লেবেল

রম্য কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রম্য কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৩

রম্য কবিতা —৩১ ।। লজ্জা — বিশ্বজিত মুখার্জী।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




রম্য কবিতা —৩১



লজ্জা 

বিশ্বজিত মুখার্জী 



ভারত ভূমে ক্ষুধার পেটে

নগ্ন শরীর চোখের ঘুমে,

আর একটা টেনে হিচড়ে...

মত্ত থাকে যৌন চুমে!


চন্দ্রযানে সামিল হয়ে

মেধা স্বত্ত পূরণ করা,

নির্যাতিতা বস্ত্রহীনা... 

লাজ লজ্জা সর্বহারা। 


লজ্জা মাখা আতঙ্কেই-

জনমানসে বইছে ঝড়, 

গোপন রেখে কারা যেন...

প্রশ্নবানে নিরুত্তর। 


চাইনি আমি এমন ধারা

সুস্থ ভাবে সহাবস্থান...

তিনটে কেন বিশটা হোক

চাঁদের বুকে চন্দ্রাভিযান।  


ভারত ভূমি পূণ্যভূমি

সতীমাতার শান্তিধাম,

মাতৃত্বের জলাঞ্জলি... 

বাড়ছে কেন ধর্ষকাম?

শনিবার, ২৯ জুলাই, ২০২৩

রম্য কবিতা—৩০ ।। তেলবাজ — নূর মোহাম্মদ নূরু।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





রম্য কবিতা—৩০



তেলবাজ

নূর মোহাম্মদ নূরু

তেলবাজ আর চামচা'তে দেশটা গেছে ভরিয়া
গুরুর পদে তেল মাখাতে উঠছে হয়ে মরিয়া।
ভুল যেনেও করবে ক্যাচাল সত্য দিতে ঢাকিয়া
ম্যাওপ্যাও আর জিং জিং খেলে কোমরটাকে ঝাকিয়া।

ডোডো পাখি এদের বলে গুরুর কথা মিথ্যা নয়
প্রশ্ন ফাঁসের কারিশমাটা এদের কাছে শিখতে হয়।
কি আর করা এমন ধারা চলতে আছে জগত ময়,
কাজ করেনা খনার বচণ গুরুর বচন মিথ্য নয় !!

যতই হোক অপমান হুস যে তাদের নাই
তেল দিয়ে গুরুর পদে লক্ষ্য হাসিল চাই।
এ কারনে তেলের দাম বাড়তে আছে প্রতিদিন
ভেজালের দৌরত্ম্যে আসল হয়ে যাচ্ছে ক্ষীণ!

তেল মারা আর পা চা্টা যখন কারো পেশা হয়
সৎ মেধাবী যোগ্য যারা তারা লজ্জায় মুখ লুকায়!
তেলের বোতল খালি হবে মারতে গিয়ে তেল,
সময় খারাপ হলে কিন্তু খাটতে হবে জেল!

ভেজাল তেলে কাজ হবেনা শুনে রাখো চামচারা
বৃথা যাবে সাধের জীবন বৃথা হবে তেল মারা।
সময় আছে ঘুরে দাঁড়াও তেল মেরোনা না বুঝে
বিবেক খাটাও সত্য্ জানো আর যেওনা কু-কাজে!

সত্য জানো সত্য মানো ছেড়ে দিয়ে চামচামী
নিজের দাম নিজের মান হীরের চেয়েও যে দামী।
বাবা মায়ের সেবা করো তেল না মেরে অপাত্রে
দেখতে পাবে কোথায় সুখ তোমার ওই দু নেত্রে !!

শুক্রবার, ২৮ জুলাই, ২০২৩

রম্য কবিতা —২৯ ।। রাত-জাদু —শুভশ্রী রায়।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




রম্য কবিতা —২৯



রাত-জাদু

শুভশ্রী রায়

কত কী যে ব্যাপার মজার ঘটে রাতবিরেতে

সামনেই স্পষ্ট হয়ে খেলা করে ভূতপেরেতে!

মোটা মতো বেড়ালটা সেই বড্ড চেনা

জানত কে তারও এমন জাদু জানা!

নিজের শরীরটাকে দশ ফুট শূন্যে ভাসায়

দেখে বিস্ময়ে তো আমার শ্বাস আটকে যায়!

মেঘের হাত ছাড়িয়ে চাঁদ সুখের মুখ বাড়ায়

কিরণ দিয়ে খানিক খানিক আঁধার তাড়ায়।

বেড়ালের ভেতর থেকে বার হয় দশটা আরো

এ সব দেখেও তুমি না লিখে থাকত পারো?

ছিঁচকে চোর পালাচ্ছে কী চুরি করে

নিয়েছে কার যেন মন ঝোলায় ভরে!

এক সময়ে রাত্রি-জাদুর ঘনঘটা সীমা ছাড়ায়

সে সব অনুভবেই থাকে, কলমে এলেই হারায়।

রাতবিরেতে কত কী যে জাদুঠাসা ব্যাপার ঘটে,

বলতে পারি দিব্যি করে, ঘটনার কমই রটে!

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই, ২০২৩

রম্য কবিতা —২৮ .।। অনিশ্চয়তা — সঞ্জীব দে।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




রম্য কবিতা —২৮

                        
                 
অনিশ্চয়তা
সঞ্জীব দে


ফোটা ফোটা হয়ে ঝালকাঠি র    
                    মাথায় ঝুলতে থাকা
অস্বাভাবিক ভাবে,

মাটির দাওয়ায় বাঁশের খুঁটি র মাথায়
         ঝুলন্ত হ্যারিকেনের আলোর মতোন চাঁদ
এক পটভূমিকা রচনা করে।

গভীর অরণ্যে জমাট বাধা পাতার
আলসেমিতে
     চোরাগোপ্তা ভাবে এক মাদকতার আবেশ

তুমি শেলি'র কবিতা হয়ে
      শরীরের গোপনতায়
           আমার ভালোবাসা ঝুলিয়ে রাখো,
বাস্তবতা যেভাবে পৌষে ঝুলে থাকে
                           অনিশ্চয়তায়।

বুধবার, ২৬ জুলাই, ২০২৩

রম্য কবিতা -২৭।। আত্মরতি — সুজিত রেজ।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




রম্য কবিতা -২৭



আত্মরতি

সুজিত রেজ



আমার সকাল ঘুমিয়ে পড়েছে সকালবেলায়

আমার বিকাল নিথর পাথার বিকেলবেলায়

আমার রাত্রি জেগে আছে সারা রাত

প্রতিটি প্রহরে ঘণ্টা বাজছে শব্দহীন


ভালোবাসা ফেলে গেছ মোছা রুমালের মতো

যোগিনীসাঁতারে অতিক্রমণ মগ্নগিরি

বৃত্ত এখন আঁকা হয় ভুল রঙে

মেঘের বাসনা পূর্ণ করে  না আকাশ

জলধারা যত রোদ্দুর শোষে গভীর


এখন এই জীবন শুধু ধূসর স্মৃতির

এই জীবন শুধু এখন আত্মরতির

মঙ্গলবার, ২৫ জুলাই, ২০২৩

রম্য কবিতা —২৬।। পেছনের দিকে এগিয়ে চলুন — অজিত বাইরী।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





রম্য কবিতা —২৬



পেছনের দিকে এগিয়ে চলুন   

 অজিত বাইরী



ভিড় বাসে উঠলেই কণ্ডাক্টর হাঁক পাড়ে

পেছনের দিকে এগিয়ে চলুন।

কথাটা কানে বিঁধে যায়;

আমি ভাবতে থাকি, সকলে তো

পেছনের দিকেই এগিয়ে চলেছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে, হাসপাতালে, কারখানায়

আমরা এগিয়ে চলেছি পেছনের দিকে।

একটু স্থিরভাবে চিন্তা করলেই

বুঝতে পারি, কণ্ডাক্টর কোন অন্যায় আব্দার

করেনি; স্বাভাবিক নিয়মে

আমরা যে পেছনের দিকে এগিয়ে চলেছি

সেই প্রবণতাকেই সে ত্বরান্বিত করতে চেয়েছে।

রাজনীতিতে, সমাজ-জীবনে, সমষ্টি

ও ব্যক্তিজীবনে আমাদের সামনে 

এগোনো নেই, কেবলই ঠেলতে ঠেলতে

পেছন পানে এগোনো, ভিড়ের মধ্যে

অন্যকে একতিল জায়গা করে দেওয়া,

যাতে সেও অন্যদের পেছনের দিকে

এগোবার সুযোগ করে দিতে পারে।

আমি কণ্ডাক্টরের মুখের কথা লুফে নিয়ে বলি,

ভাইসব, পেছনের দিকে এগিয়ে চলুন।

সোমবার, ২৪ জুলাই, ২০২৩

রম্য কবিতা —২৫ ।। আদর করে নদী'কে — সোমা চক্রবর্তী।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



রম্য কবিতা —২৫



আদর করে নদী'কে 

সোমা চক্রবর্তী


সূর্যটা টুপ করে ডুববে একটু বাদেই, নদীর জলে সারাদিনের প্রচণ্ড উত্তাপে খাক-হয়ে, এবার জলে ডুব দিয়ে তার শান্তি

সোনালি-কমলা আলো ছড়িয়ে, আদর করে নদী'কে! প্রতিদিন তো এইভাবে নদী'কে আদর  করে সূর্যের শান্তি

সারাদিন নদী তাকিয়ে থাকে আকাশের দিকে
অতোটা পথ জ্বলতে-জ্বলতে সে আসবে গোধূলি-বেলায়!
সূর্য ডুব দেবে নদী'র জলে 

তখন সে আর
আকাশের নয়, সম্পূর্ণ নদী'র হয়ে যাবে ...

রবিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৩

রম্য কবিতা —২৪।। বুদ্ধিজীবি— সুদীপ কুমার চক্রবর্তী।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 






রম্য কবিতা —২৪



বুদ্ধিজীবি 
 সুদীপ কুমার চক্রবর্তী


ঔদ্ধত্যের কথামালা কথার অপচয়
বিদ্রুপের আতিশয্যে নষ্ট চন্দ্র ময়।

মোদের মস্তিষ্ক যত গড়েছেন বিধাতা
ইঁট বলি সিমেন্টের কারুকার্যে গাঁথা।

কিছু কিছু মস্তিষ্কে ঘিলু রেখে তিনি
বুদ্ধি জিবি করেছেন আশ্চর্য ভন্ডামী।

রিক্সাওয়ালাও বুদ্ধি দিয়ে দুচাকা চালান
খানা খন্দর গর্ত থেকে ভিড় সামলান।

চাষী মাঠে চাষ করেন বীজ বুনে ধান
বুদ্ধি মেপে চাষ করে ফসল ফলান।

কালো চশমার বুদ্ধিজীবি বিখ্যাত হন
রাজ পথে দু'পা হেঁটে পকেট ভরান।

শনিবার, ২২ জুলাই, ২০২৩

রম্য কবিতা —২৩ ।। অন্যপ্রেম বন্যপ্রেম —স্মৃতি শেখর মিত্র।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




রম্য কবিতা —২৩


          
অন্যপ্রেম বন্যপ্রেম
স্মৃতি শেখর মিত্র

একদিন তোমার সব বইখাতা ছিঁড়ে
টুকরো টুকরো করে হাওয়ায় উড়িয়ে দেব।
পেন পেনশিল, এমনকি তোমার মোবাইলটাও
শিলনোড়া দিয়ে গুড়িয়ে দেব।যা কিছু সরঞ্জাম
সব ধূলোয় লুটিয়ে দেব। এইসব কথা শুনতে শুনতে আমি অনুভূতি শূন্য হয়ে গেছি।যেন—
কোন এক মেষশাবক বাঘিনীর গুহায় বসে আছি। আমার সমস্ত শক্তি হরণ হয়েছে 
কোন এক অদৃশ্য যাদুর ছোঁয়ায়। এভাবেই নিত্যদিন
কবিতা চর্চা করা। ধীরে ধীরে আমি বিদ্যাদায়িনী মা সরস্বতীর 
স্মরণ নিয়ে তাঁর পরম ভক্ত হয়ে উঠেছি। মা! তুমি
আমায় বাঁচাও। তুমিই আমার হয়ে দু চারটে
কবিতা লিখে দিয়ে যাও।

শুক্রবার, ২১ জুলাই, ২০২৩

রম্য কবিতা —২২ ।। হাসি — প্রভঞ্জন ঘোষ।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।






রম্য কবিতা —২২



 হাসি

প্রভঞ্জন ঘোষ


ফোকলা হাসি দাদু হাসে
হাসে দিদা, ঠাকুমা
মুচকি হাসি হাসে হীরু
সঠিক জানে সবাই তা।

হা হা  হি হি  হো হো করে
তাই হাসে আর পাঁচজনে
ফিচেল হাসি হাসে বঙ্কু
হাজারটা যার প্যাঁচ মনে।

খিলখিলিয়ে শিশু হাসে
খলখলিয়ে হাসে ভাঁড়,
দমকা হাসি হাসে সবাই
প্রেক্ষাগৃহে উঁচিয়ে ঘাড়।

ফিক্ করে ঠিক হাসে
স্যাঁকরা কেনারামের নতুন বউ,
উদার হাসি হাসে তপন
সাবাড় করে মালপো চাউ।

খি খি করে মণি হাসে
খেতে শুতে সব তাতে,
খ্যা খ্যা করে হাসে ঘোড়া
অনেক ছুটে রেশ জিতে।

চাপা হাসি খগেন হাসে
টাকা লোনের কারবারি,
হ্যা হ্যা করে হাসে চাষা
রোয়ার শেষে ক্ষেত তারই।

অট্টহাসি হাসি আমি
হাসির পিছে কান্না ঢের
সিঙিমাছে খামচে, কাঁটার
খোঁচায় যখন পাই রে টের!
=========================
                             - 

বৃহস্পতিবার, ২০ জুলাই, ২০২৩

রম্য কবিতা —২১ ।। কথা দিলাম — তীর্থঙ্কর সুমিত।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





রম্য কবিতা —২১



কথা দিলাম

তীর্থঙ্কর সুমিত


কথা দিলাম আমি আর কাঁদবো না
লাল বেনারসির সাজে
সোনালী ভেলে বেশ লাগছে বেশ
কথা দিলাম আমি আর কাঁদবো না
সাজানো বাগানে আজও গোলাপ ফোটে
গন্ধরাজে ভরে গন্ধ
ভ্রমরা  আসে, কলিতে জাগে ব্যাকুলতার ছন্দ
কথা দিলাম আমি আর কাঁদবো না 
উঠুক সূর্য ছড়াক আলো মনের কোণে  মুছুক কালো
উদাসী বাতাস মেখে প্রশ্নের আসুক আমায় ঘিরে
ঢেকে নেবো ছায়াপথ বাউলের সুরে
কথা দিলাম আমি আর কাঁদবো না
ভেসে যাবো নদী স্রোতে
কোনো অস্থির মানচিত্রের বুকে
তুমি হাসবে,লাল সিঁদুর হাসবে,লাল চেলি  হাসবে
হাসবে আটচল্লিশটা মাসের যন্ত্রনা
কথা দিলাম আমি আর কাঁদবো না
হিসেবে রাখা কৌটোগুলো
আজ সহায়তার তাগিদে বাঁচার মন্ত্র পেয়েছে
আলতা পায়ে উঠে আসা নৌকায়
আমার ছেলেবেলা ভেসে গেছে
কোনো অলোকানন্দার জলে

কথা দিলাম আমি আর কাঁদবো না। 

বুধবার, ১৯ জুলাই, ২০২৩

রম্য কবিতা —২০।। গোলকধাঁধা —অসিত কুমার রায় (রক্তিম)।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



রম্য কবিতা —২০


গোলকধাঁধা

অসিত কুমার রায় (রক্তিম)


বার বার চলে যাই ভুল রাস্তায়
যেতে যেতে পিছন পানে কেন যে তাকাই
জিজ্ঞাসা করবো কাকে কেউ কোত্থাও নাই।
সঠিক পথ কে বলবে তাই শুন্যে ফিরে যাই।
সাপলুডো খেলি ভাগ্যের দিয়ে দোহায়  
মনের মতন দান কিছুতেই না পাই
এক পা দুপা এগিয়ে যদি যাই
সাপের মুখে পড়ে শেষে
ফিরে আসি পুনরায়।


আমার এগিয়ে চলা দায়
কর্মের জোরে সমুখপানে ধায়
উড়তে উড়তে আকাশ ডাকে আয়
কারা যেন তখন পিছু ডাকে
হয়েছে ঘরে ফেরার সময়।
রাত জেগে জেগে কত
কাব্য করি খাতায়
ভোর সকালে দেখি খাতা সেখানে নাই
তিনিই তখন হেসে বলেন-
খোকার চিৎকারে কান পাতা কি দায়?
দুধ গরমে তোমার ওই
আঁকিবুকি কাগজের সত্যি জুড়ি নাই।
কি করব জানিনা ভাই
কবি হওয়া আমার আর হবেনা
তোমরা সব বোলো আমায়
প্রাণটা বুঝি যাবে এবার থাকলে
এই গোলকধাঁধায়।


মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই, ২০২৩

রম্য কবিতা -১৯ ।। চোর — সুজিত রেজ।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



রম্য কবিতা -১৯



চোর

সুজিত রেজ


হাত বাড়াও —ছুঁয়ে দাও হে অস্পৃশ্য!

উচ্ছিষ্টভোগী আমি বধ্যভূমি চতুর্পার্শ্ব।

নিঃস্ব রিক্ত হতশ্রী নিঃসম্বল ব্যোম

পাখির যা পালক ভালুকের তা লোম।

গর্ভগৃহে বসে সময়ের দাঁড়কাক

কর্কশ তার গলা শ্রমণ পোশাক।

বাদাম গাছের তলায় সুতোর কুয়াশায়

আলো ভেঙে যাচ্ছে দফায় দফায়।

তখনও আকাশ দাঁড়িয়ে হাতে নিয়ে ভোর

গর্ভগৃহে শব্দ খোঁজে রাত জাগা চোর।

সোমবার, ১৭ জুলাই, ২০২৩

রম্য কবিতা—১৮।। সেরা বন্ধুরে —পাপড়ি ভট্টাচার্য।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





রম্য কবিতা—১৮



 সেরা বন্ধুরে
পাপড়ি ভট্টাচার্য 

ওরে আমার সোনা বন্ধুরে
তুই আমার পাশে থাকিস
তুই আমার ওপাশেও থাকিস
তোকে ছাড়া রাত যে আমার কাটে না রে
তোর মাথায় থুতনি রাখি রে
সারারাত যে ঘুমের মাঝে
তুই আমায় যত্নে রাখিস
স্বপ্ন দেখে চমকে উঠলে তোকেই তো জাপটে ধরি রে।

তুই কেন যে এত ভাল রে
তোর শিমুল বুকে নরম আদর
কেন যে শেষ হয় না রে
তুই তো আমার সেরা বন্ধু
রাত ঘুমের ওমে লেপের আদরে।

চুপ কথাটা বলিস নারে
নোনা জলের দাগ গুলো থাকুক না হয়
           তোর অন্তরের অন্দরে।

রবিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৩

রম্য কবিতা —১৭।। সরে গেছে দূরে — বিকাশরঞ্জন হালদার।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



রম্য কবিতা —১৭


সরে গেছে দূরে 

বিকাশরঞ্জন হালদার 


নিয়তির মত নির্জন সেই পথ, যেখানে তৃষ্ণা  দুর্নিবার

তোর নাকের নোলক,চোখের কাজল, ডুরে শাড়ির  টান, লুকিয়ে রাখি বুকের কৌট ভরে 

এখন মলিন। এখন পাংশু। সে-সব ছিলো স্বপ্নে বোনা দিন! কত-কিছু আলো-অন্ধকার 

বাধ্য হয়ে তুইও নেই। আমি এখন যেমন-তেমন কেউ! কাছগুলো আজ সরে গেছে দূরে ...

শনিবার, ১৫ জুলাই, ২০২৩

রম্য কবিতা —১৬ ।। কাঁচপোকা হয়ে — সোমা চক্রবর্তী।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




রম্য কবিতা —১৬



কাঁচপোকা হয়ে 

সোমা চক্রবর্তী 


বেশ  হতো যদি ছেলে হতাম 

তোর পাশে গিয়ে শুয়ে পড়তে পারতাম, এক কাপ চা নিয়ে

কত হিসেব করে চলা 
পোশাকি কথায় ঢেকে রাখা নিজেকে!

কাঁচপোকা হয়ে
ছারপোকা'কে ভালোবেসে যাও

নিস্তব্ধ দুপুরে, ঘুঘু ডেকে যায়, ঘু-ঘু
মাঝে মাঝে
নির্জন বালুচর ধূ ধূ ...

শুক্রবার, ১৪ জুলাই, ২০২৩

রম‍্য কবিতা -১৫ ।। মজাড়ু — অমিত কাশ‍্যপ।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





রম‍্য কবিতা -১৫



মজাড়ু

অমিত কাশ‍্যপ


আম পাড়ি, জাম পাড়ি 

পাড়ে ডিম ঘোড়াতে

পাড়ি দেয় খোকামামা

জম্মু থেকে কুয়েতে 


কি আর হবে ভেবে সব

বেঁচে আছি বেশ তো

ঝালমুড়ি খেতে খেতে 

ডালমুট বেচতো


হাজার হাজার কথা 

রাখহরি বলতো

গুলের পাহাড় সব

লোকে সবে জানতো


এই সব নিয়ে আমি 

বেশ আছি মজাতে

তোমরা পারলে এসো

উপেনের গলিতে

বৃহস্পতিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৩

রম্য কবিতা —১৪।। ভার বহনের চতুর্দশপদী — দীপক বন্দ্যোপাধ্যায়।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 


রম্য কবিতা —১৪


ভার বহনের চতুর্দশপদী

দীপক বন্দ্যোপাধ্যায়

তোমার হাতে সঁপতে চাই যে, তুমি কি নেবে দায় ?
দারুণ আমার ব্যস্ততা, ভার বইতে নিরুপায় ।
জানি তুমিও কাজের মানুষ, সময় হাতে কম ;
ভার বইতে ক্ষমতা তোমায় দিয়েছে পরিশ্রম ।
কী আর করবে, এ জীবনে বিশেষ পাবে না ছুটি----
শ্রমসাধ্য যাপন তোমার, কাজেও দেখিনি ত্রুটি ।
তাইতো এমন বিশ্বাসে আজ চাইছি দায় নাও,
কর্মভারে যে নু'য়ে পড়েছি, আমায় তুমি বাঁচাও !
ভাবছো হয়তো অবুঝ হয়ে চাপিয়ে দিচ্ছি ভার,
পারস্পরিক জীবনে এসব ধর্ম-সারাৎসার ।
তবুও বুঝি, দেহ তোমার কতটা‌ পারে সইতে ;
কথা দিচ্ছি, সাধ্য-অধিক মোটেও হবে না বইতে ।
#
কিছুটা যদি লাঘব করো কাজের ভীষণ ভার,
বুঝবো, শুধু কর্মীই নও, আছেও কিছু বিচার ।

বুধবার, ১২ জুলাই, ২০২৩

রম্য কবিতা —১৩।। রহস্য ভেদ — দীপক বেরা।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।





রম্য কবিতা —১৩



 রহস্য ভেদ 

দীপক বেরা 


কথায় কথায় তোমার বিচ্যুতি, মিথ্যার বেসাতি
নাটুকেপনার ভাঁজ এবং প্যাঁচ
অথচ হাবভাবে বেশ আভিজাত্যের ছাপ
সাহেবিয়ানায় সজ্জিত লাঞ্চ-ডিনার টেবিল 
উপাদেয় খাবারে হাঁ-করা মুখেও অন্যমনস্কতা
আসলে মনের মধ্যে দুরভিসন্ধির সুতো বুনছ
বিচিত্র কারুকাজে, জিলিপির প্যাঁচ কষে। 
ঘরের জানালাটা খোলা, কেউ আবার 
দেখে ফেলে যদি পর্দার আড়ালে, তাই ভয় 
মানে সামাজিকতার ভয়, একটু চক্ষুলজ্জা
পরক্ষণেই স্বাভাবিক হওয়ার সৌখিন অভিনয়! 
এদিকে সমৃদ্ধ লাঞ্চ-ডিনারের পাত থেকে 
গড়িয়ে পড়ে ক্লু, উড়ে যায় অজান্তেই
কত যে বর্ণগন্ধময় সংকেত দিন-রাতের বাতাসে... 
কৃত্রিম কৃৎকৌশলের ভাণে মুখমণ্ডলের দেওয়াল 
কত আর চিত্রিত করবে? 
দলে পিষে যাওয়া মথিত ঘাসের গন্ধ 
আর ডানাছেঁড়া ঝিঁঝি'র আর্তনাদে
রহস্য ভেদ করে ঠিক বেরিয়ে আসবে সত্যের স্বর! 

মঙ্গলবার, ১১ জুলাই, ২০২৩

রম্য কবিতা —১২ ।। অন্তরা কলমসই নয় — বিকাশ ভট্টাচার্য।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




রম্য কবিতা —১২



অন্তরা কলমসই নয়

বিকাশ ভট্টাচার্য 


কী একটা তোলপাড় চলছিল অবচেতনে। বাড়ি ফিরে মনে হলো কিছু একটা রয়ে গেছে অন্তরার ঘরে। কী এমন হোতে পারে ? মানিব্যাগ চশমা তো সঙ্গেই আছে। কলম ? আর যাই হোক, ঘা আর মলমের মতন, অন্তরা একেবারেই কলমসই নয়। তাহলে কী এমন রয়ে গেল অন্তরার ঘরে। তুই ফেলে এসেছিস কারে , মন রে আমার ?

শুরু করি শরীরী তদন্ত। জামার পকেট থেকে দুটো অক্ষতনবীন পঞ্চাশ টাকা উঠে এলো হাতে। মুঠোফোন বিছানার ওপর। রিস্টওয়াচ বালিশের পাশে। আর কলজের মতো লাল ডায়েরিটা নিশ্চিন্তে আছে আগুনের পাশে কাঁধে ঝোলানো ব্যাগের ভেতর। 

মনে পড়ছে টেবিলে রাখা সুদৃশ্য দুটো চায়ের কাপ। কাপ থেকে উঠছে সুগন্ধি চায়ের ধোঁয়া। অন্তরার ঠোঁটে গালে তখন চিকচিক করছে জলজ্যোৎস্না। আর আমি উবু হয়ে গভীর জলের নিচে হাতড়ে চলেছি...হাতড়ে চলেছি...

কোন কিছুই ঠিকঠাক মনে পড়ছিল না তখন। এখনও না।