লেবেল

শারদ অর্ঘ্য - মা আসছে লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
শারদ অর্ঘ্য - মা আসছে লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর, ২০২২

শারদ অর্ঘ্য। মা আসছে —৪৩।।বিজয়ায় মাকে — মলয় সরকার।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।




শারদ অর্ঘ্য

মা আসছে —৪৩



বিজয়ায় মাকে

মলয় সরকার


মা চলে যাস কৈলাসেতে সিংহবাহন চড়ে,

আমরা তো মা যেমন ছিলাম, তেমনি থাকি পড়ে।

কদিন যে তুই মণ্ডপেতে ছিলি আলোয় মোড়া-

মন্ত্রী নেতা আশপাশেতে কতই গাড়ী ঘোড়া;

ধূপ ধুনা আর পূজার বহর হাজার প্রদীপ জ্বেলে-

তাদের ছেড়ে বাইরে কি তোর আসার সময় মেলে!

চোখ পড়ে কি আমাদের ওই অন্ধকারের ঘরে,

কি করে যে দিন কাটে মা, এক খানা কাপড়ে -

ভাতের পরে নুন জোটেনা, রাত্রে কুপীর তেল-

আমাদের কি যায় আসে মা পাকলে পরে বেল!

আসন তো তোর পাতাই থাকে রাজার আঙিনায়,

কবে আসিস, কবেই বা যাস, আমরা অসহায়।


যেদিন মা তুই সত্যিকারের আসবি মাটির ঘরে,

সোনার আসন পেতে দেব মোদের বুকের পরে।

সত্যিকারের অসুর যদি মারিস সেদিন শূলে,

নাচব সবাই তোদের নিয়ে মাথায় নেব তুলে।

মঙ্গলঘট সাজিয়ে দেব হৃদয় কুসুমে,

বুকের মাঝে জড়িয়ে তোকে ভরিয়ে দেব চুমে।


বুধবার, ৫ অক্টোবর, ২০২২

শারদ অর্ঘ্য ।। মা আসছে —৪১।।বিপরীত বোল —স্মৃতি শেখর মিত্র।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 


শারদ অর্ঘ্য 

মা আসছে —৪১



বিপরীত বোল

স্মৃতি শেখর মিত্র

                  

           
শিলাবতী নদী তীরে কাশের গুচ্ছ
গ্ৰামের পুকুরে শাপলা, শালুক,শ্বেতপদ্মের
উপরে ভ্রমরের গুঞ্জনে ও আনাগোনা শুরু
হলেই চিত্ত উদ্বেলিত হয়ে ওঠে, এবার 
আশ্বিনের পদার্পণ হয়েছে বোধহয়। আমার
বাড়ির উঠানে শিউলি গাছটাও ফুলে ফুলে
সাদা হয়ে যায়।মা আসছেন। মায়ের আগমনীবার্তা গ্ৰামে গ্ৰামান্তরে ছড়িয়ে পড়ে এইসব নানান
ফুলের সৌরভে।গ্ৰামের ছেলে ছোকরার দল
প্রস্তুতি নেয় কোন পালা নামাবে এবার।
পূজার কটা দিনে সাজ সাজ রব পড়ে যায়।

ছাড়া ছাড়া ভাব নিয়ে পূজা হয় না। এখন
সরকারী অনুদান চাই।সরকারী অনুদানে
অভ্যস্ত এখন প্রতিটি পূজা প্যান্ডেল। এছাড়াও
বাড়ি বাড়ি চাঁদা তো আছেই। " তোমরা সব আনন্দ
উৎসব করো ।" 

যদিও সেই সম্প্রীতির যুগ আর নেই।
ঢাকে ঢাকে বেজে ওঠে বিপরীত বোলের
বাজনা নামো পাড়া উপর পাড়ায়।










মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর, ২০২২

শারদ অর্ঘ্য।। মা আসছে -৪০।।শরতের পদধ্বনি - গোবিন্দ মোদক।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 


শারদ অর্ঘ্য

মা আসছে -৪০



শরতের পদধ্বনি 

গোবিন্দ মোদক


বাদল মেঘ বিদায় নিচ্ছে ….

সুনীল আকাশ টাঙিয়ে দিচ্ছে তার সামিয়ানা, 

আর তার বুকের ওমে সম্পৃক্ত হয়ে 

আয়েশী পেঁজা মেঘ ভেসে যাচ্ছে ….

দূর্বা ঘাস তার পাতার ডগায় জমিয়ে রাখছে

ভোরের শিশির-বিন্দু মুক্তোর মতো।

নদীর ধারে কাশের বনে বাতাসের নিভৃত আনাগোনা, 

গেরুয়া সাদা পোশাক পরে 

নাচতে চলেছে শিউলির দল,

আর খাল-বিল জুড়ে মেতে উঠেছে 

শাপলা-শালুকের দল –

ওরা জানে – ক‘দিন পরেই মা আসছেন 

আর সেই বার্তা নিয়ে দীঘির জলে

একে একে ফুটে উঠছে পদ্ম-কলি।

খবর যাচ্ছে জবা টগর স্থলপদ্মের পাড়ায়।

ওদিকে সনাতন ঢুলি সাজিয়ে নিচ্ছে 

তার সাবেক ঢাক …

একলা বাউল একতারা বাজিয়ে আগমনী গাইছে

আর মৃৎ-শিল্পীদের চোখে ঘুম নেই। 

মা আসছেন যে!









সোমবার, ৩ অক্টোবর, ২০২২

শারদ অর্ঘ্য।। মা আসছে —৩৯।।শরৎ এসেছে — সামসুজ জামান।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





শারদ অর্ঘ্য 

মা আসছে —৩৯




শরৎ এসেছে 

সামসুজ জামান


 শরৎ এসেছে তার আপন স্বরূপে।
প্রকৃতিতে তাই দেখি সোনা ঝরা আলো।
ভেসে যাওয়া মেঘ তার প্রতিচ্ছবি ফে'লে
সরোবরে আহা!একি শোভা জাগালো!

মন থেকে গ্লানি যেন ভেসে ভেসে যায়,
বয়ে যাওয়া নির্মল হাওয়ায় হাওয়ায়।
যে ছবি হয়েছে আঁকা শাপলা-শালুকে,
তা-ই যেন ভেসে ওঠে মনে আর বুকে।

হতে পারে আকাশের চাঁদ পান্ডুর,
কিন্তু যামিনীর সাথে লুকোচুরি খেলা
চরাচরে সৃষ্টি করে কী অপূর্ব সুর!
সেই গান, সেই ছবি, যায় কিগো ভোলা?

সবুজ শ্যামল মাঠ জুড়ে নাচে ধান।
কখনো বা নদী ভ'রে ছুটে আসে বান।
দস্যি মেয়ের দেখো খামখেয়ালী।
শরৎ রানী রে তুই রাজার দুলালী!

বাজাস মঙ্গল শঙ্খ আর আগমনী গান।
যেদিকে দু'চোখ মেলি মা দুর্গার মুখ।
বিনা ভেদাভেদে ভরে সকলের প্রাণ।
ওরে মেয়ে তুই দিস অকৃপণ সুখ!

দিবি যদি অকুণ্ঠ সুধা ঢেলে দে।
বিনিময়ে করোনার যত বিষ নে।
তোর আছে দুর্গতিনাশিনী বরাভয়।
দশভূজে আগলে নিশ্চিত আনবি জয়।।