লেবেল

নির্বাচিত ছড়াগুচ্ছ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
নির্বাচিত ছড়াগুচ্ছ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২০

নির্বাচিত ছড়াগুচ্ছ ।। আলাউদ্দিন হোসেন



 



রূপসী তরু      

বর্ষার দূত রুপসী তরু
হলদে সাদার মেলা 
বৃষ্টি হলে খেলাচ্ছলে
হাসে সারাবেলা। 

মাঝিমাল্লা ভেসে চলে   
পাল উড়িয়ে দূরে
মেঘ বালিকা খোঁপাজুড়ে     
বর্ষা নতুন সুরে।  

বর্ষা মুখর হাসিখুশি
কদমফুলে ঘ্রাণ
বর্ষার দূত রূপসী  তরু 
রূপ বর্ষার প্রাণ।






রূপালি মেঘ 

সঘন মেঘ অঝোর ধারা
রূপালি  জলের গান
ভর আষাঢ়ে থৈথৈ আকাশ
গ্রাম বাংলার প্রাণ। 
    
আষাঢ় প্রিয় কবি কন্ঠে
শত কবিতার সুর
গগণ তলে মেঘের ছোঁয়া
ছুটে চলে বহুদূর। 

আষাঢ়জুড়ে বৃষ্টিধারা
ভেজা মাটির ঘ্রাণ  
সাদা মেঘের লুকোচুরি
রূপ বর্ষার প্রাণ।


কদম হাসে


কদম হাসে বর্ষাজুড়ে
বৃষ্টি করে আড়ি
পাপড়িগুলো জলে ভাসে
দৃশ্যটা বেশ ভারী। 

কিশোর তরুণ কদম পাড়ে
মনে খুশির রং
নববধূ অবাক চোখে
দেখে রঙিন ঢং। 

মেঘের ডাকে হেলে দুলে
খি খি করে হাসে
পাপড়িগুলো জলে ভিজে
পড়ে সবুজ ঘাসে।


বৃষ্টির ছোঁয়া 
   
আষাঢ় শ্রাবণ বৃষ্টি ঝরে
হাসে সবুজ বন
খাল-বিলে ব্যাঙের নাচন
খুলে আপন মন।

সবুজ বনে নেচে বেড়ায়
প্রজাপতির ঝাঁক
ঘন বৃষ্টির ছোয়া পেয়ে
হাসে নদীর বাক।

আষাঢ় শ্রাবণ বৃষ্টি  পেয়ে 
মরুভূমি হাসে
রিমঝিম বৃষ্টি ছোঁয়া 
বর্ষা চলে আসে।





 বর্ষা
 
আষাঢ় এলো বর্ষা হলো
নদে এলো বান
গাছে গাছে নতুন পত্র 
ফিরে পেলো প্রাণ। 

আষাঢ় এলো বৃষ্টি হলো
মেঘাছন্ন আকাশ
এদিক ওদিক শুরু হলো
বইতে ঠান্ডা বাতাস। 

আষাঢ় এলো শুরু হলো
নদী ঘাটে খেয়া
বর্ষা নিয়ে হাজির হলো
কদম জুঁই কেয়া। 



বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২০

নির্বাচিত ছড়াগুচ্ছ।। চন্দনকৃষ্ণ পাল





  স্বপ্ন সকাল

নাচছে ময়ূর পেখম তুলে
দেখে খোকন হাসে
কদম ফুলের স্বর্ণ রেনু
হাওয়ায় হাওয়ায় ভাসে।

সূর্য মামার হলুদ আদর
কপাল ছুঁয়ে যায়,
ঘুম পরীরা চলে গেছে
দূরের কোন গাঁয়।

ময়ূর কোথায় কাকের কাকা
সারা সকাল জুড়ে,
স্বপ্নে দেখা ময়ূর কনে
হারিয়ে গেছে দূরে।


 নীল পায়রা

স্বপ্ন পুরীর নীল পায়রা
মেললো ডানা বুঝি
উড়ে গেলো ধূসর বনে
এখন কোথায় খুঁজি।

নীল পায়রা যেয়ো নাতো
সবুজ বাংলা ছেড়ে
তুমি গেলে স্বপ্ন আমার
নেবে শকুন কেড়ে।

জলপাই এর পাতা মুখে
পায়রা তুমি এসো
পথের পাশের খোকনটাকে
একটু ভালোবেসো।





 ভূত

আজ কাল ভুত গুলো
নানা রূপ ধরে
মাঠে থাকে ঘাটে থাকে
যাকে ওরা ঘরে।

কখন কোথায় থাকে 
বুঝা নাহি যায়
ভূত গুলো ঘুরে ফিরে
চলে পায় পায়।

কখনও বা গরু হয়
কখনও ছাগল
কুকুর বেড়ালও হয়
কখনও পাগল।

বুড়ো হয় বুড়ি হয়
কখনও যুবক
গান গায় ভাটিয়ালী
ভাঙরা ও রক।

আজকাল ভূতগুলি
খুবই আধুনিক
পান খেয়ে পিচ করে
ফেলেনাতো পিক।

স্যুট টাই পরে ওরা
পরে ম্যাক্সী
চিড়িয়াখানায় যায়
চড়ে ট্যাক্সি।

চাইনীজ থাইফুড
ওসব ও খায়
ভালো কোন ছবি এলে
সিনেপ্লেক্স যায়।

খেলে ওরা ফুটবল
ক্রিকেট ও খেলে
কি জানি কি হয়ে যায়
ম্যারাডোনা পেলে।

আজকাল ভুতরাও
রাজনীতি করে
মন্ত্রী এমপি হয়
এই ওই ঘরে।

আজকাল কিছুতেই
নেই কারো হুশ,
দেশটা চালাচ্ছে কে
ভুত না মানুষ?


 
একজন গৌতম

গৌতম বসু হলো নাম ছেলেটার
কোনই খবর নেই মা ও বাবার।
হোটেলে কাজ করে হোটেলেই খায়
পূজো এলে একসেট জামা প্যান্ট পায়।

সকাল দুপুর রাত কাজ শুধু কাজ
ভীষন মলিন তার শরীরের সাজ।
বড় বড় চোখ দুটি ক্লান্ত ভীষণ
মনটা খারাপ থাকে সারা দিনক্ষণ।

জানতে চাইলে কিছু বিষন্ন হাসে
এলাকার লোকজন ওকে ভালোবাসে।
টিভির শো-রুমে এলে ভুলে যায় সব
মালিক দোকানে বসে করে কলরব।

ফিরে গেলে ধমকায় চড়-টড় মারে
গৌতম বসু আর কি করতে পারে।
চোখ ফেটে আসে ওর দুই ফোঁটা জল,
চোখের কোণেতে ওরা করে টলোমল।



ডিমের ভেতর ভূত

ফ্রাইপ্যান থেকে ডিম
জোরে মারে লাফ
বুয়াদের চিৎকার
এটা কিরে বাপ।

এমন কান্ড আর
দেখেনিতো কেউ
বুয়ার ছেলেটা ভয়ে 
কাঁদে ভেউ ভেউ।

আমি বলি, হ্যালো ডিম
হচ্ছে কি এটা,
ডিমটা জবাব দেয়
তুই কেরে বেটা?

আমিতো এখানে থাকি
নাম চন্দন,
ডিমের ভিতরে আছো
তুমি কোন জন।

আমিতো ভূতের রাজা
নাম টুব্বুস,
বের যদি হই তবে
জোরে দেবো ঢুশ।

রিটন ভাইয়ের সেই
টুব্বুস নাকি?
ভূতের রাজা বলে
দিচ্ছিস ফাঁকি।

ধরা পড়ে টুব্বুস
ফিক করে হাসে,
লাফ দিয়ে চলে আসে
একদম পাশে।

চট করে পুরে নেই
পকেটের মাঝে,
এরপর থেকে সে
সাথী সব কাজে।

এখানে ওখানে যাই
দুইজনে ঘুরি,
এটা খাই ওটা খাই
খাই ডালপুরি।

টুব্বুস সহ যাই
ওয়ান্ডার ল্যান্ড,
এখনতো দুইজন
ভেরী গুড ফ্রেন্ড।




মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২০

নির্বাচিত ছড়াগুচ্ছ।। সেন্টু রঞ্জন চক্রবর্তী






 মাছ 

কৈ মাছ 
কই পাই 
মাথা গেছে গুলিয়ে, 
ভাব দেখে 
ডাকে ব্যাঙ 
দুই গাল ফুলিয়ে |

পুটি মাছ  
শাড়ি পরে 
কম জলে ধরে নাচ, 
সাথে নাচে 
ডানকিনা 
হাতে গোনা গুটি পাঁচ |

টাকি মাছ 
ফাঁকিবাজ 
বাইর বুদ্ধির গভীরে, 
কাদায় থাকে 
কাদা নাই 
একটুও শরীরে |

শিং মাছের 
রাগ বেশী 
ক্ষেপে গেলে একবার, 
বিষ কাঁটা 
ফুটে দেবে 
বদ মাছের সর্দার |

শোল মাছ 
গোল করে 
থাকে যে পুকুরে, 
লেজ তুলে 
ছুটে চলে 
সকাল সন্ধ্যা দুপুরে |

যারে পায় 
তারে খায় 
বোয়ালেরা নিষ্ঠুর, 
গোফ কয় 
মুখে তাই 
কাজ করে দুষ্টুর |

খাল বিল 
নদী নালা 
ডোবা দীঘি পুকুরে, 
ভয়ে ভয়ে 
থাকে তারা 
কে জানি কি করে |

ধরা খেলে 
মাফ নাই 
বটি দিয়ে মুন্ড, 
কেটে কেটে 
খুশি মতো 
করা হবে খন্ড |

তার পর 
তেলে ভাজা 
নুন মরিচ মিশিয়ে , 
কি মজা 
তুলো ধুনা 
দুই গালে পিষিয়ে |


তেল 


এ জগতে হায় 
সেই বেশী পায় 
তেল মর্দনে যিনি পাকা, 
কোনো কিছু তার 
লাগেনাকো আর 
জং ধরে নাকো তার চাকা |

তেলের কৌশল 
ভালো যিনি জানেন 
সমস্যা তার নাই কিছু, 
অসম্ভব যতো 
সম্ভব করেন 
অনেকে ঘোরেন পিছু পিছু |

তেলের স্পর্শ 
জাদু যেনো ঠিক 
করে ফেলে তেলতেলে, 
যেখানে চলেনা 
সূচের অগ্র 
সেখানে কুড়াল চলে |

দেখে মনে হয় 
সারা দেশময় 
তেলেরই দামই বেশী, 
গোবর গণেশ 
চেয়ারে আসীন 
তাইতো দেখি রাশি রাশি |

জয় হউক তেলের 
তেলের হউক জয় 
দেশ ভরে যাক তেলে, 
তেলের ব্যবসা 
সব চেয়ে বড় 
হয়ে গেলে সব তেলতেলে |

কিন্তু একটা 
বিপদের কথা 
তেলিদের আমি বলি, 
ধূলায় যদি 
তেল পরে যায় 
আঁকড়িয়ে ধরে বালি |

তখন কিন্তু 
যতই তেল মারো 
হবেনাকো কোনো ফল , 
কোনো কৌশল 
আসিবেনা কাজে 
তেল মনে হবে যেনো জল |





জামাই ষষ্ঠী 


ও জামাই 
দারুন কামাই 
হবে এবার ষষ্ঠীতে,
শশুর বাড়ি 
মধুর হাড়ি 
যাচাই সে তো কষ্টিতে |

ইলিশ খাবে 
চিংড়ি খাবে 
বালিশ মিষ্টি গোটা কয়, 
থাকলে শালী 
আরো দারুন 
সংখ্যা হলে গোটা ছয় |

আম কাঁঠালের 
আসবে বাটি 
সাথে খাঁটি দুধের দই, 
পেটে জায়গা 
হউক বা না হউক 
শালা শালী দেবে মই |

আরেক কথা 
রাখবে মনে 
পায়না যেনো করোনা, 
যতই করো 
জামাই জামাই 
ধরলে কিন্তু ছাড়বেনা |

নিজের বাড়ি 
শশুর বাড়ি 
সকল বাড়ির পাস কেটে, 
চুপি চুপি 
করোনা কিন্তু 
সকাল বিকাল যায় হেঁটে  |

তাইতো বলি 
খুব ভালো হয় 
বাদ দিয়ে দাও ষষ্ঠী,  
থাকলে বেঁচে 
আসছে বছর 
করবে দ্বিগুন তুষ্টি |






পাঁচালি 


এক দিকে 
ওৎ পেতে 
মাছরাঙা সানায় ঠোঁট, 
ছো মেরে 
উড়িয়ে নেবে 
তাই ডানকিনা পুটি টেংরা 
বেঁধেছে জোট |

অন্যদিকে 
বোয়ালেরা চোয়াল সানায়
সাদা বক বসে আছে 
ওৎ পেতে 
যেন কোনো এক সাধক তপস্যি, 
বড়শি হাতে 
ধ্যানে মগ্ন 
চেয়ে আছে 
নিরামিষ সন্যাসী |





ছড়া 


খিল খিল 
হাসে আর 
বিড়বিড় কথা কয় , 
নেচে নেচে 
গায় গান
সারাক্ষন মেতে রয়। 

শুনে নাকো 
মানা কারো
কতো কি যে ব্যস্ত, 
কাজ করে 
সারাক্ষন 
আহা কি যে মস্ত। 

মিছে মিছে
ঘর বানায় 
ডালপালা বালিতে, 
রান্নার 
জুড়ি নাই 
ভাত রেঁধে হাড়িতে। 

দিনরাত 
মাথায় তার 
কতো কতো ভাবনা, 
যা খুশি 
তাই করে 
অভিমান কান্না। 

রাগ করে 
ঘন ঘন 
তুলকালাম কান্ড, 
কাছে পেলে 
ছুড়ে দেয় 
হাঁড়ি পাতিল ভান্ড। 

শাসনের 
ভয় তার 
নেই মোটে একদম, 
আদরের বলে 
সবে 
ভালোবাসে হরদম। 

আমাদের 
খুকুমনি 
আছে বড় আদরে, 
এই ঘর 
ওই ঘর 
থাকে সদা সাদরে। 








সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২০

নির্বাচিত ছড়াগুচ্ছ।। বিকাশ পণ্ডিত





বিন্দু ঘটক


ইন্দুপুরের  বিন্দু ঘটক
      লকডাউনের বাজারে;
খোঁজ এনে দেন পাত্রপাত্রীর
       বকশিস নেন হাজারে। 

দেখা-শোনা হয়ে গেলে
      আসে যদি পছন্দে;
বিন্দু ঘটক হরেক নাটক
       করেন নানান ছন্দে। 

পাত্র নাকি দারুন ভালো
     মিলবে না এ তল্লাটে;
এমন ছেলে একটা মেলে
      থাকলে লেখা লল্লাটে। 

কনের বাবার মন ভরিয়ে
      বরকে ডেকে একলা;
বলেন, ভায়া-এমন মেয়ে
      পাবে না আর, বুঝলা।

দেখতে যেমন, গুণও তেমন
       পড়াতেও  ফাস্ট ক্লাস, 
মার্কস যদি দিতে বলেন-
         সবই তো 'এ' প্লাস। 

ছাঁদনাতলায় চার চোখের
        হলেই শুভদৃষ্টি;
বিন্দু ঘটক ফেরেন ঘরে
        হাতেই নিয়ে মিষ্টি। 




 শুভ জন্মদিন

ফড়িং -এর জন্মদিনে
বাগুইহাটির মাঠে, 
এক এক করে হাজার দশেক
মশা-মাছি জোটে। 

বেলুন আনে প্রজাপতি
গুবরেপোকা কেক, 
জলার ধারে গান ধরেছে
গোটা দশেক ভেক।

ঢাকা থেকে মিষ্টি এল
খুলনা থেকে ফুল, 
চট্টগ্রামের ফেরেস্তারা
দিল হীরের দুল। 

ভোজের পাতে ফুলকা লুচি
ইলিশ ভাপার সাথে, 
তেলাপোকা পান সাজিয়ে
দিল সবার হাতে। 

খাওয়ার শেষে সবাই বসে
বাজিয়ে হাজার টিন, 
গান ধরেছে ঝিঁঝিঁ পোকা
শুভ জন্মদিন। 




  রাজার অসুখ

বলব কী আর রাজার  কথা
চাইছি না তো বলতে;
পেটের ব্যামো,হাঁটুর ব্যথা
পারেন না তো চলতে। 

তার উপরে বুকের মাঝে
হাপর হাঁপায় রাতে;
তেঁতুল খেলে একটু সারে
গরম গরম ভাতে। 

রানী মা তো কেঁদেই সারা
ভাত খায়নি দুপুরে;
মরতে নাকি গিয়েছিলেন
ডুব দিয়ে ওই পুকুরে। 

অনেক করে বুঝিয়ে তাকে
ফিরিয়ে এনে ভোরে;
মন্ত্রী-সান্ত্রী , দাসদাসীরা
বসিয়েছেন দোরে। 

রাজপুত্তুর নেয় না খবর
ফ্ল্যাটে, রাজারহাটে;
মোবাইলে গেম খেলে তার
দিন-রাত্তির কাটে। 

বাবার অসুখ, মায়ের কাঁদন
রাজকন্যা ভাবছে না;
টিকটকের ড্যান্সটা আজও
তেমন লাইক পেল না। 

রাজার অসুখ ভাববে রাজা
কাঁদলে কাঁদুক রানী;
বয়েই গেছে ছেলে-মেয়ের
ভাবতে এত্তোখানি। 



রথের মেলা


আচ্ছা বাবা, আজকে বুঝি
রথের মেলা যাচ্ছি না;
কেমন যেন থমথমে সব
সাড়া-শব্দ পাচ্ছি না। 

মনে পড়ে গত বছর
রথের মেলায় গিয়ে;
এনেছিলাম ফুলের চারা
ময়না আর টিয়ে।

দিদি খেলো  পাপড়ভাজা
চাউমিন আর রোল;
রাঙাদাদা নাগরদোলায়
বাঁধিয়েছিল গোল। 

ভুলে গেছ সে সব কথা
মনে বুঝি পড়ছে না;
নাকি কোনো বিপদ বুঝে
মনে করতে চাইছে না। 

এ সময়টা কেমন কেমন
ভয় পিছু ছাড়ছে না;
ঘরের মাঝে থাকতে বসে
সত্যি, ভালো লাগছে না। 

আসছে বছর যাবই যাব
রথের রশি টানব;
ফলের চারা, ফুলদানি আর
মাটির পুতুল কিনব। 






 খুকুর ছবি


আঁকার খাতা ফুরিয়ে গেছে
কবে থেকে বলছি। 
বললে বাবা, সবুর করো
কাল -পরশু আনছি। 

কাল-পরশু, কাল পরশু
মাস খানেক শুনছি;
ঘরের কোণে বসে বসে
আমিও দিন গুনছি।

বললে খুকু, চাঁদ আঁকব
ফুল পাখি আর নদী;
সেই নদীটা পাহাড় থেকে
বইবে নিরবধি। 

নদীর ধারে গাছ থাকবে
দুলবে  হরেক ফুল;
উড়বে হাওয়ায় গাঁয়ের মেয়ের
মেঘের মতো চুল। 

আঁকার খাতা এনে দিয়েই
বাবা বলেন হেসে-
ও খুকু তুই ফুল গুঁজে দিস
ওই মেয়েটির কেশে। 






রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২০

নির্বাচিত কবিদের কবিতাগুচ্ছ।। সেন্টু রঞ্জন চক্রবর্তী










তুমি বাবু 


তুমি বাবু 
আমরা কুলি 
আমরাতো মানুষ নই, 
বাস স্টেশনে 
রেল জংশনে 
হেসে হেসে আমরা কেবলি 
মানুষের বোঝা বই |

আমাদের গায়ে 
ঘামের গন্ধ 
সুগন্ধি আপনার গায়, 
বাবু 
আমরা বেঁচে আছি 
একমাত্র আপনাদের 
অসীম কৃপায় |

আমরা কদর্য 
তাই দূরে থাকি 
ভয়ে ভয়ে আছি সরে, 
আপনি কি জানেন 
আমাদের গায়ের ঘাম 
পথে পথে 
রক্ত হয়ে যে ঝরে ? 

পুরো দুনিয়া 
আপনাদের জন্য 
আমাদের বলে কিছু নাই, 
আমরা অচ্ছুৎ 
অতি নিকৃষ্ট 
বলুনতো তাহলে 
আমরা কোথায় যাই ? 

ভালো যতো কিছু 
আপনারাই নিলেন 
উচ্ছিষ্ট শুধু আমাদের, 
এমন করে 
আর কতোকাল 
লাঞ্চিত হয়ে 
জীবন কাটাবো প্রমাদের? 

তাইতো আমরা 
প্রস্তুতি নিচ্ছি 
আগামীটা আমাদের চাই , 
আমরাও যে 
আপনাদের মতো 
মানুষ বটে 
সে বার্তাটি পাবেন সহসাই |





উঁচু আর নিচু 


নিচুজাত বলে 
ঠেলো যদি পিছে 
তুমিও যাবে একদিন সেখানে , 
অসহায় বলে 
সমাজের কলে 
আমায় রেখেছো যেখানে |

জেনে রেখো তুমি 
এতে আমার মোটেও 
হয়না অনুতাপ, 
আমার সমান 
পাবেই অপমান 
এ নহে আমার অভিশাপ |

তুমি যারে আজ 
করো অবহেলা 
একদিন দেখিবে তুমি, 
সেই তোমার 
রচনা করেছে 
সকলের পূর্ণভূমি |

উঁচু নিচু বলে 
কান্ড একি 
চলেছে মর্ত্যে আজ, 
স্বর্গ নরকের 
ভেদাভেদ করে 
ভাঙিছে মনের তাজ |

ভগবান কি শুধু 
উঁচুতে থাকে 
নিচুতে থাকেনা নাকি ? 
দেবতার ঘরে 
আলো দাও মিছে 
নিজেরে আঁধারে রাখি |

দেবতা ভেবে 
মাটির পুতুলে 
ভুলিছ মানুষ দেবতার কথা, 
উঁচু নিচু বলে 
আজকে চলছে 
নিষ্ঠুর বর্বরতা |

উঁচু আর নিচু 
যেনো নহে কিছু 
সকলে সবাই সমান, 
তোমাতে আমাতে 
ভেদাভেদ নাই 
সকলি এক হাতেরই দান |




আমলা কথা  


পাঠশালাতে তুখোড় ছাত্র 
অংকে জুড়ি মেলা ভার, 
ইংরেজিও কম নয় মোটে 
বিদ্যালয়ের অহংকার |

দুধের সাথে জল মিশিয়ে 
লাভ ক্ষতির অংকে, 
লেটার পেয়ে পরীক্ষাতে 
দিতো সবকে চমকে |

একদিন শুনি এই ছেলেটাই 
এখন বড়ো আমলা, 
সারা দেশে নাম পরেছে 
ইয়া বড়ো কামলা |

ঠান্ডা ঘরে বসত করে 
তিনিই বড়ো হুজুর, 
বাদ বাকি সব গোলাম তার 
আজ্ঞাবহ মুজুর |

মন্ত্রী বলো তন্ত্রী বলো  
তার কাছে নস্যি , 
তার ভয়ে ওষ্ঠাগত  
যতো পাড়াপড়শি |

বাড়ি এলে গাড়ির সারি 
অবাক সবে চেয়ে রয় , 
পাইক পেয়াদা জড়োসড়ো 
চাকরি যাবার করে ভয় |

আমলা মানে বড়ো গামলা 
জটিল মামলার কারিগর, 
একটু যদি পেয়ে বসে 
যাবে কিন্তু বাড়িঘর |

আমলা হলো কাঁচা হলুদ 
শাক সব্জি ব্যঞ্জনে , 
তাদের ছাড়া হয়না কিছুই 
কায়দা যতই রন্ধনে | 

আমলা মানে কামলা বড়ো
গামলা ভরা ঘাস, 
পাহাড় চূড়ায় করতে পারেন 
জল পদ্মের চাষ |

আমলা কথা আমলা নামা 
মহাকাব্যের ছন্দ, 
আমলারা সব ভালো দেখেন 
আমরা যখন অন্ধ |

দেশ চলেনা আমলা ছাড়া 
ভেলকিবাজির কামলা , 
চিকন মোটা বুদ্ধি দিয়ে 
ভরিয়ে রাখে গামলা |

তাদের কিছু চামচা থাকে 
পাঁকা আমের মাছি, 
চারপাশে ঘিরে থাকে 
করে নাচানাচি |

রাতকে তারা দিন বানায় 
দিন বানায় রাত, 
আমলা পাড়ায় বাস করে 
আমলাদের হাতে হাত |

যে দেশে আমলা বেশি 
মামলায় ভরা দেশ, 
আমলাতান্ত্রিক দেশ হলে
সব কিছুই হয় শেষ |







এখন বিবর্ণ সময়


এখন বিবর্ণ সময়
মানুষ থেকে মানুষের দূরত্ব বেড়েছে 
শুধু আত্মরক্ষাই আজ একান্ত জরুরী, 
এখন হাতে হাত রাখার বিধান নেই 
অমোঘ এ নিয়ম মেনে 
মনুষত্বের ভাসান উৎসব চলছে পৃথিবীতে |

আগামীর কথা ভেবে ভেবে 
নির্ঘুম প্রহর অতিক্রম করছি আমরা, 
বিরামহীন ছুটে চলেছে সময়ের কাটা 
শ্রান্তিহীন ক্লান্তিহীন ভ্রূক্ষেপহীন জীবন |

পায়ের তলার মাটি ক্ষয়ে ক্ষয়ে যাচ্ছে 
ক্রমান্বয়ে আমরা ভীত ও স্পর্শহীন হয়ে যাচ্ছি 
ভাবতে গেলে বুকটা কেঁপে উঠে 
অজানা আশংকায়, 
কাছের মানুষগুলি এখন আর 
আগের মতো নেই 
আত্মরক্ষায় কেবলি ত্রস্ত ওষ্ঠাগত প্রাণ |

কাছে আসার গল্পের বই 
কিংবা কবিতার পংতি 
ভালোবাসাহীন এ দুঃসময়ের কথা 
আরেকটা ইতিহাস গড়বে সাইসাই, 
আগামী প্রজন্ম অস্তিত্বের সংকটের সামনে দাঁড়িয়ে 
কখনো যদি পূর্বপুরুষের কথা ভাবে 
তা হলে 
তাদের কাছে কি হবে উত্তর সেদিন?  

পৃথিবী ঘুরে ঘুরে 
সূর্যের উষ্ণ উত্তাপ নিয়ে 
বেঁচে আছে এতদিন সদ্যজাত শিশুটির মতো, 
সমস্ত বলয়ে 
কিংবা 
গ্রহের কোনো কৃষ্ণগহ্বরে 
অজানা অনাবিষ্কৃত 
বিজ্ঞানের ব্যর্থতার দায়ভার কে নেবে ? 

মানুষ বলে 
আমাদের গর্ব করার কি আছে ? 
অকাতরে প্রাণের বিনাশের মর্মান্তিক পরিণতি 
আটকাতে পারছি কই, 
এ অদ্ভুত সময়ে 
নির্বিকার ও অসহায় হয়ে আছে পুরোটা পৃথিবী |










শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২০

নির্বাচিত ছড়াগুচ্ছ।। অংশুমান চক্রবর্তী




ব্যাঘ্রমহাশয়

বাঘ এসেছে কলকাতাতে
সবাই ভয়ে কাঁপে
কেউ জানে না কখন ঘাড়ে 
পড়বে যে এক লাফে।

রাস্তাঘাটে লোক কমেছে
অফিসপাড়া ফাঁকা 
বিক্রিবাটা বন্ধ এখন
যতই ফেলো টাকা।

সবাই বলে, আগে বাঁচো
তারপরে তো কাজ
টাকার লোভে বাঘের হাতে 
মরবো নাকি আজ?

বাসে-ট্রেনে লোক হয় না
পায় না চাকা গতি
ডোরাকাটা সামনে এলে
হয়েই যাবে ক্ষতি।

জনজীবন অচল এখন
সবাই ভাবে মনে
হেলেদুলে বাঘটা ভালোই 
ছিল সোঁদরবনে।

কলকাতাতে কেন এল?
খাবার টানে আসা?
বাঘ তাড়াতে একটা উপায়
বের করবো খাসা।

টিভি চ্যানেল, নিউজ পেপার 
খবর করে রোজ 
আলোচনার পাশাপাশি 
জমছে মহাভোজ।

বাঘের ছবি তোলার জন্য 
ক্যামেরাম্যান ছোটে
মন্ত্রী ভাবেন, বাঘ তাড়িয়ে
জিতব আবার ভোটে।

বাগবাজারের পটলা ভাবে
সুযোগ এল হাতে 
চুপিচুপি মনুমেন্টে
চড়ব গিয়ে রাতে।

জানতে কেউই পারবে না তো
উঠব একা একা 
আশাকরি আমি বাঘের 
পেয়েই যাবো দেখা।

টালিগঞ্জের টুম্পা ভাবে-
যাবো কপাল ঠুকে 
বাঘের সঙ্গে সেলফি তুলে 
দেবো যে ফেসবুকে।

হাজারখানা লাইক-কমেন্ট
নই তো আমি ভীত 
সেই ছেলেটা থাকলে বাঘের 
গলায় মালা দিত।

বাঘ ধরতে লোক বেরলো
অনেকগুলো দল
নামল পথে পশুপ্রেমী
চোখে তাদের জল।

চিড়িয়াখানার বাঘের কদর
কমল রাতারাতি 
শুধু কি বাঘ? কেউ দেখে না 
সিংহ, কুমির, হাতি।

কলকাতাতে বাঘ এসেছে 
সেই বাঘটা কই?
বিশেষজ্ঞ চশমা চোখে 
ঘাঁটতে থাকেন বই।

সিসি টিভি পায়নি ছবি 
বাঘটা চালাক খুব 
ডাঙায় সে কি ঘুরছে, নাকি 
নদীর জলে ডুব? 

ঢাক বেরলো, ঢোল বেরলো
বাঘ তাড়াতে হবে 
ধীরে ধীরে মানুষ আবার 
মেতেছে উৎসবে।

হয়ে গেল সব স্বাভাবিক 
দূর হয়েছে ভয়
মানসম্মান খুইয়ে কাঁদেন
ব্যাঘ্রমহাশয়।






 ধরার ছড়া

পাখির ডাকে ঘুম ভেঙে যায়
যখন নামে ভোর
প্রশ্ন জাগে হাজার, তবে 
আসে না উত্তর।

উত্তর তো হাওয়ায় ওড়ে
ধরে নিলেই হয়
কিন্তু ধরব কেমন করে? 
মনের মধ্যে ভয়।

ভয় সরিরে বাইরে আসি
আলোর মুখোমুখি
এই সময়ে আমার মতো 
কে আর আছে সুখী?

আলোকধারায় স্নান করেছি
সারা শরীর ভিজে
সব প্রশ্নের সব উত্তর 
ধরতে পারি নিজে।




একলা পথিক


কোন দিকে যায়, ঠিক থাকে না, কিন্তু সে রোজ যায়
অন্ধকারের উৎস থেকে আলোর ঠিকানায়।

যায় না একা, দুই পাশে তার অনেক মানুষ থাকে
দেখতে পাবে তাদের, যদি দাঁড়াও পথের বাঁকে।

ইচ্ছে হবে, ওদের সঙ্গে পা মিলিয়ে হাঁটি
কী করবে তারা, যারা এড়িয়ে চলে মাটি?

তারাও কি আজ নামবে পথে, যাবে আলোর দিকে?
শিকল ছিঁড়ে উড়িয়ে দেবে সমস্ত বন্দিকে?

এর উত্তর কেউ জানে না, একলা পথিক জানে
এগিয়ে চলার মন্ত্র শুধু ছড়ায় কানে কানে।

অন্ধকারের উৎস থেকে বেরোয় আলোর সুর
একলা পথিক এগিয়ে চলে, লক্ষ্য বহুদূর ...



গায়ক

অন্ধকারের তীব্র গন্ধ, চারিদিক শুনশান
ফাঁকা মাঠে বসে দামাল হাওয়াকে শোনাচ্ছিলাম গান।
ভজন, খেয়াল, ঠুমরি, গজল কিছুই ছিল না বাদ
কী জানি কেন যে গাওয়ার সময় মুখ ঢেকেছিল চাঁদ।

চলছিল গান, হঠাৎ কে যেন হুস করে এলো উড়ে--
বলল, 'আমার ঘুম ভেঙে গেল তোমার গানের সুরে।
পাশের শ্মশানে নতুন এসেছি, অপঘাতে গেছে প্রাণ
তুমি রোজ রাতে কিছুটা সময় আমাকে শোনাবে গান?
কোনো ভয় নেই, পারিশ্রমিক যা চাইবে, তাই পাবে
বিনিময়ে শুধু ভালো ভালো গান আমাকে শুনিয়ে যাবে।'

সেই দিন থেকে চিন্তা, অভাব সব হয়ে গেছে দূর
প্রতি রাতে এক শ্রোতার সামনে ছড়াই নতুন সুর।
কেউ প্রতিভার কদর করেনি, মানুষ শোনেনি গান
অবশেষে এই গায়ককে ধরে ভূত দিল সম্মান।




 কাঠবেড়ালির লেজ

গাছের পাতায় রোদ পড়েছে, যাচ্ছে পাখি উড়ে
কে যেন গান গাইছে একা এদিক-সেদিক ঘুরে ।
কে গাইছে? যায় না বোঝা, হাওয়ায় ওড়ে সুর
উড়তে উড়তে যায় ছড়িয়ে অনেক অনেক দূর।
সুরের ছোঁয়া লাগলে গাছে ফোটে হাজার ফুল
ছোট্ট যারা, হয় যে দেখে আনন্দে মশগুল।
গাছের পাতায় রোদ পড়েছে, নেই তো রোদের তেজ
গানের তালে নেচে ওঠে কাঠবেড়ালির লেজ।



চলো সুন্দরবনে

যদি আমি পুষি একটা মস্ত বাঘ
কী কী উপকার হতে পারে, বলো ভেবে, 
এটুকু শুনেই তোমরা করলে রাগ? 
কী ভাবছো, বাঘ হাত-পা কামড়ে দেবে? 

একদম নয়, মনে করো বাঘ যদি
পোষ মেনে যায় হিংসার কথা ভুলে, 
সাঁতরে আমাকে পার করে দেবে নদী
সময়ের আগে নিয়ে যাবে ইসকুলে।

সকাল-সন্ধে ঘোরাবে নানান পাড়া
বাঘ যে নিরীহ-- ফেলবে না কেউ জেনে,
ফুটবল মাঠে খেলতে নিত না যারা
দেখবে, তারাই চলবে আমাকে মেনে।

রাস্তায় ভিড়? সব হয়ে যাবে দূর
হেঁটে যাবে বাঘ, তার পিঠে বসে আমি,
মনের মধ্যে বাজবে খুশির সুর--
তোমরা এটাকে মনে করো পাগলামি?

বাস্তবে এটা সত্যি হতেই পারে
বহুদিন থেকে ইচ্ছা পুষেছি মনে, 
কোনো কাজ নেই সামনের বুধবারে?
বাঘ ধরে আনি, চলো সুন্দরবনে...







নির্বাচিত কবিদের কবিতাগুচ্ছ ।। রনি অধিকারী




স্মৃতির সমাধি


মাথার ভেতরে আজ টান-টান ক’রে
জলের সাহস ভেদে তোমাকেও চাই-
মগজে গভীর খেলা, স্মৃতিগুলো পাই;
তোমার বাড়ির পথে চলে যাবো ধীরে।
ইতিহাস খুলে যাবে এমনই কিছু...
তৃষ্ণায় চলেছি আজ হেঁটে অকারণ
ঘ্রাণগুলো ঘুরে-ফিরে স্মৃতির মরণ;
মধ্যরাতে বয়ঃসন্ধি জোনাকির পিছু।

নুয়ে পড়া অনুভূতি নীলিমায় মিশে
জ্যামিতির দিনরাত্রি অস্থির হৃদয়
গোপন নৈঃশব্দ্যে আঁকা, কিছু পরিচয়;
ভেতরে-বাহিরে আজ নীলকণ্ঠ বিষে।
কাটা-ছেঁড়া হৃৎপিণ্ডে জীবন শৈবাল
স্মৃতিগুলো জমে থাকা, ফোটে জ্বলজ্বল।




   কবিতার প্রথা ভাঙি


রাত্রি শুরু। -এই চোখে নীল নীল ক্ষত
অভিসারী নিশাজল অকারণ ছোঁয়।
শায়িত শরীর ক্লান্ত। ক্লান্তি, ঘুম, স্বপ্ন...
স্বপ্নের স্রোতেই লিখি হাজার কবিতা
অতিশয় অনুগত প্রথা ভাঙি প্রথা।
চিত্রকল্প নিমেষেই মিশে যায় দেহে
ইতিহাস খোঁড়াখুঁড়ি প্রেম-প্রবণতা
শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা চলে স্বপ্নের আধার
অন্ধকারে জড়াজড়ি শোকার্ত সময়ে
মধ্যরাতে কবিতার প্রথা ভাঙি প্রথা।


 অচেনা অধিবাসী


ধূসর ধোঁয়া একটি নারী
আজন্ম আকাঙ্ক্ষায় লালিত জন্ম
অচেনা অধিবাসী।
রাতের গুহায় বনচর থামে
হৃদয় মুচড়ে স্বপ্নকে ভাঙে।
ক্রমশ উষ্ণতা আলোকে ছোঁয়
ওমের প্রেরণায় রোদ্দুরকে ছোঁয়।





  বিলাসী বসন্ত


সভ্যতার সীমারেখা হয়ে যায় অনায়াসে পার
স্তব্ধ অসাড় শরীর সেলুলার বেজে ওঠে অঝোর অবিরাম
আজ আর কোনো জীবনানন্দ দেখবে না ঐ যুবকের সাথে
সুরঞ্জনা-নীলাঞ্জনা কিংবা মাধবীলতার গোপন অভিসার
ঐ অভিলাষী মানবের সাথে সভ্যতার সেলুলার ফোনে
হাজার কথোপকথন ধ্রুপদী সংলাপে অঢেল সময় যাবে
রক্তচক্ষু অথবা ঈষান্বিত হৃদয়ে আজ আর কোনো জীবনানন্দ দেখবে না
সুরঞ্জনা-নীলাঞ্জনা কিংবা মাধবীলতার গোপন অভিসার
ত’বে স্পন্দিত হৃদয় আর এক হৃদয়ে
ছুঁয়ে যাবে শাদা শাদা বৃষ্টির পসরা
প্রাণবন্ত শূন্যতায় রঙিন বাটনে আঙুলের দ্রুত স্পর্শ 
হতে পারে মুঠোফোন ডায়াল প্রক্রিয়া
যেখান থেকে শুরু সেখানেই শেষ শেষের শুরু আবার শুরুর শেষ
ক্রমশ মিটে যায় আশা প্রয়োজনের সব গোপন অভিসার
মূলত ‘নাম্বার ভাঙার মধ্যেই শুরু হয় অনন্ত রাত্রির সংলাপ
অঝোর শ্রাবণ থেকে আর-এক শ্রাবণ’

চেতনার চূড়ায় বাস্তব আজ বিলাসী বসন্ত
হয়তো এখনই আসবে প্রেমের দলিলপত্র





   অভিশাপের মহাকাল
 

কত সুখী হ’বে তুমি যদি চেনা ভাষায় প্রকট
নক্ষত্র কিরণে রাত্রি লুপ্ত ক’রে দিও একেবারে
সতত আমি যে খুঁজি শাদা আর নগ্ন শূন্যতারে!

ত’বে ঘোর অন্ধকার সে নিজেই হ’য়ে ওঠে পট
যেখানে আমার চোখ জন্ম দেয় হাজার সংখ্যায়
সে-সব অতীত সেই চেনা চোখ এখনো তাকায়।

খুঁজি না আর কোথাও বাসা কোনো ক্ষুদ্র অন্তরাল
নে ত’বে নে আমায় টেনে অভিশাপের মহাকাল।




শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২০

নির্বাচিত ছড়াগুচ্ছ।। সেকেন্দার আলি সেখ




 আতা গাছে তোতা   

আতা গাছে তোতা পাখি 
ডালিম গাছে হিম 
খবর শুনেই রাজা মশাই 
মাখতে থাকে নিম। 

আতা গাছে পাতা আছে 
ডালিম ফুলে শোভা 
বাগানে ঘুরে রাজা মশাই 
হঠাৎ হলো বোবা। 

আতার ডালে পাখি ডাকে 
নদীর জলে হাঁস  
এতোল-বেতোল ভাবছে রাজা 
একশো এক মাস। 


আতা গাছে আতর মেখে 
কাতর তোতা পাখি 
সপ্ত-সুরের ছন্দ মাতন
বলো কোথায় রাখি। 


    

 ছোট্ট মেয়ে চার জনা  

সায়নী নামের ছোট্ট মেয়ে 
কলমি লতা তোলে 
সেই সময়ে দোয়েল- ফিয়ে 
গাছের ডালে দোলে। 

সুইটি নামের ছোট্ট মেয়ে 
দুলিয়ে চলে বেণী 
বেনীর ডগায় ফুলকে দেখে  
মিয়াঁও ডাকে মেনি। 

সহেলি নামের ছোট্ট মেয়ে 
নাইতে নামে জলে  
সবুজ পাহাড় অবুঝ আকাশ 
যেথায় কথা বলে। 

সেরিনা নামের ছোট্ট মেয়ে 
দু'চোখ ভরে দ্যাখে 
অবাক চোখে সেই মেয়েটি 
চাঁদের আলো মাখে। 





  
 বিশ্বজয়ের স্বাদ

শাপলা ফোটে শালুক ফোটে 
ফোটে হাজার ফুল 
ডালিয়া রাণী ফুল তুলছে 
ভেবে না পায় কুল। 

শাপলা ভেবে শালুক তোলে 
পদ্ম ভেবে পাতা 
ফুলের সাজি ফেলে দিয়েই 
দোলায় শুধু মাথা। 

ডালিয়া রাণী দুলিয়ে বেণী 
নুপুর পায়ে নাচে 
নুপুর ধ্বনি ছড়িয়ে পড়ে 
পুকুর -পাহাড়- গাছে। 

গাছ নাচছে মাছ নাচছে 
নাচছে দূরের চাঁদ 
সেই মেয়েটির পায়ে -পায়ে 
বিশ্ব জয়ের স্বাদ । 




   রূপের খেলা 

সবুজ বনে কোয়েল ডাকে
দোয়েল ডাকে গাছে 
মনটা আমার হারিয়ে গেল 
ময়ূর যেথা নাচে। 

দু'চোখ শুধু ছড়িয়ে দিলাম
শাল পিয়ালের বনে 
ঝর্ণা ধারা নাচতে থাকে 
দূর পাহাড়ের টানে। 

পাখির শীষে মিষ্টি বিকেল 
মুখ লুকিয়ে হাসে 
মুঠো-মুঠো আবির গুঁড়ো 
নদীর জলে ভাসে। 

শান্ত নদী ঘুমিয়ে আছে 
তির - তির- তির জলে 
সন্ধে- সকাল রূপের খেলা 
এমনি ভাবেই চলে। 





নির্বাচিত ছড়াগুচ্ছ।। সঞ্জীব কুমার দে



       

   এই ছেলেটা ভেলভেলেটা

এই ছেলেটা ভেলভেলেটা
      আমাদের বাড়ি যাবি
ভালোবেসে খেতে দেবো
       পাত বিছিয়ে খাবি।

এই ছেলেটা ভেলভেলেটা
     আমাদের বাড়ি যাবি
প্যান্ট, জামা কিনে দেবো
            খুশিতে পড়বি ?

এই ছেলেটা ভেলভেলেটা
        মা যে তোর মৃত !
আঁচল টেনে ডাক দিবি যে
         জাগবে না চিত্ত ;

তোর শুধু যে পরিচয়
     পরিযায়ী শিশু
দূর্ভাগা তুই এ রাষ্ট্র'য়
      অনাথা এক যীশু !

এই ছেলেটা ভেলভেলেটা
      কাটিয়ে দিতে রাত,
অনেক আদর ভালোবাসায়
       বাড়িয়ে দিবি হাত ?



                      

   ভালো মেয়ে ভালো ছেলে।

দিন দুপুরে বাজলে ভেঁপু বাজালে মাদল
আসবে নেবে বাদল নাকি ? মা বলে পাগল !

সব সময়ে হরিণ ছোটা দুষ্টুমি এক বিকার
পড়া বিহীন বড় হলে পাবে যে ধিক্কার

নষ্ট ছেলে হলে জীবন বোলতারই চাক হয়
মৌমাছির চাক থেকে মধু পাবে যে নিশ্চয়

পড়াশোনা করা ছেলে দশের ধন্য ধন্য হয়
মা বাবারই গর্ভেতে  বুক বড় আকার নেয়

ভালো মেয়ে ভালো ছেলে দেশের ভবিষ্যৎ
এগিয়ে যাবার চাবিকাঠি দড়ি টানা রথ।




                              

স্মৃতি

মেঘ বাদলে কাজললতার কাজলে
              কে দিয়ে দেয় টিপ !
এ মেঘ শোন, মা সাজানোর ক্ষণ
               বুক করে টিপ টিপ।
নড়াচড়ায় বাঁধা পড়ায় সাজাতে মা
                 দেয় ঢিপ ঢিপ।

কাঁপছে আকাশ মাপছে বাতাস চমকানো,
               গুমড়ানো মুখগুলো
    রঙীন পোশাক নেই বুঝি তোর বেশি
                পুরনো সব কালো ?
যাস না দূরে কোথাও সরে, চল না খেলি
                  লাফ দে এক ভালো !

আমি জমা জলে নৌকো ভাসাই ভেলা
                পাতা ছিঁড়ে ছিঁড়ে
মা বলে তুই দাঁড়া, সাথে যে দেয় তাড়া
                  হাতে নিয়ে পিড়ে 
আমি এখন বাবা, মা'য়ের মতোই ভাবা
                     স্মৃতিরা জমকালো।



                            

                   

          ভূতের ভয়

বোসেদের তাল পুকুরে ভূতেদের বাস আছে না !
টপাটপ পড়লে সেতো ঘেঁসে না কেউ কাছে না।

এক শেষ রাতের বেলায় ঘেটু তাল কুড়োতে যেতে
আশপাশ ঢিলের ঠেলায় ফেরে সে দৌড়ে ছুটে

কে জানে কোথা থেকে ঢিল কেউ দেয় বা ফিকে
ভূত ভূত চীৎকারেতে জ্ঞান হারায় পথের বুকে,

বলে সে জিজ্ঞাসা তে, সে কি এক দস্যি ভূতের
তাড়া খেয়ে পালিয়ে বাঁচে চোখ কান সব মোলাতে

পিন্টু এক জেদদি ছেলে, যুক্তি খোঁজে সুযোগ পেলে
সে গিয়ে জানতে পারে, বিট্টু মূল গন্ডগোলে ।