প্রকৃতি -ই সুর সংখ্যা —২৯
মৌমিতা দাশ
মন কেমনের দিন
১.
নরম মাটিকে ভালোবেসে দেখেছি,
তারদেওয়া কষ্ট গুলো ও বাঁচিয়ে রাখতে পারে অনন্ত কাল।
যদিও অনন্ত কাল বলে কিছুই হয়না জানি,
তবুও এটাও সত্যি আমাদের হাত ধরে কিংবা না ধরে হেঁটে যাওয়া দশ টি বছর আসলে চিরন্তন ছিল।
তাই আমার গিয়েও যাওয়া হল না।
তুমি হারিয়ে গিয়েও থেকে গেলে ভীষন রকম ভাবে....
২.
এক বিঘত দূরত্ব কমে যায়, কিংবা বাড়িয়ে নিতে হয়।
শহরের সমস্ত শিমুল ঝরে গেলে সে ও চলে যাবে অন্য একটা পথে...
সে পথে পাথর আর নর কঙ্কাল নেই,
মাইল স্টোন ফুরিয়ে যাওয়ার ভয় নেই।
শরীর জুড়ানো উত্তাপ এনে দেবে দেখো কেউ।
গোলাপি পসমিনা র আড়ালে একটা মূর্তি।
ঠোঁটের কোন ছুয়ে যাওয়া একটা হালকা বাতাস তোলা আছে।
তুলে রাখা আছে আস্ত একটা জীবন।
তোমার জন্য শুধু।
৩
কিছুটা বিষাদ পথ...
এত টা দুর যে আগে কেউ কোনোদিন ভেবে দেখেইনি...
ছত্রাকের কোনো শিকড় হয় কিনা বলে দেয়নি জীবন বিজ্ঞান ক্লাস।
আর তাই জানা ও হয়নি।
কিন্তু মেঘের যে মন খারাপ হয় সেটা তো জেনেছি বৃষ্টির ফোঁটায়....
বাড়ি বদলে বদলে আমরা সবাই কবে যে পথে নেমেছি বুঝতেই পারিনি।
আর কত টা কিলোমিটার, সেন্টিমিটার নাকি লক্ষ্য লক্ষ্য মাইল পেরিয়ে পৌঁছতে পারবো!
কবে ঘণ্টা বাজবে ক্লাস শেষ হলে!
নিয়ম মত ছুটি হবে কবে?
একটা জীবন কি শুধু কেটে যাবে ক্লাস রুমে?
আমাদের দেখা হবে না খোলা মাঠ, উপড়ে নেওয়া ধানের ছড়া আর চিল নিয়ে চলে যাওয়া অনন্ত সময়...
৪.
তোমার থেকেই শিখেছি, কি ভাবে পাশে চলতে চলতে হারিয়ে যেতে হয় অন্ধকারে,
আর তারপর একটা সেই অরবিট সাজিয়ে দিতে হয় রূপকথায়...
রাখাল বালকের বোকা বোকা খেলা...
আজকাল কেউ আর হারায় না,
কে কাকে কখন খুঁজে নেবে তার প্রতিযোগিতা...
অনন্ত কাল আমরা কেবল হারিয়ে এসেছি একে অপরকে।
খুঁজে পাওয়ার তাগিদ আজ বদলে গিয়ে তোমার কক্ষপথে।
অথচ আমি বেমালুম লুকিয়ে গেলাম দিন আনী দিন খাই জীবনে
৫.
ঠিক চোদ্দ বছর পরে আমি নাকি এক রকমের আছি।
অথচ দেখলাম তুমি সেই আগের মতই বাতাসে ছাতিম ওরাও,
বাম হাতে সরিয়ে দাও কানের পাশে জমে থাকা মেঘ,
এমন অসময়ে কে এমন করে তাকিয়ে থাকে বোকার মত?
আমি তো মেলাচ্ছিলাম আমাদের আগের কাঁসাই,
আর তুমি দুটো পাড় জুড়ে ছড়িয়ে দিলে বিসন্ন এক সুখ....
হাতে হাত রেখে পার হলাম না অনেকটা রাস্তা
তবুও থেকে গেলাম দুজন দুজনের পদ্য জুড়ে..
জীবন জোড়া মন খারাপ হয়।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন