লেবেল

অল্প স্বল্প গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অল্প স্বল্প গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২০

নির্বাচিত অণুগল্প।। অর্ণা ব্যানার্জি





   ভ্রান্তি


আজ ছন্দার জন্মদিন । প্রতি বছর আজকের এই বিশেষ দিনটি শুরু হয় ছোটবেলার জন্মদিন গুলোর স্মৃতি রোমন্থন করে  । স্মৃতির পাতায় রাখা ঝাপসা চোখের জল মুছতে মুছতে বিছানা ছাড়ল ছন্দা।নাঃ,অনেক দেরী হয়ে গেল ,এবার তৈরি হয়ে তাকে 'কচিপাতা' য় যেতে হবে । বাচ্চাগুলো  যে ওর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ।  'কচিপাতা ' হলো দশ'জন অনাথ বাচ্চা ছেলে- মেয়ের একটি হোম যার পরিচালনার সিংহভাগ দায়িত্ব নিয়েছে ছন্দা । তার এই মহান কাজে সাহায্য করেন এই গ্রামের কিছু সহৃদয় মানুষ।গ্রামের এক সরকারি স্কুলের শিক্ষিকা ছন্দা । স্কুলের কাজের পরে বাকি সময়টুকু দেয় ঐ হোমের বাচ্চাগুলো কে ।ওদের নিয়ে যে ছন্দার অনেক স্বপ্ন ।
একদম ঠিক সময়ে পৌঁছে গেল ছন্দা । এবার যে ছন্দার অবাক হবার পালা । হোম এর ই এক স্চ্ছোসেবিকা মোহরদির সহায়তায় বাচ্চারা কি সুন্দর সাজিয়েছে হলঘরটি । সবাই মিলে আনন্দ করে মোহরদির বানিয়ে আনা কেক কাটা হলো। বাচ্চারা নাচ ,গান ,আবৃত্তি করে ছন্দার মনটা আনন্দে ভরিয়ে দিল । সব্বাই  কে আদর করে  ছন্দা ওদের জন্য আনা  উপহার  আর মিষ্টি দিল । ওদের নির্মল হাসিমুখগুলো দেখে ছন্দার আবেগে চোখে জল এসে গেল। ওদের সাথে কথা বলতে বলতেই ছন্দার হঠাত্ খেয়াল হলো,সবাই আছে কিন্তু কলি গেল কোথায়?  অন্যদের জিজ্ঞাসা করতে জানল যে কলি দীপা দিদিমণির বাড়ি পড়তে গেছে । দীপাদি সামনের বাড়িতেই থাকে আর এই হোমের বাচ্চাদের পড়ায়। শুনে একটু অভিমান হলো ছন্দার । সব্বাই আজ ওর কাছে এল,একসাথে আনন্দ করলো,আর কলি একবারের জন্যও ছন্দার সাথে দেখা করল না? যদিও 'কচিপাতা'র সব বাচ্চারাই ছন্দার নয়নের মণি তবু কলি একটু বেশি আলহাদী। তাই অন্যদের চেয়ে ওকে একটু বেশিই ভালবাসে ছন্দা। কিন্তু আজ কলির ব্যবহার ছন্দাকে ব্যথিত করল। ওদের সাথে আরও কিছুক্ষণ কাটিযে কলি'র সাথে দেখা না হওয়ার দুঃখ নিয়ে বাড়ি ফিরতে ফিরতে এই ভেবে মনটা শান্ত করল যে কলি একটা ছোট্ট মেয়ে, ওর কি এত কিছু বোঝার বয়স হয়েছে যে ছন্দা দিদিমণির জন্মদিনের অনুষ্ঠানে না থাকলে দুঃখ পাবে দিদিমণি?না,না,ওইটুকু মেয়ের উপর ছন্দার অভিমান করা মোটেই সাজেনা।ছন্দা বরং নিজেই আর একবার সনধেবেলা হোমে গিয়ে কলির সাথে দেখা করে আসবে। এইসব নানা কথা ভাবতে ভাবতে কখন বাড়ির সামনে পৌঁছে গেছে । গেট খুলে দরজার তালা খুলতে যাবে,ওমা,দরজার সামনে ওটা কি রাখা ?নীচু হয়ে দেখল,হাতের তৈরি  একটা খুব সুন্দর কলম রাখার স্যান্ড আর একটা ছোট্ট চিরকুটে গোটা গোটা হরফে লেখা, 'শুভ জন্মদিন,ছন্দাদিদি,খুব ভালোবাসি তোমায় কলি।'ছন্দা বুঝল যে আজ সকালে এই জিনিসটা কীভাবে বানিয়ে তাকে অবাক করে দেবে, সেটা শিখতেই কলি দীপাদির কাছে গেছিল।অজানা আনন্দে, কি অসম্ভব ভাললাগায় মনটা ভরে গেল আর কলি'র সম্পর্কে  অকারণে ভুল ভাবার জন্য নিজের উপরে খুব রাগ  হচ্ছিল । কলি'র উপহার বুকে নিয়ে যে পথ দিয়ে এসেছিল,সেই পথ ধরেই ছুটতে লাগল ছন্দা হোমের দিকে ।এখনই গিয়ে কলিকে অনেক আদর ক'রে কপালে, গালে চুমুতে ভরিয়ে দেবে।








  মিনুর দুঃখ


প্রতিদিনের মতো আজও রাতে মিনু ঠাম্মার পাশে শুয়ে গল্প শুনছে ।কিন্তু, আজ যে মিনুর গল্প শোনায় একটুও মন নেই। বিকেল থেকেই তার মন খারাপ  । কাল যে মিনুর  এক মাসের  ছোট্ট ফুটফুটে  ভাই  আর মা আসছে। পুতুলের মতো মিষ্টি ভাই কে নিয়ে যে কি কি করবে, তাই ভেবেই আকুল মিনু ।
সবই তো ঠিক ছিল কিন্তু আজ বিকেলে বাবার কথায় মনটা খারাপ হয়ে গেল ।বাবা অফিস থেকে ফিরে  মিনুকে বললেন,"শোন,তুমি তো জানো আজ আমি যাচ্ছি তোমার মা আর ভাইকে নিয়ে আসতে ।তুমি ঠাম্মার কাছে লক্ষী মেয়ের মতো থাকবে আর কাল বিকেলেই আমরা এসে পড়ব।ঠাম্মা কে না বলে বাড়ির বাইরে যেও না ।ও,আরও একটা খুব দরকারী কথা হলো, কাল থেকে তোমার ঐ পুচু কে নিয়ে বাড়ির মধ্যে খেলা করবে না বা বাড়ির মধ্যে পুচু কে কিছু খাওয়াবেও না। মোট কথা, এই বাড়িতে পুচু'র চলাফেরা একেবারে বন্ধ ।বুঝেছ?যাও,এবার তুমি খেলতে যাও।"
বাড়ির সামনের মাঠে গেল মিনু ।ততক্ষণে ওর বন্ধুরা সব খেলা শুরু করে দিয়েছে । মিনু আর খেলবে কি,বাবার কথায় তো মিনুর চোখ ফেটে জল আসছে ।কেমন করে ও পুচুকে না খেতে দিয়ে বা ওর সাথে না খেলে থাকবে?বাবা এত নিষ্ঠুর কেন হলেন ?ওহ,পুচু' র তো পরিচয় দেওয়াই হয়নি।পুচু হলো মিনুর খুব আদরের এক  ছোট্ট মেনিবিড়াল। মিনুর সব সময়ের সাথী। মায়ের কাছ থেকে দুধ,মাছভাত  এসব নিয়ে মিনুই তো ওকে খেতে দেয় । কত গল্প ওর সাথে করে মিনু আর পুচু চুপ করে  শোনে। পুচু কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনোদিন মা,ঠাম্মার রান্না করা খাবারে মুখ দেয়নি ।  এ হেন ভদ্র বিড়ালের সাথে খেলা করা যাবে না বা ঘরে আনা যাবে না বাবা বলে দিলেন ?আহা, পুচু তো সবসময় ওদের বাড়িতেই বসে থাকে না,সারাদিন এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ায় আর মিনু যখন সময় পায়,ওর সঙ্গে খেলে, গল্প করে, খেতেও দেয়।ও নিশ্চিত যে ভাই এলে পুচুর সাথে ভাইয়ের ও খুব ভাব হয়ে যাবে। তাহলে বাবার এত আপত্তি কেন পুচু কে বাড়িতে ঢোকানোর ব্যাপারে ,সেটা মিনু কিছুতেই বুঝতে পারছে না ।
আজ খেলাতে মন দিতে পারল না মিনু ।ঠাম্মার ডাকে বাড়ি ফিরে হাত মুখ ধুয়ে দুধ বিস্কুট খেয়ে পড়তে বসল।পুচু'র কথা ভাবতেই কান্না পেয়ে যাচ্ছে ,পড়া আজ মাথায় ঢুকল না ।
রাতে ঠাম্মার কাছে গল্প শোনাতেও যে মন নেই ।গল্প বলার সময়  মিনুকে চুপচাপ থাকতে দেখে ঠাম্মা নিজেই শুধোলেন, "কি হয়েছে দিদিভাই, আজ একদম চুপচাপ?মুখটা কেমন শুকনো করে আছিস?"মিনু তখন ঠাম্মাকে বাবার কথাগুলো বলল আর তখনই ঠাম্মা ওর মনের অবস্থা টা বুঝতে পারলেন ।বিড়ালের গা থেকে খুব লোম ছড়ায় চারিদিকে আর বাড়িতে খুব ছোট্ট  ভাই আসছে ,যার জন্য বাড়ি পরিচ্ছন্ন রাখা ভীষণ জরুরী, তাই তো মিনুর বাবা পুচুকে বাড়িতেই ঢোকাতে না করেছেন ।এসব কথা ঠাম্মা মিনুকে বুঝিয়ে বললেন । কিছুটা বুঝলেও মিনুর মনের কষ্ট মোটেও কমল না,পুচুর কথা ভাবতে ভাবতে ক্লান্ত মিনু ঘুমিয়ে পড়ল ।
পরদিন রবিবার । স্কুল ছুটি, তাই একটু দেরিতেই ঘুম ভাঙল মিনুর।আজ বিকেলে ভাই আসছে মনে পড়তেই যে পুচুর কথা ভেবে আবার মনটা খারাপ হয়ে গেল । ঠাম্মা ডাক দিলেন, "দিদিমণি, উঠে পড়্ ,জলখাবার চটপট খেয়ে নে।" বিছানা ছেড়ে উঠে হাত মুখ ধুয়ে খাবার খেতে খেতে মিনু বলল,"ঠাম্মা, পুচুকে দেখেছ সকালে?" ঠাম্মা উত্তর দিলেন,"ওরে মা, আগে খাওয়া শেষ কর্,তারপর দেখছি তোর পুচু কোথায়?"
খাওয়া শেষ হলে ঠাম্মা মিনু কে নিয়ে বাড়ির পিছনের বাগানে এলেন ।এদিকে একটু জঙ্গল মতো বলে মিনু বড় একটা আসে না ।কিছুটা ভেতরে ঢুকে ঠাম্মা একটা ছোট্ট খড়ের তৈরি ঘরের সামনে এসে থামলেন ।মিনু অবাক হয়ে বলল, "এই ছোট্ট ঘরে কে থাকে ঠাম্মা?"কোন কথা না বলে ঠাম্মা মিনুকে ঘরের মধ্যে উঁকি দিতে বললেন ।ওমা, এ যে অবাক কান্ড । ঘরের মধ্যে পুচু তার সামনে রাখা বাটি থেকে চুকচুক করে দুধ খাচ্ছে।ঠাম্মা বললেন, "আমার মিনু দিদিমণির যে বড্ড দুঃখ হচ্ছিল পুচুর সাথে খেলতে পারবে না, খাওয়াতে পারবেনা বলে,তাই তো আমি ওর জন্য ঘর বানিয়ে দিলাম ।এবার তুই যখন ইচ্ছা পুচুর সাথে এখানে এসে গল্প করে যাবি আর ওকে খাওয়ানোর দায়িত্ব আমি নিলাম।আর একটা কথা, এটা খেয়াল রাখতে হবে যে পুচু যেন কোনোভাবেই আমাদের বাড়ির ভিতরে না ঢোকে।"এর চাইতে ভালো আর কি হতে পারে?মিনু আনন্দে লাফাতে শুরু করল ।ঠাম্মা ওকে সস্নেহে  বুকে জড়িয়ে ধরলেন ।










শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২০

অল্প স্বল্প গল্প




  স্বার্থে!

    স্ত্রী সন্তান সম্ভবা। স্বামী পরিযায়ী শ্রমিক । ফিরছে অন্য রাজ্য থেকে। স্ত্রীর সঙ্গে দেখা হবার আর বাবার হবার সুখানুভূতি একসাথে। 
      আপাতত স্টেশনের কোয়ারেন্টাইনে। স্ত্রী ফোনে জানালো আসার দরকার নেই। যে আসছে, তাকে সুস্থ থাকতে দাও।





  তোমাকে ভালোবাসি

সরস্বতী পুজোর দিন। হলুদ পাঞ্জাবিতে সদ্য গোঁফের রেখা নিয়ে শুভ ।পকেটে এক টুকরো কাগজ। বাসন্তী শাড়িতে ঝিমলি। মুখোমুখি দাঁড়ালোও খনিক।চোখে চোখ। কিন্তু...
      শুভএখন মধ্য পঞ্চাশে। ঝিমলি বিবাহিতা। এখনও কাগজের টুকরোটা শুভর ডায়েরির ভাঁজে।




   ভোঁ

    লক ডাউন শেষ। জুট মিলের ভোঁ বেজে উঠল। ধড়মড়িয়ে উঠে বসল লখাই। ঘুম চোখে বৌকে খুঁজলো।
   
     বৌ রাতে কোথায় যেন গেছিল। এই ফিরলো। কোঁচর থেকে মুড়ি বাতাসা বাটিতে ঢালতে ঢালতে গজরালো
"নাও, ওঠো দিকিনি, গতরটা একটু নাড়ো। দু'টো গিলে কাজে যাও। "




   উচ্ছিষ্ট

   মেয়েটা বাড়ি ফেরেনি এখনও। পাঁচ বাড়ি কাজ করে ঊষার মা ভাত নিয়ে ঠায় বসা।
     মাঝরাতে মেয়ে ফিরলো, সারা গায়ে জ্বলন নিয়ে। সিগারেটের ছ্যাঁকার জ্বলন! বলল, "ওরা ট্যাকা দেবে বলেছিল, দিলো না। শুধু ফুর্তিই করল।"
   
    ঊষার মায়ের চোখে আগুন! বলল, "মরণ হয় না কেন তোর?"





    বন্ধন

    চার দেয়ালে আবদ্ধ অসুস্থ অনুপমা। সমরেশ ব্যস্ত কর্মজগতে। কোথায় যেন একটা দূরত্ব!
       একসময় ওরা গানে মেতে থাকত। বন্দী অনুপমার খুব শুনতে ইচ্ছে করে সমরেশের গান।
      হঠাৎ সেদিন বাড়ি ফিরে সমরেশ সোজা বারান্দায়। খানিক উদাস । গেয়ে ওঠে 'যে রাতে মোর দূয়ারগুলি... '!
       
         হুইল চেয়ার টেনে বারান্দায় এলো অনুপমা। দুজনের চোখেই জলের ধারা...




যেকোনো বিভাগে অপ্রকাশিত লেখা পাঠান।
মতামত জানান  
bimalmondalpoet@gmail. com      

সোমবার, ২৯ জুন, ২০২০

নির্বাচিত অল্প স্বল্প গল্প





রাণু

স্ত্রী জলে ডুবে মরার পর থেকেই রমাপতি কথাটা পাড়ছিল। 
ছেলে ভাল, পয়সা আছে।বয়স একটু বেশি,
তাতে কি? শ্যালিকা রাণুর সাথে বিয়েটা হয়ে গেল।
সেই থেকে শুভ্র একা একাই স্কুলে যায়। 
তারপর... বহুদিন পর... 
হঠাৎ একদিন..
ইসস্, গল্পের মতো জীবন কেন যে হয় না !শুভ্র আজও ভাবে।

অলংকরণ- বিমল মণ্ডল  


মা

আজকেও সাত সকালে একপ্রস্থ হয়ে গেছে।
বৃদ্ধা শাশুড়ি আর বৌ। ছেলের নতুন সংসার।
বৃদ্ধাশ্রমই কি তবে শেষ উপায় ?
শীতের বিকেল।রোদে পিঠ দিয়ে শাশুড়ি বসে আছেন ছাদে। উবু হয়ে ঝুঁকে, একান্তে, একমনে বুনে চলেছেন কিছু। 
বৌমা উঁকি দিয়ে লজ্জা পায় ;
এ যে, একটা অসমাপ্ত ছোট্ট লাল সোয়েটার !





অপেক্ষা

আমফানে উড়েছে ঘর।যেটুকু জমি,
নোনাজলের তলায়। যারা অন্য পার্টি করে তাদের আর কে ত্রান দেয় ? 
'আমি কাজে যাব' বই ফেলে বলে ওঠে মা-মরা ষোড়শী মেয়েটি। চমকে ওঠে বাপ।
'তবে,তাই ... যা। মুখের মাস্কটা যেন ভুলিস নে মা।'

এখন অনেক রাত।একটা বাইকের শব্দ হল না?
হুসস্ ,বিড়াল একটা।

অলংকরণ- বিমল মণ্ডল  



কালো

'...কালো মানুষেরা কি কান্ডটাই না করছে সেখানে !'
ফ্লয়েড হত্যার পর 'সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের  ' কবিতাটা আবারও পড়ল সুমন।বারবার পড়ল। 
মনটা চঞ্চল হয়ে আছে। 
কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছে না কাল কি করবে। 
যে করেই হোক,সিদ্ধান্ত একটা নিতেই হবে,মোটামুটি ফর্সা না দারুন ফর্সা,কোন সুন্দরী মেয়েটিকে সে বিয়ে করবে।

অলংকরণ- বিমল মণ্ডল  



ফোন কল

সমস্যার কথাটা কাউকে খুলে বলতে পারে না সুতপা।ছেলেমেয়ে বড় হয়েছে,কি না কি ভাববে !
ঠিক দুপুর তিনটেয়, যখন সে একা, উটকো ফোনটা আসে।ধরলেই আর কোন উত্তর নেই। তবে কি...
সুতপা উতলা হয়।
এখন তিনটে বাজতে তিন,দুই,এক...
ফোনটা কি বাজবে ?
যদি আজ না বাজে ?আর না বাজে ?




অপ্রকাশিত লেখাই আমাদের একমাত্র কাম্য
মতামত জানান
bimalmondalpoet@gmail.com       






শনিবার, ২৭ জুন, ২০২০

নির্বাচিত অল্প স্বল্প গল্প



      
            

                             
  
      পাম্প হাউজ

ফিতে কৃমি যেন আত্রেয়ী। নদীর ক্ষীণ জলধারার মতোন আওয়াজ, বাবা এসেছে !
আয়রে সোনা।
লোকের রেরে চীৎকার।  কেন এসেছো ?
 বাড়ি।  সবকিছু করে ফিরেছি।
মানবো না। কোয়ারেনটাইনে থাকতে হবে।
বাড়িতেই না হয় ...
না। গ্রামের বাইরে পরিত্যক্ত পাম্প হাউজ।
ওতো বন জঙ্গলে ঘেরা।
কথা বাড়িয়ো না আর।
মঞ্জু !
হ্যাঁ।
ঘুম ভাঙা খোকার চীৎকার সাপ ...সাপ...



অলংকরণ- বিমল মণ্ডল  


     চুপ কথা

 ঝনঝন আওয়াজে, কি হলো বলতে বলতে
ছুটে আসে দেবমাল্য পাশের ঘর থেকে। দেখে, শ্রীলেখা চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। ডেসিনটেবিলের কাচটা ভেঙে চূরচূর। 
কিভাবে ভাঙলো ? কোথাও কেটে যায় নি তো শ্রী, দেখি।
ন্যাকামো করতে হবে না, যাওতো। ডেসিনটেবিলের কাচটা নাহয় ভেঙেছে ? ইচ্ছে
করেই ভেঙে ফেলেছি। ও কিনা দেখায়, আমার চুলে পাক ধরেছে !

অলংকরণ- বিমল মণ্ডল  


                            -

     আমরা মানুষ

 এই শোন, পেটের শততুরটা কি যেন বলছে !
ধ্যাৎ কি বলবে আবার ? শোন না !                   

হ্যাঁ,  বলছে, এই যা কুঁড়িয়ে বাড়িয়ে খাও, প্রাণশক্তি হচ্ছে না ওর। 
কি করি বলতো ?                                          
একটু এগিয়ে দেখো, আনারসের ক্ষেত পাবে। সদ্য কাটা হয়েছে। জড়ো করে রাখা।
যাই।
দম।
আ: জ্বলে গেলো...জ্বলে গেলো...
আমরা মানুষ বুঝলি ?

অলংকরণ- বিমল মণ্ডল  


                          -

     কামার শালা 

 হাপরে টান দেয় রহিম চাচা। ধারালো বটি বানানোর বরাতে প্রস্তুতি। মজবুত করে বানানো হাতুড়ির ঘা'য়। দুটো গ্রামের পরের গাঁ'য়ের রফিক নিয়ে যায় যোগ্য দামে। জামাই
হৃদয়েতুললার চাচতুতো ভাই। হঠাৎই পাওয়া ফোনে ছুটে যেতে হয় মেয়ে মমতাজের শ্বশুরবাড়ি। রহিম গিয়ে দেখে, ভেসে যাওয়া রক্তে শোয়া মেয়ে,  সদ্যজাত নূরজাহান,পাশে পড়ে বটি।

                            -
              
                      
অলংকরণ- বিমল মণ্ডল  




                           
    ফেরার অপেক্ষায়

লেডিস এন্ড জেন্টলম্যান, আপনারা সিট বেল্টটা বেঁধে নিন। ওয়েলকাম টু নিউজার্সি 
নেওয়ারক এয়ারপোর্ট। এয়ার ইন্ডিয়া ৭৩৭
বোয়িং এক্ষুণি মাটি ছোঁবে।
 এতেই ভারতীয়দের'  ফেরা।
মিস অগ্নিজিতা, মিষ্টার সৌম্যজিত পাল একমাত্র সন্তান সূর্য ফেরার অপেক্ষায়।
ওদের আলাপ এখানেই। বিয়ে। বাচ্চা দেড় বছরের। জন্ম এখানেই।
  মাইকে ঘোষণা শুধুমাত্র ভারতীয়রাই' বিমানে উঠবেন। তবে সূর্য ?



যেকোনো বিভাগে অপ্রকাশিত লেখা পাঠান  
মতামত জানান
bimalmondalpoet@gmail.com      


                        -


সোমবার, ২২ জুন, ২০২০

নির্বাচিত অল্প স্বল্প গল্প





অভিশাপ 

ঝড় এলেই মেয়েটা ছুটে বেরিয়ে যেত। খোলা চুল। শাড়ির আঁচল কোমরে জড়ানো। সর্পিল দেহলতার মত ঝড় যখন দাঁত কিড়মিড় করে ছুটে আসত, সে চেয়ে থাকত স্থির দৃষ্টিতে। দুন্দুভি বাজত বুকে। দু'হাত সামনের দিকে বাড়িয়ে ঝড়কে যেন এফোঁড় ওফোঁড় করে দিত। ঠিক যেমন সনাতনকাকা ঘুমন্ত তাকে দুই উরুর মাঝখান এফোঁড-ওফোঁড় করে দেয়। খোঁড়া বাপ অভিশাপ দেয় শুধু। বাঁচাতে পারে না। 


অলংকরণ- বিমল মণ্ডল  



রেড জোন

আজ একুশ দিন পর রিক্সা নিয়ে বের হয়েছে সহদেব। লকডাউন ঘোষণা হবার পর এই প্রথম। পেটে মাল পড়েনি, পা চলছে না। সকালে সরমা চালের ফাঁকা হাঁড়িটা ঠক করে তার সামনে উপুড় করে দিল। একটাও দানা নেই। 
দুটো ভাড়া খেটে সবে দু'কেজি চাল, আলু এক কেজি কিনে বড় রাস্তার  মুখে গ্যাছে, লাঠি হাতে পুলিশ তেড়ে এল। "শালা রেড জোন, গাড়ি নিয়ে মারাতে এসেছো!" লাঠি গায়ে না পড়ে হাতে পড়ল। সব চাল আলু তখন রাস্তার ধুলোয়। 


অলংকরণ- বিমল মণ্ডল  



মৃত গন্ধ

প্রতিদিনের মত আজও তিনি স্নান সেরে ছাদে এসেছেন। হাতের ঘটিতে গঙ্গা জল। জ্বলন্ত ধূপকাঠি। টবের গাছ থেকে একটা জবাফুল তুলে তুলসী মঞ্চে রাখলেন। তারপর তুলসী গাছে তিনবার জল দিয়ে ধূপ ঘোরালেন। আর সূর্য প্রণাম করতে গিয়েই তাঁর মুখোমুখি। আজ মুখে একটু হাসি মনে হল। স্লিভলেস পরেছেন। বুকের কাছের কাপড় অন্যদিনের থেকে বেশি সরে গেছে। মায়াময় মুখে  আশ্চর্য এক আলো। যা কোমরেও নেমে এসেছে। শমিতের  সারা  শরীর জুড়ে  একটা যৌন উত্তেজনা। 
পরক্ষণেই তার মনে হল সমস্ত ঘর যেন মৃত স্ত্রীর গায়ের গন্ধে ভরে উঠল। 

অলংকরণ- বিমল মণ্ডল  



না-লেখা গল্প

প্রায় প্রতি ভোরে সে আমাকে জাগিয়ে দেয়। দরজার আড়াল থেকে মুখ বের করে এক টুকরো রহস্যময় হাসি ছুঁড়ে পালায় । তারপর সারাদিন হন্যে হয়ে তাকে খুঁজি । ঘরে, পথে, নিজের মধ্যে, কাজের জায়গায়, এমন কি শূন্য করিডরে তার জন্য অপেক্ষা করি। তবু সে অধরাই থেকে যায় । 
ঘরে ফেরার আলো-আঁধারিতে, নিয়ন বাতিতে, ত্রিফলার অনুজ্জ্বল আলোয় ক্ষণিকের জন্য তার মুখ দেখতে পাই। অবয়ব গড়ে ওঠার আগেই সে অদৃশ্য।
বিকেলে গঙ্গার পাড়ে, বাবুঘাটে, চা খেতে খেতে তাকে খুব নরম গলায় একদিন জিজ্ঞেস করলুম, "কে তুই?"
সে ফিচেল হাসি দিয়ে চায়ের ভাঁড় ফেলে বলল, "চিনলে না, আমি তোমার না-লেখা গল্প।"
পরমুহূর্তে লাফ দিয়ে ফেরিলঞ্চ ধরে সে গঙ্গার পারে হাওড়ার দিকে চলে গেল। 



অলংকরণ- বিমল মণ্ডল  



বিস্মৃতি

--হ্যালো… 
--বলি, বেঁচে আছিস? তিন দিন হল ফোন কচ্ছিস না কেন! 
--এক্সপায়ার ডেট  এসে গ্যাছে। আমাদের এখানে রেড জোন। সব বন্ধ। পাতা নেই, ঢুক্কুস নেই… 
--পাতা! তুই পাতা খাস? মৌপিয়া সন্দিগ্ধ । আর ঢুক্কুস কী? বল্… 
ঋষভ প্রমাদ গোনে। ম্যানেজ করতে হবে।
 --না, মানে চা পাতা। চা পাতা শেষ হয়ে গ্যাছে তো তাই চুমুকও নেই। ঢুক্কুস। 
--ওঃ তাই বল্ । আমি তো ভাবলাম… 
--কী ভাবলি! আমি পাতাখোর। বাংলা টানি। এই তো! 
--উত্তেজিত হচ্ছিস কেন। আমি কি তাই বল্লাম। শিগ্গির আনলক ওয়ান হবে। একদিন দেখা কর্। 
--কেন? গলায় মালা দিবি? 
--দিতেও তো পারি। 
--আর তোর সেই পোস্ট ডক্টরেট করতে যাওয়া অর্কর কী হবে। 
--সত্যি বলছি, একদম ভুলে গেছি। 

যেকোনো বিভাগে অপ্রকাশিত লেখা পাঠান
মতামত জানান
bimalmondalpoet@gmail. com