মানবতাবাদী কবিতা —৩৩
আবহাওয়ার সতর্কবার্তা
মানবতাবাদী কবিতা —৩৩
আবহাওয়ার সতর্কবার্তা
মানবতাবাদী কবিতা -৩২
তিতিক্ষা
তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য
মানবতাবাদী কবিতা —৩১
হারায় না রে!
আরণ্যক বসু
একটা জীবন সলতে পাকিয়ে
হঠাৎ ফুরিয়ে গেলো,
একটা আকাশ, পঞ্চদশী
চাঁদের খবর দিলো!
একটা জীবন ঋণের জালে
জড়িয়ে পেঁচিয়ে মরে,
গাঁয়ের উমা দাম-শ্যাওলায়...
আর ফেরেনি ঘরে।
একটা বর্ষা বিদায় নিলে
কালিদাসের আষাঢ়,
ঘুমের দেশে স্বপ্ন দেখে--
আবার ফিরে আসার।
অমল যখন শিউলিতলায়,
সুধাও কাশদিগন্তে;
দিনগুলো আর আসেনা ফিরে
কোনো গল্পের অন্তেই।
একটা ঢাকে কাঠি পড়লে
সারাটা গ্রাম নাচে,
ভ্রমরকৃষ্ণ মেঘের নিচে
কালো মেয়েটি বাঁচে?
একটা নদীর ঢেউ দোলালো
স্থলপদ্মের ডাল,
ও সোনা, তোর মুখেভাতে
গোবিন্দভোগ চাল।
একটা চায়ের দোকান জুড়ে
শরৎ আলোর হাসি,
গ্রামের নতুন ডাকঘরে আজ
চৌরাশিয়ার বাঁশি...
সেই যে পাগলা , সারা বচ্ছর
সলতে পাকিয়ে পাকিয়ে...
সেও তো এখন নীলকণ্ঠের
ডানার দিকে তাকিয়ে!
একটা বাউল, প্রাণের বাউল,
আগমনীর সুরে,
শিশির ভেজা হেমন্তদিন
আসছে বছর ঘুরে?
নটে গাছটাও বেঁচে থাকবে?
নতুন ভোরের আশায়?
রেলের কামরা ডাকবে আবার?
শাল-মহুয়ার বাসায়...
মানবতাবাদী কবিতা —৩০
'নীল আকাশের নীচে এই পৃথিবী'
তু ল সী দা স মা ই তি
'নীল আকাশের নীচে এই পৃথিবী ' - এই গান ভেসে এলে
যাদের মুখ মনে পড়ে
তারা আজও যুদ্ধ করতে শেখেনি।
অজস্র কান্নার জলে ভেসে গেছে তাদের কষ্টে গড়া সাঁকো।
বিবিধ ঝড়ে ভাগ হয়ে গেছে মানুষ ও মানুষের ভালোবাসা।
ছোপছোপ দুর্বলতা বাসা বেঁধেছে তাদের ভাঙা শরীরে।
প্রকাণ্ড পৃথিবীও তাদের দিকে তাকায় না।
যদিও বা তাকায় তাতে করুণার ক্ষতদাগ লেগে আছে।
নতজানু মানুষ উদরের আগুন নেভাতে নেভাতে লড়াই ভুলে গেছে।
তারা হাত পেতে আছে আজও আকাশের কাছে নয়, রাজার কাছে।
তারাও তো জীবন ভালোবাসে!
নীল আকাশের নীচে যে নি:শব্দ ক্রন্দন ধ্বনি আসলে তা সঙ্গীত,
অদৃশ্য অতল থেকে ভেসে আসা
হেমন্তের গান - 'শুনেছ কি মানুষের কান্না'?
মানবতাবাদী কবিতা —২৯
প্রশ্ন রাখো নিজের মাঝে
প্রদীপ্ত সামন্তমানবতাবাদী কবিতা -২৮
জ্ঞানের আলো
মানবতাবাদী কবিতা -২৭
ফিরে চাও
মানবতাবাদী কবিতা -২৬
প্রান্তর
মানবতাবাদী কবিতা —২৫
স্বপ্ন
অর্ণব মিত্র
স্বপ্ন দেখি
ইউক্রেনে-রাশিয়ায়, একদিন যুদ্ধ থেমে যাবে
খেলবে শিশুরা পথে-পথে, উড়বে মুক্ত পায়রা নীল আকাশে।
স্বপ্ন দেখি
ইরানে, বোরখা না পরার অপরাধে
বন্দী হবে না কেউ -
মরবেনা আর কোনো নিরপরাধ কিশোরী।
স্বপ্ন দেখি
আফগানিস্থানে, মেয়েরা- পাবে স্বাধীনতা,
রাস্তায়, পার্কে, অনুষ্ঠানে তাঁরাও
উজ্জলতা ছড়াবে।
স্বপ্ন দেখি
আমেরিকায়, কেড়ে নেবেনা কেউ
কোনো প্রবীণ লেখকের
দৃষ্টি ও দৃঢ় হাতে লেখার শক্তি।
স্বপ্ন দেখি
ভারতে, ধর্মের নামে হবে না বিভেদ
মন্দিরের প্রসাদ পাবে দলিত কিশোর ছেলে
সবাই হবে সমান,
ছড়িয়ে পড়বে শিশুর হাসি আকাশে বাতাসে।
মানবতাবাদী কবিতা —২৪
একলা হতে চাই
সিদ্ধার্থ রায় (সিধু)
চাওয়া
কিম্বা চেয়ে নেওয়া
বেশ সহজ ...
কিন্তু কীভাবে
গ্রহণ করতে হয়?
শিল্প থেকে শিল্পান্তর ...
তবে, যদি ঠেকে যায়
আঙুলে আঙ্গুল!
এই শরীর স্পর্শ কি
একান্তই অশুদ্ধ?
কয়েক মিনিটের জন্যও
কি থেমে যেতে পারে না
নীতি কর্তা দের এজলাস?
আমার বিচারক জানিয়েছেন —
আমি তোর সাথে
একলা হতে চাই ...
মানবতাবাদী কবিতা -২৩
মানবতার গান
পুষ্প সাঁতরা
মানবতাবাদী কবিতা -২২
যাত্রা
বাবলু গিরি
যাচ্ছ যখন যাও
মনে রেখ এই শ্মশানঘাটে আসতে হবে বারবার
জ্বলার আনন্দেই ফিরে আসা
যাচ্ছ যখন যাও
সঙ্গে দুমুঠো অন্ন নিয়ে যাও, অনন্তের যাত্রা তো •••
মা বলত খালি পেটে যেতে নেই,
সুদামা খুদকণার পুঁটুলি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল,
যাওয়াতো অনেক রকমের,খোলকর্তালে চার কাহারের কাঁধে - অন্তর্জলী যাত্রা -
জগন্নাথের রথে যাওয়া,
মা কড়ে অঙুল কামড়ে থু থু করে বলতো দুগ্গা দুগ্গা
অন্তরীক্ষে,শকটে কিংবা হ্রেষা ধ্বনিতে
যমদুয়ারে নচিকেতার যাত্রা
মা বলতো - যমের নজরে পড়িস নে, কাজলের টিপ পরিয়ে দিতো
যাচ্ছ যখন যাও -
সমস্থ যাত্রার শেষে আগুনের স্নানঘরে -
জ্যোতির্ময় হবো আনন্দে উল্লাসে,
শেষ যাত্রা সমিধের পালঙ্কে শ্মশানঘাটে অগ্নিযাত্রা।
মানবতাবাদী কবিতা —২১
গাই মানবতার গান
মানবতাবাদী কবিতা —২০
অমীমাংসিত প্রশ্নের মুখোশ
-- অশোককুমার লাটুয়া ( সেলুকাস )
হঠাৎ সমুদ্রগর্ভে পৃথিবী ডুবে যাবার আগে
একবার গিয়ে দাঁড়াতে চাই
মৃত্যু - মুখোশের মিশরীয় রূপকথার মুখোমুখি
যেখানে মমি হয়ে শুয়ে আছে অজস্র ঐশ্বর্যে তুতেনখামেন
পিরামিডের কফিন সারকোফেগাসে।
যারা খুঁড়েছিল ইতিহাস তারা বলছেন -- অনেক ওজনের নিরেট সোনায় মমির মুখোশের নির্মাণ।
কেউ বলছেন -- উনিশ বছর বয়সী, পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চির রাজার বাঁ পায়ে ছিলো সাংঘাতিক অনিরাময় ক্ষত।
হাজার হাজার বছর ধরে সেখানে রাখা ফুল ফল মাংস
এতই বিষিয়ে গেছে যে তা অভিশাপের মতো মানুষকে নিশ্চিত মৃত্যুর শাস্তি দিতে পারে মুহূর্তে।
বয়ে যাচ্ছে নীলনদ আজও নিজের খেয়ালে। অনেক শতাব্দীর রাজকাহিনী তবু আজও রহস্যজড়ানো।
অমীমাংসিত এখনো ইতিহাসের ডানায় প্রশ্নের দেয়াল।
এভাবেই বেঁচে থেকে আমরাও মমি হয়ে আছি
মৃত্যু - মুখোশের মুখোমুখি।
হঠাৎ পৃথিবী সমুদ্রগর্ভে ডুবে গেলে একদিন
কে বা কারা খুঁজে আনবে
আমাদের মনস্তাত্ত্বিক ইতিহাস!!!
অমীমাংসিত কত প্রশ্ন জমে জমে মুখোশ হয়ে উঠছে মানুষের মুখ।
অথচ বিকেলের বাতাসে এখনো লেগে আছে উজ্জ্বল স্বভাব।
সন্ধ্যার ডানায় লেগে আছে নক্ষত্রের নামকরণ।
মানবতাবাদী কবিতা -১৯
অস্ত্র
ভবেশ বসু
মানবতাবাদী কবিতা —১৭
মৃত্যুর মুখোমুখি
মানবতাবাদী কবিতা -১৫
হাসিমুখ
ভবানী শংকর চক্রবর্তী
মানবতাবাদী কবিতা —১৪
এমন যদি হতো
পাপড়ি ভট্টাচার্য