লেবেল

ছড়াঃগ্রীষ্মের দুপুর লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ছড়াঃগ্রীষ্মের দুপুর লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ২৯ জুন, ২০২২

শুধু ছড়ায়... গ্রীষ্মের দুপুর —৩২।। দুর্গাদাস মিদ্যা।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




গ্রীষ্মের দুপুর —৩২

দুর্গাদাস  মিদ্যা



গরম না থাকলে

                            
বৈশাখ জৈষ্ঠ্য গরমের মাস
গরমে সবাই করে হাঁসফাঁস। 

তবে এ কথাটাও কঠিন সত্য যে
আম কাঁঠাল পাকে না গরম না থাকলে। 

 গরম না থাকলে বাষ্প হবে না  জল
 মেঘের সৃষ্টি হবে না,হবে না ঝড় বাদল। 

 গরমে কষ্ট আছে সে কথা যেমন ঠিক
 গরম না থাকলে সবকিছু হবে যে বেঠিক। 






মঙ্গলবার, ২৮ জুন, ২০২২

শুধু ছড়ায়... গ্রীষ্মের দুপুর —৩১ ।। সুদীপ কুমার চক্রবর্তী।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 






গ্রীষ্মের দুপুর —৩১

সুদীপ কুমার চক্রবর্তী




দহনবেলা 


তপ্ত দহনকাল
অলস এ মায়াজাল।
তবু ছাতায় ঢেকেছে মাথা
ঘর্মাক্ত ব্যস্ততা -
এখন যে যার মতো
 আমরা জীবন করি ফেরি।

কোথায় সে জলকেলি
সন্তরণ - উল্লম্ফন
কোথা সেই আম গাছ
জামগাছ লিচু আর
কাঁঠালের সারি !

এখন ফোনেতে নিভৃতবাস
বিচিত্র এ পরবাস
আমাদের সে সময় গেছে চুরি।











সোমবার, ২৭ জুন, ২০২২

শুধু ছড়ায়...গ্রীষ্মের দুপুর -৩০ ।। জয়শ্রী সরকার।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





গ্রীষ্মের দুপুর -৩০

জয়শ্রী সরকার




গ্রীষ্মকালের ভরদুপুরে


গ্রীষ্মকালের ভরদুপুরে
তপ্ত তাওয়ার মতো
পিচ্ গলা পথ, ধুঁকছে দেখি
ক্লান্ত পথিক যত ।
গাছগুলো সব পুড়ছে যেন
দহনজ্বালায় জ্বলে
শান্তি পেতো একটু তবু
বৈশাখী ঝড় হলে !

পুকুর-ডোবা-পুস্করিণীর 
জল শুকিয়ে মরা
ফুটিফাটা মাটির বুকে
শুধুই রুক্ষ্ম খরা ।
কুকুরগুলোর ঝিম ধরে যায়
তপ্ত দুপুরবেলায়
বাঁচতে যে চায় হাঁফ ছেড়ে সব
মন বসে কী খেলায় ?

গ্রীষ্মকালের ভরদুপুরে
সব যেন নিস্তব্ধ
ডানপিটে ওই ছেলেরা সব
তাতেও কী হয় জব্দ ?
এ-গাছ ও-গাছ করে বেড়ায়
নিঝুম দুপুরবেলায়
বদ্ধ ঘরে মন বসে কী ?
মেতে বেড়ায় খেলায় !

গ্রীষ্মকালের তপ্ত বেলায়
কুলফিওলা হাঁকে
মনখুশিতে ডানপিটেরা
ছুট্টে গিয়ে ডাকে ।
ছোট্টবেলার আর এক মজা
তপ্ত দুপুরবেলায়
ঘামঝরা দিন হার মেনে যায়
ডানপিটেদের মেলায় !

চাতক পাখির মতো সবাই
থাকে অপেক্ষাতে
বৈশাখী ঝড় আসলে পরে
প্রাণটা জুড়োয় তাতে।
বনস্পতির দিনগুলো আজ
সত্যি বড়ই মন্দ
নড়ছে না তো একটা পাতা
চারিদিক নিস্পন্দ !

হঠাৎ দেখি আকাশখানা
ঢাকলো কালো মেঘে
পাল্লা দিয়ে ঝড়ের মাতন
ক্ষিপ্রতর বেগে ।
পাখিরা সব কুলায় ফেরে
যে যার মতো করে
আকাশ ভেঙে বৃষ্টি এলো
কালবোশেখীর ঝড়ে !

চাষীভাইয়ের চিন্তা বাড়ে
ভেবেই না পায় সাড়া
মুহূর্মুহু মূর্চ্ছা যে যায় ----
যেন পাগলপারা ।
কালবোশেখী, কালবোশেখী, 
একটু দয়া করো
সোনাধানে মাঠ ভরেছে
আর একটু দম ধরো !









রবিবার, ২৬ জুন, ২০২২

শুধু ছড়ায়... গ্রীষ্মের দুপুর —২৯।। অরুণ কুমার দাঁ।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




গ্রীষ্মের দুপুর —২৯

অরুণ কুমার দাঁ




গ্রীষ্ম দুপুর বাজায় নূপুর 

     

গ্রীষ্ম দুপুর ঝুমুর ঝুমুর
বুকের মাঝে বাজায় নূপুর।
ধূ ধূ মাঠে রোদের সুরে
আলের বুকটি কাঁপে দূরে।

গাছের পাতা রোদে পুড়ে
তেতে উঠে গাঁয়ের কুঁড়ে।
বৃষ্টি দেখি আকাশ ফুঁড়ে
ধুলো উড়ে শহর জুড়ে।

গ্রীষ্ম নাচে ছৌ-এর ধাঁচে
পুড়ছে পুকুর তপ্ত আঁচে।
হা-হুতাশে জীবন বাঁচে
আকাশ জুড়ে স্বচ্ছ কাচে।

ফুটিফাটা পুকুর ঘাটে
গাছের নিচে দুপুর কাটে।
ঘামে দর দর ভিজে জামা
মনের সাধ যে জলে নামা।

জল কোথা ওই দীঘির বুকে
তপ্ত আঁচে সব-ই শুকে।
ঘুরে বেড়াই মনের দুখে
পাকা খেজুর ঝুলছে সুখে।

ভরা মিঠে তালের শাঁসে
ডাবের জলে জীবন আসে!
কাঁচা আমে জ্যৈষ্ঠ মাসে
মিষ্টি লিচু ঝাড়ে হাসে।

আকাশ কোনে মেঘ যে এলে
একটুখানি বৃষ্টি দিলে -
তপ্ত শরীর হেসে-খেলে
ভিজতে থাকি বৃষ্টি জলে।












শুক্রবার, ২৪ জুন, ২০২২

শুধু ছড়ায়...গ্রীষ্মের দুপুর -২৮।। মানস মণ্ডল।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





গ্রীষ্মের দুপুর -২৮

মানস মণ্ডল





১.

গ্রীষ্মের দুপুর



কুব কুব কন্ঠে নিয়ে

                             নির্জন দুপুর

নেমে আসে পায়ে পায়ে

                          রৌদ্রের নূপুর।

বাজে গ্রীষ্ম শুষ্ক মাঠ

                           জ্বলে জটাজুট

কোথাও রয়েছে শান্ত

                         লেখা অর্ধস্ফূট।

এসেছি রাজার মত

                            যাব ঝড় তুলে

পেছনে মেঘের কাব্য

                       শোন পাতা খুলে।






২.

গ্রীষ্মের ভাষা 


 

গ্রীষ্মের দুপুরটি

                 একা একা পুড়ছে

পথে-ঘাটে কেউ নেউ

                   পাখ-পাখি ধুঁকছে।

 

জল নেই, জল নেই

                  নদী-নালা খটখট

ফুটি-ফাটা মাঠ থেকে

                   কুকুরটা চটপট

 

ঘরে ফিরে, বোসেদের

                    দানাপানি চাটছে

ঘোষেদের হাঁসগুলো

                   ঘরে বসে ভাবছে।

 

আকাশ বাতাস কাঁদে

                       ঘোরে চক্রাকারে

কাটে না, কাটে না দিন

                  চাতকের হাহাকারে।

 

 

কবে যে আসবে মেঘ

                ভেজাবে গ্রীষ্ম ভাষা

ছড়াটি পেখম মেলে

                 জাগালো নতুন আশা।


                                    








                

শুধু ছড়ায়...গ্রীষ্মের দুপুর -২৭।। প্রভঞ্জন ঘোষ।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



গ্রীষ্মের দুপুর -২৭

 প্রভঞ্জন ঘোষ


গ্রীষ্মের দুপুর


গ্রীষ্ম-দুপুর
শুকনো পুকুর
শূন্য  রাস্তা-ঘাট,
বাসায় বসে ভাবি-
কখন সূর্য যাবে পাট।

পাখ-পাখালি
শ্বাপদ,অলি
সবাই কুপোকাৎ,
গরু-বাছুর,পিঁপড়ে
ছাগল,মহিষ সাথেসাথ।

স্বস্তি কেবল
দু'-চারটি ফল
আম-তরমুজ-লিচু-... 
এরই ফাঁকে মন ভরিয়ে
দিচ্ছে কিছু-কিছু।

গ্রীষ্ম-দুপুর
ধমকানি লু-র
অঙ্গ পুড়ে যায়
গরম পালা, ঝমঝমিয়ে
বৃষ্টি ঝেঁপে আয়।










বৃহস্পতিবার, ২৩ জুন, ২০২২

শুধু ছড়ায়... গ্রীষ্মের দুপুর-২৬।। দীনেশ সরকার।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।

 



গ্রীষ্মের দুপুর -২৬


দীনেশ সরকার



গ্রীষ্ম 


গ্রীষ্মের দুপুর তপ্ত দহন
বাইরে থাকাই দায়
গরম হাওয়া বিঁধছে গায়ে
জ্বলে-পুড়ে যায়।
আধপোড়া সব গাছগাছালি
জল জল করে মরছে
কুকুর হাঁপায় গাছের ছায়ায়
জিভে লালা ঝরছে।

মাঠ-ঘাট সবই ফুটিফাটা
জল নেই খালে বিলে
শুখিয়েছে পুকুর-ডোবা
কমেছে জল ঝিলে।
ঝরছে যে ঘাম শরীর দিয়ে
হাঁস-ফাঁস করে জানটা
একটু বৃষ্টি দাও ভগবান
বাঁচুক সবার প্রাণটা।

রাস্তা-ঘাট সব শুনশান খাঁ-খাঁ
চলছে কমই গাড়ি
সকাল সকাল কাজ সেরে সব
পৌঁছে গেছে বাড়ি।
আইসক্রীমওলা হাঁক দিয়ে যায়
সরু রাস্তা ধরে
পয়সা হাতে কচিকাঁচা
ঠিক বেরিয়ে পড়ে।

আম-কাঁঠালের মিষ্টি সুবাস
প্রতি ঘরে ঘরে
খোকা-খুকু আমতলাতে
আম কুড়োনোর তরে।
তপ্ত দুপুর ওদের মুখে
দেয় ছড়িয়ে হাসি
স্কুল ছুটি তাই তো লোটে
মজা রাশি রাশি।

সবার এখন একটিই চাওয়া,
আয় রে বৃষ্টি আয় রে
গ্রীষ্মকালের দহন জ্বালায়
প্রাণটা বুঝি যায় রে!
আয় রে নেমে মাটির বুকে
শীতল কর এ ধরা
সবুজ হয়ে উঠুক আবার
প্রাণের বসুন্ধরা।








বুধবার, ২২ জুন, ২০২২

শুধু ছড়ায়... গ্রীষ্মের দুপুর -২৫ ।। অনীশ ঘোষ।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




গ্রীষ্মের দুপুর -২৫

অনীশ ঘোষ



গরম কাটুক বৃষ্টি আসুক


গরমের দুপুরে

ঝমাঝম নূপুরে

নাচে যদি বরষা

আরামের প্রাণ

ভুলে আনচান

পায় পুরো ভরসা।

চাই না গরম এই

থাকব যে নরমেই

কুল কুল ঠান্ডা

ধেয়ে এসো বৃষ্টি

ধুয়ে দিয়ে সৃষ্টি

দেখাও তো ফান্ডা! 

ঘুচে যাক কালোকুলো

গরমের দিনগুলো

সকলের হোক ভালো 

প্রকৃতির শান্তি

দূরে যাক ক্লান্তি

জ্বলুক ঋতুর আলো।







সোমবার, ২০ জুন, ২০২২

শুধু ছড়ায়...গ্রীষ্মের দুপুর—২৩।। শান্তনু গুড়িয়া।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।




 গ্রীষ্মের দুপুর—২৩
শান্তনু গুড়িয়া




 সুখের স্মৃতি
 

 চাঁদি ফেটে যাবে রোদ্দুরে
যেওনাকো কাছে দূরে

 সারা গায়ে দরদরে ঘাম
 মাখি সুরভিত ট্যালকাম

 বনবন ঘোরে সিলিঙে ফ্যান
 গরম কেন যে ঈশ্বর দ্যান !

 এসি চালাই দরজা এঁটে
 চোখজোড়া ওই ইন্টারনেটে

 কোথায় গেল ছেলেবেলা
 পুকুর জলে সাঁতার খেলা

 টব টবা টব ডুবতে থাকা
 মায়ের বারণ বাবার হাঁকা

 ঝাঁপাই ঝুড়ে  চোখ দুটো লাল 
 দুমদাম পিঠে পড়তো যে তাল

 মিলতো যে  ফল কত কিছু
 আম জাম কাঁঠাল তরমুজ লিচু

 বিকেলে ঝড় কালবৈশাখী
 আমরা তখন দামাল পাখি

 আম কুড়াতে পুকুর-পাড়ে
 এই বুঝি ডাল পড়লো ঘাড়ে

 নতুন বছর নতুন দিনে
 হইহই দই মিষ্টি কিনে

 কোথায় গেল ছুটির মজা
 এখন শুধুই কাজের বোঝা

 প্যাচপ্যাচে ঘাম ঘামাচিতে
 গরম আসে জীবন নিতে

 ওষ্ঠাগত প্রাণে প্রাণে
 সুখের স্মৃতি আরাম আনে |












রবিবার, ১৯ জুন, ২০২২

শুধু ছড়ায়... গ্রীষ্মের দুপুর -২২।। শঙ্খশুভ্র পাত্র।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





গ্রীষ্মের দুপুর -২২

শঙ্খশুভ্র পাত্র




গ্রীষ্মের দুপুর


গ্রীষ্মের দুপুর যেন সে 'লু'-পুর

অঙ্গ ভরেছে ঘামে,

এই অশান্তি নিয়ে কি ক্লান্তি

পড়ে আছি নিজ গ্রামে ৷


শুকনো পুকুর, রুগ্ন কুকুর

খুকুর দুঃখ ভারি,

কালবৈশাখি দিল খুব ফাঁকি,

বর্ষার তরবারি


ঝলসে ওঠে না, বিজলি ফোটে না

নীল আকাশের বুকে,

তবু এ গ্রীষ্ম, দুপুর-দৃশ্য

কেউ আঁকে সুখে-দুখে ৷








শনিবার, ১৮ জুন, ২০২২

শুধু ছড়ায়... গ্রীষ্মের দুপুর -২১।। সুবীর ঘোষ।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




গ্রীষ্মের দুপুর -২১

সুবীর ঘোষ



গ্রীষ্মের দুপুর



বাইরে যেন আগুন জ্বলে...
ঘরে এখন খেলা চলে।
লুকোচুরি খেলতে নেমে
ছেলেমেয়ে সব একশা ঘেমে।
মা দিদিরা উপর তলায়
কাজ সেরে সব নিদ্রা যায়।
ছোটদের তো ঘুম আসে না
বইয়ের পাতায় মন বসে না।
বাইরে ক'টা ছেলের দল
যাচ্ছে আমের গাছের তল।
পথে পথে কুকুরগুলো
ছুটে বেড়ায় উড়িয়ে ধুলো।
ছাতা মাথায় পথিক চলে
হাঁসেরা ডোবে ভাসে জলে।
কা কা করে কাকটি ওড়ে
ভানু ময়রা জিলাপি করে।
রাখাল ছেলে মোষের পিঠে
বাঁশিতে সুর তুলছে মিঠে।
ছোট্ট মিনু নীচের ঘরে
আমের আচার মুখে পোরে।
একটু কবে বৃষ্টি হবে?
প্রাণ জুড়াবে সবার তবে। 










শুক্রবার, ১৭ জুন, ২০২২

শুধু ছড়ায়... গ্রীষ্মের দুপুর -২০।। দীপক বেরা।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




গ্রীষ্মের দুপুর -২০

দীপক বেরা 



গ্রীষ্মের দিনলিপি 


খাঁ-খাঁ রোদ্দুর গ্রীষ্মের দুপুরে... 
প্রাণ ওষ্ঠাগত, কী করি ভাইরে! 

ঘাম ঝরে দরদর সারা গায়েতে
ছুটে যাই যেন পুকুরে ঝাঁপাতে। 

লাফালাফি দাপাদাপি লুকোচুরি
আম চুরি, জাম চুরি, মাছ ধরি।

কাঠফাটা রোদে মাটি ফুটিফাটা
গনগনে হাওয়া দেয় গায়ে ঝাপ্টা।

যতই থাকি না ঘরে দরজা আঁটিয়া 
হয় জ্বর, কাশি—ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া।

এরই মাঝে কালবোশেখীর ঝড়
ঠান্ডার পরশে প্রাণ আনন্দমুখর। 

গ্রীষ্মের কাছে পাই ফলমূল কিছু 
আম, জাম, কাঁঠাল, তরমুজ লিচু। 

গরমের প্রকোপে এত অশান্তি সৃষ্টি
আসে নববর্ষ উৎসব, জামাই ষষ্ঠী।

গ্রীষ্মের দাবদাহে কতশত ভোগান্তি
তবুও কবিতায়, গানে রবীন্দ্রজয়ন্তী!

গরমের হাত থেকে নিস্তার নাই রে—
কষ্টে, আনন্দে কাটিয়ে দাও, ভাই রে। 















বৃহস্পতিবার, ১৬ জুন, ২০২২

শুধু ছড়ায়... গ্রীষ্মের দুপুর —১৯ ।। প্রদীপ্ত সামন্ত।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




গ্রীষ্মের দুপুর —১৯

প্রদীপ্ত সামন্ত



গ্রীষ্মের পরিবেশ


ছন্দ বিহীন পথ চলা ওই
       গাঁয়ের মেঠো আল ধরে,
ছায়ায় ঘেরা সকাল বিকেল
        দিনের শেষে যায় সরে।

আম কাঁঠালের জামের বনে
         লিচুর বাজার রমরমা,
ভাত ঘুমেরই পরেই দেখ
         মনটা কেমন চনমনা!

জল কমেছে পুকুর খালে
         বক দাঁড়িয়ে মাছ খোঁজে,
ডাহুক পাখি পানকৌড়ি
          মাছরাঙা ঠিক তাল বোঝে।

তপ্ত হওয়ায় নিঝুম দুপুর
          পথ ঘাটে নেই লোক কোন,
ভেংচি কাটে গোঠের রাখাল
           কোকিলের ঐ ডাক শোন।

শান্তি যে নেই গরম ভীষণ
            এসি ফ্যানের নাই বিরাম,
এক ফোঁটা জল বৃষ্টি যে চাই
             তবেই মিলবে খুব আরাম।










বুধবার, ১৫ জুন, ২০২২

শুধু ছড়ায়...গ্রীষ্মের দুপুর -১৮।। সুনীল করণ।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 







গ্রীষ্মের দুপুর -১৮

সুনীল করণ



গ্রীষ্ম কাটুক গানে গানে



নতুন বছর আসে যখন
বরণ করি তারে,
কেউ বা বলে দারুণ গরম
কেউ বা বলে বাঃ রে !

বৈশাখ মাস আসে যখন
সূর্য তাকান হেসে,
কচিপাতা, মেঘেরাও
শুধায় কুশল এসে ।

হোকনা গরম- রবীন্দ্রনাথ
উদ্ভাসিত প্রানে,
ঋতু বদল হবেই ;  গ্রীষ্ম
কাটুক গানে  গানে ॥












মঙ্গলবার, ১৪ জুন, ২০২২

শুধু ছড়ায়...গ্রীষ্মের দুপুর -১৭।। মুক্তি দাশ।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





গ্রীষ্মের দুপুর -১৭

মুক্তি দাশ 



ভালোই লাগে না গরমে 



যাই বলো ভাই, আমার কিন্তু 
ভালোই লাগে না গরমে,
সারাদিন শুধু হাঁসফাঁস আর
প্রাণ করে আইঢাই! 
এপ্রিল আর জুন তো আছেই,
তার মাঝে আছে ধরো মে -
ভীষণ সে এক লম্বা দুপুর, 
শেষও হয় না ছাই! 

তবুও যে আসে গ্রীষ্ম-দুপুরে
বিশ্বকবির জন্মদিন,
গরমের জ্বালা উধাও নিমেষে 
কোন যাদুবলে কে জানে! 
বাঙালি তখন শোধ করে যায়
কবিতার কাছে যত ঋণ, 
তপ্তদুপুরে সুশীতল ছায়া —
রবি ঠাকুরেরই গানে! 















সোমবার, ১৩ জুন, ২০২২

শুধু ছড়ায়...গ্রীষ্মের দুপুর -১৬ ।। বদ্রীনাথ পাল।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





গ্রীষ্মের দুপুর -১৬

বদ্রীনাথ পাল



নিদ্ নেই

        

আকাশে আগুন জ্বলে
শুন্ শান্ পথঘাট,
কাঠ ফাটা রোদ্দুরে
চৌচির হল মাঠ।

জল নেই পুকুরেতে
খাল বিল ঠন্ ঠন্-
আইঢাই করে সব
ছটফঠ্ প্রাণ-মন।

ছায়া খোঁজে সব্বাই
হাঁসফাঁস করে প্রাণ,
ইচ্ছেটা বারেবার
করে নিই ঠিক স্নান।

লু বাতাস বয় জোরে
পশুপাখি কেউ নাই,
ফেরিওলা তবু হাঁকে
"দৈ নেবে ? দৈ চাই ?"

দরদর ঘাম গায়ে
ওঠবোস্ শুধু সার,
নিদ্ নেই আঁখিপাতে
হাই তুলি বারবার।











রবিবার, ১২ জুন, ২০২২

শুধু ছড়ায়...গ্রীষ্মের দুপুর -১৫।। শ্রীমন্ত দাস।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





গ্রীষ্মের দুপুর -১৫

শ্রীমন্ত দাস



১.

তপ্ত দুপুর


তপ্ত দুপুর কুকুর গুলো ধুঁকছে পথের পরে,

তপ্ত রোদে পান্থ বাঁশীর সুর শোনা যায় দূরে।

জলের খোঁজে তপ্ত মাঠে হাঁড়িচাচার দল, 

ঝাপটে ডানা কাকের ছানা খাচ্ছে ডোবার জল।

হাটুরেরা ফিরছে ঘরে ঘর্মে বেজায় নেয়ে,

পথের ধারে বিরাম নিতে বসছে তরুর ছায়ে।

খালের জলে নাইতে সেথায় আদুড় ছেলের দল,

ঝাঁপিয়ে মজায় জলের মাঝে ডুবছে অনর্গল।

ফিরছে বধূ কলসি কাঁখে সিক্ত বসন পরে,

ল্যাংটো শিশু ছুটছে পিছু মায়ের হাতটি ধরে।

তপ্ত রোদে বাইছে মাঝি খেয়ার যাত্রী নিয়ে

তীরে গাইছে অন্ধ কানাই কষ্টে পেটের দায়ে।

কাতরে গরু তপ্ত মাঠে হাম্বা হাম্বা করে,

গেরস্তবৌ দড়ির টানে তুলছে গোয়াল ঘরে।

ছাদের পরে তন্দ্রা ঘোরে ভাবছে খুকু জলি,

উদাস সুরে হাঁকিয়ে যেতো হলে বাসনওয়ালী।

মন্দ হয় না ভাবছে অমল পারতো যদি হতে!

দই ওয়ালা হয়ে সে আজ হাঁকতো পথে পথে।

তপ্ত রোদে ভিজতে মানা বাড়ির লোকের আদেশ,

শৈশব মন ইচ্ছেডানায় হচ্ছে নিরুদ্দেশ।

তপ্ত রোদে দুপুর বেলা ভাবছে কবিগন ,

গরম গরম হোক না কাব্য উদাস করে মন।





২.

অধিকার


কি রোদ্দুর! ভরদুপুরে

গ্রীষ্মে ঘর্ম ঝরে,

চাতক ডাকে কাতর হয়ে

ফটিক বারি তরে।


কাকের ছানা মেলে ডানা

তৃষায় খোঁজে জল,

মাঠের মাঝে ডোবায় নেমে

খাচ্ছে অনর্গল।


পানের শেষে ভিজিয়ে ডানা

করছে কাক স্নান,

শীতল হলো, শান্তি পেল

জুড়ালো তার প্রাণ।


ছুটলো সেথা বাতেলা বালা

দুইটি ধূর্ত শালিক,

বললো হেঁকে জল খেও না

আমরা তো এর মালিক।


যাঃ-যাঃ করে তাড়িয়ে এল

ক্রুদ্ধ কাকের ছানা,

প্রকৃতির সব সবার তরে

হেথায় কেন মানা?


কাকের ডাকে পাখপাখালি

এলো ঝাঁকে ঝাঁকে,

কাবু হলো ধূর্ত শালিক

আর কি সেথায় থাকে?










শনিবার, ১১ জুন, ২০২২

শুধু ছড়ায়...গ্রীষ্মের দুপুর —১৪।। অশোক ব্যানার্জী।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





গ্রীষ্মের দুপুর —১৪

অশোক ব্যানার্জী




দেখি কবে  বর্ষা আসে


 তপ্ত দুপুর 

চড়া রোদ্দুর

মাঝ আকাশে

সূর্য হাসে

অট্ট হাসি !

রাশি রাশি

আগুন ঝরে

যাচ্ছি দগ্ধে

যাচ্ছি পুড়ে।

এই গরমে

মানুষ জন

অতিষ্ঠ বেশ

সর্ব ক্ষণ।

কুকুর গুলো

ধুঁকছে বটে

মাঝে মাঝে

খেঁকিয়ে ওঠে।

কোথায় বর্ষা?

হাহাকার!

নাম গন্ধ

নেইতো তার।

শুনতে পাচ্ছি

উত্তরে

বর্ষা ঢুকলো

এইবারে।

দক্ষিণেতে 

আসবে কবে

এবার সেটা

জানতে হবে।

সেই আশাতেই

আছি বসে

দেখি কবে 

বর্ষা আসে।












শুক্রবার, ১০ জুন, ২০২২

শুধু ছড়ায়...গ্রীষ্মের দুপুর -১৩।। মোঃ ফায়জল বাকী।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




গ্রীষ্মের দুপুর -১৩

মোঃ ফায়জল বাকী 



গ্রীষ্মের দুপুর 


 

গ্রীষ্মদুপুর           ধুঁকছে কুকুর
        ধুঁকছে জীবকুল!
বাইরে তাপ          দেখায় দাপ 
        চোখেও সর্ষেফুল!

গ্রাম-শহরে            তাপ লহরে
       পোড়ায় সারা সৃষ্টি!
খাঁ খাঁ                          ঝাঁ ঝাঁ
      দায় ফেরানো দৃষ্টি!

হা-হুতাশ         ব্যাকুল  বাতাস
       মন যে কেমন করে!
ভরদুপুরে              ধায় পুকুরে
       শীতল হওয়ার তরে!

গাছের ছায়া        করেও মায়া
         লাগেও বড় মিষ্টি!     
লু-বায়                  ভিরমি খায়
           কি যে অনাসৃষ্টি!

জলের কষ্ট           ভীষণ স্পষ্ট
          চিন্তা পাকায় জট;
রোদে পুড়েই,      তেড়েফুঁড়েই-
           জলের ই সংকট!

পুড়ছে ধরা              হচ্ছে খরা
         আসেও চিন্তা বান!
জলের তরেই         ঘুরেফিরেই
           প্রাণটা আনচান!

মরীচিকা                বিভীষিকা
            কণ্ঠাগত প্রাণ,
             তারই মাঝে 
             ব্যস্ত কাজে-
            রাখাল বালক     
            গাড়ির চালক
কণ্ঠ ছেড়েই      গাইছে তেড়েই
          প্রাণ জুড়ানো গান!








বৃহস্পতিবার, ৯ জুন, ২০২২

শুধু ছড়ায়... গ্রীষ্মের দুপুর -১২।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।





গ্রীষ্মের দুপুর -১২
অশোক রায় 




এক গ্রীষ্মের রুক্ষ থাবা 

ভর দুপুর গ্রীষ্মের মুখ
কেমন জানি রুদ্র সুখ
খেটে খাওয়া ঘর্মাক্ত শরীর
শ্রান্তপদে ক্লান্তি গভীর

আকাশ জুড়ে হেডলাইট জ্বলে  
আদিগন্ত  পোড়ে মহাতাপে 
অগুনতি ইমারতের শত শীতাতপ যন্ত্র
সবে  মিলে ছড়ায় আরো গরমের মন্ত্র

সুর হারা সব পাখির দল
পৃথিবী ঘুমায় নীরব নিশ্চল
ক্লান্ত পথিক ফটিক জল 
মেঘ বিরহে তরু ছলছল

নেই নদী সরোবর আমের ছায়া
শহর ছায়াহীন রুক্ষ মরুমায়া
সুনসান পাড়ায় শুধু গ্রীষ্মের দুঃখবেলা
পিওনের খটখট শব্দ ভাঙে ফেরিওলা 

কেউ বেঁচে থাকে কেউ আধমরা
আসবে কবে সেই সুদিন বৃষ্টি-ঝরা
নিয়ে এসো দোতারা বাজাও শঙ্খ
ঈশান কোণে রূপসী মেলেছে পঙ্খ।।