লেবেল

বইমেলা সংখ্যার গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বইমেলা সংখ্যার গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২১

বইমেলা সংখ্যার গল্প ।। আমার মৃত্যু - জ্যোতির্ময় দাশ

 



বইমেলা সংখ্যার গল্প   

আমার মৃত্যু

জ্যোতির্ময় দাশ


অফিস থেকে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরে শোবার ঘরে ঢুকেছিলাম বিশ্রাম করতে। দেখলাম সমস্ত খাট জুড়ে আমার মৃতদেহটি সযত্নে শোয়ানো রয়েছে। কোথাও কোনও ত্রুটি বা বিশৃঙ্খলা নেই। পরিচ্ছন্ন সাদা চাদরে শবদেহটি ঢাকা, ধূপ জ্বলছে মাথার কাছে। কিছু ফুলের স্তবকও বুকের উপর পরিপাটি করে রাখা ছিল...


আমার এই আপাত অকালমৃত্যুর কারণ খুঁজতে, অপরাধের সম্ভাব্য তালিকা নিয়ে ভাবতে বসি আমি। দেখলাম,আজ সারাদিন আমি কোনও মিথ্যাচার করিনি। সকালে ভিড় বাসে পাশে গা- ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা সহযাত্রিনীকে মনে মনে নগ্ন করিনি, অফিসে জরুরি ফাইলের আড়ালে হলুদ যৌন -পত্রিকা পড়িনি আজ; নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত সরকারি তথ্য বিরোধীদের হাতে গোপনে তুলে দেবার জন্য আজ টাকা নিইনি ;এমনকি অফিসের নোট প্যাডে লেখা কবিতায় আজ কোনও অশ্লীল শব্দ ব্যবহার না করা সত্ত্বেও, আজ মারা যেতে হল বিনা অপরাধে আমাকে...   


অসাবধানে ঘটে যাওয়া কোনও অনিচ্ছাকৃত পাপাচারের সন্ধানে আমি নিত্য কর্মের ঝুলিটা 

হাতড়াতে থাকি এবার। দেখলাম সকালে গায়েত্রী মন্ত্র পাঠ করছি সঠিক উচ্চারণে; খেতে বসবার আগে যথাবিহিত ধূপধুনো জল - বাতাসা দিয়েছিলাম গৃহদেবতাকে;বাসস্ট্যান্ডে যাবার পথে  ফুটপাতের ধারে তেরোটি অস্থায়ী দেবালয়ের বিগ্রহকে নিয়মমাফিক প্রণাম করছি; ব্লাউজের ছেঁড়া অংশের দিকে না তাকিয়ে অফিস পাড়ার   অন্ধ যুবতী ভিখারিনিকে পয়সা দিয়ে ছিলাম আজ,এমনকি আজ এক অথর্ব বৃদ্ধাকে রাস্তায় পার করিয়েছি হাত ধরে। এতগুলো আপাত ধর্ম -আচরণেরর পরও আজই মারা যেত হল আমাকে... 


আমার মৃত্যুর প্রকৃত কারণটি খুঁজে না পেয়ে আমি যখন যথেষ্ট দিশাহারা এবং বিপন্ন,আমার মৃত দেহটি করুণা করার বিভঙ্গে আমাকে জানালো যে, আমার অমার্জনীয় অপরাধটি ছিল — সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর  নির্বাচনী ভাষণের খসড়াটি রচনা করেছিলাম আমি আজ... 


কৃতার্থ আমি এরপর আমার মৃতদেহটি করজোড়ে প্রণাম করলাম।




----------------------------------------------------------------

আপনিও আপনার মৌলিক  অপ্রকাশিত লেখা পাঠান। মতামত জানান। ভালো থাকুন। 


ankurishapatrika@gmail. com


----------------------------------------------------------------                  

শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২১

বইমেলা সংখ্যার গল্প।। ভুলভাবে ঠিক সিদ্ধান্ত — সুবীর ঘোষ

 




বইমেলা সংখ্যার গল্প    

ভুলভাবে ঠিক সিদ্ধান্ত

সুবীর ঘোষ

 


ক্লাস টিচার ক্লাসে ঢুকে দেখেন আগের পিরিয়ডের শিক্ষক ব্ল্যাকবোর্ডটা মুছে যাননি । তিনি বললেন --–কেউ এসে বোর্ডটা মুছে দিয়ে যা । কে আসবি ? রূপম তুই আয় ।

রূপম এগিয়ে যেতেই স্যার বললেন -- এ্যাই দাঁড়া দাঁড়া  । যা যা শিগগির বাথরুমে যা । ক্লাসের মনিটর মোহন ঝাঁপিয়ে এল--কেন স্যার কী হয়েছে ?

স্যার বললেন -- দেখছিস না  ওর প্যান্টে পটি হয়ে গেছে ।

রূপম  ভয়ে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছে । মোহন  হাঁটু মুড়ে ভালো করে দেখে বলল--না স্যার পটি নয় । এই জলটা পকেট থেকে বেরুচ্ছে । পেছন থেকে নয় । মোহনই রূপমের পকেটটা চাপ দিয়ে বলল---পকেটে নরম নরম কিছু আছে স্যার । স্যার বললেন--কী আছে বের কর । রূপম তো ভয়ে কাঠ হয়ে পকেট চেপে দাঁড়িয়ে । মোহন বলল--ভয় কিসের ? স্যারকে দেখা না কী আছে । মোহন নিজেই তখন টেনে বের করে আনল । পাতলা প্লাস্টিকে ভরা খানিকটা খিচুড়ি । সারা ক্লাস হো হো করে হেসে উঠল । মোহন বলল ---কী রে মিড ডে মিলে খেতে পারিসনি না কী ? রূপমের মুখে রা টি নেই । স্যার বললেন--যা যা প্যাকেটটা ফেলে দিয়ে পা টা ধুয়ে আয়। 

 

 

পল্টু দাস । লোকে বলে খোঁড়া পল্টু । খোঁড়াকে খোঁড়া বলতে নেই । কিন্তু সে তো সত্যি খোঁড়া । তবে জন্ম থেকে পায়ের কোনো দোষ ছিল না পল্টুর । ট্রেনে ট্রেনে খেলনা ফেরি করত সে । চলন্ত ট্রেনে এ কামরা থেকে সে কামরা করতে পারত পল্টু । এ রকম করতে গিয়ে গেল বর্ষার এক দিন তার পায়ের চটি পিছলে যায় । আর সে চলন্ত ট্রেন থেকে লাইনে গিয়ে পড়ে । মরেই যেত হয়তো । নেহাত কপালে পরমায়ু লেখা ছিল । স্থানীয় লোকজন তাকে কাছাকাছি এক হাসপাতালে ভর্তি করে দেয় । প্রাণে বেঁচে যায় পল্টু তবে একটা পায়ের বিনিময়ে ।

সেই থেকে সে গৃহবন্দী । বউ জবা সাত বাড়িতে ঠিকে ঝিয়ের কাজ করে । সাত বাড়ি নয় । এখন ছয় বাড়ি । একটা বাড়ি ছেড়ে দিয়েছে জবা । সে বাড়ির মালকিন বাপের বাড়ি গেছিল ।  রোববার, বাবুটা একাই ছিল । সে  বলে কী না --- সারা দুপুরটা থাকবি ? এখানেই খাবি । আলাদা পয়সা দেব । জবা সেই বেলাতেই কাজ ছেড়ে দিয়েছিল । বকেয়া মাইনে আনতেও যায়নি ।   ট্রেনে খেলনা বেচে পল্টু যা সঞ্চয় করেছিল সব নিজের  শরীর সারাতেই চলে যায় । বসে বসে খেতে গিয়ে বাকিটাও শেষ ।

 

                                             ২

 

জবার চেষ্টায় দু’একবার পাড়ার কাছাকাছি একটা পানবিড়ির দোকান দেবার চেষ্টা যে সে করেনি তা নয় । কিন্তু কেউ বসতেই দেয় না । নিজেদের বিক্রি কমে যাবার ভয় । সবাই বলে কাউন্সিলর না বললে দোকান বসানো যাবে না । পিছিয়ে যায় পল্টু ।

সাত বছরের ছেলে রূপম পৌরসভার স্কুলে পড়ে । মাইনে দিতে হয় না । মিডডে মিলে দিনের খাওয়াটা হয়ে যায় তার ।

ঘরের চালের অবস্থা খারাপ । কিছু খড় কিনে ছাওয়ানো না  করাতে  পারলেই নয়। আগে এ সব কাজ পল্টু নিজেই করত । এখন লোক ডেকে করাতে হবে । তার জন্যে খরচা আছে ।

বেলা চারটেয় স্কুল থেকে ফেরে রূপম । পল্টু বাড়িতেই । একদিন রূপম বলে --জানো বাবা আজ মিডডে মিলে খিচুড়ি আর ডিম দিয়েছিল ।

n  আস্ত ডিম ?

n  হ্যাঁ বাবা একটা গোটা ডিম । এবার যেদিন দেবে তোমার জন্যে পকেটে করে নিয়ে আসব।

n  না বাপ , ডিম আনতে লাগবে না । তুই বাচ্চা ছেলে । তোর এখন ভালোমন্দ খাওয়া দরকার ।  আমার মা চারটে হাঁস পুষেছিল । ছোটবেলায় অনেক ডিম খেয়েছি। 

অন্য একদিন বাবা তাকে বলেছিল--–তোদের বুঝি প্রায়ই খিচুড়ি করে  ? তোর মা-টা না খিচুড়ি করতেই চায় না । কতদিন যে খিচুড়ি খাইনি !

ছেলে কিছু বলেনি । কিন্তু মনে মনে ঠিক করে ফেলেছিল তার বাবাকে সে একদিন খিচুড়ি

খাওয়াবে ।

তার বাবাকে খিচুড়ি খাওয়াতে গিয়ে যে এই কান্ড হবে কে জানত। 




----------------------------------------------------------------------------

মৌলিক ও অপ্রকাশিত লেখা পাঠান। মতামত জানান। 


ankurishapatrika@gmail.com


-----------------------------------------------------------------------------                   

সোমবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২১

বইমেলা সংখ্যার গল্প ।। বিবাহ - বার্ষিকী— শ্যামলী বর্ধন




বইমেলা সংখ্যার গল্প  

বিবাহ - বার্ষিকী

শ্যামলী বর্ধন



বিবাহ বার্ষিকী অনুষ্ঠানে অর্কেস্ট্রায় গান গাওয়ার জন্য আমি আমার মেয়েকে নিয়ে গেছিলাম গোশালার কাছে একটি গলির ভিতর জজ সাহেবের পঁচিশতম বিবাহ বার্ষিকীর অনুষ্ঠান।  সন্ধ্যা সাত টার সময় গেলাম। বিরাট প্যান্ডেল,  লাইট জ্বলছে চারদিক।  ক্কফি, পুচকা, চা এর স্টল। তারপর বিরাট ভূরিভোজের আয়োজন।  কার বিবাহ বার্ষিকীর অনুষ্ঠান সেটা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে বসে রইলাম। আমার মেয়ে গান যেখানেই করতে যায়,  আমি সাথে থাকি। যার ২৫ তম বিবাহ বার্ষিকী সে এসে পরিচয় দিলেন।
                   হালকা সমুদ্র সবুজ রঙের পাঞ্জাবী পরিহিত। মনে হলো খুব চেনা। কোথায় যেন দেখেছি। ঘুরছে ফিরছেন কথা বলছেন অতিথি দের সাথে। আমি সামনে দেখছি তাকে, কিছুই বুঝতে পারছি না।  যাকেই জিজ্ঞেস করছি বলছেন,  বাইরে থাকেন। এ ছাড়া ঠিক মতো কিছুই বলতে পারছেন না। তার স্ত্রী,  শালীরা একে একে পরিচয় দিতে এলেন। শালীরা আমার পূর্ব পরিচিত। তাদের সাথে কথা বললাম। কিন্তু ঘুরে ফিরে সে একই প্রশ্ন, কোথায় যেন দেখেছি? গান শেষ হলো, খাওয়া দাওয়া করছি। এমন সময় জজ সাহেব ও ওনার স্ত্রী কাছে এসে বললেন, ভালো করে খেতে ও আর কিছু লাগবে কি না জিজ্ঞেস করলেন। যতো সামনে থেকে দেখছি, ততই মনটা ঘুরে ফিরে খচ খচ করতে থাকে। খেতে বসে একজন কে দেখে চমকে উঠলাম। পরিচয় করে জানতে পারলাম, ওনার মেজো ভাই এর এই অনুষ্ঠান।  তিনি বড়ো ভাই। কথায় কথায় বললাম আপনাদের বাড়ি অলঙগী ডাঙায় না? হ্যাঁ,  খুব সহজ ভাবেই বললেন। আপনার বাবা,  মা এর সাথে খুব পরিচয় ছিলো।  ওনারা আছেন? না, নেই। আচ্ছা, আপনার যে ভাই বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিল, সকলের অমতে বিয়ে করেছিল, সে কি আপনার ভাই? বললেন, হ্যাঁ।  আজ মা, বাবা চলে গেছেন, ভাই পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে যে অপরাধ করেছিলেন, আজ তার পঁচিশ বছরের ছেলে কে নিয়ে দুই বাড়ির বন্ধন সুদৃঢ় করার জন্যই এই অনুষ্ঠান।  সবাই খুশিতে ডগোমগো। আজ বিমল জেলা কোর্টের জজ সাহেব।  শুধু মা, বাবা দেখতে পারলেন না। তিন ছেলের মধ্যে মেজো ছেলে টিই পড়াশোনায় খুব ছিল।  উজ্জ্বল ভবিষ্যত। বাড়ির সবার খুব আশা ছিল। 
                কিন্তু একটা ছোটো খাটো চাকরি পাওয়ার পরই এরকম ঘটনা ঘটালো। ঘরের সবাই শোকে মুহ্যমান। ভালো ছেলে টিই এরকম করলো। মা, বাবা ত্যজ্য পুত্র করলো। তখন আম ওদের বাড়ির খুব কাছাকাছি অলঙগী ডাঙাতেই ভাড়া থাকতাম। আজ অনুষ্ঠান এ এসে প্রায় কুড়ি বছর পর আরো নিশ্চিত হলাম। যাকে সে বিয়ে করেছে তারা মোট পাঁচ বোন ও এক ভাই। তার স্ত্রী -র মেজো বোন বিহারী। কাছেই বাড়ি ওদের। সবার আগেই বের হয়ে বিয়ে করে পালিয়ে যায়।  তারপর আর দেখতে পাইনি। কতদিন পর দেখছি চেহারায় বয়সের ছাপ পড়েছে, চুলেও কলপ পড়েছে। সেই রকমই চশমা পরে আছে। আজ থেকে কুড়ি বছর আগে এরকম বিয়ে কেও সহজে মেনে নিতো না। পাঁচ বোনের মধ্যে চার ও পাঁচ নম্বরের দুই বোন একটা নার্সারি স্কুল চালাতো অলঙগী ডাঙাতে। সেই স্কুলে আমার ছোটো মেয়েটি পড়তো। তাই খুব ভালো করে চিনি। সব বোন ও এক ভাই এই ভাবেই বিয়ে করেছে। এখনও জজ সাহেবের শ্বশুর শাশুড়ী বর্তমান। ছোট শালী টিই একমাত্র ভালোবাসার লোক কে পায়নি। ছেলে টি বাবা, মা বাড়ির লোকের চাপে অন্য মেয়েকে বিয়ে করেছে। কিন্তু গোপন সম্পর্ক এখনও রেখেছে। এই অনুষ্ঠানে এসে দেখছি পুরোনো প্রেমিকের সাথে লুকিয়ে চুরিয়ে কথা বলছে। সেও নিমন্ত্রণ হয়ে এসেছে।  বিবাহ বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে মাইক, বাজনা, সানাই, অর্কেস্ট্রার গান সব ছাপিয়ে হু হু করে কেও বা কারা যেন কাঁদছে। জজ সাহেবের ঘর আলোয় আলোময়। ভেসে যাচ্ছে সব একাকার। অভিমানে মা, বাবা এসব দেখে যেতে পারলেন না। পালিয়ে গিয়ে বিয়ে তাই ঘটা করে ঢাক ঢোল বাজিয়ে জাঁক জমকে পঁচিশ বছরের বিবাহ বার্ষিকী মানালেন।


--------------------------------------------------------------------------------------------
লাইক করুন 👍👍👍👍👆👆👆👆👆👆👆  

মতামত জানান। 
ankurishapatrika@gmail. com 
--------------------------------------------------------------------------------             

   
  

শনিবার, ২ জানুয়ারি, ২০২১

বইমেলা সংখ্যার গল্প। ফুড়ুৎ পাখি — জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

 




বইমেলা সংখ্যার গল্প   

ফুড়ুৎ পাখি    

জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

কখনো ভাবিনি কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।আমি জয়দেব মিত্র একটা গ্রাম পঞ্চায়েতের
কর্তা।অফিসে চুরির প্রচেষ্টার জন্য থানায় FIR করেছিলুম।তদন্ত করেও কেউ ধরা
পড়েনি।পুলিশি তদন্ত সম্পর্কে আমার মতামত এবং কেস আর চালাতে চাই কিনা তা
জানতেই ডাক।নোটিশ মতো বেলা এগারোটার অনেক আগেই আমি হাজির।
উকিলদের হাত এড়িয়ে পুলিশ কোর্টে ঢুকি। GRO সাহেব খুব ভদ্র আমার মতামত
জানাবার জন্য একটা সাদা কাগজ এগিয়ে দিলেন।লেখার পর বলেন,বেলা ঠিক
দেড়টায় ACJM সাহেবের কোর্টের সামনে এসে দাঁড়াতে হবে।নির্ধারিত সময়ে পুলিশ
কর্তাদের একজন বললেন,আপনি ভিতরের বেঞ্চে গিয়ে বসুন।কেসের শুনানি শুরু
হোলো।কেস বলতে শুধু গরিব মানুষগুলোর মারামারির জন্য পরবর্তী মামলার দিন
ঘোষণা। আমার ডাক আর পড়ে না।হঠাৎ হইহই করে কয়েকজন এজলাসে ঢুকে
পড়লো।দেখি এক অতি সুন্দরী কমবয়সি বধূ,সুন্দর এক যুবক,আর হতদরিদ্র
শুকনো মুখ একটি শ্যামলা যুবক।বাইরে আরও কয়েকজন। শুনানি জমে গেলো
ACJM সাহেবের প্রশ্নে এবং উকিলবাবুদের তর্কে।
সসংকোচে এক পুলিশকর্মীকে প্রশ্ন করি,ব্যাপারটা কী?
গোলগোল চোখ করে অদ্ভুত মুখভঙ্গিমায় তিনি উত্তর দেন,বুঝলেন না -- এটা ফুড়ুৎ
কেস!তাঁর দাঁত বের করা বিকৃত হাসি দেখে গা টা গুলিয়ে ওঠে আমার। বুঝলুম, সুন্দরী
বধূটি কারও সঙ্গে গৃহত্যাগ করেছে।
  বাদী-বিবাদী-আইনজীবীদের সংলাপে জানলুম মাত্র বাইশ বছরের ওই বধূ সুন্দর বর
আর ভালো ঘর ত্যাগ করে স্বেচ্ছায় ওই হতদরিদ্র ফুচকাওয়ালার সঙ্গে চলে যায়।পুলিশ
কেস হওয়ায় কোর্টে হাজির।মেয়েটি নির্দ্বিধায় বলে কোনোমতেই সে তার স্বামী অর্থাৎ সেই
হ্যান্ডসাম ধনী যুবকের সঙ্গে সংসার করবে না,সেই ফুচকাওয়ালাই তার মনের মানুষ আর
তাকে না পেলে সে সুইসাইড করবে।
  অবাক হলুম,বাকি তর্ক-বিতর্ক আর আমার মাথায় ঢোকে না,মানুষের জটিল মনের
গোলকধাঁধা আমি চিনি না।কত অভাবনীয় ঘটনাই যে ঘটে! আমি ভাবতে থাকি...
আমার চোখের সামনে তখন দুটো ছোট্ট পাখি নীল আকাশে উড়ছে,গান গাইছে...
বাসা নেই,খাবারের নিশ্চয়তা নেই...তবু তারা উড়ছে ফুড়ুৎ ফুড়ুৎ....




--------------------------------------------------------------------------------------------

      এই বিভাগে আপনিও  মৌলিক ও অপ্রকাশিত লেখা পাঠান। মতামত জানান। 


ankurishapatrika@gmail. com

---------------------------------------------------------------------------------------------                 

মঙ্গলবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২০

বইমেলা সংখ্যার গল্প ।। চিকিৎসা নির্দেশক (M.R) — যূথিকা দাস অধিকারী

 



বইমেলা সংখ্যার গল্প   

 চিকিৎসা নির্দেশক  (M.R)

যূথিকা দাস অধিকারী 
          


     
 চেম্বারের বাইরে রোগীদের বসার ঘর। বেশ ভিড়, কেউ যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে,কেউ ঝিমোচ্ছে। রোগীর বাড়ির লোকেরা পর্দার ফাঁক দিয়ে উঁকি ঝুঁকি দিতে ব্যস্ত । কখন ডাক আসে...
দেওয়ালের গা -ঘেঁষে  চিকিৎসা নির্দেশক'দের ব্যাগের লাইন।
ডঃ অংশুমালী চট্টোপাধ্যায় রোগী দেখার ফাঁকে ফাঁকে নির্দেশক'দের সাথে কথা বলে নিচ্ছেন। তাতে রোগীর বাড়ির লোকেরা বিরক্ত হচ্ছেন,কিন্তু উপায় নেই ,অপেক্ষা করতেই হবে।
লাইনে ব্যাগ রেখে বাইরে দাঁড়িয়ে গল্প করছে সাত -আট জন নির্দেশক। না কোন কাজের কথা নয়,হাসি মশকরা ই বলা যেতে পারে। 
শুধু একটি ছেলে ছাব্বিশ-সাতাশ বছরের হবে, নির্বাক  চিত্তে শূন্যে তাকিয়ে কি যেন ভেবেই চলেছে। এইভাবে  লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে তার ভালো লাগেনা। কিছুতেই নিজের কাজে পরিতৃপ্ত নয় সে। অন্য কিছু স্বপ্ন ছিল তার।
 অসহায় 'মা' দরজায় দরজায় শাড়ি ফেরি করে ,রাত-দিন সেলাই করে ছেলের স্বপ্ন পুরণ করতে পারেনি।
একটা সময় অভিরূপ বলেছিল  মা-কোথাও কোন কানা-খোঁড়া, কালা-বোবা মেয়ের বাবা যদি আমার উচ্চশিক্ষার  দায়িত্ব নেয় ...আমি প্রতিষ্ঠিত হয়ে সেই মেয়েকে বিয়ে করবো । সেদিন  ভীষণ রকম আঘাত পেয়েছিলেন রূপের 'মা'।  না...... কানা-খোঁড়া ,কালা-বোবা বৌ'এর কথা ভেবে নয়। নিজের অক্ষমতার  কথা ভেবে। বড় অপরাধী লাগছিল নিজেকে। অভাবের চাবুকে ক্ষত-বিক্ষত 'মা' সেদিন ছেলের আকাঙ্ক্ষার অপূর্ণতায় ঝাঁজরা হয়ে যায়।  দুমড়ে- মুচড়ে আছাড়ি -পাছাড়ি খায় ,মা'এর অন্তরাত্মা । বুকে পাথর চাপিয়ে বলেছিল.. আমি নিরুপায় রে বাবা। সংসারের ভার তোকে নিতে হবে।
ক্যাম্পাসিং থেকে পাওয়া  চাকরিটা বাধ্য হয়েই নিয়েছিল অভিরূপ।
বেশ কয়েকটি রোগী দেখার পর  নির্দেশকদের পালা,আকাশ-কুসুম ভাবনা থেকে নজর ফিরেল  চেম্বারের দরজায়। অতনু ভেতরে ঢুকছে। মাঝে আর একজন,তার পর ই অভিরূপের ব্যাগ।
 বাইরে  একজন মাঝবয়সী লোক অসুস্থ  'মা' কে আগলে বসে আছে,বোঝা যাচ্ছেনা ঠিক কী হয়েছে।চোখে-মুখে মাছি ঢুকে যাচ্ছে,অচৈতন্য প্রায়।
অতনু চেম্বার থেকে বেরোনোর সাথে সাথে ---ঐ বয়স্ক লোকটি তার পা জড়িয়ে .. হুমড়ি- খেয়ে পড়ল! ডাক্তার বাবু ডাক্তার বাবু আমার 'মা'কে বাঁচাও। 'মা'ছাড়া আমার আর কেউ নেই গো। আমি যে অনাথ হইয়ে যাব।
অতনু অস্থির হয়ে বলল আরে থামুন থামুন আমি তো ডাক্তার নই। ভেতরে ডাক্তার বাবু আছেন,তাঁর কাছে নিয়ে যান,তিনি আপনার মা'এর চিকিৎসা  করবেন। চিন্তা নেই আপনার 'মা' সেরে যাবেন।
সে তো এক্কেবারে নাছোড়বান্দা! না... বাবু তুমিই বড় ডাক্তার আছো,তুমিতো ঐ ভিতরে বসা ডাক্তার কে  ওষুধের নাম শিখাইতেছিলে,কি রোগের কি ওষুধ লাগে ,কখন কেমুন খাইতে হবে তাও বৈলে দিচ্ছিলে।  আমি পর্দার ফাঁক দিয়া সব দেইখছি। তুমার কাছে উ ডাক্তার সব শিখছে। তুমি যা জান উ তা জানে নাই।.......... তুমি তো ডাক্তারের  মাষ্টার আছো।আমার 'মা'কে বাঁচাও বাবু,আমার 'মা'কে বাঁচাও।।
অভিরূপ  থ'মেরে সব শুনছিল। দেখছিল।হঠাৎ  চোখের সামনে ভেসে ওঠে কাঁধে শাড়ির ব্যাগ ,  চোখের নীচে কালি পড়া  বিবর্ণ  মুখটা। একজন অশিক্ষিত  ,অসহায় অতি সাধারণ লোকের অনুভূতি আর অভিব্যক্তি  এক নিমেষে  বদলে দিল অভিরূপের চিন্তাধারা।
এক ঝটকায় অতৃপ্তির শেকড় ছিঁড়ে বেরিয়ে এল এক সাচ্ছা "চিকিৎসা নির্দেশক"।



--------------------------------------------------------------------------------
আপনিও বইমেলা সংখ্যার জন্য গল্প পাঠান। 
মতামত জানান।
ankurishapatrika@gmail. com

--------------------------------------------------------------------------------