লেবেল

ধারাবাহিক উপন্যাস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ধারাবাহিক উপন্যাস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই, ২০২১

ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-১৪)।। ছায়া- ছায়া অন্ধকারের আড়ালে — অনন্যা দাশ।। Ankurisha ।। E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 





ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-১৪)

ছায়া - ছায়া অন্ধকারের আড়ালে 




অনন্যা দাশ 


ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম আমি। সাড়ে সাতটা বাজে। সেই কাল বিকেল থেকে এখানে লুকিয়ে বসে আছি আমি। কিন্তু এভাবে তো চলবে না। আমাকে কিছু একটা করতে হবে। এখানে বসে থেকে অনেক ভাবনা চিন্তা করে আমি আরো বেশি করে বুঝতে পারছি যে ঐশী আমার মনের ভুল নয়, সে আছে। এখন ওর আসল নাম ঐশী কিনা আমি জানি না। আর আমার কেন জানি না বার বার মনে হচ্ছে গোপাদির বাড়িতে দেখা ওই ঘটনাটার সঙ্গে আমার এই দশর কিছু একটা যোগাযোগ আছে। কিন্তু কী সেটাই বুঝতে পারছি না। নাহ, এখান থেকে বেরতেই হবে আমাকে! এখানে বসে থাকলে আমার কোন লাভ হবে না। অলরেডি একটা দিন কামাই করে ফেলেছি ল্যাবে। আর বেশি কামাই করলে আমার বস নির্ঘাত আমাকে তাড়িয়ে দেবে। অথচ আমি যে কাজ করিনি তার জন্যে আমাকে জেলে পুরে দেওয়া হবে সেটাও তো ঠিক মেনে নেওয়া যায় না! তাছাড়া জেলে গেলেও তো আমার এ দেশে আর থাকা চলবে না, আমাকে ডিপোর্ট করে ইন্ডিয়া পাঠিয়ে দেবে এরা। দেশে ফিরে যেতে এমনিতে আমার কোন আপত্তি নেই কিন্তু এতদিন ধরে করা কাজগুলো জলে যাবে সেটা ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে। আর পি এইচ ডি টাও হবে না! খাবারও আনতে হবে কিছু। ওই প্রোটিন বার খেয়ে খেয়ে বোর হয়ে গেছি আমি। মানে লোকে শুনলে হয়তো বলবে কী মেয়ে রে বাবা! এত বিপদের মধ্যেও খাবারের কথা ভাবছে! কিন্তু ওই মিষ্টি আর বিস্বাদ খেতে বার আর কতক্ষণ খাওয়া যায়? তাছাড়া বসে বসেও পায়ে হাতে ব্যথা হয়ে গেছে। শুধু কয়েকবার লুকিয়ে মুখে মাস্ক পরে বাথরুমে গেছি মাত্র, এ ছাড়া আর কোথাও যায়নি! মুখে মাস্ক পরলে লোকে মনে করে ছোঁয়াচে রোগ তাই দূরে থাকে!

আরো কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে সাড়ে আটটা নাগাদ যা থাকে কপালে বলে বেরিয়ে পড়লাম। ততক্ষণে অন্ধকার হয়ে গেছে। রাতের আঁধারে গা ঢাকা দিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। এদিকে গাড়িটা তো চাই নাহলে তো কোথাও যাতে পারব না ভেবে চট করে গাড়িটার কাছে পৌঁছে গেলাম। অ্যাপার্টমেন্টের পার্কিং লটেই গাড়িটা পার্ক করে রাখা ছিল। ওমা দেখি কে যেন চারটে চাকাই ফালা ফালা করে দিয়েছে! আর চাকা ওই ভাবে ফালা ফালা করাটা মোটেই সহজ নয়! কে করল কাজটা? মনটা খারাপ হয়ে গেল। চাকা বদল করা অনেক ডলারের ধাক্কা! পুলিশ করল কী? যাতে আমি কোথাও যেতে না পারি সেই ভেবে?

যাক আমার পার্সটা আমার সঙ্গে রয়েছে। আমি একটা বাসে চড়ে বসলাম। এখানে বাস টাস খুব একটা বেশি নেই তবে আছে। বেশি লোক নেই। যারা আছে তারাও দিনের শেষে ঝিমোচ্ছে। আমি পাশের সিটে কার একটা ফেলে রেখে যাওয়া খবরের কাগজটাকে দেখছিলাম। সেটাতেই হঠাৎ চোখে পড়ল গোপাদির বর গৌতমদার মুখ! কোন এক স্থানীয় কাউন্টি ইলেকশানে দাঁড়িয়েছেন উনি! বাহ সেটা তো বেশ গর্বের ব্যাপার! বিদেশি হয়ে এদেশে এসে...

বাসটা আমাকে নিয়ে গিয়ে যেখানে নামাল সেখান থেকে গোপাদির বাড়ি মিনিট দশেকের পথ। ওদের বাড়ির নম্বরটা মনে নেই তবে দেখলে চিনতে পেরে যাব।  

আমি গোপাদির বাড়ির দিকে হাঁটা দিলাম। নিজের মনেই হাঁটছিলাম। অন্ধকার রাস্তায় লোকজন বিশেষ নেই। তাছাড়া এটা হাঁটার রাস্তাও নয়। গাড়ির রাস্তার পাশে যে শোল্ডার সেটা দিয়ে হাঁটছি আমি। পাশ দিয়ে মাঝে মাঝে কয়েকটা গাড়ি সাঁ সাঁ করে বেরিয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ একটা গাড়ি দেখলাম আমার দিকেই ছুটে আসছে! এখানে তো পালাবার পথ নেই! আমার গলা শুকিয়ে গেল, পা যেন আর নড়ছিল না। আসন্ন মৃত্যুকে চোখের সামনে দেখতে পেলাম আমি। আমি সুপার ফিরো নই যে লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে বিশাল কিছু একটা করে ফেলব! এখানেই আমার জীবন শেষ এই রকম ভাবছি এমন সময় এক জোড়া শক্ত হাত আমাকে টেনে হিঁচড়ে ওই চলন্ত গাড়িটার সামনে থেকে সরিয়ে দিল! আমি হুমড়ি খেয়ে রাস্তায় গিয়ে পড়লাম আর আমার ঘাড়ের ওপর এসে পড়ল আমার রক্ষাকর্তা! তাকে চিনতে অবশ্য আমার কোন অসুবধা হল না – রোহন কুমার! ততক্ষণে ওর পার্টনার গাড়িটাকে লক্ষ করে গুলি করেছে। গোঁ গোঁ শব্দ করে গাড়ি ঘুরিয়ে নিয়ে আমাকে যে মারতে এসেছিল সে পালিয়ে গেল। 

রোহন কুমার উঠে গায়ের ধুলো ঝাড়তে ঝাড়তে রেজে মেগে বললেন, “তোমার কী আত্মহত্যার করার শখ হয়েছে? গাড়িটার সামনে হাঁ করে দাঁড়িয়ে ছিলে কেন?” বেশ আপনি থেকে তুমি হয়ে গেছে সেটা অন্যমনস্ক ভাবে খেয়াল করলাম। 

আমি তখনও রাস্তাতেই বসে আছি। ওঠার সাহস হচ্ছিল না কারণ আমার পা তখনও কাঁপছে। কোন রকমে বললাম, “জানি না, ভয়ে পাথর হয়ে গিয়েছিলাম মনে হয়! তোমরা এখানে কী করে এলে?”

“কী করে আবার? তোমার পিছু নিয়ে! তোমার গাড়িটার ওপর নজর রাখা হচ্ছিল। আমাদের মনে হয়েছিল কোথাও যেতে হলে ওই গাড়িটা তো লাগবে!”

“ও আমার গাড়ির চাকা বুঝি তোমরাই ফালা ফালা করেছো!”

“না, বিশ্বাস করো! আমরা করিনি। মনে হয় যে তোমাকে এখুনি মারতে চাইছিল ওটাও তারই কাজ। সেও অবশ্য তোমার পিছু নিয়ে এই খান পর্যন্ত এসে গেছে! কে হতে পারে এনি আইডিয়া?”

“না! আসলে একটা ঘটনার কথা আমার মনে পড়ল সেই জন্যে আমি গোপাদিদের বাড়ি যাচ্ছিলাম, উনি বা গৌতমদা যদি সেই ব্যাপারে কিছু বলতে পারেন।”

“কী ঘটনা?”

আমি বললাম। শুনে রোহন আর মেগান দুজনেই ভয়ঙ্কর উত্তেজিত হয়ে উঠল!

“ও মাই গড! তুমি ছাড়া আর কে দেখেছিল?”

“পলাশ ছিল তো আমার সঙ্গে! আসলে ওটা অ্যাটিকের একটা ঘর। আমাদের ওখানে যাওয়াটাই ঠিক হয়নি, মানে উচিতও ছিল না কিন্তু পলাশ বাড়ি দেখানোর উৎসাহে মত্ত হয়ে আমাকে ওখানে নিয়ে গিয়েছিল।”

“কারা ছিল কিছু মনে করতে পারছ?”

“না। না, আমি তো লজ্জায় এক ঝলকের বেশি তাকাইনি মোটেই। আমরা সঙ্গে সঙ্গেই বেরিয়ে এসেছিলেন যতদূর মনে পড়ছে মেয়েটার সোনালি চুল ছিল!”

“কিন্তু পলাশ মনে হয় দেখেছিল। ও বুঝতে পেরে কাউকে ব্ল্যাকমেল করছিল। সেটাই ওর কাল হল! তবে ওরা খুব চালাক। পলাশকে মারার জন্যে জায়গাটেয় নিয়ে গিয়েছিল তোমার ফোন ব্যবহার করে!”

আমি আর কী বলব, বললাম, “আমি ওই ফোন করিনি! আপনারাও কী আমার সঙ্গে গোপাদির বাড়িতে যাবেন?”

“হ্যাঁ, চলো!”

বাড়িতে তখন শুধু গোপাদি ছিলেন। আমাকে দেখে খুব আশ্চর্য হলেন। পরিচয় ইত্যাদি করিয়ে দিয়ে আমি বললাম, “আচ্ছা গোপাদি কয়েকমাস আগে তোমাদের বাড়িতে যে অনুষ্ঠানটা হয়েছিল সেটার কোন ছবি তোমার কাছে আছে? গ্রুপ ফটো হলে ভালো হয়!”

“ও হঠাৎ ছবি কেন চাই?”  

“একজনকে খুঁজছি। সে মনে হয় তোমাদের পার্টিতে ছিল!”  

“আমার ফোনে মনে হয় আছে কিছু। শঙ্কর তুলেছিল বেশ কয়েকটা আর গৌতমের ফোনেও কিছু আছে মনে হয়। দাঁড়াও দেখছি! কিন্তু কাকে খুঁজছ সেটা বললে সুবধা হত।”

আমি কোন উত্তর দিলাম না। কয়েকটা গ্রুপ ছবি দেখতে দেখতেই পেয়ে গেলাম মেয়েটাকে! লম্বা সোনালি চুল একদম অন্য রকম দেখতে মেয়েটাকে কিন্তু তাও এখন আমার ভুল হওয়ার জো নেই!

“আচ্ছা গোপাদি এই মেয়েটা কে বলতে পারবে?”

গোপাদি দেখে বললেন, “ও, ওটা তো জুলি! নয়ন আর লারাদের বেবি সিটার! এ ছাড়া ওর সম্পর্কে আমি বিশেষ কিছু জানি না। তুমি ওদের জিজ্ঞেস করে দেখতে পারো!”

আমি রোহন কুমারের দিকে ফিরে বললাম, “এটাই আমার রুমমেট ঐশী!”

“অ্যাঁ! সে কি!”

“হ্যাঁ, আমার সঙ্গে আমার বাড়িতে এই মেয়েটাই ছিল তিন মাস! আমার ডি আই ডি নেই বলেই মনে হচ্ছে!”



চলবে...





আরও পড়ুন 👇🏾👇🏾


https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/07/ankurisha-emagazine-bengali-poem-in_79.html

বৃহস্পতিবার, ১৫ জুলাই, ২০২১

ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-১২)।। ছায়া -ছায়া অন্ধকারের আড়ালে — অনন্যা দাশ।। Ankurisha ।। E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 






ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-১২)


ছায়া -ছায়া অন্ধকারের আড়ালে 

অনন্যা দাশ 



ওয়ারেন্ট জোগাড় করে রাত ন’টা নাগাদ রোহন কুমার আর তার পার্টনার দীপার বাড়ি এসে কড়া নাড়লেন। বাইরে থেকে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে যে ঘরে আলো জ্বলছে কিন্তু কেউ দরজা খুলল না। প্রায় দশ মিনিট ধরে কড়া নেড়ে বেল বাজিয়ে, ডেকে যখন কেউ দরজা খুলল না তখন বাধ্য হয়ে দরজা ভাঙতে হল। ভিতরে ঢুকলেন বন্দুক হাতে। মেয়েটার কোন বিপদ হল না তো? সব ঘরে আলো জ্বলছে কিন্তু কেউ নেই! সেল ফোন ল্যাপটপ কিছুই নেই। দীপার মোবাইলে ফোন করলেন, নাহ মোবাইল সুইচড অফ! ওকে ট্র্যাক করার তাহলে তো কোন উপায় থাকবে না।  



রোহন কুমার মার্কাসকে ফোন করে বললেন, “মেয়েটা মনে হয় বুঝতে পেরে গিয়েছিল যে আমরা ওকে অ্যারেস্ট করতে আসতে পারি তাই পালিয়েছে!”

“ঠিক আছে। আমি এয়ারপোর্ট, স্টেশান, বাস স্টপ ইত্যাদিতে অ্যালার্ট পাঠিয়ে দিচ্ছি। এই জায়গাটা ছেড়ে পালাতে পারবে না। ওর ছবি চারিদিকে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে তোমরা ওর বন্ধুদের বাড়িতে খোঁজ করে দেখো। কারো বাড়িতে যদি আশ্রয় নিয়ে থাকে।”

“আমার মনে হয় না, তাও আমরা দেখছি!” 


দীপার বন্ধু আর অন্যান্য চেনা কয়েকজনের বাড়িতে গিয়ে গিয়ে দেখলেন রোহন কুমার আর ওঁর পার্টনার। সুনেত্রা, মানে যাদের বাড়িতে পার্টি ছিল তাকে যখন বলা হল যে দীপাকে পলাশের মৃত্যুর জন্যে দোষী মনে করা হচ্ছে এবং তার ডিসোসিয়েটিভ পার্সোন্যালিটি ডিসর্ডার আছে তখন সুনেত্রার মুখ হাঁ হয়ে গেল। 

সব শুনে বললেন, “বাপরে! মেয়েটাকে আমরা নিরীহ ভাবতাম! আমাদের বাড়ির অনুষ্ঠানে তো বেশ কয়েকবার এসেছে। গোপাদের ওখানেও গেছে। আমি তো ভাবতেই পারিনি! পলাশ ছেলেটা খুব ভালো ছিল। কী দারুণ গান গাইত!ওর মৃত্যুতে আমরা সবাই মর্মাহত! বেচারার বিয়ে ঠিক হয়েছিল, সেই খবর পেয়ে কত আনন্দ করলাম আমরা সেদিন। কিসের থেকে কী হয়ে গেল!” বলে সুনেত্রা চোখের জল মুছলেন। ওনার কাছ থেকে নাম নিয়ে আরও কয়েকজনের কাছে নাম ঠিকানা নিয়ে তাদের বাইতেও গেলেন কিন্তু কোন ফল হল না। কেউ কিছুই বলতে পারল না। বাড়িওয়ালি, ডাক্তার মিত্র আর বসের সঙ্গে পরদিন কথা বলবেন ঠিক করে ক্লান্ত রোহন আর তার পার্টনার বাড়ির পথে রওনা হলেন।



আকাশে বিশাল বড়ো চাঁদ উঠেছে। সেই চাঁদের দিকে তাকিয়ে রোহন দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠলেন, “আই উইল ফাইন্ড ইউ! তোমাকে আমি খুঁজে বার করবই! ইউ ক্যান রান বাট ইউ ক্যানট হাইড। দৌড়ে পালাতে পারো তুমি কিন্তু কত দূর যাবে? লোকাতে তুমি পারবে না! ওই সব ডিসর্ডারের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারবে না তুমি! আমার হাত থেকে বেঁচে পালানো তত সহজ নয় জেনে রেখো! অনেক বাঘা বাঘারা হার মেনে নিয়েছে। একটা একরত্তি ভারতীয় মেয়ে যদি মনে করে সে আমাকে বোকা বানাবে তাহলে সে খুব ভুল ভেবেছে! আমি অত সহজে হাল ছাড়বার পাত্র নই সেটা আমাকে যারা চেনে তারা সবাই মোক্ষম জানে! আমার দেশে এসে খুন করে পালিয়ে যাবে সেটি হচ্ছে না! তোমায় ধরব আমি তারপর তুমি হয় জেলে পচবে না হয় দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হবে ডিপোর্টেড হয়ে!” 

বাড়ির দরজা খুলে ঘরে ঢুকতে কুকুর বক্সার লাফিয়ে এসে হাজির। ক্লান্ত হাতে ওকে আদর করে ওর ডিশে খাবার আর জল দিয়ে নিজে ফ্রিজ থেকে এক টুকরো পিজা বার করে মাইক্রো ওয়েভ করে নিয়ে খাবার টেবিলে বসলেন রোহন।  


বক্সার এসে ওনার পা চেটে দিল। ওর গায়ে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে অন্যমনস্ক হয়ে রোহন বিড়বিড় করে বলতে লাগলেন, “কী জানি বক্সার, বুঝতে পারছি না! কিছু ভুল করছি না তো? জানি না, দেখি কাল ডাক্তার মিত্র, মেয়েটার বস আর ওর বাড়িওয়ালির সঙ্গে কথা বলে দেখি। আজ রাতটা ভালো করে ঘুমোতে পারলে হয়!”

সত্যিই আন্দাজ করেছিলেন রোহন সেদিন রাতে ঘুম ছিল না কপালে! রাত তিনটে নাগাদ ফোনটা এল। দীপার বাড়িতে আগুন লেগেছে! দমকল নিভিয়েছে আগুন কিন্তু ভিতরের জিনিস পত্র অনেকই পুড়ে গেছে!

ফোনে খবরটা শুনে রোহন বললেন, “কী করে এটা হল? টিমের তো পাহাড়া দেওয়ার কথা ছিল না?”

“হ্যাঁ, ছিল তো। তবে অন্য কেউও মনে হয় নজর রাখছিল। বেচারা টিম বাথরুমে গিয়েছিল। ফিরে এসে দেখে ওই কান্ড! কে ঘরে ঢুকে এক ডাঁই জামাকাপড়ে আগুন লাগিয়ে দিয়ে পালিয়েছে! দীপা মেয়েটাই হবে। টিম ছিল বলে আগুনটা ছড়িয়ে পড়তে পারেনি নাহলে তো পুরো বাড়িটাই পুড়ে ছাই হয়ে যেত!”

“কী লাভ হল?”

“আমার মনে হয় কিছু প্রমাণ লোপাট করার চক্করে কাজটা করা হয়েছে! কিছু একটা পোড়াতে চাইছিল মেয়েটা বলেই পুড়িয়েছে!”

“হুঁ! ঠিক আছে আমি আসছি!”





ভয়ঙ্কর একটা দুঃস্বপ্ন দেখছিলাম আমি। আমি একটা গাড়ি চালাচ্ছিলাম খুব জোরে কিন্তু আমার গাড়ির ব্রেকটা কাজ করছিল না। হু হু করে এগিয়ে চলছিল গাড়িটা। আমি প্রাণপণে স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে যাচ্ছিলাম কিন্তু কোন লাভ হচ্ছিল না! কী ভয়ঙ্কর অসহায় অবস্থা! শেষে গাড়িটাকে নিয়ে আমি দড়াম করে একটা গাছের সঙ্গে গিয়ে ধাক্কা খেলাম! স্টিয়ারিংয়ে মাথা দিয়ে বসে রয়েছি। সারা গা থরথর করে কাঁপছে। পলাশ কোথা থেকে রক্ত মাখা মুখ নিয়ে এসে বলছে, “কোন ভয় নেই, আমারও এই একই রকম হয়েছিল কিন্তু আমি বেঁচে গেছি! সুনেত্রাদির চেনা ডাক্তার আছে, খুব ভালো। তাকে দেখালেই সেরে উঠবে! ঐশীর ফোন নম্বরটা আমাকে দিলে না তো? ঠিক আছে আমি গোপাদিকে জিগ্যেস করে নিচ্ছি, উনিও চেনেন ঐশীকে!”    

ধাঁ করে ঘুমটা ভেঙ্গে গেল আমার। একটা ঘটনা যেটা প্রায় ভুলে যেতে বসেছিলাম সেটা হঠাৎ মনে পড়ে গেল! গোপাদির বাড়িতে একটা অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম আমরা। আমি আর পলাশ। গোপাদিও সুনেত্রাদির মতন এখানকার একজন বাঙালি। ওনার স্বামী আর উনি নিজেো স্টেটের ভালো চাকরি করেন। তাই ওঁদের বাড়িটা বিশাল, একেবারে ফ্রেঞ্চ শ্যাটুর মতন! সেদিন অনুষ্ঠানে এক সময় যিনি কবিতা পড়তে নামলেন তাঁর কবিতা না পড়লেই ভালো হত! মানে একেবারেই জঘন্য। আমরা দুজনেই বোর হচ্ছি তাই পলাশ বলল আমাকে বাড়িটা ঘুরিয়ে দেখিয়ে দেবে। আমি তো রাজি। অমন সুন্দর বাড়ি কে না দেখতে চায়? পরে মনে হয়েছিল অনুমতি না নিয়ে দোতলায় উঠে যাওয়াটা আমাদের ঠিক উচিত হয়নি কিন্তু তখন ওই রকম বিলাসবহুল একটা বাড়ি দেখার উত্তেজনায় সে সব কিছু আর মনে ছিল না। দেখছি আর মোহিত হচ্ছি। কিন্তু তারপর দোতলার একটা ঘরে ঢুকে দেখি একজন পুরুষ আর একজন মহিলাকে বিবস্ত্র অবস্থায় অন্তরঙ্গ হতে দেখতে পেলাম। তখুনি ভীষণ লজ্জা পেয়ে সরি বলে বেরিয়ে এসেছিলাম। তারা মনে হয় আশা করেনি অনুষ্ঠানের মধ্যে কেউ দোতলায় উঠে চলে আসবে। কে ছিল তখন সেটাও খেয়াল করে দেখিনি! পলাশো আর ওই ঘটনাটাকে নিয়ে কিছু বলেনি। আজকে হঠাৎ কেন যে ব্যাপারটা মনে পড়ে গেল!। আমি আর পলাশ দুজনেই ব্যাপারটাকে দেখেছিলাম আর আজ পলাশ মৃত আর আমি পাগল হিসেবে প্রমাণিত হয়েছি! ওই ঘটনাটার সঙ্গে কী কোন যোগাযোগ থাকতে পারে? আমি মনে করতে চেষ্টা করতে লাগলাম ঠিক কী দেখেছিলাম আর কে হতে পারে!”








(চলবে...)







আরও  পড়ুন 👇🏾👇🏾


https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/07/ankurisha-emagazine-bengali-poem-in_70.html



বৃহস্পতিবার, ১ জুলাই, ২০২১

ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-১০)।। ছায়া - ছায়া অন্ধকারের আড়ালে — অনন্যা দাশ।। Ankurisha ।।E.Magazine ।।Bengali poem in literature ।।

 






ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-১০)


ছায়া - ছায়া অন্ধকারের আড়ালে 

অনন্যা দাশ 




আমি দেখিয়ে দিলাম। আশ্চর্য, দরজাটা খোলাই ছিল! ঠেলতেই খুলে গেল! আমি বেশ আশ্চর্য হলাম। ঐশী কখনও দরজা খুলে রাখে না, সব সময় তালা অথচ আজকেই খোলা ছিল আর আমি খেয়াল করিনি!   

মেগান আর রোহন কুমার ভিতরে ঢুকলেন আর আমি দরজার গোড়া থেকে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম। ওমা ৪৪০ ভোল্ট কারেন্টের ধাক্কা খেলাম আমি! ঐশীর ঘরটা একদম খালি! মানে খাটটা রয়েছে কিন্তু সেটা ছাড়া আর কিছু নেই ঘরে। ঐশীর নিজের সব জিনিস হাওয়া! আলমারিও খালি! ওর গুচ্ছের জামাকাপড়, জুতো যা কিছু থাকত ওই ঘরে কিছুই নেই! বিছানাটায় টানটান করে চাদর পাতা যেন কেউ শোয়ইনি! ঐশী কখনও বিছানা ওই রকম সুন্দর পরিপাটি করে রাখত না। ঘরে জিনিসপত্র অগোছালো হয়ে ছড়িয়ে থাকত বরাবর! আমার মুখটা মাছের মতন খুলতে আর বন্ধ হতে লাগল। কোথায় গেল ঐশী?

রোহন কুমার চোখ আবার ছোট ছোট হয়ে গেছে। ওনার সঙ্গে মেগানের চোখাচোখি হল।

আমি আমতা আমতা করে বললাম, “ঐশী কখন ঘর খালি করে চলে গেছে আমি জানি না! আমাকে কিছু বলে যায়নি!”



মার্কাসের ঘরে বসেছিলেন রোহন আর মেগান। ওদের তিনজনের মধ্যে কথা হচ্ছিল।

রহন বললেন, “আমার আর মেগানের ধারণা যে ওই দীপা মেয়েটার ডি আই ডি আছে!”

“ডি আই ডি আবার কী?”


রোহন প্রিন্ট করা পাতাগুলো থেকে পড়তে লাগলেন, “ডিসোসিয়েটিভ আইডেন্টিটি ডিসর্ডার একটা মানসিক রোগ যাটাতে দুটো বা দুটোর বেশি ব্যক্তিত্ব একই মানুষের মাথার মধ্যে বাস করে এবং তাকে কন্ট্রোল করে। এটাকেই অনেকে বলে ‘ আত্মা ভর করেছে’। এই ধরনের লোকেদের ভুলে যাওয়াটাও স্বাভাবিক। এক ব্যক্তিত্বে থাকার সময় অন্য ব্যক্তিত্ব কী করেছে বা বলেছে সেটা মনে থাকে না। ১৯৯৪ পর্যন্ত এই মনোরোগটাকে মাল্টিপাল পার্সোন্যালিটি ডিসর্ডার বলা হত কিন্তু এখন রোগটাকে ঠিক মতন বোঝার জন্যে নামটা বদল করা হয়েছে। এই রোগের অনেক কারণ হতে পারে। ছোটবেলার কোন ভয়ঙ্কর ঘটনা বা শারীরিক অথবা মানসিক অত্যাচার থেকে এই রোগ বেশি হয় দেখা গেছে।”


এতটা পড়ে রোহন কুমার থামতে মার্কাস বললেন, “ও তাই বলো! আমাদের সময় রোগটাকে মাল্টিপাল পার্সোন্যালিটি ডিসর্ডার বা ডুয়াল পার্সোন্যালিটি ডিসর্ডার বলেই ডাকা হত। এখন ওই সব ডি আই ডি নাম দেওয়া হয়েছে। তবে তখন কেউ খুব একটা বিশ্বাস করত এটা সত্যিই রোগ কিনা। বেশির ভাগ লোকজনই মনে করত এটা ভাঁওতা দেওয়ার একটা উপায়। প্রাইমাল ফিয়ার সিনেমাটা দেখেছো? রিচার্ড গিয়ার আছে। যাই হোক মনের রোগ থাকতেই পারে মেয়েটার। ও তো সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে চক্কর কাটছিল বলেছিলে না?”

“হ্যাঁ, ডাঃ মিত্র। দেখি ওনার সঙ্গেও দেখা করতে হবে। তবে এই সব সাইকিয়াট্রিস্টরা যে সব কেসের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে সেগুলো আমার একেবারেই পছন্দ নয়! তারা কিছুই বলতে চায় না, নিজের পেশায় দোহাই দেবে আর বসে বসে রহস্য করবে শুধু! বিরক্তিকর!”

“হুঁ! দেখো যদি কিছু বার করতে পারো! কিন্তু তোমরা যা বলছ সেটা সত্যি হলে তো মেয়েটাকে গ্রেফতার করলে ভাল হয়। সে তো খুন করেছে এবং আবার করতে পারে!”  


“হ্যাঁ, পলাশের সঙ্গে ওর সরাসরি যোগাযোগ পাওয়া গেছে। পলাশের ব্যবহারে সে প্রচন্ড আহত ছিল তাই ওর প্রতি ঘৃণা জন্মাতেই পারে। কিন্তু অন্য দুটো ঘটনার সঙ্গে ওর সরাসরি যোগাযোগটা সঠিক ভাবে প্রমাণ করতে হবে। মানে ঐশী নামে ফেসবুক পেজ আছে কিন্তু তাতে ছবি অন্য মেয়ের। ল্যারি ছেলেটা সেখানে বিরক্ত করছিল কিন্তু ওটা পিছনে দীপা আছে কিনা বোঝা যাচ্ছে না। দীপা নামে মেয়েটার আরেকটা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট আছে। যদিও সেটা মোটেই বেশি অ্যাকটিভ নয় বরং ঐশী ঘোষ অ্যাকাউন্টটা বেশি অ্যাকটিভ! এদিকে ওই ডেট রেপ ড্রাগের কেসটা ভারি অদ্ভুত। মেয়েটা যা করেছে তার জন্যে ওকে দোষ দেওয়া যায় না। তাছাড়া ছেলেটা সত্যি বলছে কিনা কোন ঠিক নেই, কত ক্যাশ ছিল সে বলতে পারেনি ঠিক করে। খুব একটা বেশি ছিল না। দীপার ছবিটা দেখেও সে ঠিক মতন বলতে পারছে না সেই ছিল কিনা। বলছে মনে হয় এই মেয়েটাই কিন্তু সেদিন প্রচুর মেক আপ করে ছিল!”

 

(চলবে...)





আরও পড়ুন 👇🏾👇🏾


https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/06/ankurisha-emagazine-bengali-poem-in_17.html


বৃহস্পতিবার, ৬ মে, ২০২১

ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-২)।। ছায়া-ছায়া অন্ধকারের আড়ালে - অনন্যা দাশ।। Ankurisha ।।E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 






ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-২)

ছায়া-ছায়া অন্ধকারের আড়ালে

অনন্যা দাশ



যাই হোক, পলাশদা আমাকে বলল, “তুই মনে হয় একটু ডিপ্রেশানে ভুগছিস দীপা! ডাঃ মিত্রর কাছে একবার ঘুরে আসতে পারিস। আমার এক বন্ধুর স্ত্রীর মিসক্যারেজের পর সিভিয়ার ডিপ্রেশান হয়ে গিয়েছিল। একেবারে সুইসাইডাল কেস! ডাঃ মিত্রর কাছে মোটে তিনটে সেশান করেই মনের দিক থেকে একেবারে চাঙ্গা হয়ে গেল! এখন ওদের যমজ বাচ্চা হয়েছে, একটা ছেলে একটা মেয়ে! দিব্যি আছে! তোর ওপর দিয়েও তো ঝড় বয়ে যাচ্ছে। রজারকে সবাই চেনে, নেহাত গ্রান্ট লিখে অনেক টাকা জোগাড় করেছে তাই নাহলে ওকে ইউনিভার্সিটি থেকে কবেই ঘাড় ধরে বার করে দিত! তাই তুই একটু কাউন্সেলিং নিলে মনে হয় মনের দিক থেকে ভালো বোধ করবি!”   শুনে আমারও মনে হল কথাটা ঠিকই বলছে পলাশদা। মনের মধ্যে যে দুঃখ কষ্ট জমাট বেঁধে রয়েছে সেগুলোকে কারো সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারলে নিজেকে অনেকটা হাল্কা মনে হবে। কিন্তু বাড়ি ফিরে ঐশীকে কথাটা বলতেই সে ভীষণ ভাবে প্রতিবাদ করে উঠল, বলল, “সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে কেন যাবি তুই? তুই কী পাগল নাকি? তোর ওই পলাশদাকে বল নিজের ওই সব জঘন্য চিন্তা নিজের কাছেই রাখতে! এই সব ছেলে কী মনে করে নিজেদের? মেয়েরা কী ঠুনকো পুতুল নাকি যে একটু কাজের চাপে ভেঙ্গে পড়বে?” 


ঐশী আমার রুমমেট। ভীষণ নারীবাদী গোছের, যাকে বলে একেবারে পাক্কা ম্যান হেটার! এদিকে নিজে সব সময় জিন্স আর টি শার্ট পরে থাকে। শাড়ি, স্কার্ট জাতীয় মেয়েলি পোশাক ভুলেও পরবে না! কথায় কথায় ছেলেদের গালি দেয়! ও ঠিক কোথায় কাজ করে আমি জানি না। কোন একটা কোম্পানিতে কাজ করে। রোজ অফিস থেকে ফিরতে রাত হয় ওর! তবে আমি ভালোই জানি এই যদি পলাশ না হয়ে সুরমাদি ডাঃ মিত্রর কাছে যাওয়ার কথাটা বলত তাহলে ওর অতটা রাগ হত না! বা ডাঃ মিত্র যদি মেয়ে হতেন তাহলেও না! আমি অবশ্য ঐশীর ওই রকম নারীবাদী কথাগুলো এক কান দিয়ে শুনি আর অন্য কান দিয়ে বার করে দি! ও কত যে ওই রকম কথা বলে তার ঠিক নেই! আমার ভালোটা তো আমাকেই বুঝতে হবে। মা-বাবাকেও তো খুব একটা কিছু বলা যায় না, এমনিতেই প্রচুর দুশ্চিন্তা করেন আমাকে নিয়ে।   


পলাশদার কথাটায় যুক্তি আছে দেখেই ডাঃ মিত্রর সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করে ফেললাম। ইন্সুরেন্স কোম্পানির সঙ্গে কথা বলে দেখলাম। কয়েকটা সিটিং্যের জন্যে ওরা ফিস দিয়ে দেবে বলল। আমি ভাবলাম দেখাই যাক না কী হয়!  

প্রথম দর্শনেই ডাঃ মিত্রকে বেশ ভালো লেগেছিল আমার। বেঁটে খাতো চেহারা কিন্তু বেশ হাসি খুশি, সান্তা ক্লস বুড়োর মতন দেখতে। গায়ের রঙ ফর্সা টুকটুকে। সুট টাই পরে রয়েছেন, দেখে বোঝাই যায় না যে উনি বাঙালি। ওনার সঙ্গে কথা বলে বেশ ভালো লাগল। অনেক কিছু বললাম ওনাকে প্রাণ খুলে। ছোটবেলার কথা, মা, বাবার কথা, আমার আগের যে বস মারা গেলেন তাঁর কথা। শুধ ঐশী আর রজারের কথা কিছু বললাম না। আসলে আর সময়ও ছিল না। আমার টাইম শেষ হয়ে গিয়েছিল। অন্য পেশেন্ট অপেক্ষা করবে। ওই দুজনের কথা পরের বার বলব ঠিক করলাম। আমার বলা সব কথা রেকর্ড করে ফেললেন উনি। বললেন পরে ধীরে সুস্থে আবার শুনলে নাকি অনেক কিছু বোঝা যায়। ভগবানই জানেন সেটা সত্যি কিনা। আমার মনে হয় না যে উনি আবার বসে ওই সব কথা শুনবেন! সময় কোথায় ওনার দুবার করে একই কথা শোনার? তবে এটা জানি যে ওই রেকর্ডীং উনি আর কাউকে শোনাতে পারবেন না। এখানে প্রচুর নিয়ম কানুন আছে সেই ব্যাপারে, প্রাইভেসিকে অসম্ভব গুরুত্ব দেওয়া হয়! তাই আমি নিশ্চিন্ত বোধ করছিলাম। মনটাও কিছুটা হালকা লাগছিল।সব চেয়ে বড়ো কথা রাতের ঘুমের জন্যে মাইল্ড একটা ঘুমের ওষুধ দিয়েছেন।  





আরও পড়ুন 👇👇


https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/05/ankurisha-emagazine-bengali-poem-in_63.html