লেবেল

বসন্ত এসে গেছে লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বসন্ত এসে গেছে লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ৩০ মার্চ, ২০২২

শুধু কবিতায়... বসন্ত এসে গেছে -৫৯।। হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





বসন্ত এসে গেছে -৫৯

হীরক বন্দ্যোপাধ্যায় 




১.

সামান্য কামিনী ফুল


সামান্য কামিনী ফুলের জন্য নির্জন চায়ের

দোকান এখনো খুঁজে ফেরো অনিমেষ

জীবনের কতো সাকো  অনায়াসে পেরিয়েছো

নীচে জল বেওয়ারিশ

জুয়াড়ির মতো অনবদ্য, জাদুবিদ‍্যা হাতে নিয়ে 

কতনা পায়রা তুমি আকাশে ওড়ালে 

সজল চোখের পাতায় তার প্রতিটি স্পর্শ লেগে আছে,আজ স্বেচ্ছানির্বাসনে যেতে যেতে

নিপুণ মুখোশে ঢাকো মুখ

তবু তুমি মুখ ফুটে জানালেনা পরমার্থ কাকে বলে... অথচ ক্রমশ এই বিষাদ দুপুরে

জাল ফেলে মাছ ধরে জেলে

দূরে মাছরাঙা উড়ে এসে বসে

প্রগলভ আনন্দে কেউ কেউ রাতপাখি হয়ে যায়

তুমি শুধু সামান্য কামিনী ফুলের জন্য

অনিমেষ নির্জন চায়ের দোকান খোঁজো ,আজো ...




২.

বয়:সন্ধি


বয়:সন্ধিকালে যখন তাহার শরীরে সবে রস জমিতে শুরু করিয়াছে

দেখিয়েছিলাম অকস্মাৎ স্পর্শমাত্র পারকিনশান

রোগীর মতো স্পন্দন কিছুতেই থামিতে চাহে না

সেই সব তোলপাড় ,আনন্দ শীৎকার স্রোতধ্বনি

মায়াজাল ও ক্ষিপ্র চঞ্চলতা মনে পড়িয়া গেলে

এখনো দুরন্ত জয়ের অগ্নিশিখা জ্বলিয়া ওঠে

মনে মনে ফের যুবক হ ইতে দ্বিধা হয় না


আজ এই কুড়ি কুড়ি বছরের পর এখনো সন্ধ্যায়

জ‍্যোৎস্না ওঠে আর কালপুরুষ ভোরের শুকতারা শিউলির কুড়ি এখনো রহিয়াছে

মনে হয় কিছুই বদলায় নাই

না ফর্সা পায়ের ঝুমুর 

আতস বাজির ঝুমঝুম অনবদ্য মায়ারথ বিম্বোষ্ঠ

পানপাতা মুখশ্রী

মনে পড়ে, সেই নদী এখনো আছে

কিন্তু জল আর তাতে নাই

কেন না জলতো শুধু বৃষ্টিধারায় প্লুত নয়

নয়নাশ্রু দিয়ে ঢাকা...













              🙏🏻লেখা আহ্বান 🙏🏻



অঙ্কুরীশা ই ম্যাগাজিনে প্রতিদিন বিভাগে ১লা এপ্রিল থেকে যুদ্ধ বিরোধী কবিতা প্রকাশিত হবে। আপনি এই বিভাগে আপনার মৌলিক ও অপ্রকাশিত দুটো কবিতা পাঠান। মানসম্মত হলে অঙ্কুরীশা -র  পাতায় প্রকাশিত হবে। 


ankurishapatrika@gmail.com


শুধু কবিতায়... বসন্ত এসে গেছে -৫৮।। মিতা নাগ ভট্টাচার্য।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




বসন্ত এসে গেছে -৫৮

মিতা নাগ ভট্টাচার্য




১.

আয় রে বসন্ত


রক্ত পলাশনেশা লাগে
প্রথম প্রেম জাগে,
বিষন্ন প্রেম,মন বিভ্রান্ত

রোজনামচায় ব‌্যস্ত একঘেয়েমি চূড়ান্ত
সম্বল প্রভাতী বসন্ত
আবির এখন উড়ন্ত
মন ভাসে রঙে রঙে।

আয় রে বসন্ত।






২.
 বসন্ত বাতাসে

বসন্ত শান্তিনিকেতনী
কিশোরীর পলাশী বিনুনি
স্বচ্ছ দীঘিজল মন।
নির্মেদ প্রেম আগুন,
আকাশে মেঘ ফাগুন।
রোদলা বাতাসে
প্রেমগন্ধ ভাসে,
             দোল পূর্ণিমার চাঁদ
প্রিয় মুখের ছাঁচ।












অঙ্কুরীশা ই ম্যাগাজিনে প্রতিদিন বিভাগে  ১লা এপ্রিল থেকে যুদ্ধ বিরোধী কবিতা প্রকাশিত হবে। আপনিও এই বিভাগে আপনার মৌলিক ও অপ্রকাশিত  দুটো কবিতা পাঠান। 

ankurishapatrika@gmail.com



মঙ্গলবার, ২৯ মার্চ, ২০২২

শুধু কবিতায়... বসন্ত এসে গেছে -৫৬।। অনন্য মিত্র।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




বসন্ত এসে গেছে -৫৬

অনন্য মিত্র


বসন্ত সম্প্রীতি


আজ ফাগুনে, রঙ লেগেছে সারা বনে বনে, 

হিংসা-দ্বেষ, বিভেদ, রক্ত  নেইকো কারো মনে। 


কৃষ্ণচূড়া লাল হয়েছে,পলাশও কম যায়না, 

দূরে তোরা দাঁড়িয়ে কেন?একটু কাছে আয় না! 


রাম, শ্যাম আর যদু,মধু দাঁড়িয়ে কেন দূরে, 

রফিক, সালাম আবির নিয়ে খেলছে দেখনা ওরে। 


কেন তোরা বিভেদ করিস এই পবিত্র দিনে, 

জানিস নাকি প্রাণ বাঁচে না বন্ধু স্বজন বিনে। 


আজকের এই পবিত্র দিনে বাঁধ তোরা বন্ধন, 

দূরে দাঁড়িয়ে কেন তোরা মিছেই করিস ক্রন্দন।


আজকে মোরা ভুলব কে মুসলিম কে হিন্দু, 

বিভেদ ঘোচাব বঙ্গের মোরা দিয়ে রক্তের বিন্দু। 













          🙏🏻লেখা  আহ্বান🙏🏻


অঙ্কুরীশা ই ম্যাগাজিনে প্রতিদিন বিভাগে  যুদ্ধ বিরোধী কবিতা ১লা এপ্রিল থেকে প্রকাশিত হবে। আপনারা আপনাদের মৌলিক ও অপ্রকাশিত লেখা  নীচের মেলে পাঠিয়েদিন। 👇👇👇👇

ankurishapatrika@gmail.com




সোমবার, ২৮ মার্চ, ২০২২

শুধু কবিতায়... বসন্ত এসে গেছে-৫৫।। ত্রিপর্ণা ঘোষ।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





বসন্ত এসে গেছে-৫৫

ত্রিপর্ণা ঘোষ




১.

রঙের আড়ালে


মনখারাপেরা বুঝি শীতঘুমে থাকে

আস্ত একটা ব্যথার পাহাড় বুকে নিয়ে,

ফাগুন এলে মিথ্যে সাজে সাজিয়ে নেয় নিজেকে

বসন্ত দিনের রঙিন আবির দিয়ে।


লাল সাজে রূপবতী পলাশ,কৃষ্ণচূড়া

লালের ছটায় ঢাকে পাতা ঝরার যন্ত্রনা।

শুকনো পাতারা এলোমেলোভাবে ছুটে চলে

সীমানা বাড়ে মনখারাপি বেড়াজালের।


সন্ধ্যা জোছনা জোয়ার নামায় মনের উপকূলে।

চুপিসারে বাড়তে থাকে রাত্রের গভীরতা,

নিস্তব্ধতা আলিঙ্গন করে ক্রমশ চারিপাশ;

সমানুপাতিক সম্পর্কে বেড়ে চলে নিঃসঙ্গতা।


রঙিন মুখোশ খসে পড়ে রাতের অন্ধকারে,

বাঁধ ভাঙা বন্যা নেমে আসে মনের উপকূলে;

গুমরে গুমরে বালিশ ভেজে সারারাত

দরজায় তখনও কড়া নাড়ে বেরঙীন বসন্ত।





২.

অবশেষে


রঙের সাথে সাথে গেছে রঙিন দিনও।

নীল আকাশের সাথে কৃষ্ণচূড়ার প্রেমের গল্পের উপসংহারটুকুও মিশে গেছে দিগন্ত রেখায়।

কালো মেঘ চেপে ধরেছে নীলের বুক।

যন্ত্রণার ছায়া নেমেছে কৃষ্ণচূড়ার ডালেও।


দগ্ধ দুপুরে গলা ফাটায় তৃষ্ণার্ত কোকিল;

সুরেলা কন্ঠি ভুলে গেছে সুরের ছন্দ।

দখিনা হাওয়াও হয়েছে স্তব্ধ।

চারিপাশে শোনা যায়, শূণ্যতার হাহাকার।


নীল আকাশের কাছে পাঠানো শেষ চিঠি অবশেষে পৌঁছায়নি তার গন্তব্যে।

কালো মেঘ ভেঙে অঝোর কান্না নেমেছিল,

আর সেই জলে ধুয়ে গেছিল খামবন্দী শেষচিঠি।









রবিবার, ২৭ মার্চ, ২০২২

শুধু কবিতায়... বসন্ত এসে গেছে -৫৪।। পাপড়ি ভট্টাচার্য।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





বসন্ত এসে গেছে -৫৪

পাপড়ি ভট্টাচার্য


বসন্তবেলা 


হ্যালো বসন্ত --
একটু অপেক্ষা করো, চলে যেওনা
ফাগুন আর চৈত্র বেলার হাওয়ার সঙ্গে
আমার অপেক্ষা ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়
আমের মুকুল আর পলাশ পাপড়িতে
তুমি সেজেছ লাল হলুদ আবিরে
আমি চন্দন গন্ধ নিয়ে বসে আছি
তোমাকে বরণ করবো বলে।

এবার চিনতে পারলে তো প্রিয় --
আমি তোমার প্রিয়া, বৈশাখী
এসো বসন্ত,এসো সমস্ত পূর্ণতা নিয়ে
এসো আমার প্রেমিক, এসো হে এসো
আমার বরমাল্য গ্রহণ করো।
পৃথিবীর বিবাহ মন্ডপে আমরা তো
একে অন্যের পরিপূরক।










*পাঠকের আপনজন*  *অঙ্কুরীশা সাহিত্য পত্রিকা
--------------------------------------

🙏🙏লেখা আহ্বান🙏🙏

তুমি কে?
তুমি কি গ্রহান্তরের দলছুট?... 
এ পৃথিবী লোভের,ঘৃণার, উন্মত্ততার নয়"

(সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের) 



 
দু'টি বিশ্বযুদ্ধসহ  আরও বাহুযুদ্ধ, বহু শান্তিচুক্তি পেরিয়ে ফের আগ্রাসন, যুদ্ধ। গৃহহীন মানুষ।মৃত্যু, আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা। বর্তমান রাশিয়া - ইউক্রেন যুদ্ধ স্মরণ স্মরণ করে দেয় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ আসন্ন।তাই অঙ্কুরীশা-র  পাতায় প্রকাশিত হবে   এপ্রিল২০২২,  প্রতিদিন বিভাগে  'যুদ্ধ বিরোধী কবিতা '।


সারা এপ্রিল  মাস জুড়েই প্রকাশ পাবে   "যুদ্ধ বিরোধী  " বিষয়ক কবিতা । আপনার কবিতায়  উন্মোচিত হোক — উপমহাদেশীয় কূটনীতি এবং যুদ্ধ ভাবনা।  তাই  অঙ্কুরীশা-র  পাতায় আজই লিখে ফেলুন ' যুদ্ধ বিরোধী'  বিষয়ক কবিতা। 
 



✍🏾✍🏾 অঙ্কুরীশা ই ম্যাগাজিনে শুরু হবে প্রতিদিন বিভাগে  'যুদ্ধ বিরোধী '   বিষয়ক  শুধু কবিতা।

✍🏾এই পর্বে  দুটি করে কবিতা  পাঠাবেন। 

✍️✍  মেল বডিতে (অভ্র অথবা ইউনিকোড) টাইপ করে পাঠাবেন। 

🙏এই বিভাগের  লেখা   মৌলিক ও অপ্রকাশিত হতে  হবে।
🙏কোন প্রকার ছবি বা পিডিএফ ফাইল গ্রহণ যোগ্য নয়।

 🙏এই বিভাগে  আপনার মৌলিক ও অপ্রকাশিত লেখা কিনা উল্লেখ করে দেবেন। 


✍🏾 এই পর্ব চলবে ১লা  এপ্রিল ২০২২ থেকে  ৩০শে   এপ্রিল ২০২২  পর্যন্ত। 

👇🏾আপনি আপনার  'যুদ্ধ বিরোধী'  বিষয়ক   দুটো কবিতা   আজই মেল করুন👇🏾
 *ankurishapatrika@gmail.com* 

✍️🙏আপনার এই পাঠানো  লেখাটি অঙ্কুরীশা-য় সম্মানের সাথে প্রকাশিত হবে। 

 
✍🏾 মুক্ত মনে লিখুন  উক্ত বিষয়ের  জন্য কোন লাইন সীমা কিংবা শব্দ সীমা  নেই। 

নমস্কার। 
ভালো থাকুন। 
সুস্থ থাকুন। 


 সম্পাদক, 
অঙ্কুরীশা

শনিবার, ২৬ মার্চ, ২০২২

শুধু কবিতায়... বসন্ত এসে গেছে-৫৩।। নিমাই জানা।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



  বসন্ত এসে গেছে-৫৩
নিমাই জানা






১.
ফাগুন ও সংক্রামক ভাগফল


বৈরাগ্য পরিমিতি ছেড়ে অদ্ভুত কাঁটাতারের নিচে ঝুলে আছে বন্ধ্যাত্বকালীন সোমাটোট্রপিক , জ্বর শরীর গুলো ক্রমশ সংক্রামক হয়ে ওঠে গোপন কক্ষ পেলেই

নির্বিষ পলাশের ডান গহ্বর থেকে উড়ে বেড়াচ্ছে ভাগফল ফাল্গুনের চৈতন্য আকাশ , কাঁধের তরবারিটি প্রাচীন মফঃস্বল নদীর জলে ডোবানো আছে ভগ্নাংশ যুগের পরকীয়া আগুনে
আবিরের মতো মনু শরীরের আয়ুময় নিরাভরণ পালক খুলে নিয়েছে কালরাত্রির প্রতিটি প্রহর

শীতলপাটি জুড়ে অবৈধ কাগজ ফুলেরা ঘরময় ঘুরে বেড়িয়েছে তৃতীয় পক্ষের সন্ধ্যাবেলা নিয়ে , ভ্রুণেরা শীতঘুম থেকে বেরিয়ে এলো আজ রেক্সিন পোশাক পরি
রাত্রি কখনোই জোনাকি রঙের পোশাক পরে নীল মেহগিনি ছায়ার অঙ্কুর ফেলে আসে না , রণক্লান্ত শেষে একটি মোমবাতি জেগে থাকে পাপ কথা নিয়ে
রাত্রির বিষাণ নামক এক মিথোজীবীতার সম্পর্ক আছে
গায়ের লোমগুলো আসলে পাললিক পাথরের মতো সমান্তরাল শিরাবিন্যাস কমন্ডুল জলে এক পুরোহিত স্নান করে
দক্ষিণ মুখের আততায়ীরা পর্ণমোচী শরীরে হেঁটে যাওয়ার পর নির্জীব সন্ন্যাসীরা বিষাক্ত নীলগিরির দেহে শিলালিপি মেলে রাখে পাঞ্চজন্য দলমন্ডল মুখে নিয়ে

আমি শীতল স্থাণাঙ্কে প্রাচীন দূর্বা ঘাসের চাষ করেছি, ঈশ্বর আমায় মিশ্র ভগ্নাংশ করে তুলছেন ক্রমশ






২.
লাইসোজোম ও গোপন সম্পাদ্য কথা



বিসর্গ চিহ্নের মতো প্রেমিকার ডান হাতে লাইসোজোম ঝুলে আছে স্বাভাবিক সংখ্যার হলুদ সালোয়ারের মতো

নিশাচরেরা পলল রাস্তায় বেরিয়ে আসছে দীর্ঘদিন রক্তাভ থাকার পর ,  স্বরবর্ণ মুখে কাল্পনিক সরলরেখার উপর দাঁড়িয়ে ১৩ জন নাবিক একসাথেই খনিজ পাহাড় খনন করে চলে পর্ণমোচী বৃক্ষের মতো
কতজনের বৈরাগ্য কথা রাখতে পেরেছি রাধিকার মতো,  অশোক বৃক্ষের তলায় শরীর প্রাচীন পোশাক ছেড়ে মহা পরাশর হয়ে যান

স্তন্যপায়ীরা  ,মহাশূন্য বৃষ্টির মুখে দাঁড়িয়ে কৃষ্ণচূড়া মুখে পুরে রাধা ক্ষেত্রে গিয়ে দাঁড়ায় অন্তর্বাস পুষ্কর ক্ষেত্র হয়ে
এখানে চতুর্ভুজ আঁকায় মেতে ওঠেন শল্যবিভাগের প্রচ্ছায়া অঞ্চল নারীময় প্রহর কেবল প্রতিবিম্ব আর সমান্তরাল
তেরো দ্রাঘিমার অক্ষাংশের গোপন কক্ষে নিরাভরণ পালক রেখে যায় ছাত্রবন্ধুর সম্পাদ্য জোড়া নির্বিকার মৃত ঘোড়ার দল
পালকের পোশাক পরে মাছেরা পরিযায়ী সঙ্গমে মেতে ওঠে গর্ভস্থ সেবিকার মতো ,

বৃন্দাবন ক্ষেত্রে নিঃসঙ্গ বয়ে যাচ্ছেন যমুনা গৈরিক আলোক বিন্দুর সাথে
এক স্বস্তিক রাশিচক্রের তিলক পরে বসে আছেন আমাদের অনন্ত মহারাজ






 




শুক্রবার, ২৫ মার্চ, ২০২২

শুধু কবিতায়... বসন্ত এসে গেছে -৫২।। জয়শ্রী সরকার।।

 





বসন্ত এসে গেছে -৫২

জয়শ্রী সরকার



বসন্তরাগ


বসন্তরাজ করছে যে রাজ নেই তো কোনো জুড়ি
এই ফাগুনে মন আগুনে একটু এসো পুড়ি।
কৃষ্ণচূড়া রঙ ছড়ালো উঠলো ফুটে আলো
শিমুল-পলাশ-অশোকবনও ভালোই তো জমকালো !

চতুর্দিকে রঙের আভাস হাজার রঙের মেলা
হাস্নুহানার হাসতে মানা খেলবে না সে খেলা।
কোকিল বধূর মধুর সুরে গানের কলি ভাসে
কাছে-দূরের মানুষ মাতে আনন্দ-উল্লাসে!

ভোরের বাউল প্রাণটা জুড়ায় মন-উদাসী গানে
আগুন আলোয় ভুবন ভাসে খুশির কলতানে।
বসন্ত আজ রঙ মেখেছে কৃষ্ণচূড়ার লালে
মনখুশিতে এই প্রকৃতি পড়লো প্রেমের জালে!

শিবরাত্রি আর নীলষষ্ঠী কল্যাণময়ী বধূ
 পবিত্যতায় পালন করে বক্ষে নিয়ে মধু।
দোলের দিনটা ভীষণ সুখের যেন রঙের মেলায়
বিভেদ ভুলে সবাই মাতে আবীর রঙে খেলায় !

মন-ফাগুনে মাতছে সবাই বসন্ত উৎসবে
এসো সবাই রঙ মাখি আজ হৃদয়ের বৈভবে।
বসন্ত আজ চতুর্দিকে ছড়িয়েছে তার রূপ 
রূপের আগুন নিভবে যখন থাকবে পড়ে তো ধূপ !










বৃহস্পতিবার, ২৪ মার্চ, ২০২২

শুধু কবিতায়... বসন্ত এসে গেছে -৫১।। অসিত কুমার রায় (রক্তিম)।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



বসন্ত এসে গেছে -৫১



ইচ্ছে বাউল




উদাসী এক সকালে মন কি হবে প্রবাসী!
চেনা চৌকাঠ চেনা বারন্দা চেনা পথের বাঁক।
চেনা নিমের বাতাস। শ্রাবণে ভিজে যাওয়া
শীতের অলস দুপুরে পাতার ঝরে যাওয়া।
বসন্ত পরশে কিশলয়ে চোখ মেলে চাওয়া।
ওরা কি বলেনি! সজল গম্ভীর সুরে
- আজ আর যেওনা কোথাও; কাছে কিম্বা দূরে।


সামনেই খুব কাছেই ফাল্গুনী পূর্ণিমা
আলোয় মেতে উঠলেও মনে হবে
         আজ নয় পূর্ণিমা আজ যে ঘোর অমা।
ওই যে ইট কাঠ পাথরে, প্রখর দূষণে লড়াই করে
যে সেগুন গাছটা অতি যত্ন সহকারে
ডালে ডালে ফুলের কুঁড়িদের জাগিয়ে ফেরে।
সেওতো আশা করে দুদণ্ড বসবে ওর ছায়ায়
    ওযে এক নির্বাক কবি!
পাতায় পাতায় তোমারি জন্য লিখে রেখেছে কত কবিতা।
    একটাও কি পড়বেনা।
জানতে ও চাইবেনা ওকি বলতে চাই তাঁর কবিতায়।


যাও যাও দূরে কোথাও
উদাসী মন যদি কোথাও স্বস্তির শান্তি খুঁজে পাও।
আমরা না হয় থেকেই যাবো এই শহর আঁকড়ে।
ঘাসের ডগা থেকে খুঁজে নেব শিশিরকণা
বাগানের ঝরনাকে খোয়াই ভেবে
পা ডুবিয়ে শীতল করে নেব;
রঙচটা রেলিঙ্গে ভুল করে আসা হকচকিয়ে থাকা
কোন দোয়েল দেখে আত্মহারা হয়ে যাব।
সুরে বেসুরে গেয়ে উঠবো
উদাসী ইচ্ছে বাউল হয়ে ।
পথভোলা পথিকের সেই গান।
"আমায় চেনো কি?"


শুধু কবিতায়... বসন্ত এসে গেছে -৫০।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।















বসন্ত এসে গেছে -৫০
মণিদীপা নন্দী বিশ্বাস




বসন্ত তুমি কি চোখের জল!

 
বাতাস কি কথা বলে মনে মনে
 পাগল বাতাস ঝিরি ঝিরি ধীরে জনতার চুল উড়িয়ে
ধুলো মেখে...
দাঁড়ায়, ফিরে এলে অনুভবে...
দু একজন হাত বাড়িয়ে থাকে
 নি:শেষে বলে 'এসো', যুগান্তের শেষ নি:শ্বাস পর্যন্ত
 অপেক্ষায়। হু হু মনের দিক দিগন্তে ঐতো হলদে প্লাবন
সুখে অথবা ক্রন্দনে, রক্তদোলে কিংবা ঘাসে
 সে এসে দাঁড়ালো ক্ষণিক গানের মত
 ভুলে যাওয়া স্মৃতি হয়ে চৈত্র ঝারিতে
তুলসীর টুপটাপ জলে বড় কান্নার মত...











বুধবার, ২৩ মার্চ, ২০২২

শুধু কবিতায়... বসন্ত এসে গেছে -৪৯।। বাবলু গিরি।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




বসন্ত এসে গেছে -৪৯

বাবলু  গিরি 



বসন্ত এলো রে •••

                      

অমন সুন্দরী সমস্ত শরীর জুড়ে দাউদাউ আগুন 

অথচ কি সুমিষ্ট টসটসে রসে ভরা মধুপর্ক

আমি জানি তুমি আসবে এভাবেই হু হু করে মর্মরে 

জনি এভাবেই আলতা কুমকুমে সেজে,কুহু কুহু ডেকে ডেকে

অমন উথালপাতাল ঢলো ঢলো যৌবনে ডেকে যাবে 

অভিসারে রসবতী উল্লাসে মাতবে 

গুঁড়ো গুঁড়ো রেণু ছড়ায়ে।

আহা রে!এলো রে এলো রে, বসন্ত ত্রলো রে।

শুধু কবিতায়... বসন্ত এসে গেছে -৪৮।। অশোক ব্যানার্জী।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।








বসন্ত এসে গেছে -৪৮

অশোক ব্যানার্জী



শোনাও দেখি


তোমার লেখা কবিতা পড়লে
মনে হয় যেন এই জীবনে
অনেক কিছু পেলাম।
মনটা অনেক ভালো হয়ে যায়
মনটা যেন আরো কিছু চায়
তাই তো চলে এলাম
বড় আশা নিয়ে তোমার কাছে
কবিতার সন্ধানে!
তোমার লেখা কবিতাগুলো
যত্ন করে রেখে দেবো আমি
আমার মনের কোণে।

আরো আরো আরো কবিতা যে সব
যত পারি আমি পড়বো সে সব
লিখে নেবো আমি যত্ন করে
আমার মনের খাতায়,
কবিতা যাতে নতুন করে
নতুন দিনে নতুন ভোরে
আমার জীবন মাতায়।

আমি লিখি যা মন ভরে না
কোথা রয়ে যায় ফাঁক
তোমার কবিতা পড়ে যেন আমি
হয়ে যাই নির্বাক।

যত আমি লিখি
রয়ে যায় বাকি
কি যেন অভাব থাকে,
তোমার কবিতা মন ছুঁয়ে যায়
প্রাণেতে বাতাস লাগে।

তাই তো তোমাকে ডেকে বলি আমি,
'বসন্ত', তুমি এসে
প্রেমের কবিতা শোনাও দেখি
সবাইকে ভালোবেসে। 

শুধু কবিতায়... বসন্ত এসে গেছে -৪৭।। অমিত চক্রবর্তী।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




বসন্ত এসে গেছে -৪৭

অমিত চক্রবর্তী



 

১. 

লাইমলাইট

 

শীতের যুদ্ধ শেষ। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মাপছে সে।

ম্যাগ্নোলিয়া গাছটা এবার ফেরত আসেনি।

কিন্তু মার্চ এসে হাজির, ক্রোকাস এবং ড্যাফোডিল

তাদের প্রান্তিক শুঁড় তুলেছে, সীতাহরণ বা হেলেনের

কাহিনী শোনাচ্ছে তাকে।

                                    সে সুচারু প্রেমিক, একলা থাকার

সম্ভ্রম তার শরীরজুড়ে, মোলায়েম হয়ে সে নিজেকে

ছড়িয়ে দিয়েছে মানুষজনের শিল্পে। পাঁচমিশালি অভিজ্ঞতায়

সুধা অটুট থাকে, দীর্ঘ শীতের যুদ্ধে সে এড়িয়ে গেছে

ধ্বসেপড়া ফ্ল্যাটবাড়ি, ভাঙচুর, সিমেন্টকুচি,

দ্যাখো, দ্যাখো, আধপাগলা লোকটা কেমন

সুরকি বালি খুঁড়ে

তুলে নিয়ে আসছে চাপা পড়া বালিকাটিকে।






 

২. 

উদ্দামতরঙ্গ

 

নতুনের একটা জৌলুস আছে, বসন্তের অনিয়মিত আধার

এখানে শরীর সাজায়, ধরে রাখে জেল্লা,

তার সঙ্গে তরঙ্গিণী ধাক্কা।

 

সব কিছু পালটে ফেলব এইবার, ভাল মন্দ একসঙ্গে,

আগে পালটানো তারপরে বিচার ঠিক না ভুল,

আগে বাসনার সাধন, তারপর ক্ষমা প্রার্থনা, এইভাবে

একটা অশ্বমেধ যজ্ঞযাতনা শুরু হয়।

                                    সবকিছু জয় করি আগে,

পরে সামলে উঠে দেখিয়ে দেব প্ল্যান, এ কিন্তু

প্রতিশোধের চিন্তা, যদিও ভুল করে মনে হবে উৎসব,

মনে হবে বসন্তের মেধাবী পরিকল্পনা।    










মঙ্গলবার, ২২ মার্চ, ২০২২

শুধু কবিতায়... বসন্ত এসে গেছে ৪৬।। রঞ্জন ভট্টাচার্য।।Ankurisha ।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



বসন্ত এসে গেছে ৪৬

রঞ্জন ভট্টাচার্য



১.

সর্বনাশ


কপালে তোমার বসন্ত টিকা 

প্রস্ফুটিত... 

চোখে তোমার জয়টীকা  উন্মুক্ত পলাশ 

ঠোঁটে তোমার রক্ত গোলাপ

রাঙায়িত 

কটি দেশে হরিণশিশু ....

যৌবনের আভাস 

আমার মনে পলাশ বরন 

জাগায় সর্বনাশ!





২.

প্রাক বসন্ত


আজ সন্ধ্যায় প্রাক বসন্তে

কত না মাখামাখি 

আমার বসন্ত উঠলো সেজে

কোথায় তাকে ঢাকি।


মাখিয়ে দিল হৃদয় জুড়ে 

ওরাও হৃদয় ভরে 

আমার হৃদয়ে রয়েছ নীরবে 

সারাটা আকাশ জুড়ে।


অঙ্গে অঙ্গে বহিরাঙ্গে 

কতনা রঙের মেলা 

আমি মিশে যাই ধুলোর পরে 

ধুলোয় করি যে খেলা।


পারেনি আমি মাখাতে ওদের 

ওদের হৃদয় জুড়ে 

এই বসন্তে এগোয় না হাত 

মাখাতে পলাশ জুড়ে।


তবু ভেসে যাই রঙের মেলায় 

এই প্রকৃতির বুকে 

সব দুখ্ শোক ভুলে গিয়ে 

চলো মেতে যাই সুখে।

শুধু কবিতায়... বসন্ত এসে গেছে -৪৪।। মালা ঘোষ মিত্র।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



বসন্ত এসে গেছে -৪৪

মালা ঘোষ মিত্র




১.

মিঠেল রোদ  


স্বপ্নেরা ধূসর হয়ে যায় বয়সের সাথে সাথে
বসে আছে অনিশ্চয়তা গুড়ি মেরে।
বিপন্নতা মিশে আছে অদ্ভূত ভাবে।
অচেনা একটা পাখি ডাকছে
নির্জনতা ভেঙে... 
কাঁটাতারের উপর বসে
ল্যাজ নাড়াই, তুমি কি দেখতে পাচ্ছ
পাখিটাকে, সময় হাতড়াই ... 
কতবার হাত ধরে দুধেলা জ্যোৎস্নার
আলোকিত পথে হেঁটেছি বসন্ত বাতাসে
অক্ষরগুলো ফিরে ফিরে এসে
বয়ে যায় অতলের দিকে।
ভোরের বাতাসে এক মিঠেল রোদ
একবার প্রজাপতি হতে দোষ কি!






২.
শান্তির আশ্রয়   

যতদূর চোখ যায়
আমি দেখার চেষ্টা করি
তাগিদ বড্ড একপলক দেখার
মনে গেঁথে আছে,
ছুঁয়ে দেখার অবকাশ দাওনি
গভীর যন্ত্রনায় ছিঁড়ে যেতে চাই
সব আবরণ...
যা খেলা একজনের কাছে
তাই মৃত্যুর শামিল, অন্যের কাছে।
ভালোবাসতে বুঝি আর কেউ পারে না
মেয়েদের মতো করে।
কাঁদতেও পারে না অপরের কষ্টে।
ফিরে এসো নিঃস্ব হয়ে এই বসন্তের সন্ধ্যায়
বিনিসুতোর মালায়...
শেখাব তোমায় —
শান্তির আশ্রয় শীতলতায়।











শুধু কবিতায়... বসন্ত এসে গেছে -৪৫ ।। অলক্তিকা চক্রবর্তী।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 






বসন্ত এসে গেছে -৪৫

অলক্তিকা চক্রবর্তী




১.

আহ্বান




এসো বসন্ত এসো

স্বান্তনা-সাগরে দুমুঠো আলোচাল ফুটিয়ে 
কেঁপে ওঠা রোমন্থনী

এসো সকাল...ও গন্ধ বাতাস

নিয়ত তারতম্য হীন এ জীবন 
কেবল জপের মালায় রুদ্রাক্ষ বীজ স্মরণে কেটে যাওয়া সময়
ধরা পড়ে যাওয়া যতকিছু মারপ্যাঁচ
বিহান বেলায় নৈঋত যাপন
নিরন্তর যুদ্ধ বিধ্বস্ত এ মনটাকে শান্তি দিতে এসো...
শম-দম-তিতিক্ষায় পাষাণ গলানো পথে...

এসো আমূল নাড়িয়ে দাও আমার সংস্কার ভালোমন্দ শুভংকর আয়ুষ্কালটুকু
বর্ণবিশ্লেষণে কুলুকুলু সোহাগের নদী হয়ে
এলায়িত ফাগুন মেঘ
এসো...

আমায় গ্রহণ করো







২.
 বসন্তলিপি



ছেড়ে দিতে পারি দুটো একটা অক্ষর
ঢেলে দিতে পারি ফোঁটায় ফোঁটায় রক্ত
রুদ্রানী তুই একাই চাখবি নাকি
ফাগুন দিনের অবেলার এই সাক্ষর

পলাশের নেশা ছাড়িয়ে মনের রাশ
তোর ফাগুনের সমূহ সর্বনাশ
ইচ্ছে করেনি হাত ধুয়ে ফেলে দিতে
টেনে রাখা সেই মজনুর উচ্ছাস

দাম দিতে হয় জেনেছি অনেক পরে
পুড়ে গিয়ে খাঁটি হয়তো কিছুটা পোক্ত
সন্তাপ আজ 'ঈশ্বর' কথা বলে
স্বেচ্ছায় সেই আগুনেই হাত  শক্ত

তিলে তিলে তার সহনশীলতা বয়ে
প্রতিটি আখরে বাঁচবার রোদ সত্য
বন্ধু? অপত্য? অভিমান কথা বলে
বিলাসী ভীষণ শেষ ফাগুনের মন্তর

বিবশ স্নায়ুর হিন্দোল মাখামাখি 
ছুঁইয়ে দিয়েছে তারুণ্যে ভরা ভার
অবুঝ বসন্ত সবুজের এই লিপি
পাঠিয়ে দিয়েছে অপত্য দরবার











শুক্রবার, ১৮ মার্চ, ২০২২

শুধু কবিতায়... বসন্ত এসে গেছে -৩৫।। অলোক চট্টোপাধ্যায়।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




বসন্ত এসে গেছে -৩৫

অলোক চট্টোপাধ্যায় 




বাসন্তীকা 



         ঝিম ধরেছে নেশায়

এখন কি আসে যায়      কে কি ভাবল মনে।

         ভালোবাসার ভিটে

পদ্ম   পাতায় জলের ছিটে  হারাই বিস্মরণে।

         সময় এল আবার

বুঝি   সবকিছু হারাবার,  ফিরে আবার পাওয়া, 

          রঙ লাগালো বনে

শিমুল  পলাশে রঙ্গণে -  মাতাল দখিন হাওয়া।

আমার রোজনামচার খাতার

যত      শূন্য সাদা পাতা   হঠাৎ স্বপ্ন রঙিন।

            ঝিম ধরেছে নেশায়

প্রানে    অভ্র আবীর মেশায়  আমার বসন্ত দিন।










শুধু কবিতায়... বসন্ত এসে গেছে -৩৪।। মণিদীপা বিশ্বাস কীর্তনিয়া।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।







বসন্ত এসে গেছে -৩৪

মণিদীপা বিশ্বাস কীর্তনিয়া



  নিষেক


তুমি নীচু হয়ে কুড়িয়ে নিচ্ছিলে

 ডালপাতাসুদ্ধু যে আর্তনাদ

হাওয়ার মুখে মুখে ফিরে ঘনিয়ে এল

দুঃখের মতনই গোপন শিহরণ

ঝড় এল শালফুল টিলায় আর

লালচে বাদাম পাতারা কষ্ট কষ্ট বলে নেমে এল দ্রুত

ঈগলের ঠোঁটের মত বাঁকানো রাত্তিরের ফাঁকে 

ধুলোজ্বরে নেশা হয় এত!


আরও বেশি শুশ্রূষা চাই আমার..

আরও বেশি অপ্রয়োজন

আকাঙ্খার পা গড়িয়ে নামছে বুনো অন্ধকার

ভেজা জড়িয়ে ধরছে নৌকোর দীঘল

শঙ্খলাগা শরীর থেকে সোঁদা গন্ধ উঠে উঠে আসে

পাতার নীচে ফেঁপে ওঠা বীজ আর খোলসের পাশে

ঘুমিয়ে পড়েছে নিরিবিলি সাপ এইবার

 বসন্তের বৃতি ও কেশর মাড়িয়ে

ফিরে যাচ্ছে আপেল বাগান

প্রতিবেশী জানলা থেকে সামান্যই দূরে

বনমর্মরে্র পৃষ্ঠা পার‌ হয়ে এলাম

এইমাত্র আমরা দুজন...



             

বৃহস্পতিবার, ১৭ মার্চ, ২০২২

শুধু কবিতায়... বসন্ত এসে গেছে -৩৩।। কল্যাণ দে।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




বসন্ত এসে গেছে -৩৩

কল্যাণ দে 




নিজস্ব স্বদেশ



ভোরের সূর্য রং গায়ে মেখে আলুথালু মায়ের মতো 
ধুলোয় বসে আছেন আমার মা
                          প্রিয় প্রসবিনী স্বদেশ
ম্লানমুখ, কোটরাগত চোখে অমাবস্যার ছায়া 
মায়া প্রপঞ্চময় সংসার জুড়ে অসার বাক্যালাপ 
ট্রাপিজের খেলা দেখায় নিয়ত
                                           নিজস্ব নিয়মে
খ্যাপা মোষ ছোটে
বট গাছের আড়ালে ঝুলে আছে খাঁড়া
অস্থির বিবেক বক হয়ে এক পায়
                                          ঠায় দাঁড়িয়ে 
                যেন ব্যঞ্জনবর্ণ  ঘিরে ঠাট্টার গাট্টা 


এই দেশ, এই আমার মা ছড়িয়ে সারা বাংলার মাঠে
নবান্নের কাজ ফেলে আমি কি ফিরব গাঁয়ে 
                                  প্রিয় বালকের মতো
ইছামতীর ঘাট পেরোলেই অপু
                                  ডাক দিয়ে যায়

মানুষ  মানুষের কাছাকাছি ঠিক একদিন 
                               পৌঁছবে নিজস্ব স্বদেশে।
















শুধু কবিতায়... বসন্ত এসে গেছে -৩১।। অমৃতা হালদার।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




বসন্ত এসে গেছে -৩১

অমৃতা হালদার


১.

কামিনী ফুল


সেদিন রাতে কামিনী ফুলের সুগন্ধে,
আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। 
কামিনী ফুলের গাছে আমার দোলনা বাঁধা । 
 গিয়ে দেখলাম, দোলনায় কেউ দুলছে। 
হয়তো রাধা রানী বসে আমায় ধন্য করছে। 
 ভাবতে-ভাবতে ঘুম আবার এসে যায়। 
স্বপ্নে দেখি আবার সেই গাছ। 
 সেই গাছে দুলছে শ্রীরাধা আর দোলাচ্ছে শ্রীকৃষ্ণ । 
অঝোরে চোখ বেয়ে জল বয়ে যায়। 
আকাশের পূর্ণিমার চাঁদ আর দিগন্তে ভোরের লালিমা । 
সকালে যখন ঘুম ভাঙ্গলো,
 মাথার পাশে দেখি দুটো কামিনী ফুল। 





২.
ভালোবাসা আর বসন্ত

যখন  দেখি বশে  কিছু নেই,
বসন্ত আসে অজান্তেই। 
মন লাগে না কোনো কাজে,
হাওয়া লাগিয়ে সময় কাটাই। 

ফুলে ফুলে রঙিন সব। 
কোকিল করে সুরেলা  রব। 
আবীর মেখে মুখ রাঙাই,
বসন্তের রঙে মন ভাসাই। 

 তোমার বইয়ের  পাতায় পাতায়,
বসন্ত হলুদ ফুল রেখে দেয়। 
সকাল হতেই তোমায় ডাকে,
বসন্ত মনে ছবি আঁকে। 

বসন্ত মানে ভালোবাসা। 
তোমার চোখে প্রেম পিপাসা। 
বসন্ত মানে নিজের মনেই,
একলা বসে কাঁদা হাসা।