লেবেল

শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬

শুভেন্দু অধিকারী: ভোটের অঙ্কে কাঁথি থেকে বাংলার রাজনীতি* শুভেন্দু দা, কাঁথি থেকে মহাকরণ— সনেট সমগ্র — বিমল মণ্ডল।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।





শুভেন্দু অধিকারী: ভোটের অঙ্কে কাঁথি থেকে বাংলার রাজনীতি*

  

শুভেন্দু দা, কাঁথি থেকে মহাকরণ—

সনেট  সমগ্র

বিমল মণ্ডল 





১. 

কাঁথির রক্ত*  


কাঁথির সমুদ্র ডাকে, আসুন শুভেন্দু।  

রসুলপুরের জল আনে আপনার নাম।  

দিঘার বালিতে লেখা স্বপ্নের বিন্দু,  

নন্দীগ্রামের মাটি দেয় আপনার দাম।  

হলদিয়ার ধোঁয়া বলে, উঠুন রে জেগে,  

এগরার কান্না বলে, থামান রে খুন।  

শ্যামাপ্রসাদের ছায়া আপনার লেগে,  

মহাকরণে বাজে আপনার জয়ের ধুন।  

চেয়ার নয় দাদা, এ যে কাঁটার মুকুট,  

ক্ষমতা নয়, এ যে গরিবের ঋণ।  

কাঁথি ভুলবেন না, মনে রাখবেন খুঁট,  

বাংলার বুকে বাজান নতুন বীণ।  

কাজে প্রমাণ দিন, কথায় নয় আর,  

ইতিহাস লেখে— আপনি বাংলার সার।  


*জয় শ্রীরাম* 🙏




*২. 

মহাকরণের ডাক


মহাকরণে বাজে আজ নতুন শঙ্খ,  

কাঁথির ছেলে বসে ন্যায়ের আসনে।  

দেওয়াল জানে, জানে ইট-কাঠ-পঙ্খ,  

শুভেন্দু দা এলেন বাংলার শাসনে।  

ত্রিশ বছর গেলো, এগারোও শেষ,  

তবুও মায়ের চোখে জল কেন বলুন?  

এবার আপনি দাদা, ঘোচান রাতের রেশ,  

আনুন ভোর, আনুন আলো, আনুন চলুন।  

শ্যামাপ্রসাদ চেয়েছিলেন বীর বাংলা,  

যেথা ভয় নাই, আছে শুধু মান।  

আপনিও গড়ুন সেই সাহসী বাংলা,  

যেথা কাজ পায় যুবা, পায় ত্রাণ।  

সময় কম দাদা, পথ বহু দূর,  

চলুন, বাজাই জয়ের সুর।  


*জয় শ্রীরাম* 🙏




রসুলপুরের শপথ  

রসুলপুরের ঢেউ আছড়ে পড়ে আজ,  

মহাকরণের সিঁড়িতে আপনার নামে।  

শুভেন্দু দা, আপনার বুকে কাঁথির কাজ,  

নোনা জলে ধোয়া শপথের খামে।  

আপনি দেখেছেন ঝড়, দেখেছেন বান,  

ভয় পাননি, মাথা নোয়াননি।  

এবার বাংলার ভাঙা নাও, ভাঙা প্রাণ,  

আপনার হাতে দিলাম, বাঁচাবেন নি?  

চাকরি চাই, ভাত চাই, চাই সম্মান,  

হাসপাতালে যেন মেলে ওষুধ।  

মেয়ে যেন ফেরে রাতে নিয়ে মান,  

কৃষক যেন পায় ফসলের সুদ।  

পারবেন দাদা, আপনার রক্তে আগুন,  

জ্বালান রে, জ্বালান বাংলা ফাগুন।  


*জয় শ্রীরাম* 🙏




৪. 

শ্যামাপ্রসাদের ছায়া

  

শ্যামাপ্রসাদ গেলেন দিল্লির পথে,  

এক বাংলা, এক বিধানের তরে।  

তাঁর রক্ত কাঁথির মাটির রথে,  

আজ আপনাকে মহাকরণে ধরে।  

শুভেন্দু দা, আপনি তাঁরই সন্তান,  

সাহসে, তেজে, শিরদাঁড়া খাড়া।  

তিনি দিলেন প্রাণ, আপনি দিন প্রাণ,  

বাংলাকে করুন শত্রু-মুক্ত পাড়া।  

ধর্মে ভাগ নয়, কর্মে বিভেদ নয়,  

এক সাথে বাঁচি, এক সাথে মরি।  

এই মন্ত্রে দাদা, দেশ গড়া হয়,  

আপনিও গড়ুন, হাতে হাত ধরি।  

ইতিহাস চায়, আপনি দিন সাড়া,  

হোন বীর, হোন বাংলার তারা।  


*জয় শ্রীরাম* 🙏




৫. 

নন্দীগ্রামের দেনা*  


নন্দীগ্রামের ধুলো আজও কথা কয়,  

শুভেন্দু দা, আপনার নাম ধরে ডাকে।  

রক্তে লেখা সেই লড়াইয়ের জয়,  

মহাকরণে আজ আপনাকে পথ দেখে।  

সেদিন ছিলো জমির লড়াই, ভাতের,  

আজ লড়াই গোটা বাংলার তরে।  

চেয়ারে বসে ভুলবেন না মাটির,  

যে মাটি আপনাকে মানুষ করে।  

কাঁথির ছেলে, কাঁদছে বাংলা মা,  

বেকার ছেলে, ক্ষুধার্ত চাষি।  

আপনি ছাড়া কে আর ঘোচাবে ঘা?  

আপনি ছাড়া কে দেবে মুখে হাসি?  

ঋণ শোধ দিন দাদা, কাজ দিয়ে,  

বাংলা রাখুক বুকে নিয়ে।  


*জয় শ্রীরাম* 🙏




৬. 

দিঘার সূর্য

 

দিঘার সূর্য ওঠে সাগর চিরে,  

আপনিও উঠলেন কাঁথি থেকে দাদা।  

মহাকরণে আলো দিলেন ধীরে,  

কাটলো আঁধার, কাটলো কাঁদা।  

শুভেন্দু দা, আপনার তেজে পুড়ুক,  

ঘুষের খাতা, তোলার বাহানা।  

আপনার ন্যায়ে গরিব বুক চিতুক,  

পাক বিচার, পাক ঠিকানা।  

শ্যামাপ্রসাদ চেয়েছিলেন জ্ঞান,  

শিল্প, কৃষি, সাহসী জাতি।  

আপনিও গড়ুন সেই মহান স্থান,  

যেথা থাকে না আর দুর্নীতি।  

সময় যায় রে, বেলা বয়ে যায়,  

উঠুন দাদা, কাজে আয়।  


*জয় শ্রীরাম* 🙏




৭. 

হলদিয়ার হাহাকার


হলদিয়ার আকাশে কালো ধোঁয়া ওড়ে,  

কলে কাজ নাই, যুবা দিশেহারা।  

শুভেন্দু দা, আপনার পানে বাংলা চেয়ে,  

আপনি ছাড়া কে দেবে কাজের সাড়া?  

কাঁথি থেকে এনেছেন লোহার শপথ,  

মহাকরণে গড়ুন ইস্পাতের ভিত।  

বন্ধ কল খুলুন, আনুন বিনিয়োগ,  

বাংলা হোক আবার শিল্পের গীত।  

শ্যামাপ্রসাদ চাইলেন কর্মযজ্ঞ,  

আপনি হোন সেই যজ্ঞের পুরোহিত।  

মেধা আছে, শ্রম আছে, আছে দক্ষ,  

শুধু নেতা চাই, আপনি হোন সেই মিত।  

দেরি করবেন না, বেলা যায় চলি,  

কাজে নামুন রে, মুখ তুলি।  


*জয় শ্রীরাম* 🙏




*৮. 

এগরার প্রদীপ


এগরার রাতে আজও ওঠে কান্না,  

বাজির আগুনে পোড়ে কচি প্রাণ।  

শুভেন্দু দা, আপনি থামান এই বন্যা,  

কড়া হাতে ধরুন আইনের বান।  

মহাকরণে বসে হুকুম দিন ভাই,  

“বাংলায় আর নয় বোমা-বারুদ।  

মা-বোন হাঁটবে নির্ভয়ে সবাই,  

গুণ্ডা পালাবে, পাবে না সুদ”।  

কাঁথির বাঘ আপনি, গর্জে উঠুন রে,  

শান্তির তরে করুন রে লড়াই।  

শ্যামাপ্রসাদের স্বপ্ন উঠুক ফেরে,  

ভয়হীন বাংলা সবাই চাই।  

পুলিশ হোক জনতার সাথি,  

আইন হোক সবার জ্ঞাতি।  


*জয় শ্রীরাম* 🙏




*৯. 

বাঘের বিচার


কাঁথির বাঘ বলে ডাকে জনতা,  

শুভেন্দু দা, বাঘের ধর্ম কী?  

দুর্বল পাশে, দুষ্টের ক্ষয় তা,  

এই তো ন্যায়, এই তো শিখি।  

মহাকরণে বসে বাঘ হয়ে যান,  

দুর্নীতি খান, সন্ত্রাস খান।  

গরিবের ঘরে অন্ন দিয়ে যান,  

চোখের জল মুছে দিন মা।  

শ্যামাপ্রসাদ ছিলেন সিংহ বটে,  

দিল্লির বুকে হাঁক দিলেন।  

আপনিও দাদা, তেমন পথে হাঁটুন রে,  

বাংলার বুকে আলো দিলেন।  

গর্জন নয়, কর্ম চাই,  

বাংলা আপনার দিকে চায়।  


*জয় শ্রীরাম* 🙏



১০

জুনপুটের বাঁধ


জুনপুটের বাঁধ ভাঙে বারে বারে,  

নোনা জলে ডোবে গরিবের ঘর।  

শুভেন্দু দা, আপনি শক্ত হাতে ধরে,  

বাঁধুন বাংলা, বাঁধুন নির্ভর।  

কাঁথির মাটি জানে ভাঙা-গড়ার খেলা,  

সমুদ্র জানে কেমনে ফিরে আসে।  

আপনিও দাদা, দুখের সন্ধ্যাবেলা,  

আশার আলো হোন সবার পাশে।  

মহাকরণে বসে ভুলবেন না ঢেউ,  

যে ঢেউ কেড়ে নেয় চাষির স্বপ্ন।  

আপনার কলমে বাঁচুক গাঁয়ের কেউ,  

বাঁধ হোক শক্ত, হোক অক্ষুণ্ণ।  

শ্যামাপ্রসাদের মাটি রাখুন ধরে,  

বাংলা বাঁচুক আপনার করে।  


*জয় শ্রীরাম* 🙏




১১

খেজুরীর খিদে


খেজুরীর ঘরে আজও হাঁড়ি শূন্য,  

ছেলে ছুটছে ভিন রাজ্যে কাজে।  

শুভেন্দু দা, আপনার হাতে পুণ্য,  

ফেরান তাদের বাংলার মাঝে।  

কাঁথি থেকে এনেছেন যে অঙ্গীকার,  

মহাকরণে তার হোক বাস্তবায়ন।  

চাকরি দিন, দিন শিল্পের আধার,  

ঘুচুক বেকারের দীর্ঘ শয়ন।  

শ্যামাপ্রসাদ চাইলেন স্বনির্ভর,  

আপনি গড়ুন সেই কর্মভূমি।  

যেথা মেধা পায় দাম, শ্রম পায় ঘর,  

যেথা কাঁদে না আর জননী-ভূমি।  

সময় চলে যায়, বেলা ফুরায়,  

উঠুন দাদা, কাজে হাত লাগায়।  


*জয় শ্রীরাম* 🙏




১৩. 

কন্টাইয়ের আলো 


কন্টাই স্টেশন জানে আপনার পথ,  

সাইকেলে চেপে যে দিন ফিরতেন।  

আজ মহাকরণে বাংলার রথ,  

আপনার হাতে, আপনি ধরতেন।  

শুভেন্দু দা, স্টেশনের সেই ভিড়,  

আজও আছে বাংলার পথে পথে।  

তাদের আশা, তাদের স্বপ্ন নীড়,  

আপনার দিকে চেয়ে থাকে রথে।  

কাঁথির আলো দিন গোটা দেশে,  

অন্ধকার যাক দূরে সরে।  

শ্যামাপ্রসাদের বাংলা হেসে,  

আপনার নামে উঠুক ভরে।  

ক্ষমতা নয়, ভালোবাসা নিন,  

বাংলা দেবে দু’হাত দিয়ে ঋণ।  


*জয় শ্রীরাম* 🙏




*১৩

বঙ্গের ভার

বঙ্গের ভার আজ আপনার কাঁধে,  

কাঁথির ছেলে, পারবেন তো বইতে?  

উত্তর থেকে দক্ষিণের বাঁধে,  

লক্ষ চোখ চায় আপনাকে কইতে।  

শুভেন্দু দা, পাহাড় কাঁদে জলে,  

জঙ্গল পোড়ে, নদী ভাঙে পাড়।  

সুন্দরবন ডাকে, মা ডাকে ছলে,  

“বাঁচা রে তুই, তুই যে আমার সার”।  

মহাকরণে বসে শুনুন সেই ডাক,  

ফাইল নয়, মানুষের বুক পড়ুন।  

শ্যামাপ্রসাদের স্বপ্ন রাখুন আঁক,  

নতুন বাংলা আপনি গড়ুন।  

ইতিহাস দেবে না দ্বিতীয় বার,  

এই সুযোগ, এই আপনার দ্বার।  


*জয় শ্রীরাম* 🙏




১৪

 মায়ের চোখের জল


মায়ের চোখের জল মোছেন যদি,  

শুভেন্দু দা, তবেই আপনি নেতা।  

কাঁথির ঘরে ঘরে আজও নিরবধি,  

ধর্ষিতা মেয়ের কান্না, ব্যথা।  

মহাকরণে বসে হুকুম দিন,  

“নারী মানে মা, নারী মানে শক্তি।  

যে ছোঁবে তারে, পাবে কঠিন দিন,  

আইন হবে বজ্র, পাবে না মুক্তি”।  

শ্যামাপ্রসাদ চাইলেন মাতৃজাতি,  

পাক সর্বোচ্চ সম্মান, স্থান।  

আপনিও দিন সেই নিরাপত্তি,  

বাংলা হোক মায়ের বাগান।  

রাতের পথ হোক ফুলের মতো,  

মেয়েরা হাঁটুক নির্ভয়ে ততো।  


*জয় শ্রীরাম* 🙏




*১৫

 কৃষকের হাসি


কৃষকের ঘামে সোনা ফলে মাঠে,  

দাম পায় না, কাঁদে বুক ভরে।  

শুভেন্দু দা, আপনি মহাকরণে বাটে,  

ন্যায্য দাম দিন, আইন করে।  

কাঁথির মাটি জানে লাঙলের টান,  

জানে বীজের ব্যথা, জলের দাম।  

আপনি জানেন চাষির অপমান,  

মহাজনের কাছে বাঁধা নাম।  

শ্যামাপ্রসাদ চাইলেন অন্নদাতা,  

পাক মাথার মুকুট, পাক মান।  

আপনি দিন সেই স্বপ্নের পাতা,  

বাংলার গোলা ভরুক ধান।  

চাষি হাসলে হাসবে দেশ,  

তবেই হবে সোনার বাংলাদেশ।  


*জয় শ্রীরাম* 🙏




১৬.

 শিক্ষার দীপ

শিক্ষা ছাড়া জাতি অন্ধকারে,  

শুভেন্দু দা, স্কুলে আলো দিন।  

কাঁথির ছেলে আপনি, বারে,  

বইয়ের দামে কষ্ট পাননি?  

মহাকরণে বসে নীতি করুন,  

“গরিবের ছেলেও ডাক্তার হবে।  

মেধা হবে একমাত্র তরুন,  

টাকা নয়, স্বপ্ন কথা কবে”।  

শ্যামাপ্রসাদ গড়লেন বিশ্ববিদ্যা,  

আপনি বাঁচান তার সম্মান।  

নকল নয়, নিয়োগে চাই বিদ্যা,  

শিক্ষক পাক যোগ্য স্থান।  

বাংলা হোক আবার জ্ঞানের ঘর,  

আপনার হাতে ফিরুক বর।  


*জয় শ্রীরাম* 🙏




১৭

স্বাস্থ্যের শ্বাস 


হাসপাতালে লাইন, ওষুধ নাই,  

গরিব মরে বিনা চিকিৎসায়।  

শুভেন্দু দা, আপনি দয়া তাই,  

মহাকরণ থেকে দেখুন তাকায়।  

কাঁথির হাসপাতাল জানেন আপনি,  

কেমন ভিড়, কেমন হাহাকার।  

গোটা বাংলা একই ছবি মানি,  

বদলান দিন, করুন প্রতিকার।  

শ্যামাপ্রসাদ চাইলেন সুস্থ জাতি,  

রোগে না ভুগে, কাজে লাগে।  

আপনিও দিন সেই পরিণতি,  

ডাক্তার, নার্স, ওষুধ আগে।  

স্বাস্থ্য হোক সবার অধিকার,  

বাংলা বাঁচুক বার বার।  


*জয় শ্রীরাম* 🙏




১৮

 যুবর বুকে আগুন


যুবর বুকে আগুন, হাতে শূন্য,  

ডিগ্রি নিয়ে ফেরে ফুটপাথে।  

শুভেন্দু দা, আপনার হাতে পুণ্য,  

চাকরি দিন, রাখুন তাদের সাথে।  

কাঁথির ছেলে আপনি, জানেন জ্বালা,  

বেকারত্বের কী ভীষণ দাহ।  

মহাকরণে বসে মালা নয় মালা,  

কাজের মালা গাঁথুন, নয় অহঃ।  

শ্যামাপ্রসাদ ডাক দিলেন তরুণে,  

“দেশ গড়ো, ভয় করো না রণে”।  

আপনিও ডাকুন সেই বরুনে,  

শিল্প আনুন, জাগান মনে।  

যুব হাসলে হাসবে বাংলা,  

আপনার নামে বাজবে ডঙ্কা।  


*জয় শ্রীরাম* 🙏


-





*শুভেন্দু অধিকারী: ভোটের অঙ্কে কাঁথি থেকে বাংলার রাজনীতি*






*১. ভূমিকা*

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে শুভেন্দু অধিকারী এক লড়াকু নাম। ২০০১ ও ২০০৬ সালে পরাজয় দিয়ে শুরু, তারপর ২০০৯ থেকে টানা জয়। কাঁথি পুরসভার কাউন্সিলর থেকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা— এই যাত্রাপথে প্রতিটি ভোটের অঙ্ক তাঁর রাজনীতি বুঝতে সাহায্য করে।


*২. জন্ম, পরিবার ও শিক্ষা*

জন্ম: ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭০, কাঁথি, পূর্ব মেদিনীপুর।

বাবা: শিশির অধিকারী, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও সাংসদ।

শিক্ষা: কন্টাই পি কে কলেজ থেকে বি.কম, নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ।


*৩. রাজনৈতিক জীবনের শুরু: পরাজয় থেকে প্রথম জয়*

১৯৯৫: কাঁথি পুরসভার ১৬ নং ওয়ার্ড থেকে কংগ্রেসের কাউন্সিলর নির্বাচিত।

১৯৯৮: তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান।


*২০০১ বিধানসভা:* মুগবেড়িয়া কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে লড়ে পশ্চিমবঙ্গ সমাজতান্ত্রিক পার্টির কিরণময় নন্দর কাছে *৪,৬৯১ ভোটে পরাজিত*। শুভেন্দু পান ৫৯,৭২৪ ভোট, কিরণময় নন্দ পান ৬৪,৪১৫ ভোট।


*২০০৬ বিধানসভা:* কাঁথি দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে লড়ে সিপিআই প্রার্থী সত্যেন্দ্র নাথ পান্ডার কাছে পরাজিত।


*২০০৯ লোকসভা:* তমলুক কেন্দ্র থেকে সিপিএমের লক্ষ্মণ শেঠকে *১,৭২,৯৫৮ ভোটে হারিয়ে* প্রথমবার সাংসদ। শুভেন্দু পান ৬,৩৭,৬৬৪ ভোট, লক্ষ্মণ শেঠ পান ৪,৬৪,৭০৬ ভোট।


*২০০৯ উপনির্বাচন:* কাঁথি দক্ষিণ বিধানসভা আসন খালি হলে উপনির্বাচনে জিতে প্রথমবার বিধায়ক হন।


*৪. নন্দীগ্রাম আন্দোলন: রাজনৈতিক উত্থান*

২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির প্রধান সংগঠক হিসাবে তিনি রাজ্য রাজনীতির প্রথম সারিতে উঠে আসেন। ২০০৮ পঞ্চায়েতে তাঁর নেতৃত্বে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ তৃণমূল দখল করে।


*২০১৪ লোকসভা:* তমলুক থেকে আবার জয়। সিপিএমের শেখ ইব্রাহিম আলিকে *২,৪৬,৪৮১ ভোটে হারান*। শুভেন্দু পান ৭,১৬,৯২৮ ভোট, ইব্রাহিম আলি পান ৪,৭০,৪৪৭ ভোট।


*৫. মন্ত্রিত্ব ও ২০১৬-র জয়*

*২০১৬ বিধানসভা:* নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে বাম-কংগ্রেস জোট প্রার্থী আব্দুল কাদির শেখকে *৮১,২৩০ ভোটে হারিয়ে* বিধায়ক হন। শুভেন্দু পান ১,৩৪,৬২৩ ভোট, আব্দুল কাদির পান ৫৩,৩৯৩ ভোট। জিতে তিনি পরিবহণ ও পরিবেশ মন্ত্রী হন।


*৬. দলবদল ও ২০২১-এর নন্দীগ্রাম যুদ্ধ*

১৯ ডিসেম্বর ২০২০ বিজেপিতে যোগ দেন।


*২০২১ বিধানসভা:* নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে *১,৯৫৬ ভোটে হারান*। শুভেন্দু পান ১,১০,৭৬৪ ভোট, মমতা পান ১,০৮,৮০৮ ভোট। এই জয় তাঁকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা করে।


*৭. ২০২৬ বিধানসভা: ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে জোড়া জয়*

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী *নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর— দুটি কেন্দ্র থেকেই লড়েন এবং দুটিতেই জয়ী হন*।


*ক. নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র:*

- *প্রতিদ্বন্দ্বী:* পবিত্র কর (তৃণমূল কংগ্রেস)

- *ফল:* শুভেন্দু অধিকারী *৯,৯৬৫ ভোটে জয়ী* 4c3a


*খ. ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র:*

- *প্রতিদ্বন্দ্বী:* মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (তৃণমূল কংগ্রেস)

- *ফল:* শুভেন্দু অধিকারী *১৫,১০৫ ভোটে জয়ী*

- অন্য রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবধান *১৫,১১৪ ভোট* ও *১৫,১৪৪ ভোট* 83ee4c3aa10c


মমতার নিজের পাড়ার কেন্দ্র ভবানীপুরে ২০২১ সালের পর ২০২৬ সালেও শুভেন্দু তাঁকে হারান। পূর্ব মেদিনীপুরের ১৬টি আসনেই তৃণমূল ধরাশায়ী হয় তাঁর নেতৃত্বে। 83ee


*৮. বর্তমান অবস্থান*

দুটি আসনে জেতার পর শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন। বিজেপি বিধায়ক দলের নেতা হিসাবে তাঁর নাম কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মনোনীত করে। 83ee



*উপসংহার*

২০০১ সালে ৪,৬৯১ ভোটে হার, ২০০৬ সালেও পরাজয়। তারপর ২০০৯ সালে ১.৭২ লক্ষ ভোটে লোকসভা জয় থেকে ২০২৬ সালে ভবানীপুরে ১৫,১০৫ ভোটে ও নন্দীগ্রামে ৯,৯৬৫ ভোটে জয়— শুভেন্দু অধিকারীর রাজনীতি হল হার না মানার গল্প। কাঁথির মাটি থেকে উঠে আসা এই নেতা ভোটের অঙ্কেই বারবার নিজেকে প্রমাণ করেছেন।


*জয় শ্রীরাম* 🙏







অঙ্কুরীশা-র পাতায় আজ প্রকাশিত হল... বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৬তম জন্মদিনে... রবীন্দ্র সংখ্যায়... অঙ্কুরীশা -র পাতায় কবি প্রণাম... Ankurisha।।E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 


 বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৬তম জন্মদিনে 

রবীন্দ্র সংখ্যায়... 

অঙ্কুরীশা -র পাতায়  কবি প্রণাম... 






বোলপুর স্টেশন রোড
অমিত কাশ‍্যপ

কম আলোয় শীতকাল উড়ে আসে
স্টেশনে কি কোনো দোকান নেই যে বলবে
হুস করে কোন ট্রেন লেগে হই হই করে
ছুটিয়ে দেবে সব ঘুম মাফিয়ার মতো

কখন থেকে চা খিদে ঢুকে আছে মধ্য মাথায়
পায়ে পায়ে স্টেশন ছেড়ে মন জনপথ মাখে
টিপটপ লন্ড্রির মাথায় টিমটিম আলো জ্বলে তখনও
আমরা কুয়াশা ভেঙে, কুয়াশা মাড়িয়ে যাব ঠাকুর বাড়ি

পেরিয়ে যাচ্ছি সুইটস কর্নার, পেরিয়ে যাচ্ছি গোবিন্দ লজ
বোলপুর স্টেশন রোড, পঁচিশে বৈশাখ নয়, বাইশে শ্রাবণ নয়
এক মিনমিনে শীতসকালের রবিবার
রাস্তার ধারের বাউলটির একতারায় তখনই
'ভেঙে মোর ঘরের চাবি...'


আত্মজ-রবীন্দ্রনাথ
বিশ্বজিৎ রায়

প্রতিদিন আমার ভেতর
একটু একটু করে জন্ম নিচ্ছে রবীন্দ্রনাথ---
সকালে ঘুম ভাঙার পর  প্রকৃতির রূপ দেখে মনেমনে গেয়ে উঠি ---
“ আলোকের এই ঝর্ণাধারা ধুইয়ে দাও।
আপনাকে এই লুকিয়ে রাখা ধুলার ঢাকা
ধুইয়ে দাও …”।
শুনশান দুপুরের নিস্তব্ধতায় আপনাআপনি
ছোটবেলায় পড়া ‘দুপুর’ কবিতা  ভেসে ওঠে মনে –
“আমি বসে আছি জানলার ধারে,
দুপুরের রোদ-সোনার বাতি—
পড়েছে গাছের পাতায় পাতায়,
বাতাসেতে উড়ছে ছায়া ।“
সন্ধ্যা নামলে , পাখিরা যখন বাসায় ফেরে,
গেয়ে উঠি  --- “ব্যথা বড় বাজিয়াছে প্রাণে,
কাছে আয়--আরো কাছে আয় ---
সঙ্গীহারা হৃদয় আমার
তোর বুকে লুকাইতে চায় …।“
মধ্যরাতে হৃদয়ে বাজে ---
“ বাতাস কাঁদে গোপন সুরে,
হারিয়ে যাওয়া স্মৃতির পুরে।
চোখের কোণে ঘুম আসে না,
বেদনার সুর বাজে গোপনে।“
এই আত্মজ-রবীন্দ্রনাথ আমাকে ছেড়ে
কিছুতেই যেতে পারেন না …



তোমার অসীমে 

জয়শ্রী সরকার 

আমি তোমাকে একটা উজ্জ্বল তারা দিতে চেয়েছি 

তুমি গোটা আকাশটাই মেলে ধরেছ আমার সামনে!


আমি তোমাকে একটা ফুটন্ত গোলাপ দিতে চেয়েছি 

তুমি বিশ্ববাগিচার সৌগন্ধ বিলিয়ে দিয়েছ আমার ঘ্রাণে!


আমি খাঁচায় পুরে একটা পাখি দিতে চেয়েছি তোমায় 

তুমি আগল খুলে দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছ অনন্ত আকাশে!


আমি জল তুলতে চেয়েছি পোশাকি ঘড়ায় 

তুমি লাবণ্যদিঘির অক্ষরমালায় সাজিয়ে তুলেছ 'শেষের কবিতা'!


আমি নিবিড় ধ্যানে এ্যানাটমি করি তোমার সৃষ্টিকে 

তুমি ভাবনার বিশ্বকোষ বিমল বিভাসে বিলিয়ে দিয়েছ তোমার জীবনদেবতাকে!


আমি 'আগুনের পরশমণি' শুনিয়েছি তোমায় 

তুমি পুরো গীতবিতানটাই খুলে দিয়েছ আমার হাতে!


তোমার অসীমতায় আজ আমি উদাসী বাউল 

তাই, নিমগ্ন ধ্যানে প্রার্থনা করি, 'চরণ ধরিতে দিও গো আমারে.....!'



পঁচিশে বৈশাখের চিঠি 
দীপক বেরা 

এইসব পঁচিশে বৈশাখে লিখছি তোমাকে—
আসমুদ্রহিমাচল শুয়ে আছে তোমার পায়ের কাছে 
এখন সকলেই কবি হতে চায় 
আশ্রয় খোঁজে তোমার সৃষ্টির কুঞ্জছায়ায়
তুমি দেখেছিলে কৃষ্ণকলির "কালো হরিণ চোখ" 
আমিও এঁকেছি কোনও অপ্সরার টোল-পড়া গাল
তারপর খাল কেটে এনেছি যাকে
সে অভ্যস্ত, সাবলীল গায় তার "বাংলা ব্যান্ড"
এখন কনকচাঁপার কুঞ্জ নেই, বকুল পুঞ্জ নেই
তাই— যদি না আসো, খুব ভালো হয় 
কারণ এখানে এখন মদ, দাঙ্গা, ভোট, রক্তাক্ত লাশ
জানি, 'অমিত রে' তোমার ভেরি স্মার্ট এন্ড গুড বয় 
তবু, আমি তো একটু-আধটু কবি
ধরো, আমাকে যদি তুমি সৃজন করতে 
ঋতু পরিবর্তনের এইসব পঁচিশে বৈশাখে
তুমি কি— খুব লজ্জিত হতে? 


পান্থজনের সখা
সৌমিত্র মজুমদার 

তোমার জন্য শ্রদ্ধামাল্য
     তোমার জন্য ভক্তি,
তুমিই আছো জীবন জুড়ে 
      জোগাও মনে শক্তি ;

দুঃখ ভোলাও, স্বস্তি বিলাও
      সবার সকল প্রাণে --
বোশেখ মানেই তোমায় স্মরণ 
      ফুল ও ধূপের ঘ্রাণে ! 

তোমার লেখা গান, কবিতা
      আজও ছড়ায় আলো, 
চিত্তমাঝে পুলক জাগায়
      ঘোচায় যাবত কালো ;

কবিগুরু তোমায় ভেবেই
      দিন শুরু হয়, শেষ 
তোমায় মাতে সব বাঙালি 
      সবার প্রাণেই রেশ !

এই এ বোশেখ বিখ্যাত গো
      শুধু তোমারই জন্য
তোমায় পেয়ে ভারতবাসী
      সত্যি ওগো ধন্য।



জেগে উঠছে রবিঠাকুর
দুরন্ত বিজলী

এই মাত্র চিতার আগুনে
ছাই হয়ে গেল হৃদপিন্ড,
নদী বয়ে গেল বুক ভাসিয়ে।

নূপুর পড়ে আছে,
হারমোনিয়াম পড়ে আছে,
গীতবিতান পড়ে আছে,
ভীষণ শূন্যতা আকাশে।

এখনও ফিসফাস ছড়িয়ে দিচ্ছে নিজেকে,
এখনও উনুনের আগুন ভিজিয়ে দিচ্ছে চোখ ও চিবুক ,
হাহাকারের মধ্যে শুধু জেগে উঠছে রবিঠাকুর।

সুরগুলি ফুল হয়ে ঝরে পড়ছে,
আকুল যন্ত্রণায় কুড়িয়ে নিচ্ছি,
মাখছি স্রোত, বয়ে যাচ্ছে নদী,
ভেসে যাচ্ছে নদী বুক ভাসিয়ে।



মোহন উচ্চারণ

পুষ্প সাঁতরা

বনস্পতির ছায়ায় বসে
মোহন উচ্চারণ
নিত্য দিনের বোঝাপড়ায়
অনন্য যাপন।
ভান্ডারে অমূল্য রতন
আশ্রয়ে পূন্য শ্লোক
তুমি আলো মহিমাময়
অনন্ত আলোক।
সুখে দুঃখে সন্তাপে
দাঁড়িয়ে আছো তুমি
আসনপাতা সব খানেতেই
কোথায় আমি নমি।
হাত খানি মোর ধর ঠাকুর
জীবন তরনীতে
গানে প্রানে দিশা পাই
নিরাময় ক্ষত চিত্তে। 

তবুও রবীন্দ্রনাথ 
হীরক বন্দ্যোপাধ্যায় 

বহুদিনের স্বপ্ন শ্রম,নক্ষত্রপুঞ্জ লুকিয়ে দেখা 

এসব ই  তার কাছে যাবার অছিলা 

তাঁতের শাড়ি নিঁখুত ভাঁজ মানেই রবীন্দ্রনাথ ...

উদ্বোধনি সঙ্গীত শুরু হলো বলে 

হে নূতন দেখা দাও আরবার ...

ছায়াপথের সমস্ত, স্মার্টফোনের বাটন 

অবৈধ  চতুর্দশপদী, টাইমলাইনে ভরে ওঠা

নির্জন জলপ্রপাত এসব ই সামান্য আয়ুরেখা

কার্যত সবাই নন্দিনী সুন্দর অক্ষরবৃত্তে লেখা হলে

মেরেকেটে তিন মিনিট আসলে একটি দীর্ঘ কবিতার

আয়ুই বা কতটুক, সেবার শান্তিনিকেতনে কবি

প্রবীরের আমন্ত্রণে বেনপোল পেট্রাপোল সব একাকার ...

খোঁপাতে গোলাপ ,মার্চপাস্টে সুন্দরীদের সুবর্ণ কাঞ্চন ..

স্বপ্ন  শ্রম আর কামনার অপাপবিদ্ধ  মিশেল, আহা তবুও রবীন্দ্রনাথ. ....



চিরকালীন কবি 
জীবন সরখেল 

গ্রীষ্ম বর্ষায় শীত বসন্তেও
জীবনের দোটানায় 
ছুটে যায় তাঁর কাছে আজও 
সমস্যা সমাধায়...
অনুভূতির সূক্ষ্ম স্থূল 
নানা বিচার বোধে
তিনিই কিন্তু নির্ভরতা 
স্থির গতিই প্রমোদে...
আধুনিক মুক্ত চেতনায় 
শেষের সেই কবিতা 
অপ্রতিরোধ্য এক দর্শন
অশেষ জীবন মিতা...
লিপিকা পুনশ্চেও ফের তাঁর 
গদ্য ছন্দের প্রয়োগ 
হার না মানা লড়াই ভাবনায়
অনন্তের যোগ বিয়োগ...
শিল্পে সৌন্দর্যে অধ্যাত্মেও 
অতুল্য উপমা 
'রবীন্দ্রনাথ' ব্যাখ্যার অতীত 

নাই যাঁর পরিসীমা.... 


নীলকন্ঠ , সাত্ত্বিক জিব , নম্র বৃশ্চিক , তেজস্ক্রিয় শৃঙ্গার ও অব্যয় তর্পণের যজ্ঞ যোগ

নিমাই জানা 

সিলভিয়ান অঙ্গার ছড়িয়ে দিচ্ছে রন্ধ্রকেতু আগুনের ভেতর , জ্বলছে কিংকর রহস্যের তৃতীয় দীর্ঘস্থায়ী তেজস্ক্রিয় ব্রহ্ম উৎপাদক গুণিতাঙ্কের নির্ণেয় ভাজ্য ফলে , বিনির্মাণের লম্বা রহস্যাবৃত জটায়ু মাঠে উন্মাদ কলাকোষের এক একটা দীর্ঘ পূর্ণচ্ছেদের মাংসাশী নদগুলো আত্মহত্যায় বিরচিত পুণ্ডরীকাক্ষের ক্ষত মুখে ইব্রাহিমের উন্মাদ শ্বেততন্তু রহস্য উড়ছে , নীলাভ প্রেতাত্মারা (ওয়ার্নিং ইউর ওল্ড ফর্মস ইজ ইন ইলিগ্যাল ) মধ্যরাতের নিষিদ্ধ তরবারি নিয়ে একাকী হাঁটছে সুক্ষ্ম সুক্ষ্ম অতি শিথিলতার রাগাবেগ উপড়ে , হাঁ করে বেরিয়ে আসা ঋণাত্মক ঝিনুকের নরম মাংসের উন্মাদ গিরিখাতের উপর পৌরাণিক পান্ডুলিপি ক্রমশ কৃষ্ণ গহ্বরে ফেলে দিচ্ছে নটরাজ কেন্দ্রিক নর্মদা তর্পনের শান্ত পত্রে , এ দেহ তো জৈবিক অতিলৌকিক লালা মাখিয়ে রক্তকরবীর সাথে ক্রমশ গোখরো হয়ে যাচ্ছে আগুন ধ্বংসাত্মক লেলিহান জিব ধ্বংসাত্মক ব্যাঙ্গাচি পৃথিবীর পাপের সাষ্টাঙ্গ গাংচিলে , অতি লৌকিক জীবাণু নরম মাংসের কারবারি ব্রহ্মোৎপাদক সৌখিন নৃসিংহ মন্দিরে অঞ্জলি দিচ্ছে নন্দিনীর অতি স্বচ্ছ ইছামতি নারীকে , জোড়া জোড়া নির্জন নৌকোর উপর অতিলৌকিক সাঁকো হতে থাকি মাংসাশী চাঁদের খোলশ ছুঁড়ে ফেলে দিই শীতলাগ্নি উৎপাদক যজ্ঞ কেন্দ্রে গিয়ে নীলাভ ঈশ্বরকে খুঁজে বেড়াই পূর্ণ পাত্র গাছের উপর , চরম করমন্ডল নেমে আসে ধ্বংসাত্মক ব্লেড বিক্রি হয় কাটা মাংসের মতোই অস্থিরতা লাল কেশরের মতো তড়িৎ রাসায়নিক ঈশ্বরীয় প্রোটনিক দাতব্যশালায় গোলাপি ব্রহ্ম উৎপাদকের গলনাঙ্ক এ লালার মোম গড়িয়ে গড়িয়ে পড়ছে একাদশ রুদ্রের ঢেউ খেলানো ব্রহ্ম চিদাত্মায় , চিদাম্বরম কারখানার আগুনের মতোই অপ্সরারা নিভে যাবে জ্বলন্তের কড়ি কাঠে ত্রিশূল বিক্রি হবে আস্তিক্য জলজ উপশম আগুনের কাছে নিষিদ্ধ তান্ত্রিক কফি হাউসের ব্রহ্মচর্যের আর্যসত্য নামবে উপনিবেশ ধৃতরাষ্ট্রে , অতি সূক্ষ্মতম জাহাজের নাবিক দিকভ্রষ্ট হয়ে যাবে পথচারী আগুনে , অতি তৃপ্ত ডিম্বাণু বিক্রি করতেই আমি কেমন পাতালপুরীর কাছে আমার সমস্ত অম্বালিকা পত্র লিখে দেবো দ্বাদশ অধ্যায়ের কঠোপনিষদ কথার লিপিতে , মহর্ষের মতোই আমাদের ভয়ানক বুদ্ধ তান্ত্রিক মৃত্যু পরিসংখ্যান চাইছে নীল সাপের কাছে , উগ্র জটার কাছে জালন্ধর নর্তক শৃঙ্গার শেখাচ্ছে নম্র ব্রহ্মচর্য লিপিকে , হে ঋষি ধূসর ধ্বংসের হও 



পঁচিশে বৈশাখ
জয়নাল আবেদিন 

আজকে রবির জন্মদিন 
বৈশাখের এই পঁচিশে, 
ঝড়-বৃষ্টি হয়নি সেদিন 
আকাশ ছিল চকচকে। 

আরেক রবির জন্ম ছিল 
একই দিনেই পঁচিশে,
আকাশ ভাঙা জল ঝরেছে 
ঝড় হয়েছে আশিতে। 

একটা রবির ছবি আছে 
ঘরে ঘরে টাঙানো, 
আর এক রবি পেটের টানে 
হাত পেতে খায় মাঙানো। 



অর্ঘ্য
কমল কুমার প্রধান

হে মহাজীবন, তুমি এক চিরন্তন অহংকার,
সব্যসাচীর মতো দুই হাতে সৃষ্টির ধনুষ্টঙ্কার।
কখনো গদ্যের ঋজু পথ, 
কখনো পদ্যের অলঙ্কার—
তোমার লেখনীতেই বাজে বিশ্ববিধানের জয়াক্ষর।
তোমার গল্পের বাঁকে সাধারণের দীর্ঘশ্বাস,
উপন্যাসের বিশালতায় নতুন এক আকাশ।
তুমি ছন্দের জাদুকর, 
শব্দের অতন্দ্র প্রহরী,
বাঙালির বিরহ-মিলনে তুমিই পরম চাতুরী।
অতীত নও তুমি, বর্তমান আর ভবিষ্যতের দিশা,
তোমার সৃষ্টিতেই কাটে বাঙালির সংকটের নিশা।
অক্ষয় এক মহীরুহ তুমি, 
ছায়া দাও নিখিল ভুবনে,
হে কবিগুরু, চিরকাল থেকো আমাদের মনে ও মননে।

     


জন্মদিনে রবি ঠাকুর 
সমর গোস্বামী 

মধ্য গগনে সৌরসেনীর আলোক প্রভা দ্যুতি
দিগন্তে আজ প্রভাত রবির ডাক 
স্বরলিপির সপ্তরাগে নেই কোন বিচ্যুতি 
আজ যে রবির জন্মদিন, পঁচিশে বৈশাখ। 

পদ্মা নদীর মাঝ দরিয়ায় ভাটিয়ালী সুর 
গঙ্গা পাড়ের রাজপথেতে নতুন করে চলা 
আবার জেগে উঠবে কবি প্রানের রবি ঠাকুর 
আবর্তনের কালচক্রে নতুন গল্প বলা। 


অক্ষয় কবি
রাজেন্দ্র কায়ল

হে মানব কবি,
তুমি ভোরের প্রথম আলো,
শিউলি ঝরা পথের শেষে
নীরব কোনো ভালোবাসো।

কাশবনের হাওয়ায় মিশে
তোমার গানের সুর,
মেঘলা বিকেল ছুঁয়ে যায়
মনটা হয় ভরপুর।

কলম ভেজা শব্দগুলো
নদীর মতো বয়ে,
দুঃখ এলেও শিখিয়েছ—
হাসতে পৃথিবী লয়ে।

“গীতাঞ্জলি”-র পাতায় যেন
আকাশ নামে নীচে,
হারিয়ে গেলেও মানুষ
তোমায় খুঁজে পিছে।

রবি তুমি বাংলার প্রাণ,
চির নীল এক ডানা—
তোমার ছোঁয়ায় আজও জাগে
কবিতাভেজা গানা।


হে মহাজীবন
দেবাশীষ পণ্ডা

ভাবিতে পারিনা তোমারে আমি।

কে তুমি? মানব না মহামানব।

কি ছিল তব ঐ ক্ষুদ্র মস্তকমাঝে।

তাহা বুঝিতে পারিনা আমি।

হে মহাজ্ঞানী তুমি এত ভাবনা 

পেলে কোথা হতে তাহা বলতো 

আমারে শুনি।


এত ভাষা এত ধারা এত ছন্দ 

কি ভাবে তুমি পেলে তাহা বলো 

আমারে মন খুলে।

সাহিত্যের সব শাখাকে তুমি 

করিয়াছ পরিপূর্ন।

তাইতো তুমি হইয়াছ সারা 

বিশ্বের কাছে ধন্য।

তোমাকে নিয়ে কি লিখবো 

কোনো ভাবনা নাহি মাথে।

সব দিকেতে তুমি সব্যসাচী 

তব তুলনা নাই কারো সাথে।

বাংলার সব শাখাতে            

 তব অবাধ বিচরণ।

তাহার সাথে নৃত্য গীত আর 

অঙ্কনে তুমি সেরা আস্থাভাজন।

তুমি প্রথম আনলে ভারত ভূমে 

বিশ্ব সাহিত্যের সেরা স্বীকৃতি নোবেল।

তুমি রবি কবি শুধু আমাদের নও

 তুমি সারা বিশ্বের কবি।

তোমার লেখনীর গুনে বাংলা 

ভাষা ধ্রুপদিতে হয়েছে পরিণত 

বিশ্বের মাঝে চিরদিনই।



অমর প্রাণ
বিমল মণ্ডল

একশো ছেষট্টি  পঁচিশে বৈশাখ আজ, 
তোমার জন্মদিনে মুখরিত বিশ্ব-মাঝ। 
জোড়াসাঁকোর ঘরে বাজে আজও তব বীণ, 
গীতবিতানের সুরে বাঁধা সকল ঋণ।

তুমি দেখালে পথ “জনগণমন” গেয়ে, 
তুমি শেখালে প্রেম “আমার সোনার” বেয়ে। 
পূর্ব-পশ্চিমের সেতু গড়লে আপন হাতে, 
মানুষের ধর্ম লিখলে হৃদয়ের পাতে।

কাবুলিওয়ালার চোখে মিনি আজও কাঁদে, 
বলাই, ল্যাবরেটরি, সব তব সাথে বাঁধে। 
ছিন্নপত্রে পদ্মা, রক্তকরবীতে নন্দিনী, 
তোমার লেখনীতে বাজে যুগের রাগিণী।

সময়ের রথ থামে, তবু থামে না তব গান, 
হে রবি, তুমিই বাংলা, তুমিই মোদের প্রাণ।





হৃদ জাগানোর কবি
কার্ত্তিক মণ্ডল

বোশেখ মাসের পঁচিশ তারিখ
আবার এলো ফিরে
ঘরে ঘরে রবি ঠাকুর
সেজে ওঠেন ওরে
গলে মালা ভালে চন্দন
জ্বালাই প্রদীপ ধূপ
কচিকাঁচা জোয়ান বুড়ো
মাতিয়ে তুলে খুব ।

মাতেরে ভাই আকাশ বাতাস
আর মাতে রে মন
রাস্তা ঘাটও যেমন মাতে
তেমনি মাতে বন ।
ফুল পলব মাতে অলি
কবিতা গল্প গানে
বছর বছর পঁচিশ বোশেখ
সব্বাইকে টানে ।

হর্ষধ্বনি ও উলুধ্বনিতে
চারদিক গমগম
গঙ্গাজলে গঙ্গাপূজা
কোথাও বেশি কোথাও কম ।
ভ'রে ওঠে মনের ঘর ও
রঙ বেরঙের ছবি
রবি ঠাকুর সবার  ঠাকুর
হৃদ জাগানোর কবি ।






বিশ্বমানবের অক্ষয় প্রদীপ
  তারাশংকর দে

নদীর ধারে 
জোড়াসাঁকোর  পুরোনো উঠোনে
একদিন জন্ম নিয়েছিল 
এক অনন্ত সকাল
তার নাম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

শিশিরভেজা বাংলার মাঠ,
কাশবন, পদ্মার ঢেউ,
মানুষের হাসি-কান্না, 
কৃষকের ক্লান্ত দুপুর,
আশ্রয় নিয়েছিল তাঁর কলমে।

তিনি শুধু কবি ছিলেন না
ছিলেন এক চলমান ঋতুচক্র,
যেখানে গান জন্ম নেয়,
শব্দ হয়ে ওঠে আত্মার উপাসনা।

কখনো লিখেছেন প্রেম,
যেখানে বিরহও 
ফুলের মতো সুবাস ছড়ায়;
কখনো লিখেছেন স্বাধীনতার গান,
যেখানে মানুষ শিখেছে মাথা তুলে দাঁড়াতে।

“চিত্ত যেথা ভয়শূন্য”—
এই উচ্চারণে জেগে উঠেছিল  
ঘুমন্ত যুগের বিবেক।
তাঁর গানের ভিতর বাংলার আকাশ
আজও প্রতিধ্বনি হয়ে বাজে।

গীতাঞ্জলি হাতে নিয়ে পৃথিবী চিনেছিল
এক ভারতীয় কবির অন্তহীন আলোর ভাষা;
সাহিত্যে নোবোল পুরষ্কার
তাঁর কপালে এঁকে দিয়েছিল   
বিশ্বজয়ের দীপশিখা।

শান্তিনিকেতনের ছায়াঘেরা পথে
স্বপ্ন দেখেছিলেন মুক্ত শিক্ষার
যেখানে মানুষ বইয়ের বাইরে
প্রকৃতির কাছ থেকেও শেখে জীবন।

তাঁর গল্পে ছিল মাটির গন্ধ,
উপন্যাসে ছিল সমাজের আয়না,
নাটকে ছিল প্রতিবাদের আগুন,
গানে ছিল চিরকালের মানবধর্ম।

আজও সন্ধ্যা নামলে
বাংলার কোনো নির্জন জানালায়
হয়তো ভেসে আসে তাঁর সুর—
“আমার মাথা নত করে দাও...”

তখন মনে হয়,
একজন মানুষ কখনো 
শুধু মানুষ হয়ে থাকে না;
কখনো কখনো তিনি হয়ে ওঠেন
একটি জাতির আত্মা,
একটি সভ্যতার দীপশিখা,
একটি অনন্ত উচ্চারণের নাম।



 হে রবি-জ্যোতি
পিয়ালী চক্রবর্তী 

আঁধার চিরে এলে তুমি, ভোরের রবি হয়ে,
প্রাণের মাঝে সুর জাগালে, ছন্দে ধারা বয়ে।
সহজ পাঠের বর্ণমালায় শিখিয়েছ হাঁটা,
তোমার আলোয় দূর হলো সব মনের কাঁটা-খাঁটা।

বর্ষার ঐ কদম বনে আর শিউলি ঝরা ভোরে,
তোমায় খুঁজে পায় বাঙালি আপন প্রাণের ঘোরে।
কখনো তুমি বাউল বেশে, কখনো ঋষি,
তোমার গানেই মেটে সব বিরহ-অমানিশি।

তোমার কলম দীপ্ত মশাল আঁধার - নাশের যুদ্ধে
শান্তি খোঁজে ক্লান্ত হৃদয় তোমার কাব্য-শুদ্ধ্যে।
কিশোর মনের কল্পনা আর শ্রান্ত বেলার গানে—
সবেতেই তুমি অজেয়, থাকো সবার প্রাণে।

ছিন্নপত্র, গোরা ও শেষের কবিতা পাড়ায় ,
জীবনের সব জটিল ধাঁধা তোমার আলোয় হারায়।
দুঃখ যখন পাহাড় সমান, কান্না নাহি থামে,
আশ্রয় খুঁজি তব চরণে, তোমার সেই নামে ।

বাঙালির প্রাণেতে তুমি বেঁচে আছো আজও
প্রতিটি মনেতে তুমি নব রূপে সাজো ,
পঁচিশে বৈশাখের শুভ জন্মতিথি ক্ষণে
তুমি আছো থাকবেও সকল বাঙালি মনে ।




তোমায় স্মরণ করে
শিখা ঘোষ
(রবি ঠাকুরের গানের কলি আশ্রয় করে লেখা )

তোমারি নামে নয়ন মেলি
প্রতিটি ভোরের বেলা।
প্রভাতের প্রথম ক্ষনের কুসুমখানি,
জেগে উঠে যখন তোমার গান গেয়ে,
সেইখানেতেই তোমারি গান দিয়ে
সাজাব গানের ভেলা।

তোমায় নতুন করে পাবো বলে,
খুঁজে বেড়াই প্রতি  দ্বারে।
তোমায় কিছু দেবো বলে,
মন চাইলে পরে, গাইবো গান,
তোমার নামে , তোমার সুরে সুরে,
সারাটি জীবন ধরে।

দিনের বেলায় তোমার বাঁশি নিয়ে,
ঘুরব পথে পথে।
রাতের বেলা আলোর শিখা জ্বেলে
বসবো আসন মেলে।
তুমি আমার মনের রাজা হয়ে,
আসবে চড়ে অভ্রভেদী রথে।