লেবেল

মানবতাবাদী কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মানবতাবাদী কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২২

মানবতাবাদী কবিতা —৩৩ ।। আবহাওয়ার সতর্কবার্তা — অমিতাভ সরকার।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





মানবতাবাদী কবিতা —৩৩



আবহাওয়ার সতর্কবার্তা


অমিতাভ সরকার 




গভীর অন্তর্জাল। 

ভোরের নির্মেদ আকাশেও
যাপনার লোভ-সংপৃক্ত মেঘ।

অজ্ঞতার কুয়াশায় সম্মুখের পথ এখনও দৃষ্টির অনেকখানিই অগোচরে।

বেলা পড়িয়া আসিল। 

মনের প্রকৃতি,স্বরূপ বাহির হইতে দৃষ্ট হয় না।

সমাজ আপনার স্বার্থে নিয়ম রচনা করিয়াছে। 
আমরা তাহার আজ্ঞাবহ ক্রীতদাস হইয়া আজীবন কালপাত করিতেছি।

মুঠোফোনের মুঠোবিন্দুতে চেতনার স্বাভাবিক অন্তর্দৃষ্টি ক্ষীণ হইতে ক্ষীণতর হইয়া নামিল।

প্রস্তরখণ্ড কথা কহিতে পারে না।
মৌনং সম্মতি লক্ষ্মণম্।

জীবনের মৃত্যু ঘটিবে, কষ্টেরও অন্ত হইবে,
কিন্তু সংস্কার!

তাহার সহস্র বৎসরের জমিদারিতে আজও বিজ্ঞান সাম্রাজ্যবিস্তার করিতে পারিল না।

আমরা শিক্ষিত হইলাম, ডিগ্রি লাভ করিলাম, অথচ যাহাদের সাহচর্য ব্যতীত আমাদের অস্তিত্বরক্ষাই অসম্ভব, সেই নিকটস্থ প্রতিবেশী মনুষ্যদিগকেই মনুষ্য বলিয়া ভাবিতে, বুঝিতে বা চিন্তা করিতে শিখিলাম না।

আদিমতার গহন অরণ্যে আমিত্বের  অন্তর্জলিযাত্রা। স্বার্থপররা স্বার্থত্যাগীদের কোনোদিনই চিনিবে না।

অতএব, যৎপরোনাস্তি;
প্রশিক্ষিত পরিযায়ী পাখির যৎসামান্য স্তোক বাক্যই সম্বল। তাহাতেই প্রচারের টি আর পি মারিয়া শারাপোভারও অধিক উচ্চে। 


নেশা আর কাটিল না!





মানবতাবাদী কবিতা -৩২।। তিতিক্ষা — তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





মানবতাবাদী কবিতা -৩২



তিতিক্ষা 

তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য 


 দু একটি দাঁতে এনামেল উঠে গেছে জানি,
তবু আত্মনিয়ন্ত্রনের তিতিক্ষায় আমি সুখ পাখি  আঁকি। 
তুমি কবোষ্ণ সুখে পালক ছোঁয়া মন রাখো।
 দামাস্কাসের পেস্তা মেশানো দুধের আইসক্রিমের
 সুখে আমি  নবান্নের গান গাই।
হেমন্তকালে পিচ রাস্তায়  ধান শুকোতে দিচ্ছিলাম,
তখনই  গলায় রঙিন বেল্ট পরা কুকুরটার,
চোখে দেখলাম একটা কাতর অন্বেষণ।
আবারও  একদিন দেখলাম ওকে,  ওর তোলপাড় বুকের রক্তক্ষরণ।
প্রভুভক্তের দু চোখে মানবিক   ইতিহাস পরিক্রমা।
নতুন সারমেয়কে মালিক প্রশিক্ষণ দিচ্ছে দুরন্ত উৎসাহে।
কিন্তু  সেই শিশু সারমেয় টি আপনজন কে খুঁজতে খুঁজতে 
  আবিষ্কার করেছে   অনেক অজানা  পথ।
চিনে ফেলেছে মানুষের অমানবিক ইতিহাস কে।

বুধবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২২

মানবতাবাদী কবিতা —৩১।। হারায় না রে! — আরণ্যক বসু।। Ankurisha।। E.magazine।। Bengali poem in literature।।




মানবতাবাদী কবিতা —৩১


 হারায় না রে!

আরণ্যক বসু


একটা জীবন সলতে পাকিয়ে

 হঠাৎ ফুরিয়ে গেলো, 

একটা আকাশ, পঞ্চদশী

চাঁদের খবর দিলো! 


একটা জীবন ঋণের জালে

জড়িয়ে পেঁচিয়ে মরে,

গাঁয়ের উমা দাম-শ্যাওলায়...

আর ফেরেনি ঘরে।


একটা বর্ষা বিদায় নিলে

কালিদাসের আষাঢ়,

ঘুমের দেশে স্বপ্ন দেখে--

আবার ফিরে আসার।


অমল যখন শিউলিতলায়,

সুধাও কাশদিগন্তে; 

দিনগুলো আর আসেনা ফিরে

কোনো গল্পের অন্তেই।


একটা ঢাকে কাঠি পড়লে

সারাটা গ্রাম নাচে,

ভ্রমরকৃষ্ণ মেঘের নিচে

কালো মেয়েটি বাঁচে? 


একটা নদীর ঢেউ দোলালো

স্থলপদ্মের ডাল,

ও সোনা, তোর মুখেভাতে

গোবিন্দভোগ চাল।


একটা চায়ের দোকান জুড়ে

শরৎ আলোর হাসি,

গ্রামের নতুন ডাকঘরে আজ

চৌরাশিয়ার বাঁশি...


সেই যে পাগলা , সারা বচ্ছর

সলতে পাকিয়ে পাকিয়ে...

সেও তো এখন নীলকণ্ঠের

ডানার দিকে তাকিয়ে!


একটা বাউল, প্রাণের বাউল,

আগমনীর সুরে,

শিশির ভেজা হেমন্তদিন

আসছে বছর ঘুরে?


নটে গাছটাও বেঁচে থাকবে? 

নতুন ভোরের আশায়? 

রেলের কামরা ডাকবে আবার?

শাল-মহুয়ার বাসায়...



মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২২

মানবতাবাদী কবিতা —৩০ ।। নীল আকাশের নীচে এই পৃথিবী — তু ল সী দা স মা ই তি।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





মানবতাবাদী কবিতা —৩০



'নীল আকাশের নীচে এই পৃথিবী' 

  তু ল সী দা স  মা ই তি


'নীল আকাশের নীচে এই পৃথিবী ' - এই গান ভেসে এলে 

যাদের মুখ মনে পড়ে 

তারা আজও যুদ্ধ করতে শেখেনি। 

অজস্র কান্নার জলে ভেসে গেছে তাদের কষ্টে গড়া সাঁকো। 


বিবিধ ঝড়ে ভাগ হয়ে গেছে মানুষ ও মানুষের ভালোবাসা। 

ছোপছোপ দুর্বলতা বাসা বেঁধেছে তাদের ভাঙা শরীরে। 

প্রকাণ্ড পৃথিবীও তাদের দিকে তাকায় না।

যদিও বা তাকায় তাতে করুণার ক্ষতদাগ লেগে আছে।


নতজানু মানুষ উদরের আগুন নেভাতে নেভাতে লড়াই ভুলে গেছে। 

তারা  হাত পেতে আছে আজও আকাশের কাছে নয়, রাজার কাছে। 

তারাও তো জীবন ভালোবাসে! 


নীল আকাশের নীচে যে  নি:শব্দ ক্রন্দন ধ্বনি আসলে  তা সঙ্গীত, 

অদৃশ্য অতল থেকে ভেসে আসা 

হেমন্তের গান  - 'শুনেছ কি মানুষের কান্না'?

সোমবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২২

মানবতাবাদী কবিতা —২৯ ।। প্রশ্ন রাখো নিজের মাঝে — প্রদীপ্ত সামন্ত।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



মানবতাবাদী কবিতা —২৯


প্রশ্ন রাখো নিজের মাঝে

প্রদীপ্ত সামন্ত

সকাল বেলা'ই খবর কাগজ
       দারুন জমে চায়ের কাপে ,
দুধ চিনি আর চায়ের লিকার
       অনাথ কাঁদে - কার যে পাপে?

ইচ্ছে যা হয় করতে থাকি
      স্বাধীনতার এই কি মানে?
জীবন গঠন মূল্যবোধে
       করতে কি হয় - ক'জন জানে?

ধর্ম নিয়ে কচ্ কচানি
      বোধটুকু নেই জীবন জ্ঞানে ,
দিই কষে দিই - পেট ও বুকে
       দয়া মায়া নেইকো প্রাণে ।

এমনি মোরা বীরপুঙ্গব 
        ধর্ষিতা হয় ছোট্ট বোনে ,
নামতে চাই না মাঠের মাঝে
         যা কিছু হয় ফোনে ফোনে।

আত্মশ্লাঘার দগদগে ঘা
         পাহাড় প্রমাণ এই সমাজে ,
শুদ্ধিকরণ ক'ই টুকু বা
          প্রার্থনা বা ওই নামাজে ।

রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২২

মানবতাবাদী কবিতা -২৮।। জ্ঞানের আলো — ফটিক চৌধুরী।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 


মানবতাবাদী কবিতা -২৮



জ্ঞানের আলো

ফটিক চৌধুরী

ঢলে পড়েছে সূর্য
গোধূলির আবেশে
এবার সারারাত
তার অনুপস্থিতি।

কেউ কি ডেকে আনে ?
সূর্য নিজ দায়িত্ববোধে
দিনকে ঠিক ডেকে নেয়।

একটি মানুষ
সে সূর্য হতে পারে না
যতক্ষণ না সে আলো দিচ্ছে
জ্ঞানের আলো
এটাই মানবিক দিক।

শনিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২২

মানবতাবাদী কবিতা -২৭।। ফিরে চাও — দীপক বন্দ্যোপাধ্যায়।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




মানবতাবাদী কবিতা -২৭



ফিরে চাও

দীপক বন্দ্যোপাধ্যায়

রুদ্রাক্ষ জড়িয়ে নিয়েছ দু'হাতে
অঞ্জলি ভরে নিয়েছ মাহাত্ম-জল
এভাবে পবিত্র হতে চাও ঘুরপথে
বোঝনি আজও কী তোমার সম্বল

অথচ একবারও চাওনি ফিরে পিছু
ঈশ্বরের প্রতিস্পর্ধীকে দ্যাখোনি সেভাবে
পবিত্রতাও মোহজাল ছাড়া নয় কিছু
উপেক্ষার অনাদর ভরিয়ে রেখেছ স্বভাবে

সংশয়ী মেঘ জমেছে তোমার মনে
কীসের তাড়নে তুমি অতৃপ্ত-অধীর
শেষ পরিণতি খুঁজোনা আত্মহননে
বুঝে নাও আরোগ্যপথ এ ব্যাধির
#
রুদ্রাক্ষ নিছকই তো এক ফল
পবিত্র অপবিত্র সীমায় বেঁধোনা জল
তোমার যা কিছু সম্বল খুঁজে নাও
প্রতিস্পর্ধীর দিকে সত্যিই ফিরে চাও

শুক্রবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২২

মানবতাবাদী কবিতা -২৬ ।। প্রান্তর — বিকাশরঞ্জন হালদার।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




মানবতাবাদী কবিতা -২৬



প্রান্তর 

বিকাশরঞ্জন হালদার 


আমার আটান্ন বছরের বুক থেকে হিঁচড়ে তুলে ফেলি ছোবলগুলো। ফেলে রাখি মাটিতে। খুঁজে বেড়ানো চোখ দু'টোয় ধরা দিক - শেকল-পালানো  পাগলামি। যেখানে থাকবে ঘন-মেঘের গান আর ' ফেলে আসা ' থেকে ডেকে আনা নগ্ন আলো-বেলা।

স্বপ্নগুলো'কে এবার পরিস্থিতির  পুঁটলি খুলে বাইরে বের করে আনা দরকার!

জীবনের প্রত্যেক'টি যাপন খোলামেলা আর খেলাধুলো হোক। জগৎ হোক মস্ত এক'টা প্রান্তর। মাথায় নিয়ে দিগন্ত-নীল!

বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২২

মানবতাবাদী কবিতা —২৫ ।। স্বপ্ন —অর্ণব মিত্র।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



মানবতাবাদী কবিতা —২৫



স্বপ্ন

অর্ণব মিত্র

 

স্বপ্ন দেখি

     ইউক্রেনে-রাশিয়ায়, একদিন যুদ্ধ থেমে যাবে

     খেলবে শিশুরা পথে-পথে, উড়বে মুক্ত পায়রা নীল আকাশে।

স্বপ্ন দেখি

     ইরানে, বোরখা না পরার অপরাধে

     বন্দী হবে না কেউ -

     মরবেনা আর কোনো নিরপরাধ কিশোরী।

স্বপ্ন দেখি

     আফগানিস্থানে, মেয়েরা- পাবে স্বাধীনতা,

     রাস্তায়, পার্কে, অনুষ্ঠানে তাঁরাও

     উজ্জলতা ছড়াবে।

স্বপ্ন দেখি

     আমেরিকায়, কেড়ে নেবেনা কেউ

     কোনো প্রবীণ লেখকের

     দৃষ্টি ও দৃঢ় হাতে লেখার শক্তি।

 

 

স্বপ্ন দেখি

      ভারতে, ধর্মের নামে হবে না বিভেদ

      মন্দিরের প্রসাদ পাবে দলিত কিশোর ছেলে

      সবাই হবে সমান,

      ছড়িয়ে পড়বে শিশুর হাসি আকাশে বাতাসে।

বুধবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২২

মানবতাবাদী কবিতা —২৪ ।। একলা হতে চাই — সিদ্ধার্থ রায় (সিধু)।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




মানবতাবাদী কবিতা —২৪


একলা হতে চাই

সিদ্ধার্থ রায় (সিধু)


চাওয়া  

কিম্বা   চেয়ে  নেওয়া  

বেশ   সহজ  ...


কিন্তু    কীভাবে  

গ্রহণ  করতে  হয়?


শিল্প   থেকে   শিল্পান্তর  ...


তবে,  যদি   ঠেকে  যায়  

আঙুলে   আঙ্গুল!


এই  শরীর  স্পর্শ  কি  

একান্তই   অশুদ্ধ?


কয়েক  মিনিটের   জন্যও  

কি  থেমে  যেতে  পারে না  

নীতি  কর্তা দের   এজলাস?


আমার  বিচারক   জানিয়েছেন —


আমি  তোর   সাথে  

একলা   হতে   চাই  ...

মানবতাবাদী কবিতা -২৩।। মানবতার গান— পুষ্প সাঁতরা ।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 






মানবতাবাদী কবিতা -২৩


মানবতার গান

পুষ্প সাঁতরা  


মানবতার পথ প্রজ্ঞার পথ; বৈভব স্বার্থ হিংসা অহংকারের পথ। হিংসার জতুগৃহে আসুরিক শক্তি প্রয়োগে অপচয় আর অবক্ষয় ,মানবতা ধ্বংস হচ্ছে। 'মা হিংসী 'এ বুদ্ধের অহিংসার বানী--- গীতা বাইবেল কোরান সব গ্রন্থেই মানবতার কথা আছে এ আলোল তিলক জ্বলজ্বল করছে শাশ্বত ভারতের হৃদয় ; চন্ডাশোক থেকে ধর্মাশোক তো মানবতার কথা বলে।
মানুষের ভাব ভাবনার ঘরে মরচে ধরেছে। নিবিড় ঘন আঁধারে হাতড়াচ্ছে মানুষ কীট। আকাশে বারুদ বাতাসে বিষ মাটিতে বিবাদ। শূন্যতা আর অস্থিরতায় ঝকঝকে শানিত তরবারি, হিংসা যেন মৃত্যু ছোবল, বারুদ ধূপের ধোঁয়া! কেন লালন ফকির কে ভুলে যাই? হৃদয়ে প্রেম এলে মানবতা পিঁড়ি পাতে বুকের গভীরে, এত আলো তবুমানবতায় আঁধার কেন? মুক্তমনার মানুষের বড্ড অভাব! বিশ্বাসের ধারাপাতে ধোঁয়াসার চাদর। সচ্চিদানন্দ আলোতেই মানবতা আসে। আমরা অমৃতস্য পুত্রা! অসহিষ্ণুতার প্রভাব কে প্রতিহত করে, পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে উঠি। সচেতন এবং সুচেতন না হলে হিংসার কর্কট রোগ থেকে মুক্তি নেই, মানুষ তো নিজেকেই নিজে ভক্ষণ করছে। সুযোগের রসে আর স্নান নয়, অকারন চর্বি নিয়ে বিষন্নতায় না ভুগে হানাদার সময়ে রক্তাক্ত মাটিকে মানবতার গান শোনাই---- অসহিষ্ণুতার পেরেক গুলি তুলে একতারায় গান বাজে--- ডুব ডুব ডুব রূপ সাগরে আমার মন তলাতল পাতাল খুঁজলে পাবি রে ভাই রত্নধন---




মঙ্গলবার, ২২ নভেম্বর, ২০২২

মানবতাবাদী কবিতা -২২ ।। যাত্রা — বাবলু গিরি।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 






মানবতাবাদী কবিতা -২২



যাত্রা

  বাবলু গিরি

                            

যাচ্ছ যখন যাও 

মনে রেখ এই শ্মশানঘাটে আসতে হবে বারবার 

জ্বলার আনন্দেই ফিরে আসা

যাচ্ছ যখন যাও 

সঙ্গে দুমুঠো অন্ন নিয়ে যাও, অনন্তের যাত্রা তো •••

মা বলত খালি পেটে যেতে নেই, 

সুদামা খুদকণার পুঁটুলি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল,

যাওয়াতো অনেক রকমের,খোলকর্তালে চার কাহারের কাঁধে - অন্তর্জলী যাত্রা -

জগন্নাথের রথে যাওয়া, 

মা কড়ে অঙুল কামড়ে থু থু করে বলতো দুগ্গা দুগ্গা 

অন্তরীক্ষে,শকটে কিংবা হ্রেষা ধ্বনিতে 

যমদুয়ারে নচিকেতার যাত্রা 

মা বলতো - যমের নজরে পড়িস নে, কাজলের টিপ পরিয়ে দিতো


যাচ্ছ যখন যাও -

সমস্থ যাত্রার শেষে আগুনের স্নানঘরে -

জ‍্যোতির্ময় হবো আনন্দে উল্লাসে,

শেষ যাত্রা সমিধের পালঙ্কে শ্মশানঘাটে অগ্নিযাত্রা।

সোমবার, ২১ নভেম্বর, ২০২২

মানবতাবাদী কবিতা —২১ ।। গাই মানবতার গান — দীনেশ সরকার ।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



মানবতাবাদী কবিতা —২১



গাই মানবতার গান

  দীনেশ সরকার     

সুস্থ ভাবে বাঁচতে গেলে মানবতা চাই
মানবতার মুখোশধারীর সংখ্যা তো কম নাই ।
পশুর মতো সমাজ জীবন মানবতাহীন
অমানবিক উল্লাসেতে নাচে তা ধিন্‌ ধিন্‌।

যে সমাজে আছো তুমি সে যে স্বর্গভূমি
মানবতা দিয়ে তারে আগলে রাখো তুমি ।
রামকে রক্ত দিতে রহিম আসে ঠিক এগিয়ে
রাম-রহিমে কিসের বিভেদ, দ্বন্দ্ব কিবা নিয়ে?

আল্লা-খোদা, গড, ভগবান, যে নামে যে ডাকে
পরম পুরুষ সমান ভাবেই আশিস বিলোন তাকে।
মন্দির-মসজিদ, মঠ আর চার্চে কোনোই প্রভেদ নাই
মানবতার আলিঙ্গনে বাঁধতে সবাই চাই।

তোমার আমার রক্তের রঙ তো একই রকম লাল
কেন তবে পেতে রাখো বিভেদের বেড়াজাল?
এসো বন্ধু, একসাথে গাই মানবতার গান
মানব ধর্মই সবার ধর্ম, সেই ধর্মই মহান।

রবিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২২

মানবতাবাদী কবিতা —২০।। অমীমাংসিত প্রশ্নের মুখোশ ।। -- অশোককুমার লাটুয়া ( সেলুকাস )।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 






মানবতাবাদী কবিতা —২০



অমীমাংসিত প্রশ্নের মুখোশ 

     -- অশোককুমার লাটুয়া ( সেলুকাস ) 


হঠাৎ সমুদ্রগর্ভে পৃথিবী ডুবে যাবার আগে 

একবার গিয়ে দাঁড়াতে চাই 

মৃত্যু - মুখোশের মিশরীয় রূপকথার মুখোমুখি 

যেখানে মমি হয়ে শুয়ে আছে অজস্র ঐশ্বর্যে তুতেনখামেন 

পিরামিডের কফিন সারকোফেগাসে। 


যারা খুঁড়েছিল ইতিহাস তারা বলছেন -- অনেক ওজনের নিরেট সোনায় মমির মুখোশের নির্মাণ। 

কেউ বলছেন -- উনিশ বছর বয়সী, পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চির রাজার বাঁ পায়ে ছিলো সাংঘাতিক অনিরাময় ক্ষত। 


হাজার হাজার বছর ধরে সেখানে রাখা ফুল ফল মাংস 

এতই বিষিয়ে গেছে যে তা অভিশাপের মতো মানুষকে নিশ্চিত মৃত্যুর শাস্তি দিতে পারে মুহূর্তে। 


বয়ে যাচ্ছে নীলনদ আজও নিজের খেয়ালে। অনেক শতাব্দীর রাজকাহিনী তবু আজও রহস্যজড়ানো। 

অমীমাংসিত এখনো ইতিহাসের ডানায় প্রশ্নের দেয়াল। 


এভাবেই বেঁচে থেকে আমরাও  মমি হয়ে আছি 

মৃত্যু - মুখোশের মুখোমুখি। 

হঠাৎ পৃথিবী সমুদ্রগর্ভে ডুবে গেলে একদিন 

কে বা কারা খুঁজে আনবে 

আমাদের মনস্তাত্ত্বিক ইতিহাস!!! 

অমীমাংসিত কত প্রশ্ন জমে জমে মুখোশ হয়ে উঠছে মানুষের মুখ। 

অথচ বিকেলের বাতাসে এখনো লেগে আছে উজ্জ্বল স্বভাব। 

সন্ধ্যার ডানায় লেগে আছে নক্ষত্রের নামকরণ। 


শনিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২২

মানবতাবাদী কবিতা -১৯।। অস্ত্র — ভবেশ বসু।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





মানবতাবাদী কবিতা -১৯


অস্ত্র 

ভবেশ বসু




তোমার হাতে ওটা কি?
একটি অস্ত্র
তোমার হাতে?
বাঁশি।সুর করে বাজানো যায়।
লোকটাও অস্ত্রের বর্ণনা দিল,শরীর ফালা ফালা করা যায় এই ধারালো লোহা দিয়ে।
কিন্তু আমিও তো হৃদয় কেটে রক্ত ঝরাই !
কি রকম ?
যে বাঁশি শোনে তার শরীর গলে যমুনায় মিশে।
লোকটা কি বুঝল কে জানে,নম্র চোখে বসে পড়ল পায়ের কাছে।
বলল,এটা রেখে ওই অস্ত্রটা আমায় দাও।

বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২২

মানবতাবাদী কবিতা —১৭ ।। মৃত্যুর মুখোমুখি— দীপক বেরা।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





মানবতাবাদী কবিতা —১৭



মৃত্যুর মুখোমুখি 

দীপক বেরা 

হাটে হাঁড়ি ভেঙে গেলে, জনসমক্ষে
সবই জলের মতো পরিষ্কার হয়ে যায়
তবু নিজেকে জাস্টিফাই করে যায় কেউ
ভর সন্ধ্যেবেলায় গভীর গোপনে 
সুকৌশল ডাইমেশনে প্রস্তুতি নেয়
রাজার, শাসকের,.. এবং সম্পদের! 

পেঁজা পেঁজা তুলোর মতো মেঘদল 
লম্পটের চূড়ামণি, 
ধূর্ত ও পিছল চরাচর
এই জগৎসংসার এক সর্বনাশা প্রহেলিকা
পাখির বাসায় ঝাঁপ মারে কালসাপ
ছানাদের কিচির মিচির, ভয়ার্ত আর্তি 
চিল চিৎকারে ভীমবেগে ছুটে আসে মা
ছড়িয়ে পড়ে ধূসর ডানার ঝাপ্টার শব্দ
মরণের মাথায় মুহুর্মুহু চঞ্চুর ঠোক্কর
আধিপত্যবাদ লেজ গুটিয়ে পালায়.. 
বিবাদ থাকুক, একটু বিরোধ প্রতিরোধ 
বাঁচার জন্য— কিছু অন্তত প্রতিবাদ! 

পৌষের বিছানার পাশে উত্তাপ নিয়ে 
অভিভূত বশ্যতায় পোষ মানে বিড়াল
হিমায়িত বরফের ক্যামোফ্লেজ নিয়ে 
সবকিছু ঢেকে যাওয়ার আগে 
এসো জনতা, একসাথে জেগে উঠি—
মরার আগে মরে না গিয়ে 
একবার সবাই মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়াই;
প্রবাহিত মনুষ্যত্বে স্রোত রেখে যাই..

বুধবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২২

মানবতাবাদী কবিতা —১৬ ।। আত্মপ্রসাদ বা ভুলস্বপ্ন —জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




মানবতাবাদী কবিতা —১৬



আত্মপ্রসাদ বা ভুলস্বপ্ন 
জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়


রাক্ষস গিলে নেয় সব
সম্পদ,প্রেম,অনুভূতি,সৌভ্রাত্র...
শুভবোধ মুখ গোঁজে খাদানের কোণে
সময়ের দজ্জালে পোড়ে কোমলের কোশ,কলা,সাধ
ফুলেরা ডুবে যায় আগুনের হাঁ-য়ে

হাসিমুখে দাঁড়াতো যারা বাগানে ও পথে
যারা হাতে তুলে দিত বৈশাখী জল,ছোলা-গুড়
কোথা তারা ?
সত্রে সত্রে খুশিমুখ পুলকবিছানো ছায়া ইতিহাস

সন্ধ্যার আজানে ও শাঁখে,মন্ত্র ও প্রার্থনায়,
তুলসীর কাছে বিশ্বশান্তি চেয়ে নিত যারা
আজ তারা অনুদার?
একপেশে প্রার্থনা ঈশ্বর নেন?
তিনি কি স্বার্থমগ্ন মানুষের মতো বোকা?
তাঁকে কি আড়াল করা যায়?
ক্ষীণবুদ্ধি মানুষই বাস করে মূর্খের ঘরে
বোধহীন আত্মপ্রসাদ মানে ভুলস্বপ্ন মানুষ কি জানে ?!

মানবতাবাদী কবিতা -১৫।। হাসিমুখ — ভবানী শংকর চক্রবর্তী।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 







মানবতাবাদী কবিতা -১৫



হাসিমুখ

ভবানী  শংকর চক্রবর্তী 


বিশ্বাস অবিশ্বাস নয়
সভ্যতাভিমানী মানুষ শস্যদানা ভেবে ছড়িয়েছে বিষবীজ
সমস্ত শস্যক্ষেত জুড়ে
কী করে ফলবে বলো সোনার ফসল?

আসলে সে মেকি কথা
সম্প্রীতি ও সংহতি শব্দদ্বয় কেবল কি বাচনিক অলংকার হয়ে আছে স্বর্ণরচনায়?

আমি তো নির্বসন তোমাকে দেখিনি
সযতনে লজ্জাটুকু গোপন করেছ
গোপনতর শুভবুদ্ধি এবার তবে উন্মোচিত হোক

জটিল গ্রন্থিগুলি সব আলগা হলে
ধূলিঝড়ে উড়ে যাবে বিষবীজ
ধসে যাবে ভিন্নতার দেয়াল
বিশ্বাস অবিশ্বাস নয়
আত্মীয় নিখিল মানুষ

সোমবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২২

মানবতাবাদী কবিতা —১৪।। এমন যদি হতো — পাপড়ি ভট্টাচার্য।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 







মানবতাবাদী কবিতা —১৪




এমন যদি হতো

পাপড়ি ভট্টাচার্য


প্রাসাদ ছেড়ে নামলেন রাস্তায় একজন
সাধারণ মানুষকে অবলীলায় বললেন -
যারা আমাদেরকে অবলীলায় হত্যা করছে
ধ্বংস করে দিচ্ছে আমাদের অনেক কিছু
আমরা কেন পালাবো বলো,শিরায় শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে প্রতিবাদ গড়বো।

সেই একজন বহু হয়ে গেল মুহুর্তেই
সাহস আর প্রতিজ্ঞায় পিঁপড়ে শৃঙ্খল নিয়ে
এগিয়ে গেল যুদ্ধ থামাতে।
হাজার হাজার নিরীহ নর-নারী, শিশুহত্যা, গনহত্যা, ধর্ষণ
শব্দগুলো একে একে সমুদ্রগর্ভে
কয়েক হাজার মারণ বোমা মুহূর্তে ফুলের তোড়া
কারও রক্তচাপ আর বাড়বেনা
এমন যদি হতো...

মানবতাবাদী কবিতা —১৩ ।। রক্ত পিপাসু —স্মৃতি শেখর মিত্র।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



মানবতাবাদী কবিতা —১৩

  
রক্ত পিপাসু
স্মৃতি শেখর মিত্র 


পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা জীবনটাকে
নিয়ে কী বা করার আছে! যতদিন বেঁচে
আছো একটু ভালবাসতে শিখে নাও
ভালবাসতে বাসতে হয়তো একদিন
ঠিক ভালবাসতে শিখে যাবে।

প্রেমের মাধুরী শুধু ধরায় নয় তোমার
নিজের অন্তরেও খুঁজে পাবে।
খোঁজো, খুঁজতে শেখো বাছাধন!
ঈশ্বর একদিন ঠিক তোমার সহায় হবেন।
যুদ্ধের মাদল বাজিয়ে দেখ বড় বড়
রাষ্ট্রশক্তি কেমন যুদ্ধোন্মত্ত হয়ে উঠেছে।
কত শিশু, অবোধ বালক তার মায়ের
সম্মুখেই হাত পা ছড়িয়ে পড়ে আছে
রাস্তার উপরে। মানুষের পাশবিক নির্যাতন
মানুষের মনুষ্যত্বের উপর রাজ করছে।
পশুরাও এখন মানুষকে দেখে মুচকি
মুচকি হাসে। রাশিয়া,ইউক্রেন, আমেরিকা
ইরান, চীন সবাই এখন মারণাস্ত্র কেনাবেচায় ব্যস্ত।
একটি সুন্দর সভ্যতা গড়তে বহু বছর লেগে যায়
কিন্তু সেই সভ্যতাই মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস এখন
পারমাণবিক অস্ত্রের প্রয়োগে। জাপানের শিশুরা এখনও খোঁড়া,লুলহা, ল্যাংড়া হয়ে জন্মায়,কত
পীড়া তাদের শরীরে কে তার খোঁজ রাখে! রক্তের পিপাসা একদিন এই বিশ্বের মানুষের
নিকট সর্বনাশা কাল হয়ে দাঁড়াবে।
মানব সভ্যতার ইতিহাস কলঙ্কিত হবে।