লেবেল

সোমবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২১

বইমেলা সংখ্যার গল্প ।। বিবাহ - বার্ষিকী— শ্যামলী বর্ধন




বইমেলা সংখ্যার গল্প  

বিবাহ - বার্ষিকী

শ্যামলী বর্ধন



বিবাহ বার্ষিকী অনুষ্ঠানে অর্কেস্ট্রায় গান গাওয়ার জন্য আমি আমার মেয়েকে নিয়ে গেছিলাম গোশালার কাছে একটি গলির ভিতর জজ সাহেবের পঁচিশতম বিবাহ বার্ষিকীর অনুষ্ঠান।  সন্ধ্যা সাত টার সময় গেলাম। বিরাট প্যান্ডেল,  লাইট জ্বলছে চারদিক।  ক্কফি, পুচকা, চা এর স্টল। তারপর বিরাট ভূরিভোজের আয়োজন।  কার বিবাহ বার্ষিকীর অনুষ্ঠান সেটা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে বসে রইলাম। আমার মেয়ে গান যেখানেই করতে যায়,  আমি সাথে থাকি। যার ২৫ তম বিবাহ বার্ষিকী সে এসে পরিচয় দিলেন।
                   হালকা সমুদ্র সবুজ রঙের পাঞ্জাবী পরিহিত। মনে হলো খুব চেনা। কোথায় যেন দেখেছি। ঘুরছে ফিরছেন কথা বলছেন অতিথি দের সাথে। আমি সামনে দেখছি তাকে, কিছুই বুঝতে পারছি না।  যাকেই জিজ্ঞেস করছি বলছেন,  বাইরে থাকেন। এ ছাড়া ঠিক মতো কিছুই বলতে পারছেন না। তার স্ত্রী,  শালীরা একে একে পরিচয় দিতে এলেন। শালীরা আমার পূর্ব পরিচিত। তাদের সাথে কথা বললাম। কিন্তু ঘুরে ফিরে সে একই প্রশ্ন, কোথায় যেন দেখেছি? গান শেষ হলো, খাওয়া দাওয়া করছি। এমন সময় জজ সাহেব ও ওনার স্ত্রী কাছে এসে বললেন, ভালো করে খেতে ও আর কিছু লাগবে কি না জিজ্ঞেস করলেন। যতো সামনে থেকে দেখছি, ততই মনটা ঘুরে ফিরে খচ খচ করতে থাকে। খেতে বসে একজন কে দেখে চমকে উঠলাম। পরিচয় করে জানতে পারলাম, ওনার মেজো ভাই এর এই অনুষ্ঠান।  তিনি বড়ো ভাই। কথায় কথায় বললাম আপনাদের বাড়ি অলঙগী ডাঙায় না? হ্যাঁ,  খুব সহজ ভাবেই বললেন। আপনার বাবা,  মা এর সাথে খুব পরিচয় ছিলো।  ওনারা আছেন? না, নেই। আচ্ছা, আপনার যে ভাই বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিল, সকলের অমতে বিয়ে করেছিল, সে কি আপনার ভাই? বললেন, হ্যাঁ।  আজ মা, বাবা চলে গেছেন, ভাই পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে যে অপরাধ করেছিলেন, আজ তার পঁচিশ বছরের ছেলে কে নিয়ে দুই বাড়ির বন্ধন সুদৃঢ় করার জন্যই এই অনুষ্ঠান।  সবাই খুশিতে ডগোমগো। আজ বিমল জেলা কোর্টের জজ সাহেব।  শুধু মা, বাবা দেখতে পারলেন না। তিন ছেলের মধ্যে মেজো ছেলে টিই পড়াশোনায় খুব ছিল।  উজ্জ্বল ভবিষ্যত। বাড়ির সবার খুব আশা ছিল। 
                কিন্তু একটা ছোটো খাটো চাকরি পাওয়ার পরই এরকম ঘটনা ঘটালো। ঘরের সবাই শোকে মুহ্যমান। ভালো ছেলে টিই এরকম করলো। মা, বাবা ত্যজ্য পুত্র করলো। তখন আম ওদের বাড়ির খুব কাছাকাছি অলঙগী ডাঙাতেই ভাড়া থাকতাম। আজ অনুষ্ঠান এ এসে প্রায় কুড়ি বছর পর আরো নিশ্চিত হলাম। যাকে সে বিয়ে করেছে তারা মোট পাঁচ বোন ও এক ভাই। তার স্ত্রী -র মেজো বোন বিহারী। কাছেই বাড়ি ওদের। সবার আগেই বের হয়ে বিয়ে করে পালিয়ে যায়।  তারপর আর দেখতে পাইনি। কতদিন পর দেখছি চেহারায় বয়সের ছাপ পড়েছে, চুলেও কলপ পড়েছে। সেই রকমই চশমা পরে আছে। আজ থেকে কুড়ি বছর আগে এরকম বিয়ে কেও সহজে মেনে নিতো না। পাঁচ বোনের মধ্যে চার ও পাঁচ নম্বরের দুই বোন একটা নার্সারি স্কুল চালাতো অলঙগী ডাঙাতে। সেই স্কুলে আমার ছোটো মেয়েটি পড়তো। তাই খুব ভালো করে চিনি। সব বোন ও এক ভাই এই ভাবেই বিয়ে করেছে। এখনও জজ সাহেবের শ্বশুর শাশুড়ী বর্তমান। ছোট শালী টিই একমাত্র ভালোবাসার লোক কে পায়নি। ছেলে টি বাবা, মা বাড়ির লোকের চাপে অন্য মেয়েকে বিয়ে করেছে। কিন্তু গোপন সম্পর্ক এখনও রেখেছে। এই অনুষ্ঠানে এসে দেখছি পুরোনো প্রেমিকের সাথে লুকিয়ে চুরিয়ে কথা বলছে। সেও নিমন্ত্রণ হয়ে এসেছে।  বিবাহ বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে মাইক, বাজনা, সানাই, অর্কেস্ট্রার গান সব ছাপিয়ে হু হু করে কেও বা কারা যেন কাঁদছে। জজ সাহেবের ঘর আলোয় আলোময়। ভেসে যাচ্ছে সব একাকার। অভিমানে মা, বাবা এসব দেখে যেতে পারলেন না। পালিয়ে গিয়ে বিয়ে তাই ঘটা করে ঢাক ঢোল বাজিয়ে জাঁক জমকে পঁচিশ বছরের বিবাহ বার্ষিকী মানালেন।


--------------------------------------------------------------------------------------------
লাইক করুন 👍👍👍👍👆👆👆👆👆👆👆  

মতামত জানান। 
ankurishapatrika@gmail. com 
--------------------------------------------------------------------------------             

   
  

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন