লেবেল

নিবন্ধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
নিবন্ধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২০

সার্বজনীন শারদ উৎসবের বিচিত্র ইতিহাস। শঙ্কর তালুকদার



সার্বজনীন শারদ উৎসবের বিচিত্র ইতিহাস 

 —শঙ্কর তালুকদার

 

দুর্গাপূজা বা দুর্গোৎসব প্রকৃতপক্ষে হিন্দু দেবী দুর্গা পূজাকে কেন্দ্র করে প্রচলিত একটি সামাজিক  উৎসব। এই পূজা সমগ্র হিন্দুসমাজেই প্রচলিত। তবে বাঙালি হিন্দু সমাজে এটি অন্যতম বিশেষ ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব হিসেবে পালন করা হয়। আশ্বিন এবং চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষে আলাদা দুটি উৎসবে দুর্গাপূজা হয়ে থাকে। আশ্বিন মাসের দুর্গাপূজা শারদীয়া দুর্গাপূজা এবং চৈত্র মাসের দুর্গাপূজা বাসন্তী দুর্গাপূজা বা বাসন্তী পূজা নামে পরিচিত। এর মধ‍্যে শারদীয়া দুর্গাপূজার জনপ্রিয়তাই বেশি। বাসন্তী দুর্গাপূজা মূলত কয়েকটি পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ এছাড়া প্রাচীন সমাজিক জনপদেই কেবল এই পূজা এখনো হতে দেখা যায় !



দুই বাংলাতেই তথা সাড়া বিশ্বেই বাঙালীরা যেখানেই এই শারদীয়া দুর্গাপূজা করেন সেখানেই দেবী দুর্গার যে অতিপ্রচলিত এক চালার মূর্তিটি সচরাচর দেখা যায় সেটি  সপরিবার মা দুর্গার মূর্তি বা পরিবারসসম্বিতা ও বলা যায়। এই মূর্তির মাঝে  সিংহবাহিনী দেবী মা দুর্গা থাকেন যিনিই মহিষাসুরমর্দিনী; তার মুকুটের উপরের দিকে একচালার চাঁদোয়াতে শিবের ছোট মুখ ও দেখা যায়; দেবীর ডানদিকে দেবীমূর্তির গা ঘেষে উপরে দেবী লক্ষ্মী ও নিচে গণেশ; আর বামপাশে উপরে দেবীর গা ঘেঁষে দেবী সরস্বতী  ও নিচে কার্তিকেয়কে দেখা যায়। কলকাতায় ১৬১০  সালে  সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের দুর্গাপূজাতেই প্রথম এই সপরিবার দুর্গামূর্তির প্রচলন হয়েছিল বলে মনে করা হয় । তাঁরা কার্তিকেয়কে জমিদারপুত্রের রূপ দিয়েছিলেন , যা এর আগে সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের আদলে যুদ্ধের দেবতা রূপে বর্ণনা করেই সৃষ্টি করা হত এবং সেইমতই নির্মান বা কল্পনা করা হত। এছাড়াও বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর-সংলগ্ন অঞ্চলে দেবী দুর্গার এক বিশেষ মূর্তি দেখা যায়। সেখানে দেবীর ডানপাশে উপরে গণেশ ও নিচে লক্ষ্মী, বামে উপরে কার্তিকেয় ও নিচে সরস্বতী এবং কাঠামোর উপরে নন্দী-ভৃঙ্গীসহ বৃষপৃষ্ঠে শিব ও দুইপাশে দেবীর দুই সখী জয়া ও বিজয়া অবস্থান করেন। কলকাতার কোনও কোনও বাড়িতে আবার দুর্গোৎসবে লক্ষ্মী ও গণেশকে সরস্বতী ও কার্তিকেয়ের সঙ্গে স্থান বিনিময় করতেও দেখা যায়। আবার খুব কম যায়গায় হলেও কোন কোন অঞ্চলে দুর্গাকে শিবের কোলে বসে থাকতেও দেখা যায়। এগুলি ছাড়াও বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে দেবী দুর্গার বিভিন্ন রকমের স্বতন্ত্র মূর্তিও চোখে পড়ে।

এছাড়া আধুনিক সমাজে বাড়োয়ারী দুর্গা প্রতিমা বিভিন্ন সামাজিক ও সমসাময়ীক ঘটনার নেপথ‍্যের কাহিনি সম্বলিত বিষয়ের উপর নির্ভর করে থিম পূজোয় বিভিন্ন প্রকারের দুর্গা প্রতিমার শিল্প ফুটিয়ে তুলে উৎসবকে বিশেষ ভাবে আলোকিত করে; যেমনটি এবারে এই করোনা বিদ্ধ পৃথিবীর কথা মনে রেখে অনেক দুর্গা প্রতিমার মুখেই মাস্ক এবং হাতে দস্তানা লাগানো দেখা গেছে। তবে দুর্গার রূপকল্পনা বা কাঠামো বিন্যাসে যতই বৈচিত্র থাকুক, বাংলায় দুর্গোৎসবে প্রায় সর্বত্রই দেবী দুর্গা সপরিবারে পূজিতা  হন।





ইতিহাসের পাতার স্বাভাবিক ভাবে অব্যবহৃত  পাতার অন্বেষণের তথ‍্য অনুযায়ী শোনা যায়, যে, প্রকৃতপক্ষে সেদিনের পলাশীর যুদ্ধের স্মারক  উৎসবই আজ বাঙালীর জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে।১৭৫৭ সালের ২৩ জুন তারিখে পলাশীর রণাঙ্গনে ক্লাইভের হাতে নবাব সিরাজদ্দৌলার পরাজয় ঘটলে সবচেয়ে বেশী  যারা উল্লসিত হয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে ছিলেন নদীয়ার রাজা এবং কৃষ্ণনগর রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা ভবানন্দ মজুমদারের বংশধর  রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় আর কলকাতার শোভাবাজার রাজ পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা রাজা নবকৃষ্ণ দেব। কোম্পানীর জয়কে সেদিন ভ্রম বশে তাঁরা হিন্দুর জয় বলে মনে করলেন ! ওদিকে ইংরাজ সেনাপতি ধূর্ত ক্লাইভও তাঁদের সেইরকমই বোঝালেন। ক্লাইভের পরামর্শে তাঁরা পলাশীর যুদ্ধের বিজয়-উৎসব করার আয়োজন করলেন।

সেই অবসরে, বসন্তকালিন দুর্গাপূজাকে তাঁরা পিছিয়ে আনলেন শরৎকালে। তথ‍্য অনুযায়ী ১৭৫৭ সালেই কৃষ্ণচন্দ্র এবং নবকৃষ্ণ দুজনেই সেই সময়ে লক্ষাধিক টাকা খরচ করেছিলেন। রাজা নবকৃষ্ণ টাকা পেয়েছিলেন সিরাজদ্দৌল্লার গুপ্ত কোষাগার লুঠ করে।আর কৃষ্ণচন্দ্র টাকা পেয়েছিলেন ক্লাইভের প্রত্যক্ষ কৃপায়। ক্লাইভের সুপারিশে কৃষ্ণচন্দ্রের বার্ষিক খাজনা বরাবরের জন্যে পাঁচ লক্ষ করে কমে গিয়েছিল।আগে এদেশে বসন্তকালে চালু ছিল দুর্গাপূজা আর শরৎ কালে চালু ছিল নবপত্রিকা পুজো, আজ ও বর্ধমান জেলার বিভিন্ন জনপদে, কাটোয়া মহাকুমা প্রভৃতি অঞ্চলে দুর্গাপূজার সময় প্রধান অংশ হিসেবে কলাবউ বা নবপত্রিকার ই পূজাই হয় ! এছাড়া প্রায় সমস্ত শারদীয়া পূজা মন্ডপেও দুর্গা প্রতিমার সাথে কলাবউ পুজো হয়ে থাকে !




বাংলায় দুর্গাপুজো প্রবর্তনের কৃতিত্ব যাঁরই হোক না কেন, কলকাতার ইতিহাসকারদের মতে এই শহরের চৌহদ্দির মধ্যে দুর্গার পুজো(বসন্তকালিন) প্রথম অনুষ্ঠিত হয় ১৬১০ খ্রিস্টাব্দেই, বরিষার (বেহালা সখের বাজার অঞ্চল) সাবর্ণ গোত্রীয় রায়চৌধুরী পরিবারের আটচালা মণ্ডপে। তখন ও অবশ্য কলকাতা শহরে রূপান্তরিত হয়নি, তবে রায়চৌধুরীদের সেই মণ্ডপটি আরও একটি কারণে ঐতিহাসিক। সেই আটচালা মণ্ডপে বসেই ১৬৯৮ খ্রিস্টাব্দের ১০ই জুন তারিখে জোব চার্নকের জামাই চার্লস আয়ারের সঙ্গে ‘সুতানুটি’, ‘গোবিন্দপুর’ ও ‘কলকাতা’ গ্রাম তিনটির হস্তান্তরের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল রায়চৌধুরী বাড়ির তৎকালীন কর্তাদের।এ বিষয়ে উল্লেখযোগ‍্য যে, দুর্গাপুজোর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল মূর্তির ব্যাপার, আর নবপত্রিকা পুজোর সাথে জড়িয়ে ছিল ন'টি ওষধিগুণ  সম্পন্ন উদ্ভিদের ব্যাপার ও তাদের সংরক্ষণের সামাজিক পদ্ধতি। 

নবপত্রিকাপুজোর  মধ‍্যে 'নবপত্রিকা' শব্দটির আক্ষরিক অর্থ নয়টি গাছের পাতা। তবে বাস্তবে নবপত্রিকা নয়টি পাতা নয়, নয়টি উদ্ভিদ। রম্ভা, কচ্চী, হরিদ্রাচ, জয়ন্তী, বিল্ব, দাড়িমৌ,অশোক মানকশ্চৈব ধান্যঞ্চ নবপত্রিকা। অর্থাৎ: কদলী বা রম্ভা (কলা), কচু, হরিদ্রা (হলুদ), জয়ন্তী, বিল্ব (বেল), দাড়িম্ব (ডালিম), অশোক, মানকচু ও ধান।




একটি পাতা সহ কলাগাছের সঙ্গে অপর আটটি সমূল সপত্র উদ্ভিদ একত্র করে একজোড়া বেল সহ শ্বেত অপরাজিতা লতা দিয়ে বেঁধে লালপাড় সাদা শাড়ি জড়িয়ে ঘোমটা দেওয়া বধূর আকার দেওয়া হয়; স্ত্রীরূপের জন্য দু’টি বেল দিয়ে করা হয় স্তনযুগল। তারপর সিঁদুর দিয়ে সপরিবার দেবীপ্রতিমার ডান দিকে দাঁড় করিয়ে পূজা করা হয়। প্রচলিত ভাষায় নবপত্রিকার নাম কলাবউ। সম্ভবত, নবপত্রিকার নয়টি উদ্ভিদ আসলে দেবী দুর্গার নয়টি বিশেষ রূপের প্রতীকরূপে কল্পিত হয়!

কদলী বা রম্ভা (কলা গাছ): কদলি গাছ এর অধিষ্টাত্রী দেবী ব্রহ্মাণী; কচু (সাধারন): কচু গাছের অধিষ্টাত্রী দেবী কালিকা; হরিদ্রা (হলুদ গাছ): হরিদ্রা গাছের অধিষ্টাত্রী দেবী উমা; জয়ন্তী: জয়ন্তী গাছের অধিষ্টাত্রী দেবী কার্তিকী; বিল্ব (বেল গাছ): বিল্ব গাছের অধিষ্টাত্রী দেবী শিবা; দাড়িম্ব (ডালিম/বেদানা গাছ): দাড়িম্ব গাছের অধিষ্টাত্রী দেবী রক্তদন্তিকা; অশোক: অশোক গাছের অধিষ্টাত্রী দেবী শোকরহিতা; মানকচু: মানকচু গাছের অধিষ্টাত্রী দেবী চামুণ্ডা; ধান: ধান গাছের অধিষ্টাত্রী দেবী লক্ষ্মী।এই নয় দেবী একত্রে "নবপত্রিকাবাসিনী নবদুর্গা" নামে "নবপত্রিকাবাসিন্যৈ নবদুর্গায়ৈ নমঃ" মন্ত্রে পূজিতা হন।




মহাসপ্তমীর দিন সকালে নিকটস্থ নদী বা কোনো জলাশয়ে (নদী বা জলাশয়ে না থাকলে কোনো মন্দিরে) নিয়ে যাওয়া হয়। পুরোহিত নিজেই কাঁধে করে নবপত্রিকা নিয়ে যান। তার পিছন পিছন ঢাকীরা ঢাক বাজাতে বাজাতে এবং মহিলারা শঙ্খ ও উলুধ্বনি করতে করতে চলেন। শাস্ত্রবিধি অনুযায়ী স্নান করানোর পর নবপত্রিকাকে নতুন শাড়ি পরানো হয়। তারপর পূজামণ্ডপে নিয়ে এসে নবপত্রিকাকে দেবীর ডান দিকে একটি কাষ্ঠসিংহাসনে বসানো হয়। পূজামণ্ডপে নবপত্রিকা প্রবেশের মাধ্যমে দুর্গাপূজার মূল অনুষ্ঠানটির প্রথাগত সূচনা হয়। নবপত্রিকা প্রবেশের পর দর্পণে দেবীকে মহাস্নান করানো হয়। এরপর বাকি দিনগুলিতে নবপত্রিকা প্রতিমাস্থ দেবদেবীদের সঙ্গেই পূজা পেতে থাকে। বিশেষভাবে লক্ষণীয় হল, নবপত্রিকা প্রবেশের আগে পত্রিকার সম্মুখে দেবী চামুণ্ডার আবাহন ও পূজা করা হয়। পত্রিকাস্থ অপর কোনো দেবীকে পৃথকভাবে পূজা করা হয় না। 

বলাবাহুল্য এই সবই হল পৌরাণিক দেবী মা দুর্গার সঙ্গে এই শস্যদেবীকে সর্বাংশে মিলিয়ে নেবার এক সচেতন চেষ্টা। এই শস্য-দেবীকে মাতা পৃথিবীরই রূপভেদ মনে করা হয়, সুতরাং আমাদের জ্ঞাতে-অজ্ঞাতে আমাদের শারদীয়া দুর্গাপূজার ভিতরে এখনও সেই আদিমাতা পৃথিবীর পূজা অনেকটাই মিশে রয়েছে।

তবে  দুর্গাপূজার সঙ্গে শস্যদেবীর পূজার অনুষঙ্গটি অনেক পৌরানিক গবেষণায় স্বীকার করা হলেও, দেবীর শাকম্ভরী রূপ কল্পনা বা সেই মত দেবী আরাধনার তত্ত্বটিকে নবপত্রিকার উৎসরূপে অনেকেই মানতে চায়নি। দেবীপুরাণে নবদুর্গার উল্লেখ থাকলেও কিন্তু নবপত্রিকা সম্পর্কে কিছু বলা নাই। সেই অর্থে নবপত্রিকা দুর্গাপূজার একটি আগন্তুক অঙ্গ হিসেবেই রয়ে গেছে। বোধ হয় কোনও প্রদেশে শবরাদি জাতির লোকেরা ৯টি গাছের পাতা সামনে রেখে নবরাত্রি উৎসব পালন করত। তারা নবপত্রীকে অবস‍্য দুর্গা-প্রতিমার পাশে স্থাপন করেছে। এছাড়া মার্কণ্ডেয় পুরাণেও নবপত্রিকার কোন উল্লেখ নেই। কালিকাপুরাণে ও নবপত্রিকার উল্লেখ না থাকলেও কিন্তু সেখানে সপ্তমী তিথিতে পত্রিকাপূজার নির্দেশ আছে। কৃত্তিবাস ওঝা রচিত রামায়ণেও রামচন্দ্র কর্তৃক নবপত্রিকা পূজার উল্লেখ রয়েছে –যাতে লেখা হয়েছে- “বাঁধিলা পত্রিকা নব বৃক্ষের বিলাস।"

 

১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের বিজয়োৎসব পালন করার জন্যে বসন্তকালের দুর্গাপুজোকে শরৎ কালে নিয়ে এসে নবপত্রিকাপুজোর সঙ্গে জুড়ে দিয়ে শাদদোৎসবের সামাজিক ও সামগ্রিক চেহারা বদলে দিয়ে কেবল প্রাচুর্য অন্বেষণের উৎসবে বদলে দেওয়া হয়েছিল। তাই পরবর্তীতে সমাজের অবস্থাপন্নদের ঘরেই ক্রমশঃ এই পূজা হতে শুরু করেছিল, যারমধ‍্যে অনেকগুলো পুজোই এখন কলকাতার মত বিভিন্ন পুরাতন জনপদে দেখতে পাওয়া যায় !

এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ‍্য যে, ক্লাইভ নবকৃষ্ণের বাড়িতে সপারিষদ উপস্থিত হয়ে একশো টাকা দক্ষিণা ও ঝুড়ি ঝুড়ি ফলমূল দিয়েছিলেন বলে অনেক সমকালীন সাহিত‍্য সমষ্টির  মধ‍্যে তার উল্লেখ পাওয়া যায়।কলকাতার হিন্দু মাতব্বররা, যারা সাহেবদের নিমন্ত্রণ করে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসতেন তারাও জানতেন, কেবল মাটির পুতুল দেখে সাহেবরা খুশি হবেন না। তাই এই উৎসবের অবসরে সাহেবদের মনোরঞ্জনের জন্য জ্যান্ত পুতুল আনা হতো লখনৌ, ব্রহ্মদেশ কখনও বিলেত থেকেও। এদের বলা হত বাইজী।




পরবর্তীতে অন‍্যান‍্য সামাজিক উৎসবে ও পুরনো কলকাতায় বাই নাচিয়ে বিখ্যাত হয়ে পড়েছিলেন নবকৃষ্ণ দেব, গোপিমোহন দেব, রাধাকান্ত দেব, রাজকৃষ্ণ দেব, প্রাণকৃষ্ণ সিংহ, কেষ্টচন্দ্র মিত্র, রামহরি ঠাকুর, বারাণসী  ঘোষ, দর্পনারায়ণ ঠাকুর, সুখময় রায়, কিষণচন্দ্র রায়, রামচন্দ্র রায়, রূপচাঁদ রায়, মদনমোহন দত্ত, বৈষ্ণবচরণ শেঠ, রূপলাল মল্লিক, দ্বারকানাথ ঠাকুর, রামদুলাল সরকার, প্রাণকৃষ্ণ হালদার এবং মতিলাল শীল প্রভৃতিরা।সেকালের কলকাতার বাবুদের বাড়িতে দুর্গা ঠাকুর দেখার অধিকার আর সুযোগ সবার অবশ্য  ছিল না। কেবল অতিথিরা সেখানে প্রবেশ করতে পারতেন।

দারোয়ান দাঁড়িয়ে থাকতো বাড়ির গেটে , হাতে চাবুক নিয়ে। অতিথি ছাড়া আর কেউ ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলেই দারোয়ান তাকে চাবুক মারতো। ফলে ঠাকুর দেখতে গিয়ে চাবুক খেয়ে ফিরে আসতে হোত গরিব-দুখীদের।প্রথমে বাড়ির পুজো, তারপর বারোয়ারি পুজো আর সবশেষে এসেছে সার্বজনীন পুজো।বারো ইয়ার বা বারোজন বন্ধুর চাঁদার টাকায় প্রথম বারোয়ারি দুর্গাপুজো হয় ১৭৯০ সালে, হুগলি জেলার গুপ্তিপাড়ায়।

আর সার্বজনীন দুর্গাপুজোর পত্তন হয় এই কলকাতায়, ১৯২৬ সালে। এছাড়া সিমলা আর বাগবাজারে দু জায়গায় ঐ বছর সার্বজনীন দুর্গাপুজো হয়। সিমলা ব্যায়াম সমিতির অতীন্দ্রনাথ বোস ছিলেন প্রথমটির উদ্যোক্তা। বাগবাজারের বারোয়ারি পুজো শুরু হয় ১৯১৮ সালে। স্থানীয় কিছু যুবক এক ধনীলোকের বাড়িতে দুর্গা ঠাকুর দেখতে গিয়ে অপমানিত হন। পরের বছর তাঁরা  বারোয়ারি পুজো চালু করেন। সবার জন্যে তাঁরা উন্মুক্ত করে দেন  পুজোমন্ডপের দ্বার। পুজোর উদ্যোক্তা ছিলেন রামকালী মুখার্জি, দীনেন চ্যাটার্জী, নীলমনি ঘোষ, বটুক বিহারী চ্যাটার্জী প্রমুখ। সঠিক অর্থে এই পুজোই কলকাতার প্রথম সার্বজনীন দুর্গাপুজো।





প্রথম সার্বজনীন পুজোয় বাধা সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন অনেক রক্ষণশীল পন্ডিত।শেষ পর্যন্ত তাঁরা সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন পণ্ডিত দীননাথ ভট্টাচার্য্যের হস্তক্ষেপে।ক্রমে এই সার্বজনীন পূজাই সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পটভূমিকা ধরে শারোদৎসবে রূপান্তরিত হয়ে আজ সারা বিশ্বের মানুষের কাছে বৃহত্তর সামাজিক উৎসবে পরিনত হয়েছে ! 

দুর্গাপূজা ভারত, বাংলাদেশ ও নেপাল সহ ভারতীয় উপমহাদেশ ও বিশ্বের একাধিক রাষ্ট্রে পালিত হয়ে থাকে। তবে বাঙালি হিন্দু সমাজের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হওয়ার দরুন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও ঝাড়খণ্ড রাজ্যে ও বাংলাদেশে দুর্গাপূজা বিশেষ জাঁকজমকের সঙ্গে পালিত হয়। এমনকি ভারতের অসম, বিহার, ঝাড়খণ্ড,মণিপুর এবং ওড়িশা রাজ্যেও দুর্গাপূজা মহাসমারোহে পালিত হয়ে থাকে। ভারতের অন্যান্য রাজ্যে প্রবাসী বাঙালি ও স্থানীয় জনসাধারণ নিজ নিজ প্রথামাফিক শারদীয়া দুর্গাপূজা ও নবরাত্রি উৎসব পালন করে। এমনকি পাশ্চাত্য দেশগুলিতে কর্মসূত্রে বসবাসরত বাঙালিরাও দুর্গাপূজা পালন করে থাকেন। ২০০৬ সালে গ্রেট ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামের গ্রেট হলে "ভয়েসেস অফ বেঙ্গল" মরসুম নামে একটি সাংস্কৃতিক প্রদর্শনীর অঙ্গ হিসেবে স্থানীয় বাঙালি অভিবাসীরা ও জাদুঘর কর্তৃপক্ষ এক বিরাট দুর্গাপূজার আয়োজন করেছিলেন।


সামাজিক ও অর্থনৈতিক সামগ্রিকতায় ভরা এই মহোৎসবের গভীরে ধর্মীয় ভাবনাটি যেমনই থাক কিংবা ইতিহাসের সেই সময়ে পৌঁছলে  যতই দ্বিধাগ্রস্থতা সামনে আসুক না কেন, আমাদের আধুনিক যান্ত্রিক জীবনে এই অনুষ্ঠানের উপর ভরসা করে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের মনে যে উৎসবময় ভাবনার উদয় হয় সেই আর্থ-সামাজিক ভাবধারাকে সমৃদ্ধ করার মধ্যেই আমার এই আলেখ‍্যটির স্বার্থকতাটি রয়ে গেছে, তাই এই রচনা পড়ে পাঠকের মনে সময় ও কালের   বৈচিত্র‍্যে মেশা এই প্রকৃতি ও সাংস্কৃতির সমন্বয়ে বৃহৎ ধর্মীয় তথা সামাজিক অনুষ্ঠানটি যদি পর্যালোচিত হয়, তাহলেই আমার এ লেখা স্বার্থক হবে!




সূত্র:

এই আলেখ‍্যটির অনেক তথ‍্য ই রাধারমণ রায়ের 'কলকাতা বিচিত্রা' বইয়ে সার্বজনীন দুর্গাপুজো নিয়ে লেখা থেকে সংগ্রহ করা ।


----------------------------------------------------------------


মতামত জানান 

ankurishapatrika@gmail.com   


 ----------------------------------------------------------------    



রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২০

"প্রকৃতির রঙ্গমঞ্চে শিকার ও শিকারীর সমান শক্তির দ্বৈরথ"(নিবন্ধ) -শঙ্কর তালুকদার

বিজ্ঞান বিষয়ক 

নিবন্ধ

-শঙ্কর তালুকদার 



 




"প্রকৃতির রঙ্গমঞ্চে শিকার ও শিকারীর সমান শক্তির দ্বৈরথ"  

-শঙ্কর তালুকদার 



আশ্চর্য প্রাকৃতিক খেলায় শিকার ও শিকারীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াইএর অদ্ভুত  প্রাকৃতিক ব‍্যবস্থা।  তা নিয়ে এই নিবন্ধ— 




 সুতা পতঙ্গের সূক্ষ্ম দেহগঠনেই যেন বিজয়ের পাণ্ডুলিপি  খোদাই চিত্রে প্রকৃতির রূপ বৈচিত্র‍্য।মাকড়সাভুক সুতা পতঙ্গের (thread bug) ধ্রুপদী বাহ্যিক আকারের অতি বিবর্ধিত চিত্রে, ইউগুবিনাস গনের এই পোকাটি  আসলে হেমিপটেরা অর্ডারের, রেডুভিডি পরিবারের অধীনে, এমেসিনি উপ পরিবারে এবং এমেসিনি  ট্রাইবের অন্তর্গত বিশেষ পতঙ্গ যেটিকে আমাদের বাড়িতেই ( ধীরেন্দ্র স্নেহালয়, শ‍্যামনগর, উত্তর ২৪ প‍রগনায়    অক্ষাংশ: ২২° ৪৯' ৫৯.৯৯" উওর এবং দ্রাঘিমাংশ: ৮৮° ২২' ০.০১" পূর্ব )জালের তাবুতে তা‍ঁতিবউ মাকড়সা সিরটফোরা সিক্যাট্রোসার (Cyrtophora cicatrossa)জাল থেকে পাওয়া গেছে।


মজার বিষয় এই যে  মাকড়সার জালটিতে এই সুতা বাগ পতঙ্গটি সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত করার মতো কৌশলে, মাকড়সার জালে আটকানো শিকারের মতো ভঙ্গীমায় জালের মালিক তাঁতি বউ মাকড়সাকে  শিকারের জন‍্য আকৃষ্ট করার অভিনয় করতে থাকে এবং শেষপর্যন্ত নিজ জালে জড়িয়ে জাল মালিক মাকড়সাকে গ্রেপ্তার করে তারপরে সেটিকেই খাদ‍্য হিসেবে গ্রহণ করে।


এই জাল-শিকারী এবং জাল নির্মানকারীর মধ্যে নিখুঁত মিথস্ক্রিয়া তাদের আশ্চর্য রকমের শিকার এবং শিকারী আচরণ প্রদর্শন করে কারণ উভয়েই সূক্ষ্ম কৌশল , দেহক্রিয়া ও অভীষ্টে পৌছোনোর সামগ্রিক শর্তাধীন সুবিধাগুলি অনুসারে এখানে শিকার এবং শিকারীর ভূমিকা পালন করে।

সফল সুক্ষ্ম কার্যসিদ্ধির লক্ষ‍্যে এখানে শিকারী হিসেবে সূতা পতঙ্গটি অতি সংবেদনশীলতায় তাঁর শুঁঙ্গ বা অ্যান্টেনার সাহাজ‍্যে মাকড়সার শিকারের ফাঁদ জালটিতে মাকড়সার সঠিক অবস্থান সনাক্ত করতে ব্যবহার করে, এই রূপ একাগ্রতায় অল্প অসাবধানে থাকা হোস্টকেই ফাঁদে ফেলে আটকে  তাঁর শিকার হিসাবে ধরে ফেলে ।  শুঁঙ্গের এইরূপ সংবেদনশীলতায় জালের মধ‍্যে বিশেষ তরঙ্গ সৃষ্টি করে হোস্টকে বিভ্রান্ত করে এবং মাকড়সাটির নিজের সিল্ক জালে জড়িয়েই (ওয়েব তৈরির জন্য মাকড়সার দ্বারা উৎপাদিত সিল্ক) দিন এবং রাতের  উভয়ই সময়েই এইরূপ জীবের ক্রীড়া প্রদর্শনী বা ইকো-স্পোর্টস সম্পন্ন করে। 

অপরদিকে অনেক ক্ষেত্রেই জাল মালিক মাকড়সার কার্যকরী সংবেদনশীলতা, একাগ্রতা ও অভীষ্ট লক্ষপূরণের প্রচেষ্টার কারণে ছবিটি পরিবর্তিত হয়ে মাকড়সাটিই সুতা পতঙ্গটির উপরে সফল শিকারী হয়ে উঠতে পারে এবং প্রকৃতির এই আশ্চর্য নিয়মে শিকার ও শিকারীর অবস্থান অদল - বদল হয়ে ছবিটি সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে !




ছবি ১.

 তাঁতি বউ মাকড়সা






প্রানীজগতের অমেরুদন্ডী সন্ধিপদ পর্বের, এরানি বর্গের, এরাকনিডা শ্রেনীর, এরানিডি পরিবারভুক্ত সিরটোফোরা গনের সিকাট্রোসা প্রজাতীর প্রানী! 

এরা তাবুর আকারের সূক্ষ্ম জাল নির্মান করে এবং সেই জালের অভ‍্যন্তরে চূড়ায় কাছাকাছি উর্ধ্বমুখে ঝুলতে থাকে, যেখানে এই তাবুর মেঝে অঞ্চলে একটি চাদরের মত সূক্ষ্ম বুনোটের জালকে ট্রাপিজের জালের মত টাঙিয়ে রাখে।

এই তাবুতে ঢোকার সমস্ত পথে আঠালো সিল্কের সুতোতে এমন ভাবে ফাঁদ পাতা থাকে যে সাধারণত কোন শিকারী পোকা-মাকড়ের ঐ তাবু-ঘরে ঢোকার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।  আর একবার যদি কৌশলে কোন ছোট প্রাণী এই তাবু ঘরে ঢুকে ও পড়ে, তাহলে সচেতন মাকড়সাটি 

তৎক্ষনাৎ  তার সন্ধান পেয়ে তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে  পড়ে বিষাক্ত কামড়ে শিকারকে নিস্তেজ করে ফেলে ও চোষক উপাঙ্গের সাহায্যে দেহরস চুষে নিয়ে ভোজ সম্পন্ন  করে !





ছবি ২

সুতা পতঙ্গ 







এটি হল সুতা পতঙ্গ; অমেরুদন্ডী প্রাণীদের মধ‍্যে এরা সন্ধিপদ পর্বের, হেমিপটেরা বর্গের, রেডুভিডি পরিবারের অধীনে, এমেসিনি উপ-পরিবারের, ইউগুবিনাস গনের অন্তর্গত একটি  সুতোর মত সূক্ষ্ম  আকারে, জিরাফের মত সরু গলার বিচিত্র একটি আকর্ষণীয় প্রাণী ! যারা প্রধানত যেখানে সেখানে জাল বানানো তাঁতি বউ মাকড়সাদের জালে আটকে পরা পতঙ্গ ধরে খায় ! নিজেদেরকে রক্ষা করতে এদের দেহের সূক্ষ্ম, অতি সংবেদনশীল পুঞ্জাক্ষী ও শুঁঙ্গের সাহায‍্য জাল মালিক মাকড়সাকেও আত্মরক্ষার সময়ে শিকারে পরিনত করতে পারে, তথা তাঁতিবউ মাকড়সার জালের শৃঙ্গের উপরের দিকে ঝুলন্ত সিল্কের প‍্যাকেটে থাকা ডিমের থলীকেও খাদ‍্য হিসেবে গ্রহন করে থাকে !



ছবি -৩

সুতা বাগ পতঙ্গ 





সুতা বাগ পতঙ্গ উড়তে উড়তে কখনো শুকনো গাছের ডালের উপর বসে পরে ও শিকারের সংস্থান মিটিয়ে থাকে, যখন লম্বা হাত ও শুঁঙ্গ উপাঙ্গের সাহায‍্যে বিশ্রামকারী কোন পতঙ্গ বা মাকড়সা ধ'রে তাঁর খাদ‍্যের চাহিদা মেটায়।তাছাড়াও জালের টাঙানো সিল্কের সুতার সূত্র ধরে পর্যবেক্ষণ ও সামগ্রিক আন্দাজের পরে বিশেষ কৌশলে মাকড়সার জালে প্রবেশ করে !




ছবি- ৪

তাঁতি বউ মাকড়সা  






এই নিবন্ধের দুই নায়ক-নায়িকা এবং তাদের সমান শক্তির দ্বৈরথে তাঁতি বউ মাকড়সার সিল্ক অস্ত্র ও তার সূক্ষ্ম জালের চক্রব‍্যুহ এবং বিষের রাসায়নিক অস্ত্রের শক্তির কাছে এলিয়ান বা বহিরাগত সুতা বাগ পতঙ্গের সূক্ষ্ম দেহগঠনের জটিল জৈব কারিগরী কৌশল এবং শিকার ক্ষেত্রের বিস্তার , জল স্থল ও আকাশে বিচরণ ক্ষমতার অভিজ্ঞতার যে লড়াইয়ের গল্প এই নিবন্ধে উপস্থাপন করতে চাইছি, তার মধ‍্যে সিরটোফোরা সিকাট্রোসা মাকড়ের বিচিত্র দেহ বর্ণ ও তার ঔজ্জ্বল‍্যের বিবর্ধিত চিত্রে যে,  সাবধানবানী রূপ অস্ত্রের আকার নিয়েছে সেটিকেই এখানে দেখাতে চেয়েছি !





ছবি- ৫

দীর্ঘদেহী সুতা বাগ 





এই ছবিতেই যেন তাঁতি বউ  মাকড়সার বাড়ির ভিতরে তাবুর নীচের সমতলে যে সার্কাসের ট্রাপিজের টাঙানো জালের  চাদরের উপর WWF-এর অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছে !

 শক্তি দেখানোর দ্বৈরথে দীর্ঘদেহী সুতা বাগ পতঙ্গ ও সুন্দরী অভিজাত এবং চক্রব‍্যূহ রচনাকারী তাঁতি বউ মাকড়ের সেই ভয়ঙ্কর লড়াইয়ের পর্যবেক্ষণ কালে আমার Sony handicamএর জুম লেন্সে যে ভাবে ধরা পরেছে তারই স্থির ছবি এখানে পরিবেশিত হল।   



ছবি- ৬

বিজয়ী সুতা বাগ পতঙ্গ  






WWF-এর ট্রাপিজে তুমুল যুদ্ধের পর বিজয়ী সুতা বাগ পতঙ্গ, ইউগুবিনাসের পেট ভরে মাকড়-স‍্যুপ ভক্ষণ করার পর ঐ মাকড়সার (তাঁতি বউ মাকড়সা) নিজের তৈরী সিল্কে জড়ানো দেহাবশেষটি বুকের কাছে রেখে সদর্পে জয়ের উচ্ছাস ও ক্ষুধা নিবৃত্তির তৃপ্তির জানান দিচ্ছে যেন !




ছবি- ৭

কারিগরি সুতা বাগ পতঙ্গ   




সুতা বাগ পতঙ্গের মাথা অংশের বিভিন্ন উপাঙ্গ সহ দেহ গঠনের সূক্ষ্ম বৈচিত্র‍্যগুলি অতি উচ্চ বিবর্ধক ডিজিটাল অণুবীক্ষণ  যন্ত্রের পর্যবেক্ষণে প্রকৃতির এই বিশাল কর্ম যজ্ঞের স্বার্থক এবং কল্পনার সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম কারিগরী শিল্পের অপূর্ব কর্মশৈলী !






ছবি- ৮

সুতা বাগ পতঙ্গ 





এই নিবন্ধের চিত্র বর্ণনার মধ‍্যে এই ছবিটিতে  সুতা বাগ পতঙ্গ, ইউগুবিনাসের আশ্চর্য  অতি সংবেদনশীল পুঞ্জাক্ষীর অতি বিবর্ধিত আণুবীক্ষণিক  চিত্র দেওয়া হল!