বিবেকানন্দ বিষয়ক কবিতা -২২
উন্মেষণে
বিবেকানন্দ বিষয়ক কবিতা -২২
উন্মেষণে
স্বামী বিবেকানন্দ বিষয়ক কবিতা -২১
যুগপুরুষ
বাবলু গিরি
হে ভারতবাসী কতটা মনে রেখেছ নরেনকে বিবেকানন্দকে?
মনেপড়ে শিকাগোর সেই আশ্চর্য মানবকে
ভারতর্ষকে জগতের শ্রেষ্ঠ আসনে বসিয়েছিলো
জানি ভুলে যাবে
" হে ভারত, ভুলিও না- নীচজাতি, মূর্খ, দরিদ্র, অজ্ঞ, মুচি, মেথর তোমার রক্ত, তোমার ভাই। "
একথা ভুলে গেছ জানি
শুধু জন্ম মৃত্যু জয়ন্তী মনে রেখে কৃতার্থ করেছ মহামনবকে!
হে ভারতবাসী জেগে ওঠো
ঐ দ্যাখ যুগপুরুষ ডাকছেন, বলছেন -
“জীবে প্রেম করে যেই জন সেই জন সেবিছে ঈশ্বর”
স্বামী বিবেকানন্দ বিষয়ক কবিতা -২০
স্বামী বিবেকানন্দ বিষয়ক কবিতা -১৯
স্বামীজী
স্বামী বিবেকানন্দ বিষয়ক কবিতা -১৮
বিবেকানন্দ
অর্ণব মিত্র
যখন সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত,
যখন যন্ত্রেই চোখ সবার,
যখন আকাশ ছড়ায় যুদ্ধের খবর,
যখন বিনোদনের জোয়ারে মানুষ নিরুপায়,
যখন রোবট সভ্যতার মুখে দাঁড়িয়ে আমরা,
তখন,
রোদে জ্বলা পথে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরে
চোখ পড়ে একটি বইয়ের উপর,
ঠাকুমার উপহার দেওয়া সেই
আঁকা ছবিতে ভরা ‘ছোটদের বিবেকানন্দ’।
বইয়ের পাতা ওলটাই
একের পর এক ছবিতে
তোমার জীবন উদ্ভাসিত হয়,
গৃহত্যাগ,শিকাগো যাত্রা,মঠ স্থাপনা।
ছবি সরে সরে যায়,চোখের সামনে
ফিরে আসে বহুবছর আগের সব দৃশ্য।
শেষ পাতায় তোমায় দেখি-
গেরুয়া পরিধান,
উজ্জ্বল দুই চোখ, ধ্যানরত দৃষ্টি,
আশায় আবার মন ভরে ওঠে ।
স্বামী বিবেকানন্দ বিষয়ক কবিতা -১৭
খণ্ডন ভব
স্বামী বিবেকানন্দ বিষয়ক কবিতা -১৬
আস্বাদ
বিকাশ ভট্টাচার্য
স্বামী বিবেকানন্দ বিষয়ক কবিতা -১৫
স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন উপলক্ষ্যে ...
গোবিন্দ মোদক
তুমি বিলে — তুমি নরেন — বিবেকানন্দ তুমি,
সর্বত্যাগী সন্ন্যাসী তুমি — জাগালে ভারতভূমি।
তোমার আবির্ভাবে বাঙালি জীবনে জাগে অনুপ্রেরণা,
মোক্ষ ছাড়াও মানবজাতির সেবা তোমার সাধনা।
তোমার সাধনা ছিল মানবমুক্তির সাধনা - হে সন্ন্যাসী,
অভীঃ মন্ত্রে দীক্ষা দিয়ে তুমি জাগালে ভারতবাসী।
মানবধর্মের বাণী দিয়ে তুমি জাগালে যুবসমাজ,
তোমারই দেখানো পথে চলল মানবসেবার কাজ।
তুমি বললে মূর্খ দরিদ্র অজ্ঞ মুচি মেথর-ও ভাই,
তারাই প্রকৃত ভারতবর্ষ তাদের জন্য কিছু করা চাই।
তোমার এই আদর্শ আর — অমৃতস্বরূপ বাণী,
যুগ যুগ ধরে তা অনাদি - শাশ্বত হিসেবেই জানি।
জাতির নিস্তরঙ্গ জীবনে তুমি এনেছো যুব-তরঙ্গ,
অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষা দিয়ে জাগিয়েছো বাঙালি ও বঙ্গ।
লক্ষ কোটি প্রণাম জানাই জন্মদিনের শুভক্ষণে,
চিরজাগরূপ তোমার আদর্শ থাকুক সবার মনে॥
স্বামী বিবেকানন্দ বিষয়ক কবিতা -১৪
ভালোবাসার প্রত্যাশী
স্বামী বিবেকানন্দ বিষয়ক কবিতা -১১
গৈরিক
মলয় সরকার
ভোরের জানালা খুলতেই এক ঝাঁক
তীব্র আলোর রশ্মি এসে ঘরে ঢোকে,
গেরুয়া ঊজ্বল আলো,
ঘর ভরে যায়।
ঘরের কোণে কোণে
যেখানে যত অন্ধকার লুকিয়ে ছিল
পালাবার পথ খোঁজে-
উপরে তাকিয়ে দেখি,
আরও ঊজ্বল এক সাদা ধবধবে সূর্য,
আরও জ্যোতির্ময়,
যেন শুভ্র ধুতি পরা স্মিতহাস্য
ডানহাতে বরাভয়দাতা কোন ঊজ্বল পুরুষ-
চিনতে পারি মনে হয়-
কিন্তু বুঝি, ঠিক চেনা হয় নি।
তাকিয়ে থাকি দুই আলোর দিকেই
আবিষ্ট হয়ে,
মাথা নীচু হয়ে আসে-
মন,
ধীরে ধীরে অন্ধকার সরিয়ে
গৈরিক হওয়ার তীব্র আকাঙখায় জেগে ওঠে–
স্বামী বিবেকানন্দ বিষয়ক কবিতা -১৩
বিবেকের বাণী
দুরন্ত বিজলীস্বামী বিবেকানন্দ বিষয়ক কবিতা ১০
হে মহাজীবন
সৌমিত বসু
তিনি আমাদের শিখিয়েছিলেন
কিভাবে রাজার ছবির ওপর থুতু ফেলতে হয়
আমরা শিখিনি ; ভয়ে, সামাজিকতায়, বশ্যতায় |
দূরে সমুদ্রের ওপর জেগে উঠছে তার চূড়ো
ভিজিয়ে দিচ্ছে আমাদের কাপড় চোপড়,
গ্লানি, সমূহ অতীত ;
চোখ জ্বালা ক'রে কান্না এসে দাঁড়াচ্ছে
রেটিনা ব রা ব র
স্পর্শ এসে দুলিয়ে দিচ্ছে বিশ্বব্রম্ভান্ড
একটি ছড়ি হাতে নিয়ে তিনি হেঁটে চলেছেন
উত্তর থেকে দক্ষিণ
পায়ের স্পর্শে নেচে উঠছে অভাবী ভারতবর্ষ |
বিজ্ঞাপনের সমস্ত রং শুষে নিয়ে
একটি বিশাল বটগাছ ডালপালা ছড়িয়ে
উন্মাদের মতো শুধু হাসছে
আর তার তলায় ছায়া পোহাচ্ছে একনৌকো সন্ততি
স্বামী বিবেকানন্দ বিষয়ক কবিতা -৯
স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনে
তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
নির্ভীক এক বাঙালি যুবক শিকাগো ধর্মসভায়
মুষ্টিবদ্ধ হাত উঁচু করে বলেছিল জোরগলায়
বহু দূর থেকে এখানে এসেছি আমি সামান্য মানব
বলার জন্য পেয়েছি সময় জানি খুব দুর্লভ
প্রথমেই বলি সার সত্যটি শোনো সব বোন ভাই
সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই;
আমার জন্ম ভারতবর্ষে সাত সমুদ্র পারে
পেরিয়ে এসেছি কত জলপথ কত ঢেউ পারাবারে
এসে শুধু দেখি কত গুণিজন কত কত দেশ থেকে
চেনাজানা নেই কারও সঙ্গেই--শ্রদ্ধেয় প্রত্যেকে
দেখি এ সভায় সমস্ত পৃথিবী মিলে গেছে একঠাঁই
সবাইকে বলি মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই;
আমাদের দেশ ঐতিহ্যের--তার গতিধারা বেয়ে
পথে পথে ঘুরি মানুষে মানুষে মিলনমন্ত্র গেয়ে
আমাদের আছে চতুর্বেদ আর বেদান্তের মহাগান
প্রতি শ্লোকে আছে ঐক্যবার্তা, বিভেদ-পরিত্রাণ
লেখা আছে তাতে মানুষ সত্য জীবনের মূলমন্ত্র
মানবিকতাই আবরণ হোক মানবের স্নায়ুতন্ত্র;
বেদান্ত বলে প্রতি দেহকোষে বাস করে ঈশ্বর
সেই ঈশ্বরে ব্যাপৃত এই পার্থিব চরাচর
সব মালিন্য ধুয়েমুছে আছে সে বিশ্বজনীনতা
জানুক পৃথিবী ভারতের এই সহিষ্ণুতার কথা
সব প্রতিরোধ, প্রতিবন্ধক করে দিয়ে দূরছাই
বলো হে বিশ্ব মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।
শুভজন্মদিন হে মহামানব!শতকোটি প্রণাম
স্বামী বিবেকানন্দ বিষয়ক কবিতা -৭
বিবেকানন্দচোখ
গৌতম রায়
সারা পৃথিবী জুড়ে একটা চোখের সন্ধান বিবেকানন্দচোখ
এমন দৃষ্টিপাতের মেহনে শুধু আবেশ নয়,
ঘুম নেই কতকাল
জাগরণ ! পুনঃজাগরণ !
ভিজে যাই , ভিজে যাই
সূর্যকুণ্ডের পর চলন চলন
এ নদীদৃষ্টিতে লেগে থাকে মানুষী পড়োশি পরশ
তাই এতো নদীকল্যাণ সম্বোধন।
ভারতমহাসাগর মহাতীর্থের পর
চার মেঘের পুনরুত্থান–
এমন পৃষ্ঠটানে বৃষ্টিপাতে হিমালয়ও
নিজেকে চূর্ণ করে সহস্র লক্ষবার।
এসো দৃষ্টি এসো প্রেম এসো কল্যাণ
পৃথিবীত্বে পায়ে পায়ে এগিয়ে যাই।
স্বামী বিবেকানন্দ বিষয়ক কবিতা -৬
স্বামী বিবেকানন্দ বিষয়ক কবিতা -৮
বিবেক বাণী
অশোক ব্যানার্জী
হাজার সূর্যের তেজে বলিয়ান
অভিনব এক ছেলে
১২ জানুয়ারি জন্ম তার
ডাক নাম ছিল বিলে।
বড় হয়ে যিনি "বিবেকানন্দ"!
বিবেকের বাণী তার-
"মানুষেরই মাঝে ঈশ্বর খোঁজো
নেই সংশয় আর।
নিপিড়িত যত মানুষ জন
তাদেরই সেবা করে
মনের খুশিতে পরমানন্দে
ঈশ্বর আনো ঘরে ।"
যারা ছোটো আছ বড় হয়ে যদি
বিবেকানন্দ পড়
বুঝতে পারবে দর্শন শাস্ত্রে
কতটা ছিলেন দড় !
চিকাগোর সেই ধর্ম সভায়
তার বক্তব্যের সার
সেই দর্শন ইতিপূর্বে
কেউ শোনেনি তো আর ।
কত বড় কথা অতি সহজেই
ব্যাখ্যা করে দিয়ে
ধর্ম যে নয় কুয়োর ব্যাঙ
দিলেন তা' বুঝিয়ে ।
তার দর্শন সাম্যবাদের,
নিপিড়িত মানুষ জনের
সাথে থেকে কিছু ভালো করা গেলে
সে সেবাই ঈশ্বরের !
স্বামী বিবেকানন্দ বিষয়ক কবিতা -৫
বিলে থেকে বিবেকানন্দ
বিকাশ দাস
বাবা মা নাম রেখেছিলো নরেন্দ্র নাথ
যাকে আমরা ছোট্ট বেলার বিলে ও বীরেশ্বর বলে জানি।
জেদি। সাহসী। যুক্তি-বিদ্যা-বুদ্ধি প্রতিভার প্রখর প্রপাত।
মানুষ জাতির অখণ্ড মণি। স্রষ্টার আরাধ্য দেবতা মানি।
বন্ধুদের কাছে নরেন। খেলাধুলোর দুষ্টুমিতে সবার সেরা।
সহানুভূতি যেন দরাজ দরদি দিল আবেগপ্রবণতায় ঘেরা
ছেলের অদ্ভুত দুরন্তপনায়
চিন্তাগ্রস্থ বাবা বিশ্বনাথ মা ভুবনেশ্বরী
জীবন দুষ্কর এই ভাবনায়
তাদের নরেন কী হবে না সংসারী!
ধ্যানমগ্ন। শিব ভক্ত সন্ন্যাসী বালক
মাটিমগ্ন। আনন্দ প্লাবিত আলোক।
সংগীতে জন্মগত অধিকার। নিপুণ পারদর্শী বহু বাদ্য বাজনার
পরবর্তী কালে বিবিদিষানন্দ নামে অদমনীয় সন্ন্যাস গ্রহণ যার।
যার বাণী করেছে মানুষজাতির জীবনবোধ উজ্জীবিত আরও শাণিত
যুবসমাজ প্রজ্বলিত । তার জন্মদিন ‘জাতীয় যুবদিবস’ বলে পালিত ।
একলব্য বীর।নিশ্চিন্ত নির্ভয়।
এই মন্ত্র গাথায় মানুষের জয়
জেনো গীতা পাঠ থেকে মাঠে ফুটবল খেলা অনেক ভালো।
রোজকার শরীর চর্চা আদিম শক্তি জ্ঞান বুদ্ধির উন্মুক্ত আলো।
বলেছিলো ঈশ্বরকে চাক্ষুষ দেখতে হলে রাখো উদাত্ত কণ্ঠস্বর
শুধু জেনো,‘জীবে প্রেম করে যেই জন সেই জন সেবিছে ঈশ্বর’।
মানুষের সেবাই ভগবানের সেবা। সেই সর্বকালের একছত্র অধীশ্বর।
যার স্বপ্নে ছিলো একদিন আসবে নতুন দেশ সমস্ত মানুষের হাত ধরে।
স্বদেশের মৃত্যু মানে সত্যের মৃত্যু। সবাই দাঁড়াও আজ একসাথে রুখে।
বাঁধো, আত্মবিশ্বাস। দেশপ্রেম। নিঃস্বার্থ স্বচ্ছতা। পরাধীন বাসিন্দার বুকে
বেঁধে বেঁধে পায়ে পা। কাঁধে কাঁধ। হাতে হাত।
চাষা চাষী লাঙ্গল ধরে তুলে দিতে মুখে ভাত।
জেলে, মোল্লা, মুচি, মেথর সমস্ত ঝি-কন্যা জাতির একতার আগল ধরে।
বিশ্বাস,শক্তি সাহসিকতা একমাত্র ধর্ম। দুর্বলতা ও কাপুরুষতা পাপ।
অন্য সমস্ত জীবে ভালোবাসার আগ্রহ সবটুকু ধর্ম। ঘৃণা সমগ্র পাপ।
যার চোখের দীপ্তি দিয়ে গেছে নির্ভয়। বাণীর অনুসরণে জগত ধন্য
আবালবৃদ্ধ অনন্য। মানুষ জন্ম এক বিশেষ কাজ করে যাওয়ার জন্য।
যার স্বাধীন বজ্রদীপ্ত আলোর ঝনৎকারে হিমালয় থেকে কন্যাকুমারী
স্নিগ্ধময়। ঋদ্ধময়। অগ্নিময়। প্রতিশ্রুতি বদ্ধ পরিব্রাজক কর্মের পূজারী
জীবনে সুখ বিলাসিতা ছেড়ে মানুষের কল্যাণ সভ্যতার সম্প্রসারণ
চৈতন্যের বিকাশে যত্নশীল হওয়াই মানবিকতার আক্ষরিক নির্মাণ।
ধর্ম কারো ঈশ্বর নয়।
ঈশ্বর কারো ধর্ম নয়।
ঈশ্বরের প্রাপ্তি মানুষ মানুষের সম্পর্ক স্থাপনে
বিনম্র প্রেম শ্রদ্ধা নিঃস্বার্থ জীবন যাপনে।
শুধু মাত্র ঊনত্রিশ বয়সে সমাধিস্থ হয়েছিলো প্রাণবন্ত প্রাণ যার
নশ্বর শরীর পঞ্চভূতে বিলীন। আজও চিরন্তন অমর বাণী তার।
বিকাশ দাস
স্বামী বিবেকানন্দ বিষয়ক কবিতা-৪
স্বামী বিবেকানন্দ বিষয়ক কবিতা -৩
ছাই চাপা আগুন
স্বামী বিবেকানন্দ বিষয়ক কবিতা -২
নমামী বীর সন্নাসী বিবেকানন্দ