উন্মুক্ত কবিতাগুচ্ছ —১৬
অমল বিমল কমল এবং ইন্দ্রজিৎ
অমিত কাশ্যপ
অমল
ভালোবেসে রয়ে গেল কয়েক বছর
ক্লাস এইট
তারপর কি হল, ভাবনাতে এল না
হাতের কাজ ছিল ভালো
ইলেকট্রিসিয়ান, প্লামবার, কারপেনটার
নিখুঁত পর্যবেক্ষণে হয়ে উঠল দামি মিস্তিরি
দুদিন যায়, চারদিন বসে
আড্ডা গিলে খেল
এখন দশটা টবের সংসার
গোলাপ-জবার গায়ে সকালের রোদ ঢলাঢলি করে
বিমল
কারখানা ছিল, কাজও করত
বন্ধ হল, খুলল, আবার বন্ধ হল, আর খুলল না
কপাল বড় নিষ্ঠুর, বিয়ে করলে ভাগ্য ফেরে
জ্যোতিষীর ভাষণে বুড়ো আঙুল
একটা একটা দিন যায়, বৃদ্ধ হয়
মনের বৃদ্ধ, বন্ধুরা বলল, ছাড় তো
খা-দা, আর আরাম কর
বিমলের গলার স্বর যেন ফ্যাসফ্যাসে
খাওয়া গেল, স্বর গেল, ইসারায় সব
গলার ফুটো যেন জ্যোৎস্নায় ফুটো চাঁদ
কমল
সেভেন-এইট, তারপর দুগ্গা দুগ্গা
ঘুড়ির পেছনে দৌড়তে গিয়ে
ছাদ থেকে পড়ল, হাত গেল, পা গেল
গেল, গেল, কতকিছুই তো যায়
ঘুড়ি নিয়ে দেওয়াল শপ করল
মুড়ি, বিস্কুট, লজেন্স উঠল
দোলের সময় হালকা রোদে রঙের বাহার
আহা, কমল এখন বিজনেসম্যান
মহানবমীর কদিন পরই আশ্বিনের রোদ মেখে
কখন যেন স্বর্গরথে উঠে পড়ল
এবং
এবং আমি, ছাপোষা কেরানী, দশটা-পাঁচটা
তারপর ছাত্র ঠেঙিয়ে বাড়তি কিছু
চশমা, বউ বলে, কাচ যেন গেলাশের তলা
কি দরকার বাপু, বাড়তি রোজগেরে
বাড়িতে তিনটি তো প্রাণী
ভালোয় মন্দে যাবেক্ষণ
বাড়িতে কথা বলার লোক নেই
সকাল সন্ধে পয়সা আর পয়সা
টাকা মাটি, মাটি টাকা, ভেবেছি অনেকবার
গিরিশকে বলেছিলেন, তোর যা ইচ্ছে কর
ইন্দ্রজিৎ
ইন্দ্রজিৎকে কোনোদিন দেখিনি, এতবড় জীবনে
কি ছাইপাশ ঘুঘুর ফাঁদপাতা তো
মৃণালিনী কোন বাড়িতে থাকে, বলতে পারেন
আমি নতুন, পাশ কাটাই, জানিনা, বলব কি
কতকিছুই তো অজানা থাকে
ওভারহেডের তার কেটে ফিস্টি করেছিল যারা
নিশুতিতে ভাঙা চাঁদ উঠতে মনে হল
মেঘের ভেলার পেছনে ছায়ামূর্তি
ট্রেন থেমে আছে অজস্র অন্ধকারের মধ্যে
ইন্দ্রজিৎ, মেঘনাদ, বাতাসে ভাসিয়ে দিই শব্দবাণ

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন