লেবেল

শারদ অর্ঘ্য - মা আসছে—১ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
শারদ অর্ঘ্য - মা আসছে—১ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২ অক্টোবর, ২০২২

শারদ অর্ঘ্য ।। মা আসছে —৩৮।।কাদের পূজা দুর্গাপূজা - ঋদেনদিক মিত্রো।। Ankurisha।। E.Magazine ।। Bengali poem in literature।।





শারদ অর্ঘ্য 

মা আসছে —৩৮




 কাদের পূজা দুর্গাপূজা   

  ঋদেনদিক মিত্রো 


কাদের পূজা দুর্গাপূজা, 

যাদের আছে টাকা, 

কিনতে পারে নতুন পোষাক, 

কারোর বা চার চাকা। 


কিন্তু যারা দিশাহারা -- 

নানা বিপন্নতায়,  

তাদের কাছে পূজা পাবন -- 

কী বা আসে যায়!  


কেউ বা তারা ভিক্ষা করে -- 

কেউ বা করে চুরি, 

ভাত তো অনেক দূরের কথা -- 

জোটেনা কারো মুড়ি। 


তারা যে-সব পোষাক পরে -- 

ধনীর ফেলে দেওয়া,  

বাবুদিগের মন জোগিয়ে --- 

কিছু চেয়ে নেওয়া। 


স্বপ্ন দেখার ইচ্ছে হলেও -- 

তারা অসহায়,

এই পৃথিবীর সব উৎসব --- 

তাদের ফেলে যায়।  


কেউ শিক্ষিত, সৎ ও ধনী, --  

কী যায় আসে তার, 

জটিল, কূটিল তার ওপরে  

করছে অত্যাচার। 


তাহলে ভাই উৎসবেতে -- 

কিসে পাগলপারা,  

কোটি-কোটি মানুষ যদি --

দুঃখে দিশাহারা!   


সেই উৎসব কবে হবে --- 

সবাই সমান সুখি, 

সমান হাসি হেসে সবাই 

সবার মুখোমুখি। 


সেই দিনটা ভাবি এসো -- 

তবে কেমন হয়, 

সেদিন হবে মানব জাতীর --  

সত্যিকারের জয়। 


সব প্রানী আর প্রকৃতিতে -- 

আসবে শান্তি, আর --  

মানুষের হাতে শেষ হবে না 

তাদের অধিকার।   


নানা রকম শক্তি আছেন --- 

মহাসৃষ্টির সাথে, 

তাঁদের নানা রকম রূপে  

মানুষ ধরে রাখে।  


তাঁদের নিয়ে অনেক কিছু 

আছে সত্যাসত্য, 

নাস্তিকতার যুক্তি কি আর 

পাবে সে-সব অর্থ!  


সবই মানি --- সব রকমের 

শক্তির সব রূপ, 

কিন্তু মানুষ প্রেম হারালে -- 

হারায় সকল সুখ।  


বিশ্ব থেকে ভালোবাসা 

হারায় যদি,  তবে --  

সব উৎসব নিঃস্ব হোলো  -- 

বিবেকে অনুভবে। 





 




 

  

শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০২২

শারদ অর্ঘ্য ।। মা আসছে-৩৭।।আবাহন— মলয় সরকার।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





শারদ অর্ঘ্য

মা আসছে-৩৭




আবাহন

মলয় সরকার



অরুণ আলোয় শরত আকাশে,

মেঘের ভেলায় হিমেল বাতাসে,

শেফালী কুসুমে আপনা প্রকাশে-

চিন্ময়ী মা।


নন্দিত প্রাণে, সুমধুর ঘ্রাণে,

যে যেথায় আছে কাছে টেনে আনে,

দুহাত বাড়ায়ে মুক্ত পরাণে-

চিন্ময়ী মা।


বহুদিন ধরে প্রত্যাশা করে,

পার্বতী উমা আসে নিজ ঘরে,

পুত্রকন্যা সব সাথে করে-

চিন্ময়ী মা।


হর রোগ শোক, হর পাপ লোভ,

তোমার পরশে দূর হোক ক্ষোভ,

অসুর শূন্য এই ধরা হোক-

চিন্ময়ী মা।


ভিক্ষাপাত্র যাক দূরে যাক,

তোমার আশিসে প্রাণে বল থাক,

অশুভ শক্তি পুড়ে হোক খাক-

চিন্ময়ী মা।


সকল ব্যথিত হোক না সহাস,

ছিঁড়ে যাক এই কালো নাগপাশ,

মাঠে ঘাটে ফের দুলুক না কাশ,

চিন্ময়ী মা।


ঢাকীর বাদ্যে উঠুক না বোল,

শিশুরা মাতুক হোক কলরোল,

প্রাণে প্রাণে যেন ওঠে হিল্লোল-

চিন্ময়ী মা।

শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২

শারদ অর্ঘ্য।। মা আসছে-৩৬।। জ্যোতির্বৃক্ষ— প্রদীপ্ত সামন্ত।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 


শারদ অর্ঘ্য 

মা আসছে -৩৬


জ্যোতির্বৃক্ষ

প্রদীপ্ত সামন্ত


        বিশ্ব বা বেলের নানান গুণ ,উপকারিতা আমাদের সমাজে বহুদিন আগে থেকেই চলে আসছে। এই নিয়ে বহু পৌরাণিক কাহিনী বর্ণিত আছে। অশ্বমেধযজ্ঞ তুল্য মহাপূজা দুর্গাপূজায় বিল্বের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য সে বিষয়ে কোন দ্বিমত নেই----

        পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মত ভারতবর্ষেও বৃক্ষপূজার প্রচলন ছিল। বড় বড় বৃক্ষ বা মহীরুহের মাথা আকাশচুম্বী হওয়ায় মহীরুহের মাথাকে সূর্যের আসন রূপে কল্পনা করা হত। তন্মধ্যে বিল্ববৃক্ষকে আলাদা মর্যাদা দিয়ে 'জ্যোতির্বৃক্ষ' এর সম্মান দেওয়া হয়। দুর্গাপূজায় বিল্ববৃক্ষের গুরুত্ব সর্বাধিক। ষষ্ঠীর দিন সন্ধ্যায় বিল্ববৃক্ষের পুজো করে দেবীর বোধন হয় এবং ঐদিন দেবী বিল্ববৃক্ষেই অবস্থান করেন। অনেকে বিল্ববৃক্ষটিকেই দেবী দুর্গা বলে মনে করে থাকেন। ষোড়শ উপচারে পুজোর সময় "ওঁ বৃল্ব বৃক্ষায় নমঃ" মন্ত্রপাঠ করতে দেখা যায়। বোধনে সঙ্কল্প মন্ত্রে "ওঁ কর্তব্যে হস্মিন বিল্ববৃক্ষে বার্ষিক শরৎ কালীন শ্রীভগবদদুর্গামহাপূজা কর্মাদিভূত শ্রীভগবদ দুর্গায়া:"--বলে দুর্গাপূজার শুরু হয়। ষষ্ঠী তিথিতে দেবী দুর্গা রূপে বিল্ববৃক্ষেরই পুজো হয়। পরদিন মহাসপ্তমীতে প্রাতঃকালে বৃক্ষের ফল সহ শাখাচ্ছেদন করে নয়টি গাছ বা পত্রিকার সঙ্গে অপরাজিতা লতার ডোর দিয়ে বাঁধা হয় ও নবপত্রিকা বা কলাবৌয়ের স্নান করিয়ে মণ্ডপে আনা হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য নবপত্রিকারও মাঝের একটি পত্রিকা হল বিল্ব। "রম্ভা কচ্চি হরিদ্রা চ জয়ন্তী    

বিল্ব দাড়িম্বি অশোক মানকচু ধান্য নবপত্রিকা"। ন'টি গাছে ন'টি কুলযোগিনীর মধ্যে বিল্ববৃক্ষে দেবীর শিবা রূপ অবস্থান করে। বিল্বফল--" বিল্বং জ্যোতিরিতি আচক্ষতে"--এখানে সূর্যের প্রতীক।


              

বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২

শারদ অর্ঘ্য।। মা আসছে —৩৫।।শারদপ্রাতে— প্রিয়া কুণ্ডু নন্দী।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




শারদ অর্ঘ্য 

মা আসছে —৩৫




শারদপ্রাতে

প্রিয়া কুণ্ডু নন্দী


দুর্গা আমার কাশের বনে,
আজ অপরাজেয়র পথে।
বাঁকা গলি দিয়ে একছুটে বেরিয়েছে,
ধুলো পায়ে আগামীর-
রামধনুর সাত রং খুঁজতে।
সাদা তুলোর মেঘের দল,
তাদেরও পায়ে পায়ে ছুটছে।
সব প্রশ্রয় ঘিরে আশ্রয়,
এই শরতের কোলে খুঁজে পেয়েছে-
আনন্দের শতাধিক রূপ।
আজ ছুটির গন্ধে বিরাজমান,
কল্পনায় মোড়া আলোকবার্তায় -
আজ নিজেকে খুঁজে পেয়েছে ।
ক্যানভাসে আঁকা নীল ললাট ছবিতে,
পদ্মকোরকে ফুটেছে ত্রিনয়নী।
ঢাক, কাঁসারের মিলিত মন্ত্রে,
আজ একত্রিত বাঙালি ।


বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২

শারদ অর্ঘ্য।। মা আসছে —৩৪।।হেমন্তের কোলাজ— প্রেমাংশু শ্রাবণ।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



শারদ অর্ঘ্য 

মা আসছে —৩৪



হেমন্তের কোলাজ

প্রেমাংশু শ্রাবণ


ছেঁড়া মেঘ মিশে গেলে
একফালি গাঢ় কোলাহলে 
মনে পড়ে স্কুলমাঠ,চিলেকোঠা, ঠিক ও বেঠিক
তখন আবেগগুলো  ঢেউ ভেঙে অচেনা আঁচলে বৃষ্টি লেখে,একান্তে জলজ হয়
শরীর মাফিক

এভাবে আঁচল ছুঁলে
মনে মনে অশান্ত খেলায়
কব্জির নিঝুম খোঁজে নাভিমূল, 
নিপুন দুপুর
অভ্যাস গভীরে সেই তুলে আনা
তুমুল বেলায়
মনন জ্বরের ঘোরে
খোঁজে শুধু হেমন্ত নুপুর 

হেসন্ত কোলাজ থেকে উঠে এলে
আদর নিবিড়
কব্জির নিঝুম খোঁজে
আবেগে অক্ষর শিবির।

মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২

শারদ অর্ঘ্য।। মা আসছে —৩৩।।খোলা চিঠি পূজায় দিদির বাড়ি— অসিত কুমার রায় (রক্তিম)।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



শারদ অর্ঘ্য 

মা আসছে —৩৩





খোলা চিঠি পূজায় দিদির বাড়ি

অসিত কুমার রায় (রক্তিম)


স্নেহলতা দিদি-

      অনেকদিন পর দিদি তোর বাড়ি যাব। বেশ কিছুদিন থাকব। জাম্বুকে কিন্তু বলে রাখিস সে যেন মনে কিছু না করে। ভাগ্নাভাগ্নি থাকবে আমার দখলে। এবারের পূজা তোর ওখানে কাটাব ঠিক করেছি। জানিসতো বাবা মা চলে যাবার পর ভীষণ একা হয়ে গেছি। কিচ্ছু ভালো লাগেনা সিঙ্গাপুরের পাঠ সব চুকিয়ে ফেলেছি। আর দরকার নেই ওইসব ঐশ্বর্য। মনের ভিতর খুব দোলাচল একটু শান্তি আর স্বস্তি খুঁজছি। ভাবছি হয়তো তোর ওখানে গেলে পাব। গতবার বলেছিলি তোদের আটচালা পদ্মার গ্রাসে চলে গেছে, মায়ের থান নাকি ভেসে গেছে জলের স্রোতে। গ্রামের সবাই অপ্রস্তুত ছিল তাই শুধু ঘটপূজা হয়েছিল। জাম্বুর এখন বেশ নাম ডাক হয়েছে শুনছি। তাই তোরা নাকি সব গ্রাম ছেড়ে শহরবাসী হয়েছিস। কুছ বাতি নেহি যাব যখন বলেছি যাবই যাব।



       পুরানো অনেক কথা মনে পড়ে যায়। তোর মনে আছে তুই বলতিস - বিয়ের পর আমি যেন তোর সাথে থাকি। তবেই নাকি তুই বিয়ে করবি। বিয়ের পর সব উল্টে পাল্টে গেল। তুই খুব কাঁদতিস - ''ভাই তোকে ছাড়া একটু ও ভালো লাগেনা রে। এরা মোটেই গল্পবলা পছন্দ করেনা, আকাশ দেখেনা। গাছের সাথে কথা বলেনা। নিজে বসানো গাছে যখন প্রথম ফুল ফোটে তার আনন্দই যে আলাদা। এই অনুভব ওদের নেই। তোর জাম্বু ওদের ভিতর একটু অন্যরকম।'' এখন ভাবলে খুব হাসি আসে। ইদানীং মনে হয় তুই এতদিনে ধীরে ধীরে সব মানিয়ে নিয়েছিস।


               তোর হাতের নারকেল নাড়ু অনেকদিন খাইনি। ভাইফোঁটায় আব্দার থাকবে, ছোটবেলার মতন সাজিয়ে ফোঁটা দিবি। দই, চন্দন, ঘিপ শিশিরের ফোঁটা সব যেন থাকে। ঠিক আছে। তোর নতুন বাড়ির বহুতলের ঠিকানায় চিঠি পাঠিয়ে দিলাম। ভালো থাকিস।


সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২

শারদ অর্ঘ্য।। মা আসছে—৩২।।উৎসব — অশোক ব্যানার্জী।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



শারদ অর্ঘ্য 

মা আসছে—৩২





উৎসব

অশোক ব্যানার্জী


 দূর্নীতিতে ভরে গেছে সারাটা দেশ 

পথে ধর্নায় বসে আছে চাকরি প্রার্থীরা

যারা বঞ্চিত,অবহেলিত, লাঞ্ছিত

কবে হবে তাদের যন্ত্রনার শেষ

আজও জানেনা তারা,

তবু মা আসছেন শেষমেশ !


চারদিকে শুধু ক্ষমতার আস্ফালন

মিথ্যার বেসাতি,কাদা ছোড়াছুড়ি !

ক্ষুধার্ত পথ শিশুরা খিদের জ্বালায়

কেঁদে কেঁদে ওঠে বারবার

তবু একটি বছর পরে আবার

মায়ের আগমন !


যে দেশে মধ্যবিত্তদের ওষ্ঠাগত প্রাণ

যে দেশে মুষ্টিমেয় পুঁজিপতিরাই শুধু

সুযোগ সুবিধা পায়

যে দেশে মহিলাদের সম্মান

আজও মাটিতে গড়াগড়ি যায়

সেই দেশে আজও মা আসতে চান !


বড় বিষ্ময় নিয়ে ভাবি আমি আজ

তুমি যেগো মা মহা রণরঙ্গিনী

বিপদ কালে তোমাকে স্মরণ করি

শেষ সম্বল তুমি আছো ভেবে তাই,

তুমি তো মা প্রতি বছরই আসো

তবু কেন আজও এতো অনৈতিক কাজ !


যারা আজও দারিদ্র সীমার নীচে

আধ পেটা খেয়ে থাকে সারাদিন

কখোনোও বা তাদের আহার জোটেনা রোজ

তারা বুভুক্ষু, তারা অসহায় তবু

কবেই বা তুমি রেখেছ তাদের খোঁজ? 

তবেতো মাগো তোমার আসাটা মিছে !


মাগো তুমি আজ আমাদের সংস্কৃতি

মিলে মিশে গেছো আমাদের মজ্জায়

তোমার আসাতে সুরাহা হয় না কিছু

তবু তুমি আসো মাতৃ পরিচয়ে

বছর বছর তোমার আবির্ভাব

এটাই বুঝি এখন একটা রীতি ।


তবু জানি মাগো তোমার আসাটা উৎসব!

তুমি আস তাই শত প্রতিকূলতার মাঝেও

বছরের এই চারটে দিন ধরে

সব ভুলে গিয়ে আনন্দে মাতি সবাই

ভেদাভেদ সব ভুলে যাই কটা দিন

মনে প্রাণে করি উৎসব অনুভব ।








রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২

শারদ অর্ঘ্য।। মা আসছে-৩১।।আগমনী গল্প- অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




শারদ অর্ঘ্য 

মা আসছে-৩১



আগমনী গল্প

অরিন্দম চট্টোপাধ্যায় 



একদিন এখানে শিউলি ভূমির

মতো বিচরণ করতো নীল মেঘ

আজ সব মমির ভেতরের মতো

অন্তর্গত দুঃখ সন্ধ্যা বিছিয়ে

অনন্য মনোভূমি হয়ে আছে পৃথিবীতে 


তবুও চারিদিকে ছড়িয়ে আগমনী গল্প

হাসনুহানা সুবাস সন্ধ্যারাত

রাত্রির আকাশ জুড়ে উত্তরফাল্গুনী

অভ্রকুচির মতো নক্ষত্র আলো

হীরের মতো ছড়িয়ে পড়া প্রত্যুষ

ঘাসের ডগায় লেগে থাকা হিম শিশির

দৃশ্যের ভেতর খেলা করে এখনও আনন্দরাগ



শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২

শারদ অর্ঘ্য।। মা আসছে — ৩০।।বিপরীত বোল- স্মৃতি শেখর মিত্র।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



   শারদ অর্ঘ্য 
মা আসছে — ৩০


            
 বিপরীত বোল
স্মৃতি শেখর মিত্র

শিলাবতী নদী তীরে কাশের গুচ্ছ
গ্ৰামের পুকুরে শাপলা, শালুক,শ্বেতপদ্মের
উপরে ভ্রমরের গুঞ্জনে ও আনাগোনা শুরু
হলেই চিত্ত উদ্বেলিত হয়ে ওঠে, এবার 
আশ্বিনের পদার্পণ হয়েছে বোধহয়। আমার
বাড়ির উঠানে শিউলি গাছটাও ফুলে ফুলে
সাদা হয়ে যায়।মা আসছেন। মায়ের আগমনীবার্তা গ্ৰামে গ্ৰামান্তরে ছড়িয়ে পড়ে এইসব নানান
ফুলের সৌরভে।গ্ৰামের ছেলে ছোকরার দল
প্রস্তুতি নেয় কোন পালা নামাবে এবার।
পূজার কটা দিনে সাজ সাজ রব পড়ে যায়।

ছাড়া ছাড়া ভাব নিয়ে পূজা হয় না। এখন
সরকারী অনুদান চাই।সরকারী অনুদানে
অভ্যস্ত এখন প্রতিটি পূজা প্যান্ডেল। এছাড়াও
বাড়ি বাড়ি চাঁদা তো আছেই। " তোমরা সব আনন্দ
উৎসব করো ।" 

যদিও সেই সম্প্রীতির যুগ আর নেই।
ঢাকে ঢাকে বেজে ওঠে বিপরীত বোলের
বাজনা নামো পাড়া উপর পাড়ায়।

শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২

শারদ অর্ঘ্য।। মা আসছে —২৯।।ওই বুঝি মা আসে - মলয় সরকার।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





শারদ অর্ঘ্য

মা আসছে —২৯



ওই বুঝি মা আসে

মলয় সরকার


শরতের আকাশে

ছোট ছোট মেঘ ভাসে,

কোনোটা কাজল কালো

কোনোটা বা ফ্যাকাশে।

দেখে ঠিক বুঝে যাই-

আর তো সময় নাই-

ওই বুঝি মা আসে।


শরতের শিউলি

ঝরে পড়ে কাক ভোরে,

কখনও মাটিতে শোয়-

কখনও হাওয়ায় ওড়ে।

গন্ধ ছড়ায় সে

আকাশে বাতাসে,

তখনই বুঝতে পারি

ওই বুঝি মা আসে।


মাঠে ঘাটে জলাতে

চারিদিক আলো করে,

হাসিতে খুশীতে ভরে

মাতে খুব খেলাতে,

গোছা গোছা চামরে

কাকে যে বাতাস করে

ঝাঁকে ঝাঁকে সে কাশে,

তখনই যে বুঝে যাই-

আর তো সময় নাই,

আলোর পাল্কী চড়ে 

ওই বুঝি মা আসে।


ছুটি ছুটি মনটা,

ইস্কুলে পড়া শোনা

গুটানোর ঘন্টা,

মন যেন ছুটি চায়

কোথা যেন উড়ে যায়-

সোনার রোদের সাথে 

কত খেলা মনে আসে।

বুঝি আমি এইবার

মোটে দেরী নাই আর,

ঢাকের বাদ্যি তাই

বোল তোলে চারিপাশে।

ছেলেমেয়ে সব নিয়ে

কদিন বাপের বাড়ি

নিশ্চয় মা আসে।


বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২২

শারদ অর্ঘ্য।। মা আসছে —২৮।।স্মৃতিকথা- নীলোৎপল জানা।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




শারদ অর্ঘ্য 

মা আসছে —২৮



স্মৃতিকথা

নীলোৎপল জানা


দেখতে দেখতে প্রায় কুটি বছর কাটিয়ে দিল সে আমার সাথে।

মনে করতে চাই না সেই দিনটিকে তবুও

একদিন কলেজ থেকে বেরিয়ে বাস ধরব বলে স্ট্যান্ডে 

খবর পেলাম বাস বন্ধ,রাত দশটার আগে চলবে না।

বামদিকে ফিরতেই দেখি পরিচিত মুখ কিন্তু নাম জানিনা--

আমি একটু এগিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম তুমি কোথায় যাবে?

কাঁপা কাঁপা স্বরে বলেছিল বকুল তলা।

অথচ আমি যাবো নন্দকুমার!

সেদিনের মতো এত অসহায় আমার আর লাগেনি কখনো

একটি রিক্সায় উঠলাম দুজন,এই প্রথম কোনো মেয়ে সহপাঠীর সঙ্গে অনেক কথা হল

ঘন্টা খানেক বাদে গন্তব্যে কিন্তু সামান্য সময়ের বন্ধুত্ব আজও অটুট।

"আমরা দু'জনা স্বর্গ-খেলনা গড়িব না ধরণীতে

মুগ্ধ ললিত অশ্রুগলিত গীতে॥

পঞ্চশরের বেদনামাধুরী দিয়ে

বাসররাত্রি রচিব না মোরা প্রিয়ে--

ভাগ্যের পায়ে দুর্বল প্রাণে ভিক্ষা না যেন যাচি।

কিছু নাই ভয়, জানি নিশ্চয় তুমি আছ আমি আছি।"

বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২

শারদ অর্ঘ্য।। মা আসছে —২৭।।বিশ্বজননী— জয়শ্রী সরকার।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।





শারদ অর্ঘ্য 

মা আসছে —২৭



 বিশ্বজননী

জয়শ্রী সরকার

বিশ্বজননী কথা নয় শুধু অবর্ণনীয় শব্দ এক
কর্ণকুহরে সুধা-অমৃত হৃদয় মাঝেতে বাদ্য এক।
শরতের সোনা রোদ্দুর মেখে বিশ্বজননী আসে
দুই বাংলারই আপামর লোক হাসি-আনন্দে ভাসে !

দুধসাদা ওই কাশের বনে শরৎরানি হাসে
আকাশ মাঝে নীলপরিরা সুখসায়রে ভাসে।
মৃণ্ময়ী মা বিশ্বজননী --- চিন্ময়ী মা ঘরে ঘরে
দুঃখ-সুখের অশ্রু-সাজিতে অঞ্জলি দেয় প্রাণ ভরে !

মা হওয়া মানে দেহসুখ নয়, মা হওয়া হ'লো আবাহন
মা হওয়া মানে শুধু ত্যাগ নয়, মা হওয়া হ'লো বড় মন।
মায়েরাই পারে সব ছেড়ে দিতে সন্তান শুভকামনায়
মায়েরাই পারে সব সয়ে নিতে আত্মজ সুখবাসনায় !

মা হওয়া মানে অনুভব শুধু, মা হওয়া হ'লো অন্নদা
মা হওয়া মানে আত্মজধন, মা হওয়া হ'লো বরদা।
মায়েরাই জানে মালা গেঁথে দিতে দুঃখ-সুখের কুঁড়ি নিয়ে
মায়েরাই জানে সব মেনে নিতে ভালোমন্দের সিঁড়ি দিয়ে!

মা হওয়া মানে প্রত্যয়ী মন, ত্যাগের মাঝেই টিকে থাকা
মা হওয়া মানে সর্বংসহা চলতে চলতে ফিরে দেখা।
মায়ের আসার বার্তা পেয়ে শিউলি-টগর সবাই ফোটে
আনন্দেতে আমবাঙালি ফুল্ল হয়ে সদাই ওঠে !

মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২২

শারদ অর্ঘ্য।। মা আসছে —২৬।।মহিষাসুরমর্দিনী* বিকাশ দাস ।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




শারদ অর্ঘ্য 

মা আসছে —২৬



*মহিষাসুরমর্দিনী*

বিকাশ দাস

 

আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষে

শরতের আকাশে নীল সাদা মেঘের ভেলা।

মাটির আকুলতা। শস্যের শ্যামলতা।  সবুজের মেলা।

চতুর্দিকে একতা পুনর্মিলনের আগমনী সুর ভেসে আসে।

ঘরে ঘরে শিউলি ফুলের মনোময় সুবাস। হিমেল ছোঁয়া বাতাসে।

স্নিগ্ধ কোমল পরশ, শিশির বিন্দুর সরস পরতে পরতে দূর্বা ঘাসে।

প্রকৃতির প্রণীত কোলে, কাশফুল দোলে বিনোদিত উল্লাসে।

যেন আজ নিমগ্ন ত্রিভূবন। অপার মহিমা মৃন্ময়ীরূপ দেখার আবেগ বাসনায় 

এ’পুণ্য তিথিতে সারা জগত চরাচর তীর্থ, আকুল আনন্দোচ্ছল উপাসনায় । 

 

তুমি মহামায়া সনাতনী। শক্তিরুপা। মহাবজ্ররুপিনী।

গুণময়ী। জগত পালনকারিণী মমতাময়ী মাতৃরূপিণী।

মহালক্ষ্মীরূপিনী। সমস্ত চরাচরে পূজিতা দেবী নারায়াণী।

মানুষের অন্তরে অন্তরে বহুরূপে তোমার অধিষ্ঠান জানি।

কখনও ক্ষান্তিরূপে, জাতিরূপে, লজ্জারূপে, শক্তিরূপে, শান্তিরূপে

কখনও শ্রদ্ধারূপে,  কান্তিরূপে,  লক্ষ্মীরূপে, বৃত্তিরূপে,  স্মৃতিরূপে

কখনও দয়ারূপে, তুষ্টিরূপে,মাতৃরূপে, ভ্রান্তিরূপে, দেবী দুর্গারূপে

আবির্ভূতা এক মহাশক্তি মহামায়া।

 

তুমি জগজ্জননী।        অপার পরমা প্রকৃতিরূপে পূজিতা।

ভিন্ন ভিন্ন নাম-কীর্তনে অভিহিতা। বিশ্বচরাচরে সুসজ্জিতা।

তুমি নির্মলা কুমারী রূপধারিণী ।

কখনও নৃমুণ্ডমালিনি চামুন্ডা। তুমিই তমোময়ী নিয়তি। দশপ্রহরণধারিণী

তুমি শত্রু দহনে অগ্নিবর্ণা। অগ্নিলোচনা। চৈতন্য শক্তির রূপান্তরকারিণী।

কখনও জয়দুর্গা, জগদ্ধাত্রী, গন্ধেশ্বরী, বনদুর্গা,কখনও কাত্যায়িনী, যোগনিদ্রা কালী, গৌরী

কখনও জলোদরী, শ্যামা, বৈষ্ণবী, অন্নদা, কখনও আনন্দময়ী,শাকম্ভরী, কৌশিকী, ভ্রামরী।

কখনও মহিষ-মর্দিনী,শূলিনী,ভারতী,অম্বিকা কখনও গিরিজা, বৈষ্ণবী পার্বতী, কালিকা,

কখনো কৌমারি, বাহারী, চণ্ডী, লক্ষ্মী, উমা,কখনও হৈমবতী, কমলা, শিবাণী, বালিকা।

 

দুর্গার সমস্ত অস্ত্র-শস্ত্র-বাহন-যান

নর দেবতারাই  করেছেন প্রদান।

নারীর দেহে পুরুষ শক্তির অবদানে, আবির্ভূতা রক্ষাময়ী দুর্গা দুর্গতিনাশিনী।

দশভূজা দশদিক উদ্ধার করার প্রতিশ্রুতির প্রতীক। ঘর-সংসারের মঙ্গলকারিণী। 

পূর্ব-পশ্চিম,উত্তর-দক্ষিণ, ঈশান,বায়ু, অগ্নি,নৈর্ঋত, ঊর্ধ্ব ,অধঃ দশপ্রহরণ ধারিণী।

 

দেবগণের অস্ত্র সৌজন্যে দুর্গা মহামায়ার শক্তি। অশুভ অমঙ্গল বিনাশকারিণী।

 

মহাদেব দিলেন ত্রিশূল৷ যার তীক্ষ্ণফলা ত্রিগুণের নিদর্শন।। সত্ত্ব,রজঃ,তমঃ।

বরুণদেব দিলেন শঙ্খ। যার মঙ্গলময় ধ্বনি সৃষ্টির প্রাণ সঞ্চারিণী। জন্মদাত্রী সম। 

 

বিষ্ণু দিলেন চক্র৷ পরিক্রমার সমস্ত সৃষ্টির বিন্দুতে অস্তিমান কল্যাণময়ী জননী।

যমরাজ দিলেন গদা । সততা,ভালোবাসা,ভক্তির কেতন সমৃদ্ধি সম্পূর্না ধরণী।

 

দেবরাজ ইন্দ্র দিলেন বজ্র । দৃঢ়তা ও সংহতির নিদির্ষ্ট লক্ষ্যের প্রতি নিষ্ঠাপরায়াণ

নাগরাজ দিলেন সর্প । বিশুদ্ধ চেতনার ও বোধিসত্বের জীবন্ত প্রমাণ বিরাজমান ।

 

সিদ্ধিদাতা গণপতি দিলেন খড়্গ। বিবেক বুদ্ধির প্রতীক৷ অশুভকে করতে জয়

পরম মোক্ষের  নিদর্শন। সাহস আত্মশক্তির পরিচয়। সতত উদ্যত ময় অভয়।

 

পবনদেব দিলেন ধনুর্বাণ। শক্তির নিশান। সহজাত শক্তির প্রকাশ ধনুষ্টংকার।

অগ্নিদেব দিলেন অগ্নি । জ্ঞান-বিদ্যার উজ্জ্বল সঞ্চার । নির্মূল করে অহংকার। 

 

সূর্যদেব প্রদান করেন কাঞ্চন বর্ণের সৌন্দর্যময় আলোকিত দ্যুতির স্নিগ্ধ আভা ।

কুবের অলংকৃত করেন রত্নহার ভূষণ অলঙ্কারে। চোখ জুড়ানো রূপের শোভা । 

করুণাময়ী ধারিত্রীদেবীকে চন্দ্র দেব দিলেন জ্যোতির্ময়ী কোটি কোটি চন্দ্র প্রভা

স্নেহমাখা মমতায় কন্যা,জায়া জননী এক অপূর্ব রূপের মুগ্ধতার পুণ্যতর আভা।  

 

বিশ্বকর্মা দিলেন দুর্ভেদ্য কবচ-কুণ্ডল আর অক্ষয় বস্ত্র। কুঠার ও ঢাল। 

হিমালয় দিলেন সিংহ। তেজ আর শক্তির পূর্ণতায় মহীয়ান সর্বকাল। 

 

দেবতাদের সঙ্ঘবদ্ধ তেজ-মহাশক্তি-মহামায়ায়, দুর্গা দুর্গতিনাশিনী

রণদুন্দুভিধ্বনিতে সিংবাহিনী, চন্দ্রমুকুটধারিণী, শঙ্খচক্রত্রিশূল ধারিণী

অপার রূপে রণচণ্ডী মহিষাসুরমর্দিনী। শক্তিশালিনী, সর্বমঙ্গলা বিপত্তারিণী ।

প্রকৃতিসরুপিনী পরমেশ্বরী, করুণাময়ী, শান্তিদায়িনী, কল্যাণকারিণী। 

 

শান্তি ও সংগতি

জীবনের মর্মগতী

শঙ্খধ্বনি উলুধ্বনি ঢাক ঢোল কাঁসর মন্দিরার ঝনৎকার

মাতৃবন্দনায় নিমগ্ন চিত্ত। দুর্গার শরণে সারা জগৎ সংসার।

 


সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২

শারদ অর্ঘ্য।। মা আসছে... ২৫।।মা আসছে - জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





শারদ অর্ঘ্য 

মা আসছে—২৫



মা আসছে 

জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় 


কোথায় যে তার চরণ দুটি পড়ে
মাঠের আলে,নদীর বুকে, ফুলে
মেঘ কুয়াশা গাছের পাতায়,
আলোর পাখায় কাশেরা তুলতুলে।

শিউলিতলায় ফুলের বিছনখানি
গন্ধ মধুর ভরেছে সবখানে
পথ পেতেছে বুকটি তোমার আশায়
শালুক ডোবাও মুক্তোবিলাস জানে।

বাতাস রাখে আলতো ছোঁয়া খানি
খুশির পালক গোপন রাখা নেই
মা আসবেন তৈরি সবাই আছে,
প্রকৃতি তার রূপে বোঝাবেই।

কোথায় ছিল অবহেলার কাশ
হঠাৎ দেখি সেই যে মাঠের রানি
আমরা বুঝি ভুলেই বসেছিলুম
ওরা সাজায় অপূর্ব ফুলদানি।

ঢাক ও ঢোলের চর্চা দিকে দিকে
শাঁখের ধ্বনি বড্ডো বুকে বাজে
কে গেয়ে যায় দূরের আগমনি
মা আসে ওই পুলকসবুজ সাজে।

রবিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২

শারদ অর্ঘ্য — মা আসছে —২৪।।নিমাই জানা।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



শারদ অর্ঘ্য 

মা আসছে —২৪



জায়মান ইশ্বর ও পৃথিবীর ধ্রুবপদ শরীর খন্ডকগুলো

নিমাই জানা



পৃথিবীর সব কর্কটক্রান্তীয় অসুখ ভুলিয়ে দিয়ে জায়মান ব্যবচ্ছেদহীন ষড়রিপু নিশ্চিহ্ন করছেন আগুনের তৃতীয় বৃহত্তম ব্রহ্মাস্ত্র ক্লোরোফিল দিয়ে ,

মহামায়ার আদিম হাতে দশম তীর্থ , বুকের মাঝে সংগীত আর ব্রহ্ম পদ্মের ভেতর চক্ষুরুন্মিলিতং সৃষ্টির জৈবিক স্বরধ্বনি
মহাকাল ডাকছেন ,  মহাকাল ভাঙছেন ,  মহাকাল জীবাশ্ম খাচ্ছেন , অনিষ্টের প্রলয় সত্বা দুই হাতে ভরে নিয়েছেন আবির্ভূত মহা জাইগোটের আনন্দধারায় , সব সত্যিই , সব কর্মই মিথ্যা
শক্ত হয়ে যাচ্ছে আমার '  র ' চিহ্নের জিভ , সারাৎসার টেনে নেওয়ার মতো কালিদহের শৈলোৎক্ষেপ নিয়ে ঈশ্বরের অভয়ারণ্যে পরমাত্মার বৃত্তীয় বলয় হয়ে ঢুকে যাচ্ছি আমরা সবাই , বিষ্ণু নেই ,  বিষ্ণুর কোন চক্র নেই , আসলে প্রতিটি চক্র সূর্যের কাছে আত্মসমর্পণ করে নিয়েছে দক্ষ যজ্ঞের লেলিহান শিখার পর

কোন কোন বীজগণিতের উপর আজও পবিত্র বানপ্রস্থ শুয়ে থাকে প্রতিদিন আমার শান্ত ও সমাহিত ঈশ্বরী কর্মযোগের শ্বেতপত্র রেখে যায় ব্রহ্ম খন্ডকের কাছে , প্রতিদিন ছেঁড়া বস্ত্রের ভেতর থেকে অযুত সাংখ্যমানের ঈশ্বরীরা উঁকি দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে গলিত ফুটপাতে ,  ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকলেই নাকি মৃতজীবী ছত্রাক গুলো কেন্নোর মতো আবার দেহ পেঁচিয়ে ওঠে , সুজাতা রঙের পদ্মের হদিস কোনদিনই কেউ রাখতে পারেনি বলে প্রতিদিন একটি করে পদ্ম লুকিয়ে ফেলেন মহামায়া , পুরোহিত করোটির ভেতরে থাকা অক্ষিগোলক দিয়ে পুজো করছেন

ক্ষুধার্ত রাত আঁৎকে উঠলে কোন নিয়ন চোখের নিচে রিরিংসা গলনাঙ্ক বিহীন মিথাইল অ্যালকোহল খুঁজে নেয় একটা ফেরোশিয়াস স্ফটিক গেলাস মাত্র , ফুটো হচ্ছে তলপেট , করোটির ভিতরে জমছে থ্রম্বাস , কেড়ে নিচ্ছি গোপনাঙ্গ , এবার মা আনন্দনিকেতন কত দূরে বলতে পারবেন বোধহয়
মহাজ্ঞানী জনকের মতো আমরা কেউই নই , তিনি আঁকছেন প্রতিটি মানুষের ভেতর দরজার কক্ষপথ , এখানে প্রতিটি মানুষ নিজের ভেতর থেকে এক একটি কৈলাশ শহর নামিয়ে আনে শিব চতুর্দশীর দিন
মহাযোগ শিখছি মায়ের কাছে, কঠিন পরাবৃত্তের মুক্ত প্রাণীর মতো আমাদের শরীরে প্রলয় শিখা জেলে দিচ্ছেন আধ্যাত্ম্যিক পুরুষ
কোন অন্তর্বাসের নিজস্ব রং নেই বলে আলোকবর্ষ থেকে যোজন কক্ষে নেমে আসা এক অপার্থিব কৃষ্ণ মেতে উঠবেন সংকট নিরসনের জন্য

অনন্ত বিজয় বাজিয়ে ইছামতী ঈশ্বরী সাদা অপরাজিতার গর্ভদণ্ডগুলো স্থাপন করে যাবেন বিলীয়মান মানস সরোবরের তীরে , পুরোহিতেরা স্বরবর্ণ হয়ে উঠছেন অনঘ অর্জনের মতো।









শনিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২

শারদ অর্ঘ্য।। মা আসছে —২৩।। মা আসছেন — মলয় কুমার মাঝি।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




শারদ অর্ঘ্য 
মা আসছে —২৩



  মা আসছেন
মলয় কুমার মাঝি


আচ্ছা মা তুমি বলতো গত বছর সেই যে গেলে
তারপর কোন খোঁজ নাই!যাবার আগে কত-কথা বললে তোরা ভালো থাকিস,সুখ-শান্তিতে থাকিস!তোরা আমার সন্তান।
দেখতে-দেখতে কত বছর-কাল-যুগ পার হয়ে গেলো;
নীলাকাশের কোলে সাদা মেঘ ভাসে,হিমের হাওয়াই, সবুজ ঘেরা মাঠের পাড়ে,কাশ বন যৌবনে উঠে ভরে,
হদুল গায়ে সাদা শাড়ির ভাঁজে নাঁচ দোয়ারে এক দুষ্টু-
হাসির রমনী,
অপূর্ব সুগন্ধে ভরিয়ে তোলে শিশুদের শিশিরে ভেজা মন-মা আসছে,

হঠাৎ যখন বাতাসে বারুদের টাটক গন্ধ হৈ-চৈ
মাটির বুকে রক্তের স্রোত,চাষির ঝুলন্ত দেহ,অলিতে- গলিতে কুকুরের কান্না ভেসে আসে,দিন-দরিদ্র সংসারের অভাব, এক মা আসছেন বাপের বাড়ি আর
এক মা স্নিগ্ধ অশ্রু বিসর্জনে শিশুর মন ভোলায়,

নব পল্লবের নব প্রতিশ্রুতি মা ফিরে যাবে আবার ভুলেও যাবে,এই ভাবেই চলে যাবে,চলে যাবো তুমিও-আমিও কালের স্রোতে,তখনও মা আসবেন হাসি মুখে...






শুক্রবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২

শারদ অর্ঘ্য।। মা আসছে—২২।।আলোর বেণু বাজে— দীনেশ সরকার।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





শারদ অর্ঘ্য 

মা আসছে—২২



আলোর বেণু বাজে

দীনেশ সরকার


মা আসছে তাই বাদল মেঘ যে নিয়েছে আজ ছুটি
নীল আকাশে লক্ষ তারা উঠেছে ওই ফুটি ।
আকাশ বাতাস মুখরিত আলোর বেনু বাজে
উড়ু-উড়ু মন যে সবার বসে না আর কাজে ।

উদাস বাউল আগমনি গানের সুরে সুরে
মায়ের আগমনের বার্তা জানায় ঘুরে ঘুরে ।
আসছে মা যে গজে চেপে এবার বাপের বাড়ি
শস্যভরা বসুন্ধরা কৃপা হ'লে তারই ।

ঢ্যাম-কুড়া-কুড় ঢাকের বাদ্যি পুজোর গন্ধ আসে
শারদ প্রাতে মায়ের পুজো পুলকে সব ভাসে ।
চিন্ময়ী মা'র মৃণ্ময়ী রূপ দেখবো দু'চোখ ভ'রে
খুশির স্রোতে ভাসবো সবাই এবার মায়ের বরে ।

দু'টো বছর কেটেছে যে মনে ব্যথা নিয়ে
হাত-পা সবার ছিল বাঁধা বিধি-নিষেধ দিয়ে ।
সে দুঃসময় আর যেন না ফিরে মাগো আসে
তোমার আশিস্‌ যেন মাগো সকল বিঘ্ন নাশে ।

এবার পুজোয় করবো মজা মায়ের কৃপা হ'লে
আনন্দেতে মাতবো সবাই ঘুরবো সদলবলে  ।
আলোর রোশনাই মন্ডপেতে পড়বে কাঠি ঢাকে
ছোটবড় সবাই মিলে দেখবো দুর্গামাকে ।










বৃহস্পতিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২

শারদ অর্ঘ্য।। মা আসছে—২১।।শরৎ চিত্র — রবীন বসু।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




শারদ অর্ঘ্য

মা আসছে—২১




শরৎ চিত্র

রবীন বসু


এই যে শরৎ সকাল

উৎসব আর কাশের দোলা লাগছে

মৃন্ময় পৃথিবীর হৃদপাঁজরে

কম্পনে কম্পনে জেগে উঠছে ঢেউ

আনন্দলহরি…

বৃক্ষরা নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে

পাতার মর্মরে ছেদনের দীর্ঘশ্বাস।

আবিশ্ব উষ্ণ হচ্ছে

মানুষ ক্রমশ শিথিল

স্বপ্নহীন অভাবদীর্ণ আঙিনায়

শিউলি পড়ে আছে তবু।

তার শুভ্র হাসি, কেন ফুটছে না

ফুটপাতে বসে থাকা ওই শিশুর মুখে!











বুধবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২

শারদ অর্ঘ্য।। মা আসছে..২০.।। মা আসছে— মৃত্যুঞ্জয় হালদার।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





শারদ অর্ঘ্য 

মা আসছে—২০



মা আসছে

মৃত্যুঞ্জয় হালদার

মা আসছে
ভাসেনা মায়ের মুখ
হা হুতাশ করে ওঠে মন
দুমড়ে মুচড়ে যায় বুক।

মায়ের মুখটা ভেসে ওঠে
দুগ্গা মায়ের মুখে
দেখতে দেখতে চোখ ভিজে যায়
কিযে পরম সুখে।

হারানো মাতৃ-সান্নিধ্য ফিরে পেতে
মন মরিয়া হয়ে ওঠে
এক এক সময় পাগলের মত
দিগ্বিদিকে ছোটে।

বিশ্ব জননীর মুখে কি করুন কান্না
সহ্যের ও অতীত, আর না আর না
মা আসছে তবুও আমার মা আর আসবে না।










মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২

শারদ অর্ঘ্য।। মা আসছে —১৯।।এল পুজো রে — মুক্তি দাশ।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




শারদ অর্ঘ্য 

মা আসছে —১৯



এল পুজো রে

মুক্তি দাশ


রোদ    ঝলমল করে আকাশে,
মন      ভেসেছে খুশির জোয়ারে—
শরৎ     এসেছে। শিউলি ও কাশে
বুঝি     লেগেছে রঙের ছোঁয়া রে!

শারদ-   শোভা কি দেখেছ তোমরা ?
মাঠ       ভরে আছে ঘন সবুজে,
ফুলে-    ফুলে প্রজাপতি ভোমরা—
দেখে     দু’চোখ ভরে না তবু যে!

হবে    আগমন দেবী দুর্গার;
বুঝি    খুশিতেই অশ্রু ঝরে—
ঢাকী   এসে গেছে কোন্‌ দূর গাঁ-র
ঢ্যাম    কুড়-কুড় — এল পুজো রে!

নয়     পুজোর বাজনা শুধুই,
বুকে    আরো এক বাজনা বাজে –
পুজোর  ছুটিতে বিদেশ বিভুঁই
থেকে   আসবে আমার বাবা যে!