লেবেল

ধারাবাহিক উপন্যাস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ধারাবাহিক উপন্যাস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ৫ আগস্ট, ২০২১

ধারাবাহিক উপন্যাস (শেষ পর্ব)।। ছায়া - ছায়া অন্ধকারের আড়ালে — অনন্যা দাশ।। Ankurisha ।। E. Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 





ধারাবাহিক উপন্যাস (শেষ পর্ব)

ছায়া - ছায়া অন্ধকারের আড়ালে

অনন্যা দাশ



সেদিন রাতটা আমাকে ওরা আমার অ্যাপার্টমেন্টেই কাটাতে বলল। টিম বলে যে একজন পুলিশ অফিসার বাইরে পাহাড়ায় থাকবে তাকে সব কিছু বুঝিয়ে সুজিয়ে দিয়ে রোহন আর মেগান চলে গেল। আমাকে অবশ্য বলে দিয়ে গেল যেন আমি টিম ছাড়া অন্য কারো জন্যে দরজা না খুলি। 

তাও রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ আমি শুতে যাব কিনা ভাবছি এমন সময় দরজায় বেল! আমি ম্যাজিক আই দিয়ে দেখলাম টিম। আমি শিকল দিয়ে দরজা অল্প খুলে দেখি টিমের সঙ্গে গোপাদি আর গৌতমদা!

টিম আমাকে জিজ্ঞেস করল, “এদের চেনো? ওরা বলছে খুব আর্জেন্ট দরকার তোমার সঙ্গে!”

আমি বললাম, “হ্যাঁ চিনি!”

টিম ওদের ঘরে ঢুকিয়ে নিজেও এসে ঢুকল।

গোপাদি বললেন, “তুমি চলে যাওয়ার পর একটা কথা মনে পড়ল...”   

প্লপ করে একটা শব্দ হল আর আমি দেখলাম টিম পা ধরে মাটিতে বসে পড়ল। আমার মুখ হাঁ হয়ে গেল। তাকিয়ে দেখি গৌতমদার হাতে উদ্ধত বন্দুক! টিমকে তাও ওই অবস্থাতেই উঠে আসার চেষ্টা করতে দেখে আরেকবার প্লপ করে গুলি চালালেন নিজের সাইলেন্সার দেওয়া বন্দুক থেকে।  

“সরি দীপা অনেকদিন ধরেই বুঝতে পারছি তোমাকে তো আর বাঁচিয়ে রাখা যাবে না! যত লোকে জানবে আমার তত বিপদ! পলাশ ব্যাটা আমাকে শুষে ফেলার চেষ্টায় ছিল তাই ওকে যেতে হল। ইলেকশানের জন্যে দাঁড়াবো আমি, মুখের কথা নাকি! কোনরকম স্ক্যানডেল বা ঝামেলা চলবে না! প্রথম বাঙালি এখানকার ইলেকশানে দাঁড়াচ্ছি জানো? সেটা কী কম গর্বের কথা?”

আমার মাথা ধাঁ করে বিদ্যুতের মতন খেলে গেল, সেদিন ওই অ্যাটিকের ঘরটায় ঐশীর সঙ্গে গৌতমদাই ছিল! পলাশ সেটাই দেখে ফেলে ওনাকে ব্ল্যাকমেল করছিল! তাই ওকে মরতে হল। আর ওই ঐশী বা জুলি নামের মেয়েটা আমি কতটা বুঝেছি জানার জন্যে আমার সঙ্গে এসে ছিল। বা গা ঢাকা দেওয়ার জন্যে, কে জানে কী মতলবে! তারপর আমাকে পাগল প্রতিপন্ন করে... আবার একটা কথা মনে পড়ে গেল...ডাক্তার মিত্রর নামই তো নয়ন! তার মানে ওই জুলি ডাক্তার মিত্রর বাড়িতে বেবি সিটার হয়ে ছিল। 

“একদম নড়বে না আর ফোন ধরবে না! এইবার ব্যাপারটাকে তোমার আত্মহত্যার মতন করে সাজাতে পারলেই হয়ে গেল! টিমকে মেরে তুমি পাগল মেয়ে আত্মহত্যা করেছো!” তাকিয়ে দেখলাম আমার মাথার দিকে তাক করা গৌতমদার বন্দুক! 

এদিকে টিমের রক্তে ঘর ভেসে যাচ্ছে। বেচারা হয়তো মরেই গেল । তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারলে হয়তো বেঁচেও যেত! আমার গা গুলিয়ে উঠছিল, পড়ে যাচ্ছিলাম আমি। একটু নড়েছি অমনি প্লপ করে আবার গুলি! এই গুলিটা আমার পায়ে এসে লাগল! উফফ কী অসহ্য যন্ত্রণা! ফিনকি দিয়ে রক্ত! ধপাস করে পড়ে গেলাম আমি। জ্ঞান হারাবার আগে আমি দেখলাম গোপাদির হাতে আমার একটা ল্যাম্প উঠে এসেছে! কেন বোঝার আগেই আমার চোখের সামনে অন্ধকার ঘনিয়ে এল।        




পরিশেষে

যখন আমার জ্ঞান হল তখন আমি হাসপাতালে। বেশ কিছুদিন ছিলাম হাসপাতালে। শকের জন্যে  চিকিৎসা, গুলি লাগার চিকিৎসা সব হল। অনেকেই আমাকে দেখতে এসেছিল। সুনেত্রাদি, আমার ল্যাবের লোকজন, এমন কী আমার বস রজারও তার বউ আর একটা বড়ো ফুলের তোড়া নিয়ে হাজির! ওকে দেখে আমি তো অবাক! আমার বাড়িওয়ালী  মিসেস পালিওয়ালও এসেছিলেন। তবে আমার রেন্টার্স ইন্সুরেন্স ওই পুড়ে যাওয়া কার্পেট ইত্যাদির জন্যে টাকা দেবে কিনা সেটা জানতে! সব সময় নিজের ধান্দা! তাও আমি ওনার ওপর রাগ করতে পারেনি কারণ ওনার কথাতেই পুলিশ বুঝেছিল আমার বাড়িতে সত্যিই আরেকটা মেয়ে থাকত! আমি বানিয়ে বানিয়ে গল্প বলছিলাম না!   

যাই হোক পুরো ব্যাপারটা শুনে যা বুঝতে পেরেছি সেটাই বলছি। জুলি বলে মেয়েটা ডাক্তার মিত্রর বাড়িতে বেবি সিটার হিসেবে কাজে ঢুকেছিল। ভারতীয় মেয়ে কিন্তু ওকে দেখে বোঝার উপার ছিল না, চুল টুল সোনালি করে একেবারে অন্য রকম দেখতে করে ফেলেছিল নিজেকে। ছদ্মবেশে পারদর্শী ছিল মেয়েটা! কিছু একটা ঘটেছিল মনে হয় ওর জীবনে যার জন্যে ও পুরুষদের ঘৃণা করত। একেবারে ভয়ঙ্কর ম্যান হেটার! তাদের নিজের জালে ফাঁসিয়ে, নিজের প্রতি আকর্ষিত করে কোপ মারত। ডাক্তার মিত্র, পলাশ, গৌতমদা, কেউ বাদ যায়নি। পুলিশের ধারণা ও আর পলাশ মিলে মনে হয় গোউতমদাকে নিংড়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। সেই জন্যেই সেদিন পলাশ আমাকে নিয়ে বাড়ি দেখাতে অত উৎসাহী হয়ে পড়েছিল। ওই এক ঝলকে আমি কিছুই তেমন দেখিনি বা বুঝিনি কিন্তু তাও জুলির সন্দেহ যায়নি! সে ঐশী সেজে আমার সঙ্গে থাকতে এসেছিল। পলাশও এমন অভিনয় করে গেছে যেন সে ঐশীকে চেনেই না! এবার বুঝছি কেন ঐশী আমার সঙ্গে কোন অনুষ্ঠানে যেতে চাইত না! ঐশী সঙ্গে জুলির কোন মিল ছিল না, বরং নিজেকে যতটা সম্ভব আমার মতন দেখতে করে ফেলেছিল মেয়েটা! আসলে ওর অশান্ত মনে বার বার ওই চিন্তাই এসেছিল যে আমি কিছু দেখে ফেলেছি কিনা। যাই হোক পলাশ গৌতমদাকে ভয়ঙ্কর রকম ব্ল্যাকমেল করা শুরু করে। উনি ইলেকশানে দাঁড়িয়েছেন তাই ওনার ভয়ও বেশি। কয়েকবার অর্থ দেওয়ার পর উনি মনে হয় ঠিক করেন যে শত্রুর শেষ রাখতে নেই তাই পলাশকে গাড়ি চাপা দিয়ে মেরে ফেলেন। সেখানেও জুলি/ঐশী ওনাকে সাহায্য করে।  পলাশ মনে হয় ওর সঙ্গেও দুমুখো খেলা খেলছিল যেমনটা আমার সঙ্গে খেলার চেষ্টা করেছিল। এক দিকে ভারতে একজনের সঙ্গে বিয়ে ঠিক আর এদিকে ...যাই হোক ওই বিয়ের খবর শুনেই মনে হয় ঐশীরও রাগ হয়। সে আমার ফোন ব্যবহার করে (মনে হয় আমার মতন গলা করে) পলাশকে ডেকে নিয়ে যায় মৃত্যুর দিকে। পলাশের লোভই ওকে মৃত্যুর পথে নিয়ে যায়। আমি ওদের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিলাম। ঐশী আমার ওপর নজর রাখছিল আমার বাড়িতে থেকে তারপর পুলিশের আনাগোনা শুরু হতে পালায়। নিজের কিছু জামাকাপড় না অন্য জিনিস ভুল করে ফেলে রেখে গেছে বলে আগুন লাগিয়ে সেগুলোকে নষ্ট করার চেষ্টাও করেছিল সে। এদিকে আমি জেনে গেছি বা কিছু একটা সন্দেহ করছি দেখে গৌতমদা আমাকেও শেষ করার প্ল্যান করেন। গোপাদি বেচারি প্রথমে কিছু বোঝেননি। কিন্তু পরে ব্যপারটাকে আন্দাজ করে উনিই আমার বাড়িতে একটা ল্যাম্প তুলে গৌতমদার মাথায় মেরে তাকে অজ্ঞান করে আমার প্রাণ বাঁচান। পুলিশকেও উনিই ডেকেছিলেন। গৌতমদার অবস্থা খারাপ। পুলিশের ওপর গুলি চালানো (টিম বেঁচে যাবে। দুটো সার্জারি হয়েছে ওর, কিন্তু সারা জীবন খুঁড়িয়ে হাঁটতে হবে ওকে। পুলিশের চাকরি আর করতে পারবে বলে মনে হয় না!), পলাশের খুন, আমাকে মারার চেষ্টা সব কিছু মিলিয়ে কবে যে ছাড়া পাবেন, মানে আদৌ ছাড়া পাবেন কিনা তার ঠিক নেই। সারা জীবন জেলে পচার সম্ভাবনাই বেশি। উনি মার্কিন নাগরিক তাই ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। ডাক্তার মিত্রর অবস্থাও ভালো নয়, ওনার ব্যবসা লাটে উঠতে পারে, প্রচুর নেগেটিভ পাবলিসিটি হয়েছে ওনার নামে। পলাশ আর ঐশীর চক্করে পড়ে আমার জীবনটা নষ্ট করতে বসেছিলেন। গোপাদি মনে হয় ভারতে ফিরে যাবেন কিছু দিন পর। ওনার উকিল ওনাকে কোন রকম দোষের হাত থেকে বাঁচাতে সক্ষম হয়েছে। তবে জুলি/ঐশীকে ধরতে পারেনি পুলিশ। সে মনে হয় এখানকার পাট চুকিয়ে দিয়ে অন্য কোন একটা ছোট শহরে গিয়ে জাল ফেলার তোড়জোড় করছে! যদিও ও খুন করেনি কাউকে বলে পুলিশ ওকে নিয়ে তত চিন্তিত নয়। যে সব ছেলেগুলোকে শাস্তি দিয়েছে তারা প্রকৃতই বদমাইশ। আর আমার সঙ্গে এত দিন থেকেও আমাকে মারেনি তাই ওর পালিয়ে যাওয়া নিয়ে ওদের মাথা ব্যথা নেই বিশেষ, আমারও না।     

ও একটা কথা বলা হয়নি। রোহনও রোজ আসে আমাকে দেখতে। বলে অফিশিয়াল ক্যাপাসিটিতে আসছে, কিন্তু আমার সন্দেহ হয়। অফিশিয়াল ক্যাপাসিটিতে কী কেউ চকোলেট, টেডি বেয়ার ইত্যাদি নিয়ে আসে?  



সমাপ্ত





আগামী  শুক্রবার  থেকে  ঔপন্যাসিক  অনন্যা দাশের  আর একটা নতুন ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস  "আংটি রহস্যের নেপথ্যে" প্রকাশিত হবে। আপনারা  পড়ুন।মতামত জানান। 

বৃহস্পতিবার, ২২ জুলাই, ২০২১

ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-১৩) ।। ছায়া - ছায়া অন্ধকারের আড়ালে — অনন্যা দাশ।। Ankurisha ।। E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 






ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-১৩)



ছায়া - ছায়া অন্ধকারের আড়ালে 

অনন্যা দাশ 


পরদিন সকালে রোহন কুমার পুলিশ স্টেশানে পৌঁছতে মার্কাস বললেন, “একটা খবর আছে। এখন মনে হচ্ছে ঐ পলাশ বলে ছেলেটা কিছু একটা গন্ডগোলে জড়িয়ে ছিল। ওর বেডরুমে খাটের তলার একটা জুতোর বাক্স থেকে বান্ডিল বান্ডিল দশ, কুড়ি ডলারের নোট পাওয়া গেছে! ওর কাজের মাইনে তো সরাসরি ব্যাঙ্কে জমা হত। সেখানে অ্যাকাউন্ট চেক করে দেখা গেছে বাড়ি ভাড়া ক্রেডিট কার্ডের বিল ইত্যাদি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু অত নোট ওর ঘরে কী করে এল?”  

“আপনার কী মনে হয় ও কাউকে ব্ল্যাকমেল করছিল?”

“হ্যাঁ, সেটাই সহজ সমাধান!”

“কিন্তু দীপা মেয়েটাই তো ফোন করে ওকে সেদিন রাতে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল, মানে যেদিন ওর দুর্ঘটনাটা ঘটে। সেটার কী কারণ হতে পারে?”

“সেটাই তো বুঝতে পারছি না!”

“আমাকে তিনজনের সঙ্গে কথা বলতে হবে আজকে। ডাঃ মিত্র, দীপার বস আর ওর বাড়িওয়ালী। আর আপনাদের কাজ দীপাকে খুঁজে বার করা!”

 প্রথমেই ডাক্তার মিত্রর কাছে গেলেন ওঁরা। ডাক্তার মিত্র তো প্রোফেশানাল এথিক্সের দোহাই দিয়ে কিছুই বলতে চাইছিলেন না। শেষমেশ অনেক জোড়াজুড়ির পর বললেন, “না, মেয়েটার মানসিক অবস্থা মোটেই ভালো নয়। খুব বেশি সেশান হয়নি আমার সঙ্গে কিন্তু তাতেই আমার বুঝতে অসুবিধা হয়নি যে ওর মানসিক দিক দিয়ে প্রচুর সাহায্যের প্রয়োজন। দুঃখের বিষয় পলাশের ওই দুর্ঘটনাটা হয়ে যাওয়ার জন্যে ওর অন্য সত্তা ঐশীকে নিয়ে আমার সঙ্গে কোন কথা হয়ে ওঠেনি। ও বলেছিল বলবে কিন্তু সময় হয়নি। তাই ও নিয়ে কিছু বলতে পারব না আমি!”

ওর বস রজারও তেমন কিছু বলতে পারলেন না। শুধু বললেন, “আমার কাছে তো ওর বেশিদিন হয়নি। তবে মেয়েটা কাজ জানে, কাজের হাতও ভালো। বিজ্ঞানও বোঝে। শুধু একটু বেশি ছুটি নেওয়ার প্রবণতা। কিছুতেই শনিবার রবিবার কাজ করতে চায় না!”

ও কোন ওষুধ ইত্যাদি খায় কিনা সেই নিয়ে উনি বা ল্যাবের কেউ কিছু বলতে পারল না। বা ও কোথায় সেই নিয়েও না! ল্যাবে আসেনি বলে রজারকে একটু চটাই মনে হল।

শকটা ওরা খেল দীপার বাড়িওয়ালী মিসেস পালিওয়ালের সঙ্গে কথা বলে। ওঁদের দেখে আর ওঁরা দীপাকে নিয়ে কথা বলতে এসেছেন শুনেই মিসেস পালিওয়াল বললেন, “আমি জানতাম! আমি জানতাম ওই মেয়ে একদিন ভয়ঙ্কর বিপদে পড়বে! ভীষণ ধুরন্ধর মেয়ে! আর নিজেকে খুব চালাক ভাবে!”  

রোহন কুমার আশ্চর্য হয়ে বললেন, “কেন বলছেন ওই কথা?”

“এত বদ মেয়ে! ভেবেছিল আমাকে বোকা বানাবে! আমার বাড়িতে থেকে আমাকেই বোকা বানাবে!”

“কেন? কী করেছিল? ভাড়া দেয়নি?”

“না, না ভাড়া তো ঠিক সময়ই দিয়ে দিত প্রতি মাসে! তা নাহলে তো বাড়ি থেকেই বার করে দিতাম! সেটা সমস্যা ছিল না। মেয়েটা আমাকে ধোখা দিয়ে আমারই বাড়িটাকে সাবলেট করেছিল! আমাকে কিছুটি বলেনি! ভেবেছিল আমি কিছু বুঝব না! কিন্তু আমি কী অতটাই বোকা? একটা অচেনা মেয়ে আমার বাড়িতে থাকবে আর আমি কিছু বুঝব না? আমি হয়তো আর একটা মাস দেখে ওকে চেপে ধরতাম! নির্ঘাৎ পুরো ভাড়াটাই ওর কাছ থেকে আদায় করে নিচ্ছিল!”

রোহন কুমার উত্তেজিত হয়ে বললেন, “আপনি নিশ্চিত ওই বাড়িতে আরেকজন কেউ থাকত?”

“আরে বাবা আমি বাড়িওয়ালী! আমাকে বোকা বানানো অত সহজ নয়! আমি ঠিক দেখেছি! এখানকার মানুষজন হয়তো বুঝতে পারবে না। অনেকটাই দীপার মতন দেখতে আর জামা কাপড়ও একই রকম পরে, চুলও একই রকম স্টাইল করা কিন্তু আমার নাম মেনকা পালিওয়াল বাবা! এত বছর ধরে মানুষ চড়িয়ে খাচ্ছি! আমার চোখে ধুলো দিতে পারবে না! ওটা অন্য কোন মেয়ে। দীপার জামা পরেও আমাকে ঠকাতে পারেনি!”





চলবে...






আরও  পড়ুন 👇🏾👇🏾



http://wwwankurisha.blogspot.com/2021/07/ankurisha-emagazine-bengali-poem-in_76.html






বৃহস্পতিবার, ৮ জুলাই, ২০২১

ধারাবাহিক উপন্যাস ( পর্ব-১১) ।। ছায়া- ছায়া অন্ধকারের আড়ালে — অনন্যা দাশ।। Ankurisha ।। E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 







ধারাবাহিক উপন্যাস ( পর্ব-১১) 



ছায়া- ছায়া অন্ধকারের আড়ালে 

অনন্যা দাশ 




আমি সমস্ত ওষুধ বন্ধ করে দিয়েছি। বিশেষ করে ঘুমের ওষুধ। মনটা খুব খারাপ। ওরা মানে পুলিশ ইঙ্গিত দিয়েছে যে ওরা বুঝতে পেরেছে যে আসলে ঐশী বলে কেউ নেই! ঐশী আমার মন থেকে গড়া একটা চরিত্র! আসলে আমার ডি আই ডি বা মাল্টিপল পার্সোনালিটি ডিসর্ডার আছে তাই ওটা আমার দ্বিতীয় সত্তা! আমি আন্দাজ করতে পারছি যে ওরা আমাকে যে কোন সময় গেরেফতার করবে। হয়তো পাগল বলে পাগলখানায় ভরে রাখবে। এই সময় আমার মাথাটা পরিষ্কার থাকাটা খুব দরকার। কোন রকম ঝিম ধরা ভাব থাকলে চলবে না। আমাকে সজাগ থাকতে হবে, পুরোপুরি সজাগ। ওরা চলে যাওয়ার পর আমি সারা বাড়িটা তন্ন তন্ন  করে খুঁজলাম ঐশী যে ছিল তার কোন কিছু একটা প্রমাণের জন্যে কিন্তু কিছু পেলাম না। মেয়েটা ভয়ঙ্কর ধুরন্ধর, সব কিছু কেমন রাতারাতি সরিয়ে ফেলেছে! অবশ্য রাতারাতিও করতে হয়নি, আমি তো সব সময় ল্যাবেই পরে থাকি তাই ওর হাতে প্রচুর সময় ছিল! আর বাড়িটা তো এমনিতেই ফার্নিশড, তাই আসবাবপত্র নিয়ে যাওয়ার তো ব্যাপার ছিল না। নিজের যা একটু জিনিস ছিল সব নিয়ে ভেগেছে মেয়েটা। আমি কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যে ঐশী বলে আসলে কেউ নেই! তা কী করে সম্ভব? ওর হাইট, চুলের রঙ, চুল বাঁধার ধরণ, সব কিছুই অনেকটা আমার মতন, তবে পুরোটা না, অনেকটাই। তাই এখানকার লোকজন হয়তো দূর থেকে দেখে তফাত ততটা বুঝবে না। তাই পাড়ার কেউ পুলিশকে কিছুই বলতে পারেনি ঐশীর কথা। এমনিতেও তিন মাস মোটে তো ছিল, তাও বাড়িতে থাকতই বা কতক্ষণ, তাই সবাই বলেছে এই ফ্ল্যাটে, মানে আমার ফ্ল্যাটে একজন ভারতীয় মেয়ে থাকে! ও কোন কোম্পানিতে কাজ করে সেটাও তো আমি ঠিকঠাক জানতাম না। ও আমাকে বলেছিল জিন টেক কিন্তু ওই নামে কোন কোম্পানি নাকি এই তল্লাটে নেই!  কী মতলব ছিল ওর? কী চাইছিল মেয়েটা? কেন আমার সঙ্গে থাকতে এসে ছিল এখানে? আমাকেই কেন বেছে নিল?    


আমি জানি ওই রামগড়ুরের ছানা পুলিশ ডিটেকটিভ রোহন কুমার আর তার পার্টনার যে কোন মুহূর্তে হাজির হবে আর আমাকে ধরে নিয়ে গিয়ে জেলে পুরে দেবে তাই আমি একট ব্যাকপ্যাকে সব কিছু গুছিয়ে নিচ্ছিলাম, মানে দরকারি যা কিছু আমার লাগতে পারে সেই রকম যা মনে পড়ছিল সব। পাসপোর্ট আর অন্য দরকারি কাগজপত্র, ফোনটা, শুকনো খাবার, এনার্জি বার ইত্যাদি। কিছু হাল্কা জামাকাপড় নিলে ভালো হয় এই ভেবে লন্ড্রি করা জামাকাপড়গুলোকে ভাঁজ করতে নিলাম। ওমা তখনই আমার চোখে পড়ল, একটা স্কিন কালারের স্পোর্টস ব্রা! ওই জিনিস তো আমি কোনদিন কিনিনি, পরিও না! ওটা ঐশীর হতে বাধ্য! ওটা দিয়ে আমি কিছু প্রমাণ করতে পারব না। রোহন কুমারকে বললে মানবে না কিন্তু আমি মনে একটা বিশাল শান্তি অনুভব করলাম! নাহ আমি পাগল নই, আমার ডুয়াল পার্সনালিটি ডিসর্ডার নেই! ঐশী বলে যে মেয়েটা আমার বাড়িতে ছিল সে সত্যিই আছে। কোথায় গেল সে, কেন গেল সেটা আমাকে খুঁজে বার করতে হবে। যদিও কেন গেলটা বলা সহজ, ওই তো খুনটা করেছে! তাই পালিয়েছে সেই সব পাপের বোঝা আমার ঘাড়ে চাপিয়ে! নাহ, আর দেরি করলে চলবে না। আমাকে এখান থেকে পালাতে হবে। আমাকে খুঁজে বার করতে হবে ঐশী কোথায়, নাহলে ওর করা যত বাজে কাজের বোঝা সব আমার ঘাড়ে এসে পড়বে।


ব্যাকপ্যাক কাঁধে নিয়ে শেষবারের মতন একবার চারিদিকে দেখে নিয়ে আমি বেরিয়ে পড়লাম বাড়ি থেকে। কোথায় থাকব সেটাও ঠিক করে ফেলেছি। এমন জায়গা যেখানে রোহনকুমার আর ওর পার্টনার আমাকে খুঁজেই পাবে না!   



অত ঝামেলার মধ্যেও মনে একটা উৎফুল্ল ভাব অনুভব করছিলাম। ঐশী আমার মস্তিষ্ক প্রসূত নয়! সে সত্যিই আছে। তবে হেঁটে যেতে যেতে আবার মনে হল, না আনন্দের কারণ তো নেই। এমনও তো হতে পারে নিজেকে ঐশী ভাবার মুহূর্তে আমি কোন দোকানে গিয়ে ওই জামাটা কিনে ফেলেছি? কিন্তু মনে হয় না। যাক কেউ দেখতে পাওয়ার আগেই আমাকে আমার গন্তব্যে পৌঁছে যেতে হবে। হনহন করে পা চালালাম আমি। আগেই বলেছি আমি কোথায় লুকিয়ে থাকব সেটা আমি জানি! আমাদের কলেজটা আসলে একটা মেডিকেল কলেজ আর হাসপাতালের অংশ। কলেজের বেসমেন্টে একটা মর্গ আছে। মর্গের পাশে একটা সাপ্লাই ক্লোসেট আছে, আসলে একটা ঘরের মতনই বড়ো। সেটা জিনিসপত্রে ঠাসা। সেখানে গিয়েই আস্তানা গাড়লাম আমি। মৃত ব্যক্তিরা আমার কোন ক্ষতি করতে পারবে না আমি জানি, জীবিতদেরই আমার বেশি ভয়! তাছাড়া আমার একটু সময় চাই। আমাকে ভাবতে হবে, সত্যিই ভাবতে হবে। কে কেন আমার ক্ষতি করতে চায়? আমার ডি আই ডি আছে বা আমি পাগল প্রমাণ করতে পারলে কার কী লাভ হবে? প্রোটিন বার আর জল খেয়ে স্লিপিং ব্যাগটা মাটিতে পেতে শুতেই ঘুমে চোখ জুড়িয়ে এল। শরীর আর মন দুটোই এতটাই ক্লান্ত আর বিধ্বস্ত যে কোন রকম ঘুমের ওষুধ ছাড়াই দিব্যি ঘুম এসে গেল!






(চলবে...)






আরও  পড়ুন 👇🏾👇🏾




https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/07/ankurisha-emagazine-bengali-poem-in_50.html




বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন, ২০২১

ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-৯) ।। ছায়া -ছায়া অন্ধকারের আড়ালে — অনন্যা দাশ।। Ankurisha ।। E.Magazine ।।Bengali poem in literature ।।

 





ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-৯)



ছায়া -ছায়া অন্ধকারের আড়ালে 

অনন্যা দাশ 



পরদিন সন্ধ্যায় ক্লান্ত হয়ে ল্যাব থেকে ফিরে ঘী ভাতের প্লেটটা নিয়ে সবে খেতে বসেছি এমন সময় দরজায় বেল! আমি এতটাই ক্লান্ত ছিলাম যে রান্না করার মতন এনার্জিও ছিল না সেদিন। তাই তো ঘী ভাত আর ডিম সিদ্ধ খাচ্ছিলাম। তার মধ্যে আবার কে এল? ম্যাজিক আই দিয়ে দেখলাম কালকের ডিটেক্টিভ ওই রোহন কুমার আর তার সঙ্গে একজন মহিলা। খুলে দিলাম দরজা।

“আমি খেতে বসেছি। এই মাত্র ল্যাব থেকে ফিরলাম। প্রচন্ড ক্লান্ত, শরীর চলছে না! আপনাদের কী বিশেষ কোন দরকার আছে?”

“আচ্ছা পরিচয় করিয়ে দিই। এই হল আমার পার্টনার মেগান মিলরয়। আমরা ভাবছিলাম যদি আপনার রুমমেট ঐশীর সঙ্গে একটু দেখা করা যায়! তিনি তো ফোন করলেন না আমাকে!”

“কী করে করবে, আমি তো ওকে বলারই সময় পাইনি। কাল আপনি চলে যাওয়ার পর আমি যখন খেয়ে দেয়ে শুতে গেলাম তখনও ও ফেরেনি। সকালে উঠে আমি যখন ল্যাবে যাই তখন ও ঘুমোয়, ওকে ডিস্টার্ব করা বারণ। একবার ওকে বিরক্ত করে খুব ঝামেলায় পড়েছিলাম তাই আর ও মুখো হই না। সেই জন্যে ওকে তো আপনার কথা জানানই হয়নি!”

“ফোনেও তো বলতে পারতেন ওকে!”

“ও ফোন ধরে না দিনেরবেলা ওর অফিসে মিটিং ইত্যাদি থাকে বলে। তাছাড়া ও মনে হয় এই কিছুদিন আগে ফোন বদল করেছে, ওর নতুন নম্বর আমার কাছে নেই। আর এই ব্যাপারটা ওকে সামনাসামনি বললেই তো ভালো তাই অপেক্ষা করছিলাম। কেন আবার কিছু হয়েছে নাকি?”

রোহন কুমারের চোখ ছোট ছোট হয়ে গেছে, “না ঐশীর সঙ্গে দেখা করাটা জরুরি। ওনার কথার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে!”

“ও!”

“তা আমরা ওনার ঘরটা একটু দেখতে পারি?”

“জানি না! আমি ওর ঘরে ঢুকি না কখনও। সেটা নিয়ে প্রথম থেকেই আমাদের মধ্যে কথা হয়ে গিয়েছিল যে আমি ওর শোওয়ার ঘরে ঢুকব না আর ও আমার শোওয়ার ঘরে ঢুকবে না। রান্নাঘর, বসবার ঘর আর খাবার জায়গাটা কমন ওটা আমরা দুজনেই শেয়ার করি।“

“আচ্ছা এই অ্যাপার্টমেন্টের লিজ কার নামে?”

“লিজ আমার নামে। আমিই ঐশীকে সাবলেট করি।”

“সেটার জন্যে কোন কাগজপত্রে সইটই করিয়েছেন?”

“সেটা তো আপাতত মৌখিক ভাবেই ঠিক আছে। আমাদের কথা হয়েছিল যে মাস তিনেক ও এমনি থেকে দেখবে যে আমরা পরস্পরের সঙ্গে এক বাড়িতে থাকতে পারছি কিনা। যদি সেটা ঠিকঠাক চলে তাহলে এক বছরের জন্যে এগ্রিমেন্ট তৈরি করে সই সাবুদ করা যাবে। লিজ একবার সাইন করে ফেললে তো আর পিছানো মুশকিল তাই। তারপর সেই ভাবেই চলছিল। ও আমাকে ক্যাশে অর্ধেক ভাড়া দিয়ে দিত। কোনদিন দেরি করেনি। তবে আমার বাড়িওয়ালী মহিলা কিন্তু এই সাবলেটিং করছি ব্যাপারটা জানেন না। উনি হয়তো ভালো চোখে দেখবেন না! এমনিতেই খুব ঝগড়ুটে মহিলা আর আমাকে একদম পছন্দ করেন না। আমার সঙ্গে অলরেডি ছোটখাটো ব্যাপার নিয়ে লেগেছে!”  সত্যিই মেনকা পালিওয়ালকে আমি দুচোখে দেখতে পারি না। ওর কাছে গেলে আমার নামে এক ঝুড়ি মিথ্যে কথা বানিয়ে বানিয়ে বলে দেবে সে আমি জানি!

“হুঁ! আপনি ওর বেডরুমে কোনদিন ঢোকেননি বলছেন?” মেগানের প্রশ্ন।

“না, কোনদিন ঢুকিনি বললে ভুল হবে, ওকে ডাকতে ঢুকেছি!”

“ঠিক আছে চলুন, দেখা যাক একবার। ততক্ষণে যদি ঐশী ফিরে আসে তো ভালো!”

“ওর ফিরতে ফিরতে রাত দশটা তো হয়ই! এখন তো মোটে ন’টা পনেরো বাজে। ওর ফিরতে এখনও দেরি আছে!”

“ঠিক আছে। ও কিছু বললে সেটা আমরা বুঝে নেবো। কোন ঘরটা ওর?”

আমি দেখিয়ে দিলাম। আশ্চর্য, দরজাটা খোলাই ছিল! ঠেলতেই খুলে গেল! আমি বেশ আশ্চর্য হলাম। ঐশী কখনও দরজা খুলে রাখে না, সব সময় তালা অথচ আজকেই খোলা ছিল আর আমি খেয়াল করিনি!   

মেগান আর রোহন কুমার ভিতরে ঢুকলেন আর আমি দরজার গোড়া থেকে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম। ওমা ৪৪০ ভোল্ট কারেন্টের ধাক্কা খেলাম আমি! ঐশীর ঘরটা একদম খালি! মানে খাটটা রয়েছে কিন্তু সেটা ছাড়া আর কিছু নেই ঘরে। ঐশীর নিজের সব জিনিস হাওয়া! আলমারিও খালি! ওর গুচ্ছের জামাকাপড়, জুতো যা কিছু থাকত ওই ঘরে কিছুই নেই! বিছানাটায় টানটান করে চাদর পাতা যেন কেউ শোয়ইনি! ঐশী কখনও বিছানা ওই রকম সুন্দর পরিপাটি করে রাখত না। ঘরে জিনিসপত্র অগোছালো হয়ে ছড়িয়ে থাকত বরাবর! আমার মুখটা মাছের মতন খুলতে আর বন্ধ হতে লাগল। কোথায় গেল ঐশী?

রোহন কুমার চোখ আবার ছোট ছোট হয়ে গেছে। ওনার সঙ্গে মেগানের চোখাচোখি হল।

আমি আমতা আমতা করে বললাম, “ঐশী কখন ঘর খালি করে চলে গেছে আমি জানি না! আমাকে কিছু বলে যায়নি!”







আরও  পড়ুন 👇🏾👇🏾




https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/06/ankurisha-emagazine-bengali-poem-in_46.html








বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন, ২০২১

ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-৮)।। ছায়া - ছায়া অন্ধকারের আড়ালে — অনন্যা দাশ। Ankurisha ।। E.Magazine ।।Bengali poem in literature ।।

 





ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-৮)


ছায়া - ছায়া অন্ধকারের আড়ালে 

অনন্যা দাশ 




ডাঃ মিত্রর সঙ্গে এর পরের সেশানটা আমার খুব একটা ভালো হল না। মানে অনেক কিছুই বলতে না চেয়েও বলে ফেললাম। পলাশের ব্যবহারের কথাটা ভেবেছিলাম বলব না। যারা চলে গেছে তাদের সম্পর্কে খারাপ কথা না বললেই ভালো তাই আমি পলাশের কথা বলতে চাইনি কিন্তু ডাঃ মিত্র এমন সহানুভূতি দেখালেন যে আমি আর নিজেকে সামলাতে পারলাম না। পলাশের কথা, রজতের কথা সব বলে ফেললাম। উনি আমার কথাগুলোকে রেকর্ড করে ফেললেন।  

আমি বলে তো দিলাম সব তারপর কিন্তু মনটা খুঁত খুঁত করতে লাগল, মনে মনে ভাবলাম কেন যে অত কথা বলতে গেলাম! ডঃ মিত্রর এই পেশেন্ট দেখার ঘরে বেশ কয়েকটা বড়ো বড়ো আলমারি আছে। সেগুলোকে দেখে আমার মনে হতে লাগল, আচ্ছা উনি এই সব রুগীদের কথা রেকর্ড করে কোথায় রাখেন? তারপর মনে হল এখন তো আর কাগজের ফাইলে কেউ কিছু রাখে না, উনি হয়তো কোন একটা কম্পিউটারে বা হার্ড ড্রাইভে সব কিছু সেভ করে রাখেন।

আমার মনের কথা বুঝতে পেরে ডাঃ মিত্র বললেন, “ভয় পেও না! তুমি আমাকে যা বলছ সেই সব কথা আমি কোনদিন কাউকে বলতে পারব না। আমরা আমাদের রুগীদের কথা কাউকে বলি না, বলতে পারি না! এখানে খুব কড়া নিয়ম আছে ওই ব্যাপারে। তাই নিয়ে কত গল্প, কত সিনেমা হয়ে গেছে!”

আমি আর কিছু বললাম না। গুড নাইট টাইট বলে বাড়ির দিকে রওনা দিলাম।   

বাড়ি ফিরে জামাকাপড় ছেড়েছি সবে অমনি দরজায় বেল! আমি ভাবলাম এখন আবার কে এল রে বাবা? ঐশী তো এত তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরবে না তাছাড়া ওর কাছে চাবি আছে ও তো বেল টিপবে না। দরজা খুলতে গিয়ে দেখি অপরিচিত একজন দাঁড়িয়ে রয়েছে।

আমি শিকল দিয়ে দরজাটা অল্প ফাঁক করে জিজ্ঞেস করলাম, “কে আপনি? কাকে চান?”

“রোহন কুমার। হোমিসাইড ব্রাঞ্চ,” বলে দরজার ফাঁক দিয়ে নিজের ব্যাজ আর আই ডি কার্ড এগিয়ে দিলেন। আই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সব দেখলাম। বলা তো যায় না।

“কী ব্যাপার বলুন তো?”

“আমি পলাশ সেনগুপ্তর হিট অ্যান্ড রান কেসটা নিয়ে তদন্ত করছি। সেই ব্যাপারেই আপনার সঙ্গে একটু কথা ছিল...”

“ও! ঠিক আছে ভিতরে আসুন তাহলে।”

উনি ভিতরে ঢুকে চারিদিকে চোখ বুলিয়ে নিলেন। 

“আপনি কী একাই থাকেন এখানে?”

“না, আমার একজন রুমমেট আছে। তা যা জিজ্ঞেস করার তাড়াতাড়ি করুন। আমি খুবই ক্লান্ত। ইট হ্যাজ বিন আ লং ডে!”

রোহন কুমারের নাম আর চেহারা ভারতীয় হলে কী হবে উনি মনে হয় এদেশেই মানুষ তাই তিনি কথাবার্তায় পুরোপুরিই আমেরিকান।

“আপনার সঙ্গে পলাশের কবে থেকে আলাপ?”

“ঠিক মনে নেই। বছর দুয়েক হবে। বছর দুয়েক আগেই তো সে এসেছিল এখানে, তাই না?”

“কেমন সম্পর্ক ছিল আপনাদের?”

“আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। আমি একটা মন খারাপের সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলাম। আমার আগের বস মারা যেতে আমাকে নতুন একটা ল্যাবে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় যেখানে কাজের চাপ অস্বাভাবিক রকম বেশি। আমার রাতে ঘুম হচ্ছিল না ঠিক মতন, একটু ডিপ্রেশান গোছেরও হয়েছিল। সেটা লক্ষ করেই পলাশ আমাকে ডাঃ মিত্রর কথাটা বলে। ডাঃ মিত্রর সঙ্গে দেখা করার পর থেকে আমি ভালোই আছি। এছাড়া ও ভালো গান গাইত বলে এখানাকার স্থানীয় বাঙালিরা ওকে খুব পছন্দ করতেন। সব জায়গা থেকে নিমন্ত্রণ ওর আসত, আমাকেও ও অনেকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল!”  

“ডাক্তার? মানে ডিপ্রেশানের ডাক্তার? তার মানে সাইকিয়াট্রিস্ট!”

“হ্যাঁ, তো? শরীরের রোগ হতে পারে আর মনের রোগ হতে পারে না বুঝি?

রোহন কুমার হাসলেন, “নিশ্চয়ই হতে পারে! যারা মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের কাছে যায় তাদের আমি অন্তত পাগল বলে মনে পরি না। মনের স্বাস্থ্য হল ভালো থাকার একটা বিশাল অঙ্গ! আমি শুধু জিজ্ঞেস করলাম ওই রকম একজন ডাক্তারকে পলাশ কী ভাবে চিনল সেই ভেবে! সেও কী ওনার কাছে গিয়েছিল?”  

“না, ও আমাকে যা বলেছিল, ওর এক বন্ধুর স্ত্রীর মিসক্যারেজের পর খুব ডিপ্রেশান হয় এবং সে ডাঃ মিত্রর কাছে গিয়ে খুব ভালো ফল পায় সেখান থেকেই নামটা জেনেছিল। তাছাড়া মিত্র নামটা বাঙালি, মানে আমরা ভারতের যে জায়গা থেকে এসেছি সেই খানকার লোক তাই ওনার প্রতি একটা বাড়তি,...।“

“আপনি তো কলকাতা থেকে এসেছেন তাই না?”

“আপনি ইন্ডিয়া গেছেন কখনও?”

আবার হাসলেন রোহন কুমার, “হ্যাঁ, অনেকবার। তাজ মহল দেখেছি, আরও অনেক কিছু দেখেছি। আমার মা-বাবা প্রায় প্রতি গরমের ছুটিতেই আমাদের নিয়ে যেতেন বা পাঠিয়ে দিতেন। খুব মজা করতাম আমরা। ওনারা মুম্বাইতে থাকেন এখন!”

“বাহ!”

“যাই হোক এবার কাজের কথায় আসা যাক! ১৯শে মে সুনেত্রা আর প্রদীপ মজুমদারের বাড়িতে কী হয়েছিল?”   

আমার মাথায় ঝনঝন করে একটা শব্দ হল যেন এরা কী করে জানলআর এরা কী আমাকে পলাশের মৃত্যুর জন্যে দোষী মনে করছে নাকিতবে আমি মনে করি পুলিশউকিল আর সাইকিয়াট্রিস্টকে সত্যি কথাটা বলে দেওয়াই ভালো শুধু শুধু কিছু লুকিয়ে তো লাভ নেই কোন না কোন রকম ভাবে ওরা জানতেই পেরে যায় আর তখন মিথ্যে বলার জন্যে আরো অন্য বিপদে পড়তে হয় তাছাড়া আমার লোকাবার তো কিছু নেইআমি তো কিছু ভুল করিনি যা বাজে কাজ তো পলাশই করেছিল

আপনি চাকফি বা জলটল কিছু খাবেনতার চেয়ে বেশি স্ট্রং আর বাড়িতে কিছু নেই!”

রোহন আবার হাসলেন, “না ডিউটিতে অ্যালকহল খাওয়া বারণ আমাদের তবে জল খেতে পারি

আমি এক বোতল জল ওনাকে দিয়ে নিজে এক বোতল নিয়ে বসলাম গলাটা কেমন জানি শুকিয়ে গেছে আজকে ডাঃ মিত্রর ওখানেও প্রচুর কথা বলেছি

আমি সত্যি কথাই বলছি আপনাকে পলাশদার সঙ্গে আমার যখন কথা হত তখন আমার মনে হত ওর আমাকে পছন্দ আমারও ওকে মন্দ লাগত না হ্যান্ডসামভালো কথা বলতে পারেসবার উপকার করে এই রকম ছেলেকে পছন্দ না করার কারণ ছিল না আমি ভেবেছিলাম আমাদের মধ্যে একটা সম্পর্ক গড়ে উঠলেও উঠতে পারে তবে সুনেত্রাদিদের বাড়িতে যখন ওর এনগেজমেন্টের কথটা ঘোষণা হল তখন আমি একটু শকই পেয়েছিলাম বিবাহিত বা এনগেজেড লোকের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার আমার কোন ইচ্ছে ছিল না তারপর নিচের বাথরুমে খুব ভিড় বলে আমি ওপরের একটা গেস্ট রুমের বাথরুমটা ব্যবহার করতে গেলামসুনেত্রাদিই বলেছিলেন বাথরুম থেকে বেরিয়ে দেখি পলাশ দাঁড়িয়ে সে আমাকে জড়িয়ে ধরে হি ট্রাএড টু কিস মি অ্যান্ড টাচ মিবলল যার সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়েছে তাকে ওর মা-বাবা পছন্দ করেছেন আরও বলল “বউ বউয়ের জায়গায় আর ভালো লাগা ভালো লাগার জায়গায়!’ আমি হয়তো চিৎকার করে ওকে চড়টড় মারতাম কিন্তু ভাগ্যিস তখন দুটো বাচ্চা মেয়ে এসে পড়ল বাথরুম ব্যবহার করতে বলে পলাশ আমাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। তাও খুব শক পেয়েছিলাম, কী বিশ্রী মানসিকতা রে বাবা! সেদিন রাত থেকে আমার খুব জ্বর হয়েছিল। আমি তিনদিন বাড়ি থেকে বেরতেই পারিনি। বিছানা থেকে ওঠাটাই খুব কষ্টকর হয়েছিল। চতুর্থ দিন সেরে উঠে ল্যাবে গিয়ে শুনলাম পলাশের খবরটা। ব্যাস, এটাই আমার দিক থেকে যা ঘটেছিল তার বিবরণ!”

“আপনি পরদিন রাতে ওকে নটা নাগাদ ফোন করেননি?”   

“না, না সেদিন আমার অবস্থা ভীষণ খারাপ ছিল জ্বরের চোটে, ফোন করা আমার পক্ষে অসম্ভব ছিল!”   

“আপনার যে জ্বর হয়েছিল সেটা কেউ দেখেছে যে বলতে পারবে আপনি সত্যি কথা বলছেন?”

আমার ভারি রাগ হল! লোকটা আমার কথা বিশ্বাস করছে না! মনে করছে আমি মিথ্যে কথা বলছি! আমি তাও নিজেকে সংযত করে বললাম, “হ্যাঁ, আমার রুমমেট জানে। ও আপনাকে সব কিছু বলতে পারবে। প্রথম দুদিন তো গলা দিয়ে কিছুই  নামেনি আমার!”

“আচ্ছা, আপনার রুমমেটের ডিটেলগুলো দিন তাহলে আমাকে, ওর সঙ্গে কথা বলে দেখব। আর ওকে কখন পাওয়া যাবে? এখন তো সে বাড়িতে নেই বলে মনে হচ্ছে, তাই না?”

“নাহ, ওর কাজ থেকে ফিরতে রাত হয়। ওর নাম ঐশী, ঐশী ঘোষ।”

“হোয়াট! ও মাই গড! ঐশী ঘোষ! সে আপনার রুমমেট! আমরা তো তাকে খুঁজছিলাম!”

“কেন? কী হয়েছে? কী করেছে ও? ওকে কেন খুঁজছেন আপনারা?”

“ওর সঙ্গে কথা বলা আমাদের ভীষণ দরকার! বেশ কয়েকটা কেসে ওর নাম জড়িয়ে আছে! আমরা গত কয়েকদিন ধরে ওর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছিলাম কিন্তু ওর কোন ঠিকানা বা ফোন নম্বর পাচ্ছিলাম না!”

আমি ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলাম, “কী কেস?”

আমার মাথায় ঘুরছিল আমার জামায় লাগা লাল লাল ছোপগুলো! ঐশী বলল বটে যে ওগুলো রেড ওয়াইনের দাগ কিন্তু যদি রেড ওয়াইন না হয়ে রক্ত হয় তাহলে? কী করেছে মেয়েটা আমার জানা দরকার।

“না, কেসগুলো নিয়ে তো তদন্ত চলছে তাই আপনাকে ঠিক বলা যাবে না! তাতে ভায়োলেশান হবে, কিন্তু এই আমার কার্ড। ও ফিরলে ওকে আমার সঙ্গে কথা বলতে বলবেন!”

“হ্যাঁ, নিশ্চয়ই! আমার দৃঢ় বিশ্বাস ঐশী কিছু করেনি। ও এমনিতে ভালো মেয়ে। একটু নারীবাদী গোছের কিন্তু তাতে কী? তার মানে এ তো নয় যে ও সাংঘাতিক কিছু করে বসবে!”

“আচ্ছা আপনি পলাশের ব্যাপারটা ঐশীকে বলেছিলেন?”
“হ্যাঁ, সেই রাতে আমি যখন বাড়ি ফিরি তখন আমার মনের অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। পলাশ যে ওই রকম ব্যবহার করবে আমি ভাবতেও পারিনি। সেই শকেতেই ঐশীকে সব কিছু বলে দিয়েছিলাম আমি। ও শুনে আমার কষ্টে কষ্ট পেয়েছিল!”

“ও আচ্ছা। মেয়েটা কতদিন হল আপনার সঙ্গে রয়েছে?”

“তিন মাস!”

“ও আচ্ছা। আপনার ফোন থেকে ন’টা নাগাদ পলাশের কাছে একটা ফোন গিয়েছিল এবং আমাদের বিশ্বাস সেই জন্যেই ও বাইরে বের হয় এবং দুর্ঘটনার শিকার হয়! আপনি শিওর ওকে ফোন করেননি আপনি?”

“১০০ ভাগ! আমি তখন জ্বরে কাতর! হয়তো টেপা হয়ে গিয়েছিল কোন ভাবে।”

“ঠিক আছে। আমি আজ আসছি। আমার কার্ড রইল। আপনার রুমমেট ফিরলে ওকে ফোন করতে বললেন একটা। আর আপনার অন্য কিছু মনে পড়লে ফোন করবেন। শুভ রাত্রি!” 

রোহন কুমার চলে যাওয়ার পর আমি আমার ফোনটা চেক করে দেখলাম। কল রেকর্ড দেখালো সত্যিই পলাশের ফোনে কল হয়েছিল রবিবার দিন রাতে। আমি আর ভাবতে পারছিলাম না। আগের দিনের রাঁধা চিকেন কারি দিয়ে ভাত খেয়ে শুয়ে পড়লাম। খুব ক্লান্ত লাগছিল। জ্বর থেকে উঠেছি বলেই হয়তো। মনে হচ্ছিল যেন শরীর থেকে সব কিছু নিংড়ে বার করে নেওয়া হয়েছে! পরদিন আবার ল্যাবে প্রচুর কাজ। সেই ঘুমিয়ে পড়াটাই আমার কাল হল কারণ ঐশীর সঙ্গে আমার আর দেখা হল না সেদিন।







আরও  পড়ুন 👇👇



https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/06/ankurisha-emagazine-bengali-poem-in_55.html




 

বৃহস্পতিবার, ১০ জুন, ২০২১

ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-৭)।। ছায়া- ছায়া অন্ধকারের আড়ালে — অনন্যা দাশ।। Ankurisha ।।E.Magazine ।।Bengali poem in literature ।।








ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-৭) 


ছায়া- ছায়া অন্ধকারের আড়ালে 

অনন্যা দাশ 




 কনফারেন্সে বসেছিলেন রোহন আর মার্কাস। পলাশ বলে ছেলেটার মৃত্যুটাও কেমন যেন ধোঁয়াটে! হিট অ্যান্ড রান হয় মাঝে মাঝে এই তল্লাটে কিন্তু তাও এই কেসটা বেশ জটিল। ওই জায়গায় রাতের বেলা যাওয়ার দরকার কেন হয়েছিল পলাশের সেটা কেউ বলতে পারেনি।  


রোহন বললেন, “সব চেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হল ওর ফোনে ঐশীর নম্বর সেভ করা রয়েছে ঐশী নামে! ওর মৃত্যুর ঘন্টা দুয়েক আগেই ঐশীর সঙ্গে কথা হয়েছিল ওর! তবে মৃত্যুর আগের ফোন এসেছে দীপা বলে কারো কাছ থেকে।”   


“ওই ঐশী মেয়েটা সম্পর্কে কিছু জানা গেল?”

“না। ওকে কিছুতেই ট্র্যাক করা যাচ্ছে না। অদ্ভুত ব্যাপার হল কোন লোক বা মহিলাকে খুঁজে পেতে এত বেগ কখনও পেতে হয়নি আমাদের। এ যেন বার বার ফস্কে ফস্কে যাচ্ছে আমাদের হাত থেকে!”

“তুমি ওই নম্বরে ফোন করার চেষ্টা করেছিলে?”

“হ্যাঁ, বহুবার! প্রতিবারই মেসেজে যায়! কেউ তোলেই না!”

“সে তো অচেনা নম্বর দেখে কোন মেয়েই তুলবে না। ফোন কোম্পানি থেকে ঠিকানা জোগাড় করার চেষ্টা করেছো?”

“ওটা একটা প্রিপেড ফোন। ফোন কোম্পানির কাছেই কোন রেকর্ড নেই। বেশির ভাগ সময় বন্ধ থাকে মনে হয়, তাই ট্র্যাকও করা যাচ্ছে না!”

“চেষ্টা করে যেতে হবে। খুব অদ্ভুত লাগছে ওই ঐশী বলে মেয়েটার ব্যাপারটা। আচ্ছা ওই পলাশ বলে ছেলেটার মারা যাওয়ার আগের রাতে যে অনুষ্ঠানে গিয়েছিল সেখানে যারা যারা ছিল তাদের সঙ্গে কথা বলেছ?”

“হ্যাঁ, কিছু লোকের সঙ্গে বলেছি। কিছু বাকি আছে। ওখানে দীপা বলে একটা মেয়ের সঙ্গে নাকি ওকে ফ্লার্ট করতে দেখা গিয়েছিল।”

“তাই!” মার্কাসের ভ্রু কুঁচকে গেল, “ওই দীপার সঙ্গে কথা বলো তাহলে! ফোনের দীপাই হবে মনে হচ্ছে।”

“হ্যাঁ। পলাশ যেখানে কাজ করত সেখানেই একটা ল্যাবের পি এইচ ডি স্টুডেন্ট মেয়েটা। তার নম্বর, ঠিকানা সব জোগাড় হয়েছে। আজ রাতে তার সঙ্গে কথা বলতে যাবো।”







আরও পড়ুন👇👇


https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/06/ankurisha-emagazine-bengali-poem-in_3.html


বৃহস্পতিবার, ৩ জুন, ২০২১

ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-৬) ।। ছায়া - ছায়া অন্ধকারের আড়ালে — অনন্যা দাশ।। Ankurisha ।।E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 







ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-৬)


ছায়া - ছায়া অন্ধকারের আড়ালে 

অনন্যা দাশ 



রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ যখন মোবাইল ফোনটা বেজে উঠল তখন পলাশ ইউ টিউবে একটা বাংলা সিনেমা দেখছিল। রবিবার বিকেলটা একটু হাল্কাই নেয় সে। পরদিন তো আবার পাথর ভাঙ্গা শুরু। ফোনটা আসতে স্ক্রিনের দিকে তাকাল পলাশ। দীপা! দীপার ফোন! কালকে রাতে সুনেত্রাদির বাড়িতে তো এমন সতী সাবিত্রী সেজে বসেছিল যে বলবার নয়, সে আবার আজকে ফোন করছে কেন? থাক আর ওসব কথা ভেবে লাভ নেই। সিনেমাটা পজ করে ফোনটা ধরল পলাশ।

“হ্যালো? কে দীপা?”

“হ্যালো, হ্যাঁ, পলাশদা আমি দীপা বলছি!” কথাগুলো কেমন যেন কেটে কেটে যাচ্ছিল দীপার। মনে হচ্ছিল বহুদূর থেকে আসছে।

“হ্যাঁ, দীপা, বল?”

“পলাশদা আমি না খুব বিপদে পড়েছি। তুমি একবারটি কর্নারস্টোনের ওখানে আসতে পারবে? আমি একজনের সঙ্গে এসেছিলাম সিনেমা দেখতে সে দেখি আমাকে না জানিয়েই কেটে পড়েছে! এত রাতে আর একা একা উবার ডাকতেও ঠিক সাহস হচ্ছে না, আর অন্য কাকেই বা বলব। তুমি একবারটি আসবে প্লিজ? আর কাকে ডাকব ভেবে পাচ্ছি না! তোমার বাড়ি থেকে তো কাছেই। তুমি আসলে উবার নিয়ে যাওয়া যাবে। আমাকে নামিয়ে দিয়ে তুমি বাড়ি চলে যেও। আসলে সেদিনই টিভিতে দেখলাম একা একা উবারে চড়ে একটা মেয়ে খুব বিপদে পড়েছিল তাই ভয় করছে।”

“ঠিক আছে আমি আসছি! কর্নারস্টোন তো বেশি দূরে নয়, হাঁটা পথে মিনিট সাতেক। আমি এখুনি আসছি!”

“তুমি সিনেমাহলের দিকটায় না গিয়ে কর্নারস্টোন মলের পার্কিং্যে এসো। আমি ওই দিকটাতেই দাঁড়িয়ে আছি। আর পলাশদা, কালকের ঘটনাটার জন্যে আমি খুব দুঃখিত। কী যে মাথায় ভূত চেপে বসেছিল তখন!”

“ঠিক আছে, ঠিক আছে, ও নিয়ে আর ভাবতে হবে না এখন!”হনহন করে হেঁটে কর্নারস্টোন এলাকায় পৌঁছতে পলাশের বেশিক্ষণ লাগল না। পলাশ যেটা ভুলে গিয়েছিল সেটা হল রবিবার দিন এই মলটা আবার সাতটায় বন্ধ হয়ে যায়। এখন প্রায় ন’টা চল্লিশ তাই পার্কিং লট একেবারে ফাঁকা। 



মেয়েটা গেল কোথায়? ওকে ফোন করল পলাশ। নাহ তুলল না সে। হয়তো সিগনাল নেই। মলে ঢোকার গেটটার দিকে হাঁটতে শুরু করল পলাশ বিশাল পার্কিং চত্বরটা পেরিয়ে। এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখোতে লাগল, যদি মেয়েটাকে দেখা যায় তবে বড্ড অন্ধকার হয়ে গেছে। এখানে গরমের দিনে প্রায় সাড়ে আটটা নটা অবধি আলো থাকে কিন্তু এখন অন্ধকার হয়ে গেছে।হঠাৎ বেশ জোড়ালো একটা আলো ওর ওপর এসে পড়ল। চোখ ধাঁধানো আলোতেও পলাশ বুখল একটা বিশাল গাড়ি ওর দিকে ছুটে আসছে! 



“আরে, আরে কী হচ্ছে!” বলে পলাশও প্রাণের ভয়ে ছুটতে শুরু করে দিল কিন্তু ওই ভয়ঙ্কর দৈত্যের সঙ্গে পেরে উঠছিল না। সারা পার্কিং লট ধরে পাগলের মত্ন ছুটে বেড়াতে লাগল পলাশ। কে হতে পারে? কে মারতে চায় ওকে? দরদর করে ঘাম ঝরছিল ওর, তারপর এক সময় আর দৌড়তে পারছিল না। দৈত্যের এক ধাক্কায় ওর শরীরটা শূন্যে লাফিয়ে উঠে ছিটকে বেশ কয়েক হাত দূরে গিয়ে পড়ল। দৈত্যাকায় গাড়িটা গোঁগোঁ করে দম নিয়ে আবার ঘুরে গিয়ে ওর দিকে ধেয়ে আসতে লাগল। পলাশ উঠে দাঁড়াতে চেষ্টা করল কিন্তু পারল না। হামাগুড়ি দিয়ে গড়িয়ে গড়িয়ে দানবের পথ থেকে সরে যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করল কিন্তু কিছুতেই কিছু করতে পারল না। ওকে রক্তাক্ত করে গুঁড়িয়ে দিয়ে চলে গেল গাড়িটা। অসহ্য যন্ত্রণায় মুখ দিয়ে ভয়াবহ মৃত্যু চিৎকার বেরিয়ে এল। আকাশের বাতাসের বুক চিরে সেই চিৎকার ছড়িয়ে পড়ল চারিদিকে। রক্তাক্ত মৃতপ্রায় পলাশের চোখের সামনে ভেসে উঠল কলকাতায় ওর মা-বাবা বাড়ির লোকেদের মুখগুলো।সব কিছু চিরতরে অন্ধকার হয়ে যাওয়ার আগে ওর মুখ দিয়ে একটা প্রশ্ন বেরিয়ে এল, “কেন?”পলাশ নিস্তেজ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে বিশাল ধুমসো গাড়িটা আলো নিভিয়ে আস্তে আস্তে পার্কিং লট থেকে বেরিয়ে গেল। শেষ হয়ে গেল একটা অধ্যায়। 







সুনেত্রাদিদের বাড়ি থেকে ফেরার পর সেদিন রাতেই আমার প্রচন্ড জ্বর এসেছিল। তিনদিন ল্যাবে যেতে পারিনি এতটাই শরীর খারাপ ছিল। সেরে উঠে কাজে গিয়ে ভয়ঙ্কর খবরটা শুনলাম। পলাশ মারা গেছে! দুদিন আগে, মানে আমাকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার পরের দিনই তার মৃত্যু হয়েছে একটা পথ দুর্ঘটনায়। হিট অ্যান্ড রান, কে মেরেছে কিছু বোঝা যায়নি। রাতে কোথায় একটা গিয়েছিল সেখান থেকে ফেরার পথে কোন একটা গাড়ি ওকে ধাক্কা মারে।



আমার বুকের ভিতরটা কেমন জানি একটা হু হু করে উঠল। যতই বিয়ে ঠিক হোক আর আমার সঙ্গে বাজে ব্যবহার করুক লোকটাকে চিনতাম তো আমি! ওর ল্যাবের সবাই দেখলাম বেশ ধাক্কা খেয়েছে। কী সব মেমোরিয়াল সার্ভিস ইত্যাদি করা হবে ওর জন্যে বলছিল ওরা। পোস্ট মর্টেমের পর ওর দেহটাকে ভারতে পাঠানো হবে শুনলাম। নিজের অজান্তেই আমার চোখ দিয়ে দু ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল।







 আরও পড়ুন 👇👇



https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/06/ankurishapatrikagmail.html




বৃহস্পতিবার, ২৭ মে, ২০২১

ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-৫)।। ছায়া- ছায়া অন্ধকারের আড়ালে — অনন্যা দাশ।। Ankurisha ।। E.Magazine ।।Bengali poem in literature ।।

 







ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-৫)

ছায়া- ছায়া  অন্ধকারের আড়ালে 

অনন্যা  দাশ 




কেসটা সত্যিই খুব অদ্ভুত মোড় নিচ্ছে মার্কাস!” রোহন কুমার বললেন।

“কী রকম?”

“কুণাল বলে একটা ছেলের সঙ্গে কথা হল আজকে। সে বলল একটা মেয়ের সঙ্গে আলাপ করে তাকে বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিল। ওমা মেয়েটা নাকি তার ওয়াইনে ডেট রেপ ড্রাগ মিশিয়ে তাকে অজ্ঞান করে তার কম্পিউটার থেকে সব ফাইল মুছে দিয়ে যা ক্যাশ ছিল সব নিয়ে পালিয়েছে!”

“ও বাবা এ তো উলটো কেস! ওই ডেট রেপ ড্রাগ তো ছেলেরাই বেশি ব্যবহার করে!” 

“হ্যাঁ, এই ছেলেও মোটেই ভালো নয়। প্রচুর মামলা ঝুলছে ওর নামে। ওই ডেট রেপ ড্রাগটা ওই এনেছিল আর মিশিয়েছিল মেয়েটার ওয়াইন গ্লাসে। কিন্তু মেয়েটা কী ভাবে জানি টের পেয়ে চট করে ওয়াইনের গ্লাস বদল করে ফেলে!” 

“ও বাবা সে তো তার মানে সেয়ানা মেয়ে!”

“হ্যাঁ, সে আর বলতে! মেয়েটা ওকে বলে ওর নাকি জাপানে জন্ম! নাম ইশিও! কিন্তু ছেলেটা বলছে মেয়েটাকে মোটেই জাপানি দেখতে নয়, বরং ভারতীয়!”

“হুঁ! হাতের ছাপ?”

“কিছু না! খুব চালাক মেয়ে সব মুছে টুছে দিয়েছে। আপনার প্যাডটা দিন!”

মার্কাস প্যাডটা এগিয়ে দিতে রোহন তাতে লিখলেন Oishi তারপর বললেন, “এবার এটাকে উলটে দিন দেখি কী দাঁড়াচ্ছে – Ishio!

“ও মাই গড! এতো সেই মেয়ে যে ল্যারি বলে ছেলেটার সঙ্গে চ্যাট করে তার আঙ্গুল কেটে দিয়েছিল!”  

“হ্যাঁ! সেই একই মেয়ে। মেয়েটা মনে হয় ছেলেদের ঘৃণা করে, ম্যান হেটার! সে মেয়ে সোশাল নেটওয়ার্কিং করছে কোন একটা লাইব্রেরি বা পাবলিক জায়গায় ঢুকে সেখানকার কম্পিউটার থেকে, সেখানে তো শয়ে শয়ে লোক কম্পিউটার ব্যবহার করে তাই আমরা ঠিক ধরতে পারছি না। খুব চালাক মেয়ে! কোথায় থাকে একবার ধরতে পারলে...”

“হুঁ! তবে এক্ষেত্রেও ছেলেটা বেশ পাজি তাই শাস্তি ওর প্রাপ্যই ছিল। বেশ করেছে কম্পিউটারের সব কিছু মুছে দিয়ে ক্যাশ নিয়ে পালিয়েছে! মেয়েটা বুদ্ধিমান না হলে ছেলেটা তো ওকে ডেট রেপ ড্রাগ খাইয়ে দিচ্ছিল আর একটু হলেই!”





 আজকে সুনেত্রাদিদের বাড়িতে রবীন্দ্র জয়ন্তীর অনুষ্ঠান। বেশ অনেক লোক হয়েছে। সুনেত্রাদি নিজেও ভালো গান করেন, ওনার হাজব্যান্ড প্রদীপদা ভালো সেতার বাজান, সব মিলিয়ে জমজমাট প্রোগ্রাম চলছে। অনুষ্ঠানের পর খাওয়া দাওয়ার এলাহি আয়োজন। বলতে নেই পলাশদার কল্যাণেই সুনেত্রাদিদের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে আর এই অনুষ্ঠানে আসতে পেরেছি। নাহলে আমি এখানে কাউকেই চিনতাম না, চেনার চেষ্টাও করিনি কাজের চাপে সময় হয় না মনে করে, কিন্তু চেষ্টা করলে একটু সময় বার করা যায় দেখছি। আমি আজ শাড়ি পরেছি। অনেকেই বলেছে খুব সুন্দর দেখাচ্ছে তোমাকে দীপা তাই মনটা বেশ খুশি। আমি আসতেই পলাশদা ঐশীর কথা জিজ্ঞেস করছিল। আমি বলতে বাধ্য হলাম যে ঐশী আসেনি, ও অফিসে কাজ পড়ে গেছে বলে। আসলে ওর এই সব বাঙালিদের অনুষ্ঠান একেবারেই পছন্দ নয়। ও শুনে বলেছিল, ‘নাহ, আমার গিয়ে কাজ নেই। একে তো হাজারটা প্রশ্ন, বিয়ে করেছো, কেউ আছে নাকি।।যেন নিজের ছেলের বিয়ে দেবেন আমার সঙ্গে! তাছাড়া কাজের চাপের পর সারা বিকেল ধরে বেসুরো গান গাইবে লোকে সেই সব শোনার ইচ্ছে আমার নেই। ক্যানসাসে থাকতে এক রাউন্ড অভিজ্ঞতা হয়ে গেছে, আর না বাবা! তার থেকে বাড়িতে শুয়ে ঘুমোলে বা একটা ভালো সিনেমা দেখলে কাজে দেবে! আর গানের জন্যে তো ফোন আছেই রে বাবা, সে বেসুরো গায় না!”   



অনুষ্ঠান ভালোই চলছিল। পলাশদা ‘তুমি সন্ধ্যারও মেঘমালা’ গানটা ভালোই গাইল। গাইতে গাইতে বেশ কয়েকবার আমার দিকে তাকাচ্ছিল। আমার বুকের ভিতর একটা ধুকপুকানি ভাব! আনুষ্ঠানের শেষে সুনেত্রাদি সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বললেন, “আরেকটা বিশেষ ঘোষণা আছে! আমাদের খুব প্রিয় হয়ে ওঠা পলাশ একা থেকে দোকা হতে চলেছে! বিয়ে করছে পলাশ। ওর ভাবী স্ত্রী সুপ্রিয়া কলকাতায় ওর জন্যে অপেক্ষা করছে। আসছে অঘ্রানেই ওদের বিয়ে, ইংরেজির তারিখ ৯ ডিসেম্বর! আমরা তার মানে আরেকজন প্রিয় মানুষ পাবো! সবাই ওকে শুভেচ্ছা জানাও ওর এই সুখবরের জন্যে!”পলাশদা বিয়ে করছে! ওর যে কলকাতায় একজন গার্লফ্রেন্ড আছে সেই কথাটা কই আমাকে তো বলেনি সে! আমি তো ভাবছিলাম...থাক সেই সব ভেবে আর কাজ নেই! আমি পলাশদাকে কিছু না বলেই খাবার ঘরে চলে গেলাম। খাবার কী খেলাম কিছু মনে নেই আমার সব কিছুই কেমন যেন বিস্বাদ ঠেকছিল আমার মুখে। খাওয়া হয়ে যাওয়ার পর বাথরুম খুঁজছিলাম। নিচের বাথরুমে প্রবল ভিড় বলে সুনেত্রাদি ওপরের ঘরের গেস্ট রুমের বাথরুমটা ব্যবহার করতে বললেন। আমি বাথরুম থেকে বেরিয়ে দেখি পলাশদা বাথরুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে।আমাকে দেখে হাসিমুখে বলল, “আমাকে অভিনন্দন জানালি না দীপা? আমার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে শুনে তোর হিংসে হল বুঝি?”    রাগে আমার গা রি রি করছিল। আমি কিছু বলছি না দেখে পলাশদা আমাকে জড়িয়ে ধরল। অক্টোপাসের মতন ওর হাত আমার শরীরের চারিদিক ছুঁয়ে বেড়াতে লাগল! আমার গালে গাল ঠেকিয়ে সে বলল, “আরে ওই সম্বন্ধটা তো মা-বাবার করা! বউ বউয়ের জায়গায় আর ভালো লাগা ভালো লাগার জায়গায়, কী বলো?”


ভাগ্যিস তখনই দুটো বাচ্চা মেয়ে মিতুল আর পৃথা, “আন্টি ওপরের বাথরুমে যেতে বললেন!” বলে হাজির হল। পলাশ (এর পর থেকে ওকে দাদা বলা ছেড়ে দিলাম!) তখন আমাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হল আর আমি সেই সুযোগে সেখান থেকে পালালাম।তারপর আমি আর একটা মিনিটও ওখানে থাকিনি। গাড়ি নিয়ে সোজা বাড়ি! বাড়ি ফিরে কিছুক্ষণ খুব কাঁদলাম। আমি বুঝতে পারিনি আমার কান্নার আওয়াজ অতটা জোরে শোনা যাচ্ছিল কিন্তু ঐশী শুনতে পেয়ে নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে এসে বলল, “কী ব্যাপার এত কাঁদছ কেন?”সহানুভূতির একটু ছোঁওয়া পেয়ে আমি তো ভেঙ্গে পড়লাম। হাউ হাউ করে কাঁদতে কাঁদতে সব ওকে বলে দিলাম। শুনে মুখটা কঠিন হয়ে গেল ওর।  





যাই হোক একটা কাউকে বলতে পেরে নিজেকে বেশ হাল্কা লাগছিল। ঐশীকে বললাম যে সুনেত্রাদি ওর জন্যে খাবার দিতে চেয়েছিলেন কিন্তু ওই সব চক্করে আনাই হল না। তাই শুনে সে বলল, “আমাকে চেনেনই না আমার জন্যে কেন খাবার দিতে চাইছিলেন? খাবার বেশি হয়ে গিয়েছিল নাকি? যাক আমার ওই সব চাই না, আমি দু স্লাইস পিজা খেয়ে নিয়েছি। খাবার আনলেও আজকে তো খেতে পারতাম না!”তারপর কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, “তোর ওই পলাশদা লোকটা একেবারেই সুবিধার নয় দেখছি। ভাগ্যিস আমার সঙ্গে আলাপ হয়নি! আমি মনে করি ওর মতন লোকেদের বেঁচে থাকার কোন অধিকার নেই! ল্যাবে যা ছাইপাঁশ করছে সেটা ও না করলে অন্য কেউ করবে! কলকাতায় যাকে বিয়ে করতে চলেছে সেও বেঁচে যাবে এক দুশ্চরিত্রের হাত থেকে! ওর মতন ছেলেদের আমি ঘৃণা করি!”আমি ওর কথা ততটা মন দিয়ে শুনছিলাম না, নিজের দুঃখে কাতর হয়ে ছিলাম বলে। আমি আর কিছু বলছি না দেখে ঐশী নিজের ঘরে চলে গেল।    







আরও  পড়ুন 👇👇👇👇




 https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/05/blog-post_23.html





 https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/05/blog-post_12.html