লেবেল

ভালোবাসার কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ভালোবাসার কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

শুধু কবিতায়... ভালোবাসার কবিতা -৩।। অহনা দত্ত।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



ভালোবাসার কবিতা -৩

অহনা দত্ত




ফিরে আসা


সেই যে তাকে অপেক্ষায় দাঁড় করিয়ে রেখে, 

দেশ সেবার নিমিত্তে চলে গেছিল তার প্রেমিক।

কথা দিয়েছিল ফিরে আসবে সে। 

প্রতিজ্ঞা রেখেছিল, ফিরে এসেছিল,  

কিন্তু পায়ে হেঁটে নয়, কফিন বন্দী হয়ে। 

মেনে নিতে পারেনি তার প্রেমিকা, 

প্রেমিকের প্রত্যাবর্তনের ধরনটা।

জীবিত শরীরে মৃত মন নিয়ে আজও সে বর্তমান। 


বিধবা মায়ের আর্শীবাদ নিয়ে

রওনা হয়েছিল সেই প্রেমিক। 

জানতনা তারা, এটাই যে শেষ সাক্ষাৎ। 

অশ্রুস্নাত চোখে আর শীলাসম মনের জোরে,

তিনি বিদায় জানিয়েছিলেন পুত্রকে।

মাসখানেক পরে কফিন সজ্জায়, 

ছেলের বাড়ি ফিরে আসা 

আবারও উস্কে দেয় সেই পুরোনো স্মৃতিকে।

তার মতো তার পিতাও ফিরে এসেছিল,

একইভাবে, নিদ্রিত অবস্থায়।

শুধু কবিতায়... ভালোবাসার কবিতা -২।। বিশ্বেশ্বর রায় ।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



ভালোবাসার কবিতা -২

বিশ্বেশ্বর রায়   


 

বুকের মধ্যে দুষ্টু পাখি  


আঙুলগুলোয় জড়িয়ে আছে অন্য আঙুল,

মুঠির মধ্যে ভরসা খোঁজে অন্য মুঠি,

উচ্চে তুলে আজ সারাদিন তুচ্ছ লাঙুল

যেথায় খুশি উধাও হয়ে কাটাই ছুটি।

হাতের মধ্যে হাত আছে তাই বন্ধু দু'জন,

দিতে পারি দিব্যি পাড়ি অনেক যোজন।

বুকের মধ্যে দুষ্টু পাখির মধুর কূজন,

এমন আকাশ ডিঙিয়ে যেতে পারে ক'জন!

শীতের হাওয়া মিলিয়ে গেছে, বসন্ত আজ

দুয়ার ধরে দিচ্ছে নাড়া, দাও না খুলে,

প্রকৃতি আজ ঘোমটা খুলে ভেঙেছে লাজ,

দুই অধরের হোক না মিলন মধুর ভুলে।

আঙুল ছোঁয়া মানেই জানি হৃদয় ছোঁয়া,

শিরায় শিরায় রক্তস্রোতের কলধ্বনি,

মনের মধ্যে বিশ্বাস আর ভরসা পাওয়া,

বিসর্জনের ঘন্টা তা নয়, আগমনী।

এই জাগরণ এই শিহরণ এ বিশ্বাসে 

আঙুলগুলো জড়িয়ে রবে টালমাটালেও,

কালের স্রোতে ছিন্ন হয়ে না যাই ভেসে

ঠোকাঠুকির ঠুনকো আঘাত কেউ ঘটালেও।

                             

রবিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

শুধু কবিতায়... ভালোবাসার কবিতা -১।। অনিন্দিতা শাসমল।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




ভালোবাসার কবিতা -১

অনিন্দিতা শাসমল



আজও আমি 



এখনো আমি আগের মতোই আছি

তুমিই শুধু বদলে গেছো বেশ ,

হাত বাড়িয়ে ছুঁতে গিয়েই দেখি

নেইতো তুমি ! আছে তোমার রেশ !


আজও আমি সকাল হলে পাই

চোখের পাতায় চেনা ঠোঁটের ছোঁয়া,

অপাপবিদ্ধ তোমার হাসিমুখ

আজও দেখি তেমনি শিশির ধোয়া।


শালের বনে ট্রেন ছুটে যায় যখন

জানালা খুলে বৃষ্টি ছুঁতে চাই..

আনমনে যে কখন আগের মতো 

বেভুল মনে ডায়াল করতে যাই !


আজও আমি বাসের সিটে বসে

ঘুমের ঘোরে স্বপ্নে তোমায় পাই,

ভুল করে সেই আগের মতো আমি

তোমার কাঁধেই মাথা রাখতে যাই...


মাথার ওপর আগুন ঝরে যখন

ফাঁকা রাস্তায় ক্লান্ত তোমার মুখ,

খোলা চুলে সূর্য আড়াল করে

আজও আমি তেমনই পাই সুখ।


আজও আমি ঘুমজড়ানো ভোরে

মিষ্টি একটা স্বপ্ন দেখি রোজ,

তুমি-আমি একটা কফির কাপে

অবাক চোখে সারা বিশ্বের খোঁজ ! 


এমনি করেই সঙ্গে থেকো আমার

যেমন ছিলে দিনরাত্রির ছায়ায়,

দূরে গেলেও জীবন জুড়ে থেকো

চিরদিনের ভালোবাসায়, মায়ায়।

রবিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

ভালোবাসার গল্প ।। বিষাদেও আনন্দ - ঊষা দত্ত ( বহ্নি শিখা) ।। Ankurisha।E.Magazine । Bengali Poem in literature।

 



ভালোবাসার গল্প  



বিষাদেও আনন্দ

ঊষা দত্ত ( বহ্নি শিখা)  



বেকার মানুষের কোন দাম নাই। 


মা'য়ের বেড়ে রাখা ভাতের প্লেট কোলে টেনে নিয়েও না খেয়ে উঠে গেলো পিয়াস।


বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে গেছে মায়াবী খাল। নামটাই  তার মায়াবী।  টলটলে জল। মফস্বল শহরের পৌরসভার সচেতন চেয়ারম্যান সমীরবাবুর  বদৌলতে বাঁধাই করা খালের পাড়। সাধারণের বসার জায়গাটাও পাড় ঘেষে খুব সুন্দর। সারি সারি ফলের আর বাহারিফুলের গাছে দৃষ্টি চলে যায় বহুদূর। 


খালের জলের মনে প্রশান্তি। শিরশির বাতাসে  তিরতির বয়ে যায় চুড়ি ঢেউ তুলে। ওর মনে চলার আনন্দ।  মনে মনে সমীরবাবুকে ধন্যবাদ দেয়। তাকে জঞ্জাল মুক্ত আর পাড় বাঁধিয়েছে বলে। 

ইট সিমেন্টের চেয়ারে বসা অনেক মানুষ। প্রাতঃভ্রমণের খানিক বিরতিতে চা দোকানে ভিড়। 

পিঠে রোদ নিয়ে বসে আছে অনেক অকর্মা  মানুষ। গপ্পের ডালপালা মুখে  থেকে মুখে পল্লব ছড়ায়। ঘরের কোন থেকে শুরু করে  আন্তর্জাতিক কোন খবরই বাদ থাকে না।  

উনুনে কেটলি ভরা জল, দুধ চা' টগবগ ফুটছে। চা দিয়ে কুল পাচ্ছে না পলাশ।  দোকানে উত্তাপ, চা য়ের কাপে উত্তাপ,উত্তাপ নেই পলাশের ঠোঁটে। অর্ধেক নগদ। আর সব বাকির । বাকি খাওয়াদের জন্যই নগদ  কাস্টমার পেয়েছে পলাশ৷  তাই রাগ হলেও কিছু বলে না। ওরা পাওনা মিটিয়ে দেয় টাকা হলে। 

ততক্ষণে পিয়াস চুলার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। চা টা সে নিজের হাতে বানিয়ে খায়। পলাশ কিছু বলে না। পাশাপাশি বাড়ি। 

পলাশ বলেছিলো আমার দোকানটা তুই ভাড়া নে। যা হয় দিস। রাজি হয়নি। চাকরির আশায়। একলাখ টাকা হলে স্কুলের চাকরিটা পেয়ে যেতো। পয়সায় কুলিয়ে ওঠলো না। যা ছিলো করোনাকালিন সময়ে শেষ। কেউ টিউশনে নিচ্ছে না। 

বাবার হার্টএর সমস্যা। চুপচাপ শুয়ে থাকে। মা লুকিয়ে শহরে কাজ করতে যায়।  পিয়াস শুধু দেখে। দু'নম্বরি কিছু করতে পারে না।  জ্যোতির সাথে পিয়াসের সম্পর্কটা একেবারে শেষ হয়ে গেলো গতরাতে। একবাটি দামী  আইস্ক্রিমের বিল দিতে পারেনি বলে। 

নতুন বছর থেকে  পলাশের পায়ে দাঁড়ালো পিয়াস। ব্যাগে স্বযত্নে রাখা কিছু কাগজ  দিয়ে চা'য়ের উনুন ধরিয়ে নিঃশ্বাস ছাড়ার সাথে সাথে জ্যোতিকেও মিশিয়ে দিলো বাতাসে। 

 



  আরওপড়ুন  👇👇

https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/02/ankurisha-emagazine-bengali-poem-in_13.html