অণুগল্পে বসন্ত —১৮
ছেঁড়া চিঠি
অসিত কুমার রায়/ রক্তিম
অবাক হয়ে আগুন রাঙা পলাশ গাছের ঘুঘুপাখী দেখছিল আকাশ । শান্তার সুন্দর পলাশের সাজ সে দেখে ও দেখলনা, অভিমানী শান্তা তখন পশ্চিমের লাল রোদ্দুরে মিলিয়ে যেতে থাকে। ঠিক তখুনি একটা কাঠবেড়ালী গাছ বেয়ে নেমে আকাশের পায়ের উপর দিয়ে চলে গেল। আকাশ খেয়াল করল শান্তা ধারে কাছে নেই। নেই মানে নেই; দূরে আলের ধারে দেখে অস্পষ্ট শান্তা চলে যাচ্ছে, চিৎকার করে ডেকেছিল আকাশ শান্তাকে সেই ডাকে সে আর পিছু ফিরে দেখেনি। কোনদিন ওর জীবনে ফিরে আসেনি।
আকাশ এখনো সেই নিস্পাপ অভিমানী শান্তাকে খুঁজে ফেরে। তার কথা ভাবে ইট কাঠ পাথুরে জঙ্গলে; আকাশ ভীষণভাবে ব্যস্ত এক ব্যাঙ্ক করনিক। এই শহরে পলাশ গাছ সে কোনদিন দেখেনি । খুব মন খারাপ করে যখন পলাশের দিন আসে। সময় কোথায়? রুপালী চাঁদের আলোয় মুখ ডুবিয়ে পাহারা দিতে হয় চাঁদের জ্যোৎস্না। সোনাঝুরিতে সে চলে যায় মাঝে মাঝেই বসন্ত দিনে । যদি সে শান্তা’র দেখা পায়, সে বলবেই বলবে সেদিনের সেই ভুল যেন ক্ষমা করে দেয়। আকাশ নিজেকে আর অপরাধী মনে করবেনা।
জানি এই চিঠি শান্তা কোনদিন ও পাবেনা। শান্তার ডাকবাক্সের ঠিকানা পাল্টে গেছে চিরদিনের জন্যে। তবু ও আকাশ চিঠি লেখে আর টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে ফেলে।

ভালো লাগলো। সুন্দর হয়েছে শান্তা ও আকাশের গল্প।
উত্তরমুছুন