লেবেল

দীর্ঘ কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
দীর্ঘ কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২০

দীর্ঘ কবিতা। তপনজ্যোতি মাজি। 'হে বর্ণময়!' ।। (সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াণে শ্রদ্ধায় স্মরণে)

 



দীর্ঘ কবিতা 

তপনজ্যোতি  মাজি


হে বর্ণময়!  

(সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াণে  শ্রদ্ধায় স্মরণে)

                           

 


এক

জ্যোতির্ময়তার সঙ্গে আমাদের অনেকগুলি

সৌরবৎসর কাটলো।

আমরা পুনরায় রিক্ত হলাম।

আমরা পুনরায় নিঃস্ব  হলাম।


বিপুল সাংস্কৃতিক সম্পদ রেখে গেছো দশদিকে।

ঐশ্বর্যময় উত্তরাধিকার।

তবু কেন শূন্য আকাশ?

তবু কেন শূন্য বুকের বাতাস?


কোন দর্শনে কে ছিল কার অনুগামী 

এই সব তর্ক উস্কে দেওয়া মিডিয়ার   

প্রচলিত খেলা।

আমরা জেনেছি আদ্যন্ত সংষ্কৃতিময় তুমি ছিলে

উজ্জ্বল মানুষ।

তুমি ছিলে আর্য পুরুষ।


দুই


উনিশ পঁয়ত্রিশ থেকে দু হাজার কুড়ি।

হে উজ্জ্বলতম!

স্পর্শে অভিব্যক্তিময় করেছো শিল্পের 

একাধিক শাখা।

কবিতার দিগন্তে শব্দের বাঙময় রূপ ঘিরে

মেধার মিশ্রন।

হৃদয় উন্মোচন করে শিখিয়েছো অনহংকারী

কবিতার উচ্চারণ।

বোধের দীপ্তি দিয়ে আলোকিত করেছো অভিনয়

ও চরিত্র রূপায়ন।

রুপোলি পর্দা থেকে নাট্যমঞ্চে  তুমি ছিলে রূপময়

হোমাগ্নি শিখা।

এই শতাব্দীর শেষ কিং লিয়ার।



তিন 


জীবন কি মানস যাত্রা?

নাকি সৌর পরিক্রমা?

এই সব প্রশ্ন থেকে গেল চির অমীমাংসিত।

আরও কিছুদিন , আরও কিছুদিন 

তোমাকে দেখার ইচ্ছা ছিল!

কত কি শেখার ছিল আমাদের !

সাদা পাতার সঙ্গে উড়ে গেল

 না পড়া পাণ্ডুলিপির শত শত পাতা

কোন নিখলের হিম প্রান্তরে!

শীতের সঞ্চারী হওয়া বইছে নগরে ও গ্রামে।

আত্মবিস্মৃত আমরা হয়তোবা ভুলে যাবো

একদিন।

গাং চিল উড়ে যাবে নদী পার হয়ে 

উদাসীন গর্ভবতী মাঠে।

কার কণ্ঠে শুনবো জীবনানন্দ এমন

ধীর গাঢ় স্বরে?

কে শোনাবে শেষের কবিতা তন্ময়

উচ্চারণে?

এমন বর্ণময় ধূসর বয়স!

আহা! এমন সম্ভ্রান্ত

চিন্তন যাপন।


চার 


মিহিন শীতের চাদর গায়ে দিয়ে যে এলো 

সে শান্ত নিষ্ঠুর।

শেষ হলো দীর্ঘ যুদ্ধ।

শেষ হলো উদ্বেগ অধ্যায়।

কে জিতল এই প্রশ্ন শিশির বিন্দুর মতো 

সূর্যালোক ধরে রাখে কিছুক্ষন।

জীবন মরণের সীমানা ছাড়িয়ে 

তুমি আছো নক্ষত্রলোকে কোনও 

রহস্যের সমাধানে।

কিংবা কোনও সংস্কারবিরোধী

আন্দোলনের পুরোধাপ্রতিম হয়ে।

তুমি আসলে স্বপ্নের সওদাগর।

আমাদের শিখিয়েছো কিভাবে যাপিত হয়

উজ্জ্বল জীবন।


পাঁচ 


গাঢ় হচ্ছে রাত্রির অন্ধকার।

মহাসিন্ধুপারে আগুনের শিখা দিগন্ত ছুঁয়েছে 

যজ্ঞ অগ্নির মতো।

সব শেষ।

তবু আশা জাগে তুমি বার বার জাতক জন্ম

পাবে এই শ্যাম বাংলার বুকে।

জীবনানন্দের রূপসী বাংলায় তুমি 

ফিরে আসবে অপরাজিত।





-----------------------------------------------------------------    

রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২০

দীর্ঘ কবিতা।। শিমুল নামের মেয়েটির হাসি — সুধাংশুরঞ্জন সাহা

 




দীর্ঘ কবিতা।। 

শিমুল নামের মেয়েটির হাসি

সুধাংশুরঞ্জন সাহা



জানি, খেলা শেষ হলে
ঘর ভেঙে যায় ।
খেলা এক আদিম প্রতিভা ।
একা চৈত্রমাস সর্বনাশা নয় ।
আষাঢ় শ্রাবণ জানে বাকি সব।
আলগা মাটি, শিকড়চ্যুত ঘাস,
মরা নদী, মজা ঝিল ভেসে যায়।
তুমি আমি আমরাও ভিজে যাই,
আপাদমস্তক।
বৃষ্টির এমন ক্যারিশমা !
হে মেঘকিশোরী, তুমি আমার হারানো প্রেম।
বাতিল সফর মুছে বোনো নতুন গানের কথা।
গিটারে বাজুক ভিন্ন স্বর ।

(২)
বুকের উপর ভেসে আসে মেঘলা আকাশ,
ঘনঘন বিদ্যুৎ চমকায় ।
বাজ পড়ে মুহুর্মুহু ।
কান্নার রোল ওঠে কোথাও ।
আহা ! জীবন, আহা ! ঘরসংসার ।
কে বন্ধু, কে শত্রু,
আর কে বা কারা প্রতিদ্বন্দ্বী,
সব মিলেমিশে একাকার।

(৩)
জল নেমে গেলে ঘুমন্ত রাস্তাও
জেগে ওঠে ফের ।
যাবতীয় দোষারোপ মুছে দিয়ে
চোখের পলকে বদলে যায় আবহাওয়া ।
নিরুপায় মানুষ ঘরে ফেরে আবার ।
রন্ধনশালায় খুন্তি নাড়ে দুবেলা ।
অরণ্যে যায় মধু সংগ্রহে 
চাক ভাঙতে গিয়ে মৌমাছি হুল ফোটায়
অথবা ভীমরুলের তাড়া খায় ।
শীতের জীর্ণ গল্প প্রেম হারায় ।
পাঁচকানে রটে নিষাদ-উপমা।

(৪)
জলে নামিনি ততোটা ।
তবু, ঢেউ আমাকে ভেজায়,
ভাসায় আমাকে বারবার ।
শীত ফুরোতে না ফুরোতেই
অন্ধকারের ক্ষত মুছিয়ে,
দুমুঠো গরম ভাতের দুঃখ ভুলিয়ে,
আগুনের উৎসব শুরু হয়
পলাশের রঙে, শিমুলের ইশারায়।
কিশোরী পায়ের শব্দে
নরম রোদ্দুর ফুঁসে ওঠে মনে ।

(৫)
অক্ষম নই তবুও
অবিশ্বাস্য অন্ধকারে ডুবে থাকি।
যোগ বিয়োগের শূন্য রাতে 
নদীতে বিস্তারিত জোছনা খেলা করে ।
প্রতিশ্রুতি দ্রবীভূত হয় জলে ।
মনখারাপের ফাগুনদিন,
ভুলে যাওয়া বকুলবীথি,
কিংবা শিমুল নামের মেয়েটির হাসি
কতটা চওড়া হলে নিঝুম বিকেল
দ্রুতগতির বাইকে চেপে
বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারতো,
রাত্রি ছাড়া সে খবর কেউ রাখে না ।

(৬)
আজ এসব কথা উসকে দেয় আলোর বিভ্রম,
অনন্ত মায়ার এক বহমান নদী ।
অবয়বহীন সেই রূপে শুধু
রহস্য আর বিস্ময় ।
অপেক্ষার এক চক্রব্যূহে
সত্তার নিবিড় জাগরণ ।
আত্মখননে উঁকি মারে কেবল
শিমুল নামের মেয়েটির হাসি... ।




-------------------------------------------------------------------------------------
এই বিভাগে মৌলিক ও অপ্রকাশিত লেখা পাঠান       

মতামত জানান       

ankurishapatrika@gmail. com

-------------------------------------------------------------------------     

মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

দীর্ঘ কবিতা ।। শঙ্কর তালুকদার



 "এসো, একসাথে
 থেকে জীবনের সোজা ছবি আঁকি" 


শঙ্কর তালুকদার


এসো না, এখনের সময় ও অনন্তের প্রাণ হয়ে আমরা তেমন একসাথে থাকি; 

পার্থিব দূরত্বের দেয়াল যেন সেখানে থেকেও না থাকার স্বর্গকে প্রত্যক্ষ করে একাকী-

দূর প্রান্তর ধরে, ঐ বিস্তীর্ণ সবুজের উপর দিয়ে- যেন প্রবাহিত হয় সেখানে- মাধুরী-মায়া মাখা প্রকৃতির সে মৌসুমী মলয় মেশে জীবনের বাঁকে;

আদিগন্ত কাশবনে যেন সেথায়, আলো আর মায়ার দোলনা তৈরীর মায়াজাল আঁকে;

নির্জন তেমনই আনমোল একাকীত্বের মাঝে- যেন সেদিনের গান হই আমি একখান-

আর,একলা বাউল, যেন গেয়ে চলুক, নরম মাটির সেই গান; 

যা শুনে আজ ও আমি যেন তোমার বুকের উপর মাথা রেখে, পরম শান্তিতে ও নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পরতে পারি;

অপেক্ষার সে নির্যাসেই জীবনের ছবি আঁকার সেই অভ্যাসটা যে আজ দরকার ও ভারী!

মিথ্যা মায়ার এই যাদুর জৌলুসে যেন সে একাত্মতার শপথ কিছুতেই হারিয়ে না গিয়ে করে বিবাগী ;

এসো না, অখণ্ডকালের সব সময়টা জুড়ে, আমরা তেমনই একসাথে থাকার ভাবনা রাখি! 

দাবদাহ থেকে বরফ ঢাকা শীতের কঠিন দিনগুলোতেও যে ফাগুনের ছোঁয়া বা বর্ষার আর্শীবাদ মেখে নিতে পারি আমরা, যদি এক সাথে থাকি!

সময়ের দেয়াল হীন, পার্থিব অস্তিত্বহীনতায় ও স্মৃতির অদম্য ছবি আঁকতে এমন ফলিতেই র'য়ে একাকী- 

সে পাহাড়ি ছেলেটা যে এখনও পাকদন্ডী বেয়ে- 
আরো আরো উঁচুতে উঠেই চলেছে, 

দেখো; সে বোধ হয়, ঐ ঝর্ণাটার কাছেই পৌছোতে চাইছে; 

ঐ, সেই ঝর্ণাটার পাশেই মনে হয় জল আনতে যাওয়া বসুন্ধরার সাথে দেখা হয়েছিল সেবার!

অস্পষ্ট সে জলছবিতেই কি মেঘের তুলিতে তাই- দূরান্তের পাহাড়ী ছবি হ'য়ে, বনবাংলোর জানালার কাঁচে, ফুটে উঠেছে মনের সে সব ফেলে আসা আবছায়ারাই আমার ?

যদিও ছেলেটির পা আজ কেবল ই যেন কেমন টলমলে ও দুর্বল হয়ে পরছে;

তাঁর আঁকাবাঁকা স্নায়ু পথে যেন অনুভূতির সেই তরঙ্গ ও যেন বার্তা দিতে ক্লান্ত হয়ে পরছে !  

তবু ও-তাঁর প্রত্যয়ে ভরা সে লক্ষ্য ও যেন ছুটেই চলেছে –
গন্তর্বে পৌছনোর অদম্য সে লক্ষ্যবিন্দুর দিকে-
যেন অনন্ত কাল ধরে সে ছুটছে!

আমার কটেজের সেই পর্দাগুলি এখনও তেমন ই বনভূমির চালচিত্রের বিচিত্র উজ্জ্বল সবুজ রঙেই রাঙানো রয়েছে;

জানালার অপর পারে, দূরের পাহাড়ে- আকাশের মেঘ ও পাহাড়ের অমন সব চালচিত্র ও প্রহরে প্রহরে সেরকমই বদলে চলেছে!

আর, আমার কফির কাপটির উপর- 
এখনও তেমনই সুবাসিত গরম ধোঁয়া উঁকি দিচ্ছে !

পেরিয়ে গেছে অনেকগুলো হার কাঁপানো হিমেল ঋতু-যেখানে প্রতিবার ই বসন্তের জানান দিয়ে গেছে প্রকৃতি!

ফেলে গেছে অবস্থার সাথে আপোস করে মানিয়ে  নেবার সেইসব শূন্য অনুভূতি !

এখনও ভেঙে যায়নি কিন্তু আমার সেই জানালাগুলি-
এতগুলি বছরের ফেলে আসা নিঠুর বরফ ঝড়ার দিনগুলোতে ছোট বড় কত রকমের বরফের আঘাতের পরও!

আসেনি আর তেমন কোন ফাগুন, না ফোঁটা জাতের ফুলকে একাধিক বৎসরান্তে ভ্রমরের গুনগুনানি শোনাতে, বা সে মাধুরী ভরা পাপড়ি ছড়ানোর জন্য অনুপ্রাণিত করতে!

কিন্তু, প্রসাধন ঘরেও বুঝি বা আজ ও কেউ - সেই একই সুগন্ধ ছড়িয়ে গেছে নতুনভাবে;

দেশ গাঁয়ের সেই ছাতিম ফুলের মতই মাতাল করা সুবাস যার,ভাসছে-

আর জানালার পাশ থেকে বকুল ফুলের মত ই কোন পাহাড়ি ফুলের গন্ধ যেন ফিরে পাওয়ার বার্তা বয়ে আনছে- 

উথলে উঠছে যেন একেবারে, একাকীত্বের সে নির্জন অনুভূতি! 

এখনও গান গেয়ে চলেছে একটা পাহাড়ি দোয়েল পাখি;

যেন বলছে, 'এসো, একসাথে থাকি', 

কফি কিন্তু এখনও সেই একই পাত্রের মধ্যে থাকে -

আজ হয়ত সেথায় শিউলির শেষ যাত্রা চলছে,বিভূয়ে, সময়েরই ফাঁকে!

অথবা ঋতু পার করা প্রকৃতি, সামলে নিচ্ছে বর্ষা ও সমূদ্রঝড়ে বিধ্বস্ত ভেসে যাওয়া গ্রাম বাংলার পরিবেশ প্রতিষ্ঠিতে আপন স্বীকৃতি! 

বদলানো প্রকৃতির ধ্বংসাবশেষেই   আবার শান্তনীড়ের সন্ধানে ঘর বাঁধছে সেখানে পল্লীবাসিরা যেমনটি করে ওরা প্রতিবার-

হয়ত, ঠিক ঐ ভাবেই, শিউলির মতই ঘাসের সজ্জায়, সূর্যের দিকে তাকিয়ে থেকে- অন্তিমতার মাধুরী চেয়ে নিচ্ছে তাঁরা তাঁদের শেষ লহমায়- 

আর আশীর্বাদিত তোমার তরে আমার চিন্তাও তাই যেন - বেঁচে থাকতে চাইছে অনন্ত কালের জন্যই মৌনতায় এহেন।

এসো না, সেই অনন্তের জন্যই এক হতে থাকি - সেই স্বপ্নময় পৃথিবীতে, কোন রোদ্দুরময় ঔজ্জ্বল্য পরখ করার জন্য না রেখে কিছুই এমন বাকি !

নাইবা থাকল সেথা বাস্তবের সকল নিয়মাবলী, নিষেধের হাজার শৃঙ্খলে- জীবনকে সোজা পথে নিয়ে যেতে সেই বাহুবলী!

আর এমনই ভাঙাগড়ার মধ্যেই এগিয়ে চলুক জনপদ অনন্য- মানুষের মানুষ হবার প্রচেষ্টায়, সৃষ্টিরে করে ধন্য! 




বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

দীর্ঘ কবিতা।। তপনজ্যোতি মাজি

 





জাগো কবিতা জাগো 

তপনজ্যোতি মাজি 



জাগো কবিতা জাগো। 


ওষ্ঠে প্রথম আলোর  মতো জেগে 

ওঠো শব্দরা। 

নির্জন ঝর্ণা 

কিংবা সুন্দরবনের মোহনামুখী 

নদীর মতো জাগো। 


বিপুল আলোড়ন শব্দের সাদা কালো 

শরীরে। 

তুমি পূর্বাভাস বোঝো ,

প্রতিবাদ , প্রেম ও সম্পন্নতা বোঝো। 

জেগে ওঠো  শব্দরা 

আষাঢ়ের প্রথম বৃষ্টির মতো। 


তোমার ঘুম-ওষ্ঠে ওষ্ঠের নীরব স্পর্শের

মতো ধীর  লয়ে  উচ্চারিত  হোক 

নিবিড় শব্দরা। 

নর্মদা তীরবর্তী  আশ্রমে যে ভাবে জাগ্রত 

হয় আলোর আভাস , 

মৃদুস্বর শব্দরা  জেগে উঠুক 

অরণ্যের আলো ঝিল মিল 

ঝরোকার মত।।  


কতদিন শরতের শিশিরে ভিজেনি তোমার 

ভ্রূপল্লব !

কতদিন নিশীথ প্রতিমার মতো  দাঁড়াওনি

রাত্রিছাদে একা !

কতদিন অঝোর শ্রাবনের মতো শাওয়ারের

নিচে দঁড়িয়ে 

উচ্চারণ করোনি  সুনীলের কবিতা ,

' ভ্রুপল্লবে  ডাক দিলে চন্দনের  বনে …'

কতদিন ! 

জাগো কবিতারা , জাগো। 


জানালার পাশে বৃষ্টি সকাল,

দেখা হলো কবিতা রমণী। 

চশমার কাঁচে মেঘ বৃষ্টির লাজুক  আকাশ ,

এই মুহূর্ত কবিতার। 

সমগ্র শরীরে সবুজের নীরব প্রস্তুতি ,

জাগো , কবিতা , জাগো। 

প্রণয় রেখার মতো জাগো , 

নদীর  বুকে নিভৃত জ্যোৎস্নার মতো 

জাগো ,

কবিতা , জাগো। 


এই ধরিত্রী  সর্বংসহা। 

গ্রাম ঘিরে আছে সবুজ মাঠ ,

মাঠে গর্ভবতী শস্যের নিঝুম ঘুম। 

এই নৈঃশব্দ মথিত প্রহরে 

জাগো ,

কবিতা জাগো। 

তোমার শরীরে সহস্র বছরের শ্লোক 

দেওয়াল লিপির 

মতো এঁকেছে পটুয়া , 

বাণী চিত্রকর। 

জাগো , কবিতা জাগো। 


করোনা পীড়িত কাল। 

দারুন এ দুঃসময়। 

কতদিন 

স্পর্শের ব্যবধানে আছে সম্পর্ক ! 

দ্বিধা ও সংকোচ নিরাকার 

তর্জনীর মতো নির্দেশক 

দূরত্বে রেখেছে 

বৃষ্টি ও পাতার অন্বয় !

সব তুচ্ছ করে ,

মেঘস্বরে বলতো কবিতা। 

দীপ্ত ও উন্নত ভঙ্গি মুছে দিক 

নিষিদ্ধ দ্রাঘিমা। 

একবার !

  

কাল অনিঃশেষ। 

খন্ড প্রস্তরের  মতো গড়িয়ে যাচ্ছে 

গৃহবন্দী জীবন। 

হিল স্টেশনে রাত্রির রূপ 

দেখছেননা কবি , শিল্পী , 

হানিমুনে যাওয়া হলুদ দম্পতি। 

তুমি অবরুদ্ধ সময়ের পর্দা সরিয়ে

শোনাওতো 

পুর্ণেন্দুর  প্রেমের কবিতা ,

' সেই  গল্পটা '।

এক বার উছ্বসিত সবাই বলুক 

আমরা করবো জয়। 


এই  চান্দ্রপ্রান্তর তোমার 

উচ্চারণ ভূমি। 

তুমি স্বাধীন ও স্বয়ম্বর রমণীর মতো 

নির্বাচন করো 

পাহাড় ও অরণ্যের সংকলন। 

প্রেম ও প্রকৃতি ,

ব্যাথা ও প্রতিবাদের দীর্ঘ কবিত।। 

তোমার ওষ্ঠ হোক এই অবরুদ্ধ সময়ের 

প্রথম রোদ। 

প্রথম বৃষ্টি। 

কবিতার অনাঘ্রাত আলো মুছে দিক 

মৃত্যু ভয় , 

প্রাণের গৌরবে। 























 ۔

সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২০

দীর্ঘ কবিতা।। বিকাশ দাস (মুম্বাই)

 





কবি ও সাহিত্য পুরস্কার

বিকাশ দাস (মুম্বাই) 


কবি...  

কবিতা বাঁধার জন্য নদী খোঁজে সমুদ্র খোঁজে

সমতলে বিশালদেহি  পাথুরে পাহাড় খোঁজে

গাছগাছালির পোয়াতির গর্ভে আনন্দ খোঁজে  

আঙুলে আঙুল ঠেকিয়ে তৃপ্তি-বিহান খোঁজে

 

কবি জানে...

স্রোতস্বিনী সময়ের সধবা যাপনে যৌবনের কাঁপন আছে
কামনার কিনারে কিনারে অভিমান ভাঙার  নিশান আছে

আলিঙ্গনের ভাঁজে ভাঁজে চুম্বনের  নিষ্পাপ নিশ্বাস আছে

মাটির প্রতিমায় প্রাণের শিহরণ তুলে বাঁচার বিধান আছে

 

খালি পেটে বিড়ির ধোঁয়ায় ঠোঁট পুড়িয়ে তমসার তিলে তিলে  

নারীর নাভির উপরের অংশ আর নীচের অংশের খাঁজ নিংড়ে

অজস্র কবিতার রসদ নিয়ে ফিরে আসে কবিতার গর্ভানাবিলে

আঙুলের সংশ্রবে রমণীর সুষমা ডুবিয়ে শব্দের নিঃশব্দতা চিরে 

 

সূর্য পুড়ে পুড়ে  

রোজ ছাই হবে

ছাই উড়ে উড়ে

রোজ সূর্য তবে

 

মানুষ বিশ্বশান্তির তল্লাশ পেতে  থাক

কবি দুঃখ-কষ্টের হোঁচট  খেতে খাক 

কবিতার মোহে  অন্তরঙ্গ সঙ্গী থাক   

মুখভারি আকাশ শূন্যতার দিনেও বসন্তের ধুলো ছড়িয়ে ঘাসে ঘাসে

কবি প্রেয়সীর ঠোঁট চুমে প্রেরণার আঁচ কুড়িয়ে নিতে সংসারে আসে

 

যেদিন কবিতা দেশের পাতায় উঠবে কবির পরিচয় উপচে

রুপোলী পর্দায়

আর কিছু কবিতা মুখথুবড়ে থাকবে অবহেলা অন্ধকারের  

অন্বিষ্ট  গর্দায়

 

কবি কি জানতে পেরেছে নারীর রহস্যের ফাঁস ? 

ফিরিয়ে আনতে জীবনের আকাশকুসুম মান্দাস ?

 

এ’পৃথিবী

লোভের লাভে,পাপের পুণ্য শাপে

ঘৃণার শোকের উন্মত্তার আদপের  ধাপে

দুঃখ-কষ্ট-কান্না চেপে থাকা সংক্ষিপ্ত জীবন নয়

হেসে উড়িয়ে চলে যাওয়াই জীবনের বেলা আনন্দময়

 

কবি দিনরাত্রি 

শুধু সাহিত্য পুরস্কারের  লোভে

লজ্জা করে না লজ্জায় চুবিয়ে কবিতাকে  দিতে বিবসনা

বার বিলাসিতার শয্যায় খোয়াবে

জমে থাকা শব্দের ঋণ চুকিয়ে দিতে  এক টুকুও চিন্তামগ্না

কবির

উত্থান পতন বলতে শব্দের বিন্যাসে  দুচোখ দৃষ্টিভুলো

শব্দে ডোবে শব্দে ভাসে শব্দের শবে  সর্বনাশের চুলো

কবিতার বিবাহবাসরে আলো নিভিয়ে জানলা খুলে আকাশ দেখা

কত দেশ ভাগ হয়েছে  কেটে মাটির বুকে রক্ত আঁচড়ের রেখা

একদা

ভালোবাসার আসা যাওয়া দিব্যি ছিলো মিলিয়ে যাওয়া বুকে বুকে

কুপির আলোয় ছোট্ট সংসার   সংরাগের মাটি মেখে সুখে দুঃখে 

 

কবিতা যেন কোন জন্মেও ফুল হয়ে না ফোটে

কীট পতঙ্গের সঙ্গী হয়ে গন্ধের গভীরে না ছোটে

কলমের স্পর্শে কবিতার কাব্যগাথা থাক নিভৃতে 

পরিশ্রমী মানুষের ঘ্রানে শ্রমের মর্যাদা চিনে নিতে ।




শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২০

দীর্ঘ কবিতা।। শঙ্কর তালুকদার

 





তোমার সৃষ্টির পথে যাওয়া আসা ছবি আঁকা যেন

শঙ্কর তালুকদার



মায়ার প্রাকৃত সে রূপে, সকলই প্রক্ষিপ্ত যুপে,

বৈচিত্র্যে, আকুল একাকারে - স্রষ্টা যে তুমি!


মোহের বন্ধনে ঘিরে, প্রত্যক্ষ সে প্রাণেরই টানে-

অনন্ত আবেসে নিরবধি। বুঝি বা অন্তর্যামী!


অজ্ঞতার মন্ত্র যেন, সে জ্ঞানের প্রাচুর্য  নিয়ে ফেরে

তোমারই নির্দেশে, আজ-অবধি ! বুঝি তা আমি-


সেই অজানার বাঁধনেই তো, সদা ঘিরেছো কালে'রে-

জ্ঞান শলা,গভীর মননেও যেন, কালের শুনানী-



সঙ্কেত রেখেছো সে কালেই, নিষেধের বাঁধনে'রে,

জড়িয়ে তোমারই নিয়মে! সে পথেরই সরণী-


রাখোনি ক্ষমার তৃণাগ্র ও সেথায়, মিথ্যার অবসরে,

অনাচার সংযমে যাহা- প্রান্তিক হয় সে পরিসরে।


দিন রাত্রি সকলের মাঝেই, নিয়মের পরকাষ্ঠা দিয়ে-

বেঁধেছো সকল মায়া, জীবনেরই অদৃশ্য বন্ধনে!


বিশ্ব ছেড়েও দূর পানে, প্রজ্ঞার সে প্রান্ত চেনা নিয়ে-

বিকশিত হতে দিয়ে কাল মাঝে-জ্ঞানের সন্ধানে!


আলোর গতির সাথে, বস্তুর সে শক্তিরে জুড়ে দিয়ে,

নিরবধি, নিয়তের সেই- প্রকাশের ছন্দ একাকারে!



অন্তরের তেমনই পথে, যেতে যেতে সম্মুখেরই পানে

কালের মাঝে, বিকশিত প্রকাশেই, একা শুধু সরে-


প্রচ্ছন্ন প্রকাশের মাঝে, সে প্রাবল্যতা তাই যেন প্রজ্ঞা হতে চায়,

সৃষ্টির নিয়ম মাঝেই রয়ে, চিরস্বচ্ছ সে যে!


ভাবনার গভীর হতে উঁকি দেয়, অবকাশে, কেবল ই অনায়াসে,

অনন্ত মাঝেই- বিশ্বাসের সহজ প্রকাশে-


আলোর দ্যূতি যেন ছবি হয়, কালের প্রান্তরে, হৃদয়ে,

অনুভূতি স্পর্শে প্রাণে, সত্যির সে অনন্ত অবকাশে!


অপ্রচ্ছন্ন ভাবনাও বয়ে চলে সদা, বিকাশের ই বিচিত্র প্রকাশে-

প্রচ্ছন্নতার লক্ষেই শুধু তা, সত্যরে পরশে!


কঠিন সে বাস্তব কভু,ছন্দ ব্যাঞ্জনায়, প্রকাশেই কেবল,

আর, যন্ত্রনার ছবি হতে চেয়ে সময়ে হারায় নিরবধি-


প্রাণ মাঝে জড়ত্বের, বস্তু মাঝে শক্তির, সেই অবয়বে

অকৃত্রিম  বৈচিত্র প্রকাশের নেশায়,জীবনেরই পরিধি;


বুঝি ব্যাপ্ত সে নশ্বরতাই, নিরলশ আকীর্ণতায় নিষেধের

পার্থিব প্রাচীর চূর্ণ করে, অনাগত অজানা সে কাল অবধি!


প্রচ্ছন্ন আলোর রশ্মি, প্রজ্জ্বলিত শিখা হয়ে কেবল ই 

সময় পেরিয়ে যায়, ছড়িয়ে কেবল সে মায়ার সুরভী;


তখন সে প্রজ্ঞাস্নাত প্রকৃতি, নিঃশেষে জড়ত্বের মাঝে,

সত্যের দ্যুতির যেন, হৃদয়েই আঁকা সে- রক্তকরবী!


সত্বা মাঝে আপন সৃষ্টিরে ফিরায়ে লয় সে কালপ্রান্তে

পরিনতি রূপে কেবলই যেন আপন আলোর অন্তরে।


কী যেন অমিল থাকে তবু, সে বিচিত্র প্রকাশ ধারায়

নিখিলের ব্যাপ্তিতে তাঁর, সে সৃষ্টির শৃঙ্খলা মাঝারে!


ফিরায়ে লয়ে তাই, পুনরায় বস্তু মাঝে প্রাণের ছবিরই ছন্দ ,

তালে,ফাঁদে, মাত্রায়, কেবল লয়হীন শৃঙ্খলার সন্ধানে-


বারংবার ই তাই সেথা, সময়ের মৃদঙ্গ বাজে- শব্দহীন,

আকারহীন প্রকাশে, যেন আলোর শক্তির ই বাধনে-


এই অনায়াসই যে পেরেছে ছলিতে,তোমার শিল্পাঙ্গনে 

কেবলই ল'য়ে,নিজ হাতে, শান্তির অক্ষয় অধিকার।


তোমার সৃষ্টির পথে, যাওয়া আসাই- ছবি আঁকা যেন-

ভাঙো গড়ো সকলই তো খেয়ালের খেলাই কখনো!







বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২০

দীর্ঘ কবিতা। শ্রাবণী বসু

 






     দু-ই রূপে 

      শ্রাবণী বসু


সামাল সামাল রব উঠলো -
সামলাবে কী সব,
তীব্র ফণায় আসছে নদী,
গ্রামের কলরব।

বাঁধভাঙা জল, এক পলকে
ঢুকছে হুহু করে,
সামাল রে প্রাণ ,
হাঁকছে মানুষ-
ডাকছে সমস্বরে।

এক কাপড়ে ,যেমন তেমন,
বাঁচতে হলে, যা-
রাক্ষুসী সে মানুষখেকো
নয়  সে এখন - মা।

হাঁকছে মানুষ -হেই সামালো,
কেউ থেকোনা -ঘরে,
বাঁধ ভাঙছে, জল বাড়ছে
পালাও , বাঁচো - ওরে।

বিকট শব্দে পাড় ভাঙছে,
জল বাড়ছে বেগে,
নিস্তার নেই - কালনাগিনী
উঠলো হঠাৎ রেগে।।


নদী এখন বিষধর সাপ,
ফুলছে ফণা মেলে,
দুলছে শরীর
দারুণ রোষে,
আপন খেয়ালে।

যে পাড়াটির বসত ছিল
নদীর কোমর ঘেঁষে,
নৌকা,মাঝির আনাগোনা
দেখতো অনিমেষে।

সেই পাড়াটি জলের নীচে
ঢেউয়ের আগে পিছে,
এক নিমেষে পুড়লো কপাল,
ভাগ্য ডুবিতেছে।


ধ্বংসলীলায় মগ্ন নদী
তীব্র বিষের ছোবল,
দিগভ্রান্ত জনজীবন
কান্নার উতরোল ।

পোড়ো মন্দির ,বুড়ো মসজিদ,
সত্যপীরের থান,
নদীর পেটে স্থান হলো সব
এলো - 'নদেয় বান '।

বিশালাক্ষী বটের ঝুরি,
ইস্কুল ,খেত, খামার,
নদী আঁকছে জল আল্পনা
নেইকো চিহ্ন নামার।

সঙ্গে শ্রাবণ ভীষণ প্লাবন
রাতদিন ঝরে জল,
স্রোতস্বিনীর ধ্বংস লীলায়
মানুষ ক্ষুদ্রবল।

আবার এলো শরৎ যখন
ওই নদীটি শান্ত
ফিরিয়ে দিল মাঠ ,প্রান্তর
সবুজ বন-বনান্ত।

তখন সে নয় ধ্বংসরূপী-
তখন নদী  - মা,
আঁচল জোড়া
স্নেহের ভিতর
তরল নীলিমা।

তখন সে নয় রুদ্ররূপী
তখন নদী - মায়া,
নিত্যকালের বয়ে চলায়
অনাদিকালের ছায়া।। 





সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২০

দীর্ঘ কবিতা।। তন্ময় চট্টোপাধ্যায়

 




রবিঠাকুরের কথা 

তন্ময় চট্টোপাধ্যায়  


লিখবো আমি তোমায় নিয়ে কথা 

ভাবতে আমার শরীর জুড়ে কাঁটা 

শুনবে তুমি কেন এমন হল 

শুনবে তুমিআমার ঘটনাটা ।


বললো মেয়ে এমন কিছু লেখো 

ছাপতে পারি নতুন পত্রিকা তে 

মাংস না হোক চাটনি যেন হয় 

দিতে পারি বিদগ্ধজন পাতে।


ডেকে ডেকে পাগলপারা আমি 

এসো নাগো ঠাকুর বাবা পাশে 

তোমায় নিয়ে লিখবো মনের আশ 

শুনে ঠাকুর মুখ লুকিয়ে হাসে।


বললে ঠাকুর নিজেই শুরু কর

আসছি আমি একটু খানিক পরে 

সকাল থেকে কাগজ কালি নিয়ে 

বসে আছি দোতলারই ঘরে ।





ঘন্টা খানেক পরে ঘেমে নেয়ে 

বললে ঠাকুর আমার দিকে চেয়ে 

এখন কি আর লিখতে আমি পারি

লেখার সঙ্গে এখন আমার আড়ি।


ছুটির দিনে আমার অনেক কাজ

বাজার করা রেশন আনা বাকি 

লেখার সময় লিখেই গেছি শুধু 

এখন আমি শুধুই মারি ফাঁকি ।


বলনু আমি এমন কেন বলো 

কোন কিছুই রাখো নিকো ফেলে 

ইচ্ছা মনের শুধাই তোমায় আমি 

এসব কথা বলার সুযোগ পেলে ।


রবিঠাকুর এলেন অনেক পরে 

খাবার দাবার গুছিয়ে রান্না ঘরে 

ঘেমে নেয়ে একশা হলো জামা 

ঘামের ফোঁটা পড়ে পায়ের পরে ।


দুজন মিলে অনেক কথা হবে 

কথা বলার লোক ই আমার কম

লোকে ভাবে কাজ কিছু মোর নাই

মিলিয়ে গেছে কাব্য লেখার শ্রম ।


কখন জানি এই ভাবনার ফাঁকে

ঠাকুর এসে বসলো আমার পাশে 

বললো কাগজ কালি সবই নয়

লেখা কিন্তু ভেতর থেকে আসে ।


চমকে উঠে দেখি মাথায় হাত

মা বলছে আমায় আদর করে 

এতো বেলায় ঘুমায় নাকি কেউ 

সূয্যি কখন গেছে পাটের পারে।


লজ্জা পেয়ে রাগছি নিজের মনে 

এসেছিলো রবিঠাকুর বাগে

রেখে দিতাম মনদেরাজে পুরে

জানা যদি থাকতো খানিক আগে ।


এমন কথা ভাবতে ভাবতে কতো 

রাত কেটেছে ‘নেইকো ঘুমের “ত্রাস

ক্ষতির থেকে লাভ ই হলো বেশি 

বেশ সহজে হচ্ছে টাইম পাশ ।


রবিঠাকুর তোমায় মনে পড়ে 

যখন ছিলেম আমার মায়ের ভ্রুনে 

সারাজীবন বৃথাই গেলাম ছুটে 

মরবো আমি তোমার কথা শুনে ।।





শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২০

দীর্ঘ কবিতা।। বৈদূর্য্য সরকার

 





সুতানুটি সন্ধে

বৈদূর্য্য সরকার 

 

আয়নায় যাকে দেখি আমি নই – অন্য কেউ

ছায়া দিয়ে গড়া রহস্যময় মানুষজীবনযাপনে

বিপদসীমার ওপর বয়ে যায় নদী পাড় ভাঙে

সাদা কাগজ সামনে একা বসে থাকি তোমাকে হারিয়ে 

 

চক্ররেলে হুইসেল শতাব্দী প্রাচীন উপেক্ষায়

পরী আর তার বয়ফ্রেন্ড নিঃশব্দে কাঁদে রাতে,

দুদিকে বেঁকে যাওয়া গলিপথে প্রাচীন সন্ধেতে

অহেতুক পথচলা আঁধারে টেনেছে সঙ্গোপনে 

 

কুকুরের মতো জীবনের জমা জল চেটে না নিতে পারলে

মেকআপ খসে থমকে দাঁড়াতে হয় খোলা আকাশের নীচে,

অভিনীত চরিত্ররা দূর থেকে মুখোমুখি হয়-

বারবার অঘটনে চুপ করে থাকা দরকার 

 

গঙ্গার ধারে দাঁড়িয়ে দূর থেকে ভাসে ঘণ্টাধ্বনি

বহুদিন জমা কিছু কথা চিরকালীন ধাঁধায়

জ্যোৎস্নামাখা শহরে দু'জন হেঁটেছিস্মৃতি চাপা পড়ে গেলে

প্রাচীন ঝিঁঝিঁর ডাক বড় চেনা বলে মনে হয়।

 

নিয়ন্ত্রিত অভিব্যক্তি ইগো ভেঙে বেরোতে পারলে

তার চলে যাওয়ার দিকে চেয়ে নিঃসঙ্গ বিকেল

পার হতে হয় আলো নিভে গেলেসাংসারিক অভিমানে

কয়েক চামচ তেল ঘি মশলা মেখে দুচিমটে রাগ।

 

 

ঝুল বারান্দায় একা দাঁড়িয়ে থাকছি

সন্ধের শহরে অনাহুতচারপাশের বদলে

নিখুঁত হওয়া আমার নিয়তি নয়আজীবন

ডুবে থাকার মতো নেশায় সে থাকলে ফ্রেন্ডলিস্টে।

 

 

তার চলাফেরার পথ কখন বেঁকেছে হারিয়ে গেছে দিগন্তে,

জেগে থাকা নীলাভ আলোয় ছায়াদের চলাচলে

মৃত মানুষের মতো বুকের মধ্যে থাকে কুয়াশা,

অন্ধকার রাস্তা জুড়ে ছড়ানো থাকে চোরাবালি।

 

রাত সাড়ে দশটায় নিস্পন্দ গলিতে একলা দাঁড়িয়ে

মনগড়া কিছু সম্মোহন আর খোয়ারি সম্বলে

সস্তা সিগারেট টানাসম্পর্ক হারিয়ে প্রতিদিন

একটা আলগোছে জীবন শেষ হয়ে আসে ক্রমে।

 

ডানহাতে ব্লেড ধরে বাঁ হাতের কবজিতে ছুঁয়ে

একেকটা উজান থেকে ভাঁটায় শীত এসে যায়,

সামনে ইলেকট্রিক চুল্লী পাতালে নামার সিঁড়ি-

সুতানুটি বুক ফুঁড়ে নির্বাসন কিংবা মুক্তি।

 

আমাদের সমবেত কান্নায় ভেসে যায় জনপদ

রাস্তা ঢেকে যায় মৃতদেহ ফুলেউচ্ছন্নে যায় দুনিয়া

আমি আর রাতজাগা শব্দজাল পরস্পর প্রতিদ্বন্ধি-

দুদিকে সমান ধাঁধাঁ আমার শরীরে বয়ে চলে।




শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২০

দীর্ঘ কবিতা।। সন্দীপ রায়

 





একটি ধর্ষিতা মেয়ে'র কাহিনি 

          সন্দীপ রায় 



সেই মেয়েটি, হ্যাঁ সেই মেয়েটির 

নিথর দেহ পড়েছিল পচা খালের পাশে ,

নোংরা জল থেকে তোলা হল দেহ

সারা গায়ে ডুমো-ডুমো মাছির গুঞ্জন ।


ভিড়ের মধ্যে কেউ কেউ শিউরে ওঠে 

কেউ-বা নাকে রুমাল চেপে-

শুকনো পাতার দল হাওয়ায় উড়ে

জমা হয়েছে বুকের কাছে 

মেয়েটির শরীরের শেষ আচ্ছাদন,

ওলম্পটের দল শেষ বস্ত্রটিও কেড়ে নিয়েছে,

যারা শুধু খোলসের আড়ালটুকু বোঝে ।


আম জনতা একবার নগ্ন মেয়েটিকে দেখেই

চোখ ফিরিয়ে নিচ্ছে 

শত চোখও মেয়েটিকে শনাক্ত করতে পারছে না ,

শুধু এক পাগল ভিড়ের মধ্যে খিলখিল হাসছিল , 

এই মুহূর্তে হাসিটা অনর্থক হলেও 

আমার মনে হচ্ছিল পাগলাটাই ঠিক ।


আমারা ভীরু, কাপুরুষ--আমাদের ক্ষমতা সীমিত 

বড় জোর একটা শোক মিছিল,সেমিনার -

মোমবাতি জ্বালিয়ে পথে হাঁটতে পারি 

সন্ধ্যায় ঘরে ফিরে টিভির পর্দায় চোখ-

সঞ্চালকের আঙ্গুল উচিয়ে তর্জন-গর্জন 

জ্ঞানী-গুনী মানুষের সারগর্ভ উপদেশ -

অজান্তেই কয়েক ফোঁটা চোখের জল-

এর বেশি আর কী করতে পারি!


অথচ এই আমরা বুক বাজিয়ে বলতে পারিনা 

আমারাও সেই ঘাতক দলেরই একজন ,

পথে-ঘাটে কত মেয়েকে কটূক্তি করেছি 

অন্ধকার রাস্তায় হাত ধরে টেনেছি 

গাঢ় অন্ধকারে আরও সাহসী হয়েছি ,

আর এখন,এই নারকীয় পরিবেশে 

চিনতে না পারার ভান করছি 

নাগরিক জীবনের যত ধুলো ময়লা 

এক ফুঁয়ে গা থেকে ঝেড়ে 

এখন ন্যাকা সেজে ট্রাউজার টি সার্টের ভদ্রলোক !


কেন,কেন ধিক্কার জাগে না মনে

কেন বিবেক জাগ্রত হয়না আমাদের ?

নারী দিবসে মঞ্চ সাজানো এই হাতেই নারী নিগ্রহ!

আবার এই মুখেই নারীবাদী শ্লোগান, ছিঃ!


মেয়েটিকে সাদা কাপড়ে মুড়ে ভ্যানে তোলা হল এরপর লাশকাটা ঘরে লাশ হয়ে 

টেবিলে চিৎ হয়ে শুয়ে থাকবে সারারাত ,

ধারাল ছুরির ফলা সারা শরীর তন্নতন্ন করে খুঁজবে

কোথায় লুকিয়ে আছে চির নিদ্রার কারণ ।


অথচ এই দেহপল্লবে কত নামীদামি প্রসাধন

শরীরী জেল্লা - পাঁচজনের থেকে আলাদা ...

 হায় পৃথিবী, হায় রে চিল শকুনের দল-

নারী কি ভাগাড়ের মৃত জীব-জন্তু!

ইচ্ছে মত ছিঁড়ে খুঁড়ে খাবে ?


আমার একহাত মোটর সাইকেলের হ্যান্ডেলে 

অন্য হাতে মোবাইল ফোন 

এই মুহূর্তের ব্যস্ততম নাগরিক ,

ঘন ঘন চোখ মেয়েটির দিকে -

স্মৃতির অতলে খুঁজে দেখি, কোথায় যেন দেখেছি। 

আমার শরীর পাক দিচ্ছে, গা দোলাচ্ছে 

মাথার উপর আকাশ দুলছে 

পা জড়িয়ে যাচ্ছে মাটির গভীরে 

অথচ এই হাতেই নারী নিগ্রহ, নারীমেধ যজ্ঞ--

দশ আঙ্গুল খেলে বেড়িয়েছে 

মেয়েলি শরীরের ঘর-বারান্দা 

ছুঁয়েছি গোপন কক্ষ ,

তারপর ,সুখ সাগরে অজানার অন্ধকারে। 


এই সেই হাত -মায়ের হাত ধরা হাত

এই সেই হাত- বোনের সাথে খেলা খেলা হাত 

কৈশোরের প্রথম প্রেমের আলতো ছোঁয়া হাত 

বয়সের ডালে-ডালে শিমূল পলাশের পাপড়ি ছড়াতেই 

অসংখ্য মৌমাছি ,প্রজাপতির নিঃশব্দ আনাগোনা-

অগণন হাতের ভিড়ে কোন্ হাত ঘেঁটেছে শরীরী ফসল

সেই স্মৃতি,স্মৃতির অতলেই স্থির 


কতগুলো যন্ত্রণার দাউ-দাউ  আগুন আমার চারপাশে 

চাপা গুঞ্জন কানের দু'পাশে 

ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছে স্মৃতির ঝাঁপি 

কানের কাছে মেয়েলি ফিসফাস:

আমাকে চিনতে পারছো, আমি সেই মেয়ে 

যার পালকের আড়ালে তাল-তাল মাংসপিণ্ড নয় - এক মন আছে

তাকে তুমি খুঁজে পেলে না !

হায় পুরুষ!আমার নাড়ি ছেঁড়া সেই পুরুষ 

যার জন্ম দিয়ে আমি হয়েছি অনন্যা ।


আমি চিৎকার করে বলি,

তোমরা সত্যি করে বলতো,

কেউ কি চিনতে পারছো না মেয়েটিকে?

নাকি নিজেকে অপরাধী বলতে ভয় পাচ্ছ ?


নীরব দর্শক নীরবই থেকে যায়।





মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২০

দীর্ঘ কবিতা।। বিকাশ দাস

 





   তোমার সংসারে আমি

    বিকাশ দাস ( মুম্বাই)  

তোমার কাজের মাসি কিছু না বলে হঠাৎ উধাও হলে, 
তুমি রাগে গন গন
 
তোমার চলা ফেরায় শুকনো লঙ্কার ঝাঁস,
 যদিও সাময়িক ঝনত্কার
তবুও নিতে ভোলো না তুমি লতা মাসির খবর,
 ওর মাতাল বর করলো না তো মারধর,  
না কি বাড়লো দুম করে আবার ছেলেটার জ্বর ... ইত্যাদি
  
মাথার ভেতর হাজার প্রশ্নের জমাট ভিড় তোমার পিছু পিছু ঘুরতে থাকে অবান্তর

মাসি ফিরে এলেই ঠিক ঠাক জবাব কৈফিয়েত না পেলে রাগে বলে ফেলো :
এবার কাজে ফাঁকি দিলে তোর মাইনে কাটবো দেখে নিস, বলেই ...
 
তোমার ঠোঁটে এক চিলতে শুভ্র হাসির ঝিল
 মাসিও জানে তোমার দরাজ দিল

তোমার শরীর খারাপতাসত্তেও হয়না ভুল তোমার
একগাদা কাপড় চোপড় কাচতে,
 এঁটো বাসন কোসন ধুয়ে রাখতে, 
সন্ধ্যে সকাল বাড়ি উঠোন পরিষ্কার করে এলো চুল বাঁধতে,
   
আবার দু’হাতে সলতে পাকাতেফুলের আলপনায় পূজোর আসন সাজাতে,
 
ধূপকাঠি জ্বালিয়ে
  সময়ে সন্ধেবাতি রাখতে ছড়াতে ঘরের ভেতর বাহির সন্ধ্যা-সাঁজাল

সময় করে আবার ফ্রিজে জল রাখতে,বেডকভার টান টান, সোফার কুশন ঠিক রাখতেআনচান 
সবকিছু পরিপাটি না হলে,
 তোমায় খুঁত খুঁতানি চেপে ধরে তোমার সর্বাঙ্গ অস্থিরতায় 
তোমার শরীর সাত-সতেরো ঝামেলা ঝিমানো কাঁটায়তোমার চাউনি রা কাড়ে না কোনো ঝাপটায় 

যেদিন তোমার নিরামিষাশী  আমাদের জন্য একটা না একটা আমিষপদ ভোলো না রাঁধতে  
তোমার উপোস দিনে সবার খাবারের ভুল করো না আয়োজন রাখতে 


সময় করে আত্মীয় পরিজনের নিয়ম মাফিক খোঁজ খবর প্রযত্নে রাখা 
 
ছোটো বড়ো সকলের
 সুখ -দুঃখে সামিল থাকা  
কক্ষনো ভুল কর না সম্পর্কগুলো অবাধে জোর রাখতে
 অজুহাতের জটিলতায় 
কোন তিথি পূর্নিমা,অমাবস্যা , পুজো পার্বণ পাঁজির
  বিবরণ তোমার নখদর্পণে 

সঙ্গে সব ষষ্টীর খেয়াল রাখা  

কোনো কিছুর ভুল ত্রুটির খামতি থাকে না সব খুঁটিনাটির দিকে তোমার কড়া নজর 
রোজকার বাজার তুমি একাই সারো নিজের হাতেআমার হাত খুব পাতলাহিসেব হীন বলে
   
রোজ এতো ভিড়ের মুখে আমার এলানো শরীর
 তোমার দু’হাতের স্পর্শের

আড়ালে আমার ঘুম জাগানো   
উষ্ণ গরম চা আমার অলস হাতে বাড়ানো
। আমার স্নান সারা হলেই , 
ইস্ত্রির পাট করা জামা কাপড় আমার হাতের নাগালে রাখা,
  
অফিস যাওয়ার প্রস্তুতি সাজিয়ে তোলা,
 
আমার রুমাল,চশমা,মোবাইল,বটুয়া একে একে এগিয়ে রাখা

তোমার আলতো হাতে নধর চোখে মুখশুদ্ধি পরিবেশন
 
নিজের হাতে আতরের ইষৎ ফোঁটায় আমার শরীর ভিজিয়ে,
   
সদর দরজা অবধি তোমার আসা
 
দু’হাত নাড়িয়ে প্রতিশ্রুতির প্রতিবেদন নিঃশব্দে জানানো
 
তোমার আধুত ঠোঁটের
  বিড়বিড়ানি...  দুগগা  দুগগা   

কিন্তু ঘরে প্রবেশ বাইরে জুতো খুলেইজুতোর প্রবেশ বারণ ঘরের ভেতর         
কখন ঠেকায়
 আমার হাত টানের সংসার ছিলো বিক্ষত,  
লেগেছিলো পরিস্থিতি  বর্গায় জোরুল আর চুন খসার
 আপদ 
এ সবের অভিযোগ বা সিকায়াত রাখোনি কোনদিনই
 তোমার কাছছাড়া  
বলোনি গলা বাড়িয়ে-

খুচ -খাচ সঞ্চয়ের কৌটো থেকে ঠিক সময় ধারের কিস্তি 
শোধ দিয়েছো অভাবের কাঠে আগুন নিভিয়ে 
  

রোজকার রূপচর্চা,পরচর্চা বালাই তোমার অভিধানে বাতিল ও অরুচি।  
বলো খামোকা উড়ান আদ্দিখেতামী ।
 
প্রতিদিনের অসংযত কাজের ফাঁকেটবের মাটি কাটা,
 ফুল গাছে জল 

স্নান সারা। পুজো আর্চা। তুলসীর মূলে জল ঘোরানো, 
মাথা ঠেকানো
সংসারের মঙ্গল চাওয়া টুকু একমাত্র তোমার কাম্য

মধ্য দুপরের স্তব্ধতা আঁচড় কাটে তোমার শরীরে সারাদিনের ব্যস্ত জ্বালার আঘাত সারাতে

রবিবার তোমাকে বেশি করে  দেখার ইচ্ছে চোখে রাখি ধরে 
সকালে কাছে পাওয়া বেশি করেস্নানের পর ভিজে কাপড়ে
 
চুলের জল ঝাপটানোজলের ছিটে আমার গায়ে লাগানো। এ সুখ পাড়া পড়শীর ঈর্ষা
  
ঠোঁট ভিজিয়ে গুন গুন গান গাওয়াহাত যখন কাজ গুছনোতে ব্যস্ত তোমার

চুপ চাপ কান পেতে শোনা। আচমকা গা জড়ানো

তোমার লজ্জার ঠেলায় গা ভাসানো

ফিরতে আমার রোজ দেরী হয় 
জেনো ও সন্ধ্যে নামলে কাছের দূরত্বকে আরো কাছে টানার অভিসারের চঞ্চলতায়;
  
দু’চোখ তোমার সজাগ রাখো এ জানালা ও জানালার পর্দায়

অথচ ভুল হয় না তোমার 
গরম ভাত বা গরম ফুলকো রুটি বেড়ে দিতে
 
অন্তিমে গরম দুধ খাওযার পীড়াপিড়ি তোমার
 
গোঁসা হলেও আমার বুক জুড়াতো তোমার ভালোবাসার
 নিবীড় একান্তে

একভাবে বসে তোমার দু’চোখ আমার খবর নিতো  
দুপুরে কি খেলামকাজের চাপ কমলো কি নাহাঁটুর ব্যথা কম আছে কি না,
 
ওর খোঁজ পেলে কি নাআরো অনেক কিছুর খোঁজ গোঁজা থাকতো তোমার আঙুলে
 
প্রশ্নের কাঁটা ক্ষনিকের জ্বালা হলেও
  এ’জ্বালা ভালোবাসার চিরকালীন

শোবার আগে আমার বাকি ওষুধ এগিয়ে দিতে সঙ্গে জলের গ্লাস 
আবছা আলোর সন্দিক্ষনের শিহরন অগোচরে

তোমার দু’চোখের নীরব সরব সাক্ষাত্কারেআমার সারা শরীরে বর্ষা নামতো
 
সারাদিনের ঝক্কি ক্লান্তির জ্বর কুল পেতোএসে তোমার আচঁলে

 

আকাশের বিছানায় চাঁদ তখন ঘুমিয়ে পড়ে আলোর মশারিতে; 
পাশাপাশি শুই পরস্পর কে ছুঁয়েআমার উতপ্ত শরীর শীতাপিত
 
এত কিছুর পরও...

আমার সোয়াস্তির দরজায় তোমার দু’চোখ জাগিয়ে রাখো
 
যাতে এক চুল ব্যাঘাত না ঘটে আমার নিশিন্ত ঘুমের

ধন্য তুমি ধন্য  
হঠাৎ
 দেখি কাক ভোরের আলোতে তোমার না খাওয়া 
জরুরী ওষুধ পড়ে আছে অবহেলায় তোমার বালিশের তলায়
 
তখনও তোমার হাত আমার হাতে। এ সংকোচ আমায় ভাবিয়ে তোলে

দু’চোখ কষ্টের জলে উপচে পড়ে,
 নিজেকে ধিক্কারের আগুনে পুড়িয়ে দিতে 
আমি কেন পারি না তোমার হাতে হাতে আমার হাত বাড়িয়ে দিতে

তোমার কষ্টের ভাগ নিতে

তুমিও তো পারো মুখ ফুটে বলে দিতে।  

বুক ফাটে তবু মুখ ফোটে না তোমার

এ কি তোমার অবোধ ভালোবাসা 
না
 তোমার অভিমান ? না আমার খামতি সবার নজর থেকে আড়াল রাখা  

আজও 
তোমার আদর শ্রমে সুখ- সমৃদ্ধির  ধান ফোটে আমার ঘর গেরস্থালীর সংসারে