লেবেল

শরতের আগমন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
শরতের আগমন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

শরতের আগমন —৩০ ।। প্রকৃতি ও আয়ুধ নিয়ে তৈরী — রবীন প্রামাণিক ।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




শরতের আগমন —৩০


প্রকৃতি ও আয়ুধ নিয়ে তৈরী 

রবীন প্রামাণিক 

তোমার জন্য সমিধ নিয়ে তৈরী হচ্ছে প্রকৃতি 
শ্রাবণী সেজেছে আজ সবুজ শ্যামল প্রগতি ।
তোমার জন্য শরৎ মেলেছে সাদা মেঘের খেলা 
প্রান্তরে সাদা কাশ ফুলের মেলায় লাগে দোলা,
প্রভাতের শিউলি ফুলের সাদা আলপনা  - মালা।

পরনে দে'ব তোমায় সাদা কেরালীয়ান শাড়ি 
সোনালী জোরির কারুকার্য করা বাহারি 
তোমার অঙ্গ শোভায় দে'ব ডাকের অলংকার,
সাদা আলোর ছটায় আমাদের খুলে দে'ব দ্বার।

সব দেবতার মতো প্রকৃতি ও দেবে আয়ুধ -
তুমি এসো- অসুর অহমিকা ক'র চূর্ণ ,
তোমার জন্য প্রহর গুণে চেয়ে আছি শূন্যে 
তোমার পথ চেয়ে হৃদয় আজ বিদীর্ণ ।

সরোবরে শতদল পদ্ম মেলেছে আঁখি 
রাঙা সবুজ আভায়- তোমার তৃতীয় নয়নে
চেয়ে আ'ছ যেন তুমি আজ শত্রু দলনে ।

বৃহস্পতিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

শরতের আগমন —২৯।। শিউলি ফুল আর মিঠে-কুয়াশা — বিকাশরঞ্জন হালদার।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





শরতের আগমন —২৯


শিউলি ফুল আর মিঠে-কুয়াশা 

বিকাশরঞ্জন হালদার 


শিউলি ফুল আর মিঠে-কুয়াশা, কাছে এসে দাঁড়ালেই 'শরৎ' মনে পড়ে

মনে পড়ে ঠাকুর গড়া, কথায় কথায় টান
এর পর তো ঢাকের কাঠি, বেলুন পিস্তল!
পুজোর ক'দিন একটানা ঢেউ মনের দরিয়ায়...

তখন আমারা সত্যিই কত বাঙালি!
এসব একটু ফেলে আসা সময়ের থেকে কুড়িয়ে পাওয়া
দেখেছি শরৎ আসে যায় , তবে তার হিমের ছোঁয়া তেমন'টা ঠিক পাওয়া যায় না আর! 

কোথায় যেন একটা ঘাটতি থেকেই যায় ...ধরণ পালটেছে, 
তবে মিথ্যে কথা বলব না, সম্পর্ক 'টা, মনে রেখে সে

আসা যাওয়া'টা করে!

বুধবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

শরতের আগমন —২৮ ।। ওই তো আসছে দূর্গা — পুষ্পিতা চট্টোপাধ্যায়।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





শরতের আগমন —২৮


ওই তো আসছে দূর্গা

পুষ্পিতা চট্টোপাধ্যায়



ওই তো আসছে দুর্গা, আমি শুনছি পদধ্বনি

রিনিকি ঝিনিকি রিনিকি ঝিনিকি নুপুরের ঝনঝনি

ওই তো আসছে দুর্গা, আমি আকাশে পেতেছি কান

সোনা রোদ বেয়ে তিরতির আসে আগমনী সম্পান

ওই তো আসছে দুর্গা, তাই এত আলোময় সুর

বাতাসে ভাসছে তারই মূর্চ্ছনা দূর হতে বহুদূর

দুর্গা আসছে দুর্গা আসছে, হাসছে নদীর তীর

কাশফুল দোলে দোলনা বাতাসে, সাদা মেঘ করে ভীড়

দুর্গা আসছে দুর্গা আসছে, সাদা- কমলার বেশে

কোথাও কি আজো শিউলি ফুটেছে সুগন্ধি ভোরে হেসে 

ওই তো আসছে দুর্গা, ভোরে শিশিরের ছোঁয়া লেগে

মহালয়া ভোর, অপেক্ষা তোর, আমরা তো আছি জেগে

এসো মা দূর্গা, দশভূজা বেশে মণ্ডপ করো আলো

এসো বরাভয়, অভয় হাতেই দূর করো যত কালো।

মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

শরতের আগমন —২৭।। বছর চল্লিশ পর — সোমা চক্রবর্তী।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 


  শরতের আগমন —২৭


বছর চল্লিশ পর 

সোমা চক্রবর্তী

রাত পোহালেই মহালয়া 
আসবে নতুন ভোর 
পথ চেয়ে তাই রাত্রি কাটাই 
বন্ধু, আমি তোর
স্কুল ড্রেসেতেই দেখতে পাবো
সেই সোনা'দের কাছে
হয়নি মলিন স্মৃতিগুলো
সব যে মনে আছে
এতদিন যারা বুকের ভিতর 
লুকিয়ে চুপটি করে
কালকে আবার কাছে পাব
বলবো হাতটা ধরে 
চল ফিরে যাই আগের দিনে 
সেই যে ছোটবেলায় 
হারিয়েছিলো যা কিছু সব
বড়ই অবহেলায়
আবার ফিরে পেলাম তোদের 
ছিলি সবাই প্রাণে
আজকে আবার আনন্দে তে 
মাতবো সবাই গানে !!

সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

শরতের আগমন -২৬।। ঋতুবোধ — অশোক রায়৷।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



শরতের আগমন -২৬


ঋতুবোধ 

অশোক রায় 

মনের মনিকোঠায় আমার একটা

ঋতুবোধ পত্রিকা আছে

যখন পাতা ওল্টাই

ইচ্ছেমত শীত গ্রীষ্মর দল উঁকি দেয়

হোক নিম্নচাপে ঘোর বর্ষা, 

হোক না শরতের আসমানে অকাল বজ্রনিনাদ

আর যখন ভালো লাগছে না

তখন ঋতুবোধ নিয়ে আসে

ভালোলাগার নীল, কাশের বন

সাদা মেঘের পাঁতি, উজ্জ্বল রোদ 

আবাহনে মা আসেন ঘরে

উৎসবের ঢাকে উদ্দাম কাঠি

ইলিশের স্বাদ জিভে জল

কুয়াশা মোছে আনন্দের ঢল

আমার শরৎ রইল আমার কাছে 

অন্তরে খুশি ছল ছল ছলাৎ...


                                   

রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

শরতের আগমন -২৫ ।। কোনটা আসল পূজা — দুর্গা শংকর দাশ।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 


  

 শরতের আগমন -২৫


কোনটা আসল পূজা

   দুর্গা শংকর দাশ


তুই তো মা,এই ধরা ধামে

   আসবি শরৎ এলে।

      সঙ্গে নিয়ে আসবি অসুর,

          আনবি ছেলে পুলে।।


খোস মেজাজে পূজা পাবি

   মণ্ডপে মণ্ডপে।

       মাতব্বররা করবে খুশি,

           কতই ধূপে দীপে।।


সাজ সজ্জা অনেক দেবে,

   উপচারের ডালি।

      মন্ডা মিঠাই হরেকরকম,

         ভর্তি পূজার থালি।।


দেখাই শুধু সার কথা তোর,

   খাবি  নাতো মোটে।

     তাই বলে তো এত খাবার,

         তোর কপালেই জোটে।।


এদিকে ওই জ্যান্ত মা সব,

   চাইছে খাবার থালি।

       ঘরে বসে চাইছে তারা,

           একমুঠো ভাত খালি।।


তবুও ছেলের হয় না দরদ,

    করতে মায়ের পূজা।

      বুঝিয়ে দে মা তোর ছেলেদের,

          কোনটা আসল পূজা।।

শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

শরতের আগমন —২৪ ।। সাইনোভিয়াল হলুদ প্রজাপতি আর মহেশ্বরের সেমিনাল — নিমাই জানা।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 






শরতের আগমন —২৪



সাইনোভিয়াল হলুদ প্রজাপতি আর মহেশ্বরের সেমিনাল

নিমাই জানা


যোগ আসন । প্রাণায়াম । সমাধি । সাইনোভিয়াল হলুদ জরায়ুর ভেতরে ক্ষতমুখ রক্ততঞ্চন চর্মরোগীদের চামড়া ওঠা দগদগে ক্ষত্রিয় আবাসন,  লাল ডিম্বাণুর মতো এখনই ভেঙে ফেলব হেমিসেলুলোজ রাতের অতিথি জৈবনিক শৃংখল পাঁজর,  আমি রক্ত দোষে দুষ্ট ঈশ্বরীর পেছনে দাঁড়িয়ে এ জন্মের রতিজ তরল দোষ খেয়ে ফেলছি দুই হাত দিয়ে চেটেপুটে , সেমিনাল ভেসিকল বাহিত গভীর লিঙ্গরস মেশানো গোপন অন্ধকার থেকে চকচকে জিংক গুঁড়ো খাচ্ছি

ক্ষতমুখের মতো নগ্নতা সরোবরের ঈশ্বরীরা নিজের ভেতরে সাপ বিষের মতো অতি দধিজ কৈলাস জনপদ থেকে পিচ্ছিল হয়ে নেমে আসে,  মুখে বরফের সর্বনাশ , অট্টহাস্য বরাভয় , ছিন্নমস্তা
মৃত্যুর মতো এতো উদ্ধর্পাতিত আর কিছু নেই ১৮.৫ যোজন দৈর্ঘ্যের লিকলিকে সাপের ল্যাকেসিস , ভোরবেলার ট্রমাটাইজড ময়ূরপঙ্খী নাচ , উল্টানো ক্যাপসুল , লাল অনিষিক্ত বিছানার নিচে জমানো ছটছটে পাথর বীজ বিষাক্ত দাঁত , ভেঙে ফেলছি ছিঁড়ে ফেলছি নাগ পাশ অস্ত্রের তৃতীয় অশ্বক্ষরাকৃতি হ্রদ দিয়ে , দধিবৎ জনু ,  ওঁ করালবদনাং ঘোরাং
ব্যারালগাম অনুভূতি নেই , মৃত্যু তো আছেই অসম্পৃক্ত যৌন ক্ষুধায় তাড়িত উদ্ভিদজ্জ নারীটির পাতলা জিভের মতো , না এটাই একটি ঈশ্বরীয় প্রাক মুহূর্ত , কৈলাস নেই , তার সরোবর নেই তার মহেশ্বর নেই , তার অ্যান্থিক্যাল লোশনের মতো শীতল কাপড় নেই, তার কল্প নেই,  তার মহাপ্রলয় নেই তার মন্বন্তর নেই শুধু ক্ষুধা আছে ,


ক্ষুধার তরল আছে দাঁত চিপলেই নাকি ভেতর থেকে রক্তমাংসের পাকস্থলী উল্টে কার্বোনোফেরাস জনিতৃ প্যারালাল দাঁতগুলো রগ ত্রিশূলের উপর বিষাদ মাটির ধনাত্মক গ্রন্থি নিয়ে নেমে যায় আরো একবার ঈশ্বরী ও কুরুমন্ডলের দিকে , অপরাজিতা ফুলের জংঘাতন্ত্র আছে অথচ ঘোড়াদের প্রিম্যাচিউরড ইজাকুয়েশন নেই

শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

শরতের আগমন —২৩ ।। শরৎ প্রকৃতি — প্রদীপ্ত সামন্ত।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





শরতের আগমন —২৩


শরৎ প্রকৃতি

প্রদীপ্ত সামন্ত 


বর্ষা ঘন হঠাৎ ফিকে 

রোদ ঝলমল দুপুর, 

ভ্যাপসা গরম ঘাম যে ঝরে  

ফ্যাল ফ্যালে জিব্ কুকুর ।


পুকুর ডোবা খাল নদী বিল 

কানায় কানায় জল, 

দেখতে ভারি টইটম্বুর

করছে টলমল ।


পদ্ম শালুক শ্যাপলা ঝাঁঝি

টগর হেনা জুঁই,

শিউলি বকুল কুড়োতে ভুঁয়ে

একটুখানি নুঁই ।


সর্দি,কাশি জ্বর ও ব্যথায়

ভীষণ হলাম কাবু,

সঙ্গে থাকে পেটের ব্যারাম

পথ্য জোলো সাগু।


বিশ্বকর্মা,ঘুড়ির উড়ান

রান্না পুজোর চল্,

আসার আগেই মনের হরষ

দুর্গা মাই'কি বল।





বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

শরতের আগমন -২২।। নতুন রূপ — অশোক ব্যানার্জী।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।

 






শরতের আগমন -২২


নতুন রূপ

অশোক ব্যানার্জী


আজকে দেখলাম শরৎকালের

নতুন রূপ !

আকাশটা বেশ নীলাভ,আর

পেঁজা মেঘের স্তুপ

এদিক ওদিক ভাসছে

আকাশ জুড়ে

সোনালী রোদের ঝিলিক

আকাশ ফুঁড়ে !

গঞ্জে গ্রামে কাশ ফুলেদের

মেলায়

ঝিরঝিরিয়ে বাতাস বয়ে

যায় ।

আনন্দেতে দুলছে কাশের

ফুল

মিষ্টি হেসে করছে

হুলুস্থুল !

শিউলি ফুলের গন্ধে

মাতোয়ারা

দীঘির জলে জল পদ্মের

সারা !

আকাশ জুড়ে উড়ছে দেখি

চিল

বর্ষা শেষে আকাশটা বেশ

নীল!

বাতাসে ওই পুজো পুজো

গন্ধ

পাচ্ছি যেন লাগছে না তো

মন্দ ।

বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

শরতের আগমন -২১ ।। কাশবনে হারিয়ে যাওয়া — অর্ণব মিত্র।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





শরতের আগমন -২১


কাশবনে হারিয়ে যাওয়া

অর্ণব মিত্র 

পুকুরের পাশে সেই গোয়ালঘর ও আমগাছ

ফাল্গুনের শুরুতে মুকুল আসত যার ডালে

এখনো কি সেভাবেই দাঁড়িয়ে আছে!

 

গাছতলায় খেলতাম আমরা,খেলতে আসত

রতন, পিন্টু,অনিমেষ,রাজা

আমাদের পায়ের চঞ্চল শব্দ আজও কি শোনা যায়

জমা হওয়া শুকনো পাতার দুপুরে।

 

তারপর এতোগুলো বছর

কত মেঘ ভেসে গেল পুকুরের ঢেউয়ে

কত মাছের ঘাই মারার চিহ্ন মিশে গেল জলের নিঃশব্দে

 

এখন আমি শহরে,

শরৎ এলে -

জানলা দিয়ে খুঁজি কাশফুল

আর

মনে পড়ে তিরিশ বছর আগে

মাঠ ও ধানক্ষেত পেরিয়ে

ট্রেনলাইনের ধারে

ছুটে গিয়ে

রোদে ভাসা সেই কাশবনে হারিয়ে যাওয়ার কথা ।

                 

মঙ্গলবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

শরতের আগমন -২০।। শরতের আগমনী — দুরন্ত বিজলী।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




শরতের আগমন -২০


শরতের আগমনী

দুরন্ত বিজলী

ভোরের আকাশ শুভ্র এবং নির্মল মনোহর,
রোদের ছোঁয়ায় সকাল আসে উজ্জ্বল সুন্দর।
সাদা মেঘের আনাগোনা একটু ইতিউতি,
সবুজ ধানের মাথায় বৃষ্টি নামার প্রস্তুতি।
কাশফুল আর শিউলি ফুলে আঁকছে আগমনী,
নদীর জলে ইলিশ ধরে জেলে বায় তরণী। 
মেঘ রোদ্দুর খেলা জমে যায়, শরৎ রানীর হাসি-
পাতার ভেতর কুঁড়িগুলো বলছে - এবার আসি।
মায়ের জন্য মুখগুলোকে বাড়িয়ে দিয়ে বলে - 
দুর্গা মা আসবে এবার এই মাটির ধরাতলে। 
এখানে আবার ঘরের দুর্গার  হাসি চোখের কোণে, 
পরিযায়ী প্রিয়জনের ফেরার কথা মনে।  
দুর্গা ফোঁটায় দেয়ালখানা আলো করবে ঘর, 
ঢ্যাম কুড়াকুড়  বাদ্যি বেজে উঠবে চরাচর। 
ঝিরঝিরিয়ে নামবে তখন মিষ্টি সোনাঝুরি,  
শরৎ মানে পুজো পুজো গন্ধ ভুরি ভুরি।   

সোমবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

শরতের আগমন —১৯।। শরৎ রাণী — পুষ্প সাঁতরা।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



শরতের আগমন —১৯


শরৎ রাণী 

পুষ্প সাঁতরা 


মেঘ রঙ পাড় শাড়ির শরীরে শরৎ কলমকারি
শরতাকাশ চোখ রাঙালো চলবে না জারিজুরি।
আমি তো শরৎ রানী তিন নম্বর ঋতু
মাস দুয়েক আনন্দেতে হবো রে ভাই থিতু।
শরৎ ভোরে আকাশ খানা রঙে মাখামাখি
কড়ি কোমল শাঁখের সুরে মায়ের চরণ আঁকি।
কাশের চামর করিব বিজন জবার মালিকা গলে
অপরাজিতার নীল অঙ্গুরী পরাব তোমায় বলে।
মানস সরোবরে নীল কুমুদিনী আনবো সঠিক চিনে
শালুক মালায় সাজাব তোমায় শরৎ রাত্রি দিনে।
সকলেই বাঁচি সকলেই শুচি সকলের শির উচ্চ
বারাঙ্গনার মাতৃদ্বারের মাটিও তো নয় তুচ্ছ।
তব আগমনে মন্দ্রিত হোক মধুময় সম্প্রীতি
তন্দ্রিত সুরে সাম্য মৈত্রী বাজুক ঐক্য গীতি।।

রবিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

শরতের আগমন —১৮।। বাজে আগমনী — দীপক বন্দ্যোপাধ্যায়।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





শরতের আগমন —১৮


বাজে আগমনী

দীপক বন্দ্যোপাধ্যায়

নিসর্গ জুড়ে ফোটা কাশফুল
যেন আনন্দ ধরে না আর হাওয়ার দোলায়
অপু-দুর্গা ছুটে যায় আশ্চর্য দৃশ্যের টানে
ধোঁয়া ছেড়ে চলে যায় রেলগাড়ি ...

স্মৃতি টেনে রাখা সেই কবেকার---
সত্যজিতের ছবি শরতের অনবদ্য দৃশ্যে
কাশফুল শরৎ আর আগমনী
যেন সখী তিনজনে

রামকুমারের আগমনী গানে ----
প্রাণ ভরে উঠেছিল তাতে
আশ্বিনের শারদ প্রভাতে
বীরেন ভদ্রের চন্ডীপাঠ আর
"বাজলো তোমার আলোর বেণু" ...

শরতের ঘ্রাণ নিতে নিতে ফিরে আসি
জীবনানন্দের "রূপসী বাংলা"-র কাছে
সেখানেই যেন ঠিকঠাক মিশে আছে ----
এই বাংলার মাঠ ঘাট ভাটফুলে ভরা
জ্যোৎস্নাপ্লাবিত বাংলাদেশ আপনার বেশে

শরতের শিশির ভেজা আগমনী সুর সেখানে
মিশে যায় আবহমান বাংলার নিসর্গ আভাসে

শনিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

শরতের আগমন -১৭ ।। জাগরণ — দীপক বেরা।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




শরতের আগমন -১৭


জাগরণ 

দীপক বেরা 

প্রবাহিত রক্তের ভিতর মাথা চাড়া দেয়
হিংসা-বিদ্বেষ, কূটনীতি, রাজনীতি, লোভ
চেতনাশূন্য হতে হতে 
লোভী হাতটা ক্রমশ নিচে নামে
দুর্নীতির একেবারে আঁতুড়ঘরে ঢুকে যায় 
রাত্রির বুক চিরে অচেনা অন্ধকার নেমে আসে
গান্ধর্ব জীবন নিয়ে বয়ে যাচ্ছে সময়ের চিহ্ন 
দৃশ্যপট থেকে সরে যায় নিষ্ক্রান্ত জীবনের পথরেখা.. 

তবু অন্ধকার চিরে কীভাবে যেন ঠিক শরৎকাল আসে
ভোরের শিউলিঝরা উঠোনে মুঠোভরা স্মৃতিসুখ
হারানো শৈশবের দুর্গাদালানে আবার বাঁশ, খড়, মাটি
এভাবেই প্রতিটি শরতে চলে এক পুনর্নির্মাণ
মৃন্ময়ী অবয়বের ভিতর চিন্ময়ী মায়ের অন্বেষণ
অধিষ্ঠাত্রী মায়ের আমাদের ভিতর ঘরে বসত
চিন্তার প্রকোষ্ঠে তাই ঐশী চেতনার মৃদু নেভা-জ্বলা
মনের অন্ধকারে জমে ওঠা নিদ্রার ভিতর থেকে
উঠে আসে শরতের এক আশ্চর্য দিব্য জাগরণ! 

শুক্রবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

শরতের আগমন —১৬ ।। শিউলি ঘ্রাণে — বিকাশ চন্দ,।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



শরতের আগমন —১৬


শিউলি ঘ্রাণে 

বিকাশ চন্দ

ভাসিয়ে দিলাম নীল আকাশে
আগমনীরই চিঠি,
শূন্যে ওড়ে মগ্ন পালক মেঘ
রোদ হেসেছে মিঠি। 

কোঁচড় ভরা শালুক ফুল হাসি
এই তো চেনা ফুলকি,
তিন চোখে হাসি কাশের বনে
এই দেখাতে ভুল কি ! 

ভরে আছে সব নয়ানজুলি
শ্বেত পদ্ম নীল পদ্ম,
এটাই এখন ঝিল সরোবর
আনন্দে পাগল বদ্ধ। 

জঠর জ্বালা কঠিন বড় তাও
তবু মুখে চাঁদের হাসি,
রোদ বৃষ্টি এমন শরৎ আকাশ 
বাজলো আলোর বাঁশি। 

কার হাসিতে ঝরে অমৃত সুধা
কোন হাসি ভরে প্রাণে,
ভাঙন সময়েও হাসে খুকুমণি 
ভরিয়ে শিউলি ঘ্রাণে। 

বৃহস্পতিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

শরতের আগমন -১৫ । একটু দিও সুখ — শ্রীমন্ত দাস।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




শরতের আগমন -১৫


একটু দিও সুখ

শ্রীমন্ত দাস


শরৎ আকাশে মেঘেরা চলেছে

ধূম্র ডানা মেলে,

রবির কিরণে মেঘের বুকে

 খুশির ঝলক খেলে।


শিউলির হাসি ঝরিছে প্রভাতে

কাশেরা নাচিছে  দুলে,

শালুক কমল পাঁপড়ি মেলিছে

শিশিরে দিঘির জলে।


ধীর সমীরণ খেলে ধানক্ষেতে

দোলা লাগে স্থলে জলে,

আগমণী গান গেয়ে চলে কে?

আশাবরি সুর তুলে।


ঢ্যাম কুড় কুড় ঢাকের বাজনা

সাথে সানাইয়ের সুর,

জাগো দুর্গা দশপ্রহরণী

যেন বোধনের সুর।


আসছে পাবণ মাতছে সবাই 

দেবীর আগমনে,

তবুও কষ্টে অনেক দুগ্গা

খুশি নয় এক্ষণে।


পথের মাঝে শয্যা ধুলায় 

ঘুমায় দুগ্গা রাতে,

অনাথ দুগ্গা পথশিশু

পায় নি সে যে খেতে।


কত দুগ্গা লাঞ্ছতা আজ

পণের বাণে শিকার,

কত দুগ্গা যোগ্য হলেও

পায় নি অধিকার।


মাঠে ঘাটে ফসল ফলায়

উদয়াস্ত খাটে,

তবুও দুগ্গা উপোসে থাকে

খাবার না তার জোটে।


বিশাল বড় ইমারত গড়ে

রক্ত ঘামের জলে,

তবুও তাদের ছাদ জোটে নি

থাকে আকাশ তলে।


মা গো দুর্গা এসো নেমে

ঘুচাও এসব দুখ,

রক্ত মাংসের দুগ্গা কাঁদে

একটু দিও সুখ।

বুধবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

শরতের আগমন -১৪।। শরতের আগমন — অমিত কাশ‍্যপ।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



শরতের আগমন -১৪


শরতের আগমন 

অমিত কাশ‍্যপ


একটা একটা দিন যায় আর মনে  হয়

শিশুকাল বেশ ছিল, শরতের 

সোনালি ভোর

সেই চেনা গন্ধ, সেই শিউলি ফোটার স্তব্ধতা

যেন পুজো পুজো, আগমনী বার্তা 


গ্রামের পালপাড়ার পাশ দিয়ে দোমাটির পর মা যেন 

একটু একটু করে সেজে উঠছেন 

অসুর হয়ে উঠছেন ভয়ংকর চেহারায়

দুমেয়ে আর দুছেলে সাবেকি মহিমায়


ভেসে উঠছে বাল‍্যকাল, পাঠশালার পর দৌড় দৌড় 

শরতের রোদ মাখছে কুমোরপাড়া ঠাকুর

একটা করে দিন যায় আর মা হয়ে ওঠেন 

মৃন্ময়ী থেকে চিন্ময়ী, চিন্ময়ী যেন জগজ্জননী

বরাভয় প্রদান করছেন জগত সংসারে


মঙ্গলবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

শরতের আগমন —১৩।। শারদীয়া বললেই যেন... — সমাজ বসু।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

    

 



শরতের আগমন —১৩


 শারদীয়া বললেই যেন...

সমাজ বসু



আশ্বিন মানে সাদা মেঘের বজরা,
রাস্তা জুড়ে মন্ডপ,আলোর তোরণখুঁটি কিংবা---
ত্রিপল ছাউনিতে শেষ তুলির টান।

আবার অবসাদ ও কষ্টও অমেরুদণ্ডী কুয়াশার মত
হেঁটে বেড়ায় কিছু মানুষের দিনযাপনে ---
স্বজন হারানোর মুদ্রা খুঁজে আনে এই কটাদিন 
গল্পের সকাল সন্ধ্যায় চারুপাঠ হয়ে ওঠে আর 
তখনই ছিঁড়ে যায় আশ্বিন। আশ্বিনের বাউল রং।

তবু ---
শারদীয়া
বললেই যেন এক ক্লান্তিহীন অবয়ব চলে আসে
আমাদের বোধবৃত্তে ।

সোমবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

শরতের আগমন —১২।। একটি নিজস্ব কবিতা — তৈমুর খান।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





শরতের আগমন —১২



একটি নিজস্ব কবিতা

তৈমুর খান 



তোমার কাজের মধ্যে আছি

 তোমার আলোর মধ্যে আছি

 আমার ক্ষতগুলি শুধু উপশম খোঁজে

 বাইরের ভিড়ে যেতে চায় না কেউ আর

 অনেক নষ্টের পর যেটুকু বেঁচে আছি

 হৃদয় তাতেই বাঁধে ঘর


 হয়তো বসন্ত নেই তবুতো কোথাও ঘ্রাণ আছে

 স্মৃতির আয়নার পাশে হলুদ ডানার প্রজাপতি

 শব্দে শব্দে গুঞ্জন ওঠে

 চাক গড়ে উপলব্ধির মৌমাছি


মুখ দেখে নিই একান্ত নিজস্ব মুখখানি

হেসে ওঠো,যে হাসি ভোরের দৃশ্যে মিশে যায়

শরতের নিভৃত উল্লাসে নীলাকাশ হয়

তোমাকেই খুঁজে খুঁজে পাই কাকলি-কূজনে

রবিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

শরতের আগমন —১১ ।। শরতের আগমনে — গোবিন্দ মোদক।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





শরতের আগমন —১১


শরতের আগমনে

গোবিন্দ মোদক

 

শরতের আগমনে নীল-নীলাকাশ 

নদীর দু’ধারে কাশ মলয় বাতাস। 

খাল বিল ভরো ভরো শাপলা শালুকে 

ভেসে যায় পেঁজা মেঘ মেঘের তালুকে। 

টইটম্বুর দিঘি জল পদ্ম-কলি ফোটে 

মধুর লোভেতে যতো অলি এসে জোটে। 

ভোরে ঝরা শিউলির আহা শোভা কত 

ঘাসে ঘাসে শিশিরটা ঝরে অবিরত। 

সকালের সোনা রোদে মুক্তোপ্রভা জাগে 

সূর্য কিরণ দেয় — নবারুণ রাগে। 

স্থলপদ্ম ফুটে ওঠে অপরূপ শোভা 

হাজার টগর ফোটে, ফুটে ওঠে জবা। 

বুড়ি বোষ্টমী গায় — আগমনী গান 

সরোবরে রাজহাঁস সুখে করে স্নান। 

প্রতিমা গড়ার কাজে ব্যস্ত শিল্পীপাড়া 

পুজো পুজো আমেজেতে মনে জাগে সাড়া।

প্রবাসীরা ঘরে ফেরে শোরগোল কতো 

নতুন পোশাকে মাতে খোকা-খুকু যতো। 

তাক্কু নাকুড় বাজে — ঢুলিদের ঢাক —

আসছে মা বছর পরে সুখে সবাই থাক॥