লেবেল

আষাঢ়ে গপ্প কথা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আষাঢ়ে গপ্প কথা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ৪ আগস্ট, ২০২১

আষাঢ়ে গপ্প কথা -১৯।। অরবিন্দ সরকার।। Ankurisha ।। E.magazine ।।Bengali poem in literature ।।




       

আষাঢ়ে গপ্প কথা -১৯

অরবিন্দ সরকার



 পড়াশোনা এখন

              

হ্যাঁরে নিত্য স্কুলে যাবি কখন। বিছানা থেকে উঠে হাত মুখ ধুয়ে, খেয়ে নে! স্কুল যাবার জন্য তৈরী হ। 

একথা বাবা আনন্দ মোহন রায়ের প্রতিদিনের রুটিন বলা। বংশের প্রদীপ নিত্যগোপাল।আলো দেখার আশায় বাবা মা উৎসুক।

গাছপালা ঘেরা গ্রাম চৈতন্যপুর।পাশ দিয়ে মনোহরা নদী বয়ে গেছে। গ্রামে একটি প্রাইমারি স্কুল ও তিন কিলোমিটার দূরে হাইস্কুলের অবস্থান।

আনন্দ মোহন নিম্ন মধ্যবিত্ত।বিঘা পাঁচেক চাষের জমি ও বসতবাড়ি দশকাঠার উপর। শাক সব্জী বাড়ীতেই মেলে, তাছাড়া, পেঁপে, আম, জাম, কাঁঠাল ফলের গাছে ভর্তি।যার ফলে আনন্দ বাবুর সচ্ছল পরিবার। বংশের একমাত্র ছেলে তার উপর নজর বেশী। লেখাপড়া শিখে উপার্জন করুক এই ইচ্ছা আনন্দবাবুর।তখন ছিলো সরবপাঠ, জোরে জোরে পড়তে পড়তে মুখের ফেণা বেড়িয়ে পড়তো। তাছাড়া সেই লেখাপড়া আর নেই।কালের গহ্বরে সব চাপা পড়ে গেছে।কুমোর পাড়ার গোরুর গাড়ী, আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে, বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে,হা টি মা টিম ,তারা মাঠে পাড়ে ডিম  এসব ছড়া কবিতা সিলেবাস থেকে উধাও।

এখন লুকোচুরি পড়াশোনা। উত্তর খুঁজে বের করো।কি ইতিহাস, ভূগোল,কি অঙ্ক, বাংলা সব উত্তর দেওয়া আছে এটা নয়তো সেটা।টিক মেরে পাশ। কি সব যে এলো? খেলাধুলা হলো গিয়ে ব্যায়াম।সে সব ডকে উঠেছে,- এখন মোবাইলে গেম। পড়াশোনা মোবাইলে, চাকুরীতে ইন্টারভিউ মোবাইলে। দরখাস্ত মোবাইলে।ঐ একটু  মোবাইলে লেখাপড়া আবার লেখাপড়ার মাথা খাওয়া।

প্রেম পীড়িত, বন্ধুত্ব, ব্যাঙ্কের টাকা তোলা ও ব্যাঙ্ক ডাকাতি সব মোবাইলে। শত্রু খতমের ব্যবস্থাপনা এই মোবাইল।ছেলেপিলের ঘুম নাই আবার মোবাইলের ঘুম নাই।দিনরাত পরিশ্রম করেই চলেছে।এখন ছেলেমেয়েদের সারারাত্রি ধরে পড়াশোনা। চোখে ঘুম আসেনা।

মোবাইলে জোনাকির আলো জ্বলে সারারাত।

নিত্যগোপাল আড়িমুড়ি ছেড়ে বাবাকে বললো - বাবা তোমরা আলতুফালতু পড়েছো।ধারাপাত, বর্ণপরিচয়,শতকিয়া ওসব চলেনা। তোমরা করেছো লেখাপড়া, লিখতে লিখতে দম বেরিয়ে যেতো তোমাদের।আর এখন পড়াশোনা।যেমন মোবাইলে পড়ছি তেমনি মোবাইলে শুনছি। বেশী খাটাখাটি শরীরের উপর চাপ তাই অল্পতেই এর সমাধান।তোমরা লেখাপড়া করে শতকরা কুড়ি পার্সেন্ট পাশ করেছো আর এখন না পড়াশোনা করে একশোতে একশো।কোন কাটাকাটি নয়, সঠিক লেখায় সঠিক মান । বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফল এগুলো বুঝলে। পড়তে হয় নইলে পিছিয়ে পড়তে হয়। এখন পড়াশোনার এত লড়াই যে পঞ্চাশ জন প্রতিযোগী প্রথম হয়, দ্বিতীয় স্থানে দুইশতাধিক, তৃতীয় স্থানে বাদবাকী মোটামুটিভাবে হাতেগোনা বাদ দিয়ে সবাই। অকৃতকার্য এ কথাটির মৃত্যু ঘটেছে। অগ্রগতির ধারায় ধারাবাহিক কৃতকার্য সবাই। কতো ক্যামেরার ঝলকানি, খবরের কাগজে ছাত্রছাত্রীদের ছবি। সঙ্গে বাপ মায়ের ছবি ফাউ। তোমাদের সময়ে লেখাপড়ার মান নিম্নমুখী তাই তোমাদের দিকে ফিরেও কেউ তাকাতো না। আর আমরা জামার কলার তুলে পোজ দিয়ে ছবি তুলি। তোমাদের হামাগুড়ি দিয়ে লেখাপড়া বড্ডজোর কেরাণী।আর আমাদের পড়াশোনা ইন্টারনেটের দয়ায় বিদেশে পাঠ। হামাগুড়ি নয় রকেটের গতি আমাদের।







আরও পড়ুন 👇🏾👇🏾

http://wwwankurisha.blogspot.com/2021/07/ankurisha-emagazine-bengali-poem-in_10.html





শুক্রবার, ৩০ জুলাই, ২০২১

আষাঢ়ে গপ্প কথা -১৫।। দুর্গাদাস মিদ্যা।। Ankurisha ।। E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 



আষাঢ়ে গপ্প কথা -১৫

দুর্গাদাস মিদ্যা 



ঘূর্ণি 


১৯৬২ সাল। আবাস স্থল রাইপুর। বাঁকুড়া জেলার অন্তর্গত একটি জায়গা। পাশ দিয়ে বয়ে গেছে বেশ বড়সড় চওড়া একটি নদী, কংসাবতী। এমনি বারো মাসের মধ্যে আট মাস বড় নিরীহ। তখন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের :--আমাদের ছোট নদী চলে আঁকে বাঁকে। আর বর্ষায় তার রূপ যেন বিশ বিঘত ময়াল সাপের মতন ফুলে ফেঁপে উঠে। কলকল বয়ে যায়। সেবার অঝোর বর্ষা। শহরের স্কুল যেমন গরমে ছুটি থাকে গাঁয়ের ইস্কুল বর্ষায় ছুটি থাকত। আমাদের ছোটবেলায় যখন পড়তাম তখন দেখেছি। সেই ছুটিতে অশ্বিনী মামা রাইপুরে আমাদের ঘরে এসেছিল। বেশ গাট্টাগোট্টা চেহারা। মাঠের সেরা ফুটবলার। আর ভীষণ চঞ্চল। সেই মামার  দুরন্তপনার একটা গল্প বলবো। ভরা আষাঢ়। বেশ কদিন বৃষ্টিতে নদী কানায় কানায়। রবিবার ছুটির দিন। বেলা বারোটা। এমন সময় পাড়ার পাতানো আর এক গামছা কাঁধে বাড়িতে হাজির। নদীতে চান করতে যাবে। এই পাতানো মামার বাতিক আছে নদীতে স্নান করার। এইবার অশ্বিনী মামাও লাফিয়ে উঠলো নদীতে স্নান করবে বলে। বাবা বারন করা সত্যেও কোন কথা শুনলো না। পাড়ার মামাও উৎসাহ দিল শুধু জেনে নিল ও সাঁতার জানে কি না!  সঙ্গে আমিও ছিলাম তবে নদীর ওই ভয়াল রূপ দেখে আমি নদীর পাড়ে বসে নদীর গর্জন শুনছিলাম। 

দেখছিলাম বড় বড় গাছ ভেসে যাচ্ছে জলের তোড়ে। দুই মামা নদীর ঘাট থেকে বেশ খানিকটা উপরে গিয়ে জলে নামলো সাঁতার কেটে এই ঘাটে এসে পৌঁছোবে। পাড়াতুতো মামা বগলা মামা নদীতে সাঁতার কাটায় ওস্তাদ কিন্তু অশ্বিনী মামা তো তা নয়। তবে সাঁতার ভালো ই জানে। বেশ খানিকটা আসার পর দেখলাম অশ্বিনী মামা ঘূর্ণির সামনে পড়েছে। আর ঘূর্ণির সামনে কী ব্যাপার হতে পারে যারা নদীতে সাঁতার কাটতে অভ্যস্থ তারা জানে। বগলা মামা সমূহ বিপদ বুঝে ওর দিকে গামছা ছুঁড়ে দিয়ে একপ্রান্ত নিজের হাতে ধরে আছে। অশ্বিনী মামা কোনরকমে গামছাটা ধরতে পেরেছিল বলে সেই যাত্রায় বেঁচে গিয়েছিল। এইরকম ডানপিটে মামাকে বাবা তারপর দিনই বাড়ি ফেরৎ পাঠিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল। কেননা ও তো বাবার কথা শোনেনি। কত বড় বিপদ ঘটে যেতে পারতো এই গোঁয়ার্তুমির জন্য। সেই ১৯৬২সালের বন্যার কথা আজো আমার মনে জ্বল জ্বল করে আর ওই দৃশ্যের কথা মনে পড়লে ভয়ে গোটা শরীর শির শির করে ওঠে। অশ্বিনী মামা এখন আর আমাদের মধ্যে নেই তবুও স্মৃতি এখনও পিছু ছাড়ে না।






আরও  পড়ুন 👇🏾👇🏾

http://wwwankurisha.blogspot.com/2021/07/ankurisha-emagazine-bengali-poem-in_81.html





বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই, ২০২১

আষাঢ়ে গপ্প কথা -১৪।। দীপক বেরা।। Ankurisha ।। E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 






আষাঢ়ে গপ্প কথা -১৪

দীপক বেরা 





আমাদের গেছে যে দিন


                      

    লেটার বক্সে একটা খামে বন্ধ চিঠি এসেছে। রাজশ্রী কৌতুহলে তাড়াতাড়ি খাম ছিঁড়ে খুলে দেখে। দেখেই তার মন খুশিতে ভরে ওঠে। তার পেরিয়ে আসা কলেজের রিইউনিয়নের 'আমন্ত্রণ পত্র'। মনে পড়ে যায় ফেলে আসা বহু সময় আর ঘটনার স্মৃতি! যদিও খুব ব্যস্ততাময় জীবন তার, তবুও প্রিয় বান্ধবী সুলেখার অনুরোধ কি করে এড়াবে? সাত-পাঁচ ভেবে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলে সে। 

     আজ বছর পাঁচেক বাদে কলেজের মেন গেট পেরিয়ে ঢুকতেই পুরনো গন্ধ-গভীরতায় ডুবে গেল রাজশ্রী। কিছুক্ষণ নীরবতার সাগরে ডুবে যায়। হঠাৎ সুলেখা এসে জড়িয়ে ধরে রাজশ্রী কে। তখনই তার সম্বিৎ ফেরে। দুজনে দুজন-কে জড়িয়ে ধরে। তারপর রাজশ্রী কে নিয়ে সুলেখা এগিয়ে যায় রিইউনিয়ন হলের দিকে। সেখানে গিয়ে আরও অনেক বন্ধুর সাথে দেখা হয়ে যায়।

 --- কেয়া বলে, তুই কিন্তু আগের মতই আছিস, চেহারায় বিশেষ পরিবর্তন হয়নি। শুধুমাত্র একটুখানি ফ্যাট লেগে শরীর টা একটু ভারী হয়েছে। 
 ---   ইতিমধ্যেই খাওয়ার প্যাকেট, চা, কফি, কোল্ড-ড্রিঙ্কস্ এসে যায়। খেতে খেতে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা জমে ওঠে রাজশ্রীর। হঠাৎ থমকে যায় রাজশ্রী স্টেজের মাইকের ঘোষণা শুনে। মাইকে ঘোষিত হচ্ছে তখন --- "এখন জীবনমুখী গান শোনাতে আসছে আমাদের কলেজেরই প্রাক্তন ছাত্র রণজয়"..
 ---  রাজশ্রীর বুকের ভেতর টা ধক করে ওঠে। এলোমেলো ভাবনায় মন টা ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। ওদিকে স্টেজে রণজয় কর্ডলেস মাইক হাতে এসে দাঁড়িয়েছে। দর্শকরা উল্লাসে ফেটে পড়েছে। আসলে ইতিমধ্যেই রণজয় সঙ্গীত জগতে নাম করে ফেলেছে। রণজয় এখন সুপরিচিত সঙ্গীত শিল্পী।
 ---   রণজয় গান ধরেছে, --- "তারারাও যত আলোকবর্ষ দূরে, আরও দূরে তুমি আর আমি, সরে যাই দূরে দূরে..."
--- রাজশ্রীর বুকের ভেতর টা মোচড় দিয়ে ওঠে। রণজয় কে দেখবে বলেই কি সে এতদিন পরে এখানে ছুটে এসেছে? গান টা শুনতে শুনতে শরীরটা কেমন করে ওঠে রাজশ্রীর, মনটা বিষাদ-বিষণ্ণতায় ভরে যায়। 
--- গানটা শেষ করেই তুমুল হর্ষধ্বণির মধ্যে রণজয় স্টেজ থেকে নেমে আসে। বন্ধুরা সবাই চিৎকার করে রণজয় কে ছেঁকে ধরেছে তখন। 
---  "আরে একেবারে ফাটিয়ে দিয়েছো গুরু, কোনও কথা হবে না বস!"..বন্ধু সুজয় বলে ওঠে। চারিদিকে বন্ধুদের হৈ-হৈ হাসি, ঠাট্টা-মশকরা! 
--- রাজশ্রীর কেমন যেন অস্বস্তি হতে লাগল। সে যেন রণজয়ের থেকে নিজেকে আড়াল করতে চাইছে। হঠাৎ কাউকে কিছু না বলে, সে ওখান থেকে ছিটকে বেরিয়ে গেল। রণজয় কে নিয়ে সবাই এত ব্যস্ত ছিল যে, এই ব্যাপারটা কেউই তেমন খেয়াল করে নি। 
    রণজয়ের কিন্তু ব্যাপারটা চোখ এড়ায় নি। দৌড়ে গিয়ে রাজশ্রীর পিছু নেয়। সবাই ব্যাপার টা রিয়ালাইজ করে চেপে যায়। কারণ, ওদের প্রেমের কথা বন্ধুদের কারুরই অজানা নয়।
---- কলেজ গেটের কাছে গিয়ে পেছন থেকে রাজশ্রীর হাতটা ধরে ফেলে রণজয়। 
--- রাজশ্রী পেছন ফিরে রণজয় কে দেখে চমকে ওঠে। 
--- কি রে রাজশ্রী, এতদিন পর দুজনে দুজনের এত কাছে এসেও কিছু না বলে চলে যাবি? বন্ধুত্বের বন্ধন কি এত সহজেই আলগা হয়ে যায়? 
    সেই আশুতোষ কলেজের পুরনো গেট, সেই পুরনো প্রেমের গন্ধ, পুরনো রোমান্স! রাজশ্রী হারিয়ে যেতে থাকে স্মৃতির আচ্ছন্নতায়। 
মুহূর্তে সামলে নিয়ে বলে, --- "কেমন আছিস, রণজয়?" 
--- "এই তো বেশ আছি বস, তোকে ছাড়া বিন্দাস!"... রণজয় হাসতে হাসতে জবাব দেয়। 
--- সেই একইরকম আছে রণজয়, শত দুঃখ-যন্ত্রণা চেপে সবসময় হাসিখুশি থাকে, বুঝতে দেয় না কাউকে। রাজশ্রীর মনে পড়ে যায় কত কথা, সেই নানা রঙের দিনগুলোর কথা। তার স্মৃতির ভাঁজে আজও অমলিন। জীবনপ্রবাহে হেঁটে এসেছে অনেকটা। স্মৃতির আলো-ছায়ায় আজও মনে পড়ে রণজয়ের সেই রোমান্টিক গান, গানের সুর, সেই কলেজ গেট, করিডোর, কলেজ ক্যান্টিন, আর কমন-রুম। কত কথা, কত মুহূর্ত, কত প্রিয় মুখ, কত স্পর্শ-আমেজ, কত উপলব্ধি! মুহূর্তের জন্য অজান্তেই হারিয়ে যায় রাজশ্রী।
--- কিরে রাজশ্রী, স্ট্যাচু হয়ে গেলি যে! কী এত ভাবছিস? এনি থিং প্রব্লেম? 
--- রণজয়ের কথায় সম্বিৎ ফেরে রাজশ্রীর। "উঁ, হ্যাঁ,.. আরে না না, একটা কথা ভাবছিলাম। বাদ দে ওসব, তুই এখন কেমন আছিস, কী করছিস? এখন তোর কথা বল।" 
--- এই এখানে যেমন দেখলি, ওরকমই স্টেজ-শো করে বেড়াচ্ছি। গানের রেকর্ডিং, মাঝে মাঝে টিভি প্রোগ্রাম। এইসব আর কি। কেটে যাচ্ছে সময় এভাবেই, সুর-তাল-ছন্দে। শুধু জীবনের সুরটাই কেটে গেল, জীবন আজ ছন্দবিহীন! যাইহোক, আমার কথা ছাড়। তোর খবর কী বল? প্রবাসী হয়ে কলকাতা কে ভুলে যাস না যেন। মনে রাখিস, কলকাতায় আমাদের মত ক্ষুদ্র প্রাণিরাও থাকি। রণজয়ের গলায় একটু বিদ্রুপের সুর। 
--- কী যে বলিস! ভুলব কেন? তবে, আমার আর কী থাকবে বল? যান্ত্রিকতায় কাটছে সময়। তোর গানের মত সুর-মূর্ছনা নেই আমার জীবনে। ওর মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির চাকরি, নিরন্তর ব্যস্ততা। এদিকে আমার চাকরি নিয়ে আমি ব্যস্ত। জীবনের কলতান নেই, কোনও উপলব্ধি নেই। 
--- কিন্তু, তুই তো চেয়েছিলি এই জীবন। আমাদের প্রেম কে উপেক্ষা করে সেদিন চলে গিয়েছিলি অনায়াসেই। 
--- হ্যাঁ তা ঠিকই, অস্বীকার করি কী করে? যা সত্যি, তা তো সত্যিই! এখন আফসোস হয়, জানিস রণজয়! এখন মনে হয়, যেখানে রূপ-রস-গন্ধ নেই, আবেগ নেই, অনুভূতি নেই,.. সেটা কি একটা জীবন? 
--- আর একটু অপেক্ষা করতে পারতিস! আমি সবকিছু মানিয়ে নিতাম। আমি তখন অনেক চেষ্টা করেছি তোর সাথে যোগাযোগ করার, কিন্তু পারি নি! 
--- আসলে, তখন অরিন্দমের (রাজশ্রীর হাজব্যান্ড) মাল্টিন্যাশনাল, কর্পোরেট চাকরির শ্যাম্পেনের ফোয়ারায় ভেসে গিয়েছিলাম। তখন বাবা-মায়ের কড়া নির্দেশ, তাদের ঠিক করা উপযুক্ত পাত্রে বিয়ে করতে হবে। অবশ্য আমারও যে সায় ছিল না, সেটা আজ আর তোর কাছে অস্বীকার করতে পারি না। আসলে, আমিই তোকে এড়িয়ে গেছি। ভেবেছিলাম, এই গান-পাগল ছেলেটার সাথে প্রেম করা যায়, কিন্তু আর যাই হোক সংসার করা যায় না। একটা রঙিন স্বপ্নে বিভোর হয়ে ভেসে গিয়েছিলাম অজানা দেশে! 
জানিস রণজয়, আজ ডায়েরির ভাঁজে তোর পাঠানো হলুদ হয়ে যাওয়া চিঠিগুলোর গন্ধ শুঁকি!... 
   ... অনেকক্ষণ দু'জনের নীরবতা! দু'জনেই মুহূর্তের চোরাবালিতে হারিয়ে যায়..! 
--- নীরবতা ভঙ্গ করে রণজয় বলে, চল তোর আবার ফিরতে হবে, দেরি হয়ে যাচ্ছে। 
কী আর করা যাবে বল, ভুলে যা ওসব অতীত। বাঁচতে তো হবেই এই জীবনটা কে নিয়ে, সংসারের সবাই কে নিয়ে। তাই বলছি, যা হয় নি ভুলে যা সব, সবকিছু। দাঁড়াতে হবে বর্তমানের দেওয়াল ঘেঁষে, বাস্তবতার স্পর্শে। 
--- "কি জানি, পারব কিনা জানি না!".. রাজশ্রী বলে। 
    দু'জনেই উঠে দাঁড়ায়, পরস্পরের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ। এবার চলে যাওয়ার পালা। পরস্পর হাত নেড়ে বিদায় নেয় ওরা। 
--- "ভাল থাকিস রাজশ্রী।".. বলেই রণজয় বিপরীত দিকে হাঁটা দিল। দু'জনের পথ যে আলাদা। তাই দু'জনে আজ বিপরীতমুখী। 
--- রাজশ্রী রণজয়ের চলে যাওয়া পথের দিকে তাকিয়ে রইল অনেকক্ষণ...! 
--- রাজশ্রীর মনে পড়ে যায় রবীন্দ্রনাথের কবিতার সেই লাইনগুলো, --- "আমাদের গেছে যে দিন, একেবারেই কি গেছে? কিছুই কি নেই বাকি?"... 

বুধবার, ২৮ জুলাই, ২০২১

আষাঢ়ে গপ্প কথা -১৩।। বিশ্বজিৎ রায়।। Ankurisha ।।E.Magazine ।।Bengali poem in literature ।।

 






 আষাঢ়ে গপ্প কথা -১৩


বিশ্বজিৎ রায়





চিরকুট  



সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের একটা খুব পুরনো উপন্যাস আছে "কালো রাস্তা সাদা বাড়ি"।  সেই উপন্যাসটা পড়তে পড়তে হঠাৎ অনেকদিন পর সুতপার কথা মনে পড়ে গেল দীপাঞ্জনের। আসলে, তাপসী নামে একটা চরিত্র আছে ওই উপন্যাসটাতে। তার সঙ্গে কোথাও মিল আছে বলে  হয়তো অবচেতনে সুতপার কথা হঠাৎ মনে পড়ে গেছে ওর। সেতো একযুগ আগের কথা,  তবুও কেন মনে পড়ল সুতপাকে! যেন, বহুদিন পর গভীর সমুদ্র থেকে হঠাৎ উঠে এলো একটা মুখ, আর তার সঙ্গে কিছু হীরকচূর্ণ  দিন।

দীপাঞ্জন মনে রাখেনি সেইসব দিনগুলোর কথা। স্বেচ্ছায় কালের সমুদ্রগর্ভে বিলীন করে দিয়েছে সব স্মৃতিগুচ্ছ।  এখন সে বিবাহিত। স্ত্রী-পুত্র-কন্যা নিয়ে ঘোর সংসারী।  পুরনো দিনগুলোর কথা প্রতিদিনের গতিময় জীবন থেকে কবেই মুছে গেছে। কিন্তু,  আজ হঠাৎ সেই দিনগুলোর কিছুটা ঝলক ফিরে আসাতে নিজেই কেমন চমকে গেল। সুতপার সঙ্গে প্রেমের দিনগুলো ---- স্কুল, কলেজ, দুর্গাপুজো, গঙ্গার পাড়,পিকনিক, বসন্ত উতসব....  সব কেমন পুরনো দিনের সাদাকালো সিনেমার  মতো চোখের সামনে ভাসতে লাগল......

কিন্তু,  এই প্রেম কালের চিত্রনাট্য অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত পরিনতি পায়নি। সেসময় মধ্যবিত্ত বেকার যুবকদের জীবনে প্রায়ই যা ঘটতো, সেটাই ঘটে ছিল দীপাঞ্জনের জীবনে।  একটা ভালো চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরতে ঘুরতে ক্রমশ যখন দিনগুলো অন্ধকার হয়ে উঠছিল, ঠিক তখনই সুতপা ওর বাড়ির বদরাগী জ্যাঠা ও বাবার চাপে ছাদনাতলায় যেতে বাধ্য হয়েছিল। দীপাঞ্জনের হয়ে কিছু বলার মতো ওর জোর ছিলনা মনে। এমনিতেই একটা 'নেগেটিভ পয়েন্ট ' নিয়ে তারা ঘুরছিল। সুতপারা 'মুখার্জি' আর দীপাঞ্জনরা 'পাল'। ভেবেছিল,  দীপাঞ্জন একটা ভালো চাকরি পেয়ে গেলে ওই 'নেগেটিভ পয়েন্ট' ফুতকারে উড়িয়ে দেবে।  কিন্তু,  বিধাতা তা হতে দিলেন কই?  পড়াশোনায় এতো ভালো হয়েও একটা ভালো চাকরি যোগাড় করতে  দীপাঞ্জনের খুব বেগ পেতে হয়েছিল সে'সময় । কিন্তু,  সেই ভালো চাকরি ও শেষপর্যন্ত পেয়েছিল। একসঙ্গে তিন জায়গায়।  তিনটের মধ্য থেকে ব্যাঙ্কের চাকরিটাই বেছে নিয়েছিল।  ততদিনে সুতপার বিয়ের দেড় বছর কেটে গেছে। পেটে সন্তান এসে গেছে।

চাকরি পেয়ে দীপাঞ্জন আর পিছন ফিরে তাকায় নি। বুকের ওপর থেকে সুতপা নামক পাথরটাকে সরিয়ে দিয়ে শুরু করেছিল নতুন জীবন। কাকলি ঘরে এসে সুতপাকে চিরদিনের মতো ভুলিয়ে দিয়েছিল।...... কিন্তু,  এতদিন পর আবার কী করে সুতপা বেরিয়ে  এলো সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের উপন্যাসের পাতার ভেতর থেকে সেটাই একটা বিস্ময়! যাইহোক,  মন থেকে সেটাকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে থাকল দীপাঞ্জন। 

উপন্যাসটা শেষ করার ঠিক তিনদিন পর অরুণার সঙ্গে পাড়ার একটা ওষুধের দোকানে দেখা হলো।  অরুণা,  সুতপা, দীপাঞ্জন এক স্কুলে একসঙ্গে পড়তো।  সুতপা-অরুণা হরিহরাত্মা ছিল। সুতপা-দীপাঞ্জনের প্রেমের পুঙখানুপুঙখ জানত অরুণা। সুতপাদের কয়েকটা বাড়ির পরেই ওদের বাড়ি একই পাড়ায়। অরুণার ভালো ঘরে বিয়ে হয়েছে। গড়িয়াতে শ্বশুর বাড়ি।  সেখানেই থাকত বিয়ের পর। কিন্তু,  অরুণার বাবা মারা যাওয়ার পর এবং ওর ভাই ব্যাঙ্গালোরে চাকরি সূত্রে থাকার কারণে অরুণা বাধ্য হয়ে ছেলে - স্বামীকে নিয়ে মায়ের কাছে থাকে এখন কয়েক বছর ধরে।  সেই অসুস্থ মায়ের ওষুধ নিতে দোকানে এসেছে। দীপাঞ্জনের সঙ্গে কদাচিৎ দেখা হয় পাড়ায়। আজ যেমন হঠাৎ হলো।  ওষুধ নিয়ে দোকান থেকে বেরনোর সময় দীপাঞ্জনকে দেখে অরুণা ----" আরে দীপু, কেমন আছিস? খুব ভালো হয়েছে তোর সঙ্গে দেখা হয়ে। একদিন  সময় পেলে আমাদের বাড়ি একবার আসিস তো, দরকার আছে।"
--- মাসীমা কেমন আছে রে?
---- আর কেমন, ওই বিছানায় শোয়া।.... তুই এলে খুশী হবে।
----- আচ্ছা যাব। সামনের রোববার সকালে বাজার টাজার সেরে।
----- কী দরকার আছে এখন বলা যাবেনা ?
---- বাড়িতে আয়না, বলব।

ঠিক তার দুদিন পর রবিবারে বাজার-হাট-ব্রেকফাস্ট সেরে অরুণাদের বাড়ি গেল। বিছানায় শোয়া অরুণার মায়ের সঙ্গে অনেক কথা টথা বলার পর দীপাঞ্জন চা খেতে খেতে অরুণাকে বলল---- নে, কী বলবি বলেছিলি, বল?
অরুণা ---- বলছি বলছি। ( দু চারটে নানারকম কথা বলার পর আসল কথাটা পাড়ল অরুণা) আরে, কদিন আগে তপু এসেছিল। ( সুতপার ডাক নাম তপু)
----- তপু এসেছিল? তাতে কী হয়েছে?  আমি কী করব?
----- কিছুনা। শোননা হাঁদা। তপুর জেঠিমা খুব অসুস্থ, তাকে দেখতে এসেছিল।  সেইসঙ্গে আমার মাকেও দেখে গেল।....  অনেকদিন পর দেখা হওয়াতে অনেক গল্প হলো আমাদের। পুরনো,  নতুন অনেক গল্প।  তোর প্রসঙ্গেও অনেক কথা হলো।  অনেক কিছু জিজ্ঞাসাও করল তোর ব্যাপারে।   এই ফোন নম্বরটা দিয়ে গেছে তোর জন্য ।  (বলে, একটা চিরকুট ধরিয়ে দিল দীপাঞ্জনের হাতে।)
------ দীপাঞ্জন দোনমনা করে চিরকুটটা হাতে নিয়ে দেখল তাতে একটা মোবাইল নম্বর লেখা আছে--- ৯৮_ _ _ _ _ _ _ _ 
----- পারলে একদিন ফোন করিস। খুব খুশী হবে ও।
----- আচ্ছা,  দেখব। 
বলে, অরুণাদের বাড়ি থেকে বেরলো যখন ঝিরঝির করে বৃষ্টি পড়ছে। ছাতা মাথায়  হাঁটতে হাঁটতে, ভাবতে ভাবতে  অনেকদূরে একটা সাদা বাড়ি দেখল দীপাঞ্জন, ধূসর জলধারায় ঝাপসা। সামনে কালো লম্বা একটা  পিচরাস্তা। বাড়িটার ছাদে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে ছায়া ছায়া, অস্পষ্ট।  তাপসী না সুতপার মতো,  সেটা ঠিক বোঝার আগেই আরও জোরে বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল... 








আরও পড়ুন 👇🏾👇🏾



https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/07/ankurisha-emagazine-bengali-poem-in_27.html










 

মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই, ২০২১

আষাঢ়ে গল্প কথা-১২।। ত্রিপর্ণা ঘোষ।।Ankurisha ।। E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 




আষাঢ়ে গল্প কথা-১২

ত্রিপর্ণা ঘোষ


উনি কে


কর্মসূত্রে বাড়ির বাইরে প্রায় অনেক বছর থাকা হয়।কিন্তু পৃথিবীব্যাপী মহামারীর কারনে লকডাউনের জেরে কিছুদিন যাবৎ বাড়িতে বেশ দিন কাটছিল।সময়টা যেহেতু বর্ষাকাল বৃষ্টিরানী মাঝে মাঝেই নানান ছন্দে এসে পড়েন।


সেদিনও ছিল এরকম এক মেঘাচ্ছন্ন দুপুর।সকাল থেকেই অঝর বৃষ্টির পর অবশেষে বৃষ্টি থামলেও আকাশের মুখ ভারী গম্ভীর হয়েছিল।বাড়িতে ছিল মঙ্গলবারের গুরুমার পুজো।পুজো শেষে গিয়েছিলাম পাশের বাড়িতে প্রসাদ দিতে।প্রসাদ দিয়ে ফেরার সময় পাড়ার এক ঠাকুমা আমার কাছে পুজোর প্রসাদ চাইলেন।স্বামী,সন্তান কোনও কুলে কেউ না থাকায় মাঝে মাঝেই অনেকের বাড়িতে একবেলার খাবার পেলে উনি খুব খুশি হতেন।আমিও বাড়ি থেকে প্রসাদ সাজিয়ে নিয়ে ওনাকে দিতে উনি চলে গেলেন।।


সন্ধ্যেবেলা চা এর আসরে সবার সামনে হঠাৎ করে আমি পাড়ার ওই ঠাকুমাকে প্রসাদ দেবার কথা বলতেই সবার মুখে দেখলাম অদ্ভুত একটা বিস্ময়ের ছাপ।মা কেমন যেন ভীত স্বরে আমাকে বলে উঠলেন আমি যেন আজ রাত থেকে বাড়ির বাইরে পা না রাখি।বাকি সবাই যেন কোনোকিছু আমার কাছে একটা লুকাতে চেয়ে আসর ছেড়ে উঠে গেল।পরেরদিন সকালে মা কিছু একটা কালো দড়ি আমার হাতে এসে বেঁধে দিল।তখন আমার সন্দেহের দানা আরও গাঢ় হল।


সুযোগ বুঝে বিকেলের দিকে সবার চোখের আড়ালে বাড়ি থেকে বেরোলাম এবং পাশের বাড়িতে গিয়ে কথাটা বলতে সেখানেও সকলে বিস্মিত হয়ে চোখ বড় করে বলল ওই ঠাকুমা নাকি প্রায় দু-বছর আগেই মারা গেছেন।মুহূর্তে আমার রক্ত ভয়ে ঠান্ডা হতে শুরু করল বাড়ি ফেরার ক্ষমতাটুকু আর যেন পাচ্ছিলাম না শরীরে।আমি আজও ঠিক জানিনা সেদিন উনি কে ছিলেন।






আরও পড়ুন 👇🏾👇🏾


https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/07/ankurisha-emagazine-bengali-poem-in_26.html



সোমবার, ২৬ জুলাই, ২০২১

আষাঢ়ের গপ্প কথা -১১।। অশোক রায়।। Ankurisha ।।E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 




আষাঢ়ের গপ্প কথা -১১

অশোক রায় 




 ক্ষুধার্ত আষাঢ়


আকাশের রঙ কুচকুচে কালো। দুপুর থেকে যোগাড় চলছে। সুপলের মনে হলো ঐ ভীষণ মেঘ বুঝি ফেটে পড়বে এই চা-বাগানের ওপর। বেলাবেলি অফিসের কাজ সেরে বাড়ির দিকে রওনা দিয়েছে। চারটে বাজে, এখনি মনে হচ্ছে সন্ধে। কুলি বস্তি পেরিয়ে জোরে প্যাডেল করে সে। হাংরি সাহেবের বাংলোর পাশ দিয়ে যেতে আধো অন্ধকারে গা ছম্‌ছম্‌। কে জানে হয়ত আত্মঘাতী সাহেবের আত্মা জেগে উঠবে বাংলোর হাতায়।

 

সে শুনেছে সাহেবের আত্মা দুর্যোগের রাতে জাগে, মূর্তিমান শয়তান! সাইকেলটায় আরো জোর লাগায়, ততক্ষণে বাতাস আরো তীব্র মুহুর্মুহু বাজ পড়ছে মোটা ফোঁটায় বৃষ্টি। প্রকৃতির সঙ্গে সেও যেন এগোচ্ছে অবশ্যম্ভাবি ধ্বংসের দিকে।    

 

মনে হল মা ডাকছে – খোকা ওদিকে যাসনেএএএ...। কই কেউ তো নেই। অন্ধকারে কিছুই ঠাহর হ্য়না । টর্চ জ্বালতে গিয়ে চমকে ওঠে, বৃষ্টির চাদরে ফুটে উঠেছে দুটো চোথ – ভাটার মত জ্বলছে – হাংরি সাহেব! এক ধাক্কায় সাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে সুপল, সব অন্ধকার....। প্রবল অট্টহাসি পাহাড়ের গায়ে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসে...।     







আরও পড়ুন 👇🏾👇🏾



https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/07/ankurisha-emagazine-bengali-poem-in_25.html



রবিবার, ২৫ জুলাই, ২০২১

আষাঢ়ে গপ্প কথা -১০।। তপনজ্যোতি মাজি।। Ankurisha ।। E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 




আষাঢ়ে গপ্প কথা -১০


তপনজ্যোতি মাজি





বৃষ্টি সকাল  



নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে তৃনা যখন বড় জানালার ধারে এসে দাঁড়াল বৃষ্টির তেজ কিছুটা কমেছে। ঝির ঝির বৃষ্টি পড়ছে। পূবদিকের আকাশ  শ্যমাঙ্গি রমণীর মতো কপালে পড়েছে গলিত সিঁদুরের সূর্য টিপ। কাল রাতে বিছানায় শরীর বিছিয়ে দিতে মধ্য রাত পার হয়ে গিয়েছিল।ইউ টিউব অন করে বনানী মুখোপাধ্যায়ের 'একালের কপালকুন্ডলা'শ্রুতিনাটক টা ইয়ার ফোন লাগিয়ে শুনে শুনে লিখছিল। বইটা সংগ্রহের জন্য জেলা শহরে চেষ্টা করেছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি ও টানা লক ডাউন এর কারণে স্টক শেষ। অথচ  সমীরণের খুব ইচ্ছা রবিবারের সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় দুজনে শ্রুতি নাটকটা  উপস্থাপিত করবে। অতএব, সমীরণের ইচ্ছাকে মর্যাদা দিতে রাত জেগে ইউ টিউব অন করে লিখেছিল।সকালের চা খেয়ে সমীরণ রেনকোট লাগিয়ে বাজারে গেছে। তৃণা কাপ ডিশ সিঙ্কে রেখে বিছানা পরিপাটি করে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে গুছিয়ে নিল দ্রুত হাতে। সকালে বৃষ্টি তৃনার মনে অন্য দরজা খুলে দেয়। বৃষ্টির ভাষা বোঝে তৃনা। আজ সকালের বৃষ্টি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতার মতো। স্বভাবে দিলখোলা, বাউন্ডুলে। একটু অগোছালো কিন্তু রোমান্টিক। যেন কাউকে কিছু বলার নেই, অথচ দরজায় কড়া নাড়ছে ।এরকম বৃষ্টিতেই মনে গান আসে। কবিতা আসে। আজও এলো।ওষ্ঠের দুই তীরে সোনারতরী , রবীন্দ্রনাথ।এই কবিতার সঙ্গে তৃনার ফ্রক-বেলার সম্পর্ক। বাবার কাছে তালিম নেওয়া কবিতা। সঞ্চায়িতারপাতা থেকে। এখনও বৃষ্টি দিনে কিংবা বৃষ্টি রাতে এই কবিতা তার হৃদয়ে কড়া নাড়ে। আজও। …কূলে একা বসে আছি… উচ্চারণ করে একটু থামল। নাহ ! সে কিন্তু কূলে একা নয়। তার সংসার আত্মীয়ও প্রিয়জনদের প্রিয় ঠিকানা। সে আর সমীরণ সকলের জন্যে প্রস্তুত। সবার ভালোবাসা ও শুভেচ্ছায় তাদের আনন্দ-সংসার। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে জীবন, তাদের অভ্যাস হয়ে গেছে।  তৃনা এই সম্পর্ককে  লালন করে , ভালোবাসে। ভালোবাসার ভেলায় সব থেকে বড় অবলম্বন সমীরণ। সারাদিন ব্যস্ত। সকাল থেকে রাত্রি। কিন্তু সমীরণ খুব বড় মনের মানুষ। এখানেই তৃনার তৃপ্তি। প্রশান্তিও।বাজার  থেকে ফিরে এসেছে সমীরণ।  রেনকোট ছেড়ে এসেছে নিচে। সামনের চুলে বিন্দু বিন্দু বৃষ্টি চিহ্ন।এই সময় হাফ কাপ চা পছন্দ করে সমীরণ। আজ বৃষ্টির আমেজ সমীরণের মনেও। আবারও বৃষ্টির তেজ বাড়ল। ঝাপসা হয়ে এলো সকালের আলো। বড় জানালা দিয়ে বৃষ্টির দুস্টুমি ঢুকছে বসার ঘরে। চেঞ্জ করে জানালার কাঁচ টেনে সোফায় বসলো আরাম করে।" আজ আর চা নয়, কফি রেডি করো দু কাপ "  সমীরণের বলার আগেই তৃনা রান্না ঘরে। কিন্তু অবাক হলো, কফির কথা শুনে।কি হলো আজ মানুষটার ! ব্যস্ততা নেই। জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকাতেই সমীরণ বললো,  " আজ সব কিছু হবে অন্যরকম। সব ব্যস্ততা থেকে কিছুক্ষনের ছুটি। কফি নিয়ে এসো। বসো , আর শ্রুতি নাটকের স্ক্রিপ্টটা নিয়ে এসো। একটু রিহার্স করে নেব। " রান্না ঘরের জানালা দিয়ে তখনও বৃষ্টি দেখছিল তৃণা। বেশ বিস্মিত হলো। কি হলো আজ চেনা মানুষটার। ভালো লাগলো। এই ভালো লাগার জন্যেই তো জীবনভর পরিশ্রম করে যাওয়া। এই মুহূর্তটা যতই দুর্লভ হোক সে হারাতে চাইলনা। টি টেবিলে গোলাপী ট্রেতে জোড়া নীল কফি মগ রেখে শোয়ার ঘরে গেল স্ক্রিপ্ট আনতে। একবার  পর্ণার ঘরে উঁকি দিল। মেয়েটা শিশুর মতো ঘুমোচ্ছে। হালকা চাদরটা গা থেকে সরে গেছে। যত্নে চাদরটা ঠিক করে দিল।তৃনার মনেও বৃষ্টি এলো । এই বৃষ্টি মনে কাগজের নৌকো ভাসিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা হলো। স্ক্রিপ্টটা টি টেবিলে রেখে বসলো সমীরণের  মুখোমুখি। সমীরণ স্ক্রিপ্টটা হাতে নিয়ে তৃণার দিকে তাকালো। বাইরে তুমুল বৃষ্টি আর সমীরণের মুখে একরাশ আনন্দ , তৃনার বুক সাংষ্কৃতিক তৃপ্তিতে ভরে দিল। এই মুহূর্তটা তৃণা র স্বপ্নের। আকাঙ্খিত এই মুহূর্তটার অভিব্যক্তি ছড়িয়ে পড়ল তার সারা শরীরে।সমীরণ শুরু করল পাঠ। ঠিক এই সময়  ডাইনিং টেবিলে রাখা তৃনার ফোন বেজে উঠলো। তৃনা উঠে গিয়ে  দেখল স্ক্রিনে সুমিতাভর নাম।সুমিতাভ তাদের ছেলে,রেড ক্রসের অফিসার , ফোন করেছে পাটনা থেকে।ফোন অন করে তৃনা বললো , বল... সমীরণ জানে মা কে সুমিতাভর ফোন মানে অন্তত কুড়ি মিনিটের বিরতি।বৃষ্টি দেখার জন্যে কাঁচ সরিয়ে জানালার কাছে এসে দাঁড়াল সমীরণ।








আরও পড়ুন 👇🏾👇🏾


https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/07/ankurisha-emagazine-bengali-poem-in_40.html




শনিবার, ২৪ জুলাই, ২০২১

আষাঢ়ে গপ্প কথা -৯ ।। রাজেশ কান্তি দাশ।। Ankurisha ।। E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 







আষাঢ়ে গপ্প কথা -৯

রাজেশ কান্তি দাশ





অসহায়ত্ব



ভালো একটা চাকরি করত সে। মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। লকডাউনে কোম্পানির আয় কমে যাওয়ায় একদিন মালিক তাকে ফোন করে বলল অফিসে আসার দরকার নেই। নাফিদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল। ঘরে স্ত্রী, মা-বাবা, ছোট ভাইবোন রয়েছে। এদেরকে খাওয়াবে কি? পরাবে কি? ছোট ভাই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। তার পড়ার খরচ জোগাবেই-বা কি করে? বোনটিরও বিয়ে হয়নি। এমনি নানান চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খায়! কিছুদিন চলেছে বন্ধু-আত্মীয়দের ধারের ওপর। মা-বাবাকে চাকরি চলে যাওয়ার বিষয়টি বলেনি। এখন আর কেউ তাকে টাকা ধার দেয় না। ভাবে বেকার ধার নিলে আর ফেরত পাওয়া যাবে না। তাই নিরুপায় হয়ে বাবাকে বিষয়টা জানায়। বৃদ্ধ বাবা ঘটনাটি শুনে স্ট্রোক করলেন। করোনা কাল চলছে। হাসপাতালে ভর্তি হলে তার করোনাও ধরা পড়ল। দুই বিপদ। মধ্যবিত্ত থেকে পরিবারটি আয় রোজগারহীন হয়ে পড়েছে। নুন আনতে পানতা ফুরায় অবস্থা। তার ওপর ঘর ভাড়া, রিক্সা ভাড়া, ঔষধ খরচ কোথায় পাবে? কে জোগাবে? সে-ই তো পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। উপায়ান্তর না দেখে গ্রামের বাড়িতে যে এক বিঘা জমি ছিল তা বিক্রি করে দেয়। চিকিৎসার মধ্যেই তার বাবা লোকান্তরিত হন। সে অনেকটা অসহায় হয়ে পড়ে।

এরই মধ্যে পরিবারে ভাঙন ধরে। হঠাৎ খোরপোশের অভিযোগ তুলে তার স্ত্রী বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। মরার উপর খাড়ার ঘা এর মতো। সুরমার তীর ধরে জমিলাকে সে খুঁজতে থাকে...। তার অসহায়ত্ব আরও বেড়ে যায়। চারদিকে অন্ধকার দেখে।

এই চার বিয়োগ নিয়ে নাফিদ অসহায়ত্বের মধ্যেই মরে কি বাঁচে অবস্থা! সব কিছুর জন্য করোনার ওপর ঘেন্না দিয়ে মনে মনে ভাবে জমিলা কোথায়, কেমন আছে...?






আরও পড়ুন 👇🏾👇🏾

https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/07/ankurisha-emagazine-bengali-poem-in_23.html






শুক্রবার, ২৩ জুলাই, ২০২১

আষাঢ়ে গপ্প কথা -৮।। সুধাংশুরঞ্জন সাহা।।Ankurisha ।। E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 





আষাঢ়ে গপ্প কথা -৮

সুধাংশুরঞ্জন সাহা





শিবুর জীবন



সমর রায়চৌধুরী পার্ক। সকালবেলা ৫টা থেকে ৮টা অব্দি খোলা থাকে রোজ। পার্কের কেয়ারটেকার শিবু। শিবু দাস। খুব আলাপী এবং সহজ মানুষ। ঘুরে ঘুরে সবার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে। 
কয়েকদিন আগে আমাকে বলল, স্যার এই চিঠিটা একটু পড়ে দেখবেন। আমি বললাম,কী ব্যাপার? শিবু জানাল, ওদের বাড়ি ক্যানিং।

বাড়িতে থাকে ওর বউ, ১৫ বছরের একমাত্র ছেলেকে নিয়ে।  কিন্তু গত পরশু রাতে বউ এক অন্য পুরুষের সঙ্গে চলে গেছে, ছেলেকে ফেলে রেখে।
আমার মনে হল লোকাল থানায় ঘটনাটা জানানো দরকার। কারণ, খারাপ কিছু ঘটলে আমি ফেঁসে যেতে পারি । ঠিক আছে কিনা একটু পড়ে দেখবেন ! পড়ে দেখে জিজ্ঞাসা করলাম,কে লিখে দিয়েছে? একদম ঠিক আছে। থানায় জমা দিয়ে এক কপি স্ট্যাম্প সহ সই করিয়ে নেবে।  
দিন সাতেক পরে পার্কে হাঁটতে গিয়ে দেখি একটি ১৫-১৬ বছরের ছেলে ওর ঘরে। জিজ্ঞাসা করতে বলল, ওর ছেলে। ও আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিল। পাড়ার লোকেরা ধরে হাসপাতালে ভর্তি করে দিয়েছিল। সেখান থেকে নিজের কাছে নিয়ে এলাম। বললাম,খুব ভালো করেছ। এখন এখানেই থাক। বাড়ি যেতে দেবে না।

এর দিন পাঁচেক পরে দেখি এক মধ্যবয়স্কা মহিলা ওর ঘরে। শিবু ছুটে এসে বলল, বউ ফিরে এসেছে।  আমি কিছু না বলতেই বলল, ওকে স্টেশনে ফেলে রেখে লোকটা পালিয়ে গেছে।
আমি মূদু হেসে বললাম, যাক এবার জমিয়ে সংসার করো। ছেলে বউকে নিয়ে ।এখানে। দেশের বাড়ি তালাবন্ধ থাক। শিবু মাথা নাড়তে নাড়তে গেটের দিকে এগিয়ে গেল বাজার করতে।








আরও পড়ুন 👇🏾👇🏾

https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/07/ankurisha-emagazine-bengali-poem-in_80.html

বৃহস্পতিবার, ২২ জুলাই, ২০২১

আষাঢ়ে গপ্প কথা -৭।। ড. রমলা মুখার্জী।। Ankurisha ।। E.Magazine । Bengali poem in literature ।।

 




'

আষাঢ়ে গপ্প কথা -৭

ড. রমলা মুখার্জী



মুদ্রাদোষ  


আমার এক ডাক্তার জ্যাঠামশাই ছিলেন, খুব নামডাক ছিল তাঁর। কিন্তু তাঁর প্রতি কথাতেই 'ইয়ে আরকি' বলা মুদ্রাদোষ ছিল। খুব তাড়াতাড়ি কথা বলার কারণে 'ইয়ে আরকি'টা  শুনতে লাগত 'ইয়ার্কি'। 
  পুরনো রুগীরা ব্যাপারটা জানতেন। একদিন এক নতুন রুগী এসে বলল, "ডাক্তারবাবু কাল রাত থেকে খুব বমি হচ্ছে।"
জ্যাঠামশাই বললেন, "ইয়ার্কি, খুব বমি হচ্ছে?"
- সত্যি বলছি ডাক্তারবাবু, খুব বমি হচ্ছে।
- ইয়ার্কি, কতবার হয়েছে?
-ইয়ার্কি নয় ডাক্তারবাবু, বার সাতেক তো হবেই।
আমার মেজাজী জ্যাঠামশাই রেগে বললেন, ইয়ার্কি কে করল? আমি ইয়ার্কি করেছি? ইয়ার্কি অনেকবার জল খাবেন। ইয়ার্কি নুন চিনির জল বারে বারে খান। 
রুগীর ততক্ষণে মালুম হয়েছে যে ঐ ইয়ার্কিটা মুদ্রাদোষ। 
  রুগীরা আড়ালে আমার জ্যাঠামশাইকে "ইয়ার্কি" ডাক্তার বললেও জটিল রোগব্যধি হলে ধন্বতরীর কাছেই তারা ছুটে আসত, এমনকি তিনি গরীব রুগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসাও করতেন। 









আপনিও এই বিভাগে আপনার মৌলিক ও অপ্রকাশিত লেখাটি পাঠিয়েদিন। প্রকাশিত হবে অঙ্কুরীশা-র পাতায় সম্মানের সাথে।

মেল করুন - ankurishapatrika@gmail.com


বুধবার, ২১ জুলাই, ২০২১

আষাঢ়ে গপ্প কথা -৬।। সমাজ বসু।। Ankurisha ।।E.Magazine ।।Bengali poem in literature ।।




আষাঢ়ে গপ্প কথা -৬

সমাজ বসু


 সমাধান



   
      খবরটা গতকাল শোনার পর থেকেই সুবিনয় ভীষণ দমে গেছে। নিজের ভেতর নিজেকে শামুকের মত গুটিয়েও যেন অস্বস্তি কাটছে না। চিন্তায় চিন্তায় কাল রাতে ঘুমটাও ঠিক মত হয়নি।  পাড়ার দোকানে পাউরুটি আনতে গিয়ে খবরটা পেয়েছে। বিশাখাকে কিছুতেই বলা যাবে না। ভীষণ ভয় পেয়ে যাবে। মনোময়ের করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে। বছর দেড়েক হল দুজনে একই দিনে চাকরি থেকে অবসর নিয়েছে। সেই হাসি ঝলমলে মুখটা আজ ভীষণভাবে মনে পড়ছে। মনোময় কি উপসর্গগুলো গোপন করেছিল? মনোময়ের মত তারও যদি হঠাৎ পজিটিভ ধরা পড়ে? ভাবতেই পারে না সুবিনয়। একটা ভয় লাউডগা সাপের মত তার চিন্তাকে জড়িয়ে ধরে। বিশাখার কি হবে? জীবনের সব চাওয়া পাওয়া,সব খতিয়ান নিমেষে শেষ হয়ে যাবে। মনে মনে একটা সমাধান খোঁজে সে।
      

        রাতে খাওয়ার পর ক্লান্ত বিশাখা শুয়ে পড়তেই নিঃশব্দে বারান্দায় এসে দাঁড়ায় সুবিনয়। তারায় সাজানো ঝকঝকে আকাশ। দশমীর চাঁদ ভাসছে। দূরে আকাশছোঁয়া আবাসনগুলোর বিন্দু বিন্দু আলো। চরাচর জুড়ে শুধুই নিস্তব্ধতা।এত নিস্তব্ধতা সে আগে কখনো দেখেনি। জীবনটা খুব পলকা লাগছে তার কাছে। একরাশ মনখারাপের চাদর জড়িয়ে ঘরের ভেতর পা রাখে। বিশাখার দিকে একবার তাকায়। বড় মায়া হয় তার। ভাবে একবার ডেকে সব বলবে। কিন্তু পরক্ষণেই মনে হয়,না থাক্,এতবড় নিষ্ঠুর সত্যিকে সে মেনে নিতে পারবে না। খুব সন্তর্পনে আলমারি থেকে ব্রিফকেসটা বের করে আনল সুবিনয়। তারপর একে একে প্লাস্টিকের ফাইল কভার। এইগুলোর ভেভরেই বন্দী আছে সব হিসেব নিকেশ। জীবনধারন আর জীবনযাপনের যাবতীয় নথিপত্র। কর্তব্য, দায়বদ্ধতার খতিয়ান। ফিক্সড ডিপোজিটের কাগজপত্র, কর্পোরেশনের পেপার, কিছু শেয়ারের কাগজ আর মেডিক্লেমের দলিল। সব,সবগুলো থরে থরে সাজিয়ে ব্রিফকেসটা বন্ধ করে একটা শান্তির প্রশ্বাস নিল সুবিনয়। আর কোন ভয় নেই। চিন্তাও নেই। তার অবর্তমানে কোথায় হাতড়িয়ে বেড়াবে বিশাখা?অথচ বিশাখার প্রতি তার এতটুকু ফাঁকি নেই। তার বিন্যস্ত জীবনের ছবি সে অনেক আগেই এঁকে রেখেছে। সবাইকে একদিন চলে যেতে হবে। কিন্তু বড় অসময়ের এই যাওয়া।বড় অপ্রত্যাশিত। তাই এত প্রস্তুতি। এত আয়োজন। পরশু দিন মেয়ে আর জামাইয়ের হাতে ব্রিফকেসটা তুলে দিতে পারলেই নিশ্চিন্তি। তারপর মহাপ্রস্থানের পথে যেতে হলে অনেক নির্ভার যেতে পারবে সুবিনয়।







আরও পড়ুন 👇🏾👇🏾

https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/07/ankurisha-emagazine-bengali-poem-in_02099228479.html




সোমবার, ১৯ জুলাই, ২০২১

আষাঢ়ে গপ্প কথা -৪।। মিতা নাগ ভট্টাচার্য।।Ankurisha ।। E.Magazine ।।Bengali poem in literature ।।

 






আষাঢ়ে গপ্প কথা -৪

মিতা নাগ ভট্টাচার্য



আর্জেন্ট 



খুব দ্রুত হাঁটতে হাঁটতে ওষুধের দোকান অবধি এসে একবার দম নেয় লীনা। মায়ের প্রেসারের ওষুধ নিতে হবে। বাইরে অবধি লাইন ,বড্ড রোদ আজকাল রোদ চড়লে লীনার কষ্ট হয়।

  বাবা মারা যাবার পর থেকে মায়ের ওষুধ , আরো অনেক কিছুই লীনার ব্যবস্হা করে।লক গাউন , ছেলের বাবার আপত্তি সত্ত্বেও বের হতে হয়েছে।দমদম থেকে শ্যামনগর এসে ছে গাড়ি ভাড়া করে।মা বারবার না করেছেন,এ পরিস্হিতি তে একদম দেখা করতে আসার দরকার নেই। লীনা মনে মনে জানে দরকার‌আছে, এই মায়ের কাছে আসাটুকু একমাত্র অক্সিজেন।

সারাদিন ঐ বাড়িতে  সকলের চাহিদা মেটাতে গিয়ে তার নিজের শরীরটা নিয়ে ভাবার সময় নেই,আজ মায়ের কাছে আসামাত্রই বিজয়া মেয়েকে জড়িয়ে কেঁদে ফেললেন। করোনা আতঙ্ক, হঠাৎ লকডাউন মনে হচ্ছিল যদি মেয়েটার সঙ্গে আর দেখা না হয়।
মাকে জড়িয়ে ধরে এ বয়সে ও কী এক নির্ভরতা।সারাজীবন যদি মাকে কাছে রাখা যায়।

   কতক্ষনে  তার লাইন আসবে, ফিরতে হবে। টাইম নির্দিষ্ট করা ভাড়া গাড়ি,।দেরী করলে বাড়ি ফিরে অশান্তি। হঠাৎ কানে আসে,-"প্লিজ আমাকে এগিয়ে যেতে দিন আমার আর্জেন্ট ওষুধটা দরকার।"প্লিজ কেউ একটু,__"
কেউ যেন শুনতে পায় নি। লীনার পালা এখন। সে ডাক দেয়,"আসুন  আসুন, আপনি নিয়ে,,,,।
  লীনাও যে মায়ের জন্য‌ই।  












আরও  পড়ুন 👇🏾👇🏾

https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/07/ankurisha-emagazine-bengali-poem-in_18.html



রবিবার, ১৮ জুলাই, ২০২১

আষাঢ়ে গপ্প কথা -৩।। স্মৃতি শেখর মিত্র।। Ankurisha ।।E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 





আষাঢ়ে গপ্প কথা -৩

স্মৃতি শেখর মিত্র





টান


 মাকে প্রণাম করে যখন বেরিয়ে আসছে শুভব্রত তখনও পূব আকাশে দু একটা তারা জেগে আছে।ফাগুনের ভোরের মিষ্টি হাওয়া, কোকিলের পাগল করা ডাক, তার ভালবাসার গ্ৰাম ছেড়ে, শিলাবতী নদীর মায়াটান ছেড়ে কিছুতেই কোলকাতা যেতে ইচ্ছে নেই কিন্তু ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাকে কোলকাতা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতেই হয়েছে।কজনাই বা কোলকাতার প্রেসিডেন্সী কলেজে পড়ার সুযোগ পায়? তাই কোন কুলকিনারা না পেয়ে সে ধীর পদক্ষেপে শিলাবতী নদীর জলস্পর্শ করে হেঁটে হেঁটে বাস ধরতে গেল বাগদা বাস স্ট্যান্ড। পুরুলিয়ার বাস। পুরুলিয়া থেকে ' রূপসী বাংলা' এক্সপ্রেস ট্রেন ধরে পাড়ি দেবে কোলকাতার উদ্দেশ্যে।একটা গভীর ব্যথা নিয়ে তার আবাল্য সঙ্গী গ্ৰামকে ছেড়ে যেতে হচ্ছে।

এ অনুভবে সে বিমর্ষ আজ যে মা ও মাটির টান
এতদিন তাকে শক্ত করে বেঁধে রেখেছিল এই গ্ৰামে।












অঙ্কুরীশা সাহিত্য পত্রিকা

-----------------------------------------------

🙏🙏লেখা পাঠান 🙏🙏 লেখা পাঠান 🙏🙏

---------------- ---------------- --------------------------------

✍️✍শুরু হলো অঙ্কুরীশা ই-ম্যাগাজিনে 'আষাঢ়ে গপ্প কথা' বিভাগ।

✍🏾 এই বিভাগ আজ থেকে  ৩০শে আগষ্ট ২০২১ পর্যন্ত  ক্রমশ  চলবে।

✍🏾✍🏾 এই বিভাগে ১০০ - ১২০ শব্দের মধ্যে গল্প মেল বডিতে টাইপ করে  পাঠানোর আবেদন জানাই।

🙏🙏 কোন প্রকার ছবি বা পিডিএফ  ফাইল গ্রহণ   যোগ্য  নয়।

✍🏾✍🏾 লেখা  অবশ্যই  মৌলিক ও অপ্রকাশিত  হতে হবে।

🙏এই বিভাগে আপনিও আপনার মৌলিক ও অপ্রকাশিত লেখা আজই  পাঠান। 👇👇👇

✍🏾✍🏾মেল-  ankurishapatrika@gmail.com

✍️🙏আপনার এই পাঠানো  লেখাটি অঙ্কুরীশা-য় সম্মানের সাথে প্রকাশিত হবে।

নমস্কার।

ভালো থাকুন।

সুস্থ থাকুন।

সম্পাদক,

অঙ্কুরীশা






শনিবার, ১৭ জুলাই, ২০২১

আষাঢ়ে গপ্প কথা -২।। অমিত কাশ‍্যপ।। Ankurisha ।। E.Magazine ।।Bengali poem in literature ।।

 




আষাঢ়ে গপ্প কথা -২


অমিত কাশ‍্যপ

দোলনা




সেদিন ছিল সকাল থেকেই আকাশের মুখ ভার। কখনো ছিঁটেফোঁটা, কখনো শুধুই মেঘলা। মেঘ যেন ঝুলে আছে আকাশের গা থেকে। বাজার দোকান সবই ফাঁকা।

বিকেল গড়িয়ে সন্ধে নামতেই এল সেই ভয়ংকর বৃষ্টি। হাওয়ার দাপট আর বৃষ্টি। কিছু পর কমল বটে। কিন্তু হাওয়া আর ঠান্ডা। আষাঢ় মাস হলে কি হবে।

বৃষ্টি এল, প্রবল নয়। রাতের খাওয়া শেষ হয়ে গেল ন'টার মধ্যে। অন্য দিন এগারোটা হয়। শহরতলি। বড় বড় বাড়ি, এখনো গাছপালা, পুকুর আছে। 

পুচকি, বছর পাঁচেক। ওর কাকা আমগাছে এক দোলনা ঝুলিয়েছে। সারাদিন ওখানেই। এখন স্কুল নেই। বৃষ্টির দাপট দেখে ওর কাকা বেঁধে দিল দোলনা আমগাছে। 

সবাই আমরা শুয়ে পড়েছি। রাত কত হবে জানা নেই। বৃষ্টি নেই। শান্ত ত্রিভুবন। হঠাৎ জানালায় চোখ যেতে মনে হল, দোলনা দুলছে। আবার ভালো করে দেখতে সন্দেহ অমূলক হল। দোলনা দুলছে। আধোআলোয় কেউ কোথাও নেই, দোলনা দুলছে।












অঙ্কুরীশা সাহিত্য পত্রিকা

-----------------------------------------------

🙏🙏লেখা পাঠান 🙏🙏 লেখা পাঠান 🙏🙏

---------------- ---------------- --------------------------------

✍️✍শুরু হলো অঙ্কুরীশা ই-ম্যাগাজিনে 'আষাঢ়ে গপ্প কথা' বিভাগ।

✍🏾 এই বিভাগ আজ থেকে  ৩০শে আগষ্ট ২০২১ পর্যন্ত  ক্রমশ  চলবে।

✍🏾✍🏾 এই বিভাগে ১০০ - ১২০ শব্দের মধ্যে গল্প মেল বডিতে টাইপ করে  পাঠানোর আবেদন জানাই।
🙏🙏 কোন প্রকার ছবি বা পিডিএফ  ফাইল গ্রহণ   যোগ্য  নয়।

✍🏾✍🏾 লেখা  অবশ্যই  মৌলিক ও অপ্রকাশিত  হতে হবে।
🙏এই বিভাগে আপনিও আপনার মৌলিক ও অপ্রকাশিত লেখা আজই  পাঠান। 👇👇👇

✍🏾✍🏾মেল-  ankurishapatrika@gmail.com

✍️🙏আপনার এই পাঠানো  লেখাটি অঙ্কুরীশা-য় সম্মানের সাথে প্রকাশিত হবে।

নমস্কার।
ভালো থাকুন।
সুস্থ থাকুন।

সম্পাদক,
অঙ্কুরীশা