লেবেল

গুচ্ছ কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গুচ্ছ কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২১

গুচ্ছ কবিতা ।। মায়া দে।। Ankurisha ।। E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 





গুচ্ছ কবিতা 

মায়া দে



১.

বোধন


আমার একলা রাতের আকাশ

এক একটা মুক্তোর টপটপ ঝরে  পড়া -কপোল বেয়ে

 চিবুক গড়িয়ে।

দু চোখের রঙিন প্রজাপতি গুলো ফের শুঁয়োপোকার সারি।

আঁতকে উঠি।

বাড়িয়ে দেওয়া হাতটা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল---

কেন এত বৈরাগ্য?

এর বিশ্লেষণে আমি যাবো না।

কারণ...  

ভালোবাসার বোধন জানি

বিসর্জন মানি না।




২.

অন্ধ 


বিশ্ব জোড়া সন্তান যাঁর 

  মা কি আমার একার?


এতো আয়োজন এতো উপাচার

এসবের কি দরকার?


কিসের ষষ্ঠী ,  কিসের  দশমী

কিসের বিজয়া তবে?


অবোধ ছাগল মুরগি ও যদি

রক্ষে নাহি পাবে।


মানুষেরই শুধু পুজোপার্ব্বণ

 মানুষই  শুধু খাবে


মাংস লোভী মানুষ।

মা মুখ ফিরিয়ে রবে?


মানুষ ভাঙে প্রতিমার মাথা 

মানুষই করে পুজো


মনের চোখ বন্ধ রেখে 

বাইরে দেবতা খোঁজ?





৩.

একটা বাগান


একটা বাগান। তোমার আসা যাওয়ায় 

লাল নীল ফুল পাখি প্রজাপতি। দিন রাত জোৎস্না।

ভালোবাসার চন্দন সুভাষ।

তুমি আমি রোজ বাগান সাজাই । আর স্বপ্নের পাহাড় জমে - একটা নতুন ঘর ও।

প্রজাপতি ঠোঁট ছুঁয়ে গেলে আমি দুহাতে মুখ ঢাকি।

শিহরণে বাগানের ফুল গুলো আরো আরো সুন্দরী হয়।


মেঘগুলো যেমন নীচ থেকে উপরে ওঠে

আবার জন্ম দেবে   জন্ম দেবে

তাই , ভারী গর্ভবতী মেঘ মাটির কাছে নুইয়ে পড়ে।

মাটির বুকের উপর তার আধার।


তেমনি থোকা থোকা ফুলগুলোর ও গর্ভ সঞ্চার হচ্ছে।

নুইয়ে পড়বার মুহূর্তেই তুমি নেই

জন্ম দেবে  জন্ম দেবে বলে ও

সন্তান সম্ভবা ফুলগুলো---


বাগান ময় শূণ্যতা।

বাগানে তোমার আসা যাওয়া নেই।










শনিবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

বইমেলা সংখ্যার কবিতা ।। অনিন্দিতা শাসমল

 



বইমেলা সংখ্যার কবিতা   


অনিন্দিতা শাসমল

১.

 সৃষ্টিসুখ


আনন্দ ও বেদনার বোধ থেকে যদি কথারা উঠে আসে ,

অন্তরে  কবি হয়ে ওঠা যখন ;

তখনই কবিতার জন্ম।


মা আর প্রকৃতির কাছে শব্দের ঋণ ,

যেমন প্রজাপতির কাছে ঋণ ফুলের ।

না বলা অস্ফুট কথায় প্রাণসঞ্চার ।


অবাধ‍্য কলম খাতার সাদা পাতায়

আঁকিবুকি কাটে।

রঙ তুলি পরম মমতায়

মনের ক‍্যানভাসে ছবি হয়ে ফুটে ওঠে,


প্রথম স্তন‍্যদানের মতো সৃষ্টিসুখ।


২.

স্বপ্ন-কাজল


মন খারাপের একলা রাতে

বানভাসি জোছনায়,

দেখতে পেলাম তোমার ছবি 

স্মৃতিরই আয়নায়। 


দুগাল বেয়ে জলের ধারায়

তোমার আঙুল ছোঁয়া ;

তোমার ভেজা ঠৌঁটের স্পর্শে

ভালোবাসা আর মায়া।


অপেক্ষা তার ফুরোয় না যে,

চাঁদের নরম আলো মেখে,

স্বপ্ন কাজল পরেছে মেয়ে

নীরব ভাষার দুটি চোখে।


 

৩.

তোমার চেয়ে


দই বেগুনের রেসিপিটা কিছুতেই মনে পড়ছিলনা।

আগে হলে ,সঙ্গে সঙ্গে ফোনে জেনে নিতাম।

আজ পূর্ণিমার আকাশের দূরতম নক্ষত্র ,ভরা জ‍্যোৎস্নার ঔজ্জ্বল‍্যে ম্লান।

দ্বিধা হল,পারলাম না।


তুমি বিরিয়ানি মশলা এনে না দিলে, কিছুতেই ভালো বিরিয়ানি হয়না-- তুমিও জানো। তবু  মশলা ছাড়াই কোনোরকমে রান্নাটা হল।

ভালোই হল,যদিও সেই স্বাদ এলোনা।


তোমার বুকের উষ্ণতা ছাড়া ঘুম আসেনি কোনোদিন..

সারাদিন পরিশ্রমের পর, ক্লান্ত চোখে তন্দ্রা নামে; তাও অনেক রাতে।

ঘুমের ওষুধের ঘোরলাগা রাত পার হয়ে যায় ঠিক। ঘুমন্ত মুখে , ঠোঁটের কোণে সুখের হাসি ফোটে না আর ।


তোমার চেয়ে ভালো কে জানে এসব কথা ?



৪.

আমি অপেক্ষায়


টুসু পরব চলে গেল ,

শীত শেষ হতে চললো...

কাঁসাই এর তীর 

কুয়াশায় রহস‍্যময় ।

অনেক দূর থেকে ট্রেনের বাঁশি শুনে ছুটে গেলাম;

কোথায় ! তুমি নামলে না তো !


ওভারব্রীজের নীচে গিয়ে  দাঁড়ালেই ,

বহুবছর আগের মতো 

আমি আজও তোমার সেই হাসিমুখ দেখতে পাই।

অনুভব করি তোমার প্রথম হাতের ছোঁয়া..


রূপসী বাংলা আর আরণ‍্যকের কামরায় 

আমাদের কত স্মৃতিকথা লেখা...

পলাশের দিন এল বলে ! 

অন্তবিহীন পয়লা ফাগুন ! 

আমি অপেক্ষায় .. 

আজীবনের প্রতীক্ষায়..



৫.

 চিরস্থায়ী হয়না কিছুই


একটা রোগ এত কিছু কেড়ে নিল !

প্রেম ভালোবাসা বিশ্বাস আস্থা বন্ধুত্ব 

এমনকি একটুকরো অংহকারও !


আসলে,অতিমারী- আতঙ্ক কাটিয়ে,

ভালো থাকার আর সবাইকে ভালো রাখার 

কথা ভাবতে গিয়ে,

নিজেদের দিকে ফিরে দেখার সময়ই হয়নি !

আবেগের কথাগুলো ? 

নাঃ ! বলা হয়নি ।

ভাঁজ করা দামি শাড়ির মতো আলমারিতে সযত্নে গোছানো থেকে গেছে !

দীর্ঘদিন পরে বের করে 

দেখি,পোকায় কাটা অজস্র ছিদ্র ! 


প্রতিদিন ব‍্যবহারে রঙ চটে আসা শাড়িটাও কত আপন!

অথচ ওই দামি শাড়িটার দিকে তাকিয়ে চুপ করে বসে থেকে, আবার তাকে তেমনি ভা়ঁজ করেই রেখে দিতে হয় মন খারাপ নিয়ে।


চিরস্থায়ী হয়না কিছুই।

না পোশাক না আবেগগুলো..

ব‍্যবহারে রঙ চটে,

অব‍্যবহারে হয় মরচে ধরে নয় পোকায় কাটে, নয় ভাঁজে ভাঁজে ছিঁড়ে যায় ..


করোনা ! 

তুমি অপেক্ষার মন্ত্র শেখালে ! 

বেদনায় নীল হয়েও,

বেঁচে থাকতে শেখালে !

জীবনের সুন্দর মুহূর্তগুলো কেড়ে না নিয়ে , 

তুচ্ছাতিতুচ্ছ এই জীবনটা নিলেই তো পারতে !




---------------------------------------------------------------------

আরও পড়ুন 👇👇👇👇👇👇👇   

         

মতামত জানান  👆👆👆👆   


--------------------------------------------------------- 


   https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/02/blog-post_5.html



সোমবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

গুচ্ছ কবিতা।। ত্রিপর্ণা ঘোষ

 


গুচ্ছ কবিতা

ত্রিপর্ণা ঘোষ

১.

প্রবাহমান


কথা ছিল হেঁটে যাব,

জীবন নদীর গতি বেয়ে;

পাহাড় থেকে সমতল,

শত পরিবর্তনের শেষে,

মিলব আবার একই সাথে।

খরস্রোতা,ঝড়,ঝঞ্জা

আসবে যদি আসুক;

দৃঢ় বন্ধনে বাঁধব তখন,

একটি শ্রোতেই ভেসে যাব দুজন।


হাজার প্রতিশ্রুতি এইভাবেই ছিল সাজানো,

যা হারিয়েছে অজানা এক বন্যায়।

বন্যা শেষে আজও জেগে বালুচর,

স্মৃতির মণিকোঠা হয়ে।

নদী আবারও বহমান একই গতিধারাই,

কিন্তু দিক পরিবর্তন স্পষ্ট।


হাজার অঙ্কের ভুল আজও

আঁকিবুকি কাটে বালুচরের বুকে।

কিছুটা অপেক্ষাও বটে।

সহসা আবার আসবে এক জোয়ার,

ভাসিয়ে নিয়ে যাবে এই শুষ্ক বালুচর;

নতুন ছন্দে আবার যাবে বইয়ে,

মোহনা শেষের দিশারী হয়ে।


২.

ক্ষনিকের অবসর


হিমেল এই সন্ধ্যের রাত...

আকাশের মেজাজটাও কেমন যেন ভারী।

মেঘের ওপর হাজার অভিমান বেশ স্পষ্ট;

চাঁদও তার মুখ লুকিয়েছে মেঘচ্ছায়াই;

চারপাশে মানুষজনের ভিড়ও বেশ কম,

হয়তো মেঘের হঠাৎ বর্ষনের শঙ্কা।


আলো অন্ধকার লুকোচুরি খেলায় ব্যস্ত সবুজ মাঠে,

স্নিগ্ধ শীতল বাতাস ছুটে যায় মাঠের এপার ওপার;

ঘাসেরাও স্নান সেরেছে শিশির জলে।

একাকী হেঁটে চলেছি শিশিরভেজা ঘাসের ওপর,

অন্ধকারের গভীর মায়া আসক্ত করছে ক্রমশ।

নিস্তব্ধতা আলগা করছে মরচে ধরা মনের শিকল।


প্রতিটা মুহূর্ত বড় কাছে টেনে আপন করে নিচ্ছে।

বন্ধুত্ব বেশ ঘনীভূত বাইরের আর অন্তরের;

মনের আবডালে কালো পর্দা টেনেছিল যে তৃষ্ণা,

সেও তৃপ্ত করছে নিজেকে অন্ধকারের মোহে।

হাজার অদৃশ্য তেজ উদ্দীপ্ত করছে মনের আঙিনা,

গাড় কালোর ছায়া ছেড়ে উদ্ভাসিত হয়েছে মন।


ঘড়ির কাঁটা তার ছন্দেই ছুটে চলছে অবিরাম,

রাতের গভীরতা ক্রমে ক্রমে বেড়ে চলেছে;

দূর হাইওয়ে থেকে আসছে ধাবমান গাড়ির শব্দ।

এবার ফিরতে হবে ইঁট পাথরের নগর জীবনে,

ক্ষনিকের অবসর পিছনে ফেলে এগিয়ে চলেছি..

গতিশীল,কংক্রিটে ঘেরা সেই নিয়মবাধা জীবনে।


৩.

অন্য বসন্ত


মেতেছো এক কঠিন লুকোচুরি খেলায়

যেখানে খেলার সাথী হয়েছো নিজেই।

ফাগুন হাওয়ায় গা ভাসিয়েও

পারনি প্রেমিক হতে,

হারিয়ে যেতে চাও অচেনা নদীর তীরে।


ব্যাস্ত বড় তুমি নিজের খেলায়,

মত্ত হয়েছ এলোপাথাড়ি ভাবনায়।

ফিরে দেখতে ভুলেই গেছ

কুয়াশা জড়ানো সেই সন্ধ্যেটাও ছিল তোমারই গল্প।


বসন্ত কিন্তু আজও আছে আমার দেশে বেঁচে

দক্ষিণ হাওয়া দোলা লাগায়

আজও প্রানের পরে।

খোয়াই বন অপেক্ষারত গানের ঝুলি নিয়ে

পড়ে থাকে শুধু ঝরা পাতা বুকের ব্যামো নিয়ে।


একদিন এই বসন্ত হবে দুরন্ত

বনে বনে জেগে উঠবে দক্ষিনা ঝড়

কোকিল যাবে চিরনিদ্রায়

বেড়া ভাঙবে স্বপ্নমোড়া অপেক্ষারা

গলা ফাটিয়ে জানাব সেদিন তোমায়

এই কাঠফাটা রোদে চাপা পড়ে যাওয়া 

এক অন্য বসন্তের কাহিনী।


৪.

বসন্তপ্রেম


কথা ছিল আবার দেখা হবে 

একমুঠো রঙিন আবির হাতে,

সোনালী বসন্তের সকালে।


সোনাঝুরির বনে যখন বয়ে যাবে বসন্ত

এলোপাতাড়ি ভালোবাসাগুলো ছাড়বে নিঃশ্বাস।

বাউল গানের সঙ্গী হয়ে,

ভেসে যাব দুজন প্রেমের স্রোতে।


আদিবাসী রমণীর নাচের ছন্দে ছন্দে

বয়ে যাবে বেলা।

ঈষৎ উষ্ণ রৌদ্রস্নানে ভিজবে শাল বৃক্ষমালা

পাতাদের সাথে চলবে রোদের লুকোচুরি খেলা।


তারপর?

কোপাই নদীর পাড় বরাবর

হাতে হাত রেখে হাঁটব দুজন অজানার উদ্দেশ্যে। মৃদু বাতাস এলোমেলো করবে আমার এলোচুল।


সন্ধ্যে নামবে লাল খোয়াই এর বুকে,

বসব দুজন কোপাই নদীর ধারে।

লাল পলাশের কুঁড়িতে সাজিয়ে দেবে খোলাচুল।

পূর্ণিমার আলো ঢেউ খেলে যাবে আমাদের ওপর।


বসন্তের রঙের ছটায় রঙ্গিন হবে দুই হৃৎপিন্ড

দিশাহীন দুচোখ নির্বাক হবে দুচোখের সামনে

কোপাই নদী আর পূর্ণিমার চাঁদ তখন নীরব দর্শক

এই গল্পই হোক যেন আমাদের হাজার বসন্ত জুড়ে।।


৫.

উষ্ণ তিমিরে


তোমার পরশে উঠব জেগে হঠাৎ

নিস্তব্ধ সে পূর্ণিমার রাতে।

যেখানে জোয়ার আসে আকাশের কোলে

একের পর এক বয়ে যায় মেঘেদের ঢেউ।।


তখনও হয়তো ঘুম জড়ানো চোখ

কিছুটা আহ্লাদ মাখাও বটে,

জাপটে ধরে বুকের মাঝে

খুঁজছে সুখের আশ্রয়।।


বাড়ছে রাতের গভীরতা,

মেঘেদের আড়ালে চাঁদও গিয়েছে ঢেকে।

অন্ধকারের গাড়ত্বও বেড়েছে ক্ষণিক

ঝিঁঝি পোকাগুলোও হয়েছে অবাধ্য।


ক্রমে ক্রমে বাড়ছে পারদের স্কেল,

উষ্ণ নিঃস্বাস পড়ে ঠোঁটের পরে

ব্যস্ত রাত বাড়িয়ে চলছে তার ব্যাসার্ধ,

বাড়ছে দ্রুতি দুই হৃদস্পন্দনের।





আরও পড়ুন 👇👇


https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/01/blog-post_31.html




বুধবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২১

গুচ্ছ কবিতা।। অসীম ভুঁইয়া

 



গুচ্ছ কবিতা  

অসীম ভুঁইয়া


১.

দহন - কথা


অকারণ নিন্দেগুলো ছড়িয়ে রয়েছে উঠোনে 

অবজ্ঞা ও অপমানেরা হয়েছে পথসঙ্গী ।

এদের দিয়ে রোজ আমার যন্ত্রণা শিখে নেওয়া 

খসে যাওয়া শুকনো পাতা বাতাসে উড়ে উড়ে যেভাবে 

জন্মঋণে মিশে যায় সেভাবে।


অন্ধকারের প্রতিটি ধাপে এক একটা বিষ মাখানো তির

অপেক্ষায়...  তাকে পাশ কাটিয়ে উঠতে গেলেই

অসহ্য দহন - জ্বালা।

কীভাবে যে বেঁচে থাকার কৌশল রপ্ত করতে হয়

আজো তা অজানা, তাই

বিকেলের প্রতিবিম্ব আবছা হতে থাকে,

ঘটে যায় ভুলের নক্ষত্র - পতন।

কোনো আশাব্যঞ্জক হাওয়াই দ্বীপ আজো অধরাই 

থেকে গেল।

অপরাধের মাত্রা বোধও গোপনতার কুঁড়েঘরে পোশাক ছেড়ে 

নিদ্রা গেল সাময়িক।

আর আমি না - ভাঙ্গা শপথের শরশয্যায় 

জেগে থাকলাম অনন্ত।


২.

 উত্তরণ-কথা

আদর পেতে চাওয়া মৃত্যুটি সামনে এসে দাঁড়ালে

তাকে ভয় পেতে নেই।

কারণ জন্ম- তৃষ্ণা তো তারই জঠরে সমাহিত।

একেকটি মুহূর্তের মোড়ে সেই তো দাঁড়িয়ে থেকে -

জীবন পড়িয়ে দেয়।

ভুল শুধরে দেয় জন্মবোধের...

একটি হাওয়া যখন শীতলতা নিয়ে ধরা দেয় ভ্রুপল্লবে,

তখন কী তার বিষাক্ত হাওয়ার খবর 

মনে থাকে? 

তেমনি একেকটি দিন ও রাত যখন গাছের ডাল থেকে 

খসে পড়ে 

তখনও কী মৃত্যু হয়ে মাটিতে মিশে যায় না 

এক চিমটে আগুন - বীজ।

আসলে যতগুলি বেঁচে ওঠার সিঁড়ি অপেক্ষা করে থাকে 


ঠিক কতগুলিই না - বাঁচার সিঁড়িও নিচে নেমে আসে।



৩.

 চিহ্ন

মাথার  ভেতর নানা চিহ্ন কিলবিল করছে।

প্রশ্ন,বিস্ময়,কমা,সেমিকোলন, হাইফেন প্রভৃতি।

ছেদ - চিহ্ন আজো অধরা

কারণ নির্মাণ ও বিনির্মাণ সর্বদা ডট এঁকে দিচ্ছে।


এ এক অদ্ভুত পথমানতা-  

প্রতিটি মুহূর্তে একেকটি থমকে যাওয়া স্মৃতি - চিহ্ন জুড়ে যায়।


যার কথা ব্যাকরণে নেই,

অলিখিত প্রবাদে আছে।

সে এক সূর্য ওঠা ও ডুবে যাওয়ার ক্যানভাস

তার সঙ্গে গাঁটছড়া না বাঁধলে জীবন পূর্ণ হয় না।

অজ্ঞতা ও অভিজ্ঞতা - একটি ব্যঞ্জনের তফাৎ শুধু


কিন্তু এক মহা-স্থলভূমির মাটির ভাষাকে

বদলে দিতে পারে তারা।

নোট লিখতে পারে খাদ ও চড়ার,

পাহাড় ও সমভূমির।

তাই - 

স্মৃতির প্রভেদ ও প্রকরণ এক নিজস্ব চিহ্নের দাবি রাখে


৪.

 উষ্ণতা

নিজেকে নির্মাণ করতে গিয়ে থমকে দাঁড়াই

কত কাটাকুটি অমসৃণতা প্রলেপ মেখে আছে।

আবরণ সরিয়ে দিতেই জিভ কেটে বেরিয়ে এল


এক কঙ্কাল। আর - 

ঠিক তখনই হাতের মুঠোয় উষ্ণতা জমা হল।




----------------------------------------------------------------

এই বিভাগে আপনিও মৌলিক ও অপ্রকাশিত লেখা পাঠান। মতামত জানান। 

ankurishapatrika@gmai.. com

----------------------------------------------------------------                   






রবিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২১

নববর্ষের গুচ্ছকবিতা ।। সুবীর ঘোষ





নববর্ষের গুচ্ছকবিতা ।।  সুবীর ঘোষ 

পূরবীকথা
 

আমরা এমন এক সমুদ্রের দিকে যাচ্ছি
যাকে চেনা যায় না। 
আমরা সূর্যাস্তের দিকে মুখ করে হাঁটছি
তবু সেই সূর্যাস্তে আমাদের বিশ্বাস নেই। 

উড়ে যাওয়া নিয়ে পাখির দুশ্চিন্তা নেই,
আমাদের আছে ;
ওড়া আমাদের প্রিয় করে না, 
আমাদের ভুলিয়ে দেয়। 

আমরা খুব দুঃখী, জানো, 
আমাদের কণ্ঠস্বর নেই---
সামনে কারবালা দেখেও
আমরা কাউকেই বলতে পারি না ---
পথ দেখাও। 


 

নিঃশ্বাস


 

সেই উন্মুক্ত স্টেশনে সেদিন

আমরা দুজনই মাত্র ট্রেন ফেল করেছিলাম

কোনো হতাশা দেখিনি বনকুলের ঝোপে

দুশ্চিন্তা ছিল না তোমার সোনালি লেডিজ ঘড়িতেও ।

অম্লানবদনে বললে- হেঁটেই চলে যাবো ।

হেঁটে হেঁটে সাঁইত্রিশ কিলোমিটার !

--- কেনরাস্তায় কোনো না কোনো ট্রেন পেয়ে যাবো ।

--ট্রেন কী বাস যে হাত দেখালে দাঁড়াবে ?

এ সব তর্কের কোনো মীমাংসা হয়নি সে দিন ।

আমরা অন্ধকার গাছের ডালে উঠে ঘুমিয়েছিলাম  সারা রাত ।

কেউ টের পায়নি । না - কেউ না --

না ডাকাত না সাপ না প্যাঁচা না বৃষ্টি ।

 

সেই বাহুসন্ধির খোঁজ পেতে গিয়ে

আমাকে গ্রাম থেকে শহরে আসতে হয়েছে

হাট ছেড়ে বাজারের পথ ধরতে হয়েছে

তুমি কোথায় ও কেন যে আমার হাত ছেড়ে দিলে জানি না ।

কত বাসের জানলায় আমার নিঃশ্বাসের বাষ্প লেগে আছে

আমি অনেক ঘুরেছি এই ঠিকানাবিহীন পৃথিবীতে

কেউ তোমাকে দেখেনি তা কী হয় !

কত বাসের জানলায় এসে বসেই নেমে গেছি

তোমার নিঃশ্বাসের বায়োমেট্রিক মেলেনি ।


 

 

বর্ষা এলেই


 

বুঝতে পারিনি বিকেলের শেষে ফর্সা আকাশ জাগবে ,

সকালের সেই কান্না-চোখ যে পাল্টাবে ভাবা যায়নি ।

আমার তো ছিল বান্ধবদের মহলা যাবার দায় ---

কিছুই হল না  , শুধু একা ঘরে নগ্ন নিজের নাচ ।

 

বর্ষা হলেই মনের ভেতর আকাশ ভাঙার পাট ,

প্রহরে প্রহরে জর্জর করে সুখশরীরের যোগিনী ।

সেই তো একদা শিখিয়ে দিয়েছে নীললালরংবাহারে ---

বৃষ্টির জল ঘরে ডেকে এনে শয্যাপ্রচার খেলতে ।

 



-----------------------------------------------------------------

আপনিও অপ্রকাশিত লেখা পাঠান। মতামত জানান। 

ankurishapatrika@gmail. com

----------------------------------------------------------------                


 

 

 
            

শুক্রবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২১

নববর্ষের গুচ্ছকবিতা ।। রঞ্জন ভট্টাচার্য ।।

 




নববর্ষের গুচ্ছকবিতা   

রঞ্জন ভট্টাচার্য 


১.

প্রদীপের আড়ালে 



দীপ তো জ্বলে বছরে একবার 

মনের প্রদীপ জ্বলে কই

এখনো সেই অন্ধকারেই 

শুধু, শুধুই চেয়ে রই  ।

কত আরম্ভর কত আয়োজন 

বিলাসিতার শেষ কই 

দীপের আড়ালে এখনো আমরা 

প্রদীপ জ্বললো কোই !

প্রতারণা প্রস্তাবনা চারদিকে আনাগোনা 

নিভিয়ে দীপের আলো 

এমনি করেই ভাবনা গুলো 

ছড়ায় মনে কালো ।

শত দীপের মাঝেও যদিও 

একটি দীপ জ্বলে

সমাজটা জ্বলবেনা আর 

অজ্ঞতার অনলে।


২.

নক্ষত্র পতন


কত তারকা আসে 

নক্ষত্রলোক থেকে 

আবার বিলীন হয়ে অন্য কোন লোক 

রেখে যাওয়া স্মৃতি অবিস্মরণীয় হয়ে থাকে 

হৃদয় হৃদয় ...

তাঁর সংলাপ কথা চারিত্রিক দৃঢ়তা একাগ্রতা 

দোলা দেয় মনে প্রাণে অন্তরে 

যেন এক গগনচুম্বী নির্মাণ ।

বহু নক্ষত্রের সংগৃহীত রূপ রূপময়তা দিয়েছে

এক অরূপ রতন ,

সেখানেই মান্যতা 

সেখানেই মিলন প্রাণের কথন 

আর এখানেই বাঙ্গালীত্বের বাঁধন।


৩.

একই সাথে



এ কেমন বাণী তোমার 

চাষী সত্ত্বা কই ?

ভাঙছে কোমর চাষী ভাইয়ের 

আমি তো চাষী নই !


দিকে দিকে দিচ্ছে আওয়াজ 

বাঁচাও চাষী প্রেমের জোয়ার 

ধান কাটো ভাই কাটো চাষা 

উঠলো জেগে হৃদয়ে ফোয়ার ।


কাস্তে হাতে কোদাল কাঁধে

লাঙ্গল জোড়া বাঁধব মাঠে 

পায়ে পায়ে ছন্দ মেলে 

নামবো সবাই পথে ঘাটে ।


এখন থেকেই শুরু হলো 

নাইরে ভয় চলতে পথে 

ওই দেখা যায় জয়রথ 

চলতে হবে একই সাথে।


৪.

বাসা


নিত্য নতুন ছন্দে আসে 

শীতের মহাজন' 

এবার এলো মসলা নিয়ে 

করোনা কাঞ্চন ।


রাত পোহালেই শিশির ভেজা 

শিউলি ফুলে পা

রাখাল ভায়া বলছে যেন 

মাঠের দিকে যা । 


আলের মাঝে চলতে গিয়ে 

হোঁচট খেয়ে ফিরি

কলা পাতার বাতাস খেয়ে 

লাগছে যে সুরসুরি।


নিত্য নতুন ফুলের মাঝে 

নতুন ফুলের আশা

তাইতো প্রতি ভোরেই আমি

মাঠেই বাঁধি বাসা।


-----------------------------------------------------------------

 আপনিও  মৌলিক অপ্রকাশিত লেখা পাঠান। 

মতামত জানান। 

ankurishapatrika@gmai.. com

----------------------------------------------------------------                





শুক্রবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২০

গুচ্ছ কবিতা।। হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়

 


গুচ্ছ কবিতা 
হীরক বন্দ্যোপাধ্যায় 
১.
সিকান্দার মুকান্দার



আমার সামনে ছিল অনন্ত বিস্ময়
আমার সামনে ছিল দিগ্বিজয়ের আহ্বান
আমি ভেবেছিলাম পাহাড় মাটি একাকার করে দেবো,আমি ভেবেছিলাম মানুষের জন্য
প্রকৃত স্বাধীনতা এনে দেবো
আজ এতদিন বাদে এসে মনে হচ্ছে এই কি মানবাধিকার, খায় না মাথায় মাখে
চুরি করে চোর বহালতবিয়তে ঘুরে বেড়ায়
ধরা পড়ে না
চরিত্রহীনের স্বদেশ সাধনা মিথ্যা
ঈশ্বর সাধনা ভুল 
এসব অখণ্ড সংহিতাতেই রয়ে গেছে
ছেলে বেলার বন্ধু পবন বললো
রাজনৈতিক ছায়া, সে যে কোনো দলই হোক
লাল নীল সাদা
আর পকেটে টাকা  থাকলেই সিকান্দার
আমি ভাবছি কথাটা কি সত্যি
মনে মনে বলি মিথ্যে, মিথ্যে হোক একথা...

২.
মুক্তি



এর চেয়ে মুক্তি ভালো
এর চেয়ে মৃত্যু ভালো, হাসির বদলে প্রায় নি:শব্দ
হাহাকার ,কেন তবু ঘুরে ঘুরে
তুমি আসো মিথ্যে জীবন ভস্ম জীবন দেখতে
কী বিশাল তার ছায়া
কিছু দূর হেঁটে গিয়ে ফিরে আসি
আমারো কি ত্রুটি ছিল?
একলা আবিষ্কার করা আত্মজীবনীতে
লিখে রাখি এইসব 
তাই এখন নারীকে ছুতে গেলে দ্বিধা হয়
সন্তানের মুখে চুম্বনের আগে
মনে হয় বিষে ভরে গেছে ওষ্ঠ...

৩.
জমে আছে কথা



বুকের ভেতর জমে আছে কথা
তোমাকে স্পর্শ করার আগে
সুপ্রাচীন হাভেলির দগ্ধ দুপুর
এলোমেলো ঘুরতে লাগলো , সুন্দর রয়েছে আড়ালে সর্বত্র মুদ্রিত ছাপা হরফে নদী
পাহাড় উপত্যকায়.... ফু দিয়ে যতোই সরায়
বরফ কেটে ঢুকে যায় তোমার মুখ
ছটফটানি ঝলমলে খুশির আমেজ
দৈবিক মূর্ছনায়....
তখন অলৌকিক সেতার বেজে উঠলো বিষন্ন
দাবার কোর্টে একটু ফোপানির শব্দ
ধীরে ধীরে রাতের আকাশে মিশে যাচ্ছে
ঈশ্বর কাছেই আছেন তাই
এটুকুই আপাত কষ্ট, এখন বুকের ভেতর জমে উঠেছে হাওয়া প্রকৃত আরোগ্যের জন্য
ক্ষণিকের জয় পরাজয় ও কিছু নয়...


৪.
কিছুই অজানা নেই



এখন কোনো কিছুই অজানা নেই কারো
গুগল সার্চ করে বলে দিচ্ছে সব
ক‍্যালিফোর্ণিয়ার রাস্তাঘাট হুনুলুলুর সমুদ্র সৈকত রাঢ়বঙ্গে চুয়ামসিনা গ্রামের নামের তাৎপর্য ,সবাই যে যার ফেসবুকে মেসেজ পাঠাচ্ছে, আর অম্নি সহস্র লাইক কমেন্ট শেয়ার
উপদেশ বৃষ্টিতে ভরে যাচ্ছে পৃথিবী
আসলে মানুষ চিরকাল এক ই থেকে গেল
বদলালো না কিছুই
তারা চায় জয় আর কিছু নয়
এখন আমি কি করি
তোমাকে দেবো নীল খাম চড়ুই পাখির সাম্রাজ্য
শালিকের এলোমেলো স্বপ্ন আর স্বপ্ন পূরণের
কবিতা ,  তুমি নেবে এসব
ছটফটানি খুশি আর ধুলাবালি জীবন
তোমার সবুজ ঘাসের উপর বসতে দেবে সুলতা...

৫.
ভালো থেকো



ভালো থাকা সহজ নয়, তবু বলি ভালো থেকো
যাকে বলি সেও জানে
এই নশ্বর পৃথিবীতে আহার বিহার মাঝে
ধূপধূনো সন্ধ্যারতির পর আর ভালো থাকা সহজ নয়, কালবৈশাখী আসে
শাখা প্রশাখা ভাঙে
ভূমিকম্প ওলটপালট করে দেয় প্রাকৃতিক উপায়ে সুনামির উথাল পাথালে মেদিনী টলমল
করে এর মাঝে খবরের কাগজে
প্রতিদিন রক্তপাত ,প্রাণ বুঝি পোকামাকড় ব ই
কিছু নয়
তবু এরই মাঝে মনে মনে বলি
ভালো থেকো ,সকালে শিশুরা স্কুলে যায়
অফিস কাছারি যায় লোকে
এরই মাঝে কারখানায় ধূলো ধোয়া আগুন
নিয়ে খেলা ,দূর সমুদ্রে পাড়ি দেয়
জেলে,বিমানপথে যায় কেউ কেউ
সক্কলকে বলি ভালো থেকো
যদিও সবাই জানে আর ভালো থাকা সহজ নয়
এ বড়ো মিথ্যে কথা...

----------------------------------------------------------------------------------------
মতামত জানান। এই বিভাগে আপনিও অপ্রকাশিত লেখা পাঠান। 

ankurishapatrika@gmail. com

----------------------------------------------------------------------------------------                     



সোমবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২০

গুচ্ছ কবিতা।। গৌতম হাজরা

 


গুচ্ছ কবিতা 

গৌতম হাজরা


মুখ/১


খিড়কির পাল্লা খুলে গেলে

কে যেন আজও উঁকি দিয়ে যায়। 

তখন থমকে দাঁড়াই। নিজেকে ধাতস্থ করি। 

তারপর এগিয়ে যাই একটু একটু করে

দেখি, কে উঁকি মেরেছিল এই অসময়ে আমারই অলক্ষ্যে? 

বাইরে তাকাই। দেখি কেউ নেই। শুনশান বাতাস। 

ভাবতে থাকি তবে কি আমারই ভুল? 

না কি সেইসব মুখ

যারা একদিন অজান্তে নিজের মুখের মতো উঁকি দিয়েছিল! 


মুখ/২


একটা মুখের পাশে আরেকটা মুখ

এভাবেই অনেক অনেক মুখ বেরিয়ে আসে

খোলা রাস্তায়

তখন আমিও তাদের পিছু নিই

পায়ে পা মেলাই

হাঁটতে হাঁটতে চলে যাই কোনোখানে

যেখানে তুমি নেই, আমি নেই, আত্মীয়স্বজনও

শুধু মুখের মধ্যে মুখ, মুখেতেই হারায়! 


মুখ/৩


নিঃশব্দে কথা বলছো খুব

নিঃশব্দে অনেক মুখের কথা

মুখ ও মুখোশের সুখ দুঃখ

আর মুখ ও মুখোশের ব্যথা। 


মুখের মধ্যে মুখ এগুলে পিছুলে

মুখের বাতাস হয় ভারি

মুখ ভিজে যায় কান্নার জলে

তবু মুখ ভিন্ন করতে পারি? 


নিঃশব্দে মুখের কথা বলছো

মুখ যখন মুখের মধ্যে নেই

মুখের ছন্দপতন হলে

মুখ ফেরে মুখোশের কাছেই? 


মুখ/৪


অনেকটা হেঁটে যাওয়ার পর মনে হল

আসল মুখ টাকে ফেলে এসেছি শোবার ঘরে

তাই আবার বাড়ি ফিরে এলাম

তন্নতন্ন করে খুঁজতে লাগলাম কোথায় সে মুখ? 

খুঁজলাম বালিশের নিচে, তোশকের তলায়, গোপন ড্রয়ারে

কিন্তু কোথাও মুখের হদিস পেলাম না

তবে কি মূখটাকেই আমি ফেলে এলাম রাস্তার ফুটপাতে? 


মুখ/৫


মাঝে মাঝে মনে হয়

এই মুখ অপমানিতের

এই মুখ প্রান্তরেখা বরাবর

কেবল ছুঁয়ে থাকা। 

অভিমান, তাও নয়

তবে কি প্রতির্স্পধাহীন

না কি, হীনমন্যতার শর্তাবলী

পারস্পরিক সম্পর্কহীন? 

আসলে, গণতন্ত্রে মুখ আর মুখের মধ্যে বিভেদ অনেক

মুখ এখন একান্ত পরাধীন! 




---------------------------------------------------------------------

এই বিভাগে আপনিও আপনার  অপ্রকাশিত সেরা  লেখাটি পাঠান। 

ankurishapatrika@gmail. com

---------------------------------------------------------------------                  




শুক্রবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২০

গুচ্ছ কবিতা। সন্দীপ রায়

 


গুচ্ছ কবিতা 

সন্দীপ রায় 


১.

সাপ লুডো 


কেউ কোথাও নেই, ফাঁকা --

একটা অজগর পিচ রাস্তা 

আমাকে একলা ফেলে 

সাপ লুডো খেলছে। 


আজ তোমার জন্যে সাজিয়ে রাখলাম 

সাপ নয়,একগুচ্ছ মই

প্রয়োজনে ব্যবহার করো ;


মই কখনও নিরপেক্ষ হয় না 

কাউকে গাছে তুলতে জানে 

আবার প্রয়োজনে কেড়ে নিতেও ..


সাপের মুখের খুব কাছাকাছি আছি 

যে কোন মুহূর্তেই ... ফণা তুলতে পারে !

সাপ মইয়ের সমীকরণ জটিল 

কখন যে কার ভাগ্য খুলবে 

কার কপাল পুড়বে --বোঝা মুশকিল!


কেউ কোথাও নেই, রাস্তা ফাঁকা 

এখনও বিধাতার সঙ্গে সাপ লুডো খেলা বাকি !

             


২.

 একটু ফিরে দেখা


আমার তখন কলেজ জীবন --

আর তুমি তখন মায়ের কোলে 

পুতুল কেনার বায়নায় ...

আমাকে ঘিরে একঝাঁক বন্ধু বান্ধব 

মেয়ে বন্ধুই বেশি 

কী যেন নাম : শিপ্রা, বীথিকা, মঞ্জুশ্রী ...

আরও কত যে নাম ,মনে নেই --

উড়ন্ত প্রজাপতি ছোঁয়ায় রঙিন নেশা ।

স্বপ্নের বাগান ঘিরে রাত বাড়লে 

পরীদের আনাগোনা ...


হ্যাঁ, মনে পড়েছে, মঞ্জুর বিয়েতেই তো --

ছিপছিপে, লম্বা, শ্যামলা মঞ্জু...

সেই প্রথম রাত জাগা 

বান্ধবীর বিয়েতে একটা গোটা রাত --

তখন আমি কলেজ পড়ুয়া ছেলে নই --পুরুষ ;

কেউ একজন বলছিল :

বাসর জাগলে পুরুষ হতে হয় ,


একটা গোটা রাত সব হিসেব তছনছ করে 

উচ্ছ্বল নদী এসে মিশেছিল সাগর সঙ্গমে ...

                     


৩.

ভাগ্য বিপর্যয় 


ক'দিন ধরে আকাশের মুখ ভার

বৃষ্টি হবে বোধহয়--

অসময়ে একটানা মন খারাপের বৃষ্টি 

ভালো লাগে না।


দু'চোখের পাতা জুড়ে ঝমঝম বৃষ্টি নামলে 

মন খারাপের আগুন জ্বলে 

চোখের দু'কূলে তখন উচ্ছ্বল নদী 

নৌকা ভাসে না সেই জলে ,

শুধু একটানা বিরহের ঢেউ মন-জানালায় --

ধ্রুপদী সংগীতের রাগ রাগিনী 

বিসমিল্লা থেকে ভীমসেনও যোশী..


এমনও তো সময় ছিল 

একহাঁটু জলে আমোদে আল্লাদে 

কাগজের নৌকা ভাসতো জলে ।

আঁচলে মাথার জল মুছে 

তখন এক ছাতার তলায় 

,দমকা হাওয়ায় তোলপাড় ছাতা ...


সময়ের ঘড়ির নিয়মে উল্টো গতি 

ভেঙে দাও ,গুড়িয়ে দাও শব্দে

ছেনি হাতুড়ির নিষ্ঠুর খেলা 

মন ভেঙে খানখান, তবুও...


আজ যদি আবার আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামে 

মন ক্যামেরায় নেপথ্যে ফিরে যাবো

কল্পনা এক , ভাবনাও এক 

শুধু পটচিত্র আলাদা। 

               

৪.

চেয়ার খেলা 


চেয়ার কখনও ফাঁকা থাকে না --


শূন্যস্থান পূরণের অপূর্ণ ইচ্ছে --

বাক্যালাপ শেষের দড়ি টানাটানির গল্প। 


এ গল্প মাঝপথে থমকে যায় না 

এ বার্তা কালের অমোঘ নিয়ম

এ লড়াই ময়দানে নিষ্পত্তি হয় না 

পেছন থেকে গোপনে ছুরির আঘাত ।


একবার চেয়ার ছেড়ে দিলে সমূহ বিপদ 

কোথা থেকে উড়ে আসে একঝাঁক চিল-শকুন 

পালিশ করা ধারালো নখ ,

এক নয় -- একাধিক মুখোশের সমাহার 

যেন তীর্থের কাক ,গত জন্মের পাপের দান খয়রাতি। 


দুনিয়া ঘুরছে কালের চক্রে 

মহাকালের শ্যেন দৃষ্টি শূন্য চেয়ার ঘিরে

মাছির মত ভ্যনভ্যান--

যেন মধুমক্ষি , ফুলের রেণুর লোভে 

দিনরাত টোপের চেয়ার ঘিরে

দরাদরির মোক্ষম খেলা। 

                 


৫.

ফেলু মিত্তির 


কেউ কোথাও নেই  

ফাঁকা মাঠে  শূন্যতার মাঝে শুধুই  হাহাকার ,

জনমানবহীন একলা পথে 

হেঁটে যাচ্ছেন তিনি--

আড়ালে কে যেন বলে উঠল --

বাড়ির পথে বুঝি?


নির্বাক তিনি ,গন্তব্যে স্হির ;

পেছনে একবারও তাকিয়ে দেখলেন না। 


অবজ্ঞা তখনও গ্রাস করেনি মনে 

উপেক্ষা ছিল দূরে দাঁড়িয়ে থাকা তীক্ষ্ম বাতাস 

অবহেলা মনের আড়ালে জমানো মেঘপুঞ্জ ...

দরজায় কড়া নাড়লেন তিনি ,

কৃষ্ণেন্দু বাড়ি আছেন ?


উত্তরহীন উত্তরের অপেক্ষায় আবার ডাকলেন--

রীনা বাড়ি আছো ?


দরজা খুলে একটি শীর্ণ হাতের কাঁপা কাঁপা উত্তর--

বড্ড দেরি করে ফেললেন ,

তাঁরা তো চলে গেছে অনেকদিন হলো !

আর যাবার আগে বলে গেছে 

ফেলু মিত্তির এলে এই মুখবন্ধ খামটা তাকে দিও।



-----------------------------------------------------------------

আপনিও আপনার অপ্রকাশিত সেরা লেখাটি পাঠিয়ে দিন। 

ankurishapatrika@gmail.com

---------------------------------------------------------------------               

         

রবিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২০

গুচ্ছ কবিতা। তপনজ্যোতি মাজি

 





গুচ্ছ কবিতা 

তপনজ্যোতি মাজি 


১.

আরোগ্য সরণী


সিঁড়ি বুক পেতে নেয় পদচিহ্ন, নিরভিমান।  তুমি উঠে এলে

ধীরতমগতি। আরোগ্য  সরণী  হোক  তোমার  আগমন পথ। 

মুছে  দাও নির্জন  অভিমান। যে  কোনও  প্রীতিবোধ শস্যের 

 মতো সম্ভবনাময়। 


শস্যের ভারসম্য মাটি। জন্মান্তর নড়বড়ে সাঁকোর মতো দোলে।

তোমাকে দর্শনে  ক্লান্তি দূর হয়। যাকে বলে তীর্থ দর্শন। অঞ্জলি 

ভরে জল নিই।মনে মনে বলি এই নাও আদিতম জীবন প্রবাহ।

আরোগ্য দাও স্পর্শের।


বিপুল সম্ভাবনা নিয়ে ইচ্ছা প্রস্তুত করে বাষ্প শকট। প্রদক্ষিণ

পথ চিরদিন অবর্তনময়। প্রেম কোনো ভাসমান হিমশৈল্য নয়।

নয় মনের গভীরে রঙিন মাছের সাঁতার। সরোবর ঘিরে ছায়াঘন 

পথ ভ্রমনের। স্বাস্থ্যই সম্পদ।


পরম প্রজ্ঞা নিয়ে যে জীবন আলোকিত, যে জীবন মহাপ্রস্থানের

পরেও ফিরে  ফিরে আসে স্মরণে, প্রাতঃস্মরণীয়। ক্রমশ নিস্ক্রমন

 চিহ্ন মুছে যায়। অতিরিক্ত মনে হয় যাবতীয় যাপন। শুধু আরোগ্য

 সরণীতে মানুষ নিজেকে ভাবে অমৃতের সন্তান।


২.

প্রচ্ছদ


খুলে রেখেছো ঋতু শেষের বহির্বাস। যেন বিশেষণ সরিয়ে বাক্য 

হয়েছে সরল ও ঋজু। তুমি এই চতুরঙ্গ আনন্দ প্রহরের অন্তিম

অতিথি। প্রবুদ্ধ জনেরা জানেন হৃদয়হীন উত্তাপ আসলে কাঠের

আগুন। পুড়ে যায় শিরোনাম।


যে ভাবে ভাবি সে ভাবে ঘটেনা কিছুই। হরিনেরা  তৃষা নিয়ে নদী

খুঁজে ছিলো দ্বিপ্রহরে। স্বাধীন সার্বভৌম হরিণের কথা  কখনও

কি ভেবেছিল বাল্মীকি? ওলটপালট হয়  স্বাভাবিক সময়। স্বপ্ন

ভঙ্গ মানুষেরা বুঝে গেছে দলতন্ত্র প্রতারক।


তবুও প্রার্থনা বাবরের। অকাল মৃত্যু কি সময়ের প্রতারনা ? না

কি অন্য কোনও বিশুদ্ধ ব্যঞ্জনা। তুমি জানো কি থেকে কি হয়।

জীবন  মৃত্যু  প্রতিবাদী  নয়। কেবল  প্রচ্ছদ  পরিবর্তন। ফিরে 

আসা, ফিরে ফিরে আসা।


৩.

 অক্ষর সমগ্র


তোমার উদাসীনতাও প্রেম। নিরুদ্বেগ বৃক্ষের মতো

প্রসারিত হয় সম্পর্কের প্রশাখা। কৃষ্ণরাত্রিতে কেউ 

গায়  ঈশ্বরের গান। সব  গানের  শেষে  থাকে অন্য  

শুরুর সংকেত।


অন্ধকার ও আগুনে ত্যাগ সহজ,এই বিশ্বাসে উজাড়

করেছি জমে থাকা একাধিক  অবহেলা ও ব্যক্তিগত 

 নিস্ফলতা। ভেসে গেছে মেঘের বন্ধু হয়ে আমার এক

দশক বয়স।

 

আবেগের ঘরের জানালা দরজা খোলা রেখেছি স্বেচ্ছা

বশত। আলো হওয়া  থাক  স্বতঃস্ফূর্ত। ঝড় হোক, বৃষ্টি

হোক। সব কিছু গ্রহণ করতে চাই। সাদা পাতায় লিখছি

অক্ষর সমগ্র।


শীত ছুঁয়ে ছিল এক মূহুর্ত তোমার ভেজা আঙুল।অথচ

উষ্ণ কফি কাপে ওষ্ঠ ছোঁয়ালে নাতিশীতোষ্ণ অভ্যাসে।

সব আভাস শিকড়ে ছড়িয়ে যায় বৃক্ষের নিয়মে। প্রকৃত

প্রেমে বৃক্ষ হতে হয়।


৪.

রহস্য বিষয়ক


যে কোনও রহস্যের একটি সমাধান সংকেত থাকে।

একজন দুঁধে গোয়েন্দা জানে সংকেত কোথায় 

অথৈ তরঙ্গে ডুবো পাহাড়ের মতো

লুকিয়ে রয়েছে।


পৃথিবীতে আলো ও বাতাস ছাড়া সবকিছু কম বেশি 

রহস্যময়। কত কি সমাধান করতে হয় এক জীবনে।

তবু কত কিছু রয়ে যায় রহস্যের দুর্ভেদ্য কুয়াশায় 

মোড়া। হয় না উন্মোচন সব ঘটনার প্রকৃত 

কারণ কি ছিল।


এই সব অন্তর্ভেদী অসাফল্য নিয়েও মানুষ বেঁচে থাকে

নির্বিকার। আঙুলের নখ বেড়ে যায় অগোচরে। চুলের 

রুপোলি রেখা দিগন্তের রঙ বদলের গল্প বলে। 

রহস্য গ্রন্থের পাতা সংখ্যা বেড়ে হয়

সুবৃহৎ অমনিবাস।


নারী না পুরুষ কে বেশি রহস্যময়? কে কার কাছে কতটা

অপ্রবেশ্য  শিলা,  কার  জলস্তর কতটা  গভীরে  এই নিয়ে 

লৌকিক উপমা সমুদ্রে এক ঘটি অতিরিক্ত জল।

যথার্থ উত্তর থেকে যায় অমীমাংসিত

রহস্য মোড়কে।


৫.

হেমন্তের ডাকবাক্স


শীতের চিঠিতে ডাকবাক্স ভরে গেছে।

কিছু নীল সাদা মেঘ থমকে দাঁড়িয়ে আছে চৌরাস্তার

মোড়ে। যে কোনও নামে তোমাকে ডাকতে পারি

মধ্যরাতে।


যাকে ভেবেছো জাতক পুরুষ, যার কথা নদীর স্রোতের

মতো  অনর্গল , যে তোমার সুগন্ধ শুষে নেয় স্পঞ্জের

মতো, তাকে কান পেতে শুনতে দাও

বুকের বুদবুদ, শব্দহীন।


এই হেমন্তে সব অনুভূতি হোক নিবেদনময়। শীতের তীব্রতার

আগে সুবিনয় মুখবন্ধ। মনোরম দিন, মনোরম রাত্রি।

ধানের স্বর্ণাভ রঙ মাঠে মাঠে।খেজুরের বুক চিরে 

মাতৃরস। আহা! তোমার গম রঙ পিঠের ওপর

একবিন্দু অসতর্ক জল।


সব ব্যস্ততা স্তব্ধ হয় আলো নিভে গেলে।

জেগে ওঠে অনুভব দ্বীপ। ছুটে আসে কুমারী হরিণ।

নীল চোখ, স্বরবর্ণের মতো শাখা শিঙে একাদশী

চাঁদ। গায়ের ওপর বর্ণময় চাদর দিয়ে  মুক্তকেশ

নারী হেমন্তের রাতে হয়ে ওঠে  হোমের 

জ্বলন্ত চন্দনকাঠ।




----------------------------------------------------------------

মৌলিক ও অপ্রকাশিত লেখা আজই  পাঠান এবং মতামত জানান পত্রিকা দপ্তরে। 

ankurishapatrika@gmail. com


---------------------------------------------------------------------               

শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২০

গুচ্ছ কবিতা।। তন্ময় চট্টোপাধ্যায়



গুচ্ছ কবিতা 

তন্ময় চট্টোপাধ্যায় 



  রাস্তায় নামলেই ছয়


ঝন্টু গেছিলো মাসিমার বাড়ি সঙ্গে ছিলো যে মা

মা বোঝায় তাকে টিকিটকাকুকে ব’লো তুমি ছয় না।

ছ বছর হলেই পুরো ভাড়া বাসে তার কম হলে নাই

কয়েকটা টাকা বাঁচাবার তরে এতকিছু আসনাই।

টিকিট কাকুটা যেই এলো কাছে মুখ এনে কানপাশে

যা বলেছি তোমাকে ভোলোনি তো বাছা আশা করি মনে আছে।

একটা টিকিট দিন নাগো দাদা বাছার হয়নি ছয়

বয়সের থেকে বেড়ে গেছে বেশী দশবারো মনে হয়।

টিকিট টা দিয়ে মনেতে খটকা কটা পয়সার জন্য

কত কত বাজে মিথ্যা আচার শিক্ষাটা কি জঘন্য।

কিছুক্ষণ বাদে নামার স্টপেজে বাহুখানা হাতে ধরে

অনেক আদর হাতে চকোলেট কাকুটি শুধান তারে।

তুমি খুবই ছোট সঠিক বয়স তোমার কি জানো তা

ছ বছর হবে আমার বয়স রাস্তায় দিলে পা।।





জামা দিলো ফ্রী তে

ঝন্টুচরন ব্যস্ত ভীষণ তার অফিসের কাজে

দোকান ঘুরে জিনিস কেনা ভালো লাগে না যে।

সন্ধ্যা বেলায় ঝন্টু যখন ফিরলো অফিস থেকে

চা কাটলেট ধরিয়ে হাতে বৌ বললো তাকে।

দত্ত দিদি বাজার থেকে কিনলো কাপড় কতো

জামা দুটো পড়লো চোখে তাকিয়ে থাকার মতো।

এমন জিনিস মেলে নাকো ওরা বললো নিতে

পয়সা কিছুই নিলোনাকো দুটো জামাই ফ্রী তে।

দেখো পরে জামাগুলো দেখতেও হাইফাই

শাড়ি আমার অনেক আছে নেওয়ার ইচ্ছা নাই।

জামা দুটো মনের মতো আনার ইচ্ছা ঘরে

নিতে হলো একটা শাড়ি অনেক কষ্ট করে।

ঝন্টু বলে দামটা কতো টাকা কোথায় পেলে

ক্রেডিট কার্ডটা ইচ্ছে করেই গিয়েছিলে ভুলে।

দামটাও তো নগদে নয় দিচ্ছে উপহার

কার্ডটা ঘষেই দাম নিয়েছে পঞ্চান্ন হাজার।।



একানড়ে 


তালগাছেতে একানড়ে ঝুলিয়ে রাখে পা

কেমন করে  ওঠে সেথায় কেউ তা জানে না ।

বিল্টু মামা গল্পটা যেই সভায় দিলো ঝেড়ে 

হাত পা টেনে কোমর কষে দাঁড়ায় একানড়ে ।

শুনেই সবাই বললো গাঁজার টান দিয়েছো মামা 

এত্তো উঁচু গাছের থেকে সম্ভবই নয় নামা।

দেখিসনিতো বুঝবি কি আর এরোপ্লেনের থেকে 

জানলা খুলে লাফ দিয়ে যেই বসলো ডালের ফাঁকে।

ডাল কোথা সে তালগাছেতে দিচ্ছো গাঁজায় দম

তখন সে তো মানুষ ছিলো ছিলো না নির্মম।

সেই যে বিমান  গোঁত্তা খেয়ে পড়লো কোঝিকোড়ে

তারপরেতেই মানুষগুলো বনলো একানড়ে ।।



----------------------------------------------------------------- 

মতামত জানান 

ankurishapatrika@gmail.com


---------------------------------------------------------------------           


বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২০

গুচ্ছ কবিতা।। ভাগ্যশ্রী রায়।।

 



গুচ্ছ  কবিতা 

ভাগ্যশ্রী রায়



কবি-মানুষ

অতি বৃষ্টি, ধোঁয়া ভেজা কাঠ

রাঁধতে দেয় না একমুঠো ভাত

মাছি ভনভন,ডেঙ্গু করোনা

ক্ষিদে-কবিতা সাথে হাঁটে না

সবুজ পাতারা,একগাল হাসে

ওরা কবিতায় শুধু ভালোবাসে

অক্ষর গুলো আধগলা ঢেউয়ে

সাঁতরে বেড়ায় খোঁজে পার

দুটো হাত তবু কবিতা বোনে

আমি যে কবি মানুষ বেকার।


যদি দেখা পাই

পড়ে আছে শিথিল কার হাত

আলতো আঙুল মুঠো ধরতে

চায়,কবিতা ছুটছে হুট খোলা

এক গাড়ি,পাতা খুলে যায়

অতীত অধ্যায়,ফিরতে চায়

পৈঠা, দর দালান, কেউ সাজে

না,আলতো খিলি পান,সপ্ত

সুর,প্রিয় স্বরগম ম্লান,সন্ধ্যা

নামে,ছায়ারা হারায় শরীর

মুঠো দুটো,স্পর্শ গভীরে স্থির

চারপাশে মধুমাছিদের ভিড়।


কবিতা খামার

সবাই যাকে দামে কেনে

কবি্মাত্র এক রঙে বোনে

ডোবা ছেড়ে সমুদ্র স্নান

আলুভাতে ভাত অমৃতোপম

মাটির গন্ধ মাজে গা

ঘুমপাড়ানি গান অজ গাঁ

কাদামাখা পথ কবিতা ছাপে

এখানে কি কেউ সময় মাপে?

আলেয়াও নেয় সঙ্গ আমার

জোড়ে পংক্তি ভাঙা আলপথ

অনতিদূরে কবিতা খামার।


কবিতা শরীর

দূর থেকে দেখি

বুনে যাই অদৃশ্য

কোমল শীতলপাটি

ছুঁতে গিয়ে ফিরে আসি

হয় যদি পাতার শরীর 

 হয়ে যাবে

বিবর্ণ হলুদ

বৈভব খসে পরে

করুন দীনতায়

হয়তো বা চেনা সুর

অভিমানে বুকে

পাক খায়

বা কোনো ছোট্টকথা

ফুরিয়ে যাবে

ফুস মন্তরে

তারচেয়ে এই ভালো

আমি হয়ে যাই

কবিতা শরীর।


---------------------------------------------------------------- 

মতামত জানান

এই বিভাগে মৌলিক ওঅপ্রকাশিত লেখা পাঠান


ankurishapatrika@gmail. com       


----------------------------------------------------------------        


মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২০

গুচ্ছ কবিতা।। ভক্ত গোপাল ভট্টাচার্য ।।

 



গুচ্ছ কবিতা

ভক্ত গোপাল ভট্টাচার্য  


স্তব্ধ   করতে   চাও

         

আজ  যারা  বেসেছিল ভালো 

     তারাও   নিয়তির   দখলে 

ভাইরাস   কাউকে  ছাড়   দেয়না 

    সে  সৃষ্টিকর্তা    হোক   ?

রাসায়নিক  কে  কাজে  লাগাতে  চেয়েছিলে

ভেবে  ছিলে  যার হবে  তার  হবে 

চুপি   চুপি   তৃতীয়   বিশ্বযুদ্ধ

তোমরা   চলমান  সংসার  স্তব্ধ  করতে   চাও

    এতো   অবহেলা   ভাবিনি   আগে 

জয়ের    ভিতর   অনিবার্য   হার ।

ঝুরে    ঝুরে   পড়ছে  ভূমন্ডলের  মাটি 

  গৃহবন্দীতেও   বাঁচা  নিশ্চিত   নয়  

আমরা  পান   করে   গেছি 

  যে   কোনো   তীব্র   বিষ 

           তবে   এ   কোন   বিষ  

বন্ধুর   ভালোবাসা   ভরে  আছে  বুকে 

আসিনি   তবুও  কেউ  কারো  কাছাকাছি,

       হারিয়ে   আপন   জন ।

ওদের  চলা  কি  থামবে  না  চরাচর  জুড়ে 

          পৃথিবী   ঘুরছে  রোজই 

আমরা  কি  পার  হতে   পারবোনা  দুর্গম  গিরি  ।


      

 রহস্য 

  

শুধু  রহস্য  আর  খেলা 

  সারাদিন  উৎকন্ঠায়  জীবন 

ভ্রষ্টাচারের  দীপপুঞ্জ  মূল্যহীন  সমাজ 

সবার  কি মিথ্যা লেগে  আছে  ঠোঁটে।

ভিখারি  বানাও, কিন্তু মনে  মনে  সব জানো

পূর্ণে  ভরা,  শষ্যে  ভরা  দেশ 

তবুও   থলি  হাতে   ভিক্ষারির  দল 

অবসন্ন  হয়ে   ঘুমিয়ে  পড়ি

               আর  স্বপ্ন   দেখি 

বিপ্লব   এসেছে,   কত  দুরে।



 তোমার  প্রভা        


তোমার  প্রভা  আলোরশ্মি

সবই  আচ্ছন্ন  করে  আমাকে।

অন্ধকারে   তোমার  চুড়ির  টুং টাং

ভোলাও  লুন্ঠন,  আমি  ফিরে  আসি 

তুমি  আমার  শরীর  স্পর্শ  কর 

দশ  দিগন্ত  ভেসে   যায় 

উপচে  পড়ে   দু'চোখ  দিগন্ত  আনন্দে 

      আমি  দিশাহীন 

পৃথিবী   বলে   মনে   হয় ।

বুকের  মধ্যে   জলপ্রপাত  আহা, সবই  সত্যি 

            অন্যরকম  সত্যি ।

আমি  তোমার  সঙ্গে   যাবো 

        জীবন  নদীর   পারে 

মিশে  যাবো  জলের  ঘুর্ণিতে,  কথা  নয় 

        পৌঁছে   যাবো   অবলীলায় 

      জীবন নদীর   পাড়ে। 


      

 মুহুর্তের   ঘুর্ণি 

  

কি  সুন্দর  সবার  দিকে   তাকিয়ে  বলা  যায় 

শুধু  মাত্র   নিজেদের  কথা   ভেবে 

     যেমন    সূর্য   আকাশ  চাঁদের  দিকে

       তাকানো   যায়  সহজে 

কোনো   অপরাধ   ক্ষতির  কথা মনে  থাকেনা,

ইচ্ছা   করে   এমন   কথা   বলি 

যার    কোনো   মানে  নেই, 

বুদ্ধি   হারা   শ্রাবণ   মাসের  মতো। 

পুবের  বাতাস  আপন  ভাবনা  ভাবে 

 আর  ভালো  লাগে   না 

পথ  ভেজা   কালস্রোতে   ভাসতে,

রেখাহীন   পথ  দিয়ে   হাঁটতে  ইচ্ছা   করে।

ভাবতে  ভালো   লাগে  পাখিদের  আকাশ  ভরা

         ঘরে   ফেরা     দেখতে 

আমার  ঘুমের বাগানে  প্রজাপতি   মৌমাছিদের 

গুঞ্জনশব্দ    আবেগের  উপত্যকা  থেকে 

মুহূর্তের   ঘূর্ণি  এসে  যেন  ভাষায়  ভাবনা। 



         

 ভিতরে  প্রকৃতির  জ্বর 

           

অনিশ্চিত  আকাশে বামন  কামড়ে ধরছে চাঁদ,

সমাজ   বিরোধী  হিসাবে  জেনে  নিলাম।

নিষিদ্ধ   ফলের  স্বাদ, সত্য বলে  জানি জীবনকে 

 আর  সত্য  চিতার আক্রমণ,

অরণ্য  হারাবার  গ্লানি, ভিতরে  প্রকৃতির  জ্বর

কেন কষ্ট  পাও?  ওই  হাতে  ছুতে  চাও?

জলের  লহরী  ভাস্কর্য ধরছে  বুকের  কাছে 

পুরানো  অভ্যাস  বসে  দাঁড়িয়ে রয়েছি 

সেখানে, প্রায়  চুয়াত্তর  বৎসর।

অপেক্ষা  চন্দন, চোখের পাতায়  তুলসী  পাতা

ভালোবাসা  আজও  কল্পনা  গহনা  পরা  মৃত্যু 

উৎসবের  পর   বাঘ  ধরে  রেখেছে  শিকার ।

আমাদের  সংলাপ  সময়ের  প্রলাপ  বলে  মনে  হয় 

তবুও  আশায়  আশায়  আছি 

ভূত   পেত্নি  দত্যি  দানব  যদি  কিছু  করে।

সব দিকে  বিখ্যাত  অন্ধকার,  বিজ্ঞানী    

         নতুন  কিছু  আবিস্কারে  ব্যস্ত 

মৃত্যুর  আগে  রেখে  যাবো  কি  আমরা 

    নিজেদের   কল্পনার   জঞ্জাল ।



----------------------------------------------------------------

মতামত জানান। 

এই বিভগে মৌলিক ও অপ্রকাশিত লেখা পাঠান 


ankurishapatrika@gmai.. com           

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২০

গুচ্ছ কবিতা।। গৌরী পাল

 


--------------------------------  

গুচ্ছ কবিতা 

গৌরী পাল  

-------------------------  


ফটোগ্রাফি- প্রদীপ কুমার রায়  


 


দিনগুলো কাটছে কোন রকমে


দিনগুলো কোন রকমে কেটে যাচ্ছে

দ্রুত এক পা দু'পা করে 

 এগিয়ে যাচ্ছি মৃত্যুর দিকে।

শুধু অপেক্ষায় আছি জীবন

 মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে,

মৃত্যু হলেই সব শেষ।


নতুন করে জন্ম নেবো 

থাক না তোমার অবহেলা,

জীবনটা চলছিল ভালো

 মন্দের ব্যথা নিয়ে।

ভালোবেসে ছিলাম ভুল মানুষটিকে,

হাঁপিয়ে উঠেছিলাম।

জীবন কাটাচ্ছিলাম জমানো

 অনেক ব্যাথা নিয়ে।



হঠাৎ পেলাম তোমার দেখা

মনে হলো আর এক বার জন্মালে

তোমাকে পাবো আপন করে।

আজ আমি হেরে গেছি লড়াইয়ে,

মিশে যাবো তোমার সাথে

হারিয়ে যাবো তোমার মাঝে।

স্বপ্নে ও ভাবিনি আসবে এমন দিন,

তোমাকে নিয়ে কাটাবো সুদিন।


নতুন করে জন্ম নেবো

দিনের শুরু আর শেষটা

হবে না তোমাকে ছাড়া,

তোমার কথা ভেবে কাটে প্রতিটা ঘন্টা।

তোমার কথা ভেবে ভেবে

 আমি হই ক্লান্ত,

তোমায় নিয়ে লিখবো অনেক কথা।


আর একবার জন্মালে

মনের যতো আশা আছে পূরন করে

হবো দুজনে দুজনার সাথী।

তোমার প্রথম প্রেমিক হবো,

হবো আমি সুখের ঠিকানা।

 তোমার হাসি লাস্যময়ী,

চাওনিতে আমি অতুল

 সমুদ্রের তলিয়ে যাই।

আর একটি জন্মালে

 ভালোবাসবো যতন করে।





পোড়া মনের গন্ধ


প্রতিদিন দিনে রাতে জ্বলে

কতো মানুষের চিতা,

দূর থেকে দুরান্তে কোথাও না কোথাও,

পুড়ছে কতো মানুষের মন।

জেগে জেগে রাত ভোর হয়,

ভেসে আসে প্রেম পোড়া গন্ধ।

নিশাচর পাখি করুন সুরে ডাকে,

মনের চিতা জ্বলতে থাকে

ক্ষয়ে যায় বুকের পাঁজর।

মরুভূমির মতো ধূধূ করে বুকের ভেতর,

নিস্তব্ধ অন্ধকারে প্রতি রাতে

হৃদয়ে চিতার আগুন তীব্র হয়ে ওঠে।

প্রতি রাতের গল্প গাঁথা বেদনায় ভরা,

মনের ব্যথার বিষে তোলপাড় হয় মন।

কিসের শোকে জানি না ঝড়ে পড়ে

জীবন্ত গাছের পাতা।

দাবানলের আগুনে পুড়ছে

পশুপাখির মন,

তাদের দেখে প্রকৃতি কাঁদে।

আমার পোড়া হৃদয় দেখে কে কাঁদে?

কোথাও মানুষের মন বেঁচে নেই,

তবুও চলছে লড়াই আর ভালোবাসার যুদ্ধ।




কেমন আছো

 

কেমন আছিস পার্থ

তোকে আজ বড্ডো অচেনা লাগছে, মনে ঝড়ের আভাস পাই যে,

রোদ খেলে যাচ্ছে তোর ঐ মুখশ্রীতে।

মন ভোলানো হাসি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে,

তোর গোলাপী ঠোঁটের বারান্দাতে ৷

দুঃখের ভীড় আজ চোখের আঙিনায়।

তাইতো শূন্যতায় তোমার দৃষ্টি হারায়।

স্বপ্নেরাও হয়তোবা সেথা পথ হারায়

আর আমি তোর চেনার অপেক্ষায় ৷

পার্থ

হাতে হাত রেখে পাশাপাশি আছি বসে

তবুও যেন  দুরে মনে হচ্ছে তোকে

যেই আমার স্পর্শে তুই পুলকিত হতি

সেই স্পর্শে আজ তুই চমকে উঠলি৷

কি এমন ভয় তোর মনের অগোচরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে

তোর মনের ঐ অলিগলিতে বলবি আমায় প্রান খুলে,

ইদানীং যেনো গুটিয়ে নিচ্ছিস নিজেকে

আমার স্পর্শ আর ভালোবাসা থেকে ৷

পার্থ

তুই কি পালাতে চাইছিস  আমার থেকে

যেতে চাইলে বাধা দেবোনা তোকে

জানি একদিন ঠিকই ফিরে আসবি আমার কাছে 

আমার মনের সেই চিরচেনা গোলিতে ৷

 জোর করে ধরে রাখবো না তোকে

যেতে দিলাম তোকে।

ভালোবেসে যদি ফিরে আসিস

হৃদয়ে রাখবো তোকে যতন করে।

তখন শক্ত করে ধরবো তোর হাত,

ছিনিয়ে নেয় না যেন কেউ,

হৃদয়ের গহীনে প্রতিধ্বনিত হয় উথাল পাতাল ঢেউ।




----------------------------------------------------------------

এই বিভাগে লেখা পাঠান

মতামত জানান

ankurishapatrika@gmail. com

 ----------------------------------------------------------------             



শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২০

কবিতা গুচ্ছ । মনোজ ভৌমিক

 



কবিতা গুচ্ছ
মনোজ ভৌমিক 



 তুমি অন্তহীন 


আজও তোমার গানের সুর হৃদয় ছুঁয়ে যায়! 

যখন থাকি একলা প্রাণে ক্লান্ত মন ব্যাথায়। 

গানের কলি সব ভাসতে থাকে মনের কোণে কোণে,

মনের মাঝেই মনকে খুঁজি ভীষণ সঙ্গোপনে। 


যে গান তুমি গেছো গেয়ে হয়নি সে আজও হারা,

অসীমের মাঝে ব্যাপ্ত সে সুর হৃদয় পাগলপারা। 

বাউলিয়া মন হেঁটে চলেছে পশ্চিমী পথ ধরে,

ভাটিয়ালি সুর দোলা খেয়ে যায় পদ্মাগঙ্গা তীরে। 


ভুলেও তোমায় পারিনি ভুলতে  রয়েছ হৃদয় জুড়ে, 

শতাব্দী হতে শতাব্দী তোমায় খুঁজছি নতুন সুরে। 

শ্রাবণের ধারা বয় যে এখনো হৃদয় বীণার তারে,

অসীমের মাঝে তুমি অম্লান ভুলবো কেমন করে!


সময় আগুনে জ্বলছে হিয়া  জীবন সঙ্গহীন,

সাথী হয়েছে আজ তোমার বাণী তুমি অন্তহীন।




পঁচাত্তরেও উড়ো


এসো এখন আমরা সবাই 

ধ্বজা ধ্বজা খেলি, 

লক্ষ ধ্বজা লুকিয়ে এ মনে

মনের কথা বলি। 

রক্তে ভেজা ওই ধ্বজাটা

উড়েছে কবে বলো!

ভাবনাটাকে মনের মাঝে 

বৃথাই কেন ছলো!!

ফাঁসির মঞ্চে বীর ক্ষুদিরাম 

সুভাষ নিরুদ্দেশ! 

মাতঙ্গিনী পতাকা বুকে 

গুলিতে হলো শেষ!! 

অহিংসার পূজারী হয়ে

লাভটা হলো কী? 

সাতচল্লিশের পতাকায় আজো

ধর্মের ছাপ দেখি! 

জাতের নামে বজ্জাতিটাও

আজকে দেখি বড়! 

চুয়াত্তরের ও ধ্বজা তুমি 

পঁচাত্তরেও উড়ো।



সাম্যের সামিয়ানা 

         

রক্ত ঝরা স্মৃতি বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে কাঁটাতার!

বিপর্যস্ত মানবিকতার এক নিদারুণ ইস্তেহার।

বিভেদকামী নীতির স্মারক ধর্মান্ধ মানসিকতার,

আন্তরিকতার সন্ধানে ফেরা আজ বড় দায়ভার।


অপাংক্তেয় স্বাধীনতা ভাসছে নীরব অশ্রুজলে,

ভাতৃত্ববোধ মরে গেছে মসনদ লোভীদের ছলে।

মৌলবাদী সন্ত্রাসী নীতি মাথাচাড়া দেয় দিগ্বিদিকে ,

সময়ের বিড়ম্বনায় হিংসা ছড়িয়ে পড়েছে চৌদিকে।


অযাচিত স্বাধীনতার পরও খুঁজছে কারা জঘন্য বিভেদ নীতি!

ওরা কি বোঝে না এ দেশের ভাবনা আজও সম্প্রতি।

সংখ্যালঘু, সংখ্যাগুরু নিয়ে প্রতিবেশীর রিক্ত প্রহসন,

পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখুক কোথায় আমুল অধঃপতন!


অহেতুক উস্কানীতে কারা বাঁধতে চায় এ দেশে কাঁটাতার!

এ ধর্মনিরপেক্ষ দেশে চোখ না রেখে নিজেরে দেখুক বারংবার।

নিউক্লিয় শপথ না ভেঙে এসো গাই মহামিলনের গান,

সর্বধর্ম সমন্বয়ে আজও এ দেশ বিশ্বে মহান।


সময় হারানো বেলায় এসো জাগ্রত করি মহাত্মা ভাবনা,

আজ তোমার জন্মদিনে টাঙিয়ে দাও সাম্যের সামিয়ানা।


শেষ আবেদন 


সংখ্যাগুন লাভ কি হবে! 

গুনতে থাকো সময়, 

মৃত্যু দূত দাঁড়িয়ে শিয়রে

প্রাণেতে সদাই ভয়। 

কার গলাতে পড়বে ফাঁন্দ

বুঝতে পারে না কেউ, 

মুখোবাস আর দূরত্বতে 

চলছে বাঁচার ঢেউ! 

মানুষ তুমি তো বিশ্বশ্রেষ্ঠ 

তোমার তুলনা নাই, 

তোমার তুলনা তুমি নিজে 

তার আগে সব ছাই। 

পৃথিবীটাকে ভাগ করেছো

দুই শত রেখা দিয়ে, 

হিংসা বিদ্বেষ দলাদলি 

ভুবনে দিলে ছড়িয়ে! 

ধর্ম দিয়ে গড়লে বিভেদ 

মানুষ হতে মানুষ, 

জাতের নামে বজ্জাতিটাও

তোমার গড়া ফানুস। 

বারুদে খেলা হয়নি শেষ 

কীটাণুতে সসাগরা! 

আধিপত্যের অহংকারে

নিজেকে জাহির করা। 

একবিংশের ধ্বংস যজ্ঞে

কত যে দিলে আহুতি! 

মানুষ তুমি মানুষ হও

দেখো পুরাতন স্মৃতি।

হ্যদয়মাঝে উঠুক জেগে

ঊনবিংশের উচ্ছাস, 

সবাই যেন বাঁচতে শেখে

মনেতে নিয়ে বিশ্বাস।


রবিবার, ২৮ জুন, ২০২০

তপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের তিনটি কবিতা




   স্রষ্টার সৃষ্টি

আশ্চর্য ঘটনা এক দেখলাম কাল সন্ধেকালে
সূর্যাস্তের লাল রং নদীর ঢেউয়ে কিছু লেখে
সেই লাল ঝিলিমিলি যেন কিছু অক্ষরের মালা
আসলে কবিতা সেটি সূর্যদেব গিয়েছেন রেখে

দিনের পাখিরা ফেরে ডানা নেড়ে যে যার আলয়
বৃক্ষকাণ্ডে তারা সব গান লেখে ছন্দ-মিল-লয়
সেই গান গায় ভােরে আমি কিন্তু তখনও জাগিনি
জেগে উঠে ভাবি এটা কোন রাগ কিংবা রাগিণী

দিঘিটার জলে ওই পদ্ম এক টকটকে লাল
চারপাশে পাতাগুলি বৃত্তাকারে ঘিরে আছে তাকে
দুটো টিয়া উড়ে এসে দোল খায় পদ্মপাতায়
প্রকৃতি নিজের মনে এরকম কত ছবি আঁকে

কেউ কি লক্ষ্য করে প্রকৃতির এত কারসাজি
আমি এক অপােগণ্ড আড়চোখে নজর রাখছি
প্রকৃতি সৃষ্টি করে কত কিছু আপন খেয়ালে
পদ্য লেখে, গান করে, ছবি আঁকে, আকাশ সাথী।


অলংকরণ- বিমল মণ্ডল  



  পথের দিশা

পথের কি আর অন্ত আছে,
পথ চলে যায় পথের মতাে
আমিও খুঁজছি কোথায় শেষ
হাঁটতে থাকি ইতস্তত
পথিক কাউকে শুধােই গিয়ে,
‘কোনখানে শেষ, জানেন মশায় '?
হাসল সে জন, 'সব মানুষই
পথ খুঁজে যায় জীবদ্দশায়'। 

অলংকরণ- বিমল মণ্ডল  



 সিঁড়ি
 
দেখতে পাচ্ছাে একটা লম্বা সিঁড়ি
ঘাড় অনেকটা উঁচু করেও জানতে পারছ না তার শেষ ধাপ কোথায়
তবু প্রথম সিঁড়িতে পা রাখাে
হয়তাে একটু টলে উঠবে পা
বুঝতে পারছ না তােমার পাশে কেউ আছে কি না
সামলে নিয়ে পা রাখাে দ্বিতীয় ধাপে
তখনও টালমাটাল পা
তুমি খুঁজছাে আশেপাশে আর কেউ আছে কি না
তৃতীযের পর চতুর্থ ধাপে পা রাখার সময় মনে হল
আশেপাশে দু-চারটে ধুপধাপ পায়ের শব্দ
তুমি কাউকে দেখতে পাচ্ছাে না
তবু পা রাখাে পঞ্চম ধাপে
শব্দগুলাে একটু প্রখর হচ্ছে।
তারপর ষষ্ঠ পা
আশেপাশেই শুনছ শব্দগুলাে, কিন্তু চোখ পড়ছে না কাউকেই
ক্রমে সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম...
কেউ না কেউ আছেই পাশে নইলে কাঁধে কাঁধ ঠেকে যাচ্ছে কেন
হঠাৎ কি হড়কে গেল পা, থামলে কেন হঠাৎ
এমন দু'চারবার হড়কে গেলেও আবার সামলে নিয়ে উঠতে হয়
একাদশ পেরিয়ে দ্বাদশে রেখেছ পা
কারও সঙ্গে কি দেখা হয়ে গেল নইলে কেন শ্লথ হয়ে গেল গতি
এয়ােদশ, চতুদশ, পঞ্চদশ...
কী হল হঠাৎ, পড়ে গেলে নাকি
ওঠো, আবার পা রাখখা, চরৈবেতি, চরৈবেতি, চরৈবেতি...
যদি বিশ্বাস  রাখাে
নিশ্চয়ই একসময় কোথাও না কোথাও শেষ হবে সিঁড়ি
যেখানে তােমার গন্তব্য।

এর নাম জীবন।




যেকোনো বিভাগে অপ্রকাশিত লেখা পাঠান
মতামত জানান
bimalmondalpoet@gmail. com