লেবেল

হেমন্তের সকাল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
হেমন্তের সকাল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২২

শুধু কবিতায়...হেমন্তের সকাল-৫০।। অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




হেমন্তের সকাল-৫০

অরিন্দম চট্টোপাধ্যায় 



হেমন্তের কবিতা


১.

বৃষ্টির মতো ঝরে ছাতিম ফুল

হিমের সন্ধ্যে মিশে হয় এক আঘ্রাণ

কুয়াশা চাদর বিছিয়ে যায় দিগন্তে

মুথা ঘাসের ওপর জমে থাকে

ছোট্ট ছোট্ট শিশিরকণা...

রৌদ্ররঙ কেমন করে বদল হয়ে যায়

 ভাবতে ভাবতে পাড়া ময় 

নতুন ধানের সুবাস ছড়িয়ে 

এক ভাললাগা দুপুর তৈরি করে দেয়

আবার এই ভাবেই বদলে যায়

দুপুর - সন্ধ্যারাত, সন্ধ্যারাত - রাত্রি

চারিদিক জুড়ে তখন একাকীত্ব

যেন হয়ে যায় এক নিস্তব্ধ পৃথিবী... 




২.

ভাঙা প্রাচীরের ওপর হেমন্ত রোদ

ঝরা পাতার গান শুনিয়েছিলে

এসে দাঁড়িয়েছিল অনেক না- বলা কথা

ঠোঁটের ওপর তরঙ্গায়িত  সমুদ্র ঢেউ 

ভাঙতে ভাঙতে কী ভাবে কোথায় হারালো

বোধহয় চলে গেলে আলোকবর্ষ ছাড়িয়ে

দূরে কোথায়, অন্য কোন খানে...

এখনও হৃদয় জুড়ে এক অন্বেষণে 

পৃথিবীর সমস্ত কোণ খুঁজে চলেছি

যদি কোথাও দেখা পাওয়া যায়...


 এখনও ভাঙা প্রাচীরের ওপর হেমন্ত রোদ











মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২১

শুধু কবিতায়... হেমন্তের সকাল-৫১ ।। নন্দিনী মান্না।। Ankurisha ।। E.Magazine ।।Bengali poem in literature ।।


শুধু কবিতায়...

হেমন্তের সকাল

নন্দিনী মান্না 









হেমন্তের সকাল-৫১

 নন্দিনী মান্না


১.

বিন্দু বিন্দু জমে শিশির কণা


 মাটির সবুজ ঘাসে 

চিক চিক টলমল খিলখিল 

হেমন্তের সকালে হাসে।

নব প্রভাতের হিমেল খুশি 

মিষ্টি মধুর রসে 

কিচিরমিচির পাখির রবে 

কতো আবেগে উচ্ছ্বাসে। 

খেজুর রসের মিষ্টি ঘ্রাণে 

মাতাল মন প্রাণ 

চাষীরা আনন্দে চলে মাঠে 

কাটতে সোনালী ধান। 

ধান এসে গোলা ভরে, শুরু

নতুন চালের নবান্ন 

মিঠে রোদে মিঠে আয়েশ 

হেমন্তিকা রূপে অনন্য।




২.

হেমন্তের পরশে 


কুয়াশার চাদরে ঢাকে 

প্রকৃতির সুন্দরন 

হালকা শীতের আমেজে 

শরীরে জাগায় শিহরণ। 

নব সুবাসে ফুলের প্রস্ফুটন 

নানান ফুলে ভরে ওঠে কানন। 

হেমন্তের সকাল বয়ে আনে

 চিরায়ত শীতের আমেজ 

হিমঝুরির পাগল করা ঘ্রাণ 

চতুর্থ ঋতু বালিকার মুগ্ধতায় 

প্রকৃতির অপরূপ ইমেজ।










সোমবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২১

শুধু কবিতায়... হেমন্তের সকাল-৫০।। ত্রিপর্ণা ঘোষ।।Ankurisha ।।E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 





হেমন্তের সকাল-৫০

ত্রিপর্ণা ঘোষ



১.

প্রভাতী সুর


সকালের প্রথম সূর্যের আলোয় আলোকিত হয় ঘাসের ওপর জমে থাকা শিশিরবিন্দু।কুয়াশা আর সূর্যালোকের ব্যস্তানুপাতিক সম্পর্কের গাড়ত্ব বাড়ে।


ভেজা ঘাসের ওপর এক পা দু পা ফেলতে ফেলতে স্মৃতিচারণ হয় স্কুল জীবনের।শীতের সকালে সূর্যের আলো ওঠার আগে পিঠে ব্যাগ নিয়ে টিউশন যাবার তাড়া ছিল বেশি।


ভোরের আজান শেষ হবার পর দুর গ্রামের বাড়ি থেকে আসে ধান ঝাড়ার আওয়াজ।সোনালী ধান আর কুয়াশার মিশ্রিত গন্ধে কি যেন একটা নেশা লুকিয়ে থাকে।চা দোকান থেকে ধোঁয়ারা অবিশ্রাম মিশে যায় কুয়াশার সাথে।



২.

মনখারাপি হেমন্ত


মৃদু উত্তুরে বাতাস, সোনালী ধানের মাঠের বুকে গা এলিয়ে পড়ে থাকা আর দুরের মাঠের ধোঁয়াশা বাতাসকে কেমন যেন মনখারাপি করে তোলে।।


হাজার কোলাহল মাঝেও নিস্তব্ধতা কেমন যেন জেগে থাকে একাকীত্বকে জাগিয়ে তুলতে।মনখারাপি মেঘেরা এলোমেলোভাবে ছুটে যায় উত্তর থেকে দক্ষিণে।


পাহাড়ের কোলে বেড়ে ওঠা জীর্ণ গাছ তার শেষ বাকলটিও ঝরিয়ে দেয় সন্ধ্যে নামার আগে।শূন্য পাহাড়ের প্রাণ ফিরে আসে গোধূলি শেষে চন্দ্রপানে।








১লা ডিসেম্বর  থেকে শুরু হবে প্রতিদিন বিভাগে অঙ্কুরীশা-র  পাতায়  'পৌষ এল ঘরে' বিষয়ক কবিতা। আপনিও আপনার মৌলিক ও অপ্রকাশিত লেখাটি আজই পাঠিয়েদিন। 

মেল- ankurishapatrika@gmail.com



রবিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২১

শুধু কবিতায়...হেমন্তের সকাল -৪৯।। বনশ্রী রায় দাস।। Ankurisha ।। E.Magazine ।।Bengali poem in literature ।।

 




হেমন্তের সকাল -৪৯

বনশ্রী রায় দাস



দূরত্ববেলার কথা 

                                
আকাশ মাটি মাঝ বরাবর সবুজ হাইফেন 
চিপসে গিয়েছে চড়াইঘর ছাতারে-ছাতা,
মৌটুসি পায়নি ঠোঁটের-মধু, খড়কুটো
অবদমিত ঝড়ের দিন,বোঝে না নূপুরছন্দ ।
নদী ও বিদ্যুতের একতরফা খেয়ালিপনা,
কোথায় পালাবে জলপাড়া পেরিয়ে ?
সিঁড়ির প্রতিটি ধাপে কেউটের ছোবল
দূরত্বডাঙা ফোঁপায় ঢেউফনা তুলে ।

যুগ যুগ ধরে কঠিন শীত আস্কারা 
বুঝেছি আমার শীত ও বসন্তে ভীষণ ভাব
পার্থক্য শুধু একটি বিশেষ বাতাসের।

           



                      

২.
কসাই 
                    
                     
       

তখন ছোট্টটি, মনের সুখে নরম ঘাসে লুটোপুটি 
টানাটানা চোখে নীহারিকা খেলা 
ত্বকের তৈলাক্ত থেকে উঁকি দেয় ফিদাহুসেন 
শরীরময় মৃগনাভিফুলের সুগন্ধ 
বন থেকে তুলে নিয়ে এলে তাকে, মায়া-হরিণী 
চুম্বনে চুম্বনে রামধনু রাখলে চোখে ঠোঁটে 
আদরে আদরে লজ্জা পেয়ে নেমে আসে চাঁদরেণু তারাদের হিরণ্ময় স্রোত,  
কিশোরীকাল পেরিয়ে ঋতু ডেকেছিল যেদিন 
নিজস্ব নদীতে কানায় কানায় ।   

যাকে প্রেমের নৌকো দিলে তাকেই হত্যা করতে 
উদ্যত হলো তোমার ছুরিকা   
চোখ রক্তজবা, হিংস্র হয়ে উঠলো দাঁত,নখ
তার রক্ত মাংস হাড় চিবিয়ে খাওয়ার জন্য 

ঠিক বিশ্বস্ত প্রেমিকার অ-বিশ্বস্ত প্রেমিকের মতো । 












শুধু কবিতায়... হেমন্তের সকাল -৪৮।। গৌতম বাড়ই।।Ankurisha ।। E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 



হেমন্তের সকাল -৪৮

গৌতম বাড়ই



১.

হেমন্তের আগুনে


হেমন্তের শুষ্ক সকাল
লাল নীল হলুদের সিল্কের সংসারে
ভেসে গেছে শেষ বাঁশিটুকু বিগত বর্ষায়
দিনক্ষণ গুনে গুনে বলে দিতে পারি
এখনও
একুশ বছর আগে শেষতম বান্ধবী
লাস্টট্রেন ধরে চলে গিয়েছে নিজের বিছানায়

তারপর
হেমন্তের সকালে যখন সব কেমন পাখি হয়ে আসে
পাতার খড়-কুটোয়
একা আমি অরণ্য জ্বালি নিদারুণ বিষণ্ণতায়।





 ২
এই হেমন্তে না বলো না


ঘুম পেয়েছে আজীবন
ছল করেছ মধুবন সারাজীবন কাটানোক্ষণ
এবারে ঘুরে দেখো আবিষ্ট মন
এই হেমন্তে না বলো না

হাতের বর্ণালী ছড়িয়ে দিলে হেমন্তের
তারায় ভরা রাতে
আ মন গড়চুমুকে দুলছে মন
শরত- শীতের মাঝখানে পাতায় পাতার ছাওনি
এই হেমন্তে না বলো না।















শনিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২১

শুধু কবিতায়... হেমন্তের সকাল -৪৭।। সৌম্য ঘোষ।।Ankurisha ।। E.Magazine ।। Bengali poem in literature

 




হেমন্তের সকাল -৪৭

সৌম্য ঘোষ




১.

সবুজ

 

সবুজের কোলে মাথা রেখে দেখি
সবুজ শুধু সবুজ নেই
- হয়েছে আরও গাঢ়

কত দানব রয়েছে ঘিরে
গোগ্রাসে গিলতে আসে
মাথাগুলো নীচু
কত পা ডিঙিয়ে তবে
একটু ঘুমোতে এলুম

এক শ্বাসে
গোটা পৃথিবী যেন আমার বুকে
পাখা দুলিয়ে হওয়া করে
কত সবুজ পাখি

মাটি ফুঁড়ে উঠছে রোজ
কেঁচো, শামুকের দল
পাতাগুলো খেয়ে যাচ্ছে
শুঁয়োপোকার দাঁত
সব কেমন ফ্যাকাসে হলুদ
- আমি, তুমি, ওরা

কোথা থেকে ধুয়ে এসেছে আজ
সবুজ আর সবুজ




২.

চিহ্ন


 

যে পথ দিয়ে একদিন হেঁটে এসেছি
আজ বুনো ঘাসে ঢাকা
নদীর চরে কাদা ডিঙোনো পথে
পলির স্তর
মাঝে কত ঝড়
শুকনো পাতার স্তূপ
স্তরে স্তরে চাপা

বারেবারে ফিরে গেছি
খুঁজেছি ফেলে আসা চিহ্ন
থমকে গেছে পা
মেলেনি কিছুই

কত লোকে দলে গেছে
সেসব আজ মলিন
তবু ভেজা মাটি, টলটলে শিশির
বড় চেনা
মনে হয় আরেকটু দাঁড়াই

পা মচকালো তার শূন্য উঠোনে
যেখানে একদিন
হুমড়ি খেয়ে পড়েছি
সেদিনও কেউ ছিল না










শুক্রবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২১

শুধু কবিতায়... হেমন্তের সকাল -৪৬।। মিতা নাগ ভট্টাচার্য।। Ankurisha ।।E.Magazine ।।Bengali poem in literature ।।

 



হেমন্তের সকাল -৪৬

মিতা নাগ ভট্টাচার্য 



হৈমন্তী অপরাহ্ন


অনেকটা পথ হেঁটে হৈমন্তী অপরাহ্ন,
 কবেকার  রাগ, সেই দুর্দান্ত গ্রীষ্ম।         
 সব অভিমান,ছেলেমানুষী যত-
যে বন্ধু দেয়নি আলুকাবলি-আড়ি
তার সঙ্গে ফোনতরঙ্গে মনকথা বলি।
 কবাডি খেলতে না নিয়ে মজাদুষ্টুমি,
তার জন্য মনপাথারে উথালপাথালি,
হৈমন্তী অলস মেঘলা দুপুর
স্মৃতি নদীখানি জলভারে টইটুম্বুর।
সে জলরেখায় নেইকো স্বাদ নোনা
কেবলই ভালোবাসা আদরে বোনা।





২.
প্রথমপ্রেম:হেমন্ত সকাল

হৈমন্তী ধানের সুুগন্ধ বাতাসে—
প্রথমপ্রেম,সকালের স্থলপদ্মে পবিত্র  কুয়াশার আঁকিবুকি,
রক্তচক্ষু মহামারী,প্রবল তান্ডবী ঝরপাখি,অশান্তির  জলচ্ছ্বাস
ধুয়ে যায়,মুছে যায়,কত নির্মাণ-
প্রথমপ্রেম তোমার স্নিগ্ধতা চিরঅম্লান
হৈমন্তী সকালে রবীন্দ্রসঙ্গীতে চলমান।










বৃহস্পতিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২১

শুধু কবিতায়... হেমন্তের সকাল -৪৫।। সুজিত রেজ।। Ankurisha ।। E.Magazine ।।Bengali poem in literature ।।

 



হেমন্তের সকাল -৪৫

সুজিত রেজ



১.

ঋণ


ডাকলেও যাব, না-ডাকলেও যাব,

যাওয়ার জন্যই তো আসা

                 এত ভালোবাসা।


শেষ গন্তব্য তো সেই উত্তর গোলার্ধে,

তার মাঝে কিছু দিন

            পাহাড় প্রমাণ ঋণ।


আসা-যাওয়ার পথের ধারে           

             গান গেয়ে কেটে গেল দিন





২.

অপেক্ষা 


কার অপেক্ষায় কেন বসে আছি 

কেন এই কানামাছি খেলা এবেলা ওবেলা 

মুহূর্ত গলে যায় 

মনে হয় এক পলকপুরাণ

অজান্তেই কে যেন লেখে নখ দিয়ে

এলইডি পোকা জেগে থাকে              

       ভলবো বাসের মতো এই শরীরে

জানালা খুলে দিলেই ফিচেল হাওয়া 

বয়ে নিয়ে আসে মুড়ি ভাজার গন্ধ


জানি,চলে গেলে পাব না কিছুই

ভুলে গেলেও মনে পড়বে সবই।















বুধবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২১

শুধু কবিতায়...হেমন্তের সকাল -৪৪।। মালা ঘোষ মিত্র।।Ankurisha ।।E.magazine ।।Bengali poem in literature ।।

 



হেমন্তের সকাল -৪৪

মালা ঘোষ মিত্র



১.

উৎসব  


হেমন্তের সন্ধ্যায় হিম পড়ে বাইরে
ছাতিম ফুলের গন্ধে মন উতলা
আকাশপ্রদীপ জ্বেলে এক প্রার্থনা
সবার ভালো হোক,
আশ্চর্য সুন্দর করে অন্ধকার
নিস্তব্ধ প্রহরে থাকে গভীর বোধ।
ছড়িয়ে পড়ে অলীক গন্ধ
গাছ ভেঙে পড়ে দিগন্তের হেমন্তে
হিমেল হাওয়ায় আত্মবিস্মৃতি ঘটে।
বিষন্ন সুখ নিয়ে সবুজ পাতারা থাকে।
নিজের ঠিকানা কখন হারাই-----
কুয়াশামাখা ভোরে
সোনালী ধান মাথা দোলায়,
প্রকৃতি কোলে গর্ভবতী মাঠ
নবান্ন উৎসবের সম্ভবনা থাকে,
শান্তি আসুক পৃথিবী জুড়ে।








২.
সৌরভ  

ভোরের মৃদু শিহরিত পরশ
দিলাম তোমাকে—
পাখির কাকলি মুখরিত—
পাহাড় অতল গহীন,
মিষ্টি সুবাসের মাদকতা,
একাকার মিলেমিশে
বাতাস এখন পাগল করে।
হেমন্তের সন্ধ্যায় সপ্তপর্না
শিশির ভেজা মায়ার আসর
কালপুরুষ দেখি আকাশপ্রদীপ জ্বেলে।
আলপথ  ধরে হেঁটে যায়
জ্যোৎস্না নেমে আসে শিশির ভেজা
ধানের উপর, খেজুর বাগানে
জোনাকিরা ছুটে বেড়ায়।
নলেন গুড়ের পায়েস, পিঠের অমরত্ব
হেমন্তের সকালে  প্রকৃতি রূপবতী।












শুধু কবিতায়... হেমন্তের সকাল-৪৩।। সুনীতা ব‍্যানার্জী।।Ankurisha ।। E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 



হেমন্তের সকাল-৪৩

সুনীতা ব‍্যানার্জী



এই হেমন্তে 


এই হেমন্তে তোমার সঙ্গে শিশিরে শিশিরে পা ভেজাইনি ঘাসে!


এই হেমন্তে,কুলকুল জল নুপুরে হাত ছোঁয়াইনি সূর্যাস্তে এসে,

কিংবা এই গোধূলিতে নির্জন সৈকতে 

কাঁধে মাথা রেখে বসিনি 

বলে ভালোবেসে

রাগ করলে?

কি করবো বলো

তোমরাই না বল অতিথি দেব ভব!


বিকেলে চা আর ওমলেট বানাতে গিয়ে 

চোখে পড়ল কমলা রঙে বল পশ্চিম আকাশে ঝুলে,

আর কাঁচের গ্লাসে জল রঙে ডুবে  গুলে যায় নুন ছাড়া ও লঙ্কা পিঁয়াজের সাথে।


তুমি তখন বালি ঢেউ ভেঙে ভেঙে স্বর্নাভ আলোয়, শীতল বাতাসে ভরিয়ে নিচ্ছ মন,

হয়তো বা মনের কোথাও তখন আমি কিংবা আমার স্মৃতি 

নাকি শুধুই হৈমন্তিকার একা কি আলোড়ন!

কি জানি!








মঙ্গলবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২১

শুধু কবিতায়... হেমন্তের সকাল ৪২।। শান্তা চক্রবর্তী।।Ankurisha ।।E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 



হেমন্তের সকাল ৪২

শান্তা চক্রবর্তী




 পাখিজন্ম

.

যদি দু 'হাত পেতে দাঁড়াতে

ওষ্ঠে ঝ'রে পড়ত জুঁই -মল্লিকা

যদি বলতে, বহুকাল তৃষিত বৃক্ষ-

সজল মেঘে সমুদ্র আনতাম ঊষর মরুতে 


যদি বলতে, অগ্নিশ্বরে পুড়ছে শরীর

জলছোপ আঁচল শুষে নিত স্ন তাপ

যদি প্রথম রাখতে মুখ পায়ের পাতায়,

প্রকৃত নারী চিনতে -

ভরা পোয়াতির মতো নোনাগাছে বসেছে ময়না


এয়োতির চিহ্ন নদীজলে যায়  ভেসে...

পাখি, মুখে খড়কুটো, বাসা তবু বাঁধা হল না!




২.

একলা গাছ কত ছায়া দেবে

ঊষর মরু তৃষিত জীবন,

আকাশের জলক্ণা আছে প্রবাসে

চাতকমন কেঁদে কেঁদে ঘুমিয়েছে

পাখি,  ডিম ভেঙে গেল,

বাসা বাঁধার খড়কুটো  জুটল না!









সোমবার, ২২ নভেম্বর, ২০২১

শুধু কবিতায়... হেমন্তের সকাল -৪১ ।। জয়শ্রী সরকার।।Ankurisha ।। E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 





হেমন্তের সকাল -৪১

জয়শ্রী সরকার


১.

এসো, হেমন্ত-ঘ্রাণ মাখি



হৈমন্তিকার হাস্যমুখে মধুর প্রকৃতি আজ
হিমেল হাওয়ার মিষ্টি সুরে সকালের নব সাজ।
ওই শোনা যায় ভোরের আজান, শুনছি পাখির গানও
দূরের ঝিলে গাঙ্ শালিখের মিষ্টি কলতানও!

নয় বেশি শীত, নয় তো উষ্ণ, মিষ্টি রোদের ছোঁয়া
হৃদয় বলে এমন পরশ পবিত্রতায় ধোয়া ।
সোনার ধানে মাঠ ভরে যায় যেন সোনার তরী
চতুর্দিকে আনন্দগান নবান্নসুখ ভ'রি!

নিশির শিশির মেখে গায়ে হেমন্তিকা এসে
নরম রোদের মিষ্টি ছোঁয়ায় থাকবে ভালোবেসে।
হেমন্তিকার রূপের ছটা ঠিকরে পড়ে ঠোঁটে
হিমের কুঁড়ি লাগলে গায়ে আনন্দফুল ফোটে!

নিয়ম মেনে শরৎ উধাও হেমন্তকে ডেকে
তবু শরৎ চললো যেন শিউলি সুবাস রেখে।
হৈমন্তী রূপসি বাংলা সত্যিই মনোলোভা 
সকাল-আকাশ রোদে ঝলমল মনোরম এক শোভা!



২.
আর ক'টা দিন থাকতে যদি

হেমন্ত-গান শুনবো বলে
সকাল থেকে বসে
তবু তুমি পড়ার বোঝা
চাপাও কষে কষে।

পড়ার পরে শুধুই পড়া
থাকি বড্ড দুখে
হেমন্ত-গান শোনার পরে
প্রাণটা ভরে সুখে!

হেমন্ত-দিন আসবে বলে
অপেক্ষাতে থাকি
সোনার ফসল না দেখলে যে
আনন্দটাই ফাঁকি!

আর কটা দিন থাকতে যদি
হেমন্তকাল তুমি,
বসুন্ধরা স্নিগ্ধ হ'তো
সুখের পরশ চুমি!

তোমার আসা আগন্তুকের
ক্ষণিকের অতিথি
খুসবু ঢেলেই সেই চলে যাও
নেই কোনো ঠিক তিথি!










রবিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২১

শুধু কবিতায়...হেমন্তের সকাল -৪০।। রমলা মুখার্জী।। Ankurisha ।। E.Magazine ।।Bengali poem in literature ।।





হেমন্তের সকাল -৪০

   রমলা মুখার্জী




১.

হেমন্ত-প্রাতে 



দীপ্ত শান্ত সোনা হেমন্ত
    আসে শরতের পরে-
 নূতন ধান্য, শুভ নবান্ন
       বাংলার ঘরে ঘরে।

  গ্রাম‍্য পথে হেমন্ত-প্রাতে
       নতুন ধানের গন্ধ ,
  খেজুর রসের মিষ্টি স্বাদে
       আহা কি আনন্দ!

সবুজে ভরা প্রান্তরে মাঠে
   শিশিরে ভিজবো সকালে-
নরম শীতের মাখবো পরশ
     সোহাগ লাগাবো দুগালে।

মিঠেল সকাল মৃদু হাওয়া 
   নাতিশীতোষ্ণ হেমন্ত-
আকাশ মেদুর বাতাস মধুর 
    যেন অন‍্য বসন্ত।

যেও না তুমি, থেকে যাও
      ক্ষণিকা হেমন্তিকা-
সারা বছর চেতন-চেরাগে
   জ্বালাও দীপের শিখা।






২.
অভিমানী হেমন্তিকা

হেমন্তিকা, তুমি কি রাগ করেছো?
কাছে এসো মিষ্টি মেয়ে।
আমার তপ্ত দেহে ছড়িয়ে দাও 
একমুঠো প্রভাতের হিম।
কুয়াশার চাদরে ঢাকো আমায়।
তোমার আদরে সব ক্লান্তি মুছে যাক, 
আমার সব শূন্যতা যাক ভরে-
সব তাপ শুষে নিক তোমার সকাল।
ঐ শোনো নিরন্ন ঘর ভৈরবীতে
 শুধু তোমারই আগমনী গাইছে।











শুধু কবিতায়... হেমন্তের সকাল -৩৯।। দীনেশ সরকার।।Ankurisha ।। E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 




হেমন্তের সকাল -৩৯

দীনেশ সরকার



হেমন্ত আসে হৃদয় ভাসে


হিমেল হাওয়ার পরশ পেতেই
শিউলির মুখটি ভার
চাইলো ছুটি বেশ কিছু মাস
ফুটবে না সে আর।
কাশের বনে দেয় না দোলা
মাতাল হাওয়া এসে
শাপলা-কমল ভাবছে এবার
যাবে ঘুমের দেশে।

গুটি গুটি পা ফেলে ওই
হেমন্ত যে আসে
শিশিরধোয়া সকাল হলেই
খুশিতে মন ভাসে।
কনক বরণ পাকা ধানে
মাঠ ভরেছে আজ
বসুন্ধরার অঙ্গে দেখি
কি অপরূপ সাজ!

লাগছে দোলা চাষির মনে
ধানের খেতে এসে
কাটবে সে ধান, ভরবে গোলা
আনন্দে যায় ভেসে।
সারা বছর ছেলে-মেয়ে
দুধে-ভাতে রবে
মন-খুশিতে মিলবো সবাই
নবান্ন উৎসবে।












শনিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২১

শুধু কবিতায়... হেমন্তের সকাল -৩৮।। হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়।। Ankurisha ।। E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 




হেমন্তের সকাল -৩৮

হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়




এ বি ডি


ঘাড় ধরে কাউকে কি ভালোবাসা শেখানো যায়?

মুক্তিফল বলে কোনও শব্দ অভিধানে আছে?নদীতে নদীতে বইতে থাকা জলের বদলে আগুন

এও কখনো হয়?

বাক্সভর্তি পারিবারিক গল্প নিয়ে মানুষ উৎসবে যায়

মানুষ অল্পতে কতো খুশি থাকে

আনন্দধারা বহিছে ভুবনে

তবু কবির মনে শান্তি নেই, চোখের নীচে তার

কালো সমুদ্র তটভূমি,প্রতিটি কবিতা লেখার পরে সে এখনও আত্মহত্যা করতে চায়

কিন্তু প্রকৃতির কী খেলা অসিত বরণ দাস নামে কোনও এক অজাতশত্রু যুবক লোকে যাকে সংক্ষেপে এ বি ডি  বলে ডাকে

তার মুখখানা মনে পড়ে ,ঈশ্বরের মতো তার দুচোখ

চোখের সামনে ভেসে ওঠে আর কী আশ্চর্য

কবির সমস্ত দুঃখ ব্যাথায যন্ত্রণা ফুৎকারে উড়ে যায়

হাজার হাজার মাইল দূর থেকে তার শৈশব তার কৈশোর তার যৌবনকাল রোদ বৃষ্টি ঝড় গরুর গাড়ি খড়ের পালুই টুসু গান গাছপালা চিৎকার করে ডাকতে থাকে এইতো,এইতো আমরা

দেখতে পাচ্ছোনা ,আমরা যে সবাই আছি তোমার

সমস্ত কবিতাজুড়ে ...






২.

ধুলোবালি


যে গাছ ফল দেয় ঋষি মুনিদের

আমি তার বসন্তকালীন কচিপাতা

যে পাখি জল চায় সর্বসাধারনের জন্যে

মেঘেরদেশে আমি উড়ন্ত ডানা

যে শিশু হামাগুড়ি দেয়

উঠে আর পড়ে, তবু আজো চেষ্টা ছাড়েনা

আমি তার দুচোখে দেখি মেঘনাদ সাহা

আমার সমস্ত প্রেম তোমাকে লক্ষ্য করে

আমার সমস্ত কবিতা তাই

তোমারই পথের ধুলো ...









শুধু কবিতায়... হেমন্তের সকাল -৩৭।। অশোককুমার লাটুয়া।। Ankurisha ।। E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 




হেমন্তের সকাল -৩৭

অশোককুমার লাটুয়া 



কেস্ দেবেন না প্লিজ

          


কার্তিক ছুঁয়েছে পঞ্চম ঋতুকে পুরাতন সহজ অভ্যাসে।

শস্যস্তনী হেমন্তের বুকের ভিতরে এখন পুরুষ্টু ধানের গন্ধ।

খেজুররসের মিষ্টি আস্বাদে কুয়াশা আর শিশিরের ভোর

দু'চোখের পেয়ালায় করে পান উষ্ণ অনুভবে স্বপ্নের অনুপান। 

সময়ের আঙুল ছুঁয়ে আবর্তনের ধর্মে হেমন্ত গল্প বুনে দেয় শীতের সোয়েটারে।

বয়সের দোষে দিতে দিতে নিঃস্ব রিক্ত হলে

মানুষ উদাসীন হয় হেমন্তের মতো। বাউলের একতারা সেকথা জানে

বিকালের পথে হেঁটে যেতে যেতে। 

ক্লান্ত ধূসরতায় জমে বিষন্ন কথকতা।

নিয়মভঙ্গ করেনা পঞ্চম ঋতু নিয়ম মেনে। 

দোহাই ধর্মাবতার, একা পেয়ে তাকে তার নামে

কোনো কেস্ দেবেন না প্লিজ।











শুক্রবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২১

শুধু কবিতায়... হেমন্তের সকাল -৩৬।। বিশ্বেশ্বর রায়।। Ankurisha ।। E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 




হেমন্তের সকাল -৩৬

বিশ্বেশ্বর রায় 




হেমন্ত


১.    

প্রৌঢ়ের মাথার মতো মাঠগুলোতে
গৈরিক-হরিতের আলপনা আঁকা,
পূর্ণতার গৌরবে শূন্যতার পদধ্বনি কাঁপে।
ম্লান হয়ে আসে দীপ্র কিরণমালী,
প্রস্তুতি তার শীতের মেখলা ঢেকে
সুরক্ষিত করে রাখা বুকের হাপর।

চাদর সোয়েটার মাফলার
তার সাথে লেপ কাঁথা কম্বল
আলমারি বাক্সের ঘেরাটোপ খুলে
সূর্যের উত্তাপ মেখে নেয় তড়িঘড়ি
দক্ষিনের বারান্দা বা ছাদের কার্ণিশে,
শীত এসে নষ্ট করে দেবার আগে
প্রতিরোধ-প্রস্তুতি।

দখিনা বাতাস তার শেষ দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে
ময়দান ছেড়ে দেয় উত্তুরে হাওয়াকে,
তাদের দ্বৈরথে ওষ্ঠাগত আমাদের প্রাণ,
খাঁ খাঁ প্রান্তরের বিষণ্ণতা অন্তর জুড়ে।
                      




.

সকাল হতেই বিমল আলো এসে
পেরিয়ে দুয়ার বললো হেসে হেসে--
এসে গেছি নতুন বার্তা নিয়ে।
একবারটি মাঠের পানে গিয়ে
দেখে এসো কেমন ভারে ভারে
তুলছি ভরে সমস্ত মাঠ জুড়ে
নতুন ধানের কাঁচা সবুজ শিষ।
যাবার বেলা সোনালি উষ্ণীষ
পরিয়ে যাবো তাদের শিরে শিরে,
তারপর যাবো চলে ধীরে ধীরে
সমস্ত সম্ভার তুলে দিয়ে তোমার গোলায়,
শীত এসে পাছে সব নষ্ট করে দেয়।
রেখে যাবো খাঁ খাঁ শূন্য মাঠ,
সেখানে তুলুক গড়ে শীত তার রাজ্যপাট।
আবার আসবো ফিরে শরতের ফেলে যাওয়া পদচিহ্ন ধরে,
তোমার শূন্য ডালা ভরে দিতে নবীন সম্ভারে।