লেবেল

উন্মুক্ত কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
উন্মুক্ত কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ২২ মে, ২০২৩

উন্মুক্ত কবিতাগুচ্ছে -৩০।। রাজেশকান্তি দাশ-এর — চারটি কবিতা।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।






উন্মুক্ত কবিতাগুচ্ছে -৩০



রাজেশকান্তি দাশ-এর চারটি কবিতা 




১.

 সবুজ প্রেম



ঘাসটুনি চোখের পলকে চলে যায়
ঘাসবনের দিকে

আমি জোনাকি ভেবে তার পিছে তাকাই
কিন্তু সে ঢুকে যায় তার কাঙ্ক্ষিত পুরুষের মধ্যে

যেখানে রয়েছে ভালোবাসার ঘাসবীজ
আর টুনার সবুজ প্রেমের ছায়া।




২.
সোনালি ডিম



আমি গাছ ফার্নিচার থেকে
একটি খাট কিনি;

রাতে এই চন্দনা খাটে শুই।

রাত ভোর হলেই ছাদ ফুঁড়ে
আকাশ থেকে খাটের ওপর পড়তে থাকে
একটি একটি করে সোনালি ডিম।


৩.
ডুমুর



ডুমুরের ভিতর হাসতে থাকে
ঠাসা ঠাসা নীল মাংস,

আমি আপন মনে ক্ষুধার্তের মতো
মাংসগুলি খেয়ে বমি করে দিই

নিঃশেষ হতে থাকে তার বিষ।


৪.
সাবান



সাবান,
পচা সাবান

শুধু প্যান্ট এবং শার্টটাই ধুয়
অন্তর্বাসে হাত দেয়নি

নিঃসঙ্গ অন্তর্বাস কাক হয়ে সাবান খেয়ে
আকাশে উড়ে যায়।

শনিবার, ২০ মে, ২০২৩

উন্মুক্ত কবিতাগুচ্ছ —২৮ ।। অমিতাভ সরকারের — তিনটি কবিতা।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




উন্মুক্ত কবিতাগুচ্ছ —২৮



অমিতাভ সরকারের তিনটি কবিতা 




১.
ছুটি নেওয়ার কাজে


হাওয়া দিচ্ছে।
মনে হয় জোর বৃষ্টি নামবে।

তবে মানুষেরা এখনও আসছে।
এ জীবিকায় বিশ্রাম বলে কিছু নেই ।

জীবনের প্রতিটি ঢেউয়ের সাথে নতুন করে আলাপ।

সমস্যাকে আবারও নতুন করে দেখা।
তবে দোষ কী!
ওদেরও তো প্রেমে পড়তে ইচ্ছে করে। 




ফেলে আসার পর


বেরিয়ে এলাম।
ঘরে ফেরার পথ।

আবার একই রকম সিট।

ওই যে। 
বাস আসছে।
উঠি।
কিছু ফেলে যাচ্ছেন না তো! 

কিন্তু এখনও সময় হয়নি।
কিছু ফেলে আসছেন না তো।

আবার যদি একই কথা বলেন 
তো আপনাকেই রেখে দিয়ে চলে যাব।

আসুন, বুকে আলো ভরি।

নিজের মধ্যে অক্সিজেন না রাখলে 
অন্যকে ভরসা দেবেন কী করে?





মেঘদূতের আগের কথা 


পরিবেশের ভাবনাটা এখানে কারোরই সম্পূর্ণ একই রকম নয়
কাছাকাছি হতে পারে মাত্র, 
তাও সব ক্ষেত্রে বোঝা যায় না 

মনগুলো কাছাকাছি এসে বসে এই যা।

আমি কোনো বিষয়ে এক রকম ভেবেছি,
তো আমার স্ত্রী অন্য কিছু, বা... 

সময় সব ঠিক করে রাখে

প্রকৃতি তাল মেলায়,
আমাদের প্রচলিত বিষয়ের সাথে কখনো মেলে, কখনও আবার...

তাই তো যা ভাবব, সেটাই যে হবে এমনটা নয়।
এখানেই একটা সার্থক সৃষ্টির মেঘ জন্মলাভ। 

আর মেঘে তো জমির দাম বেশ ভালোই...





শুক্রবার, ১৯ মে, ২০২৩

উন্মুক্ত কবিতাগুচ্ছ —২৭ ।। দেবপ্রসাদ জানা -র পাঁচটি কবিতা।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



উন্মুক্ত কবিতাগুচ্ছ —২৭



দেবপ্রসাদ জানা -র  পাঁচটি কবিতা 



১.

 চিত্তহারিনী



প্রায়ই কোনো অনুসঙ্গ ছাড়াই মনে পড়ে তাকে

কখনো তীব্র ভাবে, কখনো অস্পষ্ট, 

কখনো স্নান ঘরে। কখনো আয়নায়।

চোখের সামনে আসে আর চলে যায়।


আমি চেষ্টা করেও তার মুখচ্ছবি ভুলতে পারছি না

কখনো ঘোর অন্ধকারে,চিলেকোঠায়।

কখনো বর্ষা রাতে আলোছায়ায়।

প্রখর রোদ্রে এক্সপ্রেস ওয়েতে মরীচিকায়।


মস্তিষ্ক হারিয়ে ফেলে বোধ। 

চেয়ার পেতে বসে পড়ে স্নায়ুকোষ।

একটা ঠান্ডা শিহরণ বয়ে যায় মেরুদন্ড বরাবর।


সে আসে শরীরে রক্ত চলাচলের মধ্যে মিশে যায়।

ক্ষরণের মতো কিছু ঘন তরল মেরদন্ড দিয়ে বইতে থাকে।

বিষন্নতায় আচ্ছন্ন হয়ে আসে শরীর। 

কখনো সে আসে, কখনো চলে যায় নিঃশব্দে নীরবে।


সমুদ্রের জলে সত্তরভাগ ডুবে থাকা পৃথিবী বাঁচতে চায়।

হাবুডুবু খায়। সাঁতরে ডাঙ্গায় উঠতে চায়।

কি সেই আত্ম প্রবঞ্চনা? কে সেই চিত্তহারিনী?

কেন সে আসে?কেন চলে যায়, কেন যে যায় না দেখা।

আকাশের রঙে মিশে,হারিয়ে যাই আমি একা ।।



২.

বিরক্ত 


কানের দুই পাশের অবাধ্য চুল গুলোর মতো 

তোমাকে বিরক্ত করতে ভারি ভালো লাগে।

বিরতিহীন অবাধ্যতা আইন অমান্য আন্দোলনের মত। 

কিছুক্ষন তাড়া খাও। 

দশ মিনিটির কারা বন্দী -

আবার অবাধ্যতা। আবার বিরক্ত করা।

কী কঠিন অসুখ আমার। 

পুরাতনী টপ্পা গানে যেমন না শুনে বাঃ বাঃ করি।

অবুজ মন তোমার না চাওয়াকে লজ্জা ভেবে -

হামলে পড়ি আকাঙ্ক্ষায়।

খোপার আলগা হয়ে যাওয়া এক গোছা চুল।

তোমার কানের পাশে অনবরত সুড়সুড়ি দিয়ে

বিরক্ত করে যেমন 

আমার ও তোমাকে কথার ফাঁকে ফেলে 

বিরক্ত করতে ভালো লাগে।


৩.

শুভ নববর্ষ


যে বর্ষ জন্মায় নিজেই 

সময়ের বাঁক ধরে ডাল পালা ছড়ায় নিজেই।

সে দুঃখ জানে না, সুখ মানে না,ভয় নেই 

অসুখও নেই।

তার শরীর জুড়ে সহস্র সৃঙ্গার।

সে সিঁথিতে সিঁদুর পরে। 

আলতা লাগায় পায়ে।

জন্মেই সে যুবতী, শিশিরস্নাত ভোরবসন্তের ফুল।

একটা বর্ষের আয়ু মাত্র একটি বছর।

তাই তোর অত্যাশ্চর্য অনন্যতায় প্রজন্মকে প্রজন্ম পার করে দ্বিধাহীন।

একটা বছরের প্রান তন্ময় নারীর মতো ভালোবেসে 

কত শত জীবন তুমি প্রতিভাত করো,

আলোকিত করো। 

যতই জীবনের স্তব্ধতা আসুক 

পৃথিবী অসুস্থ হোক।

কুয়াশা যদি পীড়িত করেও বার বার 

তুমি এসো নতুন রূপে প্রতিবার।

শুভ নববর্ষ।।


৪.

আজ কেন মুখ ভার

ও আকাশ ও নীল আকাশ 

আজ কেন মুখটা ভার।

কাল যে খুব আঁধার বেলা 

চোখের জলে ভাসালে।

আজ কেন শান্ত এত?


ও বাতাস আজ এত শান্ত কেন?

কাল যে খুব রাগ দেখালে 

ভাঙ্গলে সুখের ঘর।

কাল দেখে মনে হচ্ছিল কেমন পর পর।

ভাঙ্গলে সব গাছগাছালি 

ভাঙ্গলে টিনের ঘর।

শহরতলী গুঁড়িয়ে দিলে গ্রাম চটকিয়ে।

দেখোতো কেমন ক্লান্ত ওরা,

তোমার সাথে লড়াই করে । 

আজ নড়তে পারছে না,চলতে পারছে না।

গায়ে ভীষন ব্যথা। পাকা ফোঁড়া ব্যথা।

বেলফুল গাছে ফুল ফুটতে দাও নি একটিও।

জবা ফুল গুলোও রাগে ছিঁড়ে ফেলেছ।


দেখতে পাচ্ছো ও বাতাস 

থাকতে পারতে আরো কটা দিন।

আমরা লড়াই শিখে গেছি।

আয়লা ফনি বুলবুল,

তারাও করেছে ভুলটুল।

তারাও ছিল টান টান।

কি যেন নাম? আমফান 

আমরা লড়াই শিখে গেছি।

এত বড় মহামারী,মরেছেও বাড়ি বাড়ি।

ভয় পাই না আর। 

দেখো আজ তোমার মুখটাই ভার।


৫.

ক্ষমা কোরো মা 

আমাকে ক্ষমা কোরো মা -

আমি পারলাম না , তোমার স্বপ্ন গুলো পূরণ করতে।

তোমার স্বপ্ন ছিল আমি যেন বাবার মতো সুন্দর

সূবর্ণকান্তি হই। আমি হতে পারিনি।

আমি যে তোমার মতো হয়েছি মা। 

তোমার মত ভালোবাসতে পারি।

পুরো গোটা একটা পৃথিবী তুমি আমায় দিয়েছো।

বুকের অমৃত সুধা আমার শরীরে দিয়েছ।

কত অমূল্য সময় তুমি আমাকে বিলিয়ে দিয়েছ।

আমি যখন দুধের শিশু, কত রাত্রি তুমি জেগে।

কতবার আমি তোমার গায়ে কাপড় ভিজিয়েছি 

তাও যাওনি রেগে।

ছোট মাসির বিয়েতে, 

সকলে কত আনন্দ করেছে তুমি পারোনি।  

আমি যে শিশু, তোমার উষ্ণতা ছাড়া যে আমি ভীত। 

কত চিন্তা তোমাকে পীড়িত করছে।

কবে আমি স্কুলে যাবো 

কোন স্কুলে ভর্তি হবো, 

স্কুলটা ভালো কিনা?

সকালের টিফিনটা খেলাম কিনা?

শরীরটায় তাপমাত্রা ঠিক আছে কিনা?

কত অমূল্য শিক্ষা পথে ঘাটে আমাকে দিয়েছ।

স্কুলের বন্ধুর থেকে তুমিই তো ছিলে আমার প্রিয় বন্ধু।

তবু আমি পারিনি তোমার স্বপ্ন গুলো পূরণ করতে।

গত বাইশটা বসন্ত তুমি আমাকে গোছাতে শেষ করলে।

আমার একটা সুন্দর বৌ হোক। 

কিন্তু আমি প্রেমে পড়েছি, 

ভালোবাসার জোয়ারে নিজেকে ভাসিয়ে 

তোমাকে বহু দূরে ফেলে এসেছি।

তুমি কোন প্রতিবাদ করো নি।

তোমার ভালোবাসার বাইশ বছর,

আমাকে তোমার কাছে রাখতে পারে নি মা।

একটা বছরের প্রেম, হারিয়ে দিল বাইশটা বছর।

আমি হারিয়ে যাচ্ছি মা। 

নীল ঘুম আমাকে ডাকছে। 

ঐ দশতলার কার্নিশ থেকে। 

তোমার সব স্বপ্ন গুলো গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে গেল মা। 

পূরণ করতে পারলাম না।

ভালোবাসা হারাতে হারাতে আমি ক্লান্ত পরিশ্রান্ত।

জীবনের স্রোত ঠেলে ঠেলে অনন্ত স্রোতে।

ঐ দেখো টাল মাটাল নৌকাটায় ঝড় লেগেছে।

ঘুমঘোর চাঁদ ডাকছে আমায়,একটু ঘুমাতে চাই।

আত্মীয় পরিজন বাবা আর তুমি।

তোমাদের ভালোবাসা।

সব ওই মেয়েটার কাছে হেরে গেল আজ।

রক্তের ভিতরে জাগরন প্রেমপীড়ার ঘুম।

দুচোখ ভরে তোমার স্বপ্ন গুলো চুরি করে চলে যাচ্ছি মা।

ওই দশতলার কার্নিশে দাঁড়িয়ে আমার নিয়তি।

আমি যে তোমার মতোই ভালোবাসতে পারি,

জীবনের শেষদিনেও। 

কিন্তু সে যে বুঝলো না।।

বৃহস্পতিবার, ১৮ মে, ২০২৩

উন্মুক্ত কবিতাগুচ্ছ —২৬ ।। তৈমুর খান -এর পাঁচটি কবিতা।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।






উন্মুক্ত কবিতাগুচ্ছ —২৬



তৈমুর খান -এর  পাঁচটি  কবিতা 



১.

 শয্যা জুড়ে নগ্ন চাঁদ

   

প্রগলভ মাংসল প্রেমে ছুটছে সবাই
ইশারা পেয়েছে ওরা, রাত্রিযাপনের চাবি দিয়েছে ওদের 
সব দরজা খুলে গেলে ওদের শয্যা জুড়ে নগ্ন চাঁদ

 মৈথুনের ঘ্রাণে ডুবে যাবে দেশ
 বাইরে অনুজ্জ্বল শুধু প্রেমের কাহিনি
 প্রদীপ জ্বালাবে মৃত্যুর পর।



 ২.
চাঁদ
 
 
চাঁদটা চলে যাচ্ছে অন্ধকার কলোনির দিকে
আমরা কাত্যায়িনীর কাছে ফিরে যাচ্ছি
আমাদের কপালে চাঁদ নেই
স্বপ্নবিচ্ছেদের জ্বরে দারুণ কাঁপন লেগে আছে

সব রমণীরাই কি চাঁদ হয় তবে?
তাদের জ্যোৎস্নায়  কলঙ্কিত পরিতাপ ঝরে 
নিসর্গ-নক্ষত্রপথে মহিমার কান্না শুনে শুনে
আমাদের রাত পার হয়

যদিও সকাল নেই এ রাতের
যদিও চাঁদের কাছে প্রাণভিক্ষা চায় আত্মহত্যাগুলি।



৩.
শাশ্বতকে পাঠানো বার্তা
   

কাঁদার জন্য এখানে এসেছি
 যদিও হাসির সঙ্গে ঘরকন্না
 যদিও পড়েছি হাসিদের স্কুলে
 কত অভিনয় শিখেছি
 মরে ও বেঁচে জেনেছি নিজেকে

 এখানে কিছুই নেই
 সময়ের সরণিতে শুধু হাহাকার
 ছুটতে ছুটতে, বিশ্রাম নিতে নিতে
 চা খেতে খেতে নেমে আসছে অন্ধকার

 যে কথা এখনও বলতে পারিনি:
 একটি জীবনের কাছে 
 মানবসভ্যতা একটি উদ্বাস্তু কলোনি!
                   


৪.
প্রত্যাশার অন্ধকারে
     
আলো রঙের অন্ধকারে
 একটুখানি মানুষ খুঁজি
 অর্থকড়ি নেইকো কিছুই
 ভালবাসার সামান্য পুঁজি।

 হাতটি দিয়ো এই নিঃস্ব হাতে
 মুখটি তুলে চেয়ো আঁখিপাতে
 সংকটের এই অন্ধরাতে
 দেখা হোক তোমার সাথে।

 বিশ্বাসেরা আসুক ফিরে
 এই ভাঙা  সংসারে
 দুঃখগুলি আনন্দে ভাসুক
 কান্নাগুলি ছন্দে হাসুক।

 মানবকাঙাল এ সভ্যতায়
 ফিরে আসুক মানবহাওয়া
 গুছিয়ে নেবো আবার তবে
 নষ্ট হওয়া হৃদয়খানা।
          
৫.
ঐতিহ্য
     
আমাদের ঐতিহ্য কাঁথা সেলাই করছে
 বাইরে প্রবল বৃষ্টি
 সব ভাবনারা ভেসে যাচ্ছে একে একে
 ঐতিহ্য ফোঁড় তুলছে কাঁথায়
 এও এক ইতিহাস রচনা

 সবাইকে খিদে লেগে গেছে
 আহা খিদেরা কেন যে লাগে!
 সবাই খেলতে ভুলে যাই
 কীরকম এক কান্নার মতো শব্দ বেরিয়ে আসে
 মহাকালের রথে চাপা পড়ে যাওয়া মানুষ

 সবাই বলছে এগিয়ে যাও! এগিয়ে যাও!
 এত বিস্ময় চিহ্ন ডিঙিয়ে কোথায় যাব তবে?
 দাঁড়িপাল্লা নিয়ে বসে আছে মহাকালের কৃষক
 আমরাও বিক্রি হবো সময়ের হাঁস—
 ঐতিহ্য সুতো ভরছে সুচে আবার কোনো নতুন নকশা হবে

 শ্রম আর ক্ষয় লেগে থাকা কাঁথাগুলি কারা নেবে?
 যুবতী সুচ আর আঙুলের ঘর্ষণে 
 কত মৈথুনের বিকেল পেরিয়ে গেছে
 সভ্যতা তবুও বোঝেনি খিদের কাতরানি
 সারা ঘরে ভেজা গন্ধ,জ্বালানি নেই,কী করে যুদ্ধ হবে?

বুধবার, ১৭ মে, ২০২৩

উন্মুক্ত কবিতাগুচ্ছ —২৫।। তপনজ্যোতি মাজি'র পাঁচটি কবিতা।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




উন্মুক্ত কবিতাগুচ্ছ —২৫



তপনজ্যোতি মাজি'র পাঁচটি কবিতা




১.

কথা


কে প্রথম কথা বলেছিল? ইভ না আদম?

কার ওষ্ঠ কেঁপেছিল চুম্বনের আগে? পরিসর

জুড়ে দৃশ্যত ছড়িয়েছিল নৈর্ব্যত্তিক অন্যমনস্কতা।

সমস্ত উচ্চারণ মুগ্ধতম, বলেছেন জ্যোতিষ্কলোকের ঋষি।

কবি কেবল বলেছিলেন, কথামানবী।


গল্পে গল্পে গড়িয়ে যায় কথা।

মানবী জানেন মানবতার কাছে তিনি

প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।



২.

ছাদ


কোনও অর্জনই চূড়ান্ত নয়।

সান্ধ্য বাতাসকে তবু তার মনে হলো অসফল প্রেম।

নির্জনতা বিবর্তনময়,


ছাদ থেকে সে দেখছিল প্রতিবেশী আকাশ।

মনে হলো যে ঘর ছেড়ে গেল অকস্মাৎ,

তার প্রস্তুতিপর্বটি নিশ্চিত


গ্লানিমুক্তির পরিসর।





৩.

সমাধান সূত্র


তুমুল ঝড়ের পরেও স্থির।

তোমাকে কল্পবৃক্ষ ভেবে সম্পূর্ণ উদাসীন হলো

প্রাতিষ্ঠানিক অভ্যাস।


অসম দ্বৈরথ দেখেও মানুষ নির্বাক।

কেবল মননে মননে বিনিময় হলো

সন্ধিপ্রস্তাব।



৪.

ঋণ


তীরবর্তী গ্রামগুলি নদীমাতৃক।

খড়ের ছাউনী দেওয়া অনিশ্চিত ঘর।

স্বভাববিরুদ্ধ নিজের অবস্থান পরিমাপ করে

তাকে ডাকি।


আদুল শরীরে ফুটে আছে কেয়াফুল।

সুগন্ধ কেবল নাগরিক নয়।





৫.

অমর্ত্য


তুমি কিনেছিলে কলামকারি পাঞ্জাবি।

সোনাঝুরি হাটে গাঢ় রঙের ঘুমফ্রক কিনেছিল

আইরিশ মেয়েটি কৌতূহল বশত।

প্রতীচী এখন সংবাদ শিরোনাম।


সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছেন যৌবনের অমর্ত্য।

আত্মবিস্মৃতি আমাদের অভ্যাস।




মঙ্গলবার, ১৬ মে, ২০২৩

উন্মুক্ত কবিতাগুচ্ছ —২৪।। বিকাশ ভট্টাচার্য -এর চারটি কবিতা।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




উন্মুক্ত কবিতাগুচ্ছ  —২৪



বিকাশ ভট্টাচার্য -এর  চারটি কবিতা 




 

কবিতা ১ : অনন্যোপায়
                                                
ব্যথায় তুমি বেঁচে আছো কথাতে নয়
কথারা হয় আক্ষরিক নাহয় ব্যঞ্জিত 
দেখতে তো পাই অবয়বে পাথর পুঞ্জীভূত 
জলের মতো তরল কিন্তু অসহনীয়

বুকের ভেতরে তোমার অনুভবের
খরোষ্ঠিলিপি অস্থির করে আমাকে
হাতড়ে বেড়াই এখান ওখান এবং ছায়ালোকে 
ক্লান্তি নামে ঘুমিয়ে পড়ি বিষাদে নির্জনে

সুখের কথা থাকুক হলুদ পাতার গায়েগায়ে
ব্যথায় আমি তোমাকে পাই অনন্যোপায় হয়ে




                      
কবিতা ২ : রৌদ্রদগ্ধ 


ঠা ঠা রোদের কামড় খেয়ে
দাঁড়িয়ে আছো
কার জন্যে চোখের কোলে
মেঘ জমাও
সে কি চেনে ? কতটুকু ?
বসন্তকাল
আছে কোথাও? দূরে কাছে 
শোকের ছায়ার মতো নামছে
সায়াহ্নকাল
মলয় বাতাস রৌদ্রদগ্ধ 
এবং উধাও 

মেঘ ছায়া জল নেই যেখানে
দাঁড়িয়ে কী লাভ
কার জন্যে চোখের কোলে
মেঘ জমাও 
             



কবিতা ৩ : দোষের তো নয় 

যেন মাটির নিচের অন্ধকারে মৌল জীবন 
যেন তপ্ত শ্বাসের সমাগমে উল্লসিত 
যেন কৃষ্ণচূড়ার সড়ক পথে ফুলকাটা কাজ 
শাড়ির ওপর তুলতে তুমি শিখেই গেছ

বুকের ভেতর স্বপ্ন বুনছে ঋতুমতী 
দোষের তো নয় রুদ্রপলাশ বোঝেই যদি
               



কবিতা ৪ : এর বেশি যেওনাকো

এতদূর চলে গেছো ! এর বেশি যেওনাকো
ওখানে হরিণরোদ্দুর কখনও পিছলে আসে না
ওখানে ভেড়ার পালের মতো নিরীহ মেঘের
 নির্জনতা নেই। হাতছানি আছে শুধু 
এর বেশি যেতে চেও না

এর পরে অতলান্ত আঁধারের দেশ 
অদৃশ্য আলোপথে যেতে হলে অপেক্ষা কোরো
নতুন এক জন্মপোশাকের

সোমবার, ১৫ মে, ২০২৩

উন্মুক্ত কবিতাগুচ্ছ —২৩।। জয়শ্রী সরকার - এর চারটি কবিতা।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

    




উন্মুক্ত কবিতাগুচ্ছ —২৩ 



জয়শ্রী সরকার - এর চারটি কবিতা 


১.
কবিতাও কথা বলে 

নিঃশ্বাসের উত্তাপ নিয়েছ কী কোনোদিন ?
নাকি নিরুত্তাপ সরীসৃপ হাওয়া বয়ে চলে
হাতের তালুতে !
জীবনের মানে খুঁজেছ কী কোনোদিন ?
হয়তোবা চাপ-চাপ জমাটবাঁধা রক্তে
ওগুলো অর্থহীন মনে হয় !

সংগীতের জলসায় সুর খুঁজেছ কী তুমি ?
বুঝি উচ্চকিত অর্কেষ্ট্রায়
হারিয়ে গেছে পুরো স্বরলিপিটাই !
তুমি কী দেখেছ কখনো বেদুইন বাতাসে
বাউল মন এখনোও সাঁতার কাটে
পূর্ণ অবগাহনের আশায় ! 
শুধু জেনো, এতকিছু সদর্থক চিহ্নের নীরব সাক্ষী আমি,
যেখানে কবিতাও কথা বলে !

                    


২.               
ঈশ্বর-মানব
  
তোমাকে সূর্যের পাশে বসিয়েছি,
তুমি পলকে দাহ্য হয়ে যাওনি
ভাস্বর থেকেছ !

তোমাকে আকাশের নীলে মিশিয়েছি,
তুমি মেঘে ঢেকে যাওনি
মুক্তি খুঁজেছ !

তোমাকে ঝরণার কাছে রেখেছি,
তুমি ধারা হয়ে বওনি
স্বচ্ছতাকে ধরেছ !

তোমাকে বন-বাংলোয় দেখেছি,
তুমি ফুলটবে শুধু ফোটনি
সৌগন্ধ বিলিয়েছ !

তোমাকে আরাধ্যের আসনে বসিয়েছি,
তুমি অমরত্বের আশ্বাস দাওনি
মানুষের কথা বলেছ !

                

  
 ৩.               
অ-উ-ম

তুমি যাকে সেবা বলো, প্রজ্ঞা বলো,
বলো ভালোবাসা
আমি তাকে আধ্যাত্মিকতা বলি !

তুমি যাকে জীবন বলো, যুদ্ধক্ষেত্র বলো,
বলো চলিষ্ণুতা
আমি তাকে দার্শনিকতা বলি !

তুমি যাকে কবিতা বলো, আনন্দ বলো,
বলো রূপমাধুরী
আমি তাকে সত্য-শিব-সুন্দর বলি !

                       
 
৪.             
 কবিতা স্বপ্নময়      

কবিতায় সত্তার স্বপ্নকে হত্যা কোরো না 
সামনে রেখো চরৈবেতি মন্ত্র
সূর্যের মতো বিশ্বাসী তেজ আর আলোর উৎস,
মমতাময়ী মাটির সবুজতা আর মানব-উত্থান।
তা যদি না হয়
বিশ্বের সমস্ত কবিতাই হয়ে উঠবে
ধ্বংসস্তূপের মতোই প্রাণহীন শুধুমাত্র
অক্ষর-পিরামিড !

শনিবার, ১৩ মে, ২০২৩

উন্মুক্ত কবিতাগুচ্ছ —২০।। ভবেশ বসু-র — পাঁচটি কবিতা।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।






উন্মুক্ত কবিতাগুচ্ছ —২০


ভবেশ বসু-র পাঁচটি কবিতা 




১.

ঠোঁটে খড় দাও

আমি আমার শরীর চেতনা দিয়ে বুঝেছি,কুঠারের আঘাত না থাকলেও সকলেই কাঁদছে
ফাঁকা ছাদ চিরকাল না হয় একা,যে টবে প্রতিদিন আমি জল দিই তারও চোখে জল
লাল পথ আর ভিড়ের পথিক দুজনেই বিনুনি খুলে রেখেছে কেউ কোনদিন বাঁধেনি
চায়ের কাপ না ভাঙলেও,ভাঙনের রক্ত দেখে যন্ত্রণায় চা ও কাপের একসাথে কান্না
তোমরা জাগরণে শুনতে পাও,আমি ঘুমিয়েও মেঘ বৃষ্টির শব্দ শুনেছি-----প্রেম দাও প্রেম দাও বলে যায়।

তার দেহে আঙুল ছোঁয়ালে সে চমকে ওঠে,হাত জড়িয়ে বলে ছেড়ে যাবে না তো আমায়
মানে আড়ালে না পাওয়ার ব্যাথা পৃষ্টা থেকে গোটা বই,পাওয়ার পরেও জলে ভেজা চোখ
লতারা না হয় লুটায়,যে গাছের আকাশ মুখ তারও বাসা ভাঙে ঘর শূন্য বেদনা নিরন্তর
চন্দন পুষ্প সকলেরই এমন কান্না,জানে সময়ই বাউল পথ ধরিয়ে দেবে-----নদী নৌকার মতো সুদূরের নেশায় জাদুকর।

শাঁঁখ-শব্দে শাঁখ ভেঙে গেলেও মনে হয় সঠিক সুর ধরা পড়েনি,আরো জলোচ্ছ্বাস হই
আমাদের দেহ সাধনায় আদিম ক্ষুধা,ঠোঁটে খড় কই !


                    
 ২
  কেউ কেউ জীবন পাবে


একবার ফিরে গেলে ফিরে আসা সহজ নয়,অনেক অনেক যুদ্ধ হয়----রক্তও ভয়ে লাল
যে তীর হাত থেকে বেরিয়ে যায়,জীবন থেকে জীবন পার হয়ে তবে আসে
জীবন-ইতিহাস একটি সাগর,তীর ভূমে আসবে বললেই কৃষ্ণ-প্রেমের মতো জল ঢালো জল ভরো
সকাল হলেই সূর্যালোক আসে ঠিক,তারও সাঁজবেলা হতে শুরু হয়েছিল দুঃখ-যাত্রা
মৃত্যুর আগে সকলের কত মরণ হয়,তবু পৃথিবীর চিরদিন মাটির উপর মাটি,খাতায় সাক্ষর
জানে একবার মায়ের কোল ছাড়া হলে লজ্জ্বা হবে ভূষণ,আর শৈশব বেদনা বিস্ময়।

একবার ফিরে গেলে ফিরে আসা সহজ নয়,সমুদ্র হতে নদী খুঁজে পায় না পথ
পাহাড় সমতল হয়,সেই পাহাড় উঁচু হতে আবার মেঘ সূর্যের কাছে ধরণা ও ধ্যানে বসতে হয়ই
সমুদ্র করতালিতে যাওয়া যত কঠিন,ফিরে আসতে তার অনেক বেশি ঝড় বৃষ্টি লাগে
এক মুণ্ড সাধনায় ক্রমে ক্রমে পঞ্চমুখ দরকার,কঠিন সাধন যজ্ঞ জাগে।

একবার মাটির পুতুল হলে ভেঙে যাওয়া সহজ,বেলা তিরতির বইতেই থাকবে
আর একবার ফিরে গেলে ফিরে আসা সহজ নয়,অনেক অনেক বৈশাখী মেঘ স্পর্শ হয়
দেহের নীরবতা বয়ে বেহুলা পর্ব আমাদের শিখিয়েছে-----সকলে নয় মৃতেরা কেউ কেউ জীবন পাবে।

                     
 ৩. 
 প্রেম কলঙ্ক পাশাপাশি

যার জন্য জেগে উঠি তার কিল চড়ও আমার কলশি,জল ভরে দিতেই হয়
আশীর্বাদ নিতে এসে জানা হল,অভিশাপ সকল ঝুড়িতে মিশিয়ে তাতেই রাখা আছে
জীবনের জন্য ঘৃণা,জন্ম থাকলে মৃত্যুর পরিসংখ্যানও জানা
আমি জলে নামলে জলখেলা তো হয়ই,তার সাথে মুখে চোখে লেপটে থাকে বালি
তুমি তার হাত ধরেছো বলেই অভিমানও তোমার হল,লাভের সাথে ক্ষতি----এই সত্য সকলেই ভালোবাসি।

সবদিন আকাশে সূর্য থাকে না,সূর্যের বদলে মেঘ----জলের স্বাদে জল ঝরে
যাকে আঁকড়ে পিপাসা সেই বেশি তৃষ্ণা দিল আমায়,এ তো বিস্ময় নয় 
আগুন জ্বেলে দিলে আগুন কি আমাকে রাখে,আমাকে ঘিরে তীব্র তার শিখা চিরদিন
হাঁড়ির সাথে হাঁড়ি,ভেঙে গড়াগড়ি-----ভেঙে ভেঙে খান খান,মুক্তির ভিতরেই তুমি জেল বন্দী। 

ভালোবাসার রক্ত পুঁজ কোথায় ফেলবে,ভালোবাসাই দিয়ে যায় তার মনের মানুষকে
দেখ মেয়ে,প্রেম ও কলঙ্ক পাশাপাশি বইতে হচ্ছে সেই রাধাকে।

         
           
 ৪. 
 লজ্জ্বার মাথা নেই

কালকের মতোই আজকের ভাষা,দুঃখ আমার সুখ আমার
কালকের দিনের মতোই ফেরার গল্প,ফুল আর ঘন সবুজ পাতা
সাদা কাগজ উৎসবে কালো,কালোগুলি প্রথাহীন অবসন্ন হল
কালকের দিনের মতোই বৃষ্টি হল,সেই নদী আমার সাগর আমার
আজ রচনা করি মস্ত পৃথিবী, কালকের মতোই প্রণয় মায়া।

সুখের পায়রা উড়ে,বয়সেও বয়স,কেউ নেই সাথে আমাদের
কালকের মতোই ভাঙচুর ইচ্ছা,কষ্ট পাই কষ্ট দাও নিজেদের
কালকের দিনের মতোই সবুজ সব,শব্দের বিনয় কতটুকু জানি
দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা নামে,লজ্জ্বার মাথা নেই বল কি বলবে শুনি।

দেখ কাল কত আপন,তুমি দাঁড়িয়ে আছো,আমিও থামলাম
কালকের মাথা ছুঁয়ে দুজনের নিভৃত হিসাব আজ কি পেলাম।



ভ্রমণ শেষে ফিরে...

ভ্রমণ শেষে ফিরে গেলে বিছানায় একা একা আকাশ দেখি
নদী এসে মাটি খায়,চোখ ছুঁয়েছিল জল
সমস্ত অসুখ এখন তুলে রাখি।

কোথায় যাও ! নদীও গৃহত্যাগ করে খোঁজ নেয় গোপনে
মাটি ক্রমশ ঘাস ও ঘাস ফুলের অপার বিস্ময়
কোনো সংগীতের অসুখেই মানুষ নিঃস্ব নয়
তাহলে কে ডাকে তোমায় নির্জনে !

ভিক্ষা দাও ভিক্ষা নাও,নারী আড়ালে ইচ্ছে জড়িয়ে রাখে
কোথায় যাবে,এমন ফাগুন জ্বর সারা সময় যদি থাকে
আকাশ ফুরিয়ে গেলে কে চেনে তোমায়,ঐ মুরলী মায়ায়!

ভ্রমণ শেষে ফিরে এসো,উনুনে আগুন দিও।

শুক্রবার, ১২ মে, ২০২৩

উন্মুক্ত কবিতাগুচ্ছ —১৯।। তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য-এর — পাঁচটি কবিতা।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।



উন্মুক্ত কবিতাগুচ্ছ —১৯


 তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য-এর পাঁচটি কবিতা 



১.

 হাসি 

 ঠোঁটের ব‍্যালকনিতে একদল ছোট্ট শিশু
 খেলা করে বেড়াচ্ছে।
গাছ ভর্তি কৃষ্ণচূড়া প্রখর দহনকে বলে দিয়েছে কেয়ার করিনা....
 গোপন কথা কেউ প্রকাশ করেনা কেবল দুজনে হেসে ওঠে। চোখের ভঙ্গিতে নেচে
ওঠেন পবনদেব।
পিয়ানো বাজে সুর ভাঁজে গোয়ালা কৃষ্ণ তাঁর কুলের অতিথি নন্দন।
প্রেম ছড়াচ্ছে  ভূমিহীন কৃষক মাঠে মাঠে। 
দানায় দানায় ভরে উঠবে স্বপ্নের আনাগোনা।
হাসি অজস্র ঢেউয়ের নাম, মুহূর্তের খামে।



২.
          
নর্তকীর পা
              
কথা নেই মেয়েটার মুখে ভীষণ লাজুক শান্ত সরসী।
পা তার কথাকলি কবিতার আসর 
মধুচন্দ্রিমা দেহভঙ্গিমা দুলে ওঠে 
বালুকাবেলা সগরতট।
এত লোক সমাগম  পিপাসার চাতক, 
ওরা ছন্দ মাপে, আনন্দ মাপে, কেনে অহংকার।
শরীরের নাটমন্দিরে আনন্দের পুকুরে 
লেখা আছে বিষাদ আত্মার নিষাদ জল।
 পায়ের তাল ঠুকে ক্ষমা করে দেয় 
মেয়েটি, যত্তসব মন্দবাতাস।
দরাজ বুকে রক্তে লেখা বর্ণপরিচয়।
দেবতা দেখেন সব অক্ষরহীন লেখা মানুষের বুকের যন্তর মন্তরে আঁকা।
গান হলেই প্রাণ নাচে হরবোলা পা ঝঙ্কৃত বুলবুলি।
কথা নয়, কথা নয়, এ হৃদয় ভাষা হয়ে ফোটে
ভাষার সঙ্কটে। নৃত‍্যরত তরুণী জানে একামাত্র সফল মানুষই কেবল ছন্দ বোঝে।

  


৩.      
 অনন্ত বলে কিছু নেই 
                  
 জঙ্গল থেকে কাঠ কুড়িয়ে এনে ভাত তরকারি রাঁধলেন  জেলে বুড়ি। আগুনের অনন্ত খিদে এবং  বুড়িরও ভীষণ খিদে, দুই আগুন মিলেমিশে একাকার হলো। উনুনের পাশে  তিনটে পিঁপড়ে 
এক টুকরো আলু পেয়েছে এবং কষ্ট করে তিনগুণ ভার বহন করে কতদূর নিয়ে গেল কে জানে?
ফলের ভার গাছকেই বইতে হয়, অপেক্ষা এক রত্নের নাম তাকে হৃদয়ে ধারণ করতেই হয়।
অন্ধকার এবং  আলো মুখোমুখি হয় না, তবুও অন্ধকারের পরেই আলো উচ্চারিত হয়।


৪.
আয়না ও জল 
                
আয়না ভেসে গেল জলে, দুজনের গলায় গলায় ভাব। কার ছবি কে দেখে? বিশ্বের সব ছবি জল তুলে রাখে ও ধুয়ে রাখে। আয়না ভুলিয়ে দেয় অতীতের যত করুণ কাহিনী।  অচেনা ছবির আঙিনায় আয়না এক গোলক ধাঁধা। আপন ছবি আয়নার কাছে ভীষণ অস্পষ্ট । তবুও  এক এঁটো লাগা নেশা আয়নায় বাসা  বাঁধে। জলের ভেতর এক সন্ন‍্যাসীর আত্মা খেলা করে বেড়ায়। এ যে পিপাসার নাম দেবতা তুমি  কোথায় ? কত পথ পেরিয়ে যায় অন্তরে খিদে ভ্রমণের নাম ভূমিকায়। আয়না এবং জল ভ্রমরের মতো মধু লুটে খায়।  আয়না সাজায় দেহ, সাজায় গৃহপালিত আসবাব।
জলে মানুষের তৃষ্ণা মেটে, গাছেরা প্রাণ 
ফিরে পায়।
সব ক্রোধ জল চুরি করে, আয়না শরীরে ডুগডুগি বাজায় প্রেমের মোহনায়।


৫.     
সাগর 
            
   উথাল পাথাল ছন্নছাড়া  সমুদ্রের  মন 
  ফেরালেই ফেরাতে পারো যখন তখন।
   বুকের গভীরে আরেক সাগর সহচরী।
  অনেক  নুড়ি পাথর নিয়ে আমিও ঘর করি।
 ঢেউ এলে দিইনা ঠেলে পরের ঢেউয়ে সুখ মেলে । 
 নাচি দুহাত তুলে হাসি দুঃখের কৌটো খুলে।
 বিরহ প্রেম যা আজ চাকভাঙা মধু
 কাল সে  পথ চলতি পথিক শুধু।
আজ সকালে কাঁচভাঙা রোদ ছিল যে! 
সন্ধ‍্যে হলো প্রেমিক এল চোখ ভরা সাগর নিয়ে।
চুপ করে ডুব দেবো ও সখী তোরা একটু আড়াল দে।




                

বৃহস্পতিবার, ১১ মে, ২০২৩

উন্মুক্ত কবিতাগুচ্ছ —১৯।। অশোক রায়-এর কবিতা।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





উন্মুক্ত কবিতাগুচ্ছ —১৮


অশোক রায়-এর কবিতা 



১.

এত যে তোমায় দেখি তবু মন ভরে না
মনে  হয় দিনের পরদা নামার আগে
            তোমাকে ফোন করি
কিন্তু তোমার ফোনের নাম্বার আমার অধরা
           আজ আকাশে এত রামধনু
           তবু তুমি না থাকলে জীবন মরু
দুর্নিবার আকর্ষণে গলে যাওয়া সোনা মুঠোয়
      এসো আজ দুজনে মনে রাখার মত
        রাতভর একটা বারবিকিউ করি।




২.

ওই যে ডানা মেলে পড়ে  আছে পালকের বিছানায়
সে আমার নয়
ওই যে আগুনের ভেতর আলো জ্বেলে দাঁড়িয়ে আছে
সে আমার নয়
গেলেসিয়ারের রথে নি:শব্দে বয়ে যাওয়া
সেও আমার নয়
ফিরোজা আকাশের নিচে কুয়াশার চাদর গায়ে
তার চলে যাওয়াও 
বুঝি আমার নয়
ছিন্নমূল আমার আছে শুধু
দুরুদুরু বুক শুকনো চোখ আর দোলাচলের আনাগোনা।




৩.

 পাখা মেলে হাসবার আগে
বাহারি কেক কাটবার আগে
হলুদ শাড়ি পরবার আগে
পাখি পুতুল সুর্যমুখী ভালো থেকো।

নীল আকাশে ওড়বার পরে
কালো ওড়নার ঘোমটা পরে
দিনের আলো ফুরাবার পরে
পরী হয়ে মায়াপথে, আমায় মনে রেখো

সেদিন মেঘে ঢাকা ছিল অম্বর
বৃষ্টির সাথে অশনি বাজছিল নিরন্তর 
অভিসারের নিমন্ত্রণ নিয়ে এসেছিল অন্তর
জেতার জন্য বড় রকমের হার মানতে হয়

নিজের বলতে আর কিছুই রইল না শুধু বানভাসি সম্বল।



৪.
মহাজনের ঋণ মেটাতে পারিনি
আবাদি জমিটা নিলাম হয়ে গেল 
ব্যাংকের লোন শুধতে পারিনি
শখের ফ্ল্যাটটা নিলাম হলো

বড়সাহেবের মন জুগিয়ে চলতে পারিনি
সাধের চাকরিটা নিলামে উঠল
কথা দিয়েছি রাখতে পারিনি
এতদিনকার বন্ধুত্ব নিলামে চড়ল

হিসেবি হয়ে চলতে শিখিনি
জমা পুঁজি মন নিলামে ডাকল
স্বপ্নকে সফল করতে পারা যায়নি
জীবন নির্মম হয়ে নিলাম হাঁকল

ভালোবাসা দিয়েও জয় করতে পারিনি
ভাঙা হৃদয় তাই  নিলামে মাথা কুটল।।

                    

বুধবার, ১০ মে, ২০২৩

উন্মুক্ত কবিতাগুচ্ছ—১৭।। নিমাই জানার পাঁচটি কবিতা।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 


উন্মুক্ত কবিতাগুচ্ছ—১৭
নিমাই জানার পাঁচটি কবিতা
১.

হিরণ্ময় পুরুষ ও ভিনিগার জ্বরের দারুচিনি পাঁজর বুক

তিন অশ্ব ক্ষমতা সম্পন্ন বাদামী আসবাবপত্রের মাথায় বসে থাকা অদৃশ্য ২π ক্ষেত্রফলের হরিণীরা নীল ঘুমের পর সমুদ্রের অন্তর দেশে বিলীন হয়ে যায় স্থাপত্যের ভেতরে থাকা অ্যামোনিয়াম মিশ্রিত অযৌন নিগ্রো নারীদের মতো , দুটো ঠান্ডা আগুন রঙের লৌহ বলয় নিয়ে রাতের তেজস্ক্রিয় শরীর গুলোতে মিথিলা রেখে আসি হিরন্ময় পুরুষদের কাটা হাতের রেডিয়াস  , আমি বারবার পিশাচ হতে চেয়েছি রাতের জলদেশের ডুবে থাকা মৎস্যজীবীদের গলার ব্যাসার্ধ মাপবো বলে
হিলিয়াম যোজ্যতার ভেতরে থাকা কোয়ান্টাম পাঁজর বুকের মতো গভীর সমুদ্রের  জ্যামিতিক পায়ে ঝিনুক ঝিনুকের মদিরা গন্ধ , পাতালের তলদেশে থাকা সাতটি মুখ বিশিষ্ট সাপের মধ্যম ফনা থেকে নির্গত ঠোঁটের অন্তর্বাস ছেড়ে যাওয়া পোতাশ্রয়ের ঝিনুক নাবিকেরা খোলা কাঁচের বোতল থেকে তিন পেগ দারুচিনি গিলছে খোলস ওঠা ভিনিগার জ্বরের থেকে  , বারবার মাত্রাহীন বর্ণের মৃত্যুর ভেতরে থাকা মণিকর্ণিকার শ্মশানের মৃত নাভি নিয়ে আমি কতবার কালো রঙের ধূসর ভাতে আঢাকা ছাই দিয়ে উলঙ্গ পৃথিবীর কম্পাঙ্ক নির্ণয় করছিলাম , ক্যালসিয়াম কার্বাইডের ভেতরে থাকা ফোলা ফোলা চোখের তলায় জমে থাকা নিতম্ব তলদেশে এক বিজোড় সংখ্যার ধ্বংসাবশেষ ,  লুকিয়ে কাঁদছি পৃথিবী আজও আত্মহত্যা করার অ্যানালজেসিক মন্ত্র জানার পর মায়াপুর থেকে ফিরে আসে খালি হাতে



২.
স্ত্রীলিঙ্গ সজারু ও অর্জুন সরোবরের অন্ধ্রপ্রদেশ

মায়ের মতো বৈসাদৃশ্য পাখিওয়ালারা আর কোন পৃথিবীর নীলাভ কক্ষদেশে নেমে লাল সরোবরাহের প্রস্থচ্ছেদ করেনি আমার দুই হাতে আঙ্গুল থেকে গজিয়ে ওঠা ধান চাষীদের মতো ,
মুক্ত  অঙ্কুরোদগমের সব সর্পিলাকার শেকড় গুলো হাওয়ায় গুচ্ছ মূলের নিয়ে উড়ে যাচ্ছে বিকারহীন অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে ,আমার ক্রিটিকাল সাবকিউটিনাস পাইন গাছের মতো রক্তাক্ত থলথলে নীলাভ অঙ্কুরোদগম নিচে জমা আগুনের দেহ থেকে বেরিয়ে আসা জীবাশ্ম ভর্তি মৃতদেহেরা একটা নীলাভ স্ত্রীলিঙ্গ সজারুদের সাথে হিমাঙ্গ স্নানে গেল
অর্জুন প্রতিদিন তৃতীয়বার কুরুক্ষেত্র থেকে ফিরে আসার পর নোঙ্গরবিহীন রাতে একাকী বিশল্যকরণী উপড়ে নিচ্ছে আমাদের তৃতীয় পরজন্মের নিম্ন রক্তচাপের বিষাক্ত সাদাটে ক্ষয়জাত ঠোঁটগুলোকে ধারালো অস্ত্রাগারের জলজ নৌ সেনা তৈরি করবে বলে
এক ল্যাকটোজেন দাঁতগুলো খাওয়াবে বলে একটি ফুলের দোকান থেকে সনাতন রাউল ৩ কেজি রজনীগন্ধার সাদা ধুপের ছাই উড়িয়ে দিচ্ছে একটা মৃদগত শ্মশানের মুখ থেকে নেমে আসা আয়নার পরজীবী অন্ধকার পুরুষদের জন্য


৩.
বাবার বুকের ট্যাবলেট ও স্বরবর্ণের কৈলাস গহ্বর


শ্বাসকষ্টের কোন গোপন ঔষধ ছিল না বলে আমি একটা মৃতপ্রায় স্বপ্নের ভেতর ঈশ্বরীর অবয়ব আঁকতে আঁকতে মৃত্যুর স্বরবর্ণ গুলো ভ্যাকুয়াম টিউবের ভেতর থেকে লো ইনটেনসিটির মোম জ্বালিয়ে বাবার বুকের পাঁজরের ভেতরে বসে সাদা রঙের ট্যাবলেট গুলো চুষে খাচ্ছিলাম ,অসংখ্য রোমগ্রন্থি থেকে গজিয়ে ওঠা দোপাটি গাছগুলো গর্ভাধানের আসন্ন ইঙ্গিত দিয়ে হঠাৎ করেই রাতের কৈলাস গহ্বরে নেমে যায়
সেলেনিয়াম খেলে মানুষের মধ্যরাতের ঘুম চলে যায় বলে জানালার পাঁজর গুলো দীর্ঘ হতে হতে ব্রহ্মাস্ত্র ফেলে আসা ক্ষপর্ণক  , টকটকে গরম জলে বাবা স্নান সেরে আসার পর গা থেকে সাদা রঙের চামড়াগুলো উঠে গিয়ে উত্তর গোলার্ধের অতিপৃক্ত ক্রোমোজোম ভাঙাহীন এক নীলাভ অতিথিশালায় একা একা ভোজন করছে কাঁটা চামচের বিদুষকদের মতো
প্রোথিয়াডেন নামক এক পাঞ্জাবির নিপুন কাঠের বোতাম ঘরের সব সন্ন্যাসিনীরা লাল কাঁকড়ার নীলাভ গর্তের ভিতর আঙ্গুলের পরিচালন বৃষ্টিপাত ঢুকিয়ে দেয় আমাদের এক মৃত্যুকালীন রগরগে বালির তারার ভিতরে নৌকাটিকে আত্মহত্যার কবিতা শোনাবে বলে ,  কালো রঙের এক যৌন পর্দা দিয়ে লাইকোপিন ঝাউ পাতার ভেতরের শঙ্খচুর সাপেরা জীবাশ্ম ভর্তি গাছের ভগ্নাবশেষ রেখে যায়



৪.
লাল তরমুজ ও এম্পিথিয়েটারের প্রপাতহীন নৌকা

লাল তরমুজ ফলের মতো যারা কালো মাথা নিয়ে গর্ভপাত কক্ষ থেকে ফিরে আসে তাদের আর কোন পিথাগোরাসের মতো উপপাদ্যহীন হরমোনাল ছায়ার নিচে উট পাখি নেই , 
বৃত্তাকার নয়ানজুলির নিচে দাঁড়িয়ে অন্তঃসত্ত্বা পাতাল প্রদেশের গোপন কাহিনী শোনাবে সব ঝিনুকদের ,  রতিক্রিয়ার পর একটা লাল কাঁকড়া তলদেশে গিয়ে একটা উজ্জয়নী নগর আবিষ্কার করল। আমি সমুদ্রের তলদেশ থেকে আর সেন্টিমিটারের গভীরে তিনটি প্রপাতহীন নৌকার শিথিল স্ত্রীলিঙ্গ নিয়ে কিছু কার্বোহাইড্রেট দানা ছড়িয়ে দিচ্ছে মৃত মানুষদের মুখে নৌকাদের ভেতরে গিয়ে কিছু হরমোনাল ঝিনুকের এক একটা খোলস রেখে দিতেই আমার দুই হাতে স্পন্দনহীন কাঁচ ফলের অঙ্কুরোদগম গজিয়ে উঠলো
সমুদ্রের তলদেশে এক একটা সেতু থাকে বলে আমাদের মাথার ভেতরের কর্টেক্স বিষয়ক লাল অনুভূতিগুলো মৃত্যুঞ্জয় ধনাত্মক পদগুলো লৌহ দানবের মতো মৃতপ্রায় স্রোতদের নিয়ে বয়ে যাচ্ছে জলযানের তলদেশে
এখানে পৌষ্টিক তন্ত্রের পচে যাওয়া হাড় আর খালি উদোম উলঙ্গ নর্তক নারীদের খালি পিরামল মেশানো এম্পিথিয়েটারের খালি খালি গ্লাস গ্লাসের নিচে শেষ দলানি টুকু মৃত্যুর কম্পাঙ্ক ফরিদ ক্ষেত্র করে দিচ্ছে মোহনার কাছে একটা নগরহীন সাপ শুয়ে আছে ভেজা দাঁতের ত্রিশূল জননতন্ত্র নিয়ে



মৃত্যুমুখী জাহাজ ও বিনায়ক ঋষিদের ক্যাফিন সমগ্র

৮৮ বর্গ সেন্টিমিটার জুড়ে যে রাতের মৃত পেন্ডুলামটি বেজে উঠে বুক খোলা পাঁজরের অন্তর্বাসহীন কংক্রিট রাস্তার ছায়া গুলো কে দুই হাতে চুইংগাম এর মত চিবোতে চিবতে তার তলপেট থেকে লাল গম বীজের মত দুগ্ধবতী অসুখটি চুষে খাবে ক্যাফিন মেশানো গ্রানাইট পেয়ালা থেকে ফেরোমেন মেশানো সরযু নদীর তীরে আমরা এক পক্ষকালের জন্য বিনায়ক ঋষি সেজেছিলাম
মৃত্যুমুখী সব জাহাজগুলো একটা আপতন ত্রিকোণমিতিক অন্ধকারে নেমে ক্ষয়ে যাওয়া জীবাশ্ম মার্কা এক গাছের তলদেশের পা গুলো ধসে ধসে নীল-মোহ ঘরের ভেতরে চলে যাচ্ছে , আমরা তখন নোনা মাটির আতপ সান্দ্রতার ঈমন বাতাস খেতে খেতে সোডিয়ামের অভাব বোধ করছি , প্রোস্টেট গ্ল্যান্ড থেকে নেমে আসছে রক্ত স্নাত পরিচালন ,  আমি প্রিয় রাত্রির মানুষ প্রিয়া অন্তক্ষিরে বসে থিকা প্রোটিয়াম নারীটির কাছে তিন সান্দ্রতার ও আর এস  মেশানো সাদা চাঁদের গুঁড়ো খাচ্ছি এক মহাকালের অসংখ্য নক্ষত্রের অবধারিত ভগ্নাংশের মায়াময় বি কমপ্লেক্স মিশিয়ে
মৃত্যুকে কতবার শৈলা ব্রিজের নিচ থেকে নিপুন নদীটির তলপেট ছিঁড়ে ছিঁড়ে আগুনের ওয়াচ টাওয়ার দেখছি
কামুক নদীর কাম্ফায়ার জ্বলে উঠলে আমি আপেল ফলের মতো রক্তাক্ত সিরাপ রক্ত ওঠা  নিকোটিন অন্ধকারে গিয়ে একটি ত্রাণ শিবিরে বসে থাকি মরচে রাঙা জানালার কাছে। আমাদের সিঁড়ি পথে এগারোটি দুধ সাদা রঙের সাপ পিচ্ছিল বমি রেখে এসেছিল বিচিত্র রান্নাঘরের ভেতর , ষোড়শ লুই অন্ত্যাক্ষর প্রতিযোগিতায় হেরে একাকী বরফ নদীর মোহনায় বসে বসে সন্ধ্যা রাতের বাঁশি বাজাতেন


 

মঙ্গলবার, ৯ মে, ২০২৩

উন্মুক্ত কবিতাগুচ্ছ —১৬ ।। অমল বিমল কমল এবং ইন্দ্রজিৎ — অমিত কাশ‍্যপ।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



উন্মুক্ত কবিতাগুচ্ছ —১৬



অমল বিমল কমল এবং ইন্দ্রজিৎ

অমিত কাশ‍্যপ



অমল


ভালোবেসে রয়ে গেল কয়েক বছর

ক্লাস এইট

তারপর কি হল, ভাবনাতে এল না 

হাতের কাজ ছিল ভালো 


ইলেকট্রিসিয়ান, প্লামবার, কারপেনটার

নিখুঁত পর্যবেক্ষণে হয়ে উঠল দামি মিস্তিরি

দুদিন যায়, চারদিন বসে

আড্ডা গিলে খেল


এখন দশটা টবের সংসার

গোলাপ-জবার গায়ে সকালের রোদ ঢলাঢলি করে 



বিমল

কারখানা ছিল, কাজও করত

বন্ধ হল, খুলল, আবার বন্ধ হল, আর খুলল না 

কপাল বড় নিষ্ঠুর, বিয়ে করলে ভাগ্য ফেরে

জ‍্যোতিষীর ভাষণে বুড়ো আঙুল 


একটা একটা দিন যায়, বৃদ্ধ হয় 

মনের বৃদ্ধ, বন্ধুরা বলল, ছাড় তো

খা-দা, আর আরাম কর

বিমলের গলার স্বর যেন ফ‍্যাসফ‍্যাসে


খাওয়া গেল, স্বর গেল, ইসারায় সব

গলার ফুটো যেন জ‍্যোৎস্নায় ফুটো চাঁদ



কমল


সেভেন-এইট, তারপর দুগ্গা দুগ্গা

ঘুড়ির পেছনে দৌড়তে গিয়ে 

ছাদ থেকে পড়ল, হাত গেল, পা গেল

গেল, গেল, কতকিছুই তো যায় 


ঘুড়ি নিয়ে দেওয়াল শপ করল

মুড়ি, বিস্কুট, লজেন্স উঠল

দোলের সময় হালকা রোদে রঙের বাহার

আহা, কমল এখন বিজনেসম‍্যান


মহানবমীর কদিন পরই আশ্বিনের রোদ মেখে

কখন যেন স্বর্গরথে উঠে পড়ল



এবং 


এবং আমি, ছাপোষা কেরানী, দশটা-পাঁচটা

তারপর ছাত্র ঠেঙিয়ে বাড়তি কিছু 

চশমা, বউ বলে, কাচ যেন গেলাশের তলা

কি দরকার বাপু, বাড়তি রোজগেরে


বাড়িতে তিনটি তো প্রাণী

ভালোয় মন্দে যাবেক্ষণ

বাড়িতে কথা বলার লোক নেই 

সকাল সন্ধে পয়সা আর পয়সা 


টাকা মাটি, মাটি টাকা, ভেবেছি অনেকবার 

গিরিশকে বলেছিলেন, তোর যা ইচ্ছে কর



ইন্দ্রজিৎ


ইন্দ্রজিৎকে কোনোদিন দেখিনি, এতবড় জীবনে 

কি ছাইপাশ ঘুঘুর ফাঁদপাতা তো

মৃণালিনী কোন বাড়িতে থাকে, বলতে পারেন 

আমি নতুন, পাশ কাটাই, জানিনা, বলব কি


কতকিছুই তো অজানা থাকে 

ওভারহেডের তার কেটে ফিস্টি করেছিল যারা 

নিশুতিতে ভাঙা চাঁদ উঠতে মনে হল

মেঘের ভেলার পেছনে ছায়ামূর্তি


ট্রেন থেমে আছে অজস্র অন্ধকারের মধ্যে 

ইন্দ্রজিৎ, মেঘনাদ, বাতাসে ভাসিয়ে দিই শব্দবাণ

রবিবার, ৭ মে, ২০২৩

উন্মুক্ত কবিতাগুচ্ছ —১৬ ।। তীর্থঙ্কর সুমিতের — পাঁচটি কবিতা।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




উন্মুক্ত কবিতাগুচ্ছ —১৬


তীর্থঙ্কর সুমিতের পাঁচটি কবিতা 





বর্ণমালা

শূন্য হতে হতে বুকের বাতাস একদিন...
নিভে যাবে হাওয়ার সঙ্গে
তার থেকে বরং
দুরন্ত নদীর বুকে একটা সকাল লিখি
দেখতে দেখতে অতিক্রান্ত হয়েছে ইচ্ছেরা
ভালোবাসার গভীরে এখন দিনলিপির ছাপ
বৃষ্টির ধারা কখনও কখনও
তোমার শাড়ির আঁচল ছুঁয়ে

আমার একতারা জুড়ে এখন লালনের বর্ণমালা।


অচিনপুরের যাত্রা

থমকে দাঁড়িয়ে আছি 
ধানক্ষেতের বুলবুলি সবুজের গায়ে
এখন চির নিদ্রায় মগ্ন
তোমার মুখের দিকে
অস্পষ্ট যে রেখা দক্ষিণের পথে
তুলসী মঞ্চের দিকে বেঁকে গেছে
সেই পথে,
শব্দের পর শব্দ সাজানো
ছোটো গ্রাম, গাছগাছালি

তোমার স্পর্শে এখন অচিনপুরের যাত্রা।



ভৌগোলিক দূরত্ব

নৈঃশব্দের সেলুরারে বন্দী হিসেবের তর্জমা
রৈখিক ব্যবধানে আর্তনাদের অনুভূতি
একান্ত ফেলে আসা স্মৃতির দিকে...
ক্রমশঃ বিবর্তন হতে হতে
মিশে যাওয়া যত গ্লানি একদিন
মুছে যাবে আদিগন্তের পথে
হিসেবের বর্ণমালা বহু পথ ধরে
ক্লান্তমুখর জনস্রোত হারিয়ে যাবে

ভৌগোলিক দূরত্বে।  


৪.
মনে পড়ে
আরও একবার তোমার মুখোমুখি হতে চাই
নুয়ে পড়া গাছটির আসা যাওয়া
প্রতিদিন দেখি আর ভাবি...
বিবর্তনের দৈনিক পদাবলী
তারপর কি এমন হলো,
কথা দেওয়া ব্যক্তিগত পার্লামেন্ট
একদিন...

বনলতা তোমায় মনে পড়ে সমুদ্রতীরে।

সমস্ত অপেক্ষা ভুলে

সমস্ত অপেক্ষা ভুলে,
যাবতীয় অন্ধকার উঠে আসে তোমার চুলে
উদাসীনতা কত দূর যেতে পারে?
ফাঁকা জমিতে এখন হোগলা পাতা
ক্রমশঃ...
এই অবেলা ঘুমের মধ্যে জেগে থাকে সময় 

উঠোনে পিপুলের চারা বেড়ে উঠছে।




শনিবার, ৬ মে, ২০২৩

উন্মুক্ত কবিতাগুচ্ছ —১৫ ।। রঞ্জন ভট্টাচার্য -এর — চারটি কবিতা।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



উন্মুক্ত কবিতাগুচ্ছ —১৫



রঞ্জন  ভট্টাচার্য -এর  চারটি কবিতা 



১.

দায়


তোর চোখের ইশারা  কি যে বলে 
বোঝা দায় 
কোমল  মনের যে কমল এখনো আধ ফোটা
চলনে যে ঢেউ খেলে উথাল পাথাল 
তবুও কোথায় যেন হায়
কী যে বোঝা দায়!


২.
ভালোবাসা


নিছক-ই  ভালোবাসি কথাটি 
কচু পাতার উপর এক ফোটা জল 
যা জীবন বৃন্তে কখনো স্থায়ী নয় 
এটা বলা না বলার উপর ভালোবাসা নির্ভর করে না। 
এক পলকেই তা পরিষ্কার বৃষ্টি হবে কি-না।



৩.
পথ

আমার এ কারাবাস 
তোমার জীবনে সুখকর হোক 
ভ্রমরের গুঞ্জন তো চলবেই
ক্ষতি কি !
শান্তি যদি না পাও 
ওটাই একমাত্র পথ।

৪.
নিরবতা

মাটির প্রদীপটা নিভে গেল 
কারাময় কারাগারে 
সিঁদেল হাওয়া  উঁকি মারে 
শুকনো প্রান্তরে
তোমার অপেক্ষায় থেকে থেকে 
নীরব আমার মন নীরবতার গ্লানিতে দগ্ধে দগ্ধে শেষ 
শুধু তোমার-ই জন্য অপেক্ষার গভীরে ...

শুক্রবার, ৫ মে, ২০২৩

উন্মুক্ত কবিতাগুচ্ছ —১৪।। দীপক বেরা-র — চারটি কবিতা।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 .





উন্মুক্ত কবিতাগুচ্ছ —১৪


দীপক বেরা-র  চারটি কবিতা 



১.
নৈঃশব্দ্যের ব্যাকরণ

কবিতা লিখতে গিয়ে হোঁচট খাই রোজ—
শব্দবিধি, বানানরীতি, যতিচিহ্নের সঠিক ব্যবহার
ধর্মীয়, রাজনৈতিক, সামাজিক উত্তেজনা ইত্যাদি, প্রভৃতি
হাজারো এক বিধিনিষেধের গেরো
তাই, কবিতার খাতা ফেলে মাঝে মাঝে ভাবি 
নৈঃশব্দ্য দিয়ে যদি কবিতা লেখা যেত..
নৈঃশব্দ্যের একটা ব্যাকরণ রচিত হওয়া খুব জরুরী! 


২. 
তরঙ্গ 

সকালের ব্যস্ত হাতে ইতস্তত, তবু 
এগিয়ে আসত এক পেয়ালাভর্তি তরঙ্গ 
কিছু বুদ্বুদ মেশানো উষ্ণতা, ..ওম
আর যেহেতু ওম, চুমুকেই হৃদয় হতো অবনত 
করতলে বোধ করি, কত স্মৃতি..! 
হৃদয়ের সেই তরঙ্গ কি থেমে আসছে তবে? 
করতলে ধরে থাকি তার ক্ষীণ অবশেষ
চাঁদের গায়ে তীব্র গ্রহণ, আশঙ্কিত রোজ;
নদীর ভাটায় এখন শেষ পারানির ক্ষীণ স্রোত.. 


৩.
শান্তির খোঁজ

আমরা বড়রা দিনে দিনে কেমন যেন 
লোভী আর স্বার্থপর হয়ে উঠছি
মাথার মধ্যে সর্বক্ষণ শয়তানি বুদ্ধি যুযুধান
রক্তচক্ষু লুকিয়ে রাখি কালো রঙের চশমায়! 
অথচ, দেখো—
শিশুদের চোখ, টলটলে স্বচ্ছ দিঘির মতো 
আর তাতে যেসব মাছেরা বাস করে 
তারাও সব স্বর্ণাভ উজ্জ্বল উচ্ছল ঝকঝকে 
শিশুদের সাথে খেলা করলে মন ভালো হয়ে যায় 
ওদের ভালোবেসে কোলে তুলে নিই
হাতে তুলে দিই চকোলেট, বেলুন, খেলনা..
শিশুদের ছোট্ট ছোট্ট হৃদয়ে আছে
পরম শান্তির নীলরঙা এক বিশাল আকাশ। 


৪.
সময় ও জীবন 

অস্থির, ধ্বস্ত এই সময়ের শরীর থেকে 
তুলে নাও কয়েক ফোঁটা অন্ধকার 
রাখো তোমার টেস্ট টিউবে, তারপর
মনের ল্যাবরেটরিতে 
চেতনার অ্যাসিড মিশিয়ে সলিউশন প্রস্তুত কর
কেমিক্যাল রিয়্যাকশন, স্মৃতি বিস্মৃতির বুদ্বুদ
ধোঁয়া ধোঁয়া পানজেন্ট স্মেল... 
এনালাইসিস থেকে উঠে আসে—
এতদিন প্রিয়জন বলে যাদের চিনেছিলে
টেনে নিয়েছিলে নিজের কাঙ্ক্ষিত বৃত্তে
এক নিঃশ্বাসে চুরমার হয়ে যায় আলোহীন সম্পর্ক
মানুষকে যদি জড় পদার্থ ভাবো
জীবন তবে বিয়োগের খাতা 
প্রান্তিক হতে হতে শেষে, বিরাট এক শূন্যতা!