লেবেল

অণুগল্প মুক্ত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অণুগল্প মুক্ত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৫

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। এপ্রিল সংখ্যা।। ।। অণুগল্প (মুক্ত) -২৪।। ছোকরা — দিলীপ রায় ।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।




    ।। প্রতিদিন বিভাগ।। 

   ।।  এপ্রিল সংখ্যা।। 

   ।।  অণুগল্প  (মুক্ত) -২৪।।




 ছোকরা  

 দিলীপ রায়  


        দাদু ব্যাগ দুটো আমাকে দিন ?

        কেন ? ব্যাগ দুটো দেব কেন ? তোমাকে তো  চিনি না ! 

        আমি ব্যাগ দুটো বয়ে  আপনার বাড়ি পৌঁছে দেবো । ব্যস্‌ এইটুকুই । এতে চেনাচেনির কী দরকার  ? 

         দিন-কাল ভাল না । এই বয়সে আমি আর ঝুঁকি নিতে পারবো না  !

         কীসব আবোল-তাবোল  ভাবছেন । যেটা বলছি সত্বর করুন ।

         তারপর আবার বলল, আপনি  খুব বিরক্তকর মশাই ! কোথায় যেচে উপকার করতে চাইছি, আর আপনি আমাদের মিথ্যা সন্দেহ করছেন ।  তবে জেনে রাখুন, আমি অসৎ নই ।  আমি বাড়ি চললাম ।  

       দাঁড়াও বৎস !  ঠিক আছে, ব্যাগ দুটি নাও । তবে একটা শর্ত ! 

        আবার কীসের শর্ত ?  

         আমার গিন্নী তোমার মতো অল্প বয়সের ছেলে দেখলে তাঁর মন বিগলিত হয়ে  উঠবে এবং দামী দামী খাবার খাওয়াতে চাইবে । তখন তুমি নিজেকে সংযত রাখবে ।

         মুচকি হেসে সুবোধ বালকের ন্যায় ছেলেটা বলল, “ঠিক আছে দাদু । আপনি যেটা চাইবেন সেটাই হবে ।“ 

          এবার বলুন তো, আপনার ছেলে মেয়ে কী  ?

         “তাদের কথা বলো না ভায়া । আমার গুণধর ছেলে থাকে ক্যানাডায় । বৌমা ও নাতিকে নিয়ে তাদের ব্যস্ততম সংসার । দেশে ফেরার সময় নেই । অন্যদিকে মেয়ে ও জামাই জার্মানীতে । ছেলে মেয়ের কথা বলতে গিয়ে দাদু একটু আবেগপ্রবণ হয়ে উঠলেন । একরাশ দুশ্চিন্তার দীর্ঘশ্বাস ফেললেন !

       “কই গো গিন্নি  ?”   বাড়ির উঠোনে দাঁড়িয়ে দাদু হাঁকলেন ।

       ঘুরে তাকিয়ে দেখেন, ব্যাগ দুটি পৌঁছে দিয়ে ছোকরা উধাও !

রবিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৫

। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। এপ্রিল সংখ্যা।। ।। অণুগল্প (মুক্ত) -২৩।। উত্তর জানা নেই — দীনেশ সরকার।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।




    ।। প্রতিদিন বিভাগ।। 

   ।।  এপ্রিল সংখ্যা।। 

   ।।  অণুগল্প  (মুক্ত) -২৩।।




উত্তর জানা নেই

দীনেশ সরকার


        সরমা বেশ কয়েকদিন ধরে লক্ষ্য করছে সুতনু কেমন মনমরা হয়ে স্কুল থেকে ফিরছে। বাড়িতেও বেশী কথাবার্তা বলছে না। ক্লাস সেভেনের ছাত্র সুতনু। ছটফটে ছেলেটা কেমন চুপচাপ হয়ে গেছে। স্কুল থেকে ফিরে দুটো নাকে মুখে দিয়েই বল পিটতে ছুটতো। সেই ছেলে বিকেলটা চুপচাপ ঘরে বসে থাকে। সবসময় কি যেন ভাবছে। ব্যাপারটা সরমার মোটেই ভালো ঠেকছে না। সরমা ব্যাপারটা সুতনুর বাবা সুবিনয়কেও বলেছে।সুবিনয় হেসে উড়িয়ে দিয়েছে, বলেছে 'ওদের এখন বয়:সন্ধিক্ষণ। ওদের মনের হদিস আমরা কেউ পাবো না এখন। চিন্তা কোরো না। অচিরেই সব ঠিক হয়ে যাবে।' তবু সরমা বারকয়েক জিজ্ঞেসও করেছে, 'বাবু, তোর স্কুলে কি কিছু হয়েছে? কারও সাথে ঝগড়াঝাঁটি মনকষাকষি হয়েছে?' 

        সুতনু সংক্ষেপে উত্তর দিয়েছে, 'কই না তো। কিছু হয়নি তো।'

         তবু সরমার মনে খটকা লাগছে। স্কুলে নিশ্চয় কিছু হয়েছে। আজ সুতনু স্কুল থেকে ফিরে জামা-প্যান্ট ছেড়ে বসতেই সরমা সুতনুর পাশে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে জিজ্ঞেস করে, 'বাবু, সত্যি করে আমায় বলতো তোর স্কুলে কি হয়েছে?'

            সুতনু আর নিজেকে সামলাতে পারে না। মায়ের বুকে মুখ গুঁজে হাউ হাউ করে কেঁদে ওঠে। বলে, 'মা, আমি আর স্কুলে যাবো না।'

          'কেন রে স্কুলে যাবি না কেন? কি হয়েছে স্কুলে?'

           'তুমি তো জানো মা বিজ্ঞান আর অঙ্ক আমার প্রিয় সাবজেক্ট। আজ এক সপ্তাহ হয়ে গেল আমাদের অঙ্ক আর বিজ্ঞানের কোন ক্লাস হচ্ছে না। স্যারেরা স্কুলে আসছেন না। তুমি তো জানো শান্তনুস্যার আমাদের কত ভালো বিজ্ঞান পড়ান আর বিবেকস্যার কত ভালো অঙ্ক শেখান। আমরা যে অঙ্কে ১০০ পাই আর বিজ্ঞানে ৯৭/৯৮ পাই সে তো ওই স্যারেদের জন্যই। স্যারেরা যেমন আমাদের ভালোবাসেন তেমনি পড়াটাও আমাদের মাথার মধ্যে ছবির মতো ঢুকিয়ে দেন। আবার শুনছি ইংলিশ টিচার সমরেশস্যারও স্কুলে আসছেন না। সমরেশস্যার আমাদের পড়াতেন না তাই তার সম্বন্ধে বিশেষ কিছু জানি না। কিন্তু শান্তনুস্যার আর বিবেকস্যার না এলে আমরা স্কুলে গিয়ে কি করবো। আজ আমরা ক্লাসের সবাই হেডস্যারের ঘরে গিয়ে জানতে চেয়েছিলাম শান্তনুস্যার আর বিবেকস্যার স্কুলে আসছেন না কেন? হেডস্যার বললেন, শান্তনুস্যার, বিবেকস্যার আর সমরেশস্যারের চাকরি বাতিল হয়ে গেছে তাই তারা আর স্কুলে আসবেন না। মা, শুনেছি খারাপ কাজ করলে মানুষের চাকরি চলে যায়। শান্তনুস্যার আর বিবেকস্যার তো ভালো মানুষ, আমাদের কত ভালোবাসেন, তারা কোনো খারাপ কাজ করতেই পারেন না। তারা সবাই এম এস সি, বি এড। তারা তো পরীক্ষা দিয়ে ইন্টারভিউ দিয়ে চাকরি পেয়েছিলেন। তাহলে তাদের চাকরি বাতিল হ'লো কেন?'

           কি জবাব দেবে সরমা! মিডিয়ার দৌলতে সবই তো দেখছে। একজনের পাপের ফল আর এক জনকে কিভাবে  ভুগতে হচ্ছে। যোগ্য শিক্ষকেরা  কিভাবে রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছে। তার সন্তানের শিক্ষার কথা ভেবে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে সরমা। ফ্যাল ফ্যাল করে তার সন্তানের মুখের দিকে চেয়ে থাকে।

           সুতনু মাকে ধাক্কা দিয়ে বলে, 'বলো না মা, শান্তনুস্যার আর বিবেকস্যারের চাকরি কেন বাতিল হ'লো? দোষ  না করেও কেন তারা শাস্তি পেল?'

             ছেলেকে বুকে চেপে ধরা গলায় সরমা বলে, 'এ প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই বাবা। হয়তো ভগবানেরও জানা  নেই।

শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৫

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। এপ্রিল সংখ্যা।। ।। অণুগল্প (মুক্ত) -২২।। কান্না — সুব্রত চৌধুরী।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।




    ।। প্রতিদিন বিভাগ।। 

   ।।  এপ্রিল সংখ্যা।। 

   ।।  অণুগল্প  (মুক্ত) -২২।।





কান্না 

সুব্রত চৌধুরী 


রাত গাঢ় হওয়ার সাথে সাথে চিতার আগুন নিভে এলো ।

টর্চলাইটের আলোয় ক্লান্ত শরীরটাকে টেনে টেনে

এগিয়ে যাচ্ছে রনজিৎ,পা যেন চলছেই না। ধর্ষিতা মেয়েটিকে নিজ হাতে চিতায় তুলে দিয়েছে। সুলেখা,বড় মেয়ে হিসেবে ভীষণ আহ্লাদি ছিল , কত্তো রকম বায়না ছিল তার। টানাটানির সংসারে কার্পণ্য করতো না রনজিৎ ।

        মেয়েটা স্কুল থেকে ফেরত আসার পথে অপহৃত হলো। বিকেল গড়িয়ে যখন সন্ধ্যা নামলো, তখন ফিরলো পুলিশ ভ্যানে ক্ষতবিক্ষত শরীরে।বড়বাবুর ডাকে থানায় গিয়ে 

শরীর ঢাকা সাদা চাদরটা সরাতেই কচি মেয়েটার চেহারা দেখে আঁতকে উঠেছিল রনজিৎ।শকুনের মতো খুবলে খেয়েছে মেয়েটার কচি শরীর।আর তাকাতে পারছিল না রনজিৎ, মাথাটা চক্কর মেরে উঠল।যখন জ্ঞান ফিরল তখন শ্মশান যাত্রার প্রস্তুতি সম্পন্ন।

ভুতুম পেঁচার ডাকে  সম্বিৎ ফিরে পেলো রনজিৎ,তার

দু’চোখে তখন শ্রাবণের ঝরনাধারা।

হঠাৎ পেছন থেকে  গায়েবী মেয়েলি স্বর ভেসে এলো, "বাবা, কাঁদছো কেন”? 

বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৫

। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। এপ্রিল সংখ্যা।। ।। অণুগল্প (মুক্ত) -২১।। কন্যাজন্ম — জয়শ্রী সরকার।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।




    ।। প্রতিদিন বিভাগ।। 

   ।।  এপ্রিল সংখ্যা।। 

   ।।  অণুগল্প  (মুক্ত) -২১।।



কন্যাজন্ম 

জয়শ্রী সরকার 

মা, মা, মিটসেফে ভাত আর মাছের ঝোল রাখা আছে, খাব ?
না, ভাই খাবে। এঁটো বাসনের পাশে কালকের পান্তা আছে। ওটা গিলে রান্নাঘর পরিস্কার করে বাসন মেজে মাঠে গরু আনতে যা।
খেয়েদেয়ে বাকি কাজ সেরে হাসি গরু আনতে গেল। আঁধার ঘনাল। হাসি বেপাত্তা। পুলিশ এলো। এলো সাংবাদিক। খানাতল্লাশি হলো। সকালে খালপাড়ে মিলল হাসির ক্ষতবিক্ষত দেহ । মুহূর্মুহু ছবি উঠলো। হাসি খবর হয়ে গেলো !

বুধবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৫

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। এপ্রিল সংখ্যা।। ।। অণুগল্প (মুক্ত) -২০।। কবর — শান্তনু ঘোষ।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



    ।। প্রতিদিন বিভাগ।। 

   ।।  এপ্রিল সংখ্যা।। 

   ।।  অণুগল্প  (মুক্ত) -২০।।



কবর

শান্তনু ঘোষ

প্রচন্ড গরমের মধ্যে বাইক চালিয়ে যেতে যেতে শুভ্র ভাবছিল কোন গাছের নিচে দাঁড়িয়ে সে একটি সিগারেট খাবে। হঠাৎ পথের ধারে একটি বিশাল পাঁকুর গাছের ছায়ায় দাঁড়ায় সে। সিগারেট ধরিয়ে ধোঁয়া ছাড়তেই তার চোখে পড়ে পাশে একটি বন জঙ্গলে ভরা জমিতে  সাইনবোর্ড। সাইন বোর্ডে লেখা আছে, হে পথিক, এক মিনিট দাঁড়াও। লেখাটি পড়ে শুভ্র ভিতর থেকে শান্ত হয়ে যায়। মনে মনে  ভাবে কখন কার ডাক পড়ে কেউ জানে না। অথচ আমরা মানুষেরা! এইভেবে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। কবরের উপর লেখা কথার বুঝতে পারে সে মাহাত্ম্য।

মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৫

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। এপ্রিল সংখ্যা।। ।। অণুগল্প (মুক্ত) -১৯।। শিক্ষক — বিকাশরঞ্জন হালদার।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



    ।। প্রতিদিন বিভাগ।। 

   ।।  এপ্রিল সংখ্যা।। 

   ।।  অণুগল্প  (মুক্ত) -১৯।।




শিক্ষক 

বিকাশরঞ্জন হালদার 

১লা বৈশাখের  ছুটি কাটিয়ে, তার স্কুল অ্যাকাডেমি'তে ফিরেছে, ষষ্ঠ শ্রেণির- ইমরান। ক'দিন লেখাপড়ায় মন বসাতে পারছে না কিছুতেই। মনে পড়ছে মা'র হাতের মুগডাল, আলু-পোস্ত, কাতলা-কালিয়া আর কাঁচা আমের চাটনী।হস্টেলে রুমে ১২ জন বন্ধু'র সঙ্গে, ঘুরেফিরে সেইসব গল্প। চিৎকার চেঁচামেচি...থৈ-থৈ করছে ক'জন মিলে, সারাক্ষণ।  হস্টেলের নিয়মে এই রুমে থাকেন বিবেক স্যার।তিনি রুম টিচার। স্বভাব সিদ্ধ ভঙ্গিতে বললেন, সাবধান  করে দিলেন- " সামনে পরীক্ষা, মনে থাকে যেন, শান্ত থাক, পড়াশোনায়  মন দে , না হলে মার খাবি কিন্তু বলেদিলাম... " কে কার কথা শোনে! নিষ্পাপ মন। সে ভুল করে বারবার।   সবকিছু ভুল হয়ে যায় তার। রুমে কোলাহল বাড়িতেই থাকে। একসময় রুম টিচার বেচারা, নিয়ন্ত্রণ  হারিয়ে ফেলেন। চুলের মুঠি ধরে দিলেন দু-চার ঘা। " মনে থাকবে? আর করবি? " " আঃ, লাগছে স্যার, আর হবে না, আর  করবো না, বিশ্বাস করুন... "
রাগে গরগর করছেন বিবেক বাবু।বড়  অসহায় এখন ইমরান! হঠাৎ...নীচু হয়ে ঝুলে পড়তে দেখে, স্যার জানতে চাইলেন- " কী রে? কী হয়েছে? আরাম্ভ'টা করলি কী আবার? " কচি গলায় উত্তর  ফুটে ওঠে- " না স্যার  কিছু না, আপনার পায়ে আমার  পা লেগে গেলো তাই, প্রণাম  করছি... " প্রণাম  করলো সে।
চুলের মুঠি ছেড়ে দিয়ে, ঐ ছাত্রটি'র মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলেন, শিক্ষক। মনে পড়লো- মানুষ  গড়ার কারিগর যে তিনিই !

সোমবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৫

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। এপ্রিল সংখ্যা।। ।। অণুগল্প (মুক্ত) -১৮।। আমার বাবাই - মানস মুখোপাধ্যায়।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

                    



    ।। প্রতিদিন বিভাগ।। 

   ।।  এপ্রিল সংখ্যা।। 

   ।।  অণুগল্প  (মুক্ত) -১৮।।




   আমার বাবাই

   মানস মুখোপাধ্যায় 


দেয়ালে টাঙানো আমার বড্ডো ভালোবাসার বংশ প্রদীপ জ্বালানোর সলতে ।হামাগুড়ি দেওয়া ছবিটা দেখে দেখে শুধুই চোখের তৃষ্ণা মেটাই ।অশ্রুজল পড়ে না মাটিতে বুকের কষ্ট আমার পাঁজর জলাধারে শুধুই জমতে থাকে!পাই না তার শৈশবের গন্ধ ওড়া নিভিয়া মাখানো নরম শরীরের স্পর্শ! ভালো শিক্ষার জন্য আজ সে আমার থেকে বহুদূরে ।বছর ঘুরতেই আবার এসে মায়ামাখানো স্বরে বলবে --বাবাই আমি এসেছি।আবার আমরা মান অভিমানের খেলা খেলবো,হাসবো,খুনসুটি করবো , বেড়াতে যাবো --একটি মাস যেতে না যেতে শিক্ষার নতুন অধ্যায়ের অ্যালার্ম বাজতেই ,গুরুকুলে যাওয়ার সময় কাঁচুমাচু মুখে মৃদু স্বরে আমার পিছনে দাঁড়িয়ে বলে--বাবাই আমি চলে যাচ্ছি।অন্যমনস্ক আমি ঘুরে জড়িয়ে ধরে ভেজা চোখে আদর করে বললাম --বাবু চলে যাচ্ছি বলতে নেই,বলো -আসছি ।বুকফাটা কষ্টে আমার দু'চোখ ভিজে যাচ্ছে। তবুও অশ্রুজল মাটিতে স্পর্শ করছে না! ফোঁটা ফোঁটা অশ্রু জলে ভরে উঠছে আমার পাঁজরের জলাধার।





রবিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৫

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। এপ্রিল সংখ্যা।। ।। অণুগল্প (মুক্ত) -১৭।। শৈশব — সোমা চক্রবর্তী।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।




    ।। প্রতিদিন বিভাগ।। 

   ।।  এপ্রিল সংখ্যা।। 

   ।।  অণুগল্প  (মুক্ত) -১৭।।




শৈশব 

সোমা চক্রবর্তী

ভোর হতেই ভটভট আওয়াজে ঘুম ভাঙে পিলু'র। মনে পড়ে আজ তো ঘোষ-পুকুর ছেঁচা হবে। উঠেই দে ছুট! মা'র চিৎকার পিছনে ফেলে ছুটে আসে পুকুরের কাছে। এই মেশিন দিয়ে জল তোলা দেখা তার খুব  প্রিয়। বাকি, সাঙ্গ-পাঙ্গদের সাথে পুকুরের পাড়ে নেমে সাদা জামরুল  আর লাল জামরুল কুড়োনোর ধুম।জল সরে যায়, পুকুর কাটা হবে।এখন পাঁকের মধ্যে হুটোপাটি, কুচো চিংড়ি আর মৌরলা ধরার পালা।  বড়ো মাছ আগেই ধরে বিক্রী হয়ে গেছে।জামা ভর্তি জামরুল আর মাছ-চিংড়ি নিয়ে পাঁক মাখা গায়ে বাড়ি ফিরলো পিলু। জানতো কপালে আজ দুঃখ আছে।কাদামাখা  মূর্তি দেখে, মা তো রেগে আগুন! কিন্তু কিছু বলতে গিয়েও, চুপকরে গেলো। বললো সাবান মেখে ভালোকরে চানকরে আয়। পিলু ভাবে মা'র হলো কি আজ!? ভাতের পাতে মৌরলা'র টক, চিংড়ি'র তরকারি।অভাব বকুনি ভুলিয়ে দেয়...

শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৫

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। এপ্রিল সংখ্যা।। ।। অণুগল্প (মুক্ত) -১৬।। অতিব্যক্তিগত — তপনজ্যোতি মাজি।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।




    ।। প্রতিদিন বিভাগ।। 

   ।।  এপ্রিল সংখ্যা।। 

   ।।  অণুগল্প  (মুক্ত) -১৬।।




অতিব্যক্তিগত

তপনজ্যোতি মাজি


তৃষা জানে সৌমিতের মনের শূন্যপ্রহর। জানা আর

না-জানার ব্যবধানই বা কতটুকু। পরিণয় আসলে

অন্তহীন পরীক্ষা পর্বের শুরু যার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দাম্পত্যের রসায়ন। ব্যাখ্যা যাইহোক,মেনে এবং মানিয়ে নেওয়াই দস্তুর। এই পর্যন্ত ভেবে শীতের রোদের মতো হাসিটা মুছে,ওষ্ঠে লিপস্টিক লাগিয়ে এক সেকেন্ডের ভগ্নাংশ সময়ে নিজেকে আয়নায় দেখে নিয়ে,স্বগত বলল,লেটস্ গো।


আজ সৌমিতের জন্মদিন। আয়োজন সম্পূর্ণ। সৌমিত ফিরলে,ফ্রেস হলে,চা কিংবা কফি নেওয়ার পর উদযাপন পর্ব।সৌমিত দেরী করেনি। চেঞ্জ করতে করতে ভেবেছে,আজ তার পার্থিব জীবনের পঁয়ত্রিশ পূর্ণ হলো। তৃষা নিশ্চয় বাহুল্য ছাড়াও সূক্ম কিছু রেখেছে তার জন্যে। এই সূক্ষ্ম কিছুই তো পরমতম।উদযাপন শেষ হলে, সৌমিত ছাদে এসে দাঁড়াল।হাতে রাখা মোবাইল স্ক্রিনে সময় এগারোটা তেত্রিশ।একাই দাঁড়িয়ে ছিল। শূন্য প্রহর। নক্ষত্র দেখছিল। পাশে এসে দাঁড়াল তৃষা। স্ট্রাইপড ঘুম ফ্রক। ছায়া ছায়া। মন্দ্রিত কন্ঠে তৃষা উচ্চারণ করলো,' অতল তোমার সাক্ষাত পেয়ে চিনতে পারিনি বলে হৃদি ভেসে গেল অলকানন্দা জলে....এই শূন্য প্রহরটাই অতিব্যক্তিগত মনে হলো সৌমিতের, তৃষারও।

বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৫

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। এপ্রিল সংখ্যা।। ।। অণুগল্প (মুক্ত) -১৫।। চুপ-রাগ — দীপক বেরা।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।




    ।। প্রতিদিন বিভাগ।। 

   ।।  এপ্রিল সংখ্যা।। 

   ।।  অণুগল্প  (মুক্ত) -১৫।।




চুপ-রাগ

দীপক বেরা 


— আচ্ছা, তোকে যে এত বকি, মারি তাও তুই এত চুপচাপ থাকিস, তোর রাগ হয় না? ছেলেকে প্রশ্ন করেন হরেনবাবু। 
— রাগ? হয় তো। 
— কই? কখনো তো কিছু বলিস না, কিছু তো করিস না? 
— বলি না ঠিকই, —কিন্তু করি তো। 
— করিস? কী করিস? কই, কিছুই তো দেখতে পাই না। 
— আরে বাবা, ওই তো, মানে টয়লেটে যাই। 
— টয়লেটে? টয়লেটে গেলে বুঝি তোর রাগ পড়ে যায়? 
— হ্যাঁ, আমি তোমার টুথব্রাশটা দিয়ে বেশ জোরে জোরে ঘষে ঘষে বেসিন পরিষ্কার করি, রাগ চলে গেলে বেরিয়ে আসি। 
— এ্যাঁ...!!! 

বুধবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৫

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। এপ্রিল সংখ্যা।। ।। অণুগল্প (মুক্ত) -১৪।। সন্তান — সমাজ বসু।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।




    ।। প্রতিদিন বিভাগ।। 

   ।।  এপ্রিল সংখ্যা।। 

   ।।  অণুগল্প  (মুক্ত) -১৪।।



সন্তান 

সমাজ বসু


স্টেশন চত্বরের বাইরে একটা চায়ের দোকানে ওরা প্রায় রোজই আসে। বিমল, শান্তনু আর অজয়। হারুদাকে বলতে হয় না। তিনজনের তিন রকমের চা বানিয়ে দেয়। ওরা এলেই কেলোও লেজ নাড়তে নাড়তে চলে আসে। বিস্কুট, পাউরুটির আশায়।

তিন চারদিন হলো বিমল লক্ষ্য করছে কেলো তার বিস্কুট কিংবা পাউরুটি মুখে করে নিয়ে চলে যাচ্ছে। 

কৌতুহলবশত ওরা কেলোর পিছু এক ভাঙাচোরা গ্যারেজের সামনে গিয়ে দেখে, এক ভিখিরির জন্য কেলো খাবার নিয়ে আসছে। ওদের তিনজনেরই আশ্চর্য হওয়ার পালা।

--- তোমার কেউ নেই? এই কুকুরের বয়ে আনা পাউরুটি খাচ্ছো?

--- বাবু,জন্মের তিনদিন পরই এর মা গাড়ির তলায় চাপা পড়ে মারা যায়। সেই থেকে আমিই একে লালন করছি। আমার সন্তানের মত। ভিক্ষা করে যা জোটে বাপ বেটায় চলে যায়। এখন এই ঠান্ডায় শরীর খুব খারাপ। বেরতে পারি না। বাবার কষ্ট বুঝে ছেলেই এখন খাবার নিয়ে আসছে।

হঠাৎ ওদের তিনজনের চোখেই সব দৃশ্য কেমন ঝাপসা হয়ে এলো।




মঙ্গলবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৫

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। এপ্রিল সংখ্যা।। ।। অণুগল্প (মুক্ত) -১৩।। বোকার হদ্দ —পুষ্প সাঁতরা।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



    ।। প্রতিদিন বিভাগ।। 

   ।।  এপ্রিল সংখ্যা।। 

   ।।  অণুগল্প  (মুক্ত) -১৩।।



বোকার হদ্দ

পুষ্প সাঁতরা


ক'দিন খেতে পাই নিকিছু ভিক্ষে দাও!
সৌম্য হাত উপুড় করে।জমি জমা বিক্রি করে
বাড়ি করেছি---কিন্ত আমার জায়গা হোল না!
ছেলে রেলের  অফিসারআমি বাসের কনডাক্টর ছিলাম
বুড়ো হাড়ে পারিনি ----এখন কপর্দক শূন্য  আমি একটা বোকার হদ্দ!
আমার রুমটা ছেলে ভাড়া দেবে বলে--- এ কথা বলে কাঁদতে থাকে
সৌম্য বলে,'তুমি আমার বাবা হবে?'তখন চার জোড়া অশ্রুজল জড়িয়েধরে প্রাপ্তির কান্নায়! 

রবিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৫

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। এপ্রিল সংখ্যা।। ।। অণুগল্প (মুক্ত) -১২।। সেই মেয়েটি — তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।




    ।। প্রতিদিন বিভাগ।। 

   ।।  এপ্রিল সংখ্যা।। 

   ।।  অণুগল্প  (মুক্ত) -১২।।




সেই মেয়েটি

 তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য 

হঠাৎ    একটি মেয়ে দৌড়তে দৌড়তে পড়ে অজ্ঞান হয়ে গেল। এই বড় জোর বছর বত্রিশ তেত্রিশ হবে। অসম্ভব শালীন একটা চেহারা। আমি যাচ্ছিলাম হরিশচন্দ্রপুরের উদ্দেশ্য।  চোখে বোতেলর জলই দিলাম... জ্ঞান ফিরল, বললেন স্কুলের দেরি হয়ে গেল। ধন্যবাদ দাদা,  স‍্যরি দুদিন ওষধ খাওয়া হয়নি তাই...। জিজ্ঞাসা করলাম মৃগী ? বললেন না না অহেতুক জীবন যন্ত্রণা আর শরীরের ভেতর একটা মিথ‍্যা ভার।

শুক্রবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৫

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। এপ্রিল সংখ্যা।। ।। অণুগল্প (মুক্ত) -১১।। কিছু কিছু রূপকথা — মুক্তি দাশ।।Ankurisha।। E. Magazine।। Bengali poem in literature।।




    ।। প্রতিদিন বিভাগ।। 

   ।।  এপ্রিল সংখ্যা।। 

   ।।  অণুগল্প  (মুক্ত) -১১।।





কিছু কিছু রূপকথা 

মুক্তি দাশ


বিকাশ তলাপাত্র এই তল্লাটের দাপুটে রাজনৈতিক নেতা। সেদিন সকালে জরুরি মিটিংয়ে যাবার জন্যে রেডি। চেয়ারে বসে পায়ে মোজা গলাচ্ছেন, এমনসময় ছ'বছরের মেয়ে তিতলি এসে বলল, "আচ্ছা বাপি, সব রূপকথার গল্প কি 'সে অনেকদিন আগের কথা' বলে শুরু করতে হয়?"

মেয়ের চুলে বিলি কাটতে কাটতে আদরের সুরে নেতা বললেন, "না মা। কিছু কিছু রূপকথা 'যদি নির্বাচিত হই' বলেও শুরু করা যায়।"

বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৫

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। এপ্রিল সংখ্যা।। ।। অণুগল্প (মুক্ত) -১০।। ক্যালেন্ডার —শ্রুতি সামন্ত।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।




    ।। প্রতিদিন বিভাগ।। 

   ।।  এপ্রিল সংখ্যা।। 

   ।।  অণুগল্প  (মুক্ত) -১০।।





 ক্যালেন্ডার

শ্রুতি সামন্ত


ঋতুজার ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছিলো । স্বামী তীর্থ জোরে জোরে ডাকছে। ও বাড়ী থেকে ফোন এসেছে। ঘুম জড়ানো গলায় বললো কে ফোন করেছিল, মা মানে বাবার শরীর ঠিক নেই, ঋতুজা র মা ফোন করেছিলেন  আগের রাত্রে ভালো ঘুম হয়নি ঋতুজার, ঘুমের মধ্যে সে ছেলেবেলাকে দেখেছে, বাবার স্বপ্ন। বাবা ক্যালেন্ডারের প্রতিশব্দ  শেখালেন দিনপঞ্জিকা। কি শক্ত শব্দ বাবা । তোকে যে শক্ত পথে হাঁটতে হবে মা। বাবা কি স্বপ্নে তাঁর চলে যাবার কথা জানিয়ে দিলেন। কি ভাবছি আমি এসব ঋতুজা যখন মনকে প্রবোধ দিতে চাইছে তখন তীর্থ কাঁচের গাড়ির কথা বলছে ফোনে,আমাদের এখনই বেরোতে হবে ঋতুজা। একভাবে তাকিয়ে আছে ক্যালেন্ডারের দিকে ৬ই এপ্রিল। বাকরুদ্ধ, কান্না র জল যে বাবার যাত্রাপথ অমঙ্গল আনবে  । বাপি এখন শক্ত পথে হাঁটবো আমি। স্বগোতোক্তি করছে ঋতুজা।

বুধবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৫

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। এপ্রিল সংখ্যা।। ।। অণুগল্প (মুক্ত) -৮।। প্রতিদিন আমি হে জীবন স্বামী — হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



    ।। প্রতিদিন বিভাগ।। 

   ।।  এপ্রিল সংখ্যা।। 

   ।।  অণুগল্প  (মুক্ত) -৯।।




প্রতিদিন আমি হে জীবন স্বামী 

হীরক বন্দ্যোপাধ্যায় 


প্রতিদিন আমি হে জীবন স্বামী দাঁড়াবো তোমারি সম্মুখে ....বাতাস মুখর হয়ে আছে সুরের সরগমে।
আপনাকে আজ আমার বাড়িতে নিয়ে যেতে পারছি না।দুঃখিত।
কোনও অসুবিধা নেই ।আর তাছাড়া ....একটা কথা জিজ্ঞেস করব।আপনি আমার পিছনে পড়লেন কেন ?কারণ,আমি আপনার প্রেমে পড়েছি।
কি ?
হ্যাঁ, প্রেম।প্রথম দেখাতেই।
মানে ?
ঘাবড়াবেন না,আমার প্রেম তেমন গুরুতর কিছু না।গুরুতর না মানে।
গুরুতর নয় মানে ছেলেদের প্রবণতা হল সুন্দরী মেয়ে দেখলেই প্রেমে পড়ে যাওয়া ।হুটহাট প্রেমে পড়ে যাওয়া ।কী বলছেন,আমি কিছুই বুঝতে পারছি না৷ ঠিক সেভাবে আমিও পড়ে গেছি।
আসলে এটা প্রেম না।এটা মোহ,ক্ষণিকের মোহ।ভয়ংকর কোনও ব্যাপার না।আপনাকে আমার ভালো লেগে গেছে ।আপনি সব সত্যি কথা বলেন।যারা সত্যি কথা বলে তাদের আমার ভালো লাগে।তাহলে আজ আর একটা সত্যি কথা বলি।আপনি অনেক বোকা। 

সোমবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৫

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। এপ্রিল সংখ্যা।। ।। অণুগল্প (মুক্ত) -৮।। সমব্যথী — জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।




    ।। প্রতিদিন বিভাগ।। 

   ।।  এপ্রিল সংখ্যা।। 

   ।।  অণুগল্প  (মুক্ত) -৮।।





সমব্যথী

জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়


   ইতু মুখ কালো করে ফিরে আসাতেও খুশি হতে পারে না অজয়, এক অচেনা যন্ত্রণায় কাতর হয়ে পড়েছে।ভেবেছিল, সামান্য অস্থায়ী কর্মীর চেয়ে ইঞ্জিনিয়ার ছেলে অনেক মূল্যবান।কিন্তু ছেলেটি ফ্রড, চাকরি করে না। ঠকে গেছে ইতু, বিক্রি করার প্ল্যান ছিল, সহৃদয় বাড়িওয়ালার বদান্যতায় এখানে মামার বাড়িতে ফিরেছে, কিন্তু একেবারে ভেঙে পড়েছে।

     একরাশ যন্ত্রণা বুকে নিয়ে মামার বাড়ির দরজায় গিয়ে দাঁড়ায় অজয়।

রবিবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৫

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। এপ্রিল সংখ্যা।। ।। অণুগল্প (মুক্ত) -৭।। মাস্টারদা —মহ:মহসিন হাবিব।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



    ।। প্রতিদিন বিভাগ।। 

   ।।  এপ্রিল সংখ্যা।। 

   ।।  অণুগল্প  (মুক্ত) -৭।।





মাস্টারদা

মহ:মহসিন হাবিব 


কলমের এক খোঁচাতে ছন্দময় জীবনে নেমে এসেছে দুর্ভিক্ষের জাহান্নাম।কমল মাস্টার মশাই দিন রাত তাই অস্থির হয়ে আছেন।মেধা তালিকায় টপার হয়েও জলের মধ্যে মিশতে হয়েছে খাঁটি দুধকে।একদিকে দুধের বাচ্চার মুখের দিকে তাকাতে পারেনা,অন্যদিকে অসুস্থ বাবার মুখ টা আয়নার মত মনের ক্যানভাসে ভাসে।মাস্টারমশাই এর মশাই টুকু তুলে দিয়ে তার স্থানে ধারালো দা টিকে লাগানোর জন্য তৎপর হয়ে উঠেছেন কমলবাবু...

সংসারের সকলের পেটের ভাতের যোগান দিতে তিনি ডাক দিয়েছেন সব চাকরিচ্যুত মাস্টার মশাই দের ," চলো সবে  আমরা নবান্নের সন্ধানে যায়" তার ডাকে সাড়া দিয়েছে অনেকেই।শুরু হয়েছে নতুন ভাবে বাঁচার আন্দোলন। দেখে মনে হচ্ছে অন্য মাস্টার দা সূর্য সেনের আন্দোলন।কমল দা তাই আজ শুধু মাস্টার নয়,সবার কাছে ভরসা যোগানো সেই মাস্টারদা।

শনিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৫

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। এপ্রিল সংখ্যা।। ।। অণুগল্প (মুক্ত) -৬।। স্মৃতি রোমন্থন — তীর্থঙ্কর সুমিত।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।




    ।। প্রতিদিন বিভাগ।। 

   ।।  এপ্রিল সংখ্যা।। 

   ।।  অণুগল্প  (মুক্ত) -৬।।




 স্মৃতি রোমন্থন

তীর্থঙ্কর সুমিত


ভদ্রলোক রোজ সকালে গাছের নিচে বসে ফেলে আসা দিনের কথা অনুসরণ করেন। অতীতে রমা দেবী তার কাছে একটা সুস্থ সকাল চেয়েছিল। আশিস কোনোদিনও অনিশ্চয় জীবনে তাঁকে জড়াতে চাননি। আজ পাকা চুলের মোড়কে আশিস সেই আমাগাছটার কাছে গিয়ে দাঁড়াতেই কে যেন বলে উঠলো "তুমি তো সেই বদলালেই "

মেয়ে অনিমা কোনো একটা ছেলেকে বলছে আর হাসছে।

আশিস দূর থেকে তাদের দিকে তাকিয়ে চোখের জলে স্মৃতি রোমন্থন করল।।

শুক্রবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৫

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।। এপ্রিল সংখ্যা।। ।। অণুগল্প (মুক্ত) -৫।। টিকিট কিনতে পারি নি — হিমাংশুভূষণ বালো।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature। ।




    ।। প্রতিদিন বিভাগ।। 

   ।।  এপ্রিল সংখ্যা।। 

   ।।  অণুগল্প  (মুক্ত) -৫।।





 টিকিট কিনতে পারি নি

হিমাংশুভূষণ বালো

  নিনিষা তের বছরের মেয়ে। গতকাল স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরেনি। বাড়ির লোকজন স্থানীয় ভাবে খোঁজ করে হদিস পায়নি।দ্রুততার সাথে থানা ও বৈদ্যুতিক মাধ্যমে নিখোঁজ বিজ্ঞাপন দিয়ে খোঁজ চলছে।দাপট থাকাতে থানার বড়বাবু নড়ে চড়ে চেষ্টার কসুর করছেন না। বাবা- মায়ের কাছে কিছু প্রশ্ন করলে দু রকম উত্তর আসে।বাবা জানে না।মা একসাথে পড়া ও যাতায়াত করে বলে বক্তব্য রাখে।প্রাইভেট শিক্ষক জানান একসাথে বেড়িয়ে গেছে।ওদের মধ্যে অন্য সম্পর্ক নিয়ে কিছু জানে না।
খবর আসে রানাঘাট জি,আর,পিতে কিছু ছেলে মেয়ে বিনা টিকিটের জন্য আটক আছে।তাদের মধ্যে দেবায়ণ --নিনিষা আছে। নিনিষার বাবা মা ছুটে যায়।
আটকদের মধ্যে মেয়েকে পেয়ে, মুখে ভাঙ্গা চাঁদের মত বাঁকা একটা হাসির আভাসে গোমরা মুখে আলো ছড়াল। বিনা টিকিটের জরিমানার টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে বাড়ির পথে পা বাড়াল।সাথে দেবায়ণ।
কেন পালিয়েছিস--'
দেবায়ণ কে ভালবাসি।তবু তোমাদের বলতে পারিনি, তাই----
যা টাকা ছিল খেতে ফুরিয়ে গেছে। টিকিট কিনতে পারিনি।