লেবেল

বুধবার, ১০ মে, ২০২৩

উন্মুক্ত কবিতাগুচ্ছ—১৭।। নিমাই জানার পাঁচটি কবিতা।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 


উন্মুক্ত কবিতাগুচ্ছ—১৭
নিমাই জানার পাঁচটি কবিতা
১.

হিরণ্ময় পুরুষ ও ভিনিগার জ্বরের দারুচিনি পাঁজর বুক

তিন অশ্ব ক্ষমতা সম্পন্ন বাদামী আসবাবপত্রের মাথায় বসে থাকা অদৃশ্য ২π ক্ষেত্রফলের হরিণীরা নীল ঘুমের পর সমুদ্রের অন্তর দেশে বিলীন হয়ে যায় স্থাপত্যের ভেতরে থাকা অ্যামোনিয়াম মিশ্রিত অযৌন নিগ্রো নারীদের মতো , দুটো ঠান্ডা আগুন রঙের লৌহ বলয় নিয়ে রাতের তেজস্ক্রিয় শরীর গুলোতে মিথিলা রেখে আসি হিরন্ময় পুরুষদের কাটা হাতের রেডিয়াস  , আমি বারবার পিশাচ হতে চেয়েছি রাতের জলদেশের ডুবে থাকা মৎস্যজীবীদের গলার ব্যাসার্ধ মাপবো বলে
হিলিয়াম যোজ্যতার ভেতরে থাকা কোয়ান্টাম পাঁজর বুকের মতো গভীর সমুদ্রের  জ্যামিতিক পায়ে ঝিনুক ঝিনুকের মদিরা গন্ধ , পাতালের তলদেশে থাকা সাতটি মুখ বিশিষ্ট সাপের মধ্যম ফনা থেকে নির্গত ঠোঁটের অন্তর্বাস ছেড়ে যাওয়া পোতাশ্রয়ের ঝিনুক নাবিকেরা খোলা কাঁচের বোতল থেকে তিন পেগ দারুচিনি গিলছে খোলস ওঠা ভিনিগার জ্বরের থেকে  , বারবার মাত্রাহীন বর্ণের মৃত্যুর ভেতরে থাকা মণিকর্ণিকার শ্মশানের মৃত নাভি নিয়ে আমি কতবার কালো রঙের ধূসর ভাতে আঢাকা ছাই দিয়ে উলঙ্গ পৃথিবীর কম্পাঙ্ক নির্ণয় করছিলাম , ক্যালসিয়াম কার্বাইডের ভেতরে থাকা ফোলা ফোলা চোখের তলায় জমে থাকা নিতম্ব তলদেশে এক বিজোড় সংখ্যার ধ্বংসাবশেষ ,  লুকিয়ে কাঁদছি পৃথিবী আজও আত্মহত্যা করার অ্যানালজেসিক মন্ত্র জানার পর মায়াপুর থেকে ফিরে আসে খালি হাতে



২.
স্ত্রীলিঙ্গ সজারু ও অর্জুন সরোবরের অন্ধ্রপ্রদেশ

মায়ের মতো বৈসাদৃশ্য পাখিওয়ালারা আর কোন পৃথিবীর নীলাভ কক্ষদেশে নেমে লাল সরোবরাহের প্রস্থচ্ছেদ করেনি আমার দুই হাতে আঙ্গুল থেকে গজিয়ে ওঠা ধান চাষীদের মতো ,
মুক্ত  অঙ্কুরোদগমের সব সর্পিলাকার শেকড় গুলো হাওয়ায় গুচ্ছ মূলের নিয়ে উড়ে যাচ্ছে বিকারহীন অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে ,আমার ক্রিটিকাল সাবকিউটিনাস পাইন গাছের মতো রক্তাক্ত থলথলে নীলাভ অঙ্কুরোদগম নিচে জমা আগুনের দেহ থেকে বেরিয়ে আসা জীবাশ্ম ভর্তি মৃতদেহেরা একটা নীলাভ স্ত্রীলিঙ্গ সজারুদের সাথে হিমাঙ্গ স্নানে গেল
অর্জুন প্রতিদিন তৃতীয়বার কুরুক্ষেত্র থেকে ফিরে আসার পর নোঙ্গরবিহীন রাতে একাকী বিশল্যকরণী উপড়ে নিচ্ছে আমাদের তৃতীয় পরজন্মের নিম্ন রক্তচাপের বিষাক্ত সাদাটে ক্ষয়জাত ঠোঁটগুলোকে ধারালো অস্ত্রাগারের জলজ নৌ সেনা তৈরি করবে বলে
এক ল্যাকটোজেন দাঁতগুলো খাওয়াবে বলে একটি ফুলের দোকান থেকে সনাতন রাউল ৩ কেজি রজনীগন্ধার সাদা ধুপের ছাই উড়িয়ে দিচ্ছে একটা মৃদগত শ্মশানের মুখ থেকে নেমে আসা আয়নার পরজীবী অন্ধকার পুরুষদের জন্য


৩.
বাবার বুকের ট্যাবলেট ও স্বরবর্ণের কৈলাস গহ্বর


শ্বাসকষ্টের কোন গোপন ঔষধ ছিল না বলে আমি একটা মৃতপ্রায় স্বপ্নের ভেতর ঈশ্বরীর অবয়ব আঁকতে আঁকতে মৃত্যুর স্বরবর্ণ গুলো ভ্যাকুয়াম টিউবের ভেতর থেকে লো ইনটেনসিটির মোম জ্বালিয়ে বাবার বুকের পাঁজরের ভেতরে বসে সাদা রঙের ট্যাবলেট গুলো চুষে খাচ্ছিলাম ,অসংখ্য রোমগ্রন্থি থেকে গজিয়ে ওঠা দোপাটি গাছগুলো গর্ভাধানের আসন্ন ইঙ্গিত দিয়ে হঠাৎ করেই রাতের কৈলাস গহ্বরে নেমে যায়
সেলেনিয়াম খেলে মানুষের মধ্যরাতের ঘুম চলে যায় বলে জানালার পাঁজর গুলো দীর্ঘ হতে হতে ব্রহ্মাস্ত্র ফেলে আসা ক্ষপর্ণক  , টকটকে গরম জলে বাবা স্নান সেরে আসার পর গা থেকে সাদা রঙের চামড়াগুলো উঠে গিয়ে উত্তর গোলার্ধের অতিপৃক্ত ক্রোমোজোম ভাঙাহীন এক নীলাভ অতিথিশালায় একা একা ভোজন করছে কাঁটা চামচের বিদুষকদের মতো
প্রোথিয়াডেন নামক এক পাঞ্জাবির নিপুন কাঠের বোতাম ঘরের সব সন্ন্যাসিনীরা লাল কাঁকড়ার নীলাভ গর্তের ভিতর আঙ্গুলের পরিচালন বৃষ্টিপাত ঢুকিয়ে দেয় আমাদের এক মৃত্যুকালীন রগরগে বালির তারার ভিতরে নৌকাটিকে আত্মহত্যার কবিতা শোনাবে বলে ,  কালো রঙের এক যৌন পর্দা দিয়ে লাইকোপিন ঝাউ পাতার ভেতরের শঙ্খচুর সাপেরা জীবাশ্ম ভর্তি গাছের ভগ্নাবশেষ রেখে যায়



৪.
লাল তরমুজ ও এম্পিথিয়েটারের প্রপাতহীন নৌকা

লাল তরমুজ ফলের মতো যারা কালো মাথা নিয়ে গর্ভপাত কক্ষ থেকে ফিরে আসে তাদের আর কোন পিথাগোরাসের মতো উপপাদ্যহীন হরমোনাল ছায়ার নিচে উট পাখি নেই , 
বৃত্তাকার নয়ানজুলির নিচে দাঁড়িয়ে অন্তঃসত্ত্বা পাতাল প্রদেশের গোপন কাহিনী শোনাবে সব ঝিনুকদের ,  রতিক্রিয়ার পর একটা লাল কাঁকড়া তলদেশে গিয়ে একটা উজ্জয়নী নগর আবিষ্কার করল। আমি সমুদ্রের তলদেশ থেকে আর সেন্টিমিটারের গভীরে তিনটি প্রপাতহীন নৌকার শিথিল স্ত্রীলিঙ্গ নিয়ে কিছু কার্বোহাইড্রেট দানা ছড়িয়ে দিচ্ছে মৃত মানুষদের মুখে নৌকাদের ভেতরে গিয়ে কিছু হরমোনাল ঝিনুকের এক একটা খোলস রেখে দিতেই আমার দুই হাতে স্পন্দনহীন কাঁচ ফলের অঙ্কুরোদগম গজিয়ে উঠলো
সমুদ্রের তলদেশে এক একটা সেতু থাকে বলে আমাদের মাথার ভেতরের কর্টেক্স বিষয়ক লাল অনুভূতিগুলো মৃত্যুঞ্জয় ধনাত্মক পদগুলো লৌহ দানবের মতো মৃতপ্রায় স্রোতদের নিয়ে বয়ে যাচ্ছে জলযানের তলদেশে
এখানে পৌষ্টিক তন্ত্রের পচে যাওয়া হাড় আর খালি উদোম উলঙ্গ নর্তক নারীদের খালি পিরামল মেশানো এম্পিথিয়েটারের খালি খালি গ্লাস গ্লাসের নিচে শেষ দলানি টুকু মৃত্যুর কম্পাঙ্ক ফরিদ ক্ষেত্র করে দিচ্ছে মোহনার কাছে একটা নগরহীন সাপ শুয়ে আছে ভেজা দাঁতের ত্রিশূল জননতন্ত্র নিয়ে



মৃত্যুমুখী জাহাজ ও বিনায়ক ঋষিদের ক্যাফিন সমগ্র

৮৮ বর্গ সেন্টিমিটার জুড়ে যে রাতের মৃত পেন্ডুলামটি বেজে উঠে বুক খোলা পাঁজরের অন্তর্বাসহীন কংক্রিট রাস্তার ছায়া গুলো কে দুই হাতে চুইংগাম এর মত চিবোতে চিবতে তার তলপেট থেকে লাল গম বীজের মত দুগ্ধবতী অসুখটি চুষে খাবে ক্যাফিন মেশানো গ্রানাইট পেয়ালা থেকে ফেরোমেন মেশানো সরযু নদীর তীরে আমরা এক পক্ষকালের জন্য বিনায়ক ঋষি সেজেছিলাম
মৃত্যুমুখী সব জাহাজগুলো একটা আপতন ত্রিকোণমিতিক অন্ধকারে নেমে ক্ষয়ে যাওয়া জীবাশ্ম মার্কা এক গাছের তলদেশের পা গুলো ধসে ধসে নীল-মোহ ঘরের ভেতরে চলে যাচ্ছে , আমরা তখন নোনা মাটির আতপ সান্দ্রতার ঈমন বাতাস খেতে খেতে সোডিয়ামের অভাব বোধ করছি , প্রোস্টেট গ্ল্যান্ড থেকে নেমে আসছে রক্ত স্নাত পরিচালন ,  আমি প্রিয় রাত্রির মানুষ প্রিয়া অন্তক্ষিরে বসে থিকা প্রোটিয়াম নারীটির কাছে তিন সান্দ্রতার ও আর এস  মেশানো সাদা চাঁদের গুঁড়ো খাচ্ছি এক মহাকালের অসংখ্য নক্ষত্রের অবধারিত ভগ্নাংশের মায়াময় বি কমপ্লেক্স মিশিয়ে
মৃত্যুকে কতবার শৈলা ব্রিজের নিচ থেকে নিপুন নদীটির তলপেট ছিঁড়ে ছিঁড়ে আগুনের ওয়াচ টাওয়ার দেখছি
কামুক নদীর কাম্ফায়ার জ্বলে উঠলে আমি আপেল ফলের মতো রক্তাক্ত সিরাপ রক্ত ওঠা  নিকোটিন অন্ধকারে গিয়ে একটি ত্রাণ শিবিরে বসে থাকি মরচে রাঙা জানালার কাছে। আমাদের সিঁড়ি পথে এগারোটি দুধ সাদা রঙের সাপ পিচ্ছিল বমি রেখে এসেছিল বিচিত্র রান্নাঘরের ভেতর , ষোড়শ লুই অন্ত্যাক্ষর প্রতিযোগিতায় হেরে একাকী বরফ নদীর মোহনায় বসে বসে সন্ধ্যা রাতের বাঁশি বাজাতেন


 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন