।।আলোর উৎসব--১১।।
দীপক বেরা-র কবিতা
১.
চাঁদ
।।আলোর উৎসব--১১।।
দীপক বেরা-র কবিতা
১.
চাঁদ
।।আলোর উৎসব--৩।।
মঙ্গল প্রদীপ
সুব্রত চৌধুরী।।আলোর উৎসব--২।।
হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর কবিতা
১.
আলোর সোপান
আলোর - উৎসব - ৩৫
তপনজ্যোতি মাজি
১.
সম্মত
সম্মত হয়েছি শুদ্ধতা ও মুক্তি লিখবো অক্ষরে অক্ষরে।
গ্রন্থপাঠ শেষ হলে মনন অন্বেষণ। চর্যাপদ মুখস্ত করবো
নির্জন প্রহরে। অবশিষ্ট স্বর্ণাভ সংগ্রহ , রেখেছি জলপাই
কাঠের দেরাজে।
তোমাকে কদিন খুঁজছি বৃত্তাকারে সৌরপথে। তুমি কি
সম্প্রতি হয়েছো উপগ্রহবাসী? নিষ্ক্রিয় রেখেছো স্মার্ট
ফোন। নক্ষত্র কলোনীর বহুতল এপার্টমেন্টের ন'তলার
ঝুল বারান্দায় তোমার শাড়ির আঁচল উড়তে দেখেছে
কেউ কেউ।
এই গ্রহবাস ছেড়ে কোনও একদিন বাসস্থান গড়ে উঠবে
অন্য কোনও গ্রহে। পরিকল্পিত সেই সব আবাসনে মানুষে
মানুষে সম্পর্ক হবে নদী ও নৌকার মতো। কৃষি,শ্রম,সংস্কৃতি
হবে মানুষের মৌলিক ধর্ম।
তুমি বিলক্ষন জানো কোথায় পথের শেষ। সম্পর্কের বাঁক
এবং অন্ধকার। সহজ করে নিতে হয় দৃশ্যের সংঘর্ষ। মনে
মনে ভাবি ভুল উঠোনে দাঁড়িয়ে আছি প্রত্যেকে, শুধু বুঝতে
পারিনা মৃত্তিকার ক্ষয়।
২.
আবহমান
অগ্নিকে বিষণ্ন করে সে শেষবার উচ্চারণ করলো
সমর্পণের স্তোত্র। তার নাভি সরোবরে অযুত বর্ষের
তরঙ্গ ঘুমিয়ে আছে। সে জানে সে নারী।গর্ভধারিনী।
ভুল মনে হয় প্রচলিত আখ্যান। শরীর আত্মপ্রতারক।
রোদ্দুর পড়েছে ঘুমন্ত উঠোনে। শিউলি গাছের ছায়ায়
শুয়ে আছে বাদামি বিড়াল।গার্হস্থ্য দরজায় কল্যাণ চিহ্ন।
বিকেল মিশে যাচ্ছে সন্ধ্যায়। দিগন্ত মুছে গেল শাড়ীর
আঁচলে। সব অনুভুতির কিছু পরিভাষা আছে। মস্তিস্কে
কি বিস্ফোরণ হলো? সে জানে পুরুষ চায় শীর্ষপ্রদেশ।
সব প্রতীক্ষার অবসান হয়না একজীবনে। সব দরজা
খোলেনা ইঙ্গিতে। লালনের গান শুনতে শুনতে নদী
হারিয়ে যায় সমুদ্র মোহনায়। সে তবুও স্থির প্রতিবাদী।
আলোর- উৎসব -২৫
সুবীর ঘোষ
আলোক উৎসব
১.
আজকে ধরণী আঁধারে গঠিত, অমানিশা আনে ভয়
আঁধারের আছে বিস্তারি রূপ চরাচর জুড়ে নিগূঢ় সময়।
এসেছে আবার বঙ্গজীবনে আলোকোৎসব রাত
ছাতিমের ফুলে গন্ধ ছড়ানো প্রকৃতিতে মৌতাত।
আলোকমালায় সাজে লোকালয়, সাজে আকাশের শততারাদল
তারাবাজি ধরা কিশোর-কিশোরী, খুশি ছুঁয়ে যায় বেবাক অতল।
দীপাবলি রাতে ক্ষেতে হেমন্তে ফসল ভিজছে শিশিরে
গলা ছেড়ে চলো গান ধরা যাক্, আলোকে ভরুক দশ দিশি রে।
২.
আলো অনেক ছিল একদা, পুরোনো কালের সংগৃহীত
দীপ্তি কিছু কম হয়নি, বয়স হলেও
তারা যেন সঙ্গে থাকে, হঠাৎ হঠাৎ জ্বলেও ওঠে
চোখের বাতি— মাথার ভেতর আলো দেবার সতর্কতায়।
সেই আলোদের দেখা পেলেই
আমার মধ্যে আলোকোৎসব — আঁধার কাটে বিধিমতন।
বহির্জগৎ আলোয় ভাসে, আকাশ থেকে জ্যোৎস্না গড়ায়
দীপাবলির অমানিশাও দীপের আলোয় পাহারা দেয়।
আলো আমায় স্মরণ করায় আমাদের সেই গোপন কলাপ
আসতে যেতে দু’দিকেরই অন্ধকারের স্তর আলাদা
আলোয় ভাসছে জগৎ যখন মনের কেন্দ্রে অষ্টপ্রহর।
আলোর-উৎসব-১৯
মুক্তি দাশ
১.
পিলসুজ
পিলসুজ বা ঠাম্মি এখন আ্যান্টিক!
আলোর- উৎসব -১৮
বিশ্বজিৎ রায়
আলোর উৎসব
এক
আলোর - উৎসব -১৫
দেবাশীষ মুখোপাধ্যায়
আলোর - উৎসব - ১৪
জয়দেব মাইতি
১.
দরজা
দরজাটা খুলে রাখি রোজ
মনে হয় কার যেন আসার কথা আজ
এই বুঝি এসে পড়বে সে
আমাকে তাঁর ভীষণ দরকার।
এতটা এসে, সত্যি সত্যি কেউ যদি ফিরে যায়
দরজা কি মনে করবে ভাবো?
মন খারাপ করে ফিরে যাবে সে
কথাগুলো শোনা হবেনা আর।
এমনতো হতে পারে
কথাগুলো আমার জন্য জরুরি ছিল
হয়তো জীবন মরনের কোন গল্প
২.
বিসর্জন
আলোয় আলোয় ভেসে যায় উৎসবের বিষাদ
জগৎজননী ডুবতে গিয়েও শেষ বারের মতো দেখে নেয় বিদায়ের আড়ম্বর।
শব্দ দানবের তারস্বর, সিন্দুর খেলা আর মিষ্টি মুখ এর মাঝে - 'তাঁর' সামনে ভেসে যায় অগুনিত মুখ,
অসংখ্য হাহাকার-
অভাবী মনে মুখগুলো,একটু খাবার খোঁজে নিরন্তর
আকন্ঠ জল,তবুও তেষ্টা মেটাতে ভয়
জলজ লজ্জা নিয়ে সংসার রাখে আমৃত্যু, আর
কোমর জলে ভাসিয়ে রাখে- তাদের ভবিষ্যৎ।
তাদের কাছে চাল ডাল নয়- পচা ফুল পাতা ভেসে যায় আশীর্বাদ হয়ে।
ডুবতে ডুবতে,
শেষ বারের মতো, মা'ও বুঝে নেয় অনেককিছু।
বুঝে নেয়, আগমনীর চেয়ে
বিসর্জনের হাত অনেক, অনেক বেশি শক্তিশালী।