লেবেল

জীবনবোধের কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
জীবনবোধের কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৩

জীবনবোধের কবিতা -৩৭।। জীবন তো নয়... প্রদীপ্ত সামন্ত।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




জীবনবোধের কবিতা -৩৭



জীবন তো নয়... 

প্রদীপ্ত সামন্ত


জীবন তো নয় আস্ত নদী 

ভাঙছে গড়ছে নিরবধি -- 

তার উপরেই আকাশখানা 

উদার এমন যায় না চেনা । 


পাহাড়ের তো বিশাল বপু 

বদমেজাজি হাজার রিপু,

সমুদ্র তো হেঁকেই খালাস 

ঢেউ আসলে ছুটেই পালাস । 


অরণ্যানি গাছের সভায়... 

কেটেও তবু রাখছে না দায়। 

পক্ষীকুলের কিচির মিচির

সকাল ঘাসে বিন্দু শিশির ।


পশুর আছে অনেক জ্বালা 

কেউ বা হিংস্র; ভোলে ভালা, 

কীটপতঙ্গ ও পোকামাকড় 

বৃক্ষ লতার গভীরে শেকড়। 


জন্তু-জানোয়ার দস্যি দানব 

দেহেই যে বাস জানুক মানব ,

- প্রকৃতিরই এই খেলাই মধুর 

কলকাঠি সব ব্যাটা যদুর ।


           

বুধবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৩

জীবনবোধের কবিতা -৩৬।। চিহ্ন — রঞ্জন ভট্টাচার্য।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




জীবনবোধের কবিতা -৩৬



চিহ্ন 

রঞ্জন ভট্টাচার্য


মানবতার প্রতিটি রূপ গড়ে তোলে যারা 
নীতিহীন মানুষ যারা 
দু'ই  মিলে চলে দ্বন্দ্ব আজীবন 
তার'ই মাঝে মানবতার প্রকৃত রূপ ফুটে ওঠে 
নাট্যশালায় বিশাল এই রঙ্গমঞ্চে 
নাটকীয়তার পাশাপাশি মানবতার বাস্তব রূপ ফুটে ওঠে ,
ফুটে উঠে সূর্যমুখী কত না গোলাপ বকুল 
আবার শিউলির মতো ঝরে যায় অবহেলায় অবলীলায় 
হায় খোঁজ রাখে না তার 
সবার অলক্ষে ঝরে যায় ঝড়ের আচমকা গতিতে মনুষ্য জীবনের এখানেই শেষ মানবতার...!

মঙ্গলবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৩

জীবনবোধের কবিতা -৩৫ ।। ঐশ্বরিক - স্বাগতা ভট্টাচার্য।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





জীবনবোধের কবিতা -৩৫



ঐশ্বরিক 

স্বাগতা ভট্টাচার্য 


সমাজ তোমাকে পতিব্রতা বললেও,
আমি  তোমাকে বার-বার খুঁজে পেয়েছি, নিখাঁদ প্রেমিকা রূপে।
আমিও পত্নীব্রতা না হয়ে নিজেকে তোমার যোগ্য করে তোলার নিত্য প্রয়াসে খাঁটি প্রেমিক।
বাংলা অভিধানে নেই 'পত্নিব্রতা' শব্দটি।
কারণ স্ত্রীর প্রতি যত্নবান পুরুষকে সমাজ ভালো চোখে দ্যাখেনা কখনো।
স্ত্রীর দু-চারটি কথা মেনে চলা পুরুষটিকে সমাজ গালাগালি করে স্ত্রৈণ  বলে।
সেই কবেই  আমার জন্য একটি আসন পেতে রেখেছ তোমার দেবতাদের সাথেই। 
আর আজ  তোমার সাথে বেশ কিছুটা পথ হাঁটার পর আমিও একটি আসন পাতলাম তেমার জন্য  তেত্রিশকোটি দেবতার পাশে 
প্রেমের প্রতীকী রূপে।

সোমবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৩

জীবনবোধের কবিতা -৩৪ ।। জীবনবোধ স্মৃতি শেখর মিত্র।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





জীবনবোধের কবিতা -৩৪



জীবনবোধ 

স্মৃতি শেখর মিত্র 


পায়ে পায়ে চলে এসেছি বহুদূর
সবুজ বনানী,শীতল নদী পেরিয়ে
কামারের কামারশাল কিম্বা কুমোরের বাড়ি....
জোগাড় হয়েছে বহু হাঁড়ি কুড়ি।
রান্নার চাল খুঁজতে খুঁজতেই দিন কাবার।
ঘর গেরস্থালি সব নিশ্চুপ।
কোথায় যাবো,কে দেবে আমায় সেই বাঁচার রসদ? প্রতিটি প্রত্যুষ আসে সংগ্ৰামী সূর্য্যের
হাত ধরে। ভালবাসা এখন গেছে দূরে সরে
মানুষ বেঁচে আছে ঘৃণাকে সম্বল করে।

রবিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২৩

জীবনবোধের কবিতা -৩৩।। পূর্বপাঠ - তপনজ্যোতি মাজি।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




জীবনবোধের কবিতা -৩৩



পূর্বপাঠ

তপনজ্যোতি মাজি



পিথাগরাসের সঙ্গে আমার ইস্কুলের অঙ্কের স্যার

অবনীমোহনবাবুর কি সম্পর্ক বুঝতে পারিনি পঞ্চম

শ্রেণীতে।


বড় হয়ে বুঝেছি অঙ্ক ব্যাপারটা দ্বিমাত্রিক,ঠিক বা

ভুল। মাঝামাঝি কিছু হয়না। কিছু কিছু মানুষ কে

মনে হয় দেবদারু বৃক্ষ। আকাশ ছুঁয়ে ফেলার ব্রত

নিয়ে চলেন সর্বক্ষণ।


বাকি মানুষেরা কেমন, বিস্তর উপমা খুঁজেছি,ব্যর্থ

হয়েছি মনোমত তুলনায় শ্রেণিচরিত্র নির্ধারণে। কে

কেমন এই নিয়ে পি এন পি সি চলে বাড়ি থেকে

বাজারের ঠেক পর্যন্ত।


অঙ্ক ও মানুষের সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে স্যার

পিথাগরাসের কথা বলেছিলেন গল্প ও দর্শন মিশিয়ে।

গল্প মনে নেই। কিন্তু দর্শন মুছে যায়নি বেশ কয়েক

দশকের সৌর আবর্তনে


অঙ্ক জীবন পিথাগরাস এবং অবণীমোহন স্যার যেন

অতিকায় চতুর্ভুজের চারটি বাহু। আমি সেই কল্পিত চতুর্ভুজের মধ্যে লগ্ন হয়ে আছি। ভুলে যাওয়া গল্পের

নুড়ি কুড়িয়ে যাচ্ছি ক্লান্তিহীন।


নুড়ি গুলিকে কখনও মনে হয় শূন্য সংখ্যা,কখনও

মনে হয় শব্দ। সাজিয়ে নিলেই অঙ্ক। এলোমেলো

করে দিলেই কবিতা।



শনিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২২

জীবনবোধের কবিতা -৩২ ।। চাঁদের পাহাড় — হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




জীবনবোধের কবিতা -৩২



চাঁদের পাহাড়

হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়

রাস্তায় রাস্তায় চাঁদের কী মেলা
আমি শিবের গাজন দেখতে এসে লজ্জায় মাথা হেঁট করলাম,দিব্যেন্দু নেই ভাবা যায় না...অতনু নেই...
কতজন যে হারিয়ে গেছে ঐ চাঁদে
তারপর একদিন না জানিয়ে নক্ষত্র হয়ে গেছে
প্রথমত এটা বলা দরকার মাত্র কটা দিন পরে এলে আর চিনতেই পারতাম না এই লাল মাটির রাস্তা
এই ধুলোসমগ্র _স্মরণসভা হচ্ছে নিমতলীর গ্রাউন্ডে
চুয়াসিনতলার মাঠে মল্লিকডাঙ্গার ভেড়িতে
সমুদ্রের জল ঢুকছে সেই সঙ্গে ঢুকছে পিরানহা ঝাঁকে ঝাঁকে রতন দাসকে ঝাঁঝরা করে চলে গেল এইমাত্র
দিলীপ তলোয়ারের ডান হাতের ছটা আঙুল খেয়ে ফেলল নিমেষে নাসের হোসেন থেকে পিনাকী ঠাকুর
হাওয়া হয়ে গেল তবে এর মধ্যেও একটা সুখের খবর 
যারা একদিন কবিতায় মুখ আঁকতে আঁকতে
শুকতারা হয়ে গেছিল তারা আবার এপার ওপারের কবি সম্মেলনের আয়োজন করেছে ...

শুক্রবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২২

জীবনবোধের কবিতা -৩১।। ছাপ্পান্ন ভোগ দেব — তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



জীবনবোধের কবিতা -৩১


ছাপ্পান্ন ভোগ দেব 

  তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য 

এই বয়স এই সময় কিছুই নয় 
তোমাকে ছাপ্পান্ন ভোগ দেব।
ঝুনো নারকেল যারা বলছে 
তাদেরই জিভে জল তোমায় খাবে বলে!
তোমার বুকের ভেতর কিশোরীকে
 একটু বন‍্য করে দাও।
একটা জার্সি কিনে দাও এই শীতে
 ক্রিকেট ম‍্যাচ খেলুক।
গাছে জল দাও নিজেও জল খাও।
মুখের কথায় কাজ হয়না।
 তেঁতুল দিয়ে পেতলের বাসন,
না মাজলে চকচক করে না।
লোক নয় সমাজ নয়, তুমি তোমাকে সন্তুষ্ট কর।
ওড়াও ওড়াও পতপত করে জীবন পতাকা।

বৃহস্পতিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২২

জীবনবোধের কবিতা -৩০ ।।যুধিষ্ঠির বাগানে রজনীগন্ধার চাষাবাদ - নিমাই জানা।। ।।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




জীবনবোধের কবিতা -৩০ 




যুধিষ্ঠির বাগানে রজনীগন্ধার চাষাবাদ

নিমাই জানা


লাল মুখমন্ডলের মানুষেরা রক্তাক্ত দাঁত নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলে আমি ক্রোমোজোমের মতো লাল পারদ নিয়ে আরো এক গোপন রাইবো নিউক্লিক গর্তের ভিতর ঢুকে যাই


এখানে কোন আশ্রমিক পরমাত্মার প্রদেশ নেই , এখানে কোন পবিত্র গর্ভকেশর নেই ,  আমাদের অন্তঃস্থল আর ত্রিকোণমিতিক তৃতীয় চোখের ভেতর থেকে একটা তৃতীয় মানুষ বেরিয়ে আসে অর্ধভুক্ত মানুষগুলোকে তুলে নেওয়ার জন্য
আমাদের কোন সমীকরণ থাকে না বলে বারবার আমরা পাষণ্ড ব্যাভিচারি আর নপুংসক হয়ে যাই চতুর্থ জেন্ডারের মতো , আমাদের আঙ্গুলগুলো থেকে থকথকে প্লাজমা আর কাপালিকের মতো দুর্গন্ধওঠা , রোমশ মানুষগুলো বারবার হত্যা করে ফেরে এক একটা নোঙরহীন পুরুষকে

আমি শুধু কোন এক  কংক্রিট রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে দেখি উলঙ্গ মানুষের দেহগুলো একটা মৃতপ্রায় নিম ডগা থেকে ঝুলে আছে পৃথিবীর শিরদাঁড়ায় তরল ইউরেনিয়াম ঢেলে দেবে বলে ,  এখানে প্রতিটি মানুষ উপকারী নয় ,কামনা বাসনা মুক্ত নয় , চূড়ান্ত আকাঙ্খা জড়িয়ে ধরেছে তাদের
জেরুজালেমের মতো এক স্বর্গদ্যানে বাঁশি বাজলেই সাদা জবা ফুলের পরম চেতনা নিয়ে আমরা দৌড়াতে থাকি ,  শরীর বেয়ে শুধু স্বরবর্ণ পারদ ফুলেরা আবারো এক নতুন সুবর্ণ যুগ এনে দেয়


এসো ঈশ্বর সব রক্তাক্ত ক্রনিক রোগে আক্রান্ত লোভাতুর মানুষগুলোকে পারদ জলে ডুবিয়ে আরো একবার বিশুদ্ধ করে দিই , সকলেই রজনীগন্ধার চাষ করুক যুধিষ্ঠির বাগানে ...

বুধবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২২

জীবনবোধের কবিতা -২৯ ।। সম্পর্ক —জয়শ্রী সরকার।। Ankurisha।। E.Magazine।। Ben

 




জীবনবোধের কবিতা -২৯



সম্পর্ক

জয়শ্রী সরকার

সেদিন সাদা মলাটের ঘেরা টোপে
তোমার কবিতার বাগানের সর্বশেষ সৃজিত ফুলটা
উপহার দিয়ে গেলে ;
তখনোও বুঝিনি
প্রতিটা পাপড়িতে এত প্রেম, এত বঞ্চনা ;
এত মমতা, এত বিতৃষ্ণা ; এত কর্তব্য, এত অবহেলা ;
এত হাতছানি, এত হাহাকার ........ 
কেমন যেন জীবন-মৃত্যুর মাঝখানে লেপটে আছে !
তবে কী বিবাহিত জীবনের গাঢ় সম্পর্কের গভীরেও
সরীসৃপের মতো হেঁটে চলে
আরও এক সম্পর্ক !
অ-কবির ভাষায় যাকে বলা যায় --- বণিকের।

মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২২

জীবনবোধের কবিতা -২৮।। দলছুটের দলেরা — রমলা মুখার্জী।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।




জীবনবোধের কবিতা -২৮


দলছুটের দলেরা    

 রমলা মুখার্জী


বিয়ের আগে আমি ছিলাম একান্নবর্তী পরিবারে-
বাবা চাকরি করে ফিরতেন হপ্তা অন্তে শনিবারে।

পরিবারের সবার তরেই আনতেন নানা জিনিস কিনে-
আজকে হঠাৎ ফিরে গেলাম মেয়েবেলার রঙিন দিনে।

একই রঙে ছিট কিনে পুজোয় সবার একই জামা-
আর একটি দিয়ে যেতেন খুড়তুতো ভায়ের ফুলমামা।

হাতে-গোনা দুটি জামার ভাঁজে ভাঁজে ভীষণ মজা।
মুড়কি-মোয়া, নিমকি-নাড়ু, হলুদ চাল-ছোলা ভাজা।

বাড়ির পুজোয় জড়ো হতেন গ্রামের স্বজন, প্রতিবেশী
আত্মীয়, অনাত্মীয় দেদার খুশি, হাসির রাশি।

জম-জমাট জলসা হত, আর হত যাত্রাপালা-
অর্কেস্টার ছিল না হিড়িক, ছিল না মাইক ঝালাপালা।

বিয়ের পরে দূর শহরে এলাম ছোট্ট পরিবারে-
স্মৃতির ভারে বারে বারে মন ছুটতো তেপান্তরে।

ফ্ল্যাটে কাটে বন্দী জীবন, শাশুড়ি-মাতা, চাকুরে স্বামী।
হঠাৎ মাতা হলেন গতা, একার বোঝায় ক্লান্ত আমি।

সোমবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২২

জীবনবোধের কবিতা -২৭।। আমি এবং আমরা — দুরন্ত বিজলী।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





জীবনবোধের কবিতা -২৭



আমি এবং আমরা

দুরন্ত বিজলী

আমার মধ্যে লুকিয়ে আছে আমরা।
তাদের ব্যথা ও বেদনার উচ্চারণ
শব্দময় আলো করে পাতায়
পরিবেশন করি।

ফিশারির ঝিলের জলে আলো পড়ে,
রোদও পড়ে।
ঝপ করে নিভে গেলে অন্ধকার,
চোর-ছ্যাচ্চোড় ঢুকে পড়ে।
আমাদের ঘরের বউঝিরা কুটনো কাটে,
রান্না করে, সাংসারিক জীবনের
গাড়িটাকে সচল রাখে।
আমরা সত্যমিথ্যা সব দিয়ে
তাদের রসদ জোগান দিই।

'আমি' এবং এই 'আমরা'-র সঙ্গে
কথা কাড়াকাড়ি হয়।
মিথ্যাকে চেঁছে ফেলে দিতে গেলে
ঝগড়া করে।

'আমি' এক সময় চুপ করে যায়।
কারণ, আমার হাঁটুতে ব্যথা,
ঘাড়ে ও শিরদাঁড়ায় বার্ধক্যের ধাতানি।
তাই 'আমি' 'আমরা'-র ভেতর
অবশেষে ঢুকে পড়ে।

রবিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২২

জীবনবোধের কবিতা -২৬।। জীবনের বোধের কথা — অশোক ব্যানার্জী।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



জীবনবোধের কবিতা -২৬



জীবনের বোধের কথা

অশোক ব্যানার্জী


জীবনটা তো সবার নিজের নিজের

নিজের মতো করেই জীবন দেখা,

সে দেখায়  ফাঁক না থেকে যায়

সেটাই উচিত সবার মনে রাখা ।

সবারই উচিত জীবন নিয়ে ভাবা

তা' না হলেই আছে তো বেশ ভয়

নিজের ভুলে জীবনটা যদি আবার

কোনো ভাবে উল্টো খাতে বয়!

একবারই তো জন্ম নেয়া

এই পৃথিবীর বুকে

একবারই তো সুযোগ হবে

 সাজাতে নিজের থেকে

জীবনটাকে সুন্দর করে

নিজের মনের মত,

ইচ্ছেটা যদি সদর্থক হয়

জীবনটা ও সুন্দর হবে তত ।

এই জীবনের প্রতি বাঁকে বাঁকে

অনেক আছে গরল প্রলোভন,

প্রলোভনে পা দিলে একবার

সুন্দর আর থাকবে না এ জীবন ।

জীবনটা বড় সহজ সরল নয়

সংঘর্ষ থাকবে জীবনভর

কাউকে তুমি আপন করে পাবে

কেউবা আবার তোমার হবে পর !

সূর্য যেমন সকাল বেলায় উঠে

মিষ্টি হেসে সুপ্রভাত জানায়

সেই সূর্যই দুপুর বেলা হলে

কটমটিয়ে আগুন চোখে চায় !

তেমনি পাবে অনেক মানুষ জন

আজকে যারা বাসছে ভাল তোমায়

একটুকুও স্বার্থে লাগলে ঘা

কালকে তারাই শত্রু হয়ে যায় ।

আবার যেমন সন্ধ্যে হলে পরে

সূর্যের আলোয় বিষন্নতার ছোঁয়া

তেমনি করে জীবনটাও বুঝি

মনে হবে এবার যাবে খোয়া ।

জীবনটা তাই নয়তো মোটেও সহজ

সহজ করে নিতে হবে তোমায়

সহজ সরল জীবন যাত্রা,আর

সব্বাইকে তোমার ভালবাসায় ।

অর্থকড়ির ব্যাপার যদি ভাবো

কারো বেশী,কারো কিছু কম,

তাই নিয়ে কেউ ছোট-বড় হয়?

এই জীবনে মানুষ বলতে বুঝি

যার আছে মান মর্যাদা আর

হুঁশ হারানোর ভয় ।

শনিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২২

জীবনবোধের কবিতা -২৫ ।। সুরবাহার - শান্তনু গুড়িয়া।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





জীবনবোধের কবিতা -২৫



সুরবাহার

 শান্তনু গুড়িয়া

 গ্যালারিতে চোখ রাখি, দেখি কত শত জীবন্ত মুখ
 ক্যামেরার কেরামতি ধরে রাখে নিরুদ্দিষ্ট সময় ---
 চোখ যদি দেখতে পেত মনের ভিতর জটিলতা
 আড়ালে কত অচেনা রয়ে গেল অন্ধকার
 অনুভূতি ছায়া পড়ে কি কখনো কোথাও
 নাকি শুনতে পাবে তার সুরবাহার ?
 সময়ের ঢেউ এসে ধাক্কা মারে
 ভাসিয়ে নিয়ে যেতে চায় সব
 তবু কারো দেহগন্ধ কিংবা হাসির ঝলক
 চট করে মনে পড়ে যায় পুরনো ঘটনা
 বুকের ভেতর কার স্পর্শ আলোড়ন তোলে
 কার কণ্ঠস্বর আজও মৃদঙ্গের মতো বাজে ?

শুক্রবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২২

জীবনবোধের কবিতা -২৪ ।। জীবনবোধ — দুর্গাদাস মিদ্যা।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 


জীবনবোধের কবিতা -২৪


           

  জীবনবোধ

দুর্গাদাস মিদ্যা 



সূর্যের দিকে তাকিয়ে দেখি

তিনি দেদীপ্যমান অগ্নির মতো। 

সমস্ত ক্লান্তি মুছে দিতে চান 

নতুন শক্তির আরাধনায়। 

পূর্ণ আলোকিত পথ পড়ে থাকে সামনে। বাস্তবতা যা কিছু সব তুলে ধরেন তিনি 

চিরন্তন সত্য যেমন। অথচ আমরা আজও তেমন আলোকিত নই, হাজার অন্ধকার ছেয়ে আছে চারপাশ 

তাই হতাশায় হতাশায় ভরে আছে মন সর্বক্ষণ। কত অন্যায় অত্যাচার ছারখার করে দেয় মানবিক মূল্যবোধ। 

 মিথ্যে অহংকার সত্যের গলা টিপে ধরে ব্যঙ্গ করে আলোকিত জীবন। 


                        

বৃহস্পতিবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২২

জীবনবোধের কবিতা -২৩।। অন্য কারও সঙ্গে — অজিত বাইরী।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



জীবনবোধের কবিতা -২৩



অন্য কারও সঙ্গে   

অজিত বাইরী



অন্য কারও সঙ্গে দেখা হতে দিন-মাস-বছর

গেলেও কী যায় আসে? কিন্তু 

তোমাকে কয়েক দণ্ডপল না-দেখলে বুকে বয়ে যায় মরুঝড়, তাঁবু ভেদ করে নামে নিকষ রাত, মনে হয়, কত যুগ ধেয়ে গেল অন্ধ আবেগে ক্যাকটাস বনে।


অন্য কারও সঙ্গে দেখা না-হলে শূন্যতা এমন 

গ্রাস করে না চন্দ্রভুক রাহুর মতো।

করাতকলে কাঠের গুঁড়োর মতো ঝরে না 

কীটদষ্ট পাঁজরের হাড়।


অন্য কারও সঙ্গে বছরের পর বছর দেখা 

না- হলেও এমন ক্ষত-বিক্ষত হইনি কখনও ।

কিন্তু একটা দুটো দিনও যদি 

তোমাকে না-দেখি চোখের ভুখ মেটে না।


তোমার সঙ্গে সাক্ষাৎ না-হওয়ার অসহ্য পীড়ন

প্রতিটি মুহূর্তকে করে অনিঃশেষ; আর

আমাকে চুনাপাথরের মতো করে চূর্ণ-বিচূর্ণ ।

প্রতি রাতে, বিছানায় দেখি, আমার দিকে 

পাশ ফিরে শুয়ে আছে অনন্ত বিষাদ।

জীবনবোধের কবিতা -২২ ।। মৃত্তিকামানুষ — শুভঙ্কর দাস।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





জীবনবোধের কবিতা -২২



মৃত্তিকামানুষ 

শুভঙ্কর দাস 


মহাশূন্য সহসা মাতৃমুখ। আঁচলে ধুলোর নক্ষত্ররাজি

জন্মের খুব কাছে বসে আছে নিশুতি, তার হয়নি ছুটি!

ঝর্ণার জলে পড়েছে ছায়া,পিতৃপুরুষের।

পিপাসাটুকু আয়না হয়ে স্থির, বেরিয়ে এলো যাবতীয় প্রার্থনা।

স্বপ্নশস্য,কুসুমজন্মান্তর, শাশ্বত-উদ্যান,আরও কিছু কাল্পনিক অলংকার। 

সবকিছু রেখে,ঈশ্বর,প্রতিদিন রুগ্ন হতে হতে মোমের সলতে।


একটা সংঘর্ষ, ক্ষুধা। একটা বিচার,তৃষ্ণা। একটা শপথ,হৃদয়দানের

মাটি গর্ভবতী হল।বীজধানে সঞ্চিত সুধা,অমরত্বের 

অথচ কোনো সাড়াশব্দ নেই, কোনো অভিযান,কোনো আকাশ


অন্ধকার জমাট হয়ে দরজা,একবিন্দু আলো

কী? আসলে সেই আলো বসুন্ধরা, 

রক্তমাংসের মানুষ হওয়া!

বুধবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২২

জীবনবোধের কবিতা -২১ ।। সংকেত — ভবানীশংকর চক্রবর্তী।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 


জীবনবোধের কবিতা -২১



সংকেত

ভবানীশংকর চক্রবর্তী

কোন কিছু ফুটে ওঠার মধ্যে লুকিয়ে থাকে দুর্বোধ্য সংকেত
বুঝি না বুঝি
যে নামেই ডাকা হোক তাকে
যেভাবে পেরোতে চাই সংকটকাল 
সেভাবেই যত ভ্রান্তি ও নিরুত্তাপ দেওয়া নেওয়া
কিংবা যত অগোছালো সংলাপ
সে সব আসলে যাপিত জীবনের অগ্রন্থিত কবিতার মালা

একের পর এক পরত খুলে দেখি
সেই গোপনতর ভুবনের সব কিছু এলোমেলো
সেখানে ফ্রয়েড থেকে জা পল সার্ত্র বেজে ওঠে সিম্ফনির মতো

বুঝিনি কিছুই
অথচ আশ্চর্য ! কবিতার মধ্যে বোনা হয়ে যায়
ফুটে ওঠা থেকে ঝরে যাওয়া
তারপর আবার... 

মঙ্গলবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২২

জীবনবোধের কবিতা -২০।। একদিন হারিয়ে যাব — মুক্তি দাশ।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




জীবনবোধের কবিতা -২০



একদিন হারিয়ে যাব 

মুক্তি দাশ


দিনক্ষণ নির্ঘন্ট ঠিক করা নেই
একদিন হারিয়ে যাব 
স্বপ্ন-ময়ূরের ডানায় চেপে দূর-সীমানায়
মেঘমালার দেশে-
হারিয়ে যাবে যাবতীয় কারুকার্যময়
দীর্ঘশ্বাসের ইতিহাস। 

শূন্য প্রেম-বারান্দায় 
স্মৃতি-স্পর্শ আগলে পড়ে থাকবে
একাকী চেয়ার
পায়ের কাছে পোষা কুকুরের মত 
একচিলতে কাঙাল রোদ্দুর আর
চায়ের টেবিলে অর্ধসমাপ্ত চায়ের কাপ 
এবং তুমি। 

ব্যালকনির এককোনে তখনও 
গভীর মনোযোগী এক অনাবাসী মাকড়শা
জাল বুনে চলেছে 
শৈল্পিক সুষমায়। 

সোমবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২২

জীবনবোধের কবিতা -১৯ ।। কবিতার দূর গন্তব্যে কবি, আমি ও আমরা — অমিতাভ সরকার।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



জীবনবোধের কবিতা -১৯



কবিতার দূর গন্তব্যে কবি, আমি ও আমরা

অমিতাভ সরকার 


একই রাস্তা।

কিছু লোক হরিবোল ধ্বনি দিতে দিতে মানবতার ধূলি মেশানো ভক্তির খই ছড়াচ্ছে, কেউ আল্লার নামে দোয়া চেয়ে কোনো প্রিয়জনকে দাফন করতে নিয়ে যাচ্ছে বুকফাটা কষ্টে, চার্চের ঘন্টাধ্বনিতে মুখরিত আকাশ বাতাসে সম্প্রীতির মহাকাব্যিক সুর; আমি মানুষ, মানুষেরই কথা বলছি, মানবতারই জয়গান গাইছি, সবাই আমার দিকে তাকাচ্ছে, আমার গান শুনছে, মানে বুঝতে চেষ্টা করছে; সময়ের প্রেমযজ্ঞে বয়ে চলা নিরন্তর এই কর্মধারায় একা কেউ নেই, মনে মনে সবাই একসাথে... 

সবার বাড়ি ফেরার পথ যে সেই একই!

কবিই কেবল অনুভবের মেঘ যন্ত্রণা নিয়ে সামনে সোজা একলাই হেঁটে যাচ্ছেন, কোনো দিকে তাকাচ্ছেন না,

আজ আবার রচিত হবে আগামীর আশাবাদের চিরসবুজ সেই কবিতা... আমি আবারও গাইব, 

কবির থামলে চলবে না।





রবিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২২

জীবনবোধের কবিতা -১৮ ।। আমরা কি অসহায় ? —অমৃতা মৈত্র হালদার।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 






জীবনবোধের কবিতা -১৮



আমরা কি অসহায় ?

অমৃতা মৈত্র হালদার



আমরা  জনে জনে আপস করি। 
ভুলে যাই  সব ব্যথা । 
যে ব্যথা ভোলার নয়। 
আমরা প্রতিদিন সকাল দেখি। 
রাত টা কে ভুলে যাই। 
যে রাত ভোলার নয়। 
আমরা নিজেকে মারতে থাকি। 
পরিবার কে বাঁচাই। 
জানি নিজেকে মারা ঠিক নয়। 
আমাদের ইচ্ছে গাছে জল দিই না। 
অনিচ্ছা তেই সব করে যাই। 
ইচ্ছে গাছ ও বাঁচতে চায়। 
আমরা প্রতিবাদ করিনা। 
অন্যায় কে থাকতে দিই। 
পরে সেই অন্যায় অত্যাচার হয়। 
আমরা ভাবিনা আগামীর কথা। 
রোজকার কাজ করে যাই। 
ভবিষ্যৎ প্রশ্ন করে যায়। 
হায় ! হায় ! হায় !
আমরা কি অসহায় ?


-