লেবেল

আলোর উৎসব লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আলোর উৎসব লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৫

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। অক্টোবর সংখ্যা।। ।। অলোর উৎসব—১৫ ।। নির্বাণ — জয়শ্রী সরকার।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।


          ।। প্রতিদিন বিভাগ।। 

         ।।  অক্টোবর সংখ্যা।। 

         ।।  অলোর উৎসব—১৫ ।। 



 নির্বাণ 

জয়শ্রী সরকার


চতুর্দিকে অক্ষরের উড়ান, সঙ্গে আলোর রোশনাই আর উন্নয়ন মার্কা বিজ্ঞাপনের কাট-আউট, কী নেই! সব আছে জিভ থেকে জঠর ---- সঙ্গে নানা রঙের সোহাগী আবির,
অধিকাংশই ফটোসেশনে মত্ত যে যার মতো বিচিত্র আশ্লেষে ...!
ওদিকে---- প্রদীপের ঠিক নীচটায় 
নিশ্চিন্তে নিদ্রা যায় পথশিশুগুলো।
ওরা জানেও না ---- আলোর উৎসব আজ !
      
আর তুমি! বইপাড়ায় একা একাই হাঁটো, হাঁটতে হাঁটতে নিস্তরঙ্গ নদীর জলে একটা একটা করে খোলামকুচি ছুঁড়ে প্রাণের সঞ্চার অনুভব করো! কোলাহলের মধ্যেও নির্জনতাই তোমার সঙ্গী, তুমি সমাধির কথা বলো,বসন্তের চারপাশে পাতাঝরার গান শোনো, তোমার সাজানো বাগানে ফুটিয়ে তোলো হাসনুহানা আর রক্তকরবী! তুমি লাবণ্যদীঘিতে স্নান সেরে আরো স্নিগ্ধ হয়ে ওঠো! আসলে, তুমি সত্যিকারের প্রেমিক, ভুলতে গিয়েও ফিরে দেখো, ভুলতে পারো না ফেলে আসা যাপিত জীবনের সোনামাখা রামধনু দিনগুলো!

সন্ধ্যারাগে পশ্চিমের রক্তিম আকাশটা তোমায় হাতছানি দেয়, তুমি আনমনেই গেয়ে ওঠো, 'এই আকাশে আমার মুক্তি...!' আর ওই আলোটাই তোমার অন্বিষ্ট , যার নাম দিয়েছ 'চেতনা', তুমি রবিঠাকুরের কাছে বার বার ফিরে ফিরে আসো, তুমি গেয়ে ওঠো, 'ওকে ধরিলে তো ধরা দেবে না..!' তবু, নিবিড় বিশ্বাসে মনে মনে বলো, 'হারায় যা তা হারায় শুধু চোখে...!' প্রতিটি প্রশ্বাস হয়ে ওঠে এক একটা কবিতা তাইতো, প্রসব-যন্ত্রণা এত তীব্র। সমস্ত অন্তরাত্মা দিয়ে মুক্তি চাইলেও তোমার নির্বাণ নেই !

শনিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৫

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। অক্টোবর সংখ্যা।। ।। অলোর উৎসব—১৪ ।। আলোর উৎসব —দীনেশ সরকার।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।



          ।। প্রতিদিন বিভাগ।। 

         ।।  অক্টোবর সংখ্যা।। 

         ।।  অলোর উৎসব—১৪ ।। 




 আলোর উৎসব

দীনেশ সরকার 

 

দুর্গাপুজো শেষ হয়েছে

লক্ষ্মীপুজোও শেষ

বুকের মাঝে বাজছে তবু

উৎসবেরই রেশ।

 

দেখতে দেখতে আর এক উৎসব

উঁকি দিল দ্বারে

ঘরবাড়ি সব উঠলো সেজে

আলোরই বাহারে।

 

মঙ্গল দীপ যে উঠলো জ্বলে

সবার ঘরে ঘরে

দীপাবলির রাত এলো যে

আলোর ঝরণা ঝরে।

 

সবার মনে খুশির নাচন

দীপাবলির রাতে

রাত গাঢ় হয় রঙমশাল আর

আতসবাজির সাথে।

 

মনের কলুষ দূর হয়ে যাক

দীপাবলির আলোয়

হাসি খুশি নিয়ে সবার

দিন কেটে যাক ভালোয়। 

বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৫

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। অক্টোবর সংখ্যা।। ।। অলোর উৎসব—১৩ ।। আগমন — অজিত দেবনাথ

 


          ।। প্রতিদিন বিভাগ।। 

          ।।  অক্টোবর সংখ্যা।। 

           ।।  অলোর উৎসব—১৩ ।। 




আগমন

অজিত দেবনাথ


ওই লম্বা জিহ্বা, কালো মুখ

এতদিন পরে এই অমাবস্যাতে এলে

তুমি এলে-

এক লহমায় সর্বনাশের রুপোলি প্রপাত ভেঙে

যদি তুমি নাই আসতে, যদি না-ই আসতে

তবুও আমি পলিমাটি দিয়ে একটু-একটু করে গড়ে তুলেছিলাম তোমার মুখ

কত অপমানের আঁচড়, কত ভুলবোঝার বাঁকাহাত

একটু-একটু করে গেঁথে ছিলাম তোমার

কণ্ঠমালা

জেগে উঠেছিল কত রূপকথার গল্প

এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে হারিয়ে যাচ্ছিল তার কালোছায়া

আর পলিমাটির হাত ছুঁয়ে যায় নীরবতার চৈত‌্য

চুমকিবসানো আঙরাখায় তোমার এই নিঃঝুম নির্বাসন!

তার জন্য ভাঙনের সীমায় বসে কত মাস প্রতীক্ষা

শেষে তুমি, তোমার নগ্নতায়

ঢেলে দিয়েছো অসংখ্য বিম্ব-প্রতিবিম্বের হাহাকার!

 মা, তুমি সর্বান্তঃকরণ শ্রান্ত হয়ে পড়ে আছো কীর্তিনাশা রাগিণীরেখার মতো

 আর নীচে জেগে থাকে অঞ্জলিধরা জবাফুল।

বুধবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৫

প্রতিদিন বিভাগ।। ।। অক্টোবর সংখ্যা।। ।। অলোর উৎসব—১২ ।। বিসর্জন — মানস মুখোপাধ্যায়।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।


          ।। প্রতিদিন বিভাগ।। 

          ।।  অক্টোবর সংখ্যা।। 

           ।।  অলোর উৎসব—১২ ।। 



বিসর্জন 

মানস মুখোপাধ্যায় 


নদীর ঢেউয়ে ভেসে ভেসে উঠছে মায়ের মুখ

বিসর্জন ঢাকের বুলি চারপাশ,

একটু পরেই খুলে যাবে অলংকার -

সমস্ত আভরণ,

ধুয়ে যাবে শরীরের সকল মাটির লেপন,

খড়ের কাঠামো ভেসে যাবে 

কোনো অজানা ঠিকানায়

কখনো জলে জেগে ওঠা কাঠামোয়

বসে থাকবে নাম না জানা গাঙের পাখিসব-

ভীড় করা দর্শনার্থীর কতো চেনা মুখ 

আবারো হারিয়ে যাবে বছরের পৃষ্ঠায়!!






সোমবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৫

। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। অক্টোবর সংখ্যা।। ।। অলোর উৎসব—১১ ।। আলোর পথে — জীবন সরখেল।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।



          ।। প্রতিদিন বিভাগ।। 

          ।।  অক্টোবর সংখ্যা।। 

           ।।  অলোর উৎসব—১১ ।। 





আলোর পথে 

জীবন সরখেল 


দীপাবলির আলোক মালায় 
সাজে গাড়ি বাড়ি 
চতুর্দ্দশীর আঁধার পালায় 
চোখ সরাতে নারি।
প্রদীপ মোমবাতি টুনি বাল্ব 
অত্যাধুনিক আলো
ঘন অমাবস্যা মোছে
ঠেলে জীবন কালো!
তবে চেতন সৎ কর্মে ঠিক 
কাটে জগৎ আঁধার 
আলোর উৎসবে তাই ফেরা 
উত্তর জীবন ধাঁধার।
দুঃখী গরীব পীড়িত জন 
হাসলে মন প্রাণ খুলে 
তার আশিসেই আনন্দ সুখ
আলোর মালা দুলে।

রবিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৫

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। অক্টোবর সংখ্যা।। ।। অলোর উৎসব—১০ ।। মহাশক্তির আরাধনা — গোবিন্দ মোদক।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।



          ।। প্রতিদিন বিভাগ।। 

          ।।  অক্টোবর সংখ্যা।। 

           ।।  অলোর উৎসব—১০ ।। 




 মহাশক্তির আরাধনা

 গোবিন্দ মোদক 


কালীপূজা মানেই জেনো শক্তি আরাধনা, 

শুদ্ধবস্ত্রে, জবাফুলে, ভক্তিতে একমনা। 

বাহুল্যতার পরিবর্তে নিষ্ঠায় করলে পূজা, 

সব রকমের আশীর্বাদ দেন যে দশভূজা।

কালী হলেন শক্তিময়ী, করালবদনা,

দুঃখ মুক্তি, রোগ মুক্তি করলে আরাধনা। 

দুর্গার দশ মহাবিদ্যার অন্যতমা কালী,

দক্ষিণাকালী, শ্মশানকালী মহাবলশালী।

শক্তির এই আরাধনা করেছিলেন বামা, 

রামপ্রসাদ আর রামকৃষ্ণ করেন পূজা শ্যামা। 

শ্যামা মায়ের শরণ নিলে কষ্ট হয় দূর, 

দুঃখ যন্ত্রণা দূরে যায় জীবন সুমধুর। 

শক্তির এই আরাধনা চলে যে সারারাতি, 

মনের মধ্যে জ্বলতে থাকে নানা রঙের বাতি। 

সবাই হাঁকে শক্তিময়ী কালীকামাতার জয়, 

শক্তি আরাধনায় ঘুচুক সকল দুঃখ ভয়।

শনিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৫

। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। অক্টোবর সংখ্যা।। ।। অলোর উৎসব—৮ ।। প্রণামী বাস্কে — মহাদেব চক্রবর্তী।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।


          ।। প্রতিদিন বিভাগ।। 

          ।।  অক্টোবর সংখ্যা।। 

           ।।  অলোর উৎসব—৮ ।। 



প্রণামী বাস্কে 

মহাদেব চক্রবর্তী 


যা, চরে খা,

ছেড়ে দিলাম, 

খোলা হাওয়ায়-


নদী-নালা খাল-বিল-

জঙ্গল পাহাড়-

মেয়ে মানুষ -

যা পাবি খেয়ে যা।

দুহাতে পেট ভরে।

কোন বাধা নেই।

শুধু, প্রণামী বাস্কে দিবি।

শুক্রবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৫

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। অক্টোবর সংখ্যা।। ।। অলোর উৎসব—৭।। দীপাবলির রাতে — বিদ্যুৎ মিশ্র।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।


          ।। প্রতিদিন বিভাগ।। 

          ।।  অক্টোবর সংখ্যা।। 

           ।।  অলোর উৎসব—৭।। 



দীপাবলির রাতে

বিদ্যুৎ মিশ্র

 

মা কালী তুই খড়্গ নিয়ে আয়না এবার নেমে

অসুরগুলো করতে দমন গেছিস নাকি থেমে।

তাইতো দেখি অমানিশায় ঢাকলো সারাদেশ

অসুরগুলো শোষণ করে পরে ছদ্মবেশ।

মারছে মানুষ নির্বিচারে হয় না বিচার তার

আর কতদিন সইবো মা বল এমন অত্যাচার।

অনেক হলো মাগো এবার আয়না এবার তুই

তোর জন্য পঞ্চ প্রদীপ বিজয় শঙ্খ ছুঁই।

প্রতিবাদের জ্বলুক আগুন দীপাবলীর রাতে

সবাই মিলে শপথ করি হাত রেখে দুই হাতে।

 

বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৫

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। অক্টোবর সংখ্যা।। ।। অলোর উৎসব—৬।। পিলসুজ — মুক্তি দাশ।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।



          ।। প্রতিদিন বিভাগ।। 

          ।।  অক্টোবর সংখ্যা।। 

           ।।  অলোর উৎসব—৬।। 




পিলসুজ

মুক্তি দাশ

পিলসুজের ওপর বসানো রেডি তেলে
জ্বলত পেতলের প্রদীপ
নিচটা হয়ে থাকত ছায়ান্ধকার
অনতিদূরে ছড়িয়ে পড়ত ম্রিয়মান আলো
আমার ঠাম্মি বলত জ্ঞানের আলো
আর কাব্যরসিকদের সে কি
তুমুল কাব্যোন্মাদনা!

ঘোলাটে চোখে দূরপানে তাকিয়ে
থাকতে থাকতে ঠাম্মি কোথায় যে হারিয়ে যায়  
প্রদীপ বা পিলসুজ দেখি বা না-দেখি
সেই প্রথম জানলাম —
প্রদীপের নিচেও অন্ধকার থাকে!

পিলসুজ এখন ঠাম্মির মতোই ব্রাত্য

   

বুধবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৫

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। অক্টোবর সংখ্যা।। ।। অলোর উৎসব—৪।। মা — বিকাশ দাস।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।



          ।। প্রতিদিন বিভাগ।। 

          ।।  অক্টোবর সংখ্যা।। 

           ।।  অলোর উৎসব—৪।। 




 মা 

বিকাশ দাস


ছোট্ট বেলা 

মায়ের কোলে শুয়ে বসে আকাশ দেখতাম 

মায়ের আঁচল নাড়িয়ে বিশ্ব ঘুরে আসতাম। 

মায়ের বুকে আমার রাজা হওয়া দেখতাম।


আমি ছিলাম মা-নেওটা। মা-অন্তঃপ্রাণ

মায়েরও আমি অন্তঃপ্রাণ যেমন সব মায়েরা হয়ে থাকেন।  

মা আমার বুকে হাত না রাখলে গুনে গুনে কপাল না চুমলে 

রাতভোর কারও চোখে ঘুম আসতো না।  

তখন মা ছাড়া অন্য জগৎ আছে বলে জানতাম না। 


আমার সামান্য সর্দি-কাশির উপসর্গ দেখা দিলে 

মা’র দু’চোখ জেগে থাকা। বদ্যি কবিরাজ ডাকা

দেবদেবতার পূজো, মানত, ঝাড়পোঁছ, নানান টোটকা 

নিজেকে উপোষে বেঁধে রাখা। অসম্ভব অস্থির থাকা।


অসুখ-বিসুখ জ্বর-জ্বালা হলে ছড়া-গান গেয়ে   

নেড়ে দিতেন আমার শরীর

কঠিন শীতে সর্ষের তেলে রোদের থেকে আরাম তুলে

ডলে দিতেন আমার শরীর। 


যখন ছোট্ট থেকে একটু বড় হলাম...  


মা’র জ্বর হলে। মা অসুস্থ হলে 

মায়ের পাশে এক ঠাই বসে থাকতাম 

দু’হাতে প্রণাম করে বারবার বলতাম 

হে ঠাকুর মাকে ভাল করে দাও। 


মা ভাল নেই মানে 

আকাশ নেই। খিদে নেই। পৃথিবী নেই। 

আলো নেই। পায়ের তলায় মাটি নেই।

সবকিছু যেন এলোমেলো মনে হতো। 


যখন ছোট্ট থেকে আরও একটু বড় হলাম...  


মা ভোর বেলা আমাকে বাগানে নিয়ে যেত 

আর আঙুল দেখিয়ে বলত...  

ওই দ্যাখ সাদা গোলাপ লাল গোলাপ, টগর-বেলি-জুঁই 

ওই দ্যাখ ফুটেছে কত রঙের গেঁদা আর সূর্যমুখী 

আমার তখন দু’চোখ মায়ের হাতে লাগানো সজনে গাছে 

চট করে উঠে যেতাম। এই দেখে 

মা আঁতকে উঠত আর বলত পড়ে যাবি। 

নেমে আয় নেমে আয়। আমি সজোরে বলতাম 

না মা। না মা পড়ব না। পড়লে তুমি তো আছ।  

তোমার জন্য ক’খান সজনে তুলে আনি।

তুমি যে সজনে খেতে খুব ভালবাস 

আবার না বলে কখনও উঠে যেতাম নিমগাছে 

কচি কচি নিমপাতা মায়ের হাতে তুলে দিতাম 

মা খুব বকত তোর কী কোন ভয় ডর নেই, 

পড়ে গেলে কি হতো বলত!

আমি তৎক্ষণাৎ মা কে জড়িয়ে নিতাম।  

মা এক গাল হেসে বলত তুই আর সুবোধ হলি না 

কবে যে তোর সুবুদ্ধি হবে। ঈশ্বরই জানেন। 

এই ভাবে চলত আমার দস্যিপনা । 

আমার শৈশব আমার কৈশোর 

ছুটোছুটির অগুনতি খামখেয়ালীর দুরন্তপনা।


আমার যত অবান্তর আবদার বায়না 

আমার চোখে বানানো সামান্য কান্না 

মা দেখলেই সত্যি ভেবে এক নিমিষে সব পূরণ করে দিতেন। 


এই নিয়ে বাবা কথায় কথায় মা কে কথা শোনাতেন  

অকারণে তোমার ছেলেকে দিচ্ছ প্রশ্রয়, একদিন ভুগবে

এখনও সময় আছে। পড়াশোনায় শতাংশ পেলেই হয় না 

মা বাবা কে বুঝিয়ে বলতেন বড় হলে ছেলে ঠিক বুঝবে।


যতই সময়কে দেখেছি হতে অনুজ্জ্বল অনুর্বর চোখের সমুখে

ততই তিনি আমাকে আগলে রাখতেন স্নেহ-মমতার শিকড়ে।  


মা ঈশ্বর। মা উপমা। 

মা সুন্দর, মা ক্ষমা।   


যেই একটু একটু করে আরও বড় হলাম...  


ছোট কলেজ থেকে বড় কলেজ শেষ করলাম 

গোল্ডমেডেল গলায় ঝুলিয়ে   

নিজের উত্তরণ নিজেই অনুসরণ করতে শিখলাম।


মোটা টাকার মাইনে পাওয়ার জন্য 

আমার বিদেশে পড়ার ইচ্ছে জানালাম মাকে, 

মা বলল বেশ তো। 

তুমি কি জান এর জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন! 

মা বাবাকে জানালেন। বাবা বললেন ঠিক আছে। 

আমি কিন্তু বিদেশ থেকে করতে চাই 

বাবা বললেন এ তো অনেক খরচ আমার সাধ্যের বাইরে।


মা বাবা কে বোঝালেন ছেলে যখন করতে চায় 

দাও না টাকার ব্যবস্থা করে। দরকার পড়লে এ ভিটে মাটি বেচে দাও। 

অন্তত ওর জীবনে আর টানাপড়েন থাকবে না।   

বাবার অনিচ্ছায় বাবা অবসর নিলেন। নিজেকে নিঃস্ব করে আমাকে 

বিদেশ পাঠালেন নিজদের আগুপিছু না ভেবে। 

মা জোর না করলে হয়তো হতো না।  


কতবার বিরক্তির স্বরে বলেছি মা কে 

এবার আমি বড় হয়েছি আর কতদিন আমাকে আগলাবে 

কোলে কোলে রাখবে? এবার তো একটু একা একা ছাড়ো। 

মা কে স্পষ্ট জানিয়ে দিলাম... 

আমি নিজের কেয়ার আমি নিজেই করতে পারি।

হয়তো সেদিন আমার কথায় মা কষ্ট পেয়েছিলেন।  



এক নামী মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে মোটা টাকার 

চাকরি পেলাম। 

সেদিন মায়ের চোখে দেখেছিলাম অসীম উচ্ছলতা 

অবাধ আনন্দ জল।


শেষ সম্বলটুকু দিয়ে থুয়ে 

বাবা মা আমার ধুমধাম করে বিয়ে দিলেন

আপ্যায়নের কোন ত্রুটি রাখেন নি।  

নিজের গর্ভজাত ছেলের বিয়ে দেখতে নেই বলে 

অমঙ্গল হবে জেনে সেদিন মা ঘরেই থেকে গেলেন। 


আশ্চর্য বিধির বিধান!


সমস্ত বিধি মেনে মা আমাদের বরণ করে 

তুলে নিলেন ঘরে। 

মায়ের যতটুকু গয়না ছিল, নিজের 

আলমারির দেরাজ খুলে নিজের হাতে  

তুলে দিলেন নতুন বৌমাকে আশীর্বাদ স্বরূপ।  


কখন যে বড় হতে হতে মায়ের গোছালো ঘর 

নিজের হেফাজতে নিয়ে নিলাম।  

সংসারের চাবি এক আঁচল থেকে অন্য আঁচলে। 

মায়ের আড়ালে মায়ের থেকে দূরে সরে এলাম।

শুধু নিজেরা নিজের মত করে ভাল থাকব বলে  

নিজস্ব ভোগবিলাসে ভেসে গেলাম।


বাবা চলে গেলেন, মাকে আমার ভরসায় রেখে।

মা র পেনশন টুকু নিজের প্রাপ্য অধিকার বলে 

রেখে দিতেও লজ্জা হল না।  

খুব সুন্দর করে আদর সোহাগের ভাণ করে 

বলতাম মাকে চিন্তা কর না। যা লাগলে বলো। 

আমি আছি। যদিও মা কোনদিন কিছুই নিজের 

চাওয়ার ইচ্ছের কথা বলতেন না। জিজ্ঞেস করলেই-  

মায়ের মুখে সেই এক কথার আদুরে সুর 

তোরা সুখে থাকলে আমি নিশ্চিন্তে মরতে পারি।


মা নিজের সংসারে নিজের হাতে পায়েস রান্না করে 

আমার জন্মদিন পালন করতে ভুলে যেতেন না।

যদিও আমরা সস্ত্রীক নিজেদের 

বন্ধুবান্ধব নিয়ে ব্যস্ত থাকতে বেশি পছন্দ করতাম। 


মা আমার ছেঁড়া জামা সেলাই করতে করতে

নিজের মনের সাথে গুন গুন করে গান বলত 

আমি খেলাম কি না খেলাম দু’বেলা খোঁজ নিতেন। 


মায়ের শরীর ভাঙতে শুরু হল 

চোখেও কম দেখতে লাগলেন

মা সারা ঘর জুড়ে আমাদের সঙ্গে ছিলেন 

আমরা হয়তো ছিলাম না।  


মা দিনে দিনে যত নুয়ে পড়ে 

ওষুধ পত্রের খরচ তত বাড়ে

মায়ের প্রতি বেশি যত্নশীল হওয়া মানে বাড়তি খর্চা

নিজের সঞ্চয় ভেঙে ভেঙে আর অপচয় করা ঠিক নয়। 

আমাদেরও তো নিজস্ব ভবিষ্যৎ আছে।  

তাই নিস্তার রেহাই এর পথ খুঁজতে লাগলাম।


মমত্ববোধ মাতৃ চুম্বন আজীবন সন্তানের অবলম্বন

তবুও মায়ের নুয়ে পড়া বয়সের মৃতপ্রায় শরীরকে 

নিজের কাঁধে বয়ে নিয়ে যেতে অসহ্য লাগত 

আমার মানুষ হওয়ার ইচ্ছে-আকাঙ্ক্ষা   

দৈনন্দিন সাফল্যের ফসল নষ্ট না হয় ভেবে 

সেই আশঙ্কায় নির্দ্বিধায় 

মায়ের শহর ছেড়ে অন্য নতুন শহরে নতুন ফ্ল্যাটে 

নিজের ঘর হয়ে উঠলাম। নিজদের মত করে। 


শেষমেশ নিঃসঙ্কোচে মায়ের নিরাপদ আশ্রয় 

মায়ের বাড়ি, বেচে সবটুকু নিজের ভাগ বুঝে নিলাম। 

মা আরও ভাল থাকবেন বলে নামী বৃদ্ধাশ্রমের হাতে 

সঁপে দিলাম। আমি স্বস্তির নিঃশ্বাস নিলাম। 


দিন যায় বয়স বাড়ে 

শিশুর মত মন কাঁদে 

আমার মহার্ঘ ড্রয়িং রুম আর ব্যালকোনি জুড়ে 

এক ফোঁটাও রোদ্দুর ফোটে দিন-দুপুর-ভোরে 

আকাশের উজ্জীবিত সূর্যালোক আর পড়ে না

আমার ঘরের চকিত পাথরে। 

  

তখন আমার মধ্যে আর খুঁজে পাই না আমাকে

আমার ভেতরের মানুষগুলো কঠিন নির্মম পাকে

জন্মদাত্রীর লালন করতে ভুলে গেলাম কী করে!

তবে কী আমি 

মা কে একটু একটু করে নিজের হাতে মেরে দিলাম! 

না মারা গিয়েছিল বার্ধক্যের ব্যাধির অযত্নের পীড়ায়!  

না একাকীত্ত্বের ধাক্কায়! 


তখনও মা মৃত্যুর কোলে ঢলে তোরা ভাল থাকিস বলে 

ক্ষমা সুলভ দৃষ্টির ভেতর 

আমাদের মঙ্গল চেয়ে নিজের সুখের শেষ এক সুতোটুকুও   

আঁচল খুলে বিলিয়ে দিয়ে চলে গেলেন নিঃশব্দে 

কিছুই বেঁধে নিয়ে গেলেন না নিজের সাথে। 



মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৫

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। অক্টোবর সংখ্যা।। ।। অলোর উৎসব—৪।। ঋতু ফুলের আলো —বিকাশ চন্দ।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।


          ।। প্রতিদিন বিভাগ।। 

          ।।  অক্টোবর সংখ্যা।। 

           ।।  অলোর উৎসব—৪।। 



 ঋতু ফুলের আলো

বিকাশ চন্দ 


জন্ম ছিল না আলোর ভিতরে আমাদের জবানবন্দী
তবুও জানি বুকের ভেতরে অজানা উৎসব
অন্ধকারের সকল ঋতুর বুনন
আলো ছুঁয়ে বেঁচে থাকতে চাইছে 
নির্বাক শর্বরী আত্মাহারা আজও 
যদি আত্মার স্পর্শে ফুটে ওঠে 
লক্ষ নক্ষত্রের ফুল

সূর্যের কিরণ স্পর্শে ফুটে ওঠে যে ফুল
সেও উড়ে যাচ্ছে মিশে যাচ্ছে কালো বিষণ্ণ মেঘে 
তবুও ফুলের ভেতর স্নিগ্ধ পরাগ জন্ম
স্বপ্ন আঁকে আত্মার রঙে

এত দীর্ণ সময়ে টেনে আনে নাগরিক বসন্ত উৎসব 
দেয়ালের সাথে শুয়ে আছে নিষ্প্রাণ দেহ
ভেসে যাচ্ছে অন্তহীন সীমায়
প্রতিবাদহীন সময়ে প্রদীপ জ্বালাচ্ছে
স্যাঁতসেঁতে উঠোনে একাকী আলোর ঈশ্বরী

সোমবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৫

। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। অক্টোবর সংখ্যা।। ।। অলোর উৎসব—৩।। আলোর উৎসব — দুরন্ত বিজলী।।Ankurisha।। E.magazine।। Bengali poem in literature।।



          ।। প্রতিদিন বিভাগ।। 

          ।।  অক্টোবর সংখ্যা।। 

           ।।  অলোর উৎসব—৩।। 




আলোর উৎসব 

দুরন্ত বিজলী 

ভোরের অস্পষ্ট আঁধার সরিয়ে 
মুখ তুলেছেন আলোর রাজা
কাশফুল ভিজে আছে রাতের বৃষ্টিতে 
শিউলি ভিজে ঘাসে লুটোপুটি 
মেঘ ছুঁয়ে গেল রাজার চরণ 
আবছা আলো আবার বৃষ্টি 
বৃষ্টির পর আবার আলো ছড়িয়ে 
দিতে দিতে রাতের দিকে ছোটা
অন্ধকার নেমে এলে জ্বলে ওঠে 
নিয়ন আলো মোমবাতি অমানিশার
বুক চিরে ফুলের রোশনাই 
আমাদের মা কালো পায়ে আলোর 
নূপুর পরে নেমে আসছেন এই পৃথিবীতে 
তাই আলোর রাজার মহাআলো নিভে গেলে 
আলোর ঝরনাধারায় আলোময় চারিদিক 
আকাশের তারার চিরন্তন আলোকে 
মিশে সে আলো আমাদের সব কালো 
মুছে দিয়ে ভালো ভাবে বাঁচার আশ্বাস 
ছড়িয়ে দেন এই দীপাবলি উৎসবে। 

রবিবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৫

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। অক্টোবর সংখ্যা।। ।। অলোর উৎসব—২।। উৎসব — শ্যামল রক্ষিত।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 


          ।। প্রতিদিন বিভাগ।। 

          ।।  অক্টোবর সংখ্যা।। 

           ।।  অলোর উৎসব—২।। 




উৎসব 

শ্যামল রক্ষিত 


জানালাটা খুলে দিলাম 
আলো আসুক 
বাতাস আসুক 

দীর্ঘশ্বাসের কোনো মূল্য নেই 
কেবল জরুরিভাবে ঘোষিত হচ্ছে যে-গান 
শোনো, তার কণ্ঠের নিচে বিশাল তোরণদ্বার 
মানুষ আসছে আর যাচ্ছে  ।


শনিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৫

আজ থেকে শুরু হলো... অঙ্কুরীশা-র পাতায়.. ।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। অক্টোবর সংখ্যা।। ।। অলোর উৎসব — হৃদয়ের অনুভব। পুষ্প সাঁতরা।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।


          ।। প্রতিদিন বিভাগ।। 

          ।।  অক্টোবর সংখ্যা।। 

           ।।  অলোর উৎসব—১।। 




 হৃদয়ের অনুভব

 পুষ্প সাঁতরা


লোভ দ্বেষ হিংসা গ্রোথিত আঁধার ভুবন ভরা
আলোর দেবী এসো মা গো দূর হোক জ্বরা।

ছদ্মবেশী স্বার্থপরেরা আজ খুঁড়ছে প্রকৃতি
আলোর বেণু বাজাও তুমি হৃদয়ে দাও প্রীতি

মরমি আলোয় দূর করে দাও আঁধার ভরা বুকে
ফুলঝুরি আলোর ঝর্ণা ধারায় নামুক সৃজন সুখে।

আলো জ্বলুক গোপন কুঠরিতে হৃদয়ের অনুভব
বরণ ডালায় সাজিয়েছি আলোর উৎসব।

মঙ্গলবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৩

আজ থেকে শুরু হল.... নভেম্বর সংখ্যা য়... আলোর উৎসব বিষয়ক কবিতা।। আজকের কলমে— বিদ্যুৎ মিশ্র।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



।।আলোর উৎসব।। 

বিদ্যুৎ মিশ্র এর কবিতা 


১.

আলোয় ফেরা



সাঁকোর উপর হেঁটে যায় কিছু মানুষ ,
দূরে তখন সূর্য ঢলে পড়ে ঈশান কোণে।
একটা নতুন দৃশ্য চোখে পড়ে সেই সময়,
দূরে কোথাও একটা ডাহুক ডেকে উঠলে
মনে হয় এই বুঝি রাত্রি নামলো:
এবার অন্ধকারে ঢেকে যাবে সারা গ্রাম।
বাড়ি ফেরার খুব তাড়া।
আরো দ্রুত পা চালায় সেইসময়
মানুষের চাপে একটু একটু দুলে ওঠে দূর্বল সাঁকো।
নিচে কলকল বয়ে যায় কুমারী নদী
সবার বাড়ি ফেরার একটাই সম্বল।
আকাশে যেই চাঁদের আলো ফুটে ওঠে
অপরূপ শোভা পায় কুমারী নদীটি;
জোছনার আলো মুছে ফেলে সব অন্ধকার।
সাঁকোর উপর হেঁটে যায় কিছু মানুষ
ঠিক যেন অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরা।





২.
আলোর উৎস থেকে

কী বিষন্নতা আকাশে, একটিও তারা ফুটে ওঠেনি
বাতাস যেন অচল হয়ে আছে
অবকাশ সময়ে বেশি মন খারাপ হয়, চাপ বাড়ে।
বিষণ্ণ প্রকৃতির এই হঠাৎ চুপ হয়ে যাওয়া
অনেক কিছুই বলে দেয়। ক্রমে রাত বাড়ে
ধীরে ধীরে জমা হয় কুয়াশা বিন্দু
এমন তো কথা ছিল না কিছু
সব মন খারাপ ধুয়ে দেয় আলোর রোশনাই
এসো আলোর গান গাই
নতুন প্রভাতের মতো জেগে উঠুক সারা প্রকৃতি
ফুলে ফুলে ভরে উঠুক নিষিদ্ধ বাগান
এসো আলো রাঙিয়ে দাও তোমার রঙে
আজ অন্তত হাসি ফুটে উঠুক
চুপ হয়ে যাওয়া বাচ্চাটির মুখে।
জোছনার উৎস থেকে ভরে উঠুক সারা প্রান্তর
জোনাকির আলো আর রাত্রের মাদকতা নিয়ে
এসো আমরা একটা নতুন আকাশ গড়ে তুলি।