখ তোমার মন খুলবে'ই  
 রাখো যদি ধরে।




   বায়না 
ভক্তগোপাল ভট্টাচার্য 

নোনা জলে   ভাসছে  চোখ 
 দিদি  বলে  কিসের  শোক 
বায়না   আছে  ষোলো  আনা 
 পড়াশোনায়   মন  বসে   না ।

   গান  করতে  বললে
   কোনো  সাড়া  মেলেনা
   একটা   কথা  বললে  
   অন্য  কথা  শোনে না। 

কথায়  আছে  ষোলো  আনা 
কারও   কথায়  মন  ভরেনা ।
বাড়ির  খাবার  ভালো  লাগেনা
বাইরের  খাবার  নিতে  শুধু বায়না ।

রাগ করে মা বললো আমায়
লেখাপড়া  নেই, শুধুই  জ্বালায় ।


  যেকোনো বিভাগে অপ্রকাশিত লেখা পাঠান। 
মতামত জানান
  bimalmondalpoet@gmail. com        





               

শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২০

ছড়ার মেলা/পর্ব-৬









 দূষণহীন দেশ 
প্রদীপকুমার চক্রবর্তী



পিচকালো সব শুনসান পথে
    চারচাকাদের ছুটি,
মহা আনন্দে  পারাপার করে
   কটা হাঁস গুটি গুটি।

পার্কে মজায় খুশিতে লুটায়
  কয়টা হাতী ও বাঘ,
জীবনের মানে অন্যরকম
  ভুলে গেছে সব রাগ।

সাগরের নীলে খুশির অনিলে
  ডলফিন লাফালাফি,
এত নীল তারা জীবনে দেখে নি
  ভুলেছে দুঃখ ঝাঁপি।

চারিদিকে দেখে ওদেরই তো রাজ
মানুষেরা আজ লুকিয়ে,
এতদিন তারা মেনেছে শাসন
এবার নেবে তো গুছিয়ে।

অবলা প্রাণীরা বিনয়েতে কয় ,
  মুছে দাও এ দুষণ,
তোমার পৃথিবী হোক আলোকিত
অঙ্গে স্বর্ণ ভূষণ।




 আশ্চর্য মলম
   দীপক  বেরা 


নামটি তার চতুর আলম
হাটে বাজারে 
বেচে মলম।

চুলকানি আর দাদ যত
সারবে সবই 
গায়ের ক্ষত।

ভিড় জমিয়ে লোক দাঁড়ায় 
নখ দিয়ে সব 
গা চুলকায়। 

চতুর আলম হাঁকে হরদম
খোস-পাঁচড়া'র
"আশ্চর্য মলম"! 

চুলকানি ভাই ভীষণ বাজে
মান-ইজ্জত কি
থাকে সমাজে? 

হরেক মানুষ মলম কেনে
চর্মরোগ যার 
আছে গোপনে! 

ঘা-এর মলম দেদার বিকায়
আলম চাচার 
ফুর্তি বেজায়। 

হঠাৎ দেখে ত্রিলোচন কাকা
আলম মিঞার
গায়েতে ঘা! 

শোরগোল! হায় হায় এ কি? 
ধরা পড়ে যায়
চতুরের বুজরুকি! 

প্রমাদ গোনে, আর সবাই বাকি
"আশ্চর্য মলম"-এর
  আশ্চর্য ফাঁকি! 



ছায়া কেন সঙ্গে যাবে?
  তাপস বর্মন

ছাতা মাথায় স্বপন খুড়ো বেরিয়ে ছিলেন পথে,
হটাৎ দেখেন ছায়াটি তার চলছে সাথে সাথে।
ছায়া কেন সঙ্গে যাবে
শনির দশা নিশ্চই হবে
পাঞ্জি খুলে দেখতে হবে কি আছে তাতে।

পাঞ্জি খুলে স্বপন খুড়ো দেখেন সরষে ফুল,
কেন্দ্রে দিব্যি বৃহস্পতি কোথায় হল ভুল।
এবার ওঝা ডাকতে হবে
তিনি সঠিক কথা কবে
ছাতাটি বোধ হয় স্বপন খুড়োর যত নষ্টের মূল।

রাত দুপুরে ওঝা এলেন সঙ্গে চন্ডাল হাড়,
অং বং চং করলেন শুরু ছায়া তাড়াবার।
খুড়ি গেলেন বেজায় চটে
ঝাঁটা হাতে যেই না ওঠে
অমনি ওঝা ঝোলা গুটিয়ে হলেন পগার পার।

খুড়োর ভয়ে ঘুম আসেনা দুরু দুরু বুক,
ছায়া বিভ্রাট কেড়ে নিল স্বপন খুড়োর সুখ।
অবশেষে খুড়ো ভাবেন
নন্দ বাবুর কাছে যাবেন
তিনি হলেন ওই এলাকার বিজ্ঞানের মুখ।




বিবর্ণ 
মানস মিশ্র হালদার 

বিশ্বে এখন অগ্নি দহন
জ্বলছে আকাশ আলোক শিখায়,
সবুজ পাতা হলুদ হলো
হারিয়ে যাওয়ার সেই ঠিকানায়।

আমরা মানুষ বেহুঁশ বড়ো
করেছি শুধু অত্যাচার,
নিজের আরাম আয়েশ ছাড়া 
বুঝি না যে কিছুই তো আর।

বলল নদী, দূষিত আমি 
বলল সাগর ,হায় হায়,
গাছ বলল,কেটো না আমায়
বলল বাতাস, আমি অসহায়।

এসো না আমরা ভালোবেসে সব
জ্বালি নতুন আলোক শিখা
সবুজ প্রাণ আর মুক্ত বাতাস 
এই হোক জীবনের সব শিক্ষা।




যেকোনো বিভাগে অপ্রকাশিত লেখা পাঠান। 
মতামত জানান
  bimalmondalpoet@gmail. com        

       

          









বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২০

ছড়ার মেলা /পর্ব-৫




আজব দেশ
রবীন্দ্রনাথ ভৌমিক

বনে জলে জঙ্গলে খুঁজে আতিপাতি
এনেছে ঘোড়ার ডিম হাঁদারাম হাতি,
তার ভাই ভোঁদারাম,সারা দেশ ঢুঁঢ়ে
পক্ষিরাজের ছানা,আনে খাঁচা পুরে।

তাদের ছোট্ট ভাই,ছোটু খাঁদারাম
এনেছে নীলপরী, হাসি তার নাম,
তাই নিয়ে কাড়াকাড়ি, সবুজের দেশে
সবাই খুশির বানে-যায় সুখে ভেসে।

রূপ নিয়ে,কথা নিয়ে, রূপকথা হয়
আহা কী দারুণ মজা!করে মন জয়,
হাঁদা ভোঁদা খাঁদা -রা নিয়ে দলবল
আজব দেশে ঘোরে,হেসে কলকল।






জয় পরাজয়
সঞ্জীব দে

একটু কিছু হলে পরে
       করিস কেন আড়ি ?
ভাবের বেলায় তবে কেন
          হয় যে বড় দেরি ?

পাড়া পড়শি বন্ধু সূজন
         মিলেই কাটে জীবন
 এখন দেখি পর্দা ফেলা
               সকল বাতায়ন।

গোমড়া মুখো বুদ্ধু ভুতুম
             ফোলা সবার গাল
রাগ পুষে সে হারায় আমোদ
              একলা কাটায় কাল।

একটা আকাশ একই মাটি
                   দুই পড়শি দেশ
 ভারত চীনার লাদাখ ঘাঁটি
                      ছড়ায় বিদ্বেষ ;

  নটি বড় বাঁটুল চিনে
              মোটেই সুজন নয়,
 রোগ ছড়িয়ে ভাবছে বুঝি
                এটাই ওদের জয়।



নেই 
স্বপন বিশ্বাস  

স্কুল নেই,পড়া নেই 
পাঁচটায় ওঠা নেই
মিস নেই,বকা নেই 
ছুটির ঘন্টা নেই
পাশ নেই,ফেল নেই
ই- স্কুল আছে।

মাঠ নেই, খেলা নেই
বৃষ্টি ভেজা নেই
কাদায় আছাড় নেই
জ্বর- জ্বর হওয়া নেই
হার নেই,জিত নেই
ই- গেমস আছে।

রিন্টিকে ছোঁয়া নেই
চুল টেনে খোলা নেই 
দিদানের চুমু নেই
চোখ খুলে ঘুমু নেই
সঙ্গী তো কেউ নেই
মা-বাবাই আছে।

করোনার ঘর নেই
যাবার আর মন নেই
আমাদের লক নেই
কোথাও ওষুধ নেই
মাস্ক আর,
স্যানিটাইজার আছে।




যেকোনো বিভাগে অপ্রকাশিত লেখা পাঠান
মতামত জানান
   bimalmondalpoet@gmail. com       




বুধবার, ১ জুলাই, ২০২০

ছড়ার মেলা /পর্ব-৪







ছড়া চাই

রবীন বসু



এই কথাটা বলা যাবে না    কাউ-কে

আমি জিনিস কিনলে নিই   ফাউ-যে।

যদি বলি পকেট কেটেছি     বউ-কে

কথাটা বলে দিও না যেন     মউ-কে।

মউ যদি হয় আমার বৌ,     তা-হলে

চলে না সংসার কেন জৌ    না-এলে।

মউ জউ আমি এসব কী     ভা ব ছি

মনে মনে শুধু বার বার        না ই ছি।

আপনারা বলুন, এটা কি      বি-ভ্রম ?

লকডাউনের নবতর            স ম্ভ্র ম !

সে যাই হোক, আসল কথা   এ-বার 

ছড়া চাই, সম্পাদক-ফোন    ন'-বার।





ভাল্লাগে না

শঙ্খশুভ্র পাত্র




ভাল্লাগে না কিছুই আমার—ভাল্লাগে না কিচ্ছুটি,
ঘরবন্দির ফন্দি থেকে কেউ আমাকে দিস ছুটি ৷

বাইরে কেন যেতে মানা—করোনা যে দিচ্ছে হানা
সবাই বলে — হিংসুটে না, ও যে বড়  বিষ-কুঠি ৷

অগত্যা এই ঘরে বসে—কখনও-বা তক্তপোষে
শুয়ে-শুয়েই চিন্তা করি—খাচ্ছি আমি চিজ,রুটি ৷

মা বলেছে, পেলেই খিদে — নাইকো কোনও অসুবিধে
কৌটো খুলে সাবধানেতে, তিলের নাড়ু নিস দুটি ৷

বাবা তো সেই লেকটাউনে,আটকে আছে লকডাউনে
বাস চলে না, ট্রেন চলে না— এ যে কেমন বিচ্যুতি ?

মুখোশআঁটা লোকজনেরা,মাথায় জটা,কেউ-বা নেড়া
রিলিফ নিয়ে আসছে গ্রামে—সঙ্গে তাদের বিশ-জুটি ৷

দেখাচ্ছে সাফসুরোত তোকে, মানতে হবে দূরত্ব কে
নইলে বাপু মনে-মনে, বলবি তো ওই —'ইস্ ! ত্রুটি ৷

ভাল্লাগে না কিছুই আমার— ভাল্লাগে না কিচ্ছুটি,
কেন যে এই মর্ত্যে এল এই করোনা বিচ্ছুটি ?




চোখে আঙুল দাদা 
 অশোককুমার লাটুয়া 

আঙুল ফুলে কলাগাছ 
আঙুল তুলে কথা। 
সব আঙুলের মানে আছে 
আঙুল নক্সীকাঁথা। 
বাঁকা আঙুলে ঘি তোলা 
সহজে না হলে। 
আড়ি আড়ি ভাব ভাব 
আঙুলে আঙুলে। 
আঙুল নীচে আঙুল উপরে 
খুঁচিয়ে করো ঘা। 
ঠোঁটে আঙুল চুপটি ক'রে 
কাজটি সেরে যা। 
কানে আঙুল মন্দ কথায়। 
আঙুল গুণে অঙ্ক শেখায়।

আঙুলে খাই আঙুলে পরি 
পাঁচ আঙুল নয়কো সমান
যেমন গাছের আদা। 
আঙুল চুষি আঙুল ধরি 
আঙুল নিয়ে কি যে করি 
দেবো নাকি চোখে আঙুল দাদা। 



অপ্রকাশিত লেখাই আমাদের একমাত্র কাম্য। 
মতামত জানান । 
bimalmondalpoet@gmail.com       

















ছড়ার মেলা /পর্ব-৩







মেঘনা পাড়ের ছেলে
  অর্ণব আশিক 

মেঘনা পারের ছেলে আমি
জলের সাথেই বাস
সকাল দুপুর সাঁতার কাটি
যেন বালি হাস।

উথাল নদী জোয়ার ভাটা
দুকূল ভাসায় জল
এপার ভাঙে ওপার গড়ে
এই তো নদীর ছল।

ফুঁসে উঠে নদীর জোয়ার
উছলে উঠে জল
বালুচরে আছড়ে পড়ে
ঢেউ ছলাৎ ছল।

মেঘনা আমার সব নিয়েছে
বাপের ভিটে, চাষের জমি সব
হৃদয়ে আমার মেঘনা তবু
সুখের কলরব।


  
  অনন্ত আকাশ 
  পার্থ সারথি চক্রবর্তী 



আকাশ চোখে স্বপ্ন দেখি, জীবন জয়ের গানে;
কাটবে মেঘের কালো কুয়াশা, প্রাণের কলতানে।
স্বপ্নে আছে নতুন বিশ্বাস, বিশ্বাসে সুখের বাতাস;
ভালোবাসার আজ বৃষ্টি হোক, ধুয়ে যাক দীর্ঘশ্বাস।

আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখি,কালের অন্ধকারে;
জেগে থাকুক সব স্নেহাশীস,মন ও প্রাণ জুড়ে ।
চেতনা থাকুক গগনচুম্বী, জয়ী হোক ভালোবাসা;
সময়ের ক্ষেত ভরুক ফসলে,বেঁচে থাক সব আশা।

নীল আকাশের নিচে কান পেতে  শুনি পাখিদের  কনসার্ট,
কালের অমানিশা কাটিয়ে, সামিয়ানা জুড়ে জোৎস্নার রাজপাট।
নদীর স্রোতের মূর্ছনায় বেজে ওঠে জলতরঙ্গের সুর,
মাটি স্পর্শের তৃষ্ণা বুকে, অনন্ত  আকাশ যায় বহুদূর ।

ক্লান্ত রাতের শেষে,  ভোরের সূর্য হাসে অবিরত, 
জাগে আকাশ,  হাসে বাতাস, ফুল ফোটে শতশত।



 যুগের তালে
 জগদীশ মন্ডল





কাঁথার কোলে ঘুমে তখন মায়ের ডাক কানে
ধড়ফড়িয়ে লাফিয়ে বসি বাবার হেঁচকা টানে
জামা প‍্যান্ট পরায় বাবা ব্রাশ করায় মা
জেলি,রুটি থাকনা এখন কমপ্লানটা খা।

মায়ের কিছু হয়না খাওয়া জুতোয় পা ঢাকে
বলতে থাকে তাড়াতাড়ি নে রিকশা কাকু ডাকে
মায়ের কাঁধে বইয়ের ব‍্যাগ ঢুলতে থাকি আমি
স্কুল গেটে থামলে গাড়ি মিসের হাঁকে নামি।

স্কুলেতে লাগে ভালো বন্ধু অনেক পাই
তবু যেন চোখ জুড়ে যায় তুলতে থাকি হাই
ক্লাসে মিসটি বকে  আমার আবার টানে কান
যুগের তালে ভাসতে থাকি নেই যে অবসান।




যেকোনো বিভাগে অপ্রকাশিত লেখা পাঠান
মতামত জানান
  bimalmondalpoet@gmail. com        







মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২০

ছড়ার মেলা /পর্ব-২




শতরঞ্জি
সুবীর ঘোষ  

লাল রোদে নীল এক্কাদোক্কা
ছক্কাপাঞ্জা বেলা
উড়ো পাখির মিছিল চলে
মৌগঞ্জের মেলা ।
মেলার ভেতর জাদুগরের
ম্যাজিকলাঠির নাচ
নিজের মুখে পরের মুখ
দেখায় আতশকাচ ।
পুতনাবুড়ির রাক্ষসীটার
চলন এলেবেলে
দুধ না খেলে গপগপাগপ
গিলতে আসে ছেলে ।
আলাভোলা আলবোলাতে
গুড়ুকতামাক টান
গিরগিটিরা শুনতে আসে
গাঁওবুড়োটার গান ।
আসছে শীতে আসাম যাব
আনতে শেয়াকুল
কড়াইফুল খেয়েই না বক
হয়েছে বকফুল !



ভাগ করোনা ভাগ
ফটিক চৌধুরী

বার নিয়ে বাড়াবাড়ি কর কেন তবে
সব দিন যদি সেই রবিবারই হবে !
স্কুল নেই, ঘরে বসে চলে পড়াশোনা
আকাশে মেঘের দল করে আনাগোনা
বিকেলে ছাদে উঠে সেই সব দেখা
পাখিরা ধীরে ধীরে নীড়ে ফেরে একা
সূর্য অস্ত যায় তার লাল আভা নিয়ে
সন্ধ্যা নামলে ধীরে, দিন যায় হারিয়ে
সারাদিন বাড়িতে বল কার ভালো লাগে?
মাঝে মাঝে তাই আমি ফুঁসে উঠি রাগে
কী যে হয়েছে সব বুঝে কিছু পাইনে
পড়াশোনা নাচ গান সব অনলাইনে
বাড়িতে তিনটি মুখ বাবা মা আর আমি
বাবা মা বকলে পরে আমি খুব বেশি ঘামি
দিন দিন এই ভাবে যায় বেড়ে রাগ
দোহাই করোনা তুই দেশ থেকে ভাগ।




কানু দে
সুধাংশুরঞ্জন সাহা 

কলাবাগানের কানু দে
মানুষটা বড় আমুদে ।
রসেবসে দিব্যি ঘুমোন
তার ছিল অলস মন ।
‌পড়েন কাগজ সারাদিন
গল্প ফাঁদেন গোটা তিন ।
ঠিক হলো যেই মিশর যাবেন
ম্যাজিক টোটোর খোঁজে ছোটেন !
পড়শী ছিল রমেন দত্ত
মহুয়া খেয়ে হতেন মত্ত ।
সুর উঠলে তানপুরায়
আজব নাচে হাসি ওড়ায় ।
নাম শোনেনি  মারাদোনার
কচিকাঁচা কান্ড দেখে তার।
ভূতের কথা উঠলে  নাকি
বলে ভূতের ঠেক করাচি ।




অপ্রকাশিত লেখা পাঠান। 
মতামত জানান
bimalmondalpoet@gmail. com      


রবিবার, ২৮ জুন, ২০২০

ছড়ার মেলা /পর্ব- ১






 উল্টোসিধে
 গৌতম হাজরা    

মেঘ যদি যায় মেঘ পাড়াতে
জল যদি যায় জলে,
মুখ দেখে কি বুঝবো আমি
রামবাবু কোন দলে।

আজ যদি হয় সবুজ মেরুণ
কালকে হলুদ লাল,
দিনের বেলায় হইহুল্লোড়
রাত্রে সে দেয় গাল।

হয় যদি সে অন্য মানুষ
স্বপ্ন দেখুক জেগে,
মাঞ্জা মেরে বাজার করুক
একটূও না রেগে।

এমন তেমন মানুষ হলে
কি আর যায় বলা,
উল্টোসিধে এমনধারায়
ধরন যে তার চলা।

উল্টোসিধে রামবাবুর ওই
মনটা কিন্তু সাদা,
দিনের বেলা সবার কাকু
সন্ধ‍্যে হলেই দাদা।



বৃষ্টির গান 
 সাতকর্ণী ঘোষ  










বৃষ্টি এলে নদীর জলে নাচন লাগে তা থইথই
নাচতে থাকে দুলতে থাকে সেই নদীতে নৌকো ব-ই
গাছের ওপর বৃষ্টি এলে সবুজ কেমন নাচে হই
এদিক ওদিক পাতারা সব আনন্দতে জাগে ওই

মাটির  'পরে বৃষ্টি এলে মাখামাখি নাচন তার
টুপটুপাটুপ জলের ফোঁটায় মাটির হৃদয় একাকার 
আমরা মানুষ বৃষ্টি এলে কেউ বা ভিজি কেউ পালাই
বৃষ্টি ভয়ে কাঁপে কে ওই ঘরের দরজা বন্ধ তাই

ময়ূর নাচে পেখম খুলি বাতাস তারই সঙ্গী হয়
চতুর্দিকে কল-কাকলি ব‍্যাঙের ডাকও মন্দ নয়
ছোট্ট খুকি  ছোট্ট খোকা নৌকো ভাসায় নন্দনে
তাদের মনে হিসেব-নিকেশ দাগ কাটেনা বন্ধনে

বৃষ্টি আসে বৃষ্টি যায়ও সাদা কালোর কোল ঘেঁষে 
বড়োরা নয় ছোটোরা সব আকাশ বুকে যায় মেশে। 


দুপুর
অংশুমান চক্রবর্তী

সবুজ পাতায় দুপুর লেগেছে, দুষ্টুমি জাগে মনে ইস্কুল ছুটি, খাই লুটোপুটি আম বনে, বাঁশ বনে। নেই কোনো জুড়ি, খুব জোরে ছুড়ি পুকুরের জলে ঢিল কচুরিপানার চাদর সরিয়ে মাছ করে কিলবিল। খুঁজি গাছে গাছে কোনখানে আছে শালিক পাখির ছানা প্রাণ ভরে দেখি, ধরতে ওদের বাবা করেছেন মানা। চোখের পাতায় হাওয়া ছুঁয়ে যায়, গাছ পেতে দেয় ছায়া যেদিকে তাকাই, ছড়িয়ে রয়েছে দিস্তা দিস্তা মায়া। পেরোই সময়, ধীরে আঁকা হয় অনন্ত নীরবতা ধুয়ে গেছে সুর, নিঝুম দুপুর, মনে পড়ে মা-র কথা। ফিরে আসি ঘরে, মা হেসে বলেন, 'ঘুম পেয়ে গেছে বুঝি?'-- বহুদিন বাদে স্কুল জীবনের দুপুরগুলোকে খুঁজি ...












কিশোর উপযোগী অপ্রকাশিত ছড়া পাঠান
মতামত জানান
   bimalmondalpoet@gmail. com