লেবেল

আগমনী বন্দনা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আগমনী বন্দনা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২১

শুধু কবিতায়...আগমনী বন্দনা -৩৮।। ভারতী বন্দ্যোপাধ্যায়।।Ankurisha ।। E.Magazine ।।Bengali Poem in literature ।।

 




আগমনী বন্দনা -৩৮

ভারতী বন্দ্যোপাধ্যায়



আহুতি 

একে একে নিভে যাচ্ছে সব
প্রেম মোহ ঈর্ষা ভালোবাসা
বাগানের এক কোনে
বারো বছরের বিরহি ক্যাকটাস
                ফুটে উঠছে এখন
বুকের ভিতরের গনগনে আগুনে
আত্মাহুতি দেবার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছে
শৈশব-কৈশোর-যৌবন থেকে ধার করে আনা
               কয়েক হাজার কীটপতঙ্গ,


এহেন সময়ে  আমরাও একা হই
হেটে যাই একসাথে
সবাইকে ডেকে বলি
              " আর হিংসা নয়
ভালো হও ভালো থেকো"
ভালো থেকো নিজস্ব জলে হাওয়ায়
আর পারস্পরিক বিশ্বাস এর আশায়।। 




















আজ বিজয়াদশমী।।  সবাইকে জানাই   অঙ্কুরীশা-র  পক্ষ থেকে বিজয়ার প্রতি ও শুভেচ্ছা। 

শুধু কবিতায়... আগমনী বন্দনা -৩৭।। অরূপ পান্তি।। Ankurisha ।। E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।





আগমনী বন্দনা -৩৭

অরূপ পান্তি



নারকেল পাতার ঘড়ি                         

স্মৃতি বড় মধুর ও  ভয়ংকর
শৈশব কথা মনে পড়ে না আর
খুব ছোটবেলায় নারকেল পাতা দিয়ে
হাতঘড়ি বানাতাম বিলিয়ে দিতাম
যে ঘড়ি তে  কাঁটা ছিল না
                 ছিল না সময়ের চিন্তা
অথচ সময়----, সেই সময় সে মনে করালে?
পুরাতন ভালোবাসা,  তুমিও আমি চঞ্চল ছোটাছুটি,  হাতে নারকেল পাতার ঘড়ি ।

মনে পড়ে? আম চুরি, সাপলুডু, লুকোচুরি
জগত ঘুমালে আমরা ফিরে যাব আবার
তোমার পাঠানো ছবিতে,
জেগে উঠি  ঘুমের ভিতর থেকে
এক মোহাছন্নের্  ঘুমের ভিতর তুমি
আমার দিব্য ঘুমের জাগরণ তুমি
নারকেল পাতার স্পর্শে জেগে উঠে
পুরাতন  প্রেমের পূণ্য অবগাহি  ।।






অঙ্কুরীশা -র  পক্ষ থেকে সবাই জানাই বিজয়ার শুভেচ্ছা। 








বুধবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২১

শুধু কবিতায়... আগমনী বন্দনা -৩৭।। তপন বন্দ্যোপাধ্যায়।। Ankurisha ।। E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 



আগমনী বন্দনা -৩৭

তপন বন্দ্যোপাধ্যায় 



ছোটোবেলার দুগ্গামা ১


বছর ঘুরে দুগ্গা এলেন টাক ডুমা ডুম ডুম

ছোট্টবেলা কেমন ছিল ফিরে দেখছিলুম 

কুমোরকাকু বেঁধে ফেললেন খড় বাঁশে কাঠামো

মাটির কাজে কত না শ্রম -- পেরোয় মধ্যযামও

দুদিন পরে রং আর তুলির নিখুঁত কারুকাজ

গর্জন তেল দিতেই অমনি দেবীদুর্গার রাজ।




ছোটোবেলার দুগ্গামা ২


পুজো মানেই নতুন জামা, পুজো মানেই হুল্লোড়

সকাল- সন্ধে ঠাকুর দেখা, এক-একদিন রাতভোর

আস্ত প্যাকেট কালিপটকা, আগুন দিতেই দুমদাম

বন্ধুরা সব একজোট হয়ে আড্ডা চলে উদ্দাম

বাজছে মাইক উড়ছে দেদার এইচএমভি গানের কলি

অষ্টমীতে নতুন সাজে সবাই মিলে অঞ্জলি।




ছোটোবেলার দুগ্গামা ৩


পকেটে ভর্তি টোটাক্যাপে,হাতে খেলনা-পিস্তল

বন্ধু বলল, এক্সট্রা ক্যাপ থাকলে আমায় দিস তো

দোদোমা বোম ফাটল কোথায়, বুকের ভিতর সে কী কাঁপ

হাঁড়িকাঠে আলতা-পোরা লাউ বলি দেয় গজেনকা

সন্ধিপুজো যেই না শুরু মায়ের দু'চোখ রুদ্রতেজা

পুরুতজেঠু হাঁক পাড়লেন সামনে থেকে যা সরে যা।




ছোটোবেলার দুগ্গামা ৪


সকাল থেকে মনটা খারাপ বিসর্জনের বাদ্যি বাজে

বাজছে কাঁসি বিষাদ সুরে কিছুই ভালো লাগে না যে

তবুও যাই ঘুরঘুর করি, হোক রোদ্দুর বেজায় কড়া

সারসার বসে কলাপাতায় পান্তাভাত আর তালের বড়া

দর্পণ যেই ভাসল জলে অমনি সাজো সাজো রবে

বলছে সবাই, বিদায় মাগো, আসছে বছর আবার হবে।









শুধু কবিতায়...আগমনী বন্দনা -৩৬।। বিকাশ দাস।। Ankurisha ।। E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 






আগমনী বন্দনা -৩৬

বিকাশ দাস




দুর্গা দুর্গতিনাশিনী


শরতের মেঘমালা নীল সাদা আকাশ

আগমনীর মুগ্ধ সুরে আত্মহারা বাতাস।

শিউলির গন্ধে শিশিরমুখর হরিৎ দূর্বাঘাস।

নতুন বর্ণ ছন্দে ঐক্যতার পুনর্মিলন উচ্ছ্বাস

দৃষ্টির জমিনে কাশফুলের মনোময় দোলা

চোখে মুখে আনন্দ-সম্প্রীতির হৃদয় খোলা।


ভিন্ন ভিন্ন রূপ নাম সংকীর্তনে প্রকৃতির মননে শান্তিছায়া।

শুক্লপক্ষের আশ্বিনে শারদীয়া। চৈত্রে বাসন্তী মহামায়া।

ভগবান বিষ্ণুর অনন্ত মায়া। ভাগবতে কৃষ্ণের যোগমায়া।

সংস্কৃতির চিরন্তন সরণি। মুক্তকেশী জগৎ সৌরকায়া।


কখনও চণ্ডী, কালী, জলোদরী, শ্যামা, বৈষ্ণবী, গৌরী

কখনও অন্নদা, আনন্দময়ী,শাকম্ভরী, কৌশিকী, ভ্রামরী।


কখনও মহাশ্বেতা, শিবপত্নী শিবানী, তপস্বিনী ভিখারিনী।

শক্তির দেবী দুর্গতিনাশিনী। সর্ববিধ দুঃখকষ্ট

হরণকারিণী।


রুদ্রাণী মনমোহিনী তরঙ্গিনী। সর্বজনগৃহীত গার্হস্থ্য

জননী।

প্রহরণ প্রহারিণী।শত্রুমর্দ্দিনী। শৈবধর্মে শিবের অর্ধাঙ্গিনী।


অন্নপূর্ণা জীবজগৎ পালনকারিণী।অন্নদাত্রী

বিশল্যমোহিনী।

পরমেশ্বরীর দক্ষিণে বরদাত্রী ধনদাত্রী লক্ষ্মীশ্রী

সৌভাগ্যরূপিণী।


নবপত্রিকা শক্তির প্রতীক।মৃত্তিকাশস্য বৃক্ষরূপ বিনায়ক

জননী।

নয়টি ভিন্ন উদ্ভিদের চেতনায় নয়টি অধিষ্ঠাত্রী দেবীর রূপ

মোহিনী।


বামে বিদ্যা বিজ্ঞানময়ী পদ্মলোচনা বীণা পুস্তকধারিণী

সরস্বতী

সৌর্য্যপ্রতীক ধুনকধারী কার্ত্তিক।কার্যসিদ্ধিদাতা গজানন

গণপতি।


নন্দী-ভৃঙ্গীসহ বৃষভবাহন মহাদেবা। সখী জয়া বিজয়ার

সমারোহ

শিবজায়া হিমালয়দুহিতা পিতৃগৃহে পরিণীত,আনন্দ

উৎসব অহরহ।


"ওঁ সর্ব্বমঙ্গল মঙ্গল্যে শিবে সর্বার্থসাধিকে।

শরণ্যে ত্র্যম্বকে গৌরী নারায়ণি নমোহস্তুতে।।"


জীবনকালস্রোতের অন্তর্জালে দেখি সর্বদা সুবর্ণময়ী

মাতৃরূপা প্রতিমা

সিংহবাহিনী,দশভুজা অস্ত্রধারিণী।বিষাদ বিনাশকারিনী

চন্দ্রদ্যুতিমা।


মহিষাসুর দমন মহিষমর্দিনী।অকাল বোধন

প্রকৃতিস্বরূপিনী উমা।

সুখদায়িনী মোক্ষপ্রদায়িনী চৈতন্যময়ী দেবী মঙ্গলা

করুণাময়ী ক্ষমা


পুরাণে দক্ষরাজ কন্যা সতী। গিরিরাজ কন্যা বিমলা

ভগবতী

ব্রহ্মবাদিনী ভবানী দেবীশক্তি 'দশপ্রহরণধারিণী' উমা

পার্বতী।


জয়ন্তির ইঙ্গিতে দোলে ভুবনদোলা।প্রকৃতির আরাধ্য

আলো ধরে

স্মরণের শরণ্য আশীষ দুয়ারে সর্বমঙ্গলা বিপত্তারিণী

বিরাজ করে।


শঙ্খধ্বনি উলুধ্বনি ঢাক ঢোল কাঁসর মন্দিরার একতান

আলিঙ্গনে

বিভিন্ন বর্ণে যেন একান্নবর্তী সংসার, মাতৃবন্দনায় অভিন্ন

গৃহপ্রাঙ্গণে।






শুধু কবিতায়... আগমনী বন্দনা -৩৫ ।। ড. রমলা মুখার্জী।। Ankurisha ।।E.Magazine ।।Bengali poem in literature ।।

 




আগমনী বন্দনা -৩৫

  ড. রমলা মুখার্জী

১.

শিউলি ডালে শরৎ দোলে



প‍্যাচ প‍্যাচে গরম শেষে ঘনিয়ে এল বর্ষা-
গাছ-লতা-প্রাণীর প্রাণে বাঁচার নব ভরসা।

রাস্তা-ঘাট কাদায় ভরে পিছল হবার পরে,
মেঘলা আকাশ কেটে ঐ সোনালী রোদ ওড়ে।

তুলোয় পেঁজা মেঘ-বালিকা বলছে ডেকে আয়-
নীল আকাশে শুভ্রা শরৎ নৃত‍্য করে যায়।

কাশের বনে সাদা চামর শিউলি ডালে ডালে-
মা দুর্গা আসছেন ঐ ঢাকের তালে তালে।

শতদল-শালুক ফুলে সেজেছে আজ ধরা-
পুকুর-দিঘি-ঝিল-নদী কানায় কানায় ভরা।

পুজোর ছুটির আনন্দেতে উদ্বেলিত প্রাণ-
মায়ের তিনটি চোখের পাতায় শেষ তুলির টান।

এমনি করে বছর পরে মা সবার ঘরে-
ঝুপড়ি-কুটির-ইমারত আনন্দেতে ভরে।








২.
  মরণ থেকে নাও মা ডেকে


মিষ্টি হাওয়ায় গান যে শোনায় ভোরের পাখি-
রঙের থালা মেলছে ডালা তাকিয়ে দেখি।

শিউলি সকাল ছন্দে মাতাল গন্ধে  ভরা-
নতুন আশায় ভালোবাসায় সারছে জরা।

পদ্ম ডাকে মধুপটাকে দিঘির ধারে-
যেথায় আছে শাপলা-শালুক সারে সারে।

বুকের মাঝে নূপুর বাজে রিণিরিণি...
আসছে দোলায় সোনার আলোয় মা জননী।

শিশির ঘাসে  ঝিলিক হাসে মুক্তকণা-
ঢাকের কাঠি কাঁসর মিঠি কাই-না-না-না-

বাদ‍্যি বোলে হৃদয় দোলে তাকুড় নাকুড়-
অন্ধমনে আলো এনে দাও গো ঠাকুর।

আলোর গানে অসুর প্রাণে সুরের নাচন-
মরণ থেকে নাও মা ডেকে তবেই বাঁচন।

মঙ্গলবার, ১২ অক্টোবর, ২০২১

শুধু কবিতায়...আগমনী বন্দনা -৩৪ ।। জয়শ্রী সরকার।। Ankurisha ।।E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 


আগমনী বন্দনা -৩৪

জয়শ্রী সরকার


১.

আমার দুগ্গা ভোর না হতেই

        
ভোর না হতেই আমার দুগ্গা আগমনির সুরে
গুনগুনিয়ে গান গেয়ে যায় কোন্ সে অচিনপুরে !

আমার দুগ্গা ভীষণ দুঃখী চোখের জলে ভাসে
বুকের মধ্যে কষ্ট চেপে ঠোঁটের কোণে হাসে !

আমার দুগ্গা বানভাসিদের অশ্রুরই সংলাপে
আমার দুগ্গা কলার ভেলায় হাড়হিম হয়ে কাঁপে !

আমার দুগ্গা কক্ষনো তো যায়নি শপিং মলে
আমার দুগ্গা গুগলি খোঁজে খাল-বিল দিঘি-জলে!

আমার দুগ্গা পায়নি কখনো মাটন-বিরিয়ানি
আমার দুগ্গা হাস্যমুখেই খেয়ে নেয় আমানি !

আমার দুগ্গা ঘর বাঁচাতে নিজেকেই দেয় সঁপে
আমার দুগ্গা নষ্ট তো নয়, টিকবে কী আর ধোপে?

আমার দুগ্গা দূর-আকাশে শুধুই চেয়ে থাকে
আমার দুগ্গা আনমনেতে দুগ্গামাকেই ডাকে !

আমার দুগ্গা রূপক মাত্র , সময়ের কলতান----
আমার দুগ্গা তাই গেয়ে যায় ঝরাপাতাদের গান !


                               


   ২.             
 দুগ্গা মাগো তোমায় বলি
              
                       
শরৎ মানেই সুনীল আকাশ সাদা মেঘের ভেলা
সেই ভেলাতেই দুগ্গামায়ের মর্ত্যে আসার খেলা !

সাদা মেঘের ভেলায় বসে দুগ্গা মা যে আসে
কয়েকটা দিন আম-বাঙালি আনন্দেতে ভাসে !

দুগ্গা মাগো তোমায় বলি প্রতিবারের মতো
দূর করো মা সবহারাদের দুঃখ-দৈন্য যত !

স্বর্গসুখটা কোথায় আছে কেউ কী জানি মোটে?
দুগ্গা এলেই সব শিশুরা মনের সুখে ছোটে !

কষ্ট কত হচ্ছে মাগো , স্কুলগুলো সব বন্ধ
অনলাইনে ক্লাস করে যে চোখ বুঝি হয় অন্ধ !

তাই তো তোমায় বলছি মাগো ওদের হয়ে আমি
সব শিশুদের রক্ষা করো , এই আশিসই দামি !

ওরাই এখন সবচে অনাথ অভিজ্ঞতাই বলে
রক্ষাকবচ সঙ্গে এনো মর্ত্যে আসার ছলে !

তোমার আশিস পেয়ে ওরা ছুটবে সারা আকাশ
নীলপরীদের মতো উড়ে লুটবে সুখের বাতাস !










শুধু কবিতায়... আগমনী বন্দনা -৩৩।। আরণ্যক বসু।।Ankurisha ।।E.Magazine ।।Bengali poem in literature ।।



আগমনী বন্দনা -৩৩

আরণ্যক বসু


অমলের সেই নতুন কবিতা 


( বনে যদি ফুটলো কুসুম , নেই কেন সেই পাখি...

        গীতবিতান /প্রেম/২৫৫ )


রাজা, একটা চিঠি দেবেন , রবিঠাকুরের হাতে?

সুধা, আমায় নিতে আসবি , মহাষষ্ঠীর ভোরে?

স্টেশনের নাম বোলপুর , আমি তো সেই অমল,

মৃত্যুভয়ের মতো কালো রাতটা যাচ্ছে সরে।


কতদিন যে ফুল দেখিনি ভোরের শিউলি গাছে!

কতদিন যে মেঘ নামেনি অবাক তালের বনে!

কতদিন যে টিয়া ডাকেনি ভিজে পলাশের ডালে!

হ‍্যাঁরে সুধা, কদমের পাতা তোর কথা, গান শোনে?


আকাশ আমায় ডাক পাঠালে  তুই মনে রাখবি তো ?

রাখবে মনে, ডাকঘরে সেই চেনা ডাকহরকরা?

যদি আমি আর না ফিরি?

যাঃ, ফিরবো তো নিশ্চয়ই ;

 কোজাগরী ভাসিয়ে দিলে বিশাল রূপোর সরা!


আমার সেরা বন্ধুর নাম?

 নীলাকাশ আর মাটি;

যে মাটিতে আশ্বিন ভোর, তোরই ডাকাডাকি।

রবিঠাকুরের ডাকঘর তো অমল-সুধার জন‍্যেই ,

দূরের চিঠি পৌঁছে দেবে রাতজাগা সব পাখি।


না রে, আমি ফিরে আসবো বাঁচার মতো বেঁচে,

সারা বোলপুর ঘুরে ঘুরে ঠাকুর দেখা হবে।

দইবড়া আর ফুচকা খাবো, ছোট্টোবেলার মতো?

আমাকে তুই ডেকে নিবি তো, জীবনের উৎসবে!


কে যেন বেশ বলে গেছে কাল স্বপ্নের রাতে—

রাজা একটা চিঠি দেবেন রবিঠাকুরের হাতে।










সোমবার, ১১ অক্টোবর, ২০২১

শুধু কবিতায়... আগমনী বন্দনা -৩২।। অনিন্দিতা শাসমল।।Ankurisha ।। E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 





আগমনী বন্দনা -৩২

অনিন্দিতা শাসমল



দেবীপক্ষে তোমাকে...



তোমার কলম আজ সত্যি কথা বলুক ;

তোমার মন আর মুখ এক হোক,

হে পুরুষ ,তুমি প্রেমিক অর্জুন না হয়ে,কৃষ্ণ না হয়ে , প্রজাভক্ত রামচন্দ্র না হয়ে ,প্রতিষ্ঠিত আলোকোজ্জ্বল সফল পুরুষের বর্ম ছেড়ে প্রিয় নারীর কাছের মানুষটি হয়ে ওঠো..


ফুলের  মতো যে নারী, শুধু তোমার জন‍্য

নিজের সুখের কথা না ভেবে,

শাড়ি গয়না না কিনে তোমার সন্তানকে সযত্নে লালন করে

পিতৃত্বের অহংকারের রাজমুকুট  পরিয়েছে তোমার মাথায়...

সেই নারীকে একটু আলো দাও,

মুক্ত বাতাস দাও  আর ভালোবাসো।

মিথ‍্যে প্রলেপ দিয়ে প্রতারণা কোরোনা,

বন্ধু হয়ে পাশে থাকো আজীবন...


সম্মানিত করো নিজের মাকে,দেশমাতৃকাকে

আর দুই মায়ের গর্ভজাত সব সন্তানদের;

শুধু দেবীপক্ষে নয়...

বছরভর...











শুধু কবিতায়...।। আগমনী বন্দনা -৩১।। বিকাশ চন্দ।। Ankurisha ।E.Magazine ।।Bengali poem in literature ।।







আগমনী বন্দনা -৩১

   বিকাশ চন্দ




১.
নৌকায় ভাসে আলো আগমনী 


জলের ভেতর বদলে গেছে ঠিকানা ঘর বাড়ি 
তবুও রাজরোষ গিলে খায় শস্যের মানুষ 
আগমনী সময় আহা রোদ বৃষ্টি রাহাজানি 
অদৃশ্য কাপালিক ক্রোধে আশ্চর্য খবরদারি
জলপথ ছুঁয়ে দেখেনি ধান শীষ 
বাবা নীলকণ্ঠ দেখছেন আধ বোজা চোখে
বেপথু নীলকন্ঠ পাখির ডানায় অসহায় শরৎ রোদ। 
#
বাস্তুহারা অন্নহারা সকল দুর্গার ত্রিনয়ন ভেজে
জলে ভেজে জলের স্বরবর্ণ অক্ষর বর্ণমালা 
ব্যাঞ্জনা হীন আশ্চর্য সময় নীরবে দেখে দশ প্রহরণ
এ কোন বিভঙ্গ অকাল রাত্রি ঘিরে ধরে আলোর বেনু
পিতৃপক্ষ মাতৃপক্ষ সকল আগমন দেখে একা তুলসী তলা
নিষ্প্রদীপ রাতে ভাসে নৌকোয় আলো আগমনী। 




২.
পূজাবেদি জাগে

কি করে যাই ভুলে
এই শরতে রঙ ফলেছে
শাদা চামর হিমেল হাওয়া
দে দোল দোল কাশ ফুলে। 

আগমনী সময় এখন
জীবন বাঁচে ঝুপড়ি তলায়
কোন জমিতে কে ফসল ফলায়
সবেদন কথা কত মায়ের কণ্ঠে
মা অন্নদা --- অন্নদে... অন্নদে ! 


শিউলি বোঁটা হলুদ মাখে
কচি শরীর খোঁজে নতুন পোশাক
শাপলা শালুক জলের তলায়
কোন আনন্দ কোথায় জীবন ফলায়
জীবনের ছবি ভাসে ভাতের গন্ধ ধোঁয়ায়
পূজা বেদী জাগে শুধু অন্তর টানে
শূন্য দালানকোঠা বিনীদ্র একাকী 
সকল মানুষের পরিশ্রমী রক্ত তটে 
যদি মেলে প্রাণে প্রাণ কুমারী পূজায়। 

রবিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২১

শুধু কবিতায়... আগমনী বন্দনা -৩০ ।। সঞ্জীব দে।। Ankurisha ।।E.Magazine ।।Bengali poem in literature ।।




আগমনী বন্দনা -৩০

সঞ্জীব দে



আগমনী আহ্বান

                      

১.

এখন কাশফুল অভিমানী। 

   পদ্মফুল, পানিফল নির্জলা পথিক

ভাসা ভাসা মেঘ সংসার বিমুখ

                         গৃহত্যাগী সন্ন্যাসী, 

এখন কুমোর শিল্পীরা রোদের

       অন্তর্জালি যাত্রায় শোকস্তব্ধ

                                 বিহ্বল! 


জানালার গ্রিলে মাস্করা পর্দা হয়ে ওড়ে


শিউলিরাই' পথের আনাচে কানাচে

দাঁড়িয়ে থাকে

         আগমনী বন্দনায়। 


                    

                  

  ২.

ওই শোন অশরীরীবাণী জুড়ে

                  আগমনী বার্তা

আকাশ রঙিন সূর্যোদয়ে। 


কপিথের পাতা শিশিরে সনাত

         ভোরের শুভ্র আলোয়, 

  ধোপদুরস্ত বকের হাতছানি দেওয়া উড়ান

মাতোয়ারা করে দেয় - কু-ঝিকঝিক লাইন বরাবর বিক্ষিপ্ত জমি

  জুড়ে কাশ। 


একটু আগেই অন্ধকার থাকতে, 

        চাঁদের উষ্ণতা গা'য় নিয়ে, 

নিভু নিভু রাত ভোরে

        প্লাটফর্মে দাঁড়ানো লোকাল, 

অ্যালুমিনিয়াম বাটি, অন্য হাতে লাঠি নিয়ে

এগিয়ে যায় অন্ধ ভৈরবী

    আগমনী গানে।


                    -

শুধু কবিতায়...আগমনী বন্দনা -২৯ ।। সঞ্জয় কুমার মুখোপাধ্যায়।।Ankurisha ।। E.Magazine ।।Bengali poem in literature ।

 





আগমনী বন্দনা -২৯


সঞ্জয় কুমার মুখোপাধ্যায়

তোমার ছায়ানদ



আমি নির্মম হতে পারি 
যদি চাও আঁকতে পারি... 
বিক্ষুব্ধ হবার ইতিহাসের কারণ !

বিগত বিষাক্ত বারুদের গন্ধে
এঁকেছো সবুজ ঘাসের উপর অভুক্ত দেহ
রক্তাক্ত অবস্থায় অনাহারে দিনযাপন।

দেনাপাওনা নিয়ে জীবনের পরিমন্ডলে
দহনের জ্বালায় জ্বলছো প্রতিক্ষন।

শুধু চাই চাই নিয়ে কাটছে 
তোমার ছায়ানদ এখন হয়েছে অপরিমিত
ছাতির দৈর্ঘ্যর মিথ্যে নিয়ে অতিক্রান্ত।

পথের শেষে কিন্তু একটাই পরিচয়
কিছু বিশেষ দিনের শেষে
তোমার ছায়ার দৈঘ্য তোমাকে করেছিল অপচয়।







শনিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২১

শুধু কবিতায়...আগমনী বন্দনা - ২৮ ।। অরূপ মিত্র।। Ankurisha ।। E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 







আগমনী বন্দনা - ২৮

অরূপ মিত্র


১.

জীবন রূপকথা


পৃথিবী ঘুরছে তার অক্ষরেখায়
সুসময় পাল্টে যায়  দুঃসময়ে
কুসময়ের সাগর পাড়ি দিতে দিতে
তীরে ওঠে দুঃখী জন অজানা ভয়ে।

রোদ ঝড় বৃষ্টি আছড়ে পড়ে প্রকৃতির গায়
প্রতিবাদী রোদ্দুর দুয়ারে লুটায়।
মনেতে ভয়ের বাঘ  চমকায় ছায়া ফেলে,
স্বপ্নেরা সত্যি হতে ডানা দেয় মেলে।

তবুও প্রকৃতি গেয়ে ওঠে তার আগমনী গান
তার কাছে রোজকার যাপনের রূপকথা ম্লান।






২.
আগমনী ছড়া

মাটিতে কাশের দোলা, আকাশে মেঘের ভেলা
দুঃখে কষ্টে আমাদের কাটে বেলা।
মনের দুয়ারে বাজছে ঢাকের বোল
শারদোৎসবে আনন্দ উৎরোল।
বাতাসে ভাসছে পুজোর গন্ধ
তবুওতো মনে আসছে দ্বন্দ্ব।
রক্তচক্ষু করোনা,শাসাচ্ছে দুইবেলা
সাবধানে থেকো, কোরোনাকো অবহেলা।
শিশির ভেজানো শুভ্র শিউলি
পুরোনো স্মৃতিকে কেমনে যে ভুলি।
ফুল-পাখি-নদী-আকাশ-পাহাড়,
সবকিছু একই আছে।
আমাদেরই শুধু আচরণগুলো
উল্টেপাল্টে গেছে।


শুক্রবার, ৮ অক্টোবর, ২০২১

শুধু কবিতায়...আগমনী বন্দনা -২৭।। কেতকীপ্রসাদ রায়।।Ankurisha ।। E.Magazine ।। Bengali Poem in literature ।।





আগমনী বন্দনা -২৭

কেতকীপ্রসাদ রায়




উমা ফিরছে আটচালায়


এতদিনে বুঝলাম ভারতবর্ষের অন্য নাম কেন মাতৃভূমি।
ঘরের মেয়ে ফিরলে ঘরে, সোনার চেয়েও অনেক দামী॥

বোধনের আসন থেকে বিল্বপত্রের কাছে আত্মনিবেদন,
ঐ দেখা যায় কৈলাস থেকে সারিবদ্ধ আলোর বিচ্ছুরণ ;
মায়ের সাজ সাজ রবের মধ্যে গজে আগমন,
আসমুদ্রহিমাচল শস্য-শ্যামলে পূর্ণ যৌবন।
নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলায় শান্তির বাণী, 
মলয় বাতাস জানিয়ে দিচ্ছে দুর্গাই দুর্গতিনাশিনী।

প্রথম আলোয় ধানের শিষে মুক্ত শিশির বিন্দু,
মাটি ছুঁয়ে চুয়ে পড়ে মাধুরী রাতের অর্ধেন্দু।
ভোরের ঝরা শেফালী সুরভী এখনও অতীত হয়নি,
নগরে গ্রামে কাননে উচ্ছলি উন্মাদনা হে ভুবন মোহিনী।
এবার সব ধুয়ে যাবে পাপ,পাপ কেন হবে- গ্লানি,
বোধনের আসনে সোঁপেছি প্রাণ,আসছে পাপ বিনাশিনী।

অনেকদিন পর উমা ফিরছে নিজের ঘরে,
বন্ধ চোখে দেখি মেয়ে আসছে সপরিবারে ;
ঐ শোনা যায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণের ভুবন মাতানো সুর,
ঐ শোনা যায় রুমঝুম শব্দ পায়ের নূপুর ;
আউশ ধানের চাল রেখেছি তুলে গোলায় ভরে,
এক দামে কেনা আছে নতুন শাড়ি তাঁতির ঘরে।

বোধনের থান থেকে নূপুরের শব্দ বাজে কানে,
আমার উমা আসছে আজ,আনন্দ বাজে প্রাণে;
ঘরের মেয়ে ফিরছে ঘরে রাজ রাজেশ্বরী বেশে,
যত সুখ বাঁধা আছে শস্য শ্যামলে ভরা এই আটচলার দেশে।








শুধু কবিতায়... আগমনী বন্দনা -২৬।। বিকাশরঞ্জন হালদার।Ankurisha ।।E.Magazine ।।Bengali poem in literature ।।

 







আগমনী বন্দনা -২৬

বিকাশরঞ্জন  হালদার 



১.

জয়ন্তী-মা আমার 



বেজে ওঠে- " আশ্বিনের শারদ প্রাতে ... " অদৃশ্যত। অষ্টাদশীর উদাস কোঁচড়ে শিউলির আদর। ঢাকের কাঠি আমোদের জোয়ার তোলে, হৃদয়-গোপন।  কাউকে কিছু না বলে, আনমনা নরম-ভোর, উঠোনে এসে দাঁড়ায়, বাংলার  ঘরে ঘরে। আর জয়ন্তী-মা আমার জাগ্রত হন, বন্দনার অপার সুরে, ধূনোর মিষ্টি ধোঁয়ার আবেশে। কয়েকটা দিনের পরিপাটি জীবনে মাতন লাগে। কাশফুলের বনে ঢেউ তোলে যুগান্তরের সরল বাতাস!



২.
প্রত্যেকটি পুজোর সাঁঝে
 

করোনার ভয় তখনও জন্মায়নি। নাকে-মুখে জুড়ে বসেনি অবাঞ্ছিত মুখোশ। আগমনীর সুর সময়ের কোলে দোল খায়। শিশুটি যেমন। পুজো আসে। পরিচয়ের কাছাকাছি,নতুন যৌবন আমাদের। ইট-গাঁথা হাঁটা‐পথ-গাঁ। প্যাণ্ডেল থেকে প্যাণ্ডেলে। ভেসে যায় আকুল-অন্তর। মায়াবী-কুয়াশা খোলা মাঠে। তুমি হাঁটো। আমি হাঁটি। প্রত্যেকটি পুজোর-সাঁঝে। আমাদের  সঙ্গে সেই কুয়াশাও হাঁটে!







বৃহস্পতিবার, ৭ অক্টোবর, ২০২১

শুধু কবিতায়... আগমনী বন্দনা -২৫।। স্মৃতি শেখর মিত্র।। Ankurisha ।। E.Magazine ।।Bengali poem in literature ।।

 



    



আগমনী বন্দনা -২৫

স্মৃতি শেখর মিত্র


                   
১.
রাগী গোয়ালিনী

যদিবা বর্ষা ঘনঘোর
মাঝে মাঝে দক্ষিণ বঙ্গের বাস ধরে
দুর্গাপুর যাওয়ার পথে চোখে পড়ে
কাশফুলের হাতনাড়া।

ওগো বন্ধু পথিক! আমি এখানেই জেগে আছি
  ভালবেসে থাকতে চাই শরৎসুন্দরীর কাছাকাছি

  এখনও প্রতিবছরের মতো 'রাগী গোয়ালিনী'
  প্রত্যেককে তার দাওয়ায় বসায় ।কতগান কত
  গল্প শোনায়। আটচালায় যাত্রাপালা
   'ভাবরা ফুলুরীর গল্প,' আরও কত কী?
  পিঁড়ি পেতে দেয়, মাটির দেওয়ালে তার
  পড়ে নূতন মাটির প্রলেপ ,
   পূজোর আগে প্রতিবছরেরই মতো।  

   যদিও পিতৃদত্ত নাম তার  'রাগী গোয়ালিনী'
    মোটেও রাগী নয়,সে নিত্য সদালাপী।
     ভালবাসার আঁচল পেতে রাখে
    দীণ, দুঃখী মানুষের লাগি।
      মায়ের মন্দিরে তার
       নিত্য আসা যাওয়া।

    ভোর বেলায় আশ্বিনের 
    শুরু থেকেই শুনিয়ে যায়
        আগমনী গান
       খঞ্জনি বাজিয়ে
   যতদিন না বিসর্জনের
          ঢাক বাজে।।



                  
২.
খোলা চিঠি

মা! তুমি দুঃখের তরী বেয়ে আসছো এবার
চারিদিকে জল থৈ থৈ মাঠ ঘাট
 নেই কোন প্রাণীর নিস্তার।
বাপের বাড়িতে তোমার কিভাবে আপ্যায়ন হবে
 পূজা হবে কেমন করে তাও তো জানা নেই।
 মেদিনীপুর আজ জলের তলায়গাঁদা, গোলাপ,পদ্ম, শালুক ফুলের পড়েছে       
আকাল।বসতে দেওয়ারও নেই কোন পরিপাটি করে আলপনা আঁকা পিঁড়ি।
  শুধু জল,জল আর জল, জলের সংসার।
   সমস্ত শস্যক্ষেত আজ জলের তলায়।
    মাথায় হাত রেখে বসে আছেন রহমান চাচা
    কিংবা গোবিন্দ তামুলী যাঁরা সব প্রান্তিক চাষী।

   মা! তোমার সন্তানেরা আজ গৃহহীন, ছন্নছাড়া
    জলের স্রোতে ভেসে গেছে তাদের মন ও মাণিক্য
      যা কিছু সঞ্চয়, মানুষের বিলাস ,ব্যসন।

                 

শুধু কবিতায়...আগমনী বন্দনা -২৪ ।। সুবীর ঘোষ।। Ankurisha ।। E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 



আগমনী বন্দনা -২৪

সুবীর ঘোষ




আগমনী চর্চা -১


এদিকে শিউলি ফুলের সমারোহ

আর ওদিকে ছাতিমফুলের উঁকি

দূরে কোথাও নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে

ছুটে চলা চোখের সফর ;

আগমনি বার্তা এসে যায় স্বনিয়মেই।

 

প্রসাধনী জুড়ে জলতরঙ্গ

অশ্বশক্তির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে

জাগে অলৌকিক অতিক্রমণ;

মনের ভেতর পাকিয়ে ওঠে মেলোডি;

বিন্দুবিসর্গের খুঁটিনাটি মায়াজালে

মত্ত থেকে মত্ততর হয়ে ওঠে

সামান্য সংসার।

 

 



আগমনী চর্চা -২


এ বছর বর্ষা ও শরতের বন্ধুতায় ভাগ হয়ে গেছে আকাশ।

কয়েকদিনের মেঘকান্নায় মানুষকে কাঁদিয়ে ছেড়েছে।

দিন কয়েক পর আকাশের গালে মৌসোনা রঙ।

এ রকম আগমনি বড় একটা দেখা যায় না।

পুজোর আনন্দ পুজোর কেনাকাটায় একটা শুষ্ক আবহাওয়া লাগে।

এ বছর সবই খুব অনিশ্চিত।

যন্ত্রণার মাঝখানে দাঁড়ানো উৎসবে মানুষ আজকাল অভ্যস্ত হয়ে গেছে।

 

আমাদের কৈশোরের সেই অমলধবল পালে লাগা মন্দ মধুর হাওয়া কোথায়!

কোথায় সেই পাটভাঙা জামাকাপড়ের মনকাড়া গন্ধ!

কোথায় পুজোর গান ! কোথায় সেই সব শারদীয়া পত্রিকা!

হয়তো সবই আছে, বদলে গেছে তার স্বাদ।

 

জানি, অতীতের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে বর্তমানের বারান্দায় উঁকি দেওয়া যায় না।

জীবন সমসময়ের সঙ্গে বাঁচে।

যাঁরা নিজেদের ফেলে রাখেন পিছনের কোনো মজা-ঘাটে

তাঁরা আস্তে আস্তে হারিয়ে যান।

সমকালের আগমনি গান তাঁদের কানে পৌঁছায় না।

শুধু কবিতায়... আগমনী বন্দনা -২৩।। অশোক রায়।। Ankurisha ।।E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 





আগমনী বন্দনা -২৩

অশোক রায় 

১.

অনন্ত শক্তিরূপিণী

ঝড়ের রাত্রিশেষে অসংখ্য বৃষ্টিফোঁটায় ফুটেছে সকাল  

কৈলাশের গ্লেসিয়ার-রথে মা আমার রওনা দিয়েছ কি

কাশের বন ডুবেছে প্লাবনে বজ্র-ভীষণ আকাশ    

মাঠ ঘাট ক্ষেতের ফসল কুঁড়ে ডুবে গেছে সব আশা  

পথ হারিয়ে মন হারিয়ে চন্ডীমন্ডপের কোণে

তর্পণ করি এলোমেলো ঘর-ভাসানো জলে

নিরন্ন শিশু কোলে পুঁটলি-কাঁধে মায়েরা কাঁদে ঢেউয়ের খেয়ায়   

আমি যে দেখতে চাই মা-অভয়া লালপেড়ে শাড়িতে নৌকায়   

বাঁধের ছাড়া জল যখন অসুর হয়ে দিগন্ত দাপায়

হিমালয়-দুহিতা দশভুজায় আবির্ভুতা সম্মুখ সমরে

গতি বদলায় কালো আকাশ ধুসর সমুদ্র ক্রমশ গভীর নীল

সকালের সোনা রোদে বেজে ওঠে জীবন প্রস্ফুটিত আগমনী  

তুমিই তো আশা দশের ভরসা মা অনন্ত শক্তিরূপিণী

                                        

  



২.

আন-লক আগমনী

সাত-সমুদ্দুর তেরো নদী পেরিয়ে

মস্ত বড় হলের ভিতর লম্বা চওড়া বাক্সে

শুয়ে আছে সে গভীর যোগনিদ্রায় লক্‌ড

সঙ্গে কাশের গুচ্ছ একচালা ধুপ-ধুনো চাঁদমালা

লক্ষ্মী সরস্বতী কার্তিক কলা-বৌ গণেশ

বাঁধা নিশ্ছিদ্র নিষ্প্রাণ উৎসবহীন ঘরে   

এখানে নেই বন্যা ধ্বংস চরম প্রকৃতি লীলা

শুধু ডলার-ইউরো অন্তহীন হিসাবের খাতা অফিসের বদ্ধ ঘরে

সপ্তাহান্তে ছুটির প্রাতে পুরোতমশাই আসবেন সাথে

আন-লক্‌ হবে অনাবিল সুখের প্রাসাদ প্রমোদ প্রবাহ

খুশির বন্যায় ভেসে যেতে যেতে প্রভাতী রাগে

উঠবে বেজে প্রবাসী আগমনী শারদীয় সুধী আবেশে...