।। প্রতিদিন বিভাগ।।
।।জুলাই সংখ্যা।।
।।বিষয় -' রথ' বিষয়ক কবিতা -২।।
রথ
।। প্রতিদিন বিভাগ।।
।।জুলাই সংখ্যা।।
।।বিষয় -' রথ' বিষয়ক কবিতা -২।।
রথ
।।প্রতিদিন বিভাগ।।
।। জুন সংখ্যা।।
।। বিষয় - মুক্ত (গুচ্ছ কবিতা) -২৯।।
সেন্টু রঞ্জন চক্রবর্তী-র কবিতা
১.
বৃষ্টি
ধারাপাতের ধারার মতো
রিমঝিমিয়ে বৃষ্টি,
টিনের চালায় কে নাচে রে
কতই না সে মিষ্টি।
গাছের পাতা নাড়ে মাথা
কি কথা কয় কারে,
কেউ বুঝেনা কেউ শুনেনা
একদম চুপিসারে।
পায়রা যতো ইচ্ছে মতো
বাকুম বাকুম ডাকে,
চুড়ুই ছানা ঘরের কোনে
তাকিয়ে দেখে মাকে।
মা বসে নেই ব্যস্ত ভীষণ
ধরবে ফড়িং ঘাসে,
ফিঙে পাখি ঝিঙে লতায়
ফন্দি করে বসে।
টুনটুনিদের টুনটুনানি
দোয়েল পাখির গান,
কান পেতে রই কি যে মধুর
নেচে উঠে প্রাণ।
বৃষ্টি এলে অনাসৃষ্টি
ছড়া কাটার ধুম,
বৃষ্টি ধারার তালে তালে
খোকার গালে চুম।
২.
স্মৃতির কংঙ্কাল
সমুদ্র উঠেছে ফুলে
ঢেউয়ে পাল দেরে তুলে
বন্ধ থাক ক্ষানিকটা তরী পারাপার,
ঐ যে মাল্লারা ডাকে
বিপদ সংকেত মুখে
চারদিকে কালো মেঘ ক্ষতি আশঙ্কার।
জোড়ছে বইছে ঝড়
বুক কাপে থরথর
উত্তাল অতলান্ত মায়াবী জলধি,
দুকূল ভাসিয়ে চলে
অশ্রুসিক্ত নোনা জলে
অশান্ত গর্জন তার শুনি নীরবধি।
কূল নাই কিনার নাই
ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই
অসীমান্ত বিস্তীর্ণ তটভূমিহীন,
মাস্তুল ভেঙেছে কার
দুর্ভাগ্য দুর্ভাগার
বিষাদের বিবর্ণ রঙে আকাশ রঙিন।
বুকের ভিতরে ক্ষত
জেগে আছে অবিরত
মরমে মরমিয়া কাঁদে কোন সে বিরহী,
অন্তরের অন্তপুরে
তানপুরার সুরেসুরে
বিধুর সংগীতে গায় রহিরহী।
আজন্ম যন্ত্রনা লয়ে
সকল যাতনা সয়ে
বয়ে নেয় পৃথিবীর সকল জঞ্জাল,
সান্তনা কোথাও নাই
নিভৃতে অন্তর ছাই
ভালোবাসা বুঝি তাই স্মৃতির কংঙ্কাল।
৩.
ধন্য সে দেশ
মাটির বুকে শয়ন পেতে
ঘুমায় যারা রাতের বেলা,
শান্তি এসে তাঁদের বুকে
খেলায় সুখে আপন খেলা।
স্বপ্ন দেখায় চাঁদ তারারা
আকাশ জুড়ে ছড়িয়ে আলো,
কষ্ট মিশায় মাটির সাথে
ঘুছায় মনের আঁধার কালো।
গগনভেদি অট্টালিকার
দিন গুনেনা বসে বসে,
গায়ের ঘামে জীবন গড়ে
নাম লিখে নেয় ইতিহাসে।
এমন সরল মানুষগুলির
খোঁজ খবর কেউ রাখেনা,
লড়াই করেই বেঁচে থাকে
কারো কাছেই মুখ খোলেনা।
পরের হিতে নিজর জীবন
উজার করে দেয় বিলিয়ে,
ভোগ বিলাসের ধার ধারেনা
সুখী থাকে অল্প নিয়ে।
এমন সোনার মানুষ জন্মায়
যে দেশের মায়ের কোলে,
ধন্য সে দেশ ধন্য মানুষ
মাটি তাঁদের যায়না ভুলে।
।।প্রতিদিন বিভাগ।।
।। জুন সংখ্যা।।
।। বিষয় - মুক্ত (গুচ্ছ কবিতা) -২৮।।
অশোক ব্যানার্জী -র কবিতা
১.
ঐ আসে ঐ আসে
কাল মাঝ রাতে ঘুমের ঘোরে
শুনতে পেলাম, ফিস্ ফিস্ ক'রে
কে যেন বললো আমার কানে,
গলাটা মধুর মিষ্টি !
বলল, এবারে আসছি আমি
ভুল বুঝো না আমায় তুমি
দেরি হয়ে গেল একটু পথে,
আমি তোমাদের বৃষ্টি !
ঘুম ভেঙ্গে উঠে সকালে দেখি
কোথায় মেঘ কোথায় বা কি !
রোদের তেজ তেমনি আছে
আসেনি বৃষ্টি আমার কাছে
কথা রাখেনি তো সে,
তবু যেন হেসে আকাশটা কয়,
বলেছে যখন আসবে নিশ্চয়
ঐ আসে ঐ আসে ।
২.
কষ্ট
গোবর্দ্ধনের সেবার ছিল
হার্নিয়া অপারেশন।
ঘাবড়ে গেছিল গোবর্দ্ধন
পাচ্ছিল ভয় ভীষণ ।
রাম ডাক্তার বললে দেখে
" ভয় পেওনা তুমি,
টের পাবে না, অপারেশন
করবো যখন আমি।
বন্ধু আমি তোমার দাদার
ছোট্ট বেলা থেকে,
সাহস আনো ফিরিয়ে বুকে
এবার আমায় দেখে।
আমার ওপর বিশ্বাস রাখো
ভয় পেও না আর,
দিচ্ছি কথা এবার আমি,
দেখবে চমৎকার !"
অপারেশন শেষ হলে
বল্লেন রাম ডাক্তার ,
"সিঁড়ি দিয়ে ওঠা নামা
বন্ধ এখন তোমার ।
নিদেনপক্ষে আমার কথায়
একটু কষ্ট করে
সিঁড়ি ভাঙ্গা বন্ধ রাখো
একটি মাস ধরে ।
একটি মাস পরে এসে
U•S•G• রিপোর্ট দেখে
রাম ডাক্তার বলেন, "শোনো,
তুমি এখন থেকে
সিঁড়ি ব্যবহার করতে পারো
বলছি আমি স্পষ্ট ।"
" বাঁচালেন দাদা", বল্লো গোবর,
" হচ্ছিল বেশ কষ্ট ।
পাইপ বেয়ে ওঠা নামার
ধকল সহ্য করে
বড়ই কষ্টে ছিলাম আমি
একটি মাস ধরে !
৩.
চশমা উধাও
চশমাটা না পেয়ে
বড় জেঠু রেগে লাল
দেখে লাগে সন্দেহ
সব্বার হাল চাল ।
" কোথা গেল?এই ছিল
এক্ষুনি টেবিলে
মজা খানা টের পাবে
খোঁজ করে না পেলে ।
ইয়ার্কি নাকি এটা
ঠিক দিন দুপুরে
হঠাৎ কেমন করে
চশমাটা গেল উড়ে ?
ওয়ার্ডরোব, আলমারি,
টেবিলের দেরাজে
তন্ন তন্ন করেও
পাওয়া গেল না খুঁজে !
'হাইলি সাসপিসাস' ! "
বড় জেঠু রেগে কন,
" বাড়িময় গিজ গিজ
করছে তো লোকজন ,
তবু যে কেমন করে
চশমা হলো উধাও
পুলিশে খবর দেবো
যদি না তা খুঁজে পাও।
তবু দেখি হাসে সব,
এ কেমন চিত্র?
সন্দেহ জাগে মনে,
ঘটনা বিচিত্র !
করছো কি তোমরা?"
গিন্নীকে ডেকে কন,
" লোকাল পুলিশে তুমি
এক্ষুনি কর ফোন।
পুলিশেরা এসে সব
ঘিরে ফেলে চারদিক
চশমা করুক বার
তদন্ত করে ঠিক ।"
গিন্নী তখন হেসে
বলে এসে তার কাছে,
" এই দেখ চশমাটা
তোমারই তো চোখে আছে ! "
৪.
সাগর পাড়ে সূর্য্যোদয়
সাগর পাড়ে সূর্য্যোদয় !
আকাশে ঐ পেঁজা মেঘের সারি
এ যেন লোহিত সাগরের গম্ভীর সেই রূপ
যেই রূপ দেখে বিস্মিত আমি,তারই
মনোরম এই দৃশ্য খানির
সযতনে একে ছবি
কাব্যিক এক ছন্দ ধারায়
প্রকৃতিই আজ কবি ।
এ যেন এক মহা কাব্য
জল স্থল মহা আকাশে
প্রকৃতির আঁকা কাব্যিক ছবি
রঙে রসে ওঠে হেসে ।
বিশ্বজিৎ রায় -এর গুচ্ছ কবিতা
এক
খোলসবাসী
অনেকদিন খোলসের ভেতর কাটিয়ে
গুটিগুটি পায়ে একদিন শহরের কাছে এসে দাঁড়ালাম,
শহর আমাকে দেখে অদ্ভুত চোখে তাকালো,
বুঝে নিতে চাইল আমি ঠিক সেই আমি কিনা …
ঝড়-বৃষ্টি-তীব্র শীত-প্রখর গরম থেকে বাঁচতে
আমি যে এতকাল খোলসের ভেতর কাটিয়েছি
সেটা জানার পর শহর প্রথমেই যেটা
আমার দিকে ছুঁড়ে দিল, সেটা হলো, তীব্র ঘৃণা
তারপর প্রচণ্ড ধিক্কার জানিয়ে বলল --
তোদের মতো খোলসবাসীতে ছেয়ে গেছে সব জনপদ,
তোরা এখন মূক-বধির-মেরুদণ্ডহীন,
আরাম উপার্জন করার মেসিন মাত্র,
তোদের গাধার পিঠে চাপিয়ে
আমার বুকের ওপর দিয়ে হাঁটানো উচিৎ ---
আমাকে প্রতিদিন খুবলে খাচ্ছে যে যার মতো
সারা শরীর আমার নোংরা করে দিচ্ছে, ছড়িয়ে দিচ্ছে
মারণ বিষ , আর তোরা আত্মমর্যাদা-বিবেক
বিসর্জন দিয়ে আমাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়ে
নিজেরা খোলসে ঢুকে আরাম করছিস?
পারলে, আমাকে বাঁচাতে, নতুন শপথ নিয়ে
জেগে ওঠ তোরা …
দুই
খোলসবাসী
সারাদিন অফিস, দোকান, ব্যবসা, সংসার,
প্রেম, পরকীয়া, ছল্লিবল্লি করে, দু-পাত্তর মেরে,
মাংসের হাড় চিবিয়ে যে যার মতো বিছানায় সেঁধিয়ে যাচ্ছি -
ওদিকে যারা সারা শহরটাকে নিজেদের পুটলির ভেতর
বেঁধে নিয়ে উড়ে যেতে চাইছে, স্নিগ্ধ আকাশী নীল মুছে
বিষ নীল রঙ করে দিতে চাইছে, তাদের চোখে ঘুম নেই,
আধো-অন্ধকার ঘরে দলবেঁধে তারা নানা শলা করছে,
নতুন মানচিত্র আঁকছে, গোপন অস্ত্রে শান দিচ্ছে,
ভয়ংকরেশপথ নিচ্ছে---
শহরের আলো ঝলমল অট্টালিকায় শুয়ে
আমরা কিছুই টের পাচ্ছিনা,
নিশ্চিন্তে নাক ডেকে সবাই ঘুমা্চ্ছি …
তিন
খোলসবাসী
চেয়েছিলাম আইসক্রিমের মতো ঠাণ্ডা
স্নিগ্ধ একটা জীবন
সারাদিন সুশীতল থাকবে মন
মেজাজটা হয়ে থাকবে সারাজীবনের ‘ফাণ্ডা’—
অথচ হলো কী? হু-হু করে ঢুকে পড়লো
মরুভূমির যত গরম হাওয়া
লণ্ডভণ্ড করে দিল স্নিগ্ধ জীবন গাওয়া
তীব্র গ্রীষ্মের কাছে
নিষ্প্রভ শীত হেরে গেলো
চার
খোলসবাসী
নিজের ফটোফ্রেমগুলোর ভেতর
নিজেই ঢুকে পড়ে
খুজি শৈশবের দামালপনা
কৈশোরের আত্মভাবনা
যৌবনের হারিয়ে যাওয়া ছায়া---
তারা আমাকে ডেকে শোনায়
অজস্র হারিয়ে যাওয়া গল্প,
পাহাড় পেরিয়ে উঠে আসা জীবন-সঙ্গীত
নষ্ট পথে দিন কাটানো সন্ধ্যা-সকাল …
আমি শুনি আর মুছি, মুছে আবার
নতুন করে আঁকতে চাই সব,
আমার তুলি থেকে অন্ধকার গড়িয়ে নামে,
আমার সঙ্গীতের ভেতর আর্তনাদ গেয়ে ওঠে …
।।প্রতিদিন বিভাগ।।
।। জুন সংখ্যা।।
।। বিষয় - মুক্ত (গুচ্ছ কবিতা) -২৬।।
তপন রায়চৌধুরী-র কবিতা
১.
যদি ইচ্ছে হয়
ইচ্ছে করলেই সবকিছু করা যায় না
ইচ্ছে জাগে মনে।
তখন এটা হয় ওটা হয়
মুকুট মণিপুর চলে যাওয়া যায়
কোনো এক সুন্দর সকালে --
কিংবা নদীর পাশে বসে
নদীর সঙ্গে কথা বলতে সাধ হয়,
তারপর কোনো একদিন
সেই নদীর পার ধরেই
গুটি গুটি পায়ে
সাগরে পৌঁছে যাওয়া যায়
যদি ইচ্ছে হয়
ইচ্ছে জাগে মনে।
২.
সত্যের পুনঃপ্রতিষ্ঠা
এমন সময়ও কখনো কখনো আসে
যখন চরম শয়তানও
উন্মুক্ত করে দেয়
তার শয়তানির গোপন দরোজা,
আর ঠিক তখনই
বাকি শয়তানরাও আতঙ্কে শিউরে ওঠে
তাদের নিজেদের
মৃত্যুদিনগুলোর কথা ভেবে ।
৩.
শ্রেণিবিভাগ
কিছু কিছু মানুষ আছে
যাদের কিছুতেই কিছু হয় না
শত লাঞ্ছনাতেও
অথবা গঞ্জনাতে।
বাস্তবে এরা দৃশ্যমান হয় ভিন্ন ভিন্ন রূপে –
হয় পাকা শয়তান
নয় সাচ্চা সন্ন্যাসী
কিংবা সদাসর্বদা আপন ভাবধারায় বেড়ে ওঠা
একরোখা কিছু মানুষ,
অথবা
নিতান্তই গোবেচারা হাড়হাভাতে একগুচ্ছ মেশশাবকের দল।
।।প্রতিদিন বিভাগ।।
।। জুন সংখ্যা।।
।। বিষয় - মুক্ত (গুচ্ছ কবিতা) -২৫।।
সুধাংশুরঞ্জন সাহা-র কবিতা
।।প্রতিদিন বিভাগ।।
।। জুন সংখ্যা।।
।। বিষয় - মুক্ত (গুচ্ছ কবিতা) -২৪।।
হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা
১.
পিনকোডহীন কবিতা
আমার কবিতায় যে কোনো চমক নেই সেকথা তুমি নিশ্চয় জেনে গেছো এতদিনে
যেমন জীবনযাপনে নেই কোনো নাটকীয়তা, গুরুত্বপূর্ণ বলতে যা বোঝায় ,গভীর অভিনিবেশ ...
আবার পোস্টমডার্ন উল্লম্ফন অথবা ম্যাজিক রিয়েলিজম. ..চিত্রকল্পে নেই কোনো লিবিডোর
ছায়াপাত ,প্রবল পরাক্রম আদম ইভের দোলাচল,আধখাওয়া আপেলের তৎপরতা
এখন কথা বলতে বলতে আমরা চলে যাচ্ছি ক্রমশ
গভীর খাদের কিনারায়. ..ইদানীং মানুষ কে মানুষ বলতে আমার লজ্জা লাগে,আসলে মানুষ বলেইতো কিছু হয় না পৃথিবী বলেই কি কিছু হয় জানি না
সমাজ বলে কিছুই নেই আত্মজীবনীর অংশ
শব্দ ছন্দ বিষয় নির্বাচনে এমনকি চলনে বলনে ভাষা ভঙ্গিমা বলা হয়তো অন্যরকম. ..
আমার কবিতা পড়তে পড়তে পাঠক তুমি নিশ্চয় জেনে গেছো এতদিনে, চমক বলে কিছু নেই. ..
জার্ক বা নাটকীয়তা লিবিডোর ছায়া
সম্পাদক বলেছেন আজ আধুনিক হতে হলে যা যা লাগে. ..নিজেকে প্রশ্ন করেও দেখেছি..
সত্যিইতো মানুষের কথা কি লিখেছি কখনো?
সমাজকে নিয়ে ? তাহলে? তাহলে বড়ু চন্ডীদাস
থেকে মনসামঙ্গল. ...না...তাও তো না ..
তবে? এসব কবিতাকে কি কবিতা বলা যায়. ...শুধু ঐ ক্যাচলাইন ছাড়া ...এসো আজ আমরা এইসব কবিতার নাম দি , পিনকোডহীন কবিতা. ....
.
২.
কাছের মানুষ, দূরের মানুষ
কাছের মানুষ দূরে যায় ,দূরের মানুষ আসে কাছে
বাতাস ভারি অভিমানি
আকাশ তখন লাবণ্যময়. ..
যেমন করে বিভূতিভূষন চিনিয়েছিলেন কিলিমাঞ্জারো, আছে কিন্তু থেকেও নেই কাদম্বরী কি চারুলতা ,তালধ্বজের মতো একাকীত্ব অপু দুর্গার মতো বাৎসল্য আছে কিন্তু থেকেও নেই এই যেমন বিমলাদের স্বাধীনতা হতোদ্যম দীর্ঘশ্বাস বিরস দিন বিরল কাজ ,বাতাস আসে বাতাস যায় ....
বকুল ফুলের মঞ্জরিত শাখায় মৃন্ময়ী বসন্ত নক্ষত্রের নিচে অগ্নিকুন্ডের মতো রঙিন স্মৃতি
যে নারী সবচেয়ে সুন্দর তাকে আমরা আজো দেখিনি, যক্ষপুরীর অসহায় মানুষের কান্নার শব্দ
অথবা মিনির জন্য পিতা রহমতের নিরুদ্দেশ যাত্রা
পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ফুল দেখা আজো হয়নি আমাদের, পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর শিশু
চিরকালীন বহুমূল্য হারিয়ে যাওয়া সম্পর্ক
দিনকেদিন শুধু কাছের মানুষ দূরের হয়
দূরের মানুষ কাছে আসে মুক্তি র খোঁজে ...
এখনো বাতাস বড়ো অভিমানি
আকাশ যেন লাবণ্যময় ....
৩.
লাল নীল ফানুস
এত বড়ো পৃথিবীতে ছোট ছোট ঘটনা গুলোয় আমাকে চঞ্চল করে তোলে ব্যাথা দেয়
গ্রীষ্মের দামালপনা উপেক্ষা করে আমি যেতে চাই
শীতের করাল গ্রাস আমাকে ভয়াবহতার উৎস দেখাতে পারে না,বর্ষার মুহূর্মূহু বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে লাল নীল ফানুস উড়িয়ে দিয়ে চলে যায়. ..
বন্ধুরা ইয়ার্কি করে বলে ,ব্যর্থ মানুষ, একলা ঘরের কোণে থাকে ।
উৎসবের শব্দ আমার কানে আসে না ,হৈ হুল্লোড়ের
ব্যান্ডপার্টি বিয়েবাড়ির সানাই আর গুলির শব্দ শুনতে পেলে দ্রুত নিঃশ্বাস ফেলি
দেওয়ালে ঘড়ির কাঁটায় টিকটিক সহ্য হয়না আমার।
এখন আমি ঠিক মানুষের মতো না
ভাবতেই শিউরে উঠি ,মনে হয় চারিদিকে অন্ধকার
কোথাও কোনও আলো নেই
কোথাও কোনও সুশৃংখল ইশারা নেই
সব আসলে সভ্যতার মারীচ সংবাদ ...
মানুষের পায়ের শব্দ শুনলে মনে হয় হায়নার হাততালি ,রাস্তায় ঘাটে ইস্কুল বাজারে
নারী ও শিশুদের সঙ্গে যদি দেখা হয়ে যায় সটান মাথা নিচু করে ক্ষমা চাই ,যেদিকে গন্তব্যস্হল তার পিছন দিক দিয়ে দৌড় দি।
এভাবে কি মানুষ বাঁচে ,অশ্রুনিনাদে
মাথা নিচু করে বসে মৃত্যুর অপেক্ষায়
কোথায় গেল তোমার শোষণমুক্ত সমাজ
কোথায় গেল তোমার ভালবাসার পৃথিবী
কোথায় মুখ লুকালো সৃষ্টিশীল মানবতা
তুমি কি তাহলে শুধুই কথার কথা, ক্ষমার অযোগ্য?
বন্ধুরা ইয়ার্কি করে বলে ব্যর্থ মানুষ, একলা ঘরের কোণে থাকে ...
।।প্রতিদিন বিভাগ।।
।। জুন সংখ্যা।।
।। বিষয় - মুক্ত (গুচ্ছ কবিতা) -২৩।।
বিশ্বেশ্বর রায়-এর কবিতা
১.
আকস্মিকতা
নদীতীর ভেঙে যায় অন্তর্লীন স্রোতে,
তীরপৃষ্ঠ জানে না তা ভাঙনের আগে।
যেমন জানে না শাখা, হরিৎ পাতারা
কান্ডের অভ্যন্তরে গড়েছে আবাস
কালান্তক ঘূণপোকা। একদা যখন
নব প্রভাতের আলো পত্রপুঞ্জের মুখে
দিতেছিল চুম্বন এঁকে, সহসা তখন
ভুলুণ্ঠিত হল সেই মহীরূহ অকস্মাৎ।
যেমন মেঘশূন্য আকাশ ফেড়ে
নেমে আসে বজ্রনির্ঘোষ ভূমিতলে।
যেমন মধ্যাহ্নের দীপ্র রবি
নিমেষে ঢেকে দেয় কালবৈশাখী মেঘ।
যেমন হাল ভাঙা পাল ছেঁড়া নাবিক
দিশাহারা হয়ে যায় মাঝ দরিয়ায়।
যেমন সাজানো সংসার তছনছ হয়ে যায়
গৃহস্বামীর আকস্মিক প্রয়াণে।
২.
নির্ভুল ঠিকানায়
কোথাও যাবার কথা ছিল? অন্য কোথাও!
ভুল করে এই পথে আসা!
যে তরী অন্য ঘাটে ভেড়বার কথা
ঘাট ভুলে আঘাটায় ভিড়েছে সে শেষে।
সেখানে কি প্রতীক্ষায় ছিল কেউ!
যেমন শবরী ছিল, অহল্যাও!
নাকি কেউ কোনোখানে অপেক্ষায় থাকে না কখনও,
থাকেও নি কোনোদিন কেউ!
এ মধুর ভাবনা নিতান্তই আত্মশ্লাঘা না কি আত্মপ্রবঞ্চনা!
যেখানে গন্তব্য যার
সে ঠিক পৌঁছে যাবে নির্ভুল ঠিকানায়।
যেমন গ্রহ-উপগ্রহ তার নিজস্ব গন্তব্য ছেড়ে
অন্যত্র বিচরণ করে না কখনও।
যদি বা ভ্রান্তি ঘটে জীবনের সরণিতে কারও
অন্তিমে গন্তব্য নির্ভুল।
যত অন্ধকারই হোক পথ তাকে নিয়ে যাবে
নির্ভুল ঠিকানায়।
।।প্রতিদিন বিভাগ।।
।। জুন সংখ্যা।।
।। বিষয় - মুক্ত (গুচ্ছ কবিতা) -২২।।
দুর্গাদাস মিদ্যা-র কবিতা
১.
আষাঢ়
আকাশ ভেঙে বৃষ্টি পড়ার কথা অথচ দেখো
।।প্রতিদিন বিভাগ।।
।। জুন সংখ্যা।।
।। বিষয় - মুক্ত (গুচ্ছ কবিতা) -২১।।
কৃপাণ মৈত্র-র কবিতা
১
একফালি আলো
এক আঁচলা রোদ ওর মুখে ঢেলে দিয়ে
মা বলেছিল, ও নির্ঘাত আলো।
বাগানের সেরা ফুলটা ওর মাথায় টুপুর করে
দিয়ে বলেছিল, ও পরী।
এক খাবলা চাঁদ পেড়ে ওর কপালে
টিপ দিতে দিতে বলেছিল, জোছনা।
চাঁদের কলঙ্ক কপালের কোণে
আঁকতে আঁকতে বলেছিল, কারো
কুনজর লাগে না যেন।
২.
গেরণ
স্কুল ব্যাগটা মাটিতে টানতে টানতে
ও স্কুলে গেল। মারামারি করে বাড়ি ফিরল।
মা বলে, বই খাতা ছিঁড়েছিস। কপালে রক্তের
দগদগে দাগ। চাঁদপানা মুখে কালো
মেঘের ছায়া। বাগানের ফুলগুলো তোর
নির্মম অত্যাচারের শিকার।
৩.
মন্দ আলো
রকে আড্ডা মারা ছেলেগুলোর
ও এখন ময়না। শিষ দিলে ওর
চোখে ইতর হাসি । মুখে অশ্লীল ভাষা।
ওকে পরিহার করেছে অনেকে
নাকি মন্দ মেয়ের সংশ্রব বিষময়।
৪.
আলো আলোর দেশে
করনায় ঘরে ঘরে খিল
ও বাড়ি বাড়ি খবর নেয়। তুতো ভাইদের
রিক্সায় আরোগ্যের ঠিকানা।
ও মরে গেল। ওর লাশ দেখল না কেউ ।
চাঁদ সূর্য বাগানের সেরা ফুল এখন কবরে।
।।প্রতিদিন বিভাগ।।
।। জুন সংখ্যা।।
।। বিষয় - মুক্ত (গুচ্ছ কবিতা) -২০।।
তাপস মাইতি -র কবিতা
১.
কালচক্র
জলের দরে ঢেউ তুলছে সাগর
কোথাও হল্কা করে বইছে না
স্রোতের আচরণ দানব- দৈত্য হয়েও
কেন গোপন প্রলুদ্ধ
এখন ঝড়- বাদলাকে এ্যাভয়েড করার
কি দরকার ছিল আবহাওয়ার
আগুন- বজ্র যে পছন্দ করে, আজ তার
কালবৈশাখী মেঘে কেন লোভ সম্বরণ
ঢেউয়ের উপর নৌকোর সান্নীপাতিক জ্বর
দাঁড়েরা বড্ড দিশেহারা...
২.
সাধের ছায়া
বন্ধ সাটারে ঢেউ খেলানো কার ছায়া
উড়ছে চুলের মতো ওড়না
নাকি ঢ্যাঙাগাছের ডালপালা
স্টেশনের নাম সোনারপুর জংশন
গন্তব্য স্টেশন শিয়ালদহ
হেলা সূর্যটা জানালার রডে মুচকি হাসে
রহস্যের জাল বুনি চোখে, সে নয় তো
যাদবপুর স্টেশনে নেমে মাত্র ডিউটি ধরতে ছোটে
ট্রেন চলে গেল সাধের ছায়াটা ফেলে
৩.
থাকা
সব কথা থেকে দূরে থাকি
বৃষ্টিরা চুল আঁচড়ায় বাতাসের আয়নায়
সব দেখা থেকেও থাকি দূরে
মাঠের ঘাস সবুজ রোপণ করে
দিগন্তের পিঠে
বহুবার হেরে গিয়েও একটি কথা বলিনি
একা ভাল্লুকের মতো
মাথা নিচু করে বনে চলে গিয়েছি
কত কথা দিয়ে সাগর তার
ঢেউ দিয়ে রচনা করেছে এক দীর্ঘ উপন্যাস
একটি গল্পগুচ্ছ বইয়ের মতো
ঘাট, ফেরি বানিয়েছে নৌকো
শুধু একটা তাজমহল হয়ে দাঁড়াবার আশায় থাকি
।।প্রতিদিন বিভাগ।।
।। জুন সংখ্যা।।
।। বিষয় - মুক্ত (গুচ্ছ কবিতা) -২০।।
শান্তনু ঘোষ এর কবিতা
।।প্রতিদিন বিভাগ।।
।। জুন সংখ্যা।।
।। বিষয় - মুক্ত (গুচ্ছ কবিতা) -১৯।।
।।প্রতিদিন বিভাগ।।
।। জুন সংখ্যা।।
।। বিষয় - মুক্ত (গুচ্ছ কবিতা) -১৮।।
।।প্রতিদিন বিভাগ।।
।। জুন সংখ্যা।।
।। বিষয় - মুক্ত (গুচ্ছ কবিতা) -১৭।।