বইমেলা সংখ্যার কবিতা
অনিন্দিতা শাসমল
১.
সৃষ্টিসুখ
আনন্দ ও বেদনার বোধ থেকে যদি কথারা উঠে আসে ,
অন্তরে কবি হয়ে ওঠা যখন ;
তখনই কবিতার জন্ম।
মা আর প্রকৃতির কাছে শব্দের ঋণ ,
যেমন প্রজাপতির কাছে ঋণ ফুলের ।
না বলা অস্ফুট কথায় প্রাণসঞ্চার ।
অবাধ্য কলম খাতার সাদা পাতায়
আঁকিবুকি কাটে।
রঙ তুলি পরম মমতায়
মনের ক্যানভাসে ছবি হয়ে ফুটে ওঠে,
প্রথম স্তন্যদানের মতো সৃষ্টিসুখ।
২.
স্বপ্ন-কাজল
মন খারাপের একলা রাতে
বানভাসি জোছনায়,
দেখতে পেলাম তোমার ছবি
স্মৃতিরই আয়নায়।
দুগাল বেয়ে জলের ধারায়
তোমার আঙুল ছোঁয়া ;
তোমার ভেজা ঠৌঁটের স্পর্শে
ভালোবাসা আর মায়া।
অপেক্ষা তার ফুরোয় না যে,
চাঁদের নরম আলো মেখে,
স্বপ্ন কাজল পরেছে মেয়ে
নীরব ভাষার দুটি চোখে।
৩.
তোমার চেয়ে
দই বেগুনের রেসিপিটা কিছুতেই মনে পড়ছিলনা।
আগে হলে ,সঙ্গে সঙ্গে ফোনে জেনে নিতাম।
আজ পূর্ণিমার আকাশের দূরতম নক্ষত্র ,ভরা জ্যোৎস্নার ঔজ্জ্বল্যে ম্লান।
দ্বিধা হল,পারলাম না।
তুমি বিরিয়ানি মশলা এনে না দিলে, কিছুতেই ভালো বিরিয়ানি হয়না-- তুমিও জানো। তবু মশলা ছাড়াই কোনোরকমে রান্নাটা হল।
ভালোই হল,যদিও সেই স্বাদ এলোনা।
তোমার বুকের উষ্ণতা ছাড়া ঘুম আসেনি কোনোদিন..
সারাদিন পরিশ্রমের পর, ক্লান্ত চোখে তন্দ্রা নামে; তাও অনেক রাতে।
ঘুমের ওষুধের ঘোরলাগা রাত পার হয়ে যায় ঠিক। ঘুমন্ত মুখে , ঠোঁটের কোণে সুখের হাসি ফোটে না আর ।
তোমার চেয়ে ভালো কে জানে এসব কথা ?
৪.
আমি অপেক্ষায়
টুসু পরব চলে গেল ,
শীত শেষ হতে চললো...
কাঁসাই এর তীর
কুয়াশায় রহস্যময় ।
অনেক দূর থেকে ট্রেনের বাঁশি শুনে ছুটে গেলাম;
কোথায় ! তুমি নামলে না তো !
ওভারব্রীজের নীচে গিয়ে দাঁড়ালেই ,
বহুবছর আগের মতো
আমি আজও তোমার সেই হাসিমুখ দেখতে পাই।
অনুভব করি তোমার প্রথম হাতের ছোঁয়া..
রূপসী বাংলা আর আরণ্যকের কামরায়
আমাদের কত স্মৃতিকথা লেখা...
পলাশের দিন এল বলে !
অন্তবিহীন পয়লা ফাগুন !
আমি অপেক্ষায় ..
আজীবনের প্রতীক্ষায়..
৫.
চিরস্থায়ী হয়না কিছুই
একটা রোগ এত কিছু কেড়ে নিল !
প্রেম ভালোবাসা বিশ্বাস আস্থা বন্ধুত্ব
এমনকি একটুকরো অংহকারও !
আসলে,অতিমারী- আতঙ্ক কাটিয়ে,
ভালো থাকার আর সবাইকে ভালো রাখার
কথা ভাবতে গিয়ে,
নিজেদের দিকে ফিরে দেখার সময়ই হয়নি !
আবেগের কথাগুলো ?
নাঃ ! বলা হয়নি ।
ভাঁজ করা দামি শাড়ির মতো আলমারিতে সযত্নে গোছানো থেকে গেছে !
দীর্ঘদিন পরে বের করে
দেখি,পোকায় কাটা অজস্র ছিদ্র !
প্রতিদিন ব্যবহারে রঙ চটে আসা শাড়িটাও কত আপন!
অথচ ওই দামি শাড়িটার দিকে তাকিয়ে চুপ করে বসে থেকে, আবার তাকে তেমনি ভা়ঁজ করেই রেখে দিতে হয় মন খারাপ নিয়ে।
চিরস্থায়ী হয়না কিছুই।
না পোশাক না আবেগগুলো..
ব্যবহারে রঙ চটে,
অব্যবহারে হয় মরচে ধরে নয় পোকায় কাটে, নয় ভাঁজে ভাঁজে ছিঁড়ে যায় ..
করোনা !
তুমি অপেক্ষার মন্ত্র শেখালে !
বেদনায় নীল হয়েও,
বেঁচে থাকতে শেখালে !
জীবনের সুন্দর মুহূর্তগুলো কেড়ে না নিয়ে ,
তুচ্ছাতিতুচ্ছ এই জীবনটা নিলেই তো পারতে !
---------------------------------------------------------------------
আরও পড়ুন 👇👇👇👇👇👇👇
মতামত জানান 👆👆👆👆
---------------------------------------------------------
https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/02/blog-post_5.html

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন