লেবেল

মুক্ত ( গুচ্ছ কবিতা) লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মুক্ত ( গুচ্ছ কবিতা) লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ২ জুলাই, ২০২৪

।। প্রতিদিন বিভাগ।। ।।জুলাই সংখ্যা।। ।।বিষয় -' রথ' বিষয়ক কবিতা -২।। রথ — হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।






  ।। প্রতিদিন বিভাগ।। 

।জুলাই সংখ্যা।। 

।।বিষয় -' রথ' বিষয়ক কবিতা -২।।




রথ

হীরক বন্দ্যোপাধ্যায় 

জয় জগন্নাথ জয়  জগন্নাথ বলতে বলতে 
রথ এ গিয়ে চলল 
আমি দেখলাম একটা রথের মাঝে অসংখ্য রথ
একটা মানুষের মাঝে যেমন হাজারো মানুষ
দড়ি টানছে দড়ি টানছে জীবনের সুখ দুঃখের দড়ি
দড়িতো নয় যেন রথের রশি 
কাছ থেকে দেখলে জগন্নাথের রথযাত্রা এক বিষম 
ট্রে্জেডি কিন্তু দূরে দূরে  থিকথিকে মানুষের ভিড়
বুঝতে পারি এখন বেশ বুঝতে পারি 
জয় জগন্নাথ 
তুমি বিষ্ণু তুমি কৃষ্ণের একটি রূপ মাত্র
তোমার ঘোড়ার রঙ এখনো বরফের মতো সাদা
রশির নাম শঙ্খচূড় নাগিনী
তোমার পাশে ওরা কারা বলভদ্র সুভদ্রা  মনমোহন 
আমি জানি না
আজ শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া
তোমার যাত্রা হলো শুরু, দশদিন দশ রাত পর 
তুমি আবার ফিরবে 
আর মানুষ পৌঁছে যাবে উৎসবে 
জয় জগন্নাথ তুমি সুখ তুমি  ই  সমৃদ্ধি
জ্ঞান ও মোক্ষের আকর জগন্নাথ হে ....

রবিবার, ৩০ জুন, ২০২৪

।প্রতিদিন বিভাগ।। ।। জুন সংখ্যা।। ।। বিষয় - মুক্ত (গুচ্ছ কবিতা) -২৯।। সেন্টু রঞ্জন চক্রবর্তী-র কবিতা।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




      ।।প্রতিদিন বিভাগ।। 


      ।।  জুন সংখ্যা।। 

 ।।  বিষয় - মুক্ত (গুচ্ছ কবিতা) -২৯।।



সেন্টু রঞ্জন চক্রবর্তী-র  কবিতা  


১.

বৃষ্টি


ধারাপাতের ধারার মতো

রিমঝিমিয়ে বৃষ্টি,

টিনের চালায় কে নাচে রে

কতই না সে মিষ্টি।


গাছের পাতা নাড়ে মাথা

কি কথা কয় কারে,

কেউ বুঝেনা কেউ শুনেনা

একদম চুপিসারে।


পায়রা যতো ইচ্ছে মতো

বাকুম বাকুম ডাকে, 

চুড়ুই ছানা ঘরের কোনে

তাকিয়ে দেখে মাকে।


মা বসে নেই ব্যস্ত ভীষণ

ধরবে ফড়িং ঘাসে,

ফিঙে পাখি ঝিঙে লতায়

ফন্দি করে বসে।


টুনটুনিদের টুনটুনানি

দোয়েল পাখির গান,

কান পেতে রই কি যে মধুর

নেচে উঠে প্রাণ।


বৃষ্টি এলে অনাসৃষ্টি

ছড়া কাটার ধুম,

বৃষ্টি ধারার তালে তালে

খোকার গালে চুম।



২.

স্মৃতির কংঙ্কাল


সমুদ্র উঠেছে ফুলে 

ঢেউয়ে পাল দেরে তুলে 

বন্ধ থাক ক্ষানিকটা তরী পারাপার,

ঐ যে মাল্লারা ডাকে 

বিপদ সংকেত মুখে 

চারদিকে কালো মেঘ ক্ষতি আশঙ্কার।


জোড়ছে বইছে ঝড় 

বুক কাপে থরথর 

উত্তাল অতলান্ত মায়াবী জলধি,

দুকূল ভাসিয়ে চলে 

অশ্রুসিক্ত নোনা জলে 

অশান্ত গর্জন তার শুনি নীরবধি।


কূল নাই কিনার নাই 

ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই 

অসীমান্ত বিস্তীর্ণ তটভূমিহীন,

মাস্তুল ভেঙেছে কার 

দুর্ভাগ্য দুর্ভাগার 

বিষাদের বিবর্ণ রঙে আকাশ রঙিন।


বুকের ভিতরে ক্ষত 

জেগে আছে অবিরত 

মরমে মরমিয়া কাঁদে কোন সে বিরহী,

অন্তরের অন্তপুরে 

তানপুরার সুরেসুরে 

বিধুর সংগীতে গায় রহিরহী।


আজন্ম যন্ত্রনা লয়ে 

সকল যাতনা সয়ে 

বয়ে নেয় পৃথিবীর সকল জঞ্জাল,

সান্তনা কোথাও নাই 

নিভৃতে অন্তর ছাই 

ভালোবাসা বুঝি তাই স্মৃতির কংঙ্কাল।




৩.

ধন্য সে দেশ


মাটির বুকে শয়ন পেতে 

ঘুমায় যারা রাতের বেলা,

শান্তি এসে তাঁদের বুকে 

খেলায় সুখে আপন খেলা।


স্বপ্ন দেখায় চাঁদ তারারা 

আকাশ জুড়ে ছড়িয়ে আলো,

কষ্ট মিশায় মাটির সাথে 

ঘুছায় মনের আঁধার কালো।


গগনভেদি অট্টালিকার 

দিন গুনেনা বসে বসে,

গায়ের ঘামে জীবন গড়ে 

নাম লিখে নেয় ইতিহাসে।


এমন সরল মানুষগুলির 

খোঁজ খবর কেউ রাখেনা,

লড়াই করেই বেঁচে থাকে 

কারো কাছেই মুখ খোলেনা।


পরের হিতে নিজর জীবন 

উজার করে দেয় বিলিয়ে,

ভোগ বিলাসের ধার ধারেনা 

সুখী থাকে অল্প নিয়ে।


এমন সোনার মানুষ জন্মায় 

যে দেশের মায়ের কোলে,

ধন্য সে দেশ ধন্য মানুষ 

মাটি তাঁদের যায়না ভুলে।



শনিবার, ২৯ জুন, ২০২৪

।।প্রতিদিন বিভাগ।। ।। জুন সংখ্যা।। ।। বিষয় - মুক্ত (গুচ্ছ কবিতা) -২৮।। অশোক ব্যানার্জী -র কবিতা।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।





      ।।প্রতিদিন বিভাগ।। 


      ।।  জুন সংখ্যা।। 

 ।।  বিষয় - মুক্ত (গুচ্ছ কবিতা) -২৮।।




 অশোক ব্যানার্জী -র  কবিতা 


১.

ঐ আসে ঐ আসে


কাল মাঝ রাতে ঘুমের ঘোরে

শুনতে পেলাম, ফিস্  ফিস্ ক'রে

কে যেন বললো আমার কানে,

গলাটা মধুর মিষ্টি !

বলল, এবারে আসছি আমি

ভুল বুঝো না আমায় তুমি

দেরি হয়ে গেল একটু পথে,

আমি তোমাদের বৃষ্টি !


ঘুম ভেঙ্গে উঠে সকালে দেখি

কোথায় মেঘ কোথায় বা কি !

রোদের তেজ তেমনি আছে

আসেনি বৃষ্টি আমার কাছে

কথা রাখেনি তো সে,

তবু যেন হেসে আকাশটা কয়,

বলেছে যখন আসবে নিশ্চয়

ঐ আসে ঐ আসে ।





২.

কষ্ট


গোবর্দ্ধনের সেবার ছিল

হার্নিয়া অপারেশন।

ঘাবড়ে গেছিল গোবর্দ্ধন

পাচ্ছিল ভয় ভীষণ ।

রাম ডাক্তার বললে দেখে

" ভয় পেওনা তুমি,

টের পাবে না, অপারেশন 

করবো যখন আমি।

বন্ধু আমি তোমার দাদার

ছোট্ট বেলা থেকে,

সাহস আনো ফিরিয়ে বুকে

এবার আমায় দেখে।

আমার ওপর বিশ্বাস রাখো

ভয় পেও না আর,

দিচ্ছি কথা এবার আমি,

দেখবে চমৎকার !"

অপারেশন শেষ হলে 

বল্লেন রাম ডাক্তার ,

"সিঁড়ি দিয়ে ওঠা নামা

বন্ধ এখন তোমার ।

নিদেনপক্ষে আমার কথায়

একটু কষ্ট করে

সিঁড়ি ভাঙ্গা বন্ধ রাখো

একটি মাস ধরে ।

একটি মাস পরে এসে

U•S•G• রিপোর্ট দেখে

রাম ডাক্তার বলেন, "শোনো,

তুমি এখন থেকে 

সিঁড়ি ব্যবহার করতে পারো

বলছি আমি স্পষ্ট ।"

" বাঁচালেন দাদা", বল্লো গোবর,

" হচ্ছিল বেশ কষ্ট ।

পাইপ বেয়ে ওঠা নামার

ধকল সহ্য করে

বড়ই কষ্টে ছিলাম আমি

একটি মাস ধরে !




৩.

চশমা উধাও


চশমাটা না পেয়ে

 বড় জেঠু রেগে লাল

দেখে লাগে সন্দেহ

সব্বার হাল চাল ।

" কোথা গেল?এই ছিল

এক্ষুনি টেবিলে

মজা খানা টের পাবে

খোঁজ করে না পেলে ।‌

ইয়ার্কি নাকি এটা

ঠিক দিন দুপুরে

হঠাৎ কেমন করে

চশমাটা গেল উড়ে ?

ওয়ার্ডরোব, আলমারি,

টেবিলের দেরাজে

তন্ন তন্ন করেও

পাওয়া গেল না খুঁজে !

'হাইলি সাসপিসাস' ! "

বড় জেঠু রেগে কন,

" বাড়িময় গিজ গিজ

করছে তো লোকজন ,

তবু যে কেমন করে

চশমা হলো উধাও 

পুলিশে খবর দেবো

যদি না তা খুঁজে পাও।

তবু দেখি হাসে সব,

এ কেমন চিত্র?

সন্দেহ জাগে মনে,

ঘটনা বিচিত্র !

করছো কি তোমরা?"

গিন্নীকে ডেকে কন,

" লোকাল পুলিশে তুমি

এক্ষুনি কর ফোন।

পুলিশেরা এসে সব 

ঘিরে ফেলে চারদিক

চশমা করুক বার

তদন্ত করে ঠিক ।"

গিন্নী তখন হেসে

বলে এসে তার কাছে,

" এই দেখ চশমাটা

তোমারই তো চোখে আছে ! "



৪.

সাগর পাড়ে সূর্য্যোদয়


সাগর পাড়ে সূর্য্যোদয় !

আকাশে ঐ পেঁজা মেঘের সারি

এ যেন লোহিত সাগরের গম্ভীর সেই রূপ

যেই রূপ দেখে বিস্মিত আমি,তারই

মনোরম এই দৃশ্য খানির

সযতনে একে ছবি

কাব্যিক এক ছন্দ ধারায়

প্রকৃতিই আজ কবি ।

এ যেন এক মহা কাব্য

জল স্থল মহা আকাশে

প্রকৃতির আঁকা কাব্যিক ছবি

রঙে রসে ওঠে হেসে ।

শুক্রবার, ২৮ জুন, ২০২৪

।প্রতিদিন বিভাগ।। ।। জুন সংখ্যা।। ।। বিষয় - মুক্ত (গুচ্ছ কবিতা) -২৬।। বিশ্বজিৎ রায় -এর গুচ্ছ কবিতা।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।





      ।।প্রতিদিন বিভাগ।। 


      ।।  জুন সংখ্যা।। 

 ।।  বিষয় - মুক্ত (গুচ্ছ কবিতা) -২৬।।













 














বিশ্বজিৎ রায় -এর গুচ্ছ কবিতা 




 এক 

খোলসবাসী  

 

অনেকদিন খোলসের ভেতর কাটিয়ে

গুটিগুটি পায়ে  একদিন শহরের কাছে এসে দাঁড়ালাম,

শহর আমাকে দেখে অদ্ভুত চোখে তাকালো,

বুঝে নিতে চাইল আমি ঠিক সেই আমি কিনা …


ঝড়-বৃষ্টি-তীব্র শীত-প্রখর গরম থেকে বাঁচতে

আমি যে এতকাল খোলসের ভেতর কাটিয়েছি

সেটা জানার পর  শহর প্রথমেই যেটা

আমার দিকে ছুঁড়ে দিল, সেটা হলো, তীব্র ঘৃণা

তারপর প্রচণ্ড ধিক্কার জানিয়ে বলল --

তোদের মতো খোলসবাসীতে ছেয়ে গেছে সব জনপদ,

তোরা এখন মূক-বধির-মেরুদণ্ডহীন,

আরাম  উপার্জন করার মেসিন মাত্র,

তোদের গাধার পিঠে চাপিয়ে

আমার বুকের ওপর দিয়ে হাঁটানো উচিৎ ---

 

আমাকে প্রতিদিন খুবলে খাচ্ছে যে যার মতো

সারা শরীর আমার নোংরা করে দিচ্ছে, ছড়িয়ে দিচ্ছে

মারণ বিষ , আর তোরা আত্মমর্যাদা-বিবেক

বিসর্জন দিয়ে আমাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়ে

নিজেরা খোলসে  ঢুকে আরাম করছিস?

 

পারলে, আমাকে বাঁচাতে, নতুন  শপথ নিয়ে

জেগে  ওঠ তোরা …


 

 দুই

খোলসবাসী 

 

সারাদিন অফিস, দোকান, ব্যবসা, সংসার,

প্রেম, পরকীয়া, ছল্লিবল্লি করে, দু-পাত্তর মেরে, 

মাংসের হাড় চিবিয়ে যে যার মতো বিছানায় সেঁধিয়ে যাচ্ছি -

ওদিকে যারা সারা শহরটাকে নিজেদের পুটলির ভেতর

বেঁধে নিয়ে উড়ে যেতে চাইছে, স্নিগ্ধ আকাশী নীল মুছে

বিষ নীল রঙ করে দিতে চাইছে, তাদের চোখে ঘুম নেই,

আধো-অন্ধকার ঘরে দলবেঁধে তারা নানা শলা করছে,

নতুন মানচিত্র আঁকছে, গোপন অস্ত্রে শান দিচ্ছে,

ভয়ংকরেশপথ নিচ্ছে---

 

শহরের  আলো ঝলমল অট্টালিকায় শুয়ে

আমরা কিছুই টের পাচ্ছিনা,

নিশ্চিন্তে নাক ডেকে সবাই ঘুমা্চ্ছি …

 



 তিন

খোলসবাসী 


 

চেয়েছিলাম আইসক্রিমের মতো ঠাণ্ডা

স্নিগ্ধ একটা জীবন

সারাদিন সুশীতল থাকবে  মন

মেজাজটা হয়ে থাকবে সারাজীবনের ‘ফাণ্ডা’—

 

অথচ হলো কী? হু-হু করে ঢুকে পড়লো

মরুভূমির  যত গরম হাওয়া

লণ্ডভণ্ড করে দিল স্নিগ্ধ জীবন গাওয়া

তীব্র গ্রীষ্মের কাছে

নিষ্প্রভ শীত হেরে গেলো

 

 



চার

খোলসবাসী  


 

নিজের ফটোফ্রেমগুলোর ভেতর

নিজেই ঢুকে পড়ে  

খুজি শৈশবের দামালপনা

কৈশোরের আত্মভাবনা

যৌবনের হারিয়ে যাওয়া ছায়া---

তারা আমাকে ডেকে শোনায়

অজস্র হারিয়ে যাওয়া গল্প,

পাহাড় পেরিয়ে উঠে আসা জীবন-সঙ্গীত

নষ্ট পথে দিন কাটানো সন্ধ্যা-সকাল …

 

আমি শুনি আর মুছি, মুছে আবার

নতুন করে আঁকতে চাই সব,

আমার তুলি থেকে অন্ধকার গড়িয়ে নামে,

আমার সঙ্গীতের ভেতর আর্তনাদ গেয়ে ওঠে  …

 

 

 


বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন, ২০২৪

।।প্রতিদিন বিভাগ।। ।। জুন সংখ্যা।। ।। বিষয় - মুক্ত (গুচ্ছ কবিতা) -২৬।। তপন রায়চৌধুরী-র কবিতা।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।





      ।।প্রতিদিন বিভাগ।। 


      ।।  জুন সংখ্যা।। 

 ।।  বিষয় - মুক্ত (গুচ্ছ কবিতা) -২৬।।



তপন রায়চৌধুরী-র  কবিতা 



১.

যদি ইচ্ছে হয়



ইচ্ছে করলেই সবকিছু করা যায় না

ইচ্ছে জাগে মনে।


তখন এটা হয় ওটা হয়

মুকুট মণিপুর চলে যাওয়া যায়

কোনো এক সুন্দর সকালে -- 

কিংবা নদীর পাশে বসে

নদীর সঙ্গে কথা বলতে সাধ হয়,

তারপর কোনো একদিন

সেই নদীর পার ধরেই

গুটি গুটি পায়ে

সাগরে পৌঁছে যাওয়া যায়


যদি ইচ্ছে হয়

ইচ্ছে জাগে মনে।




২.

সত্যের পুনঃপ্রতিষ্ঠা



এমন সময়ও কখনো কখনো আসে

যখন চরম শয়তানও 

উন্মুক্ত করে দেয়

তার শয়তানির গোপন দরোজা, 

আর ঠিক তখনই

বাকি শয়তানরাও আতঙ্কে শিউরে ওঠে

তাদের নিজেদের 

মৃত্যুদিনগুলোর কথা ভেবে ।



৩.

শ্রেণিবিভাগ


কিছু কিছু মানুষ আছে

যাদের কিছুতেই কিছু হয় না

শত লাঞ্ছনাতেও

অথবা গঞ্জনাতে।


বাস্তবে এরা দৃশ্যমান হয় ভিন্ন ভিন্ন রূপে –

হয় পাকা শয়তান

নয় সাচ্চা সন্ন্যাসী

কিংবা সদাসর্বদা আপন ভাবধারায় বেড়ে ওঠা

একরোখা কিছু মানুষ,


অথবা

নিতান্তই গোবেচারা হাড়হাভাতে একগুচ্ছ মেশশাবকের দল।

বুধবার, ২৬ জুন, ২০২৪

।।প্রতিদিন বিভাগ।। ।। জুন সংখ্যা।। ।। বিষয় - মুক্ত (গুচ্ছ কবিতা) -২৫।। সুধাংশুরঞ্জন সাহা-র কবিতা।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।





      ।।প্রতিদিন বিভাগ।। 


      ।।  জুন সংখ্যা।। 

 ।।  বিষয় - মুক্ত (গুচ্ছ কবিতা) -২৫।।



সুধাংশুরঞ্জন সাহা-র কবিতা



সত্তা : এক

জীবনে বিভ্রমের কোনো শেষ নেই।
মায়াও অশেষ।
কে যে কখন কীভাবে জড়িয়ে ধরবে,
তা বোঝা বড়ই মুশকিল।
সে দুঃখ হোক কিংবা আমোদ,
বিরহ কিংবা আত্মদহন!


সত্তা : দুই

এই বোঝা, না বোঝার টানাপোড়েন
চলছে তো চলছেই।
খাঁচার দরজা খুলে দিলে 
পাখি ডানা মেলে উড়ে যায়।
আবার ফিরেও আসে কদাচিৎ।
সে কি কোনো দূরের ইশারা রেখে যায়!


সত্তা : তিন

আদতে এসব নিজের সঙ্গে নিজের কথোপকথন।
এতো অবজ্ঞা, অপমান, ব্যর্থতা
ছড়িয়ে রয়েছে চারপাশে
বিপন্নতা যেন অন্তহীন এক সমুদ্রসমান



সত্তা : চার

ঠিক জানি না, এই কি তবে সত্তার ভাব-বিভাব!
সেই ঘাটেই কি বাঁধা আছে
শেষ পারাণির নৌকোখানি?
জীবনের দাঁড়ে বসা ত্রিকালপাখিটি
কি সত্তার খোঁজ চায় অহর্নিশ!

মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০২৪

।।প্রতিদিন বিভাগ।। ।। জুন সংখ্যা।। ।। বিষয় - মুক্ত (গুচ্ছ কবিতা) -২৪।। হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।





      ।।প্রতিদিন বিভাগ।। 


      ।।  জুন সংখ্যা।। 

 ।।  বিষয় - মুক্ত (গুচ্ছ কবিতা) -২৪।।



হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা





১.

পিনকোডহীন কবিতা


আমার কবিতায় যে কোনো  চমক নেই সেকথা তুমি নিশ্চয় জেনে গেছো এতদিনে 

যেমন জীবনযাপনে নেই  কোনো নাটকীয়তা, গুরুত্বপূর্ণ বলতে যা বোঝায় ,গভীর  অভিনিবেশ ...

আবার পোস্টমডার্ন উল্লম্ফন অথবা ম্যাজিক রিয়েলিজম. ..চিত্রকল্পে নেই  কোনো লিবিডোর 

ছায়াপাত  ,প্রবল পরাক্রম আদম ইভের দোলাচল,আধখাওয়া আপেলের তৎপরতা 

এখন কথা বলতে বলতে আমরা চলে যাচ্ছি ক্রমশ 

গভীর  খাদের কিনারায়. ..ইদানীং মানুষ কে মানুষ  বলতে  আমার লজ্জা লাগে,আসলে মানুষ বলেইতো কিছু হয় না পৃথিবী বলেই কি কিছু হয় জানি না 

সমাজ বলে কিছুই নেই আত্মজীবনীর অংশ

শব্দ ছন্দ বিষয়  নির্বাচনে এমনকি চলনে বলনে ভাষা ভঙ্গিমা বলা হয়তো অন্যরকম. ..

আমার কবিতা  পড়তে পড়তে পাঠক তুমি নিশ্চয় জেনে গেছো এতদিনে, চমক বলে কিছু নেই. ..

জার্ক বা নাটকীয়তা লিবিডোর ছায়া 

সম্পাদক বলেছেন আজ আধুনিক হতে হলে যা যা লাগে. ..নিজেকে প্রশ্ন করেও দেখেছি..

সত্যিইতো মানুষের কথা কি লিখেছি কখনো? 

সমাজকে নিয়ে  ? তাহলে? তাহলে বড়ু চন্ডীদাস 

 থেকে  মনসামঙ্গল. ...না...তাও তো না ..

তবে?  এসব কবিতাকে কি কবিতা বলা যায়. ...শুধু ঐ ক্যাচলাইন ছাড়া ...এসো আজ আমরা এইসব কবিতার নাম দি , পিনকোডহীন কবিতা. ....

.



২.

কাছের মানুষ, দূরের মানুষ 


কাছের মানুষ দূরে যায় ,দূরের মানুষ আসে কাছে

বাতাস ভারি অভিমানি 

আকাশ তখন লাবণ্যময়. ..


যেমন করে বিভূতিভূষন চিনিয়েছিলেন কিলিমাঞ্জারো, আছে কিন্তু  থেকেও নেই কাদম্বরী কি চারুলতা ,তালধ্বজের মতো একাকীত্ব অপু দুর্গার মতো বাৎসল্য আছে কিন্তু  থেকেও নেই এই যেমন বিমলাদের স্বাধীনতা হতোদ্যম দীর্ঘশ্বাস বিরস দিন বিরল কাজ ,বাতাস আসে বাতাস যায়  ....

বকুল ফুলের মঞ্জরিত শাখায়  মৃন্ময়ী বসন্ত নক্ষত্রের নিচে অগ্নিকুন্ডের মতো রঙিন স্মৃতি 

যে নারী সবচেয়ে সুন্দর তাকে আমরা আজো দেখিনি, যক্ষপুরীর অসহায় মানুষের কান্নার শব্দ 

অথবা মিনির জন্য পিতা রহমতের নিরুদ্দেশ যাত্রা

পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ফুল দেখা  আজো হয়নি আমাদের, পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর শিশু 

চিরকালীন বহুমূল্য হারিয়ে যাওয়া সম্পর্ক 

দিনকেদিন শুধু  কাছের মানুষ দূরের হয় 

দূরের মানুষ কাছে আসে মুক্তি র খোঁজে ...


এখনো বাতাস  বড়ো অভিমানি 

আকাশ যেন লাবণ্যময় ....




৩.

লাল নীল ফানুস


এত বড়ো পৃথিবীতে ছোট  ছোট ঘটনা গুলোয়  আমাকে চঞ্চল করে তোলে ব্যাথা দেয় 

গ্রীষ্মের দামালপনা উপেক্ষা করে আমি যেতে চাই

শীতের করাল গ্রাস আমাকে ভয়াবহতার উৎস দেখাতে পারে না,বর্ষার মুহূর্মূহু বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে লাল নীল ফানুস উড়িয়ে দিয়ে চলে যায়. ..

বন্ধুরা ইয়ার্কি করে বলে ,ব্যর্থ মানুষ, একলা ঘরের কোণে থাকে ।

উৎসবের শব্দ আমার কানে আসে না ,হৈ হুল্লোড়ের 

ব্যান্ডপার্টি বিয়েবাড়ির সানাই  আর গুলির শব্দ শুনতে পেলে দ্রুত নিঃশ্বাস ফেলি 

দেওয়ালে ঘড়ির কাঁটায় টিকটিক সহ্য হয়না আমার।


এখন আমি ঠিক  মানুষের মতো না 

ভাবতেই শিউরে উঠি ,মনে হয় চারিদিকে অন্ধকার 

কোথাও কোনও আলো নেই 

কোথাও কোনও সুশৃংখল ইশারা নেই 

সব আসলে সভ্যতার  মারীচ সংবাদ  ...


মানুষের পায়ের শব্দ শুনলে মনে হয় হায়নার হাততালি ,রাস্তায় ঘাটে ইস্কুল বাজারে 

নারী ও শিশুদের সঙ্গে যদি দেখা হয়ে যায় সটান মাথা নিচু করে ক্ষমা চাই ,যেদিকে গন্তব্যস্হল তার পিছন দিক দিয়ে  দৌড় দি।


এভাবে কি মানুষ  বাঁচে ,অশ্রুনিনাদে

মাথা নিচু করে বসে মৃত্যুর অপেক্ষায় 

কোথায় গেল তোমার শোষণমুক্ত সমাজ

কোথায় গেল তোমার ভালবাসার পৃথিবী 

কোথায় মুখ লুকালো সৃষ্টিশীল মানবতা 

তুমি কি তাহলে শুধুই কথার কথা, ক্ষমার অযোগ্য? 

বন্ধুরা ইয়ার্কি করে বলে ব্যর্থ মানুষ, একলা ঘরের কোণে থাকে  ...



 


সোমবার, ২৪ জুন, ২০২৪

।।প্রতিদিন বিভাগ।। ।। জুন সংখ্যা।। ।। বিষয় - মুক্ত (গুচ্ছ কবিতা) -২৩।। বিশ্বেশ্বর রায়-এর কবিতা।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।





      ।।প্রতিদিন বিভাগ।। 


      ।।  জুন সংখ্যা।। 

 ।।  বিষয় - মুক্ত (গুচ্ছ কবিতা) -২৩।।




বিশ্বেশ্বর রায়-এর  কবিতা 


   ১.            

আকস্মিকতা 


নদীতীর ভেঙে যায় অন্তর্লীন স্রোতে,

তীরপৃষ্ঠ জানে না তা ভাঙনের আগে।

যেমন জানে না শাখা, হরিৎ পাতারা 

কান্ডের অভ্যন্তরে গড়েছে আবাস 

কালান্তক ঘূণপোকা। একদা যখন 

নব প্রভাতের আলো পত্রপুঞ্জের মুখে

দিতেছিল চুম্বন এঁকে, সহসা তখন 

ভুলুণ্ঠিত হল সেই মহীরূহ অকস্মাৎ।

যেমন মেঘশূন্য আকাশ ফেড়ে 

নেমে আসে বজ্রনির্ঘোষ ভূমিতলে।

যেমন মধ্যাহ্নের দীপ্র রবি

নিমেষে ঢেকে দেয় কালবৈশাখী মেঘ।

যেমন হাল ভাঙা পাল ছেঁড়া নাবিক 

দিশাহারা হয়ে যায় মাঝ দরিয়ায়।

যেমন সাজানো সংসার তছনছ হয়ে যায়

গৃহস্বামীর আকস্মিক প্রয়াণে।

                      


    ২.       

নির্ভুল ঠিকানায় 


কোথাও যাবার কথা ছিল? অন্য কোথাও!

ভুল করে এই পথে আসা!

যে তরী অন্য ঘাটে ভেড়বার কথা

ঘাট ভুলে আঘাটায় ভিড়েছে সে শেষে।

সেখানে কি প্রতীক্ষায় ছিল কেউ!

যেমন শবরী ছিল,  অহল্যাও!

নাকি কেউ কোনোখানে অপেক্ষায় থাকে না কখনও, 

থাকেও নি কোনোদিন কেউ!

এ মধুর ভাবনা নিতান্তই আত্মশ্লাঘা না কি আত্মপ্রবঞ্চনা!

যেখানে গন্তব্য যার 

সে ঠিক পৌঁছে যাবে নির্ভুল ঠিকানায়।

যেমন গ্রহ-উপগ্রহ তার নিজস্ব গন্তব্য ছেড়ে

অন্যত্র বিচরণ করে না কখনও। 

যদি বা ভ্রান্তি ঘটে জীবনের সরণিতে কারও 

অন্তিমে গন্তব্য নির্ভুল। 

যত অন্ধকারই হোক পথ তাকে নিয়ে যাবে

নির্ভুল ঠিকানায়।

           

রবিবার, ২৩ জুন, ২০২৪

।।প্রতিদিন বিভাগ।। ।। জুন সংখ্যা।। ।। বিষয় - মুক্ত (গুচ্ছ কবিতা) -২২।। দুর্গাদাস মিদ্যা-র কবিতা।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।





      ।।প্রতিদিন বিভাগ।। 


      ।।  জুন সংখ্যা।। 

 ।।  বিষয় - মুক্ত (গুচ্ছ কবিতা) -২২।।





দুর্গাদাস মিদ্যা-র  কবিতা 


১.

আষাঢ় 


আকাশ ভেঙে বৃষ্টি পড়ার কথা অথচ দেখো

কেমন কাঠ ফাটা রোদ্দুর খেলে যাচ্ছে পরকীয়া -খেলা। 
প্রকৃতিও এখন যেন নির্লজ্জ
বিচার বুদ্ধি সব হারিয়ে  তারই সৃষ্ট সন্তানদের 
অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপ করছে দানবীয় রূপে।
কমনীয় ভাব সব যার আধার ছিল প্রকৃতির হৃদয় এখন শক্ত পাথর যেমন।



২.
পাপ

আগুনে হাত দিলে ঝলসে যায় হাত 
এই সত্য অজানা নয় তবু এ সত্য জেনেও
আগুনে দিই হাত ।
বৃক্ষ ছেদন ঘোরতর অপরাধ বাঁচার স্বার্থে
তবু লোভ আর লালসায়  এই অপরাধ  সংঘটিত হয় ।এ যদি পাপ না হয় তবে আর কাকে বলে পাপ । তাই খরা হয়ে অভিশপ্ত জীবন বয়ে চলি আজ আমরা।শত শত মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত
প্রাকৃতিক প্রতিশোধে।
-

শনিবার, ২২ জুন, ২০২৪

।।প্রতিদিন বিভাগ।। ।। জুন সংখ্যা।। ।। বিষয় - মুক্ত (গুচ্ছ কবিতা) -২১।। কৃপাণ মৈত্র-র কবিতা।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।


     




      ।।প্রতিদিন বিভাগ।। 


      ।।  জুন সংখ্যা।। 

 ।।  বিষয় - মুক্ত (গুচ্ছ কবিতা) -২১।।





কৃপাণ মৈত্র-র   কবিতা 


      

একফালি আলো


এক আঁচলা রোদ ওর মুখে ঢেলে দিয়ে 

মা বলেছিল, ও নির্ঘাত আলো। 

বাগানের সেরা  ফুলটা ওর মাথায় টুপুর করে

 দিয়ে বলেছিল, ও পরী। 

এক খাবলা চাঁদ পেড়ে  ওর কপালে

 টিপ দিতে দিতে বলেছিল, জোছনা।

 চাঁদের কলঙ্ক কপালের কোণে

আঁকতে আঁকতে  বলেছিল, কারো

 কুনজর লাগে না যেন।


                

২.

  গেরণ

 

 স্কুল ব্যাগটা মাটিতে টানতে টানতে

 ও স্কুলে গেল। মারামারি করে  বাড়ি ফিরল।

  মা বলে, বই খাতা ছিঁড়েছিস। কপালে রক্তের

 দগদগে দাগ। চাঁদপানা মুখে কালো

 মেঘের ছায়া। বাগানের ফুলগুলো তোর

 নির্মম অত্যাচারের শিকার। 


  ৩.       

 মন্দ আলো


রকে আড্ডা মারা ছেলেগুলোর

 ও এখন ময়না। শিষ দিলে ওর

 চোখে ইতর হাসি । মুখে অশ্লীল ভাষা।

 ওকে পরিহার করেছে অনেকে

নাকি মন্দ মেয়ের সংশ্রব বিষময়। 


      

৪.

আলো আলোর দেশে


 করনায় ঘরে ঘরে খিল 

ও বাড়ি বাড়ি খবর নেয়। তুতো ভাইদের

 রিক্সায় আরোগ্যের ঠিকানা। 

ও মরে গেল। ওর লাশ দেখল না কেউ । 

চাঁদ সূর্য বাগানের সেরা ফুল এখন কবরে।

শুক্রবার, ২১ জুন, ২০২৪

।প্রতিদিন বিভাগ।। ।। জুন সংখ্যা।। ।। বিষয় - মুক্ত (গুচ্ছ কবিতা) -২০।। তাপস মাইতি -র কবিতা।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।





      ।।প্রতিদিন বিভাগ।। 


      ।।  জুন সংখ্যা।। 

 ।।  বিষয় - মুক্ত (গুচ্ছ কবিতা) -২০।।






তাপস মাইতি -র  কবিতা 



১.

কালচক্র


জলের দরে ঢেউ তুলছে সাগর

কোথাও হল্কা করে বইছে না


স্রোতের আচরণ দানব- দৈত্য হয়েও

কেন গোপন প্রলুদ্ধ

এখন ঝড়- বাদলাকে এ্যাভয়েড করার

কি দরকার ছিল আবহাওয়ার


আগুন- বজ্র যে পছন্দ করে, আজ তার

কালবৈশাখী মেঘে কেন লোভ সম্বরণ


ঢেউয়ের উপর নৌকোর সান্নীপাতিক জ্বর

দাঁড়েরা বড্ড দিশেহারা...



২.

সাধের ছায়া


বন্ধ সাটারে ঢেউ খেলানো কার ছায়া

উড়ছে চুলের মতো ওড়না

নাকি ঢ্যাঙাগাছের ডালপালা


স্টেশনের নাম  সোনারপুর জংশন

গন্তব্য স্টেশন শিয়ালদহ


হেলা সূর্যটা জানালার রডে মুচকি হাসে

রহস্যের জাল বুনি চোখে, সে নয় তো

যাদবপুর স্টেশনে নেমে মাত্র ডিউটি ধরতে ছোটে


ট্রেন চলে গেল সাধের ছায়াটা ফেলে




৩.

থাকা


সব কথা থেকে দূরে থাকি

বৃষ্টিরা চুল আঁচড়ায় বাতাসের আয়নায়

সব দেখা থেকেও থাকি দূরে

মাঠের ঘাস সবুজ রোপণ করে

দিগন্তের পিঠে

বহুবার হেরে গিয়েও একটি কথা বলিনি

একা ভাল্লুকের মতো

মাথা নিচু করে বনে চলে গিয়েছি

কত কথা দিয়ে সাগর তার

ঢেউ দিয়ে রচনা করেছে এক  দীর্ঘ উপন্যাস

একটি গল্পগুচ্ছ বইয়ের মতো

ঘাট, ফেরি বানিয়েছে নৌকো


শুধু একটা তাজমহল হয়ে দাঁড়াবার আশায় থাকি


বুধবার, ১৯ জুন, ২০২৪

।প্রতিদিন বিভাগ।। ।। জুন সংখ্যা।। ।। বিষয় - মুক্ত (গুচ্ছ কবিতা) -২০।। শান্তনু ঘোষ এর কবিতা।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।





      ।।প্রতিদিন বিভাগ।। 


      ।।  জুন সংখ্যা।। 

 ।।  বিষয় - মুক্ত (গুচ্ছ কবিতা) -২০।।




শান্তনু ঘোষ এর কবিতা 



১.
ভয়


এইমাত্র বাড়ির গেটের কাছে হর্ন বাজালো
স্কুলে যাওয়ার প্রাইভেট কার,
মা তার বাচ্চাকে হাত ধরে নিয়ে
গেল স্নেহে।
কোন বাবা মা না চায় তার সন্তান
বড় হয়ে দেশ দশের একজন হবে,
কার না ভালো লাগে শুনতে
এমনটাই হওয়া উচিত।

এই তো সেদিন পাড়ার রবীন্দ্র জয়ন্তীর সন্ধ্যায়
বিট্টুর মাকে বেশ আনন্দের সঙ্গেই রীতেশের মা বলে,
আমাদের রীতেশের ঠিক বাংলাটা আসে না।
এ কথা শুনে
বিশ্বাস করো এ কথা শুনে
আমার মাথা বনবন করে ঘোরে ,
আর আমি হা হয়ে রবীন্দ্রনাথকে দেখতে থাকি।
মা হয়ে মাতৃভাষার এমন অপমান
আমাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খায়,
বুকে কষ্ট হয় খুউব।

ঠিক কেমন হলে বড় হওয়া বোঝায়
আমি তা জানি না, তবু 
মাতৃভাষা মায়ের দুগ্ধ সমান তা জানি ;
এখন এইভেবে আমার ভয় হচ্ছে যে
একদিন সমস্ত সন্তান ভুলে না যায় ভালবাসতে মাকে,
আজ মাতৃভাষায় কথা বলা মানুষের উদ্দেশ্যে বলি: বড় হও
কালিদাসের মতন ভুল
করো না কখনো।














২.
প্রতিদিন



প্রতিদিন কিছু না কিছু অভিজ্ঞতা জমে ঝুলিতে।
জীবনে পথ চলার পথে সাবধান হই
                      কখনো কখনো 
অনায়াসে কেটে যায় বাধা-বিপত্তী।

সমস্যায় জেনে বুঝে পড়ি না ।
অভিঞ্জতা এক প্রকার ঞ্জান যা সকলকে 
             সফলতার দিকে নিয়ে যায় 
                              ব্যর্থতা ঢাকে 
   
ভোরের মতন আলো ফোটে
অন্ধকার ফিকে হয়
                              ক্রমশ
       
এইভাবে জীবনে পরিচ্ছন্ন বাঁচা শিখি রোজ 
                            এবং 
                   
বদলায় জীবন দর্শনও।





৩.
অন্তরে ছায়ার মতন নিবিড় স্থিরতা
 


মানুষের ভালোবাসা ছাড়া বড় কোন পুরস্কার নেই
ভালোবাসা ছাড়া সব পুরস্কারের গায়ে ধুলো জমে
ভালোবাসা একটা মায়া
ভালোবাসা একটা বন্ধন 
ভালোবাসা একটা গান,
যে গানের সুরে জীবনে ফেরে ছন্দ।

ভালোবাসা থাকলে
মানুষ থাকে পাশে
ভালোবাসার পাশে দাঁড়ায়
ভালোবাসা আশীর্বাদ হয়ে ঝরে,
এ মাটির পৃথিবীতে মানুষ থাক
আর মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা থাক 
ভালোবাসা ছাড়া নেই বড় কোন পুরস্কার।



৪.
ছায়া 
 


যে আঙুল শত্রুর দিকে উদ্যত হয়
সে হাত কখনই ছাড়তে নেই 
আমি সে হাতের সঙ্গে আছি।

একটা হাতই দাঁড়াতে সাহায্য করে
প্রিয়জন হয় সে মুখ,
কণ্ঠে তার কণ্ঠ মেলায় মানুষ।

আমি ওই হাতের সঙ্গে আছি
আমি ওই মুখের সঙ্গে আছি 
আমি ওই ছাতার তলায় আছি
বাঁচার জন্য, বেঁচে থাকার জন্য,

আর কে না আশা করে? 

আঁধার ভাঙা এক সকাল।



৫.

নির্ভরতা

 

মাটিকে আপন করার মধ্যেই আনন্দ
এ মাটিকে ঘিরেই গড়ে ওঠে মানুষের বসতি 
যে মাটিকে আপন করতে জানে
মানুষ তাকে আশ্রয় দেয়,
মাটির কথা যে ভাবে 
মানুষ তাকে হৃদয়ে রাখে।

মাটিকে আপন করার মধ্যেই আনন্দ 
যে মাটিকে আপন করতে জানে
মানুষ তার হয়ে যায়,
মানুষ সঙ্গে থাকলে
ভয় থাকে না মাটি হারানোর।

মঙ্গলবার, ১৮ জুন, ২০২৪

।।প্রতিদিন বিভাগ।। ।। জুন সংখ্যা।। ।। বিষয় - মুক্ত (গুচ্ছ কবিতা) -১৯।। বিকাশরঞ্জন হালদার -র কবিতা।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।





      ।।প্রতিদিন বিভাগ।। 


      ।।  জুন সংখ্যা।। 

 ।।  বিষয় - মুক্ত (গুচ্ছ কবিতা) -১৯।।




বিকাশরঞ্জন হালদার -র  কবিতা 

১.
কাছে না পেলেও 
 এক মুহূর্ত  কাছে না পেলেও, এই গোলাপী-আকাশ ছুঁয়ে বলছি, তোমাকে ভালোবাসি!



২.
সাঁঝের ঝিঙে ফুল 
বুকের বাগানে চৌ-কাঠ পেরোনো দুপুর, জানলার আলো সময় বলে দেয়...তোমার ঠোঁটে ফুটে ওঠে সাঁঝের  ঝিঙে ফুল!



৩.
আমি শুধু বাঁচি 
বাকিটুকু কর্তব্যে অবিচল, আমি শুধু বাঁচি 'ঐ' বুকে!


৪.
তোমার  অবহেলা আমার
তোমার  অবহেলা আমার বসন্ত, আমার ঢেউ! 


৫.
বুকে পুষে রাখি
চলার পথের এ-ঢেউটা'কে, বুকে পুষে রাখি, এ-ঢেউ থেকে উদ্দামতা প্রাণে মেখে নিই... স্বপ্ন দেখে বাঁচি!

সোমবার, ১৭ জুন, ২০২৪

।প্রতিদিন বিভাগ।। ।। জুন সংখ্যা।। ।। বিষয় - মুক্ত (গুচ্ছ কবিতা) -১৮।। সোমা চক্রবর্তী-র কবিতা।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।





      ।।প্রতিদিন বিভাগ।। 


      ।।  জুন সংখ্যা।। 

 ।।  বিষয় - মুক্ত (গুচ্ছ কবিতা) -১৮।।




সোমা চক্রবর্তী-র  কবিতা 

১.
সুর ফোটে ঠোঁটে

নিরাশা'কে আশা ভেবে, বুকের আর্তনাদ'কে চাপা দিয়ে, অস্ফুট প্রতিধ্বনি'র অনুরণন, হৃদয়ের দেওয়ালে

সুর ফোটে ঠোঁটে!
 চুরমার জমাট রক্ত-ঘাম

তমসা ঘুচিয়ে প্রদীপ জ্বালার পালা
সারা জীবনে...

২.
নিপুণ তুলির টানে 

রক্তের অক্ষরে লেখালেখি রচনা করে দৃশ্যপট নিপুণ তুলির টানে ফুটেওঠে, মায়াবী ছবি!

মুহূর্ত  সংবেদনশীল হয়, হৃদয়ের অভ্যন্তরে। সে-ছবি লিখে রাখা পরম আন্তরিকতায়...সযত্নে...

 শীতল প্রাণ  জুড়িয়ে দিতে, বড় ছায়া রেখে যায়! কত মুহূর্ত, ঘন অন্ধকারেরও সজীব।  কত মুহূর্ত তুলির ছোঁয়ায় জীবন্ত  ক্যানভাসে

কালি-কলম ভরিয়ে দেয় প্রাণ...

৩.
প্রতিদিন প্রতিনিয়ত 

ফেরারী মনটাকে নিরুদ্দেশের কলমে খোঁজার চেষ্টা বৃথা। তাই মনটাকে ফেরারী হতে না দিয়ে, বেঁধে রাখার নিপুণ চেষ্টা চলে নিয়ত 

ব্যক্তিত্বের সাথে ব্যক্তির সংঘাত

 ক্ষতবিক্ষত  মনে প্রলেপ লাগানো, কৌতুহল উদ্রেক করে

মনকে বাঁধবার চেষ্টা, প্রতিদিন প্রতিনিয়ত...

৪.
আমি কিন্তু আছি

আমি আছি থাকবো। এটাই শেষ কথা

 হয়তো মেঘে ঢাকা। আকাশ কেঁদে নামিয়ে দেবে বৃষ্টি। আমি কিন্তু আছি। থাকছি, মেঘের আড়ালে 

দৃষ্টির আড়ালে থাকাও থাকা

 এক'দিন দু'দিন, এ-ভাবে সরে যাবে মেঘের আবরণ। রোদের ছটায়  ভাসবে পৃথিবীর শরীর আলোর দীপ্তিতে পৃথিবী সজীব হবে 

মেঘ সরিয়ে দেখা দিয়ে বলবো- 'আমি আছি'...

রবিবার, ১৬ জুন, ২০২৪

।প্রতিদিন বিভাগ।। ।। জুন সংখ্যা।। ।। বিষয় - মুক্ত (গুচ্ছ কবিতা) -১৭।। নিমাই জানার কবিতা।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।





      ।।প্রতিদিন বিভাগ।। 


      ।।  জুন সংখ্যা।। 

 ।।  বিষয় - মুক্ত (গুচ্ছ কবিতা) -১৭।।





নিমাই জানার কবিতা 


(১) 
নিহত পরমাত্মিক দেবীর ঘুম ও তৃতীয় পর্যায় সারণির রঙ্গন দৃশ্য

থাইল্যান্ডের মদ ও উৎকীর্ণ শিলালিপি সৃষ্টিকারী যে দেবীটি আমার শরীর থেকে বেরিয়ে মাঝরাতের মৃত মাছের আঁশ নিয়ে শিথিল কবরে নেমে উলঙ্গ হয়ে যাওয়া কুয়াশার শ্বাসকষ্ট শুনছিল সে ধীরে ধীরে মোমবাতির মতো একটি শীর্ণকায় লাশ ভেগাসের রাসেল ভাইপার সাপ নিয়ে উবু হয়ে সন্ন্যাসীর রোগাক্রান্ত পোশাক পরে নিল।
চতুর্থ পিতা কোষের তৃতীয় আনুপূর্বিক খোলস খুলছেন আমার মতো অক্ষম ক্ষত্রিয়ের শরীর থেকে , পোশাক খোলা খুব সহজ কথা নয় পারদ মাখানো ভাগাড়ের দুর্গন্ধ ও খলসে মাছের চোখের থেকেও আরো কোন বিধবা চোখ আলমারিতে দুলতে থাকা সদ্য ফাঁসি খাওয়া আমার কোন সহপাঠীর দেহটা ঝুলছে চাবি গোছার অনিয়ন্ত্রিত পেন্ডুলামের দোলনকাল থেকে ছিটকে আশা বিস্ফারিত চোখের দর্শন ও দৃশ্য নিয়ে , কে মহাভারত লিখেছিল হে সুদৃশ্য হাড়ের চাকু ? আমি স্টেনলেস টিফিন কৌটোয় জমিয়ে রাখি পূর্বপুরুষদের জন্ম রস ও সিঁদুরের ছদ্মবেশ নামধারী কোন ডিনামাইট , মাঝরাতে দীর্ঘ চিৎকার করতে করতে সূচালো ব্লেড দিয়ে কেটে দিচ্ছি সব কারারক্ষীদের মাথা । ব্লেড আরেকটা ব্লেডকে ফোর প্লে করছে , চুমু খাচ্ছে
হত্যা কাকে বলে হে কৃষ্ণনগরীয় পুলস্ত্যের বৃষ্টি ? আমি ঠিক বুঝতে পারি পাইন গাছের হিমশৈলীয় গিরিখাত পেরিয়ে যখন পাইন গাছের কাঠগুলো লাল গোলাপ ফুলের মতো গর্ভবতী বারুদ মুখে নিয়ে ছোট ছোট কাঠের বাক্সে ঘুমোতে চলে যায় সে তখন মহাজ্ঞানীর মতো নিশ্চুপ হয়ে যায়। ৫০ তম ফাঁসির জন্য ঘন্টা বাজাবে নরকের উলঙ্গ কাপালিক ঘরে । যৌন বারুদ জ্বলল এবার ট্রাই সেমিস্টার থ্রি ফিঙ্গারিং প্রিম্যাচিউরড গর্ভপাত ঘরে ।








(২) 
ব্যাধ ও ডার্ক কোটেড একটি জিঙ্কেট গর্ভিনী ব্লাউজের পর্দা

পিতার তিনবার জন্ম হয়েছিল সাদা কুঁচকানো অ্যালুমিনেটেড ডার্ক স্পীচ , ডার্ক সোল , ডার্ক রিজিয়ন অফ ব্রেন স্কাল , একটা ক্রূর হাসি টাইম মেশিনে চড়ে অদূর ঘটমান অতীতে যাওয়া যায় একটা সাইকোটিক ওষুধ খেয়ে । প্রতিটি স্নান ঘরের শেষ রুমে পতঞ্জল যোগ দর্শনের একটা ক্যালেন্ডার ঝুলছে । হি হি হাসছে তিমি মাছের ডিম থেকে সদ্য মুক্তি পাওয়া নরকাধম বাচ্চা গুলো ।
ঘুম বড় দরকারি গুদাম ঘরে আটকানো ফিশিং কার্টুনের ভেতরে জমা থাকা ভ্যানিলা আইসক্রিমের ভেতরে প্যাঁচ খাওয়া অবৈধ যকৃত বিক্রির থেকেও ।ঘুমের একটা হাফ হাতা ব্লাউজ আছে । ঘুমের ও একটি নিজস্ব ঘুম আছে ।  অথচ নিজস্ব কোন হোমাগ্নি নেই । ঘুম সকলকেই অন্তর্বাসের ইলাস্টিকটা পরিয়ে মাঝরাতের ঘন নিউক্লিয়াসের পর্দা বরাবর হাঁটতে বাধ্য করে ঘুমের তিনটি পিশাচের ঠোঁটে ঝুলে থাকা বিষধর গ্রেহাউন্ড ন্যাক্রোপলিস নেলপালিশ আছে। উপবাস থেকে নেমে ঘোর খুনিদের একবার তপস্যা করা হোক , যে তাকে তরল উষ্ণতার চাদর মাখিয়ে পাথর তৈরি করে দেয় , মাথার বীভৎস করোটি থেকে নেমে আসে চরণামৃতের নৌকা । কে এমন প্রহার করে গেল রাতে ? আমি স্পষ্ট শুনতে পাই একা একটা লোমশ মানুষ নিজের শরীরকে নিজেই জড়িয়ে উর্বর কর্ষণ অনুর্বর সংকর্ষণ মাদকাসক্ত নেশাখোর অভিযোজন পিশাচবৎ করে গেল । আয়না একমাত্র আমার তড়িতাহত যোজন যন্ত্র ।
আমি নিস্তব্ধ ধ্যানে বসি । এখনো ঝিনুকের ভেতরের নরম মাংসের সুস্বাদু রস আর আয়নায় আমার উলঙ্গ দৃশ্য স্থগিত রাখা হোক, ক্ষয় হয়ে যাওয়া উইপোকা খাওয়া ভাঙা কাঁচের লেলিহান অ্যালকোহলিক মৃতদেহটা নিজেই নিজেকে কাঁধে করে শ্মশান পর্যন্ত নিয়ে যায় । মৃতদেহটা মাঝে মাঝে দুটো পা ফাঁক করে ঘুমিয়ে পড়ে ।

(৩) 
একটি মৃত স্বীকারোক্তি ও স্কাই ব্লু চুড়িদারের মহাকর্ষীয় ছাই

ধ্বংস কতবার নেমে আসতে পারে শান্তনু ? কতবার মৃত সাপকে নিয়ে কাগজ ফুলের মতো টাঙিয়ে অহংকারে উল্লাস করতে পারি হে নধর দেবতা ?  নদীর ভেতরে কতটা গভীরতা থাকলে একটা মানুষ কনজেস্টেট পাপ করে? কতবার মাঝরাতে নিজের অবৈধ ব্যঞ্জনবর্ণ হারিয়ে গেলে কীটনাশকের দোকান থেকে মানুষ বারবার ফিরে এসে আত্মহত্যার ষড়যন্ত্র করে ? পৃথিবীতে আত্মহত্যার জন্যই মানুষ বারবার পৃথিবীতে ফিরে আসে । আত্মহত্যা করবে বলে সে নিম ও আকাশমনির কাঠ দিয়ে কাঠের পালঙ্ক তৈরি করে । চেয়ারে বসে ঠান্ডা পানীয়ের সাথে ওষুধ মিশিয়ে খায় । গলায় শ্মশানের ছাই মাখে আর পায়ুদারে বিষ মাখানো মোমবাতি ঢুকিয়ে নেয় । সেবিকাদের পোষ্টিকতন্ত্র আমার খুব প্রিয়
সকলেই কাঁদে না কাঁদতে নেই ও । সকলের থাইরয়েডের অসুখ হচ্ছে বলে মানুষের বিকারগ্রস্ত হয়ে রাত্রিবেলায় নিজের ঘুমকে নিজেই গিরগিটির রাষ্ট্রের সাথে পরকীয়া কথা বলে মৃত্যুর বাঁশি বাজায় ।
পায়ুদ্বার যৌনাঙ্গ নরকের মহোৎসব জাহান্নামের বৃষ্টি মলমূত্র ভেসে থাকা কঠিন নরকের মতো তীব্র পেটের যন্ত্রণা মাথার ঘিলু ছটফট করা ঘাতক সবাই একসাথে বাদামের ঝোল খেলো , পোশাক থেকে পায়ের নিচে জমে থাকা বড় জাহাজডুবির দৃশ্য দেখে এতো আর কেউ আগে কখনো কাঁদেনি ।  আমি আর কোনো আবক্ষমূর্তির তলদেশে যাইনি ভয়ে যাতে স্ট্যাচুর ভেতর থেকে মানুষটা বেরিয়ে আমার মাথায় তার ১০০ বছরের জমানো কফ ঢেলে দেয় । আমার সব বীজগাণিতিক ঘাম মিথ্যা। শুনশান এখান থেকেই প্রতিদিন বাসি আঙ্গুলের ফাঁক দিয়ে এভারেস্টের উচ্চতা মাপি নরম মাংস ধরে ধরে ,  সর্দির ভিতরে হলুদ ও রক্ত মেশানো নির্জন নদীর বৃষ্টি গুলোকে ঘরের কোণে লুকিয়ে দেখতে থাকি উলঙ্গ হয়ে যাওয়া পাথরের আয়নায় ।

(৪) 
ইহলোক ও অষ্টাদশ পরজন্মের নীলাভ ঋণাত্মক সম্রাজ্ঞীরা

মাঝে মাঝেই আমার পিশাচের থেকেও আরো ঝাঁঝালো কোন অ্যামাইনো ফ্লুইড ভর্তি গর্ভের জলভর্তি বেলুনটা বিস্ফারিত হয়ে ফেটে যেতেই মুখগহ্বরের সরলরৈখিক কিম্ভূত বিকৃত হাসপাতালের মৃতদেহের মলমূত্র , উটের কালো পায়খানা লেগে থাকা জামাটাকে দেখে আমার ভয় হয়। জলজ জানোয়ারের ভেতরে যে আছে তার অনেকদিন আগেই সম্পাদ্যের সুক্রোজ স্খলন ঘটে গেছে। রোজ রাতে দুই হাতে চটচট করতে থাকা ক্যালসিয়ামের মতো নিঃশব্দ নর্তকীরা নাচছে টেলিকাস্ট এ খাওয়া গলার ভেতর , একটা তরঙ্গ । ঋতুপর্ণ তরঙ্গ । অক্ষর ভেঙে যাচ্ছে সেখানে , বিশুদ্ধ সংকেত তৈরি হচ্ছে , অ্যাসিডিক দৃশ্য পড়ছে একটা সিলুয়েট পর্দায় । পাগল হাসছে মাথার ব্যান্ডেজ দেখে ।‌
মহাকর্ষীয় অতি চুম্বকীয় একটা সুতো ঝুলে আছে অস্ত্রের মতো ,  আর কোন ক্ষেপণাস্ত্র নেই। সকলেই ঋষির মতো অন্ধকার কুরে কুরে খায় । একদিন নিবন্ধীকৃত নির্দেশনামা রেখে গভীর অযৌন অভয়ারণ্যে হারিয়ে যাব এক তাল মাংসের মতো নষ্ট চতুরাশ্রম কারবারীদের ফেলে । নেমে আয় নরকের ঘোড়া তোকে আমি ব্যাঙের মতো শক্ত হয়ে যাওয়া দুটো পাথরের স্তন চিরে খাওয়াই  , মাথাটা বনবন করে ঘুরছে ।
অট্টহাসিতে ঝনঝন করে ওঠে গ্রহদের জীবাশ্ম । ঘোড়াটি সমর্পিত অগ্ন কুণ্ড । শ্বেত তেজ । নীলাভ বায়ু । অষ্টম রিপুর ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র পরমাণুবিশেষ । সব ফোটনেরা ছিন্ন ভিন্ন করে দিচ্ছে কৃষ্ণনগরের কালো বিড়ালের পশুর লোম মায়াবী নারীদের পাতলা ফিনফিনে তুলতুলে কার্পেট পোশাক রেশমের ঠোঁট জ্বলজ্বল করছে বলে । নিজে রাতেই হাঁটতে হাঁটতে ছিঃ ছিঃ জাহান্নামের ডিম কিনে আনি !  জমির কাছে ঝুলে থাকা সাপেদের পোষ মানায়  জানালাটি বীভৎস ময়ূরাক্ষী নৃত্যের নাচতে নাচতে ইন্দ্রের অশ্লীল অন্তঃপুরে ঢুকে যাচ্ছে এখন চাইছে বৃহৎ দেবতা

(৫) 
মহা ক্যাকটাসের পাচনতন্ত্র আর তৃতীয় বমির প্রকারভেদ


নিষিদ্ধ পল্লী থেকে ফিরে আসার সময় কালো কুচকুচে কুকুরীরাই আমার গায়ের গন্ধ শুঁকে নেয় খোসা ছাড়ানো বাদামের তলপেট ধুয়ে খাবে বলে । আমি চিনি জড়ানো বিস্কুটের পুরুষাঙ্গগুলো চিবোতে চিবোতে আইডিয়াল জুতোর দোকানের সামনে পড়ে থাকা নষ্ট কালো জুতোর শুকতালার মতো আমার শরীরে অসংখ্য কালো বিষের ফোঁড়া গুলো আবিষ্কার করি । আমার দেওয়ালে আটকানো বহুগামিতার ঘড়িটা পুরুষতান্ত্রিক প্রজনন তন্ত্রের পোশাক পরে আমারই অন্তেষ্টিক্রিয়ার হাড় চিবিয়ে খাচ্ছে ।
মধ্যবলয় চর্মরোগের সালফিউরিক আংটির মতোই একা কে ব্রহ্মাণ্ডের বৃহৎ চক্র ঘোরাতে ঘোরাতে মহাকাশ ভেদ করে হাঁ মুখ বিস্তার করে ? ঋতু ও রাতের অশৌচ পাথর দাঁতের খনিগুলো খেয়ে নেয় এ পবিত্র মুহূর্ত ? এই সন্ধিক্ষণে রাক্ষস জন্ম নেবে ভুল করে । সূর্যের মতো একটা বৃহৎ ডিম ফাটার উল্লাস ।
এই লোমশ পাহাড়ে একাকী কুকুরী ডেকে ওঠে নিজস্ব শ্বাসবায়ুর শব্দে , তামাটে বর্ণের ব্রহ্মচর্য ফেলে গার্হস্থের অবিনশ্বর মুকুট পরে আছি । এখানে পলল পাথরের কথা হোক । গ্রহরা প্রদর রঙের ক্ষুধা ফেলে বৃহৎ উল্টানো ঝুড়িতে নিজেদের খোলসের আগ্নেয় মূর্তিমান ধাতুর রস ফেলে নিঃশব্দ মৈথুনে লিপ্ত হয়েছে বারবার ।  শাঁখের মতোই আমারও ছদ্মবেশ সাপ ঘরে ঢুকে আসে ।আজ ফেলে রাখি চতুরাশ্রম ভঙ্গিমায় ,  প্রতিটি গাছের নখর দর্পণ শেষে কালো কালো তক্ষক ঘাম বিন্দু শুষে নেয় । কে এসে জানালায় স্বর্ণাক্ষরে লিখে যাবে পায়ের উৎকৃষ্ট খোদাইফলক দরজার আদিম মৈথুন শব্দ আর আসবাবপত্রটির মৃদু সংকর ভূমি জাত কোন বিস্ফোরণ ইঙ্গিত ? পিতা চক্রাসনে উবু হয়ে বসে আছে নিজের শরীরের ওপর । অসম্ভব সবই অসম্ভব থুতুর মতো ছড়িয়ে আছে সবকিছুই ।
এখনই মহা পৃথিবীর অক্ষর ভেঙে ভেঙে হরিণী তৈরি করে কোন সাদা পুষ্পবটিকার লাল নীলাদ্রি ছায়া গাছের প্রতিবিম্বের মতো কোন কারিগরি বস্ত্রালয় । আমার দুর্গন্ধ যোগ জম পুঁজ লালা রস ভর্তি শরীরটাকে ঢাকার জন্য একটি ইরাবতী নারী আঁশটে রঙের হরিদ্রাহ ঠোঁট আর পিত্তরসের মতো ধুম্রজালকের গোলাপ বাগানে একটা নষ্ট হাড়ের মালা রেখে যাচ্ছে ।
বৈদেহী নীলিমা সর্দার মাংসের কারবারীর মতো আমাকে থ্রি কোয়ার্টার কোয়ান্টাম কক্ষের নিপুন কর্পূর জবাই করা ডিম্বানুর ক্যাকটাস ছায়া গাছের রস দিয়ে গেছে রজস্বলা মাংসের প্যাকেটে ভরে , ১৯তম দিনের গর্ভনিরোধক বড়িতে তক্ষকের বিষ ছিল।