স্বাধীনতার ৭৫
মুক্ত গদ্য—২৮
স্বাধীনতার ৭৫
মুক্ত গদ্য—২৮
স্বাধীনতার ৭৫
মুক্ত গদ্য -২৭
স্বাধীনতা ৭৫
দেবাশিস মিত্র
আজ অবশ্যই আমাদের খুব খুশি আর আনন্দের দিন। সাতচল্লিশের স্বাধীনতার পর একটু একটু করে আমাদের দেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়েছে এবং আজ এই বিশ্ব মাঝে নিজের এক সম্ভ্রম জাগানো জায়গা করে নিয়েছে। একজন ভারতবাসী হিসেবে আমি গর্বিতবোধ করি। শিল্প, কৃষি, প্রতিরক্ষায় আমরা এক মর্যাদাপূর্ণ জায়গা গ্রহণ করতে পেরেছি । কিন্তু তবু এখনো অনেক কাজ যে বাকি রয়েছে। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা, যে স্বপ্ন আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীরা দেখেছিলেন সেই সমাজ ব্যবস্থা কি দেশের আম আদমি পেয়েছে! সিংহাসন লাভের জন্য গালভরা প্রতিশ্রুতির বন্যা আর তারপর ব্যক্তিগত স্বার্থে সকল ন্যায়নীতি জলাঞ্জলি দিয়ে নিজ পরিবার ও প্রিয়জনদের উদরপূর্তি!
আমাদের দেশের উদারতা শিখিয়েছে সকল ধর্ম আর সকল শ্রেণীর মানুষকে আপন করে নিতে। কিন্তু আজও এই সমাজ থেকে জাত ও ধর্মের ভেদাভেদকে উপড়ে ফেলতে পারলাম কই! এই অসহায়তার মধ্যেই আমরা বছরের পর বছর এগিয়ে চলেছি। আসুন না, আজ "স্বাধীনতা ৭৫ " এর মহান লগ্নে আমরা সকলে মিলে আমাদের প্রিয় দেশ ভারতবর্ষকে সাজিয়ে তুলি, যেখানে দাঁড়িয়ে আমরা অন্তরের গভীর থেকে বিশ্বাসের সাথে বলতে পারবো, " সকল দেশের রানী সে যে আমার জন্মভূমি।"
আজকের "স্বাধীনতা৭৫" এর আনন্দময় উপস্থিতিতে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় মন্ডিত এই আশাই রইলো আমার প্রিয় দেশের জন্য।
স্বাধীনতার৭৫
মুক্ত গদ্য -২৬
স্বাধীনতার ৭৫ বছর
সুবীর ঘোষ
এ বছর ২০২২-এ আমাদের স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্ণ হল । স্বাধীনতা মানে স্ব-অধীনতা বা স্বীয় অধীনতা। স্বাধীন মানুষ দেশের আইনকানুন , নিয়মনীতির মধ্যে থেকেও তার নিজের ইচ্ছামতন জীবনযাপন করে। স্বাধীনতাহীনতার অনেক উদাহরণ আমরা ইতিহাস থেকে জেনেছি । এই পৃথিবীতে একসময় ক্রীতদাস প্রথা চালু ছিল । । এই বিষয়ে ইংরেজি ভাষায় একটি বিশ্ববিখ্যাত বই আছে---‘আঙ্কল টম’স কেবিন’ নামে। ১৮৫২ খৃষ্টাব্দে এই বইটি লিখেছিলেন আমেরিকার মহিলা লেখক হ্যারিয়েট এলিজাবেথ বিচার স্টোয়ে। এই বইটি ক্রীতদাসপ্রথা অবলুপ্ত হওয়ার পেছনে যথেষ্ট প্রভাববিস্তার করেছিল ।
প্রথমে বাণিজ্য করতে এসে মোঘল বংশের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারত শাসনের অধিকার দখল করে। ভারত ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীনস্থ উপনিবেশে পরিণত হয়। সুদীর্ঘ ১৯০ বছর এই পরাধীন সময়ের মেয়াদ ।
নানা ঘটনার অভিঘাতে এবং নানা কারণের মিলিত সমাহারে ভারত ছেড়ে একদিন ব্রিটিশরা চলে গেল । আমরা স্বাধীনতা পেলাম । যাবার আগে ব্রিটিশ শাসকেরা দেশটাকে দুভাগ করে দিয়ে গেল । এটাই পরাধীনতার সর্বোচ্চ গ্লানি যে দেশটা আমাদের অথচ তার ভৌগোলিক সীমানা নির্ধারণ করে গেল একটা বিদেশী শক্তি । স্বাধীনতার প্ল্যাটিনাম জয়ন্তীতে আমাদের ফিরে দেখা খুব দরকার আমরা কী পেলাম আর কী পেলাম না।
প্রাপ্তি
১) নিজের দেশ নিজে শাসন করার অধিকার , গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ; পরবর্তীকালে আধারকার্ডের মাধ্যমে অনন্য পরিচয়পত্র
২) কৃষিতে সবুজ বিপ্লব ও দুগ্ধ সরবরাহে শ্বেত বিপ্লব
৩) দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা থেকে নানান ভারী মাঝারি ও কুটির শিল্পের বিস্তার , নগরায়ন ও গ্রামে গ্রামে বিদ্যুদয়ন
৪) রেল ও রাস্তা সম্প্রসার , মেট্রো রেল এবং পর্যটনে ব্যাপক উন্নতি
৫) বৃক্ষরোপণ , পরিবার পরিকল্পনা , জনস্বাস্থ্য , জনশিক্ষা , পানীয় জল , নদীবাঁধ , সেচ , উন্নত শস্যবীজ , পশুপালন , মৎস্যচাষ , স্বগৃহ ও শৌচালয় ইত্যাদি জনমুখী প্রকল্পের বিকাশ
৬) বন্যপ্রাণী ও বনসম্পদ সংরক্ষণ
৭) কয়লা ও ব্যাঙ্কিংব্যবস্থার জাতীয়করণ
৮) ভারতীয় সেনা , নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীসহ প্রতিরক্ষায় শক্তিঅর্জন
৯) পরমাণু , মহাকাশ গবেষণা ও বিজ্ঞানের নানা শাখায় ব্যাপক অগ্রগতি , দেশে টেলিভিশন , টেলিফোন , কম্পিউটার , ইন্টারনেটের বিস্তৃত ব্যবহার ও প্রয়োগ , চলচ্চিত্রের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি
অপ্রাপ্তি
১) দেশভাগ ও উদবাস্তু সমস্যা , পূর্ব পাকিস্তানের হিন্দুদের সর্বসান্ত হওয়া , সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও মৃত্যু
২) কাশ্মীরের এক অংশ পাকিস্তান-দ্বারা দখল এবং চিরস্থায়ী উৎপাত ও আক্রমণ
৩) ১৯৬২-র চীন যুদ্ধে ভারতের পরাজয়
৪) কালোবাজারির ক্রমবিকাশ এবং আর্থিক বৈষম্য ; দুর্নীতি , দীর্ঘসূত্রিতা ও উৎকোচের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি কাজকর্মে শৈথিল্য
৫) মুদ্রাস্ফীতির ফলে আতঙ্কিত জনজীবন
৬) নির্বাচনে রিগিং ও বাহুবলে নির্বাচনে জয়
৭) সংখ্যালঘু মানুষ ও নারীদের ওপর নির্যাতন
৮) হাওয়ালার মাধ্যমে দেশের অর্থ বিদেশে পাচার এবং ব্যাঙ্কের বিপুল ঋণ পরিশোধ না করে বিদেশে পলায়ন
৯) ভয়াবহ বেকারত্ব , কর্মহীনতা এবং কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া
১০) ৭৫ বছরেও নেতাজী অন্তর্ধান রহস্য উন্মোচন করার মতো প্রশাসনিক সদিচ্ছার অভাব
আমরা সকল দুর্নীতি ও অপশাসন – মুক্ত এক ভারতবর্ষকে দেখতে চাই । এক অবিচার-অনাচারের দুনিয়া থেকে বেরিয়ে এসে আর এক অবিচার-অনাচারের দুনিয়াতে যাবার জন্যই কী আমাদের এত এত স্বাধীনতা – সংগ্রামী তাঁদের অমূল্য প্রাণ বলিদান দিয়েছিলেন?
স্বাধীনতার৭৫
মুক্ত গদ্য —২৫
স্বাধীনতার পঁচাত্তর বছর
স্মৃতি শেখর মিত্র
স্বাধীনতার৭৫
মুক্ত গদ্য -২৪
হায় স্বাধীনতা
স্বাধীনতার৭৫
মুক্ত গদ্য -২৩
স্বাধীনতা ও আমরা
শত শত শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত
আমাদের এই স্বাধীনতা নয় নয় করে পঁচাত্তরটা বছর পার করে ছিয়াত্তর বছরে পদার্পণ করলো
। আজও আমরা সকলের জন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও
খাদ্যের ব্যবস্থা করতে পারিনি । ভৌগোলিক স্বাধীনতা পেলেও চেতনায় আমরা আজও স্বাধীন হতে
পারিনি । পারিনি আমরা শাসককুলের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে মেরুদন্ড সোজা রেখে চলতে । অজানা আশঙ্কায় সর্বদা কুঁকড়ে থেকেছি । অর্থনৈতিক
ও সামাজিক বৈষম্য আকাশচুম্বী । বিশ্বাস অপেক্ষা
অবিশ্বাসের পাল্লা বহুগুন ভারী । ‘ বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে !’
এ কোন্ ভারতবর্ষ
! যে অগনিত ভারতবাসীর ত্যাগ ও শত শত শহিদের আত্মবলিদানে অর্জিত আমাদের এই স্বাধীনতা,
তারা কি এই ভারতবর্ষ চেয়েছিলেন ? তারা স্বপ্ন দেখেছিলেন এক শোষণমুক্ত, বন্ধনমুক্ত ভারতবর্ষের,
মুক্তচেতনার মানবিক এক ভারতবর্ষের, এক সাম্যের ভারতবর্ষের । স্বাধীনতা লাভের ৭৫-বছর
পরেও আমরা তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারিনি, এ ব্যর্থতার দায় আমাদেরকেই নিতে হবে
।
একটু পিছনে ফিরে দেখা যাক । স্বাধীনোত্তর যুগে
যাদের হাতে শাসনতন্ত্রের ভার পড়েছে তারা জনসেবার চেয়ে আত্মসেবাতেই বেশী মনোনিবেশ করেছে
। হাতে গোনা কয়েকজন নেতা-মন্ত্রীর কথা বাদ দিলে বাকিরা সবাই স্বাধীনোত্তর যুগে ফুলে-ফেঁপে
উঠেছে---- বিপুল সম্পদের অধিকারী হয়েছে । দুর্নীতি
আর স্বজনপোষণ হাত ধারাধরি করে চলেছে । যত দিন-মাস-বছর গড়িয়েছে দুর্নীতি আর স্বজনপোষণের মাত্রাও তত বেড়েছে, আজকের দিনে যা লাগামছাড়া । ফল
যা হওয়ার তাই হয়েছে । স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও দেশের মানুষ অনাহারে মরে, বিনাচিকিৎসায়
মরে, মাথা গোঁজার চালাটুকু অনেকের নেই । আর শিক্ষা নামক গড্ডালিকা প্রবাহ চলেছে
---- দেদার টাকার লেনদেন । টাকা যার শিক্ষা তার । হায় স্বাধীন ভারতবর্ষ !
এই অবস্থার
জন্য শাসনতন্ত্রের লাগামছাড়া দুর্নীতি আর স্বজনপোষণ যেমন দায়ী তেমনি দায়ী আমাদের আত্মসচেতনতার
অভাব ও লোভ । আমরা অর্থ-যশের লোভ ত্যাগ করতে
পারি না বলেই শাসনতন্ত্রের কাছে মাথা নোয়াই, মেরুদন্ড সোজা রাখতে পারি না । আর বহুলাংশে
দায়ী বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা ।
একজন অপরাধী অপরাধ করে গ্রেফতার হলেও আইনের ফাঁক দিয়ে জামিন
নিয়ে বেরিয়া আসে। তারপর কোমরবেঁধে আবার ঘৃণ্যকর্মে লিপ্ত হয় । বিচার চলতে থাকে । বছরের
পর বছর গড়িয়ে যায় । তারপর লোয়ার কোর্ট, হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ, হাইকোর্টের ডিভিসন
বেঞ্চ, সুপ্রিম কোর্ট, এবং সুপ্রিম কোর্টের ডিভিসন বেঞ্চের পর যখন চূড়ান্ত সাজা ঘোষণা
হয় ততদিনে গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে যায়, দশ,
পনেরো এমন কি বিশ বছরও অতিক্রান্ত হয় । এই
ব্যবস্থার আশু পরিবর্তন দরকার । তা নাহলে চুরি, ডাকাতি, ঘুষ, ভেজাল, জালিয়াতি, খুন,
ধর্ষণ প্রভৃতির মতো ঘৃণ্য অপরাধ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে । অপরাধীরা বুক ফুলিয়ে এই সমাজেই অবস্থান করবে । দেশবাসীর দুরবস্থা বাড়বে বই কমবে না ।
সর্বোপরি সুস্থ সমাজ গড়তে চাই নাগরিক সচেতনতা ।
স্বাধীনতার৭৫
মুক্ত গদ্য -২১
স্বাধীনতার ৭৫ বছর
অশোক রায়
স্বাধীনতার৭৫
মুক্ত গদ্য-২০
স্বাধীনতার অনুভূতি
সন্দীপ দত্ত
ভারতবর্ষের স্বাধীনতার ৭৫ বছর নিয়ে লিখতে বসে আজ মনে হচ্ছে,আমরা এখনও রবীন্দ্রনাথের সেই 'কর্তার ভূত'টাকে নিজেদের ঘাড় থেকে নামাতে পারিনি। দীর্ঘ এতগুলো বছর পার হয়েও মনে হচ্ছে,কন্ঠরোধ করছে কেউ। গতিরোধ করছে চলার। আমরা হারিয়ে ফেলছি আমাদের আমিত্ব,বিকিয়ে দিচ্ছি বুদ্ধি। একটা সার্বভৌম গণতান্ত্রিক দেশের বৈশিষ্ট্য তো এটা নয়। তবুও সবাই চুপ করে আছি। এ কেমন স্বাধীনতা? তোষামোদ আর তাবেদার যখন শাসননীতি হয়ে শাসকের এগিয়ে চলার ইন্ধন হয়ে যায়,সেখানে জনগণ পুতুল ছাড়া আর কী? তাই স্বাধীনতাকে উপলব্ধি করতে হয় ক্যালেন্ডারের ১৫ ই আগস্টের চৌকো বাক্সের ভেতরে আঁকা তেরঙ্গার ছবি দেখে।
পঁচাত্তরটা বছর কম সময় নয়। তবুও আমরা এখনও মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারলাম না। কেউ একজন সাহস করে বলতে পারলাম না "রাজা তোর কাপড় কোথায়?" অথচ আমাদের মুখে ললিপপ দিয়ে ভাল করে শোনানো হয় "......হও উন্নত শির,নাহি ভয়।" এ কেমন স্বাধীনতা?
যে দেশের শিশুকে রাস্তায় গড়িয়ে যাওয়া দুধ পথের কুকুরের সাথে ভাগ করে খেতে হয়,উল্টো তেরঙ্গা উত্তোলন নিয়ে প্রতিবাদ করলে তার চোখে রড ঢুকিয়ে দেওয়া হয়,ন্যায্য অধিকারে চাকরির দাবি নিয়ে রাজপথে অতিক্রম করতে হয় পাঁচশো দিন,পুলিশের লাঠির আঘাতে তরুণের শিরদাঁড়া ভেঙে যায়,স্বাধীনতা সেখানে ম্যারাপ বেঁধে ডিজে চালিয়ে মাংসভাত খাওয়া ছাড়া আর কী?
ফি বছর স্বাধীনতাদিবসটা তাই আমার কাছে থিমের মর্ডান দুর্গার মতো লাগে। জৌলুস আর আড়ম্বরে ভরা,রূপের উপর রূপটান নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কোনও লাস্যময়ী যেন। যেন "আসছে বছর আবার হবে।" কিন্তু ভারতমাতা তো থিমের দুর্গা নয়,সে দুর্গতিনাশিনী,সে অভয়া।
এভাবেই ভারতবাসী স্বাধীন হয়ে পা পা করে করে পঁচিশ থেকে পঞ্চাশ পেরলো,পঞ্চাশ থেকে আজ পঁচাত্তর। স্বাধীন ভারতবর্ষের নাগরিক হতে পেরে গর্বিত লাগে নিজেকে। যাঁদের জন্য আজ আমরা এই জায়গায় এসেছি,সেইসব অমর বিপ্লবীদের কুর্নিশ জানাতে ইচ্ছে হয়।কিন্তু আঘাতটা পাই তখনই,যখন দেখি আজকের কিশোর কিশোরী'রা মাতঙ্গিনী হাজরার নাম জানে না,নেতাজি আর গান্ধীজিকে গুলিয়ে ফেলে,তেরঙ্গার তিনটি রঙের অর্থ জানে না। অথচ স্বাধীনতাদিবসের ভোর তারা দেখে। স্কুলে দল বেঁধে জড়ো হয় শুধুমাত্র টিফিনটার জন্য।
স্কুলে স্কুলে তাই খুদেদের আজ স্বাধীনতার পাঠ দেওয়াটা শিক্ষকদের আবশ্যিক কর্তব্য হওয়া উচিত। সন্তান হয়ে ভারতমাতাকে আমরা যদি যোগ্য সম্মান দিতে না পারি,তাকে রক্ষা করতে না পারি,তাহলে সন্তান হলাম কেন?
স্বাধীনতার৭৫
মুক্ত গদ্য —১৯
স্বপ্ন দিয়ে তৈরী
স্বাধীনতার ৭৫
মুক্ত গদ্য —১৮
স্বাধীনতার প্রশ্নচিহ্নে ...
রাজীব ঘাঁটী
আজ ২০২২ সালের আগস্ট মাসে দাঁড়িয়ে খুব কষ্ট করে বলতে হয় আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক।
অথচ স্বাধীনতার তত্ত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ি আত্মজার কাছে। অবাক লাগে সাধারণ গৃহবধূ হয়েও আমার মা কত সহজে আমাদের বুঝিয়েছিলেন যে স্বাধীনতা ! আজ স্বাধীনতার পঁচাত্তর বছরে ক্রমশঃ অসহায় হয়ে পড়ছি ।
আমি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষে আমার কলেজের এক অধ্যপককে জিজ্ঞাসা করেছিলাম "স্যার এই ৫০ বছর কিভাবে মূল্যায়ন করবো?"
স্যার বললেন ১৯৪৭ সালে এক রুপী(টাকা ভারতীয় মুদ্রা) আর এক ডলার (মার্কিন মুদ্রা) সমমূল্যের ছিল কিন্তু এখন এক ডলার প্রায় চল্লিশ টাকার সমান। সেদিন স্যারের এই উত্তর একটা পিছিয়ে পড়া স্বাধীনতার ছবি দেখিয়েছিল ,পরে পরে পঞ্চাশ থেকে পঁচাত্তরের দিকে যত এগিয়েছি ডলারের সাথে টাকার পার্থক্য বুঝিয়েছে অনেক।
ভাবতে ভাবতে বার বার মনে হয়েছে নেতাজী,ক্ষুদিরাম,ভগৎ সিং দের কথা । মহাত্মা গান্ধী , মাতঙ্গিনী হাজরা , সূর্য সেন কিভাবে একটা দেশ উপহার দিতে চেয়েছিলেন অথচ...
চরম বিষন্নতা নিয়ে এক একটা রাজপথ দিয়ে যখন চলি যতটা স্ফীত হতে পারতো বুক ততটা হয় না।
নদীর স্রোত , সৌধ , হিমালয় বদলেছে বা বদলায়নি সময়ের দায়ে অথচ মানুষ কত তাড়াতাড়ি বদলে গেল ! এই স্বাধীনতার মহোৎসবের বছরে আমি কোন স্বাধীনতার কথা বলবো আমার পরবর্তী প্রজন্মের কাছে ? নিজেদের কামড়াকামড়ি থামিয়ে দেবার ক্ষমতা নেই আমার , আমাদের। এক অজানা লক্ষ্যে ছুটছি প্রতিদিন। এত হিংসা ,এত বিদ্বেষ আমাদের মধ্যে যে সম্পর্কগুলো কেমন যেন ফ্যাকাসে হয়ে পড়ছে দিন দিন। কত কত সমস্যা রোজ আমাদের দোরগড়ায়,দেশ নিয়ে ভাববে কে ? অর্থনীতি প্রতিদিন ধসে পড়ছে । আশঙ্কার প্রহর গুনছে যুবসমাজ। এই স্বাধীনতা কতটা এগিয়েছে আমাদের কতটা স্বাধীন করেছে এই প্রশ্ন বারবার উদ্বেগ বাড়ায় । সরকারি অবহেলায় মানুষ যে সঙ্কটের ভবিষ্যতে সেটা বড় অবাক করার !
এরপর আমাদের সম্প্রীতির ভারতবর্ষে আরেকটি বিপর্যয় ক্রমশঃ আমাদের হতাশ করে চলেছে তা হল রাজনৈতিক দলের সুবিধা চরিতার্থ করতে গিয়ে ধর্ম বৈষম্যের এক বিভাজন । আগামীর ভারতবর্ষে এটি একটি বড় সংকট হতে পারে বলে মনে করছেন একশ্রেণীর বিশেষজ্ঞ মহল। অথচ আমাদের শৈশব থেকে আজ ও আমরা কতটা মিলেমিশে ঈদ আর দুর্গাপূজা করেছি,করছিও।
ধর্ম নিয়ে কখনো কোন দ্বন্দ্ব কাজ করেনি আর আজ সারা ভারতবর্ষ জুড়ে ধর্মের যে বিভাজন গড়ে তোলা হচ্ছে তা আশঙ্কার । ব্রিটিশ সরকার যে ধর্ম বৈষম্যের বীজ পুঁতে ছিল তা যেন আবার নতুন করে নাড়া দিয়ে উঠেছে। আমাদের শিক্ষার হার ক্রমশঃ বেড়েছে তবুও আমরা অসাম্প্রদায়িক হতে পারছি না । এ বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় যখন ভারতবর্ষকে একটি নির্দিষ্ট ধর্মের দেশ বলে চিহ্নিত করার চেষ্টা হয়। স্বাধীনতার পঁচাত্তর বর্ষে আমরা আমাদের স্বাধীনতা নিয়ে কতটা গর্ব করতে পারি এটা কারো অজানা নয়। তবুও বলবো এবছর স্বাধীনতার অমৃত মহোৎসব উদযাপন করছি , আমাদের এখন অনেক সংকল্প নিতে হবে , সঠিক দেশপ্রেম এর প্রতিফলন ঘটাতে হবে। হবে হবের শ্লোগান অনেক শোনা যায় অথচ হয় না কিছুই। শ্লোগান হোক প্রয়োগের।
আবারো বলবো লক্ষ্য পথ অটুট রেখে গন্তব্যে ছুটে চলতে হবে সময়ের দায়বদ্ধতা থেকে কিন্তু কখনোই মানবতাবিরোধী হয়ে নয় । এদেশ নেতাজী,ভগৎ সিং, ক্ষুদিরামের আত্মবলিদানের দেশ এ দেশ লক্ষ লক্ষ স্বাধীনতা সংগ্রামীর রক্তস্নাত । আমাদের পঁচাত্তরের শপথ হোক সততার , মানবিকতার আর আদর্শের ।
আমরা শতবর্ষে যেন লিখে যেতে পারি নিস্কলঙ্ক যাপনের কাহিনী। এক শতাব্দীর ইতিহাস আলোয় সেজে উঠুক ১৯৪৭ এর প্রতিশ্রুতি নিয়ে ডলার আর রুপী(টাকা) র সমমূল্যে।
জয় ভারত, জয় স্বাধীনতা।
স্বাধীনতার ৭৫
মুক্ত গদ্য -১৭
ভারতবর্ষের স্বাধীনতার দীর্ঘ ৭৫ বছর পেরিয়ে এসেও প্রশ্ন জাগে, —"আমরা কি সত্যিই স্বাধীন?"
স্বাধীনতার ৭৫
মুক্ত গদ্য -১৬
পুণ্যতীর্থ হোক দেশ
স্বাধীনতার৭৫
মুক্ত গদ্য —৭৫
স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও কি আমরা স্বাধীন?
সুকুমার রুজ
আজ ভারতের ৭৬তম স্বাধীনতা দিবস। ব্রিটিশের বিরুদ্ধে দীর্ঘকাল ধরে আন্দোলন করার মধ্যে দিয়ে আমাদের দেশ রাজনৈতিকভাবে স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরে আমরা কতখানি স্বাধীন, তা একটু আলোচনা করা যাক—
স্বাধীনতার পর দেশের
জনগণ যে অবস্থায় রয়েছে, সে সম্বন্ধে রাজনৈতিক দলগুলোর এবং বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের যে কোনো দৃষ্টিকোণ থেকে যে ব্যাখ্যাই থাকুক না কেন, এটা তো ঠিক যে, স্বাধীনতা আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল গণমুক্তি বা জনগণের স্বাধীনতা। দেশের জনসাধারণের সর্বপ্রকার শোষণ থেকে মুক্তি।
কিন্তু
একটু মাথা ঠাণ্ডা করে ভাবলে দেখা যায়, আমরা আদৌ শোষণ থেকে মুক্ত হইনি। আমরা এখনও
শোষণ-জুলুম-অত্যাচারের বশবর্তী হয়েই রয়েছি। শুধু শোষণের রূপ বদলেছে। ব্রিটিশ শাসনকালে শোষণ জুলুম-অত্যাচারের ধরন ছিল একরকম, এখন তার ধরন বদলেছে।
যাঁরা আমাদের দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিলেন, তাঁরা ইংরেজকে তাড়াতে চেয়েছিলেন এ কারণেই যে, তাদেরকে না তাড়ালে, সমাজে অন্যায়-অবিচার-অত্যাচার, ব্যবসাদারদের জুলুম, জমিদারদের জুলুম, এরকম সমস্ত জুলুমের অবসান ঘটানো যাবে। সমাজকে সর্বাঙ্গীণ মুক্তির সুযোগ দেওয়ার জন্যই তাঁরা স্বাধীনতা চেয়েছিলেন এবং লড়াই করেছিলেন।
কিন্তু একটু ভেবে দেখলেই বোঝা যায় যে, বর্তমানেও দেশের জনগণ সেইসব জুলুম থেকে নিস্তার পায়নি। তখন ছিল ব্রিটিশ ও তাদের প্রশাসনের
জুলুম, এখন আছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও দলীয় কর্মীদের জুলুম। সেইসঙ্গে কিছু দলদাস
প্রশাসনের জুলুম। কেননা, ভারতের রাজনীতি, অর্থনীতি এবং সামাজিক সমস্ত নীতিগুলোকে এবং আচার-ব্যবহার গুলোকে এখন পরিচালনা করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এছাড়া এখন আছে কালোবাজারিদের জুলুম, প্রমোটারদের জুলুম।
এবার আসি অন্য কথায়। স্বাধীন দেশের জনগণের সমস্ত স্তরের ছেলেমেয়েদের শিক্ষার সুযোগ, শিক্ষাশেষে তাদের কর্মসংস্থানের
সুযোগ, বিনা পয়সায় জনগণের স্বাস্থ্য-পরিষেবার সুযোগ, সর্বোপরি সর্বাত্মকভাবে পরিকল্পনা অনুযায়ী আর্থিক উন্নয়নের মধ্যে দিয়ে সামগ্রিক উন্নতিসাধন, সেসব তো সাধারণ মানুষ ঠিকঠাক পাচ্ছে না।
অনেকে
বলবেন, 'কে বলল, পাওয়া যাচ্ছে না! সরকার তো বিনা পয়সায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য-পরিষেবার
পরিকল্পনা তো নিয়েছে।'
হ্যাঁ, পরিকল্পনা নিয়েছে, প্রকল্পও হয়েছে। কিন্তু তার গুণগত মান নিয়ে
জনসাধারণ সন্দিহান। তাই সাধারণ মানুষের কতজন সে প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছে, বলুন তো!
আর কর্ম সংস্থানের কথা না-ই বা বললাম।
এবার আসি সাহিত্য, সংস্কৃতি ও জ্ঞান বিজ্ঞানের কথায়। আমি প্রথমেই সাংস্কৃতিক আন্দোলনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছু কথা বলতে চাই।সাহিত্য আন্দোলন, সাংস্কৃতিক আন্দোলন, যুবসমাজের জ্ঞান-বিজ্ঞান ও আদর্শবাদের চর্চা, এসবের কোন মানেই থাকে না, যদি তার একটা বাস্তব কার্যকারিতা জীবনের উপর, দেশের অর্থনৈতিক জীবনযাত্রার উপর, সামাজিক আন্দোলনের উপর, দেশের রাজনৈতিক আন্দোলনের উপর কোনও প্রভাব ফেলতে না পারে।
কিন্তু এখন কি সেটা পারছে? এখন সাংস্কৃতিক আন্দোলন হচ্ছে ড্রইংরুমের সাজানো আড্ডা। জীবনে যদি তার কোনো প্রতিক্রিয়া না থাকে, জীবনকে উন্নত করতে, পরিবর্তন করতে তা যদি বিন্দুমাত্র প্রভাব না ফেলে, তাহলে সে আন্দোলনের কী মানে থাকে! আমরা যারা নিজেকে সংস্কৃতিবান ব'লে মনে
করি, জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা তথ্য নিয়ে যাঁরা আলোচনা করেন, তাঁরা কি স্বাধীনভাবে তাদের অভিমত ব্যক্ত করতে পারছেন? তা যদি পারতেন, তাহলে নাট্যকার
সফদার হাসমী, কবি তুকারাম, সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশ বা সাহিত্যিক কালবুরগি এঁদের
গ্রেফতার, নির্যাতন বা নিহত হতো না। তাহলে কি বলা যায় যে দেশ পরিপূর্ণ স্বাধীন হয়েছে?
যাঁরা স্বাধীনতা আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন, তারা তো বলেছিলেন 'দেশের স্বাধীনতা, জনগণের স্বাধীনতা আমার জন্মগত অধিকার।' এ কথাটা যাঁরা কাব্যের মধ্যে দিয়ে, সাহিত্যের মধ্যে দিয়ে, সংগীতের মধ্যে দিয়ে, আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে যেভাবেই হোক বলতে চেয়েছেন, সেই ব্রিটিশ জমানায় তাদের কিন্তু কঠিন মূল্য দিতে হয়েছে। তাদের কঠিন শাস্তি পেতে হয়েছে, জেলে যেতে হয়েছে, এমনকি মৃত্যুবরণও করতে হয়েছে।
কিন্তু দেশের স্বাধীনতার এই ৭৫ বছর পরেও কি তার কোন পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে হয়? এখনও কি আপনি 'স্বাধীনভাবে আপনার মত ব্যক্ত করতে
পারেন! তা বললেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কখনো মাওবাদী ব'লে, কখনো দেশদ্রোহী ব'লে, কখনো প্রতিক্রিয়াশীল ব'লে আপনাকে অ্যারেস্ট করে বা বিভিন্নভাবে আপনাকে শাস্তি দেয়। তাহলে কোথায় সত্যিকারের স্বাধীনতা!
তাহলে
আন্দোলনকে বাস্তবে রূপ দিতে গেলে পদে পদে বাধার সম্মুখীন হতে হয়, গ্রেফতার হতে হয়,
জেলে যেতে হয়, কিংবা মৃত্যুবরণও করতে হয় যে দেশে, সে দেশ কি প্রকৃত স্বাধীন?
নেতাজি সুভাষচন্দ্র, 'বিপ্লব কি' এপ্রসঙ্গে বলতে গিয়ে এক জায়গায় লিখেছেন, 'আমার ছেলেবেলায় আমি ব্রিটিশকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়াই সবচাইতে বড় কর্তব্য বলে মনে করতাম। পরে গভীরভাবে চিন্তা করে দেখেছি যে, ব্রিটিশকে তাড়ালেই আমার কর্তব্য শেষ হয়ে যাবে না। ভারতবর্ষে নতুন সমাজ ব্যবস্থা চালু করার জন্য আরেকটি বিপ্লবের প্রয়োজন হবে।'ঠাণ্ডা মাথায় ভেবে দেখলে, এই সিদ্ধান্তে আসা যাবে যে, সে বিপ্লব কিন্তু এখনও হয়নি।
স্বাধীনতার আগে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শাসকরা তাদের ঔপনিবেশিক শাসন চিরস্থায়ী করার জন্য এবং নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থে আমাদের দেশে হিন্দু-মুসলমানকে লড়িয়ে দিয়ে 'ডিভাইড এন্ড রুল' নীতি চালু করেছিল। মুসলিম জনতাকে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলেছিল। কিন্তু এখনো তো সেই 'ডিভাইড এন্ড রুল' নীতি চলছে। এখনো সাম্প্রদায়িকতার জিগির তুলে বিভিন্ন সম্প্রদায়কে লড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান সময়ে স্বাধীনতার এত বছর পরেও কি তার কোন পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে হয়! এখনো তো ধর্মের জিগির তুলে মানুষে মানুষে বিভেদ তৈরি করা হয়। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুন্ন করা হয়।
কেউ
হয়তো বলবেন, এসব রাজনৈতিক কথাবার্তা। সমাজে বাস করে কেউই কিন্তু রাজনীতির উর্ধ্বে থাকতে পারে না। রাজনীতি করা না করা কারও ইচ্ছার উপর নির্ভর করে না। কেউ যদি ভাবেন যে, তিনি রাজনীতির মধ্যে নেই, এসব সাত-পাঁচ এর মধ্যে নেই, তিনি নিরপেক্ষ। এটা কখনো হয় না।
আমি
একটা উদাহরণ দিই। আপনি না চাইলেও আপনার পরিবারের মধ্যেও কীভাবে রাজনীতি ঢুকে পড়ে
দেখুন। ধরুন, আপনার দুই ছেলে। একজন চাকরি করে, একজন বেকার। মা দুই ছেলেকে একসঙ্গে
বসিয়ে খেতে দিচ্ছেন। মাছের বড় পিস-টা, কিংবা মাংসের লেগ-পিস-টা চাকরি-করা ছেলের
পাতে দিলেন। সে রোজগার করছে, তাই ওটা তার প্রাপ্য। ভাবুন, স্নেহময়ী জননী রাজনীতি
না করতে চাইলেও কীভাবে পরিবারের ভেতরেও রাজনীতি চলে আসছে।
বাস্তবে রাজনীতিমুক্ত কোনও জীবন রাজনীতি বহির্ভূত বা রাজনীতি নিয়ন্ত্রণমুক্ত কোনও জীবন আপনি পাবেন না। সে ছাত্র হোক, শ্রমিক-কৃষক হোক বা নারী-পুরুষ হোক। কারও পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ যারা সমাজ-বিজ্ঞানের ছাত্র তারা জানেন যে, সমাজ কীভাবে চলবে, রাজনীতি তা নির্ধারণ করে এখনো তা নির্ধারণ করে চলেছে। আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন যে, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা একতরফা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং তারা সেটা জনগণের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে। আমাদের সেটাই মেনে চলতে হচ্ছে। তারা অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করছে, সংস্কৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করছে, সবকিছুই রাজনৈতিক দল নেতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তাহলে কি আমরা বলতে পারি যে, আমরা নিরপেক্ষ রাজনীতি নিয়ন্ত্রণমুক্ত? কখনওই সেটা হয় না।
আমার কথা শুনে মনে হতে পারে যে, আমি বলতে চাইছি, দেশের স্বাধীনতা আসেনি। অবশ্যই দেশ রাজনৈতিকভাবে স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার এতো বছর
পরেও স্বাধীনতার ত্রুটি-বিচ্যুতি ও সীমাবদ্ধতা, সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর প্রতি দেশের শাসকগোষ্ঠীর আনুগত্য, সাম্রাজ্যবাদী নীতি, সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে, দেশের শাসন ব্যবস্থাকে পুঁজিপতি শ্রেণীর স্বার্থে পরিচালনা করা, এসব রয়েছে। একটু ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখলে বোঝা যায় যে, এতে সাধারণ মানুষের স্বাধীনতা খর্ব হয়। তাহলে কি সত্যিকারের স্বাধীনতা এসেছে! ভাবা দরকার।