লেবেল

প্রকৃতি -ই সুর সংখ্যা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
প্রকৃতি -ই সুর সংখ্যা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২৯ মে, ২০২২

শুধু কবিতায়.... প্রকৃতি -ই সুর সংখ্যা —৩০ ।। সেন্টু রঞ্জন চক্রবর্তী।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



প্রকৃতি -ই সুর সংখ্যা —৩০

সেন্টু রঞ্জন চক্রবর্তী 




দুরন্ত ছেলেবেলা


অনেকদিন নৌকার পাল দেখিনি

দেখিনি আমার গাঁয়ের সহজ সরল

মানুষের মুখ,

ইট পাথরের খুপরির বাইরে

আমার সে সোনালী অতীত

আজও তাড়া করে

ইচ্ছে করে একটু ছুঁয়ে আসি বন্ধুদের।


মুষলধারে বৃষ্টির কাদাজলে সোনা ব্যাঙের

মিলিত কণ্ঠের সেই মিহি সুর

অনেকদিন শুনতে পাইনি,

শুনতে পাইনি মাঠে ধান কাটার  জারি সারি 

উঠুনে ধান শুকানো আর 

গরু দিয়ে শালীধান মাড়ানো বিকেলের

দারুন ব্যস্ততার দৃশ্য ।


কতকাল চোখে পড়েনি বৈশাখী বাতাসে

আম কুড়ানোর হুড়োহুড়ি,

উঠুনের যাত্রাপালা রূপবান - অরুনশান্তি নিমাইসন্যাস ,

রাতের শেষে কুয়াশায় গা ভিজিয়ে

খোলা মাঠের আইল ধরে হেটে যাওয়ার মতো শান্তি আজ কেবল-ই স্মৃতি।


হল্লা করে ভরদুপুরে

সবার অজান্তে মাঠে ঘুড়ি উড়ানো

বিকেল হলে বকুনির ভয়ে ঘরে ফেরা

আজ তাও স্মৃতি,

শরতের তাল উৎসবে পালা করে রাত জাগা

নিয়মভাঙার দুরন্ত ছেলেবেলার দিনগুলি

আজকে কেবল-ই  অতীত


ইচ্ছে করে আর একবার ছুঁয়ে আসি।








শনিবার, ২৮ মে, ২০২২

শুধু কবিতায়... প্রকৃতি -সুর সংখ্যা -৩০।। অশোক ব্যানার্জী।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





প্রকৃতি -সুর সংখ্যা -৩০

অশোক ব্যানার্জী




আসছে আমের দিন


আসছে আমের দিন

নানান স্বাদের আম

ভাবছি যত মনটা হচ্ছে

আহ্লাদে আটখান।


চোষা, ল্যাংড়া, হিমসাগরে

মন মজেছে তাই

ভাবলে আসে জিভেতে জল

না খেলে পস্তাই।


এক কথাতে বলতে পারি

আমের তো নেই জুড়ি

আমের স্বাদে সবাই মজে

বাচ্চা, বুড়ো, বুড়ি!


নবাবী আম দেখেছো কি?

বলছি একে একে

মির্জাপসনদ্, জাহান্নারা

আম দেখেছো চেখে?


সাহুপসনদ্,স্যারেঙা, 

চম্পা, তোতা,আর

দিলসাধ, সব আম খেলে

বুঝতে মজা তার।


এসব আম তো পাচ্ছ না আর

পাচ্ছ যে সব তাই নিয়েই

বছর বছর সন্তুষ্ট

থাকবে সেসব আম খেয়েই।


সে সবও নয় মন্দ কিছু

সে আম খেলেও মন মাতে

গ্রীষ্ম কালে আম দুধ ভাত

খেতেই পারো রোজ রাতে।












                      

শুক্রবার, ২৭ মে, ২০২২

শুধু কবিতায়... প্রকৃতি -ই সুর সংখ্যা —২৯।। মৌমিতা দাশ।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 






প্রকৃতি -ই সুর সংখ্যা —২৯

মৌমিতা দাশ 




মন কেমনের দিন


১.

নরম মাটিকে ভালোবেসে দেখেছি, 

তারদেওয়া কষ্ট গুলো ও বাঁচিয়ে রাখতে পারে অনন্ত কাল।

যদিও অনন্ত কাল বলে কিছুই হয়না জানি,

তবুও এটাও সত্যি আমাদের হাত ধরে কিংবা না ধরে হেঁটে যাওয়া দশ টি বছর আসলে চিরন্তন ছিল।

তাই আমার গিয়েও যাওয়া হল না।

তুমি হারিয়ে গিয়েও থেকে গেলে ভীষন রকম ভাবে....


২.

এক বিঘত দূরত্ব কমে যায়, কিংবা বাড়িয়ে নিতে হয়।

শহরের সমস্ত শিমুল ঝরে গেলে সে ও চলে যাবে অন্য একটা পথে...

সে পথে পাথর আর নর কঙ্কাল নেই,

মাইল স্টোন ফুরিয়ে যাওয়ার ভয় নেই।

শরীর জুড়ানো উত্তাপ এনে দেবে দেখো কেউ।

গোলাপি পসমিনা র আড়ালে একটা মূর্তি। 

ঠোঁটের কোন ছুয়ে যাওয়া একটা হালকা বাতাস তোলা আছে।

তুলে রাখা আছে আস্ত একটা জীবন।

তোমার জন্য শুধু।


কিছুটা বিষাদ পথ...

এত টা দুর যে আগে কেউ কোনোদিন ভেবে দেখেইনি...

ছত্রাকের কোনো শিকড় হয় কিনা বলে দেয়নি জীবন বিজ্ঞান ক্লাস।

আর তাই জানা ও হয়নি।

কিন্তু মেঘের যে মন খারাপ হয় সেটা তো জেনেছি বৃষ্টির ফোঁটায়....

বাড়ি বদলে বদলে আমরা সবাই কবে যে পথে নেমেছি বুঝতেই পারিনি। 

আর কত টা কিলোমিটার, সেন্টিমিটার নাকি লক্ষ্য লক্ষ্য মাইল পেরিয়ে পৌঁছতে পারবো!

কবে ঘণ্টা বাজবে ক্লাস শেষ হলে!

নিয়ম মত ছুটি হবে কবে? 

একটা জীবন কি শুধু কেটে যাবে ক্লাস রুমে?

আমাদের দেখা হবে না খোলা মাঠ, উপড়ে নেওয়া ধানের ছড়া আর চিল নিয়ে চলে যাওয়া অনন্ত সময়...


৪.

তোমার থেকেই শিখেছি, কি ভাবে পাশে চলতে চলতে হারিয়ে যেতে হয় অন্ধকারে, 

আর তারপর একটা সেই অরবিট সাজিয়ে দিতে হয় রূপকথায়...

রাখাল বালকের বোকা বোকা খেলা...

আজকাল কেউ আর হারায় না,

কে কাকে কখন খুঁজে নেবে তার প্রতিযোগিতা...

অনন্ত কাল আমরা কেবল হারিয়ে এসেছি একে অপরকে।

খুঁজে পাওয়ার তাগিদ আজ বদলে গিয়ে তোমার কক্ষপথে।

অথচ আমি বেমালুম লুকিয়ে গেলাম দিন আনী দিন খাই জীবনে


৫.

ঠিক চোদ্দ বছর পরে আমি নাকি এক রকমের আছি।

অথচ দেখলাম তুমি সেই আগের মতই বাতাসে ছাতিম ওরাও,

বাম হাতে সরিয়ে দাও কানের পাশে জমে থাকা মেঘ,

এমন অসময়ে কে এমন করে তাকিয়ে থাকে বোকার মত?

আমি তো মেলাচ্ছিলাম আমাদের আগের কাঁসাই,

আর তুমি দুটো পাড় জুড়ে ছড়িয়ে দিলে বিসন্ন এক সুখ....

হাতে হাত রেখে পার হলাম না অনেকটা রাস্তা

তবুও থেকে গেলাম দুজন দুজনের পদ্য জুড়ে.. 

জীবন জোড়া মন খারাপ হয়।









বৃহস্পতিবার, ২৬ মে, ২০২২

শুধু কবিতায়... প্রকৃতি -ই সুর সংখ্যা —২৮।। স্বপ্না মজুমদার।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



প্রকৃতি -ই সুর সংখ্যা —২৮

 স্বপ্না মজুমদার



অপূর্ব সুধারাশী পূব গগনে


আহা,,কি আনন্দ আজি আকাশে বাতাসে

সোনালী ঝর্ণা ঝরে, ভোরের পূব দিগন্ত জুড়ে,

সৌন্দর্য সুধা বিচ্ছুরিত হয়, জগৎ অন্তরে!!

আহা,,মুগ্ধ মন ভোরের আলোয় না জানি কি কথা যায় বলে,,

প্রানেতে দেয় দোলা, প্রকৃতি সৌন্দর্য মাধুর্য ছোঁয়ায়,

আহা,, দিন ভর কেনো হয়না এমনটা,,

কেনো হয়না এমন সুন্দর এই পূর্ণ পৃথীবিটা

দূরে ওই পাহাড় মধ্যে,, ঝর্ণা ঝরছে  অবিরত,

ভোর রবি ভালোবাসায় মত্ত, হৃদয় ছুঁয়ে আলিঙ্গন তাকে করছে,

পাহাড় ঝর্ণা অনুরাগে বড়োই হয়েছে আজ অনুরক্ত!!

মন সুখে দেখি রোজ ওই পূব গগনে

কখনো ওড়ে দেখি পাখিরা দিকচক্রবালে,

সকালের ঘুম ভাঙা ভোরে,ওরাও যে বড়ো খুশি অন্তরে

ফিরবার নেই তাড়া এখনই,,. ভোর আলোয় জড়তা ভাঙে,,.

পূবালী মধুর হাওয়া মেখে প্রকৃতি আজ উজ্জ্বলতায় হাসছে,

আহা,,কি অপূর্ব শোভা আজ আকাশে বাতাসে!!

ভোর সুখে ওঠে মন গেয়ে,না জানি কোন সুর আজি ঝরে পড়ে,

হৃদয় আজ খুশির দুয়ার খুলে,বেশ কিছু আবেগি কথা যায় বলে,

থাকে যদি পাশে কেউ তেমন, মনে আনন্দ দোলা লাগে,

যে আছে  শুধুই আমার হৃদয় মন্দিরে।।









বুধবার, ২৫ মে, ২০২২

শুধু কবিতায়... প্রকৃতি -ই সুর সংখ্যা —২৭।। মলয় কুমার মাঝি।।E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





প্রকৃতি -ই সুর সংখ্যা —২৭

মলয় কুমার মাঝি



আলিসাগড়


মানুষ হতে পারলাম !

রোজ কার মতন এক বেলা খাবারের খোঁজে, পথকে ভালো বেসে পথ হাঁটি; গায়ে অপরিচ্ছন্নতা মলিন পোশাক, তীব্র-অসহ‍্য খুদা যন্ত্রণায়, মাথার চুল গুলো মুঠোর ভিতর নিয়ে রোগরাতে-রোগরাতে এক সময় ছিঁড়ে ফেলি;তখন তোমরা কেউ দেখে না,পেটকে শান্ত করার জন‍্য ছুটি, কোন কাজের জন‍্য সন্ধানে, তোমারা পাগল বলে দূর দিয়ে চলে যাও, ভুল করেও জিজ্ঞাসা সে তো অনেক দূরের কথা!

 অকথ‍্য ভাষায় গাল-মন্দ, ঠাণ্ডা-গরম জল ছুঁড়ে দাও, তারপর বাধ‍্য হয় ভিক্ষা বেশ, কেউ দেয় কেউ বা না, তাতেও খিদে থেকেই যায়।

এই তো সেই দিন মাথায় মেরে রক্ত ঝড়িয়ে দিলো,
কালো রাস্তার এক পাশে অবচেতনায় পরেছিলাম;বেশ কিছু দিন,গলির কুকুর গুলো-গায়ের উপর গা দিয়ে শুয়েছিলো,

অন‍্যদিকে কাঁচা মাংস খেকো- হিংস্র শিয়ালের দল,লকলকে জিহ্বা বের করে রক্ত বর্ণ চোখে,টাটকা খাবারের গন্ধ পেয়ে,একে অপরকে বিকট আওয়াজে- ডাকে, দল বদ্ধ হয় ঝাঁপিয়ে পরে,ঠিক সেই সময় পরের হাতে লাথি ঝেঁটা খেকো, কুকুরের দল আমার বাঁচায়। তাদের এক জন ভেবে-তাদের উচ্ছিষ্ট খাবারের কিছু অংশ দিতো।
 
 এই সুশিক্ষিত বিবেক বুদ্ধিমান সমাজ,নিজের 
স্বার্থের বেড়া জালের, গণ্ডির মধ‍্যেই দাঁড়িয়ে; একে আপরের রক্ত ঝরায়, সতস্ফুর্ত মনে অট্ট হাসিতে-হাসে !

এই তো সেই  দিনের পরাধীনতার গ্লানির কথা ভাবলে, চোখের কোণে জল জমাট বাঁধে,সেই দিন ধর্মের নামে,জাতির নামে,অন্যায়ের- বিরুদ্ধে, শোষণের বিরুদ্ধে-এক হতে পেরেছি!  আজও কি,কোনদিন হতে পারবো! 
মনুষ্যত্ব,বিবেক-বুদ্ধি, কোনদিন জাগবে! অন্যের শেখানো বুলি শিখে;তিল-তিলে,এই ভাবেই শেষ হয়ে যাবো...
















মঙ্গলবার, ২৪ মে, ২০২২

শুধু কবিতায়... প্রকৃতি -ই সুর সংখ্যা —২৬ ।। তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য।। Ankurisha।। E..Magazine।। Bengali poem in literature।

 





প্রকৃতি -ই সুর সংখ্যা —২৬

তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য 




বর্ষণ যে পথে আসে 

                  
         
কদমফুল গাছ ভরা শ্রাবণ 
 তবুও বৃষ্টি এখন বন্ধ‍্যা আকাশ তপ্ত মগন।
চোখের জলেই নামে আষাঢ় শ্রাবণ।
প্রেম যার পুঁজি মনে মনে বসন্ত খুঁজি।
কোথায় আছে হায় সে বৃন্দাবন ! 
বসন্ত অবকাশ ক্ষণিক  দীর্ঘশ্বাস।
ফুলহীন গাছ শিমুল পলাশ, 
বহুদূর ককিল পরবাস।
আধুনিক পৃথিবীর  নাগরিক হেঁটে যায়।
তামাটে হৃদয় আর যন্ত্রের কারিগরি।
জঙ্গল কেটে কংক্রিট মসৃণ সরণি। 
ছয় ঋতুর বাহার কোথাও নেই আর।
আবারও নতুন গান বাঁধতে হবে।
জানালা খোলা বাগানের দিকে। 
সবুজে জুড়াবো দু -চোখ 
 কদমফুল, রজনীগন্ধা আর শ্রাবণ সন্ধ‍্যা 
রবীন্দ্রগানে তন্ময় আত্মা।












সোমবার, ২৩ মে, ২০২২

শুধু কবিতায়... প্রকৃতি -ই সুর সংখ্যা —২৫।। দীনেশ সরকার।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





প্রকৃতি -ই সুর সংখ্যা —২৫

দীনেশ সরকার




ভালোবাসি


            
ভালোবাসি প্রকৃতি মা'র সুধাভরা আঁচল
সবুজ প্রান্তর শস্যখেত আর লতা-পাতা ফুল-ফল।
ভালোবাসি পাখির কূজন মিষ্টি-মধুর ছন্দ
অপরূপ সেই মনমাতানো বনফুলের গন্ধ।

ভালোবাসি মৌনী পাহাড় ঝরণা পাগলপারা
নদীর বুকে মুখ লুকিয়ে হয় যে আত্মহারা।
ভালোবাসি সুনীল আকাশ হাজার তারার মেলা
আঁধার রাতে জোনাকিদের লুকোচুরি খেলা।

ভালোবাসি সুনীল সাগর ঢেউ যে রাশি রাশি
অবুঝ এ মন হয় উচাটন তাই তো ছুটে আসি।
ছলাৎ ছলাৎ নদীর বুকে মাঝি-মাল্লার গান
ভাটিয়ালির সুরে সুরে ভরে যে মন প্রাণ।

ভালোবাসি মাঠ-ময়দানে কোলাহল আর খেলা
শিশুর মুখের মধুর হাসি আর সেই বালকবেলা।
ভালোবাসি মিষ্টি সকাল অলির গুঞ্জরণ
মুক্তোসম শিশিরবিন্দু দেয় ভরিয়ে মন।

ঋতুর সাথে প্রকৃতি মা রূপ যে বদলে ফেলে
একই সুরে গাঁথা সবই একই ছন্দ মেলে।
সেই সুরেতেই আমার জীবন বাঁধা আছে জানি
বক্ষে তুলি প্রকৃতি মা'র স্নিগ্ধ আঁচলখানি।