লেবেল

শনিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২১

শুধু কবিতায়...পৌষ এলো ঘরে —১৯।। নিমাই জানা।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





পৌষ এলো ঘরে —১৯

নিমাই জানা 




১.
বাবার ঘর্মাক্ত দেহ ও উর্বর ছায়াপথ




আবৃত দশমিকের পোশাকগুলো হেমন্ত মৃত্যুকালীন ধুতির মতো ছটফটে , ঘর্মাক্ত পাড়ে বাবার মতো কেউ

পৌষের বিকেলে নতমুখ শস্য ক্ষেতের নুপুর ফেলে ঈশ্বর একাদিন দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েছিলেন রাজকীয় ক্ষেত্রফলের উপর
উঠোনজুড়ে রাধাকৃষ্ণ কুরুক্ষেত্র পরবর্তী মুক্তপাঠ নিয়ে আলগেছো কুয়াশামাখছেন হিমালয় থেকে নেমে এসে ,

আমার উঠোনের দিদি ভরত পাখির কাছে আমার ছায়া ও শুক্রাণু খুঁজছেন
এক আলপথের নিচে সব রেচনের তাপ ও খোলস রাখি সবাই, আমরা নবান্ন দাঁতে রেখে নাচতে নাচতে কৃষ্ণকায় হয়ে যাচ্ছি বৈবস্বতঃ মন্বন্তর যুগে
চোখের উপ পল্লবের কাছে একটি আবহবিকারের দাগ আছে ,ঠোঁটে বনফুলের উর্বর মাঠের বুকের উপর থাকা রৈখিক দাহ ফাটলের ক্ষেত্রগুলো গভীরে মিলিয়ে যাচ্ছে

কোন পুরুষের সমাধি ঘটেনি আজ ও...





২.
ঈশ্বর ও আত্মহত্যার জীবাশ্ম




পোশাক কখনো অর্ধমৃত নয়
একা একা পুরুষেরাই নেচে ওঠে বিয়োগান্ত অসুখ নিয়ে এসো ক্ষয়জাত ক্ষেত্রের কাছে , ঈশ্বর কতবার ঊষালগ্নের সব গোপনীয়তা পিচ্ছিল শিফন শাড়িটির দৈর্ঘ্যে রাংতা বসানো সকাল ও অশৌচের দশমিক বিভাজ্যতা বসায়

এখানে আত্মহত্যার দাগগুলো ঈশ্বর নিজের ঠোঁটে নিয়ে আলপথ ভেঙে ভেঙে যবনিকা ফেলে দিচ্ছেন ঘাসের তলপেটে
নৌকাটির এখানেই ঈশ্বরের পায়ের তলা থেকে সংক্রমনের ধোঁয়া বের করে যৌনগ্রন্থি মাখা রুমাল ও শালিক হয়ে গেছেন আমার বুকে থাকা দ্রোণাচার্য পাখির মতো

ঈশ্বর ও আমি পাশাপাশি বসে দীর্ঘ অসুখদের জবানবন্দি লিখে রাখি, কেউ কেউ গভীর অন্ধকারে নিজের জামাটি খুলে রেখে মিলিয়ে জান নৈঋত আকাশের দিকে
তখন আমাদের গাঁয়ে প্রকাণ্ড এক শীতকালের বৈষ্ণব ঠাকুর জড়িয়ে ধরে আমার লাইসোজোম ,উলঙ্গ বাহার তরল সিন্ধু নদকে

গিলে খায় বাকলহীন গাছের দেহ ,যারা কোনদিন প্রত্নতত্ত্বের হিসাব রাখে না সহস্র অযুত ভগ্নাংশের।।









 

২টি মন্তব্য:

  1. দুটো কবিতাই ভাব ও শব্দের অপূর্ব মিশ্রণ। মনে রাখার মত সুন্দর সমৃদ্ধশালী।
    সমাজ বসু।

    উত্তরমুছুন
  2. দুটি কবিতার শব্দ চয়ন এক্কেবারে অন্যরকম। অত্যন্ত ভালোলাগা জানাই কবিকে।

    উত্তরমুছুন