লেবেল

যুদ্ধ বিরোধী কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
যুদ্ধ বিরোধী কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২২

শুধু কবিতায়... যুদ্ধ বিরোধী কবিতা -৩৬।। বিকাশরঞ্জন হালদার।। Ankurisha।। E.Magazine.।।Bengali poem in literature।।







যুদ্ধ বিরোধী কবিতা -৩৬
বিকাশরঞ্জন হালদার 



ফুল হয়ে ফুটুক 

গুলি-গোলা-মিসায়িল ফুল হয়ে ফুটুক 
সহজে-সবুজে ধুয়েমুছে যাক 
                        অসহ্য  এ-রক্তক্ষয়!

      অস্ত্রের সপক্ষে আর একটি অক্ষরও  
      নয়!

অবাঞ্ছিত মৃত্যুর মৃত্যু হোক
                         দম্ভের মৃত্যু হোক 

               "কোথায় এমন ওঠে রে চাঁদ  ... "














পাঠকের আপনজন*  *অঙ্কুরীশা সাহিত্য পত্রিকা* 
--------------------------------------

🙏🙏লেখা আহ্বান🙏🙏


"পৃথিবীর কবিতা কখনও শেষ হয় না।" 
 (জন কিটস)


'সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা' — প্রাকৃতিক সম্ভারে সমৃদ্ধ আমাদের দেশ। পৃথিবীতে যা কিছু সুন্দর সবই যেন ঈশ্বর প্রকৃতির মধ্যে ঢেলে দিয়ে  তাকে করে তুলেছেন সম্পূর্ণা, অনন্যা।  মনে হয় বিচিত্ৰবেশী  এই প্রকৃতি যেন তার সৌন্দর্যে মিশে যেতে হাতছানি দিয়ে ডাকছে আমাদের। প্রকৃতির সেই অমোঘ টান আমরা সত্যি কি উপেক্ষা করতে পারি? প্রকৃতিপ্রেমে উদ্বেলিত মন তাই ছুটে চলে দিকশূন্যপুরে….অসীমের টানে। বর্তমানে প্রকৃতি আজ রুষ্ট, কারণ — বৃষ্টি নেই, তীব্র গরমে স্কুল ও কলেজ আজ বন্ধ। তার উপর  রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন — সময় যেন চঞ্চল। তাই প্রকৃতির এক স্পর্শ  যেন সমগ্র বিশ্বকে আত্মীয় করে তোলে— এই প্রকৃতি, কাল ও সময়কে স্মরণ করে অঙ্কুরীশা-র  পাতায় প্রকাশিত হবে মে ২০২২, প্রতিদিন বিভাগে 'প্রকৃতি-ই একটি সুর' বিষয়ক কবিতা।



🙏🏻মে মাস জুড়েই  প্রকাশিত হবে  'প্রকৃতি-ই একটি সুর' বিষয়ক কবিতা। 
 



✍🏾✍🏾 অঙ্কুরীশা ই ম্যাগাজিনে শুরু হবে প্রতিদিন বিভাগে  ' প্রকৃতি-ই একটি সুর'   বিষয়ক  শুধু কবিতা।

✍🏾এই পর্বে  দুটি করে কবিতা  পাঠাবেন। 

✍️✍  মেল বডিতে (অভ্র অথবা ইউনিকোড) টাইপ করে পাঠাবেন। 

🙏এই বিভাগের  লেখা   মৌলিক ও অপ্রকাশিত হতে  হবে।
🙏কোন প্রকার ছবি বা পিডিএফ ফাইল গ্রহণ যোগ্য নয়।

 🙏এই বিভাগে  আপনার মৌলিক ও অপ্রকাশিত লেখা কিনা উল্লেখ করে দেবেন। 


✍🏾 এই পর্ব চলবে ১লা  মে ২০২২ থেকে  ২০শে    মে ২০২২  পর্যন্ত। 

👇🏾আপনি আপনার  'প্রকৃতি-ই  বিষয়ক'   দুটো কবিতা   আজই মেল করুন👇🏾


✍️🙏আপনার এই পাঠানো  লেখাটি অঙ্কুরীশা-য় সম্মানের সাথে প্রকাশিত হবে। 

✍️🙏আপনার এই পাঠানো  লেখাটি অঙ্কুরীশা-য় সম্মানের সাথে প্রকাশিত হবে। 

 
✍🏾 মুক্ত মনে লিখুন  উক্ত বিষয়ের  জন্য কোন লাইন সীমা কিংবা শব্দ সীমা  নেই। 

নমস্কার। 
ভালো থাকুন। 
সুস্থ থাকুন। 


 সম্পাদক, 
অঙ্কুরীশা




বুধবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২২

শুধু কবিতায়... যুদ্ধ বিরোধী কবিতা -৩৪।। অসিত কুমার রায় (রক্তিম)।।Ankurisha।। E.magazine।। Bengali poem in literature।।

 




যুদ্ধ বিরোধী কবিতা -৩৪


কবির নির্বাসন

কবির নির্বাসন!
কবি নিশ্চুপ!
কবি কী ঘুমিয়ে পড়েছে!
কবি কী মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে?
নাকি নিতান্ত অভিমানে দুরত্ব রচে!
নাকি আতঙ্কিত দুঃসহ কোন ঝড়ের পূর্বাভাষে।
একমাত্র মৌনতা দূর করে কবিই বলতে পারে।


কিছু কিছু অভিমানে আকাশ ভেঙে পড়ে
কিছু কিছু কিরণে ফুলেরা মুষড়ে পড়ে ;
কিছু কিছু যন্ত্রণায় পাহাড় চুরমার
কিছু কিছু অনিয়ন্ত্রনে হুলুস্থুল গ্রহ থেকে গ্রহান্তর;


কবি অলক্ষে শান্তিবারির স্বরলিপি লিখে রাখে
ভালবাসা আলপনায় বিশ্বশান্তির ছবি আঁকে।
হৃদয়ের তন্ত্রিতে বিলম্বিতে রাগ মেঘমল্লার
বিশ্বজুড়ে যে যুদ্ধের বিউগিল, হয়তো সেই ভাবনার;


তাই বসন্ত বাহার নয়
বিব্রত বসন্তের বার্তা আর নয়;
পোড়া হৃদয়ের শান্তির জন্য
একমুঠো সিক্ত মাটি কিম্বা অশ্রুবারি।
তাই ক্রমশ বিলম্বিত থেকে ঝালায়
মেঘমল্লার বাজায় রুদ্রবীণায়।










মঙ্গলবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২২

শুধু কবিতায়... যুদ্ধ বিরোধী -৩৩।। শান্তা চক্রবর্তী।।Ankurisha।। E.Magazine। Bengali poem in literature।।

 




যুদ্ধ বিরোধী -৩৩

শান্তা চক্রবর্তী




নিরুত্তর  নক্ষত্র   


রাত্রির গর্ভগৃহে বসে আছি সূর্য ওঠার প্রতীক্ষায়

চারদিকে  দু:শাসন, দুর্জ্ঞেয় অন্ধকার

যেন এ-শ্বাপদ সভ্যতায় মানুষের  চির নির্বাসন হবে


প্রতিদিন যুদ্ধ -যুদ্ধ খেলা, রক্তপাত

একদিন লোহিতকণিকার স্পন্দন  থেমে যায়

স্ট্রেচারে শায়িত হাসপাতালের  দরোজা পেরিয়ে ঠাঁই হয় মর্গে

স্বর্গে  কে যায়- খুনি নাকি খুনের শিকার?

কে পায় বিচার!

এই প্রশ্ন নিরুত্তর  নক্ষত্রের মতো শূন্যে জেগে থাকে


স্বপ্ন তবু মরে না, উঠে দাঁড়ায়  নতুন আরম্ভে

যেভাবে রাত্রির দুর্গে সূর্যের ভল্ল এসে বেঁধে প্রতিদিন!










সোমবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২২

শুধু কবিতায়... যুদ্ধ বিরোধী কবিতা -৩২।। দীনেশ সরকার।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





যুদ্ধ বিরোধী কবিতা -৩২

দীনেশ সরকার




যুদ্ধ নয় শান্তি চাই


   
যুদ্ধ মানে ধ্বংসলীলা,
চারদিকে হাহাকার
যুদ্ধ মানে মৃত্যু-মিছিল
সেনা আর জনতার।

যুদ্ধ হয় না জনহিতকর,
ধর্ষণ মানবতার
যুদ্ধবাজরা চিরশত্রু
এই মানব সভ্যতার।

যুদ্ধের আগুন দাউ-দাউ জ্বলছে
ইউক্রেনের আকাশে
আগ্রাসী রুশ হানছে আঘাত
ছুটছে মানুষ ত্রাসে।

ধ্বংস করছে ইমারত আর
কাড়ছে নিরীহ প্রাণ
ধ্বংসের ছবি গ্রাম-শহরে
বাতাসে বারুদ ঘ্রাণ।

মিসাইল আর কামান-গোলা
ছুটছে যেন মৃত্যুবান
পাখপাখালি নিশ্চিহ্ন আজ
নেই তো কোনো কলতান।

মায়ের বুকে আঁকড়ে শিশু
ঠাঁই হয়েছে বাঙ্কারে
হাসি-কান্না ভুলেছে সে
খাবার দেবে কে তারে?

ছবির মতো সাজানো দেশ
এখন যে সব ধ্বংসস্তূপ
শান্তিকামী বিশ্ববাসী
এখনো কি রইবে চুপ?

এসো সবে আওয়াজ তুলি
হাতে হাত রেখে ভাই,
"মারণ যুদ্ধ বন্ধ করো,
যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই।"









রবিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২২

শুধু কবিতায়... যুদ্ধ বিরোধী কবিতা -৩১ ।। রাজেশ কান্তি দাশ।Ankurisha।। E.Magazine। Bengali poem in literature।।

 





যুদ্ধ বিরোধী কবিতা -৩১

রাজেশ কান্তি দাশ




বীভৎস সময়


জনপাত্রে রক্ত ঝরে ঝরঝর করে
ঝাঁকে ঝাঁকে পড়ে মিসাইল, গোলা তার ওপর;
আমার পূর্বসুরী ও উত্তরসুরীর স্বপ্ন ভেঙে যায় রক্তের নৈরাজ্যে!
রোবট প্রজন্ম পালায় ইট, সুরকির দেয়াল টপকে ওপারে
শরে ফসিল হয়;
সারসের বাসার নীচে ছাউনির মতো উঠতে থাকে গণকবর
কার বা কাদের জানে না পথিক কিংবা কবি? বেওয়ারিশ...
ডলার জীবন্ত হয়ে উঠে, তার বুকে-পিঠে হরিবোল বলে মারণাস্ত্র!
আমার অবয়বে আমি রক্তারক্তির খেলায় তবু বেঁচে আছি
আমি মৈত্রীর স্মারক হিসেবে একটি চিঠি পাঠাই যুদ্ধসঙ্গম বরাবর!
অন্ধকার সাঁতরে সাঁতরে হয়ে উঠতে চাই কিংশুক
আলোকধারী ঘোড়া
আমার সংস্কৃতি, সভ্যতা, জনপরম্পরার...
চোখের শ্যাওলা সরিয়ে আমি উঠে দাঁড়াই ক্ষয়ের ওপর
বীভৎস সময় বয়ে যায়!











শনিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২২

শুধু কবিতায়... যুদ্ধ বিরোধী কবিতা -৩০।। দীপক বেরা।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





যুদ্ধ বিরোধী কবিতা -৩০

দীপক বেরা



ক্ষমতা প্রান্তিক বড়োই 


মৃত্যু-কে সামনে রেখে ছুটছে যুদ্ধের ঘোড়া
সামরিক সৈনিক শপাং শপাং মারছে চাবুক
ছোটো.. ছোটো, আরো জোরে, আরো জোরে.. 
রণক্লান্ত ঘোড়াগুলির মুখ থুবড়ে পড়ার 
ঠিক আগের মুহূর্তে, 
সাময়িক 'সামরিক জলপান'-এর বিরতি, 
স্নায়ুময় শনির বলয় ছুঁয়ে, স্নায়ুরা আবার 
জেগে ওঠে, উজ্জীবিত হয় মারণ নেশায়! 
আকন্ঠ পিপাসা এখন, — মেটাতে দাও, 
—হে সেনাপতি, সারথি সময়! 
অভিসন্ধির লম্বা হাতে তালুবন্দী পৃথিবী
মণিবন্ধ ভেদ করে কামানের সুদীর্ঘ নল
তাক করে আছে অমেরুদন্ডী সভ্যতার দিকে।

পৃথিবীর-ও লুকানো আছে নিজস্ব অস্ত্র কিছু— 
সভ্যতা খুঁড়ে দেখ, প্রমাণ পাবে কুঠারের সতর্কতা! 
সপ্তাশ্ববাহিত রথে রাজন্যবর্গ দাঁড়িয়েছে দেখ
অস্ত্রশূন্য হাতে সম্মুখ সমরে আজ মাথা নিচু! 
আকাশগঙ্গায় দাঁড় বাইছে সময়, 
ভরাকোটালে জোয়ারে ফুঁসছে সিন্ধুনদ... 
মৃত্যুর বুকের 'পরে কান পেতে শোনো---
এগিয়ে আসছে শুশ্রূষার আদিম কনভয়,
দেখো, মহাজন্মের পাশে সৃষ্টির নটরাজ;
এই নগরসভ্যতায় ক্ষমতা, দম্ভ প্রান্তিক বড়োই! 












শুক্রবার, ২২ এপ্রিল, ২০২২

শুধু কবিতায়... যুদ্ধ বিরোধী কবিতা -২৯ ।। চন্দন ভট্টাচার্য্য।।Ankurisha।। E.Magazine ।। Bengali poem in literature।।

 






যুদ্ধ বিরোধী কবিতা -২৯

চন্দন ভট্টাচার্য্য


 


অস্ত্র ছেড়ে গোলাপ ধরো 

                

যুদ্ধ ছাড়ো...

যুদ্ধ ছাড়ো...

সভ্য দেশের ভদ্র রাজা

অস্ত্র ছেড়ে গোলাপ ধর

 যুদ্ধ ছাড়ো।


             কেনই তোমরা যুদ্ধ করো

             যুদ্ধ করে মানুষ মারো?

             কেনই বানাও গোলাবারুদ

             যুদ্ধবিমান বানাও কেন?

             এক পৃথিবীরই আমরা সবাই

             একই সাথে হচ্ছি বড়

             যুদ্ধ ছাড়ো...

             যুদ্ধ ছাড়ো।


লক্ষ কোটি বছর ধরে

আমরা সমাজ গড়েছি যেরে

মিথ্যে ইগোর বসে পড়ে

কেন করিস যুদ্ধ ওরে?

তুইও যেমন -- ওরাও তেমন

সবাইতো ভাই -- ভাইবোনের মতন,

কেউবা বাবা-- কেউবা কাকা

কেউবা মা -- কেউ মাসিমা

কেউ আত্মীয় -- বন্ধু -- স্বজন

এই সম্পর্ক ভুলে গিয়ে

আজকে কেন মানুষ মারো??

যুদ্ধ ছাড়ো...

যুদ্ধ ছাড়ো।


          একটা গুলি ছোঁড়ার আগে

          প্রভু যীশুর কথা ভাব আগেভাগে,

          ক্রুশবিদ্ধ হয়েও যীশু শান্তির কথা বলেছিলেন

  কৃষ্ণ- যীশু- বুদ্ধ - আল্লাহ শান্তির পথে হেঁটেছিলেন,

  তাঁদের বানী ভুলে গিয়ে আজকে তুই যুদ্ধ করিস

   ক্রোধ ও হিংসার বসে তোরা লাখো লাখো মানুষ মারিস !

   শিক্ষা- স্বাস্থ - জনকল্যাণে  বরাদ্দ কমিয়ে

   প্রতিরক্ষায় বরাদ্দ দেদার বাড়িয়ে ইচ্ছে মতো বাজেট করিস...

   জ্ঞান- বিজ্ঞান - কলা - দর্শন - স্থাপত্য শিল্প, শিক্ষা ও  স্বাস্থ্যকেন্দ্রভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়ে

   যুদ্ধ জয়ের স্বপ্ন দেখিস!

    একটা আঙ্গুল তোলার আগে দেখ চেয়ে তুই

    তিনটে আঙ্গুল তোরই দিকে উঁচিয়ে আছে

   সময়তো এখনো আছে মাথা নিচু কর মা-ধরার কাছে।

    তাইতো বলি, প্রভু যীশুর কথা স্মরণ করে

    দেশ বিজয়ের নেশা ছাড়ো,

    যুদ্ধ ছাড়ো---

    যুদ্ধ ছাড়ো...

    সভ্য দেশের ভদ্র রাজা

    অস্ত্র ছেড়ে গোলাপ ধরো।










    





মঙ্গলবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২২

শুধু কবিতায়... যুদ্ধ বিরোধী কবিতা -২৫।। বিশ্বজিৎ রায়।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




যুদ্ধ বিরোধী কবিতা -২৫

বিশ্বজিৎ রায়



ধ্যানে বসে আছি 

কে হে  তুমি,  আমাকে ডেকে বিরক্ত করো?
দেখছোনা আমি এখন ধ্যানে বসে আছি! 
সব পুড়ে যাওয়া দৃশ্যগুলো থেকে, ধর্ষিত নারীমুখগুলো থেকে, ফুলের মতো শহরগুলোর ধ্বংসস্তূপ থেকে, মুখ ফিরিয়ে বসে আছি সাদা দেওয়ালের দিকে মুখ করে ...


ভালো করে চেয়ে দ্যাখো,  আমার চোখ ফেটে, 
চামড়া ফেটে চুয়ে চুয়ে নেমে আসছে রক্ত,
ক্রুশবিদ্ধ যীশুর যন্ত্রণার মতো  যন্ত্রণা আমার সারা শরীরে, 
সন্তানহারা মায়ের বিষাদ আমার মনে—
এর থেকে মুক্তি পেতে আমি ধ্যানে  বসেছি...


সামনে কিছু দেখতে পাচ্ছিনা, 
গভীর অন্ধকার ধোঁয়া-কুণ্ডলীতে মোড়া যেন চারপাশ—
ওদের আড়াল করতে একটা সাদা ক্যানভাস 
চোখের সামনে খাড়া করে রেখেছি, আর
মনে মনে সেখানে এঁকে নিচ্ছি ফুল, আকাশ, নদী,  অরণ্য,  ঝর্ণা, পাখি... 


ধ্যানে বসে দেখতে পাচ্ছি
ধীরে ধীরে একটুকরো "সুন্দর" জেগে উঠছে সেখানে...











সোমবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২২

শুধু কবিতায়... যুদ্ধ বিরোধী কবিতা -২৪। নিমাই জানা।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




যুদ্ধ বিরোধী কবিতা -২৪
নিমাই জানা




১.
রৈখিক বন্ধনীর ঘোড়া ও তিন ত্রিভুজের অক্ষর



মৃত্যুকে কতবার কাছ থেকে দেখেছি অলৌকিক পুরুষের মতো তার দাঁতে সর্বদা তিনটে ত্রিভুজ ঝুলেছিল আততায়ী বিকেল তিনটের রুদ্ধদ্বার প্রলয় দাহকথায়

নৈঋত রঙের ফুল নিয়ে হাঁটু গেড়ে বসে থাকার পর উল্লসিত রাজা তারোয়াল নিচে নামিয়ে রাখেন আত্মসমর্পণ মন্ত্র শিখে নেওয়ার পর

আমরা দিনান্ত থেকে উঠে আসা রৈখিক বন্ধনীর ঘোড়াগুলোকে অশ্বমেধ থেকে আরও প্রাচীন করে তুলি নক্ষত্র বিজয়ের পর
কোন পরজীবী আমাদের অঙ্গাণু স্পর্শ করেনি কতোকাল , মহামন্ত্র নিজের শরীরের ভেতর কাপালিক তৈরি করে
দাঁতে দাঁত চেপে তলপেট থেকে উগরে দিচ্ছি অমৃত অক্ষরের মতো সবুজ পালক , রাতের পর আর কোন যুদ্ধক্ষেত্রে গিয়ে দাঁড়াই না কখনো নিজেকে বারুদ বলে মনে হয়
বৈতরণী হাওয়া মাঠের পরাগেরা হিহি শব্দে অট্টহাস্য করে উপত্যকা শব্দের কাছে , উচ্চাঙ্গ সাপেরা আরও একবার বক্ররেখা হয়ে যায় হলুদ নাগরিক শাড়ির মতো
আমরা আর বিষধর পোশাক চাইছি না দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর , দাঁতে আগুনের রক্ত নেই সবাই শীতল হয়ে গেছে মহাশ্বেতা অক্ষর পড়ার পর
মহাপ্রস্থান বেরিয়ে পড়বে অন্তক্ষরা গ্রন্থি থেকে
দক্ষিণ মুখ থেকে বেরিয়ে আসছেন চন্দন কাঠের চৈতন্য ,হজরত  কনফুসিয়াস দ্বাপর যুগ এবং যুধিষ্ঠির , কৃষ্ণা অলৌকিক জানতেন

আমরা ঈশ্বর পায়ের জমাট ধুলি মাথায় নিলাম অনন্ত অঙ্কুরোদগমের জন্য , যুদ্ধ নয় নির্ভার একটি পোশাক চাই




নাইট্রোজেন ছায়াপথ ও আইসোটোপিক সাদা পতাকা


অচৈতন্য মৃতদেহের পাশে থাকা অস্থির সময়কে মন্বন্তর বলা যায় না , একটি ধূপের ভেতর জীবাশ্মরা পচনশীল হয় ডাকছে বাতাস নাইট্রোজেন ছায়া পথকে

নিজের শরীরের ভেতর ঢুকে যাওয়ার পর আরও সহস্র নির্জীব পুরুষ বসে থাকে ধাতব কারবাইন নিয়ে
আমি সারা দেহে সমযোজী পারদ আর বিষাক্ত আইসোটোপ মেখে নিয়ে আত্মহত্যার পর সহিষ্ণু হয়ে যেতে শিখেছি তড়িৎযোজী আগুনের নিরন্ন সন্ধান পর্ব চালিয়ে
আমার বালিশের তলায় থাকা সর্বনাম শরীরেরা সর্বদায় উলঙ্গ থাকে রজনী বৃক্ষের মত

নিজের পাঁজরের ভেতরে বসে থাকা বৈধব্যের আশ্রমিক ছায়াপথ আর আগুনের ৯১° ধ্বংসাত্মক ধ্বংসাবশেষ থেকে তুলে আনেন কাল্পনিক ওথেলো চরিত্র
উত্তরীয় পরে আমাদের জিভ শুক্রাণু মুক্ত হতে পারে না
নিজের ভেতর আমি স্থূলকোণ হয়ে দাঁড়িয়ে অজস্র রজনীগন্ধা ,নীল  ড্যাফোডিল জোড় কলমের চারা গাছ বাড়িয়ে চলি বিদ্বেষ ভুলে , আমার পোশাকের কোন রৈখিক দৈর্ঘ্য নেই একাইনোডার্মাটা সন্ন্যাস প্রদীপ জ্বেলে বৃহত্তম পুরুষের মতো একাই চাঁদের ভিতরে হেঁটে যাচ্ছেন শূণ্য অক্ষাংশের অনন্ত কথায়
একদিন আমরা সকলেই আগুনের অসুখ ভুলে যাব পাতাবাহারের পত্ররন্ধ্রগুলো ক্লোরোফিল সেতু গড়ে তুলবে ভাঁজময় ঠোঁটে অস্থিসন্ধিতে ফল্গু নদীর মতো অন্তর্বাহী পরিয়ে দেবে উলম্ব দ্রাঘিমা সাদা পতাকা ,আগুনের দ্রোহকাল শেষ হয়ে যাবে

আমরা ঈশ্বরের কাছ থেকে ঈশ্বর শব্দের গাণিতিক রূপটি জেনে নেব সূক্ষ্ম দেহের ভেতর গিয়ে। 
















শনিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২২

শুধু কবিতায়... যুদ্ধ বিরোধী কবিতা —২২।। জয়শ্রী সরকার।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

  

 







যুদ্ধ বিরোধী কবিতা —২২

জয়শ্রী সরকার





যুদ্ধ যাক শান্তি থাক

       
যুদ্ধ কখনো শান্তি আনে না ,
শান্তি কখনো আঘাত হানে না।
যুদ্ধ মানেই অস্ত্রের ঝনঝনানি
যুদ্ধ মানেই জীবনের হয়রানি !

যুদ্ধ মানেই মানব-নিধন যজ্ঞ ,
বিশ্বটা আজ মুষ্টিমেয়ের ভোগ্য।
যুদ্ধ মানেই অস্ত্রেরই বিপণন
উর্দ্ধতনের বিলাসবহুল জীবন!

যুদ্ধ মানেই অর্থনীতিতে ধস ,
শান্তি-পথেতে আসুক জীবনরস।
আকাশে অশ্রু , বাতাসে বারুদ
যুদ্ধবাজেরা মৃত্যুলীলায় বুঁদ !

আর এক যুদ্ধ জানান দিচ্ছে বুঝি ,
এসো একসাথে শান্তির পথ খুঁজি।
কোনো সমাধানই অস্ত্রে হয় না—
হৃদয়-নদীটা শোণিতে বয় না !

যুদ্ধ মানেই হাহাকার আর ক্রন্দন ,
যুদ্ধ মানেই ছিন্ন সকল বন্ধন।
ব্যক্তি আমিটা বড়ই তুচ্ছ আজ—
সবার স্বার্থে ভুলে যাই এসো লাজ !

চেতনাতে তাই একটু উদার হ'ই ,
বিপুল এ-বিশ্বে তুচ্ছ তো কেউ নই ।
এসো তাই আজ সোচ্চার হ'ই একসাথে ,
বন্ধ হোক ভয়াল যুদ্ধ দিনরাতে!

সভ্যতা তুমি এখনোও নীরব!
চারিদিকে ওই রাশি রাশি শব।
কুলুপ এঁটেছো সবারই মুখে ,
বেহালা বাজাও বলো কোন্ সুখে?






 


বৃহস্পতিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২২

শুধু কবিতায়... যুদ্ধ বিরোধী কবিতা -২০।। অজয় দেবনাথ।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





যুদ্ধ বিরোধী কবিতা -২০

অজয় দেবনাথ



পর্দা


 

দুর্বৃত্ত পাষণ্ডের অত্যাচারে অতিষ্ঠ মানুষ বদল চেয়েছিল

বদল চেয়েছিল সমাজ, হয়েছে বদল

 

আত্মঘাতী কামনার স্রোত তবুও সমান

কখনও জেনেছে সবাই, কখনও পারেনি জানতে

একটু একটু করে খসে পড়েছে পৃথিবী…

 

দুর্বৃত্তের জামার অভাব হয়নি কখনও

লাল-নীল-সবুজ-হলুদ রকমারি জামা, দুঃশাসন ব্যতীত অস্তিত্বহীন

 

ভূমিতে আঘাত যদি হৃদয়ে না বাজে

সব জামা ছিঁড়ে ফেলে হোক জাগরণ

এতদিনে জল ও দুধের তফাৎ মানুষ চিনেছে









 

বুধবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২২

শুধু কবিতায়... যুদ্ধ বিরোধী কবিতা -১৯।। অশোককুমার লাটুয়া ( সেলুকাস )।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।





যুদ্ধ বিরোধী কবিতা -১৯

অশোককুমার লাটুয়া ( সেলুকাস ) 




হে অন্ধকার তোমার স্তন থেকে 


চুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়ুক নির্যাস  তোমার স্তন থেকে 

হে অন্ধকার 

আলোর তৃষ্ণায় 

ইউক্রেন - রাশিয়ায়। 


বিকলাঙ্গ সভ্যতার অপারেশান হোক 

বিবেকবান বিবেচনার টেবিলে। 


হৃদয় শস্যবতী হোক মেধাবী প্রেমের সৌন্দর্যে। 


বারুদের ধোঁয়া ছিঁড়ে বেরিয়ে আসুক 

দুদিকে প্রসারিত, নিরুদ্বেগ উড়ন্ত ডানায় 

সাদা রংয়ের কবিতায় পিকাসোর পায়রা -- 

খুঁটে খুঁটে খাক সুগন্ধি ঠোঁটে 

খুঁটিনাটি মানুষের ভালোবাসা। 


হে অন্ধকার 

তোমার স্তন থেকে চুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়ুক নির্যাস 

আলোর তৃষ্ণায় 

ইউক্রেন - রাশিয়ায়। 









মঙ্গলবার, ১২ এপ্রিল, ২০২২

শুধু কবিতায়... যুদ্ধ বিরোধী কবিতা -১৮।। শুভময়।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




যুদ্ধ বিরোধী কবিতা -১৮

শুভময় 




১.

ঘোড়া 



ঘোড়া দেখলেই আমার বড্ড ভয় করে
ইদানিং ভয় বেড়েছে বড্ড বেশী 
ছেলেবেলায় ঘোড়া দেখিনি তেমন
মাঝেসাঝে দেখলে একটু ভয়ভয় করতো,
একটু আনন্দ ও সম্ভ্রম জাগতো ঘোড়া দেখলে।
আজকাল ভয় করে ভীষণ, কুঁকড়ে থাকি।

ছেলেবেলায় তবলা শিখতে গিয়ে
মাস্টারমশাই ঘোড়ার খুরের শব্দ তোলা শিখিয়েছিলেন
সেই সেদিন থেকেই যুদ্ধের ছন্দ আয়ত্ত করেছিলাম তবলায় 
টকাটক টকাটক টকাটক!
হৃদয়ে এক উন্মাদনা- বিজয়ের উল্লাস আর ছিনিয়ে নেবার দাপট।

ঘোড়াকে আমার সবচেয়ে প্রাজ্ঞ মনে হয়
ওর মতো এতো বেশী লাশ রক্ত কিংবা তলোয়ার কেউ দেখেনি
যুদ্ধক্ষেত্রে এত রক্তগন্ধ এত আর্ত চিৎকার
ঘোড়া-ই শুনছে সবচেয়ে বেশী। 

সংসদ হলে আর হোয়াইট হাউসের  ঢোকার মুখে
ললাটে "যুদ্ধ নয় " শান্তিবাণীর তিলকচন্দন লেপে
বোষ্টম-বোষ্টমী যাচ্ছিল ওই তো সেদিনও। 
এমন সময় পথচলতি ঘোড়া লক্ষ্য করছিল কয়েক মিনিট
হঠাৎ এসে চাঁটালাথি মারলো দমাদ্দম-
শান্তিবাজরা সেদিন থেকে চুপ। 
সেদিন থেকেই আমি ঘোড়াকে বেশ ভয়শ্রদ্ধা করি-
এড়িয়ে চলি!
রাস্তায় ঘোড়া দেখলে টকাটক শব্দ রক্তেস্রোত তরোয়াল 
আর বাদশা আর রাষ্ট্রনেতার মুখ ভেসে ওঠে।
আমি চোখ বুঁজি
অমনি ঘোড়ার চাঁটা খাই। 

লক্ষ্যভ্রষ্ট  ঘোড়ায় আমার বড্ড ভয় আজকাল!




২.
যুদ্ধ চাই 

সবাই যখন বাতাস কাঁপায় যুদ্ধ চাইনা শান্তি চাই
তখন আমি চাইছি যুদ্ধ হোক না যুদ্ধ গাই সাফাই
লোকে আমায় বলল  বেশ
মারল বকল ছিঁড়ল কেশ
"যুদ্ধ বিরোধী যুদ্ধ" চাইছি যদিন বাঁচবো এগান গাই। 











শুধু কবিতায়... যুদ্ধ বিরোধী কবিতা -১৭।। তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য।।Ankurisha।। E.Magazine ।। Bengali poem in literature।।

 





যুদ্ধ বিরোধী কবিতা -১৭

তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য



১.

যুদ্ধবাজ 

         
 উপড়ে ফেলো মানুষ , মাটি এবং  গাছ।
দাও ফাটিয়ে রাগের বোমা ওহে যুদ্ধবাজ।
দেশ টা কি আর শহর আছে আস্ত কসাইখানা !
যে ডালেতে বসে পাখি ডাকছে বসন্ত আহ্লাদে।
ককিল জানে কী তার বাসা বারুদে ঠাসা সর্বনাশা !
নিজের দেশে নিজেই আছো বেশ 
কেমন খিদে তোমাদের গিলে খাবে অন‍্য দেশ ? 
রক্ত খিদের তুমিও  হবে পাকস্থলীর দাশ।
তোমাকে রোজ আয়নায় দেখতে চাইলে।
তবুও  কী দেখা  যায় নিজেেকে? 
পিঁপড়ের প্রাণের কথা ভাবো,চিন্তা করো সরীসৃপের জন্য। মানুষের জন‍্য গোলাপ বাগান করো। সূর্য সবার জ‍ন‍্য  রোদেলা বরণ। 
এখানে শান্তি আছে এখানে  যুদ্ধ কিন্তু বারণ।





           

২.
পৃথিবী 
                   
      
 এক আকাশের  নিচে 
ভাগাভাগি করে বেশ আছি বেঁচে।
তবে গোটা পৃথিবীটা আমার  বল 
দেশ বিদেশ সব শব্দ মুছে ফেল।
এ সব নিয়ে আর যুদ্ধ করবি কী বল? 
মরে তো মানুষ  শূন‍্য নিয়ে বাঁচবি তবে? 
সেই  তো মাটি সেই  তো জল।
হাসি দুঃখ সম্বল।
ঘুরেফিরে  গোল্লাছুট মানুষের  কাছেই।
রাষ্ট্র সমাজ হিংসা  যা হোক দাপুটে শখ।
ফিরে ফিরে প্রেম পতঙ্গে মানব শরীর।
যুদ্ধে কী মেটে অকপট প্রেম? 
মানচিত্র আবারও  যদি আঁকতে চাও 
হে বন্ধু,  হে পথিক, যুদ্ধ থামাও।










সোমবার, ১১ এপ্রিল, ২০২২

শুধু কবিতায়... যুদ্ধ বিরোধী কবিতা -১৬।। পাপড়ি ভট্টাচার্য।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




যুদ্ধ বিরোধী কবিতা -১৬

পাপড়ি ভট্টাচার্য



এমন যদি হতো


প্রাসাদ ছেড়ে নামলেন রাস্তায় একজন
সাধারণ মানুষকে অবলীলায় বললেন -
যারা আমাদেরকে অবলীলায় হত্যা করছে
ধ্বংস করে দিচ্ছে আমাদের অনেক কিছু
আমরা কেন পালাবো বলো,শিরায় শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে প্রতিবাদ গড়বো।

সেই একজন বহু হয়ে গেল মুহুর্তেই
সাহস আর প্রতিজ্ঞায় পিঁপড়ে শৃঙ্খল নিয়ে
এগিয়ে গেল যুদ্ধ থামাতে।
হাজার হাজার নিরীহ নর-নারী, শিশুহত্যা, গনহত্যা, ধর্ষণ
শব্দগুলো একে একে সমুদ্রগর্ভে
কয়েক হাজার মারণ বোমা মুহূর্তে ফুলের তোড়া
কারও রক্তচাপ আর বাড়বেনা
এমন যদি হতো...












রবিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২২

শুধু কবিতায়... যুদ্ধ বিরোধী কবিতা -১৫।। জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




যুদ্ধ বিরোধী কবিতা -১৫

জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়



জেনোসাইড   


যেমনটি ভেবেছি ঠিক তেমনটি নয়
সে-ও এক খেলা মজা আছে, রাজা বা রাক্ষস আছে
দুর্বল পুতুল আছে,উদ্ধত মাথাও আছে,হাসি-কান্না তাও আছে
বিশ্বাসের গভীরে কোন গুপ্ত ছিদ্রপথ লিখে রাখে ধ্বস্ত কাহিনি
ইতিহাস উপসর্গের ভেতর লেখা হননের গূঢ় পূর্বাভাস
অর্বাচীন বালকের লজেন্সখিদের তুলনায় আগ্রাসী
অণু-পরমাণু-গ্যাস-শূন্যতা... আরও কত প্রবল বিষ
ক্ষমাহীন প্রহারে প্রহারে মরে কারা অযুত-অজস্র?
আরও কত কালাপাহাড় গ্রাস গিলে নেবে শান্তি বামিয়ান
আগুন যারা জ্বালে তারা আমার আত্মার প্রিয়,নিরুদ্ধ প্রবলে
যারা পোড়ে তারাও আত্মীয় তীব্র অসহন
তিনি আগুনকে ভাই বলে জয়মাল্য দিলে সন্তান ডুবে যায়...

মেঘের যুদ্ধে বজ্র-বিদ্যুৎ প্রবল দানব নখ-দাঁত-আঘাত
প্রতিবেশী আগুনে আমাদের সবুজ গাছের সহমরণ
আস্তে আস্তে গিলে নেয় প্রাণিত স্পন্দন শুকোয়
জীবনের অন্য নাম একটু একটু করে মুছে যায় মহামূল্যবান...









শুধু কবিতায়... যুদ্ধ বিরোধী কবিতা -১৪।। রঞ্জন ভট্টাচার্য।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



যুদ্ধ বিরোধী কবিতা -১৪

রঞ্জন ভট্টাচার্য




 নীরব কান্না


যুদ্ধের দামামা আর বাঁচবে কতদিন? 

মিসাইলের আঘাত হানবে কতদিন?  

এ কী উষ্ণতার আলিঙ্গন 

না কি বুভুক্ষু সমাজকে করে আস্ফালন!

 নির্বাক শিশুর কান্নার স্তব্ধ হয় 

গোলা-বারুদের সামনে 

মায়ের নীরব কান্না 

শোনে কজন ক'জন ...!

এমনই করেই চলে পৃথিবী ধ্বংসের পথে 

আমরাও চলি নীরবে সেই একই রথে 

রক্তচোষা বাদুড় যেন রং পাল্টায় 


আমাদের রং ফ্যাকাশে হয় 

নীরব কান্নায়...








শনিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২২

শুধু কবিতায়... যুদ্ধ বিরোধী কবিতা -১৩।। বিদ্যুৎ মিশ্র।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





যুদ্ধ বিরোধী কবিতা -১৩

বিদ্যুৎ মিশ্র




মুছে যাবে দেশটা 


চারিদিকে হাহাকার যুদ্ধ আর কান্না

মিলেমিশে একাকার পথ খুঁজে পাননা 

কি হবে পরিণতি কেউ নয় শান্ত

ধ্বংসের ভয়াবহ যদি তা জানত।


কি এমন ক্ষতিকর মিলেমিশে রইলে

দুটি নদী পাশাপাশি একসাথে বইলে ।

ফুল ফুটে ভরে যদি বাগানের কোণটা 

সাম্যের গান যদি গায় এই মনটা ।


ছেলেমেয়ে একসাথে হাত ধরে হাঁটলে 

জাতপাত রঙ নিয়ে মিছে ওদের বাঁটলে।

ধনী আর গরিবের বিভেদ তো শূন্য

আর্তের মুখে হাসি সে ভীষণ পুণ্য।


বুঝবে না ওরা ভাই ক্ষমতার দম্ভে

মৃত্যুর হাহাকার সে কি আর কমবে?

ধ্বংস হানাহানি নিয়মিত চলছে 

চাই চাই আরও চাই শুধু তাই বলছে।


একদিন এভাবেই মুছে যাবে দেশটা 

ইতিহাসের পাতাতে লেখা হবে শেষটা।

এখনও যদি পারো করে দিতে রুদ্ধ

ভালোবাসা দিয়ে ভাই ভুলে যেতে যুদ্ধ।







শুধু কবিতায়... যুদ্ধ বিরোধী কবিতা -১২।। অশোক ব্যানার্জী।।E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




যুদ্ধ বিরোধী কবিতা -১২

অশোক ব্যানার্জী



পাইনি জবাব


ইতিহাসে লেখা আছে মানুষের যুদ্ধের কথা।
    কখনো বা কারণ ছিল কখনো অযথা।
       যুগে যুগে বহুবার বহু দিন ধরে
         হৃদয়ের সব দ্বার রুদ্ধ করে
     ধ্বংসের নেশায় মেতেছে বারবার
              যে কারণে প্রতিবার
           বহুদেশ, বহু নগর, বন্দর
      কত সৌধ, স্মৃতি, কত সুখের ঘর
         ধ্বংস হয়ে গেছে, তারই সাথে
কত সাধ কত আশা নিভে গেছে চিরতরে।
তবু মানুষের যুদ্ধের নেশা মেটেনি এখনো,
            আজও মানুষ পায়নি পরিত্রাণ
পাশবিক স্বভাব থেকে আজও তার বাকি পুণ্যস্নান।

           মানুষের প্রেমের কাহিনী
           সেও তো ইতিহাসই বলে
            যুগে যুগে মানুষের মনে
            কত বিচিত্র খেলা চলে !
কত গল্পে, উপন্যাসে লেখা আছে সে প্রেমের কথা
কত বুকভরা ভালোবাসা, কত আশা আকাঙ্ক্ষা,
                                             কত আশাহত ব্যথা
                     যুগ যুগ ধরে
    পোষণ করেছে মানুষ নিজেরই অন্তরে।
        আজও মানুষ পুরোনো দিনের মত
প্রণয়ীর কানে কানে ভালোবাসার কথা কয় যত।
        আজও তার গর্ব ভালোবাসা নিয়ে
       এ যান্ত্রিক যুগেও যা যায়নি হারিয়ে।

আবার, নির্দ্বিধায় এই ইতিহাসই জানায়
    বাঁচার জন্য মানুষ কাজ করে যায়
        সভ্যতার আদিকাল থেকে,
    নতুন কাজের নেশায় একে একে
   যুগে যুগে কত বিস্ময়কর আবিষ্কার
          মানুষই করেছে বারবার।
     উচ্চতর প্রযুক্তিবিদ্যার হাত ধরে
   মানুষ আজ সভ্যতার চরম শিখরে!

          যে মানুষ ভালোবাসে
        গান গায়, প্রাণখুলে হাসে,
যে মানুষ মেতে থাকে কাজের নেশায়
       সেই মানুষই আবার যুদ্ধ চায়,
          এ কি কোন অভিশাপ?
মনে মনে প্রশ্ন করেও তার পাইনি জবাব।