বইমেলা সংখ্যার কবিতা
রঞ্জন ভট্টাচার্য
১.
হৃদয়ের আঙ্গিকে
যদি প্রশ্ন করো
কোথায় লাল
বাইরেও লাল ভিতরেও
যেন গোলাপের দল সাজানো আছে
পরোতে পরোতে
যেখানেই দেখি তোমার'ই অবয়ব
বাইরে দৃষ্টি অন্তর্দৃষ্টি লালে লালময়তা
নিজেই নিজেকে তো দেখা যায় না
অন্যের চোখ দিয়ে দেখতে হয়
বুঝতে হয়
উপলব্ধি করতে হয় ।
তবেই তো মিশে যাওয়া যায় লালিমার সাথে আস্বাদিত প্রাণ স্বাদ পায় পলে পলে
প্রতিটি তরঙ্গে তরঙ্গে
তরঙ্গায়িত জীবনের ছলকে ছলকে
হৃদয়ের আঙ্গিকে আঙ্গিকে।
২.
তুই তো ইছামতি
তুই যখন ছোট ছিলি
অপ্রশস্ত বুকে তোর দুরন্তপনা
চোখে পড়ার মতো
কতজল বয়ে যেত নিজের খেয়ালে
পরোয়া নেই
ফুলে যখন বসন্তের নবযৌবনা মুকুল
থরে থরে সাজানো ফুল রাশি
কোকিলের ডাক শুনে উছলে ওঠে না তো মন ?
ভরা এ যৌবন....
সুবাস ছড়িয়ে বাতাসের স্তরে স্তরে
মুগ্ধ আবরণে তুই মজিছিলি কিসে
বোঝার উপায় নেই
এমনি করে দিন যায় চলে
গলিত স্রোতের বেগ আবেগে বিষাদে
সুখ দুঃখে শোকে ।
মধ্যান্য পেরিয়ে আজ গোধূলির বেলা
শেষ জীবনের শেষ খেলা
ক্ষয়িত জীবন স্রোতে জমেছে শ্যাওলা ময়লা-আবর্জনা...
নেই সেই তেজ উন্মাদনা
অবহেলিত পথিক হয়ে ঘুনধরা সমাজের
এক নিস্তব্ধ আয়নার আড়ালে।
৩.
সেই পাখিটা
সেই পাখিটা
এখনো আসে আমার কাছে
ভোরে সূর্য ওঠার আগে
ডাকে কথা বলে
আবার কিছু খেয়ে পালায়
কথা কি যে বলে ফিসফিসিয়ে
কী জানি !
তবে....
আসে সেই পাখিটা
এখনো আসে
আসবে
এটাই জানি।
৪.
সেখানেই তুমি
সেদিনের কথা আজও মনে আছে
নিশুতি রাত জোনাকিরা কথা বলে
আমি তো ছিলাম জেগে
কথা দেওয়া ছিল যা বাকি ...
তুমি দিলে মন ভরিয়ে তোমারি
আপন খেলাঘরে,
একান্তে নিভৃতে অনিয়ন্ত্রিত আবেগে
অপূর্ণ পাত্র পূর্ণ করেছ হৃদয়াবেশে
সেখানেই তুমি
ছেঁড়া মালাকে পড়েছ গলে ।
৫.
উত্তরের অপেক্ষায়
আজ দিকে দিকে দেখি নিরুত্তাপে ছায়া
শব্দহীনতা...
ফিসফিস করে এগিয়ে চলে
নিয়মের রাস্তা ধরে ,
শূন্যতার মাঝে পূর্ণতা পেতে ।
ঘরছাড়া কিছু পাখি
একটু বাতাস এর অপেক্ষায় বটের ছায়ায়
ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে অবকাশ যাপন
উত্তর নেই কারো কাছে
শুধু উত্তরের অপেক্ষায়...
----------------------------------------------------------------
মতামত জানান। পড়ুন ও পড়ান।
ankurishapatrika@gmail. com
----------------------------------------------------------------
----------------------------------------------------------------

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন