লেবেল

প্রতিবাদী কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
প্রতিবাদী কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৫

আজ থেকে শুরু হলো... অঙ্কুরীশা-র পাতায়...। । প্রতিদিন বিভাগ।। ।। মে সংখ্যা।। ।। প্রতিবাদী কবিতা (বর্তমান সময় কেন্দ্রিক)। সব তারা আঁধারে নয় — পরমেশ্বর গাইন । ।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



    ।। প্রতিদিন বিভাগ।। 

   ।।  মে সংখ্যা।। 

   ।।  প্রতিবাদী কবিতা  -১।।





সব তারা আঁধারে নয়

      পরমেশ্বর গাইন 

         

               

আগুন বোধহয় নিভে গেছে

চাপা দীর্ঘ নিঃশ্বাসে

ক্লান্ত বাতাসে...


হতাশার অভিমানী ধোঁয়ার কুণ্ডলী 

এঁকে বেঁকে গেছে শূন্যে

ধর্ম দেশের ইন্দ্র সদনে

 বিচার পাওয়ার আশ্বাসে।


উল্কা পাতের সহমর্মিতায় দেখলাম 

নীচে চিতা জ্বলছে অন্য কোনো আধমরা লাশে।

 

দেব - অসুরের ব্যস্ততা তখন ইন্দ্র সভায় 

সুখ শয্যা পর্যালোচনায়।

তার ফাঁকে চাঁদ তারার উল্লাস অমাবস্যার দেশে।


এবার অন্ধকারের পালা

ঘর বাড়ি উঠানে আদালত অঙ্গনে 

কানা মাছির ধরা ছোঁয়া খেলা।


যদি শুকতারা জাগে বিবেকের মহল্লায় মহল্লায় পৃথিবী আবার হাসবে আপন ইচ্ছায়।

      




বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। প্রতিবাদী কবিতা -৩০। তিলোত্তমার বিচার চাই! — গোবিন্দ মোদক।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।



    ।।  প্রতিদিন বিভাগ।। 

     ।।  প্রতিবাদী কবিতা -৩০।




তিলোত্তমার বিচার চাই!

গোবিন্দ মোদক


এবার পুজোতে কিছু চাই না গো মা 

শুধু কিছুটা ক্রোধ দিও

তীব্র থেকে তীব্রতর উচ্চারণের ক্ষমতা 

দিও আরো আরো ঘৃণার দুর্লঙ্ঘ্য পাহাড়

নৈরাশ্য জয় করবার বর দিও মাগো 

দিও যন্ত্রণা সহ্য করবার সাহস

দিও লেলিহান আগুনে পোড়া 

       প্রতিবাদ করবার সমূহ শক্তি

যাতে দু’হাতের বজ্র মুষ্ঠি তুলে 

       বলে উঠতে পারি – 

তিলোত্তমার বিচার চাই!


তিলোত্তমার দু’চোখ দিয়ে অশ্রুর বদলে 

যে রক্তের ধারা বয়েছে মাগো 

তার প্রতিটি বিন্দুর হিসাব না নিয়ে 

পথ ছাড়বো না। 

মাগো, তুমি তো জানো না 

আমরা যে অসুর নিয়ে ঘর করি 

তা তোমার পদতলের অসুরের থেকেও

আরো ভয়ংকর, আরো আরো নিষ্ঠুর,

সাংঘাতিকের চেয়েও সাংঘাতিক!

মাগো বিচার চাই। চাই — 

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি যেন আর না ঘটে!

তুমিও সমস্বরে বলো মাগো —

তিলোত্তমার বিচার চাই!

সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। প্রতিবাদী কবিতা -২৯।। পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়-র কবিতা।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।



    ।।  প্রতিদিন বিভাগ।। 

     ।।  প্রতিবাদী কবিতা -২৯।।




পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়-র  কবিতা 




১.

হতভাগী


যে নাম-ই দাও দুঃখে রাগে

আসলে সে লাশ

তোমার বাড়ির একটু দুরে

অন্য পাড়ায় বাস।

সেই পাড়াটি আরশিনগর 

মানতে দ্বিধা জাগে

বুকে যখন আয়নাঘরে

চাঁদের গ্রহণ লাগে --

নাম দিয়েছি হতভাগী

মুখ পুড়েছে আমার 

নিজের হাতে চাষ করেছি

ভীষণ বিষের খামার।

আগুন দিয়ে সেই ফসলে

মুক্তি পেলি আজ

মাথার উপর হানল আঘাত 

বিনা মেঘে বাজ,

ব্যথা যখন ঘৃণার দোসর

রাতজাগানি তোরা

জাগিয়ে রাখিস প্রেতের শহর

ভোলাস আমরা-ওরা।

হাথরাসে বা হাসখালিতে 

কিংবা আরজিকরে 

জাগিয়ে রাখিস দ্রোহের আগুন

চরম আর্তস্বরে।

বুকে আমার আয়নাঘরে 

জ্বলছে ক্রোধের ধুনী

বদলে দেব, বদলা নেব

পার্কস্ট্রিট কামদুনীর।।




২.

রক্তজবা 


চোখ রাঙাও

চোখ রাঙাতে রাঙাতে 

একদিন আয়নায় দেখবে

চোখ দুটো রক্তজবা হয়ে গেছে।...

জেনে রেখ তখন 

শেষ বিচারের দিন সমাগত। 

জেনে রেখ সে দিনের উৎসবের 

আরেক নাম অকালবোধন।

জনগণেশের অট্টহাস্যে

মুখরিত আকাশ বাতাস

শহরে মফস্বলে গ্রামে-গঞ্জে

রাস্তায় রাস্তায় নেমে এসেছে মানুষের ঢল...

তখন তোমার জায়গা 

আর আকাশচুম্বী রাজগৃহ নয় --

আস্তাকুঁড়ে, কারাগারে 

অনিবার্য বদ্ধভূমিতে।

চোখ রাঙাও

চোখ রাঙাতে রাঙাতে

অন্ধ আয়নায় দেখবে

চোখদুটো পদ্মপলাশ নয়

রক্তজবা হয়ে গেছে।...



রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। প্রতিবাদী কবিতা -২৮।। রাত দখল — অলোক চট্টোপাধ্যায় । Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।



    ।।  প্রতিদিন বিভাগ।। 

     ।।  প্রতিবাদী কবিতা -২৮।।




রাত দখল

অলোক চট্টোপাধ্যায় 


রাত মানেই অন্ধকার

রাত মানেই ভয়ের হাতছানি।

রাত মানেই মুখোশ খুলে পিশাচ জেগে ওঠা।

রাত মানেই অসুরক্ষা,

আশঙ্কার প্রহর গুনে চলা।


অথচ পাপ জানেনা দিন রাত।

প্রকাশ্য আলোয়

স্পর্ধার ছত্রছায়ায় চলে ভয়ের বেসাতি।

লোভ বা লালসা কোনো

দিন রাতের তফাৎ জানেনা।


ঠিক তেমনিই

যখন জাগ্রত জনতা

রাতের দখল নিতে নেমে আসে পথে,

শুধু রাত নয় -

মহাশঙ্খ বেজে ওঠে দিন বদলের।

শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

প্রতিদিন বিভাগ।। ।। প্রতিবাদী কবিতা -২৭।। অভয়া — প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী।।Ankurisha ।। E.Magazine।।Bengali poem in literature।।



    ।।  প্রতিদিন বিভাগ।। 

     ।।  প্রতিবাদী কবিতা -২৭।।




অভয়া 

 প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী 


বাঙালীর উৎসব, শারদীয় উৎসব 

শিউলি ও কাশ মিলে জমকালো বৈভব

সবুজের ভরা ক্ষেতে 

কিভাবে যে যাই মেতে 

টগরের চমকেতে নাহি জাগে কলরব।


সব আজ মন মরা চিতা পরে তাজা শব

শ্মশানেতে ধোঁয়া ওড়ে থেমে গেছে হাসি রব

আগুনেরও চোখে জল‌

স্তম্ভিত  চঞ্চল 

গোয়েন্দা খুঁজে চলে কারা সেই কুশীলব।


শব দেহে কাটাকুটি যেন সে ঘুমিয়ে রয়

ছত্রিশ ঘণ্টা তো মানে নিকো পরাজয় 

লালসার জিভগুলো                                                        ধর্ষণে সব খেলো

কামনার হুতাশনে ওরা পোড়ে নিশ্চয়।


অভয়া যে সাহসিনী নিবেদিতা ধর্মে

ছিল নাতো কুণ্ঠিতা সীমাহীন কর্মে

পাঁকে ভরা দুর্নীতি 

সমাজের অপগীতি

বিবেকের গৌরব শুধু ছিল মর্মে।


কোথা গেল নীতিবোধ ধ্বস্ত এ সমাজে

সরকার ঠুলি চোখে ভেবেছে সব বাজে

সুরক্ষার প্রহসন

ঠুনকো এ প্রশাসন 

অভয়াই বলে গেল , করো ঠিক সব কাজে ।



মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। প্রতিবাদী কবিতা -২৬।। সত্যের সন্ধানে বারবার —অসীম দাস।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।



    ।।  প্রতিদিন বিভাগ।। 

     ।।  প্রতিবাদী কবিতা -২৬।।




সত্যের সন্ধানে বারবার

অসীম দাস 


দৃশ্যেরা বারবার দিক বদলায় ।

আমার বিশ্বাসী বায়ু প্রতিটি প্রশ্বাসী নিঃশ্বাসে স্থির ।

বহুরূপী দৃষ্টি মিলে বিপরীত বোধের বিন্যাস ।

অসম্ভবের শেষ ধাপে আমি কি সমাপ্ত হতে পারি ?


রক্তবীজের মতো রহস্যের জন্ম হয় রোজ ।

সূত্রের সমীকরণহীন সমস্যার সমাধান চাই ।

হাজারো মাইল পথ মিছিলেই হেঁটেছেন বুদ্ধ প্রমুখ মনীষী ।

স্মৃতি সেতু ধরে আছে সময় সন্ন্যাসী ।


ক্রমশঃ জটিল জটে জড়িয়ে যাচ্ছে সত্য শরীর ।

হত্যার চক্রব্যূহে মিথ্যা বহুমুখী ।

সত্য তো একটাই , 

যার কোনও জমজ জিন নেই আর ।

চলো সেই সত্যের সন্ধানে যাই বারবার ।

সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। প্রতিবাদী কবিতা -২৫।। অন্ধকার — সুজিত রেজ।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।



    ।।  প্রতিদিন বিভাগ।। 

     ।।  প্রতিবাদী কবিতা -২৫।।




অন্ধকার 

সুজিত রেজ


এখন আর জানলা খুলি না।

দুটো ঘুলঘুলি দিয়ে যে-টুকু বাতাস আসে 

গায়ে মাখি,ঘুম আসে না।


আর কত রাত জেগে থাকব?


সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে।

      বলতে পারি না, জাগো, 

        এসো আমার ঘরে।


বুঝতে পারছি বাইরে বৃষ্টি পড়ছে।

আবছা কাচের শার্সি দিয়ে ভেসে আসছে          রাধাগোবিন্দের আলো।


বাইরে আলো জ্বেলে কী হবে ভিতরে তো অন্ধকার---

রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। প্রতিবাদী কবিতা -২৪।। বাংলার মেয়ে তিলোত্তমা এক দাবানল - অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।



    ।।  প্রতিদিন বিভাগ।। 

     ।।  প্রতিবাদী কবিতা -২৪।।




বাংলার মেয়ে তিলোত্তমা এক দাবানল

অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়



         তিলোত্তমা মরিয়া প্রমাণ করিল সে মরে নাই । তিলোত্তমা তোমার মৃত্যু নেই, তুমি অমর  । তুমি ছিলে মৃত্যুহীন এক দেবদূত । তুমি স্বমহিমায় বিরাজ করবে প্রত্যেকটি ভারতবাসীর অন্তরে । তুমি এক অসামান্যা অগ্নিস্ফুলিঙ্গ, দাবানল ।  হাসপাতালের কিছু নরখাদক মানুষের দ্বারা তুমি পৈশাচিক মৃত্যু বরণ করলেও জানবে সেই মৃত্যুই তোমাকে দিয়ে গেল অমরত্বের স্বাদ । বিগত পঁচিশ দিন যাবৎ জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা ৪ থেকে ৯০ বছরের বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা পর্যন্ত মোমবাতি হাতে তোমার উপর সুপরিকল্পিত ভাবে নৃশংস নির্মম হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন । পথে নেমে তাঁরা মিছিলে অংশগ্রহণ করছেন । স্বেচ্ছাচারী শাসকবর্গের বিরুদ্ধে মুষ্ঠিবদ্ধ উত্তোলিত হাত তুলে প্রতিবাদী ধিক্কার জানাচ্ছেন সমস্বরে । তাঁদের একটাই দাবী পশ্চিমবঙ্গের ‘মূর্খ’মন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগ । এ তোমার মরনোত্তর পুরস্কার ব্যাতীত আর কিছুই নয় । পৃথিবীর ইতিহাসে এমন দীর্ঘ এবং তীব্র জনরোষ এই প্রথম মানুষ চর্মচোখে দেখতে পেলেন । তোমার গভীর যন্ত্রনা কাতর চিৎকার হাসপাতাল কক্ষের বাইরে কেউ শুনতে না পেলেও আজ দিকে দিগন্তে ছড়িয়ে পড়েছে তোমার অস্ফুট  নীরব চিৎকার । তিলোত্তমা তুমি নিশ্চিত জেনে রেখো তোমার সেদিনের দুঃখ – কষ্ট – বেদনা কখনো বিফলে যাবে না । আমরা উপযুক্ত বিচারের আশায় দিন গুনছি । অপরাধীর বিচার আমরা করেই ছাড়বো এরকম জঘন্য অপরাধ যেন বাংলার বুকে আর না সংঘঠিত হয় কখনো ।  তোমার জিত অবশ্যম্ভাবী । 

‘এ আগুণ বাড়বে দ্বিগুন লাগে যদি হাওয়া’ । হাওয়া সঞ্চারিত হবে কিভাবে সেটা না হয় বাংলার কনিষ্ঠতম বীর বিপ্লবী শহীদ ক্ষুদিরাম বসুর শ্রীমুখ থেকেই ধ্বনিত হোক --- 

“লড়ো ,

না লড়তে পারলে বলো,

না বলতে পারলে লেখো,

না লিখতে পারলে সঙ্গ দাও,

না সঙ্গ দিতে পারলে যারা কাজ করছে,

তাঁদের মনোবল বাড়াও,

যদি তাও না পারো,

যে পেরেছে তার মনোবল কমিয়ো না

কারণ সে তোমার ভাগের লড়াই লড়ছে” ।

         তোমার মৃত্যুর আগে এমন তর অপরাধ আরো হয়েছিল কিন্তু সব চাপা পড়ে গিয়েছিল । দোষ আমাদেরই । আমরা ঠিক সময়ে প্রতিবাদ করতে পারিনি । আপামর জনতা জেগে উঠলে কার সাধ্য নিরন্তর অন্যায় অবিচার করার সাহস পায় শাসক বর্গ ! আমরা তখন নির্বিবাদে ঘুমিয়ে ছিলাম । তারই ফলঃস্বরূপ তোমার মৃত্যু হয়েছে । সেদিন তোমার অনেক কথাই বলার ছিল, তুমি বলতে পারনি । অপরাধীরা তাঁদের কুকীর্তির কথা তোমাকে বলতে দেওয়ার সুযোগ না দিয়ে রাতের অন্ধকারে তোমাকে গোপনে হত্যা করেছিল । কিন্তু তিলোত্তমা তোমার অন্তর নিহিত জমানো ক্ষোভের কথা তুমি মুখ ফুটে বলতে না পারলেও তোমার মৃত্যুর এতদিন পরে সব ফাঁস হয়ে গিয়েছে । তোমার হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত নরপশুগুলো সকলে ধরা না পড়লে আশা করা যায় অদূর ভবিষ্যতে তাঁরা সকলেই জালে ধরা পড়বে । ন্যায় বিচার শেষ হয়নি এখনো চলছে ।  তবে সুখের খবর দুর্নীতিগ্রস্থ প্রধান অপরাধী নরখাদক সন্দীপ ঘোষ নাকি কমপক্ষে ১৫টি দুর্নীতিতে তোমার মৃত্যুর পঁচিশ দিন পরে সি.বি.আই. –এর হাতে গ্রেফতার হয়ে হাউ হাউ করে অসহায় ভাবে কাঁদতে শুরু করেছে । এতদিনে বোধহয় অপকর্মের দরুণ তাঁর চৈতন্যের উদয় হয়েছে যার আরেক নাম বোধদয় । কিন্তু এখন শুধু কাঁদলেই হবে না, চোখ ফেটে যেদিন ফোঁটা ফোঁটা রক্ত ঝরবে সেইদিন আমরা হব শান্ত, ফাঁসি অবশ্যম্ভাবী । তাঁর সঙ্গে জড়িত পরোক্ষ এবং অপরোক্ষ সকল অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানাই ।

শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। প্রতিবাদী কবিতা -২৩।। চায় বিচার আর জি কর — প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।



    ।।  প্রতিদিন বিভাগ।। 

     ।।  প্রতিবাদী কবিতা -২৩।।




চায় বিচার আর জি কর

প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী 


এ বিষম সময় কিভাবে যে যায়

কেউ তো বুঝিতে পারিনা 

চারিদিকে দেখি উৎকট পাপ

কত স্বাভাবিক বিষ ছড়ায়ে ,

স্বার্থলোলুপ  অহংজীবীরা 

 উল্লাসে বলে হারি না 

তুমি কোথা যাবে , কোন দেবালয়ে 

যেতে হবে বিষ মাড়ায়ে ।


আকাশের নীলে কত পাখি ওড়ে

আমরা তো রোজ গুনি‌না

কোন প্রত্যুষে বাসা -দোর  খুলে

উড়ে গেল ধান খুঁটতে,

কত শব্দ মিছিল কোন সুর তোলে

আমরা নিয়ত শুনি না 

তবু সেথা চলে কত আঁকুপাঁকু 

 ভোলে নি তো মজা লুটতে ।


আগুন জ্বেলেছে কালভৈরব 

হবে কি শত্রু বিনাশ?

সমাজ জঠরে চলে পাপের বৃদ্ধি

তা করে দেবে ছারখার,

বুদ্ধিভ্রষ্ট  যত মুখ দেখি 

তারা পেয়েছে প্রলয় আভাস

খোলা দাবানলে পোড়ে ফুল্ল সমাজ 

সেটাই হয়তো উপহার!!


ওই শোনো দূরে অশনির‌ ডাক

 সেটা হুংকারে পরিপূর্ণ 

ভীরু কাপুরুষ পাপী অমানুষ 

বদ কাজে যারা সিদ্ধ,

নিশি অভিযানে তারা অভয়াকে লোটে

তার নিঃশ্বাস হলো চূর্ণ 

বহু কাঙ্ক্ষিত ফুলতনুখানি 

ক্রূর অস্ত্রেতে হলো বিদ্ধ ।


হায়রে বাংলা, এ কেমন ছবি !

 একি সভ্যতা বিনোদন,

মানবসেবায় যার ছিল মন

সেই যূপকাষ্ঠতে বধ ,

ক্লান্ত শরীরে নগ্ন সে খেলা 

চলে দানবীয় সে রমণ

আকাশে বাতাসে ওঠে ধিক্কার ধ্বনি

তারা স্ফূর্তিতে  ঢালে মদ ।


দেশ ও বিদেশে চলে দৃঢ় প্রতিবাদ 

সে কঠিন তীক্ষ্ণ স্বর 

বিশ্ব সমাজে নেই কোন স্থান 

এত পিশাচের অনাচার,

কান‌ পেতে  শোনো দৃপ্ত স্লোগান 

চায় বিচার আর‌জি কর ,

মাঠ ঘাট ফেলে আসে শারদলক্ষ্মী 

 হবে শেষ এই ব্যাভিচার!!!



শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। প্রতিবাদী কবিতা -২২।। ঈশ্বরীয় ড্রয়ারের মরুভূমি স্রাবের গাছ ও ২১ পৃষ্ঠার নাভি — নিমাই জানা।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।



    ।।  প্রতিদিন বিভাগ।। 

     ।।  প্রতিবাদী কবিতা -২২।।




ঈশ্বরীয় ড্রয়ারের মরুভূমি স্রাবের গাছ ও ২১ পৃষ্ঠার নাভি

নিমাই জানা


মৃতদেহটা মর্গের হিমায়িত ড্রয়ারের মতো নিষিদ্ধ চিৎকার করছে ! মৃতদেহটা সিমবায়োসিস আগুন চাইছে ! উন্নতমানের মৃতদেহটা তার নিম্নাঙ্গের অন্তর্বাসের ভেতর থেকে সুঁচ ফুটানো তীব্র অন্ধকারের মতো লেসবিয়ান কুকুরের থেকেও আরো কর্কট রোগাক্রান্ত রগরগে লেলিহান সাপগুলোর দাঁতে লেগে থাকা রক্তের ১৫০ মিলিলিটার নক্ষত্রের শ্বেতাঙ্গ ফসফরাস খেতে চাইছে!  লাশ কাটা ঘরে এতো মৃতদেহ !  নিজেদের শরীর থেকে তালতাল মাংস , বরফের মতো শীতল যোনি প্রদেশ , তাম্র ফলকের মতো শিলালিপিময় স্তন , আর চতুর্ভুজ দ্রাঘিমার থেকেও আরো ভয়ঙ্কর রক্তাল্পতায় ডুবে যাওয়া ন্যাক্রোফিক নাভি দেশে ১১ কোটি মানুষ একসাথে একটা মৃত ২১ পৃষ্ঠা নাভির ঘোষণা পত্রকে ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাচ্ছে , একটা সাদা রঙের বস্তার ভেতর থেকে আমার মৃতদেহ আমাকেই ডাকছে , নিজের হাড়গোড়ে লেগে থাকা মাংসের শেষ অবশেষটুকু একটা ধারালো চাকু দিয়ে ছাড়িয়ে প্রকাশ্য বিধানসভার মুখে ছুঁড়ে দিয়ে আসি , আমি যেহেতু নির্বোধ জোচ্চোর
হে ঈশ্বর একটা নষ্ট রক্তের প্যাকেট হবে তোমার কাছে আমার উন্মুক্ত পাপ গুলো ধুয়ে নেব পাতলা জরায়ু মুখ থেকে আর জরায়ুর ছাল চামড়া মিলে দেবো প্রকাশ্য রাজপথে......
সাদা অন্তর্বাস কালো রঙের অন্তর্বাস গোলাপি রঙের অন্তর্বাস সব পাগলা গারদের ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে অস্ত্রপ্রচারের হাড় হিম বীর্য আর তৃতীয় আগুন খেকো নপুংসক রাক্ষস গুলো তীব্র মশাল নিয়ে যৌনাঙ্গের ভেতরে ঢুকে গিয়ে আঁশটে খেজুর দানাগুলো পেড়ে পেড়ে খাচ্ছে , এখানে সারারাত মরুভূমি বিক্রি হয় এখানে সারারাত মৃতদেহের সাথে যৌনাঙ্গ বিনিময়ের অতি প্রাচীন প্রতিলিপ্সা কামুক স্বরলিপিগুলো তীরন্দাজের মতো কেউ ছুঁড়ে দিচ্ছে নির্বংশ সমুদ্রের অতলে থাকা উলঙ্গ পাথরবিহীন দৈত্যের মতো । তীব্র চিৎকার করছে যৌনাঙ্গে ঢুকিয়ে দিচ্ছে ধারালো চুলের ক্লিপ , বোতাম খুলে আলগা করে দিচ্ছে আগুন , পাতাল করে দিচ্ছে এলাচের গাছ ,বিতলে লাগাচ্ছে ময়ূরাক্ষী , আবার চুল্লির ভেতরে ঢুকে সোডিয়াম ধাতু ঢুকিয়ে দিচ্ছে অগ্নাশয় বীজের বংশধর , হে বুদ্ধ এখানেই মুখে জিভে ঠোঁটে তলপেটে গলায় আঁচড় খুঁজে পায় না বলে সবাই থ্রি ডি স্ক্যানারে জলাতঙ্ক খুঁজছে ,
হে খাদক,  হে ধ্বংস , হে দৈত্য , হে শ্মশানের আধপুড়া মাথা, লম্বা জিভটা বের করে চেটে চেটে খাও আমার গলা থেকে নাভি , নাভি থেকে মনিপুর , মনিপুর থেকে হিমাচল , হিমাচল থেকে শক্ত ইস্পাতের দরজা , আমি চিৎ হয়ে শুয়ে থেকে ঈশ্বরকে দেখাবো আমার উলঙ্গ মানচিত্র আর তৃতীয় বন্ধনীর নিঃশব্দ বক্ষবন্ধনের চেস্ট ডিপার্টমেন্টাল দ্বিপত্র কপাটিকা গুলো , একটু থুতু খাও গঙ্গা  

বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। প্রতিবাদী কবিতা -২১।। লজ্জা — বিকাশ হালদার।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।



    ।।  প্রতিদিন বিভাগ।। 

     ।।  প্রতিবাদী কবিতা -২১।।




লজ্জা!! 

বিকাশরঞ্জন হালদার 


"কোনো দিন জাগিবেনা আর "

মাথার ভিতরে পৃথিবীটা শুধু বাঁই-বাঁই  করে ঘোরে!
সপাটে ধর্ষণ করে বিকৃতির অবলীলাক্রম...
একলা-শরীর ছিঁড়ে যায়, দল বাঁধা আসুরিক টানে!

নখে-দাঁতে ভরে ওঠা মেয়েটি আমার!
চোখ ফাটে... ফাটে চিহ্ন...থকথকে রক্ত জোয়ার...

মুখর প্রশ্নের ভিড়ে পড়ে থাকে মৃতদেহ 
নিথর-নির্জন!
আবিল রাত্রি হেঁটে যায়...

লজ্জা! এ-কী লজ্জা!
প্রতিবাদের ভাষা জানি না
আমার  ঘৃণায় শুধু আগুন  জ্বলে ওঠে!

পুড়ুক এই পোড়া কাল, ছাই হয়ে যাক!
শেষটুকু বলেদেয়...
নিজস্ব আকাশ হাতে বেঁচে থাকে সে'ই, যাকে আজ 
মেরে ফেলা হলো!

বুধবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। প্রতিবাদী কবিতা -২০।। তিলোত্তমার বিচার চাই — দীনেশ সরকার।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।



    ।।  প্রতিদিন বিভাগ।। 

     ।।  প্রতিবাদী কবিতা -২০।।





তিলোত্তমার বিচার চাই

দীনেশ সরকার

 

‘কল্লোলিনী তিলোত্তমা’ নাম থেকে তোর শহর

তিলোত্তমাই মুছে গেল! নেই সুরক্ষার বহর!   

হায়না-শৃগাল দিকে দিকে ওৎ পেতে সব আছে

সুরক্ষিত কেউ নহে আজ, চিল-শকুনও নাচে।

শাসনযন্ত্রে ঘুণ ধরেছে, নেতা-মন্ত্রী জেলে,

দাদা-দিদির আস্ফালন যে যত্র-তত্র মেলে। 

কোটি-কোটি তিলোত্তমা গর্জে উঠেছে আজ

‘তিলোত্তমার বিচার চাই আর শেষ হোক দূর্নীতিরাজ।‘

      

প্রতিবাদের ঢেউ উঠেছে শহর থেকে গ্রামে

দিবা-রাত্রি এক করে সব প্রতিবাদে নামে।

প্রতিবাদের আগুন যেন আছড়ে পড়ছে দেশে,

‘তিলোত্তমার বিচার চাই আজ’ এক সুরেতেই মেশে।

ঘরের কোণে এখনও যারা মুখ লুকিয়ে আছো

পথে এসে দাঁড়াও বন্ধু, বাঁচার মতো বাঁচো।

প্রতিবাদে সামিল হয়ে গলা মেলাও ভাই,

‘তিলোত্তমার বিচার চাই! তিলোত্তলার বিচার চাই!’

মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। প্রতিবাদী কবিতা -১৯।। বহুস্বরে রইলি বেঁচে — জয়শ্রী সরকার।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।



    ।।  প্রতিদিন বিভাগ।। 

     ।।  প্রতিবাদী কবিতা -১৯।।





বহুস্বরে রইলি বেঁচে 

জয়শ্রী সরকার 

প্রতিবাদের মহান মঞ্চে রইলি রে তুই বেঁচে 
গণতন্ত্রের কন্ঠ চেপে উঠুক ওরা নেচে !

সেবাব্রতের স্বপ্ন দেখা তিলোত্তমাই বটে 
বিশ্বমানব আঁকছে ছবি আপন মানস পটে !

অপরাধ আর দুর্নীতিতে প্রতিবাদী মন তোর 
দুষ্কৃতীদের নড়লো টনক ভাঙলো ঘুমের ঘোর !

সরতে তোকে হবেই হবে বড়কর্তার নিদান 
বন্ধু বেশে রাত্রি শেষে নিলো রে তোর প্রাণ !

নৃশংসতার চরম সীমায় মরতে হলো তোকে 
দাহ তো নয়, পুড়লো দেহ কাঁদছে সবাই শোকে !

প্রমাণগুলো লোপাট হলো, আর কী ছিল বাকি ?
দুষ্কৃতীদের আড়াল দেখে লজ্জাতে মুখ ঢাকি !

সঠিক বিচার হোক বা না হোক, জাগছে মনে আশা 
একটু একটু করেই দেখছি ভাঙছে ঘুঘুর বাসা !

প্রসাদপ্রিয় চুপ থাকবে, জানাই ছিল সবার 
ঠিক সময়ে স্পিক টি নট-ই --- এটাই ছিল হবার !

কী দোষ ছিল? বল্ তো ওরে সত্যিটাকে জানা ?
প্রতিবাদের বজ্রকন্ঠে চাই চেতনায় হানা !

সোমবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। প্রতিবাদী কবিতা -১৮।। মৃত্যুর আগে — সুজিত রেজ।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।



    ।।  প্রতিদিন বিভাগ।। 

     ।।  প্রতিবাদী কবিতা -১৮।।




মৃত্যুর আগে 

সুজিত রেজ


মৃত্যুর আগে শেষ নিশ্বাসে মিশে ছিল ঝড়

মৃত্যুর আগে শেষ চাহনিতে অনন্ত পথ

মৃত্যুর আগে মমি পথ জুড়ে উড়েছিল মথ

মৃত্যুর আগে হৃদয়মুকুরে প্রজাপতি ঘর

রবিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। প্রতিবাদী কবিতা -১৬।। গর্জে ওঠো — অঙ্কনা মণ্ডল।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।



    ।।  প্রতিদিন বিভাগ।। 

     ।।  প্রতিবাদী কবিতা -১৬।।




গর্জে ওঠো 

অঙ্কনা মণ্ডল 

রক্ততে বিষ ঢালল কে রে? ধরল কে বা আগুন  হাত?
আমারা রণচণ্ডী হয়ে , করছি তার'ই প্রতিবাদ!
মানুষ রূপী পিশাচ যারা, থাকেই তারা ছাড় পেতে,
বিচার তাদের হয়না কভু, অন্ধকার এই জগতে! 
ধন্য  সব রাজনীতি আজ, মনুষ্যত্ব  হায়রে কই?
মানুষ'ই আজ হয়েছে হিংস্র, স্পষ্ট গলায় সেকথা কই!
সভ্যতার আজ বুকে পাথর, বিচারেরও  মুখ বাঁধা!
গর্জে ওঠো নারী এবার, পেতেই হবে স্বাধীনতা...

শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। প্রতিবাদী কবিতা -১৫।। হাজার কন্ঠে — প্রদীপ্ত সামন্ত।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 


    ।।  প্রতিদিন বিভাগ।। 

     ।।  প্রতিবাদী কবিতা -১৫।।



হাজার কন্ঠে

প্রদীপ্ত সামন্ত


শতক হাজার অযুত লক্ষে
জনমানবের স্বর ,
জাস্টিস চাই নির্যাতিতার
ইন আর জি কর ।

অভয়াই হোক বা তিলোত্তমা
প্রতীক প্রতিবাদের ,
মেয়ে যে হবে বড় ডাক্তার
কতই না ছিল সাধের !

দিকে দিকে কন্ঠে যে বাস
সেই প্রতিরোধ সুর ,
শাসক শোষক আজ পরাজিত
অহং মদে চুর ।

দেখছে যে আজ বিশ্ববাসী
জনগণের গর্জন ,
জাস্টিস চায় আর কিছু নয়
সব কিছু তাই বর্জন।

শুক্রবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। প্রতিবাদী কবিতা -১৪।। প্রতিবাদ — সোমা চক্রবর্তী।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।



    ।।  প্রতিদিন বিভাগ।। 

     ।।  প্রতিবাদী কবিতা -১৪।।




প্রতিবাদ 

সোমা চক্রবর্তী 

যখন অন্যায়, দুর্নীতি আর অত্যাচার 
সীমা পার হয়ে যায়, তখন 
অবধারিত ভাবে জেগে ওঠে প্রতিবাদ!

তখন 

লেখনী হয়ে ওঠে ক্ষুরধার হাতিয়ার 
ছাড়পত্র  মেলে হৃদয়ের ঘৃণার  উদগীরণে 
বঞ্চনা, অন্যায় জন্ম দেয় ঘৃণার 

লেখনী তখন তলোয়ার  হয়! 
পুঞ্জিভূত ঘৃণা জন্ম দেয় বিপ্লবের, আর 
শিরদাঁড়া সোজা হয়ে থাকে নিজের জায়গায়,
বিকিয়ে যায় না অন্যায়ের  কাছে 

বাঁধ ভাঙা সমুদ্রের জল তখন 
আগ্রাসী-প্রতিবাদ হয়! 

দুর্নীতির  নাগপাশ ছিন্ন করে, মন তখন
দুর্নিবার বহ্নি শিখা, 
তাণ্ডব করে তার লেলিহান শক্তি দিয়ে
ছিন্নভিন্ন  করে সমাজের যতো ঘৃণ্য অত্যাচার 

তখন 

প্রতিবাদ অপ্রতিরোধ্য!
তবেই না হাসবে পৃথিবী আগের মতো 
ভোরের আলোয়...

বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। প্রতিবাদী কবিতা -১৩।। অন্তরাত্মার নির্দেশ — হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।



    ।।  প্রতিদিন বিভাগ।। 

     ।।  প্রতিবাদী কবিতা -১৩।।



অন্তরাত্মার নির্দেশ 

হীরক বন্দ্যোপাধ্যায় 


চারিদিকে  শত্রুর ফিসফাস হোম ওয়ার্ক চারিদিকে 
পয়গম্বর, উত্তর দক্ষিণে চাপাতির কোপ পূর্ব পশ্চিমে 
মীরজাফর আলির বংশধরগণ কাঁচি করে দিয়েছিল
তোমার উত্থান, এবারে এরপর মহোৎসব সম্পূৰ্ণ হলেও কিন্তু পারল না ,মাথানত করে ধরা দিল
হয়তো এই প্রথম হয়তো এই শেষ 
দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যায় এমন কোনো স্বাধীন সার্বভৌম ভূখন্ড থাকবে না
কোনও দৈববাণী নয় কোনও দৈববাহিনীও নয় 
যাদের স্বজন বন্ধু বলে এতদিন ভেবেছো
তারাও মৌনতা অবলম্বন করবে এসব ই সত্য 
সহজ এবং সরল ঠিক জলের মতোই 
যে পাত্রে রাখা যায়  সেই পাত্রে সমাহিত 
জেনো,এসবের বাইরে গিয়ে তোমাকে দাঁড়াতে হবে 
হয়তো ভয়াবহতার নিরিখে পা হাড়ি খাদ অথবা কৃষ্ণগহ্বরের কুহক এক আর মাঝ সমুদ্রে হাঙরদের 
স্বপ্ন বিলাস অমরত্ব বলে কিছু থাকে কীনা অবশেষ হিসেবে নির্বাণের মহাপৃথিবী তবু অতিক্রমণ অতিক্রমণ. ..
পরাজিত হবার জন্য তুমি জন্ম নাও নি 
হ্যান্ডস আপ ,হাত তুলে ধরো 
ধ্বংস হয়ে যাবে তবু 
মাথা নাোওয়াবে না কখনো ,ধরে নাও এই তোমার 
অন্তরাত্মার নির্দেশ. ...

মঙ্গলবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। প্রতিবাদী কবিতা -১২।। ফাঁসির আগের দিন পর্যন্ত — শান্তনু ঘোষ।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।



    ।।  প্রতিদিন বিভাগ।। 

     ।।  প্রতিবাদী কবিতা -১২।।





ফাঁসির আগের দিন পর্যন্ত 

শান্তনু ঘোষ 


একদা এক রাণী বলছেন:
আমি ফোনে খবর পায় ঘটনাটির
তারপর যা যা করণীয় প্রশাসনকে করতে বলি,
এবং সেই মতো তারা অ্যাকশন নেয়।
বস্তুত নিহত ধর্ষিতার বাড়ি যান তিনি 
মেয়েটির বাবা -মাকে স্বান্তনা দিতে,
জানতে চান মনের কথা
এবং কলকাতা পুলিশ কী কী কাজ করেছে তার তথ্য প্রমাণ তুলে ধরেন।
এছাড়া তিনি রবিবার পর্যন্ত সময় চান পরিবারের কাছে ।
না হলে তিনিই কেস হ্যাণ্ডওভার করে দেবেন
সি.ব.আই এর হাতে।
এরপর সময়ের আগেই
সি.বি.আই হয়েছে।
অবশ্য কলকাতা পুলিশ একজনকে অ্যারেস্ট করেছে।
তিনি ও তাঁর দল সুবিচারের পক্ষে,
ফাঁসির পক্ষে।
 
ঘটনা ক্রমে জল গড়ায়।
ছাএ সমাজ ধানসিঁড়ি চলো ডাক দেয় সুবিচারের দাবিতে,
অন্যদলের মদতে আরও একধাপ এগিয়ে গিয়ে তারা মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ চায় সেইসঙ্গে।
এমন উস্কানি মূলক মন্তব্যে রাণীর পক্ষও ময়দানে নামার সুযোগ পায়।
এবং ধানসিঁড়ি অভিযান হয়
অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে ,
ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী পক্ষ 
ডাকে ১২ ঘণ্টা বাংলা বনধ।
সরকার পক্ষ বলেন‌ :‌নানা চক্রান্তের কথা।
চক্রান্তকারিদের উদ্দেশ্যে বলেন : ধানসিঁড়িতে কেন?
যাও সাদা গোলায়,
জিঞ্জেস করো,রনদীপ ঘোষ কবে অ্যারেস্ট হবে,যাও।
মানুষও‌‌ ঘাসের বীজ‌ খায় না, বুঝতে পারে 
ঘটনা কোন দিকে মোড় নিচ্ছে।

এমত অবস্থায় মানুষ যেমন সাদা গোলায় আস্থা রাখতে পারছে না,
সেই সঙ্গে কথা উঠছে
সরকার পক্ষ থেকে অনেক কিছুই বলা হচ্ছে, 
কেন তবে প্রথমে আত্মহত্যার কথা বলা হল?
কেন এমন কর্মস্থানে ধর্ষণ খুন?
রণদীপ ঘোষকে  ওই হসপিটাল থেকে সরিয়ে সঙ্গে সঙ্গে অন্য হসপিটালে নিয়োগ করা হয়েছিল কাকে আড়াল করতে?
কেন ময়নাতদন্ত হয়েছিল রাতের বেলা?
কেন দাহ করা হয়েছিল চটজলদি?
তড়িঘড়ি হসপিটালের দেওয়াল ভাঙা হয়েছিল কেন?
দশ লক্ষ টাকার কথা উঠেছিল কেন?
ইত্যাদি ইত্যাদি....

তারপরও
সুবিচারের দাবিতে মানুষের আন্দোলন তিলোত্তমাকে‌ ঘিরে,
মানুষও আশাবাদী
আর এই মানুষ গুলোর মধ্য থেকে কেউ না কেউ 
রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সুবিচার চায়বে 
ফাঁসির আগের দিন পর্যন্ত।

সোমবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। প্রতিবাদী কবিতা -১১।। মৃত্যুর আগে - সুজিত রেজ।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।



    ।।  প্রতিদিন বিভাগ।। 

     ।।  প্রতিবাদী কবিতা -১১।।




মৃত্যুর আগে 

সুজিত রেজ


মৃত্যুর আগে শেষ নিশ্বাসে মিশে ছিল ঝড়

মৃত্যুর আগে শেষ চাহনিতে অনন্ত পথ

মৃত্যুর আগে মমি পথ জুড়ে উড়েছিল মথ

মৃত্যুর আগে হৃদয়মুকুরে প্রজাপতি ঘর