লেবেল

কালো মায়ের পায়ের আলো লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কালো মায়ের পায়ের আলো লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ১ নভেম্বর, ২০২২

কালো মায়ের পায়ের আলো —২৩।। আলোরমণী — তপনজ্যোতি মাজি।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



কালো মায়ের পায়ের আলো —২৩



আলোরমণী

তপনজ্যোতি মাজি



অন্ধ করা অন্ধকারে আলোর আলপনা। এতো

বৈপরীত্য কি সহ্য করে চোখ? কালো রঙ নিয়ে

কি দারুন উপেক্ষা বিশ্বজুড়ে! স্তোত্রে স্তোত্রে তবু

মাতৃবন্দনা।


সন্ধ্যারঙ অনাবৃত শরীর। প্রাতিষ্ঠানিকতা বিরোধী

প্রথম পদাতিক। শুধুমাত্র নারী নয়,শক্তি প্রতীক।

সমস্ত উপেক্ষার স্পষ্ট প্রতিবাদী। একান্ন তীর্থের

দেবী , শক্তিরূপিনী।


ধর্ম,উপাসনা,মতবাদ থাক দূরে। প্রতিবাদী প্রতীক তুমি,আলোরমণী। মেঘরঙ শরীর থেকে বহুবর্ন


আলো ছড়িয়ে পড়ছে। দীপাবলি। জ্যোতির্ময়ী

বিশ্বজননী।



সোমবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২২

কালো মায়ের পায়ের আলো —২২।। হীরক দ্যুতি রূপের খনি — প্রদীপ্ত সামন্ত।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 


কালো মায়ের পায়ের আলো —২২


হীরক দ্যুতি রূপের খনি

প্রদীপ্ত সামন্ত

মনের কালিমা সরাও বলেই
তাইতো তুমি হলে কালি ,
লোলজ্বিহা রাঙা ঠোঁটে
চরণ নয় তো জবার ডালি ।

মুণ্ডমালা দুলছে গলায়
ধড়বিহীন ওই মুণ্ড কাটা ,
নরবলি বিদায় দিয়ে --
হাঁড়ি কাঠে ওই কাটা পাঁঠা ।

নৃত্য তালে ঝড়ের মাতন
মুক্তকেশী এলোচুলে ,
দুঃখ জ্বালার অমানিশা
কাটিয়ে মাগো প্রাণটা খুলি।

মহাকালও শব হয়ে যায়
শক্তিময়ী সনাতনী --
হীরক দ্যুতি কয়লা কালোয়
মধ্যে যে তোর রূপের খনি।

রবিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২২

কালো মায়ের পায়ের আলো—২১।। এক ঋষি দৈর্ঘ্যের নারী ও লাল জবার জরায়ুতন্ত্র— নিমাই জানা।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



কালো মায়ের পায়ের আলো—২১



এক ঋষি দৈর্ঘ্যের নারী ও লাল জবার জরায়ুতন্ত্র

নিমাই জানা



ব্রহ্মাস্মী শব্দঘোরের ভেতর নীল নীল মাতৃ অক্ষর নিয়ে যে জীমুতবাহন শরীর নেমে আসে মথুরা খন্ডকের দিকে , তার পাশে মৃৎশিল্পী রঙের সপ্তম মহিয়সীরা  র - আকার চিহ্ন নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে অগ্নিখণ্ডক জ্বালানোর নেশায় , বারুদ একটি বিষাক্ত ছায়ার নাম

আমার জিভের চারপাশে আগুন রঙের ছাই রেখে গেল সাদা সাদা ভূমধ্য ঋষিপুত্রেরা , কৈলাস জনপদ খঁড়ছেন পুরুষতন্ত্রের সমাঙ্গ ফুল
শোণিত রক্তধারার বজ্রপাতের গাঢ়ত্ব রুদ্রচন্ডী চাঁদমালা ফুল দিয়ে তিনি নিধন করছেন এক একটা কালাচ সাপ , অশৌচ আত্মা আর হিরণাক্ষ্য রঙের অধাতব নপুংসক পুরুষ সমগ্ৰকে
অনন্ত শরীর দিয়ে তিনি সারারাত মৈথুন করে সৃষ্টি করেন আদিম চৈতন্য শরীর , প্রতিদিন রাত হলে ঈশ্বর দেওয়াল বেয়ে নেমে আসে অনন্ত শক্তির আধার নিয়ে ,
ক বর্গের পুরুষেরা জ্যোৎস্নাহীন রাতেই ঘুরে বেড়ায়

তিনি মহামায়া , ক্রমশ বর্ণহীন ল্যাটেরাইট চোখের ভেতর শ্বেতাম্বর অক্ষয় তিনি ,আজও ক্রিস্টালাইজেশন কাঁটা গাছ নিয়ে দাঁড়িয়েছে সারা দেহের সবুজ নিলয় খণ্ডকের উপর
চতুর্থ রক্ত কণিকারা ভেসে উঠছে স্থির অমৃত যোগের জন্য  , মধ্যরাতে যজ্ঞের হোমাগ্নি মন্ত্র শোনাবেন আদিম ব্রহ্মপত্নী শতরূপা নাম নিয়ে , আবেশ একটি ভৌতিক পুরুষের চুম্বন ঘনফুল মাত্র
মহা অঘোর তন্ত্রের ভিতর তিনি আর কেউ নন অস্থি খণ্ডকের মতো লাইসোজোম পালকহীন সোনালী পদ খণ্ডক নিয়ে ব্রহ্মপুত্র পেরিয়ে যাচ্ছেন আদিম শস্যকন্যা ও জলধার সমগ্র নিয়ে
আমি শুধু শ্যামাঙ্গী দেহের কাছে ঋষিবিলাস ক্ষেত্র গড়ে তুলি √৫ অযৌন পিচ্ছিল এলাচ ফুলের মায়াগন্ধ দিয়ে , সবুজহীন পাখিরা নিপুন জলাধারের কাছে সরলরৈখিক স্নানাগারে নেমে যাচ্ছে চাপ চাপ রক্ত কণিকার পিশাচদের নিয়ে , আমি আসলে ঈশ্বরের কাঁচ ফলের ম দৈর্ঘ্যের চোখ,
অনুভূমিক মন্থকুপের কামাক্ষা তন্ত্রের উপত্যকা ও হিমোগ্লোবিনহীন মায়ের কাছে অনুলোম বিলোম রেখে আসি  লাল জবা ফুলের জরায়ু তত্ত্বের মতো

মা আমাকে নীল জলাধারের ভেতর থেকে ভগীরথের মতো নিয়ে আসছেন অসীম ইন্দ্রপ্রস্থের দিকে , মিথুন চোখের কাছে ত্রিনেত্রের ঈশ্বরী ক্রমশ ছিন্নমস্তা ব্রহ্মাণ্ডের ণ-  চিহ্ন খুঁড়ে দিচ্ছে একদল গোলমুখো সাপ রঙের পুরুষ হয়ে  , 
আমরা সারারাত অ্যাসপিরিন চিবোচ্ছি চিরহরিৎ মায়ের জন্য
নাভির কাছে ১৩ টি পদ্ম গোখরো জন্মের আগেই ক্লীবলিঙ্গ হয়ে যাচ্ছে

শনিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২২

কালো মায়ের পায়ের আলো —২০।। প্রদীপ জ্বলেছে প্রাণে — সৌম্য ঘোষ।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




কালো মায়ের পায়ের আলো —২০




প্রদীপ জ্বলেছে প্রাণে

সৌম্য ঘোষ


মোমবাতিগুলো রেখে এসেছি
মোম গলে আর অভিমান ঝরে না
শৌখিন শিখার তাপ গেছে উবে।

তারাদের গিলে পাহাড় উঠল টলে
জোনাকিরা স্থির
আগুন রঙে ভোর মনে হয়
তুবড়ির ছটায় লাভা আসছে নেমে।

ছাইয়ের স্তূপে জেগে গুটিকয় দূর্বা ঘাস,
প্রদীপ জ্বলেছে প্রাণে।

শুক্রবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২২

কালো মায়ের পায়ের আলো —১৯ ।। কালো মায়ের আলো — জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



কালো মায়ের পায়ের আলো —১৯



কালো মায়ের আলো  

 জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়


আলো জ্বলছে আলো। যাকে দেখলাম গভীরতর কালো
এত আলো তাকেই মানায় ? কোথা পায় এমন জৌলুস?

অন্ধকার ছেয়ে আছে শামিয়ানা,দশদিকে কুয়াশা চাদর
আদরের গন্ধটুকু নেই,কেবল দাহন। তবু সেই কালো
তেমন গভীর নয়।সর্বাঙ্গে ক্ষয়,মৃদু কালোর সে আস্তরে
স্বার্থগন্ধ নরকের আঘ্রাণ।তবে সে অন্য কথা,দৈনন্দিন
দুর্গন্ধে বাঁচা ছাপোষা গেরস্তের অনুত্তীর্ণ রোজনামচা।
সেই সুখ, সেই পাওয়া,সেই না পাওয়ার আগনে পোড়া
অকাব্যিক আধ্যাত্মিকতার আচারেই বাঁচা,মরার মতোই।

তবু আলো জ্বলে।গভীরতম অসিত শরীরে কয়লার দল
কেঁদে ফেরে আদাড়বাদাড়,ঘাট-ঘর,মাঠআর জলের বিস্তার
তার ভেতরেই আলোর দামাল,প্লাবনের উচ্ছ্বাসে খ্যালে
ধুয়ে দেয় আঁতিপাঁতি অন্ধকারের জাল,কোথা বাজে আলো?
চোখে,মুখে,কেশদামে,গায়ে,তোমার রক্তাভ উজ্জ্বল পায়ে।
এত আলো,আলোময়ী,সজীবে দেখেছি কালো,অতলে
জ্বলন্ত তোমার উদ্ভাস।আর একটু চোখ রাখো,মুছে দাও
যাবতীয় অবিচার,অদর্শন,বিষক্রিয়া,পাপ আর মোহজাল
গাঢ় কালিমায় মুছে দাও অন্ধতার অভিমান,পাপ

তোমার আলো ওগো কালো মেয়ে,কালো মা,প্রলয়ংকরী!

বৃহস্পতিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২২

কালো মায়ের পায়ের আলো —১৮ ।। মুদ্রিত অক্ষরে — ভবানীশংকর চক্রবর্তী।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




কালো মায়ের পায়ের আলো —১৮



মুদ্রিত অক্ষরে

ভবানীশংকর চক্রবর্তী

যত বলি পৌরাণিক
তবুও সে আধুনিকতর হয়ে আসে
রূপে ও রূপান্তরের নানা পর্যটনে

এখন যেখানে আছি
এই বাস্তবতা, আলো আঁধারের লুকোচুরি
এসবের সাথে মিশে আছে মায়ের স্নেহ ও আদর

তাকেই তো আলো বলে
আর সেই আলো অনন্তের অন্ধকার উৎস থেকে
উৎসারিত হয়ে ব্যাপ্ত করে চিদাকাশ

সেই কালো মায়ের পায়ের আলো
ঠিকরে পড়ে জীবনের মুদ্রিত অক্ষরে।

কালো মায়ের পায়ের আলো —১৭ ।। শ্যামাসঙ্গীত — মঙ্গলপ্রসাদ মাইতি।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



কালো মায়ের পায়ের আলো —১৭




শ্যামাসঙ্গীত

 মঙ্গলপ্রসাদ মাইতি



বড়োই ইচ্ছে তোর চরণের রাঙা একখান জবা হ’ব
দিবানিশি কাছে থেকে দু:খ-সুখের কথা ক’ব।

কালী কালী ডেকে যাব
নয়ন জলে বুক ভাসাব
যতক্ষণ না দিবি সাড়া তোরেই শুধু স্মরণ ল’ব।।

যখন সবাই ঘুমের ঘোরে থাকবে অচেতন-
আমি তখন দিব্যি জেগে করব জ্বালাতন।
দেখি আমায় দূরে ছুঁড়ে
থাকতে পারিস কেমন করে
তোর মধুমাখা নামটি লয়ে তোর চরণেই পড়ে র’ব।।

বুধবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২২

কালো মায়ের পায়ের আলো —১৬।। মঙ্গল করো মা গো সবাকার — দীপক বেরা।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




কালো মায়ের পায়ের আলো —১৬




মঙ্গল করো মা গো সবাকার

দীপক বেরা 


দিন ও রাত্রি, জীবন আর মৃত্যু— 
বয়ে চলেছে কালের অমোঘ যাত্রাপথে..
চেতন-অচেতন-অবচেতন, সব কেমন
একাকার হয়ে যায় অমাবস্যার দীপান্বিতা রাতে
মহাঘনঘোর মৃত্যুর উল্লাসে বিষণ্ণ প্রহেলিকায়
নিকষ আঁধারে পথ হারিয়ে ডানা ঝাপ্টায় পেঁচা 
বাদুড়ের গা ছুঁয়ে চলে যায় হাউইয়ের স্ফুলিঙ্গ
অদূরেই বারোয়ারি আয়োজনে শক্তির আরাধনা, 
প্রলয়রূপিণী মুণ্ডমালিনী মা কালীর সাধনা ভজনা। 
চন্দ্র-সূর্য-অগ্নি যাঁর ত্রিনেত্র
তিনি রহস্যময়ী দেবী মা কালিকা
অনন্ত আঁধার, অন্তহীন সেই রাত্রির নাম শ্যামা
যাঁর অন্তরে সদা জায়মান চিরন্তন জ্যোতির উদ্ভাস! 

জীবনভর যারা বাঁচে আর মরে, মরতে মরতে বাঁচে, 
জীবন ফুরিয়ে আসে, মৃত্যুর ঘা শুকোয় না তবু;
মাতৃরূপা হয়ে মা গো, —এসো তুমি তাদের পাশে।
মহামহিম অস্তিত্বের এপার-ওপার জুড়ে দিয়ে 
এই ডানা ভাঙা গণতন্ত্রী স্বাধীন নামক ঘুমন্ত দেশে 
তুমি সর্বদা বিরাজ করো, বিরাজ করো মা গো—
মঙ্গল করো, মঙ্গল করো মা গো সবাকার...! 

কালো মায়ের পায়ের আলো —১৫ ।। চেতনার গভীরে — রঞ্জন ভট্টাচার্য।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



কালো মায়ের পায়ের আলো —১৫



চেতনার গভীরে

রঞ্জন ভট্টাচার্য



আলোকময় দীপের পিছনে কালোর অবস্থান
দূরে কোথাও রোশনাই,  দূরে আরো দূরে তবুও অন্ধকার বিরাজমান....
আর আজ সেই অন্ধ তরীতে'ই  আমরা যাত্রী
শুধু একটু আলোর খোঁজ মাঝে মাঝে পাই, আবার কোথাও যেন উধাও হয়ে যায় 
তাকে খুঁজে পাওয়া বড় দায় !
তবুও আমরা খুঁজেই চলেছি মাটি থেকে সাগর, সাগর থেকে আকাশ, আকাশ থেকে মহাকাশ আরো দূরে ওপারে মহাশূন্যের পারে 
খুঁজিনি আমার চেতনার গভীরে!

মঙ্গলবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২২

কালো মায়ের পায়ের আলো -১৪।। রুদ্রাণী — বিকাশরঞ্জন হালদার।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




কালো মায়ের পায়ের আলো -১৪


রুদ্রাণী 

বিকাশরঞ্জন হালদার 

পায়ের তলায় সাজিয়ে রাখে অন্তর 
জন্ম-মৃত্যুর করতার! 
বয়ে যায় আলো
ঘোর রুদ্রাণী জননী যখন নৃত্য-মত্ত, আধা-তন্দ্রিত 
আদি দেব! তুমুল-প্রেমিক!
চোখের আলোয় যার সমর্পন করে, এই 
আশ্চর্য আলোর জোয়ার! 
জগ'জনের হৃদয় ভেসে যায়! 

কালো মায়ের পায়ের আলো -১৩ ।। একবার মুখ তুলে চাও মা — অশোক রায়।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



কালো মায়ের পায়ের আলো -১৩



একবার মুখ তুলে চাও মা

অশোক রায়


পচনশীল গলিত শব সাজানো চতুর্দিকে
পায়ে চোখে হাতে গলায় পাপের আভরণ
অণ্ধকারের বনাঞ্চলে মুঠো মুঠো কালো আবির
অনন্ত অনৈতিক কার্যকলাপের কঙ্কাল সীমাহীন
অমানিশার নিকষ শ্মশানভূমে পিশাচ আত্মার 
কৃপাণ ধারী প্রলয় হুঙ্কার দিকে দিকে ফেরে

শয়নে স্বপনে হৃদয়ের  কোণে রাখি গোপন আশা
আসবে এমন দিন যত ভ্রষ্টাচারের ভ্রুন হবে বিলীন
মায়ের কালো রূপের অভ্যন্তরে চিরদিনের তরে 
অবিরাম দূষিত রক্তস্রোত ন্যায়ের পদতলে
কালোর বন্যায় ভেসে যায় যাক যত কালিমা
মাগো বন্দি চরণ তোমার এসো দূর কর অমানিশা।।
                                   

সোমবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২২

কালো মায়ের পায়ের আলো —১২ ।। আলো আঁধারের কবিতা— সমাজ বসু।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




কালো মায়ের পায়ের আলো —১২




আলো আঁধারের কবিতা

সমাজ বসু

সত্য, বিশ্বাস আর ভালবাসায় আচ্ছন্ন মানুষের
শরীর থেকে ঠিকরে আসে আলো---
তা সে যে বর্ণেরই হোক।
সেই সব মানুষ এলে আলোকিত হয় চারপাশ---
আলো জ্বালতে হয়‌ না।

এদের আকালে হাজার ওয়াটের আলোও অন্ধকার
মুছতে পারে না ---
বরং অন্ধকারের পরতে পরতে জড়িয়ে যায়
মিথ্যা, অবিশ্বাস আর ঘৃণা।

সেই প্রস্তর যুগ থেকে আলোর অনুসন্ধান,অথচ--অন্ধকারের কোন জন্ম মৃত্যু নেই --- কিংবা আবিষ্কার।
শুধু আলোর অভাবই অন্ধকার।

রবিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২২

কালো মায়ের পায়ের আলো -১১ ।। আর্জি — বিদ্যুৎ মিশ্র।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



কালো মায়ের পায়ের আলো -১১




আর্জি

বিদ্যুৎ মিশ্র

বছর পরে মাগো আমার
আসছে আবার ঘরে
তাইতো সবাই নতুন কাপড়
নতুন জামা পরে।

পুজোর রাতে ভীষণ মজা
শুধুই ঘোরাফেরা
তারও মাঝে কিছু মানুষ
কাপড় পরে ছেঁড়া।

উপোস করে দিন কাটে আর
মলিন তাদের মুখ
পুজোর দিনেও কেন মা'গো
পায় না ওরা সুখ?

এতো বিভেদ কেন মাগো
সবাই তোমার ছেলে
কেউ আছে কোলে তোমার
কেউ বা এলেবেলে।

আসছে বছর পুজোর সময়
এই ব্যবধান ভুলে
সবাই আবার এক হয়ে যাই
আর্জি রেখো তুলে।

শনিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২২

কালো মায়ের পায়ের আলো -১০।। কালো মায়ের পায়ের আলো — দুর্গাদাস মিদ্যা।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




কালো মায়ের পায়ের আলো -১০


কালো মায়ের পায়ের আলো 

দুর্গাদাস মিদ্যা 

  ঘোরতর অন্ধকারে দাঁড়িয়ে আছে সময়
  শুধু নয় ছয় চারদিকে যে বা যারা বলেছিল 
  অন্ধকার দূর করে আলোর নিশানা 
  দেখাবে তারা সত্যের টুঁটি টিপে ধরে
  ঘোরতর অন্ধকারে নিক্ষেপ করেছে আমাদের। 
   দিশেহারা আমরা জানি না কে তুলে দেবে
   আলোকবর্তিকা আমাদের হাতে এই অসময়ে? 
    অমাবস্যার রাত এখন গাঢ় অন্ধকার
  কালো মায়ের পায়ের কাছে বসে  যতই
  কাকুতি মিনতি করি নিস্ফল হবে সেই সব।   
স্বকৃত অপরাধে অপরাধী আমরা
 লজ্জায় মুখ ঢাকি মায়ের কাছে। 
 সন্তানের অপরাধে মাও আজ গভীর অন্ধকারে। 

শুক্রবার, ২১ অক্টোবর, ২০২২

কালো মায়ের পায়ের আলো -৯ ।। কালো মা ও মহাকাল — তু ল সী দা স মা ই তি।।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




কালো মায়ের পায়ের আলো -৯



কালো মা ও মহাকাল

তু ল সী দা স  মা ই তি



কালো মায়ের পায়ের তলায় নির্বিকার পিতৃদেব 

ধারণ করে আছেন মহাকালকে।

নীলকন্ঠ পুরুষ শুষে নিচ্ছেন নীল পৃথিবীর বিষ।


আমাদের ঘরে এমন দৃশ্যের ভেতর গড়ে উঠছে 

যে বিস্তীর্ণ মায়া, সেখানে এত আঁধার কেনো?

এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সসাগরা পৃথিবীর দিকে তাকাই।


দিনরাত্রির চলার মতোই অবিরাম ঘুরতে থাকি

আঁধার পেরিয়ে আলোর দিকে। ছায়াপথ পেরিয়ে অজস্র প্রদীপ। তাদের আলোয় স্নান করতে করতে 

বলতে থাকি 'তমসো মা জ্যোতির্গময়।'


মালাতে ঝোলানো মুণ্ডগুলি ফুলের মত হাসলে

কাল ঘুমিয়ে যায় মহাকালের অতল ঘুমে।


আলো আঁধারি ঘরে এভাবে আমরাও অমর হয়ে উঠি।

বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর, ২০২২

কালো মায়ের পায়ের আলো-—৮ ।। 'করাল বদনাং ঘোরাং মুক্তকেশী চতুর্ভুজাং শবারূঢ়াং মহাভীমাং '— পুষ্প সাঁতরা।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 







কালো মায়ের পায়ের আলো-—৮ 





'করাল বদনাং ঘোরাং মুক্তকেশী চতুর্ভুজাং
শবারূঢ়াং মহাভীমাং '

পুষ্প সাঁতরা

মহাকালের মনমোহিনী আলোর নুপূর পায়
ঐ আলোতে বিশ্বলোক আনন্দ গান গায়।
তারা কালি ভৈরবীমিলে হলেন দুর্গতি হরা
জপে জ্ঞানে গানে আলোর ঝর্ণা ধারা।
তুমি শক্তি তুমি ভক্তি অনন্ত অসীম
তুমি সৃষ্টি তুমি ধ্বংস আলো নিঃসীম।
পঞ্চাশ মুন্ডমালা মায়ের গলে দোলে
আদরে সোহাগে তুমি নাও কোলে তুলে।
আঁধারের বুকে আলো আদ্যাজননী
নগ্ন দেহে শিবশক্তি আকাশ বসনী।
সুরের মায়াজালেসাধকেরে দিলে ধরা
তন্ত্র মন্ত্রের দৈবশক্তি তুমি ভয় হরা।
চৌদ্দপিদিম পা ধুয়ে দেয় তরল সোনা
পঞ্চশক্তির ঐশী পুরাণ জরীতে বোনা।
দীপাবলীর বইছে বাতাস বারুদ গন্ধ
আলো আর আতসবাজীর চলে ভীষণ দ্বন্দ্ব।
শুভ হোক পৃথিবীর ঘুচে যাক কালো
জবায় সাজাই কালো মায়ের পায়ের আলো।

বুধবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২২

কালো মায়ের পায়ের আলো —৭।।চরণেশ্বরী — তাপস বৈদ‍্য।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



কালো মায়ের পায়ের আলো —৭



চরণেশ্বরী

তাপস বৈদ‍্য


চরণ আর আচরণের তফাৎ ভূমি ও আভূমির 

মতো নয় বলে চরণের সঙ্গে আভূমির একটা 

সম্পর্ক আবহমানকাল ধরে চলছে ও চলবেও। 

নিবেদনের সকল ঐশ্বর্য যেখানে মাথা নোয়ায় 

সেখানেই সর্বস্ব সঁপে দিয়ে চলে যাওয়ার মধ‍্যে 

এক অদ্ভুত আনন্দ পথ চলতে সাহায‍্য করে।


পথে যার অমল চিহ্ন থাকে, জীবনের শুদ্ধতম 

আচরণেই তার পরম স্পর্শ পথ আলো করে...।



মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২২

কালো মায়ের পায়ের আলো —৬।।আলোর নাচন — অমিত কাশ‍্যপ।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 


কালো মায়ের পায়ের আলো —৬



আলোর নাচন

অমিত কাশ‍্যপ


রাধাগোবিন্দ জিউ, পাশে বসেছে কালীমন্দির, অস্থায়ী 

আলোয় আলোয় পঞ্চাননতলা থেকে সেবক মোড়

বহু পুরোন পুজো, সেজে উঠেছে রাস্তা 


গাঁয়ের মানুষ বলে, আমাদের কালো মানুষের কালো মা

ভক্তিতে ডাক, সাড়া দেবেন

ওই যে শবরূপী শিব মহাকাল শুয়ে আছেন 


হালকা শীতের মধ্যে পুজো পুজো গন্ধ 

দূরে ভাসছে গানের সুর

'কালো মেয়ের পায়ের তলায় 

দেখে যা আলোর নাচন'

সোমবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২২

কালো মায়ের পায়ের আলো -৫।।কেউ জানে না— সুধাংশুরঞ্জন সাহা।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




কালো মায়ের পায়ের আলো -৫




কেউ জানে না

সুধাংশুরঞ্জন সাহা 

নদীর ধারে হাঁটছে কারা?       কেউ জানে না।
মিছিলে গলা তুলছে কারা?    কেউ জানে না।
পরের শোকে নাচছে কারা?     কেউ জানে না।
মেঘলা দিনে ধুকছে কারা?     কেউ জানে না।

পাখিরা সব গেল কোথায়?     কেউ জানে না।
অন্ধকারে  লুকিয়ে কারা?       কেউ জানে না।
কালোবাজারে ঘুরছে কারা?    কেউ জানে না।
নদীতে জাল ফেলছে কারা?    কেউ জানে না।

মানুষ কেন মুখোশ পরে?        কেউ জানে না।
মানুষ কেন কাটছে গাছ?        কেউ জানে না।
মানুষ কেন চুরি করছে?          কেউ জানে না।
মানুষ কেন মানুষ মারে?          কেউ জানে না।

মানুষ আজ মুখোশে মুখ ঢাকার বিদ্যা শিখে নিয়েছে!
আলোর পথ, আলোর দিশা মুছে দিয়েছে!
অন্ধকার পথে পথেই হারিয়ে গেছে! 
মানুষ ফের আলোর পথে ফিরবে কবে, কেউ কি জানে ?

রবিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২২

কালো মায়ের পায়ের আলো —৪ ।। কালী রূপে••• অশোক ব্যানার্জী।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।





কালো মায়ের পায়ের আলো —৪



কালী রূপে•••

অশোক ব্যানার্জী


চারদিকে আজ বড়ই অস্থিরতা

আঁধার যুগ আবার এল ফিরে ?

ভ্রষ্টাচারে ভরে গেছে আজ দেশটা 

এ আঁধার তবে দূর হবে কি করে !


দূর আকাশে হঠাৎ চেয়ে দেখি

আলোর রেখা উঠেছে ওই ফুটে

তীব্র জ্যোতির্ময়ী এক নারীর

বরাভয় হাত এবার দৃশ্যপটে ।


দৃপ্ত পায়ে এগিয়ে আসছেন তিনি

দু'চোখ থেকে আগুন যেন ঝরে

যত অনাচার, অমার্জিত অপরাধ,

ভষ্ম হবে সেই আগুনে পুড়ে।


বাম হাতে তার মুণ্ডমালা ঝোলে 

আরেক হাতে খাঁড়ার ঝলকানি

ডান হাতে তার আশীর্বাদের ভঙ্গী

আর একটি হাতে বুঝি শান্তির বাণী ।


দেশটা যে আজ কালিমাতে ভরা

তাইতো তিনি কালী রূপে আজ

আসছেন ছুটে অসুর নিধন কল্পে

তাই বুঝি এই রণরঙ্গিনী সাজ !


দুর্দম বেগে আসছেন তিনি ছুটে

শিব শক্তি নিথর পায়ের কাছে

অশুভ শক্তি দমন করে এবার

সব কালিমা দেবেন ধুয়ে মুছে ।


পৃথিবীটাকে আলোয় ভরিয়ে দিয়ে

শিব শক্তির পূর্ণ জাগরণ !

কালিমা লিপ্ত ভ্রষ্টাচারের অন্ত,

কালো মেয়ের এটাই লক্ষ্য এখন ।