লেবেল

রবিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

ভালোবাসার গল্প ।। বিষাদেও আনন্দ - ঊষা দত্ত ( বহ্নি শিখা) ।। Ankurisha।E.Magazine । Bengali Poem in literature।

 



ভালোবাসার গল্প  



বিষাদেও আনন্দ

ঊষা দত্ত ( বহ্নি শিখা)  



বেকার মানুষের কোন দাম নাই। 


মা'য়ের বেড়ে রাখা ভাতের প্লেট কোলে টেনে নিয়েও না খেয়ে উঠে গেলো পিয়াস।


বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে গেছে মায়াবী খাল। নামটাই  তার মায়াবী।  টলটলে জল। মফস্বল শহরের পৌরসভার সচেতন চেয়ারম্যান সমীরবাবুর  বদৌলতে বাঁধাই করা খালের পাড়। সাধারণের বসার জায়গাটাও পাড় ঘেষে খুব সুন্দর। সারি সারি ফলের আর বাহারিফুলের গাছে দৃষ্টি চলে যায় বহুদূর। 


খালের জলের মনে প্রশান্তি। শিরশির বাতাসে  তিরতির বয়ে যায় চুড়ি ঢেউ তুলে। ওর মনে চলার আনন্দ।  মনে মনে সমীরবাবুকে ধন্যবাদ দেয়। তাকে জঞ্জাল মুক্ত আর পাড় বাঁধিয়েছে বলে। 

ইট সিমেন্টের চেয়ারে বসা অনেক মানুষ। প্রাতঃভ্রমণের খানিক বিরতিতে চা দোকানে ভিড়। 

পিঠে রোদ নিয়ে বসে আছে অনেক অকর্মা  মানুষ। গপ্পের ডালপালা মুখে  থেকে মুখে পল্লব ছড়ায়। ঘরের কোন থেকে শুরু করে  আন্তর্জাতিক কোন খবরই বাদ থাকে না।  

উনুনে কেটলি ভরা জল, দুধ চা' টগবগ ফুটছে। চা দিয়ে কুল পাচ্ছে না পলাশ।  দোকানে উত্তাপ, চা য়ের কাপে উত্তাপ,উত্তাপ নেই পলাশের ঠোঁটে। অর্ধেক নগদ। আর সব বাকির । বাকি খাওয়াদের জন্যই নগদ  কাস্টমার পেয়েছে পলাশ৷  তাই রাগ হলেও কিছু বলে না। ওরা পাওনা মিটিয়ে দেয় টাকা হলে। 

ততক্ষণে পিয়াস চুলার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। চা টা সে নিজের হাতে বানিয়ে খায়। পলাশ কিছু বলে না। পাশাপাশি বাড়ি। 

পলাশ বলেছিলো আমার দোকানটা তুই ভাড়া নে। যা হয় দিস। রাজি হয়নি। চাকরির আশায়। একলাখ টাকা হলে স্কুলের চাকরিটা পেয়ে যেতো। পয়সায় কুলিয়ে ওঠলো না। যা ছিলো করোনাকালিন সময়ে শেষ। কেউ টিউশনে নিচ্ছে না। 

বাবার হার্টএর সমস্যা। চুপচাপ শুয়ে থাকে। মা লুকিয়ে শহরে কাজ করতে যায়।  পিয়াস শুধু দেখে। দু'নম্বরি কিছু করতে পারে না।  জ্যোতির সাথে পিয়াসের সম্পর্কটা একেবারে শেষ হয়ে গেলো গতরাতে। একবাটি দামী  আইস্ক্রিমের বিল দিতে পারেনি বলে। 

নতুন বছর থেকে  পলাশের পায়ে দাঁড়ালো পিয়াস। ব্যাগে স্বযত্নে রাখা কিছু কাগজ  দিয়ে চা'য়ের উনুন ধরিয়ে নিঃশ্বাস ছাড়ার সাথে সাথে জ্যোতিকেও মিশিয়ে দিলো বাতাসে। 

 



  আরওপড়ুন  👇👇

https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/02/ankurisha-emagazine-bengali-poem-in_13.html




1 টি মন্তব্য: