লেবেল

অণুগল্পে বসন্ত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অণুগল্পে বসন্ত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ২১ মার্চ, ২০২৩

অণুগল্পে বসন্ত -২২ ।। রূপান্তর — দীপঙ্কর সরকার।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





অণুগল্পে বসন্ত -২২



রূপান্তর 

দীপঙ্কর সরকার 


এমাস রঙের মাস বাসন্তী রঙে রাঙা ফাগুয়া আকাশ । ছোটবেলা থেকেই রঙ খেলার খামতি নেই । বাড়ি যতই মফস্বল্পে হোক না কেন । গাছে গাছে পলাশ শিমুল ফুটলেই মনটা উড়ু উড়ু হয়ে যায় । আজও হয় কখন প্রিয় জনকে রঙে ভরিয়ে দেব , তারই প্রহর গুনতে থাকা । আজ আর সে বয়স নেই , শুধু চেয়ে দ্যাখা , স্মৃতিচারণ । বিস্মৃতির অতল গহবর থেকে টেনে আনা সেই সব রোমাঞ্চকর অনুভূতি । যতই না না করুক তাকে হাঁ করানোতেই তৃপ্তি । আজকাল এ উৎসব যেন অনেকটাই মেকি, প্রাণের টান নেই । অনেকটাই শরীরী শরীর ছুঁয়ে যাওয়াতেই আনন্দ যেন । দিন বদলের সঙ্গে সঙ্গে এরূপ অনুভূতিই কাম্য বুঝি !


সোমবার, ২০ মার্চ, ২০২৩

অণুগল্পে বসন্ত—২১।। বসন্ত — অশোক ব্যানার্জী।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



অণুগল্পে বসন্ত—২১


বসন্ত

অশোক ব্যানার্জী

-

আমার বয়স আশি পেরিয়ে গেছে

অনেক দিন আগেই।এখন আমি আর আমার জীবনে

বসন্তের ছোঁয়া পাই না একদম,শীতের রুক্ষ ছোঁয়া আজআমার শরীর ও মনকে গ্রাস করেছে ।রুক্ষ শুষ্ক শরীর ও মনে আরবসন্তের কোনো প্রভাব নেই আমার।তবু, যখন ভাবি আমার নাতির কথা,আমার নাতির মতো আরো ছোটো ছোটোছেলে মেয়েদের কথা, মনে হয়ওই কচি কাঁচারাই তো আমার মতোবৃদ্ধ বৃদ্ধাদের জীবনে নতুন বসন্তের ছোঁয়া,ওরাই পারে নতুন করে বসন্ত আনতে আমাদের মতো বৃদ্ধ বৃদ্ধাদের জীবনে।ওরাই শীতের রুক্ষতাকে সরিয়েএখন বসন্ত আমার জীবনে, মনে !

রবিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৩

অণুগল্পে বসন্ত -২০ ।। বসন্তে রঙ লাগলো — হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




অণুগল্পে বসন্ত -২০



বসন্তে রঙ লাগলো

হীরক বন্দ্যোপাধ্যায় 

এই বসন্তে বিয়ের পর সিমলা পাহাড় যে কি মনোরম বোঝানো মুশকিল৷ কী সুন্দর  এই পাহাড়তলী।পরম বলে শেষ করতে পারবে না।ওদের  হোটেলের  সামনে দেয়ালঘেরা  অন্তত  বিঘে চারেক জমি।সাজানো  বাগান ।অপরূপ  সব ফুল ফুটে আছে ।
অদূরে ছোট  একটা  লেক,টলটল করছে  জল।
সারারাত  সে ঘুমোয়নি।এই  ভোরবেলায়  মৌনি এখনো ঘুমুচ্ছে ।সকালে  এই পাহাড়ি পরিষ্কার  বাতাস যেন সব ক্লান্তি  হরণ করে  নিচ্ছে ।
একটা বোগেনভিলিয়া গাছের আড়াল থেকে
পরম এগিয়ে  এল।
কখন পিছনে এসে দাঁড়িয়েছে   মৌনি।ঠোঁটে একটু কাঁপন।
পরম অবাক হয়ে মুখখানা দেখল।যেন এই  সিমলা পাহাড়ের  মধ্যে  ফুটে ওঠা আরেকটি ফুল।

তুমি নাকি এই বিয়েতে রাজি ছিলে না?
মৌনি বলল।
পরম হাসল।অন্য রকম  হাসি।কিছু বলল না।
তাহলে বিয়ে করতে গেলে কেন?
পরম একটা পাখির ডাক শুনল উৎকর্ণ হয়ে।
তারপর  আবার  হাসল।
হাসছো যে 
নিয়তি ।
তাহলে? 
পর পর সাত জন্মের জন্য  একেকটা জুটি।
তারপর? 
সেই ট্রাডিশন  সমানে চলেছে।
আবার  একটা কোকিল ডেকে উঠল।
ওরা দুজনেই হাসল   ।
বসন্তের  হাসি।

শনিবার, ১৮ মার্চ, ২০২৩

অণুগল্পে বসন্ত —১৯।। দুই শহর — সুধাংশুরঞ্জন সাহা।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





অণুগল্পে বসন্ত —১৯



দুই শহর

সুধাংশুরঞ্জন সাহা 


এই কলকাতা শহরেই থাকে দুই যুবক যুবতী, রিয়া আর আরণ্যক। একজন থাকে উত্তরে, অন্যজন দক্ষিণে। রিয়া একটা বেসরকারী প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষকতা করে। শিশুদের নিয়েই তার জগৎ। আরণ্যক সরকারী নামি এক সংস্থায় কর্মরত, এই শহরেই। তাদের ছিল গভীর বন্ধুত্ব। আর্ট সিনেমা, গ্রুপ থিয়েটার, শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের অনুষ্ঠান দেখা ছিল তাদের নেশা। 

আচমকাই রিয়া স্কুলের শিক্ষকতা নিয়ে চলে গেল অরুণাচল প্রদেশে। রামকৃষ্ণ সারদা মিশন স্কুলে। আরণ্যক থেকে গেল একা এই শহরে। তখন অরুণাচলে বৃষ্টি হলে কলকাতায় আরণ্যক ভেজে। কলকাতার খরায় অরুণাচলে রিয়া পোড়ে। কিন্তু মাত্র দু'মাসেই দাবার চাল উল্টে গেল। পাহাড়ের অরুণাচলে শরীর স্বাস্থ্য টিকল না রিয়ার। ডাক্তারের পরামর্শে ফিরে আসতে হল কলকাতায়। পুরনো স্কুলেই ফিরে পেল শিক্ষকতা।  সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আবার গাঢ় হতে থাকল দুজনের বন্ধুত্ব। 

হঠাৎ রিয়ার বিয়ে হয়ে গেল দিল্লির এক বিত্তশালী প্রতিভাবান পাত্রের সঙ্গে। অন্যদিকে আরণ্যক বদলি হয়ে গেল গ্যাংটকে। অভিমানে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল দুজনের যোগাযোগ। আরণ্যক অন্য বন্ধুদের কাছে খবর পায় রিয়ার। রিয়াও বন্ধুদের মাধ্যমে খবর রাখে আরণ্যকের। এভাবেই কাটছিল দিন। 

সরাসরি যোগাযোগ যতই বিচ্ছিন্ন হোক, বন্ধুরা জানে, একদিন ঠিক দুই শহরে বৃষ্টি হবে। সেদিন আপাদমস্তক দু'জনে ভিজবে। হোক না পায়ের তলার মাটি আলাদা, তবু বৃষ্টির ফোঁটা তো নেমে আসবে সেই একই আকাশ থেকে। মনের অতল থেকে উঠে আসা নোনাজল বৃষ্টির জলের সঙ্গে মিশে সৃষ্টি করবে এক মহাসাগর। দুই শহর মিলেমিশে একাকার হয়ে যাবে সেদিন নির্ঘাৎ।

শুক্রবার, ১৭ মার্চ, ২০২৩

অণুগল্পে বসন্ত —১৮ ।। ছেঁড়া চিঠি — অসিত কুমার রায়/ রক্তিম।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



অণুগল্পে বসন্ত —১৮


ছেঁড়া চিঠি 

অসিত কুমার রায়/ রক্তিম

     অবাক হয়ে আগুন রাঙা পলাশ গাছের ঘুঘুপাখী দেখছিল আকাশ । শান্তার সুন্দর পলাশের সাজ সে দেখে ও দেখলনা,  অভিমানী শান্তা তখন পশ্চিমের লাল রোদ্দুরে মিলিয়ে যেতে থাকে  ঠিক তখুনি একটা কাঠবেড়ালী গাছ বেয়ে নেমে আকাশের পায়ের উপর দিয়ে চলে গেল। আকাশ খেয়াল করল শান্তা ধারে কাছে নেই। নেই মানে নেই; দূরে আলের ধারে দেখে অস্পষ্ট শান্তা চলে যাচ্ছে, চিৎকার করে ডেকেছিল আকাশ শান্তাকে সেই ডাকে সে আর পিছু ফিরে দেখেনি। কোনদিন ওর জীবনে ফিরে আসেনি।

      আকাশ এখনো সেই নিস্পাপ অভিমানী শান্তাকে খুঁজে ফেরে। তার কথা ভাবে ইট কাঠ পাথুরে জঙ্গলে; আকাশ ভীষণভাবে ব্যস্ত এক ব্যাঙ্ক করনিক। এই শহরে পলাশ গাছ সে কোনদিন দেখেনি । খুব মন খারাপ করে যখন পলাশের দিন আসে। সময় কোথায়? রুপালী চাঁদের আলোয় মুখ ডুবিয়ে পাহারা দিতে হয় চাঁদের জ্যোৎস্না। সোনাঝুরিতে সে চলে যায় মাঝে মাঝেই  বসন্ত দিনে । যদি সে শান্তা’র দেখা পায়, সে বলবেই বলবে সেদিনের সেই ভুল যেন ক্ষমা করে দেয়। আকাশ নিজেকে আর অপরাধী মনে করবেনা।

     জানি এই চিঠি শান্তা কোনদিন ও পাবেনা।  শান্তার ডাকবাক্সের ঠিকানা পাল্টে গেছে চিরদিনের জন্যে। তবু ও আকাশ চিঠি লেখে আর টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে ফেলে।

 



বৃহস্পতিবার, ১৬ মার্চ, ২০২৩

অণুগল্পে বসন্ত -১৭ ।। বর্ণমালার গল্প — তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



অণুগল্পে বসন্ত -১৭



বর্ণমালার গল্প 

তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য 

আজকাল চেনা মানুষগুলোকে  যেন  আর চিনতে পারিনা। কোথাও কোথাও সম্পর্কে নুন বেশি অথবা কোথাও চিনি। মধুরিমা ধর ওপাশের রাস্তায় আর আমি  এপাশে  আমাকে দেখে কেমন যেন বাংলার "স" এর মতো মুখটা করে চলে গেল। আমি বুঝতে পেরে "ণ" এর মতো ঋজু ভঙ্গিতে  পার হয়ে হাঁফ ছাড়লাম। এ সম্পর্কে কোনো শুকনো লঙ্কা বা কাঁচা লঙ্কা, ছিলনা এখনো  আছে নিপাট বন্ধুত্ব। জানিনা আজ কী হলো! বছর দুয়েক ধরেই সব  মানুষের মধ‍্যেই কেমন একটা অদ্ভুত পরবর্তন লক্ষ‍্য করছি। সবাই এক একটি মেশিন যেন! এই রাস্তাটা কেমন প্রেম নগর হয়ে সেজে উঠেছে, পলাশ, শিমূল, অশোক আরো কত নাম না জানা ফুলে ফুলে আলো হয়ে আছে। আরে একটা  ছোট্ট টুনটুনি কেমন চুপ করে  বসে আছে। বসন্ত প্রেম কী ওকেও টাচ্ করে গেল! একা একা বসে পাখিটা আকাশ- পাতাল উদাস হয়ে ভেবে  যাচ্ছে। দুর্দান্ত  মিষ্টি দেখতে। ওরে বাবারে পড়ে গেলাম রে শিমূল ফুলে পা পিছ্লে....  হাতের মিষ্টির প‍্যাকেট, ফল রাস্তায়  গড়াগড়ি  খাচ্ছে। না না ঠিক   আছে,  ধন্যবাদ  দাদা আপনি না ধরলে খুব  লাগত।  আরে ম‍্যাডাম আপনার  পা পিছলে গেল  এদিকে আমার  হৃদয় চরম আছাড় খেল যে, একেবারে কুপোকাত।  উপায় বলুন, আপনার মন দিয়ে আহত মনটাকে তুলে ধরুন। সব লোক দেখল দুটি নারী পুরুষ  হাসতে হাসতে মেঠো পথ ধরে এগিয়ে গেল। বাংলার সবকটা বর্ণমালা যেন একত্রে গেয়ে উঠল "আহা আজি এ বসন্তে......"।


বুধবার, ১৫ মার্চ, ২০২৩

অণুগল্পে বসন্ত -১৬ ।। বসন্তের ব্যালকনি — ফটিক চৌধুরী।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




অণুগল্পে বসন্ত -১৬



বসন্তের ব্যালকনি

ফটিক চৌধুরী

ধরো, অনেকগুলো দিন পেরিয়ে গেছে, পেরিয়ে গেছে অনেক বসন্ত। তুমি কি কারও জন্য অপেক্ষা করছো ? আজ তুমি বিপত্নীক। ব্যালকনিতে বসে আছো। ছেলেমেয়েরা দূরে। অতীত তোমায় ডাকছে। তুমি সাড়া দেবে না ? সেই কলেজ জীবন, সেই কৃষ্ণচূড়ার বেদি ? তুমি বুঝতে পারছ না, এটা স্বপ্ন না স্মৃতি রোমন্থন ? তুমি বিভ্রান্ত। বয়সের ভারে। তুমি একা। কোকিলের কুহুতান। এই বসন্তের ব্যালকনি তোমাকে পীড়া দেবেই।

কলেজ জীবন একদিন শেষ হয়। জীবিকার তাড়নায় কে কোথায় ছিটকে যায় ! কিন্তু সেই দিনগুলো ! সেই স্বপ্ন ! সকলের কি সত্যি হয়? তোমারও হয়নি। পরিপূর্ণ সাংসারিক জীবন ভোগ করার পর আজ বিপত্নীক তুমি কি ভাবছো ? ভাবনারা সবসময় লোকচক্ষুর আড়ালে। কেউ জানতে পারে না। তুমি ভাবছ তার কথা। কলেজবেলার দিন। কৃষ্ণচূড়ার দিন। আজ বসন্তের ব্যালকনি তোমায় স্মৃতিমেদুর করে তুলছে।

মঙ্গলবার, ১৪ মার্চ, ২০২৩

অণুগল্পে বসন্ত —১৫।। কস্তুরী — অলক্তিকা চক্রবর্তী।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





অণুগল্পে বসন্ত —১৫



কস্তুরী

 অলক্তিকা চক্রবর্তী

 হাওয়ায় পালক ভাসিয়ে সে ছোটে ,....আরে কোথায় গেল সে, তার মৃগনয়না?।মনীষের স্কুলের ক্যাম্পের পাশেই মৃগনয়নার বাড়ি। এবং এবারের শীতে মনীষের বাৎসরিক শরীরচর্চা মাথায় উঠেছে মৃগনয়নাকে (চোখদুটো অদ্ভুত বলে ও এই নামটা দিয়েছে)দেখে। এখন মনীষের  মনপ্রাণ জুড়েই সেই কস্তুরী সুবাস।

আজ ভোরবেলা হাঁটতে বেরিয়েছে মনীষ, দৈনন্দিন শরীর চর্চায়  তেমন মন নেই --জঙ্গলের নরম ভোরাই সুবাস তার নাকে,  আর ঠিক তখনই মৃগনয়নাকে দেখতে পায়  ,  ঝুঁকে কী যেন করছে। মনীষ মরিয়া আজ কথা বলবেই ।কাছে যেতেই  মৃগনয়না ঘুরে দাঁড়িয়ে  হঠাৎ ছুট ছুট...। এলোপাতাড়ি ছুটতে গিয়ে পড়েই যাচ্ছিল সে  মনীষ  ধরে ফেলে। বলে, কেন এমন করে ছুটছিলে ? আশ্চর্য মৃগনয়নার চোখের তারাদুটো কেমন নিষ্প্রভ! কোনমতে বলে , আমার লাঠিটা ...কোথায় যে গেল। মনীশ দেখে দূরে ছিটকে পড়ে আছে সেই বিশেষ ধরনের স্টিক।যা কেবলমাত্র প্রতিবন্ধীরাই ...তবে কী..

মনীষের বুকের  সবটুকু কস্তুরী সুবাস যেন উড়ে যায় অনেক হাতড়েও  আর  খুঁজে পায় না । 

সোমবার, ১৩ মার্চ, ২০২৩

অণুগল্পে বসন্ত -১৪ ।। শুভেচ্ছা নিও — নির্ঝর মুখোপাধ্যায়।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




অণুগল্পে বসন্ত -১৪



শুভেচ্ছা নিও

নির্ঝর মুখোপাধ্যায়



এসেছিলে তো গতবার দোলে।  আমাকে বাকরূদ্ধ করে দিয়ে।  তোমারই হাত থেকে নেওয়া নীল আবির।  তোমার দুই গালে। তোমার গালের নরম ছোঁয়া । আমার হাতে আজও লেগে আছে। এখনো খুব সন্তর্পণে   গোপনে ছোঁয়াই ঠোঁট। এই হাতে। শিহরণ জাগে। 

কিন্তু তোমার কপালে কে পরিয়ে দিয়েছিল রক্ত লাল আবীর ? আমার আগে কার কাছে গিয়েছিলে তুমি ? কার ? কাছে ?  গিয়েছিলে ? তুমি ? সারা বছর ধরে মনে মনে প্রশ্ন করে গিয়েছি তোমায়। 

দোল তো এসে গেল ফের।  রক্ত রাঙা আবীর কিনে রেখে দিয়েছি এবার।  আসবে তো তুমি এবার ? আসবে তো ? তুমি ? এবার ?

দোল তো এসে গেল ফের।

রবিবার, ১২ মার্চ, ২০২৩

অণুগল্পে বসন্ত —১৩।। শোধের অঙ্ক — দীপক বেরা।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



অণুগল্পে বসন্ত —১৩



শোধের অঙ্ক 
দীপক বেরা 

এপাড়ায় ওপাড়ায় আজ একটাই রোল ভেসে বেড়াচ্ছে,.. "হোলি হ্যায়"... ! হোলি খেলতে খেলতে  ছেলেদের একটা দল রঞ্জিতার বাড়ির দিকেই আসছে। বলতে বলতেই, 'মাসিমা.. আ'.. বলে হাঁক দিতে দিতে আবির একেবারে সোজা রান্না ঘরে হাজির। আবির এই পাড়ারই ছেলে। খুব ভালো ছেলে। কাজে, অকাজে, যেকোনও বিপদে আপদে আবির সবসময় ঝাঁপিয়ে পড়ে সবার বাড়িতে। আবির মাসিমার পায়ে আবির দিয়ে প্রণাম করতে করতে জিজ্ঞেস করে, "মাসিমা, রঞ্জু কোথায়"? মাসিমা বলেন, "আজকের দিনে সে কি আর বাইরে থাকে, বাবা? দেখো গিয়ে দরজায় খিল দিয়ে বসে আছে"। রঞ্জু.. উ,...দরজা খোলা রঞ্জু, বলে আবির রঞ্জুর বন্ধ ঘরের দরজায় কড়া নাড়ে। রঞ্জু কিছুতেই আর দরজা খোলে না। শেষ পর্যন্ত আবির ঘরের বাইরে গিয়ে পাঁচিলে উঠে জানলা দিয়ে রঞ্জুকে দরজা খুলতে বলে। রঞ্জু বলে, "না খুলব না, কিছুতেই খুলব না, জানি তুমি আমায় রঙ মাখিয়ে ভূত করে দেবে"। তারপর হঠাৎ বলে, "আবির দা, এই যে হাত বাড়িয়েছি, আমার হাতে রঙ মাখাও"। আবির যেই রঞ্জুর হাতটা ধরতে গেছে, অমনি আবিরের মুখে ভুষো কালি মাখিয়ে দিয়ে রঞ্জু খিল খিল করে হেসে ঘরের কোণে লুকিয়ে যায়। আচ্ছা! দরজাটা খোলো, দেখাচ্ছি মজা! কিন্তু রঞ্জু কিছুতেই দরজা খুলল না। অগত্যা, মনমরা আবির সেদিন বাধ্য হয়েই ফিরে গেল নিজেদের দলের সাথে। 
সম্পর্কের নড়বড়ে সেতুটা আবির কিছুতেই যেন আর পেরোতে পারছে না! রঙ থেকে যায় তার হাতে, রঙ থেকে যায় তার মনে। 


                 রঞ্জু এখন ডিভোর্সি। বাড়ির বাইরে খুব একটা আর বেরোয় না। প্রতি বছরের মতো আজ দোলের দিনে আবির মাসিমার পায়ে আবির দিয়ে প্রণাম করল। রঞ্জু ছাদে আছে শুনে আবির ছাদে গেল। গিয়ে দেখে এক ঢাল কালো চুল পিঠে এলিয়ে দিয়ে রঞ্জু দূরের আকাশের পানে চেয়ে আছে। আবির পা টিপে টিপে রঞ্জুর কাছে যায়। তারপর সজোরে জড়িয়ে ধরে রঞ্জুর মুখে রঙ মাখিয়ে মাখিয়ে রঞ্জুকে আজ একেবারে রঙে রঙে রঙিন করে দিল। 
"এ কী করলে আবির দা"! চিৎকার করে ওঠে রঞ্জু"। 
আবির বলে, "এই বসন্তে তোমাকে রঙিন করব বলে অপেক্ষায় ছিলাম রঞ্জু! মনে পড়ে, সেই কয়েক বছর আগের কথা? সেই ভুষো কালির  শোধ নিলাম আজ"। 
(আবির + রঞ্জিতা), ওদের এই দীর্ঘ অমীমাংসিত শোধের অঙ্কটা আজ মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল! 

শনিবার, ১১ মার্চ, ২০২৩

অণুগল্পে বসন্ত —১২।। এই ফাগুনে — ভবানীশংকর চক্রবর্তী।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



অণুগল্পে বসন্ত —১২



এই ফাগুনে 

ভবানীশংকর চক্রবর্তী 


-কাকীমা ,বাইরে থেকে ডাক দেয়   কেষ্ট ।ডাক  শুনে দোরগোড়ায় এগিয় আসে রাসু কাকিমা।কেষ্টকে দেখে বলে, আয় বাবা ভেতরে  আয়।হাসিমুখে ভেতরে ঢুকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া আবির একটু রাসু কাকিমার পায়ে দিয়ে প্রণাম করে কেষ্ট ।মাথায় হাত দিয়ে অশীর্বাদ করে কাকিমা।এটাই রেওয়াজ ।দোলের দিনে সন্ধ্যেবেলা বড়দের  পায়ে আবির দিয়ে  প্রণাম করে ছোটোরা ।রাণু, কোথায় রে?এদিকে আয় ।একটি কুড়ি বাইশ বছরের মেয়ে এগিয়ে আসে।হাতে আবির।কেষ্টর পায়ে আবির দিয়ে প্রণাম করে সে।
-আমার ভাইঝি।এম এ পড়ে ।রাসু কাকীমা তার পরিচয় দিল ।
কেষ্ট কী  করবে ভেবে না পেয়ে রাণুর কপালে ও গালে  একটু আবির লাগিয়ে দিল।
মুচকি হেসে 'একটু মিস্টিমুখ করে যা  কেষ্ট 'বলে রান্নাঘরের দিকে এগিয়ে গেল রাসু কাকিমা।

শুক্রবার, ১০ মার্চ, ২০২৩

অণুগল্পে বসন্ত -১১।। বসন্ত এসে গেছে — সমাজ বসু।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




অণুগল্পে বসন্ত -১১


বসন্ত এসে গেছে

সমাজ বসু

---  বাড়িতে পুজো,অথচ একটা কাজের লোক নেই। ঠাকুরের এত বাসনপত্তর, ফলমূল, তরিতরকারি আমি একা কিছুতেই পারব না। বসন্তকে পইপই করে বললাম, পুজোর আগের দিন চলে আসিস। কে কার কথা শোনে? আজ দোল, সরমাও আসবে না,কাল বলে গেছে। আজ পুজো হবে না।
--- তার মানে? গিন্নির কথায় বিষ্ময় প্রকাশ করলেন সুনীলবাবু।
কর্তা গিন্নির কথার মাঝে হঠাৎ কলিংবেল বেজে উঠল।

--- গিন্নি,দ্যাখো কে এসেছে।
মলিনা দেবী বাইরে এসে দেখেন,সারা গায়ে রং মেখে আধভেজা কাপড়ে বসন্ত ।
--- তুই এলি কিভাবে?
--- কেন মা, হেঁটেই চলে এলাম।
--- বলিস কিরে! কোথায় সোনারপুর আর কোথায় গড়িয়া? এতটা পথ........
--- ও আমার অভ্যেস আছে। তাছাড়া আমি তো জানি,আজ বাড়িতে লক্ষ্মীনারায়ণ পুজো। এত কাজ তুমি একা করতে পারো?
--- সত্যি তুই আমায় অবাক করলি রে বসন্ত। নে,আগে সব ছেড়ে স্নান সেরে নে। 
--- গিন্নি,আর তোমার কোন চিন্তা নেই। বসন্ত এসে গেছে।

বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ, ২০২৩

অণুগল্পে বসন্ত —১০ ।। বসন্ত বিলাপ — দেবাশীষ মুখোপাধ্যায়।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





অণুগল্পে বসন্ত —১০



বসন্ত বিলাপ

 দেবাশীষ মুখোপাধ্যায়


এখন তুমি অন্য ঘর।অন্য বৃত্তের কেন্দ্র ,পরিধি তোমার। যাতায়াতের পথে দেখা হয়। কখনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকো, কখনো বা বাগানের গাছে জল দাও। অবজ্ঞার ভ্রুকুটি প্রেমের চিতা সাজায় রোজ।
মোড়ের মাথায় পলাশ গাছটা এখনো দাঁড়িয়ে আছে সেই সেদিনের মত। যাতায়াতের পথে একবার তাকাই।রাগ হয় খুব। একটা জ্বলুনি বুকের ভেতর ওকে দেখলেই।
ভোর রাত থেকে ঝরে পড়া ফুল কুড়িয়ে মালা গেঁথেছিলাম তোমার জন্য সেদিন।লাল আগুনের মালা যেন! তোমার প্রশ্রয়ে সাহসী আমি সেদিন ঐ মালার আগুন তোমার সারা শরীরে মাখিয়ে দিয়েছিলাম প্রথম অনুভূতির দামালপনায়। তোমার বাড়ির ছাদে তোমাকে আবিস্কারের সেই স্পর্শ আজও আমার হাতে, ঠোঁটে যেন বেজে ওঠে ঐ পলাশ ফুটলেই।
একা আমি আজও দোলের দিন ভোর হলে পলাশ কুড়াই।মালা গাঁথি।আর মালাটা তোমার বাড়ির দরজায় রেখে আসি তোমারই জন্য। পরে দেখি  পাশের নালায় মালাটা পড়ে গুমড়ে কাঁদে!প্রতীক্ষার পলাশ করুণ সুরে বাজে এখন নোনা কান্নায়।

বুধবার, ৮ মার্চ, ২০২৩

অণুগল্পে বসন্ত -৯।। বাবা — বিমল মণ্ডল।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




অণুগল্পে বসন্ত -৯



বাবা

বিমল মণ্ডল 


বিধান বাবুর একমাত্র সন্তান সোমেশ।বিধান বাবুর স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি বন্ধুদের সাথে দিন ও রাতের সময় কাটায়।ছেলে সোমেশ অফিসে চাকরি করে। বাবা অন্ত প্রাণ। বাবার মধ্যে সে মা ও বাবা -এই দুই রূপ দেখে।এদিকে  বিধান বাবু বন্ধুদের নিয়ে এতো ব্যস্ত যে শরীর খারাপ হলেও ডাক্তারের কাছে যায় না।ছেলে সোমেশ বাবার চিন্তায় মাঝে মাঝে অফিস কামাই করে।সোমেশ জানে বাবা-ই তার আশা- ভরসা ও একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু  এদিকে বিধান বাবু  একমাত্র ছেলে সোমেশ কে বাড়িতে রেখে দোল পূর্ণিমায় বন্ধুদের নিয়ে বেড়াতে চলে যায়।বাবা বন্ধুদের নিয়ে রঙ খেলায় ব্যস্ত থাকলেও ছেলের কথা তার মনেই পড়েনি।

হঠাৎ ছেলে সোমেশের ফোন ফেসবুকে বাবা ও বন্ধুদের আবির মাখানো ছবি দেখে  সোমেশের চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ে। সোমেশ তার মা'য়ের ছবির পায়ের পাশে বসে ছলছল চোখে মা'কে জিজ্ঞাসা করে—


— মা তুমি আজ দেখতে পাচ্ছ?   বাবা আমাকে ছেড়ে বন্ধুদের নিয়ে আজ দোলের দিনেও  কত খুশি দেখতে পাচ্ছ?

— জানো মা, আমি তোমার মতো বাবাকে শ্রদ্ধা করি ও ভালোবাসি। সারাজীবন তোমার  আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে বাবাকে  সেবা করে যাবো।

— মা গো!  তুমি যেখানেই থাকো তোমার এই ছেলেটাকে আশীর্বাদ করো যেন তোমার অসমাপ্ত কাজ আমি সমাপ্ত করে যেতে পারি। 


হঠাৎ মা'য়ের সাথে কথা বলতে বলতে  দোলের রাতে সোমেশের ফোনে বাবার ম্যাসেজ -

— বেটা দোলের শুভেচ্ছা নিস।ভালো থাকিস।শুভ রাত্রি। 


 বাবা বিধান বাবুর পাঠানো  বসন্তের  রঙে রাঙিয়ে দেওয়া  ম্যাসেজ ছেলে সোমেশের চোখের জলে সহসা  ঝাপসা হয়ে যায়... 

মঙ্গলবার, ৭ মার্চ, ২০২৩

অণুগল্পে বসন্ত -৮ ।। খোলা চিঠি — স্মৃতি শেখর মিত্র।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




অণুগল্পে বসন্ত -৮


খোলা চিঠি

স্মৃতি শেখর মিত্র 



                                                 ধানবাদ
                              ১০ই মাঘ,১৩৮৪ বঙ্গাব্দ।
                                25/01/1977

প্রীতিভাজনেষু  শ্রাবণী,
                             ‌‌   আজ দুপুরে তোমার চিঠি
পেয়ে ভীষণ আনন্দ ও স্বস্তি পেলাম। বিগত পৌষমেলায় যতটুকু তোমার সঙ্গে থাকতে পেরেছি সেই স্বল্প সময়ই আমার জীবনের পাথেয় হয়ে থাকবে।অনেককে পাশ কাটিয়ে
ভরা মেলা ছেড়ে আমরা দুজনা সন্ধ্যার মুখে
বেরিয়ে গেলাম সোনাঝুরি মাঠের উদ্দেশ্যে।
তোমারও যে সেই সান্ধ্য ভ্রমণ ভালো লেগেছিল
তার উল্লেখ তোমার চিঠিতে রয়েছে।
কোন আড়াল রাখোনি। তুমি তোমার বান্ধবীদের জানিয়ে রেখো আমার বসন্ত উৎসবে যাওয়ার
কথা। গতবার শান্তিনিকেতনে সাধারণের জন্য
নির্দিষ্ট গেস্ট হাউসে রাত্রিবাস করেছিলাম। তুমি তো সেকথা জানো। এবার শান্তিনিকেতনের এক বন্ধু তাদের বাড়িতে থাকার জন্য বার বার বলেছে। তুমি জানিয়েছো শুভা ও বনবীথি আমার কথা প্রায়ই বলে।আমারও ওদের দুটিকে বেশ লেগেছে। খুব খোলামেলা স্বভাবের মেয়ে। ওরা না থাকলে আমার পৌষমেলায়
কবিতা পাঠের আসরে হয়তো কবিতা পাঠ করা
হতো না। তুমি ও তোমার ঐ দুই বন্ধু আমাকে
কবিতা পাঠের ব্যাপারে অনেক সাহস জুগিয়েছে।এবারও দেখবে আমরা অনেক অনেক আনন্দ করবো। ভালবাসা নিও।
                               শুভাকাঙ্খী
                                  মহিম

সোমবার, ৬ মার্চ, ২০২৩

অণুগল্পে বসন্ত -৭ ।। আবার বসন্ত — গোবিন্দ মোদক।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




অণুগল্পে বসন্ত -৭



আবার বসন্ত

গোবিন্দ মোদক


ছেলেবেলা থেকেই মাধবীর প্রিয় ঋতু বসন্ত। সেই বসন্তেই প্রেমে পড়েছিল মাধবী। তার মনের মানুষটি ছিল গ্রামেরই এক দাদা-স্থানীয় কিশোর – কিংশুক। কিন্তু না, কিংশুকের সঙ্গে মাধবীর ঘর বাঁধা হয়নি। উচ্চ-মাধ্যমিকের পরই মাধবীর বাবা ওকে বিয়ে দিয়ে দিয়েছিল দূর গ্রামে এক স্কুলমাস্টারের সঙ্গে। কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই মাধবী তার বাপের বাড়ি ফিরে আসে বিধবা হয়ে। এই নিদারুণ অভিশাপকে মাধবী মন থেকে মেনে নিতে পারেনি। মাধবী কেমন যেন হয়ে গেছিল, পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন কোনও দ্বীপে বসবাসকারিনী এক অনাথিনীর মতো তার আচার-আচরণ পরিলক্ষিত হতো। কিন্তু সময় যে সবচেয়ে বড় সুশ্রূষাকারিনী! সময়ের প্রলেপে ধীরে ধীরে প্রশমিত হয় মাধবীর সব শোক।


ক্রমে মাধবী আবার খুঁজে পেয়েছে তার সেই পুরোনো অস্তিত্ব। আবার যেন ফিরে এসেছে সেই উচ্ছল মাধবী যে বসন্তকে ভালোবাসে, ভালোবাসে ফাগুনের আগুনকে। সেই মাধবী জানলা দিয়ে দেখছিল প্রকৃতিকে। এমন সময় চেনা কন্ঠস্বর শুনে ফিরে তাকালো মাধবী। দরজায় কিংশুক দাঁড়িয়ে আছে, তার হাতে আবিরের পাত্র। কিংশুকের চোখে চোখ রাখলো মাধবী, টের পেলো একটু একটু করে আবার ফিরে আসছে বসন্ত।

রবিবার, ৫ মার্চ, ২০২৩

অণুগল্পে বসন্ত -৬ ।। প্রথম বসন্ত উৎসব — বিশ্বজিৎ রায়।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





অণুগল্পে বসন্ত -৬



প্রথম বসন্ত উৎসব   

বিশ্বজিৎ রায়



ব্যালকনিতে ভেজা জামাকাপড় মেলতে এসে সৌমি নিচের রাস্তায় দেখল একদল তরুণ তরুণী সারা গায়ে রঙ মেখে হুল্লোড় করতে করতে চলেছে।  ওদের দেখেই সিনেমার ফ্ল্যাশব্যাকের মত যেন   ছ'বছর আগের একটা দিন সামনে চলে এলো সৌমির।  সেদিনটাও ছিল  এমন দোলপূর্ণিমার দিন । সৌমির জীবনের প্রথম বসন্ত উৎসব। 

সৌমির ' ডাস্ট অ্যালার্জি' আছে ছোটবেলা থেকে । তার ওপর সে বছর  ফাইনাল পরীক্ষা ছিল বলে মায়ের কড়া নির্দেশ ছিল রঙ না খেলার। কিন্তু, এদিকে   অনীক তো ছাড়বার পাত্র নয়। সেতো রঙ খেলবেই ওর প্রাণের সৌমির সঙ্গে।  অগত্যা, একটা উপায় বার করেছিল দুজনে মিলে কলেজ ক্যান্টিনে বসে। 
সেই উপায় অনুযায়ী সৌমি সেদিন একটা ছোট রেকাবিতে সামান্য একটু আবির  নিয়ে বাড়ির সবার চোখ এড়িয়ে  চুপিচুপি   এসে দাঁড়িয়েছিল ব্যালকনিতে।  ঠিক সকাল দশটায়।    কথামতো অনীকও  এসে দাঁড়িয়েছিল সেইসময়  শম্ভুদার দোকানের আড়ালে বাইক নিয়ে। 
ঘড়িতে ঠিক দশটা বাজতেই  অনীকের ইচ্ছা  অনুযায়ী আবিরে আঙুল ছুঁয়ে নিজের কপালে  একটা টিপ পরেছিল সৌমি । আর,  বাকিটা ছুঁড়ে  দিয়েছিল হাওয়ায় অনীককে লক্ষ্য করে ।আর, অনীকও একমুঠো আবির হাওয়ায় উড়িয়ে দিয়েছিল সৌমিকে লক্ষ্য করে। ওই একমুহূর্তের চিত্রনাট্যের মধ্য দিয়ে   সৌমি সেদিন পালন করেছিল জীবনের প্রথম বসন্ত উৎসব। 
তারপর,  গত ছ বছরে অনেক জল গড়িয়ে গেছে গঙ্গা দিয়ে। সেই রোমান্টিক অনীক এখন  বিদেশে।  আর, সৌমি রঙহীন জীবন কাটাচ্ছে প্রতিটা বসন্ত উৎসবে। 
হঠাৎ মায়ের ডাকে চমক ভাঙলো সৌমির --- " বুড়ি, দ্যাখতো একটা ফোন এসেছে কার  তোর ফোনে, একটা অচেনা নম্বর থেকে..."

শনিবার, ৪ মার্চ, ২০২৩

অণুগল্পে বসন্ত -৫ ।। রোদ ছায়া - অশোক রায়।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





অণুগল্পে বসন্ত -৫




রোদ ছায়া

অশোক রায়


মোহময় ক্রমশঃ আরো শীতের দেশে চলে যাচ্ছেন। তাঁকে ঘিরে বন্ধুরা যতই আনন্দ উৎসব পান ভোজন করুক, তাঁর কোনো হেলদোল নেই। ঘড়ি ধরে  প্রাতঃভ্রমণ, সারাদিন খবরের কাগজে গোমড়া মুখ গুঁজে   -সব কেমন যেন বিস্বাদ বিবর্ণ লাগে। আর ঠান্ডাটাও পড়েছে নাগপুরে এবার। সুবর্ণা চলে যাবার পর কোনো কিছুই আর ভাল লাগে না মোহময়ের খালি দিনগুলো ভারী পাথরের মত বুকে চেপে বসে

 বন্ধুরা আসে আড্ডা দেয় কিন্তু ওরা চলে  গেলে আবার সেই অসহ্য শুন্যতামোহময় ভাবেন রিটায়ার্ড মানুষপিছুটান নেই যখন, নির্জন কোনো পাহাড়ে চলে গেলে কেমন হয়বাকি  দিনগুলো  কাটুক সেই কল্লোল-হীন পরিবেশে

হাঁটতে হাঁটতে স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে চলে এসেছেন এখানে একটা নতুন চায়ের দোকান দেখছেন আজ ‘অমৃত-তুল্য চাহা  

সত্যি এখানে একটা চায়ের দোকান দরকার ছিল দু-পা বাড়িয়েছেন এমন সময় কানে এল এক মহিলার  চিল চিৎকার একটা সুন্দর পমেরানিয়ানকে ঘিরে ধরেছে কয়েকটা বড়সড় নেড়ি কুত্তা এক ভদ্রমহিলা বাঁচাতে চেষ্টা করছেন কিন্তু রাস্তার কুকুরগুলোর  সঙ্ঘবদ্ধ আক্রমণে থমকে গেছেন মোহময় দেখলেন অবস্থা শোচনীয় হয় এসপার নয় ওসপারকিছু না ভেবেই ঝাঁপিয়ে পড়লেন ওয়াকিং স্টিক হাতে দু-তিনতে ঘা খেয়েই কেঁউ কেঁউ… পমেরানিয়ান তার মালকিনের কোলে। থর থর করে কাঁপছেন মাঝবয়সী একাকী   ভদ্রমহিলাটি। ধন্যবাদে ভরিয়ে দিতে লাগলেন। বললেন এদিকটায় খুব বেশি মানুষের আনাগোনা নেই, আপনি না থাকলে কি যে হত। একসময় চোখ গেল নতুন দোকানের দিকে। মহিলা বলে উঠলেন চলুন দাদা - চা খাওয়া যাক।

 মোহময় শুনলেন যেন কোকিলের কুহু রঙীন বাতাসে। এগোলেন একসাথে। প্লাস্টিকের চেয়ারে বসেছেন মুখোমুখি। এত শীতেও দুজনে ঘামছেন। চা এল ধুমায়িত। এটা সেটা কথাবার্তা চলছে। চিনি-মেশানো দুধ-চা, তবু সত্যিই অমৃত লাগছে। বেশ খানিকক্ষণ সময় কাটাবার পর দুজনে যখন ফেরার পথে, মোহময় টের পেলেন ভারী পাথরগুলো নেমে যাচ্ছে আস্তে আস্তে  বিবর্ণতা ছাপিয়ে জাগছে রক্তিম পলাশের স্বপ্ন। বসন্ত  বুঝি এখনও রয়ে গেছে সুপ্ত মরমে।এত তাড়াতাড়ি  বাণপ্রস্থে যাবার দরকার আছে কি।    


শুক্রবার, ৩ মার্চ, ২০২৩

অণুগল্প বসন্তে- ৪ বসন্ত পদাবলী — রাজীব ঘাঁটী।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





অণুগল্প বসন্তে -৪




বসন্ত পদাবলী
রাজীব ঘাঁটী



ঝিরঝির করে বৃষ্টি শুরু হল , ইংরেজি বছরের প্রথম বৃষ্টি। পলাশ খুব ভালোবাসে বৃষ্টি। প্রিয়ার মনটা বড্ড খারাপ । আজ একবছর হল পলাশ চাকরি নিয়ে কাতার এ আছে। পলাশ বলেছিল খুব তাড়াতাড়ি ফিরে আসবে । কিন্তু সেই ভিডিও কল টুকুই ভরসা ।
কলেজের প্রেম , তারা এখনো এক হতে পারেনি।
বৃষ্টি আর শীত একাকার,মনের মানুষটি কাছে নেই, খুব মন খারাপ লাগছিল, ফোন করেই যাচ্ছে ।কোন উত্তর নেই। আরো কষ্ট পেল প্রিয়া।
পলাশ জানে সে ফিরছে । প্রিয়া বসন্ত ভালোবাসে , তাই সারপ্রাইজ দেবে পলাশ।আজ ১১ দিন কোন যোগাযোগ নেই ,অথচ রোজ ডে, চকলেট ডে,প্রোমিস ডে শেষ। পলাশ কখনো এমন করেনা কিছুতেই বুঝতে পারছে না প্রিয়া।ভ্যালেনটাইন ডে আজ  খুব মন খারাপ করে বিছানায় শুয়ে আছে প্রিয়া।
কলিং বেলের শব্দে ও বিরক্ত হচ্ছে।
মা বললেন দ্যাখ কে এল !
ধ্যাৎ ভাল্লাগে না...
প্রিয়ার রুমের দরজা ঠেলে দাঁড়ায় পলাশ।
আজ বৃষ্টি নেই বাইরে  ,ঝলমলে আকাশ
আজ যে পয়লা ফাল্গুন, বসন্ত এসে গেছে...








বৃহস্পতিবার, ২ মার্চ, ২০২৩

অণুগল্পে বসন্ত -৩ ।। তুলশীতলা — অমিত কাশ‍্যপ।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।





অণুগল্পে বসন্ত -৩



 তুলশীতলা

অমিত কাশ‍্যপ


ইউনিভার্সিটির পর সব কেমন হারিয়ে গেলাম। তমাল প্রথম সারির নেতা, বন্ধুত্ব এখনো আছে। পলসায়েন্সে একসঙ্গে। ইংরেজি, বাংলা, ইকোনমিক্সে একজন, দুজন বন্ধু ছিল। বাংলায় ছিল বনলতা, তার বন্ধু তুলশীতলা। আমরা বলতাম আড়ালে। বনলতা ভালো বন্ধু, তুলশীতলার সঙ্গে ক‍্যান্টিনে বা মধুদার চায়ের দোকানে কয়েকবার চা অফার করেছি, এড়িয়ে গেছে।

দিনহাটা চলে আসার পর সব ছিন্ন হয়েছে। সহকর্মীদের সঙ্গে দার্জিলিং। হঠাৎই। ম‍্যালে গার্মেন্সের দোকান থেকে ডাক, এই অনির্বাণ। এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখি তুলশীতলা। ডাকছে। বুকের রক্ত ছলাৎ করে ওঠে। দাঁড়িয়ে পড়ি। সামনে এসে, তুলশীতলা, মনে পড়ছে? লজ্জায় পড়ি। এখন আর আসল নাম মনে করতে পারিনা। সুন্দরী ছিল, এখন আরও। পূর্ণিমার চাঁদ উঠেছে। দোল পূর্ণিমা। হোক পাহাড়, বসন্ত, বসন্তই। ফাগ উড়বে।