শুভেন্দু অধিকারী: ভোটের অঙ্কে কাঁথি থেকে বাংলার রাজনীতি*
শুভেন্দু দা, কাঁথি থেকে মহাকরণ—
সনেট সমগ্র
বিমল মণ্ডল
১.
কাঁথির রক্ত*
কাঁথির সমুদ্র ডাকে, আসুন শুভেন্দু।
রসুলপুরের জল আনে আপনার নাম।
দিঘার বালিতে লেখা স্বপ্নের বিন্দু,
নন্দীগ্রামের মাটি দেয় আপনার দাম।
হলদিয়ার ধোঁয়া বলে, উঠুন রে জেগে,
এগরার কান্না বলে, থামান রে খুন।
শ্যামাপ্রসাদের ছায়া আপনার লেগে,
মহাকরণে বাজে আপনার জয়ের ধুন।
চেয়ার নয় দাদা, এ যে কাঁটার মুকুট,
ক্ষমতা নয়, এ যে গরিবের ঋণ।
কাঁথি ভুলবেন না, মনে রাখবেন খুঁট,
বাংলার বুকে বাজান নতুন বীণ।
কাজে প্রমাণ দিন, কথায় নয় আর,
ইতিহাস লেখে— আপনি বাংলার সার।
*জয় শ্রীরাম* 🙏
*২.
মহাকরণের ডাক
মহাকরণে বাজে আজ নতুন শঙ্খ,
কাঁথির ছেলে বসে ন্যায়ের আসনে।
দেওয়াল জানে, জানে ইট-কাঠ-পঙ্খ,
শুভেন্দু দা এলেন বাংলার শাসনে।
ত্রিশ বছর গেলো, এগারোও শেষ,
তবুও মায়ের চোখে জল কেন বলুন?
এবার আপনি দাদা, ঘোচান রাতের রেশ,
আনুন ভোর, আনুন আলো, আনুন চলুন।
শ্যামাপ্রসাদ চেয়েছিলেন বীর বাংলা,
যেথা ভয় নাই, আছে শুধু মান।
আপনিও গড়ুন সেই সাহসী বাংলা,
যেথা কাজ পায় যুবা, পায় ত্রাণ।
সময় কম দাদা, পথ বহু দূর,
চলুন, বাজাই জয়ের সুর।
*জয় শ্রীরাম* 🙏
৩.
রসুলপুরের শপথ
রসুলপুরের ঢেউ আছড়ে পড়ে আজ,
মহাকরণের সিঁড়িতে আপনার নামে।
শুভেন্দু দা, আপনার বুকে কাঁথির কাজ,
নোনা জলে ধোয়া শপথের খামে।
আপনি দেখেছেন ঝড়, দেখেছেন বান,
ভয় পাননি, মাথা নোয়াননি।
এবার বাংলার ভাঙা নাও, ভাঙা প্রাণ,
আপনার হাতে দিলাম, বাঁচাবেন নি?
চাকরি চাই, ভাত চাই, চাই সম্মান,
হাসপাতালে যেন মেলে ওষুধ।
মেয়ে যেন ফেরে রাতে নিয়ে মান,
কৃষক যেন পায় ফসলের সুদ।
পারবেন দাদা, আপনার রক্তে আগুন,
জ্বালান রে, জ্বালান বাংলা ফাগুন।
*জয় শ্রীরাম* 🙏
৪.
শ্যামাপ্রসাদের ছায়া
শ্যামাপ্রসাদ গেলেন দিল্লির পথে,
এক বাংলা, এক বিধানের তরে।
তাঁর রক্ত কাঁথির মাটির রথে,
আজ আপনাকে মহাকরণে ধরে।
শুভেন্দু দা, আপনি তাঁরই সন্তান,
সাহসে, তেজে, শিরদাঁড়া খাড়া।
তিনি দিলেন প্রাণ, আপনি দিন প্রাণ,
বাংলাকে করুন শত্রু-মুক্ত পাড়া।
ধর্মে ভাগ নয়, কর্মে বিভেদ নয়,
এক সাথে বাঁচি, এক সাথে মরি।
এই মন্ত্রে দাদা, দেশ গড়া হয়,
আপনিও গড়ুন, হাতে হাত ধরি।
ইতিহাস চায়, আপনি দিন সাড়া,
হোন বীর, হোন বাংলার তারা।
*জয় শ্রীরাম* 🙏
৫.
নন্দীগ্রামের দেনা*
নন্দীগ্রামের ধুলো আজও কথা কয়,
শুভেন্দু দা, আপনার নাম ধরে ডাকে।
রক্তে লেখা সেই লড়াইয়ের জয়,
মহাকরণে আজ আপনাকে পথ দেখে।
সেদিন ছিলো জমির লড়াই, ভাতের,
আজ লড়াই গোটা বাংলার তরে।
চেয়ারে বসে ভুলবেন না মাটির,
যে মাটি আপনাকে মানুষ করে।
কাঁথির ছেলে, কাঁদছে বাংলা মা,
বেকার ছেলে, ক্ষুধার্ত চাষি।
আপনি ছাড়া কে আর ঘোচাবে ঘা?
আপনি ছাড়া কে দেবে মুখে হাসি?
ঋণ শোধ দিন দাদা, কাজ দিয়ে,
বাংলা রাখুক বুকে নিয়ে।
*জয় শ্রীরাম* 🙏
৬.
দিঘার সূর্য
দিঘার সূর্য ওঠে সাগর চিরে,
আপনিও উঠলেন কাঁথি থেকে দাদা।
মহাকরণে আলো দিলেন ধীরে,
কাটলো আঁধার, কাটলো কাঁদা।
শুভেন্দু দা, আপনার তেজে পুড়ুক,
ঘুষের খাতা, তোলার বাহানা।
আপনার ন্যায়ে গরিব বুক চিতুক,
পাক বিচার, পাক ঠিকানা।
শ্যামাপ্রসাদ চেয়েছিলেন জ্ঞান,
শিল্প, কৃষি, সাহসী জাতি।
আপনিও গড়ুন সেই মহান স্থান,
যেথা থাকে না আর দুর্নীতি।
সময় যায় রে, বেলা বয়ে যায়,
উঠুন দাদা, কাজে আয়।
*জয় শ্রীরাম* 🙏
৭.
হলদিয়ার হাহাকার
হলদিয়ার আকাশে কালো ধোঁয়া ওড়ে,
কলে কাজ নাই, যুবা দিশেহারা।
শুভেন্দু দা, আপনার পানে বাংলা চেয়ে,
আপনি ছাড়া কে দেবে কাজের সাড়া?
কাঁথি থেকে এনেছেন লোহার শপথ,
মহাকরণে গড়ুন ইস্পাতের ভিত।
বন্ধ কল খুলুন, আনুন বিনিয়োগ,
বাংলা হোক আবার শিল্পের গীত।
শ্যামাপ্রসাদ চাইলেন কর্মযজ্ঞ,
আপনি হোন সেই যজ্ঞের পুরোহিত।
মেধা আছে, শ্রম আছে, আছে দক্ষ,
শুধু নেতা চাই, আপনি হোন সেই মিত।
দেরি করবেন না, বেলা যায় চলি,
কাজে নামুন রে, মুখ তুলি।
*জয় শ্রীরাম* 🙏
*৮.
এগরার প্রদীপ
এগরার রাতে আজও ওঠে কান্না,
বাজির আগুনে পোড়ে কচি প্রাণ।
শুভেন্দু দা, আপনি থামান এই বন্যা,
কড়া হাতে ধরুন আইনের বান।
মহাকরণে বসে হুকুম দিন ভাই,
“বাংলায় আর নয় বোমা-বারুদ।
মা-বোন হাঁটবে নির্ভয়ে সবাই,
গুণ্ডা পালাবে, পাবে না সুদ”।
কাঁথির বাঘ আপনি, গর্জে উঠুন রে,
শান্তির তরে করুন রে লড়াই।
শ্যামাপ্রসাদের স্বপ্ন উঠুক ফেরে,
ভয়হীন বাংলা সবাই চাই।
পুলিশ হোক জনতার সাথি,
আইন হোক সবার জ্ঞাতি।
*জয় শ্রীরাম* 🙏
*৯.
বাঘের বিচার
কাঁথির বাঘ বলে ডাকে জনতা,
শুভেন্দু দা, বাঘের ধর্ম কী?
দুর্বল পাশে, দুষ্টের ক্ষয় তা,
এই তো ন্যায়, এই তো শিখি।
মহাকরণে বসে বাঘ হয়ে যান,
দুর্নীতি খান, সন্ত্রাস খান।
গরিবের ঘরে অন্ন দিয়ে যান,
চোখের জল মুছে দিন মা।
শ্যামাপ্রসাদ ছিলেন সিংহ বটে,
দিল্লির বুকে হাঁক দিলেন।
আপনিও দাদা, তেমন পথে হাঁটুন রে,
বাংলার বুকে আলো দিলেন।
গর্জন নয়, কর্ম চাই,
বাংলা আপনার দিকে চায়।
*জয় শ্রীরাম* 🙏
১০
জুনপুটের বাঁধ
জুনপুটের বাঁধ ভাঙে বারে বারে,
নোনা জলে ডোবে গরিবের ঘর।
শুভেন্দু দা, আপনি শক্ত হাতে ধরে,
বাঁধুন বাংলা, বাঁধুন নির্ভর।
কাঁথির মাটি জানে ভাঙা-গড়ার খেলা,
সমুদ্র জানে কেমনে ফিরে আসে।
আপনিও দাদা, দুখের সন্ধ্যাবেলা,
আশার আলো হোন সবার পাশে।
মহাকরণে বসে ভুলবেন না ঢেউ,
যে ঢেউ কেড়ে নেয় চাষির স্বপ্ন।
আপনার কলমে বাঁচুক গাঁয়ের কেউ,
বাঁধ হোক শক্ত, হোক অক্ষুণ্ণ।
শ্যামাপ্রসাদের মাটি রাখুন ধরে,
বাংলা বাঁচুক আপনার করে।
*জয় শ্রীরাম* 🙏
১১
খেজুরীর খিদে
খেজুরীর ঘরে আজও হাঁড়ি শূন্য,
ছেলে ছুটছে ভিন রাজ্যে কাজে।
শুভেন্দু দা, আপনার হাতে পুণ্য,
ফেরান তাদের বাংলার মাঝে।
কাঁথি থেকে এনেছেন যে অঙ্গীকার,
মহাকরণে তার হোক বাস্তবায়ন।
চাকরি দিন, দিন শিল্পের আধার,
ঘুচুক বেকারের দীর্ঘ শয়ন।
শ্যামাপ্রসাদ চাইলেন স্বনির্ভর,
আপনি গড়ুন সেই কর্মভূমি।
যেথা মেধা পায় দাম, শ্রম পায় ঘর,
যেথা কাঁদে না আর জননী-ভূমি।
সময় চলে যায়, বেলা ফুরায়,
উঠুন দাদা, কাজে হাত লাগায়।
*জয় শ্রীরাম* 🙏
১৩.
কন্টাইয়ের আলো
কন্টাই স্টেশন জানে আপনার পথ,
সাইকেলে চেপে যে দিন ফিরতেন।
আজ মহাকরণে বাংলার রথ,
আপনার হাতে, আপনি ধরতেন।
শুভেন্দু দা, স্টেশনের সেই ভিড়,
আজও আছে বাংলার পথে পথে।
তাদের আশা, তাদের স্বপ্ন নীড়,
আপনার দিকে চেয়ে থাকে রথে।
কাঁথির আলো দিন গোটা দেশে,
অন্ধকার যাক দূরে সরে।
শ্যামাপ্রসাদের বাংলা হেসে,
আপনার নামে উঠুক ভরে।
ক্ষমতা নয়, ভালোবাসা নিন,
বাংলা দেবে দু’হাত দিয়ে ঋণ।
*জয় শ্রীরাম* 🙏
*১৩
বঙ্গের ভার
বঙ্গের ভার আজ আপনার কাঁধে,
কাঁথির ছেলে, পারবেন তো বইতে?
উত্তর থেকে দক্ষিণের বাঁধে,
লক্ষ চোখ চায় আপনাকে কইতে।
শুভেন্দু দা, পাহাড় কাঁদে জলে,
জঙ্গল পোড়ে, নদী ভাঙে পাড়।
সুন্দরবন ডাকে, মা ডাকে ছলে,
“বাঁচা রে তুই, তুই যে আমার সার”।
মহাকরণে বসে শুনুন সেই ডাক,
ফাইল নয়, মানুষের বুক পড়ুন।
শ্যামাপ্রসাদের স্বপ্ন রাখুন আঁক,
নতুন বাংলা আপনি গড়ুন।
ইতিহাস দেবে না দ্বিতীয় বার,
এই সুযোগ, এই আপনার দ্বার।
*জয় শ্রীরাম* 🙏
১৪
মায়ের চোখের জল
মায়ের চোখের জল মোছেন যদি,
শুভেন্দু দা, তবেই আপনি নেতা।
কাঁথির ঘরে ঘরে আজও নিরবধি,
ধর্ষিতা মেয়ের কান্না, ব্যথা।
মহাকরণে বসে হুকুম দিন,
“নারী মানে মা, নারী মানে শক্তি।
যে ছোঁবে তারে, পাবে কঠিন দিন,
আইন হবে বজ্র, পাবে না মুক্তি”।
শ্যামাপ্রসাদ চাইলেন মাতৃজাতি,
পাক সর্বোচ্চ সম্মান, স্থান।
আপনিও দিন সেই নিরাপত্তি,
বাংলা হোক মায়ের বাগান।
রাতের পথ হোক ফুলের মতো,
মেয়েরা হাঁটুক নির্ভয়ে ততো।
*জয় শ্রীরাম* 🙏
*১৫
কৃষকের হাসি
কৃষকের ঘামে সোনা ফলে মাঠে,
দাম পায় না, কাঁদে বুক ভরে।
শুভেন্দু দা, আপনি মহাকরণে বাটে,
ন্যায্য দাম দিন, আইন করে।
কাঁথির মাটি জানে লাঙলের টান,
জানে বীজের ব্যথা, জলের দাম।
আপনি জানেন চাষির অপমান,
মহাজনের কাছে বাঁধা নাম।
শ্যামাপ্রসাদ চাইলেন অন্নদাতা,
পাক মাথার মুকুট, পাক মান।
আপনি দিন সেই স্বপ্নের পাতা,
বাংলার গোলা ভরুক ধান।
চাষি হাসলে হাসবে দেশ,
তবেই হবে সোনার বাংলাদেশ।
*জয় শ্রীরাম* 🙏
১৬.
শিক্ষার দীপ
শিক্ষা ছাড়া জাতি অন্ধকারে,
শুভেন্দু দা, স্কুলে আলো দিন।
কাঁথির ছেলে আপনি, বারে,
বইয়ের দামে কষ্ট পাননি?
মহাকরণে বসে নীতি করুন,
“গরিবের ছেলেও ডাক্তার হবে।
মেধা হবে একমাত্র তরুন,
টাকা নয়, স্বপ্ন কথা কবে”।
শ্যামাপ্রসাদ গড়লেন বিশ্ববিদ্যা,
আপনি বাঁচান তার সম্মান।
নকল নয়, নিয়োগে চাই বিদ্যা,
শিক্ষক পাক যোগ্য স্থান।
বাংলা হোক আবার জ্ঞানের ঘর,
আপনার হাতে ফিরুক বর।
*জয় শ্রীরাম* 🙏
১৭
স্বাস্থ্যের শ্বাস
হাসপাতালে লাইন, ওষুধ নাই,
গরিব মরে বিনা চিকিৎসায়।
শুভেন্দু দা, আপনি দয়া তাই,
মহাকরণ থেকে দেখুন তাকায়।
কাঁথির হাসপাতাল জানেন আপনি,
কেমন ভিড়, কেমন হাহাকার।
গোটা বাংলা একই ছবি মানি,
বদলান দিন, করুন প্রতিকার।
শ্যামাপ্রসাদ চাইলেন সুস্থ জাতি,
রোগে না ভুগে, কাজে লাগে।
আপনিও দিন সেই পরিণতি,
ডাক্তার, নার্স, ওষুধ আগে।
স্বাস্থ্য হোক সবার অধিকার,
বাংলা বাঁচুক বার বার।
*জয় শ্রীরাম* 🙏
১৮
যুবর বুকে আগুন
যুবর বুকে আগুন, হাতে শূন্য,
ডিগ্রি নিয়ে ফেরে ফুটপাথে।
শুভেন্দু দা, আপনার হাতে পুণ্য,
চাকরি দিন, রাখুন তাদের সাথে।
কাঁথির ছেলে আপনি, জানেন জ্বালা,
বেকারত্বের কী ভীষণ দাহ।
মহাকরণে বসে মালা নয় মালা,
কাজের মালা গাঁথুন, নয় অহঃ।
শ্যামাপ্রসাদ ডাক দিলেন তরুণে,
“দেশ গড়ো, ভয় করো না রণে”।
আপনিও ডাকুন সেই বরুনে,
শিল্প আনুন, জাগান মনে।
যুব হাসলে হাসবে বাংলা,
আপনার নামে বাজবে ডঙ্কা।
*জয় শ্রীরাম* 🙏
-
*শুভেন্দু অধিকারী: ভোটের অঙ্কে কাঁথি থেকে বাংলার রাজনীতি*
*১. ভূমিকা*
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে শুভেন্দু অধিকারী এক লড়াকু নাম। ২০০১ ও ২০০৬ সালে পরাজয় দিয়ে শুরু, তারপর ২০০৯ থেকে টানা জয়। কাঁথি পুরসভার কাউন্সিলর থেকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা— এই যাত্রাপথে প্রতিটি ভোটের অঙ্ক তাঁর রাজনীতি বুঝতে সাহায্য করে।
*২. জন্ম, পরিবার ও শিক্ষা*
জন্ম: ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭০, কাঁথি, পূর্ব মেদিনীপুর।
বাবা: শিশির অধিকারী, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও সাংসদ।
শিক্ষা: কন্টাই পি কে কলেজ থেকে বি.কম, নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ।
*৩. রাজনৈতিক জীবনের শুরু: পরাজয় থেকে প্রথম জয়*
১৯৯৫: কাঁথি পুরসভার ১৬ নং ওয়ার্ড থেকে কংগ্রেসের কাউন্সিলর নির্বাচিত।
১৯৯৮: তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান।
*২০০১ বিধানসভা:* মুগবেড়িয়া কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে লড়ে পশ্চিমবঙ্গ সমাজতান্ত্রিক পার্টির কিরণময় নন্দর কাছে *৪,৬৯১ ভোটে পরাজিত*। শুভেন্দু পান ৫৯,৭২৪ ভোট, কিরণময় নন্দ পান ৬৪,৪১৫ ভোট।
*২০০৬ বিধানসভা:* কাঁথি দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে লড়ে সিপিআই প্রার্থী সত্যেন্দ্র নাথ পান্ডার কাছে পরাজিত।
*২০০৯ লোকসভা:* তমলুক কেন্দ্র থেকে সিপিএমের লক্ষ্মণ শেঠকে *১,৭২,৯৫৮ ভোটে হারিয়ে* প্রথমবার সাংসদ। শুভেন্দু পান ৬,৩৭,৬৬৪ ভোট, লক্ষ্মণ শেঠ পান ৪,৬৪,৭০৬ ভোট।
*২০০৯ উপনির্বাচন:* কাঁথি দক্ষিণ বিধানসভা আসন খালি হলে উপনির্বাচনে জিতে প্রথমবার বিধায়ক হন।
*৪. নন্দীগ্রাম আন্দোলন: রাজনৈতিক উত্থান*
২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির প্রধান সংগঠক হিসাবে তিনি রাজ্য রাজনীতির প্রথম সারিতে উঠে আসেন। ২০০৮ পঞ্চায়েতে তাঁর নেতৃত্বে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ তৃণমূল দখল করে।
*২০১৪ লোকসভা:* তমলুক থেকে আবার জয়। সিপিএমের শেখ ইব্রাহিম আলিকে *২,৪৬,৪৮১ ভোটে হারান*। শুভেন্দু পান ৭,১৬,৯২৮ ভোট, ইব্রাহিম আলি পান ৪,৭০,৪৪৭ ভোট।
*৫. মন্ত্রিত্ব ও ২০১৬-র জয়*
*২০১৬ বিধানসভা:* নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে বাম-কংগ্রেস জোট প্রার্থী আব্দুল কাদির শেখকে *৮১,২৩০ ভোটে হারিয়ে* বিধায়ক হন। শুভেন্দু পান ১,৩৪,৬২৩ ভোট, আব্দুল কাদির পান ৫৩,৩৯৩ ভোট। জিতে তিনি পরিবহণ ও পরিবেশ মন্ত্রী হন।
*৬. দলবদল ও ২০২১-এর নন্দীগ্রাম যুদ্ধ*
১৯ ডিসেম্বর ২০২০ বিজেপিতে যোগ দেন।
*২০২১ বিধানসভা:* নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে *১,৯৫৬ ভোটে হারান*। শুভেন্দু পান ১,১০,৭৬৪ ভোট, মমতা পান ১,০৮,৮০৮ ভোট। এই জয় তাঁকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা করে।
*৭. ২০২৬ বিধানসভা: ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে জোড়া জয়*
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী *নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর— দুটি কেন্দ্র থেকেই লড়েন এবং দুটিতেই জয়ী হন*।
*ক. নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র:*
- *প্রতিদ্বন্দ্বী:* পবিত্র কর (তৃণমূল কংগ্রেস)
- *ফল:* শুভেন্দু অধিকারী *৯,৯৬৫ ভোটে জয়ী* 4c3a
*খ. ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র:*
- *প্রতিদ্বন্দ্বী:* মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (তৃণমূল কংগ্রেস)
- *ফল:* শুভেন্দু অধিকারী *১৫,১০৫ ভোটে জয়ী*
- অন্য রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবধান *১৫,১১৪ ভোট* ও *১৫,১৪৪ ভোট* 83ee4c3aa10c
মমতার নিজের পাড়ার কেন্দ্র ভবানীপুরে ২০২১ সালের পর ২০২৬ সালেও শুভেন্দু তাঁকে হারান। পূর্ব মেদিনীপুরের ১৬টি আসনেই তৃণমূল ধরাশায়ী হয় তাঁর নেতৃত্বে। 83ee
*৮. বর্তমান অবস্থান*
দুটি আসনে জেতার পর শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন। বিজেপি বিধায়ক দলের নেতা হিসাবে তাঁর নাম কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মনোনীত করে। 83ee
*উপসংহার*
২০০১ সালে ৪,৬৯১ ভোটে হার, ২০০৬ সালেও পরাজয়। তারপর ২০০৯ সালে ১.৭২ লক্ষ ভোটে লোকসভা জয় থেকে ২০২৬ সালে ভবানীপুরে ১৫,১০৫ ভোটে ও নন্দীগ্রামে ৯,৯৬৫ ভোটে জয়— শুভেন্দু অধিকারীর রাজনীতি হল হার না মানার গল্প। কাঁথির মাটি থেকে উঠে আসা এই নেতা ভোটের অঙ্কেই বারবার নিজেকে প্রমাণ করেছেন।
*জয় শ্রীরাম* 🙏







