লেবেল

আলোর - উৎসব কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আলোর - উৎসব কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৩

।।আলোর উৎসব--১১।। দীপক বেরা-র কবিতা।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।



।।আলোর উৎসব--১১।। 



দীপক বেরা-র  কবিতা 



১.

চাঁদ


চাঁদের শরীরে আলো
অথচ উত্তাপ নেই, শুধুই স্নিগ্ধতা
শুধু আলো, শুধু ঠাণ্ডা আলো
সেই আলো নিয়ে আমি গায়ে মাখি
ছিনিমিনি খেলি
মৌতাত জমা রাখি শীতের উপমায়
বিস্ময়সূচক, চঞ্চল সে আলোর
গোপন একাকী খেলা, বড় গভীর
বড় বিশুদ্ধ, সেই স্নিগ্ধ আলোর খেলা



২.
জন্ম-জন্মান্তর

আকাশ উপুড় হয়ে শ্বাস নেয় 
মাটির গন্ধে তার নিখাদ অন্বেষণ 
আচমনে শ্রাবণের বুক থেকে 
পুরনো অভ্যেসে খুঁটে আনে অভিসার 
নিঃশব্দে ভিজে যাওয়া মাটি 
তাকে ওম দেয়, সুর দেয় 
রাতভোরে প্রসব দরজা খুলে 
জন্মের প্রথম কান্নার স্বর
জীবনচক্রে মেশে জন্ম-জন্মান্তর.. 
সূর্য প্রণামে নতুন প্রত্যয়ে
বাঁশি বাজে তার অনন্ত আলোর মূর্ছনায়

বৃহস্পতিবার, ২ নভেম্বর, ২০২৩

।।আলোর উৎসব--৩।। মঙ্গল প্রদীপ — সুব্রত চৌধুরী।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।



।।আলোর উৎসব--৩।। 



মঙ্গল প্রদীপ

সুব্রত চৌধুরী

আকাশ মেয়ে রাগ করেছে
মুখটা বেজায় কালো,
কোথায় গেলো লক্ষ তারা
ঝিকিমিকি আলো ।
দীপাবলির আলোর মালায়
উঠলো সেজে মেয়ে ,
আকাশ বুকে আতশবাজি
গেলো বুঝি ধেয়ে।
আলোর রোশনাই দিকে দিকে
ঘুচবে মনের কালো,
ঘরে ঘরে মঙ্গল প্রদীপ
সুখের তরে জ্বালো ।

বুধবার, ১ নভেম্বর, ২০২৩

।।আলোর উৎসব--২।। হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর কবিতা।। Ankurisha ।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।



।।আলোর উৎসব--২।। 


হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর কবিতা 



১.

আলোর সোপান 


ক্যানভাসে রোদ ফুটে উঠলে আমিই ভোর ,গোধূলি মধ্যরাত আমি ,আমি মৃত্যু উপত্যকা আমারই প্রোটোপ্লাজমের রসে ভিজেছে ব্যাকরণ কৌমুদি
এ জগতে চোরাস্রোতে সরলবর্গীয় গাছ 
মহাকাশ জানে না কিছু ,তুমি জানো রামধনু ?
তুমি জানো সপ্তর্ষি, আকাশ পথিক 
ভালবাসা আসে ভালবাসা যায় 
শুধু পড়ে থাকে ছাই
মানুষ  সহজেই ভালবাসা  ভুলে যায় 
অপমান ভোলেনা কখনো 

সকাল দুপুর রাতে ধনদৌলতে ডুবে থাকা জ্যোৎস্না ছন্দমাত্রা ভুলে তৎপর ,অনিবার্য যা অমরতাকামী 

এই সত্য সাদা ,উপার্জন যেটুকু ...তাও উজ্জ্বল 
ইশারা  ,এরই মাঝে ফুটে ওঠে সন্ধ্যাতারা ...

আমি বসি তাদের কাছাকাছি আর ভাবি 
কাকে বলে আঁধারমণি ,আর কোনটাই বা 
আলোর সোপান ...সম্মোহনবিদ্যা মরুদ্যানজুড়ে 
পৌনঃপুনিকতা  ...


২.
মৃত্যু অপেরা
...

অপেরা বেশি ভালো যতক্ষণ সে সামনে থাকে
চোখ দিয়ে জল পড়ে ততক্ষণ
যতক্ষণ তোমাকে চিমটি কাটলে
লাগে ওস্তাদ
কিন্তু সত্যিই ঘটনাটা যখন ঘটে
তখন বিছানা থেকে তোলা অসম্ভব হয়ে ওঠে 
তখন পা থেকে  মাথা পর্যন্ত 
এলোমেলো হয়ে  যায়...

স্মৃতি সত্তা ভ বিষ্যৎ
গৃহিনী পুত্ৰ কন্যা অরুণ্যরোদনে বলে
আর নয়,আর নয় জনপদ ধ্বংস হয়ে যায় 

তাড়াতাড়ি তোলো 
নামাও,না হলে পিঁপড়ের সারি 
কেন্নো,আরশোলা
জলচৌকিপাতা ঘ‍রে ...

শনিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২১

শুধু কবিতায়...আলোর - উৎসব - ৩৫।। তপনজ্যোতি মাজি।। Ankurisha ।। E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 




আলোর - উৎসব - ৩৫

তপনজ্যোতি মাজি




১.

সম্মত



সম্মত হয়েছি শুদ্ধতা ও মুক্তি লিখবো অক্ষরে অক্ষরে।

গ্রন্থপাঠ শেষ হলে মনন অন্বেষণ। চর্যাপদ মুখস্ত করবো 

নির্জন প্রহরে। অবশিষ্ট স্বর্ণাভ সংগ্রহ , রেখেছি জলপাই 

কাঠের দেরাজে।


তোমাকে কদিন খুঁজছি বৃত্তাকারে সৌরপথে। তুমি কি

সম্প্রতি হয়েছো উপগ্রহবাসী?  নিষ্ক্রিয় রেখেছো স্মার্ট

ফোন। নক্ষত্র কলোনীর বহুতল এপার্টমেন্টের ন'তলার

ঝুল বারান্দায় তোমার শাড়ির আঁচল উড়তে দেখেছে

কেউ কেউ।


এই গ্রহবাস ছেড়ে কোনও একদিন বাসস্থান গড়ে উঠবে

অন্য কোনও গ্রহে। পরিকল্পিত সেই সব আবাসনে মানুষে

মানুষে সম্পর্ক হবে নদী ও নৌকার মতো। কৃষি,শ্রম,সংস্কৃতি

হবে মানুষের মৌলিক ধর্ম। 


তুমি বিলক্ষন জানো কোথায় পথের শেষ। সম্পর্কের বাঁক

এবং অন্ধকার। সহজ করে নিতে হয় দৃশ্যের সংঘর্ষ। মনে

মনে ভাবি ভুল উঠোনে দাঁড়িয়ে আছি প্রত্যেকে, শুধু বুঝতে

পারিনা মৃত্তিকার ক্ষয়।




২.

আবহমান


অগ্নিকে বিষণ্ন করে সে শেষবার উচ্চারণ করলো 

সমর্পণের স্তোত্র। তার নাভি সরোবরে অযুত বর্ষের

তরঙ্গ ঘুমিয়ে আছে। সে জানে সে নারী।গর্ভধারিনী।


ভুল মনে হয় প্রচলিত আখ্যান। শরীর আত্মপ্রতারক।

রোদ্দুর পড়েছে ঘুমন্ত উঠোনে। শিউলি গাছের ছায়ায়

শুয়ে আছে বাদামি বিড়াল।গার্হস্থ্য দরজায় কল্যাণ চিহ্ন।


বিকেল মিশে যাচ্ছে সন্ধ্যায়। দিগন্ত মুছে গেল শাড়ীর

আঁচলে। সব অনুভুতির কিছু পরিভাষা আছে। মস্তিস্কে

কি বিস্ফোরণ হলো? সে জানে পুরুষ চায় শীর্ষপ্রদেশ।


সব প্রতীক্ষার অবসান হয়না একজীবনে। সব দরজা

খোলেনা ইঙ্গিতে। লালনের গান  শুনতে শুনতে নদী

হারিয়ে যায় সমুদ্র মোহনায়। সে তবুও স্থির প্রতিবাদী।










বুধবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২১

শুধু কবিতায়...আলোর- উৎসব -২৫।। সুবীর ঘোষ।। Ankurisha ।। E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 




আলোর- উৎসব -২৫

সুবীর ঘোষ





আলোক উৎসব


 

.

আজকে ধরণী আঁধারে গঠিত, অমানিশা আনে ভয়

আঁধারের আছে বিস্তারি রূপ চরাচর জুড়ে নিগূঢ় সময়।

এসেছে আবার বঙ্গজীবনে আলোকোৎসব রাত

ছাতিমের ফুলে গন্ধ ছড়ানো প্রকৃতিতে মৌতাত।

 

আলোকমালায় সাজে লোকালয়, সাজে আকাশের শততারাদল

তারাবাজি ধরা  কিশোর-কিশোরী, খুশি ছুঁয়ে যায় বেবাক অতল।

দীপাবলি রাতে ক্ষেতে হেমন্তে ফসল ভিজছে শিশিরে

গলা ছেড়ে চলো গান ধরা যাক্, আলোকে ভরুক দশ দিশি রে।

 

 

 



 

 ২.


আলো অনেক ছিল একদা, পুরোনো কালের সংগৃহীত

দীপ্তি কিছু কম হয়নি, বয়স হলেও

তারা যেন সঙ্গে থাকে, হঠাৎ হঠাৎ জ্বলেও ওঠে

চোখের বাতি— মাথার ভেতর আলো দেবার সতর্কতায়।

সেই আলোদের দেখা পেলেই

আমার মধ্যে আলোকোৎসব — আঁধার কাটে বিধিমতন।

বহির্জগৎ আলোয় ভাসে, আকাশ থেকে জ্যোৎস্না গড়ায়

দীপাবলির অমানিশাও দীপের আলোয় পাহারা দেয়।

আলো আমায় স্মরণ করায় আমাদের সেই গোপন কলাপ

আসতে যেতে দু’দিকেরই অন্ধকারের স্তর আলাদা

আলোয় ভাসছে জগৎ যখন  মনের কেন্দ্রে অষ্টপ্রহর।











সোমবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২১

শুধু কবিতায়...আলোর-উৎসব-১৯ ।। মুক্তি দাশ।। Ankurisha ।। E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 




আলোর-উৎসব-১৯

মুক্তি দাশ




১.

পিলসুজ


ঠাম্মির পুরোনো সিন্দুক ঘেঁটে বের হল
প্রায় আড়াইফুট সাইজের নকশা করা পেতলের
একটা বস্তু। যা আমরা, এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা  
কেউই কখনো দেখিনি। ঠাম্মি বলেছিল –
প্রদীপ জ্বালিয়ে এর ওপরে রাখতে হয়,
তাহলে চারিদিকে আলো ছড়িয়ে পড়বে।
আরো গর্ব করে বলেছিল, এই আলোতে আমরা
তখনকার যুগে পড়াশুনো করতাম।
এর নাম পিলসুজ!
 
পিলসুজের ওপর যখন প্রদীপ জ্বলতো
নিচটা হয়ে যেত ছায়ান্ধকার।
সেই নিয়ে কাব্যরসিকদের সে কি
তুমুল কাব্যোন্মাদনা!
প্রদীপ বা পিলসুজ দেখি বা না-দেখি
জানলাম, প্রদীপের নিচেও অন্ধকার থাকে!

পিলসুজ বা ঠাম্মি এখন আ্যান্টিক!


চতুর্দিকে আলোর ঝলমলে কেরদানিতে
ঘরের দুর্গম কোণের ঘুপচি অন্ধকারও
এখন সুড়সুড় করে ভোল পাল্টে ফেলেছে!

পিলসুজ এখন ঠাম্মির মতোই ব্রাত্য!






২.
তাজা রোদ্দূর



কথা দিয়েছিলাম তোমার শিয়রে
এনে দেব তেজস্বী রোদ্দূর একমুঠো

জমাট অবিশ্বাসের পানসিতে ভাসমান ইচ্ছেমেঘের মত
আঁধারকে ভালোবেসে তুমি হলে রাত্রি
যাবতীয় ক্লান্তি ও অবসাদ ধুয়ে ফেললে
জোনাকির মলিন আলোতে

অথচ আমি তোমাকে তাজা রোদ্দূর দিতে চেয়েছিলাম।

















শুধু কবিতায়...আলোর- উৎসব -১৮।। বিশ্বজিৎ রায়।। Ankurisha ।। E.Magazine Bengali poem in literature ।।







আলোর- উৎসব -১৮

বিশ্বজিৎ রায় 






আলোর উৎসব 

 এক


জন্মের পর প্রথম যাকে ছুঁয়েছিলাম 
তার শরীরে লেগে ছিল এক অপার্থিব আলো, 
জীবনে প্রথম যাকে ভালোবেসেছিলাম 
তাঁর নাম ছিল 'আলো',
প্রথম তাকে যে উপহারখানি দিয়েছিলাম, 
সেটি ছিল  একমুঠো আলো,
আমার প্রথম ছাপা কবিতার নামটিও ছিল 'আলো'....

যে কোম্পানিতে প্রথম ইন্টারভিউ দিয়েছিলাম
তার নাম ছিল 'আলো ইন্ডাস্ট্রিজ',
যে দপ্তরে প্রথম চাকরি পেয়েছিলাম 
তার নাম  ছিল 'আলো দপ্তর '----
সুনন্দাকে প্রথম শুনিয়েছিলাম যে গান
সেটি ছিল ' আলো আমার আলো ওগো আলোয় ভুবন ভরা',
প্রথম যে সিনেমাটা ওর সঙ্গে দেখেছিলাম
তার নাম ছিল 'নতুন আলো'.....

আমার ক্লাবের নাম 'আলো সংসদ ', 
আমার সন্তানের নাম ' আলোময়', 
আমার বাড়ির নাম ' আলোবাড়ি',
প্রিয় কবির নাম 'আলোক সরকার '----

আলোর পথযাত্রী আমি,
সারাজীবন ধরে আমার আলোর উৎসব.... 





 দুই

আলো আর খুশী করেনা অনুভূতিহীন এই প্যাডেল জীবন ---
সবসময় মনেহয় যেন আলোর নিচে পড়ে আছে 
ভেঙে চৌচির হয়ে যাওয়া আমার ভয়ার্ত মন... 

সেকথা ভুলে থাকতে প্রাণপণে নিজেকে 
আলোরঙে সাজাই ভরপুর,  জেগে থাকি 
আলোর আলপনায় শঙ্কাগুলো  ঢেকে...

দগ্ধ-লাঞ্চিত মনটাকে বাঁচিয়ে রাখতে, তীব্র জ্বরে
সব আলোঘর থেকে মাধুকরী করি আলো, 
যেন আলোর আমিকে দেখে অন্যরা ঈর্ষা করে...










শনিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২১

শুধু কবিতায়...আলোর - উৎসব -১৫।। দেবাশীষ মুখোপাধ্যায়।। Ankurisha ।। E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।




আলোর - উৎসব -১৫

দেবাশীষ মুখোপাধ্যায়



 ১.
হারানো সুর
 
ভালোবাসার লালনে নীরবতা বাঙ্ময়
উজ্জ্বল আলোর নীচে যে অন্ধকার
তা বুকের যাপনে বাসা বাঁধে অহর্নিশ
শব্দরা ব্যাকুল করে তুললে ভালোবাসা প্রপর্ণ

নরম রোদের বুকে শালিকটা
মনখারাপের গান গেয়ে যায় সকাল সাঁঝ 
কাকের কা কা খান খান করে দেয় 
নীরবতার সুডৌল বুক
প্রশ্নরা প্রসব বেদনায় কাতর
তাহলে কি বৃথা ব্যয় হলো সব
আলোর গান তবে কি শুধুই পরিযায়ী...







২.
ভেজা ভেজা আলো চেয়ে থাকে শুধু


হৃদয়টাকে ছোঁও
পবিত্র হও
দ্যাখো কতো আলো সেখানে...

শরীর তো শুধু মলাট
তার নীচের রহস্যে যাও
বুকের খাঁচার নীচের ক্ষেত্রফলেই
জীবন ভরো প্রীয়মান
দ্যাখো কতো আলো সেখানে...

পবিত্র স্পর্শ নাও জীবনের
আলো জ্বলুক ঘরে ঘরে
নিভন্ত উনুনে...
সাদা ভাতের গন্ধে...
শিশুর ফোকলা দাঁতে...
কিশোরীর ছেঁড়া ফ্রকের যাপনে...

আলো জ্বালো
জ্বালো আলো সন্নিকর্ষে  
ভরিয়ে দাও সংহৃষ্ট সবুজ জ্যোৎস্নায়
দীপাবলি খেলুক সবাকার দুয়ায়ের আলপনায়...








শুধু কবিতায়... আলোর - উৎসব - ১৪।। জয়দেব মাইতি।।Ankurisha ।। E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।






আলোর - উৎসব - ১৪

জয়দেব মাইতি




১.

 দরজা 


দরজাটা খুলে রাখি রোজ


মনে হয় কার যেন আসার কথা আজ

এই বুঝি এসে পড়বে সে

আমাকে তাঁর ভীষণ দরকার। 


এতটা এসে, সত্যি সত্যি কেউ যদি ফিরে যায় 

দরজা কি মনে করবে ভাবো?


 মন খারাপ করে ফিরে যাবে সে

কথাগুলো শোনা হবেনা আর।


এমনতো হতে পারে

কথাগুলো আমার জন্য জরুরি ছিল


হয়তো জীবন মরনের কোন গল্প 





২.

বিসর্জন


আলোয় আলোয় ভেসে যায় উৎসবের বিষাদ


জগৎজননী ডুবতে গিয়েও শেষ বারের মতো দেখে নেয় বিদায়ের আড়ম্বর।

শব্দ দানবের তারস্বর, সিন্দুর খেলা আর মিষ্টি মুখ এর মাঝে - 'তাঁর' সামনে ভেসে যায় অগুনিত মুখ,

অসংখ্য হাহাকার-


 অভাবী মনে মুখগুলো,একটু খাবার খোঁজে নিরন্তর 

আকন্ঠ জল,তবুও তেষ্টা মেটাতে ভয় 

জলজ লজ্জা নিয়ে সংসার রাখে আমৃত্যু, আর

কোমর জলে ভাসিয়ে রাখে- তাদের ভবিষ্যৎ। 


তাদের কাছে চাল ডাল নয়- পচা ফুল পাতা ভেসে  যায় আশীর্বাদ হয়ে। 


ডুবতে ডুবতে, 

শেষ বারের মতো, মা'ও বুঝে নেয় অনেককিছু। 

বুঝে নেয়, আগমনীর চেয়ে 

বিসর্জনের হাত অনেক, অনেক বেশি শক্তিশালী।