আরণ্যক বসু
আগমনি বন্দনা কবিতা —১
আরণ্যক বসু
শরতের গীতাঞ্জলি
কতদিন পরে শিউলি ফুটলো তোর সদ্য ঘুম ভাঙা দু-চোখের পাতায়!
চোখের পাতায় না বলে, আঁখিপল্লবে বলতে গিয়ে দেখলাম -- একটা বিরল হিরেকুচি ভোরে,
আমাদের সমবেত বেঁচে ওঠাকে সার্থক করে, তুই খুউব শান্ত-স্নিগ্ধতায় ধরেছিস গীতাঞ্জলির গান--
লেগেছে অমল ধবল পালে মন্দ মধুর হাওয়া
দেখি নাই কভু দেখি নাই এমন তরণী বাওয়া...
তোর অন্যমনস্ক আঁচলের অন্দরবিন্যাসে, দু-এক ফোঁটা শিশিরের ক্ষণিক বিচ্ছুরণ আমাকে বললো--তুমি ভালো আছো?
আমি এমন আশ্চর্য সোনা রোদে বুঁদ হয়ে, তোর হৃৎপিণ্ডের নরম ধুকপুকের সাথে দূরাগত ঢাকের আওয়াজ মিশিয়ে দিতে দিতে, ঠিক কী দেখলাম জানিস বনদেবী?
দেখলাম , মন্দাক্রান্তা ছন্দে তুই চেনা চেনা উমার আদল ছাপিয়ে , দেবী দূর্গা দশভূজা হয়ে যাচ্ছিস...
মন্ত্রোচ্চারণে ,ধুপ-ধুনোয় , ধুনুচি নাচের মুদ্রায় ও ছন্দে, আমার একান্ত নিজস্বতা থেকে, ক্রমশ সর্বজনীন...যা দেবী সর্বভূতেষু, মাতৃরূপেণ সংস্থিতা হয়ে যাচ্ছিস।
না কাশের বনে,
না বন-শিউলির পাড়ায় পাড়ায়,
না বারোয়ারি পুজো প্যান্ডেলের পিছনে জোনাকি-অন্ধকারে...
হাত বাড়িয়েও তোকে আর ছুঁতে পারছি না।
জানি, বিসর্জনের নীলকন্ঠ, মা দুগ্গার হাতচিঠি নিয়ে ফিরে গেলে , তুই আবার সেই -- আমার ক্ষণকাল-চিরকালের একমাত্র তুই হয়ে ,সান্ধ্য সংলাপ শেষে, গীতাঞ্জলি গীতবিতানের পাতায় লগ্ন হবি--
কোন সাগরের পার হতে আনে কোন সুদূরের ধন, ভেসে যেতে চায় মন , ফেলে যেতে চায় এই কিনারায় সব চাওয়া ,সব পাওয়া,
দেখি নাই কভু দেখি নাই ...
আমার না লেখা মহাকাব্যের শেষ লাইনে এসে শুধু এইটুকুই লিখতে পারবো--তুই, বনদেবী না?
আর তুই?
আমাকে চিনতে পেরে, তোর শিশির-শিউলি মাখামাখি বুকের সবটুকু গন্ধ দিবি? নাকি, অস্বচ্ছ কাচের রোমান্টিক আড়াল থেকে, অন্তর্গত ঈশারায় হাতছানি দিবি?
কোনটা সত্যি রে , বনদেবী?
আজ থাকে শুরু হলো আগমনি বন্দনা কবিতা বিভাগ। আপনিও এই বিভাগে আপনার মৌলিক ও অপ্রকাশিত সেরা দুটি কবিতা আজই পাঠিয়েদিন।
ankurishapatrika@gmail.com

