লেবেল

মুক্ত গদ্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মুক্ত গদ্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

মুক্ত গদ্য।। অনিন্দিতা শাসমল।। Ankurisha ।। E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 



মুক্ত গদ্য

অনিন্দিতা শাসমল 


বৃষ্টিভেজা তালের গন্ধ


পয়লা বৈশাখ ছাড়া প্রায় সারাবছরই বাংলা মাসের তারিখ ঠিকঠাক মনে রাখতে পারিনা ; এই সীমাবদ্ধতার জন্য মনে মনে লজ্জিতও  হই আমি। তবে  বিশ্বকর্মা পুজোর দিন যে ভাদ্র মাসের সংক্রান্তি, এইটুকু মনে থাকে ; আর ভাদ্র মাস এলেই তালের কথা মনে পড়ে যায়। মনে পড়ে বিভূতিভূষণের 'তালনবমী' গল্পের কথা, জন্মাষ্টমীর দিন ঠাকুমার হাতে বানানো তালের বড়ার কথা। আরো কত কথা মনে পড়ে! মনে পড়ে, ভরা বর্ষায় সবাই মিলে তাল কুড়োতে গিয়ে, কাদার মধ্যে হাওয়াই চটি আটকে যাওয়ার কথা। কোনরকমে চটির ফিতে ছিঁড়ে তাকে এঁটেল মাটির কাদা থেকে উদ্ধার করে, ভিজে সপসপে হয়ে কোলে একটি করে কাদামাখা বড় আকারের তাল নিয়ে দাঁত বের করে বাড়িতে হাজির হতাম ভাইবোনেরা। ঠাকুমা, জেঠিমা আমাদের দেখে খুশি হলেও, মার মুখে বিরক্তি ফুটে উঠতো। প্রথম কারণ, ভিজে আমাদের ঠাণ্ডা লাগার ভয়, দ্বিতীয় চটির ফিতে ছেঁড়া, আর সর্বশেষ কারণ হলো -- কাদামাখা এতগুলো তাল পরিষ্কার করে,ছাড়িয়ে ঝুড়ির  সাহায্যে মাড়ি বের করতে হবে মাকেই।ঢেঁকিতে চালের গুঁড়োও তৈরী করতে হবে সারারাত চাল ভিজিয়ে রেখে।কাঠের উনুনে বড় মাটির পাত্রে মাড়ি ফুটিয়ে ফুটিয়ে গাঢ় করতে হবে.. ইত‍্যাদি। অনেক ঝামেলা! আমি মায়ের গম্ভীর মুখের  দিকে না তাকিয়েই জেঠিমাকে বলতাম , আজ তালের মাড়ি  ফুটিয়ে রাখো, কাল তালের বড়া , সরুচাকলি আর নারকেল দিয়ে তালের ক্ষীর করবে কিন্তু।

                     চিরদিন নস্টালজিয়া জ্বরে আক্রান্ত আমি, বিবাহসূত্রে শহরের বাসিন্দা হওয়ার পরেও ভাদ্র মাস শেষ হবার  আগে তালের বিভিন্ন পদ খাওয়ার লোভ সামলাতে পারিনা । কয়েকদিন শরতের নীল আকাশ দেখে ভুলে গেলেও , নিম্নচাপের বৃষ্টি আর মুখ ভার করা আকাশ মনে করিয়ে দিলো ,ভাদ্র মাস এখনও শেষ হয়নি, আরও ক'দিন বাকি আছে ,আর  এ বছর তালের কোনো পদও খাওয়া হয়নি । সুগার লেভেল বর্ডার লাইনে থাকা সত্ত্বেও, অগত‍্যা গুটি গুটি পায়ে বাজারের দিকে গেলাম একটি কালো তাদের আশায় ।একটি বড় কালো 'হেঁড়ে তাল ' দেখে দাম জিজ্ঞেস করতেই চমকে উঠলাম -- ৬৫ টাকা ! বুঝলাম করোনাকালীন উচ্চ বাজারদর অথবা কোনো অজানা কারণে তালের দামটিও বেশ চড়া ! আরও দু একজনের সঙ্গে দর কষাকষি করে , অবশেষে ৫০  টাকায় একটি বেশ বড় কালো তাল কিনে আনলাম। মনে পড়লো, গতবছরও পনেরো কুড়ি টাকায় তাল কিনে এনেছি; মনে পড়লো  তালনবমী গল্পে  এক পয়সায় দুটো অথবা তিনটে তাল বিক্রির কথা , আর আমাদের বিনা পয়সায় তাল কুড়িয়ে  ভয়ে ভয়ে বাড়িতে আনার কথা।

             যাই হোক,বাঁশের ঝুড়ি ছাড়াই কোনোরকমে হাত দিয়ে পাতলা তালের মাড়ি বের করে, অনেকক্ষণ ধরে গ‍্যাস পুড়িয়ে ফুটিয়ে তাই  দিয়ে বড়া, সরুচাকলি বানিয়ে ছেলে মেয়েকে দিতে গেলাম। ছেলে কোনোরকমে একটি বড়া মুখে তুলে আমার মন রাখলো বুঝলাম। ছেলের বাবা আর আমি পরম আনন্দে সেদিন রাতে তালের বড়া আর পিঠে দিয়েই ডিনার সারলাম। আর মেয়ে দুটো তালের বড়া হাতে নিয়ে ,দাঁতে কাটতে গিয়ে, হঠাৎ ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো। আমি আমার মেয়ের মনোজগৎটা খুব ভালো জানি ,তাই বললাম-- কিরে 'তালনবমী' গল্পের গোপাল আর নেপালের কথা মনে পড়ছে? 'সহজ পাঠের গপ্পো' সিনেমাটার কথা মনে পড়ছে? তাই তো! ও  মাথা নেড়ে কোনোরকমে বললো--হ‍্যাঁ মা। ওদের  দুই ভাইকে পেলে, বাড়িতে ডেকে এনে ,আসন পেতে বসিয়ে তোমার বানানো সব বড়া আর পিঠেগুলো খাওয়াতাম। আমার চোখ থেকেও দুফোঁটা জল গড়িয়ে পড়লো — আমার বুকে মুখ গুঁজে রাখা ওর মাথার খোলা চুলের ওপর। তালের পিঠে খাওয়ার  সব আনন্দ  মা-মেয়ের বেদনার অনুভবের অশ্রুতে মিলে মিশে একাকার হয়ে গেল।







আরও  পড়ুন👇🏾👇🏾


*প্রেমের কবিতা পর্ব-৫২* 

 *আজকের কবি* 

 *শ্যামল রক্ষিত* 

🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹


https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/09/ankurisha-emagazine-bengali-poem-in_19.html


 

শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২০

মুক্ত গদ্য।। অলক জানা

 






ইন্দ্রপতন ও নিস্তারিণীর অনন্যোপায়

অ ল ক জা না


ঘটে যাওয়া এমন কিছু মুহূর্তের কারণ অনুসন্ধান করা বেশ কঠিন কাজ। মৃতলোকের প্রাণ ফেরানোর মতোই দুষ্প্রাপ্য। অধরা কারণেই থেকে যায়, থেকে গেছে ঘটমান দৃশ্যের গুটিকতক ভগ্নাংশ। এই থাকা হতে পারে আকাশে মৃয়মান তারার প্রভা। লাগাতার উটকো না চাওয়া মেঘের দৌরাত্ম্য চলতে থাকলে এই সব চিরপরিচিত চিত্রলেখা ক্রমশ ধূসর হয়ে পড়ে। 


কিছু প্রতিশ্রুতি তাই সময়োচিত রচিত হয়। 

কোন একসময় সব চুকেবুকে গেলে মানে ঋতু ভাঙলে নিজেকে মনে হয় একদম বোকার হদ্দ। আসল কথা হলো তখন "কী বোকাটাই না ছিলাম !"

সবই ঠিকঠাক। হঠাৎই জ্বর। দূরত্ব বাড়লো। সেদিন জ্বর হয়তো অন্তরেই নিয়েছিল বাসা। তারপর যা হয় হিসেবের বাইরে সব শেষ ! 


পুরনো স্মৃতি উসকে কটাদিন কেটে গেল ঘোরের মধ্যেই। ধীরে ধীরে নিজের চেনা অক্ষরেখায় না ফিরে গত্যন্তর নেই তো ? কলম লেখার টেবিল জ্যোতির্ময়ী কবিতার হাতছানি বিমুখ ফেরায় সাধ্য কার ? সেই অক্ষর ঐশ্বর্যের নাগালে এসে অকপট শিশু সরলতায় স্বীকারোক্তি দেওয়া খানিক উপশম বোধের সুযোগ আর হাতছাড়া করা গেল না। 


লিখতেই হলো...কিছু সম্পর্কের ইন্দ্রপতন ও প্রেমিকার বিমুখ অনন্যোপায়ের সঙ্গে সমানুপাতিক। প্রতিদিন কুশল বিনিময়। দিনপঞ্জির সঙ্গে মিশে থাকার পর হঠাৎ নিভে যাওয়ার গুহামগ্নতা প্রিয়জনকে দিশেহারা করে। এই অতিমারী নিষ্ঠুরতা এখন সহচরী ছায়া। পরিস্থিতির শিকার হলে প্রিয়মুখে শুরু হয় অসহ্য অনাচারের চাষ !


জানি না এক্ষেত্রে পরিস্থিতি নাকি লুকনো প্রবৃত্তির ফালরূপে আবির্ভাব ? অসহায়তা শাসন করে খাঁ খাঁ লাগে পরমায়ুর কয়েকপ্রস্থ প্রহর। কী বা করা যায় শপথের মুখ অচেনা হলে সিদ্ধান্তের পথ পরিবর্তনই আরোগ্যলাভের একমাত্র দিশ। মেধার পরিস্রুত জল-আলোয় স্নান সারলে আর এক জন্মদিন। উৎসব মুখর হোক। কিছু পণ্ডশ্রম আত্মজৈবনিকতায় কাঁটা হয়েই ফিরে আসে। 


সহ্য করার নামই আক্কেলসেলামি বা পচে যাওয়া আবেগী ফসল। কিছু ভুল আজ কাল পরশু যে কোন দিন বিপর্যয় নিয়ে আসবেই তো। তার জন্য আদপে কেউ প্রস্তুত থাকে না। আমিও না। ঘটে গেল সেই ভাঙন বিপর্যয়। ধরাযাক একটি ইন্দ্রপতন। মানে একটি নিপাতন সম্পর্ক আমার থেকে চেয়েছে মুক্তি বা অনন্যোপায়। আসলে সেই গগন, সেই নিস্তারিণী।



----------------------------------------------------------------

মতামত জানান। 

মৌলিক ওঅপ্রকাশিত লেখা পাঠান। 

ankurishapatrika@gmail. com


---------------------------------------------------------------------