হেমন্তের সকাল -৩৬
বিশ্বেশ্বর রায়
হেমন্ত
১.
প্রৌঢ়ের মাথার মতো মাঠগুলোতে
গৈরিক-হরিতের আলপনা আঁকা,
পূর্ণতার গৌরবে শূন্যতার পদধ্বনি কাঁপে।
ম্লান হয়ে আসে দীপ্র কিরণমালী,
প্রস্তুতি তার শীতের মেখলা ঢেকে
সুরক্ষিত করে রাখা বুকের হাপর।
চাদর সোয়েটার মাফলার
তার সাথে লেপ কাঁথা কম্বল
আলমারি বাক্সের ঘেরাটোপ খুলে
সূর্যের উত্তাপ মেখে নেয় তড়িঘড়ি
দক্ষিনের বারান্দা বা ছাদের কার্ণিশে,
শীত এসে নষ্ট করে দেবার আগে
প্রতিরোধ-প্রস্তুতি।
দখিনা বাতাস তার শেষ দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে
ময়দান ছেড়ে দেয় উত্তুরে হাওয়াকে,
তাদের দ্বৈরথে ওষ্ঠাগত আমাদের প্রাণ,
খাঁ খাঁ প্রান্তরের বিষণ্ণতা অন্তর জুড়ে।
২.
সকাল হতেই বিমল আলো এসেপেরিয়ে দুয়ার বললো হেসে হেসে--
এসে গেছি নতুন বার্তা নিয়ে।
একবারটি মাঠের পানে গিয়ে
দেখে এসো কেমন ভারে ভারে
তুলছি ভরে সমস্ত মাঠ জুড়ে
নতুন ধানের কাঁচা সবুজ শিষ।
যাবার বেলা সোনালি উষ্ণীষ
পরিয়ে যাবো তাদের শিরে শিরে,
তারপর যাবো চলে ধীরে ধীরে
সমস্ত সম্ভার তুলে দিয়ে তোমার গোলায়,
শীত এসে পাছে সব নষ্ট করে দেয়।
রেখে যাবো খাঁ খাঁ শূন্য মাঠ,
সেখানে তুলুক গড়ে শীত তার রাজ্যপাট।
আবার আসবো ফিরে শরতের ফেলে যাওয়া পদচিহ্ন ধরে,
তোমার শূন্য ডালা ভরে দিতে নবীন সম্ভারে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন