লেবেল

স্বাধীনতার ৭৫ - বিষয়ক মুক্ত গদ্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
স্বাধীনতার ৭৫ - বিষয়ক মুক্ত গদ্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ৩১ আগস্ট, ২০২২

স্বাধীনতার ৭৫।। মুক্ত গদ্য—২৮।।নিরর্থক! — বিকাশরঞ্জন হালদার।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 






স্বাধীনতার ৭৫

মুক্ত গদ্য—২৮





নিরর্থক! 
বিকাশরঞ্জন হালদার 

স্বাধীনতা! " স্বাধীনতা মানে স্তনের ওপরে দাঁত " " স্বাধীনতা মানে রক্ত চেটেছে বাঘ! " নৈমিত্তিক  এ-দৃশ্যের আজ পর্যন্ত কোন যবনিকাপাত নেই! কি নিষ্ঠুর বহমানতায় বয়ে চলেছে পৈশাচিক অন্ধকার! বয়ে চলেছে মৃত্যুর মিছিল! লাগাতার! প্রতিবাদ নিরর্থক! রাত্রির পথে একটিবারও পা বাড়ানোর কোন স্বাধীনতা নেই স্বাধীন-দেশের মেয়েদের! সে আদৌ বাড়ি ফিরবে কি ফিরবে না, নির্ভর করে তার নিয়তির ওপর! এই-তো স্বাধীনতা! শিক্ষার স্থান নির্ণয় করতে বসলে, মাথায় ওঠে হাত! লক্ষ্য শূন্য'ই থেকে যায় একজন শিক্ষিত ছেলেমেয়ে'র  লক্ষ-বাসনা! হতাশা প্রবল আকারে ঘিরে ধরে! দ্রুত সামনে এসে দেখা দেয় মৃত্যুর-চৌকাঠ! অতএব যুপকাষ্ঠে বলীর প্রাণীর মত গলা বাড়িয়ে দিতে হয় ! শিথিল হয় সংকল্প! সাধারণ মানুষের জীবনে নির্ধারিত হয় উঞ্ছবৃত্তি! মানুষের জীবন বোঝার মত ভারী হতে হতে বিরক্তিতে বিষিয়ে ওঠে!  পৃথিবী অসুস্থ আজ! সত্যিই বড় অসুস্থ! স্বাধীনতা - এক স্বাধীনতাহীন, শালীনতাহীন, অত্যাচারের হাত বদল! লজ্জায় লাল হয়ে ওঠে অন্তর! মাথা উঁচুই হয় না! মর্যাদাহীন সময় বয়ে চলে জীবনের  ওপর দিয়ে! মানুষ ভেতরে ভেতরে শবে'র মত অনর্থক হয়ে পড়ে! রেল-লাইনের পাশের বিস্তর ঝুপড়ি'তে, নিতান্ত পোকামাকড় সংসারে হামাগুড়ি দেয় নিরাপত্তাহীন শিশু ও শৈশব! স্বাধীন-দেশের  অর্থনীতি চরিত্র হারায়! ক্ষমতাসীন জোচ্চোরের হাতের মুঠো ভরে ওঠে হাজার-হাজার  কোটি টাকায়! উঃ! কত-কী'সব বকবক করছি! আমি কি পাগল হয়ে গেলাম! আমি পাগল! জানিনা! স্বাধীনতার ৭৫ বছরে এগিয়ে এসে দেখি, জীবন  এসে দাঁড়িয়েছে খাদের কিনারে! হাহাক্কারে যাপন যাতনাময়! মা-গো, তুমি কোথায় মা! দেশ-জননী, জননী আমার!











শুক্রবার, ২৬ আগস্ট, ২০২২

স্বাধীনতার ৭৫।। মুক্ত গদ্য -২৭।।E.Magazine।। Bengali poem in literature।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





স্বাধীনতার ৭৫

মুক্ত গদ্য -২৭




স্বাধীনতা ৭৫

 দেবাশিস মিত্র


আজ অবশ্যই আমাদের খুব খুশি আর আনন্দের দিন। সাতচল্লিশের স্বাধীনতার পর একটু একটু করে আমাদের দেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়েছে এবং আজ এই বিশ্ব মাঝে নিজের এক সম্ভ্রম জাগানো জায়গা করে নিয়েছে। একজন ভারতবাসী হিসেবে আমি গর্বিতবোধ করি। শিল্প, কৃষি, প্রতিরক্ষায় আমরা এক মর্যাদাপূর্ণ জায়গা গ্রহণ করতে পেরেছি । কিন্তু তবু এখনো অনেক কাজ যে বাকি রয়েছে। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা, যে স্বপ্ন আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীরা দেখেছিলেন সেই সমাজ ব্যবস্থা কি দেশের আম আদমি পেয়েছে! সিংহাসন লাভের জন্য গালভরা প্রতিশ্রুতির বন্যা আর তারপর  ব্যক্তিগত স্বার্থে সকল ন্যায়নীতি জলাঞ্জলি দিয়ে নিজ পরিবার ও প্রিয়জনদের উদরপূর্তি! 


আমাদের দেশের উদারতা শিখিয়েছে সকল ধর্ম আর সকল শ্রেণীর মানুষকে আপন করে নিতে। কিন্তু আজও এই সমাজ থেকে জাত ও ধর্মের ভেদাভেদকে উপড়ে ফেলতে পারলাম কই! এই অসহায়তার মধ্যেই আমরা বছরের পর বছর এগিয়ে চলেছি। আসুন না, আজ "স্বাধীনতা ৭৫ " এর মহান লগ্নে আমরা সকলে মিলে আমাদের প্রিয় দেশ ভারতবর্ষকে সাজিয়ে তুলি, যেখানে দাঁড়িয়ে আমরা অন্তরের গভীর থেকে বিশ্বাসের সাথে বলতে পারবো, " সকল দেশের রানী সে যে আমার জন্মভূমি।"

আজকের "স্বাধীনতা৭৫" এর আনন্দময় উপস্থিতিতে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় মন্ডিত এই আশাই রইলো আমার প্রিয় দেশের জন্য।







বৃহস্পতিবার, ২৫ আগস্ট, ২০২২

স্বাধীনতার৭৫।। মুক্ত গদ্য -২৬।।স্বাধীনতার ৭৫ বছর — সুবীর ঘোষ।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



স্বাধীনতার৭৫

মুক্ত গদ্য -২৬



স্বাধীনতার ৭৫ বছর

    সুবীর ঘোষ

 

এ বছর ২০২২-এ আমাদের স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্ণ হল ।  স্বাধীনতা মানে স্ব-অধীনতা বা স্বীয় অধীনতা। স্বাধীন মানুষ  দেশের আইনকানুন , নিয়মনীতির মধ্যে থেকেও তার  নিজের ইচ্ছামতন জীবনযাপন করে। স্বাধীনতাহীনতার অনেক উদাহরণ আমরা ইতিহাস থেকে জেনেছি । এই পৃথিবীতে একসময় ক্রীতদাস প্রথা চালু ছিল । । এই বিষয়ে ইংরেজি ভাষায় একটি বিশ্ববিখ্যাত বই আছে---‘আঙ্কল টমস কেবিন’ নামে। ১৮৫২ খৃষ্টাব্দে এই বইটি লিখেছিলেন আমেরিকার মহিলা লেখক হ্যারিয়েট এলিজাবেথ বিচার স্টোয়ে। এই বইটি ক্রীতদাসপ্রথা অবলুপ্ত হওয়ার পেছনে যথেষ্ট প্রভাববিস্তার করেছিল ।

প্রথমে বাণিজ্য করতে এসে মোঘল বংশের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারত শাসনের অধিকার দখল করে। ভারত ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীনস্থ উপনিবেশে পরিণত হয়। সুদীর্ঘ ১৯০ বছর এই পরাধীন সময়ের মেয়াদ ।

নানা ঘটনার অভিঘাতে এবং নানা কারণের মিলিত সমাহারে ভারত ছেড়ে একদিন ব্রিটিশরা চলে গেল  আমরা স্বাধীনতা পেলাম  যাবার আগে ব্রিটিশ শাসকেরা দেশটাকে দুভাগ করে দিয়ে গেল  এটাই পরাধীনতার সর্বোচ্চ গ্লানি যে দেশটা আমাদের অথচ তার ভৌগোলিক সীমানা নির্ধারণ করে গেল একটা বিদেশী শক্তি  স্বাধীনতার প্ল্যাটিনাম জয়ন্তীতে আমাদের ফিরে দেখা খুব দরকার আমরা কী পেলাম আর কী পেলাম না

প্রাপ্তি

নিজের দেশ নিজে শাসন করার অধিকার গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার  ; পরবর্তীকালে আধারকার্ডের মাধ্যমে অনন্য পরিচয়পত্র

২) কৃষিতে সবুজ বিপ্লব ও দুগ্ধ সরবরাহে শ্বেত বিপ্লব

৩) দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা থেকে নানান ভারী মাঝারি ও কুটির শিল্পের বিস্তার , নগরায়ন ও গ্রামে গ্রামে বিদ্যুদয়ন

৪) রেল ও রাস্তা সম্প্রসার  মেট্রো রেল  এবং পর্যটনে ব্যাপক উন্নতি

৫) বৃক্ষরোপণ , পরিবার পরিকল্পনা , জনস্বাস্থ্য , জনশিক্ষা , পানীয় জল , নদীবাঁধ , সেচ , উন্নত শস্যবীজ , পশুপালন , মৎস্যচাষ , স্বগৃহ ও শৌচালয় ইত্যাদি জনমুখী প্রকল্পের বিকাশ

৬) বন্যপ্রাণী ও বনসম্পদ সংরক্ষণ

৭) কয়লা ও ব্যাঙ্কিংব্যবস্থার জাতীয়করণ

৮) ভারতীয় সেনা , নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীসহ প্রতিরক্ষায় শক্তিঅর্জন

৯) পরমাণু , মহাকাশ গবেষণা ও বিজ্ঞানের নানা শাখায় ব্যাপক অগ্রগতি দেশে টেলিভিশন , টেলিফোন , কম্পিউটার , ইন্টারনেটের বিস্তৃত ব্যবহার ও প্রয়োগ চলচ্চিত্রের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি

 

অপ্রাপ্তি

১) দেশভাগ ও উদবাস্তু সমস্যা , পূর্ব পাকিস্তানের হিন্দুদের সর্বসান্ত হওয়া সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও মৃত্যু

কাশ্মীরের এক অংশ পাকিস্তান-দ্বারা দখল এবং চিরস্থায়ী উৎপাত ও আক্রমণ

১৯৬২-র চীন যুদ্ধে ভারতের পরাজয়

কালোবাজারির ক্রমবিকাশ এবং আর্থিক বৈষম্য দুর্নীতি , দীর্ঘসূত্রিতা ও উৎকোচের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি কাজকর্মে শৈথিল্য

মুদ্রাস্ফীতির ফলে আতঙ্কিত জনজীবন

নির্বাচনে রিগিং ও বাহুবলে নির্বাচনে জয়

সংখ্যালঘু  মানুষ ও নারীদের ওপর নির্যাতন

হাওয়ালার মাধ্যমে দেশের অর্থ বিদেশে পাচার এবং ব্যাঙ্কের বিপুল ঋণ পরিশোধ না করে বিদেশে পলায়ন

ভয়াবহ বেকারত্ব , কর্মহীনতা এবং কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া

১০৭৫ বছরেও নেতাজী অন্তর্ধান রহস্য উন্মোচন করার মতো প্রশাসনিক সদিচ্ছার অভাব

আমরা সকল দুর্নীতি ও অপশাসন – মুক্ত এক ভারতবর্ষকে দেখতে চাই  এক অবিচার-অনাচারের দুনিয়া থেকে বেরিয়ে এসে আর এক অবিচার-অনাচারের দুনিয়াতে যাবার জন্যই কী আমাদের এত এত স্বাধীনতা – সংগ্রামী তাঁদের অমূল্য প্রাণ বলিদান দিয়েছিলেন?








 

বুধবার, ২৪ আগস্ট, ২০২২

স্বাধীনতার৭৫।। মুক্ত গদ্য —২৫।।স্বাধীনতার পঁচাত্তর বছর — স্মৃতি শেখর মিত্র।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





স্বাধীনতার৭৫

মুক্ত গদ্য —২৫




স্বাধীনতার পঁচাত্তর বছর

স্মৃতি শেখর মিত্র 


ভারতের স্বাধীনতা আর কয়েকদিন পর পঁচাত্তর বছর পূর্ন হবে।বহু কষ্টার্জিত এবং বহু মানুষের জীবন বলিদানের বদলে আমাদের দেশ স্বাধীনতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।যে অর্থে স্বাধীনতা ধরা হয় তার পরিপূর্ণ স্বরূপ এই সুদীর্ঘ সময়ে প্রস্ফুটিত হতে পারেনি। স্বাধীনতা পাওয়ার অব্যবহিত পরেই কিছু স্বার্থান্বেষী মহল তাদের অনাস্বাদিত ইচ্ছাগুলি পূরণের ওপর জোর দিয়ে দেশের ধন সম্পদ নিজদের ক্ষুদ্র
স্বার্থে ব্যবহার করে।দেশের মূল সমস্যাগুলি এখনও অবহেলিতই থেকে গেছে। এখনও এ দেশের বহু মানুষই নিরক্ষর। সাক্ষর মানুষই একমাত্র তার পাওনা গন্ডা বুঝে নিতে পারেন। বেশিরভাগ মানুষ
নিরক্ষর হওয়ার কারণে দেশে গণতন্ত্রের পূর্ণ বিকাশ সাধন হয়নি। নিরক্ষর ও সাক্ষর সব মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে
নির্বাচন হয়ে থাকে। নিরক্ষর মানুষ ও সাক্ষর মানুষের ভোটাধিকার সমান । নিরক্ষর মানুষরা অশিক্ষার অথবা প্রকৃত শিক্ষার অভাবে তাঁদের বহুমূল্য ভোটটি কোন এক অসৎ মানুষেরপাল্লায় পড়ে তার ঝুলিতে জমা করেন। এবং সেই ভোটের দৌলতে একজন অসৎ মানুষ
বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করার সুযোগ পায়। এবং তার সমর্থনে মন্ত্রীসভা গঠিত হয়। এবং সেখান থেকেই গোলযোগ সৃষ্টি হয়।অপুষ্টিজনিত কারণে একটি বিশাল জনগোষ্ঠী প্রভাবিত ফলস্বরূপ রাষ্ট্রশক্তিও দুর্বল হয়ে পড়ছে। দেশের জনতার অর্ধেক নারী এবংনারীদের অনেকেই ভগ্নস্বাস্থ্য। তাঁদের সন্তানদের
অধিকাংশই অপুষ্টিতে ভুগছে এবং জন্মগত ত্রুটির কারণে অনেক ব্যাধির শিকার। এই নারী শক্তির উত্থান না হলে রাষ্ট্রশক্তিও দুর্বল
থাকতে বাধ্য।মাতৃজাতিই সংসারকে ধরে রাখতে সক্ষম। তাঁরাই যদি শারীরিকভাবে অক্ষম এবংঅশিক্ষার অন্ধকারে ডুবে থাকেন তাহলে সেই দেশের মানুষের ভবিষ্যত অন্ধকারে থাকতে বাধ্য। এখনও প্রত্যন্ত গ্ৰামাঞ্চলে অনেক পরিবারের আয় খুবই কম। সেসব পরিবারের সদস্যদের দুবেলা দুমুঠো ভাতের সংস্থান নেই।তাঁরা দুবেলা পেট ভরে খেতেও পান না।অনেক অঞ্চলে এখনও পানীয় জলের নিদারুণ
সংকট।গ্ৰীষ্মের সময় পানীয় জলের অভাবেমানুষ খুব কষ্টে থাকেন।খরা পীড়িত অঞ্চলের অবস্থা খুবই করুণ। অনেক গ্ৰামেই চিকিৎসার
কোন ব্যবস্থা নেই। রাতের বেলায় কোন গর্ভবতী নারীর ব্যথা উঠলে সুচিকিৎসার অভাবে মৃত্যু হওয়ার আশঙ্কাও থেকেই যায় ।

আমাদের দেশে কিছু কিছু নারী আছেন যাঁরা উচ্চশিক্ষা পেয়েছেন। একথা অনস্বীকার্য। দুচার জন মহিলা পাইলটও আছেন একথাও জানা আছে। অনেকেই ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার,বৈজ্ঞানিক,অধ্যাপিকাএবং শিক্ষিকা। এইসবশিক্ষিতা নারীদের সংখ্যা শতকরা হিসেবে নগণ্য।
এছাড়া স্বাধীনতার অব্যবহিত পরেই লক্ষ লক্ষ শরণার্থী ভারতভূমিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। বিশেষভাবে বলতে গেলে পশ্চিমবঙ্গ ও পাঞ্জাব এই দুটি প্রদেশের উপর ঐসব শরণার্থীদের চাপ এসে পড়েছে। ফলস্বরূপ সামাজিক ও আর্থিক দুটি ক্ষেত্রেই ভারতের তথা এই দুটি প্রদেশের বিশেষভাবে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তাই যেদিন আমাদের দেশের প্রতিটি নাগরিকের দু বেলা পেট পুরে খেতে পাবেন,শীত, গ্ৰীষ্ম, বর্ষার সময় মাথার উপর তাঁদের ছাদ থাকবে,
কোন মানুষকেই উন্মুক্ত ফুটপাতে শুতে হবে না,যেদিন প্রতিটি মানুষ শিক্ষার আলোকে আলোকিত হবেন সেদিন বুঝবো আমাদের দেশে সব মানুষের ধনী,দরিদ্র নির্বিশেষে সকলের জন্য পূর্ণ স্বরাজ এসেছে। স্বাধীনদেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা ও সুরক্ষিত
রাখার দায়িত্বও তো রাষ্ট্রের।









            

মঙ্গলবার, ২৩ আগস্ট, ২০২২

স্বাধীনতার৭৫।। মুক্ত গদ্য -২৪।।হায় স্বাধীনতা — জয়শ্রী সরকার।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



স্বাধীনতার৭৫

মুক্ত গদ্য -২৪




হায় স্বাধীনতা

জয়শ্রী সরকার

'স্বাধীনতা'--- ছোট্ট শব্দটার মধ্যে লুকিয়ে আছে কী অপার অন্বেষা আর অভিজ্ঞতালব্ধ সমর্পণ। মনে পড়ে গেলো ছোট্টবেলায় দেখা 'সুভাষচন্দ্র' সিনেমায় বাউলের কন্ঠে সেই বিখ্যাত গানটা -- 'একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি ....! ' ঠিক ১১৪ বছর আগে নির্ভীক-অকুতোভয়-সত্যের পূজারী শহিদ ক্ষুদিরাম বসু স্বদেশের মুক্তির জন্য হাসতে হাসতে ফাঁসির মঞ্চে উঠেছিল। বয়স মাত্র উনিশ। শিহরিত হতে হয়। ভাবি —এতবড় হৃদয় পেলো কোত্থেকে ! আজ থেকে বহুদিন আগে ' দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় ' জুনিয়র এ. সি. সরকারের লেখা রোজনামচায় একদিন চোখটা আটকে গিয়েছিল --
" স্বাধীনতা ? দেশটা ভাগ ,
বললে সবাই ---- যা ভাগ !
গেলাম দন্ডকারণ্যেই -----
পেলাম দন্ড, কারণ নেই !" 

চোখ-কান খোলা রেখে যখন বিশ্বটাকে দেখি, মনে হয়--- স্বাধীনতা মানে কী শুধুই মহোল্লাসে একটি দিনের উদযাপন ? না। স্বাধীনতার দায় আমাদের যাপনপর্বের প্রতিটি পদক্ষেপে। স্বাধীনতা কোনো বনসাঁঁই নয়। অনেক গভীরে এর শিকড়। আসলে, স্বাধীনতা মানে হানাহানি নয়, মানবতাবাদ। স্বাধীনতা মানে প্রতিশোধ নয়, অন্যায়রোধ। স্বাধীনতা মানে শৃঙ্খল নয়, শৃঙ্খলাবোধ। ড্রয়িংরুমেই আজ বিশ্বায়ন। বিশ্বের ভান্ডারে শুধুই বারুদ। আন্ডারওয়ার্ল্ডের বাজারটা একটু বেশিই রমরমা। হায় স্বাধীনতা, ছোট্ট শিশুটাও আজ হারিয়ে ফেলছে ওর সবুজ শৈশব। বিশ্বের তাবড় তারুণ্য আজ আই টি সেক্টরে হুমড়ি খাচ্ছে বিদেশ গিয়ে ডলার আনবে বলে। আনাচে-কানাচে বৃদ্ধাশ্রম। এত অন্ধকারে দেশ--- তবু, আনন্দের বেলোয়াড়ি বন্যায় মাতোয়ারা। 

 স্বাধীনতা, ভারতবর্ষ, আমার মা ! একটা নয়, দু'টো নয়, পঁচাত্তরটা বছর পার করে দিলি মা ---- আমার স্বদেশ, আমার স্বাধীনতা ! রক্তক্ষরণ হয়েছে অনেক, ঝরিয়েছিস  অফুরান অশ্রু ! কী পেলি ? ইতিহাসের পাতা উলটে যা !
মহাসমারোহে পালন করতে চলেছি স্বাধীনতার হীরক জয়ন্তী। শুধু চেতনায় ভুলতে বসেছি তাদের কথা, যাদের আত্মবলিদানে আজকের এই স্বাধীনতা । চারিদিকে শুধুই মিথ্যার বেসাতি । আমার দেশ, আমার জন্মভূমি ! বিজ্ঞান তোকে গরিয়সী করেছে, ড্রয়িংরুমেই বিশ্বায়ন । তবু, এত বারুদ কেন তোর ভান্ডারে ! আন্ডারওয়ার্ল্ডের বাজারটা একটু বেশিই রমরমা, বণিকবিশ্ব হাতছানি দেয়, ওপরের আধপোড়া মানুষগুলো কবে যে থিতু হবে মৃত্তিকার শিকড়ই তা জানে ;
এত অশ্রু, এত অন্ধকারে দেশ তবু, আনন্দের বেলোয়াড়ি বন্যায় মাতোয়ারা ।

ভারতবর্ষ, আমার মা, আমার জন্মভূমি ! স্বাধীনতার এতগুলো সূর্যোদয় পার করলি ---- তবু, তোর চোখে জল, শূন্য বুকে এক পাহাড় জমাটবাঁধা অভিমান ! কত আজনবি পেয়ে গেল রাজতিলক —তবু, তোর বীর সন্তানকে দিতে পারলি না যোগ্য স্বীকৃতিটুকুও । আমরা যেন সেই ফিনিক্সপাখি, ধোয়াশাচ্ছন্ন হাজার বছরের ভস্ম ভেদ করে যারা আজকের দিনটাতে ফিরে ফিরে আসি তোর কর্মযোগী বীর সন্তানদের সেলাম জানাতে !

ভারতবর্ষ, আমার জন্মভূমি, আমার দেশ ! এত বিদ্বেষ বুকে নিয়ে হাঁটুর নিচে মুখ গুঁজে আর কতদিন হাঁটবি ? অথচ দ্যাখ্‌, তোর ছোট্ট শিশুটাও হারিয়ে ফেলেছে সবুজ শৈশব, বোকাবাক্স আর অন্তর্জালে বন্দি । শুধু কানামাছি ভোঁ-ভোঁ ---- দেশের তাবড় তারুণ্য আই টি সেক্টরে হুমড়ি খাচ্ছে বিদেশ গিয়ে ডলার আনবে বলে ; আনাচে-কানাচে বৃদ্ধাশ্রম ------ তবু, সন্তানের শুভকামনায় আজও তুই বেঁচে আছিস আরও একটা সূর্যভোর দেখবি বলে ।

সোসালিজম্‌-অ্যানার্কিজম্‌- অ্যানিহিলিজম্‌ বুঝি না কিছু,বুঝি শুধু মানব-উত্থান ।তাই, আর কোনো জনযুদ্ধ নয়, মনযুদ্ধ নয়, অশান্তির ঘূর্ণাবর্ত নয়, নয় কোনো রক্তপাত ; শুধু ফিরিয়ে দে শান্তির বাতাবরণ আর স্বাধীন দেশ গড়ার সবুজ স্বপ্নটাকে ।ভারতবর্ষ, আমার দেশ, আমার মা, আমার রক্ত,আমার জন্মভূমি, আমার স্বাধীনতা !

'বন্দেমাতরম্' ছোট্ট শব্দের গভীরে কত না ঐশ্বর্য, কত না আত্মবলিদান! ইতিহাসের পাতা ওল্টালে জাগে শিহরণ, জাগে রোমাঞ্চ;ছোট্টবেলায় জেনেছি 'বন্দেমাতরম্' ধ্বনির অপার মর্মকথা।চোখের সামনে ভেসে ওঠে ক্ষুদিরাম বসু-প্রফুল্ল চাকী,বিনয়-বাদল-দীনেশ প্রমুখের সপ্রতিভ মুখগুলো....

আর কত আন্দোলন সংঘটিত হলে একটা সুসংহত দেশ গড়ে উঠবে ! আলোর মুখ দেখবে ? সত্যিকারের মানবতা প্রতিষ্ঠা পাবে ? বাস্তব কিন্তু অন্য কথা বলে। বর্তমানের ভেঙে পড়া সমাজ-ব্যবস্থায় স্বাস্থ্য-শিক্ষা-অর্থনীতি-বিচারব্যবস্থা --- সবকিছুই প্রায় ঠান্ডাঘরে আশ্রয় নিয়েছে। শিক্ষিত যুবক-যুবতীর ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চিত। যে সমাজে শুধুমাত্র অর্থের বিনিময়ে অযোগ্যরা যোগ্যের আসনে বসে , আর শুধুমাত্র মুষ্টিমেয় নেতা-মন্ত্রী-আমলাদের অপরিসীম লোভের শিকার হতে হয় সত্যিকারের যোগ্যদের। কী দোষ করেছিল এরা ? বিনা চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হচ্ছে। সেখানেও দালালচক্র। বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা একপ্রকার প্রহশনে পর্যবসিত। দেশের তাবড় সম্পদ ভোগ করছে মুষ্টিমেয় কিছু। বাকিদের জীবন অন্ধকার থেকে আরো গভীরতর অন্ধকারে। এরই নাম স্বাধীনতা ? সভ্যতা সবসময়ই আলোর দিশারী। অথচ আবেগ-মথিত কন্ঠে আমরা গেয়ে উঠি ---- " মুক্তির মন্দির সোপান তলে / কত প্রাণ হ'লো বলীদান / লেখা আছে অশ্রু-জলে .... ! " দেশভক্তি কাকে বলে জানে না এইসব চেতনাবিমুখ মুষ্টিমেয় ভ্রষ্টাচারী কিছু মানুষ। আমাদের দুর্ভাগ্য যে স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান আর শোষণ দূর হ'লো না। ' সর্বশিক্ষা অভিযান ' শুধুই খাতায়-কলমে। প্রতি মুহূর্তে খন্ডিত হচ্ছে ' স্বরাজ আমার জন্মগত অধিকার ' বাল গঙ্গাধর তিলকের সেই বজ্রনির্ঘোষ। অতুলপ্রসাদ সেনের ' নানা ভাষা, নানা মত, নানা পরিধান / বিবিধের মাঝে দেখ মিলন মহান ' প্রত্যক্ষ করতে পারছি কী ? এও এক মস্ত জিজ্ঞাসা। 

সেদিন দু'শো বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল ছিন্ন করে মঙ্গলশঙ্খে ত্রিভুবন মুখরিত করে উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছিল স্বাধীনতার বিজয়মন্ত্র 'বন্দেমাতরম্'! কিন্তু আজ? ফুল-মালা আর চন্দনচর্চিত তিরঙ্গা পতাকায় মহোল্লাসে স্বাধীনতার হীরকজয়ন্তী পালন করতে চলেছি সেই 'বন্দেমাতরম্' ধ্বনিতে; তাই তোর চোখে জল! ভারতবর্ষ, আমার মা, আমার জন্মভূমি, আমার স্বাধীনতা ! নতুন করে জাগিয়ে দে মা আমাদের ব্রহ্মচেতনা, 'বন্দেমাতরম্'! জয় হিন্দ্ !










সোমবার, ২২ আগস্ট, ২০২২

স্বাধীনতার৭৫।। মুক্ত গদ্য -২৩।স্বাধীনতা ও আমরা — দীনেশ সরকার।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





স্বাধীনতার৭৫

মুক্ত গদ্য -২৩


                    

স্বাধীনতা ও আমরা

 দীনেশ সরকার

 

 

            শত শত শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এই স্বাধীনতা নয় নয় করে পঁচাত্তরটা বছর পার করে ছিয়াত্তর বছরে পদার্পণ করলো ।  আজও আমরা সকলের জন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও খাদ্যের ব্যবস্থা করতে পারিনি । ভৌগোলিক স্বাধীনতা পেলেও চেতনায় আমরা আজও স্বাধীন হতে পারিনি । পারিনি আমরা শাসককুলের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে মেরুদন্ড সোজা রেখে  চলতে । অজানা আশঙ্কায় সর্বদা কুঁকড়ে থেকেছি । অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য আকাশচুম্বী ।  বিশ্বাস অপেক্ষা অবিশ্বাসের পাল্লা বহুগুন ভারী । ‘ বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে !’   

        এ কোন্‌ ভারতবর্ষ ! যে অগনিত ভারতবাসীর ত্যাগ ও শত শত শহিদের আত্মবলিদানে অর্জিত আমাদের এই স্বাধীনতা, তারা কি এই ভারতবর্ষ চেয়েছিলেন ? তারা স্বপ্ন দেখেছিলেন এক শোষণমুক্ত, বন্ধনমুক্ত ভারতবর্ষের, মুক্তচেতনার মানবিক এক ভারতবর্ষের, এক সাম্যের ভারতবর্ষের । স্বাধীনতা লাভের ৭৫-বছর পরেও আমরা তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারিনি, এ ব্যর্থতার দায় আমাদেরকেই নিতে হবে । 

        একটু পিছনে ফিরে দেখা যাক । স্বাধীনোত্তর যুগে যাদের হাতে শাসনতন্ত্রের ভার পড়েছে তারা জনসেবার চেয়ে আত্মসেবাতেই বেশী মনোনিবেশ করেছে । হাতে গোনা কয়েকজন নেতা-মন্ত্রীর কথা বাদ দিলে বাকিরা সবাই স্বাধীনোত্তর যুগে ফুলে-ফেঁপে উঠেছে---- বিপুল সম্পদের অধিকারী হয়েছে ।  দুর্নীতি আর স্বজনপোষণ হাত ধারাধরি করে চলেছে । যত দিন-মাস-বছর গড়িয়েছে দুর্নীতি আর স্বজনপোষণের  মাত্রাও তত বেড়েছে, আজকের দিনে যা লাগামছাড়া । ফল যা হওয়ার তাই হয়েছে । স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও দেশের মানুষ অনাহারে মরে, বিনাচিকিৎসায় মরে, মাথা গোঁজার চালাটুকু অনেকের নেই । আর শিক্ষা নামক গড্ডালিকা প্রবাহ চলেছে ---- দেদার টাকার লেনদেন । টাকা যার শিক্ষা তার । হায় স্বাধীন ভারতবর্ষ !  

          এই অবস্থার জন্য শাসনতন্ত্রের লাগামছাড়া দুর্নীতি আর স্বজনপোষণ যেমন দায়ী তেমনি দায়ী আমাদের আত্মসচেতনতার অভাব ও লোভ ।  আমরা অর্থ-যশের লোভ ত্যাগ করতে পারি না বলেই শাসনতন্ত্রের কাছে মাথা নোয়াই, মেরুদন্ড সোজা রাখতে পারি না । আর বহুলাংশে দায়ী বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা ।

একজন অপরাধী অপরাধ করে গ্রেফতার হলেও আইনের ফাঁক দিয়ে জামিন নিয়ে বেরিয়া আসে। তারপর কোমরবেঁধে আবার ঘৃণ্যকর্মে লিপ্ত হয় । বিচার চলতে থাকে । বছরের পর বছর গড়িয়ে যায় । তারপর লোয়ার কোর্ট, হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ, হাইকোর্টের ডিভিসন বেঞ্চ, সুপ্রিম কোর্ট, এবং সুপ্রিম কোর্টের ডিভিসন বেঞ্চের পর যখন চূড়ান্ত সাজা ঘোষণা হয় ততদিনে গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে যায়,  দশ, পনেরো এমন কি বিশ বছরও অতিক্রান্ত হয় ।  এই ব্যবস্থার আশু পরিবর্তন দরকার । তা নাহলে চুরি, ডাকাতি, ঘুষ, ভেজাল, জালিয়াতি, খুন, ধর্ষণ প্রভৃতির মতো ঘৃণ্য অপরাধ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে ।  অপরাধীরা বুক ফুলিয়ে এই সমাজেই অবস্থান করবে ।  দেশবাসীর দুরবস্থা বাড়বে বই কমবে না ।

সর্বোপরি সুস্থ সমাজ গড়তে চাই নাগরিক সচেতনতা ।

 

              




             


রবিবার, ২১ আগস্ট, ২০২২

স্বাধীনতার৭৫ ।। মুক্ত গদ্য-২১।। স্বাধীনতার ৭৫ বছর — অশোক রায়।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



স্বাধীনতার৭৫

মুক্ত গদ্য -২১



স্বাধীনতার ৭৫ বছর 

অশোক রায় 


আমার বয়েস সত্তর, দেশের স্বাধীনতার বয়েস পঁচাত্তর।
আমার জন্ম স্বাধীন ভারতে। ভারত স্বাধীন হয়েছিল ১৯৪৭ সালে। আমার জন্ম ১৯৫২ তে। আমি আমার দেশকে স্বাধীন হতে দেখিনি। কিন্তু আমার স্বাধীন দেশমাতৃকার উন্নতি যজ্ঞে সামিল হতে পেরেছি।

জ্ঞান হয়ে ইস্তক পাড়ায়  পাড়ায় শহরে গ্রামে প্রতি বছর ১৫ই আগস্ট স্বাধীনতা দিবস পালন করা হত। স্কুল ছুটি থাকত কিন্তু যেতে হত। এন সি সি র ড্রেসে। প্যারেড করতাম। সরকারি স্কুল। টিফিন থাকত দারুণ। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অবদান স্মরণে সভা হত। লালকেল্লার দুর্গপ্রাকার থেকে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ। ব্যস বছরে ওই একটিদিন। তার আগে ও পরে আর স্বাধীনতা শব্দটি বিশেষ কর্ণগোচর হত না। অবশ্য চক্ষু গোচর হত স্কুলের পাঠ্যপুস্তকে বা লাইব্রেরির বইয়ের মাধ্যমে। সুতরাং বলতে দ্বিধা নেই স্বাধীনতা সংগ্রামের গনগনে আঁচ আমরা স্বাধীন দেশের তরুণ দল সম্যক উপলব্ধি করতে পারিনি।স্বাধীনতা আমরা বলিদানের বিনিময়ে পেয়েছি ব্রিটিশ রাজের কাছ থেকে। সঙ্গে ফাউ পেলাম পার্টিশন। মন্বন্তরে ধুঁকছে যখন দেশ তখন দেশভাগ আনল চরম মর্মান্তিক নৈরাজ্য। বলতে দ্বিধা নেই দেশভাগের ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বাংলা। দলে দলে বিতাড়িত শরণার্থীরা বিপুল সংখ্যায় এসে সমাজব্যবস্থা ও  চিন্তাধারার আমূল পরিবর্তন এনে দিয়েছিল।

স্বাধীনতা -পরবর্তী এইসব ঘটনা তরুণ প্রজন্মকে উদ্বেল করেছিল, বাম -চিন্তাধারায় প্রেরণা জুগিয়ে ছিল। সেই বাম আদৰ্শ, খেটে খাওয়া মানুষের অধিকার ইত্যাদিতে আমরা খুঁজে ছিলাম মুক্তির পথ। একটু বড় হয়ে জানলাম বুঝতে শিখলাম ইনকিলাব - জিন্দাবাদ। লাল সেলাম।পন্ডিত নেহরু টেকনোলোজিতে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইলেন। বড় বড় ইন্ডাস্ট্রি স্টিল প্লান্ট তৈরী হল। উচ্চ কারিগরি শিক্ষার জন্য আই আই টি হল। সারাদেশে যখন কর্ম যজ্ঞ চলছে তখন এল বেকারত্ব, খাদ্য সংকট।   বামপন্থী এবং চরম বামপন্থী চিন্তাধারা ঘাঁটি গেড়ে বসল বিশেষ করে শিক্ষিত কর্মহীন বাঙালিদের মনে। দেশ এগোচ্ছে না পেছচ্ছে ঠিক বোঝা গেল না। আবার এল নৈরাজ্যের কালো মেঘ । অন্য রাজ্য যখন প্রগতির পথে, নতুন নতুন কল কারখানা সেখানে স্থাপিত হচ্ছে, তখন বঙ্গে চালু ইন্ডাস্ট্রি বন্ধ হচ্ছে। এই আবহে আমরা আমাদের রাজ্য ছেড়ে  ভালো চাকরির লোভে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছিলাম। দেখেছিলাম ভিন রাজ্যের মানুষেরা খুব একটা আন্দোলন করছে না। সরকার যা বলে মেনে নেয়। প্রগতির পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে না। তাই সেখানে চাকরি বেশি পাওয়া যায়। শোষণ তো সব জায়গায় আছে। সরকারের যেমন দায় আছে দেশের মানুষের ভালো করার, আমাদেরও কি দায় নেই স্বাধীন ভারতকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবার?

১৯৯০ এর দশক থেকে চাকা ঘুরতে শুরু করে। বাজার অর্থনীতি আমাদের দেশের সামনে এক ধাক্কায় উন্নতির নতুন দিগন্ত খুলে দেয়। আজ আমরা কৃষি, কারিগরি ও তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রে অনেকটাই স্বনির্ভর। তার জন্য আমরা গর্ব বোধ করি।
আজাদির পুণ্য ৭৫ লগ্নে আমাদের অঙ্গীকার -
শক্ত হাতে সরকারি শাসন যেমন দরকার তেমনি প্রয়োজন দেশ থেকে গরিবী দূর করার। মুষ্টিমেয় কয়েকজনের হাতে সব ক্ষমতা সব ধন সম্পদ কেন থাকবে? ভারত গণতান্ত্রিক দেশ। জনগণই তার সম্পদ। তাই তাদের দারিদ্রসীমার ওপরে তুলে আনতেই হবে। তবেই আমরা উন্নতিশীল থেকে উন্নত সুপার পাওয়ার হয়ে উঠতে পারব। ধন্যধান্যে শক্তিতে  উঠবে ভরে আমাদের এই বসুন্ধরা।।
                                             











শনিবার, ২০ আগস্ট, ২০২২

স্বাধীনতার৭৫ ।। মুক্ত গদ‍্য-২০।।স্বাধীনতার অনুভূতি — সন্দীপ দত্ত।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



স্বাধীনতার৭৫

মুক্ত গদ‍্য-২০



স্বাধীনতার অনুভূতি

সন্দীপ দত্ত


ভারতবর্ষের স্বাধীনতার ৭৫ বছর নিয়ে লিখতে বসে আজ মনে হচ্ছে,আমরা এখনও রবীন্দ্রনাথের সেই 'কর্তার ভূত'টাকে নিজেদের ঘাড় থেকে নামাতে পারিনি। দীর্ঘ এতগুলো বছর পার হয়েও মনে হচ্ছে,কন্ঠরোধ করছে কেউ। গতিরোধ করছে চলার। আমরা হারিয়ে ফেলছি আমাদের আমিত্ব,বিকিয়ে দিচ্ছি বুদ্ধি। একটা সার্বভৌম গণতান্ত্রিক দেশের বৈশিষ্ট্য তো এটা নয়। তবুও সবাই চুপ করে আছি। এ কেমন স্বাধীনতা? তোষামোদ আর তাবেদার যখন শাসননীতি হয়ে শাসকের এগিয়ে চলার ইন্ধন হয়ে যায়,সেখানে জনগণ পুতুল ছাড়া আর কী? তাই স্বাধীনতাকে উপলব্ধি করতে হয় ক‍্যালেন্ডারের ১৫ ই আগস্টের চৌকো বাক্সের ভেতরে আঁকা তেরঙ্গার ছবি দেখে।

        পঁচাত্তরটা বছর কম সময় নয়। তবুও আমরা এখনও মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারলাম না। কেউ একজন সাহস করে বলতে পারলাম না "রাজা তোর কাপড় কোথায়?" অথচ আমাদের মুখে ললিপপ দিয়ে ভাল করে শোনানো হয় "......হও উন্নত শির,নাহি ভয়।" এ কেমন স্বাধীনতা?

          যে দেশের শিশুকে রাস্তায় গড়িয়ে যাওয়া দুধ পথের কুকুরের সাথে ভাগ করে খেতে হয়,উল্টো তেরঙ্গা উত্তোলন নিয়ে প্রতিবাদ করলে তার চোখে রড ঢুকিয়ে দেওয়া হয়,ন‍্যায‍্য অধিকারে চাকরির দাবি নিয়ে রাজপথে অতিক্রম করতে হয় পাঁচশো দিন,পুলিশের লাঠির আঘাতে তরুণের শিরদাঁড়া ভেঙে যায়,স্বাধীনতা সেখানে ম‍্যারাপ বেঁধে ডিজে চালিয়ে মাংসভাত খাওয়া ছাড়া আর কী? 

            ফি বছর স্বাধীনতাদিবসটা তাই আমার কাছে থিমের মর্ডান দুর্গার মতো লাগে। জৌলুস আর আড়ম্বরে ভরা,রূপের উপর রূপটান নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কোনও লাস‍্যময়ী যেন। যেন "আসছে বছর আবার হবে।" কিন্তু ভারতমাতা তো থিমের দুর্গা নয়,সে দুর্গতিনাশিনী,সে অভয়া।

        এভাবেই ভারতবাসী স্বাধীন হয়ে পা পা করে করে পঁচিশ থেকে পঞ্চাশ পেরলো,পঞ্চাশ থেকে আজ পঁচাত্তর। স্বাধীন ভারতবর্ষের নাগরিক হতে পেরে গর্বিত লাগে নিজেকে। যাঁদের জন‍্য আজ আমরা এই জায়গায় এসেছি,সেইসব অমর বিপ্লবীদের কুর্নিশ জানাতে ইচ্ছে হয়।কিন্তু আঘাতটা পাই তখনই,যখন দেখি আজকের কিশোর কিশোরী'রা মাতঙ্গিনী হাজরার নাম জানে না,নেতাজি আর গান্ধীজিকে গুলিয়ে ফেলে,তেরঙ্গার তিনটি রঙের অর্থ জানে না। অথচ স্বাধীনতাদিবসের ভোর তারা দেখে। স্কুলে দল বেঁধে জড়ো হয় শুধুমাত্র টিফিনটার জন‍্য।

          স্কুলে স্কুলে তাই খুদেদের আজ স্বাধীনতার পাঠ দেওয়াটা শিক্ষকদের আবশ‍্যিক কর্তব‍্য হওয়া উচিত। সন্তান হয়ে ভারতমাতাকে আমরা যদি যোগ‍্য সম্মান দিতে না পারি,তাকে রক্ষা করতে না পারি,তাহলে সন্তান হলাম কেন?






শুক্রবার, ১৯ আগস্ট, ২০২২

স্বাধীনতার৭৫ ।। মুক্ত গদ্য —১৯।।স্বপ্ন দিয়ে তৈরী — বিকাশ ভট্টাচার্য ।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 






স্বাধীনতার৭৫

মুক্ত গদ্য —১৯




স্বপ্ন দিয়ে তৈরী  

বিকাশ ভট্টাচার্য 

অবশেষে তেরঙা দেশ এলো অঙ্গচ্ছেদে।গঙ্গা-পদ্মা আর সিন্ধু-সরস্বতী হলো অশ্রুনদী। যে ভূ-মা বোধ জন্মেছিল সিন্ধু উপত্যকায়,আসমুদ্রহিমাচলে,কন্যাকুমারী থেকে কাশ্মীরে, 
সেখানে ইউনিয়ন জ্যাক ওড়ে না। ওড়ে তেরঙা।  সরকারি দপ্তরে, ইস্কুল-কলেজে, বিশ্ববিদ্যালয়ে এমনকি জেলখানার উঁচু পাঁচিলের মাথায় ওয়াচ টাওয়ারে এখন তেরঙা ওড়ে। ওড়ে সেইখানে---আলিপুর সেন্ট্রালে, প্রেসিডেন্সি তিহারে সেলুলারে। পঁচাত্তর  বছরে পা দিয়ে পোশাক বদলে তারা এখন সংশোধনাগার। এখনও কারা তবে যাওয়া-আসা করে এইসব খাঁচার ভেতর? শিকল পরার ছলে যাঁরা সেসময় যেতেন তাঁরা তো নয় নিশ্চয়ই। ক্ষুদিরাম নয়, ভগৎ সিং নয়, বীণা দাস নয়। তবে কারা ? স্বাধীন দেশেও তবে যেতে হয় পরাধীন পিঞ্জরে ! কারা যায় ? কারা এত ভালোবাসে পিঞ্জরের আলো-বাতাসহীন অন্ধকার চৌখুপি ? স্বাধীনতার পঁচাত্তর বছর পরেও বিদ্বান সর্বত্র রাজপথে গান্ধীমূর্তির নিচে। ফুটপাতও জেগে থাকে সারাদিন সারারাত অশ্রুসজল। ভিতরে আগুন পোষে।
       
পঁচাত্তর বছরের লালিত যে স্বপ্নদেশ সে এখন স্মৃতি দিয়ে ঘেরা। সে স্বপ্নদেশ এখন আর কোথাও খুঁজে পাওয়া হয়তো সম্ভব হবে না,তা'বলে ' কী আশায় বাঁধি খেলাঘর ' গাইতে গাইতে বিবাগী হওয়ারও কোনো কারণ নেই। বেশ কিছু মাথা উঁচিয়ে বলবার মতো কথা অবশ্যই আছে। বরং সেসব গরিমার শব্দমালা    ' আমি জগৎ প্লাবিয়া বেড়াব গাহিয়া আকুল পাগলপারা '। পঁচাত্তর বছরে ঘরে-বাইরে আমাদের কুর্নিশ জানাবার মতো যথেষ্ট উপাদান তো আছেই।      








           

বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট, ২০২২

স্বাধীনতার ৭৫।। মুক্ত গদ্য —১৮।।স্বাধীনতার প্রশ্নচিহ্নে ... রাজীব ঘাঁটী।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



স্বাধীনতার ৭৫

মুক্ত গদ্য —১৮



স্বাধীনতার প্রশ্নচিহ্নে ...

রাজীব ঘাঁটী



আজ ২০২২ সালের আগস্ট মাসে দাঁড়িয়ে খুব কষ্ট করে বলতে হয় আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক।

অথচ স্বাধীনতার তত্ত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ি আত্মজার কাছে। অবাক লাগে সাধারণ গৃহবধূ হয়েও আমার মা কত সহজে আমাদের বুঝিয়েছিলেন যে স্বাধীনতা ! আজ স্বাধীনতার পঁচাত্তর বছরে ক্রমশঃ অসহায় হয়ে পড়ছি ।

আমি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষে‌ আমার কলেজের এক অধ্যপককে জিজ্ঞাসা করেছিলাম "স্যার এই ৫০ বছর কিভাবে মূল্যায়ন করবো?"

স্যার বললেন ১৯৪৭ সালে এক রুপী(টাকা ভারতীয় মুদ্রা) আর এক ডলার (মার্কিন মুদ্রা) সমমূল্যের ছিল কিন্তু এখন এক ডলার প্রায় চল্লিশ টাকার সমান। সেদিন স্যারের এই উত্তর একটা পিছিয়ে পড়া স্বাধীনতার ছবি দেখিয়েছিল ,পরে পরে পঞ্চাশ থেকে পঁচাত্তরের দিকে যত এগিয়েছি ডলারের সাথে টাকার পার্থক্য বুঝিয়েছে অনেক। 

ভাবতে ভাবতে বার বার মনে হয়েছে নেতাজী,ক্ষুদিরাম,ভগৎ সিং দের কথা । মহাত্মা গান্ধী , মাতঙ্গিনী হাজরা , সূর্য সেন কিভাবে একটা দেশ উপহার দিতে চেয়েছিলেন অথচ...


চরম বিষন্নতা নিয়ে এক একটা রাজপথ দিয়ে যখন চলি যতটা স্ফীত হতে পারতো বুক ততটা হয় না।

নদীর স্রোত , সৌধ , হিমালয় বদলেছে‌ বা বদলায়নি সময়ের দায়ে‌ অথচ মানুষ কত তাড়াতাড়ি বদলে গেল ! এই স্বাধীনতার মহোৎসবের বছরে আমি কোন স্বাধীনতার কথা বলবো আমার পরবর্তী প্রজন্মের কাছে ? নিজেদের কামড়াকামড়ি থামিয়ে দেবার ক্ষমতা নেই আমার , আমাদের। এক অজানা লক্ষ্যে ছুটছি প্রতিদিন। এত হিংসা ,এত বিদ্বেষ আমাদের মধ্যে যে সম্পর্কগুলো কেমন যেন ফ্যাকাসে হয়ে পড়ছে দিন দিন। কত কত সমস্যা রোজ আমাদের দোরগড়ায়,দেশ নিয়ে ভাববে কে ? অর্থনীতি প্রতিদিন ধসে পড়ছে । আশঙ্কার প্রহর গুনছে যুবসমাজ। এই স্বাধীনতা কতটা এগিয়েছে আমাদের কতটা স্বাধীন করেছে এই প্রশ্ন‌ বারবার উদ্বেগ বাড়ায় । সরকারি অবহেলায় মানুষ যে সঙ্কটের ভবিষ্যতে সেটা বড় অবাক করার !

এরপর আমাদের সম্প্রীতির ভারতবর্ষে আরেকটি বিপর্যয় ক্রমশঃ আমাদের হতাশ করে চলেছে‌ তা হল রাজনৈতিক দলের সুবিধা চরিতার্থ করতে গিয়ে‌‌ ধর্ম বৈষম্যের এক বিভাজন । আগামীর ভারতবর্ষে এটি একটি বড় সংকট হতে পারে বলে মনে করছেন একশ্রেণীর বিশেষজ্ঞ মহল। অথচ আমাদের শৈশব থেকে আজ ও আমরা কতটা মিলেমিশে ঈদ আর দুর্গাপূজা করেছি,করছিও।

ধর্ম নিয়ে কখনো কোন দ্বন্দ্ব কাজ করেনি আর আজ সারা ভারতবর্ষ জুড়ে ধর্মের যে বিভাজন গড়ে  তোলা হচ্ছে তা আশঙ্কার । ব্রিটিশ সরকার যে ধর্ম বৈষম্যের বীজ পুঁতে ছিল তা যেন আবার নতুন করে নাড়া দিয়ে উঠেছে। আমাদের শিক্ষার হার ক্রমশঃ বেড়েছে তবুও আমরা অসাম্প্রদায়িক হতে পারছি না । এ বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় যখন ভারতবর্ষকে একটি নির্দিষ্ট ধর্মের দেশ বলে চিহ্নিত করার চেষ্টা হয়। স্বাধীনতার পঁচাত্তর বর্ষে আমরা আমাদের স্বাধীনতা নিয়ে কতটা গর্ব করতে পারি এটা কারো অজানা নয়। তবুও বলবো এবছর স্বাধীনতার অমৃত মহোৎসব উদযাপন করছি , আমাদের এখন অনেক সংকল্প নিতে হবে , সঠিক দেশপ্রেম এর প্রতিফলন ঘটাতে হবে। হবে হবের শ্লোগান অনেক শোনা যায় অথচ হয় না কিছুই। শ্লোগান হোক প্রয়োগের।

আবারো বলবো লক্ষ্য পথ অটুট রেখে গন্তব্যে ছুটে চলতে হবে সময়ের দায়বদ্ধতা থেকে কিন্তু কখনোই মানবতাবিরোধী হয়ে নয় । এদেশ নেতাজী,ভগৎ সিং, ক্ষুদিরামের আত্মবলিদানের দেশ এ দেশ লক্ষ লক্ষ স্বাধীনতা সংগ্রামীর রক্তস্নাত । আমাদের পঁচাত্তরের শপথ হোক সততার , মানবিকতার আর আদর্শের । 

আমরা শতবর্ষে যেন লিখে যেতে পারি নিস্কলঙ্ক যাপনের কাহিনী। এক শতাব্দীর ইতিহাস আলোয় সেজে উঠুক ১৯৪৭ এর প্রতিশ্রুতি নিয়ে ডলার আর রুপী(টাকা) র সমমূল্যে।

 জয় ভারত, জয় স্বাধীনতা।









বুধবার, ১৭ আগস্ট, ২০২২

স্বাধীনতার ৭৫।। মুক্ত গদ্য -১৭।।আমরা কি সত্যিই স্বাধীন?" — দীপক বেরা।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




স্বাধীনতার ৭৫

মুক্ত গদ্য -১৭



ভারতবর্ষের স্বাধীনতার দীর্ঘ ৭৫ বছর পেরিয়ে এসেও প্রশ্ন জাগে, —"আমরা কি সত্যিই স্বাধীন?" 


দীপক বেরা



'স্বাধীনতা' মানে কী? 
হ্যাঁ, এই স্বাধীনতার মানে খুঁজতে গেলে আমাদের চোখের সামনে ভেসে আসে খন্ড খন্ড কোলাজ—

স্বাধীনতা মানে কি
মহারাষ্ট্রের খরাজীর্ণ মাঠে কৃষকের শূন্যদৃষ্টি?
শহরের রাস্তায় পুলিশে খেদানো ফেরিওয়ালার ছোটাছুটি?
স্বাধীনতা মানে কি 
বিনা চিকিৎসায় মৃত শিশুর মায়ের কান্না?
বেকার তরুণ-তরুণীর অন্তহীন অপেক্ষা, 
আর শেষ পরিণতিতে আত্মহত্যার হার মানা?
স্বাধীনতা মানে কি 
একদল রাজনৈতিক খেলোয়াড়ের 
মিথ্যাবরণ প্রতিশ্রুতির চটুল ভাষণ? 
কিছু অধার্মিকের ধর্মকথা, আর ক্রমাগত 
টেনে চলা মানুষের মাঝে ধর্মীয় রেখা বিভাজন?


স্বাধীনতার ৭৫ বছর বছরের পূর্ণতার লগ্নে দাঁড়িয়ে আমাদের প্রশ্ন অগণন। ব্যক্তি কিংবা নাগরিক হিসেবে আমরা কি আজও কোনও স্বাধীনতার প্রত্যাশী?
'স্বাধীনতা' শব্দটির ব্যাপ্তি অনেক। 
এই প্রেক্ষিতে যে প্রশ্নটি সর্বাগ্রে আমাদের মনে আসে তা হল, — কতটা স্বাধীন হতে পেরেছি আমরা মনে প্রাণে। স্বাধীনতা মানে আমি শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বাধীনতার কথা ভাবি না। আমি বা আমার মত যারা স্বাধীন ভারতে জন্মেছি, ব্রিটিশদের দ্বারা পরাধীনতার গ্লানি আমরা ইতিহাসের পাতায় পড়েছি। কিন্তু তার পরেও একটা প্রশ্ন থেকে যায় যে, —আমরা কি সত্যিকারের স্বাধীন দেশের নাগরিক?

স্বাধীনতা মানে কি শুধুমাত্র একটি দিনের ছুটি? বাড়িতে, ক্লাবে, বিদ্যালয়ে, সরকারি অফিস-আদালতে তেরঙ্গা পতাকা উত্তোলন? কিংবা ক্লাবে ক্লাবে তারস্বরে মাইক বাজানো?
এই মুহূর্তে স্বাধীনতার ৭৫ বছর পেরিয়ে এসেও আমরা কি স্বাধীনতার সঠিক মূল্যায়ন করতে পারছি?
আত্মমর্যাদার জন্য কাউকে যদি আত্মহত্যা করতে হয়, ন্যূনতম বেঁচে থাকার অধিকারটা যদি না পাওয়া যায়, অথবা প্রত্যেক মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারটুকু যদি কারুর দয়া-দাক্ষিণ্যের উপর নির্ভর করে, তবে কি আমরা কি স্বাধীন?
স্বাধীনতার অর্থ— দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, দেশকে একটি সুদৃঢ় ভিতের উপরে দাঁড় করানো। দেশের মানুষের প্রয়োজন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, বস্ত্র এবং বাসস্থান। সেই চাহিদা পূরণে সক্ষম করে তোলার সাথে কর্মসংস্থান ও দেশকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক দিকে স্বনির্ভর করে তোলা।
স্বাধীনতার অর্থ এই নয় যে মানুষের তৈরি সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সিঁড়ি বানিয়ে ক্ষমতা দখল আর সিংহাসনে বসে ক্ষমতার অপব্যবহার করা। এই ক্ষমতা দখলের সিংহাসনটি হতে পারে গ্রামের সালিশি সভার প্রধানের সিংহাসন অথবা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের সিংহাসন, মুখ্যমন্ত্রীর সিংহাসন কিংবা প্রধানমন্ত্রীর সিংহাসন। তাই স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিকের উচিত কোনও ব্যক্তিকে ক্ষমতা দখলের সিংহাসনে বসাবার আগে সেই ব্যক্তির ন্যূনতম অন্তর্নিহিত মূল্যবোধের ও তাঁর শিক্ষার সঠিক মূল্যায়ন করে নেওয়া। নচেৎ স্বাধীনতার অপব্যবহার করার দায় শুধুমাত্র সেই ব্যক্তিবিশেষের উপর বর্তায় না, তাহলে স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিকের শিক্ষা, বুদ্ধি ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন উঠে যায়। জনগণ যদি জ্ঞানত কোনও অসৎ ব্যক্তিকে সিংহাসনে বসায়, তাহলে সেই অসৎ ব্যক্তি অপেক্ষা জনগণ বেশি দায়ী।

দামি দামি অস্ত্র কিনছি, পরমাণু সমৃদ্ধ আমাদের দেশ। দেশ শক্তিধর হচ্ছে, দেশ উন্নত হচ্ছে— "আহা কী আনন্দ আকাশে বাতাসে"।
কিন্তু আসল অস্ত্রটি এখনও বানানো গেল না, যে অস্ত্রে আমাদের অশিক্ষা, কুসংস্কারকে মেরে ফেলা যায়। সমস্ত জনগণকে সঠিক শিক্ষা দেওয়া গেল না। দেশ যান্ত্রিক অস্ত্রে পরিপূর্ণ অথচ জনগণের অভ্যন্তরীণ অস্ত্র নেই। বিদেশী শক্তিকে আমাদের সাথে লড়াই করে জিততে হবে না, শুধু অশিক্ষার আগুনে হাওয়া দিলেই দেশ পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে। কোনও আধুনিক অস্ত্রই কাজে আসবে না। অশিক্ষার কারণে আরও বেশি করে জন্ম নেবে দেশের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদের চাহিদা। সেই চাহিদা পূরণ করতে প্রচুর মূল্য দিয়ে কেনা অস্ত্র বিদেশী শক্তির বিরুদ্ধে ব্যবহার করার আগেই বিলীন হয়ে যাবে দেশের মধ্যেই।

এদেশে ইংরেজ রাজত্বকালে ওরা ওদের শিক্ষা নিয়ে এল, আর যাওয়ার সময় দেশকে স্বাধীন করার নামে একটি দেশকে দুভাগ করে দিয়ে চলে গেল। সাথে সাথে সারাজীবন একটি ক্রেতা সুনিশ্চিত করল, যে কিনা আজীবন ধরে বিদেশীদের কাছে অস্ত্র কিনেই যাবে দেশের মধ্যে সন্ত্রাসবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদকে ঠেকাবার জন্য। 
স্বাধীনতার সঠিক অর্থ একমাত্র হতে পারে দেশের জনগণের ন্যূনতম সঠিক শিক্ষাদানের অঙ্গীকারে ব্রত হওয়া। শিক্ষাই পারে সব পরাধীনতা থেকে মুক্ত করতে। অন্ধকারে জ্ঞানের আলো জ্বালাতে। উপযুক্ত শিক্ষা বিনা দেশের জনগণের সমস্ত স্বাধীনতাই পরাধীনতার শিকলে বাঁধা। সঠিক শিক্ষা হলে সঠিক মানুষ পাওয়া যাবে, আর সঠিক মানুষ পেলে সঠিক নেতৃত্ব পাওয়া যাবে, যে দেশকে সঠিক দিশা দেখাতে পারবে। 

তাই স্বাধীনতার ৭৫ বছরের পূর্ণতার দিনে দাঁড়িয়ে আমাদের ভাবতে হবে, —দেশের উন্নতি এবং মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতা থেকে শুরু করে সমস্তরকম স্বাধীনতার সার্থকতা তখনই সম্ভব হবে, যখন দেশের রাজা এবং প্রজা উভয়েই সত্যিকারের ভালো মানুষ হবে। যাদের মধ্যে ভক্তি, ত্যাগ, দায়িত্বশীলতা ও আদর্শ থাকবে, যাদের অন্তরে 'মান' এবং 'হুঁশ' থাকবে।
নচেৎ, স্বাধীনতার ৭৫ বছর কেন, আগামী অযুত বছর পেরিয়ে গিয়েও মানুষ রাজনৈতিকভাবে স্বাধীন দেশে বাস করা সত্ত্বেও ব্যক্তিগতভাবে পরাধীনতার গ্লানি থেকে চিরকাল মুক্তির দিশা হন্যে হয়ে খুঁজে যাবে..!









মঙ্গলবার, ১৬ আগস্ট, ২০২২

স্বাধীনতার ৭৫ ।। মুক্ত গদ্য -১৬।।পুণ্যতীর্থ হোক দেশ — বিকাশ বর।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




স্বাধীনতার ৭৫

মুক্ত গদ্য -১৬




পুণ্যতীর্থ হোক দেশ

বিকাশ বর


১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্টে স্বাধীনতা প্রাপ্তির পর থেকে অনেক ওঠাপড়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছে দেশ। 
স্বাধীনতা এসেছে আত্মত্যাগ, আত্মবিসর্জন, সুদীর্ঘ আন্দোলনের রক্তাক্ত পথ ধরে। এ কথা আজ নতুন করে শোনানোর প্রয়োজন নেই। আর্থ সামাজিক ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাক্ষী থেকেছে ভারত।
স্বাধীনতার প্লাটিনাম জয়ন্তীতে এসে পিছনের দিনগুলো ফিরে দেখতে ইচ্ছে করে।   যা পেয়েছি তা অনেক কিন্তু যা পাইনি তার তালিকাও দীর্ঘতর, অসীম। সেজন্যই হয়তো আজও আমরা উন্নয়নশীল উন্নত হতে পারিনি।
ফিরে দেখার অবকাশে প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তির তুল্যমূল্যে কিছু অবধারিত প্রশ্ন উঠে আসে। শুধু তাই নয়, স্বাধীনতার স্বাদ ও আস্বাদের সাফল্য ও ব্যর্থতার বিতর্কে বহুমুখী বিস্তার লক্ষিত হয়।
সাফল্য অনেক। ভারত এখন পারমাণবিক দেশ। মহাকাশে আমরা উপগ্ৰহ পাঠিয়েছি। অনেক দিক থেকে অনেকের থেকে আমরা এগিয়ে। তবু এই স্বাধীনতাকে বামপন্থী আদর্শের মানুষ 'ঝুটা স্বাধীনতা' বলে আখ্যায়িত করেছেন। দেশ ভাগের পর স্বদেশ হারানোর ফলে অনেকেই এখনোও পরাধীনতার 'ছিন্নমূল' জীবন যাপন করছে।  স্বাধীনতার পঁচাত্তরে গৌরবময় অধ্যায়ের পাশাপাশি অন্ধকারাচ্ছন্ন হতাশাজনক চিত্রও স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়।  'মেরা ভারত মহান' কথাটি কতটা যুক্তিযুক্ত প্রশ্ন তুলে দেয় মনের গহীনে। জাত-পাত, সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু, সংরক্ষণ, ধনী-দরিদ্র, ধর্মবৈষম্যবোধের অস্তিত্বসংকট তীব্রভাবে পীড়িত করে পঁচাত্তরে পা দিয়েও। 
গভীরভাবে অবলোকন করলে দেখা যায়, এই বৈষম্য আমরা খানিকটা নিজেদের স্বার্থের জন্য টিকিয়ে রেখেছি। প্রশ্ন তুলে দেয় আমাদের মৌলিক চাহিদা-খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান পূর্ণতা পেয়েছে কী! শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সুরক্ষার ছায়াতলে আমরা কী পেয়েছি শীতল ছায়া?
লালকেল্লায় ভাষণ আর স্বাধীনতা পতাকা উত্তলনের মধ্যে স্বাধীনতা যথার্থরূপে পালিত হয় কিনা প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
সাধারণ মানুষের কিসে মঙ্গল, মৌলিক চাহিদার কীভাবে সুরাহা হবে, বেকার সমস্যার কীভাবে সমাধান হতে পারে, এরকম হাজারো প্রশ্ন প্রতিনিয়ত আলোড়িত করে। 
আসলে সমস্যা সমাধানের চেয়ে রাজনৈতিক দলগুলি ও নির্বাচিত সরকার কতটা ক্ষমতার আস্ফালন দেখানো যায় তা নিয়ে অধিক তৎপর। ফলে যা হবার তাই হচ্ছে। আমরা এখনও উন্নয়নশীল।
প্রকৃতপক্ষে ভোটের রাজনীতিতে ডুবে গেছে উন্নয়নের হাতিয়ার। কীভাবে ক্ষমতায় আসা যায় এটাই মূলমন্ত্র।
আজ পঁচাত্তরে পা দিয়ে কায়মনোবাক্যে একটাই প্রার্থনা করি, জাত-পাত, ধনী-দরিদ্র, ধর্মবিদ্বেষের বীজ নিপাত যাক। সবার হাতে কাজ, সবার পাতে ভাত উঠুক। আর্থসামাজিক সুরক্ষাবলয়ে আপামর জনসাধারণ সুনিশ্চিতভাবে বেষ্টিত হোক। নির্বাচিত হোক সেই সরকার যে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন করবে। যার হাত ধরে হবে 'ডেভেলপ্ট কান্ট্রি'।বিশ্বকবির পুণ্যতীর্থে পরিণত হবে দেশ।






সোমবার, ১৫ আগস্ট, ২০২২

স্বাধীনতার৭৫।। মুক্ত গদ্য —৭৫।।স্বাধীনতার ৭৪ বছর পরেও কি আমরা স্বাধীন? —সুকুমার রুজ।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





স্বাধীনতার৭৫

মুক্ত গদ্য —৭৫



স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও কি আমরা স্বাধীন?

সুকুমার রুজ


 

 আজ ভারতের ৭৬তম স্বাধীনতা দিবস ব্রিটিশের বিরুদ্ধে দীর্ঘকাল ধরে আন্দোলন করার মধ্যে দিয়ে আমাদের  দেশ রাজনৈতিকভাবে স্বাধীন হয়েছে কিন্তু স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরে আমরা কতখানি স্বাধীন, তা একটু আলোচনা করা যাক—

  স্বাধীনতার পর দেশের জনগণ যে অবস্থায় রয়েছে, সে সম্বন্ধে রাজনৈতিক দলগুলোর এবং বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের যে কোনো দৃষ্টিকোণ থেকে যে ব্যাখ্যাই থাকুক না কেন, এটা তো ঠিক যে, স্বাধীনতা আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল গণমুক্তি বা জনগণের স্বাধীনতা দেশের জনসাধারণের সর্বপ্রকার শোষণ থেকে মুক্তি

  কিন্তু একটু মাথা ঠাণ্ডা করে ভাবলে দেখা যায়, আমরা আদৌ শোষণ থেকে মুক্ত হইনি। আমরা এখনও শোষণ-জুলুম-অত্যাচারের বশবর্তী হয়েই রয়েছি। শুধু শোষণের রূপ বদলেছে। ব্রিটিশ শাসনকালে শোষণ জুলুম-অত্যাচারের ধরন ছিল একরকম, এখন তার ধরন বদলেছে।

  যাঁরা আমাদের দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিলেন, তাঁরা ইংরেজকে তাড়াতে চেয়েছিলেন কারণেই  যে, তাদেরকে না তাড়ালে, সমাজে অন্যায়-অবিচার-অত্যাচার, ব্যবসাদারদের জুলুম, জমিদারদের জুলুম, এরকম সমস্ত জুলুমের অবসান ঘটানো যাবে সমাজকে সর্বাঙ্গীণ মুক্তির সুযোগ দেওয়ার জন্যই তাঁরা স্বাধীনতা চেয়েছিলেন এবং লড়াই করেছিলেন

  কিন্তু একটু ভেবে দেখলেই বোঝা যায় যে, বর্তমানেও দেশের জনগণ সেইসব জুলুম থেকে নিস্তার পায়নি। তখন ছিল ব্রিটিশ ও তাদের প্রশাসনের জুলুম, এখন আছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও দলীয় কর্মীদের জুলুম। সেইসঙ্গে কিছু দলদাস প্রশাসনের জুলুম। কেননা, ভারতের রাজনীতি, অর্থনীতি এবং সামাজিক সমস্ত নীতিগুলোকে এবং আচার-ব্যবহার গুলোকে এখন পরিচালনা করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এছাড়া এখন আছে কালোবাজারিদের জুলুম, প্রমোটারদের জুলুম।     

  এবার আসি অন্য কথায়। স্বাধীন দেশের জনগণের সমস্ত স্তরের ছেলেমেয়েদের শিক্ষার সুযোগ, শিক্ষাশেষে  তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ, বিনা পয়সায় জনগণের স্বাস্থ্য-পরিষেবার সুযোগ, সর্বোপরি সর্বাত্মকভাবে পরিকল্পনা অনুযায়ী আর্থিক উন্নয়নের মধ্যে দিয়ে সামগ্রিক উন্নতিসাধন, সেসব তো সাধারণ মানুষ ঠিকঠাক পাচ্ছে না  

  অনেকে বলবেন, 'কে বলল, পাওয়া যাচ্ছে না! সরকার তো বিনা পয়সায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য-পরিষেবার পরিকল্পনা তো নিয়েছে।'   

  হ্যাঁ, পরিকল্পনা নিয়েছে, প্রকল্পও হয়েছে। কিন্তু তার গুণগত মান নিয়ে জনসাধারণ সন্দিহান। তাই সাধারণ মানুষের কতজন সে প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছে, বলুন তো! আর কর্ম সংস্থানের কথা না-ই বা বললাম।   

 এবার আসি সাহিত্য, সংস্কৃতি ও জ্ঞান বিজ্ঞানের কথায় আমি প্রথমেই সাংস্কৃতিক আন্দোলনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছু কথা বলতে চাইসাহিত্য আন্দোলন, সাংস্কৃতিক আন্দোলন, যুবসমাজের জ্ঞান-বিজ্ঞান ও আদর্শবাদের চর্চা, এসবের কোন মানেই থাকে না, যদি তার একটা বাস্তব কার্যকারিতা জীবনের উপর, দেশের অর্থনৈতিক জীবনযাত্রার উপর, সামাজিক আন্দোলনের উপর, দেশের রাজনৈতিক আন্দোলনের উপর কোনও প্রভাব ফেলতে না পারে      

  কিন্তু এখন কি সেটা পারছে? এখন সাংস্কৃতিক আন্দোলন হচ্ছে ড্রইংরুমের সাজানো আড্ডাজীবনে যদি তার  কোনো প্রতিক্রিয়া না থাকে, জীবনকে উন্নত করতে, পরিবর্তন করতে তা যদি বিন্দুমাত্র প্রভাব না ফেলে, তাহলে  সে আন্দোলনের কী মানে থাকে! আমরা যারা নিজেকে সংস্কৃতিবান ব'লে মনে করি, জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা তথ্য নিয়ে যাঁরা আলোচনা করেন, তাঁরা কি স্বাধীনভাবে তাদের অভিমত ব্যক্ত করতে পারছেন? তা যদি পারতেন, তাহলে নাট্যকার সফদার হাসমী, কবি তুকারাম, সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশ বা সাহিত্যিক কালবুরগি এঁদের গ্রেফতার, নির্যাতন বা নিহত হতো না। তাহলে কি বলা যায় যে দেশ পরিপূর্ণ স্বাধীন হয়েছে?     

  যাঁরা স্বাধীনতা আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন, তারা তো বলেছিলেন 'দেশের স্বাধীনতা, জনগণের স্বাধীনতা     আমার জন্মগত অধিকার' কথাটা যাঁরা কাব্যের মধ্যে দিয়ে, সাহিত্যের মধ্যে দিয়ে, সংগীতের মধ্যে দিয়ে,     আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে যেভাবেই হোক বলতে চেয়েছেন, সেই ব্রিটিশ জমানায় তাদের কিন্তু কঠিন মূল্য দিতে   হয়েছে তাদের কঠিন শাস্তি পেতে হয়েছে, জেলে যেতে হয়েছে, এমনকি মৃত্যুবরণও করতে হয়েছে

  কিন্তু দেশের  স্বাধীনতার এই ৭৫ বছর পরেও কি তার কোন পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে হয়? এখনও কি আপনি 'স্বাধীনভাবে আপনার মত ব্যক্ত করতে পারেন! তা বললেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কখনো মাওবাদী ব'লে, কখনো দেশদ্রোহী ব'লে, কখনো প্রতিক্রিয়াশীল ব'লে আপনাকে অ্যারেস্ট করে বা বিভিন্নভাবে আপনাকে শাস্তি দেয় তাহলে কোথায় সত্যিকারের স্বাধীনতা!

  তাহলে আন্দোলনকে বাস্তবে রূপ দিতে গেলে পদে পদে বাধার সম্মুখীন হতে হয়, গ্রেফতার হতে হয়, জেলে যেতে হয়, কিংবা মৃত্যুবরণও করতে হয় যে দেশে, সে দেশ কি প্রকৃত স্বাধীন?   

  নেতাজি সুভাষচন্দ্র, 'বিপ্লব কি' এপ্রসঙ্গে বলতে গিয়ে এক জায়গায় লিখেছেন, 'আমার ছেলেবেলায় আমি   ব্রিটিশকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়াই সবচাইতে বড় কর্তব্য বলে মনে করতাম পরে গভীরভাবে চিন্তা করে দেখেছি যে, ব্রিটিশকে তাড়ালেই আমার কর্তব্য শেষ হয়ে যাবে না ভারতবর্ষে নতুন সমাজ ব্যবস্থা চালু করার জন্য  আরেকটি বিপ্লবের প্রয়োজন হবে'ঠাণ্ডা মাথায় ভেবে দেখলে, এই সিদ্ধান্তে আসা যাবে যে, সে বিপ্লব কিন্তু এখনও হয়নি।

  স্বাধীনতার আগে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শাসকরা তাদের ঔপনিবেশিক শাসন চিরস্থায়ী করার জন্য এবং নিজেদের  অর্থনৈতিক স্বার্থে আমাদের দেশে হিন্দু-মুসলমানকে লড়িয়ে দিয়ে 'ডিভাইড এন্ড রুল' নীতি চালু করেছিল মুসলিম  জনতাকে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলেছিল কিন্তু এখনো তো সেই 'ডিভাইড এন্ড রুল' নীতি চলছে এখনো সাম্প্রদায়িকতার জিগির তুলে বিভিন্ন সম্প্রদায়কে লড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বর্তমান সময়ে স্বাধীনতার এত বছর পরেও কি তার কোন পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে হয়! এখনো তো ধর্মের জিগির তুলে মানুষে মানুষে বিভেদ তৈরি করা হয় মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুন্ন করা হয়  

  কেউ হয়তো বলবেন, এসব রাজনৈতিক কথাবার্তা। সমাজে বাস করে কেউই কিন্তু রাজনীতির উর্ধ্বে থাকতে পারে না রাজনীতি করা না করা কারও ইচ্ছার উপর নির্ভর করে না কেউ যদি ভাবেন যে, তিনি রাজনীতির মধ্যে নেই, এসব সাত-পাঁচ এর মধ্যে নেই, তিনি নিরপেক্ষএটা কখনো হয় না

  আমি একটা উদাহরণ দিই। আপনি না চাইলেও আপনার পরিবারের মধ্যেও কীভাবে রাজনীতি ঢুকে পড়ে দেখুন। ধরুন, আপনার দুই ছেলে। একজন চাকরি করে, একজন বেকার। মা দুই ছেলেকে একসঙ্গে বসিয়ে খেতে দিচ্ছেন। মাছের বড় পিস-টা, কিংবা মাংসের লেগ-পিস-টা চাকরি-করা ছেলের পাতে দিলেন। সে রোজগার করছে, তাই ওটা তার প্রাপ্য। ভাবুন, স্নেহময়ী জননী রাজনীতি না করতে চাইলেও কীভাবে পরিবারের ভেতরেও রাজনীতি চলে আসছে।     

  বাস্তবে রাজনীতিমুক্ত কোনও জীবন রাজনীতি বহির্ভূত বা রাজনীতি নিয়ন্ত্রণমুক্ত কোনও জীবন আপনি পাবেন না।    সে ছাত্র হোক, শ্রমিক-কৃষক হোক বা নারী-পুরুষ হোক কারও পক্ষে সম্ভব নয়কারণ যারা সমাজ-বিজ্ঞানের ছাত্র তারা জানেন যে, সমাজ কীভাবে চলবে, রাজনীতি তা নির্ধারণ করে এখনো তা নির্ধারণ করে চলেছে আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন যে, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা একতরফা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং তারা সেটা  জনগণের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে আমাদের সেটাই মেনে চলতে হচ্ছে তারা অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করছে, সংস্কৃতিকে   নিয়ন্ত্রণ করছে, সবকিছুই রাজনৈতিক দল নেতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত তাহলে কি আমরা বলতে পারি যে, আমরা  নিরপেক্ষ রাজনীতি নিয়ন্ত্রণমুক্ত? কখনওই সেটা হয় না।  

  আমার কথা শুনে মনে হতে পারে যে, আমি বলতে চাইছি, দেশের স্বাধীনতা আসেনি অবশ্যই দেশ রাজনৈতিকভাবে স্বাধীন হয়েছে কিন্তু স্বাধীনতার এতো বছর পরেও স্বাধীনতার ত্রুটি-বিচ্যুতি ও সীমাবদ্ধতা, সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর প্রতি দেশের শাসকগোষ্ঠীর আনুগত্য, সাম্রাজ্যবাদী নীতি, সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে, দেশের শাসন ব্যবস্থাকে পুঁজিপতি শ্রেণীর স্বার্থে পরিচালনা করা, এসব রয়েছে একটু ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখলে বোঝা যায় যে, এতে সাধারণ মানুষের স্বাধীনতা খর্ব হয় তাহলে কি সত্যিকারের স্বাধীনতা এসেছে! ভাবা দরকার।