শরতের আগমন —৩০
প্রকৃতি ও আয়ুধ নিয়ে তৈরী
শরতের আগমন —৩০
প্রকৃতি ও আয়ুধ নিয়ে তৈরী
শরতের আগমন —২৯
শিউলি ফুল আর মিঠে-কুয়াশা
শরতের আগমন —২৮
ওই তো আসছে দূর্গা
পুষ্পিতা চট্টোপাধ্যায়
ওই তো আসছে দুর্গা, আমি শুনছি পদধ্বনি
রিনিকি ঝিনিকি রিনিকি ঝিনিকি নুপুরের ঝনঝনি
ওই তো আসছে দুর্গা, আমি আকাশে পেতেছি কান
সোনা রোদ বেয়ে তিরতির আসে আগমনী সম্পান
ওই তো আসছে দুর্গা, তাই এত আলোময় সুর
বাতাসে ভাসছে তারই মূর্চ্ছনা দূর হতে বহুদূর
দুর্গা আসছে দুর্গা আসছে, হাসছে নদীর তীর
কাশফুল দোলে দোলনা বাতাসে, সাদা মেঘ করে ভীড়
দুর্গা আসছে দুর্গা আসছে, সাদা- কমলার বেশে
কোথাও কি আজো শিউলি ফুটেছে সুগন্ধি ভোরে হেসে
ওই তো আসছে দুর্গা, ভোরে শিশিরের ছোঁয়া লেগে
মহালয়া ভোর, অপেক্ষা তোর, আমরা তো আছি জেগে
এসো মা দূর্গা, দশভূজা বেশে মণ্ডপ করো আলো
এসো বরাভয়, অভয় হাতেই দূর করো যত কালো।
শরতের আগমন —২৭
বছর চল্লিশ পর
শরতের আগমন -২৬
ঋতুবোধ
অশোক রায়মনের মনিকোঠায় আমার একটা
ঋতুবোধ পত্রিকা আছে
যখন পাতা ওল্টাই
ইচ্ছেমত শীত গ্রীষ্মর দল উঁকি দেয়
হোক নিম্নচাপে ঘোর বর্ষা,
হোক না শরতের আসমানে অকাল বজ্রনিনাদ
আর যখন ভালো লাগছে না
তখন ঋতুবোধ নিয়ে আসে
ভালোলাগার নীল, কাশের বন
সাদা মেঘের পাঁতি, উজ্জ্বল রোদ
আবাহনে মা আসেন ঘরে
উৎসবের ঢাকে উদ্দাম কাঠি
ইলিশের স্বাদ জিভে জল
কুয়াশা মোছে আনন্দের ঢল
আমার শরৎ রইল আমার কাছে
অন্তরে খুশি ছল ছল ছলাৎ...
শরতের আগমন -২৫
কোনটা আসল পূজা
দুর্গা শংকর দাশ
তুই তো মা,এই ধরা ধামে
আসবি শরৎ এলে।
সঙ্গে নিয়ে আসবি অসুর,
আনবি ছেলে পুলে।।
খোস মেজাজে পূজা পাবি
মণ্ডপে মণ্ডপে।
মাতব্বররা করবে খুশি,
কতই ধূপে দীপে।।
সাজ সজ্জা অনেক দেবে,
উপচারের ডালি।
মন্ডা মিঠাই হরেকরকম,
ভর্তি পূজার থালি।।
দেখাই শুধু সার কথা তোর,
খাবি নাতো মোটে।
তাই বলে তো এত খাবার,
তোর কপালেই জোটে।।
এদিকে ওই জ্যান্ত মা সব,
চাইছে খাবার থালি।
ঘরে বসে চাইছে তারা,
একমুঠো ভাত খালি।।
তবুও ছেলের হয় না দরদ,
করতে মায়ের পূজা।
বুঝিয়ে দে মা তোর ছেলেদের,
কোনটা আসল পূজা।।
শরতের আগমন —২৪
সাইনোভিয়াল হলুদ প্রজাপতি আর মহেশ্বরের সেমিনাল
নিমাই জানাশরতের আগমন —২৩
শরৎ প্রকৃতি
প্রদীপ্ত সামন্ত
বর্ষা ঘন হঠাৎ ফিকে
রোদ ঝলমল দুপুর,
ভ্যাপসা গরম ঘাম যে ঝরে
ফ্যাল ফ্যালে জিব্ কুকুর ।
পুকুর ডোবা খাল নদী বিল
কানায় কানায় জল,
দেখতে ভারি টইটম্বুর
করছে টলমল ।
পদ্ম শালুক শ্যাপলা ঝাঁঝি
টগর হেনা জুঁই,
শিউলি বকুল কুড়োতে ভুঁয়ে
একটুখানি নুঁই ।
সর্দি,কাশি জ্বর ও ব্যথায়
ভীষণ হলাম কাবু,
সঙ্গে থাকে পেটের ব্যারাম
পথ্য জোলো সাগু।
বিশ্বকর্মা,ঘুড়ির উড়ান
রান্না পুজোর চল্,
আসার আগেই মনের হরষ
দুর্গা মাই'কি বল।
শরতের আগমন -২২
নতুন রূপ
অশোক ব্যানার্জী
আজকে দেখলাম শরৎকালের
নতুন রূপ !
আকাশটা বেশ নীলাভ,আর
পেঁজা মেঘের স্তুপ
এদিক ওদিক ভাসছে
আকাশ জুড়ে
সোনালী রোদের ঝিলিক
আকাশ ফুঁড়ে !
গঞ্জে গ্রামে কাশ ফুলেদের
মেলায়
ঝিরঝিরিয়ে বাতাস বয়ে
যায় ।
আনন্দেতে দুলছে কাশের
ফুল
মিষ্টি হেসে করছে
হুলুস্থুল !
শিউলি ফুলের গন্ধে
মাতোয়ারা
দীঘির জলে জল পদ্মের
সারা !
আকাশ জুড়ে উড়ছে দেখি
চিল
বর্ষা শেষে আকাশটা বেশ
নীল!
বাতাসে ওই পুজো পুজো
গন্ধ
পাচ্ছি যেন লাগছে না তো
মন্দ ।
শরতের আগমন -২১
কাশবনে হারিয়ে যাওয়া
পুকুরের পাশে সেই গোয়ালঘর ও আমগাছ
ফাল্গুনের শুরুতে মুকুল আসত যার ডালে
এখনো কি সেভাবেই দাঁড়িয়ে আছে!
গাছতলায় খেলতাম আমরা,খেলতে আসত
রতন, পিন্টু,অনিমেষ,রাজা
আমাদের পায়ের চঞ্চল শব্দ আজও কি শোনা যায়
জমা হওয়া শুকনো পাতার দুপুরে।
তারপর এতোগুলো বছর
কত মেঘ ভেসে গেল পুকুরের ঢেউয়ে
কত মাছের ঘাই মারার চিহ্ন মিশে গেল জলের নিঃশব্দে
এখন আমি শহরে,
শরৎ এলে -
জানলা দিয়ে খুঁজি কাশফুল
আর
মনে পড়ে তিরিশ বছর আগে
মাঠ ও ধানক্ষেত পেরিয়ে
ট্রেনলাইনের ধারে
ছুটে গিয়ে
রোদে ভাসা সেই কাশবনে হারিয়ে যাওয়ার কথা ।
শরতের আগমন -২০
শরতের আগমনী
দুরন্ত বিজলীশরতের আগমন —১৯
শরৎ রাণী
পুষ্প সাঁতরা
শরতের আগমন —১৮
বাজে আগমনী
শরতের আগমন -১৭
জাগরণ
শরতের আগমন —১৬
শিউলি ঘ্রাণে
শরতের আগমন -১৫
একটু দিও সুখ
শ্রীমন্ত দাস
শরৎ আকাশে মেঘেরা চলেছে
ধূম্র ডানা মেলে,
রবির কিরণে মেঘের বুকে
খুশির ঝলক খেলে।
শিউলির হাসি ঝরিছে প্রভাতে
কাশেরা নাচিছে দুলে,
শালুক কমল পাঁপড়ি মেলিছে
শিশিরে দিঘির জলে।
ধীর সমীরণ খেলে ধানক্ষেতে
দোলা লাগে স্থলে জলে,
আগমণী গান গেয়ে চলে কে?
আশাবরি সুর তুলে।
ঢ্যাম কুড় কুড় ঢাকের বাজনা
সাথে সানাইয়ের সুর,
জাগো দুর্গা দশপ্রহরণী
যেন বোধনের সুর।
আসছে পাবণ মাতছে সবাই
দেবীর আগমনে,
তবুও কষ্টে অনেক দুগ্গা
খুশি নয় এক্ষণে।
পথের মাঝে শয্যা ধুলায়
ঘুমায় দুগ্গা রাতে,
অনাথ দুগ্গা পথশিশু
পায় নি সে যে খেতে।
কত দুগ্গা লাঞ্ছতা আজ
পণের বাণে শিকার,
কত দুগ্গা যোগ্য হলেও
পায় নি অধিকার।
মাঠে ঘাটে ফসল ফলায়
উদয়াস্ত খাটে,
তবুও দুগ্গা উপোসে থাকে
খাবার না তার জোটে।
বিশাল বড় ইমারত গড়ে
রক্ত ঘামের জলে,
তবুও তাদের ছাদ জোটে নি
থাকে আকাশ তলে।
মা গো দুর্গা এসো নেমে
ঘুচাও এসব দুখ,
রক্ত মাংসের দুগ্গা কাঁদে
একটু দিও সুখ।
শরতের আগমন -১৪
শরতের আগমন
অমিত কাশ্যপ
একটা একটা দিন যায় আর মনে হয়
শিশুকাল বেশ ছিল, শরতের
সোনালি ভোর
সেই চেনা গন্ধ, সেই শিউলি ফোটার স্তব্ধতা
যেন পুজো পুজো, আগমনী বার্তা
গ্রামের পালপাড়ার পাশ দিয়ে দোমাটির পর মা যেন
একটু একটু করে সেজে উঠছেন
অসুর হয়ে উঠছেন ভয়ংকর চেহারায়
দুমেয়ে আর দুছেলে সাবেকি মহিমায়
ভেসে উঠছে বাল্যকাল, পাঠশালার পর দৌড় দৌড়
শরতের রোদ মাখছে কুমোরপাড়া ঠাকুর
একটা করে দিন যায় আর মা হয়ে ওঠেন
মৃন্ময়ী থেকে চিন্ময়ী, চিন্ময়ী যেন জগজ্জননী
বরাভয় প্রদান করছেন জগত সংসারে
শরতের আগমন —১৩
শারদীয়া বললেই যেন...
শরতের আগমন —১২
একটি নিজস্ব কবিতা
তৈমুর খান
তোমার কাজের মধ্যে আছি
তোমার আলোর মধ্যে আছি
আমার ক্ষতগুলি শুধু উপশম খোঁজে
বাইরের ভিড়ে যেতে চায় না কেউ আর
অনেক নষ্টের পর যেটুকু বেঁচে আছি
হৃদয় তাতেই বাঁধে ঘর
হয়তো বসন্ত নেই তবুতো কোথাও ঘ্রাণ আছে
স্মৃতির আয়নার পাশে হলুদ ডানার প্রজাপতি
শব্দে শব্দে গুঞ্জন ওঠে
চাক গড়ে উপলব্ধির মৌমাছি
মুখ দেখে নিই একান্ত নিজস্ব মুখখানি
হেসে ওঠো,যে হাসি ভোরের দৃশ্যে মিশে যায়
শরতের নিভৃত উল্লাসে নীলাকাশ হয়
তোমাকেই খুঁজে খুঁজে পাই কাকলি-কূজনে
শরতের আগমন —১১
শরতের আগমনে
গোবিন্দ মোদক
শরতের আগমনে নীল-নীলাকাশ
নদীর দু’ধারে কাশ মলয় বাতাস।
খাল বিল ভরো ভরো শাপলা শালুকে
ভেসে যায় পেঁজা মেঘ মেঘের তালুকে।
টইটম্বুর দিঘি জল পদ্ম-কলি ফোটে
মধুর লোভেতে যতো অলি এসে জোটে।
ভোরে ঝরা শিউলির আহা শোভা কত
ঘাসে ঘাসে শিশিরটা ঝরে অবিরত।
সকালের সোনা রোদে মুক্তোপ্রভা জাগে
সূর্য কিরণ দেয় — নবারুণ রাগে।
স্থলপদ্ম ফুটে ওঠে অপরূপ শোভা
হাজার টগর ফোটে, ফুটে ওঠে জবা।
বুড়ি বোষ্টমী গায় — আগমনী গান
সরোবরে রাজহাঁস সুখে করে স্নান।
প্রতিমা গড়ার কাজে ব্যস্ত শিল্পীপাড়া
পুজো পুজো আমেজেতে মনে জাগে সাড়া।
প্রবাসীরা ঘরে ফেরে শোরগোল কতো
নতুন পোশাকে মাতে খোকা-খুকু যতো।
তাক্কু নাকুড় বাজে — ঢুলিদের ঢাক —
আসছে মা বছর পরে সুখে সবাই থাক॥